বিদেশি উপদ্রব আর স্বদেশি আপদ থেকে ইলিশ বাঁচান-হায় ইলিশ!

পদ্মায় ইলিশ নেই, মেঘনার মোহনায় ইলিশ নেই, কীর্তনখোলায়ও ইলিশ নেই। বঙ্গোপসাগরেও ইলিশ নিখোঁজ। নদীতে জেলেদের শূন্য জালের হাহাকার। সমুদ্র থেকে ফিরে আসছে শূন্য ট্রলার। অধরা ইলিশের দামও হয়ে উঠেছে অধরা। ইলিশের বাজারেও তাই ক্রেতাদের নীরব দীর্ঘশ্বাসের মধ্যে শোনা যায়, হায় ইলিশ, হায় ইলিশ!


বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় ভারত ও মিয়ানমারের জেলেরা নির্বিচারে ইলিশ ধরছেন বলে পত্রিকায় খবর বের হয়েছে। নতুন সমুদ্রসীমা পর্যন্ত গিয়ে মাছ ধরার মতো যান আমাদের জেলেদেরও নেই, কোস্টগার্ডও পারছে না গভীর সমুদ্রে তাঁদের নিরাপত্তা দিতে। যানের অভাবে তারাও অচল। অথচ বেহাত হয়ে যাচ্ছে সাধের ইলিশ। ভরা মৌসুমে বেকার হয়ে লোকসানের কবলে পড়ছেন উপকূলীয় জেলে সম্প্রদায়।
এ এক অদ্ভুত স্ববিরোধিতা! ইলিশকে কে না ভালোবাসে, অথচ ইলিশের বিলুপ্তির পেছনে কার দায় কম? যে নির্বিচার মুনাফা ও লুণ্ঠনের কায়কারবার দেশজুড়ে চলে আসছে, নদ-নদী ও জলাশয় তার অন্যতম শিকার। নির্বিচারে জাটকা ধরা, প্রজনন মৌসুমেও ছাড় না দেওয়া, নদীর প্রবাহ রুদ্ধকারী বাঁধ দেওয়া কিংবা কীটনাশক ও রাসায়নিকের পানিদূষণ অবাধে চলছে। এসব ঠেকাতে সরকারযন্ত্র কিংবা মৎস্য বিভাগ তেমন কিছু করেছে কি? মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে এসেছে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব। নদীতে পানি ও স্রোত কমে যাওয়া এবং মিঠা পানির নদীতে লবণাক্ততা চলে আসার জন্যও ইলিশের কাফেলা মোহনামুখী হচ্ছে না। ফলে ব্যাহত হচ্ছে ইলিশের প্রজনন। বছরের নির্দিষ্ট সময় জাটকা নিধন নিষিদ্ধ হলেও সেই সময়ে জেলেরা কীভাবে বাঁচবেন, সেই ব্যবস্থা না করায় সবই বজ্র আঁটুনি ফসকা গেরো হয়ে গেছে।
একদিকে ভুল নদীশাসন ও উন্নয়ন কার্যক্রম, অন্যদিকে প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা বাংলাদেশের গর্ব ইলিশকে নিঃশেষ করছে। অন্যদিকে উপদ্রব হয়ে এসেছেন ভারত ও মিয়ানমারের মাছশিকারিরা। সরকারকে জরুরিভাবে এসব সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে। সমুদ্রে বাংলাদেশি জেলেদের নিরাপত্তা ও সক্ষমতা দিতে হবে। নইলে গত বছরের মতো সাড়ে ৩০০ কোটি টাকার ইলিশ রপ্তানি তো দূরের কথা, অচিরেই বাংলাদেশ থেকে ইলিশ বিলুপ্ত হবে।