নিউইয়র্কসহ সারা আমেরিকায় আনন্দ উল্লাস- বিশ্বব্যাংকের প্রত্যাবর্তন

পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নের সিদ্ধান্ত পুনর্বহালের সংবাদ জানার পরই নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, পেনসিলভেনিয়া, ওয়াশিংটন মেট্র, ফ্লোরিডা, বস্টন, কানেকটিকাট, মিশিগান, লস এঞ্জেলেস, টেক্সাস, জর্জিয়া তথা বাংলাদেশী অধ্যুষিত সকল সিটিতে বাঙালীরা আনন্দ-উল্লাস করেন ২০ সেপ্টেম্বর রাতে (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকাল)।


নিউইয়র্কে রীতিমতো মিষ্টি বিতরণও করা হয়েছে। আনন্দ-উল্লাসকারীরা দাবি করেন, এর ফলে বর্তমান সরকারের আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় একটি সাফল্য এলো এবং বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্তরাও পরাস্ত হলো। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান এ প্রসঙ্গে এনাকে বলেন, ১১ জুলাই প্রবাসীদের বিরাট একটি সমাবেশ করেছিলাম ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের সদর দফতরের সামনে। সে সময়ই আমরা মনে করেছিলাম যে, বিশ্বব্যাংক তার সিদ্ধান্ত পাল্টাবেই এবং দুর্নীতি নিয়ে যে সব অভিযোগ উঠেছে তা এক সময় মিথ্যা প্রমাণিত হবেই। ড. সিদ্দিক স্মরণ করেন যে ওই বিক্ষোভের পরদিনই বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তারা আমাকে ফোন করেছিলেন এবং ১৩ জুলাই একটি চিঠি দিয়েছিলেন। তা নিয়ে ১৪ জুলাই আমি ঢাকায় গিয়েছিলাম এবং ওই চিঠি হস্তান্তর করেছিলাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে। ড. সিদ্দিক বলেন, সময়ের পরিক্রমায় এখন সবকিছু স্পষ্ট হলো যে, মহলবিশেষের ষড়যন্ত্র আজ মিথ্যা প্রমাণিত হলো। জনতার জয় হলো। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ এনাকে বলেন, দুর্নীতির অলীক অভিযোগে বাংলাদেশের ওপর বদনাম চাপিয়ে দেয়ার জঘন্য একটি চেষ্টা ব্যর্থ হলো এবং এটি হচ্ছে শেখ হাসিনার বিচক্ষণ নেতৃত্বের বিজয়। ড. সিদ্দিক এবং সাজ্জাদ উভয়ে বিশ্বব্যাংকের ওই সিদ্ধান্ত পাল্টাতে দেশ ও প্রবাসের মিডিয়ার ভূমিকারও প্রশংসা করেন। উল্লেখ্য, এ বছরের ২৯ জুন বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ১.২ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের অঙ্গীকার থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল। সে সময় নানা শর্ত জুড়ে দেয় বিশ্বব্যাংক। সে সব শর্তের সিংহভাগ সরকার পূরণ করায় ২০ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাংক পুনরায় সম্মত হলো পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়নে। এজন্যই প্রবাসীরা উৎফুল্ল এবং আনন্দিত।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অন্যতম সহসভাপতি আকতার হোসেন এবং সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরী বলেন, এটি শুধু আওয়ামী লীগের জন্য খুশির সংবাদ নয়, প্রতিটি বাংলাদেশীই আজ আনন্দিত। কারণ, পদ্মা সেতু নির্মিত হলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থার আরও উন্নয়ন ঘটবে। নিউইয়র্কের উল্লাসে অংশগ্রহণকারী নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরও ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, প্রচার সম্পাদক হাজী এনাম, উপপ্রচার সম্পাদক তৈয়বুর রহমান টনি। নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি নূরনবী কমান্ডার, সিনিয়র সহসভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুর রহমান চৌধুরী, প্রধান উপদেষ্টা এন আমিন, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য খোরশেদ খন্দকার, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সভাপতি মিসবাহ আহমেদ এবং সেক্রেটারী ফরিদ আলম পৃথকভাবে এনাকে বলেছেন যে, পদ্মা সেতু প্রকল্প বাতিলের জন্য যারা ষড়যন্ত্র করেছিল তাদের মুখোশ এবার উন্মোচিত হবে।

ওয়াশিংটনে আনন্দের বন্যা
শিব্বীর আহমেদ ওয়াশিংটন ডিসি থেকে জানান, পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের ফিরে আসা সংক্রান্ত বিবৃতি প্রকাশ হওবার পর ওয়াশিংটনে বসবাসরত প্রবাসীদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের ফিরে আসা সংক্রান্ত খবরে উল্লাস প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা ও মেট্র ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগ সভাপতি ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেন, পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের ফিরে আসায় পুরো বাঙালী জাতি উপকৃত হলো এবং বর্তমান সরকার ঘোষিত বহুল আলোচিত পদ্মা বহুমুখী সেতুর বাস্তবায়ন অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন হবে।
মেট্র ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম নবী বাকী বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার অত্যন্ত দক্ষতা ও সফলতার সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সমঝোাতা করতে সমর্থ হয়েছে, যা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভার্জিনিয়া স্টেট আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক জি আই রাসেল বলেন, পদ্মাসেতুতে বিশ্বব্যাংকের ফিরে আসা শুধু আওয়ামী লীগের জন্যই খুশির সংবাদ নয়, প্রতিটি বাংলাদেশীই আজ আনন্দিত। মেরিল্যান্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ সেলিম বলেন, মিথ্যা দুর্নীতির অভিযোগ খ-ন করে জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার অত্যন্ত দক্ষতা ও সফলতার সঙ্গে পদ্মা সেতুর অর্থায়নে বিশ্বব্যাংককে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে, যা পুরো জাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে।
এছাড়াও আনন্দ ও উল্লাস প্রকাশ করেন সাদেক খান, এম করিম বাচ্চু, রফিক পারভেজ, আনোয়ার হোসাইন, রফিক পারভেজ, আবুল হোসেন শিকদার, আবুল হাশেম শিকদার, জাকির হোসাইন, মোহাম্মদ হাফিজ, আকতার হোসাইন, ফাহমিদা হোসাইন, শেরিনা চৌধুরীসহ আরও অনেকে।

No comments

Powered by Blogger.