Thursday, December 27, 2012
গোলটেবিল বৈঠক- প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা উপবৃত্তি: সাফল্য, সমস্যা ও সম্ভাবনা
গোলটেবিল বৈঠক- প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা উপবৃত্তি: সাফল্য, সমস্যা ও সম্ভাবনা
১৭ ডিসেম্বর ২০১২, ‘প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা উপবৃত্তি: সাফল্য, সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সহযোগিতায় ছিল সেভ দ্য চিলড্রেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত আলোচকদের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত আকারে এই ক্রোড়পত্রে ছাপা হলো।
যাঁরা অংশ নিলেন
আফছারুল আমীন
মন্ত্রী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়
সৈয়দ রাশেদ আল জায়েদ যশ, বিশ্বব্যাংক, অর্থনীতিবিদ
হোসেন জিল্লুর রহমান
উপদেষ্টা, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার
মোহাম্মদ নোমান উর রশীদ
মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা, বাংলাদেশ, ঢাকা
আখতার আহমেদ
পার্টিপ্রধান, আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান
মনজুর আহমদ
জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা, শিক্ষা ও উন্নয়ন ইনস্টিটিউট, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়
ম. হাবিবুর রহমান
উপদেষ্টা, শিক্ষা বিভাগ, সেভ দ্য চিলড্রেন
খন্দকার সাখাওয়াত আলী, ফেলো, পিপিআরসি
সাহিদা বেগম: পরিচালক, প্রোগ্রাম, সেভ দ্য চিলড্রেন
সঞ্চালক
আব্দুল কাইয়ুম, সহযোগী সম্পাদক, প্রথম আলো
আলোচনা
আব্দুল কাইয়ুম: শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। এ লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা উপবৃত্তি। প্রতিটি উদ্যোগের কিছু সমস্যা, সম্ভাবনা থাকে। উপবৃত্তির সঙ্গে পুষ্টির বিষয়টি বারবার আলোচিত হয়। এতে শিশুর পুষ্টির নিরাপত্তা হয়, অন্যদিকে স্কুলে উপস্থিতির সংখ্যা বাড়ে।
রতন সেন স্মরণে খুলনায় অসচ্ছল পরিবারের মেয়েশিশুদের জন্য একটি স্কুল আছে। স্থানীয় উদ্যোগে স্কুলে শিশুদের খাওয়া, বিশ্রাম ও বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়। ফলে স্কুলের উপস্থিতি বেড়েছে এবং শিশুরা আনন্দের সঙ্গে লেখাপড়া করছে। দেশের স্কুলগুলোকে রতন সেন স্কুলের মতো করা যায় কি না, এ দিকটি সংশ্লিষ্ট সবাইকে ভেবে দেখার অনুরোধ করব। এ বিষয়ে এখন আলোচনা শুনব আফছারুল আমীনের কাছ থেকে।
আফছারুল আমীন: আজকের আলোচনার উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। উপবৃত্তির সাফল্য, সম্ভাবনা, স্কুলে খাবার (স্কুল ফিডিং), মানসম্মত শিক্ষা, এমন অনেক বিষয় নিয়ে এখন আলোচনা হচ্ছে। উপবৃত্তির কার্যক্রম এই আলোচনার সূত্রপাত করেছে। বর্তমানে প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষার্থী এক কোটি ৮৯ লাখ। সরকারি ও নিবন্ধিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬০ হাজার। এনজিও পরিচালিত স্কুলের সংখ্যা ৮০ হাজার। বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামে এখন স্কুল আছে। শহরের স্কুলের শিক্ষার্থীদের অবস্থা কমবেশি ভালো। শহরের বাইরের শিক্ষার্থীরা দরিদ্র। পরিবারপ্রতি এক বা দুজন শিক্ষার্থী হলে কত বৃত্তি পাবে, সবাই সেটা জানি। উপস্থিতির হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন প্রাথমিকে ভর্তির হার ৯৯.৪৭ শতাংশ। বিভিন্ন অঞ্চলের বিদ্যালয় পরিদর্শনে যাই। শিক্ষক নিয়োগ, আসবাবপত্র, ভবন নির্মাণ, শ্রেণীকক্ষ, বাথরুম এমন বিভিন্ন ধরনের দাবি থাকে। সরকারও সাধ্যমতো কাজ করছে। আপনারা জানেন, ৭১ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ৯৬টি স্কুলে স্কুলফিডিং দেওয়া হচ্ছে। কিছু এলাকায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে স্কুল ফিডিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফিডিং স্কুলগুলোতে উপস্থিতি বেশি। উপবৃত্তিসহ বিভিন্ন উদ্যোগের জন্য উপস্থিতির হার বেড়েছে। আরও অনেক কাজ করার আছে। কিন্তু সরকারের একার পক্ষে সবকিছু করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে বিত্তবানদের এগিয়ে আসতে হবে।
শতভাগ উপস্থিতি ধরে রাখতে হয়তো কিছুটা সময় লাগবে। ভারতসহ কয়েকটি দেশে সরকারের সমর্থনে শিক্ষার্থীদের রান্না করে খাওয়ানোর ব্যবস্থা আছে। কিন্তু শিক্ষকদের দ্বারা রান্নার কাজটি করা সম্ভব নয়। এতে শ্রেণীকক্ষে পাঠদান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ধরে রাখার জন্য স্কুলগুলোকে নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ করছি। শ্রেণীকক্ষসহ অন্যান্য পরিবেশ ভালো করার উদ্যোগ নিয়েছি। এখানে ছোট পার্কের ব্যবস্থা থাকবে। পার্কে শিশুদের জন্য কিছু খেলনার ব্যবস্থা থাকবে। স্কুল ফিডিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। এসব কারণে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘক্ষণ আনন্দের সঙ্গে স্কুলে থাকবে। স্কুলে থাকার এই পরিবেশটি করতে চাই, যাতে শিক্ষার্থীরা স্কুলে আগে আসবে এবং পরে যাবে। সরকারের কাজ অব্যাহতভাবে চলছে। আজকের আলোচনায় আপনাদের কাছ থেকে যে পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা আসবে, আমরা সেগুলোকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করব।
ম. হাবিবুর রহমান: প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উপবৃত্তির বর্তমান অবস্থা জানার জন্য গবেষণা করেছি। এ গবেষণার মাধ্যমে শিশুর সুরক্ষা, শিশুশ্রম, শিশুশিক্ষা ইত্যাদি বিষয়ে ধারণা পেয়েছি। গবেষণাকাজের ক্ষেত্র ছিল ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলা। এ গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল, সরকারের উপবৃত্তির কার্যক্রম সম্পর্কে মানুষকে জানানো। অর্থাৎ কীভাবে মানুষ উপবৃত্তির সুযোগ নিতে পারে। এ বিষয়ে আরও অধিক জানতে পারে। উৎসাহিত হতে পারে। সরকারের অন্য যে নিরাপত্তা বেষ্টনী আছে, তার সঙ্গে শিক্ষাকে কীভাবে সম্পৃক্ত করা যায়। শিক্ষার্থীদের মূল শিক্ষার সঙ্গে আরও কিছু সংযোজন করা যায় কি না। সরকারের উপবৃত্তি কার্যক্রম কী ভূমিকা রাখছে, এর সমস্যা, সম্ভাবনা কী ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কাজ করেছি। এখন সবার লক্ষ্য থাকবে, মানসম্মত শিক্ষা কীভাবে নিশ্চিত করা যায়। শ্রেণীকক্ষেই বেশি কাজ আদায় করার ব্যবস্থা থাকতে হবে। স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি) দ্বারা শিক্ষার্থী নির্বাচন ঠিক হচ্ছে কি না সে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে। একটা পর্যালোচনা থেকে দেখেছি ৬০.৫ শতাংশ বৃত্তি গ্রহণকারী টিনের ঘরে বাস করে। তাদের ৭৫ শতাংশ তিন বেলা ভাত খায়। এ কাজটি সঠিকভাবে হয়েছে কি না, সেটা দেখা দরকার। এসএমসি কোনো রকম প্রভাবিত হয়ে নির্বাচন করেছে কি না, সেটি নিশ্চিত করা দরকার। উপবৃত্তির টাকার সঠিক ব্যবহার হচ্ছে কি না, সঠিক শিক্ষার্থী টাকা পাচ্ছে কি না, সেটা দেখা দরকার।
কেউ অকৃতকার্য হলে উপবৃত্তি বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু যে মেয়েটি ১০ম শ্রেণীতে পড়ে, তার জন্য বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা দরকার বলে মনে করি। শিক্ষার ক্ষেত্রে একটা মানচিত্রায়ণ করা উচিত। তাহলে প্রতিটি এলাকার শিক্ষার্থীদের অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারব। শিক্ষায় অসুবিধাগ্রস্তদের নিয়ে একটা জাতীয় পরিকল্পনা করার প্রয়োজন। শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য পাস নম্বরকে ৪০ পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে।
খন্দকার সাখাওয়াত আলী: নব্বইয়ের দশকে প্রাথমিক শিক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে বাধা হয়ে আসে দারিদ্র্য। সবার জন্য শিক্ষা। এটি ছিল তখন একটি আলোচিত স্লোগান। দরিদ্রদের শিক্ষা কার্যক্রমের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার ভাবনা থেকে উপবৃত্তি কার্যক্রম শুরু হয়। আজ ২২ বছরে এর অনেক অগ্রগতি হয়েছে। যেমন, খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা দিয়ে শুরু হয়েছিল। এর সঙ্গে পুষ্টি যুক্ত হয়েছে। তারপর এসেছে নগদ উপবৃত্তি। ২০১০ সালের দিকে একটি লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে এ উপবৃত্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। নগদ উপবৃত্তি দেওয়ার সময় প্রথম বাচ্চার জন্য ১০০ টাকা, দ্বিতীয় বাচ্চার জন্য ১২৫ টাকা দেওয়া হয়। ইতিমধ্যে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। তৃতীয় ধাপে এসে উপবৃত্তির সঙ্গে ব্যয় সমন্বয় করার চেষ্টা হচ্ছে। সমন্বয় করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলেছি। সবার কথা থেকে মূল যে বিষয়টি এসেছে তা হলো, বর্তমানে যে অর্থ দেওয়া হয়, তার দ্বিগুণ দিতে হবে। তখন অভিভাবকদের বলা হয়, এ টাকা যে শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যয় হবে তার নিশ্চয়তা কী? আমরা দেখার চেষ্টা করি একটা বাচ্চার জন্য তাঁরা কী পরিমাণ অর্থ খরচ করেন। দেখা গেছে, গ্রামের হতদরিদ্র থেকে সচ্ছল পরিবার পর্যন্ত তিন থেকে নয় হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করে। তাদের খরচের প্রধান খাত হচ্ছে পোশাক, টিউশন ও স্বাস্থ্য। এ বিষয়গুলো সমন্বয় করার ব্যবস্থা করতে হবে। ভর্তির হার ধরে রেখে, ঝরে পড়া কমাতে হলে উপবৃত্তি বাড়াতে হবে।
উপবৃত্তি পাওয়া প্রায় ৮০ শতাংশ পরিবার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে উপবৃত্তির টাকা দেওয়া যায় কি না, এ বিষয়টি কর্তৃপক্ষ ভেবে দেখতে পারে। নব্বইয়ের দশকে নারীশিক্ষাকে উদ্দেশ্য করে মাধ্যমিকে উপবৃত্তি কার্যক্রম শুরু হয়। সে সময় ৪০ শতাংশ মেয়েকে উপবৃত্তির আওতায় আনা হয়। ক্রমান্বয়ে মেয়েরা শিক্ষার ক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে থাকে। ২০১০ সালে এসে উপবৃত্তির ৩০ শতাংশ দেওয়া হচ্ছে মেয়েদের। ১০ শতাংশ ছেলেদের। মেয়েদের ক্ষেত্রে আরও একটি ভালো কাজ হচ্ছে, যেমন মেয়ের অভিভাবকদের সঙ্গে স্কুলের একটি সামাজিক চুক্তি হচ্ছে। চুক্তির মধ্যে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত স্কুলে লেখাপড়ার বাধ্যবাধকতা আছে। মোট উপস্থিতির ৭৫ শতাংশ উপস্থিত থাকতে হবে। লেখাপড়া চলার সময় তাকে বিয়ে দিতে পারবে না। প্রতিটি পরীক্ষায় ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। এই উদ্যোগগুলো শিক্ষার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে।
আখতার আহমেদ: ১৯৯০ সাল থেকে গবেষণাকাজের সঙ্গে জড়িত। বাংলাদেশই পৃথিবীর একমাত্র দেশ, যেখানে শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি চালানো হয়েছে। পৃথিবীর খুব কম দেশই আছে, যেখানে শিক্ষার ক্ষেত্রে মেয়েরা ছেলেদের থেকে এগিয়ে। এমন কিছু বিষয় নিয়ে গর্ব করতে পারি। ২০১২ সালের একটি জাতীয় জরিপ থেকে দেখেছি, মাধ্যমিক থেকে উপবৃত্তির কার্যক্রম প্রাথমিকে বেশি সফল। প্রাথমিকে ভর্তির হার অনেক বেড়ে গেছে। তবে মানসম্মত শিক্ষার অভাব আছে। শিক্ষার মান বৃদ্ধির চেষ্টা করতে হবে। শহরের নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এক জরিপে দেখা গেছে, শহরে নিম্ন আয়ের মানুষের প্রাথমিক স্কুলে ভর্তির হার ৪১ শতাংশ। গ্রামে এই হার ৮৬ শতাংশ।
শহরে উপবৃত্তি কার্যক্রমের কতগুলো সুবিধাও আছে। যেমন, উপবৃত্তি সফলভাবে কার্যকর করা গেলে, শিশুশ্রম কমে আসবে। শিক্ষার পরিবেশে থাকলে তারা সহিংসতার শিকার হবে না। শিক্ষাহীন অবস্থায় বস্তিতে বড় হতে হতে একসময় এরা সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। সমাজের কিছু খারাপ মানুষ এদের মাদকসহ নানা ধরনের খারাপ কাজের সঙ্গে যুক্ত করে। এই শিশুদের ফেরানোর একমাত্র উপায় কোনো না কোনোভাবে এদের শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করা। সামাজিক সুরক্ষার একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মাধ্যমিকে নগদ বৃত্তির সঙ্গে সকাল বা দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা। সব সময় মানুষের পুষ্টির প্রয়োজন হয়। কিন্তু মেয়েদের জীবনচক্রে বয়ঃসন্ধির সময় পুষ্টি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মাধ্যমিকের এই মেয়েদের আয়রন ও আয়োডিনসমৃদ্ধ খাবারের ব্যবস্থা করতে পারলে ভবিষ্যতে ভালো ফল পাওয়া যাবে। বিশেষ করে মা হওয়ার সময় পুষ্টির অভাবসহ নানা রোগে মেয়েরা ভুগতে থাকে। বয়ঃসন্ধির এ সময়টিতে পুষ্টি পেলে এই মেয়েরা ভবিষ্যতের অনেক ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকবে। উপবৃত্তি কার্যক্রমের মাধ্যমে মেয়েদের নগদ এবং পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করতে পারলে ভবিষ্যতে এই মায়েরা জাতীয় উন্নতিতে ভূমিকা রাখতে পারবে।
মনজুর আহমদ: নব্বইয়ের দশকে উপবৃত্তির এ কার্যক্রম একটি ভালো উদ্যোগ ছিল। সবাই এর প্রশংসা করেছে। একটি ফলপ্রসূ কার্যক্রমের মর্যাদা পেয়েছে। বাংলাদেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উপবৃত্তি কার্যক্রম আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃত। উপবৃত্তি একটা প্রেরণা বা প্রণোদনা হিসেবে কাজ করেছে। শিক্ষার পরিবেশ তৈরিতে সাহায্য করেছে। একটা সময় পর্যন্ত এর প্রয়োজন ছিল। এখন ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে হবে। কিছুটা বাস্তবতার দিক থেকে বলতে চাই। প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে আগের তুলনায় অনেক বেশি শিক্ষার্থী পড়লেখা করছে। কিন্তু তারা কতটুকু মানসম্মত শিক্ষা পাচ্ছে, সে বিষয়টি ভেবে দেখতে হবে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে পাসের হারের সঙ্গে প্রকৃত জেনেবুঝে পড়ালেখার অনেক পার্থক্য রয়েছে। প্রতিযোগিতার এই যুগে মানসম্মত লেখাপড়ার কোনো বিকল্প নেই। লক্ষ করেছি, এখন সব শ্রেণী-পেশার মানুষ তাদের সন্তানদের লেখাপড়া করানোর কথা ভাবছেন। তাঁরা মানসম্মত লেখাপড়ার কথা ভাবছেন। সন্তানদের লেখাপড়া করানোর জন্য অনেক গরিব মা-বাবাকে যথেষ্ট ত্যাগ স্বীকার করতে দেখি। দেশে এনজিওদের স্কুল আছে ৮০ হাজার। এখানে কোনো উপবৃত্তি নেই।
এনজিওগুলো শিক্ষার মানের দিকে গুরুত্ব দেয়। এসব স্কুলে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি অনেক বেশি। দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন ঊর্ধ্বগতি। জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। এই বাস্তবতায় ১০০ টাকা উপবৃত্তির জন্য দরিদ্র মা-বাবা তাঁদের সন্তানদের স্কুলে পাঠান এমন নয়। আসলে যেকোনো মূল্যে তাঁদের সন্তানদের লেখাপড়া করাতে চান। উপবৃত্তির কার্যক্রম এখন আর চালানোর প্রয়োজন আছে কি না এ দিকটি ভেবে দেখতে হবে। মানসম্মত শিক্ষার কথা গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে। মানসম্মত শিক্ষার জন্য একটি পরিকল্পনার সময় এসেছে বলে মনে করি। উপবৃত্তি কার্যক্রমের সঙ্গে মানসম্মত শিক্ষার বিষয়টি নিয়ে আসতে হবে। মানসম্মত শিক্ষা পেলে শিক্ষার্থীরা মানবসম্পদে পরিণত হবে। মানবসম্পদে পরিণত হলে দেশের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে। অন্যথায় শিক্ষিত হয়েও দেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।
সাহিদা বেগম: শিশুদের নিয়ে কাজ করি। শ্রমজীবী শিশুদের একটা সমন্বিত শিক্ষা কার্যক্রমের মধ্যে আনা আমাদের লক্ষ্য। প্রতিবছর এক লাখ ৮০ হাজার শিশু আমাদের কার্যক্রম থেকে সুবিধা পাচ্ছে। শিশুদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, উপবৃত্তি কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির হার যথেষ্ট সন্তোষজনক। উপবৃত্তির জন্যই এটি হয়েছে। গ্রাম ও শহরের নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে এ কার্যক্রম আরও অধিক হারে চালাতে হবে। শহরে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে জরুরিভিত্তিতে উপবৃত্তির কার্যক্রম শুরু করা দরকার।
শহরের শিশুরা গ্রামের তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছে। এ কথা সত্য, গ্রামাঞ্চলে মানসম্মত শিক্ষার অভাব রয়েছে। উপবৃত্তির সঙ্গে এখন মানসম্মত শিক্ষার দিকটিও ভাবতে হবে। দেশে এনজিওদের শিক্ষার মান ভালো। এরা মানসম্মত শিক্ষা দিচ্ছে। কিন্তু এনজিওগুলোর ওপর নির্ভর করা যাবে না। প্রকল্প শেষ হলে এনজিও বন্ধ হয়ে যায়। তাই সরকারের নিজস্ব শিক্ষাব্যবস্থাকে মানসম্মত করতে হবে। মানসম্মত শিক্ষার জন্য সরকারকে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। মাধ্যমিকেও অধিকসংখ্যক ছেলেমেয়ে ঝরে পড়ছে। মাধ্যমিকের ব্যয় প্রাথমিকের থেকে বেশি। অনেক অভিভাবক ব্যয় চালাতে পারেন না। তা ছাড়া পরীক্ষায় পাসের পর তাদের জন্য কোনো কাজের ব্যবস্থা নেই। সবকিছু মিলিয়ে মা-বাবা হতাশ হয়ে পড়েন। মাধ্যমিকে কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে। তাহলে শিক্ষা শেষে দ্রুত কোনো কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে।
সৈয়দ রাশেদ আল জায়েদ যশ: বাংলাদেশের অনেক ভয়াবহ বিষয় নিয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়। এ সময় কিছুটা ইতস্ততার মধ্যে থাকি। কিন্তু শিক্ষা নিয়ে যখন আলোচনা হয় তখন বেশ স্বস্তি বোধ করি। শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশ উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। শিক্ষায় মিলেনিয়াম লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ সফল। প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে উপবৃত্তির ক্ষেত্রেও সফল। বাংলাদেশে ছেলেদের তুলনায় শিক্ষায় মেয়েদের সাফল্য বেশি। কিন্তু প্রাথমিক ও মাধ্যমিক দুই জায়গাতে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। এ ক্ষেত্রে সফলতা আসেনি। শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধ করতে হলে আরও কয়েক বছর উপবৃত্তি কার্যক্রম চালু রাখতে হবে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এটা আরও বাড়াতে হবে। উপবৃত্তির সঙ্গে বাংলাদেশকে আরও কিছু কাজ করতে হবে।
আজকাল গ্রামে কৃষিসহ সব শ্রমিকের উচ্চ মজুরি। জীবনযাত্রার ব্যয় অধিক থেকে অধিকতর। এসব বিবেচনায় ১০০ টাকা থেকে ১২৫ টাকা উপবৃত্তির জন্য অভিভাবকেরা সন্তানদের স্কুলে পাঠান না। সরকার, এনজিও—সবার কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে মানুষ সচেতন হচ্ছে। তা ছাড়া সব শ্রেণীর মানুষ এখন শিক্ষার গুরুত্ব বুঝতে পারছে। শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পেরেই মা-বাবা সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন। তাই মনে করি, উপবৃত্তির সঙ্গে সচেতনতা কার্যক্রমের ওপরও অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। ২০০৯ সালে নতুন একটি শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়। এ প্রকল্পের নাম হলো সেকায়েপ (সেকেন্ডারি এডুকেশন কোয়ালিটি প্রজেক্ট) বৃত্তির শর্ত হলো, ৭৫ শতাংশ উপস্থিত থাকতে হবে। অবিবাহিত থাকতে হবে। এখানে দরিদ্র পরিবার নির্বাচন ও তত্ত্বাবধানের বিষয় আছে। টাকা দেওয়ার বিষয় আছে। সবকিছু মিলিয়ে এটি একটি বিশাল ব্যবস্থাপনা। এ ব্যবস্থাপনা ঠিকমতো ধরে রাখতে না পারলে, শিক্ষার অগ্রগতি ধরে রাখা সম্ভব হবে না। এখন শিক্ষাক্ষেত্রে কয়েক ধরনের উপবৃত্তি কার্যক্রম চালু আছে। এদের নীতিনির্ধারণসহ বিভিন্ন কাজকর্ম দেখাশোনার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা দরকার। এ কাজটি কিন্তু এখনো হয়নি। কোনো রকম ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে চলছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি এভাবে চলতে পারে না।
হোসেন জিল্লুর রহমান: শিক্ষা একটি বিশাল কার্যপ্রণালি। প্রতিটির আলাদা গুরুত্ব আছে। উপবৃত্তির একটি নিজস্ব ক্ষেত্র ও গুরুত্ব আছে। কিন্তু শিক্ষার সার্বিক উন্নয়ন উপবৃত্তির ওপর নির্ভর করে না। উপবৃত্তি দিয়ে কতটুকু অর্জন করতে চাই, সেটি ভাবতে হবে। মানসম্মত শিক্ষার সঙ্গে উপবৃত্তিকে যুক্ত করলে হবে না। অর্থ ছাড়া আরও অনেক উপায়ে শিক্ষার মানকে বৃদ্ধি করা যায়। শিক্ষার মান বৃদ্ধির জন্য সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। স্কুল ব্যবস্থাপনাকে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও উন্নত করতে হবে। এর একটিও অর্থের সঙ্গে জড়িত নয়। প্রতিটি নীতিনির্ধারণী বিষয়। এ কাজগুলো ঠিকমতো হলে শিক্ষার মান অনেকটা বেড়ে যাবে। এ জন্য কোনো অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন নেই।
উপবৃত্তির মাধ্যমে ভর্তির সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু শিক্ষার্থী ধরে রাখার ক্ষেত্রে উপবৃত্তি ভূমিকা রাখতে পারছে না। এক জরিপে দেখা গেছে, ১০০ জন শিশুর মধ্যে প্রাথমিকে ঝরে পড়ছে, মাধ্যমিকে ঝরে পড়ছে, মাত্র ২২ জন ১০ম শ্রেণী পার হচ্ছে। উপবৃত্তি হয়তো শিক্ষার্থী ধরে রাখতে পারছে না। কিন্তু উপবৃত্তির প্রয়োজন নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। শিক্ষার্থী তালিকাভুক্তিসহ বিভিন্নভাবে উপবৃত্তির এখনো যথেষ্ট প্রয়োজন আছে। শিক্ষার ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। শিক্ষার্থীকে একটা নির্দিষ্ট অর্থ সরকার দেয়। অভিভাবক তার থেকে বেশি অর্থ শিক্ষার্থীর জন্য ব্যয় করছেন। উপবৃত্তি কিছুটা হলেও অভিভাবককে ব্যয়ের চাপ কমাতে সাহায্য করছে। তাই এ ধরনের প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা সব সময় থাকবে। উপবৃত্তি কার্যক্রমের বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন আছে। কারণ, সঠিক বাস্তবায়নের ওপর তার কার্যকারিতা নির্ভর করে।
প্রাথমিক উপবৃত্তি নিয়ে সরকার ও অনুদানকারী সংস্থা সবার আগ্রহ আছে। সবাই এ ক্ষেত্রে বেশি মনোযোগ দিয়ে কাজ করছে। তবে মাধ্যমিক উপবৃত্তি সেভাবে আলোচনায় আসেনি। মাধ্যমিকে তিনটি প্রকল্প কাজ করছে। তাদের একটি মূল্যায়ন হওয়া দরকার। তাহলে ধারণা পাওয়া যাবে কোন প্রকল্প অধিক ফলপ্রসূ। এর ভিত্তিতে একটি লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা সম্ভব হবে। নগদ উপবৃত্তি না বাড়িয়ে পোশাকসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণের মাধ্যমে বাড়ানোর বিষয়টি ভাবতে হবে। শিক্ষার্থীদের খাবারের দিকটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সরকার বা এনজিও বিচ্ছিন্নভাবে করলেও ব্যাপকভাবে কেউ করতে পারেনি। খাবারের ব্যবস্থা করতে পারলে শিক্ষার ক্ষেত্রে বড় রকমের অগ্রগতি হবে। শিক্ষকদের দিয়ে খাবারের ব্যবস্থা করতে গেলে ক্লাসে পাঠদান ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং শিক্ষকেরাও এটা চান না। ফলে এ বিষয়টি করলে কীভাবে করা যাবে সেটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনারও বিষয় রয়েছে।
শিক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রধান আলোচ্য বিষয় হওয়া উচিত মান উন্নয়ন। এনজিওরা কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে শিক্ষার মান উন্নয়ন করেছে। কিন্তু সব জায়গায় করতে পারেনি। সরকার পৃথকভাবে দু-একটি স্কুলে করতে পারে না। মান উন্নয়ন করলে সব জায়গায় করতে হবে। তাই একটি ব্যাপক পরিকল্পনার মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নয়নের দিকে যেতে হবে। আগামী পাঁচ বছরে আমাদের অন্যতম কার্যসূচি হতে হবে পুষ্টি। কারণ, মিলেনিয়াম লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কিছু ক্ষেত্রে বেশ কাছাকাছি আছি। কিন্তু পুষ্টিতে অনেক পিছিয়ে আছি। শহরের দরিদ্রদের কথা এখন অবশ্যই ভাবতে হবে। কারণ শহরে তাদের অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়ছে। কিন্তু সামাজিক সুযোগ থেকে তারা গ্রাম থেকেও অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
মোহাম্মদ নোমান উর রশীদ: প্রত্যেকের একটি স্বপ্ন থাকে। জন্ম থেকেই স্বপ্নের শুরু। সবার জন্য শিক্ষা, এটি আমার স্বপ্ন। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের পর এ স্বপ্ন আরও বেড়ে গেল। আর বিগত ৬৫ বছরের মধ্যে আমরা একটি শিক্ষানীতি পেলাম। আজকে শিক্ষার যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, শিক্ষানীতিতে এর সবই বলা হয়েছে। আলোচনায় বঞ্চিত, অনগ্রসর বিভিন্ন পর্যায়ের শিশুদের কথা এসেছে। শিক্ষানীতির দ্বিতীয় অধ্যায়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা আছে। শিক্ষানীতির আলোকে আমাদের স্বপ্ন এখন বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। প্রাইভেট টিউশন, কোচিং বাণিজ্য ইত্যাদি বিষয় আলোচনায় এসেছে। শিক্ষানীতির ২২ অধ্যায়ে সব ধরনের প্রাইভেট টিউশন বা কোচিং বাণিজ্যকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আপনারা জানেন, কিছু শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ এসেছে। ইতিমধ্যে শিক্ষানীতির আলোকে তাদের সরকারি অনুদান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থাপনার বিধান হচ্ছে শিক্ষানীতি। এর মাধ্যমে আমরা শিক্ষাব্যবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারব। উপবৃত্তির বাইরে এ বছর ২৭ কোটি বই ছাপানো হয়েছে। সরকার এখানে কয়েক কোটি টাকা খরচ করেছে। বড় রকমের দুশ্চিন্তার বিষয় হলো, সময়মতো শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেওয়া। আমরা সে কাজটি ঠিকমতো করতে পেরেছি। অর্থাৎ শিক্ষার ক্ষেত্রে সঠিক পথে আছি। পিএসসি, (প্রাথমিক স্কুল সার্টিফিকেট) জেএসসি (জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট) পরীক্ষা হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন উৎসাহ-উদ্দীপনা কাজ করছে। পরবর্তী ধাপে যাওয়ার জন্য তাদের মধ্যে আনন্দ কাজ করছে। বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত ৫৬ লাখ দরিদ্র শিক্ষার্থীকে সহযোগিতা দেওয়া হবে। শিক্ষাক্ষেত্রে আমার একটি প্রার্থনা আছে, সেটি এখনো আলোচনায় আসেনি। সেটি হলো, নিরাপদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। নিরাপদ সড়ক দরকার। নিরাপদ মাতৃত্ব দরকার। তেমনি নিরাপদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দরকার। আজকে ভিকারুন্নিসাসহ বড় বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিরাপদ নয়। শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার এটি একটি বড় কারণ। এ বিষয়টি অধিকতর গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় আশা উচিত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিরাপদ না করতে পারলে আমাদের অনেক অর্জন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী: আজকের আলোচনার বিষয় উপবৃত্তি। কিন্তু শিক্ষার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে কিছু বিষয় বলার আছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাজের ব্যাপকতা বিশাল। সে জন্য এ মন্ত্রণালয়ের অনেক সাফল্য আছে। অন্যদিকে সাফল্য অর্জনের চেষ্টাও আছে। শিক্ষানীতিসহ এ পর্যন্ত শিক্ষাক্ষেত্রে প্রচুর কাজ হয়েছে। এ জন্য শিক্ষায় একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে।
গত তিন বছরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬৫ কোটি বই বিতরণ করা হয়েছে। এটাও উপবৃত্তির মতো এক ধরনের প্রণোদনা। ২০ হাজার ৫০০ স্কুলে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম করতে যাচ্ছি। তিন হাজার স্কুল, দেড় হাজার কলেজ ও এক হাজার মাদ্রাসা ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। ৩০টি মাদ্রাসায় সম্মান শ্রেণী (অনার্স কোর্স) খুলেছি। অনেক স্কুল-কলেজে কম্পিউটার গবেষণাগার (ল্যাব) দিয়েছি। লটারির মাধ্যমে স্কুলে ভর্তির প্রক্রিয়া চালু করেছি। আগে হাতে তৈরি (ম্যানুয়াল) ফলাফল দেওয়া হতো। সময় লাগত ৯০ দিন। এখন ৬০ দিনে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত (অনলাইন) ফলাফল দেওয়া হয়। আপনারা শুনে খুশি হবেন, গতবার মাত্র ৩৭ দিনে ফলাফল দিয়েছি। কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত নিবন্ধন হচ্ছে। এগুলো আগে আমরা চিন্তাও করতে পারতাম না। এ মুহূর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ৭৫টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রায় ৫০টি প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন। এগুলো সম্ভব হয়েছে আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবং আমরা সে লক্ষ্যে কাজ করছি। উপবৃত্তি কার্যক্রমের প্রশ্নে সবাই এটা চালু রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। জিল্লুর রহমান সাহেব চমৎকারভাবে সপক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। ব্যক্তি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সরকারকে বিবেচনা করতে হয় সামগ্রিকভাবে। সমাজের সব মানুষ সমান নয়। উপবৃত্তির একটা বড় অর্জন হলো প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে লিঙ্গসাম্য। প্রাথমিক পর্যায়ে ভর্তির হার ১০০ শতাংশের কাছাকাছি। যেটা ২০১৫ সালে অর্জনের কথা ছিল। তাই অনস্বীকার্যভাবে উপবৃত্তির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করি।
পরিসংখ্যানে দেখেছি, ঝরে পড়ার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হচ্ছে। চারটি প্রকল্পের মাধ্যমে ৩০ লাখ শিক্ষার্থীর ৭৫ শতাংশ মেয়েদের উপবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। মেয়েদের সামনে নিয়ে আসার জন্য উপবৃত্তি ভূমিকা রাখছে। কখনো উপবৃত্তি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাহলে কী অবস্থা হবে? সে বিষয়টি আপনার ভেবেছেন কি না জানি না। উপবৃত্তির কার্যক্রমের উল্লেখযোগ্য সফলতা। এ জন্য অনুদারকারী সংস্থাগুলো খুবই খুশি।
এ ক্ষেত্রে তারা আরও সহযোগিতা করতে চায়। কিন্তু এই প্রকল্প যদি কখনো বন্ধ হয়ে যায়, তখন কী হবে? এর জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী লিখিতভাবে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেলেও যেন প্রথম শ্রেণী থেকে স্নাতক শ্রেণী পর্যন্ত সবাইকে বৃত্তি দেওয়া যায়, তার জন্য একটি ট্রাস্ট ফান্ডের ব্যবস্থা করতে বলেছেন। সে লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ করছে। বাজেটে এক হাজার কোটি টাকা এ ফান্ডের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। যেমন, সৃজনশীল প্রশ্নপত্র চালু করেছি। এ বিষয়ে দক্ষতার সঙ্গে পড়ানোর জন্য পাঁচ লাখ শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। গণিত ও বিজ্ঞানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষকদের যদি আলাদা বেতন কাঠামোর মধ্যে না আনা যায়, তাহলে মানসম্মত শিক্ষা অর্জন ব্যাহত হবে। শিক্ষাক্ষেত্রে বাজেট বাড়াতে হবে।
আফছারুল আমীন: শিক্ষাক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা আজকের আলোচনায় সমবেত হয়েছেন। তাঁরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন। তাঁদের আলোচনা থেকে যেসব মতামত ও নির্দেশনা এসেছে, সেগুলো আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে চেষ্টা করব। শিক্ষার ক্ষেত্রে আমরা থেমে নেই। সর্বক্ষণ কাজ করে যাচ্ছি। কয়েক লাখ শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছি। কয়েক হাজার ভবন নির্মাণ করেছি। অনেক স্কুলে পিটিআই চালু করেছি। শিক্ষক প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। আমাদের প্রধান কাজ সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করা। তারপর তাদের ধরে রাখার ব্যবস্থা করা এবং মানসম্মত শিক্ষা দেওয়া। শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন নতুন কার্যক্রমের জন্যই শিক্ষার চাহিদা আরও বেড়ে যাচ্ছে। ঝরে পড়ার শিক্ষার্থীর সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কমে আসছে। বহুমুখী উদ্যোগের ফলে এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। এ অগ্রযাত্রাকে ধরে রাখার জন্য সব রকমের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
আব্দুল কাইয়ুম: শিক্ষার প্রতি মানুষের আগ্রহ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। প্রথম আলো কুড়িগ্রামের দুর্গম এক চরে একটি স্কুল পরিচালনা করছে। এখন স্কুলটিকে পঞ্চম শ্রেণীতে উন্নীত করা হয়েছে। আজ এখানে উপবৃত্তি ব্যবস্থা ও শিক্ষার বিভিন্ন দিক নিয়ে একটি সফল আলোচনা হয়েছে। আলোচনার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন রকম মতামত ও পরামর্শ এসেছে। সরকার এগুলো বিবেচনায় নিলে শিক্ষার ক্ষেত্রে আরও অগ্রগতি হবে বলে আশা করি।
এতক্ষণ সময় দেওয়ার জন্য প্রথম আলোর পক্ষ থেকে সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
আফছারুল আমীন
মন্ত্রী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়
সৈয়দ রাশেদ আল জায়েদ যশ, বিশ্বব্যাংক, অর্থনীতিবিদ
হোসেন জিল্লুর রহমান
উপদেষ্টা, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার
মোহাম্মদ নোমান উর রশীদ
মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা, বাংলাদেশ, ঢাকা
আখতার আহমেদ
পার্টিপ্রধান, আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান
মনজুর আহমদ
জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা, শিক্ষা ও উন্নয়ন ইনস্টিটিউট, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়
ম. হাবিবুর রহমান
উপদেষ্টা, শিক্ষা বিভাগ, সেভ দ্য চিলড্রেন
খন্দকার সাখাওয়াত আলী, ফেলো, পিপিআরসি
সাহিদা বেগম: পরিচালক, প্রোগ্রাম, সেভ দ্য চিলড্রেন
সঞ্চালক
আব্দুল কাইয়ুম, সহযোগী সম্পাদক, প্রথম আলো
আলোচনা
আব্দুল কাইয়ুম: শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। এ লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা উপবৃত্তি। প্রতিটি উদ্যোগের কিছু সমস্যা, সম্ভাবনা থাকে। উপবৃত্তির সঙ্গে পুষ্টির বিষয়টি বারবার আলোচিত হয়। এতে শিশুর পুষ্টির নিরাপত্তা হয়, অন্যদিকে স্কুলে উপস্থিতির সংখ্যা বাড়ে।
রতন সেন স্মরণে খুলনায় অসচ্ছল পরিবারের মেয়েশিশুদের জন্য একটি স্কুল আছে। স্থানীয় উদ্যোগে স্কুলে শিশুদের খাওয়া, বিশ্রাম ও বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়। ফলে স্কুলের উপস্থিতি বেড়েছে এবং শিশুরা আনন্দের সঙ্গে লেখাপড়া করছে। দেশের স্কুলগুলোকে রতন সেন স্কুলের মতো করা যায় কি না, এ দিকটি সংশ্লিষ্ট সবাইকে ভেবে দেখার অনুরোধ করব। এ বিষয়ে এখন আলোচনা শুনব আফছারুল আমীনের কাছ থেকে।
আফছারুল আমীন: আজকের আলোচনার উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। উপবৃত্তির সাফল্য, সম্ভাবনা, স্কুলে খাবার (স্কুল ফিডিং), মানসম্মত শিক্ষা, এমন অনেক বিষয় নিয়ে এখন আলোচনা হচ্ছে। উপবৃত্তির কার্যক্রম এই আলোচনার সূত্রপাত করেছে। বর্তমানে প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষার্থী এক কোটি ৮৯ লাখ। সরকারি ও নিবন্ধিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬০ হাজার। এনজিও পরিচালিত স্কুলের সংখ্যা ৮০ হাজার। বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামে এখন স্কুল আছে। শহরের স্কুলের শিক্ষার্থীদের অবস্থা কমবেশি ভালো। শহরের বাইরের শিক্ষার্থীরা দরিদ্র। পরিবারপ্রতি এক বা দুজন শিক্ষার্থী হলে কত বৃত্তি পাবে, সবাই সেটা জানি। উপস্থিতির হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন প্রাথমিকে ভর্তির হার ৯৯.৪৭ শতাংশ। বিভিন্ন অঞ্চলের বিদ্যালয় পরিদর্শনে যাই। শিক্ষক নিয়োগ, আসবাবপত্র, ভবন নির্মাণ, শ্রেণীকক্ষ, বাথরুম এমন বিভিন্ন ধরনের দাবি থাকে। সরকারও সাধ্যমতো কাজ করছে। আপনারা জানেন, ৭১ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ৯৬টি স্কুলে স্কুলফিডিং দেওয়া হচ্ছে। কিছু এলাকায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে স্কুল ফিডিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফিডিং স্কুলগুলোতে উপস্থিতি বেশি। উপবৃত্তিসহ বিভিন্ন উদ্যোগের জন্য উপস্থিতির হার বেড়েছে। আরও অনেক কাজ করার আছে। কিন্তু সরকারের একার পক্ষে সবকিছু করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে বিত্তবানদের এগিয়ে আসতে হবে।
শতভাগ উপস্থিতি ধরে রাখতে হয়তো কিছুটা সময় লাগবে। ভারতসহ কয়েকটি দেশে সরকারের সমর্থনে শিক্ষার্থীদের রান্না করে খাওয়ানোর ব্যবস্থা আছে। কিন্তু শিক্ষকদের দ্বারা রান্নার কাজটি করা সম্ভব নয়। এতে শ্রেণীকক্ষে পাঠদান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ধরে রাখার জন্য স্কুলগুলোকে নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ করছি। শ্রেণীকক্ষসহ অন্যান্য পরিবেশ ভালো করার উদ্যোগ নিয়েছি। এখানে ছোট পার্কের ব্যবস্থা থাকবে। পার্কে শিশুদের জন্য কিছু খেলনার ব্যবস্থা থাকবে। স্কুল ফিডিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। এসব কারণে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘক্ষণ আনন্দের সঙ্গে স্কুলে থাকবে। স্কুলে থাকার এই পরিবেশটি করতে চাই, যাতে শিক্ষার্থীরা স্কুলে আগে আসবে এবং পরে যাবে। সরকারের কাজ অব্যাহতভাবে চলছে। আজকের আলোচনায় আপনাদের কাছ থেকে যে পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা আসবে, আমরা সেগুলোকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করব।
ম. হাবিবুর রহমান: প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উপবৃত্তির বর্তমান অবস্থা জানার জন্য গবেষণা করেছি। এ গবেষণার মাধ্যমে শিশুর সুরক্ষা, শিশুশ্রম, শিশুশিক্ষা ইত্যাদি বিষয়ে ধারণা পেয়েছি। গবেষণাকাজের ক্ষেত্র ছিল ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলা। এ গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল, সরকারের উপবৃত্তির কার্যক্রম সম্পর্কে মানুষকে জানানো। অর্থাৎ কীভাবে মানুষ উপবৃত্তির সুযোগ নিতে পারে। এ বিষয়ে আরও অধিক জানতে পারে। উৎসাহিত হতে পারে। সরকারের অন্য যে নিরাপত্তা বেষ্টনী আছে, তার সঙ্গে শিক্ষাকে কীভাবে সম্পৃক্ত করা যায়। শিক্ষার্থীদের মূল শিক্ষার সঙ্গে আরও কিছু সংযোজন করা যায় কি না। সরকারের উপবৃত্তি কার্যক্রম কী ভূমিকা রাখছে, এর সমস্যা, সম্ভাবনা কী ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কাজ করেছি। এখন সবার লক্ষ্য থাকবে, মানসম্মত শিক্ষা কীভাবে নিশ্চিত করা যায়। শ্রেণীকক্ষেই বেশি কাজ আদায় করার ব্যবস্থা থাকতে হবে। স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি) দ্বারা শিক্ষার্থী নির্বাচন ঠিক হচ্ছে কি না সে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে। একটা পর্যালোচনা থেকে দেখেছি ৬০.৫ শতাংশ বৃত্তি গ্রহণকারী টিনের ঘরে বাস করে। তাদের ৭৫ শতাংশ তিন বেলা ভাত খায়। এ কাজটি সঠিকভাবে হয়েছে কি না, সেটা দেখা দরকার। এসএমসি কোনো রকম প্রভাবিত হয়ে নির্বাচন করেছে কি না, সেটি নিশ্চিত করা দরকার। উপবৃত্তির টাকার সঠিক ব্যবহার হচ্ছে কি না, সঠিক শিক্ষার্থী টাকা পাচ্ছে কি না, সেটা দেখা দরকার।
কেউ অকৃতকার্য হলে উপবৃত্তি বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু যে মেয়েটি ১০ম শ্রেণীতে পড়ে, তার জন্য বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা দরকার বলে মনে করি। শিক্ষার ক্ষেত্রে একটা মানচিত্রায়ণ করা উচিত। তাহলে প্রতিটি এলাকার শিক্ষার্থীদের অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারব। শিক্ষায় অসুবিধাগ্রস্তদের নিয়ে একটা জাতীয় পরিকল্পনা করার প্রয়োজন। শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য পাস নম্বরকে ৪০ পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে।
খন্দকার সাখাওয়াত আলী: নব্বইয়ের দশকে প্রাথমিক শিক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে বাধা হয়ে আসে দারিদ্র্য। সবার জন্য শিক্ষা। এটি ছিল তখন একটি আলোচিত স্লোগান। দরিদ্রদের শিক্ষা কার্যক্রমের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার ভাবনা থেকে উপবৃত্তি কার্যক্রম শুরু হয়। আজ ২২ বছরে এর অনেক অগ্রগতি হয়েছে। যেমন, খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা দিয়ে শুরু হয়েছিল। এর সঙ্গে পুষ্টি যুক্ত হয়েছে। তারপর এসেছে নগদ উপবৃত্তি। ২০১০ সালের দিকে একটি লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে এ উপবৃত্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। নগদ উপবৃত্তি দেওয়ার সময় প্রথম বাচ্চার জন্য ১০০ টাকা, দ্বিতীয় বাচ্চার জন্য ১২৫ টাকা দেওয়া হয়। ইতিমধ্যে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। তৃতীয় ধাপে এসে উপবৃত্তির সঙ্গে ব্যয় সমন্বয় করার চেষ্টা হচ্ছে। সমন্বয় করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলেছি। সবার কথা থেকে মূল যে বিষয়টি এসেছে তা হলো, বর্তমানে যে অর্থ দেওয়া হয়, তার দ্বিগুণ দিতে হবে। তখন অভিভাবকদের বলা হয়, এ টাকা যে শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যয় হবে তার নিশ্চয়তা কী? আমরা দেখার চেষ্টা করি একটা বাচ্চার জন্য তাঁরা কী পরিমাণ অর্থ খরচ করেন। দেখা গেছে, গ্রামের হতদরিদ্র থেকে সচ্ছল পরিবার পর্যন্ত তিন থেকে নয় হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করে। তাদের খরচের প্রধান খাত হচ্ছে পোশাক, টিউশন ও স্বাস্থ্য। এ বিষয়গুলো সমন্বয় করার ব্যবস্থা করতে হবে। ভর্তির হার ধরে রেখে, ঝরে পড়া কমাতে হলে উপবৃত্তি বাড়াতে হবে।
উপবৃত্তি পাওয়া প্রায় ৮০ শতাংশ পরিবার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে উপবৃত্তির টাকা দেওয়া যায় কি না, এ বিষয়টি কর্তৃপক্ষ ভেবে দেখতে পারে। নব্বইয়ের দশকে নারীশিক্ষাকে উদ্দেশ্য করে মাধ্যমিকে উপবৃত্তি কার্যক্রম শুরু হয়। সে সময় ৪০ শতাংশ মেয়েকে উপবৃত্তির আওতায় আনা হয়। ক্রমান্বয়ে মেয়েরা শিক্ষার ক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে থাকে। ২০১০ সালে এসে উপবৃত্তির ৩০ শতাংশ দেওয়া হচ্ছে মেয়েদের। ১০ শতাংশ ছেলেদের। মেয়েদের ক্ষেত্রে আরও একটি ভালো কাজ হচ্ছে, যেমন মেয়ের অভিভাবকদের সঙ্গে স্কুলের একটি সামাজিক চুক্তি হচ্ছে। চুক্তির মধ্যে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত স্কুলে লেখাপড়ার বাধ্যবাধকতা আছে। মোট উপস্থিতির ৭৫ শতাংশ উপস্থিত থাকতে হবে। লেখাপড়া চলার সময় তাকে বিয়ে দিতে পারবে না। প্রতিটি পরীক্ষায় ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। এই উদ্যোগগুলো শিক্ষার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে।
আখতার আহমেদ: ১৯৯০ সাল থেকে গবেষণাকাজের সঙ্গে জড়িত। বাংলাদেশই পৃথিবীর একমাত্র দেশ, যেখানে শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি চালানো হয়েছে। পৃথিবীর খুব কম দেশই আছে, যেখানে শিক্ষার ক্ষেত্রে মেয়েরা ছেলেদের থেকে এগিয়ে। এমন কিছু বিষয় নিয়ে গর্ব করতে পারি। ২০১২ সালের একটি জাতীয় জরিপ থেকে দেখেছি, মাধ্যমিক থেকে উপবৃত্তির কার্যক্রম প্রাথমিকে বেশি সফল। প্রাথমিকে ভর্তির হার অনেক বেড়ে গেছে। তবে মানসম্মত শিক্ষার অভাব আছে। শিক্ষার মান বৃদ্ধির চেষ্টা করতে হবে। শহরের নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এক জরিপে দেখা গেছে, শহরে নিম্ন আয়ের মানুষের প্রাথমিক স্কুলে ভর্তির হার ৪১ শতাংশ। গ্রামে এই হার ৮৬ শতাংশ।
শহরে উপবৃত্তি কার্যক্রমের কতগুলো সুবিধাও আছে। যেমন, উপবৃত্তি সফলভাবে কার্যকর করা গেলে, শিশুশ্রম কমে আসবে। শিক্ষার পরিবেশে থাকলে তারা সহিংসতার শিকার হবে না। শিক্ষাহীন অবস্থায় বস্তিতে বড় হতে হতে একসময় এরা সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। সমাজের কিছু খারাপ মানুষ এদের মাদকসহ নানা ধরনের খারাপ কাজের সঙ্গে যুক্ত করে। এই শিশুদের ফেরানোর একমাত্র উপায় কোনো না কোনোভাবে এদের শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করা। সামাজিক সুরক্ষার একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মাধ্যমিকে নগদ বৃত্তির সঙ্গে সকাল বা দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা। সব সময় মানুষের পুষ্টির প্রয়োজন হয়। কিন্তু মেয়েদের জীবনচক্রে বয়ঃসন্ধির সময় পুষ্টি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মাধ্যমিকের এই মেয়েদের আয়রন ও আয়োডিনসমৃদ্ধ খাবারের ব্যবস্থা করতে পারলে ভবিষ্যতে ভালো ফল পাওয়া যাবে। বিশেষ করে মা হওয়ার সময় পুষ্টির অভাবসহ নানা রোগে মেয়েরা ভুগতে থাকে। বয়ঃসন্ধির এ সময়টিতে পুষ্টি পেলে এই মেয়েরা ভবিষ্যতের অনেক ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকবে। উপবৃত্তি কার্যক্রমের মাধ্যমে মেয়েদের নগদ এবং পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করতে পারলে ভবিষ্যতে এই মায়েরা জাতীয় উন্নতিতে ভূমিকা রাখতে পারবে।
মনজুর আহমদ: নব্বইয়ের দশকে উপবৃত্তির এ কার্যক্রম একটি ভালো উদ্যোগ ছিল। সবাই এর প্রশংসা করেছে। একটি ফলপ্রসূ কার্যক্রমের মর্যাদা পেয়েছে। বাংলাদেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উপবৃত্তি কার্যক্রম আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃত। উপবৃত্তি একটা প্রেরণা বা প্রণোদনা হিসেবে কাজ করেছে। শিক্ষার পরিবেশ তৈরিতে সাহায্য করেছে। একটা সময় পর্যন্ত এর প্রয়োজন ছিল। এখন ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে হবে। কিছুটা বাস্তবতার দিক থেকে বলতে চাই। প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে আগের তুলনায় অনেক বেশি শিক্ষার্থী পড়লেখা করছে। কিন্তু তারা কতটুকু মানসম্মত শিক্ষা পাচ্ছে, সে বিষয়টি ভেবে দেখতে হবে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে পাসের হারের সঙ্গে প্রকৃত জেনেবুঝে পড়ালেখার অনেক পার্থক্য রয়েছে। প্রতিযোগিতার এই যুগে মানসম্মত লেখাপড়ার কোনো বিকল্প নেই। লক্ষ করেছি, এখন সব শ্রেণী-পেশার মানুষ তাদের সন্তানদের লেখাপড়া করানোর কথা ভাবছেন। তাঁরা মানসম্মত লেখাপড়ার কথা ভাবছেন। সন্তানদের লেখাপড়া করানোর জন্য অনেক গরিব মা-বাবাকে যথেষ্ট ত্যাগ স্বীকার করতে দেখি। দেশে এনজিওদের স্কুল আছে ৮০ হাজার। এখানে কোনো উপবৃত্তি নেই।
এনজিওগুলো শিক্ষার মানের দিকে গুরুত্ব দেয়। এসব স্কুলে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি অনেক বেশি। দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন ঊর্ধ্বগতি। জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। এই বাস্তবতায় ১০০ টাকা উপবৃত্তির জন্য দরিদ্র মা-বাবা তাঁদের সন্তানদের স্কুলে পাঠান এমন নয়। আসলে যেকোনো মূল্যে তাঁদের সন্তানদের লেখাপড়া করাতে চান। উপবৃত্তির কার্যক্রম এখন আর চালানোর প্রয়োজন আছে কি না এ দিকটি ভেবে দেখতে হবে। মানসম্মত শিক্ষার কথা গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে। মানসম্মত শিক্ষার জন্য একটি পরিকল্পনার সময় এসেছে বলে মনে করি। উপবৃত্তি কার্যক্রমের সঙ্গে মানসম্মত শিক্ষার বিষয়টি নিয়ে আসতে হবে। মানসম্মত শিক্ষা পেলে শিক্ষার্থীরা মানবসম্পদে পরিণত হবে। মানবসম্পদে পরিণত হলে দেশের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে। অন্যথায় শিক্ষিত হয়েও দেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।
সাহিদা বেগম: শিশুদের নিয়ে কাজ করি। শ্রমজীবী শিশুদের একটা সমন্বিত শিক্ষা কার্যক্রমের মধ্যে আনা আমাদের লক্ষ্য। প্রতিবছর এক লাখ ৮০ হাজার শিশু আমাদের কার্যক্রম থেকে সুবিধা পাচ্ছে। শিশুদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, উপবৃত্তি কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির হার যথেষ্ট সন্তোষজনক। উপবৃত্তির জন্যই এটি হয়েছে। গ্রাম ও শহরের নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে এ কার্যক্রম আরও অধিক হারে চালাতে হবে। শহরে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে জরুরিভিত্তিতে উপবৃত্তির কার্যক্রম শুরু করা দরকার।
শহরের শিশুরা গ্রামের তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছে। এ কথা সত্য, গ্রামাঞ্চলে মানসম্মত শিক্ষার অভাব রয়েছে। উপবৃত্তির সঙ্গে এখন মানসম্মত শিক্ষার দিকটিও ভাবতে হবে। দেশে এনজিওদের শিক্ষার মান ভালো। এরা মানসম্মত শিক্ষা দিচ্ছে। কিন্তু এনজিওগুলোর ওপর নির্ভর করা যাবে না। প্রকল্প শেষ হলে এনজিও বন্ধ হয়ে যায়। তাই সরকারের নিজস্ব শিক্ষাব্যবস্থাকে মানসম্মত করতে হবে। মানসম্মত শিক্ষার জন্য সরকারকে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। মাধ্যমিকেও অধিকসংখ্যক ছেলেমেয়ে ঝরে পড়ছে। মাধ্যমিকের ব্যয় প্রাথমিকের থেকে বেশি। অনেক অভিভাবক ব্যয় চালাতে পারেন না। তা ছাড়া পরীক্ষায় পাসের পর তাদের জন্য কোনো কাজের ব্যবস্থা নেই। সবকিছু মিলিয়ে মা-বাবা হতাশ হয়ে পড়েন। মাধ্যমিকে কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে। তাহলে শিক্ষা শেষে দ্রুত কোনো কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে।
সৈয়দ রাশেদ আল জায়েদ যশ: বাংলাদেশের অনেক ভয়াবহ বিষয় নিয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়। এ সময় কিছুটা ইতস্ততার মধ্যে থাকি। কিন্তু শিক্ষা নিয়ে যখন আলোচনা হয় তখন বেশ স্বস্তি বোধ করি। শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশ উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। শিক্ষায় মিলেনিয়াম লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ সফল। প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে উপবৃত্তির ক্ষেত্রেও সফল। বাংলাদেশে ছেলেদের তুলনায় শিক্ষায় মেয়েদের সাফল্য বেশি। কিন্তু প্রাথমিক ও মাধ্যমিক দুই জায়গাতে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। এ ক্ষেত্রে সফলতা আসেনি। শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধ করতে হলে আরও কয়েক বছর উপবৃত্তি কার্যক্রম চালু রাখতে হবে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এটা আরও বাড়াতে হবে। উপবৃত্তির সঙ্গে বাংলাদেশকে আরও কিছু কাজ করতে হবে।
আজকাল গ্রামে কৃষিসহ সব শ্রমিকের উচ্চ মজুরি। জীবনযাত্রার ব্যয় অধিক থেকে অধিকতর। এসব বিবেচনায় ১০০ টাকা থেকে ১২৫ টাকা উপবৃত্তির জন্য অভিভাবকেরা সন্তানদের স্কুলে পাঠান না। সরকার, এনজিও—সবার কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে মানুষ সচেতন হচ্ছে। তা ছাড়া সব শ্রেণীর মানুষ এখন শিক্ষার গুরুত্ব বুঝতে পারছে। শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পেরেই মা-বাবা সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন। তাই মনে করি, উপবৃত্তির সঙ্গে সচেতনতা কার্যক্রমের ওপরও অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। ২০০৯ সালে নতুন একটি শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়। এ প্রকল্পের নাম হলো সেকায়েপ (সেকেন্ডারি এডুকেশন কোয়ালিটি প্রজেক্ট) বৃত্তির শর্ত হলো, ৭৫ শতাংশ উপস্থিত থাকতে হবে। অবিবাহিত থাকতে হবে। এখানে দরিদ্র পরিবার নির্বাচন ও তত্ত্বাবধানের বিষয় আছে। টাকা দেওয়ার বিষয় আছে। সবকিছু মিলিয়ে এটি একটি বিশাল ব্যবস্থাপনা। এ ব্যবস্থাপনা ঠিকমতো ধরে রাখতে না পারলে, শিক্ষার অগ্রগতি ধরে রাখা সম্ভব হবে না। এখন শিক্ষাক্ষেত্রে কয়েক ধরনের উপবৃত্তি কার্যক্রম চালু আছে। এদের নীতিনির্ধারণসহ বিভিন্ন কাজকর্ম দেখাশোনার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা দরকার। এ কাজটি কিন্তু এখনো হয়নি। কোনো রকম ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে চলছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি এভাবে চলতে পারে না।
হোসেন জিল্লুর রহমান: শিক্ষা একটি বিশাল কার্যপ্রণালি। প্রতিটির আলাদা গুরুত্ব আছে। উপবৃত্তির একটি নিজস্ব ক্ষেত্র ও গুরুত্ব আছে। কিন্তু শিক্ষার সার্বিক উন্নয়ন উপবৃত্তির ওপর নির্ভর করে না। উপবৃত্তি দিয়ে কতটুকু অর্জন করতে চাই, সেটি ভাবতে হবে। মানসম্মত শিক্ষার সঙ্গে উপবৃত্তিকে যুক্ত করলে হবে না। অর্থ ছাড়া আরও অনেক উপায়ে শিক্ষার মানকে বৃদ্ধি করা যায়। শিক্ষার মান বৃদ্ধির জন্য সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। স্কুল ব্যবস্থাপনাকে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও উন্নত করতে হবে। এর একটিও অর্থের সঙ্গে জড়িত নয়। প্রতিটি নীতিনির্ধারণী বিষয়। এ কাজগুলো ঠিকমতো হলে শিক্ষার মান অনেকটা বেড়ে যাবে। এ জন্য কোনো অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন নেই।
উপবৃত্তির মাধ্যমে ভর্তির সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু শিক্ষার্থী ধরে রাখার ক্ষেত্রে উপবৃত্তি ভূমিকা রাখতে পারছে না। এক জরিপে দেখা গেছে, ১০০ জন শিশুর মধ্যে প্রাথমিকে ঝরে পড়ছে, মাধ্যমিকে ঝরে পড়ছে, মাত্র ২২ জন ১০ম শ্রেণী পার হচ্ছে। উপবৃত্তি হয়তো শিক্ষার্থী ধরে রাখতে পারছে না। কিন্তু উপবৃত্তির প্রয়োজন নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। শিক্ষার্থী তালিকাভুক্তিসহ বিভিন্নভাবে উপবৃত্তির এখনো যথেষ্ট প্রয়োজন আছে। শিক্ষার ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। শিক্ষার্থীকে একটা নির্দিষ্ট অর্থ সরকার দেয়। অভিভাবক তার থেকে বেশি অর্থ শিক্ষার্থীর জন্য ব্যয় করছেন। উপবৃত্তি কিছুটা হলেও অভিভাবককে ব্যয়ের চাপ কমাতে সাহায্য করছে। তাই এ ধরনের প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা সব সময় থাকবে। উপবৃত্তি কার্যক্রমের বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন আছে। কারণ, সঠিক বাস্তবায়নের ওপর তার কার্যকারিতা নির্ভর করে।
প্রাথমিক উপবৃত্তি নিয়ে সরকার ও অনুদানকারী সংস্থা সবার আগ্রহ আছে। সবাই এ ক্ষেত্রে বেশি মনোযোগ দিয়ে কাজ করছে। তবে মাধ্যমিক উপবৃত্তি সেভাবে আলোচনায় আসেনি। মাধ্যমিকে তিনটি প্রকল্প কাজ করছে। তাদের একটি মূল্যায়ন হওয়া দরকার। তাহলে ধারণা পাওয়া যাবে কোন প্রকল্প অধিক ফলপ্রসূ। এর ভিত্তিতে একটি লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা সম্ভব হবে। নগদ উপবৃত্তি না বাড়িয়ে পোশাকসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণের মাধ্যমে বাড়ানোর বিষয়টি ভাবতে হবে। শিক্ষার্থীদের খাবারের দিকটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সরকার বা এনজিও বিচ্ছিন্নভাবে করলেও ব্যাপকভাবে কেউ করতে পারেনি। খাবারের ব্যবস্থা করতে পারলে শিক্ষার ক্ষেত্রে বড় রকমের অগ্রগতি হবে। শিক্ষকদের দিয়ে খাবারের ব্যবস্থা করতে গেলে ক্লাসে পাঠদান ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং শিক্ষকেরাও এটা চান না। ফলে এ বিষয়টি করলে কীভাবে করা যাবে সেটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনারও বিষয় রয়েছে।
শিক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রধান আলোচ্য বিষয় হওয়া উচিত মান উন্নয়ন। এনজিওরা কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে শিক্ষার মান উন্নয়ন করেছে। কিন্তু সব জায়গায় করতে পারেনি। সরকার পৃথকভাবে দু-একটি স্কুলে করতে পারে না। মান উন্নয়ন করলে সব জায়গায় করতে হবে। তাই একটি ব্যাপক পরিকল্পনার মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নয়নের দিকে যেতে হবে। আগামী পাঁচ বছরে আমাদের অন্যতম কার্যসূচি হতে হবে পুষ্টি। কারণ, মিলেনিয়াম লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কিছু ক্ষেত্রে বেশ কাছাকাছি আছি। কিন্তু পুষ্টিতে অনেক পিছিয়ে আছি। শহরের দরিদ্রদের কথা এখন অবশ্যই ভাবতে হবে। কারণ শহরে তাদের অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়ছে। কিন্তু সামাজিক সুযোগ থেকে তারা গ্রাম থেকেও অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
মোহাম্মদ নোমান উর রশীদ: প্রত্যেকের একটি স্বপ্ন থাকে। জন্ম থেকেই স্বপ্নের শুরু। সবার জন্য শিক্ষা, এটি আমার স্বপ্ন। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের পর এ স্বপ্ন আরও বেড়ে গেল। আর বিগত ৬৫ বছরের মধ্যে আমরা একটি শিক্ষানীতি পেলাম। আজকে শিক্ষার যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, শিক্ষানীতিতে এর সবই বলা হয়েছে। আলোচনায় বঞ্চিত, অনগ্রসর বিভিন্ন পর্যায়ের শিশুদের কথা এসেছে। শিক্ষানীতির দ্বিতীয় অধ্যায়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা আছে। শিক্ষানীতির আলোকে আমাদের স্বপ্ন এখন বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। প্রাইভেট টিউশন, কোচিং বাণিজ্য ইত্যাদি বিষয় আলোচনায় এসেছে। শিক্ষানীতির ২২ অধ্যায়ে সব ধরনের প্রাইভেট টিউশন বা কোচিং বাণিজ্যকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আপনারা জানেন, কিছু শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ এসেছে। ইতিমধ্যে শিক্ষানীতির আলোকে তাদের সরকারি অনুদান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থাপনার বিধান হচ্ছে শিক্ষানীতি। এর মাধ্যমে আমরা শিক্ষাব্যবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারব। উপবৃত্তির বাইরে এ বছর ২৭ কোটি বই ছাপানো হয়েছে। সরকার এখানে কয়েক কোটি টাকা খরচ করেছে। বড় রকমের দুশ্চিন্তার বিষয় হলো, সময়মতো শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেওয়া। আমরা সে কাজটি ঠিকমতো করতে পেরেছি। অর্থাৎ শিক্ষার ক্ষেত্রে সঠিক পথে আছি। পিএসসি, (প্রাথমিক স্কুল সার্টিফিকেট) জেএসসি (জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট) পরীক্ষা হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন উৎসাহ-উদ্দীপনা কাজ করছে। পরবর্তী ধাপে যাওয়ার জন্য তাদের মধ্যে আনন্দ কাজ করছে। বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত ৫৬ লাখ দরিদ্র শিক্ষার্থীকে সহযোগিতা দেওয়া হবে। শিক্ষাক্ষেত্রে আমার একটি প্রার্থনা আছে, সেটি এখনো আলোচনায় আসেনি। সেটি হলো, নিরাপদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। নিরাপদ সড়ক দরকার। নিরাপদ মাতৃত্ব দরকার। তেমনি নিরাপদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দরকার। আজকে ভিকারুন্নিসাসহ বড় বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিরাপদ নয়। শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার এটি একটি বড় কারণ। এ বিষয়টি অধিকতর গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় আশা উচিত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিরাপদ না করতে পারলে আমাদের অনেক অর্জন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী: আজকের আলোচনার বিষয় উপবৃত্তি। কিন্তু শিক্ষার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে কিছু বিষয় বলার আছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাজের ব্যাপকতা বিশাল। সে জন্য এ মন্ত্রণালয়ের অনেক সাফল্য আছে। অন্যদিকে সাফল্য অর্জনের চেষ্টাও আছে। শিক্ষানীতিসহ এ পর্যন্ত শিক্ষাক্ষেত্রে প্রচুর কাজ হয়েছে। এ জন্য শিক্ষায় একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে।
গত তিন বছরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬৫ কোটি বই বিতরণ করা হয়েছে। এটাও উপবৃত্তির মতো এক ধরনের প্রণোদনা। ২০ হাজার ৫০০ স্কুলে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম করতে যাচ্ছি। তিন হাজার স্কুল, দেড় হাজার কলেজ ও এক হাজার মাদ্রাসা ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। ৩০টি মাদ্রাসায় সম্মান শ্রেণী (অনার্স কোর্স) খুলেছি। অনেক স্কুল-কলেজে কম্পিউটার গবেষণাগার (ল্যাব) দিয়েছি। লটারির মাধ্যমে স্কুলে ভর্তির প্রক্রিয়া চালু করেছি। আগে হাতে তৈরি (ম্যানুয়াল) ফলাফল দেওয়া হতো। সময় লাগত ৯০ দিন। এখন ৬০ দিনে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত (অনলাইন) ফলাফল দেওয়া হয়। আপনারা শুনে খুশি হবেন, গতবার মাত্র ৩৭ দিনে ফলাফল দিয়েছি। কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত নিবন্ধন হচ্ছে। এগুলো আগে আমরা চিন্তাও করতে পারতাম না। এ মুহূর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ৭৫টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রায় ৫০টি প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন। এগুলো সম্ভব হয়েছে আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবং আমরা সে লক্ষ্যে কাজ করছি। উপবৃত্তি কার্যক্রমের প্রশ্নে সবাই এটা চালু রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। জিল্লুর রহমান সাহেব চমৎকারভাবে সপক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। ব্যক্তি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সরকারকে বিবেচনা করতে হয় সামগ্রিকভাবে। সমাজের সব মানুষ সমান নয়। উপবৃত্তির একটা বড় অর্জন হলো প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে লিঙ্গসাম্য। প্রাথমিক পর্যায়ে ভর্তির হার ১০০ শতাংশের কাছাকাছি। যেটা ২০১৫ সালে অর্জনের কথা ছিল। তাই অনস্বীকার্যভাবে উপবৃত্তির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করি।
পরিসংখ্যানে দেখেছি, ঝরে পড়ার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হচ্ছে। চারটি প্রকল্পের মাধ্যমে ৩০ লাখ শিক্ষার্থীর ৭৫ শতাংশ মেয়েদের উপবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। মেয়েদের সামনে নিয়ে আসার জন্য উপবৃত্তি ভূমিকা রাখছে। কখনো উপবৃত্তি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাহলে কী অবস্থা হবে? সে বিষয়টি আপনার ভেবেছেন কি না জানি না। উপবৃত্তির কার্যক্রমের উল্লেখযোগ্য সফলতা। এ জন্য অনুদারকারী সংস্থাগুলো খুবই খুশি।
এ ক্ষেত্রে তারা আরও সহযোগিতা করতে চায়। কিন্তু এই প্রকল্প যদি কখনো বন্ধ হয়ে যায়, তখন কী হবে? এর জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী লিখিতভাবে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেলেও যেন প্রথম শ্রেণী থেকে স্নাতক শ্রেণী পর্যন্ত সবাইকে বৃত্তি দেওয়া যায়, তার জন্য একটি ট্রাস্ট ফান্ডের ব্যবস্থা করতে বলেছেন। সে লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ করছে। বাজেটে এক হাজার কোটি টাকা এ ফান্ডের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। যেমন, সৃজনশীল প্রশ্নপত্র চালু করেছি। এ বিষয়ে দক্ষতার সঙ্গে পড়ানোর জন্য পাঁচ লাখ শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। গণিত ও বিজ্ঞানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষকদের যদি আলাদা বেতন কাঠামোর মধ্যে না আনা যায়, তাহলে মানসম্মত শিক্ষা অর্জন ব্যাহত হবে। শিক্ষাক্ষেত্রে বাজেট বাড়াতে হবে।
আফছারুল আমীন: শিক্ষাক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা আজকের আলোচনায় সমবেত হয়েছেন। তাঁরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন। তাঁদের আলোচনা থেকে যেসব মতামত ও নির্দেশনা এসেছে, সেগুলো আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে চেষ্টা করব। শিক্ষার ক্ষেত্রে আমরা থেমে নেই। সর্বক্ষণ কাজ করে যাচ্ছি। কয়েক লাখ শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছি। কয়েক হাজার ভবন নির্মাণ করেছি। অনেক স্কুলে পিটিআই চালু করেছি। শিক্ষক প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। আমাদের প্রধান কাজ সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করা। তারপর তাদের ধরে রাখার ব্যবস্থা করা এবং মানসম্মত শিক্ষা দেওয়া। শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন নতুন কার্যক্রমের জন্যই শিক্ষার চাহিদা আরও বেড়ে যাচ্ছে। ঝরে পড়ার শিক্ষার্থীর সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কমে আসছে। বহুমুখী উদ্যোগের ফলে এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। এ অগ্রযাত্রাকে ধরে রাখার জন্য সব রকমের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
আব্দুল কাইয়ুম: শিক্ষার প্রতি মানুষের আগ্রহ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। প্রথম আলো কুড়িগ্রামের দুর্গম এক চরে একটি স্কুল পরিচালনা করছে। এখন স্কুলটিকে পঞ্চম শ্রেণীতে উন্নীত করা হয়েছে। আজ এখানে উপবৃত্তি ব্যবস্থা ও শিক্ষার বিভিন্ন দিক নিয়ে একটি সফল আলোচনা হয়েছে। আলোচনার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন রকম মতামত ও পরামর্শ এসেছে। সরকার এগুলো বিবেচনায় নিলে শিক্ষার ক্ষেত্রে আরও অগ্রগতি হবে বলে আশা করি।
এতক্ষণ সময় দেওয়ার জন্য প্রথম আলোর পক্ষ থেকে সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1389)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
-
▼
2012
(33842)
-
▼
December
(2623)
-
▼
Dec 27
(187)
- আগামী বছরের সম্ভাব্য প্রযুক্তি-পণ্যগুলো
- পাল্টে যাচ্ছে বিজ্ঞান-বিশ্ব by হারুন-অর-রশীদ
- বিজ্ঞানে পৃথিবীর সেরা ২৫ দেশ by জাহিদ আবদুল্লাহ
- জাল ভিসাসহ দুজন আটক
- বামপন্থী সাতটি দলের বিক্ষোভ ৩১ ডিসেম্বর
- জাসদ ছাত্রলীগের সমাবেশ- জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নি...
- ছিনতাইয়ের অভিযোগে দরপত্র প্রক্রিয়া বাতিল করেছে রাজউক
- বিমানবন্দর সড়ক এক ঘণ্টা বন্ধ থাকবে- বনানী রেলক্রসি...
- ইয়ুথ ফোরামের অনুষ্ঠানে ফারুক খান- সরকার শতভাগ সফল ...
- ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ- নয় বছর পর আজ কাউন্সিল
- কাঁচির আঘাতে আহত ঝাড়ুদার মারা গেছেন
- ট্রেনে কাটা পড়ে ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু
- গৃহবন্দী মানুষ, অচল ঢাকা by রাজীব নূর
- অন্য কলাম
- বিচিত্রিতা ভুবন-কীর্তি
- রেকর্ড কর্নার কঞ্জুস
- ছোট পর্দায়
- বিজয় দিবস হকি
- সোনালী অতীতের টুর্নামেন্ট বরিশালে
- অনেক সম্ভাবনার বিসিএল
- যুদ্ধের ময়দান ছেড়ে আবার খেলায়
- টি-টোয়েন্টি- ভারতে জয়ে শুরু পাকিস্তানের
- মেলবোর্ন টেস্ট- অস্ট্রেলিয়ার দিনে সাঙ্গাকারার রেকর্ড
- সৌহার্দ্যের সিরিজে অন্য ঝাঁজ
- বিসিএল- বগুড়ায় উত্তরের আধিপত্য
- মিরপুরে ঝড় তুললেন জিয়া
- সাঙ্গাকারাকে নিয়ে ১১
- ফিরে দেখা ২০১২: আন্তর্জাতিক ফুটবল মেসি ও স্পেনের বছর
- দ্বৈত ভূমিকার ভালোটাও দেখছেন মাহমুদ
- বিশ্ব সিটি দাবা- ঢাকার বিদায়
- সাইক্লিংয়ে বিজেএমসি-ই সেরা
- টি-টোয়েন্টি- সিরিজ দক্ষিণ আফ্রিকার
- তামিম ২০ বলে ৩৫
- ইউনাইটেডের রোমাঞ্চকর জয়
- বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ
- শ্যুটারদের স্কোর তলানিতে
- অল্পস্বল্প ‘রুশ জিএমের প্রশংসা পেয়েছি’
- টিভির পর্দায়
- গান, নাটক, প্রদর্শনী, চলচ্চিত্র আজ সারা দিন
- কথোপকথন নয় বছর পর উৎসব করছি
- আব্বাস উদ্দিনের গান
- নজরুলের গানের ভাণ্ডারী এবং কান্ডারি by মনজুর জিয়া
- আজকের ছবি
- abc আজকের আয়োজন
- পানির জন্য শিল্পকর্ম
- সালমানের নতুন ছবি
- সবচেয়ে কেতাদুরস্ত ড্যানিয়েল ক্রেইগ
- গোপনে বিয়ে করলেন কেট উইন্সলেট
- ক্যাটরিনার মুখের ওপরে দরজা বন্ধ করলেন সালমান!
- কক্সবাজারে তিন নাটক নিয়ে ঢাকা থিয়েটার
- নাম পরিবর্তন করে সেন্সরে ‘৬৯ by পাতলা খান লেন’
- দাবাং টু এর বাজিমাত by নাজমুল আহমেদ তন্ময়
- খবর পাঠক সাঈদুল হাসান
- নির্মিত হলো নাটক ‘সব চরিত্র কাল্পনিক নয়’
- একজন ড্যানিয়েল ক্রেগ by ইমরান হোসেন
- ঢাকায় ফিরছেন তারিন
- তুষ্টির পথচলা
- সম্পাদক সমীপে- স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য
- রেলে ছিনতাইকারী
- ই-টেন্ডারিং
- আমেরিকাসহ পশ্চিমা বিশ্বকে জামায়াত যা বোঝাতে চায় সে...
- সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক- জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি
- আমার দল আওয়ামী লীগ- সুভাষ সিংহ রায়
- যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে-বিপক্ষে দলের রাজনীতি ...
- জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফল আজ প্রকাশ
- বনানী রেলক্রসিং ওভারপাস আজ উদ্বোধন
- নবীনগরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ব্যাপক সংঘর্ষ, হত ২ আ...
- দুই নেত্রীর ওপর ভরসা করে লাভ নেই ॥ by এবিএম মূসা
- আত্মহত্যা করলে দাফন না করার ফতোয়া চলছে বছরের পর বছ...
- খালেদার মাথা নষ্ট হয়ে গেছে, উল্টাপাল্টা বকছেন ॥ সা...
- স্কাইপে সংলাপ হ্যাকিং, রি-ট্রায়ালের আবেদন পরিকল্পি...
- ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে, নীল আকাশ আর সবুজের হাতছানি- ন...
- জেনারেল জানজুয়ার হেফাজতেই ছিলেন খালেদা ॥ স্বরাষ্ট্...
- রিজভীর চমক সৃষ্টির নাটক by শংকর কুমার দে
- যানজটে স্থবির রাজধানী
- খালেদার গাড়ির চারপাশে স্লোগান ছিল ‘ট্রাইব্যুনাল ঘে...
- ট্রাইব্যুনাল স্বাধীন, বিচার বিলম্বিত হওয়ার কারণ নে...
- পদ্মা সেতু ॥ দুই আসামি গ্রেফতার, কোর্টে আজ রিমান্ড...
- স্বাধীনতাবিরোধীদের সম্পর্কে সজাগ থাকুন- সশস্ত্রবাহ...
- কোর্টের তত্ত্বাবধায়ক বাতিল প্রসঙ্গে খালেদা ॥ টাকার...
- এএফপির বিশ্লেষণ- কূটনীতির পরীক্ষায় সফল হবেন শিনজো...
- দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে তদন্ত কমিশন গঠন
- দীর্ঘতম পথে দ্রুতগামী ট্রেন
- মানুষ খুন তাঁর পছন্দের কাজ!
- মাদারীপুর- মুক্তিযোদ্ধা সঞ্চৃতিফলকের কাজ ঝুলে আছে ...
- রূপসার শাঁখাশিল্পপল্লি বন্ধ হওয়ার পথে by কাজী আব...
- দেশের মানচিত্রের বিকৃত উপস্থাপন
- রাজশাহীতে আগেভাগেই কোটি টাকার বালাইনাশক-বাণিজ্য by...
- বদলের নায়কদের সম্মাননা জানাবে বিকাশ ও প্রথম আলো
- সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রাজশাহীতে, শীতে বেড়েছে রোগব্যাধি
- স্বাধীনতাবিরোধীদের ব্যাপারে সজাগ থাকুন: প্রধানমন্ত্রী
- বিলেতের স্ন্যাপশট- বিলেতের আদমসুরত by শামীম আজাদ
- রাজনীতি তাহলে কার জন্য?- জনদুর্ভোগ
- অপরাধ- বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি আর কত দিন? by আলী...
- গোলটেবিল বৈঠক- প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা উপবৃত্তি...
- আজ-কাল-পরশু- পাদপ্রদীপের আলোয় উচ্চাঙ্গসংগীত by ম...
- সম্মেলন- আওয়ামী লীগের কাছে দেশের মানুষের প্রত্যাশা...
- চারদিক- যুদ্ধ আবার শীতের সঙ্গে... by রাকিব কিশোর
- মুক্তিযোদ্ধার বাঁচার লড়াই -দেশমাতৃকার জন্য যাঁরা য...
- ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-উপাচার্যকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্...
- ছোটদের চার পরীক্ষার ফল প্রকাশ আজ
- প্রাক-জাহাজীকরণ মূল্যায়ন-৩০০০ কোটি টাকা গেছে চার ব...
- ক্যাডেটদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী-মুক্তিযুদ্ধের চেতনা...
- সোনালী ব্যাংকের ৬৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ-না.গঞ্জে দুদক...
- মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার-বাচ্চু রাজাকার : রায় যে...
- মোশাররফ ও ফেরদৌস গ্রেপ্তার-ওপরের নির্দেশেই সব হয়ে...
- রাজধানীর পাঁচ স্থানে খালেদা জিয়ার পথসভা-নির্দলীয় স...
- অর্থনৈতিক সংকট-বড়দিনের ছুটি বাতিল করে ওয়াশিংটনে ওবামা
- আফগানিস্তানে সেনাঘাঁটির সামনে গাড়িবোমা হামলা
- দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ড্রোন বেচবে যুক্তরাষ্ট্র
- নাইজেরিয়ায় গির্জায় হামলা, নিহত ৬
- লাদেনও ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছিলেন
- ভারতের রাষ্ট্রপতির এক ঘণ্টার সফরে ব্যয় দুই কোটি রুপি!
- উইলিয়ামের প্রিয় কাজ ছিল মানুষ হত্যা!
- বিশ্ব মন্দার কারণেই এই 'রদবদল'-জাতিসংঘে অনুদান বাড়...
- চট্টগ্রাম-১২ উপনির্বাচন- জাবেদের মোকাবিলায় উজ্জ্বল...
- ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ- অসচেতনতা ম্লান করে দিত...
- কক্সবাজারে থার্টিফার্স্ট নাইট- খালি নেই হোটেল-মোটে...
- বোয়ালখালী বিএনপিতে তিন উপদল- হামলা-মামলার ঘটনায় হত...
- চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন- রুটিন কাজেই ব্যয় ৫০ কোটি ...
- শিনজো আবে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত-জাপানে নতুন মন্ত...
- সরকার চাইলে রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করবেন সু চি
- আফ্রিকার ৩৫ দেশে সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-পাঠানো...
- এসওএইচআরের দাবি-সিরিয়ায় মৃতের সংখ্যা ৪৫ হাজার ছাড়ি...
- ভারতে পাঁচ মহানগরীতে সমীক্ষা-কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ...
- কালাশনিকভ হাসপাতালে
- 'ম্যান্ডেলা আগের চেয়ে সুস্থ আছেন'
- রাজনীতির ময়দানে বিলাওয়ালের 'অভিষেক' আজ
-
▼
Dec 27
(187)
-
▼
December
(2623)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
স্বাস্থ্য
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
জীবনযাপন
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
ইয়েমেন
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
Exclusive
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
জনস্বাস্থ্য
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
জোহরান মামদানি
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
ইহুদি
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment