Thursday, October 11, 2012
‘কন্যাশিশুর বিয়ে রোধ করুন’- আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস ২০১২
‘কন্যাশিশুর বিয়ে রোধ করুন’- আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস ২০১২
জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) ও দ্য ডেইলি স্টার -এর আয়োজনে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ‘টু ইয়াং টু ওয়েড: এন্ড চাইল্ড ম্যারেজ/ দ্য ফার্স্ট এভার ইন্টারন্যাশনাল ডে অব দ্য গার্ল চাইল্ড’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশিষ্টজনেরা অংশ নেন। তাঁদের বক্তব্য এখানে সংক্ষিপ্ত আকারে ছাপা হলো।
যাঁরা অংশ নিলেন
মাহ্ফুজ আনাম
সম্পাদক, দ্য ডেইলি স্টার
মাইকেল ম্যাক গ্রেথ
কান্ট্রি ডিরেক্টর, সেভ দ্য চিলড্রেন
এ কে এম নূর-উন-নবী
অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
মো. আশরাফ হোসেন
মহাপরিচালক, মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর
রোকেয়া কবির
নির্বাহী পরিচালক, নারী প্রগতি সংঘ
মো. হেলাল উদ্দিন
যুগ্ম সচিব, ধর্ম মন্ত্রণালয়
জ্যোতি দ্রিনগ্রা
জয়েন্ট প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর, ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম
জুলিয়া আহমেদ
ফ্রিল্যান্স কনসালট্যান্ট
রওশন আরা
সদস্য, নারীপক্ষ ও ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন
তৌহিদা খন্দকার
পরিচালক, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ওমেন লইয়ার অ্যাসোসিয়েশন (বিএনডব্লিউএলএ)
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহেদুল আনাম খান
সম্পাদক, অপ-এড অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক ইস্যুজ,
দ্য ডেইলি স্টার
মামুনুর রশীদ
কো-অর্ডিনেটর, জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কমিউনিকেশন সেন্টার, স্টেপ টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট
মাহফুজা রহমান
প্রজেস্ট অফিসার-এডুকেশন, ইউনেসকো
আমিনুল ইসলাম
চাইল্ড প্রোটেকশন স্পেশালিস্ট, ইউনিসেফ
তানভীর ওয়াহিদ
সদস্য, ইউএনএফপিএ
ইয়ুথ ফোরাম অন আরএইচ
সনি সহেলি
সদস্য, ইউএনএফপিএ
ইয়ুথ ফোরাম অন আরএইচ
সঞ্চালক
আর্থার এরকেন
কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ, জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল
আলোচনা
আর্থার এরকেন
বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণও বেড়েছে। কিন্তু এ দেশে এখনো বাল্যবিবাহ নামের সামাজিক ব্যাধি রয়েই গেছে। আন্তর্জাতিক আইন, বাংলাদেশের আইন—সব ক্ষেত্রেই মেয়েদের বিয়ের বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ বছর। গত কয়েক দশকে বাল্যবিবাহ নিয়ে নানা নীতিমালাও গৃহীত হয়েছে। কিন্তু দেখা যায়, ১৮ বছর পার হওয়ার আগেই মেয়েদের বিয়ে হয়ে যায়। এর ফলে কন্যাশিশুর অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। আবার এই বাল্যবিবাহের কারণে কন্যাশিশুর শারীরিক, মানসিক নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়। বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময়ই দেখা যায়, মেয়েটির চেয়ে ছেলেটির বয়সের ব্যবধান অনেক বেশি। দেখা গেছে, দুজনের বয়সের পার্থক্য গড়ে প্রায় নয় বছর। সুতরাং, দেখা যায়, কন্যাশিশুটির বিয়েতে রাজি না হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু সে কোনো প্রতিবাদ করতে পারে না।
তাই আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসের আজকের এই আয়োজনে আমরা বাল্যবিবাহের ওপর গুরুত্ব দিতে চাই। শুরুতে আলোচনার জন্য অনুরোধ করছি মাহ্ফুজ আনামকে।
মাহ্ফুজ আনাম
আমরা ইউএনএফপিএর সঙ্গে সহ-আয়োজক হিসেবে থাকতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি। আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু বাংলাদেশ ও তার পরবর্তী প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বাল্যবিবাহ রোধ জাতীয় প্রতিশ্রুতি, নৈতিকতা ও মানবাধিকারের একটি অন্যতম বিষয়। একই সঙ্গে এটি দেশের ভবিষ্যৎ ও রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত। এ কারণেই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সবাইকে কাজ করতে হবে। বাল্যবিবাহ এমন একটি বিষয়, যার মধ্যে ছদ্মবেশে অনেক সমস্যা লুকিয়ে রয়েছে।
বিয়ের ক্ষেত্রে বয়সের একটা মাত্রা রয়েছে। কিন্তু আমরা সেটা জানি না। ১৫-১৬ বছরে বা তারও আগে মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। এতে মেয়েদের মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘনও হচ্ছে। ফলে মেয়েটির সারা জীবনে এর প্রভাব থেকে যাচ্ছে।
বাল্যবিবাহ রোধে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সংবাদপত্র অবশ্যই ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে অডিও ভিজ্যুয়াল মিডিয়ার সহায়তা দরকার। কারণ, টেলিভিশনের মাধ্যমে আবেগ, প্রতিক্রিয়া বহুমাত্রিকভাবে দেখানো যায়। দর্শকদের মাঝে সেটা নাড়াও দেয় বেশি মাত্রায়। এর প্রভাবও অনেক বেশি। সেখানে বাল্যবিবাহের ইস্যু নিয়ে নাটক, সিরিয়াল তৈরি করা যেতে পারে, যা এই সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে একটি যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই অডিও ভিজ্যুয়াল মিডিয়াকে এ ব্যাপারে অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। আমাদের দেশে অনেক কমিউনিটি রেডিও স্টেশন আছে। সেগুলোকে বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে সচেতনতা বাড়াতে ব্যবহার করতে পারি। সেখানে আমরা অর্থনৈতিক ক্ষতির ব্যাপারটিও জানাতে পারি।
মাইকেল ম্যাক গ্রেথ
বাল্যবিবাহ বাংলাদেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়, পরিবার এবং পরিবারের শিশুদের বিপর্যস্ত করে।
প্রথমত বাল্যবিবাহ মেয়েদের শিক্ষাজীবনকে সংকুচিত করে ফেলে। বিয়ের পর কিশোরী মেয়েটির সব ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয় তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তারা চায় না মেয়েটি পড়ালেখা বা অন্য কোনো কাজে বাইরে যাক। ফলে মেয়েটির যতটুকু ইচ্ছাশক্তি থাকে, তা-ও মিলিয়ে যায়। তাই বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে হবে।
দ্বিতীয় হলো স্বাস্থ্যগত সমস্যা। বাল্যবিবাহের ফলে মাতৃমৃত্যুর হার অনেক বেড়ে যায়। কিশোরী মায়েদের মৃত্যুর হার অন্য যেকোনো বয়সের মাতৃমৃত্যুর হারের চেয়ে বেশি। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, পূর্ণবয়স্ক নারীর তুলনায় ১৪ বা ১৫ বছরের কিশোরীদের ক্ষেত্রে মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। কন্যাশিশুরা সন্তান ধারণে উপযুক্ত নয়। এত অল্প বয়সে মা হওয়ার ফলে তাদের শারীরিক অবস্থার ভয়াবহ অবনতি ঘটে। দাম্পত্য জীবনেও তারা সুখী হয় না। কন্যাশিশুদের সন্তান ধারণে ও প্রসবের সময় বিভিন্ন সমস্যা হয়। দীর্ঘ প্রসবব্যথার কারণে জরায়ু, মূত্রনালি ও মলনালি ছিঁড়ে যায়। এর ফলে ফিস্টুলা নামের রোগ হয়। এসব কারণে তাদের স্বামীরা তাদের পরিত্যাগ করতে পারে। আর এটা হতে পারে বাল্যবিবাহ, অল্প বয়সে গর্ভধারণ ও অন্যান্য জটিলতার অন্যতম ভয়াবহ একটি দিক।
এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, সন্তান প্রসবকালীন সময়ে যেসব শিশু মারা যায়, তাদের ৫০ শতাংশের মায়েরা কিশোরী। আমরা শিশুমৃত্যু রোধ করতে পারছি না, যার অন্যতম কারণ বাল্যবিবাহ।
সুতরাং, শিশুমৃত্যুর হার কমাতে হলেও বাল্যবিবাহ রোধ করতে হবে।
সিলেটে সেভ দ্য চিলড্রেনের একটি কর্মসূচি রয়েছে। সেখানকার ২০০৭ সালের একটি গবেষণায় দেখা যায়, মেয়েদের বিয়ের বয়স গড়ে ১৪ দশমিক ৭ বছর, যেখানে পুরো বাংলাদেশে মেয়েদের বিয়ের গড় বয়স ১৬ দশমিক ৫ বছর। সে সময় থেকেই আমরা দুটি গবেষণা চালিয়ে আসছি। সেগুলো প্রথম গবেষণার মতো নয়। এগুলো তথ্য-উপাত্তের চেয়ে জনগণকে তুলনামূলকভাবে সরাসরি প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত। আমরা আশাবাদী ছিলাম পরিস্থিতির উন্নতি হবে। একটি গবেষণায় দেখা গেল, বিয়ের গড় বয়স ১৪ দশমিক ৪ বছর। অন্যটিতে ১৪ দশমিক ২ বছর। সংকটটা কত গভীর বোঝা যায়। মোকাবিলাও অনেক কঠিন। তাই বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।
বাল্যবিবাহের বাস্তব কিছু কারণ রয়েছে। আমি দুটি কারণ উল্লেখ করতে চাই।
একটি হলো, মেয়েরা কৈশোরে শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হয়। ফলে সমাজে তার সম্মানহানি ঘটে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্কুলে আসা-যাওয়ার পথেই তারা নির্যাতনের শিকার হয়। ফলে তাদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। তখন মেয়েটির পরিবার মেয়েটির সুরক্ষার জন্য তাকে বিয়ে দিয়ে দেয়। পরিবার ভাবে, এ নিয়ে পরবর্তীকালে জটিলতা বাড়তে পারে, তখন হয়তো বিয়ে দেওয়া কঠিন হয়ে যাবে। তাই কিশোরী অবস্থাতেই বিয়ে দিয়ে দেয়।
অন্য কারণটি হলো যৌতুক। গবেষণায় দেখা গেছে, মেয়েদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরলরৈখিকভাবে যৌতুকের হারও বাড়ে। এ কারণেই দরিদ্র বাবা মেয়েকে কিশোরী অবস্থায় বিয়ে দিয়ে দেন। এই হলো বাল্যবিবাহের কিছু কারণ। এগুলোকে নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে। জাতীয় পর্যায়ে এগুলো নিয়ে আরও বেশি আলোচনা করতে হবে।
এই ইস্যুর একটি স্পর্শকাতর দিক হচ্ছে, সমাজে বেশির ভাগ বিয়েই হচ্ছে ১৫ বছরের নিচে। আন্তর্জাতিক আইন, বাংলাদেশি আইন—সব জায়গায় ১৮ বছরকে মেয়েদের বিয়ের জন্য আদর্শ সময় ধরা হয়েছে। কিন্তু প্রায়োগিক ক্ষেত্রে আমার মনে হয়, একেবারেই শিশু যারা, তাদের বিয়ে না দেওয়ার ব্যাপারে জোর দেওয়া উচিত। তার মানে এই নয়, ১৬ বা ১৭-তে বিয়েটা গ্রহণযোগ্য। কিন্তু আমাদের ১২ থেকে ১৫ বছরের মেয়েদের বিয়ে বন্ধ করাটা নিশ্চিত করতে হবে। পর্যায়ক্রমে এগোলেই গ্রামীণ সমাজে পরিবর্তন আনাটা সহজ হবে।
একই সঙ্গে আমাদের আরেকটি অংশ জনগণ, স্থানীয় নীতিনির্ধারক ও সরকারের সঙ্গে পরিকল্পনা করে এ ব্যাপারে কাজ করতে হবে। ইউএনএফপিএ সারা বিশ্ব থেকে বাল্যবিবাহ দূর করার জন্য যে উদ্যোগ নিয়েছে, সেভ দ্য চিলড্রেন সর্বদা তাতে সহযোগিতা করবে।
যদি সামগ্রিকভাবে মানুষ সজাগ হয়, তবে পরিবর্তন আসতে বেশি সময় লাগে না।
মো. আশরাফ হোসেন
আমরা নারী-পুরুষের সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নের প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রদূত। বাল্যবিবাহ বন্ধ করাটা নারী-পুরুষের সমতা বিধানের আরেকটি দিক। এখনো আমাদের কন্যাশিশুদের অগ্রাধিকার দিতে হচ্ছে, যা নারী-পুরুষের সমতার মূল চেতনার বিপক্ষে যায়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে এ সময়ে এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
বাল্যবিবাহ নামের অভিশাপের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ করতে হবে। এটা কন্যাশিশুর মধ্যে সুপ্ত সব সম্ভাবনাকে ধ্বংস করে দেয়। বাল্যবিবাহ যেন অনেকটাই সামাজিক সংস্কৃতি ও রীতিনীতির পর্যায়ে চলে এসেছে। আমাদের সেসব মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক বা আর্থসামাজিক কারণ চিহ্নিত করতে হবে। তারপর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে, বিশেষ করে কিশোরদের বোঝাতে হবে। তাদের মনোজগৎকে প্রভাবিত করতে হবে, যেন তারা কন্যাশিশুদের তাদের সমকক্ষ ভাবে, প্রতিযোগী না ভাবে। কারণ, এই সমাজটা পিতৃতান্ত্রিক।
আমরা পুরুষতান্ত্রিক পরিবেশের মধ্যে বেড়ে উঠেছি। নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক, প্রতিকূল অনেক আচরণ এখনো আমাদের সমাজে অনুশীলন করা হয়। আমাদের ওই সব আচরণ চিহ্নিত করতে হবে। সুসংবেদনশীল আচরণ বাড়াতে হবে। এ ব্যাপারে ছেলেমেয়ে উভয়কেই একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
আমরা ইতিমধ্যে একটি কাজ হাতে নিয়েছি। ছেলেমেয়েদের সমন্বয়ে একটি ক্লাব করেছি, যেখানে নারীর প্রতি সুসংবেদনশীল আচরণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাদের দৃষ্টিভঙ্গি উন্নত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ কে এম নূর-উন-নবী
বাল্যবিবাহ কারও জন্যই ভালো ফল বয়ে আনে না। এটি বেশ উদ্বেগজনক ব্যাপার। নিশ্চয়ই কেউ এ কথার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করবেন না। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ। স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনা করলে বলা যায়, যে মেয়েদের বাল্য অবস্থায় বিয়ে হয়, তাদের মাতৃমৃত্যুর হার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকে। এই বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। আমরা শিশুমৃত্যু হ্রাসে পদক পেয়েছি, সাফল্য অর্জন করেছি। মাতৃমৃত্যুও আমরা বিভিন্নভাবে কমিয়ে এনেছি। কিন্তু বাল্যবিবাহ রোধ করা যাচ্ছে না। তাই এ বিষয়ে আরও কাজ করা দরকার।
সামাজিক দিক বিবেচনা করলে বিডিএইচএসের (বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভে) সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে আমরা দেখতে পাই, এক বছরে মেয়েদের বিয়ের বয়স বেড়েছে। এটা কি কেবল সমাজের জন্য, নাকি আইনের শাসনের প্রভাব?
আইন অনুযায়ী, ১৮ বছরের আগে কোনো মেয়ের বিয়ে হতে পারে না। কাবিননামা ও বিয়ের নিবন্ধনে মেয়ের বয়স ১৮-ই দেখানো হয়। কিন্তু মূলত তাদের বয়স ১৪ বা ১৫ বছর বা তারও কম। তা হলে বিয়েতে মেয়েদের বয়সের ক্ষেত্রে আইনের সঠিক প্রয়োগ হচ্ছে—এটা কীভাবে নিশ্চিত করব?
সরকার ও আইনশৃঙ্খলা প্রয়োগকারী বাহিনীর উদ্যোগ ও প্রতিশ্রুতি এর একটা ভালো ফল বয়ে আনতে পারে। আরেকটি ব্যাপার, কিশোরী মায়ের বয়স কম হলেও এটা বোঝার কোনো উপায় নেই। কারণ, এ সম্পর্কিত কোনো কাগজপত্র থাকে না। ১৯৭২ সাল থেকে জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হলেও এ ব্যাপারে আইনের যথার্থ প্রয়োগ হয়নি। তাই এটি অনেকেই মেনে চলেনি।
আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগের কথা বলতে পারি। যখন নতুন শিক্ষার্থীরা আসে, আমি তাদের বলি, দুই বছরের মধ্যে বিয়ে করা ও সন্তানধারণ চলবে না। যদি এই কথা মেনে না চলো, তবে তুমি তোমার ডিগ্রি হারাবে। বৈবাহিক জীবনের জটিলতার কারণে শিক্ষাজীবন নিয়ম অনুযায়ী চালিয়ে নিতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে হয়তো শতভাগ সফলতা আসে না। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তাদের প্রভাবিত করা যায়।
আমরা নারীস্বাস্থ্য ও অন্যান্য ব্যাপারে তখনই সফল হব, যখন আমরা জনগণের কাছে সহজেই পৌঁছাতে পারব বিষয়টি নিয়ে। গতানুগতিক যে কাগজগুলো রয়েছে, যেখানে লেখা থাকে, ‘বাল্যবিবাহ অবশ্যই বন্ধ করতে হবে’। এর বদলে এখন সফলতার গল্পগুলো অনেক বেশি বলতে হবে। সেই গল্পগুলো গৎবাঁধা কাগজের চেয়ে অনেক বেশি কাজে দেবে।
বাল্যবিবাহ রোধে আমাদের একটা অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। সেখানে জনসাধারণের জন্য যোগাযোগের ফোরাম তৈরি হতে পারে। যেখানে বাল্যবিবাহের কুফলের ওপর বিভিন্ন আলোচনায় জনগণ অংশ নিতে পারে। তাতে কিশোরী মেয়েরা বাল্যবিবাহের হাত থেকে রক্ষা পেতে পারে।
মজার ব্যাপার হলো, আমাদের একটি নীতিমালা রয়েছে যে, বাল্যবিবাহ হলে সেই কন্যাশিশুর বাবাকে শাস্তি দেওয়া হবে। আমার প্রশ্ন, সেই কন্যাশিশুর বিয়ে হয়ে গেলে এই শাস্তি দিয়ে কী লাভ। এই আইনের সংশোধন করা দরকার। এ ক্ষেত্রে বাস্তবভিত্তিক এমন কোনো উপায় বের করতে হবে, যাতে সত্যিকার অর্থেই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
মো. হেলাল উদ্দিন
বাল্যবিবাহ ইসলামে নিষিদ্ধ এবং বাল্যবিবাহকে ইসলাম গ্রহণযোগ্যতা দেয় না। দেশের আইনে রয়েছে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ আর ছেলেদের ২১। বিয়ে নিবন্ধনেও তার কম হয় না। কিন্তু ব্যাপারটা তো সত্যি নয়। এই ফাঁকি বন্ধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের এসএসসি বা জন্ম নিবন্ধন সনদ দেখে বিয়ের নিবন্ধন করাতে হবে। যারা দেখাতে পারবে না, তারা দোষী সাব্যস্ত হবে। তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ইমামদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে থাকে। ফলে অনেক ইমাম প্রশিক্ষিত হচ্ছেন। বাল্যবিবাহের বিষয়টি পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভবিষ্যতে আমরা ইমামদের জন্য প্রশিক্ষণের আয়োজন করব, সেখানে আমি এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব।
রোকেয়া কবির
২০০৯ সালের এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৩০ শতাংশ মেয়ে ১৬ বছরে মা হয়। ৬০ শতাংশের বেশি মেয়ে ১৭ বছরে মা হয়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, আইনে বয়সসীমা নির্ধারিত থাকলেও এর কোনো প্রয়োগ নেই। বাল্যবিবাহ একটা ক্ষতিকর প্রথা। কিন্তু এর মূল কারণগুলো বিবেচনা করা দরকার। বাল্যবিবাহের ফলে পুরুষেরা একধরনের সুবিধা পায়। আমাদের সংগঠন ১৯৯২-৯৩ সাল থেকে শিক্ষাকে নারীর প্রতি সংবেদনশীল করার চেষ্টা করছে। নারীদের সংগঠিত করছে। তাদের কর্মক্ষেত্রে নিয়ে আসছে। নারীরাও কর্মশক্তির অংশ। এটা তাদের বোঝানোর চেষ্টা করছি আমরা।
অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ কতটুকু, এর ওপর আমরা গবেষণা, সেমিনার, কর্মশালা করছি। একজন যখন বালিকা বয়সে পাঁচ-ছয়টি সন্তান জন্ম দেয়, তখন সেই পরিবারের অর্থনীতিতে, জাতীয় রাজস্ব খাতে ও অন্যান্য ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, তা আমরা দেখানোর চেষ্টা করি। আমরা অনেক কাজ ইতিমধ্যে শুরু করেছি। যেমন যৌন ও প্রজননসংক্রান্ত অধিকার, স্বাস্থ্যশিক্ষা-সংক্রান্ত বিষয় জাতীয় পাঠক্রমে পাঠ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছি; যাতে জাতীয় শিক্ষা কার্যক্রম নারীর প্রতি সংবেদনশীল হয়। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোর সঙ্গেও নানা কাজ করছি। চেষ্টা করছি, এই বিষয়গুলো সমন্বিত হয়ে যেন বাস্তব রূপ পায়।
জ্যোতি দ্রিনগ্রা
শিশু ও নারীদের অপুষ্টির দিক থেকে বাংলাদেশ ওপরের দিকে অবস্থান করছে। অপুষ্টির সঙ্গে বাল্যবিবাহের সম্পর্ক রয়েছে। কম বয়সী মা কোনো শিশুর জন্ম দিলে সেই শিশু কম যত্ন পাবে। এতে শিশুর মৃত্যুর আশঙ্কা বাড়ে। বাল্যবিবাহের দ্বিতীয় দিক হচ্ছে, এতে করে নারীর ক্ষমতায়ন ব্যাহত হয়। কন্যাশিশু বিয়ের পর পারিবারিক ক্ষমতা কাঠামোর একেবারে তলানিতে অবস্থান করে। কোনো ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তার থাকে না। ক্ষমতায়ন সরাসরি বাল্যবিবাহের সঙ্গে যুক্ত। দক্ষিণ এশিয়ায় যদি নারী-পুরুষের মর্যাদা সমান হতো, তবে অপুষ্টির হার ১৩ শতাংশে কমিয়ে আনা যেত।
জুলিয়া আহমেদ
বাল্যবিবাহ মূল উন্নয়ন নির্দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত। আমাদের ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার এই নির্দেশকগুলো হলো মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুস্বাস্থ্য, শিশুশিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ।
‘কস্ট অব ভায়োলেন্স ইন্সট্রুমেন্ট’ নামের একটি কেয়ার প্রকল্পে আমরা বিশদভাবে দুটো বিষয় তুলে ধরেছিলাম। একটি ছিল দৃষ্টান্ত বা উদাহরণ। অন্যটি ছিল অধিকারভিত্তিক প্রস্তাবনা। প্রথম বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বাল্যবিবাহ এবং নারীর প্রতি সহিংসতা দুটিই বড় ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন। এ ক্ষেত্রে পরিসংখ্যানে আমরা দেখেছি, অবস্থা খুবই নাজুক।
তৃণমূল পর্যায়ের জনগণ বাল্যবিবাহ বা নারী নির্যাতনের মধ্যে কোনো পারিবারিক সহিংসতা দেখতে পায় না। এ ক্ষেত্রে তাদের আচরণ পরিবর্তন করানো অনেক কঠিন। সে ক্ষেত্রে কেয়ার প্রকল্পে আমরা পরীক্ষা করেছি, মূল্যায়ন করেছি। কিছু উপকরণ প্রয়োগ করেছি। একটি উপকরণ হচ্ছে, ব্যবহার পরিবর্তনকারী যোগাযোগ (বিহেভিয়ার চেঞ্জ কমিউনিকেশন টুলস বা সংক্ষেপে বিসিসি টুলস) ব্যবস্থা। এটা ব্যবহার করেছি সহিংসতার অন্তর্নিহিত কারণগুলো বোঝার জন্য। আমরা নারী ও পুরুষ উভয়কে পর্যবেক্ষণ করতাম। কিছু বিষয় তাদের অনুশীলন করাতাম। নারী-পুরুষ কীভাবে দিনের ২৪ ঘণ্টা কাটায়, তা দেখার জন্য এই অনুশীলনগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই অনুশীলন থেকে দেখা গেল, পুরুষদের মধ্যে একটা চিন্তার প্রবণতা লক্ষ করা যায় যে তারা মনে করে, নারীরা দায়িত্ব পালনে বাধ্য। নারীরা তাদের উৎপাদনমূলক, প্রজননমূলক ও সামাজিক দায়িত্ব পালনে বাধ্য। বিসিসি উপকরণের ক্ষেত্রে আরেকটি দিক হলো, আমরা নারী-পুরুষের সমতা সম্পর্কে পুরুষের কাছ থেকে ক্ষমতা নিয়ে নারীকে দেওয়ার ব্যাপারে কথা বলি না। এটি খুব শক্তিশালী উপকরণ। এতে নারীরা পুরো ব্যাপারটিতে উৎসাহিত হয়। আমরা বলছি, আমাদের এই উপকরণ রয়েছে। আপনারা যখন কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য কাজ করবেন, তখন উপকরণটি ব্যবহার করতে পারেন।
আমি অধিকারভিত্তিক প্রস্তাবনা নিয়েও কথা বলেছিলাম। অধিকারভিত্তিক প্রস্তাবনাকেও একটি উপকরণে উন্নীত করেছি। একটা সাধারণ সমালোচনা আছে—আমাদের আইন আছে, নীতিমালা আছে, কিন্তু সেটা কাজ করছে না। সেই জায়গা থেকে আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। আমাদের আইনের ১৬ নম্বর ধারায় ক্ষতিপূরণ প্রদান সম্পর্কে বলা হয়েছে, আমরা মূল্য বিশ্লেষণ উপকরণ (কস্ট অ্যানালাইসিস টুল কিট) তৈরি করেছি। এই উপকরণগুলোর মাধ্যমে আমরা ক্ষতিপূরণের মান মোটামুটি নির্ভুলভাবে নির্ণয় করতে পারি।
রওশন আরা
আমাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী উপাদান নামের একটি কর্মসূচি রয়েছে, যেটি বাল্যবিবাহ নিয়েও কাজ করে। আমরা দেখি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বাল্যবিবাহ বন্ধের উদ্যোগ নিলেও এলাকার স্থানীয় লোকজন বাল্যবিবাহের তথ্য লুকিয়ে রাখে। তাই তথ্য না পেলে আইন সংস্থা কিছুই করতে পারে না। আরেকটি ব্যাপার—জনগণের জন্ম নিবন্ধন সম্পর্কে অসচেতনতা।
বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে আমাদের আইন রয়েছে, সরকার তা প্রয়োগ করতে চায়। কিন্তু এর জন্য আরও উদ্যোগী হতে হবে। ইউনিসেফ এবং সরকার মেয়েদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করেছে। এর ফলে মেয়েরা স্কুলে যাচ্ছে। এটা একটা ভালো উদ্যোগ। আমাদের এই রকম উদ্যোগ আরও বাড়াতে হবে, যাতে মেয়েরা নিয়মিত স্কুলে যায়, বাবা-মা যাতে মেয়েদের শিক্ষাজীবন শেষ করার পর বিয়ের আয়োজন করেন।
তৌহিদা খন্দকার
বাল্যবিবাহ আমাদের জন্য একটি অভিশাপ। আমি আইনগত দিক থেকে এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই। দেশে বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধকরণ আইন আছে। এটি ১৯২৯ সালে প্রবর্তন করা হয়। কিন্তু এর কোনো প্রয়োগ নেই। অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আমি এই আইনের আওতায় একটিও মামলা হতে দেখিনি। কারণ, আইনটিতে অনেক ফাঁকফোকর আছে।
আরেকটি আইন আছে, মুসলিম বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন আইন, ১৯৭৪। এটিরও সঠিক প্রয়োগ নেই।
আমাদের সংগঠন মহিলা আইনজীবী অ্যাসোসিয়েশন নারী ও শিশুদের অধিকার উন্নত করতে ভূমিকা রাখছে। আমরা লৈঙ্গিক সমতা বিধানের জন্যও কাজ করছি। আমরা স্থানীয় পর্যায়ে কিছু কর্মসূচি হাতে নিয়েছি, যাতে বাল্যবিবাহ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে ২০১২-তে বিএডব্লিউএল হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেছে বাল্যবিবাহ বন্ধে নির্দেশনা পাওয়ার জন্য। আরেকটি আবেদন ছিল, বর ও কনেকে বয়স প্রমাণের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র দেখাতে হবে।
আরেকটি হলো, সরকারি কার্যালয়ে বাল্যবিবাহের একটি সাংখ্যিক হিসাব রাখা। সেই সঙ্গে স্ত্রীকে মোহরানার অর্থ পাওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত করা। মোহরানা একজন নারীর অধিকার। আরেকটি আবেদন ছিল, বিদ্যমান আইনের সংশোধন বা নতুন আইন প্রণয়ন করতে হবে। নতুন আইন প্রণয়নের আগে আমরা উচ্চ আদালতের কাছে একটি দিকনির্দেশনার আবেদন করেছিলাম। বাল্যবিবাহ-সংক্রান্ত কোনো নতুন আইন প্রণীত হওয়ার আগ পর্যন্ত এই দিকনির্দেশনাগুলোই আইন হিসেবে পরিগণিত হবে।
আমাদের বর্তমান যে আইনটি রয়েছে, সেখানে দেখা যায়, বাল্যবিবাহ একটি অপরাধ। কিন্তু বাল্যবিবাহ বাতিলযোগ্য নয়। এটা আইনে একটা স্ববিরোধী বিষয় বলে আমি মনে করি।
আরেকটি ব্যাপার হলো, কাজিদের বিয়ে নিবন্ধনের অনুমোদন আছে। কিন্তু বিবাহ আইন সম্পর্কে তাঁদের সঠিক ধারণা নেই। বিএনডব্লিউএলএ তৃণমূল পর্যায়ে সচেতন করতে অনেক কর্মসূচি রয়েছে। সেখানে ভালো অভিভাবকত্ব, অভিভাবকদের ইতিবাচক নিয়ম, যাতে তারা শিশুদের সম্পর্কে সচেতন হয়, তৃণমূল পর্যায়ে বাল্যবিবাহ নিয়ে আমাদের সংগঠন কর্মসূচি চালায়।
সবশেষে বলব, বাল্যবিবাহ ঠেকাতে সরকার ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।
আর্থার এরকেন
বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে ক্ষতিটা সব সময়ই জনগণের দিকে যায়। আমি নেদারল্যান্ডের অধিবাসী। সেখানে আইন প্রচলিত রীতিনীতিকে অনুসরণ করে। জনসাধারণ যা চায়, সংসদ বা আইনসভা সব সময় তার পেছনে থাকে। অর্থাৎ, জনগণের চাওয়াকেই তারা প্রতিফলিত করে। বাংলাদেশে অনেক ক্ষেত্রে আইন গণমানুষের চাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না, কিন্তু আইন পাস হয়ে যায়। বুদ্ধিবৃত্তিক দিক থেকে বাল্যবিবাহ গ্রহণযোগ্য নয়, কিন্তু সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য। কারণ, দরিদ্র ব্যক্তিদের অর্থনৈতিক দিক থেকে দেখলে এটি সংগত মনে করা হয়।
সুতরাং, আপনাদের এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে একজন বাবা তাঁর মেয়েকে ১৮ বছরের আগে বিয়ে দিতে চাইবেন না। এর জন্য আমাদের ধর্মীয় সম্প্রদায় ও শিক্ষকদের এ ব্যাপারে বোঝাতে হবে। তাঁরা এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারেন। আপনি যদি সত্তরের দশকের সঙ্গে বর্তমান সময়ের উপাত্তগুলো তুলনা করেন, দেখবেন ১৬ বছরের মেয়েদের বিয়ের ক্ষেত্রে কম যৌতুক দিতে হচ্ছে বা একেবারেই দিতে হচ্ছে না। তাই বলে যৌতুকপ্রথা বন্ধ হয়নি। বরং আরও বেড়েছে।
শাহেদুল আনাম খান
মেয়েরা ঘরে কাজ করে। কিন্তু তাদের কাজগুলোকে অর্থনৈতিক কাজ হিসেবে মনে করা হয় না। মনে করা হয় নারীর কাজের কোনো অর্থনৈতিক ভিত্তি নেই। এ কারণে নারীকে পুরুষের বোঝা মনে করা হয়।
মামুনুর রশীদ
আমি বিবাহ নিবন্ধন আইনের ভেতরের একটি অসামঞ্জস্য নিয়ে কথা বলতে চাই। হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী, সরকার সব বিবাহ নিবন্ধকের কাছে একটি পরিপত্র পাঠিয়েছিল এই মর্মে যে, বিয়ের সময় জন্ম নিবন্ধন সনদ বা জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করতে হবে। কিন্তু দেখা গেল, নিবন্ধন ফরমে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর বা জন্ম নিবন্ধন সনদের নম্বর লেখার কোনো ঘর নেই। এর ফলে প্রকৃতভাবে যাচাই করা সম্ভব হয় না। শেষ পর্যন্ত ওই পরিপত্রের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তাই আমরা সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, বিষয়টি যেন ফরমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
দ্বিতীয় বিষয়টি হলো, যেহেতু আইনটি যথেষ্ট নয় এবং বিভিন্ন মানসিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সে ক্ষেত্রে আমরা কি অন্য কোনো উপায় অবলম্বন করতে পারি? যেমন আমরা কি ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত যেসব মেয়ের বিয়ে হবে না, তাদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করতে পারি? ইতিমধ্যে বিভিন্নভাবে অনেক টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে। এতে জনগণের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতেও সাহায্য করবে, একই সঙ্গে অর্থনৈতিক বোঝাও কমাবে।
তানভীর ওয়াহিদ
বাল্যবিবাহের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু পরিসংখ্যান এখানে উল্লেখ করতে চাই, যেটা আমাদের দেশের জন্য আশঙ্কাজনক। প্রথমটি হচ্ছে, সম্প্রতি বিবিসি একটি সংবাদ প্রচার করেছে, বাংলাদেশের বাল্যবিবাহের হার পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বাল্যবিবাহ হওয়া দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। দ্বিতীয়টি হলো, বাংলাদেশি মেয়েদের ৬৬ শতাংশেরই বিয়ে হয় ১৮ বছর হওয়ার আগে। শেষটি হলো, ২০ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হচ্ছে ১৫ বছর হওয়ার আগেই। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, এই ইস্যুতে আমাদের চারটি জানার বিষয় রয়েছে।
এই সমস্যা দূর করার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি কর্মসূচিগুলোর ওপর জোর দেওয়া উচিত। শহর ও গ্রামের সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে। আর সচেতন করতে আমাদের পুরোনো আর নতুন কৌশলের সংমিশ্রণ ঘটাতে হবে। তরুণ প্রতিনিধি হিসেবে আমি তরুণদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কিছু প্রস্তাব তুলে ধরছি।
আমরা প্রতিটি জেলা-উপজেলায় নিবেদিতপ্রাণ তরুণদল গঠন করতে পারি। তারা তরুণদের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকেও এ বিষয়ে সচেতন করবে। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, বাল্যবিবাহের কারণ, প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া তুলে ধরে বিষয়টিকে পাঠ্যবইয়ের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
আমরা বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে পারি। যেমন কুইজ, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন নির্মাণ প্রভৃতি। আমরা সচেতনতা বাড়ানোর জন্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক, টুইটারে এই বিষয়গুলো ব্যবহার করতে পারি।
এভাবেই আমরা সমস্যাটাকে কমাতে পারি।
আমিনুল ইসলাম
আমি দুটি পৃথক দৃষ্টিকোণ থেকে বাল্যবিবাহকে দেখতে চাই। এটি একটি সামাজিক প্রথা। আমরা মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করছি। কমিউনিটি ক্লাব গঠনের মাধ্যমে যেখানে জনগণ এই ইস্যু নিয়ে কথা বলবে। এবং কীভাবে বাল্যবিবাহের প্রতিবাদ করতে হয়, এই কার্যক্রমের ফলে অপ্রাপ্তবয়স্করা এটা শিখবে।
আরেকটি দৃষ্টিকোণ হলো আইনের প্রয়োগ। আইনি প্রেক্ষাপটে বয়স নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ। জন্ম নিবন্ধনপ্রক্রিয়া উন্নয়ন করার জন্য ইউনিসেফ সরকারকে সহযোগিতা করছে। একে ডিজিটালাইজড করা হয়েছে। এ কারণে নকল সনদ খুঁজে পেতে সমস্যা হবে না। এবং খুব তাড়াতাড়ি একটি ঘোষণা আসবে যে জন্ম নিবন্ধন সনদ ইলেকট্রনিকভাবে দেওয়া হবে।
আরেকটি দিক হলো, কাজিদের দিয়ে জন্ম নিবন্ধন সনদের ব্যবহার, ডিজিটালাইজেশনের কারণে কাজিরা বুঝতে পারবে, সনদ আসল না নকল।
মাহফুজা রহমান
আপনারা শিক্ষা ও পাঠ্যপুস্তকে এ বিষয়টি অন্তর্ভুক্তির কথা বললেন। আমাদের ভাবতে হবে, কীভাবে এটা বাস্তবায়ন করতে পারি। প্রাথমিক পর্যায়ে এই বিষয়ে শিক্ষকদের আলোচনা করতে উদ্বুদ্ধ করতে পারি। তারা শ্রেণীকক্ষ, সমাবেশ, মা-বাবা ও স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করতে পারে। তাই শিক্ষকদের সচেতনতা, প্রশিক্ষণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সনি সহেলি
আমরা আশপাশের মানুষকে বাল্যবিবাহ সম্পর্কে সচেতন করতে পারি। বন্ধুদের এই বিষয়ে জানাতে পারি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে। তা হলে আশা করি, বাল্যবিবাহের মতো ভয়াবহ একটি বিষয় অচিরেই বন্ধ হবে।
আর্থার এরকেন
গার্মেন্টশিল্পের বিকাশের কারণে নারীর কাজের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এর ফলে নারী পরিবারে অর্থনৈতিকভাবে সাহায্যকরতে পারছে। এতে নারীর কম বয়সে বিয়ের হার কমে যাচ্ছে। আবার অন্যদিকে নারী অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়িত হচ্ছে।
কী কারণে বাল্যবিবাহ হচ্ছে, এটা নিয়ে কোনো মতৈক্য নেই। সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণ বাল্যবিবাহ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এখন এ ক্ষেত্রে আইনের হস্তক্ষেপ দরকার। ইলেকট্রনিক জন্ম নিবন্ধন বাল্যবিবাহ রোধে অনেক সাহায্য করবে।
সবচেয়ে কঠিন হচ্ছে, এই ইস্যুতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করা। এ ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহ রোধে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। বাল্যবিবাহ সমাজের জন্য ক্ষতিকর, এ বার্তা সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।
যেসব মেয়ে স্কুলে যায়, তারা অনেক ক্ষেত্রে বান্ধবীদের বিয়ে বন্ধ করেছে। এটা তারুণ্যের ক্ষমতায়নের ফল। আমরা বলতে চাই, তরুণেরাই বাল্যবিবাহ রোধ করতে পারবে। সবাইকে এ আয়োজনে অংশ নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
মাহ্ফুজ আনাম
সম্পাদক, দ্য ডেইলি স্টার
মাইকেল ম্যাক গ্রেথ
কান্ট্রি ডিরেক্টর, সেভ দ্য চিলড্রেন
এ কে এম নূর-উন-নবী
অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
মো. আশরাফ হোসেন
মহাপরিচালক, মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর
রোকেয়া কবির
নির্বাহী পরিচালক, নারী প্রগতি সংঘ
মো. হেলাল উদ্দিন
যুগ্ম সচিব, ধর্ম মন্ত্রণালয়
জ্যোতি দ্রিনগ্রা
জয়েন্ট প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর, ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম
জুলিয়া আহমেদ
ফ্রিল্যান্স কনসালট্যান্ট
রওশন আরা
সদস্য, নারীপক্ষ ও ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন
তৌহিদা খন্দকার
পরিচালক, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ওমেন লইয়ার অ্যাসোসিয়েশন (বিএনডব্লিউএলএ)
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহেদুল আনাম খান
সম্পাদক, অপ-এড অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক ইস্যুজ,
দ্য ডেইলি স্টার
মামুনুর রশীদ
কো-অর্ডিনেটর, জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কমিউনিকেশন সেন্টার, স্টেপ টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট
মাহফুজা রহমান
প্রজেস্ট অফিসার-এডুকেশন, ইউনেসকো
আমিনুল ইসলাম
চাইল্ড প্রোটেকশন স্পেশালিস্ট, ইউনিসেফ
তানভীর ওয়াহিদ
সদস্য, ইউএনএফপিএ
ইয়ুথ ফোরাম অন আরএইচ
সনি সহেলি
সদস্য, ইউএনএফপিএ
ইয়ুথ ফোরাম অন আরএইচ
সঞ্চালক
আর্থার এরকেন
কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ, জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল
আলোচনা
আর্থার এরকেন
বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণও বেড়েছে। কিন্তু এ দেশে এখনো বাল্যবিবাহ নামের সামাজিক ব্যাধি রয়েই গেছে। আন্তর্জাতিক আইন, বাংলাদেশের আইন—সব ক্ষেত্রেই মেয়েদের বিয়ের বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ বছর। গত কয়েক দশকে বাল্যবিবাহ নিয়ে নানা নীতিমালাও গৃহীত হয়েছে। কিন্তু দেখা যায়, ১৮ বছর পার হওয়ার আগেই মেয়েদের বিয়ে হয়ে যায়। এর ফলে কন্যাশিশুর অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। আবার এই বাল্যবিবাহের কারণে কন্যাশিশুর শারীরিক, মানসিক নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়। বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময়ই দেখা যায়, মেয়েটির চেয়ে ছেলেটির বয়সের ব্যবধান অনেক বেশি। দেখা গেছে, দুজনের বয়সের পার্থক্য গড়ে প্রায় নয় বছর। সুতরাং, দেখা যায়, কন্যাশিশুটির বিয়েতে রাজি না হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু সে কোনো প্রতিবাদ করতে পারে না।
তাই আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসের আজকের এই আয়োজনে আমরা বাল্যবিবাহের ওপর গুরুত্ব দিতে চাই। শুরুতে আলোচনার জন্য অনুরোধ করছি মাহ্ফুজ আনামকে।
মাহ্ফুজ আনাম
আমরা ইউএনএফপিএর সঙ্গে সহ-আয়োজক হিসেবে থাকতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি। আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু বাংলাদেশ ও তার পরবর্তী প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বাল্যবিবাহ রোধ জাতীয় প্রতিশ্রুতি, নৈতিকতা ও মানবাধিকারের একটি অন্যতম বিষয়। একই সঙ্গে এটি দেশের ভবিষ্যৎ ও রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত। এ কারণেই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সবাইকে কাজ করতে হবে। বাল্যবিবাহ এমন একটি বিষয়, যার মধ্যে ছদ্মবেশে অনেক সমস্যা লুকিয়ে রয়েছে।
বিয়ের ক্ষেত্রে বয়সের একটা মাত্রা রয়েছে। কিন্তু আমরা সেটা জানি না। ১৫-১৬ বছরে বা তারও আগে মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। এতে মেয়েদের মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘনও হচ্ছে। ফলে মেয়েটির সারা জীবনে এর প্রভাব থেকে যাচ্ছে।
বাল্যবিবাহ রোধে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সংবাদপত্র অবশ্যই ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে অডিও ভিজ্যুয়াল মিডিয়ার সহায়তা দরকার। কারণ, টেলিভিশনের মাধ্যমে আবেগ, প্রতিক্রিয়া বহুমাত্রিকভাবে দেখানো যায়। দর্শকদের মাঝে সেটা নাড়াও দেয় বেশি মাত্রায়। এর প্রভাবও অনেক বেশি। সেখানে বাল্যবিবাহের ইস্যু নিয়ে নাটক, সিরিয়াল তৈরি করা যেতে পারে, যা এই সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে একটি যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই অডিও ভিজ্যুয়াল মিডিয়াকে এ ব্যাপারে অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। আমাদের দেশে অনেক কমিউনিটি রেডিও স্টেশন আছে। সেগুলোকে বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে সচেতনতা বাড়াতে ব্যবহার করতে পারি। সেখানে আমরা অর্থনৈতিক ক্ষতির ব্যাপারটিও জানাতে পারি।
মাইকেল ম্যাক গ্রেথ
বাল্যবিবাহ বাংলাদেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়, পরিবার এবং পরিবারের শিশুদের বিপর্যস্ত করে।
প্রথমত বাল্যবিবাহ মেয়েদের শিক্ষাজীবনকে সংকুচিত করে ফেলে। বিয়ের পর কিশোরী মেয়েটির সব ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয় তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তারা চায় না মেয়েটি পড়ালেখা বা অন্য কোনো কাজে বাইরে যাক। ফলে মেয়েটির যতটুকু ইচ্ছাশক্তি থাকে, তা-ও মিলিয়ে যায়। তাই বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে হবে।
দ্বিতীয় হলো স্বাস্থ্যগত সমস্যা। বাল্যবিবাহের ফলে মাতৃমৃত্যুর হার অনেক বেড়ে যায়। কিশোরী মায়েদের মৃত্যুর হার অন্য যেকোনো বয়সের মাতৃমৃত্যুর হারের চেয়ে বেশি। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, পূর্ণবয়স্ক নারীর তুলনায় ১৪ বা ১৫ বছরের কিশোরীদের ক্ষেত্রে মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। কন্যাশিশুরা সন্তান ধারণে উপযুক্ত নয়। এত অল্প বয়সে মা হওয়ার ফলে তাদের শারীরিক অবস্থার ভয়াবহ অবনতি ঘটে। দাম্পত্য জীবনেও তারা সুখী হয় না। কন্যাশিশুদের সন্তান ধারণে ও প্রসবের সময় বিভিন্ন সমস্যা হয়। দীর্ঘ প্রসবব্যথার কারণে জরায়ু, মূত্রনালি ও মলনালি ছিঁড়ে যায়। এর ফলে ফিস্টুলা নামের রোগ হয়। এসব কারণে তাদের স্বামীরা তাদের পরিত্যাগ করতে পারে। আর এটা হতে পারে বাল্যবিবাহ, অল্প বয়সে গর্ভধারণ ও অন্যান্য জটিলতার অন্যতম ভয়াবহ একটি দিক।
এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, সন্তান প্রসবকালীন সময়ে যেসব শিশু মারা যায়, তাদের ৫০ শতাংশের মায়েরা কিশোরী। আমরা শিশুমৃত্যু রোধ করতে পারছি না, যার অন্যতম কারণ বাল্যবিবাহ।
সুতরাং, শিশুমৃত্যুর হার কমাতে হলেও বাল্যবিবাহ রোধ করতে হবে।
সিলেটে সেভ দ্য চিলড্রেনের একটি কর্মসূচি রয়েছে। সেখানকার ২০০৭ সালের একটি গবেষণায় দেখা যায়, মেয়েদের বিয়ের বয়স গড়ে ১৪ দশমিক ৭ বছর, যেখানে পুরো বাংলাদেশে মেয়েদের বিয়ের গড় বয়স ১৬ দশমিক ৫ বছর। সে সময় থেকেই আমরা দুটি গবেষণা চালিয়ে আসছি। সেগুলো প্রথম গবেষণার মতো নয়। এগুলো তথ্য-উপাত্তের চেয়ে জনগণকে তুলনামূলকভাবে সরাসরি প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত। আমরা আশাবাদী ছিলাম পরিস্থিতির উন্নতি হবে। একটি গবেষণায় দেখা গেল, বিয়ের গড় বয়স ১৪ দশমিক ৪ বছর। অন্যটিতে ১৪ দশমিক ২ বছর। সংকটটা কত গভীর বোঝা যায়। মোকাবিলাও অনেক কঠিন। তাই বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।
বাল্যবিবাহের বাস্তব কিছু কারণ রয়েছে। আমি দুটি কারণ উল্লেখ করতে চাই।
একটি হলো, মেয়েরা কৈশোরে শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হয়। ফলে সমাজে তার সম্মানহানি ঘটে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্কুলে আসা-যাওয়ার পথেই তারা নির্যাতনের শিকার হয়। ফলে তাদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। তখন মেয়েটির পরিবার মেয়েটির সুরক্ষার জন্য তাকে বিয়ে দিয়ে দেয়। পরিবার ভাবে, এ নিয়ে পরবর্তীকালে জটিলতা বাড়তে পারে, তখন হয়তো বিয়ে দেওয়া কঠিন হয়ে যাবে। তাই কিশোরী অবস্থাতেই বিয়ে দিয়ে দেয়।
অন্য কারণটি হলো যৌতুক। গবেষণায় দেখা গেছে, মেয়েদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরলরৈখিকভাবে যৌতুকের হারও বাড়ে। এ কারণেই দরিদ্র বাবা মেয়েকে কিশোরী অবস্থায় বিয়ে দিয়ে দেন। এই হলো বাল্যবিবাহের কিছু কারণ। এগুলোকে নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে। জাতীয় পর্যায়ে এগুলো নিয়ে আরও বেশি আলোচনা করতে হবে।
এই ইস্যুর একটি স্পর্শকাতর দিক হচ্ছে, সমাজে বেশির ভাগ বিয়েই হচ্ছে ১৫ বছরের নিচে। আন্তর্জাতিক আইন, বাংলাদেশি আইন—সব জায়গায় ১৮ বছরকে মেয়েদের বিয়ের জন্য আদর্শ সময় ধরা হয়েছে। কিন্তু প্রায়োগিক ক্ষেত্রে আমার মনে হয়, একেবারেই শিশু যারা, তাদের বিয়ে না দেওয়ার ব্যাপারে জোর দেওয়া উচিত। তার মানে এই নয়, ১৬ বা ১৭-তে বিয়েটা গ্রহণযোগ্য। কিন্তু আমাদের ১২ থেকে ১৫ বছরের মেয়েদের বিয়ে বন্ধ করাটা নিশ্চিত করতে হবে। পর্যায়ক্রমে এগোলেই গ্রামীণ সমাজে পরিবর্তন আনাটা সহজ হবে।
একই সঙ্গে আমাদের আরেকটি অংশ জনগণ, স্থানীয় নীতিনির্ধারক ও সরকারের সঙ্গে পরিকল্পনা করে এ ব্যাপারে কাজ করতে হবে। ইউএনএফপিএ সারা বিশ্ব থেকে বাল্যবিবাহ দূর করার জন্য যে উদ্যোগ নিয়েছে, সেভ দ্য চিলড্রেন সর্বদা তাতে সহযোগিতা করবে।
যদি সামগ্রিকভাবে মানুষ সজাগ হয়, তবে পরিবর্তন আসতে বেশি সময় লাগে না।
মো. আশরাফ হোসেন
আমরা নারী-পুরুষের সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নের প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রদূত। বাল্যবিবাহ বন্ধ করাটা নারী-পুরুষের সমতা বিধানের আরেকটি দিক। এখনো আমাদের কন্যাশিশুদের অগ্রাধিকার দিতে হচ্ছে, যা নারী-পুরুষের সমতার মূল চেতনার বিপক্ষে যায়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে এ সময়ে এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
বাল্যবিবাহ নামের অভিশাপের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ করতে হবে। এটা কন্যাশিশুর মধ্যে সুপ্ত সব সম্ভাবনাকে ধ্বংস করে দেয়। বাল্যবিবাহ যেন অনেকটাই সামাজিক সংস্কৃতি ও রীতিনীতির পর্যায়ে চলে এসেছে। আমাদের সেসব মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক বা আর্থসামাজিক কারণ চিহ্নিত করতে হবে। তারপর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে, বিশেষ করে কিশোরদের বোঝাতে হবে। তাদের মনোজগৎকে প্রভাবিত করতে হবে, যেন তারা কন্যাশিশুদের তাদের সমকক্ষ ভাবে, প্রতিযোগী না ভাবে। কারণ, এই সমাজটা পিতৃতান্ত্রিক।
আমরা পুরুষতান্ত্রিক পরিবেশের মধ্যে বেড়ে উঠেছি। নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক, প্রতিকূল অনেক আচরণ এখনো আমাদের সমাজে অনুশীলন করা হয়। আমাদের ওই সব আচরণ চিহ্নিত করতে হবে। সুসংবেদনশীল আচরণ বাড়াতে হবে। এ ব্যাপারে ছেলেমেয়ে উভয়কেই একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
আমরা ইতিমধ্যে একটি কাজ হাতে নিয়েছি। ছেলেমেয়েদের সমন্বয়ে একটি ক্লাব করেছি, যেখানে নারীর প্রতি সুসংবেদনশীল আচরণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাদের দৃষ্টিভঙ্গি উন্নত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ কে এম নূর-উন-নবী
বাল্যবিবাহ কারও জন্যই ভালো ফল বয়ে আনে না। এটি বেশ উদ্বেগজনক ব্যাপার। নিশ্চয়ই কেউ এ কথার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করবেন না। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ। স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনা করলে বলা যায়, যে মেয়েদের বাল্য অবস্থায় বিয়ে হয়, তাদের মাতৃমৃত্যুর হার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকে। এই বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। আমরা শিশুমৃত্যু হ্রাসে পদক পেয়েছি, সাফল্য অর্জন করেছি। মাতৃমৃত্যুও আমরা বিভিন্নভাবে কমিয়ে এনেছি। কিন্তু বাল্যবিবাহ রোধ করা যাচ্ছে না। তাই এ বিষয়ে আরও কাজ করা দরকার।
সামাজিক দিক বিবেচনা করলে বিডিএইচএসের (বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভে) সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে আমরা দেখতে পাই, এক বছরে মেয়েদের বিয়ের বয়স বেড়েছে। এটা কি কেবল সমাজের জন্য, নাকি আইনের শাসনের প্রভাব?
আইন অনুযায়ী, ১৮ বছরের আগে কোনো মেয়ের বিয়ে হতে পারে না। কাবিননামা ও বিয়ের নিবন্ধনে মেয়ের বয়স ১৮-ই দেখানো হয়। কিন্তু মূলত তাদের বয়স ১৪ বা ১৫ বছর বা তারও কম। তা হলে বিয়েতে মেয়েদের বয়সের ক্ষেত্রে আইনের সঠিক প্রয়োগ হচ্ছে—এটা কীভাবে নিশ্চিত করব?
সরকার ও আইনশৃঙ্খলা প্রয়োগকারী বাহিনীর উদ্যোগ ও প্রতিশ্রুতি এর একটা ভালো ফল বয়ে আনতে পারে। আরেকটি ব্যাপার, কিশোরী মায়ের বয়স কম হলেও এটা বোঝার কোনো উপায় নেই। কারণ, এ সম্পর্কিত কোনো কাগজপত্র থাকে না। ১৯৭২ সাল থেকে জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হলেও এ ব্যাপারে আইনের যথার্থ প্রয়োগ হয়নি। তাই এটি অনেকেই মেনে চলেনি।
আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগের কথা বলতে পারি। যখন নতুন শিক্ষার্থীরা আসে, আমি তাদের বলি, দুই বছরের মধ্যে বিয়ে করা ও সন্তানধারণ চলবে না। যদি এই কথা মেনে না চলো, তবে তুমি তোমার ডিগ্রি হারাবে। বৈবাহিক জীবনের জটিলতার কারণে শিক্ষাজীবন নিয়ম অনুযায়ী চালিয়ে নিতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে হয়তো শতভাগ সফলতা আসে না। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তাদের প্রভাবিত করা যায়।
আমরা নারীস্বাস্থ্য ও অন্যান্য ব্যাপারে তখনই সফল হব, যখন আমরা জনগণের কাছে সহজেই পৌঁছাতে পারব বিষয়টি নিয়ে। গতানুগতিক যে কাগজগুলো রয়েছে, যেখানে লেখা থাকে, ‘বাল্যবিবাহ অবশ্যই বন্ধ করতে হবে’। এর বদলে এখন সফলতার গল্পগুলো অনেক বেশি বলতে হবে। সেই গল্পগুলো গৎবাঁধা কাগজের চেয়ে অনেক বেশি কাজে দেবে।
বাল্যবিবাহ রোধে আমাদের একটা অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। সেখানে জনসাধারণের জন্য যোগাযোগের ফোরাম তৈরি হতে পারে। যেখানে বাল্যবিবাহের কুফলের ওপর বিভিন্ন আলোচনায় জনগণ অংশ নিতে পারে। তাতে কিশোরী মেয়েরা বাল্যবিবাহের হাত থেকে রক্ষা পেতে পারে।
মজার ব্যাপার হলো, আমাদের একটি নীতিমালা রয়েছে যে, বাল্যবিবাহ হলে সেই কন্যাশিশুর বাবাকে শাস্তি দেওয়া হবে। আমার প্রশ্ন, সেই কন্যাশিশুর বিয়ে হয়ে গেলে এই শাস্তি দিয়ে কী লাভ। এই আইনের সংশোধন করা দরকার। এ ক্ষেত্রে বাস্তবভিত্তিক এমন কোনো উপায় বের করতে হবে, যাতে সত্যিকার অর্থেই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
মো. হেলাল উদ্দিন
বাল্যবিবাহ ইসলামে নিষিদ্ধ এবং বাল্যবিবাহকে ইসলাম গ্রহণযোগ্যতা দেয় না। দেশের আইনে রয়েছে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ আর ছেলেদের ২১। বিয়ে নিবন্ধনেও তার কম হয় না। কিন্তু ব্যাপারটা তো সত্যি নয়। এই ফাঁকি বন্ধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের এসএসসি বা জন্ম নিবন্ধন সনদ দেখে বিয়ের নিবন্ধন করাতে হবে। যারা দেখাতে পারবে না, তারা দোষী সাব্যস্ত হবে। তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ইমামদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে থাকে। ফলে অনেক ইমাম প্রশিক্ষিত হচ্ছেন। বাল্যবিবাহের বিষয়টি পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভবিষ্যতে আমরা ইমামদের জন্য প্রশিক্ষণের আয়োজন করব, সেখানে আমি এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব।
রোকেয়া কবির
২০০৯ সালের এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৩০ শতাংশ মেয়ে ১৬ বছরে মা হয়। ৬০ শতাংশের বেশি মেয়ে ১৭ বছরে মা হয়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, আইনে বয়সসীমা নির্ধারিত থাকলেও এর কোনো প্রয়োগ নেই। বাল্যবিবাহ একটা ক্ষতিকর প্রথা। কিন্তু এর মূল কারণগুলো বিবেচনা করা দরকার। বাল্যবিবাহের ফলে পুরুষেরা একধরনের সুবিধা পায়। আমাদের সংগঠন ১৯৯২-৯৩ সাল থেকে শিক্ষাকে নারীর প্রতি সংবেদনশীল করার চেষ্টা করছে। নারীদের সংগঠিত করছে। তাদের কর্মক্ষেত্রে নিয়ে আসছে। নারীরাও কর্মশক্তির অংশ। এটা তাদের বোঝানোর চেষ্টা করছি আমরা।
অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ কতটুকু, এর ওপর আমরা গবেষণা, সেমিনার, কর্মশালা করছি। একজন যখন বালিকা বয়সে পাঁচ-ছয়টি সন্তান জন্ম দেয়, তখন সেই পরিবারের অর্থনীতিতে, জাতীয় রাজস্ব খাতে ও অন্যান্য ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, তা আমরা দেখানোর চেষ্টা করি। আমরা অনেক কাজ ইতিমধ্যে শুরু করেছি। যেমন যৌন ও প্রজননসংক্রান্ত অধিকার, স্বাস্থ্যশিক্ষা-সংক্রান্ত বিষয় জাতীয় পাঠক্রমে পাঠ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছি; যাতে জাতীয় শিক্ষা কার্যক্রম নারীর প্রতি সংবেদনশীল হয়। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোর সঙ্গেও নানা কাজ করছি। চেষ্টা করছি, এই বিষয়গুলো সমন্বিত হয়ে যেন বাস্তব রূপ পায়।
জ্যোতি দ্রিনগ্রা
শিশু ও নারীদের অপুষ্টির দিক থেকে বাংলাদেশ ওপরের দিকে অবস্থান করছে। অপুষ্টির সঙ্গে বাল্যবিবাহের সম্পর্ক রয়েছে। কম বয়সী মা কোনো শিশুর জন্ম দিলে সেই শিশু কম যত্ন পাবে। এতে শিশুর মৃত্যুর আশঙ্কা বাড়ে। বাল্যবিবাহের দ্বিতীয় দিক হচ্ছে, এতে করে নারীর ক্ষমতায়ন ব্যাহত হয়। কন্যাশিশু বিয়ের পর পারিবারিক ক্ষমতা কাঠামোর একেবারে তলানিতে অবস্থান করে। কোনো ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তার থাকে না। ক্ষমতায়ন সরাসরি বাল্যবিবাহের সঙ্গে যুক্ত। দক্ষিণ এশিয়ায় যদি নারী-পুরুষের মর্যাদা সমান হতো, তবে অপুষ্টির হার ১৩ শতাংশে কমিয়ে আনা যেত।
জুলিয়া আহমেদ
বাল্যবিবাহ মূল উন্নয়ন নির্দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত। আমাদের ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার এই নির্দেশকগুলো হলো মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুস্বাস্থ্য, শিশুশিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ।
‘কস্ট অব ভায়োলেন্স ইন্সট্রুমেন্ট’ নামের একটি কেয়ার প্রকল্পে আমরা বিশদভাবে দুটো বিষয় তুলে ধরেছিলাম। একটি ছিল দৃষ্টান্ত বা উদাহরণ। অন্যটি ছিল অধিকারভিত্তিক প্রস্তাবনা। প্রথম বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বাল্যবিবাহ এবং নারীর প্রতি সহিংসতা দুটিই বড় ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন। এ ক্ষেত্রে পরিসংখ্যানে আমরা দেখেছি, অবস্থা খুবই নাজুক।
তৃণমূল পর্যায়ের জনগণ বাল্যবিবাহ বা নারী নির্যাতনের মধ্যে কোনো পারিবারিক সহিংসতা দেখতে পায় না। এ ক্ষেত্রে তাদের আচরণ পরিবর্তন করানো অনেক কঠিন। সে ক্ষেত্রে কেয়ার প্রকল্পে আমরা পরীক্ষা করেছি, মূল্যায়ন করেছি। কিছু উপকরণ প্রয়োগ করেছি। একটি উপকরণ হচ্ছে, ব্যবহার পরিবর্তনকারী যোগাযোগ (বিহেভিয়ার চেঞ্জ কমিউনিকেশন টুলস বা সংক্ষেপে বিসিসি টুলস) ব্যবস্থা। এটা ব্যবহার করেছি সহিংসতার অন্তর্নিহিত কারণগুলো বোঝার জন্য। আমরা নারী ও পুরুষ উভয়কে পর্যবেক্ষণ করতাম। কিছু বিষয় তাদের অনুশীলন করাতাম। নারী-পুরুষ কীভাবে দিনের ২৪ ঘণ্টা কাটায়, তা দেখার জন্য এই অনুশীলনগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই অনুশীলন থেকে দেখা গেল, পুরুষদের মধ্যে একটা চিন্তার প্রবণতা লক্ষ করা যায় যে তারা মনে করে, নারীরা দায়িত্ব পালনে বাধ্য। নারীরা তাদের উৎপাদনমূলক, প্রজননমূলক ও সামাজিক দায়িত্ব পালনে বাধ্য। বিসিসি উপকরণের ক্ষেত্রে আরেকটি দিক হলো, আমরা নারী-পুরুষের সমতা সম্পর্কে পুরুষের কাছ থেকে ক্ষমতা নিয়ে নারীকে দেওয়ার ব্যাপারে কথা বলি না। এটি খুব শক্তিশালী উপকরণ। এতে নারীরা পুরো ব্যাপারটিতে উৎসাহিত হয়। আমরা বলছি, আমাদের এই উপকরণ রয়েছে। আপনারা যখন কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য কাজ করবেন, তখন উপকরণটি ব্যবহার করতে পারেন।
আমি অধিকারভিত্তিক প্রস্তাবনা নিয়েও কথা বলেছিলাম। অধিকারভিত্তিক প্রস্তাবনাকেও একটি উপকরণে উন্নীত করেছি। একটা সাধারণ সমালোচনা আছে—আমাদের আইন আছে, নীতিমালা আছে, কিন্তু সেটা কাজ করছে না। সেই জায়গা থেকে আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। আমাদের আইনের ১৬ নম্বর ধারায় ক্ষতিপূরণ প্রদান সম্পর্কে বলা হয়েছে, আমরা মূল্য বিশ্লেষণ উপকরণ (কস্ট অ্যানালাইসিস টুল কিট) তৈরি করেছি। এই উপকরণগুলোর মাধ্যমে আমরা ক্ষতিপূরণের মান মোটামুটি নির্ভুলভাবে নির্ণয় করতে পারি।
রওশন আরা
আমাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী উপাদান নামের একটি কর্মসূচি রয়েছে, যেটি বাল্যবিবাহ নিয়েও কাজ করে। আমরা দেখি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বাল্যবিবাহ বন্ধের উদ্যোগ নিলেও এলাকার স্থানীয় লোকজন বাল্যবিবাহের তথ্য লুকিয়ে রাখে। তাই তথ্য না পেলে আইন সংস্থা কিছুই করতে পারে না। আরেকটি ব্যাপার—জনগণের জন্ম নিবন্ধন সম্পর্কে অসচেতনতা।
বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে আমাদের আইন রয়েছে, সরকার তা প্রয়োগ করতে চায়। কিন্তু এর জন্য আরও উদ্যোগী হতে হবে। ইউনিসেফ এবং সরকার মেয়েদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করেছে। এর ফলে মেয়েরা স্কুলে যাচ্ছে। এটা একটা ভালো উদ্যোগ। আমাদের এই রকম উদ্যোগ আরও বাড়াতে হবে, যাতে মেয়েরা নিয়মিত স্কুলে যায়, বাবা-মা যাতে মেয়েদের শিক্ষাজীবন শেষ করার পর বিয়ের আয়োজন করেন।
তৌহিদা খন্দকার
বাল্যবিবাহ আমাদের জন্য একটি অভিশাপ। আমি আইনগত দিক থেকে এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই। দেশে বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধকরণ আইন আছে। এটি ১৯২৯ সালে প্রবর্তন করা হয়। কিন্তু এর কোনো প্রয়োগ নেই। অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আমি এই আইনের আওতায় একটিও মামলা হতে দেখিনি। কারণ, আইনটিতে অনেক ফাঁকফোকর আছে।
আরেকটি আইন আছে, মুসলিম বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন আইন, ১৯৭৪। এটিরও সঠিক প্রয়োগ নেই।
আমাদের সংগঠন মহিলা আইনজীবী অ্যাসোসিয়েশন নারী ও শিশুদের অধিকার উন্নত করতে ভূমিকা রাখছে। আমরা লৈঙ্গিক সমতা বিধানের জন্যও কাজ করছি। আমরা স্থানীয় পর্যায়ে কিছু কর্মসূচি হাতে নিয়েছি, যাতে বাল্যবিবাহ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে ২০১২-তে বিএডব্লিউএল হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেছে বাল্যবিবাহ বন্ধে নির্দেশনা পাওয়ার জন্য। আরেকটি আবেদন ছিল, বর ও কনেকে বয়স প্রমাণের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র দেখাতে হবে।
আরেকটি হলো, সরকারি কার্যালয়ে বাল্যবিবাহের একটি সাংখ্যিক হিসাব রাখা। সেই সঙ্গে স্ত্রীকে মোহরানার অর্থ পাওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত করা। মোহরানা একজন নারীর অধিকার। আরেকটি আবেদন ছিল, বিদ্যমান আইনের সংশোধন বা নতুন আইন প্রণয়ন করতে হবে। নতুন আইন প্রণয়নের আগে আমরা উচ্চ আদালতের কাছে একটি দিকনির্দেশনার আবেদন করেছিলাম। বাল্যবিবাহ-সংক্রান্ত কোনো নতুন আইন প্রণীত হওয়ার আগ পর্যন্ত এই দিকনির্দেশনাগুলোই আইন হিসেবে পরিগণিত হবে।
আমাদের বর্তমান যে আইনটি রয়েছে, সেখানে দেখা যায়, বাল্যবিবাহ একটি অপরাধ। কিন্তু বাল্যবিবাহ বাতিলযোগ্য নয়। এটা আইনে একটা স্ববিরোধী বিষয় বলে আমি মনে করি।
আরেকটি ব্যাপার হলো, কাজিদের বিয়ে নিবন্ধনের অনুমোদন আছে। কিন্তু বিবাহ আইন সম্পর্কে তাঁদের সঠিক ধারণা নেই। বিএনডব্লিউএলএ তৃণমূল পর্যায়ে সচেতন করতে অনেক কর্মসূচি রয়েছে। সেখানে ভালো অভিভাবকত্ব, অভিভাবকদের ইতিবাচক নিয়ম, যাতে তারা শিশুদের সম্পর্কে সচেতন হয়, তৃণমূল পর্যায়ে বাল্যবিবাহ নিয়ে আমাদের সংগঠন কর্মসূচি চালায়।
সবশেষে বলব, বাল্যবিবাহ ঠেকাতে সরকার ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।
আর্থার এরকেন
বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে ক্ষতিটা সব সময়ই জনগণের দিকে যায়। আমি নেদারল্যান্ডের অধিবাসী। সেখানে আইন প্রচলিত রীতিনীতিকে অনুসরণ করে। জনসাধারণ যা চায়, সংসদ বা আইনসভা সব সময় তার পেছনে থাকে। অর্থাৎ, জনগণের চাওয়াকেই তারা প্রতিফলিত করে। বাংলাদেশে অনেক ক্ষেত্রে আইন গণমানুষের চাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না, কিন্তু আইন পাস হয়ে যায়। বুদ্ধিবৃত্তিক দিক থেকে বাল্যবিবাহ গ্রহণযোগ্য নয়, কিন্তু সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য। কারণ, দরিদ্র ব্যক্তিদের অর্থনৈতিক দিক থেকে দেখলে এটি সংগত মনে করা হয়।
সুতরাং, আপনাদের এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে একজন বাবা তাঁর মেয়েকে ১৮ বছরের আগে বিয়ে দিতে চাইবেন না। এর জন্য আমাদের ধর্মীয় সম্প্রদায় ও শিক্ষকদের এ ব্যাপারে বোঝাতে হবে। তাঁরা এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারেন। আপনি যদি সত্তরের দশকের সঙ্গে বর্তমান সময়ের উপাত্তগুলো তুলনা করেন, দেখবেন ১৬ বছরের মেয়েদের বিয়ের ক্ষেত্রে কম যৌতুক দিতে হচ্ছে বা একেবারেই দিতে হচ্ছে না। তাই বলে যৌতুকপ্রথা বন্ধ হয়নি। বরং আরও বেড়েছে।
শাহেদুল আনাম খান
মেয়েরা ঘরে কাজ করে। কিন্তু তাদের কাজগুলোকে অর্থনৈতিক কাজ হিসেবে মনে করা হয় না। মনে করা হয় নারীর কাজের কোনো অর্থনৈতিক ভিত্তি নেই। এ কারণে নারীকে পুরুষের বোঝা মনে করা হয়।
মামুনুর রশীদ
আমি বিবাহ নিবন্ধন আইনের ভেতরের একটি অসামঞ্জস্য নিয়ে কথা বলতে চাই। হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী, সরকার সব বিবাহ নিবন্ধকের কাছে একটি পরিপত্র পাঠিয়েছিল এই মর্মে যে, বিয়ের সময় জন্ম নিবন্ধন সনদ বা জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করতে হবে। কিন্তু দেখা গেল, নিবন্ধন ফরমে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর বা জন্ম নিবন্ধন সনদের নম্বর লেখার কোনো ঘর নেই। এর ফলে প্রকৃতভাবে যাচাই করা সম্ভব হয় না। শেষ পর্যন্ত ওই পরিপত্রের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তাই আমরা সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, বিষয়টি যেন ফরমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
দ্বিতীয় বিষয়টি হলো, যেহেতু আইনটি যথেষ্ট নয় এবং বিভিন্ন মানসিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সে ক্ষেত্রে আমরা কি অন্য কোনো উপায় অবলম্বন করতে পারি? যেমন আমরা কি ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত যেসব মেয়ের বিয়ে হবে না, তাদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করতে পারি? ইতিমধ্যে বিভিন্নভাবে অনেক টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে। এতে জনগণের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতেও সাহায্য করবে, একই সঙ্গে অর্থনৈতিক বোঝাও কমাবে।
তানভীর ওয়াহিদ
বাল্যবিবাহের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু পরিসংখ্যান এখানে উল্লেখ করতে চাই, যেটা আমাদের দেশের জন্য আশঙ্কাজনক। প্রথমটি হচ্ছে, সম্প্রতি বিবিসি একটি সংবাদ প্রচার করেছে, বাংলাদেশের বাল্যবিবাহের হার পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বাল্যবিবাহ হওয়া দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। দ্বিতীয়টি হলো, বাংলাদেশি মেয়েদের ৬৬ শতাংশেরই বিয়ে হয় ১৮ বছর হওয়ার আগে। শেষটি হলো, ২০ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হচ্ছে ১৫ বছর হওয়ার আগেই। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, এই ইস্যুতে আমাদের চারটি জানার বিষয় রয়েছে।
এই সমস্যা দূর করার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি কর্মসূচিগুলোর ওপর জোর দেওয়া উচিত। শহর ও গ্রামের সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে। আর সচেতন করতে আমাদের পুরোনো আর নতুন কৌশলের সংমিশ্রণ ঘটাতে হবে। তরুণ প্রতিনিধি হিসেবে আমি তরুণদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কিছু প্রস্তাব তুলে ধরছি।
আমরা প্রতিটি জেলা-উপজেলায় নিবেদিতপ্রাণ তরুণদল গঠন করতে পারি। তারা তরুণদের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকেও এ বিষয়ে সচেতন করবে। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, বাল্যবিবাহের কারণ, প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া তুলে ধরে বিষয়টিকে পাঠ্যবইয়ের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
আমরা বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে পারি। যেমন কুইজ, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন নির্মাণ প্রভৃতি। আমরা সচেতনতা বাড়ানোর জন্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক, টুইটারে এই বিষয়গুলো ব্যবহার করতে পারি।
এভাবেই আমরা সমস্যাটাকে কমাতে পারি।
আমিনুল ইসলাম
আমি দুটি পৃথক দৃষ্টিকোণ থেকে বাল্যবিবাহকে দেখতে চাই। এটি একটি সামাজিক প্রথা। আমরা মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করছি। কমিউনিটি ক্লাব গঠনের মাধ্যমে যেখানে জনগণ এই ইস্যু নিয়ে কথা বলবে। এবং কীভাবে বাল্যবিবাহের প্রতিবাদ করতে হয়, এই কার্যক্রমের ফলে অপ্রাপ্তবয়স্করা এটা শিখবে।
আরেকটি দৃষ্টিকোণ হলো আইনের প্রয়োগ। আইনি প্রেক্ষাপটে বয়স নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ। জন্ম নিবন্ধনপ্রক্রিয়া উন্নয়ন করার জন্য ইউনিসেফ সরকারকে সহযোগিতা করছে। একে ডিজিটালাইজড করা হয়েছে। এ কারণে নকল সনদ খুঁজে পেতে সমস্যা হবে না। এবং খুব তাড়াতাড়ি একটি ঘোষণা আসবে যে জন্ম নিবন্ধন সনদ ইলেকট্রনিকভাবে দেওয়া হবে।
আরেকটি দিক হলো, কাজিদের দিয়ে জন্ম নিবন্ধন সনদের ব্যবহার, ডিজিটালাইজেশনের কারণে কাজিরা বুঝতে পারবে, সনদ আসল না নকল।
মাহফুজা রহমান
আপনারা শিক্ষা ও পাঠ্যপুস্তকে এ বিষয়টি অন্তর্ভুক্তির কথা বললেন। আমাদের ভাবতে হবে, কীভাবে এটা বাস্তবায়ন করতে পারি। প্রাথমিক পর্যায়ে এই বিষয়ে শিক্ষকদের আলোচনা করতে উদ্বুদ্ধ করতে পারি। তারা শ্রেণীকক্ষ, সমাবেশ, মা-বাবা ও স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করতে পারে। তাই শিক্ষকদের সচেতনতা, প্রশিক্ষণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সনি সহেলি
আমরা আশপাশের মানুষকে বাল্যবিবাহ সম্পর্কে সচেতন করতে পারি। বন্ধুদের এই বিষয়ে জানাতে পারি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে। তা হলে আশা করি, বাল্যবিবাহের মতো ভয়াবহ একটি বিষয় অচিরেই বন্ধ হবে।
আর্থার এরকেন
গার্মেন্টশিল্পের বিকাশের কারণে নারীর কাজের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এর ফলে নারী পরিবারে অর্থনৈতিকভাবে সাহায্যকরতে পারছে। এতে নারীর কম বয়সে বিয়ের হার কমে যাচ্ছে। আবার অন্যদিকে নারী অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়িত হচ্ছে।
কী কারণে বাল্যবিবাহ হচ্ছে, এটা নিয়ে কোনো মতৈক্য নেই। সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণ বাল্যবিবাহ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এখন এ ক্ষেত্রে আইনের হস্তক্ষেপ দরকার। ইলেকট্রনিক জন্ম নিবন্ধন বাল্যবিবাহ রোধে অনেক সাহায্য করবে।
সবচেয়ে কঠিন হচ্ছে, এই ইস্যুতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করা। এ ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহ রোধে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। বাল্যবিবাহ সমাজের জন্য ক্ষতিকর, এ বার্তা সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।
যেসব মেয়ে স্কুলে যায়, তারা অনেক ক্ষেত্রে বান্ধবীদের বিয়ে বন্ধ করেছে। এটা তারুণ্যের ক্ষমতায়নের ফল। আমরা বলতে চাই, তরুণেরাই বাল্যবিবাহ রোধ করতে পারবে। সবাইকে এ আয়োজনে অংশ নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1376)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
-
▼
2012
(33842)
-
▼
October
(1721)
-
▼
Oct 11
(101)
- আকস্মিক ঝড়ে লণ্ডভণ্ড উপকূল, ২২ জনের প্রাণহানি by ...
- সুরঞ্জিতের মন্ত্রিত্ব নিয়ে করা রিট সরাসরি খারিজ
- ‘আমাদের গলা কাটতে রাত জেগে টকশো’
- ‘মালালাকে মরতে হবে’
- সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন চীনের মো ইয়ান
- সাদামাটা কিম
- বিদ্যা রাজি হননি
- মালালার অবস্থা স্থিতিশীল
- ‘কন্যাশিশুর বিয়ে রোধ করুন’- আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু ...
- প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষা- আসন চার হাজার, আবেদন প্র...
- শারদোৎসবের প্রতীক্ষা... by মিঠুন চৌধুরী
- সাক্ষাৎকার- মডেল পৌরসভা হবে ফটিকছড়ি: মেয়র
- ফটিকছড়ির নতুন মেয়রের কাছে প্রত্যাশা- ধুরুং খালের ভ...
- হায় আসকারদীঘি! by প্রণব বল
- ম্যাচ পাতানো বিতর্ক-নাদির শাহসহ ৬ আম্পায়ার নিষিদ্ধ
- বৌদ্ধ প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ-হামলার ঘটনা তদন্তে নির...
- তদন্ত কমিটিতে গোয়েন্দা চান পিএসসি চেয়ারম্যান
- অল্প স্বল্প গল্প
- বিশ্বসংগীত- মামফোর্ড অ্যান্ড সন্স
- লিউড- বেন অ্যাফ্লেকের আরগো
- বলিউড- আবারও শ্রীদেবী-জাদু
- সেই চেনা সুর কতদিন শুনিনি by মেহেদী মাসুদ
- প্রশ্নপত্র ফাঁস-'মুখস্থ পদ্ধতি' ঠেকানোর কৌশল খুঁজ...
- তদন্ত প্রতিবেদন আজ-রোহিঙ্গা, জামায়াত-শিবিরও জড়িত, ...
- সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে আ...
- হেনরীর সম্পদের খোঁজে ব্যাংকে ব্যাংকে চিঠি
- গ্রেপ্তার নাকি আত্মসমর্পণ
- সোনালী ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলার- হুঁশিয়ারি দুদকের
- নজিরবিহীন অর্থ কেলেঙ্কারি-মামলার প্রস্তুতিই নেই সো...
- বীর মুক্তিযোদ্ধা- তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না
- কক্সবাজারে সুলতানা কামাল- বৌদ্ধমন্দিরে হামলার ঘটনা...
- রসায়নে নোবেল পেলেন দুই মার্কিন রসায়নবিদ
- পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে ঢিলেমি
- ভারতকে আর্থিক সহায়তা কমানোর ইঙ্গিত ব্রিটেনের
- দুর্নীতির অভিযোগ-লুলার তিন সহযোগী দোষী সাব্যস্ত
- সেরে ওঠো মালালা
- গুলি অপসারণের পর 'শঙ্কামুক্ত' মালালা-* আরো তিন-চার...
- দুর্নীতি নিয়ে 'নেতিবাচক আবহ' দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ...
- সংশোধিত খসড়া চিঠি আদালতের মনঃপূত হয়েছে
- ভারতের টয়লেট প্রকল্প পেল গ্লোবাল+৫ পুরস্কার
- কেনিয়ায় এমপিদের 'বিদায় বোনাসের' প্রস্তাবে প্রেসিডে...
- কেনিয়ায় এমপিদের 'বিদায় বোনাসের' প্রস্তাবে প্রেসিডে...
- কেনিয়ায় এমপিদের 'বিদায় বোনাসের' প্রস্তাবে প্রেসিডে...
- টিএইচই বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিং-এশিয়া এগিয়েছে, পিছি...
- টিএইচই বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিং-এশিয়া এগিয়েছে, পিছি...
- ইসরায়েলে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা
- ইসরায়েলে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা
- জর্দানে গোপনে টাস্কফোর্স পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
- জর্দানে গোপনে টাস্কফোর্স পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
- জর্দানে গোপনে টাস্কফোর্স পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
- জর্দানে গোপনে টাস্কফোর্স পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
- কম্পানিকা মাল-অনিয়ম অপচয়কে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না
- কম্পানিকা মাল-অনিয়ম অপচয়কে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না
- পদ্মা সেতু প্রকল্প: ১৪ অক্টোবর আসছে বিশ্বব্যাংকের ...
- ১ অক্টোবর থেকে নিখোঁজ ছিলেন তানভীর
- ১ অক্টোবর থেকে নিখোঁজ ছিলেন তানভীর
- ১ অক্টোবর থেকে নিখোঁজ ছিলেন তানভীর
- ১ অক্টোবর থেকে নিখোঁজ ছিলেন তানভীর
- পুরোনো জাহাজ আমদানি বেড়েছে বাড়ছে দুর্ঘটনা by প্র...
- পুরোনো জাহাজ আমদানি বেড়েছে বাড়ছে দুর্ঘটনা by প্র...
- দুদকের মামলা ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত
- দুদকের মামলা ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত
- সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্রিফিং কত...
- পবিত্র কোরআনের আলো-মূর্খরা বিচার-বিবেচনা ছাড়াই তাদ...
- পবিত্র কোরআনের আলো-মূর্খরা বিচার-বিবেচনা ছাড়াই তাদ...
- কুড়িয়ে পাওয়া সংলাপ-নমি তোমায় বন্ধু আমার by রণজিৎ ব...
- বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি-অরবিস চক্ষু সেবা প্রকল্প ...
- রামুর ঘটনা নিয়ে রাজনীতির খেলা বন্ধ হোক by কাজী সিরাজ
- রামুর ঘটনা নিয়ে রাজনীতির খেলা বন্ধ হোক by কাজী সিরাজ
- রামুর ঘটনা নিয়ে রাজনীতির খেলা বন্ধ হোক by কাজী সিরাজ
- চরাচর-রথখোলায় দুধের আড়ত by পাভেল রহমান
- করুণা নয় সহযোগিতার হাত বাড়ান by খন্দকার মাহবুব হোসেন
- করুণা নয় সহযোগিতার হাত বাড়ান by খন্দকার মাহবুব হোসেন
- তটিনীর পায়ে নূপুর বাঁধার এখনই সময় by শামসুল আরেফিন...
- তটিনীর পায়ে নূপুর বাঁধার এখনই সময় by শামসুল আরেফিন...
- তটিনীর পায়ে নূপুর বাঁধার এখনই সময় by শামসুল আরেফিন...
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাজানো নাটক by লে. জে. মাহবুবুর...
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাজানো নাটক by লে. জে. মাহবুবুর...
- রাসায়নিক সারের অপপ্রয়োগ by একেএম সালাহউদ্দিন
- রাসায়নিক সারের অপপ্রয়োগ by একেএম সালাহউদ্দিন
- রাসায়নিক সারের অপপ্রয়োগ by একেএম সালাহউদ্দিন
- রাসায়নিক সারের অপপ্রয়োগ by একেএম সালাহউদ্দিন
- প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পিএসসির দায়বদ্ধতা by সোহেল নওরোজ
- প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পিএসসির দায়বদ্ধতা by সোহেল নওরোজ
- প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পিএসসির দায়বদ্ধতা by সোহেল নওরোজ
- সাক্ষাৎকার-জনগণ আপদ ও বিপদ- দুটিরই বিদায় চায় by মু...
- মোটে চারটি দেশ by মাহবুব মোর্শেদ
- বিষণ্নতা : একটি জনস্বাস্থ্য সংকট by জিল্লুর রহমান রতন
- বিষণ্নতা : একটি জনস্বাস্থ্য সংকট by জিল্লুর রহমান রতন
- শাভেজের বিজয়-লাতিন আমেরিকার রূপান্তর by সুভাষ সাহা
- শাভেজের বিজয়-লাতিন আমেরিকার রূপান্তর by সুভাষ সাহা
- শাভেজের বিজয়-লাতিন আমেরিকার রূপান্তর by সুভাষ সাহা
- বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক-পথের বাধা দূর করার উদ্যোগ by...
- বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক-পথের বাধা দূর করার উদ্যোগ by...
- নেরিকা ধান-কৃষক নয় গিনিপিগ
- নেরিকা ধান-কৃষক নয় গিনিপিগ
- নেরিকা ধান-কৃষক নয় গিনিপিগ
- সাগর-রুনি হত্যা-পরিকল্পনাকারীদের ধরা হোক
- সাগর-রুনি হত্যা-পরিকল্পনাকারীদের ধরা হোক
- সোমার স্বপ্নের গল্প by সিফাত হোসেন
- আতাউস সামাদ ও ফাজলে রশীদ স্মরণে নাগরিক শোকসভায় বক্...
-
▼
Oct 11
(101)
-
▼
October
(1721)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
মালয়েশিয়া
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
স্বাস্থ্য
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
জ্যোতির্বিজ্ঞান
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
জীবনযাপন
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
ইয়েমেন
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
Exclusive
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
জোহরান মামদানি
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
ইহুদি
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment