Saturday, August 18, 2012
টেলিভিশন সংলাপ- শিশুদের জন্য বাংলায় বিনোদন চাই
টেলিভিশন সংলাপ- শিশুদের জন্য বাংলায় বিনোদন চাই
প্রথম আলো ও দেশ টিভির যৌথ টেলিভিশন সংলাপ অনুষ্ঠান ৪ জুলাই ২০১২ দেশ টিভিতে সম্প্রচারিত হয়েছে। এই সংলাপে সহযোগিতা করেছে বিএসআরএম। ‘বদলে যাও বদলে দাও মিছিল’-এর উদ্যোগে ‘শিশুদের জন্য বাংলায় বিনোদন চাই’ নিয়েনির্মিত অনুষ্ঠানটির আলোচকদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত, সুপারিশ ও প্রতিশ্রুতিগুলো সংক্ষিপ্ত আকারে আজ ছাপা হলো।
মিথিলা ফারজানা: আপনারা জানেন, এটি একটি ইস্যুভিত্তিক সমস্যার সমাধান খোঁজার অনুষ্ঠান। আমাদের আজকের বিষয় ‘শিশুদের জন্য বাংলায় বিনোদন চাই’। কেন এ ধরনের একটি বিষয় আমরা আপনাদের সামনে তুলে ধরার প্রয়োজন বোধ করলাম—চলুন, দেখে আসি প্রথমেই একটি তথ্যচিত্র।...
ভিডিও সংগ্রহ: কেব্ল টিভির দ্রুত প্রসারে শিশু বিনোদননির্ভরতা তীব্র আঘাত হেনেছে আমাদের ভাষাগত মূল্যবোধে। শিশুদের ভাষার পরিবর্তন ঘটছে, তারা মাতৃভাষা রপ্ত করার আগেই অনায়াসে শিখে ফেলছে হিন্দি ভাষা। তারা বাংলা ভাষায় কথা বলতে চাইছে না অথবা পারছে না। সমস্যার উৎস হিসেবে সবাই চিহ্নিত করেছেন ডিজনি নামের একটি চ্যানেলকে, যেখানে ডোরেমন নামের একটি জাপানি কার্টুন হিন্দি ভাষায় ডাব করে সারা দিন দেখানো হয়।
মিথিলা ফারজানা: এটা হিন্দি চ্যানেলের শিশু দর্শকদের একটি চিত্র। কিন্তু বাংলাদেশে যে টেলিভিশন চ্যানেল রয়েছে, সেগুলো এ দেশের শিশুদের জন্য কতটা বিনোদন দিতে পারছে, দেখুন একটি পরিসংখ্যান:
প্রতি সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচারিত শিশুদের অনুষ্ঠানের ব্যাপ্তি।
গবেষণা সংগ্রহ: বিটিভি: ৬৬ মি.। এটিএন বাংলা: ৮৮ মি.। একুশে টিভি: ২২ মি.। এনটিভি: ২২ মি.। দেশ টিভি: ২০৬ মি.। আরটিভি: ৩০ মি.। বাংলাভিশন: ২২ মি.। বৈশাখী: ৭৪ মি.। মাছরাঙা: ১০৫ মি.। চ্যানেল নাইন: ৩৬০ মি.।
মিথিলা ফারজানা: আমাদের স্টুডিওতে উপস্থিত আছে বেশ কয়েকজন শিশু। তাদের কাছে সরাসরি চলে যাচ্ছি। ছোট্ট বন্ধুরা, আমি যে প্রশ্নটা তোমাদের বাংলায় জিজ্ঞেস করব, সেটার উত্তর হিন্দিতে দিতে পারবে?
আবিদ হোসেন (শিশু দর্শক): জি, পারব।
মিথিলা ফারজানা: আচ্ছা, তুমি কোন স্কুলে পড়ো?
আবিদ হোসেন: মে বিসিএসআর হাইস্কুল ম্যায় পড়তাহু।
মিথিলা ফারজানা: ডোরেমন দেখো? ডোরেমন কেন ভালো লাগে, সেটা বলো।
আবিদ হোসেন: কিউ কি উসকে পাস বহোত সারা গেজেট হ্যায়।
মিথিলা ফারজানা: ডা. নায়লা খান, আসলে শিশুরা কীভাবে বিনোদনের এই বার্তাগুলো গ্রহণ করে?
নায়লা খান: শিশুদের স্পিচ ল্যাংগুয়েজ কমিউনিকেশন বিকাশের ব্যাপারটা একদম জন্ম থেকেই ধরতে হবে। আজকাল মোবাইল রিংটোনেও তো হিন্দি গান হয় কিংবা ছোট ছোট বাচ্চাও আজকাল দেখি বিভিন্ন আইপ্যাডে গেমস খেলছে, তারপর বাসায় টিভি চলছে সারা দিন। শিশু তার চারপাশ থেকেই সবকিছু গ্রহণ করে।
মিথিলা ফারজানা: বর্তমানে অন্য কোনো বিকল্প বিনোদন নেই, তাই হিন্দি কার্টুনগুলো অনেক বেশি সময় ধরে শিশুদের সামনে চলে। সে কারণে বাংলার আগে হিন্দি ভাষায় শিশুরা পারদর্শী হয়ে উঠেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
নায়লা খান: না, আমি বলব, কার্টুনটা বাচ্চাকে ভাষা শেখাচ্ছে তা কিন্তু না। আমি বলতে চাচ্ছি, মা-বাবার কিন্তু একটা মূল দায়িত্ব রয়ে গেছে সেই বাচ্চাকে তার মাতৃভাষাটা শোনানো।
মিথিলা ফারজানা: আমরা শিশু-কিশোরদের প্রিয় লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের কাছে গিয়েছিলাম। তাঁর কথা শুনি।
মুহম্মদ জাফর ইকবাল: একটা ছোট বাচ্চাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় তুমি কি ভাত খাবে, না চকলেট খাবে? সে অবশ্যই বলবে যে চকলেট খাবে। তার মানে কি আমরা তাকে ব্রেকফাস্টে, লাঞ্চে, ডিনারে চকলেট খেতে দেব? অবশ্যই দেব না। তার শরীরটা গঠন হওয়ার জন্য কিন্তু চকলেট দিয়ে ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, ডিনার দিয়ে হয় না। তাকে ফল খেতে হবে, প্রোটিন খেতে হবে, ভেজিটেবল খেতে হবে, ভিটামিন খেতে হবে। ঠিক একই ব্যাপার, একটা ছোট বাচ্চাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় যে, তুমি কী দেখবে? সে অবশ্যই বলবে কার্টুন দেখবে এবং কার্টুন কোন ভাষায় দেখবে তার কোনো বাছবিচার নেই। ইংরেজি, বাংলা, হিন্দি যেকোনো ভাষায় দেখতে রাজি আছে। কারণ, সে ছোট বাচ্চা। সে একটা ভাষা যদি নাও জানে, সে চট করে ভাষাটা শিখে যাবে, বুঝতে পারবে।
এখন প্রশ্ন, আমরা বাচ্চাদের সেটা করতে দেব কি না। সে যদি নিজের ভাষাটা না শিখে হিন্দি ভাষা দিয়ে তার জীবনটা শুরু করে, আমি অবশ্যই দুঃখ পাব। আমাদের এত সুন্দর একটা ভাষা, আমাদের লেখাপড়াটা হবে এই ভাষায়, ভাষাটাকে চিনতে হবে, নিজের ভাষাকে প্রকাশ করতে হবে। সেই ভাষা দিয়ে শুরু না করে একটা বিদেশি ভাষা দিয়ে শুরু করছে, সেটা অবশ্যই আমাদের জন্য অপমানজনক। আমরা যাদের শিশু বলি, তাদের মস্তিষ্ক যেন বিকাশ হয়। মস্তিষ্কে অনেক কিছু সেখান থেকে ঢোকে। ওই সময়টায় আমরা যদি তাদের ঠিকমতো গড়ে না তুলি, তাহলে কিন্তু সারা জীবনের জন্য একটা ক্ষতি হয়ে যায়। হিন্দিতে ডাব করে কার্টুন দেখাচ্ছে, কেন দেখাচ্ছে? আমরা কেন দেখাচ্ছি? কিংবা আমরা উল্টো প্রশ্ন করতে পারি, ছোট বাচ্চারা তো কার্টুন দেখবেই, তাহলে আমরা বাংলায় কেন ডাব করি না?
আমাদের দেশে তিন কোটি ছেলেমেয়ে শুধু স্কুলেই পড়ে। এই তিন কোটি ছেলেমেয়ে বড় হবে, এরা দেশের দায়িত্ব নেবে। এদের ঠিক করে গড়ে তুলতে হবে। দায়িত্বটা আমাদের। কাজেই টেলিভিশনকে বাদ দিয়ে ছোট বাচ্চারা বড় হবে না। আমরা যতই বলি যে বই পড়ো, টেলিভিশন কম দেখো কিন্তু বাচ্চারা টেলিভিশন দেখবে। কাজেই টেলিভিশনে তাদের জন্য সুন্দর অনুষ্ঠান করতে হবে। আমাদের সেটা বিশ্বাস করতে হবে। চ্যানেলে যাঁরা আছেন তাঁদের সবাইকে বাচ্চাদের জন্য নিয়ম করে, হিসাব করে অনুষ্ঠান তৈরি করতে হবে। তাতে তাঁদের আর্থিক ক্ষতি হবে কি না আমি জানি না, স্পনসর পাবেন কি না সেটা নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই। কিন্তু এঁদের এটা করতে হবে, কারণ, এটা জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার।
মিথিলা ফারজানা: শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার, আপনি বহুদিন ধরে বাংলাদেশ টেলিভিশনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, শিশু বিনোদন নিয়ে বহু কাজ করেছেন। বাংলাদেশের গণমাধ্যমে সব সময় কি শিশু বিনোদন অবহেলিত?
মুস্তাফা মনোয়ার: প্রথমে ছিল না, যখন ঢাকা টেলিভিশন ছিল তখন ছিল না। নানাভাবে শিশুদের অনুষ্ঠান হয়েছে। ছোট্ট খবর বলে আমরা একটা খবর পড়েছি বাচ্চাদের জন্য। এ ছাড়া বিভিন্ন কম্পিটিশন, নতুন কুঁড়ি, তারপর করেছিলাম এসো গান শিখি। ধারাবাহিক নাটকও ছিল বাচ্চাদের জন্য।
মিথিলা ফারজানা: গণমাধ্যমে ক্রমেই শিশু বিনোদনটা অবহেলিত হয়ে গেল, এটার কারণ কী বলে মনে করেন?
মুস্তাফা মনোয়ার: প্রধান কারণ হলো, কমার্শিয়াল পাওয়া যায় না ছোটদের অনুষ্ঠানে। কিন্তু কমার্শিয়াল পাওয়া যাক আর না যাক, ছোটদের জন্য অনুষ্ঠান করতেই হবে। তা না হলে তারা হয়তো অনেক পয়সা উপার্জন করতে পারবে কিন্তু এটা জাতিগতভাবে অত্যন্ত দুঃখের কারণ
হয়ে যাবে, আমরা যদি শিশুদের অনুপ্রাণিত করতে না পারি।
মিথিলা ফারজানা: একটি বিরাট দর্শকের দল, যারা ডোরেমন দেখছে রাত-দিন। সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী, আপনি তো একটি টেলিভিশনের কর্ণধার, বিদেশি টিভি চ্যানেলে শিশুদের জন্য অনুষ্ঠান করলে বাংলাদেশের কোনো টেলিভিশন স্পনসর পাবে না, এই যুক্তি কি আপনি বিশ্বাস করেন?
সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী: একেবারেই বিশ্বাস করি না। মুস্তাফা মনোয়ার স্যাররা যে অনুষ্ঠানগুলো শুরু করেছিলেন, তখন ছেলে-বুড়ো সব দর্শক কিন্তু এই অনুষ্ঠানগুলো দেখত। নতুন কুঁড়ির ফসল আজকে বাংলাদেশের সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। আজকে ডোরেমন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, আসলে ডোরেমন নিয়ে প্রশ্ন নয়। ডোরেমন হতে পারে ক্যারেক্টার, কিন্তু আমি বিস্মিত হচ্ছি এই শিশুরা এত স্পষ্ট হিন্দি বলছে দেখে। আমি ব্রিটিশ আমলে জন্মেছি, পাকিস্তান আমল পার করেছি কিন্তু আমি এত সুন্দর করে উর্দু বলতে পারব না। ভাষা নিয়ে আমাদের এ ধরনের কোনো বিরোধ নেই। বিরোধটা হলো কনটেন্টটা নিয়ে, কী দিচ্ছি তাদের?
মিথিলা ফারজানা: ভাষা নিয়ে কোনো বিরোধ নেই—এটি নিয়ে গণমাধ্যমে বহুবার বহু ধরনের অভিযোগ উঠেছে যে, একটি ভাষার অনুপ্রবেশ শুধু আসলে ভাষার অনুপ্রবেশ নয়; তার সঙ্গে সঙ্গে সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ, সেটি অর্থনীতির অনুপ্রবেশও।
সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী: আমার এই হাতটা খালি থাকলে এখানে কিন্তু আবর্জনা ঢুকে যাবে, এটাই হচ্ছে। আমরা কিন্তু পুরো হাতটাই খালি রাখছি কনটেন্টের অভাবে। অবশ্যই আমাদের একধরনের ব্যর্থতা এখন পর্যন্ত রয়েছে।
মিথিলা ফারজানা: শিশুদের কয়েকজন অভিভাবক আছেন এখানে। আপনাদের ভাই-বোন, স্বজনদের মধ্যে হিন্দি ভাষার প্রভাব কতটা দেখতে পান?
শোভন সাহা: আমার মামাতো বোন আছে দুজন, একজন ক্লাস ফোরে, আরেকজন নার্সারিতে পড়ে। দুজনই হিন্দি বলতে পারে এবং খুব ভালো বোঝে। আমি আসলে এটা বুঝতে পারি না।
মো. এনামুলকবীর: আমি কখনো হিন্দি শিখিনি, তবে অনর্গল বলতে পারি এবং বুঝিও, কারণ আমি প্রতিদিন হিন্দি অনুষ্ঠান দেখি। এর থেকে আমাদের আসলে পরিত্রাণের উপায় কী?
মিথিলা ফারজানা: মাননীয় মন্ত্রী আছেন আমাদের সঙ্গে, আজ মন্ত্রী হিসেবে নয়, সংসদ সদস্য হিসেবে নয়, একজন অভিভাবক হিসেবে, একজন বাবা হিসেবে, বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে আপনি কি অনুভব করেন এর থেকে পরিত্রাণ প্রয়োজন?
আবুল কালাম আজাদ: এটা একটা জাতীয় সমস্যা বলে আমি মনে করি। প্রথম ভূমিকাটা হলো মা-বাবার। শিশুরা জন্মগ্রহণ করেই মা আর বাবার কাছে থাকে। তাদের এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। কারণ, শিশু যখন কথা বলা শেখে তখন মা-বাবার কাছে, আত্মীয়স্বজন, যারা কাছে থাকে তাদের কাছ থেকেই শেখে, তাদের কাছেই ঘুমপাড়ানির গান শোনে। মা-বাবা যদি দায়িত্বটা যথাযথভাবে পালন করে...তার পরেই আসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তারপর আসছে সমাজ, তারপর রাষ্ট্র। প্রত্যেকেরই কিন্তু একটা পার্ট আছে।
মিথিলা ফারজানা: মাননীয় মন্ত্রী, ছেলেমেয়েদের এখন খেলার মাঠ নেই, যথেষ্ট সংগঠন নেই। ফলে বাচ্চাদের এখন অনেক বেশি টেলিভিশন বিনোদনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
আবুল কালাম আজাদ: আপনি প্রথমে দেখালেন যে কোন চ্যানেল কত সময় শিশুদের বিনোদনের জন্য দিচ্ছে, এটা দুঃখজনক চিত্র। আমাদের যে স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলগুলো বেসরকারিভাবে চলছে বা সরকারের আছে মাত্র দুটি—বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ড। বিটিভিতে বাচ্চাদের জন্য আরও অনুষ্ঠান করা দরকার, যেটা আমি আলাপ করছিলাম। কিন্তু বিটিভি সরকারি চ্যানেল, তার অনেক সামাজিক দায়বদ্ধতা আছে। তার ভেতর কৃষির কথা বলতে হয়, স্বাস্থ্যের কথা বলতে হয়, শিক্ষার কথা বলতে হয়। তার ভেতর বাচ্চাদেরও অনুষ্ঠান আছে, তা বেশি হওয়া দরকার।
মিথিলা ফারজানা: মাননীয় মন্ত্রী, যখন মাত্র একটি টেলিভিশন ছিল তখন বাচ্চাদের জন্য অনুষ্ঠানের সংখ্যা বা সময় অনেক বেশি বরাদ্দ ছিল। এ ব্যাপারে কি কোনো ধরনের নীতি-নৈতিকতা বা নীতিমালার দরকার নেই?
আবুল কালাম আজাদ: না, সরকারি টেলিভিশনের শুধু একটা বিষয় নয়। প্রথমে হলো জনগণ, সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য দিতে হয়। এই তথ্য শুধু সরকার বা জনগণ বা বিভিন্ন যেসব কর্মকাণ্ড হচ্ছে, তা নয়।
মিথিলা ফারজানা: মাননীয় মন্ত্রী, যে টেলিভিশনগুলো এখন বেসরকারি মালিকানাধীন, তাদের জন্য সেই নীতিমালার প্রয়োজন আছে কি না?
আবুল কালাম আজাদ: বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর একটি নীতিমালার কথা প্রথমেই বলা হলো, তখন যারা প্রাইভেট টিভি চ্যানেলের মালিক, তারা ওই নীতিমালা নিয়ে সমালোচনা শুরু করল। যার জন্য আমরা এটা করে একটু পিছিয়ে গেছি। ইতিমধ্যে আমরা একটি সম্প্রচার নীতিমালার খসড়া তৈরি করেছি। যারা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবে, সুশীল সমাজ, এনজিও; আপনারা যাঁরা এই লাইনে কাজ করছেন এবং অন্য যারা সম্পৃক্ত তাদের নিয়ে আমরা এই নীতিমালা নিয়ে কাজ করব।
সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী: একটি বিজ্ঞাপন নীতিমালা ভীষণভাবে প্রয়োজন। একটি ম্যাংগো জুসের বিজ্ঞাপনে শিশু কেঁদে কেঁদে দৌড়াচ্ছে। তার গাছের আম ছিনতাই করে নিয়ে আসা হচ্ছে এবং বলছে, কেঁদো না, এটা জুস হিসেবে আবার ফেরত আসবে তোমার কাছে। এটা তো খুব বেদনাদায়ক।
নায়লা খান: অ্যাড কিন্তু আস্তে আস্তে ছোট থেকে ছোটতর বাচ্চাদের আকৃষ্ট করছে। যেখানে শিশুদের চ্যানেল বা শিশুদের প্রোগ্রামে কোম্পানিগুলো পৃষ্ঠপোষকতা করবে না, সেখানে আবার মুনাফার জন্য শিশুদের নিয়ে অ্যাড করছে।
মিথিলা ফারজানা: মুস্তাফা মনোয়ার, আজকের ২০১২ সালের যে শিশুটি ডোরেমন, কার্টুন নেটওয়ার্ক, অ্যানিম্যাক্স ধরনের বিভিন্ন চ্যানেলের দর্শক, তার সঙ্গে কিন্তু আমাদের ওই ২৫ বছর আগের অনুষ্ঠানটাই দেওয়া হচ্ছে। আসলে এগুলো ২০১২ সালের শিশুটির জন্য উপযুক্ত কি না।
মুস্তাফা মনোয়ার: শিশুদের জন্য আমাদের প্রাত্যহিক সময় বদলে যাচ্ছে ঠিক, শিশুদের সময় কিন্তু বদলায় না। শিশুদের আজও ঠাকুরমার ঝুলি ভালো লাগে, আজও পুরোনো ছড়া ভালো লাগে।
মিথিলা ফারজানা: কিন্তু সেটির যে পরিবেশনা, তার মধ্যেও কিন্তু নতুনত্ব ও আধুনিকতা আসেনি।
মুস্তাফা মনোয়ার: নতুনত্ব আমরা চাই, শিশুরা কেন? শিশুর মায়েরা যখন নতুন করে সাজে, তারা এতে বিরক্ত হয়। মাকে মায়ের মতো শাড়ি পরে ভালো লাগে।
মিথিলা ফারজানা: সে ক্ষেত্রে আপনি কি মনে করছেন না যে নতুন কিছু করার একটি সৃজনশীলতার অভাব আছে।
মুস্তাফা মনোয়ার: সৃজনশীলতা, সেটাকে আমাদের নতুন করে প্রেজেন্ট করতে হবে। নতুনভাবে প্রেজেন্ট করা মানেই আধুনিকতা নয়। নতুনভাবে, আমাদের সংস্কৃতির ভেতরে থেকেই, আমরা নানাভাবে নতুনত্ব আনতে পারি। এই অনুষ্ঠানগুলো কিন্তু চিন্তাশীল অনুষ্ঠান। চিন্তার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। আমাদের সাধনা করতে হবে।
মাহমুদুজ্জামান বাবু: মা-বাবা তার সন্তানকে সুস্থ সংস্কৃতির পক্ষে রাখতে চাইছে বলেই এই আকুলতাটা ফুটে উঠেছে আমাদের চারপাশে যে, আমরা আসলে বাংলা ভাষায় শিশুদের জন্য সুস্থ বিনোদন চাই। আমাদের এখানে টেলিভিশন মিডিয়াটা তেমনভাবেই সম্প্রসারিত হয়েছে যে তার মধ্য দিয়ে আমরা আগ্রাসন বোধ করছি। ডোরেমন কার্টুন সিরিয়ালটি এমন বয়সী বাচ্চাদের জন্য করছে, যে বয়সে বাচ্চারা ভাষা, ছন্দ, ধ্বনি—এসব শিখে ফেলে। এখন ভারত সরকার বাচ্চাদের হিন্দি ভাষা শেখাবে, কারণ সেটি তাদের রাষ্ট্রীয় ভাষা।
মিথিলা ফারজানা: এই ডোরেমন কার্টুন ভারত সরকার আরও কয়েকটি ভাষায় ডাব করছে। তামিল, মারাঠি, তেলেগু অর্থাৎ যে অঞ্চলে যে ভাষাটি জরুরি, সেই ভাষায় এই কার্টুনগুলা প্রচারিত হয়।
মাহমুদুজ্জামান বাবু: আমাদের দেশে অ্যানিমেটেড ফিল্মগুলো করা হয় না, কারণ যাঁরা করতে গিয়েছেন তাঁরা কোনো রকম পৃষ্ঠপোষকতা পাননি। এসব বিদেশি কার্টুন আমরা বাংলা ভাষায় ডাব করতে পারি কি না।
আবুল কালাম আজাদ: সরকার ইতিমধ্যেই শিশুদের জন্য চলচ্চিত্র করার অনুদান দেওয়া শুরু করছে। একটি চলচ্চিত্র নীতিমালা, আরেকটি বিজ্ঞাপন নীতিমালা। কারণ, অনেক চ্যানেল এখন কীভাবে লাভবান হবে, এটা চিন্তা করে এমন এমন অ্যাডভারটাইজমেন্ট তৈরি করছে, সেগুলো আমাদের ছেলেমেয়েদের জন্য ক্ষতিকর, সমাজের জন্য ক্ষতিকর।
মিথিলা ফারজানা: যে শিশুরা এ ধরনের কার্টুন দেখছে, তার বিকল্প কোথায়? দেশে ১৪-১৫টি বেসরকারি টিভি চ্যানেল, একটি শিশুদের জন্য চ্যানেল থাকতে পারে না?
মুস্তাফা মনোয়ার: নিশ্চয় থাকতে পারে, তবে শিশুদের জন্য চ্যানেল করতে গেলে যে ক্রিয়েটিভিটি লাগে, সেটার জন্য বেশ যত্ন করে শুরু করতে হবে। চ্যানেল হলেই যে সমাধান হলো তা নয়। আমাদের দেশে বাংলা ভাষার প্রতি হীনম্মন্যতা জন্মেছে। এমনকি গ্রামেও শিক্ষিত হয় অন্য ভাষায়, বাংলা ভাষায় নয়। এখন বাচ্চাদের পছন্দের অনুষ্ঠান তৈরি করার যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, সেটা যদি চ্যানেলে না থাকে, একটা প্রোগ্রাম তৈরি করে বেচে দিলেই হবে না। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা লাগবে।
মিথিলা ফারজানা: মাননীয় মন্ত্রী, আমি আপনার কাছ থেকে নীতিমালা জানতে চাইছি।
আবুল কালাম আজাদ: মুস্তাফা মনোয়ার বিটিভিতে ছিলেন, আমরা এটা বসে আলাপ করে দেখব।
মিথিলা ফারজানা: আমি একটু দর্শকদের কাছে যেতে চাই। একটি প্রশ্ন, ডোরেমন বা এ ধরনের কার্টুনগুলো রয়েছে, যেগুলো খুবই জনপ্রিয় শিশুদের মাঝে। সেই কার্টুনগুলো যদি বাংলায় ডাব করা হয়, তাহলে দর্শকপ্রিয়তা পাবে কি না?
জনৈক দর্শক: অবশ্যই বাংলা তারা আগে দেখবে। তারপর হিন্দি দেখবে।
শাহানারা আক্তার: আমাদের মাঝখান থেকে মীনা-রাজু, সিসিমপুর সিরিজগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। এগুলো শুধু সরকারি টেলিভিশনে প্রচারিত হয়। যেসব বাচ্চা সরকারি চ্যানেলে অভ্যস্ত না, যারা বেসরকারি অন্যান্য টেলিভিশন দেখছে, ওরা কিন্তু এটা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী: আমি মাননীয় মন্ত্রীর কাছে একটা দাবি করব। এই যে নীতিমালা হচ্ছে, এর মধ্যে কিছু জিনিস বাধ্যতামূলক করে দেওয়া প্রয়োজন। আমি যখন চ্যানেলের মালিক হয়ে যাচ্ছি, তখন আমার মোটিভটা থাকছে বাণিজ্য। শিশুদের জন্য অনুষ্ঠান প্রচার করার সময় নির্ধারণ করে দিতে হবে যে বেসরকারি টেলিভিশনগুলো এত পারসেন্ট দেখাতে হবে। দ্বিতীয়ত, দক্ষ কারিগর তৈরি করতে হবে এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
আবুল কালাম আজাদ: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দেশকে ভালোবাসা, দেশকে যদি আপনি ভালোবাসেন, দেশের প্রতি যদি দায়বদ্ধতা থাকে, তাহলে এই সমস্যাগুলো কমে যাবে। আমি বিদেশ থেকে কোনো পণ্য কিনি না। কারণ, আমার দেশে সব পণ্য পাওয়া যায়। আপনি যদি দেশকে ভালোবাসেন, তাহলে ওই ধরনের চিন্তা আসবে না।
মিথিলা ফারজানা: মাননীয় মন্ত্রী, খুব ভালো লাগছে, আপনি অন্য কোনো দেশের জিনিস কেনেন না। সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকীও দেশপ্রেমিক হিসেবে যে দাবিটি আপনার কাছে করেছেন যে নির্দিষ্ট একটি সময় বা পারসেন্টেজ দেওয়া থাকবে, যেহেতু একটি নীতিমালার কাজ চলছে, সেই নীতিমালায় দাবিটি কতটা গুরুত্ব পাবে?
আবুল কালাম আজাদ: আমি তো প্রথমেই বললাম যে দেশকে যারা ভালোবাসবে, আমার কাছে তো আমার দেশ বড়, তারপর জনগণ, তারপর সরকার ও আমার দল।
মিথিলা ফারজানা: মাননীয় মন্ত্রী, আপনি কি দাবিটি যৌক্তিক বলে মনে করেন?
আবুল কালাম আজাদ: অবশ্যই যৌক্তিক বলে মনে করি।
মাহমুদুজ্জামান বাবু: আমাদের এখানে যে শিশু-কিশোরেরা বসে আছে, এদের প্রত্যেকেই বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যখন ভারত কিংবা অন্য কোনো দলকে হারায় অথবা হেরে যায়, তারা বিজয়ে আনন্দিত হয় এবং পরাজয়ে ব্যথিত হয়। এরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের পতাকা কাঁধে নেয়। এদের দেশপ্রেমও কিন্তু কম না।
আবুল কালাম আজাদ: আমি যখন বিভিন্ন জায়গায় ছেলেমেয়েদের বলি, বাংলায় একটা কবিতা বলো, একটা ছড়া বলো, তারা বলতে পারে না।
মাহমুদুজ্জামান বাবু: মাননীয় মন্ত্রী আমাদের অনেকগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং আমরা আশা করব, এগুলো বাস্তবায়িত হবে। এই দর্শকসারি থেকে একটি দাবি আমি করতে চাই। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলা ভাষায় কার্টুন নির্মাণ করে সব বেসরকারি টেলিভিশনে দিয়ে দেওয়া। তারা যেন প্রাইম টাইমে বাচ্চাদের জন্য এগুলো প্রচার করে। বাচ্চারা এগুলো দেখার মধ্য দিয়ে যেন দেশপ্রেমের কাহিনি শিখতে পারে, দেশকে ভালোবাসার জায়গা বুঝতে পারে, মানুষকে ভালোবাসার জায়গা বুঝতে পারে। রাষ্ট্রের উদ্যোগ ছাড়া এটা সম্ভব নয়।
মুস্তাফা মনোয়ার: আমাদের দেশের ঐতিহ্যকে অনুসরণ করে একটা কথা ডেভেলপ করেছি বহুদিন ধরে, সেটা হলো পাপেট। পাপেট অ্যানিমেশন একটু সস্তা হয়। আমেরিকার মতো দেশে পাপেট দিয়ে দারুণভাবে শিক্ষিত করতে পেরেছে শিশুদের। সে জন্য আমাদের প্রাথমিক পর্যায়ে সরকারের বেশ সাহায্যের প্রয়োজন হবে। পাপেট যদি ওরা সিডি আকারে তৈরি করে, তাহলে বহু জায়গায় দেখাতে পারবে।
মিথিলা ফারজানা: আমি একটু দর্শকদের কাছ থেকে প্রথমেই জেনে নিতে চাই যে আপনারা কী মনে করেন? কী হতে পারে এর সমাধান?
লিমন ইসলাম: মাননীয় মন্ত্রী, আমাদের চাওয়া যে সময়ে শিশুরা টেলিভিশন দেখে, ঠিক সেই সময়টাতে, যাতে ভালো কিছু অনুষ্ঠান ওই সময়ের মধ্যেই দেখায়, এটা যেন প্রতিটি চ্যানেলে বাধ্যতামূলক এবং নিশ্চিত করেন শিশুদের জন্য।
আসিক আহমেদ: আমরা জানি, বর্তমান সরকার আরও কিছু নতুন টেলিভিশন চ্যানেল অনুমোদন দিতে যাচ্ছে। আমরা কি আশা করতে পারি না সেসব চ্যানেল থেকে এমন একটি চ্যানেল খুঁজে বের করা হোক, যেখানে শুধু শিশুতোষ অনুষ্ঠান থাকবে।
রিফাত হোসেন: ডিসকভারি একটি চ্যানেল আছে, যেখানে বিদেশি অনুষ্ঠান বঙ্গানুবাদ করে প্রচারিত হচ্ছে, যেটা আমরা পছন্দ করি দেখতে। আমরা মনে করি, বিদেশি চ্যানেলগুলো যদি বাংলায় ডাব করা হয়, তাহলে মনে হয় খুব জনপ্রিয়তা পাবে।
মিথিলা ফারজানা: আমি সালাউদ্দিন জাকীর কাছে জানতে চাই, বাংলায় ডাব করা সম্ভব কি না?
সালাউদ্দিন জাকী: সম্ভব। আমাদের বিষয়বস্তু নিয়ে আমাদের এগিয়ে আসা উচিত।
আবুল কালাম আজাদ: আমরা যখন চ্যানেল দিই, তারা ব্যক্তিমালিকানা দায়িত্ব নিয়ে করে। আমরা সুশীল সমাজকে অনুরোধ করব, তারা যাতে শিশুদের জন্য কিছু সময় বের করে অনুষ্ঠান করে। আমরা তো একদম বন্ধ করতে পারব না। তবে নীতিমালা অনুযায়ী এ ধরনের জিনিস যাতে করা হয় এবং এমন অ্যাডভারটাইজমেন্ট করা উচিত নয়, যেগুলোতে সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়, সেগুলো আমরা অবশ্যই দেখব।
মিথিলা ফারজানা: হিস্ট্রি চ্যানেল, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক, ডিসকভারি—এই চ্যানেলগুলো এখন বাংলায় ডাব দেখানো হচ্ছে পুরোটা সময় ধরে। সেভাবেই পুরো চ্যানেলটাকে বাংলায় করা যায় কি না?
মুস্তাফা মনোয়ার: বাংলা করা যেতে পারে। টেকনিক্যালি কোনো অসুবিধা নেই। শুধু ভয়েজ তৈরি করতে হবে আমাদের। সেটার ট্রেনিং দরকার।
মিথিলা ফারজানা: মাননীয় মন্ত্রী, আপনি কি মনে করেন যে কী হতে পারে এর সমাধান?
আবুল কালাম আজাদ: সুনাগরিক দরকার। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শিশুই তো সুনাগরিক হবে। তাদের একদিকে স্কুল, অন্যদিকে খেলাধুলা, পড়াশোনা, পরিশ্রম করা ও সংস্কৃতি—সবকিছু। সে জন্য আমাদের প্রতিটা কর্মসূচি এমনভাবে করতে হবে যাতে শিশুরা ইতিহাস, শিল্প, সাহিত্য—সব বিষয় জানতে পারে শুদ্ধভাবে।
মিথিলা ফারজানা: মুস্তাফা মনোয়ার কী হতে পারে এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের উপায়?
মুস্তাফা মনোয়ার: এখন আমাদের বাচ্চাদের আমাদের দেশের গল্প নিয়ে, ভাবনা নিয়ে, দেশের গান নিয়ে আমি অনেক এক্সপেরিমেন্ট করেছি। ‘ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে’ এই গান নিয়ে আমি পাপেট করেছিলাম, আশ্চর্যভাবে তারা অনুপ্রাণিত হয়। কেঁদে ফেলে বাঁচাও বাঁচাও, বককে বাঁচাও বক ফাঁদে পড়েছে। সেভাবে যদি প্রেজেন্ট করা হয় আধুনিকভাবে। কিন্তু আধুনিক মানে এই নয় যে যান্ত্রিক সভ্যতার মধ্যে দৌড়ানো, সেটা না। আধুনিক হলো আমাদের মুক্তচিন্তার ব্যাপারটি। সৃজনশীলভাবে, মুক্ত চিন্তায় এবং কিছুতেই গোঁড়ামি নেই। বাচ্চারা যেন উদার মনের হয়, সকল জাতির হয়, সকল দেশের হয়, এ রকম একটা শিক্ষার ভাব নিতে হবে।
নায়লা খান: আমি শিশু হাসপাতালে চাকরি করি, গরিব শিশুদের চিনি। ওরা কিন্তু প্রত্যেকেই বিটিভি দেখে এবং প্রত্যেকেই সিসিমপুর জানে, মীনাকে জানে। খুব মনোযোগ দিয়ে প্রতিটি শিশু দেখে। কাজেই শিশুদের জন্য ১০০% নিবেদিত একটি চ্যানেল প্রতিষ্ঠা এ অনুষ্ঠান থেকেই আমাদের দাবি ওঠা উচিত।
মিথিলা ফারজানা: দর্শকমণ্ডলী, এই দাবি আমাদের প্রত্যেকের ঘর থেকে শুরু হয়েছে। আজকে আমরা যদি সবাই মিলে দাবি করি যে আমাদের শিশুরা আমার ভাষায় বিনোদিত হবে, তার বিনোদনের মাধ্যম হবে বাংলা ভাষা। তবেই বড় হবে, আরও পরিপূর্ণ হবে বদলে যাও বদলে দাও মিছিল।
মুস্তাফা মনোয়ার: আজকে যে বলতে হচ্ছে এই কথাটা, সেটার জন্য আমি ভীষণ দুঃখবোধ করছি যে, বাংলা ভাষায় হতে হবে এটা বলে দিতে হচ্ছে দর্শকদের, বাঙালি দর্শকদের। এর চেয়ে দুঃখের কথা আর নেই।
মিথিলা ফারজানা: দর্শকমণ্ডলী, শিশুদের জন্য এই দাবি নিয়ে আমাদের যেন এমন অনুষ্ঠান আর করতে না হয়। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও দেশের সব স্যাটেলাইট চ্যানেলের কাছে আমাদের আহ্বান, তারা যেন শিশুদের বিনোদনে আন্তরিকভাবে উদ্যোগী হয়। সবাইকে ধন্যবাদ।
যাঁরা অংশ নিলেন
আবুল কালাম আজাদ
মন্ত্রী, তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়
মুস্তাফা মনোয়ার
পাপেট শিল্পী ও শিশু বিনোদন বিশেষজ্ঞ
সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী
শিশু চলচ্চিত্র নির্মাতা
নায়লা খান
শিশু স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
কণ্ঠশিল্পী ও সমাজকর্মী
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
লেখক ও অধ্যাপক, শাবিপ্রবি
(ভিডিও সাক্ষাৎকার)
সঞ্চালক
মিথিলা ফারজানা
আয়োজনে প্রথম আলো
ভিডিও সংগ্রহ: কেব্ল টিভির দ্রুত প্রসারে শিশু বিনোদননির্ভরতা তীব্র আঘাত হেনেছে আমাদের ভাষাগত মূল্যবোধে। শিশুদের ভাষার পরিবর্তন ঘটছে, তারা মাতৃভাষা রপ্ত করার আগেই অনায়াসে শিখে ফেলছে হিন্দি ভাষা। তারা বাংলা ভাষায় কথা বলতে চাইছে না অথবা পারছে না। সমস্যার উৎস হিসেবে সবাই চিহ্নিত করেছেন ডিজনি নামের একটি চ্যানেলকে, যেখানে ডোরেমন নামের একটি জাপানি কার্টুন হিন্দি ভাষায় ডাব করে সারা দিন দেখানো হয়।
মিথিলা ফারজানা: এটা হিন্দি চ্যানেলের শিশু দর্শকদের একটি চিত্র। কিন্তু বাংলাদেশে যে টেলিভিশন চ্যানেল রয়েছে, সেগুলো এ দেশের শিশুদের জন্য কতটা বিনোদন দিতে পারছে, দেখুন একটি পরিসংখ্যান:
প্রতি সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচারিত শিশুদের অনুষ্ঠানের ব্যাপ্তি।
গবেষণা সংগ্রহ: বিটিভি: ৬৬ মি.। এটিএন বাংলা: ৮৮ মি.। একুশে টিভি: ২২ মি.। এনটিভি: ২২ মি.। দেশ টিভি: ২০৬ মি.। আরটিভি: ৩০ মি.। বাংলাভিশন: ২২ মি.। বৈশাখী: ৭৪ মি.। মাছরাঙা: ১০৫ মি.। চ্যানেল নাইন: ৩৬০ মি.।
মিথিলা ফারজানা: আমাদের স্টুডিওতে উপস্থিত আছে বেশ কয়েকজন শিশু। তাদের কাছে সরাসরি চলে যাচ্ছি। ছোট্ট বন্ধুরা, আমি যে প্রশ্নটা তোমাদের বাংলায় জিজ্ঞেস করব, সেটার উত্তর হিন্দিতে দিতে পারবে?
আবিদ হোসেন (শিশু দর্শক): জি, পারব।
মিথিলা ফারজানা: আচ্ছা, তুমি কোন স্কুলে পড়ো?
আবিদ হোসেন: মে বিসিএসআর হাইস্কুল ম্যায় পড়তাহু।
মিথিলা ফারজানা: ডোরেমন দেখো? ডোরেমন কেন ভালো লাগে, সেটা বলো।
আবিদ হোসেন: কিউ কি উসকে পাস বহোত সারা গেজেট হ্যায়।
মিথিলা ফারজানা: ডা. নায়লা খান, আসলে শিশুরা কীভাবে বিনোদনের এই বার্তাগুলো গ্রহণ করে?
নায়লা খান: শিশুদের স্পিচ ল্যাংগুয়েজ কমিউনিকেশন বিকাশের ব্যাপারটা একদম জন্ম থেকেই ধরতে হবে। আজকাল মোবাইল রিংটোনেও তো হিন্দি গান হয় কিংবা ছোট ছোট বাচ্চাও আজকাল দেখি বিভিন্ন আইপ্যাডে গেমস খেলছে, তারপর বাসায় টিভি চলছে সারা দিন। শিশু তার চারপাশ থেকেই সবকিছু গ্রহণ করে।
মিথিলা ফারজানা: বর্তমানে অন্য কোনো বিকল্প বিনোদন নেই, তাই হিন্দি কার্টুনগুলো অনেক বেশি সময় ধরে শিশুদের সামনে চলে। সে কারণে বাংলার আগে হিন্দি ভাষায় শিশুরা পারদর্শী হয়ে উঠেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
নায়লা খান: না, আমি বলব, কার্টুনটা বাচ্চাকে ভাষা শেখাচ্ছে তা কিন্তু না। আমি বলতে চাচ্ছি, মা-বাবার কিন্তু একটা মূল দায়িত্ব রয়ে গেছে সেই বাচ্চাকে তার মাতৃভাষাটা শোনানো।
মিথিলা ফারজানা: আমরা শিশু-কিশোরদের প্রিয় লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের কাছে গিয়েছিলাম। তাঁর কথা শুনি।
মুহম্মদ জাফর ইকবাল: একটা ছোট বাচ্চাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় তুমি কি ভাত খাবে, না চকলেট খাবে? সে অবশ্যই বলবে যে চকলেট খাবে। তার মানে কি আমরা তাকে ব্রেকফাস্টে, লাঞ্চে, ডিনারে চকলেট খেতে দেব? অবশ্যই দেব না। তার শরীরটা গঠন হওয়ার জন্য কিন্তু চকলেট দিয়ে ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, ডিনার দিয়ে হয় না। তাকে ফল খেতে হবে, প্রোটিন খেতে হবে, ভেজিটেবল খেতে হবে, ভিটামিন খেতে হবে। ঠিক একই ব্যাপার, একটা ছোট বাচ্চাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় যে, তুমি কী দেখবে? সে অবশ্যই বলবে কার্টুন দেখবে এবং কার্টুন কোন ভাষায় দেখবে তার কোনো বাছবিচার নেই। ইংরেজি, বাংলা, হিন্দি যেকোনো ভাষায় দেখতে রাজি আছে। কারণ, সে ছোট বাচ্চা। সে একটা ভাষা যদি নাও জানে, সে চট করে ভাষাটা শিখে যাবে, বুঝতে পারবে।
এখন প্রশ্ন, আমরা বাচ্চাদের সেটা করতে দেব কি না। সে যদি নিজের ভাষাটা না শিখে হিন্দি ভাষা দিয়ে তার জীবনটা শুরু করে, আমি অবশ্যই দুঃখ পাব। আমাদের এত সুন্দর একটা ভাষা, আমাদের লেখাপড়াটা হবে এই ভাষায়, ভাষাটাকে চিনতে হবে, নিজের ভাষাকে প্রকাশ করতে হবে। সেই ভাষা দিয়ে শুরু না করে একটা বিদেশি ভাষা দিয়ে শুরু করছে, সেটা অবশ্যই আমাদের জন্য অপমানজনক। আমরা যাদের শিশু বলি, তাদের মস্তিষ্ক যেন বিকাশ হয়। মস্তিষ্কে অনেক কিছু সেখান থেকে ঢোকে। ওই সময়টায় আমরা যদি তাদের ঠিকমতো গড়ে না তুলি, তাহলে কিন্তু সারা জীবনের জন্য একটা ক্ষতি হয়ে যায়। হিন্দিতে ডাব করে কার্টুন দেখাচ্ছে, কেন দেখাচ্ছে? আমরা কেন দেখাচ্ছি? কিংবা আমরা উল্টো প্রশ্ন করতে পারি, ছোট বাচ্চারা তো কার্টুন দেখবেই, তাহলে আমরা বাংলায় কেন ডাব করি না?
আমাদের দেশে তিন কোটি ছেলেমেয়ে শুধু স্কুলেই পড়ে। এই তিন কোটি ছেলেমেয়ে বড় হবে, এরা দেশের দায়িত্ব নেবে। এদের ঠিক করে গড়ে তুলতে হবে। দায়িত্বটা আমাদের। কাজেই টেলিভিশনকে বাদ দিয়ে ছোট বাচ্চারা বড় হবে না। আমরা যতই বলি যে বই পড়ো, টেলিভিশন কম দেখো কিন্তু বাচ্চারা টেলিভিশন দেখবে। কাজেই টেলিভিশনে তাদের জন্য সুন্দর অনুষ্ঠান করতে হবে। আমাদের সেটা বিশ্বাস করতে হবে। চ্যানেলে যাঁরা আছেন তাঁদের সবাইকে বাচ্চাদের জন্য নিয়ম করে, হিসাব করে অনুষ্ঠান তৈরি করতে হবে। তাতে তাঁদের আর্থিক ক্ষতি হবে কি না আমি জানি না, স্পনসর পাবেন কি না সেটা নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই। কিন্তু এঁদের এটা করতে হবে, কারণ, এটা জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার।
মিথিলা ফারজানা: শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার, আপনি বহুদিন ধরে বাংলাদেশ টেলিভিশনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, শিশু বিনোদন নিয়ে বহু কাজ করেছেন। বাংলাদেশের গণমাধ্যমে সব সময় কি শিশু বিনোদন অবহেলিত?
মুস্তাফা মনোয়ার: প্রথমে ছিল না, যখন ঢাকা টেলিভিশন ছিল তখন ছিল না। নানাভাবে শিশুদের অনুষ্ঠান হয়েছে। ছোট্ট খবর বলে আমরা একটা খবর পড়েছি বাচ্চাদের জন্য। এ ছাড়া বিভিন্ন কম্পিটিশন, নতুন কুঁড়ি, তারপর করেছিলাম এসো গান শিখি। ধারাবাহিক নাটকও ছিল বাচ্চাদের জন্য।
মিথিলা ফারজানা: গণমাধ্যমে ক্রমেই শিশু বিনোদনটা অবহেলিত হয়ে গেল, এটার কারণ কী বলে মনে করেন?
মুস্তাফা মনোয়ার: প্রধান কারণ হলো, কমার্শিয়াল পাওয়া যায় না ছোটদের অনুষ্ঠানে। কিন্তু কমার্শিয়াল পাওয়া যাক আর না যাক, ছোটদের জন্য অনুষ্ঠান করতেই হবে। তা না হলে তারা হয়তো অনেক পয়সা উপার্জন করতে পারবে কিন্তু এটা জাতিগতভাবে অত্যন্ত দুঃখের কারণ
হয়ে যাবে, আমরা যদি শিশুদের অনুপ্রাণিত করতে না পারি।
মিথিলা ফারজানা: একটি বিরাট দর্শকের দল, যারা ডোরেমন দেখছে রাত-দিন। সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী, আপনি তো একটি টেলিভিশনের কর্ণধার, বিদেশি টিভি চ্যানেলে শিশুদের জন্য অনুষ্ঠান করলে বাংলাদেশের কোনো টেলিভিশন স্পনসর পাবে না, এই যুক্তি কি আপনি বিশ্বাস করেন?
সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী: একেবারেই বিশ্বাস করি না। মুস্তাফা মনোয়ার স্যাররা যে অনুষ্ঠানগুলো শুরু করেছিলেন, তখন ছেলে-বুড়ো সব দর্শক কিন্তু এই অনুষ্ঠানগুলো দেখত। নতুন কুঁড়ির ফসল আজকে বাংলাদেশের সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। আজকে ডোরেমন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, আসলে ডোরেমন নিয়ে প্রশ্ন নয়। ডোরেমন হতে পারে ক্যারেক্টার, কিন্তু আমি বিস্মিত হচ্ছি এই শিশুরা এত স্পষ্ট হিন্দি বলছে দেখে। আমি ব্রিটিশ আমলে জন্মেছি, পাকিস্তান আমল পার করেছি কিন্তু আমি এত সুন্দর করে উর্দু বলতে পারব না। ভাষা নিয়ে আমাদের এ ধরনের কোনো বিরোধ নেই। বিরোধটা হলো কনটেন্টটা নিয়ে, কী দিচ্ছি তাদের?
মিথিলা ফারজানা: ভাষা নিয়ে কোনো বিরোধ নেই—এটি নিয়ে গণমাধ্যমে বহুবার বহু ধরনের অভিযোগ উঠেছে যে, একটি ভাষার অনুপ্রবেশ শুধু আসলে ভাষার অনুপ্রবেশ নয়; তার সঙ্গে সঙ্গে সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ, সেটি অর্থনীতির অনুপ্রবেশও।
সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী: আমার এই হাতটা খালি থাকলে এখানে কিন্তু আবর্জনা ঢুকে যাবে, এটাই হচ্ছে। আমরা কিন্তু পুরো হাতটাই খালি রাখছি কনটেন্টের অভাবে। অবশ্যই আমাদের একধরনের ব্যর্থতা এখন পর্যন্ত রয়েছে।
মিথিলা ফারজানা: শিশুদের কয়েকজন অভিভাবক আছেন এখানে। আপনাদের ভাই-বোন, স্বজনদের মধ্যে হিন্দি ভাষার প্রভাব কতটা দেখতে পান?
শোভন সাহা: আমার মামাতো বোন আছে দুজন, একজন ক্লাস ফোরে, আরেকজন নার্সারিতে পড়ে। দুজনই হিন্দি বলতে পারে এবং খুব ভালো বোঝে। আমি আসলে এটা বুঝতে পারি না।
মো. এনামুলকবীর: আমি কখনো হিন্দি শিখিনি, তবে অনর্গল বলতে পারি এবং বুঝিও, কারণ আমি প্রতিদিন হিন্দি অনুষ্ঠান দেখি। এর থেকে আমাদের আসলে পরিত্রাণের উপায় কী?
মিথিলা ফারজানা: মাননীয় মন্ত্রী আছেন আমাদের সঙ্গে, আজ মন্ত্রী হিসেবে নয়, সংসদ সদস্য হিসেবে নয়, একজন অভিভাবক হিসেবে, একজন বাবা হিসেবে, বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে আপনি কি অনুভব করেন এর থেকে পরিত্রাণ প্রয়োজন?
আবুল কালাম আজাদ: এটা একটা জাতীয় সমস্যা বলে আমি মনে করি। প্রথম ভূমিকাটা হলো মা-বাবার। শিশুরা জন্মগ্রহণ করেই মা আর বাবার কাছে থাকে। তাদের এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। কারণ, শিশু যখন কথা বলা শেখে তখন মা-বাবার কাছে, আত্মীয়স্বজন, যারা কাছে থাকে তাদের কাছ থেকেই শেখে, তাদের কাছেই ঘুমপাড়ানির গান শোনে। মা-বাবা যদি দায়িত্বটা যথাযথভাবে পালন করে...তার পরেই আসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তারপর আসছে সমাজ, তারপর রাষ্ট্র। প্রত্যেকেরই কিন্তু একটা পার্ট আছে।
মিথিলা ফারজানা: মাননীয় মন্ত্রী, ছেলেমেয়েদের এখন খেলার মাঠ নেই, যথেষ্ট সংগঠন নেই। ফলে বাচ্চাদের এখন অনেক বেশি টেলিভিশন বিনোদনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
আবুল কালাম আজাদ: আপনি প্রথমে দেখালেন যে কোন চ্যানেল কত সময় শিশুদের বিনোদনের জন্য দিচ্ছে, এটা দুঃখজনক চিত্র। আমাদের যে স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলগুলো বেসরকারিভাবে চলছে বা সরকারের আছে মাত্র দুটি—বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ড। বিটিভিতে বাচ্চাদের জন্য আরও অনুষ্ঠান করা দরকার, যেটা আমি আলাপ করছিলাম। কিন্তু বিটিভি সরকারি চ্যানেল, তার অনেক সামাজিক দায়বদ্ধতা আছে। তার ভেতর কৃষির কথা বলতে হয়, স্বাস্থ্যের কথা বলতে হয়, শিক্ষার কথা বলতে হয়। তার ভেতর বাচ্চাদেরও অনুষ্ঠান আছে, তা বেশি হওয়া দরকার।
মিথিলা ফারজানা: মাননীয় মন্ত্রী, যখন মাত্র একটি টেলিভিশন ছিল তখন বাচ্চাদের জন্য অনুষ্ঠানের সংখ্যা বা সময় অনেক বেশি বরাদ্দ ছিল। এ ব্যাপারে কি কোনো ধরনের নীতি-নৈতিকতা বা নীতিমালার দরকার নেই?
আবুল কালাম আজাদ: না, সরকারি টেলিভিশনের শুধু একটা বিষয় নয়। প্রথমে হলো জনগণ, সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য দিতে হয়। এই তথ্য শুধু সরকার বা জনগণ বা বিভিন্ন যেসব কর্মকাণ্ড হচ্ছে, তা নয়।
মিথিলা ফারজানা: মাননীয় মন্ত্রী, যে টেলিভিশনগুলো এখন বেসরকারি মালিকানাধীন, তাদের জন্য সেই নীতিমালার প্রয়োজন আছে কি না?
আবুল কালাম আজাদ: বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর একটি নীতিমালার কথা প্রথমেই বলা হলো, তখন যারা প্রাইভেট টিভি চ্যানেলের মালিক, তারা ওই নীতিমালা নিয়ে সমালোচনা শুরু করল। যার জন্য আমরা এটা করে একটু পিছিয়ে গেছি। ইতিমধ্যে আমরা একটি সম্প্রচার নীতিমালার খসড়া তৈরি করেছি। যারা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবে, সুশীল সমাজ, এনজিও; আপনারা যাঁরা এই লাইনে কাজ করছেন এবং অন্য যারা সম্পৃক্ত তাদের নিয়ে আমরা এই নীতিমালা নিয়ে কাজ করব।
সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী: একটি বিজ্ঞাপন নীতিমালা ভীষণভাবে প্রয়োজন। একটি ম্যাংগো জুসের বিজ্ঞাপনে শিশু কেঁদে কেঁদে দৌড়াচ্ছে। তার গাছের আম ছিনতাই করে নিয়ে আসা হচ্ছে এবং বলছে, কেঁদো না, এটা জুস হিসেবে আবার ফেরত আসবে তোমার কাছে। এটা তো খুব বেদনাদায়ক।
নায়লা খান: অ্যাড কিন্তু আস্তে আস্তে ছোট থেকে ছোটতর বাচ্চাদের আকৃষ্ট করছে। যেখানে শিশুদের চ্যানেল বা শিশুদের প্রোগ্রামে কোম্পানিগুলো পৃষ্ঠপোষকতা করবে না, সেখানে আবার মুনাফার জন্য শিশুদের নিয়ে অ্যাড করছে।
মিথিলা ফারজানা: মুস্তাফা মনোয়ার, আজকের ২০১২ সালের যে শিশুটি ডোরেমন, কার্টুন নেটওয়ার্ক, অ্যানিম্যাক্স ধরনের বিভিন্ন চ্যানেলের দর্শক, তার সঙ্গে কিন্তু আমাদের ওই ২৫ বছর আগের অনুষ্ঠানটাই দেওয়া হচ্ছে। আসলে এগুলো ২০১২ সালের শিশুটির জন্য উপযুক্ত কি না।
মুস্তাফা মনোয়ার: শিশুদের জন্য আমাদের প্রাত্যহিক সময় বদলে যাচ্ছে ঠিক, শিশুদের সময় কিন্তু বদলায় না। শিশুদের আজও ঠাকুরমার ঝুলি ভালো লাগে, আজও পুরোনো ছড়া ভালো লাগে।
মিথিলা ফারজানা: কিন্তু সেটির যে পরিবেশনা, তার মধ্যেও কিন্তু নতুনত্ব ও আধুনিকতা আসেনি।
মুস্তাফা মনোয়ার: নতুনত্ব আমরা চাই, শিশুরা কেন? শিশুর মায়েরা যখন নতুন করে সাজে, তারা এতে বিরক্ত হয়। মাকে মায়ের মতো শাড়ি পরে ভালো লাগে।
মিথিলা ফারজানা: সে ক্ষেত্রে আপনি কি মনে করছেন না যে নতুন কিছু করার একটি সৃজনশীলতার অভাব আছে।
মুস্তাফা মনোয়ার: সৃজনশীলতা, সেটাকে আমাদের নতুন করে প্রেজেন্ট করতে হবে। নতুনভাবে প্রেজেন্ট করা মানেই আধুনিকতা নয়। নতুনভাবে, আমাদের সংস্কৃতির ভেতরে থেকেই, আমরা নানাভাবে নতুনত্ব আনতে পারি। এই অনুষ্ঠানগুলো কিন্তু চিন্তাশীল অনুষ্ঠান। চিন্তার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। আমাদের সাধনা করতে হবে।
মাহমুদুজ্জামান বাবু: মা-বাবা তার সন্তানকে সুস্থ সংস্কৃতির পক্ষে রাখতে চাইছে বলেই এই আকুলতাটা ফুটে উঠেছে আমাদের চারপাশে যে, আমরা আসলে বাংলা ভাষায় শিশুদের জন্য সুস্থ বিনোদন চাই। আমাদের এখানে টেলিভিশন মিডিয়াটা তেমনভাবেই সম্প্রসারিত হয়েছে যে তার মধ্য দিয়ে আমরা আগ্রাসন বোধ করছি। ডোরেমন কার্টুন সিরিয়ালটি এমন বয়সী বাচ্চাদের জন্য করছে, যে বয়সে বাচ্চারা ভাষা, ছন্দ, ধ্বনি—এসব শিখে ফেলে। এখন ভারত সরকার বাচ্চাদের হিন্দি ভাষা শেখাবে, কারণ সেটি তাদের রাষ্ট্রীয় ভাষা।
মিথিলা ফারজানা: এই ডোরেমন কার্টুন ভারত সরকার আরও কয়েকটি ভাষায় ডাব করছে। তামিল, মারাঠি, তেলেগু অর্থাৎ যে অঞ্চলে যে ভাষাটি জরুরি, সেই ভাষায় এই কার্টুনগুলা প্রচারিত হয়।
মাহমুদুজ্জামান বাবু: আমাদের দেশে অ্যানিমেটেড ফিল্মগুলো করা হয় না, কারণ যাঁরা করতে গিয়েছেন তাঁরা কোনো রকম পৃষ্ঠপোষকতা পাননি। এসব বিদেশি কার্টুন আমরা বাংলা ভাষায় ডাব করতে পারি কি না।
আবুল কালাম আজাদ: সরকার ইতিমধ্যেই শিশুদের জন্য চলচ্চিত্র করার অনুদান দেওয়া শুরু করছে। একটি চলচ্চিত্র নীতিমালা, আরেকটি বিজ্ঞাপন নীতিমালা। কারণ, অনেক চ্যানেল এখন কীভাবে লাভবান হবে, এটা চিন্তা করে এমন এমন অ্যাডভারটাইজমেন্ট তৈরি করছে, সেগুলো আমাদের ছেলেমেয়েদের জন্য ক্ষতিকর, সমাজের জন্য ক্ষতিকর।
মিথিলা ফারজানা: যে শিশুরা এ ধরনের কার্টুন দেখছে, তার বিকল্প কোথায়? দেশে ১৪-১৫টি বেসরকারি টিভি চ্যানেল, একটি শিশুদের জন্য চ্যানেল থাকতে পারে না?
মুস্তাফা মনোয়ার: নিশ্চয় থাকতে পারে, তবে শিশুদের জন্য চ্যানেল করতে গেলে যে ক্রিয়েটিভিটি লাগে, সেটার জন্য বেশ যত্ন করে শুরু করতে হবে। চ্যানেল হলেই যে সমাধান হলো তা নয়। আমাদের দেশে বাংলা ভাষার প্রতি হীনম্মন্যতা জন্মেছে। এমনকি গ্রামেও শিক্ষিত হয় অন্য ভাষায়, বাংলা ভাষায় নয়। এখন বাচ্চাদের পছন্দের অনুষ্ঠান তৈরি করার যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, সেটা যদি চ্যানেলে না থাকে, একটা প্রোগ্রাম তৈরি করে বেচে দিলেই হবে না। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা লাগবে।
মিথিলা ফারজানা: মাননীয় মন্ত্রী, আমি আপনার কাছ থেকে নীতিমালা জানতে চাইছি।
আবুল কালাম আজাদ: মুস্তাফা মনোয়ার বিটিভিতে ছিলেন, আমরা এটা বসে আলাপ করে দেখব।
মিথিলা ফারজানা: আমি একটু দর্শকদের কাছে যেতে চাই। একটি প্রশ্ন, ডোরেমন বা এ ধরনের কার্টুনগুলো রয়েছে, যেগুলো খুবই জনপ্রিয় শিশুদের মাঝে। সেই কার্টুনগুলো যদি বাংলায় ডাব করা হয়, তাহলে দর্শকপ্রিয়তা পাবে কি না?
জনৈক দর্শক: অবশ্যই বাংলা তারা আগে দেখবে। তারপর হিন্দি দেখবে।
শাহানারা আক্তার: আমাদের মাঝখান থেকে মীনা-রাজু, সিসিমপুর সিরিজগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। এগুলো শুধু সরকারি টেলিভিশনে প্রচারিত হয়। যেসব বাচ্চা সরকারি চ্যানেলে অভ্যস্ত না, যারা বেসরকারি অন্যান্য টেলিভিশন দেখছে, ওরা কিন্তু এটা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী: আমি মাননীয় মন্ত্রীর কাছে একটা দাবি করব। এই যে নীতিমালা হচ্ছে, এর মধ্যে কিছু জিনিস বাধ্যতামূলক করে দেওয়া প্রয়োজন। আমি যখন চ্যানেলের মালিক হয়ে যাচ্ছি, তখন আমার মোটিভটা থাকছে বাণিজ্য। শিশুদের জন্য অনুষ্ঠান প্রচার করার সময় নির্ধারণ করে দিতে হবে যে বেসরকারি টেলিভিশনগুলো এত পারসেন্ট দেখাতে হবে। দ্বিতীয়ত, দক্ষ কারিগর তৈরি করতে হবে এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
আবুল কালাম আজাদ: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দেশকে ভালোবাসা, দেশকে যদি আপনি ভালোবাসেন, দেশের প্রতি যদি দায়বদ্ধতা থাকে, তাহলে এই সমস্যাগুলো কমে যাবে। আমি বিদেশ থেকে কোনো পণ্য কিনি না। কারণ, আমার দেশে সব পণ্য পাওয়া যায়। আপনি যদি দেশকে ভালোবাসেন, তাহলে ওই ধরনের চিন্তা আসবে না।
মিথিলা ফারজানা: মাননীয় মন্ত্রী, খুব ভালো লাগছে, আপনি অন্য কোনো দেশের জিনিস কেনেন না। সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকীও দেশপ্রেমিক হিসেবে যে দাবিটি আপনার কাছে করেছেন যে নির্দিষ্ট একটি সময় বা পারসেন্টেজ দেওয়া থাকবে, যেহেতু একটি নীতিমালার কাজ চলছে, সেই নীতিমালায় দাবিটি কতটা গুরুত্ব পাবে?
আবুল কালাম আজাদ: আমি তো প্রথমেই বললাম যে দেশকে যারা ভালোবাসবে, আমার কাছে তো আমার দেশ বড়, তারপর জনগণ, তারপর সরকার ও আমার দল।
মিথিলা ফারজানা: মাননীয় মন্ত্রী, আপনি কি দাবিটি যৌক্তিক বলে মনে করেন?
আবুল কালাম আজাদ: অবশ্যই যৌক্তিক বলে মনে করি।
মাহমুদুজ্জামান বাবু: আমাদের এখানে যে শিশু-কিশোরেরা বসে আছে, এদের প্রত্যেকেই বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যখন ভারত কিংবা অন্য কোনো দলকে হারায় অথবা হেরে যায়, তারা বিজয়ে আনন্দিত হয় এবং পরাজয়ে ব্যথিত হয়। এরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের পতাকা কাঁধে নেয়। এদের দেশপ্রেমও কিন্তু কম না।
আবুল কালাম আজাদ: আমি যখন বিভিন্ন জায়গায় ছেলেমেয়েদের বলি, বাংলায় একটা কবিতা বলো, একটা ছড়া বলো, তারা বলতে পারে না।
মাহমুদুজ্জামান বাবু: মাননীয় মন্ত্রী আমাদের অনেকগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং আমরা আশা করব, এগুলো বাস্তবায়িত হবে। এই দর্শকসারি থেকে একটি দাবি আমি করতে চাই। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলা ভাষায় কার্টুন নির্মাণ করে সব বেসরকারি টেলিভিশনে দিয়ে দেওয়া। তারা যেন প্রাইম টাইমে বাচ্চাদের জন্য এগুলো প্রচার করে। বাচ্চারা এগুলো দেখার মধ্য দিয়ে যেন দেশপ্রেমের কাহিনি শিখতে পারে, দেশকে ভালোবাসার জায়গা বুঝতে পারে, মানুষকে ভালোবাসার জায়গা বুঝতে পারে। রাষ্ট্রের উদ্যোগ ছাড়া এটা সম্ভব নয়।
মুস্তাফা মনোয়ার: আমাদের দেশের ঐতিহ্যকে অনুসরণ করে একটা কথা ডেভেলপ করেছি বহুদিন ধরে, সেটা হলো পাপেট। পাপেট অ্যানিমেশন একটু সস্তা হয়। আমেরিকার মতো দেশে পাপেট দিয়ে দারুণভাবে শিক্ষিত করতে পেরেছে শিশুদের। সে জন্য আমাদের প্রাথমিক পর্যায়ে সরকারের বেশ সাহায্যের প্রয়োজন হবে। পাপেট যদি ওরা সিডি আকারে তৈরি করে, তাহলে বহু জায়গায় দেখাতে পারবে।
মিথিলা ফারজানা: আমি একটু দর্শকদের কাছ থেকে প্রথমেই জেনে নিতে চাই যে আপনারা কী মনে করেন? কী হতে পারে এর সমাধান?
লিমন ইসলাম: মাননীয় মন্ত্রী, আমাদের চাওয়া যে সময়ে শিশুরা টেলিভিশন দেখে, ঠিক সেই সময়টাতে, যাতে ভালো কিছু অনুষ্ঠান ওই সময়ের মধ্যেই দেখায়, এটা যেন প্রতিটি চ্যানেলে বাধ্যতামূলক এবং নিশ্চিত করেন শিশুদের জন্য।
আসিক আহমেদ: আমরা জানি, বর্তমান সরকার আরও কিছু নতুন টেলিভিশন চ্যানেল অনুমোদন দিতে যাচ্ছে। আমরা কি আশা করতে পারি না সেসব চ্যানেল থেকে এমন একটি চ্যানেল খুঁজে বের করা হোক, যেখানে শুধু শিশুতোষ অনুষ্ঠান থাকবে।
রিফাত হোসেন: ডিসকভারি একটি চ্যানেল আছে, যেখানে বিদেশি অনুষ্ঠান বঙ্গানুবাদ করে প্রচারিত হচ্ছে, যেটা আমরা পছন্দ করি দেখতে। আমরা মনে করি, বিদেশি চ্যানেলগুলো যদি বাংলায় ডাব করা হয়, তাহলে মনে হয় খুব জনপ্রিয়তা পাবে।
মিথিলা ফারজানা: আমি সালাউদ্দিন জাকীর কাছে জানতে চাই, বাংলায় ডাব করা সম্ভব কি না?
সালাউদ্দিন জাকী: সম্ভব। আমাদের বিষয়বস্তু নিয়ে আমাদের এগিয়ে আসা উচিত।
আবুল কালাম আজাদ: আমরা যখন চ্যানেল দিই, তারা ব্যক্তিমালিকানা দায়িত্ব নিয়ে করে। আমরা সুশীল সমাজকে অনুরোধ করব, তারা যাতে শিশুদের জন্য কিছু সময় বের করে অনুষ্ঠান করে। আমরা তো একদম বন্ধ করতে পারব না। তবে নীতিমালা অনুযায়ী এ ধরনের জিনিস যাতে করা হয় এবং এমন অ্যাডভারটাইজমেন্ট করা উচিত নয়, যেগুলোতে সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়, সেগুলো আমরা অবশ্যই দেখব।
মিথিলা ফারজানা: হিস্ট্রি চ্যানেল, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক, ডিসকভারি—এই চ্যানেলগুলো এখন বাংলায় ডাব দেখানো হচ্ছে পুরোটা সময় ধরে। সেভাবেই পুরো চ্যানেলটাকে বাংলায় করা যায় কি না?
মুস্তাফা মনোয়ার: বাংলা করা যেতে পারে। টেকনিক্যালি কোনো অসুবিধা নেই। শুধু ভয়েজ তৈরি করতে হবে আমাদের। সেটার ট্রেনিং দরকার।
মিথিলা ফারজানা: মাননীয় মন্ত্রী, আপনি কি মনে করেন যে কী হতে পারে এর সমাধান?
আবুল কালাম আজাদ: সুনাগরিক দরকার। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শিশুই তো সুনাগরিক হবে। তাদের একদিকে স্কুল, অন্যদিকে খেলাধুলা, পড়াশোনা, পরিশ্রম করা ও সংস্কৃতি—সবকিছু। সে জন্য আমাদের প্রতিটা কর্মসূচি এমনভাবে করতে হবে যাতে শিশুরা ইতিহাস, শিল্প, সাহিত্য—সব বিষয় জানতে পারে শুদ্ধভাবে।
মিথিলা ফারজানা: মুস্তাফা মনোয়ার কী হতে পারে এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের উপায়?
মুস্তাফা মনোয়ার: এখন আমাদের বাচ্চাদের আমাদের দেশের গল্প নিয়ে, ভাবনা নিয়ে, দেশের গান নিয়ে আমি অনেক এক্সপেরিমেন্ট করেছি। ‘ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে’ এই গান নিয়ে আমি পাপেট করেছিলাম, আশ্চর্যভাবে তারা অনুপ্রাণিত হয়। কেঁদে ফেলে বাঁচাও বাঁচাও, বককে বাঁচাও বক ফাঁদে পড়েছে। সেভাবে যদি প্রেজেন্ট করা হয় আধুনিকভাবে। কিন্তু আধুনিক মানে এই নয় যে যান্ত্রিক সভ্যতার মধ্যে দৌড়ানো, সেটা না। আধুনিক হলো আমাদের মুক্তচিন্তার ব্যাপারটি। সৃজনশীলভাবে, মুক্ত চিন্তায় এবং কিছুতেই গোঁড়ামি নেই। বাচ্চারা যেন উদার মনের হয়, সকল জাতির হয়, সকল দেশের হয়, এ রকম একটা শিক্ষার ভাব নিতে হবে।
নায়লা খান: আমি শিশু হাসপাতালে চাকরি করি, গরিব শিশুদের চিনি। ওরা কিন্তু প্রত্যেকেই বিটিভি দেখে এবং প্রত্যেকেই সিসিমপুর জানে, মীনাকে জানে। খুব মনোযোগ দিয়ে প্রতিটি শিশু দেখে। কাজেই শিশুদের জন্য ১০০% নিবেদিত একটি চ্যানেল প্রতিষ্ঠা এ অনুষ্ঠান থেকেই আমাদের দাবি ওঠা উচিত।
মিথিলা ফারজানা: দর্শকমণ্ডলী, এই দাবি আমাদের প্রত্যেকের ঘর থেকে শুরু হয়েছে। আজকে আমরা যদি সবাই মিলে দাবি করি যে আমাদের শিশুরা আমার ভাষায় বিনোদিত হবে, তার বিনোদনের মাধ্যম হবে বাংলা ভাষা। তবেই বড় হবে, আরও পরিপূর্ণ হবে বদলে যাও বদলে দাও মিছিল।
মুস্তাফা মনোয়ার: আজকে যে বলতে হচ্ছে এই কথাটা, সেটার জন্য আমি ভীষণ দুঃখবোধ করছি যে, বাংলা ভাষায় হতে হবে এটা বলে দিতে হচ্ছে দর্শকদের, বাঙালি দর্শকদের। এর চেয়ে দুঃখের কথা আর নেই।
মিথিলা ফারজানা: দর্শকমণ্ডলী, শিশুদের জন্য এই দাবি নিয়ে আমাদের যেন এমন অনুষ্ঠান আর করতে না হয়। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও দেশের সব স্যাটেলাইট চ্যানেলের কাছে আমাদের আহ্বান, তারা যেন শিশুদের বিনোদনে আন্তরিকভাবে উদ্যোগী হয়। সবাইকে ধন্যবাদ।
যাঁরা অংশ নিলেন
আবুল কালাম আজাদ
মন্ত্রী, তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়
মুস্তাফা মনোয়ার
পাপেট শিল্পী ও শিশু বিনোদন বিশেষজ্ঞ
সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী
শিশু চলচ্চিত্র নির্মাতা
নায়লা খান
শিশু স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
কণ্ঠশিল্পী ও সমাজকর্মী
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
লেখক ও অধ্যাপক, শাবিপ্রবি
(ভিডিও সাক্ষাৎকার)
সঞ্চালক
মিথিলা ফারজানা
আয়োজনে প্রথম আলো
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1334)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
-
▼
2012
(33842)
-
▼
August
(2983)
-
▼
Aug 18
(76)
- শ্রেয়া ক্রমাগত সুনিধিকে টক্কর দিচ্ছেন
- মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি
- অভিমত ॥ বিরোধীদলীয় নেত্রীর সত্যকথন by ড. গিয়াসউদ্...
- রংপুর বিভাগে ডিপ্লোমা শিক্ষা বোর্ড নেই
- পটিয়ার উন্নয়নে চাই ডিপ্লোমা শিক্ষা বোর্ড
- ঝুঁকি এড়াতে পরিকল্পিত উপশহর জরুরী
- রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু- সে সময়ে মিয়ানমার থেকে নির্যাতন...
- ঈদ মোবারক- সম্প্রীতির আনন্দধারায় সিক্ত হয়ে উন্নত জ...
- ঈদ-উল-ফিতরের মর্মবাণী by অধ্যাপক হাসান আবদুল কাইয়ূম
- এ্যালজেবরার কী দরকার আছে? ॥ মূল : এন্ডু হ্যাকার- অ...
- মুজিব আমাদের হিমালয় বাংলার এভারেস্ট by কে. এম. এন...
- অন্যত্র নিহত ৫ ॥ মুন্সীগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫ ...
- ঈদে নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করবে বিএনপি- ব্যাপক...
- সেলিম আল দীন উৎসব শুরু ২৫ আগস্ট- সংস্কৃতি সংবাদ
- জুমাতুল বিদায় সব মসজিদে উপচেপড়া ভিড়
- চাঁদ রাতের জন্য প্রস্তুতি ব্যবসায়ীদের, ভোর পর্যন্ত...
- মুদি দোকানিদের ব্যস্ততা বেড়েছে, সেমাই কেনার ধুম- ঈ...
- প্রধানমন্ত্রীকে পৃথিবী থেকে মাইনাসের চক্রান্ত চলছে...
- থিমপার্ক চিড়িয়াখানা খোলা, উদ্যানে ঢল নামবে মানুষের...
- শান্তিরক্ষী বাহিনীর উপপ্রধান মুলেট- সিরিয়ায় সরকার ...
- বিশ্লেষণ- যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ সিরিয়ার রাসায়নিক অ...
- পেশিবহুল শরীর নিয়ে আলোচনায় রায়ান
- অ্যাসাঞ্জকে কয়েক বছর এভাবে থাকতে হতে পারে: যুক্তরা...
- হাট থেকে কোটি টাকার রাজস্ব, উন্নয়ন নেই by রহিদুল...
- আলফ্রেড সরেন হত্যার বিচার আজও শেষ হয়নি by আনোয়ার...
- ‘কচুশাকই হামার ঈদ’ by আলতাফ হোসেন
- অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার আশঙ্কা ৮০টি পরিবারের
- রাজধানীতে ঈদের জামাত কোথায়, কখন
- রেলের ভেঙে পড়া সময়সূচি ঠিক হয়নি by অনিকা ফারজানা
- মহাসড়কে যানজট- বাস কাউন্টারে দীর্ঘ অপেক্ষা যাত্রীদ...
- ধর্ম- রোজাদারের ঈদুল ফিতর by আবদুস সবুর খান
- বসবাসের সবচেয়ে অযোগ্য হয়ে পড়ার দায় কার?- ঢাকার ‘শী...
- প্রতিক্রিয়া- সত্যেন বসু ও আমরা by এস এম মুজিবুর ...
- উৎসবের আনন্দ সর্বজনীন হোক, নিরাপদ হোক- পবিত্র ঈদুল...
- টেলিভিশন সংলাপ- শিশুদের জন্য বাংলায় বিনোদন চাই
- চারদিক- জ্যোতির্বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশ by মশ...
- বীর মুক্তিযোদ্ধা- তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না
- পুলিশ ও নেতাদের নামে ফুটপাতে চাঁদাবাজি by নজরুল ...
- মহাসড়কে দুর্ঘটনা, তীব্র যানজট
- ঈদুল ফিতর সিয়াম সাধনার সাফল্য by মুহম্মদ ফরহাদ হোসেন
- ইউনুসের গতিবিধি ছিল সন্দেহজনক by তোফায়েল আহমদ
- অশ্রুতে ভাসবে নুহাশপল্লী by শরীফ আহ্মেদ শামীম
- বাবাকে ছাড়া ঈদ নিষাদ নিনিতের by নওশাদ জামিল
- ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা-বিচার চলছে ঢিমেতালে by আশরা...
- রাজধানীতে ঈদের জামাত যেখানে যখন
- গণমাধ্যম- অ্যাসাঞ্জকে নিয়ে কেন এই যুদ্ধ? by মশিউ...
- শিক্ষা- ঈদ, তালা ও মেডিকেলে ভর্তি by সোহরাব হাসান
- পদত্যাগ করেও আবুল হোসেন এখনো মন্ত্রী!
- প্রণব মুখার্জির সঙ্গে এরশাদের বৈঠক- বাংলাদেশে অবাধ...
- উৎসুক দৃষ্টি আজ খুঁজবে ঈদের চাঁদ
- দুর্ঘটনা-যানজটে দুর্ভাবনা তবু মুখে হাসি by পার্থ স...
- ঘরে ঘরে খুশির ঈদ
- সিরিয়ায় জাতিসংঘ পর্যবেক্ষক মিশনের সমাপ্তি
- অভিবাসীদের সুবিধা সীমিত করছে আরিজোনা
- থাইল্যান্ডে নাইট ক্লাবে আগুন, নিহত ৪
- ডালাসে জরুরি অবস্থা ঘোষণা-ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসে ১৭ জ...
- চীনে ব্রিটিশ ব্যবসায়ী হত্যা মামলার রায় সোমবার
- ঐতিহাসিক কীর্তির তালিকায় আঙুর গাছ
- ইরাকজুড়ে সহিংসতায় নিহত ৭০
- দক্ষিণ আফ্রিকায় পুলিশের গুলিতে কমপক্ষে ৩০ খনি শ্রম...
- জঙ্গি সংগঠক গ্রেপ্তার-বোমা ও গ্রেনেড হামলার পুনরাব...
- ঈদ মোবারক-বিস্তৃত হোক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য
- পবিত্র কোরআনের আলো-ফেরাউন ও তার সম্প্রদায় আল্লাহর ...
- একটি যুগোপযোগী ওষুধনীতি চাই by ড. মুনীরউদ্দিন আহমদ
- মেডিক্যালে ভর্তির পদ্ধতি প্রসঙ্গে by ডা. এম এ করীম
- সবার জন্য স্বাস্থ্যকর ঈদ by ডা. এ আর এম সাইফুদ্দীন...
- ইতিউতি-ঈদের পর করার আছে অনেক কিছু by আতাউস সামাদ
- আল বিদা মাহে রমজান by অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম রফিক
- আগাম নির্বাচনের গুঞ্জন ॥ বিএনপিকে সুযোগ দেবে না আও...
- ট্রেনের সময়সূচী ভেঙ্গে পড়েছে, সদরঘাটে মানুষের ঢল b...
- নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত মিলবে এবার ঈদে by রশিদ মামুন
- এবার ঈদ করতে বাইরে গেছেন ॥ ৫ লাখ ভাগ্যবান!- এসব ব...
- এলো খুশির ঈদ- রমজানের ঐ রোজার শেষে by শাহীন রহমান
- পাকিস্তানের শাসকরা বিদেশীদের চরঃ কাদির খান
- রোহিঙ্গাদের জন্য এক বিষাদময় ‘ঈদ’ by ফয়সাল আতিক
- চ্যানেলে চ্যানেলে ঈদ বিনোদন
-
▼
Aug 18
(76)
-
▼
August
(2983)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
দুর্নীতি
শিশু
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
মালয়েশিয়া
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
স্বাস্থ্য
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
জ্যোতির্বিজ্ঞান
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
মিয়ানমার
ঢাকা
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
জীবনযাপন
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
মেহেদী হাসান
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
ইয়েমেন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
Exclusive
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
উচ্চশিক্ষা
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিজ্ঞান
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
ফরিদপুর
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মহাকাশচারী
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
জোহরান মামদানি
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
ইহুদি
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বকাপ ফুটবল
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment