বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি-ভর্তুকি হ্রাসে প্রয়োজন দুর্নীতি রোধ

গণশুনানি না করেই আরেক দফা বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে সরকার। বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর ষষ্ঠবারের মতো এই মূল্যবৃদ্ধি। তার পরও সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী তিন হাজার কোটি টাকার বেশি ভর্তুকি দিতে হবে বিদ্যুৎ খাতে।


জরুরি এই খাতে সরকারের অর্জন উল্লেখযোগ্য। দাবি করা হয়, সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে তারা। বছর দুই আগেও যে পরিমাণ লোডশেডিংয়ের ঝক্কি পোহাতে হয়েছে, সেটা হচ্ছে না এখন। তার পরও কোনো কোনো দিন পাঁচ-ছয়বার পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে সরকারকে। অথচ প্রধানমন্ত্রী সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় বলেছিলেন, লোডশেডিং দৈনিক দুই ঘণ্টায় স্থির রাখবেন। এই মুহূর্তে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা সর্বাংশে প্রয়োগ করলে তার চেয়েও কম লোডশেডিং করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হতো। কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রগুলোয় জ্বালানি সরবরাহ করতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের প্রয়োজন হওয়ায় সরকারকে বাধ্য হয়ে উৎপাদন কমিয়ে ভর্তুকি সহনীয় পর্যায়ে আনার চেষ্টা করতে হচ্ছে। বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয়ের আধিক্যের অন্যতম কারণ, স্থায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে রেন্টাল পাওয়ার প্লান্ট প্রতিষ্ঠা করা। সাড়ে তিন বছরেরও বেশি সময় এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার পরও স্থায়ী উৎপাদনকেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় তাদের ব্যর্থতার দায় তাই নিতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাদের। এ জন্য আজকে বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানোর যে কারণ দেখানো হচ্ছে, তা জনগণের সমর্থন লাভ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া গ্রাহক পর্যায়ে ১৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশীয় সামগ্রিক উৎপাদন ব্যবস্থায় বিরূপ প্রভাব ফেলবে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি হবে সংগত কারণে।
অপেক্ষাকৃত কম ব্যবহারকারীদের জন্য কিছুটা সুবিধা হবে। তবে তিন শ ইউনিটের বেশি ব্যবহারকারীদের কষ্টের মাত্রা বেড়ে যাবে। শহরের মানুষকে তাই বিলাসদ্রব্য ব্যবহারে সংকোচন নীতি মানতে হবে।
বিদ্যুতের ভর্তুকি কমাতে একতরফা মূল্যবৃদ্ধি কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না। ভর্তুকি কমিয়ে আনতে হলে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। কিন্তু সেদিকে সরকারের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের জন্য আনুপাতিক উৎপাদন না বাড়ায় গ্রাহকদের অনেককে তাই অবৈধ সংযোগ নিতে হচ্ছে। সেই কাজে সহযোগিতা করছে বিদ্যুৎ বিভাগেরই কিছু লোক। যে কারণে প্রকৃত গ্রাহকরা উৎপাদন বৃদ্ধির সুবিধা সর্বাংশে পাচ্ছে না। সরকারও রাজস্ব পায় না। ভর্তুকি কমিয়ে আনতে বিদ্যুৎ বিভাগের এসব দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। স্থায়ী ব্যবস্থার দিকে অধিক নজর দিতে হবে এবং তা করতে হবে আরো দ্রুত। রেন্টাল পাওয়ার প্লান্টের পরিবর্তে স্থায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, যুগোপযোগী কয়লা ও জ্বালানিনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নই পারে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় কমিয়ে গ্রাহক পর্যায়ে অধিকতর সুবিধা নিশ্চিত করতে। সরকারকে সেদিকেই অধিক মনোযোগী হতে হবে।

No comments

Powered by Blogger.