চতুর্থমৃত্যুবার্ষিকীতে জারদারি-গণতন্ত্রবিরোধী ষড়যন্ত্র নস্যাৎই বেনজিরকে শ্রদ্ধা জানানোর ভালো উপায়

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি বলেছেন, বেনজির ভুট্টোর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে গণতন্ত্রবিরোধী সব ‘ষড়যন্ত্র’ নস্যাৎ করা। গতকাল মঙ্গলবার তাঁর স্ত্রী পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর হত্যাকাণ্ডের চতুর্থ বার্ষিকীতে এক বিবৃতিতে জারদারি এসব কথা বলেন। পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় সেনা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সরিয়ে দিতে মার্কিন সহায়তা চেয়ে প্রেসিডেন্ট জারদারির ‘গোপন চিঠি’ কেলেঙ্কারির


জের ধরে সরকার ও সেনাবাহিনী মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। সেনাবাহিনী দেশটির ক্ষমতা নিচ্ছে বলেও গুজব রটেছে। সব মিলিয়ে প্রেসিডেন্ট জারদারি বেশ চাপের মুখে রয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে বেনজির হত্যার ঘটনার চতুর্থ বার্ষিকীতে তিনি এ মন্তব্য করলেন।
প্রেসিডেন্ট ও ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) কো-চেয়ারম্যান জারদারি বলেন, ‘আমরা আজ (মঙ্গলবার) বেনজিরের প্রতি শদ্ধা জানাচ্ছি। দেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষা এবং এসবের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করাই তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সবচেয়ে ভালো উপায়।’ তিনি বলেন, ‘আসুন আমরা শহীদ বেনজিরের গণতান্ত্রিক অভিযানে নিজেকে উৎসর্গ করি। বেনজির একনায়ক ও গণতন্ত্রের জন্য হুমকি সব অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে আত্মোৎসর্গ করেছেন।’
প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি পাকিস্তানের সব গণতান্ত্রিক শক্তি ও দেশপ্রেমিক নাগরিককে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি। এটা এখন দেশের জন্যখুব জরুরি।’
বেনজিরের হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে জারদারি বলেন, ‘পাকিস্তানে পূর্ণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ঠেকানোর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বেনজির ভুট্টোকে হত্যা করা হয়েছে।’
পিপিপির নেত্রী বেনজির দুইবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তবে কোনোবারই মেয়াদ শেষ করতে পারেননি। মুসলিম বিশ্বের প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীও তিনি।
২০০৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে রাওয়ালপিন্ডিতে এক জনসভায় ভাষণ শেষে গাড়িতে ওঠার সময় গুলি ও বোমায় নিহত হন বেনজির। এরপর ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে তাঁর দল পিপিপি জয়লাভ করে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন বেনজিরের স্বামী জারদারি। এএফপি।