Thursday, October 14, 2010
গল্প- 'একে আমরা কাকতালীয় বলতে পারি' by মঈনুল আহসান সাবের
গল্প- 'একে আমরা কাকতালীয় বলতে পারি' by মঈনুল আহসান সাবের
নূরালী গ্রামের বেশ কয়েকজন আমার পরিচিত। এর কারণ, আত্মীয়তাসূত্রে বছরের দুই ঈদের যেকোনো একটি আমাকে এই গ্রামে পালন করতে হয়। আমাকে মানে আমাকে, আমার স্ত্রীকে এবং আমাদের দুই সন্তানকে। ওরা যদিও অন্যত্র তেমন একটা যেতে চায় না, নূরালী আসার ব্যাপারে তাদের কোনো আপত্তি নেই; বরং বলা যেতে পারে, বেশ একটু উৎসাহই দেখায় তারা। এর প্রধান কারণ, আমার ধারণা, তাদের যা ইচ্ছা তা করার অবাধ স্বাধীনতা। দ্বিতীয় কারণটি এ রকম–শহরের রোজকার জীবনে দেখে ও ব্যবহার করে অভ্যস্ত না, এ রকম বেশ কিছু ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ততা লাভ করা। বলে রাখা দরকার, এ দেশের অনেক গ্রামেরই বাইরের চেহারাটা এখন আর গ্রামের মতো না। বিশেষ করে শহরঘেঁষা গ্রাম যেসব, সেসব গ্রাম বাইরে-বাইরে অনেকটাই বদলে গেছে। টেলিভিশন কিংবা ফ্রিজ–এসব অনেক পুরনো ব্যাপার। ডিশের লাইনও পুরনো হতে চলল; এসবের বাইরে গ্রামের অবস্থাপন্নরা এমন কিছু জিনিস ব্যবহার করে, যা অবাক, আর সত্যি কথা বলতে কী, একটু ঈর্ষাকাতরও করে তোলে। তবে আমার ঈর্ষাটা তারা বুঝতে পারে না, আমরা গাড়ি নিয়ে শহর থেকে যাই, আমাদের পকেটে তেমন পয়সা না থাকলে পরনে ঝলমলে পোশাক থাকে, আমাদের দুই সন্তান ফুটফাট কথা বলে, তার অধিকাংশই ইংরেজিতে, আবার কথা বলার বদলে তারা মাঝেমধ্যেই উপেক্ষা ও অবজ্ঞার দৃষ্টিতে এদিক-ওদিক তাকায়–এতসব কিছু মিলিয়ে গ্রামের যারা যথেষ্ট অবস্থাপন্ন, তারা আমাকে বেশ ধনী লোক ভেবেই বসে আছে। আর এ তো জানা কথাই, ধনী লোকের প্রতি একধরনের আসক্তি প্রায় সবারই থাকে।
এই যে এতসব কথা বলা, তার কিছুটা প্রাসঙ্গিক, কিছুটা অপ্রাসঙ্গিক। যেটুকু প্রাসঙ্গিক, সেটুকুর কথা বলি। যদিও গ্রামের বাইরের চেহারা অনেকটাই বদলে গেছে, নাগরিক বিলাসিতার অনেক কিছুই সহজলভ্য এবং বহু ঘরে তা উপস্থিত। আমরা যে বাড়িতে উঠি, সে বাড়িটাও কম-বেশি এ অবস্থার বাইরে নয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে, ব্যবস্থা ও জীবনযাপন পদ্ধতির সঙ্গে আমার দুই সন্তান অভ্যস্ত না, তার কিছুই এ বাড়িতে বা গ্রামের অন্য কোনো বাড়িতে অবশিষ্ট নেই। প্রচুর গাছপালা আছে, ফসলের ক্ষেত আছে, ছোট হলেও একটা নদী আছে, হরেক রকম পাখি আছে, বাড়িতে চাপকল আছে, আর একটা পুকুরও, এবং এ রকম আরও অনেক কিছুই। ওসব আমাদের দুই সন্তানকে টানে। ফলে এখানে আসার ব্যাপারে তাদের আগ্রহ যথেষ্ট, আর তাদের আগ্রহ ছাপিয়ে যায় আমার স্ত্রীর আগ্রহ। উৎসাহের পরিমাণ যদি দাঁড়িপাল্লায় তুলতে হয়, তবে আমার দিকেরটাই উঁচুতে উঠে যাবে। এ কথা ঠিক না যে আমি এখনকার জীবন পছন্দ করি না। এ কথাও ঠিক না, যে আত্মীয়ের বাড়িতে আমি উঠি, সেখানে আমাকে অবজ্ঞার চোখে দেখা হয়; বরং শহরের আপাত উজ্জ্বল জীবনের বাইরে, এখানে সবুজের কিছু ছোঁয়া নিয়ে দেখে কয়েকটা দিন পার করে দেওয়া এক আনন্দেরই ব্যাপার। কোনো দায়িত্ব পালনের ব্যাপার নেই, কোনো মানসিক চাপ নেই, হাত-পা ছড়িয়ে কয়েকটা দিন পার করে দাও। এ বাড়িতে মাচা আছে, এ গাছ থেকে ও গাছে বাঁধা ঝোলানো দোলনা আছে। আমার কিছু বই পড়ার অভ্যাস, মাচায় বা দোলনায় শুয়ে-বসে বই পড়ার ব্যাপারটা যে চমৎকার, স্বীকার করতেই হবে। বাড়িতে আমার সম্মানও যথেষ্ট, ফুট-ফরমাস খাটার লোক দাঁড়িয়েই থাকে। যদি লুঙ্গি মালকোঁচা মেরে বসে বা শুয়ে বলি ‘আই, তেল মাখিয়ে শরীরটা খুব করে দাবিয়ে দে তো,’ তাও চলবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। বাড়ির রান্নাও চমৎকার। যদিও খাবারের প্রতি আমার আসক্তি কম, তরকারিতে তেল-নুন বা জিরা-হলুদের কিছু একটা কম-বেশি হলে আমার তেমন কিছু আসে যায় না, তবে এ কথাও আবার ঠিক–মাঝেমধ্যে স্বাদ বদলানো ভালো। আমার ধারণা, আমার স্ত্রী আমার এ কথায় কোনোই আপত্তি তুলবেন না।
এতসব সুযোগ-সুবিধার পরও আমার যে অনাগ্রহ, তার পরিমাণ সামান্য। তবে সামান্য হলেও তার কিছু ওজন আছে। এ বাড়িতে এসে হীনম্মন্যতায় ভুগি। এই হীনম্মন্যতা আমার অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে সূচিত। দুই ঈদের যে ঈদেই আমরা আসি না কেন, মূলত কোরবানির ঈদেই বেশি আসা হয়, দেখা যায়, যে আত্মীয়তার সূত্র ধরে আমি এ বাসায় আসি, সেই সূত্র ধরে আরও অন্তত দুজন সে ঈদে এ বাড়িতে এসে পড়ে। তারা কী করে, অর্থাৎ কী চাকরি বা কী ব্যবসা, সে সম্পর্কে আমার ধারণা আছে, তবে তাদের উপচানো অর্থের উৎস সম্পর্কে আমার পরিষ্কার ধারণা নেই। আমি আলাভোলা বা নিরাসক্ত দার্শনিক টাইপ মানুষ না এবং এ বাড়িতে তারা যখন দেদার খরচ করে, আর আমি যখন তা পারি না, কষ্ট করে সামান্য কিছু করি মাত্র, নিজেকে আমার ছোট মনে হয়। আমি আমার স্ত্রীকে দেখেও বুঝি, তিনিও একধরনের অস্বস্তিতে ভুগছেন। এই দৃশ্য আমাকে বিচলিত করে। আমি, আমার স্ত্রীও, আমরা কেউই কাউকে বোঝাতে পারি না, আমরা যদিও একটি গাড়ির মালিক, ভালো অঙ্কের টাকাই আমরা বাড়িভাড়া দিই, ইংলিশ মিডিয়ামে পড়া আমার দুই সন্তানের পেছনে খরচও কম নয়, তা ছাড়া আমরা বেশ গোছানো ও টিপটপ থাকি; আমাদের আর্থিক ব্যবস্থা ভেতরে-ভেতরে ভালো নয়, বরং বাইরের চিত্রটি যতটা উজ্জ্বল, ভেতরের চিত্রটি সেই, কিংবা আরও কিছুটা বেশি পরিমাণেই বর্ণহীন। এটা কাউকে বোঝানো বা বিশ্বাস করানো যায় না বলে অস্বস্তি যেমন বাড়ে, বিব্রত হওয়ার ঘটনাও কম ঘটে না। একটা উদাহরণ দিলে ব্যাপারটা নিশ্চয় অনেক স্পষ্ট ও পরিষ্কার হবে। ধরা যাক, ঈদের দিন সকালে নামাজ পড়তে গেছি আমরা। নামাজ শেষে খুতবা পাঠ চলছে আর মসজিদ উন্নয়ন সংস্থার পক্ষ থেকে টিনের কৌটায় বা গামছায় উপস্থিতজনের কাছ থেকে কাতার ধরে দান তোলা হচ্ছে। দুই টাকাও দিচ্ছে অনেকে, হয়তো পাঁচ-দশ টাকা দেনেওয়ালার সংখ্যাই বেশি, বেশি দিয়ে বেশি সওয়াব হাসিলের সুযোগ কে-ই বা ছাড়তে চায়। তা, আমাদের কাতারে যখন আসে টিনের কৌটা বা গামছা, আমাদের সামনে, আমি একশ’ টাকার বেশি ম্যানেজ করতে পারি না, আর বিবাহসূত্রে আমার দুই আত্মীয় পাঁচশ’ টাকার নিচে নিজেদের নামায় না। একজনকে আমি একবার এক হাজার টাকাও দিতে দেখেছিলাম। তাদের এই প্রাচুর্য এবং মহানুভবতার কথা উপস্থিত আর প্রায় সবার জানা আছে বলে সবারই নজর থাকে, এদিকে। পাঁচশ’ টাকার বদৌলতে তারা তখনই নায়ক বনে যায়, আর একশ’ টাকার আমি নিজেকে একটু গুটিয়ে রাখি। আমি জানি, এ রকম বলাবলি হয় যে সোবাহান সাহেবের এই জামাইয়ের হাত মোটেও খোলা না। মসজিদেও যেমন, তেমনি গ্রামের দরিদ্র লোকদের মধ্যে দান-খয়রাতের ব্যাপারে যথেষ্ট কৃপণ-প্রকৃতির। এসব কথা কানে এলে আমার হীনম্মন্যতা বাড়ে, আমি সেই হীনম্মন্যতা ভুলে থাকার জন্য নিজেকে গুটিয়ে রাখি। মাচা বা দোলনায় শুয়ে-বসে বই পড়ে আমার সময় কাটে, সন্তানদের সঙ্গেও বেশ কিছুটা সময় কেটে যায়। এলাকার অধিকাংশ মানুষের সঙ্গেও, যাদিও বছরে অন্তত একবার দিন কয়েকের জন্য আসা হয়, আমার তেমন সখ্য নেই। অচেনা মানুষের সঙ্গে মিশতে আমি তেমন স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না। তবে শহর থেকে যাওয়া আমার অন্য আত্মীয়রা এই কাজে বেশ পটু। ‘হে হে’ করে তারা সবার সঙ্গে মিশে যায়। ফলে গ্রামজুড়ে তাদের পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা ব্যাপক ও বিশাল। আমার এটা নেই, এটা যে আমার নেই, স্বভাবমতো এ নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথাও থাকার কথা নয়। হীনম্মন্যতার কথা অবশ্য আলাদা, ওটা আছে চুপচাপ। তবে চুপচাপ থাকলে, ইদানীং আমার ধারণা, নিশ্চুপ নিঃশব্দ হীনম্মন্যতার এক ক্ষতিকর ক্ষমতা আছে। সে মানুষের ভেতর প্রতিশোধপ্রবণতা বা স্পৃহা তৈরি করে। আমি টের পাই, সম্প্রতি এটা আমার ভেতর তৈরি হয়েছে। আমি হয়তো দোলনায় শুয়ে স্বচ্ছ নীল আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি, আমার ভেতর কাজ করছে বৈবাহিক সূত্রে আমার আত্মীয় এবং এই গ্রামের বেশ কয়েকজনকে দেখে নেওয়ার প্রবণতা। কিন্তু কী সামর্থ্য আমার, আর কী-ই বা আমি প্রতিশোধ নেব! কেনই বা নেব–এটা অবশ্য আমার মনে হয় না।
২.
এই প্রতিশোধস্পৃহা আমার ভেতর ঘুরপাক খেতে খেতে যখন থিতু ও পোক্ত হয়, তখন আমার মনে হয়, একটা গল্প আমাকে বানাতে হবে। গল্প তৈরি করা ছাড়া আমার পক্ষে লক্ষ্যপূরণ সম্ভব হবে না। গল্প তৈরির কথা ভাবতে গিয়ে আমার মনে হল, গল্পের জন্য চাই চরিত্র। এই বা এসব চরিত্র, বাস্তবের হতে পারে, কাল্পনিকও হতে পারে। আরও একটু ভেবে আমি দেখলাম, কিছু কাল্পনিক বা অনুমান করে নেয়া, আরও সহজ করে বললে–কিছু ধরে নেওয়া ব্যাপার ছাড়া গল্প হয় না।
এখানে একটা ব্যাপার পরিষ্কার করে নেওয়া দরকার। এই একটু আগে পর্যন্ত আমি যা বলে এসেছি, সেখানে অতিরঞ্জন বা কল্পনার কোনো মিশেল নেই। যে চরিত্রগুলোর কথা বলা হয়েছে, তারা সশরীরে বিদ্যমান। তাদের যে আচরণ এবং আনুসঙ্গিক অন্য বিষয়ে যা বলা হয়েছে, তা আমার জানা ও দেখামতে সত্য। এখন এই জানা ও দেখা চরিত্রগুলো নিয়ে কী গল্প বানাব আমি? এরা আমার এত কাছের, গল্প বানাতে হলে যেটুকু দূরে না গেলেই নয়, সেটুকু দূরেও আমার পক্ষে এদের কাছে থেকে যাওয়া কঠিন। একটা চেষ্টা, আমার মনে হল, একটু আগে যে রকম বলেছি আমি, নতুন চরিত্র, কাল্পনিক বা বাস্তব, আমার তৈরি করতে হবে। আর আমার ধরে নিতে হবে, এই কাজগুলো নতুন চরিত্রগুলো করছে।
এ রকম একটা সিদ্ধান্তে স্থির হওয়ার পর আমার মনে হল–এটাই ভালো হয়, নতুন যে চরিত্রগুলো আসবে, তারা হবে বাস্তব ও কল্পনার মিশেলে তৈরি। যেমন, নমুনা হিসেবে বাদশা মিয়ার কথা আমি উল্লেখ করতে পারি। বাদশা মিয়া স্থানীয় লোক, তাকে আমি চিনি, দেখা হলে সালাম বিনিময় ছাড়াও কিছু কথা তার সঙ্গে আমার হয়। প্রতিবারই যখন দেখা ও কথা হয় তার সঙ্গে, সে তার নতুন উদ্যোগের কথা আমাকে জানায়। নানা ধরনের উদ্যোগে সে সম্প্রতি, এই বছর ছয়-সাত হলো, আমি যত দূর শুনেছি, সে বিস্তর অর্থের মালিক হয়েছে। অর্থপ্রবাহ অবিরাম থাকার বেশকিছু ব্যবস্থা সে করে ফেলেছে, ফলে ওদিকে তাকে আর তেমন নজর দিতে হয় না। তার এখনকার উদ্যোগগুলো হচ্ছে গ্রামবাসীর মঙ্গলের জন্য। এটা অবশ্য আমার কথা নয়, সে, বাদশা মিয়া নিজেই এ রকম বলে আমি শুনেছি–‘হামিই যদি কিছু না করি, আর কে আছে এই গ্রামত…।’
এতসব সুযোগ-সুবিধার পরও আমার যে অনাগ্রহ, তার পরিমাণ সামান্য। তবে সামান্য হলেও তার কিছু ওজন আছে। এ বাড়িতে এসে হীনম্মন্যতায় ভুগি। এই হীনম্মন্যতা আমার অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে সূচিত। দুই ঈদের যে ঈদেই আমরা আসি না কেন, মূলত কোরবানির ঈদেই বেশি আসা হয়, দেখা যায়, যে আত্মীয়তার সূত্র ধরে আমি এ বাসায় আসি, সেই সূত্র ধরে আরও অন্তত দুজন সে ঈদে এ বাড়িতে এসে পড়ে। তারা কী করে, অর্থাৎ কী চাকরি বা কী ব্যবসা, সে সম্পর্কে আমার ধারণা আছে, তবে তাদের উপচানো অর্থের উৎস সম্পর্কে আমার পরিষ্কার ধারণা নেই। আমি আলাভোলা বা নিরাসক্ত দার্শনিক টাইপ মানুষ না এবং এ বাড়িতে তারা যখন দেদার খরচ করে, আর আমি যখন তা পারি না, কষ্ট করে সামান্য কিছু করি মাত্র, নিজেকে আমার ছোট মনে হয়। আমি আমার স্ত্রীকে দেখেও বুঝি, তিনিও একধরনের অস্বস্তিতে ভুগছেন। এই দৃশ্য আমাকে বিচলিত করে। আমি, আমার স্ত্রীও, আমরা কেউই কাউকে বোঝাতে পারি না, আমরা যদিও একটি গাড়ির মালিক, ভালো অঙ্কের টাকাই আমরা বাড়িভাড়া দিই, ইংলিশ মিডিয়ামে পড়া আমার দুই সন্তানের পেছনে খরচও কম নয়, তা ছাড়া আমরা বেশ গোছানো ও টিপটপ থাকি; আমাদের আর্থিক ব্যবস্থা ভেতরে-ভেতরে ভালো নয়, বরং বাইরের চিত্রটি যতটা উজ্জ্বল, ভেতরের চিত্রটি সেই, কিংবা আরও কিছুটা বেশি পরিমাণেই বর্ণহীন। এটা কাউকে বোঝানো বা বিশ্বাস করানো যায় না বলে অস্বস্তি যেমন বাড়ে, বিব্রত হওয়ার ঘটনাও কম ঘটে না। একটা উদাহরণ দিলে ব্যাপারটা নিশ্চয় অনেক স্পষ্ট ও পরিষ্কার হবে। ধরা যাক, ঈদের দিন সকালে নামাজ পড়তে গেছি আমরা। নামাজ শেষে খুতবা পাঠ চলছে আর মসজিদ উন্নয়ন সংস্থার পক্ষ থেকে টিনের কৌটায় বা গামছায় উপস্থিতজনের কাছ থেকে কাতার ধরে দান তোলা হচ্ছে। দুই টাকাও দিচ্ছে অনেকে, হয়তো পাঁচ-দশ টাকা দেনেওয়ালার সংখ্যাই বেশি, বেশি দিয়ে বেশি সওয়াব হাসিলের সুযোগ কে-ই বা ছাড়তে চায়। তা, আমাদের কাতারে যখন আসে টিনের কৌটা বা গামছা, আমাদের সামনে, আমি একশ’ টাকার বেশি ম্যানেজ করতে পারি না, আর বিবাহসূত্রে আমার দুই আত্মীয় পাঁচশ’ টাকার নিচে নিজেদের নামায় না। একজনকে আমি একবার এক হাজার টাকাও দিতে দেখেছিলাম। তাদের এই প্রাচুর্য এবং মহানুভবতার কথা উপস্থিত আর প্রায় সবার জানা আছে বলে সবারই নজর থাকে, এদিকে। পাঁচশ’ টাকার বদৌলতে তারা তখনই নায়ক বনে যায়, আর একশ’ টাকার আমি নিজেকে একটু গুটিয়ে রাখি। আমি জানি, এ রকম বলাবলি হয় যে সোবাহান সাহেবের এই জামাইয়ের হাত মোটেও খোলা না। মসজিদেও যেমন, তেমনি গ্রামের দরিদ্র লোকদের মধ্যে দান-খয়রাতের ব্যাপারে যথেষ্ট কৃপণ-প্রকৃতির। এসব কথা কানে এলে আমার হীনম্মন্যতা বাড়ে, আমি সেই হীনম্মন্যতা ভুলে থাকার জন্য নিজেকে গুটিয়ে রাখি। মাচা বা দোলনায় শুয়ে-বসে বই পড়ে আমার সময় কাটে, সন্তানদের সঙ্গেও বেশ কিছুটা সময় কেটে যায়। এলাকার অধিকাংশ মানুষের সঙ্গেও, যাদিও বছরে অন্তত একবার দিন কয়েকের জন্য আসা হয়, আমার তেমন সখ্য নেই। অচেনা মানুষের সঙ্গে মিশতে আমি তেমন স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না। তবে শহর থেকে যাওয়া আমার অন্য আত্মীয়রা এই কাজে বেশ পটু। ‘হে হে’ করে তারা সবার সঙ্গে মিশে যায়। ফলে গ্রামজুড়ে তাদের পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা ব্যাপক ও বিশাল। আমার এটা নেই, এটা যে আমার নেই, স্বভাবমতো এ নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথাও থাকার কথা নয়। হীনম্মন্যতার কথা অবশ্য আলাদা, ওটা আছে চুপচাপ। তবে চুপচাপ থাকলে, ইদানীং আমার ধারণা, নিশ্চুপ নিঃশব্দ হীনম্মন্যতার এক ক্ষতিকর ক্ষমতা আছে। সে মানুষের ভেতর প্রতিশোধপ্রবণতা বা স্পৃহা তৈরি করে। আমি টের পাই, সম্প্রতি এটা আমার ভেতর তৈরি হয়েছে। আমি হয়তো দোলনায় শুয়ে স্বচ্ছ নীল আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি, আমার ভেতর কাজ করছে বৈবাহিক সূত্রে আমার আত্মীয় এবং এই গ্রামের বেশ কয়েকজনকে দেখে নেওয়ার প্রবণতা। কিন্তু কী সামর্থ্য আমার, আর কী-ই বা আমি প্রতিশোধ নেব! কেনই বা নেব–এটা অবশ্য আমার মনে হয় না।
২.
এই প্রতিশোধস্পৃহা আমার ভেতর ঘুরপাক খেতে খেতে যখন থিতু ও পোক্ত হয়, তখন আমার মনে হয়, একটা গল্প আমাকে বানাতে হবে। গল্প তৈরি করা ছাড়া আমার পক্ষে লক্ষ্যপূরণ সম্ভব হবে না। গল্প তৈরির কথা ভাবতে গিয়ে আমার মনে হল, গল্পের জন্য চাই চরিত্র। এই বা এসব চরিত্র, বাস্তবের হতে পারে, কাল্পনিকও হতে পারে। আরও একটু ভেবে আমি দেখলাম, কিছু কাল্পনিক বা অনুমান করে নেয়া, আরও সহজ করে বললে–কিছু ধরে নেওয়া ব্যাপার ছাড়া গল্প হয় না।
এখানে একটা ব্যাপার পরিষ্কার করে নেওয়া দরকার। এই একটু আগে পর্যন্ত আমি যা বলে এসেছি, সেখানে অতিরঞ্জন বা কল্পনার কোনো মিশেল নেই। যে চরিত্রগুলোর কথা বলা হয়েছে, তারা সশরীরে বিদ্যমান। তাদের যে আচরণ এবং আনুসঙ্গিক অন্য বিষয়ে যা বলা হয়েছে, তা আমার জানা ও দেখামতে সত্য। এখন এই জানা ও দেখা চরিত্রগুলো নিয়ে কী গল্প বানাব আমি? এরা আমার এত কাছের, গল্প বানাতে হলে যেটুকু দূরে না গেলেই নয়, সেটুকু দূরেও আমার পক্ষে এদের কাছে থেকে যাওয়া কঠিন। একটা চেষ্টা, আমার মনে হল, একটু আগে যে রকম বলেছি আমি, নতুন চরিত্র, কাল্পনিক বা বাস্তব, আমার তৈরি করতে হবে। আর আমার ধরে নিতে হবে, এই কাজগুলো নতুন চরিত্রগুলো করছে।
এ রকম একটা সিদ্ধান্তে স্থির হওয়ার পর আমার মনে হল–এটাই ভালো হয়, নতুন যে চরিত্রগুলো আসবে, তারা হবে বাস্তব ও কল্পনার মিশেলে তৈরি। যেমন, নমুনা হিসেবে বাদশা মিয়ার কথা আমি উল্লেখ করতে পারি। বাদশা মিয়া স্থানীয় লোক, তাকে আমি চিনি, দেখা হলে সালাম বিনিময় ছাড়াও কিছু কথা তার সঙ্গে আমার হয়। প্রতিবারই যখন দেখা ও কথা হয় তার সঙ্গে, সে তার নতুন উদ্যোগের কথা আমাকে জানায়। নানা ধরনের উদ্যোগে সে সম্প্রতি, এই বছর ছয়-সাত হলো, আমি যত দূর শুনেছি, সে বিস্তর অর্থের মালিক হয়েছে। অর্থপ্রবাহ অবিরাম থাকার বেশকিছু ব্যবস্থা সে করে ফেলেছে, ফলে ওদিকে তাকে আর তেমন নজর দিতে হয় না। তার এখনকার উদ্যোগগুলো হচ্ছে গ্রামবাসীর মঙ্গলের জন্য। এটা অবশ্য আমার কথা নয়, সে, বাদশা মিয়া নিজেই এ রকম বলে আমি শুনেছি–‘হামিই যদি কিছু না করি, আর কে আছে এই গ্রামত…।’
শুধু বাদশা মিয়াকে দিয়ে হবে না। গল্প এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে একজন শক্ত প্রতিপক্ষ দরকার। এই প্রতিপক্ষের গল্পে দ্বন্দ্ব তৈরি হবে, তখন গল্পের পথটি সহজ হবে। তা, এই প্রতিপক্ষ তৈরির ব্যাপারে আমরা আবদুস সামাদের কথা ভেবে দেখতে পারি। আবদুস সামাদও এই এলাকার মানুষ। বাদশা মিয়ার সঙ্গে তার মিল আছে, তারা দু’জনই প্রায় সমান-সমান অবস্থাপন্ন, আর অমিলের দিকটা এ রকম–বাদশা মিয়া নব্য ধনীলোক, আবদুস সালাম তিন পুরুষ ধরে ধনী। তাদের দু’জনের মধ্যে মিল থাকলেও থাকতে পারত। কিন্তু বাদশা মিয়া যেমন বলে, সে না থাকলে এই গ্রামে আর কে কী (ভালো কাজ) করবে, তেমন আবদুস সামাদও বলে, ‘আরে জোলার ব্যাটা, এটিউটি দু’পয়সা কামাসে, এখন ফাল পাড়ার জায়গা খুঁজিচ্ছে।’ শুধু যে ধনী আর গরিবে দ্বন্দ্ব থাকে তা তো নয়, দ্বন্দ্ব ধনী আর ধনীতেও থাকে, সে দ্বন্দ্ব কখনো খুবই আক্রমণাত্মক (কখনো আত্মঘাতীও বৈকি), এই যেমন বাদশা মিয়া ও আবদুস সামাদের দ্বন্দ্ব। তারা দু’জন দু’জনকে দেখে নেওয়ার সামান্য সুযোগও হাতছাড়া করতে রাজি না।
পরে যেন কোনো প্রশ্ন না ওঠে, একবার বলেছি যদিও, আরও একবার বলে রাখি–এই যে দুই চরিত্র বাদশা মিয়া ও আবদুস সামাদ, এরা আমার কাছে আধা বাস্তব আধা কাল্পনিক। শরীরগতভাবে এরা বাস্তব, দু’জনই ধনী এটাও বাস্তব, আমার সঙ্গে দু’জনেরই পরিচয়–এটা বাস্তব, তবে পরিচয় এত ঘনিষ্ঠ নয় যে, এদের সবকিছু আমার জানা। এই না-জানা ব্যাপারগুলো আমি আমার মতো করে ধরে নেব। সেটা যে পুরোপুরি কাল্পনিক হবে, তা আমি বলব না। কারণ, ঘনিষ্ঠতা না থাকলেও, কাউকে দেখতে দেখতে এবং তার সম্পর্কে শুনতে শুনতে ধারণা জন্মায়। আর সে ধারণা থেকে অনুমান ধরেই নেওয়া যায়।
আচ্ছা, এতসব ফিরিস্তিতে না গিয়ে, আমরা ধরেই নিই না কেন, এ দু’জনের ভেতর মসজিদ কমিটির কর্তৃত্ব নিয়ে যথেষ্ট লড়াই আছে। ধরা যাক, এখন মসজিদ কমিটির প্রধান রহিম শেখ। তারা এ গ্রামের পুরনো পরিবারগুলোর একটি। গ্রামের লোক স্বপ্রণোদিত হয়ে তাঁকে মসজিদ কমিটির প্রধান বানিয়েছিল। তবে স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি গত দুই-তিন বছর হলো এই দায়িত্ব পালন থেকে অব্যাহতি চাচ্ছেন। মসজিদ কমিটির প্রধানকে শুধু দুই ঈদে দায়িত্ব পালন করতে হয় তা নয়, বছর জুড়েই তাঁর কিছু না কিছু কাজ থাকে, আশি ছুঁই ছুঁই রহিম শেখের জন্য তার ভার অনেক। বারবার তিনি তা-ই বলছেন– নতুন লোক নেওয়া হোক, নতুন লোক নেওয়া হোক।
এ আমরা বুঝতেই পারছি, নতুন লোক আর কে হবে– বাদশা মিয়া বা আবদুস সামাদ ছাড়া। আমরা গ্রাম থেকেই উঠে আসা, আর যদি তা না-ও হই, এ আমাদের জানা আছে, গ্রামে মসজিদ উন্নয়ন কমিটির প্রধান হওয়া অনেক সম্মানের ব্যাপার। সম্মানপ্রাপ্তির পাশাপাশি ওই ব্যক্তি বেশ কিছু কাজ করার সুযোগও পায়, লোকজন তাতে খুশি হয়। এমন আকর্ষণীয় পদের জন্য বাদশা মিয়া আর আবদুস সামাদ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামবে না, তা হয় না। আমরা দেখব, গত ঈদের নামাজ শেষে রহিম শেখ যখন চুড়ান্ত করে জানান, তিনি কোনোমতেই আর পারবেন না, নতুন কমিটি করতেই হবে, গ্রামবাসী তা মেনে নিতে বাধ্য হয় এবং তখন থেকে আবদুস সামাদ ও বাদশা মিয়া নতুন কমিটি গঠনের জন্য উদ্যোগী হয়ে ওঠে।
দেখা যাবে গ্রামটি দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। এই বিভাজন কোনো নির্দিষ্ট চরিত্র অবশ্য ধারণ করবে না। যেমন গ্রামের যারা বয়স্কজন আছে, বহুদিনের ধনীলোক বলে তারা সবাই আবদুস সামাদের পাশে দাঁড়াবে, এমন না। আবার এমনও না, গ্রামের যারা অল্পবয়সী, যাদের অনেক সময়ই স্থানীয় ভাষায় ‘চ্যাংড়া পোলাপান’ বলা হয়, তারা নব্য ধনী বাদশা মিয়ার অন্ধ সমর্থক বনে গেছে। দুই পক্ষই যে যার মতো করে প্রচারণা চালিয়ে যাবে, তারা ঘরে-ঘরে, জনে-জনেও যাবে তাদের প্রতি সমর্থন আদায়ের জন্য। তবে কোনোরকম নির্বাচনে আমরা যাব না। দুই পক্ষ নিজ নিজ কমিটি গঠন করবে, একটা দিন ঠিক করা হবে, সেদিন গ্রামের প্রাপ্তবয়স্ক লোকজন গিয়ে দুই কমিটির এক কমিটির পক্ষে ভোট দেবেনা, ব্যবস্থা এ রকম না। একটা কথা আছে এ রকমসিলেকশনেই যদি কাজ হয়, তবে ইলেকশনের কী দরকার! হ্যাঁ, আমরা যাব সিলেকশনে। আমার ধারণা, গ্রামের বয়স্ক ও সম্মানিতজন যাঁরা, তাঁরাও এই সিলেকশন ব্যাপারটাই বেশি পছন্দ করবেন।
বছরের মাঝামাঝি সময়ে সিলেকশনের কাজটি সম্পন্ন হলো। যে হেরে গেল, অর্থাৎ মনোনীত হতে পারল না, তার এবং তার সমর্থকদের মুখ কালো হয়ে গেল। কিন্তু তাদের কিছু করার নেই। রহিম শেখ এবং গ্রামের অন্যান্য মুরব্বি এই মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় ছিলেন। তাঁদের বিরোধিতা করা প্রায় কেউই ভালো চোখে দেখবে না। তাছাড়া দুই পক্ষ তো এই মর্মে অঙ্গীকারবদ্ধই ছিল যে মুরব্বিরা যা বলবেন, তারা মেনে নেবে।
এখন প্রশ্ন, মসজিদ উন্নয়ন কমিটির লোকজন হিসেবে কারা মনোনীত হলো, তাদের নেতা কে? এই তথ্য প্রকাশ আমার কাছে খুব একটা জরুরি মনে হচ্ছে না। আমি ভেবে দেখেছি, আবদুস সামাদই মনোনীত হোক কিংবা বাদশা মিয়া, যে কেউই হোক, আমার যে পরিকল্পনা, তাতে কোনো ব্যাঘাত ঘটছে না; বরং ব্যাপারটা অস্পষ্ট রেখে, আমি নিজের মতো করে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাব।
সুতরাং আমরা ধরে নিলাম, বাদশা মিয়া বা আবদুস সামাদএকজন মনোনীত হয়েছে এবং মনোনীত হওয়ার পরপরই সে কাজ আরম্ভ করে দিয়েছে। যদিও আমি বলেছি যে মসজিদ উন্নয়ন কমিটির বছর জুড়ে কাজ থাকে, সে কথা আমি অস্বীকার বা প্রত্যাহার করছি না, শুধু এটুকু স্পষ্ট করছি যে মসজিদ উন্নয়ন কমিটির যে প্রধান, সে তার কর্মদক্ষতা দেখানো ও জানানোর সবচেয়ে বড় সুযোগটা পায় ঈদের জামাতে। গ্রামে মসজিদ আছে, ঈদগাহও আছে। রোজকার নামাজ, জুমার নামাজএসব মসজিদেই হয়। মসজিদের দেখভালও কমিটি-প্রধানকেই করতে হয়। তবে ঈদের দিন এলাকার প্রায় সব মানুষই মসজিদ ছেড়ে ঈদগাহমুখী হয়। ঈদগাহ সেদিন থাকে সুসজ্জিত, দেয়ালে নতুন করে চুনকাম হয়, শামিয়ানা টানানো হয়, ইমাম ও তাঁর সহযোগীদের নামাজ পড়ানো, খুতবা পাঠের জায়গাটা করা হয় বাহারি। সবাইকে এক চকমকে, ঝলমলে, চোখ জুড়ানো অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা থাকে। এ রকম বহুদিন ধরে হয়ে আসছে, এটা নতুন কিছু না; রহিম শেখের সময় এই প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, শুনেছি তার আগেও এই চেষ্টাটা ছিল।
এটা নতুন কিছু নয়, সাজসজ্জা আর কতই বা বাড়ানো যাবে, আর মানুষ তাতে কতই বা মুগ্ধ হবে, এ রকম ভাবল আবদুস সামাদ বা বাদশা মিয়া। এবার তেমন একটা চমক দিতে না পারলে আগের কমিটির সঙ্গে তাদের কমিটির কী পার্থক্য থাকল! ভাবতে বসল বাদশা মিয়া কিংবা আবদুস সামাদ। ভাবতে, দেখলহ্যাঁ, একটা কাজ করা যায়। কাজটা যদিও কঠিন ও পরিশ্রমসাপেক্ষ, কিছুটা ভাগ্যের ওপরও নির্ভর করতে হবে, তবে যদি করেই ফেলা যায়, গ্রাম জুড়ে একটা হইহই পড়বে। সুতরাং সে চেষ্টাই চলল। প্রথম পর্বখোঁজখবর নেওয়ার। তারপর আরও কয়েকটি পর্ব আছে। কিন্তু এই প্রথম পর্বটিই যথেষ্ট পরিশ্রমের। এটা যে এত কঠিন হতে পারে, জানা ছিল না আবদুস সামাদ বা বাদশা মিয়ার। নানজনের খোঁজ এল বটে, তাদের কেউই চমকে দেওয়ার ও বিমোহিত করার মতো নয়। অবস্থা একসময় হলো হাল ছেড়ে দেওয়ার মতো।
কিন্তু অনেক দূর চলে এসেছি আমি। এখন আমার ফিরে আসার উপায় নেই। বাস্তবে আবদুস সামাদ কিংবা বাদশা মিয়া যা খুঁজছে, তা পেল কি পেল না, সে আমি দেখতেও যাব না। আমি ধরে নেবহ্যাঁ, তারা শেষ পর্যন্ত পেল।
খবর এল ঈদের মাস দেড়েক আগে। ঘোষণাটা অবশ্য তখনই দেওয়া হলো না, দেওয়া হলো আরও দিন পনের-বিশ পর, যখন যোগাযোগ করে নিশ্চিতই হওয়া গেছেহ্যাঁ, তিনি আসবেন। এই ঘোষণার পর গ্রামজুড়ে একই সঙ্গে আনন্দ ও প্রশান্তি নেমে এল। জীবনে এমন একটা বড় সুযোগ পাওয়া যাবে, গ্রামবাসী কি জানত! তারা বাদশা মিয়া অথবা আবদুস সামাদের নামে ধন্য করতে লাগল। ফলে আবদুস সামাদ বা বাদশা মিয়া খুবই আনন্দ ও গর্ব বোধ করল, আবার বাদশা মিয়া কিংবা আবদুস সামাদ খুবই মর্মাহত হলো। কিছু করার নেই, শক্রতা যখন প্রবল, একজন আনন্দিত হওয়ার উপলক্ষ পেলে অন্যজন মর্মাহত হবেই। যাক এসব কথা, ঘটনাটা বলা দরকার। ঘটনাটা এ রকমএমন এক হুজুরের সন্ধান পাওয়া গেছে, তিনি শুধু বাংলাদেশের নন, ইন্ডিয়া ও পাকিস্তানের অনেক নামকরা মসজিদে ইমামতি করেছেন। মাইল তিন-চার দূরের এক গ্রামে এক পীর বাস করেন। বাদশা মিয়া কিংবা আবদুস সামাদের সুবিধার জন্য আমাদের ধরে নিতে হবে, এই পীরের সঙ্গে ওই ইমামের ভালো সম্পর্ক। আমরা এও জানব, বিখ্যাত ওই ইমাম পীরের বাসায় আসবেন এবং মাস দুয়েক থাকবেন। এখন শুধু একটি বিষয়েই নিশ্চিত হওয়া বাকিপীর সাহেব কি ওই বুজুর্গ ব্যক্তিকে রাজি করাতে পারবেন এই গ্রামে এসে ঈদের নামাজ পড়িয়ে যাওয়ার ব্যাপারে? আমার জানা নেই, তিনি পারবেন কি না। তবে আমি ধরে নেব, তিনি পারবেন, পীর সাহেব আবদুস সামাদ বা বাদশা মিয়াকে এই বলে নিশ্চিন্ত করবেনব্যাপারটা অবশ্যই তিনি দেখবেন। ‘দেখবেন’এই শব্দের ওপর খুব বেশি নির্ভর করা যায় না। ফলে আবদুস সামাদ অথবা বাদশা মিয়া মরিয়া হয়ে উঠবে এবং একপর্যায়ে পীর সাহেব কথা দেবেন। তিনি বলবেন, যদিও আশপাশের দশ-বিশ গ্রাম হুমড়ি খেয়ে পড়েছে, তবে এক অজানা কারণে (কারণের কথা তিনি জানাবেন না) তিনি অবশ্যই এই ব্যবস্থা করে দেবেন, যেন হুজুর ঈদের নামাজে আবদুস সামাদ কিংবা বাদশা মিয়ার গ্রামেই ইমামতি করেন। আবদুস সামাদ অথবা বাদাশা মিয়ার বিভিন্ন জিজ্ঞাসার জবাবে তিনি আরও কিছু ব্যাপার জানান। এই যেমন, হুজুর এখনই নয়, আসবেন ঈদের দিন দশেক আগে। তিনি নিরিবিলি থাকতে পছন্দ করেন। সুতরাং আবার এসে ওনাকে বিরক্ত করার দরকার নেই। তিনি, অর্থাৎ পীর সাহেব ঈদের দিন ভোরে, নামাজ আরম্ভ হওয়ার বেশ আগেই হুজুরকে পাঠিয়ে দেবেন।
‘হুজুরকে ঈদের আগে পাঠালে হয় না, কিছু হলেও দূরের পথ, সকালে পৌঁছাতে পৌঁছাতে যদি কোনো কারণে দেরি …।’
পীর সাহেব বললেন, ঈদের দিন সকালে হুজুরের ঘুম তাঁর বাড়িতেই ভাঙুক, এটা তিনি চান।
‘তবে কি ঈদের রাতে তাদের গ্রাম থেকে কেউ এসে থাকবে এখানে, সকালে হুজুরকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। না হলে সেটা বড় বেয়াদবি হয়ে যাবে।’
পীর সাহেব জানালেন, না, এরও কোনো প্রয়োজনীয়তা তিনি দেখছেন না।
‘তবে কি ভোররাতে কেউ এসে পৌঁছাবে, গাড়িসহ? হুজুর নিজে কী করে যাবেন! এটা কেমন দেখায়!’
পীর সাহেব জানালেন, দায়িত্ব যখন তিনি নিয়েছেন, দায়িত্ব যা যা আছে, তিনিই পালন করবেন। সুতরাং ভোরবেলা হুজুরকে সম্মানের সঙ্গে গাড়িতে করেই পাঠিয়ে দিতে তাঁর কোনো ভুল বা অসুবিধা হবে না। আবদুস সামাদ বা বাদশা মিয়া পুরো নিশ্চিত হয়েই ফিরে যেতে পারে। এই বলে পীর সাহেব তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন নম্বরটিও দিয়ে দিলেন, প্রয়োজনে যোগাযোগ করার জন্য।
এরপর আর কথা চলে না। সুতরাং আবদুস সামাদ কিংবা বাদশা মিয়াকে উঠতেই হলো। পীরের পা ছুঁয়ে দোয়া নিল এবং বলল, পীর সাহেবের মহানুভবতার কথা সে সব সময়ই মনে রাখবে এবং এত বড় এক সম্মানের অংশীদার করার জন্য পীর সাহেব যেকোনো প্রয়োজনে তাকে পাশে পাবেন।
আবদুস সামাদ কিংবা বাদশা মিয়ার পক্ষ এই ব্যবস্থার মধ্যে কোনো খুঁতই খুঁজে পেল না। তবে বাদশা মিয়া অথবা আবদুস সামাদের পক্ষ অবশ্যই খুঁত খুঁজে পেল এবং আরও খুঁত খুঁজে বের করার জন্য তারা মরিয়া হয়ে উঠল। তবে তারা খুব একটা সুবিধা করতে পারল না। কারণ, গ্রামবাসী তখন প্রায় সবাই এ রকম বলাবলি করছিল যে, পীর সাহেব তো ঠিকই বলেছেন। তিনি যে অমন একজন বড় মাপের ইমামকে এ গ্রামে ঈদের দিন সকালে আসার এবং ঈদের নামাজে ইমামতি করার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, এ তো বিশাল এক ব্যাপার। এর বেশি আশা করাটাই অন্যায় হবে।
গ্রামজুড়ে এ ধরনের বলাবলি যখন পোক্ত হলো, গ্রামবাসী তখন আনন্দ করতে লাগল।
৩.
এখন মোহাদ্দেসের কথা বলার সময় এসেছে। এই মোহাদ্দেসকে আমি একেবারেই চিনি না। তার নাম আদৌ মোহাদ্দেস কি না, তা-ও আমার জানা নেই। জানা না থাকায় কোনো অসুবিধাও হবে না। কারণ তার নাম এ গল্পে কোনো বিচারেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ওটুকুই, যা সে করবে, কিংবা এভাবেও বলা যায়–গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ওটুকুই, যা সে করবে বলে আমরা ধরে নেব এবং যা আমরা তাকে দিয়ে করাব।
মোহাদ্দেসের নাম সোলায়মান হতে পারত কিংবা যা কিছু; সম্পূর্ণ কাল্পনিক যে চরিত্র, তার কী নাম, তা নিয়ে কে মাথা ঘামায়। তবে মোহাদ্দেস হিসেবেই তাকে ডেকে ফেলা হয়েছে, সুতরাং এ নামটাই চলুক। এই মোহাদ্দেস পেশায় প্রতারক। সে বুদ্ধিমান এবং বেশ কিছুটা শিক্ষিতও। প্রতারণার নানা রকম কৌশল তার জানা আছে, এও তার ভালো জানা আছে–আমজনতা এবং কখনো কখনো এই আমজনতার কিছু উঁচুস্তরের মানুষকে ঠকাতে হলে কী কী ভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে হয়। মেহেদির রঙে রাঙানো তার দাড়ি। না, ফ্রেঞ্চকাট দাড়ি না, ফ্রেঞ্চকাট দাড়িতে মানুষের তেমন বিশ্বাস নেই, তার দাড়ি মুখভরা এবং কণ্ঠদেশ ছাড়িয়ে নেমে আসা। তার চোখে সুরমা এবং কপালে কালো দাগ। সে নামাজ পড়ে না, যদিও প্রতিটি নামাজের নিয়ম, দোয়া সে জানে। কপালের দাগটি সে করেছে সেজদার ভঙ্গিতে মেঝেতে কপাল ঘষে ঘষে। চেহারায় একধরনের, একই সঙ্গে গাম্ভীর্য ও সারল্য সে আনতে পেরেছে। এই সব মিলে প্রতারক হিসেবে তাকে বুঝে ওঠা নিতান্তই কঠিন। ফলে যদিও অনেক দিন ধরে লোক-ঠকানোর কাজ সে করে যাচ্ছে, তাকে একবারও ধরা পড়তে হয় নি। এমনকি লোকজন তাকে সন্দেহও করে নি, তার কথায় দ্বিধায় পড়ে নি, অর্থাৎ–তার জন্য এ পর্যন্ত সবকিছু সহজ ও সরল। অবশ্য তাকে নিত্যনতুন কৌশল আবিষ্কার করতে হয়, নিত্যনতুন কৌশল ছাড়া প্রতারণা চলে না, আর আমরা প্রথমেই বলে নিয়েছি যে সে বুদ্ধিমান এবং বেশ কিছুটা শিক্ষিতও।
এমন অনেক প্রতারক আছে, যারা শেষ দিনটি পর্যন্ত সফলভাবে উতরে যায়। যদিও তাকে বুদ্ধিমান ও শিক্ষিত বলেছি, মোহাদ্দেসের ক্ষেত্রে শত ভাগ সাফল্য আমি দেখাতে পারব না। ওই যে, সেই কবে থেকে একটা-দুটো কথা প্রচলিত–চোরের দশ দিন গৃহস্থের এক দিন, কিংবা বারবার ঘুঘু তুমি খেয়ে যাও ধান…। না, তার প্রতি ব্যক্তিগত বিদ্বেষ আমার নেই। কাল্পনিক চরিত্রের প্রতি তা থাকার কথাও না। আমি শুধু যা করব, তা হলো, আমার প্রয়োজন অনুযায়ী তাকে আমি পরিচালনা করব।
তাহলে বিলম্ব না করে এই এখনই ধরে নিই, এই এবারই সে, জীবনে প্রথমবারের মতো ফেঁসে গেছে। ধরে নিই দিনটা ঈদের এবং মোহাদ্দেসও ধরে নিয়েছিল, ধরে নেওয়াটাই স্বাভাবিক, ঈদের দিন–মানুষ থাকবে খুশিতে মশগুল, আনন্দে বিভোর, মন থাকবে নরম এবং আনন্দে পূর্ণ। খুব সকালেই সে তাই কাজে নেমে পড়েছিল। তার আছে মেহেদি রাঙানো মনোরম দাড়ি, চোখে সুরমা, কপালে কালো দাগ, মাথায় কারুকাজ করা টুপি, পরনে মচৎকার শেরোয়ানি। এ ছাড়া তার চেহারায় গাম্ভীর্য ও সারল্যের যুগল অবস্থান তো আছেই। কিন্তু এতসব কিছুর পরও, কপালে দুর্ভোগ ছিল তার, সে ধরা পড়ে গেল। ধরা পড়ে গেল মানে তার কোমরে রশি পড়ল– এ রকম হলে আমি গল্প এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব না; বরং এ রকম দেখাই যে তার প্রতারণা ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর তার যখন আক্ষরিক অর্থে ধরা পড়ার উপক্রম, সে ভিড় ঠেলে ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে পালাতে লাগল। ছুটে পালানোর অভ্যেস নেই তার, কিন্তু মানুষের প্রাণের ভয়, কী যে ভয়! মোহাদ্দেস ছুটতে লাগল। প্রাণপণে। আর তাকে ধরার জন্য তার পেছনে পেছনে ছুটল অনেক অনেক লোক। ঈদের দিনে, আনন্দের দিন তো, এও এক মজা।
যে গ্রামের কথা বলতে বলতে আমি মোহাদ্দেসের কথায় চলে গিয়েছিলাম, মোহাদ্দেস ছুটছে, ছুটুক না; সে গ্রামের কথা আবার কিছু বলি। আবদুস সামাদ কিংবা বাদশা মিয়া–এ দুজনের একজনের অবস্থা সুবিধার নয়, দুজনের একজন নানা রকম উৎসবের ব্যবস্থা সম্পন্ন করে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। সে কিছু সঙ্গী নিয়ে ঈদগাহের সাজসজ্জায়, যদিও প্রয়োজন নেই, তদারক করছে, বারবার ঘড়ি দেখছে, সঙ্গীদের মুখের দিকে তাকাচ্ছে। তার পক্ষের বেশকিছু লোক চলে গেছে গ্রাম ছাড়িয়ে আরও সামনে, হুজুর যে গাড়িতে আসবেন, সে গাড়ির চালক পথ ভুল করতে পারে, তা ছাড়া তাঁকে যত দূর সম্ভব এগিয়ে থেকে বরণ করাই ভালো।
আবদুস সামাদ বা বাদশা মিয়ার একজন চিন্তিত বা উৎকণ্ঠিত হলে, আরেকজনের আনন্দিত ও উৎফুল্ল হওয়ার কথা। সত্যি কথা বলতে, যতটা তার উৎফুল্ল হওয়ার কথা, যতটা তার আনন্দ বোধ করার কথা, ততটা হচ্ছে না। বেশ মজাই লাগছে, তার, প্রতিপক্ষ বিপদে পড়েছে, বুঝুক এবার, এ রকম প্রায়ই সে ভাবছে। আবার এ রকম একটা ভাবনাও সে এড়িয়ে যেতে পারছে না–ঈদের এই আনন্দের দিনে অমন এক মশহুর হুজুরের ইমামতিতে নামাজ পড়ার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাবে!
গ্রামের লোকজনও উৎকণ্ঠার মধ্যে আছে। পীর সাহেব বারবার নিশ্চিন্ত করার পরও এমন কেন ঘটবে! কেন হুজুর, সময় প্রায় পেরিয়ে যেতে বসেছে, এসে পৌঁছাবেন না! আমি এ গ্রামে যে বাড়িতে উঠি, সে বাড়িতেও উৎকণ্ঠা। বাড়ির মুরব্বি ধৈর্যশীল মানুষ এবং বিচলিত হওয়া ঘটনায়ও বিচলিত খুব কমই হন। তাঁকেও কেমন কেমন দেখাচ্ছে। বৈবাহিক সূত্রে যে দুজন আমার আত্মীয়, তারা অবশ্য যথেষ্টই অস্থির। নানা রকম মন্তব্য করে তারা পরিবেশ গরম করে রেখেছে এবং মিনিট দুই-তিন পরপরই বাড়ির ছোট কাউকে পাঠাচ্ছে সামনের দিকে, নতুন কোনো খবর থাকলে তা জোগাড় করে আনার জন্য। কেউ কেউ এ সময় জিজ্ঞেস করে বসতে পারে, সবার যখন ও রকম অবস্থা, আমার অবস্থা কী। ধরে নিই, সবার মতো আমিও তখন অস্থির। এ গেল আমার তখনকার অবস্থা। বলা ভালো, আমার কিন্তু এখনো অস্থির অবস্থা। গল্পটা ঠিকমতো শেষ করতে পারব তো?
গল্প অবশ্য শেষ করেই দেওয়া যায়। যে পর্যন্ত লেখা হয়েছে, সে পর্যন্তই গল্প। ঈদের নামাজের সময় পার হয়ে যাচ্ছে, মশহুর এবং হুজুর আসবেন বলে সবার মধ্যে প্রবল উৎসাহ; সেই হুজুর আসছেন না বলে সবাই অস্থির এবং সেই অস্থিরতা একটু একটু করে বাড়ছে। এমন এক অবস্থায় এসে কি গল্প শেষ করা যায় না? অবশ্যই যায়। তবে তার আগে মোহাদ্দেস তখন কী করছে, সেটাও আমরা একটু চেয়ে দেখতে পারি।
ততক্ষণে ধাওয়া করা লোকজনের নাগালের অনেক বাইরে চলে এসেছে মোহাদ্দেস। তবে সে যে নাগালের বাইরে এ কথাটা সে নিজেই বিশ্বাস করতে পারছে না। এর একটাই কারণ, সে প্রচণ্ড ভয় পেয়েছে। এর আগপর্যন্ত শত ভাগ সাফল্য তাকে এতটাই আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছিল, প্রথম ব্যর্থতাটি তাকে ততটাই দুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছে। ভয়, ব্যর্থতার গ্লানি–এসব মিলেমিশে এমন অবস্থা হয়েছে, সে ঠিকমতো চিন্তাও করতে পারছে না। অনেকটা পথ পার হয়ে আসার পরও সে বারবার পেছনে ফিরে তাকাচ্ছে। পেছনে বহুদূর পর্যন্ত সন্দেহজনক কেউ নেই, আক্রোশে ও আনন্দে যারা তার পিছু নিয়েছিল, তারা নিজেদের মধ্যে হাসাহাসি করতে করতে অনেক আগেই ফিরে গেছে, তবু মোহাদ্দেস এ রকম ভাবছে–লোকজন এখনো, হয়তো বেশ দূরেই তারা, তার পেছনে পেছনে আসছে। এই ভয় তাকে সুস্থির হতে দিচ্ছে না, সে থামছে না, সে চাইছে, দূরে, যত দূর সম্ভব দূরে যেতে। তা, তাকে আমরা সে সুযোগটা, দূরে সরে যাওয়ার, যদি না দিই, গল্প শেষ করতে অসুবিধা হবে।
মোহাদ্দেস যখন নিতান্তই ভালো মানুষের চেহারা নিয়ে ধীরে ধীরে ঘটনাস্থল থেকে ক্রমান্বয়ে দূরে সরে আসছে, তখন আমরা ফিরে যাই আমাদের ফেলে আসা গ্রামে। ওই গ্রামে তখন উত্তেজনা বেড়েছে। আবদুস সামাদ কিংবা বাদশা মিয়া যথেষ্ট বিপাকে। গ্রামের মানুষ নামাজের জন্য আর কতক্ষণ অপেক্ষা করবে! তাদের অস্থিরতা ক্রমশ দানা বাঁধছে। এটা বুঝতে পেরে বাদশা মিয়া অথবা আবদুস সামাদ বার কয়েক মাইকে গ্রামবাসীকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু গুছিয়ে সে কিছুই বলতে পারে নি, গ্রামবাসীও তার কথা শোনার ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।
আবদুস সামাদ অথবা বাদশা মিয়া এই হিসাবটা কিছুতেই মেলাতে পারছে না–পীর সাহেব অমন বারবার বলার পরও কেন এমন হলো! হুজুর কি তবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন? নাকি ওই গ্রামের লোকজন হুজুরকে আটকে রেখেছে, তাদের গ্রামে নামাজ পড়িয়ে তবে হুজুর অন্য কোথাও যাবেন? হুজুরকে নিয়ে যে গাড়িটি রওনা দিয়েছে, তার চালক কি অনেক আগেই পথ এলোমেলো করে ফেলেছে? নাকি কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে পথে? না না, এমন খারাপ চিন্তা অনুচিত হবে, এটুকু অবশ্য ভাবা যেতে পারে যে দুর্ঘটনা ঘটে নি, পথের কোথাও গাড়িটি বিকল হয়ে পড়েছে।
আসল খবরটা পাওয়া যেত, যদি পীর সাহেব তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত যে নম্বরটি দিয়েছিলেন, সেই নম্বরে যোগাযোগ স্থাপন করা যেত। কিন্তু পীর সাহেবের ওই মোবাইল ফোন সেটটিও অফ করা। বহুজনের বহু সেট থেকে বহুবার চেষ্টা করার পরও পীর সাহেবের ওই নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
তা হলে?…কিছুক্ষণ পর গ্রামবাসী আওয়াজ তুলল, নামাজটা হয়ে যাক।
ঈদগাহে থাকা নিরাপদ মনে করল না আবদুস সামাদ কিংবা বাদশা মিয়া। সে কেশে গলা পরিষ্কার করে মাইকে কাঁপা কাঁপা গলায় বলল, তার মন বলছে হুজুর এই এখনই এসে পড়বেন। বড়জোর পাঁচ, আরও বেশি হলে দশ মিনিট লাগবে, তার পরই নামাজ আরম্ভ হয়ে যাবে। মশহুর এক ইমামের ইমামতিতে ঈদের নামাজ আদায়ের যে দুর্লভ সুযোগ পাওয়া গেছে, তা হেলায় না হারানোর জন্য তার বিনীত আবেদন থাকছে। সে এখন নিজেই যাচ্ছে হুজুরকে বরণ করার জন্য।
ওদিকে বেশ অনেকটাই সময় গেছে, মোহাদ্দেসের ভয় অনেকটাই দূর হয়েছে। সে মহাসড়কে উঠে রিকশা নিয়েছে। তার মন ভালো নেই। ভয় অনেকটা দূর হলেও দিনটা মাটি হলো বলে তার মন খারাপ। তার মন খারাপ, সে ক্লান্ত, তার ভেতর কাজ করছে ব্যর্থতার গ্লানি–এতসব মিলে সে ছিল পুরোপুরি অন্যমনষ্ক। ফলে প্রথম আওয়াজটা আমরা তার কানে পৌঁছে দেব না। দ্বিতীয় আওয়াজটা অবশ্য তার কানে এসে পৌঁছাবে। সে সভয়ে পেছনে তাকিয়ে দেখবে, নানা রকম কথা বলতে বলতে বেশ কয়েকজন লোক তার দিকে আঙুল উঁচিয়ে দিয়েছে। মোহাদ্দেস তাদের অনেক কথার একটাই স্পষ্ট শুনবে, ‘ওই যে, ওই যে।’ মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু তালগোল পাকিয়ে যাবে তার। হায়! তবে কি সে ধরা পড়েই গেল! তবু শেষ চেষ্টা করে মানুষ। সে চেষ্টারই অংশবিশেষ হিসেবে মোহাদ্দেস ভাবল, রিকশা থেকে লাফিয়ে নামবে সে এবং সামনে কিংবা ডাইনে বা বাঁয়ে, যেদিকেই হোক, দৌড়াতে আরম্ভ করবে। কিন্তু তার আগেই আমরা দেখব, তার রিকশা ঘিরে ফেলেছে সামনে থেকে আসা বেশ কয়েকজন লোক। এদের সে আগে লক্ষ্য করে নি। এরা কি সেই অত দূর থেকে তাকে তাড়িয়ে এনে দুদিক থেকে তার পথ বন্ধ করে অপেক্ষায় ছিল? এই প্রশ্নের একটি উত্তর তার ভেতর তৈরি হওয়ার আগেই ভিড়ের ভেতর থেকে একজন তাকে সালাম দিয়ে নরম গলায় বলল, ‘হুজুর, পথে কি ঝামেলায় পড়েছিলেন? আমরা সেই কখন থেকে…’
পরে যেন কোনো প্রশ্ন না ওঠে, একবার বলেছি যদিও, আরও একবার বলে রাখি–এই যে দুই চরিত্র বাদশা মিয়া ও আবদুস সামাদ, এরা আমার কাছে আধা বাস্তব আধা কাল্পনিক। শরীরগতভাবে এরা বাস্তব, দু’জনই ধনী এটাও বাস্তব, আমার সঙ্গে দু’জনেরই পরিচয়–এটা বাস্তব, তবে পরিচয় এত ঘনিষ্ঠ নয় যে, এদের সবকিছু আমার জানা। এই না-জানা ব্যাপারগুলো আমি আমার মতো করে ধরে নেব। সেটা যে পুরোপুরি কাল্পনিক হবে, তা আমি বলব না। কারণ, ঘনিষ্ঠতা না থাকলেও, কাউকে দেখতে দেখতে এবং তার সম্পর্কে শুনতে শুনতে ধারণা জন্মায়। আর সে ধারণা থেকে অনুমান ধরেই নেওয়া যায়।
আচ্ছা, এতসব ফিরিস্তিতে না গিয়ে, আমরা ধরেই নিই না কেন, এ দু’জনের ভেতর মসজিদ কমিটির কর্তৃত্ব নিয়ে যথেষ্ট লড়াই আছে। ধরা যাক, এখন মসজিদ কমিটির প্রধান রহিম শেখ। তারা এ গ্রামের পুরনো পরিবারগুলোর একটি। গ্রামের লোক স্বপ্রণোদিত হয়ে তাঁকে মসজিদ কমিটির প্রধান বানিয়েছিল। তবে স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি গত দুই-তিন বছর হলো এই দায়িত্ব পালন থেকে অব্যাহতি চাচ্ছেন। মসজিদ কমিটির প্রধানকে শুধু দুই ঈদে দায়িত্ব পালন করতে হয় তা নয়, বছর জুড়েই তাঁর কিছু না কিছু কাজ থাকে, আশি ছুঁই ছুঁই রহিম শেখের জন্য তার ভার অনেক। বারবার তিনি তা-ই বলছেন– নতুন লোক নেওয়া হোক, নতুন লোক নেওয়া হোক।
এ আমরা বুঝতেই পারছি, নতুন লোক আর কে হবে– বাদশা মিয়া বা আবদুস সামাদ ছাড়া। আমরা গ্রাম থেকেই উঠে আসা, আর যদি তা না-ও হই, এ আমাদের জানা আছে, গ্রামে মসজিদ উন্নয়ন কমিটির প্রধান হওয়া অনেক সম্মানের ব্যাপার। সম্মানপ্রাপ্তির পাশাপাশি ওই ব্যক্তি বেশ কিছু কাজ করার সুযোগও পায়, লোকজন তাতে খুশি হয়। এমন আকর্ষণীয় পদের জন্য বাদশা মিয়া আর আবদুস সামাদ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামবে না, তা হয় না। আমরা দেখব, গত ঈদের নামাজ শেষে রহিম শেখ যখন চুড়ান্ত করে জানান, তিনি কোনোমতেই আর পারবেন না, নতুন কমিটি করতেই হবে, গ্রামবাসী তা মেনে নিতে বাধ্য হয় এবং তখন থেকে আবদুস সামাদ ও বাদশা মিয়া নতুন কমিটি গঠনের জন্য উদ্যোগী হয়ে ওঠে।
দেখা যাবে গ্রামটি দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। এই বিভাজন কোনো নির্দিষ্ট চরিত্র অবশ্য ধারণ করবে না। যেমন গ্রামের যারা বয়স্কজন আছে, বহুদিনের ধনীলোক বলে তারা সবাই আবদুস সামাদের পাশে দাঁড়াবে, এমন না। আবার এমনও না, গ্রামের যারা অল্পবয়সী, যাদের অনেক সময়ই স্থানীয় ভাষায় ‘চ্যাংড়া পোলাপান’ বলা হয়, তারা নব্য ধনী বাদশা মিয়ার অন্ধ সমর্থক বনে গেছে। দুই পক্ষই যে যার মতো করে প্রচারণা চালিয়ে যাবে, তারা ঘরে-ঘরে, জনে-জনেও যাবে তাদের প্রতি সমর্থন আদায়ের জন্য। তবে কোনোরকম নির্বাচনে আমরা যাব না। দুই পক্ষ নিজ নিজ কমিটি গঠন করবে, একটা দিন ঠিক করা হবে, সেদিন গ্রামের প্রাপ্তবয়স্ক লোকজন গিয়ে দুই কমিটির এক কমিটির পক্ষে ভোট দেবেনা, ব্যবস্থা এ রকম না। একটা কথা আছে এ রকমসিলেকশনেই যদি কাজ হয়, তবে ইলেকশনের কী দরকার! হ্যাঁ, আমরা যাব সিলেকশনে। আমার ধারণা, গ্রামের বয়স্ক ও সম্মানিতজন যাঁরা, তাঁরাও এই সিলেকশন ব্যাপারটাই বেশি পছন্দ করবেন।
বছরের মাঝামাঝি সময়ে সিলেকশনের কাজটি সম্পন্ন হলো। যে হেরে গেল, অর্থাৎ মনোনীত হতে পারল না, তার এবং তার সমর্থকদের মুখ কালো হয়ে গেল। কিন্তু তাদের কিছু করার নেই। রহিম শেখ এবং গ্রামের অন্যান্য মুরব্বি এই মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় ছিলেন। তাঁদের বিরোধিতা করা প্রায় কেউই ভালো চোখে দেখবে না। তাছাড়া দুই পক্ষ তো এই মর্মে অঙ্গীকারবদ্ধই ছিল যে মুরব্বিরা যা বলবেন, তারা মেনে নেবে।
এখন প্রশ্ন, মসজিদ উন্নয়ন কমিটির লোকজন হিসেবে কারা মনোনীত হলো, তাদের নেতা কে? এই তথ্য প্রকাশ আমার কাছে খুব একটা জরুরি মনে হচ্ছে না। আমি ভেবে দেখেছি, আবদুস সামাদই মনোনীত হোক কিংবা বাদশা মিয়া, যে কেউই হোক, আমার যে পরিকল্পনা, তাতে কোনো ব্যাঘাত ঘটছে না; বরং ব্যাপারটা অস্পষ্ট রেখে, আমি নিজের মতো করে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাব।
সুতরাং আমরা ধরে নিলাম, বাদশা মিয়া বা আবদুস সামাদএকজন মনোনীত হয়েছে এবং মনোনীত হওয়ার পরপরই সে কাজ আরম্ভ করে দিয়েছে। যদিও আমি বলেছি যে মসজিদ উন্নয়ন কমিটির বছর জুড়ে কাজ থাকে, সে কথা আমি অস্বীকার বা প্রত্যাহার করছি না, শুধু এটুকু স্পষ্ট করছি যে মসজিদ উন্নয়ন কমিটির যে প্রধান, সে তার কর্মদক্ষতা দেখানো ও জানানোর সবচেয়ে বড় সুযোগটা পায় ঈদের জামাতে। গ্রামে মসজিদ আছে, ঈদগাহও আছে। রোজকার নামাজ, জুমার নামাজএসব মসজিদেই হয়। মসজিদের দেখভালও কমিটি-প্রধানকেই করতে হয়। তবে ঈদের দিন এলাকার প্রায় সব মানুষই মসজিদ ছেড়ে ঈদগাহমুখী হয়। ঈদগাহ সেদিন থাকে সুসজ্জিত, দেয়ালে নতুন করে চুনকাম হয়, শামিয়ানা টানানো হয়, ইমাম ও তাঁর সহযোগীদের নামাজ পড়ানো, খুতবা পাঠের জায়গাটা করা হয় বাহারি। সবাইকে এক চকমকে, ঝলমলে, চোখ জুড়ানো অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা থাকে। এ রকম বহুদিন ধরে হয়ে আসছে, এটা নতুন কিছু না; রহিম শেখের সময় এই প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, শুনেছি তার আগেও এই চেষ্টাটা ছিল।
এটা নতুন কিছু নয়, সাজসজ্জা আর কতই বা বাড়ানো যাবে, আর মানুষ তাতে কতই বা মুগ্ধ হবে, এ রকম ভাবল আবদুস সামাদ বা বাদশা মিয়া। এবার তেমন একটা চমক দিতে না পারলে আগের কমিটির সঙ্গে তাদের কমিটির কী পার্থক্য থাকল! ভাবতে বসল বাদশা মিয়া কিংবা আবদুস সামাদ। ভাবতে, দেখলহ্যাঁ, একটা কাজ করা যায়। কাজটা যদিও কঠিন ও পরিশ্রমসাপেক্ষ, কিছুটা ভাগ্যের ওপরও নির্ভর করতে হবে, তবে যদি করেই ফেলা যায়, গ্রাম জুড়ে একটা হইহই পড়বে। সুতরাং সে চেষ্টাই চলল। প্রথম পর্বখোঁজখবর নেওয়ার। তারপর আরও কয়েকটি পর্ব আছে। কিন্তু এই প্রথম পর্বটিই যথেষ্ট পরিশ্রমের। এটা যে এত কঠিন হতে পারে, জানা ছিল না আবদুস সামাদ বা বাদশা মিয়ার। নানজনের খোঁজ এল বটে, তাদের কেউই চমকে দেওয়ার ও বিমোহিত করার মতো নয়। অবস্থা একসময় হলো হাল ছেড়ে দেওয়ার মতো।
কিন্তু অনেক দূর চলে এসেছি আমি। এখন আমার ফিরে আসার উপায় নেই। বাস্তবে আবদুস সামাদ কিংবা বাদশা মিয়া যা খুঁজছে, তা পেল কি পেল না, সে আমি দেখতেও যাব না। আমি ধরে নেবহ্যাঁ, তারা শেষ পর্যন্ত পেল।
খবর এল ঈদের মাস দেড়েক আগে। ঘোষণাটা অবশ্য তখনই দেওয়া হলো না, দেওয়া হলো আরও দিন পনের-বিশ পর, যখন যোগাযোগ করে নিশ্চিতই হওয়া গেছেহ্যাঁ, তিনি আসবেন। এই ঘোষণার পর গ্রামজুড়ে একই সঙ্গে আনন্দ ও প্রশান্তি নেমে এল। জীবনে এমন একটা বড় সুযোগ পাওয়া যাবে, গ্রামবাসী কি জানত! তারা বাদশা মিয়া অথবা আবদুস সামাদের নামে ধন্য করতে লাগল। ফলে আবদুস সামাদ বা বাদশা মিয়া খুবই আনন্দ ও গর্ব বোধ করল, আবার বাদশা মিয়া কিংবা আবদুস সামাদ খুবই মর্মাহত হলো। কিছু করার নেই, শক্রতা যখন প্রবল, একজন আনন্দিত হওয়ার উপলক্ষ পেলে অন্যজন মর্মাহত হবেই। যাক এসব কথা, ঘটনাটা বলা দরকার। ঘটনাটা এ রকমএমন এক হুজুরের সন্ধান পাওয়া গেছে, তিনি শুধু বাংলাদেশের নন, ইন্ডিয়া ও পাকিস্তানের অনেক নামকরা মসজিদে ইমামতি করেছেন। মাইল তিন-চার দূরের এক গ্রামে এক পীর বাস করেন। বাদশা মিয়া কিংবা আবদুস সামাদের সুবিধার জন্য আমাদের ধরে নিতে হবে, এই পীরের সঙ্গে ওই ইমামের ভালো সম্পর্ক। আমরা এও জানব, বিখ্যাত ওই ইমাম পীরের বাসায় আসবেন এবং মাস দুয়েক থাকবেন। এখন শুধু একটি বিষয়েই নিশ্চিত হওয়া বাকিপীর সাহেব কি ওই বুজুর্গ ব্যক্তিকে রাজি করাতে পারবেন এই গ্রামে এসে ঈদের নামাজ পড়িয়ে যাওয়ার ব্যাপারে? আমার জানা নেই, তিনি পারবেন কি না। তবে আমি ধরে নেব, তিনি পারবেন, পীর সাহেব আবদুস সামাদ বা বাদশা মিয়াকে এই বলে নিশ্চিন্ত করবেনব্যাপারটা অবশ্যই তিনি দেখবেন। ‘দেখবেন’এই শব্দের ওপর খুব বেশি নির্ভর করা যায় না। ফলে আবদুস সামাদ অথবা বাদশা মিয়া মরিয়া হয়ে উঠবে এবং একপর্যায়ে পীর সাহেব কথা দেবেন। তিনি বলবেন, যদিও আশপাশের দশ-বিশ গ্রাম হুমড়ি খেয়ে পড়েছে, তবে এক অজানা কারণে (কারণের কথা তিনি জানাবেন না) তিনি অবশ্যই এই ব্যবস্থা করে দেবেন, যেন হুজুর ঈদের নামাজে আবদুস সামাদ কিংবা বাদশা মিয়ার গ্রামেই ইমামতি করেন। আবদুস সামাদ অথবা বাদাশা মিয়ার বিভিন্ন জিজ্ঞাসার জবাবে তিনি আরও কিছু ব্যাপার জানান। এই যেমন, হুজুর এখনই নয়, আসবেন ঈদের দিন দশেক আগে। তিনি নিরিবিলি থাকতে পছন্দ করেন। সুতরাং আবার এসে ওনাকে বিরক্ত করার দরকার নেই। তিনি, অর্থাৎ পীর সাহেব ঈদের দিন ভোরে, নামাজ আরম্ভ হওয়ার বেশ আগেই হুজুরকে পাঠিয়ে দেবেন।
‘হুজুরকে ঈদের আগে পাঠালে হয় না, কিছু হলেও দূরের পথ, সকালে পৌঁছাতে পৌঁছাতে যদি কোনো কারণে দেরি …।’
পীর সাহেব বললেন, ঈদের দিন সকালে হুজুরের ঘুম তাঁর বাড়িতেই ভাঙুক, এটা তিনি চান।
‘তবে কি ঈদের রাতে তাদের গ্রাম থেকে কেউ এসে থাকবে এখানে, সকালে হুজুরকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। না হলে সেটা বড় বেয়াদবি হয়ে যাবে।’
পীর সাহেব জানালেন, না, এরও কোনো প্রয়োজনীয়তা তিনি দেখছেন না।
‘তবে কি ভোররাতে কেউ এসে পৌঁছাবে, গাড়িসহ? হুজুর নিজে কী করে যাবেন! এটা কেমন দেখায়!’
পীর সাহেব জানালেন, দায়িত্ব যখন তিনি নিয়েছেন, দায়িত্ব যা যা আছে, তিনিই পালন করবেন। সুতরাং ভোরবেলা হুজুরকে সম্মানের সঙ্গে গাড়িতে করেই পাঠিয়ে দিতে তাঁর কোনো ভুল বা অসুবিধা হবে না। আবদুস সামাদ বা বাদশা মিয়া পুরো নিশ্চিত হয়েই ফিরে যেতে পারে। এই বলে পীর সাহেব তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন নম্বরটিও দিয়ে দিলেন, প্রয়োজনে যোগাযোগ করার জন্য।
এরপর আর কথা চলে না। সুতরাং আবদুস সামাদ কিংবা বাদশা মিয়াকে উঠতেই হলো। পীরের পা ছুঁয়ে দোয়া নিল এবং বলল, পীর সাহেবের মহানুভবতার কথা সে সব সময়ই মনে রাখবে এবং এত বড় এক সম্মানের অংশীদার করার জন্য পীর সাহেব যেকোনো প্রয়োজনে তাকে পাশে পাবেন।
আবদুস সামাদ কিংবা বাদশা মিয়ার পক্ষ এই ব্যবস্থার মধ্যে কোনো খুঁতই খুঁজে পেল না। তবে বাদশা মিয়া অথবা আবদুস সামাদের পক্ষ অবশ্যই খুঁত খুঁজে পেল এবং আরও খুঁত খুঁজে বের করার জন্য তারা মরিয়া হয়ে উঠল। তবে তারা খুব একটা সুবিধা করতে পারল না। কারণ, গ্রামবাসী তখন প্রায় সবাই এ রকম বলাবলি করছিল যে, পীর সাহেব তো ঠিকই বলেছেন। তিনি যে অমন একজন বড় মাপের ইমামকে এ গ্রামে ঈদের দিন সকালে আসার এবং ঈদের নামাজে ইমামতি করার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, এ তো বিশাল এক ব্যাপার। এর বেশি আশা করাটাই অন্যায় হবে।
গ্রামজুড়ে এ ধরনের বলাবলি যখন পোক্ত হলো, গ্রামবাসী তখন আনন্দ করতে লাগল।
৩.
এখন মোহাদ্দেসের কথা বলার সময় এসেছে। এই মোহাদ্দেসকে আমি একেবারেই চিনি না। তার নাম আদৌ মোহাদ্দেস কি না, তা-ও আমার জানা নেই। জানা না থাকায় কোনো অসুবিধাও হবে না। কারণ তার নাম এ গল্পে কোনো বিচারেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ওটুকুই, যা সে করবে, কিংবা এভাবেও বলা যায়–গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ওটুকুই, যা সে করবে বলে আমরা ধরে নেব এবং যা আমরা তাকে দিয়ে করাব।
মোহাদ্দেসের নাম সোলায়মান হতে পারত কিংবা যা কিছু; সম্পূর্ণ কাল্পনিক যে চরিত্র, তার কী নাম, তা নিয়ে কে মাথা ঘামায়। তবে মোহাদ্দেস হিসেবেই তাকে ডেকে ফেলা হয়েছে, সুতরাং এ নামটাই চলুক। এই মোহাদ্দেস পেশায় প্রতারক। সে বুদ্ধিমান এবং বেশ কিছুটা শিক্ষিতও। প্রতারণার নানা রকম কৌশল তার জানা আছে, এও তার ভালো জানা আছে–আমজনতা এবং কখনো কখনো এই আমজনতার কিছু উঁচুস্তরের মানুষকে ঠকাতে হলে কী কী ভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে হয়। মেহেদির রঙে রাঙানো তার দাড়ি। না, ফ্রেঞ্চকাট দাড়ি না, ফ্রেঞ্চকাট দাড়িতে মানুষের তেমন বিশ্বাস নেই, তার দাড়ি মুখভরা এবং কণ্ঠদেশ ছাড়িয়ে নেমে আসা। তার চোখে সুরমা এবং কপালে কালো দাগ। সে নামাজ পড়ে না, যদিও প্রতিটি নামাজের নিয়ম, দোয়া সে জানে। কপালের দাগটি সে করেছে সেজদার ভঙ্গিতে মেঝেতে কপাল ঘষে ঘষে। চেহারায় একধরনের, একই সঙ্গে গাম্ভীর্য ও সারল্য সে আনতে পেরেছে। এই সব মিলে প্রতারক হিসেবে তাকে বুঝে ওঠা নিতান্তই কঠিন। ফলে যদিও অনেক দিন ধরে লোক-ঠকানোর কাজ সে করে যাচ্ছে, তাকে একবারও ধরা পড়তে হয় নি। এমনকি লোকজন তাকে সন্দেহও করে নি, তার কথায় দ্বিধায় পড়ে নি, অর্থাৎ–তার জন্য এ পর্যন্ত সবকিছু সহজ ও সরল। অবশ্য তাকে নিত্যনতুন কৌশল আবিষ্কার করতে হয়, নিত্যনতুন কৌশল ছাড়া প্রতারণা চলে না, আর আমরা প্রথমেই বলে নিয়েছি যে সে বুদ্ধিমান এবং বেশ কিছুটা শিক্ষিতও।
এমন অনেক প্রতারক আছে, যারা শেষ দিনটি পর্যন্ত সফলভাবে উতরে যায়। যদিও তাকে বুদ্ধিমান ও শিক্ষিত বলেছি, মোহাদ্দেসের ক্ষেত্রে শত ভাগ সাফল্য আমি দেখাতে পারব না। ওই যে, সেই কবে থেকে একটা-দুটো কথা প্রচলিত–চোরের দশ দিন গৃহস্থের এক দিন, কিংবা বারবার ঘুঘু তুমি খেয়ে যাও ধান…। না, তার প্রতি ব্যক্তিগত বিদ্বেষ আমার নেই। কাল্পনিক চরিত্রের প্রতি তা থাকার কথাও না। আমি শুধু যা করব, তা হলো, আমার প্রয়োজন অনুযায়ী তাকে আমি পরিচালনা করব।
তাহলে বিলম্ব না করে এই এখনই ধরে নিই, এই এবারই সে, জীবনে প্রথমবারের মতো ফেঁসে গেছে। ধরে নিই দিনটা ঈদের এবং মোহাদ্দেসও ধরে নিয়েছিল, ধরে নেওয়াটাই স্বাভাবিক, ঈদের দিন–মানুষ থাকবে খুশিতে মশগুল, আনন্দে বিভোর, মন থাকবে নরম এবং আনন্দে পূর্ণ। খুব সকালেই সে তাই কাজে নেমে পড়েছিল। তার আছে মেহেদি রাঙানো মনোরম দাড়ি, চোখে সুরমা, কপালে কালো দাগ, মাথায় কারুকাজ করা টুপি, পরনে মচৎকার শেরোয়ানি। এ ছাড়া তার চেহারায় গাম্ভীর্য ও সারল্যের যুগল অবস্থান তো আছেই। কিন্তু এতসব কিছুর পরও, কপালে দুর্ভোগ ছিল তার, সে ধরা পড়ে গেল। ধরা পড়ে গেল মানে তার কোমরে রশি পড়ল– এ রকম হলে আমি গল্প এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব না; বরং এ রকম দেখাই যে তার প্রতারণা ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর তার যখন আক্ষরিক অর্থে ধরা পড়ার উপক্রম, সে ভিড় ঠেলে ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে পালাতে লাগল। ছুটে পালানোর অভ্যেস নেই তার, কিন্তু মানুষের প্রাণের ভয়, কী যে ভয়! মোহাদ্দেস ছুটতে লাগল। প্রাণপণে। আর তাকে ধরার জন্য তার পেছনে পেছনে ছুটল অনেক অনেক লোক। ঈদের দিনে, আনন্দের দিন তো, এও এক মজা।
যে গ্রামের কথা বলতে বলতে আমি মোহাদ্দেসের কথায় চলে গিয়েছিলাম, মোহাদ্দেস ছুটছে, ছুটুক না; সে গ্রামের কথা আবার কিছু বলি। আবদুস সামাদ কিংবা বাদশা মিয়া–এ দুজনের একজনের অবস্থা সুবিধার নয়, দুজনের একজন নানা রকম উৎসবের ব্যবস্থা সম্পন্ন করে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। সে কিছু সঙ্গী নিয়ে ঈদগাহের সাজসজ্জায়, যদিও প্রয়োজন নেই, তদারক করছে, বারবার ঘড়ি দেখছে, সঙ্গীদের মুখের দিকে তাকাচ্ছে। তার পক্ষের বেশকিছু লোক চলে গেছে গ্রাম ছাড়িয়ে আরও সামনে, হুজুর যে গাড়িতে আসবেন, সে গাড়ির চালক পথ ভুল করতে পারে, তা ছাড়া তাঁকে যত দূর সম্ভব এগিয়ে থেকে বরণ করাই ভালো।
আবদুস সামাদ বা বাদশা মিয়ার একজন চিন্তিত বা উৎকণ্ঠিত হলে, আরেকজনের আনন্দিত ও উৎফুল্ল হওয়ার কথা। সত্যি কথা বলতে, যতটা তার উৎফুল্ল হওয়ার কথা, যতটা তার আনন্দ বোধ করার কথা, ততটা হচ্ছে না। বেশ মজাই লাগছে, তার, প্রতিপক্ষ বিপদে পড়েছে, বুঝুক এবার, এ রকম প্রায়ই সে ভাবছে। আবার এ রকম একটা ভাবনাও সে এড়িয়ে যেতে পারছে না–ঈদের এই আনন্দের দিনে অমন এক মশহুর হুজুরের ইমামতিতে নামাজ পড়ার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাবে!
গ্রামের লোকজনও উৎকণ্ঠার মধ্যে আছে। পীর সাহেব বারবার নিশ্চিন্ত করার পরও এমন কেন ঘটবে! কেন হুজুর, সময় প্রায় পেরিয়ে যেতে বসেছে, এসে পৌঁছাবেন না! আমি এ গ্রামে যে বাড়িতে উঠি, সে বাড়িতেও উৎকণ্ঠা। বাড়ির মুরব্বি ধৈর্যশীল মানুষ এবং বিচলিত হওয়া ঘটনায়ও বিচলিত খুব কমই হন। তাঁকেও কেমন কেমন দেখাচ্ছে। বৈবাহিক সূত্রে যে দুজন আমার আত্মীয়, তারা অবশ্য যথেষ্টই অস্থির। নানা রকম মন্তব্য করে তারা পরিবেশ গরম করে রেখেছে এবং মিনিট দুই-তিন পরপরই বাড়ির ছোট কাউকে পাঠাচ্ছে সামনের দিকে, নতুন কোনো খবর থাকলে তা জোগাড় করে আনার জন্য। কেউ কেউ এ সময় জিজ্ঞেস করে বসতে পারে, সবার যখন ও রকম অবস্থা, আমার অবস্থা কী। ধরে নিই, সবার মতো আমিও তখন অস্থির। এ গেল আমার তখনকার অবস্থা। বলা ভালো, আমার কিন্তু এখনো অস্থির অবস্থা। গল্পটা ঠিকমতো শেষ করতে পারব তো?
গল্প অবশ্য শেষ করেই দেওয়া যায়। যে পর্যন্ত লেখা হয়েছে, সে পর্যন্তই গল্প। ঈদের নামাজের সময় পার হয়ে যাচ্ছে, মশহুর এবং হুজুর আসবেন বলে সবার মধ্যে প্রবল উৎসাহ; সেই হুজুর আসছেন না বলে সবাই অস্থির এবং সেই অস্থিরতা একটু একটু করে বাড়ছে। এমন এক অবস্থায় এসে কি গল্প শেষ করা যায় না? অবশ্যই যায়। তবে তার আগে মোহাদ্দেস তখন কী করছে, সেটাও আমরা একটু চেয়ে দেখতে পারি।
ততক্ষণে ধাওয়া করা লোকজনের নাগালের অনেক বাইরে চলে এসেছে মোহাদ্দেস। তবে সে যে নাগালের বাইরে এ কথাটা সে নিজেই বিশ্বাস করতে পারছে না। এর একটাই কারণ, সে প্রচণ্ড ভয় পেয়েছে। এর আগপর্যন্ত শত ভাগ সাফল্য তাকে এতটাই আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছিল, প্রথম ব্যর্থতাটি তাকে ততটাই দুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছে। ভয়, ব্যর্থতার গ্লানি–এসব মিলেমিশে এমন অবস্থা হয়েছে, সে ঠিকমতো চিন্তাও করতে পারছে না। অনেকটা পথ পার হয়ে আসার পরও সে বারবার পেছনে ফিরে তাকাচ্ছে। পেছনে বহুদূর পর্যন্ত সন্দেহজনক কেউ নেই, আক্রোশে ও আনন্দে যারা তার পিছু নিয়েছিল, তারা নিজেদের মধ্যে হাসাহাসি করতে করতে অনেক আগেই ফিরে গেছে, তবু মোহাদ্দেস এ রকম ভাবছে–লোকজন এখনো, হয়তো বেশ দূরেই তারা, তার পেছনে পেছনে আসছে। এই ভয় তাকে সুস্থির হতে দিচ্ছে না, সে থামছে না, সে চাইছে, দূরে, যত দূর সম্ভব দূরে যেতে। তা, তাকে আমরা সে সুযোগটা, দূরে সরে যাওয়ার, যদি না দিই, গল্প শেষ করতে অসুবিধা হবে।
মোহাদ্দেস যখন নিতান্তই ভালো মানুষের চেহারা নিয়ে ধীরে ধীরে ঘটনাস্থল থেকে ক্রমান্বয়ে দূরে সরে আসছে, তখন আমরা ফিরে যাই আমাদের ফেলে আসা গ্রামে। ওই গ্রামে তখন উত্তেজনা বেড়েছে। আবদুস সামাদ কিংবা বাদশা মিয়া যথেষ্ট বিপাকে। গ্রামের মানুষ নামাজের জন্য আর কতক্ষণ অপেক্ষা করবে! তাদের অস্থিরতা ক্রমশ দানা বাঁধছে। এটা বুঝতে পেরে বাদশা মিয়া অথবা আবদুস সামাদ বার কয়েক মাইকে গ্রামবাসীকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু গুছিয়ে সে কিছুই বলতে পারে নি, গ্রামবাসীও তার কথা শোনার ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।
আবদুস সামাদ অথবা বাদশা মিয়া এই হিসাবটা কিছুতেই মেলাতে পারছে না–পীর সাহেব অমন বারবার বলার পরও কেন এমন হলো! হুজুর কি তবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন? নাকি ওই গ্রামের লোকজন হুজুরকে আটকে রেখেছে, তাদের গ্রামে নামাজ পড়িয়ে তবে হুজুর অন্য কোথাও যাবেন? হুজুরকে নিয়ে যে গাড়িটি রওনা দিয়েছে, তার চালক কি অনেক আগেই পথ এলোমেলো করে ফেলেছে? নাকি কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে পথে? না না, এমন খারাপ চিন্তা অনুচিত হবে, এটুকু অবশ্য ভাবা যেতে পারে যে দুর্ঘটনা ঘটে নি, পথের কোথাও গাড়িটি বিকল হয়ে পড়েছে।
আসল খবরটা পাওয়া যেত, যদি পীর সাহেব তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত যে নম্বরটি দিয়েছিলেন, সেই নম্বরে যোগাযোগ স্থাপন করা যেত। কিন্তু পীর সাহেবের ওই মোবাইল ফোন সেটটিও অফ করা। বহুজনের বহু সেট থেকে বহুবার চেষ্টা করার পরও পীর সাহেবের ওই নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
তা হলে?…কিছুক্ষণ পর গ্রামবাসী আওয়াজ তুলল, নামাজটা হয়ে যাক।
ঈদগাহে থাকা নিরাপদ মনে করল না আবদুস সামাদ কিংবা বাদশা মিয়া। সে কেশে গলা পরিষ্কার করে মাইকে কাঁপা কাঁপা গলায় বলল, তার মন বলছে হুজুর এই এখনই এসে পড়বেন। বড়জোর পাঁচ, আরও বেশি হলে দশ মিনিট লাগবে, তার পরই নামাজ আরম্ভ হয়ে যাবে। মশহুর এক ইমামের ইমামতিতে ঈদের নামাজ আদায়ের যে দুর্লভ সুযোগ পাওয়া গেছে, তা হেলায় না হারানোর জন্য তার বিনীত আবেদন থাকছে। সে এখন নিজেই যাচ্ছে হুজুরকে বরণ করার জন্য।
ওদিকে বেশ অনেকটাই সময় গেছে, মোহাদ্দেসের ভয় অনেকটাই দূর হয়েছে। সে মহাসড়কে উঠে রিকশা নিয়েছে। তার মন ভালো নেই। ভয় অনেকটা দূর হলেও দিনটা মাটি হলো বলে তার মন খারাপ। তার মন খারাপ, সে ক্লান্ত, তার ভেতর কাজ করছে ব্যর্থতার গ্লানি–এতসব মিলে সে ছিল পুরোপুরি অন্যমনষ্ক। ফলে প্রথম আওয়াজটা আমরা তার কানে পৌঁছে দেব না। দ্বিতীয় আওয়াজটা অবশ্য তার কানে এসে পৌঁছাবে। সে সভয়ে পেছনে তাকিয়ে দেখবে, নানা রকম কথা বলতে বলতে বেশ কয়েকজন লোক তার দিকে আঙুল উঁচিয়ে দিয়েছে। মোহাদ্দেস তাদের অনেক কথার একটাই স্পষ্ট শুনবে, ‘ওই যে, ওই যে।’ মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু তালগোল পাকিয়ে যাবে তার। হায়! তবে কি সে ধরা পড়েই গেল! তবু শেষ চেষ্টা করে মানুষ। সে চেষ্টারই অংশবিশেষ হিসেবে মোহাদ্দেস ভাবল, রিকশা থেকে লাফিয়ে নামবে সে এবং সামনে কিংবা ডাইনে বা বাঁয়ে, যেদিকেই হোক, দৌড়াতে আরম্ভ করবে। কিন্তু তার আগেই আমরা দেখব, তার রিকশা ঘিরে ফেলেছে সামনে থেকে আসা বেশ কয়েকজন লোক। এদের সে আগে লক্ষ্য করে নি। এরা কি সেই অত দূর থেকে তাকে তাড়িয়ে এনে দুদিক থেকে তার পথ বন্ধ করে অপেক্ষায় ছিল? এই প্রশ্নের একটি উত্তর তার ভেতর তৈরি হওয়ার আগেই ভিড়ের ভেতর থেকে একজন তাকে সালাম দিয়ে নরম গলায় বলল, ‘হুজুর, পথে কি ঝামেলায় পড়েছিলেন? আমরা সেই কখন থেকে…’
========================
গল্প- আলিমের নিভৃতিচর্চা by রাশিদা সুলতানা গল্প- প্রত্যাবর্তন: আমার ‘ফেরা’ নিয়ে যে কাহিনী না ..মানষ চৌঃ গল্প- 'বীচিকলায় ঢেকে যায় মুখ ও শিরোনাম' by আনোয়ার ... গল্প- 'প্রীত পরায়া' by সিউতি সবুর গল্প- 'চলিতেছে' by মাহবুব মোর্শেদ গল্প- 'গোপন কথাটি' by উম্মে মুসলিমা গল্প- 'রূপকথা' by লুনা রুশদী সঞ্জীব চৌধুরীর কয়েকটি গল্প গল্প- 'অস্বস্তির সঙ্গে বসবাস' by ফাহমিদুল হক গল্প- 'মঙ্গামনস্ক শরীরীমুদ্রা' by ইমতিয়ার শামীম গল্প- 'হাজেরার বাপের দাইক দেনা' by জিয়া হাশান গল্প- ‘অপঘাতে মৃত্যু’ ও ‘সাদামাটা’ by লীসা গাজী গল্প- 'দ্বিতীয় জীবন' by ইরাজ আহমেদ গল্প- 'পুষ্পের মঞ্জিল' by সাগুফতা শারমীন তানিয়া গল্প- 'একশ ছেচল্লিশ টাকার গল্প' by কৌশিক আহমেদ
bdnews24 এর সৌজন্যে
লেখকঃ মঈনুল আহসান সাবের
এই গল্পটি পড়া হয়েছে...
লেখকঃ মঈনুল আহসান সাবের
এই গল্পটি পড়া হয়েছে...
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1447)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
-
▼
2010
(9402)
-
▼
October
(964)
-
▼
Oct 14
(41)
- গল্প- 'গাদি' by ইফফাত আরেফীন তন্বী
- গল্প- 'অনেক দিন আগের দিনেরা' by রনি আহম্মেদ
- একনেকে ২০৪১ কোটি টাকার নয়টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন
- আজ এডিবির সঙ্গে ১০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি স্বাক্ষর
- দুর্যোগের ‘প্রত্যয়’ ফিরে দেখা by মাহবুবা নাসরীন
- নভেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করবেন রানি এলিজাবেথ
- বংশানুক্রমিক ক্ষমতা হস্তান্তরের বিরোধী কিমের বড় ছেলে
- কলম্বিয়ার সাবেক এক সেনা কর্মকর্তার ৪৪ বছরের কারাদণ্ড
- চিলির খনিশ্রমিকদের তুলে আনা হবে আজ
- শীর্ষ ২০ ধনী নারীর ১১ জনই চীনের!
- ইসরায়েলকে ইহুদি রাষ্ট্রের স্বীকৃতির দাবি ফিলিস্তিন...
- সংশ্লিষ্ট কোম্পানির মালিকানা গ্রহণ করেছে সরকার
- ইউক্রেনে বাস-ট্রেন সংঘর্ষে নিহত ৪০
- পশ্চিমবঙ্গে ভারত ও যুক্তরাজ্যের সামরিক মহড়া
- আফগানিস্তানে ব্রিটিশ জিম্মির মৃত্যু তদন্তের নির্দেশ
- লৈঙ্গিক সমতায় এগিয়ে নরডিক দেশগুলো
- ভারতসহ চার দেশ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য
- সিয়াওবোর নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করতে পারেন তাঁর স্ত্রী
- মার্কিন রেস্তোরাঁগুলোতে হামলার আহ্বান আল-কায়েদার
- প্রার্থীদের অনেকেই আসামি
- পাকিস্তানে আসছেন দূত মেসি
- বিসিবির সভাপতি এবার আইসিসিতে
- চার দিনের ম্যাচ থামিয়ে ওয়ানডে!
- তিনে তিন মেনেজেসের
- দুই মেরুতে দুই দল
- গল্প- 'সম্পর্ক' by তারিক আল বান্না
- গল্প- 'তিতা মিঞার জঙ্গনামা' by অদিতি ফাল্গুনী
- গল্প- 'কর্কট' by রাশিদা সুলতানা
- গল্প- 'কোষা' by পাপড়ি রহমান
- গল্প- 'তুষার-ধবল' by সায়েমা খাতুন
- গল্প- 'নগর পিতা বৃষ্টি নামান' by অদিতি ফাল্গুনী
- গল্প- 'সেদিন বৃষ্টি ছিল' by মৃদুল আহমেদ
- গল্প- 'লাল ব্যাসার্ধ্ব' by শামীমা বিনতে রহমান
- গল্প- 'নিষুপ্ত শেকড়' by নিরমিন শিমেল
- গল্প- 'মরিবার হলো তার সাধ' by আহমাদ মোস্তফা কামাল
- গল্প- 'নওমির এক প্রহর' by সাইমুম পারভেজ
- গল্প- 'পুরির গল্প' by ইমরুল হাসান
- গল্প 'গহ্বর' by জাহিদ হায়দার
- গল্প- 'একে আমরা কাকতালীয় বলতে পারি' by মঈনুল আহসান...
- গল্প- 'একশ ছেচল্লিশ টাকার গল্প' by কৌশিক আহমেদ
- গল্প- 'পুষ্পের মঞ্জিল' by সাগুফতা শারমীন তানিয়া
-
▼
Oct 14
(41)
-
▼
October
(964)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
ইরান
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
কালবেলা
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
মুসলিম
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
জাতিসংঘ
রাশিয়া
মুক্তিযুদ্ধ
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সংখ্যালঘু
সৈয়দ আবুল মকসুদ
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
হিন্দু
রুদ্র মিজান
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
স্বাস্থ্য
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
শুভ্র দেব
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
জীবনযাপন
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কলকাতা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
তথ্য প্রযুক্তি
অস্ট্রেলিয়া
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
মসজিদ
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ইয়েমেন
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
Exclusive
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
জনস্বাস্থ্য
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
জোহরান মামদানি
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
ইহুদি
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
বেলজিয়াম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
জর্দান
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
আহমেদ মুনির
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment