বন্ধুত্ব দিবস কোনটি! by একরামুল হক শামীম

এবার অনেককেই বলতে শুনেছি, 'আয়োজন ছাড়াই বন্ধু দিবসটা চলে গেল।' আয়োজনবিহীন বন্ধু দিবস ছিল গেল ৩০ জুলাই। বেশকিছু পত্রপত্রিকাতেও এই নিয়ে প্রতিবেদন এসেছে। সামাজিক যোগাযোগ সাইট ফেসবুকেও দেখলাম বন্ধু দিবস আয়োজনবিহীন চলে যাওয়ার আক্ষেপ।


আক্ষেপ শুধু উদযাপনকারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এ ধরনের দিবস যখন এখন ব্যবসায়িক লাভের অংশ, তখন কার্ড আর ফুল বিক্রেতা এমনকি ফ্যাশন হাউসগুলোর জন্যও বিষয়টা আক্ষেপের। নীরবে বন্ধুত্ব দিবস চলে যাওয়া মানে তাদের ব্যবসায়িক ক্ষতি। বন্ধুত্ব দিবস নিয়ে এই বিতর্ক উসকে দিয়েছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের একটি রেজুলেশন। ২০১১ সালের ২৭ এপ্রিল জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ৬৫তম অধিবেশনে 'কালচার অব পিস'-এর এজেন্ডা বাস্তবায়নে ৩০ জুলাইকে 'বন্ধুত্বের জন্য আন্তর্জাতিক দিবস' (ইন্টারন্যাশনাল ডে অব ফ্রেন্ডশিপ) ঘোষণা করে। এই রেজুলেশনে স্বীকার করে নেওয়া হয়, এরই মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন দিনে বন্ধুত্ব দিবস উদযাপন করা হয়। নানান আয়োজন ও উদ্যোগ থাকে বন্ধুত্ব দিবসকে ঘিরে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কয়েকটি দেশের আনীত প্রস্তাব অনুযায়ী ৩০ জুলাই নির্ধারণ করা হয় বন্ধু দিবস হিসেবে।
এমনিতেই বন্ধুত্ব দিবসের জন্য সারা পৃথিবীতে সাধারণ একটি দিন নেই। নানান দেশে নানান তারিখে এই দিবস উদযাপিত হয়। তবে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য আগস্টের প্রথম রোববার। বেশিরভাগ দেশে এই দিনটিতেই বন্ধুত্ব দিবস উদযাপন করা হয়। আগস্ট মাসের প্রথম রোববার থাকতে জাতিসংঘ আরেকটি দিনকে বন্ধুত্ব দিবস ঘোষণা করল কেন? দক্ষিণ আমেরিকান দেশগুলোতে বহু বছর থেকেই ৩০ জুলাই বন্ধুত্ব দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। প্যারাগুয়ে ১৯৫৮ সালে প্রথম ৩০ জুলাইকে 'বিশ্ব বন্ধুত্ব দিবস' হিসেবে ঘোষণা দেয় এবং সে অনুযায়ী পালন শুরু করে। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে জাতিসংঘের ৬৫তম অধিবেশনে প্রস্তাবটি যে দেশগুলো তুলেছে এর বেশ কয়েকটি দক্ষিণ আমেরিকান দেশ। প্যারাগুয়ের নামও আছে এই তালিকায়। জাতিসংঘ এই দিনটি ঘিরে কী করতে যাচ্ছে। সাধারণ পরিষদের রেজুলেশন অনুযায়ী 'ইউএন আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবসে' দেশগুলোর পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনে উদ্যোগ নেওয়া হবে, বিশ্ব শান্তি প্রসারে কাজ করা হবে, কমিউনিটিগুলোর মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনার জন্য অনুষ্ঠান করা হবে। অন্যদিকে আগস্ট মাসের প্রথম রোববারের বন্ধুত্ব দিবস মূলত ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তির বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথাই বলে।
১৯১৯ সাল থেকে আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবস উদযাপন করা হচ্ছে। এই উদযাপনের পেছনে ব্যবসায়িক চিন্তাই বেশি ছিল। বন্ধুত্ব দিবস চালু করার পেছনে যার সবচেয়ে বেশি অবদান সেই জয়েস হল 'হলমার্ক কার্ডস'-এর প্রতিষ্ঠাতা। তিনি আগস্ট মাসের প্রথম রোববার বন্ধুত্ব দিবস পালনের অনুরোধ জানান। প্রস্তাব করা হয় উদযাপনের অংশ হিসেবে বন্ধুরা একে অপরকে কার্ড পাঠাবে। সময়ের পরিক্রমায় বন্ধুত্ব দিবস জনপ্রিয়তা লাভ করে। কার্ডের পাশাপাশি চলে আসে আরও অনেক অনুষঙ্গ। যেমন 'ফ্রেন্ডশিপ ব্যান্ড' ভারত, নেপাল, বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ আমেরিকার কিছু দেশে খুবই জনপ্রিয়। বাংলাদেশে নব্বইয়ের দশক থেকে বন্ধুত্ব দিবস পালন করা হচ্ছে। এই দিবসটি ঘিরে আয়োজনের পরিসর বেড়েই চলেছে।
দুটি আলাদা দিনের কোনটিতে আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবস পালিত হবে তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই এখন আলোচনা হচ্ছে। জাতিসংঘ ঘোষিত বন্ধুত্ব দিবস প্রথমবারের মতো গেল ৩০ জুলাই পালিত হয়েছে। কিন্তু জাতিসংঘ ঘোষিত এই দিবস তেমন সাড়া জাগাতে পারেনি। বেশিরভাগ লোকই দিবসটি সম্পর্কে জানতেন না। ইন্টারনেটের প্রসারের ফলে বন্ধুত্ব দিবস উদযাপনের বড় একটি ক্ষেত্র এই ইন্টারনেট। সামাজিক যোগাযোগ সাইট, ব্লগগুলোতে বন্ধুত্ব দিবস উদযাপন নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়। ৩০ জুলাইয়ের ক্ষেত্রে অন্তত তেমনটা হয়নি। ফলে বলা যায়, আরও কয়েক বছর আগস্ট মাসের প্রথম রোববারই বন্ধুত্ব দিবস হিসেবে বেশি জনপ্রিয় থাকবে। বাংলাদেশেও এ বছর বন্ধুত্ব দিবস আগস্ট মাসের প্রথম রোববার ৭ আগস্ট পালিত হবে।
samim707@gmail.com