Thursday, October 14, 2010
গল্প- 'সেদিন বৃষ্টি ছিল' by মৃদুল আহমেদ
গল্প- 'সেদিন বৃষ্টি ছিল' by মৃদুল আহমেদ
সূর্যটাকে আচমকা এক ফুঁ-তে নিভিয়ে দিয়ে রবিশঙ্করের তানপুরার মতো রিমিঝিমিয়ে বৃষ্টি নামল!
রিকশাঅলাও সাথে সাথে রিকশাটা রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে ফেলল। কোনো রকমের ঘোষণা ছাড়াই। বৃষ্টি শুরু হলে রিকশাঅলারা সাধারণত থামে না। চাকা না ঘুরলে পয়সা আসে না, ওরা জানে। হালের বলদের মতো নকল গোয়ার্তুমি দেখিয়ে সমানে প্যাডেল মারে।
কিন্তু এই রিকশঅলা ঝটাং করে রিকশা থামাল। বৃষ্টির প্রথম ছাঁটটা শুরু হবার সাথে সাথেই। যেন ইন্সটল করা সফটওয়্যার, বৃষ্টির টাচ লাগামাত্র রিকশা থেমে যাবে।
মোস্তাফিজ অন্যমনস্ক সুরে বলল, অ্যাই, তোমার পলিথিন নাই?
জবাবে রিকশাঅলা ক্যাবলার মতো হাসল, নিয়া বাইর হই নাই! ক্যাডায় জানে, এইরম আঁতকা বৃষ্টি আইব?
আসলেই, এ সময়ে বৃষ্টির ধরনটা এরকমই। দিব্যি জ্বলজ্বলে একটা দিন, রোদ ঝকঝক করছে, কিন্তু কোত্থেকে হঠাৎ তেড়েফুঁড়ে একটা হাওয়া দিল, বেশ মেঘ করে এল ওপরে, তারপরই ঝিরঝিরিয়ে নামল বৃষ্টি।
ওঃ বৃষ্টি! সে কী আশ্চর্য বৃষ্টি! মুহূর্তের মধ্যেই পুরো জায়গার চেহারাটাকে বদলে দিল। একটা ঝকমকে উজ্জ্বল বিকেল দু-মিনিটের মধ্যেই হয়ে গেল একটা বিষণ্ন প্রায়ান্ধকার সন্ধ্যা।
গলির ভেতর কতগুলো মানুষ হাঁটছিল, দাঁড়িয়ে ছিল। এ-বাড়ির ছাদ থেকে ও-বাড়ির ছাদের মেয়েদের দিকে তাকাচ্ছিল ছেলেরা, মেয়েরাও আড়চোখে সেই দৃষ্টি ফেরত দিচ্ছিল। চা-বিড়ির দোকানের সামনে বেঞ্চে অলস বসে ছিল দুই-চারটা লোক, ক্রিকেট খেলবে বলে ইঁটের ওপর ইঁট সাজিয়ে স্ট্যাম্প বানাচ্ছিল পিচ্চি পোলাপানের দল, কিন্তু বৃষ্টিটা এসেই সবাইকে হটিয়ে দিয়ে চারদিক এখন একেবারে শুনশান।
রিকশার ভেতর বসে বসে বৃষ্টির এই আশ্চর্য ক্ষমতা দেখছিল মোস্তাফিজ।
তার রিকশাঅলা পাশেই একটা গাছের নিচে দাঁড়িয়ে বিড়ি ফুঁকছে। একবার দাঁত বের করে হেসে বলল, সার বৃষ্টিতে ভিজতাছেন, নাইমা আসেন!
হ্যাঁ, মোস্তাফিজের ভেজা চলবে না। হাতের ফাইলের ভেতর অফিসের বেশকিছু জরুরি কাগজপত্র আছে। সেগুলো ভিজে গেলে মুশকিল।
মোস্তাফিজ নামল।
গাছ কতক্ষণ মানুষকে আশ্রয় দেয়? রোদ হলে সর্বক্ষণ, কিন্তু বৃষ্টি হলে তার একটা সীমা আছে। একটা সময় পাতা থেকে পাতায় পানি চুঁইয়ে পড়তে থাকে। সেটা হওয়ার আগেই ভালো একটা ছাদের নিচে চলে যাওয়া উচিত।
এদিকওদিক তাকিয়ে মোস্তাফিজ ছাদ খুঁজল। কোথাও কোনো ছাদ কি আছে? ওহে ভাইসব, ওহে এই পথচলতি অচেনা গলির বাসিন্দাগণ, আছে কি কোনো নিবিড় আচ্ছাদন, বৃষ্টির হাত থেকে অফিসের কাগজগুলো বাঁচানো খুব দরকার!
পাওয়া গেল। একটু কোনাকুনি একটা দৌড় দিলে গলির ও মাথায় একটা ছাদ তার জন্য অপেক্ষা করে আছে। সেই যে এক হাউজিং-এর বিজ্ঞাপনে এক বৌ স্মার্টলি তার জামাইকে বলেছিল না, ‘বাসা-বাড়ির কথা কিছু ভেবেছ? মাথা গোঁজার ঠাঁই তো দরকার!’ ঠিক সেরকমই, মাথা গোঁজার একটা ঠাঁই তার দরকার। এক্ষুনি, এ মুহূর্তে।
একটা দৌড় তাকে দিতে হবে। আর রিকশাঅলাটা? সে কী করবে?
তার দিকে ফিরে মোস্তাফিজ বলল, আমি ঐ বাড়িটার সামনে গিয়ে দাঁড়াচ্ছি…।
বলার দরকার ছিল না। একজন বাবুসমাজের মানুষ কখনো কোনো রিকশাঅলার কাছে কৈফিয়ত দেয় না। রিকশা নিয়ে কতটুকু এসেছে সে? পাঁচ টাকা বড়জোর হবে ভাড়া। একটা পাঁচ টাকার নোট কখনো সখনো একটা রিকশাঅলার পকেট থেকেও পড়ে যায়। এমন কিছু ক্ষতি নয়। সে দৌড়ে গিয়ে ঐ ছাদের নিচে দাঁড়ালে রিকশাঅলা ঐ পাঁচটাকা ভাড়া নিয়ে কি শঙ্কিত হয়ে উঠবে? কিছুই না।
কিন্তু মোস্তাফিজ না বলে পারে না। সে মানুষটাই ওরকম নয়। তার কেমন যেন সঙ্কোচ লাগে। ‘আমি ঐ বাড়িটার সামনে গিয়ে দাঁড়াচ্ছি’ কথাটার মানে হচ্ছে ‘আমি ঐ ছাদের নিচে বৃষ্টি শেষ না হওয়া পর্যন্ত তোমার জন্য দাঁড়িয়ে আছি। তোমার পাঁচ টাকা আমি মেরে দিয়ে পালিয়ে যাব না! নিশ্চিন্ত থাক!’
এইটুকু না বলে ঐ ছাদটার নিচে গিয়ে ঠিকমতো দাঁড়াতেও পারত না সে। খুব অস্বস্তি লাগত।
সে এরকমই।
একটু ভদ্রসদ্র গোছের নিরীহ মানুষ।
এই ভদ্রতা নিয়েই একবার একটা মজার ঘটনা ঘটেছিল।
রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাবার সময় কারো না কারো সাথে একটু ধাক্কা তো লাগবেই। কেউ তো আবার কারো পাও মাড়িয়ে দেয়, দিয়ে তারপর আবার নিরীহ হেসে বলে, সরি! যার পা মাড়িয়ে দেয়া হয়েছে, সে মিষ্টি একটা ‘সরি’ শুনে ভচকানো জুতা নিয়ে ল্যাংচাতে ল্যাংচাতে চলে যায়।
তৃণার সঙ্গে তার বিয়ের কিছুদিন পর। অতি ভদ্র মোস্তাফিজের এই ‘সরি’ বলার একটা বিশাল বাতিক দাঁড়িয়েছিল সেই সময়। কারো সাথে হালকা একটু ধাক্কা লাগলেই তার মুখ দিয়ে অটো সিস্টেমে ‘সরি’ বের হয়ে আসত।
একদিন তৃণার সাথে রাস্তা দিয়ে কথা বলতে বলতে হাঁটছিল সে, কার সঙ্গে যেন একটু ধাক্কা লাগল হঠাৎ। পাশ ফিরে না দেখেই সে বলল, ‘সরি!’। আশ্চর্য, তৃণা সঙ্গে সঙ্গে দাঁড়িয়ে পড়ে তার দিকে ঠাণ্ডা চোখে তাকিয়ে রইল।
ভদ্রলোক এবং নিরীহ মোস্তাফিজ সেই চাউনি দেখে চমকে গেল। ক্যাবলা হেসে বলল, কী হয়েছে?
তৃণা তাও তাকিয়ে আছে দেখে মোস্তাফিজ ধারণা করল, সে সম্ভবত কোনো মেয়ের সাথে ধাক্কা লাগিয়ে দিয়েছে! সেটাই তৃণার ক্ষেপে যাওয়ার কারণ। কিন্তু সে কি আর ইচ্ছে করে ধাক্কা লাগিয়েছে? সেরকম মানুষই সে নয়। সে পাশ ফিরে তাকিয়েও দেখে নি।
কাঁপা কাঁপা গলায় সে বলেছিল, সরি তৃণা, আমি কি কোনো মেয়ের গায়ে ধাক্কা দিয়েছি?
তাকে, এবং রাস্তায় হাঁটতে থাকা ভিড়ের একরাশ লোককে চমকে দিয়ে তৃণা হো হো করে হেসে উঠেছিল। হাসতে হাসতে বলেছিল, তোমার মতো বেকুব নিরীহ এবং অপদার্থ লোক যদি সেটা করতে পারত, তাহলে খুশিই হতাম! কিন্তু…।
কিন্তু?
তুমি যাকে ধাক্কা দিয়েছ, সে কোনো মানুষ ছিল না!
মানুষ ছিল না? মানে?
মোস্তাফিজের মাথায় আরো গণ্ডগোল লেগে যাচ্ছিল। মানুষ ছিল না মানে কী? তাহলে কি সেখানে কোনো জ্বিন দাঁড়িয়ে ছিল? অথবা এই ব্যস্ত ফুটপাথের ওপর কোনো জাবরকাটা গরু?
তৃণা উত্তর না দিয়ে ক্রমাগত হেসেই যাচ্ছিল। হাসির দমকে কেঁপে কেঁপে উঠছিল তার সারা শরীর। ফুটপাথের গতিসর্বস্ব ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিল তারা দুজন। পাশাপাশি। একজন বোকাদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আরেকজনের দিকে, সেই আরেকজন এই একজনের দিকে তাকিয়ে হাসিতে কেঁপে উঠছিল।
এক-একটা ছবি বোধহয় মহাকালের চিত্রশালায় স্থান পেয়ে যায়। ভিঞ্চির মোনালিসার মতোই ক্লাসিক সেইসব ছবি কখনো মুছে যায় না। চোখ বুঁজলেই দেখতে পাওয়া যায়। একদম জীবন্ত। পাশাপাশি দুইজন মানুষ। একজনের চোখে বিহ্বলতা, আরেকজনের ঠোঁটে হাসি। পাশেই চলমান ভিড়। সেই ভিড়কে অগ্রাহ্য করে দুটো মানুষ স্থির দাঁড়িয়ে।
মোস্তাফিজ চোখ বুঁজলে আজও সেই ক্লাসিক তৈলচিত্রটা একদম স্পষ্ট দেখতে পায়। তার চিত্রশালায় অবশ্য আরো অনেকগুলো ছবি আছে।
যাই হোক, তৃণা এরপর সেই গল্প অনেককে করেছে। পরিচিত যাকেই সামনে পেয়েছে, বলেছে, জানেন? আমার জামাইটা কীরকম বোকার হদ্দ? শুনুন না, কীরকম বেকুব! রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের গায়ে ধাক্কা দিয়ে না তাকিয়েই বলে, সরি!
বলেই তৃণার সেই কাঁপতে কাঁপতে হাসা। সেই হাসির ছবিও মোস্তাফিজের চিত্রশালায় তেলরঙে আঁকা আছে। মোস্তাফিজের খুব ইচ্ছে ছিল একসময়, ছবি আঁকতে শিখবে। অনেকগুলো ছবি স্মৃতি থেকে কাগজে-তুলিতে নামিয়ে রাখা দরকার। আর্ট কলেজে পড়ত এক বন্ধু, ইশতিয়াক নাম, একবার তার কাছে–
কে?
চমকে উঠে মোস্তাফিজ দেখল, কখন এক লোক বাড়িটা থেকে বেরিয়ে এসেছে! অন্ধকারে খেয়াল করে নি!
গলাটা বেশ কড়া। এই গলায় শুধু ‘কে’ না বলে ‘কে তুই’ বললেই বেশি মানাত।
সামনে এগিয়ে এসে লোকটি তাকে আপাদমস্তক নিরীক্ষণ করে নরম গলায় বলল, সরি!
তারপর বাড়ির কার্নিশের নিচে দাঁড় করিয়ে রাখা একটা মটরসাইকেল কাপড় দিয়ে মুছতে লাগল। এই ‘সরি’-এর মানে হল, লোকটা তাকে মটরসাইকেল চোর ভেবেছিল।
কী সাঙ্ঘাতিক! অন্ধকারে দাঁড় করিয়ে রাখা মটরসাইকেলটা মোস্তাফিজ দেখেই নি। মোস্তাফিজের প্যান্টে সার্ট ইন করা, গলায় বাড়তি উপকরণ হিসেবে একটা টাইও ঝুলছে। সেটা দেখেই বোঝা গেল, সে ভদ্রলোক? চোর নয়? তাহলে তো মটরসাইকেল চোরদের জানিয়ে দেয়া উচিত, তোমরা টাই পরে চুরি কর হে, ওতে সুবিধা বেশি!
মটরসাইকেল মুছে লোকটি কার্নিশের নিচে এসে দাঁড়াল। আকাশের দিকে একটা অর্থহীন দৃষ্টি দিয়ে বলল, বৃষ্টিটা যে কখন ধরবে!
অর্থাৎ, লোকটি এখন আলাপ জমাতে চাইছে। প্রথম দৃষ্টিতে মোস্তাফিজকে চোর ভেবে ফেলায় সে একান্তই অনুতপ্ত।
মোস্তাফিজের অবশ্য কিছু বলার নেই। সে আবহাওয়াবিদ নয় যে, বৃষ্টি কখন ধরে যাবে, সেটা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারে। কিন্তু আবহাওয়াবিদ না হলেও সে নিতান্তই ভদ্রলোক, কাজেই উসখুস করে উঠে বলল, হ্যাঁ, সেটাই!
দুটোই অনর্থক মন্তব্য। কিন্তু এই অনর্থক মন্তব্য থেকেই বিশাল একটা আলাপ জমে যেতে পারে অনায়াসেই। কেউ একজন যদি আগ বাড়িয়ে বলে, কোথায় যাবেন?
আমি? আর বলবেন না ভাই, ফার্মগেটে রাজধানী হোটেলের সামনে একজনের দাঁড়িয়ে থাকার কথা। ব্যাটা বহুদিনের পুরনো দেনাদার, বহু কষ্টে তাকে ধরা গেছে, ব্যাটা কথা দিয়েছে সাড়ে পাঁচটার সময় দাঁড়িয়ে থাকবে। কিন্তু এতক্ষণে তো বোধহয় ফুটে গেল!
তাই নাকি? দিন ব্যাটার মোবাইলে একটা ফোন! বলুন, বৃষ্টি তো বৃষ্টি, ইস্রাফিলের শিঙ্গা বাজলেও তুমি ঐখানেই দাঁড়িয়ে থাকবে! আই অ্যাম কামিং!
আরে না ভাই! সেরকম কি আর হয়? দেখুন, আন্ডারগ্রাউন্ড রেল থাকলে কিন্তু এত ঝামেলা হত না! বাইরের দেশগুলো এত উন্নতি করেছে কেন জানেন? জাস্ট বাই দ্যা আইডিয়া অব কমিউনিকেশন!
আরে রাখুন ভাই বাইরের দেশ! পাশের দেশ ইন্ডিয়ার অবস্থাই দেখুন! কলকাতার মতো ছ্যারছেরে মার্কা শহরেই পাতালরেল আছে! আর আমাদের অবস্থা?
এরপরেই আসবে দেশের অর্থনীতির কথা। এরপর দুর্নীতি। তারপরেই সবচেয়ে গরম সাবজেক্ট, রাজনীতি। এভাবেই আলাপ জমে যায়। অফিসের, বাসার ঠিকানা বিনিময় হয়… চলে আসবেন ভাই! …এরপর সত্যি সত্যি চলেও আসা হয়। বন্ধুত্ব হয়। কখনো সখনো আবার একজন আরেকজনের প্রফেশন্যাল লাইনের গুরুত্বপূর্ণ চেইনও হয়ে দাঁড়ায়।
এভাবেই হয়। কিন্তু মোস্তাফিজ এভাবে আলাপ জমাতে পারে না। মোস্তাফিজ মুখচোরা এবং নিরীহ। মানুষকে সে অ্যাকাউন্ট হিসেবে ভাবতে পারে না। কারো সাথে আলাপ হয়ে গেলেও সেই সম্পর্কটাকে ধরে রাখতে পারে না।
যেমন তৃণার সাথে তার সম্পর্কটাও পারে নি।
মটরসাইকেলটা নতুন, এইজন্য বেশ ভয়ে থাকি! …লোকটা হাসল, দুই মাস হয় কিনেছি, এর মধ্যে একবার চুরিও হতে নিয়েছিল!
কী বলবে বুঝতে পারল না মোস্তাফিজ। গালে আঙুল রেখে চোখ বড় বড় করে ‘তাই-ই-ই?’ বলা উচিত?
অন্ধকারে আপনাকে দেখে অন্য কিছু ভেবে বসেছিলাম!
না না, আমি সেরকম কিছু নই! এই দেখুন আমার আইডি কার্ড! আমি নিতান্তই একজন ভদ্রলোক, একটা সফটওয়্যার কোম্পানিতে ছুটকো একটা কাজ করি! কেরানির কাজই বলা যায় সেটাকে। বেচাকেনার হিসাবপত্তর রাখি। আমার মতো লোকের পক্ষে আপনার মটরসাইকেল হাপিস করে দেয়া সম্ভব নয়। সেটা করতে অসততার চেয়েও যেটা বেশি দরকার, সাহস, সেটাই আমার নেই!
অনেক কিছুই বলা যায়। কিন্তু মোস্তাফিজের পক্ষে কিছুই সম্ভব নয়। জবাবে সে শুধু একটু হাসল, তারপর বোকার মতো বলল, হ্যাঁ, আজকাল বড্ড গাড়ি চুরি হচ্ছে!
যেন সে গাড়ির কত খোঁজখবর রাখে। এবং মটরসাইকেলকে গাড়ি বলাটাও বোধহয় গ্রামাটিক্যাল মিসটেক।
আপনি জব করেন?
আমি? অ্যা হ্যাঁ, একটা সফটওয়্যার কোম্পানিতে জব করছি!
নাম?
মোস্তাফিজ!
না না, কোম্পানির নামের কথা জিজ্ঞেস করছি!
ও, কোম্পানির নাম ইউনিসফট!
আরে নামকরা কোম্পানি তো আপনার! অফিসের ডেবিট-ক্রেডিট মেলানোর একটা সফটওয়্যার বিক্রি করেন না আপনারা?
অনেক রকম সফটওয়্যারই বিক্রি করি!
তা তো ঠিকই। কিন্তু আপনাদের ঐ সফটওয়্যারটার কথা আমি জানি, কারণ, বহুদিন থেকেই আমাদের অফিসের জন্য ওটা কেনার কথা! আমার ডিপার্টমেন্টের জিএম অনেকবার তাগাদা দিয়েছেন, কিন্তু যাবো যাচ্ছি করে যাওয়া হচ্ছে না! আপনাকে পেয়ে তো বেশ ভালোই হল!
মোস্তাফিজ মৃদু হেসে বলল, তাই তো দেখছি!
আমি আরিফ, মুহাম্মাদ আরিফুল ইসলাম। সোনালি গ্রুপের মার্কেটিংয়ে আছি! অ্যাসিস্ট্যান্ট মার্কেটিং ম্যানেজার!
আচ্ছা!
মার্কেটিংয়ের লোকই বটে। চৌকস, চোখা কথাবার্তা। মটরসাইকেল চোর মনে করে যেরকম বাঘমার্কা গলায় ‘কে’ বলে উঠতে পারে, আবার মাখনঢালা নরম গলায় ‘সরি’ও বলতে পারে! বৃষ্টির মধ্যে একটা লোক অফিসের কাগজপত্র আর নিজের মাথাটা বাঁচাবার জন্য বাড়ির কার্নিশের নিচে এসে দাঁড়িয়েছে, তার সাথেও দিব্যি বিজনেসের আলাপ সেরে ফেলল!
বুদ্ধিমান এবং কর্মঠ লোক। এরাই পারে। এরাই নতুন মটরসাইকেল চালায়, আর বৃষ্টিভেজা মানুষের সাথেও বিজনেসের আলাপ সেরে ফেলে! সব এদেরই জন্য। বীরভোগ্যা বসুন্ধরা!
মোস্তাফিজকে ছেড়ে চলে যাবার পর গত বছর তৃণার তো আবার বিয়ে হয়েছে। এদেরই মতো কারো সঙ্গে নিশ্চয়। এরকমই উজ্জ্বল, উদ্যমী মানুষ তারা! তৃণার নতুন জামাইকে দেখে নি মোস্তাফিজ। কিন্তু এরকমই ঝকঝকে কোনো মানুষ অবশ্যই, সে জানে। তার মতো বুদ্ধিহীন মানুষে অভক্তি ছিল বলেই তো তৃণার চলে যাওয়া। সেক্ষেত্রে এরকম ঝকমকে বুদ্ধির চটক লাগা মানুষকেই তার বেছে নেয়ার কথা।
সফটওয়্যারটার দাম কত রাখেন আপনারা?
একটু চিন্তা করে মোস্তাফিজ বলল, এক লাখ বিশ।
যে বিক্রি করে দেয়, তার কমিশন কত?
কমিশন?
জ্বি ভাই, কমিশন। আপনি আপনার কোম্পানির একটা প্রোডাক্ট বিক্রি করে দিলে কমিশন পাবেন না?
ও আচ্ছা। হ্যাঁ, কমিশন দেয়া হয়। বেশ বড়সড়ই। এটাতে বোধহয় তিরিশের মতো।
মাথা চুলকে মোস্তাফিজ আবার যোগ করল, কমিশনটা সাধারণত মার্কেটিং ডিভিশনকেই দেয়া হয়!
আপনাকে দেবে না?
আমাকে? আমাকে… হ্যাঁ দেবে!
বাঃ! দারুণ! তাহলে আপনার পনেরো, আমার পনেরো!
আরিফ হা-হা করে হেসে উঠল! মোস্তাফিজও একটু ফ্যাকাশে হাসি হাসল।
মোস্তাফিজের কাঁধে একটা হাত এসে পড়ল। চওড়া কব্জিঅলা একটা হাত। সেই হাতের ভেতর যেন উষ্ণ রক্ত বয়ে যাচ্ছে, কান পাতলে শোনা যায়। সেই হাতটাই যেন বলে উঠল, না কি আপনার আপত্তি আছে?
জবাব না দিয়ে মৃদু একটা ভদ্রতার হাসি হাসল মোস্তাফিজ।
আচ্ছা ঠিক আছে, আপনার বিশ, আমার দশ! তবু একটা বউনি হোক! আমার পরিচিত আরো অনেক অফিসই সফটওয়্যারটা কিনবে, তখন থেকে পনেরো-পনেরো! আরে ভাই, ভালো করে একটু হাসুন! টাকা পাইয়ে দিচ্ছি আপনাকে! আমারও লাভ অবশ্য আছে, আপনাদের কোনো মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ আমাকে ঐ ভাগটা দিত না!
কারো ঘর থেকে কি সুন্দরী, বুদ্ধিমতী, বন্ধুত্বপূর্ণ কোনো বৌ চলে যেতে পারে? কিন্তু মোস্তাফিজের যায়। মোস্তাফিজ অবাক হয়ে দেখছিল। সে তো এরকম বুদ্ধিমান চটপটে লোক না, যাদেরকে এক কথায় বলা হয় ‘চালু’! হতে পারলে তাকে ছেড়ে তৃণা চলে যেতে পারত না! একটা পারার সাথে আরেকটা না-পারা সম্পৃক্ত। কী গতি লোকটার! বৃষ্টির ছাঁট থেকে বাঁচার জন্য একটু দাঁড়িয়েছিল সে এখানে, এই খানিক সময়ের মধ্যেই লোকটা তার চোখে বিশ হাজার টাকার নেশা লাগিয়ে দিল! টাকা এত সহজে হাতে চলে আসে?
বিশ হাজার টাকা মোস্তাফিজের এক মাসের বেতন।
কোন ব্র্যান্ড খান?
বুঝতে না পেরে আরিফের দিকে বোকার মতো তাকাল মোস্তাফিজ।
সিগারেট, সিগারেটের কথা বলছি! …আরিফ হাসল।
মাথা ঝাঁকিয়ে মোস্তাফিজ বলল, ওঃ! আমি সিগারেট খাই না!
গ্রেড ওয়ান জিপ্পোর ‘টং’ করে আওয়াজ হল। আধো অন্ধকারে জ্বলে উঠল একটা মুখ। এক পলক, তারপরেই আবার নিভে গেল। মোস্তাফিজ মুগ্ধ হয়ে দেখছিল। তারপর আপনমনেই যেন জিজ্ঞেস করে ফেলল, আপনি বিয়ে করেছেন?
বেশ খানিকক্ষণ থেকেই প্রশ্নটা বারে বারে চোখা ঠোঁট দিয়ে ঘা মারছিল ভেতরে, এবার বেরিয়ে এল।
বিয়ে? …আরিফ একটু অদ্ভুত চোখে তাকাল মোস্তাফিজের দিকে। তারপর একগাল হেসে বলল, গত বছরই বিয়েটা সেরেছি! লাইফের একটা বিশাল কাজ ভাই! সময় থাকতে সেরে রাখা ভালো!
চৌকস! খাসা! মোস্তাফিজ ক্রমশ মুগ্ধ হচ্ছিল। বিয়েটাও তার প্ল্যানের একটা অংশ! এরকমভাবে মোস্তাফিজ কি কোনোদিন ভাবতে পেরেছে? এজন্যেই তৃণা…।
তৃণার কথা বেশিক্ষণ ভাবলেই মোস্তাফিজের ভেতরে এক ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটতে থাকে। এই চারপাশের পৃথিবী ছেড়ে অন্য একটা ছবির পৃথিবীতে মন উড়াল দেয়। সেখানে বেশ কিছু বাছা বাছা ছবি। তেলরঙে, অনেক যত্নে আঁকা। একশোর বছরেও নষ্ট হবে না। …মোস্তাফিজ ক্রমশ তার নিজের চিত্রশালাটার ভেতরে ঢুকে যাচ্ছিল। তেলরঙে আঁকা তৃণার মুখ। বড় যত্নে টাঙানো আছে সেই ছবি। খুব আদর করে আঁকা।
আপনার স্ত্রীর নাম কী?
মোস্তাফিজের স্বরে অপরিসীম সারল্য। দুই চোখে ঘোর। সেই দুই চোখ দেখছে ইজেলে তৃণার মুখ। অথবা দেখছে তৃণার নতুন স্বামীর বুদ্ধিদীপ্ত চেহারা। চটপটে, চৌকস, বিত্তবান, মাথায় সবসময় নতুন নতুন আয়ের চিন্তা। স্বামী তো এরকমই হতে হয়! ঠিক এরকম!
প্রশ্নটা শুনে সিগারেটের আলোটা যেন এক পলক থমকে গেল। আরিফ মুখটা সামনে এগিয়ে নিয়ে এল, ঘোড়েল গলায় বলল, ব্যাপারটা কি ভাই বলুন তো? কোনো বিশাল প্রেম-ট্রেম ছিল নাকি? সোনালি গ্রুপ এসে সাইড মেরে দিয়ে গেছে?
এখন অনায়াসেই একটা মিষ্টি গল্প বানিয়ে বলা যায়… আরে না ভাই, আমার ছোট মামার এক মেয়ের বিয়ে হয়েছে আপনাদের এই সোনালি গ্রুপেই। কাজের চাপে যেতে পারি নি সেই বিয়েতে, জামাইকেও দেখা হয় নি। ভাবলাম, আপনিই সেই জামাইবাবাজি নাকি…!
কিন্তু মোস্তাফিজ এসব গল্প বানিয়ে বলতে পারে না। পারলে… থাক, পারলে কী হত, সে নিয়ে আর কথা বাড়ানোর দরকার নেই।
আরিফ এক মুখ ধোঁয়া ছেড়ে হো হো করে হেসে উঠল! বলল, আরে ভাই প্রেম-ট্রেম থাকলে বলুন না! আমার এসব নিয়ে কোনো প্রবলেম নেই। বিয়ের আগে দেবদাস-পার্বতীর মতো মন দেয়ানেয়া খেলবে না এমন অরোমান্টিক বৌ আমার পছন্দ না! হলে আমি খুশিই হব!
মোস্তাফিজ আলতো গলায় জিজ্ঞেস করল, কী নাম আপনার স্ত্রীর?
আরিফ চোখ পিটপিট করে বলল, তৃণা! আমার বৌয়ের নাম তৃণা! কী ভাই, মিলল নাম?
বুক ধ্বক করে উঠেছিল মোস্তাফিজের। তাহলে ঠিকই ভেবেছে সে! বীরভোগ্যা বসুন্ধরা! এই অসীম আত্মবিশ্বাসী চতুর লোকটিই তৃণার স্বামী!
কিন্তু কোন নিয়তি তাকে বৃষ্টির মধ্যে ফেলে এই আশ্চর্য ছাদের নিচে এনে দাঁড় করাল? এ তো গল্প-উপন্যাস কিংবা সিনেমায় হয়! ঘুরেফিরে ঠিক এই দিনেই, এই বৃষ্টিঝরা সন্ধ্যায় স্বামীসহ তৃণা তাকে এই বাড়ির সামনে কোণঠাসা করে ফেলল?
এবং তৃণা আসছে… ঐ যে শোনা যাচ্ছে তার গলার আওয়াজ!
কথা বলতে বলতে একটি নারীমূর্তি এই সন্ধ্যার আধো অন্ধকার ঠেলে এগিয়ে এল। তার সঙ্গে আরো কয়েকজন। স্বামী নিয়ে এই বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল বোধহয়। বাড়িটার সামনে এই জায়গাতে কোনো আলো নেই। হয় বালব ফিউজ, নয় তো চোর বালব খুলে নিয়ে গেছে! তাতে অবশ্য ভালোই হয়েছে। নিয়তি মোস্তাফিজকে যে জায়গায় নিয়ে এসেছে, সেখানে ঝকঝকে আলোর মধ্যে দাঁড়াবার মতো সাহস নেই তার!
তৃণা এসে রিনরিনে কণ্ঠে বলল, বৃষ্টি থেমেছে তো, তাই না?
পিছন থেকে একজন পুরুষকণ্ঠ বলল, বৃষ্টি থামার জন্য যে পরিমাণ ব্যস্ত হয়েছিলেন, না থেমে উপায় আছে?
একটা মৃদু হাসির গুঞ্জন উঠল।
তৃণা বলল, আহা, বোঝেন না কেন? আমাকে বাসায় রেখে উনাকে আবার আরেক জায়গায় যেতে হবে! আসব আরেকদিন!
এরপরের বার বেশি সময় নিয়ে!
হ্যাঁ, বেশি সময় নিয়ে!
আরিফ গলা খুলল এবার, তৃণা, পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি, ইনি আমার নতুন বন্ধু মোস্তাফিজ! সামনে এসে ভালো করে উনার চেহারা দেখ! দেখ তো চিনতে পার কিনা!
তৃণা সামনে এগিয়ে এল। মোস্তাফিজকে দেখে ম্লান হাসল একটু, বলল, স্লামালিকুম! ভালো আছেন?
ভালো? …মোস্তাফিজের যেন জ্ঞান ফিরে এল, হ্যাঁ, আমি ভালো আছি, আপনি ভালো?
জবাবে তৃণা মৃদু হাসল। বেশ মিষ্টি তার এই হাসিটা। মোস্তাফিজের ভালো লাগল, বড় সুন্দর একটা মেয়ে! না, তার বিগত স্ত্রী তৃণা এ নয়। এ আরো এক তৃণা। আগের তৃণার চেয়েও আরো সুন্দর। হয়ত বা কে জানে, আগের তৃণার আরো মডিফাইড ভার্সন।
আরিফ হাসতে হাসতে বলল, ভালো করে দেখ দেখি একজন আরেকজনকে, চিনতে পার কিনা! মোস্তাফিজ ভাইয়ের ভয়াবহ কোনো এক প্রেমের সমাধি ঘটেছে এই সোনালি গ্র“পে। সেই থেকে সোনালি গ্র“পের লোক শুনলেই তিনি বৌয়ের নাম জিজ্ঞেস করেন!
নির্দয় রসিকতা। তবে সেটা মোস্তাফিজের কাছে, আরিফের কাছে নয়। কিন্তু আরিফরা রসিকতা করবে, আর মোস্তাফিজদের সেটা মাথা নিচু করে শুনতে হবে, এটাই দুনিয়ার নিয়ম এখন।
তৃণা অবশ্য আরিফের কাঁধে শাসনের একটা ছোট্ট আদুরে চাপড় মারল!
যে বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল আরিফরা, সে বাড়ির গৃহকর্তা এবং তার গিন্নির সাথে আলাপ হল। ফাঁকা শুভেচ্ছা বিনিময়, আর ‘কেমন আছেন’ জাতীয় অর্থহীন প্রশ্ন।
মটরসাইকেলে উঠে এক কিকে স্টার্ট দিয়ে পিছন ফিরে হাসল আরিফ, তাহলে ঐ কথাই রইল! আপনি বিশ, আমি দশ, এরপর থেকে পনেরো-পনেরো! আপনার অফিস আমি চিনি, যোগাযোগ করব! মোস্তাফিজ বললে চিনবে তো?
মোস্তাফিজ নীরবে মাথা নাড়ল।
মটরসাইকেলের ওপর চেপে বসল তৃণা। একটা হাত দিয়ে কোমর জড়িয়ে ধরল আরিফের। সেই হাতের ভেতর অনেক কথা আছে। সন্ধ্যার ল্যাম্পপোস্টের আলোয় তার প্রসাধন করা মুখটা তখনো ঝকমক করছে। একরাশ ধোঁয়া ছেড়ে মটরসাইকেলটা চলে গেল।
দ্বিতীয় তৃণার চেহারাটা গলির বাঁকে মিলিয়ে গেল। ঐ তৃণা নয়, এ আরো এক তৃণা। কিন্তু ঘটনা একই।
আগের তৃণাও হয়ত এরকমই কোনো একজনকে বিয়ে করেছে, স্বামীর কোমর জড়িয়ে ধরে মটরসাইকেলে চেপে এলোমেলো বাতাসে চুল ওড়াচ্ছে। মোস্তাফিজের মতো অপদার্থ মানুষের প্রতি তার ভীষণ বিতৃষ্ণা, আরিফের মতো আত্মবিশ্বাসী মানুষই একমাত্র তার তৃষ্ণায় জল ঢালতে পারে।
চোখ কুঁচকে ভাবল মোস্তাফিজ, সেইজন্যই কি সব আরিফরা সব তৃণাদের মটরসাইকেলে তুলে নিয়ে দিগন্তে মিলিয়ে যাচ্ছে… আর পেট্রোলপোড়া ধোঁয়ার মধ্যে বেকুবের মতো দাঁড়িয়ে থাকছে মোস্তাফিজরা… অপদার্থ, সাহসহীন মোস্তাফিজ!
সব তৃষ্ণা ঠাণ্ডা জলে মেটে না। তার ওপর বিতৃষ্ণ হয়ে তৃণা যখন সংসার ছেড়ে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তখন তাকে কেন শক্ত দুই হাতে জড়িয়ে ধরে নি মোস্তাফিজ? চুলের মুঠি চেপে ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দিতে কি সে পারত না? নিছক ভালোমানুষি ছাড়াও স্বামীর কাছে অনেককিছু চাওয়ার থাকে মেয়েদের!
রিকশাঅলাটা গাছতলায় দাঁড়িয়ে আছে। হাতে আবারও একটা বিড়ি। তার একমাত্র বিনোদন।
মোস্তাফিজ যেতেই ‘আসেন সার’ বলে রিকশায় গিয়ে উঠল। ঢুলতে ঢুলতে রিকশা চলেছে, আর মোস্তাফিজ তখন মনে মনে আরেকটা তেলরঙের ছবি আঁকছে। ঝকমকে সুন্দর একটা মুখ, তাতে সন্ধ্যার ম্লান আলো মাখানো। নতুন তৃণার ছবি, যে আগের তৃণার আরো অনেক পরিমার্জিত সংস্করণ। সন্ধ্যার আলোতেও যার রূপ পদ্মফুলের মতো ফুটে থাকে।
পৃথিবীর সব তৃণাদের কেন নিয়ে যায় আরিফেরা? নিয়ে যদি যায়ই, তাহলে আবার কেন মোস্তাফিজদের সাথে নতুন রফা করে পনেরো-পনেরোতে? আর সেই পনেরো-পনেরো কেন তৃণাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়? তাহলে বুদ্ধিহীন, বেকুব, অপদার্থ মোস্তাফিজরা কাকে নিয়ে বাঁচবে?
কল্পনায় তেলরঙে আঁকা মোস্তাফিজের সব ছবিগুলো তার চোখের জলরঙে গুলে একাকার হয়ে যাচ্ছিল…।
রিকশাঅলাও সাথে সাথে রিকশাটা রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে ফেলল। কোনো রকমের ঘোষণা ছাড়াই। বৃষ্টি শুরু হলে রিকশাঅলারা সাধারণত থামে না। চাকা না ঘুরলে পয়সা আসে না, ওরা জানে। হালের বলদের মতো নকল গোয়ার্তুমি দেখিয়ে সমানে প্যাডেল মারে।
কিন্তু এই রিকশঅলা ঝটাং করে রিকশা থামাল। বৃষ্টির প্রথম ছাঁটটা শুরু হবার সাথে সাথেই। যেন ইন্সটল করা সফটওয়্যার, বৃষ্টির টাচ লাগামাত্র রিকশা থেমে যাবে।
মোস্তাফিজ অন্যমনস্ক সুরে বলল, অ্যাই, তোমার পলিথিন নাই?
জবাবে রিকশাঅলা ক্যাবলার মতো হাসল, নিয়া বাইর হই নাই! ক্যাডায় জানে, এইরম আঁতকা বৃষ্টি আইব?
আসলেই, এ সময়ে বৃষ্টির ধরনটা এরকমই। দিব্যি জ্বলজ্বলে একটা দিন, রোদ ঝকঝক করছে, কিন্তু কোত্থেকে হঠাৎ তেড়েফুঁড়ে একটা হাওয়া দিল, বেশ মেঘ করে এল ওপরে, তারপরই ঝিরঝিরিয়ে নামল বৃষ্টি।
ওঃ বৃষ্টি! সে কী আশ্চর্য বৃষ্টি! মুহূর্তের মধ্যেই পুরো জায়গার চেহারাটাকে বদলে দিল। একটা ঝকমকে উজ্জ্বল বিকেল দু-মিনিটের মধ্যেই হয়ে গেল একটা বিষণ্ন প্রায়ান্ধকার সন্ধ্যা।
গলির ভেতর কতগুলো মানুষ হাঁটছিল, দাঁড়িয়ে ছিল। এ-বাড়ির ছাদ থেকে ও-বাড়ির ছাদের মেয়েদের দিকে তাকাচ্ছিল ছেলেরা, মেয়েরাও আড়চোখে সেই দৃষ্টি ফেরত দিচ্ছিল। চা-বিড়ির দোকানের সামনে বেঞ্চে অলস বসে ছিল দুই-চারটা লোক, ক্রিকেট খেলবে বলে ইঁটের ওপর ইঁট সাজিয়ে স্ট্যাম্প বানাচ্ছিল পিচ্চি পোলাপানের দল, কিন্তু বৃষ্টিটা এসেই সবাইকে হটিয়ে দিয়ে চারদিক এখন একেবারে শুনশান।
রিকশার ভেতর বসে বসে বৃষ্টির এই আশ্চর্য ক্ষমতা দেখছিল মোস্তাফিজ।
তার রিকশাঅলা পাশেই একটা গাছের নিচে দাঁড়িয়ে বিড়ি ফুঁকছে। একবার দাঁত বের করে হেসে বলল, সার বৃষ্টিতে ভিজতাছেন, নাইমা আসেন!
হ্যাঁ, মোস্তাফিজের ভেজা চলবে না। হাতের ফাইলের ভেতর অফিসের বেশকিছু জরুরি কাগজপত্র আছে। সেগুলো ভিজে গেলে মুশকিল।
মোস্তাফিজ নামল।
গাছ কতক্ষণ মানুষকে আশ্রয় দেয়? রোদ হলে সর্বক্ষণ, কিন্তু বৃষ্টি হলে তার একটা সীমা আছে। একটা সময় পাতা থেকে পাতায় পানি চুঁইয়ে পড়তে থাকে। সেটা হওয়ার আগেই ভালো একটা ছাদের নিচে চলে যাওয়া উচিত।
এদিকওদিক তাকিয়ে মোস্তাফিজ ছাদ খুঁজল। কোথাও কোনো ছাদ কি আছে? ওহে ভাইসব, ওহে এই পথচলতি অচেনা গলির বাসিন্দাগণ, আছে কি কোনো নিবিড় আচ্ছাদন, বৃষ্টির হাত থেকে অফিসের কাগজগুলো বাঁচানো খুব দরকার!
পাওয়া গেল। একটু কোনাকুনি একটা দৌড় দিলে গলির ও মাথায় একটা ছাদ তার জন্য অপেক্ষা করে আছে। সেই যে এক হাউজিং-এর বিজ্ঞাপনে এক বৌ স্মার্টলি তার জামাইকে বলেছিল না, ‘বাসা-বাড়ির কথা কিছু ভেবেছ? মাথা গোঁজার ঠাঁই তো দরকার!’ ঠিক সেরকমই, মাথা গোঁজার একটা ঠাঁই তার দরকার। এক্ষুনি, এ মুহূর্তে।
একটা দৌড় তাকে দিতে হবে। আর রিকশাঅলাটা? সে কী করবে?
তার দিকে ফিরে মোস্তাফিজ বলল, আমি ঐ বাড়িটার সামনে গিয়ে দাঁড়াচ্ছি…।
বলার দরকার ছিল না। একজন বাবুসমাজের মানুষ কখনো কোনো রিকশাঅলার কাছে কৈফিয়ত দেয় না। রিকশা নিয়ে কতটুকু এসেছে সে? পাঁচ টাকা বড়জোর হবে ভাড়া। একটা পাঁচ টাকার নোট কখনো সখনো একটা রিকশাঅলার পকেট থেকেও পড়ে যায়। এমন কিছু ক্ষতি নয়। সে দৌড়ে গিয়ে ঐ ছাদের নিচে দাঁড়ালে রিকশাঅলা ঐ পাঁচটাকা ভাড়া নিয়ে কি শঙ্কিত হয়ে উঠবে? কিছুই না।
কিন্তু মোস্তাফিজ না বলে পারে না। সে মানুষটাই ওরকম নয়। তার কেমন যেন সঙ্কোচ লাগে। ‘আমি ঐ বাড়িটার সামনে গিয়ে দাঁড়াচ্ছি’ কথাটার মানে হচ্ছে ‘আমি ঐ ছাদের নিচে বৃষ্টি শেষ না হওয়া পর্যন্ত তোমার জন্য দাঁড়িয়ে আছি। তোমার পাঁচ টাকা আমি মেরে দিয়ে পালিয়ে যাব না! নিশ্চিন্ত থাক!’
এইটুকু না বলে ঐ ছাদটার নিচে গিয়ে ঠিকমতো দাঁড়াতেও পারত না সে। খুব অস্বস্তি লাগত।
সে এরকমই।
একটু ভদ্রসদ্র গোছের নিরীহ মানুষ।
এই ভদ্রতা নিয়েই একবার একটা মজার ঘটনা ঘটেছিল।
রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাবার সময় কারো না কারো সাথে একটু ধাক্কা তো লাগবেই। কেউ তো আবার কারো পাও মাড়িয়ে দেয়, দিয়ে তারপর আবার নিরীহ হেসে বলে, সরি! যার পা মাড়িয়ে দেয়া হয়েছে, সে মিষ্টি একটা ‘সরি’ শুনে ভচকানো জুতা নিয়ে ল্যাংচাতে ল্যাংচাতে চলে যায়।
তৃণার সঙ্গে তার বিয়ের কিছুদিন পর। অতি ভদ্র মোস্তাফিজের এই ‘সরি’ বলার একটা বিশাল বাতিক দাঁড়িয়েছিল সেই সময়। কারো সাথে হালকা একটু ধাক্কা লাগলেই তার মুখ দিয়ে অটো সিস্টেমে ‘সরি’ বের হয়ে আসত।
একদিন তৃণার সাথে রাস্তা দিয়ে কথা বলতে বলতে হাঁটছিল সে, কার সঙ্গে যেন একটু ধাক্কা লাগল হঠাৎ। পাশ ফিরে না দেখেই সে বলল, ‘সরি!’। আশ্চর্য, তৃণা সঙ্গে সঙ্গে দাঁড়িয়ে পড়ে তার দিকে ঠাণ্ডা চোখে তাকিয়ে রইল।
ভদ্রলোক এবং নিরীহ মোস্তাফিজ সেই চাউনি দেখে চমকে গেল। ক্যাবলা হেসে বলল, কী হয়েছে?
তৃণা তাও তাকিয়ে আছে দেখে মোস্তাফিজ ধারণা করল, সে সম্ভবত কোনো মেয়ের সাথে ধাক্কা লাগিয়ে দিয়েছে! সেটাই তৃণার ক্ষেপে যাওয়ার কারণ। কিন্তু সে কি আর ইচ্ছে করে ধাক্কা লাগিয়েছে? সেরকম মানুষই সে নয়। সে পাশ ফিরে তাকিয়েও দেখে নি।
কাঁপা কাঁপা গলায় সে বলেছিল, সরি তৃণা, আমি কি কোনো মেয়ের গায়ে ধাক্কা দিয়েছি?
তাকে, এবং রাস্তায় হাঁটতে থাকা ভিড়ের একরাশ লোককে চমকে দিয়ে তৃণা হো হো করে হেসে উঠেছিল। হাসতে হাসতে বলেছিল, তোমার মতো বেকুব নিরীহ এবং অপদার্থ লোক যদি সেটা করতে পারত, তাহলে খুশিই হতাম! কিন্তু…।
কিন্তু?
তুমি যাকে ধাক্কা দিয়েছ, সে কোনো মানুষ ছিল না!
মানুষ ছিল না? মানে?
মোস্তাফিজের মাথায় আরো গণ্ডগোল লেগে যাচ্ছিল। মানুষ ছিল না মানে কী? তাহলে কি সেখানে কোনো জ্বিন দাঁড়িয়ে ছিল? অথবা এই ব্যস্ত ফুটপাথের ওপর কোনো জাবরকাটা গরু?
তৃণা উত্তর না দিয়ে ক্রমাগত হেসেই যাচ্ছিল। হাসির দমকে কেঁপে কেঁপে উঠছিল তার সারা শরীর। ফুটপাথের গতিসর্বস্ব ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিল তারা দুজন। পাশাপাশি। একজন বোকাদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আরেকজনের দিকে, সেই আরেকজন এই একজনের দিকে তাকিয়ে হাসিতে কেঁপে উঠছিল।
এক-একটা ছবি বোধহয় মহাকালের চিত্রশালায় স্থান পেয়ে যায়। ভিঞ্চির মোনালিসার মতোই ক্লাসিক সেইসব ছবি কখনো মুছে যায় না। চোখ বুঁজলেই দেখতে পাওয়া যায়। একদম জীবন্ত। পাশাপাশি দুইজন মানুষ। একজনের চোখে বিহ্বলতা, আরেকজনের ঠোঁটে হাসি। পাশেই চলমান ভিড়। সেই ভিড়কে অগ্রাহ্য করে দুটো মানুষ স্থির দাঁড়িয়ে।
মোস্তাফিজ চোখ বুঁজলে আজও সেই ক্লাসিক তৈলচিত্রটা একদম স্পষ্ট দেখতে পায়। তার চিত্রশালায় অবশ্য আরো অনেকগুলো ছবি আছে।
যাই হোক, তৃণা এরপর সেই গল্প অনেককে করেছে। পরিচিত যাকেই সামনে পেয়েছে, বলেছে, জানেন? আমার জামাইটা কীরকম বোকার হদ্দ? শুনুন না, কীরকম বেকুব! রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের গায়ে ধাক্কা দিয়ে না তাকিয়েই বলে, সরি!
বলেই তৃণার সেই কাঁপতে কাঁপতে হাসা। সেই হাসির ছবিও মোস্তাফিজের চিত্রশালায় তেলরঙে আঁকা আছে। মোস্তাফিজের খুব ইচ্ছে ছিল একসময়, ছবি আঁকতে শিখবে। অনেকগুলো ছবি স্মৃতি থেকে কাগজে-তুলিতে নামিয়ে রাখা দরকার। আর্ট কলেজে পড়ত এক বন্ধু, ইশতিয়াক নাম, একবার তার কাছে–
কে?
চমকে উঠে মোস্তাফিজ দেখল, কখন এক লোক বাড়িটা থেকে বেরিয়ে এসেছে! অন্ধকারে খেয়াল করে নি!
গলাটা বেশ কড়া। এই গলায় শুধু ‘কে’ না বলে ‘কে তুই’ বললেই বেশি মানাত।
সামনে এগিয়ে এসে লোকটি তাকে আপাদমস্তক নিরীক্ষণ করে নরম গলায় বলল, সরি!
তারপর বাড়ির কার্নিশের নিচে দাঁড় করিয়ে রাখা একটা মটরসাইকেল কাপড় দিয়ে মুছতে লাগল। এই ‘সরি’-এর মানে হল, লোকটা তাকে মটরসাইকেল চোর ভেবেছিল।
কী সাঙ্ঘাতিক! অন্ধকারে দাঁড় করিয়ে রাখা মটরসাইকেলটা মোস্তাফিজ দেখেই নি। মোস্তাফিজের প্যান্টে সার্ট ইন করা, গলায় বাড়তি উপকরণ হিসেবে একটা টাইও ঝুলছে। সেটা দেখেই বোঝা গেল, সে ভদ্রলোক? চোর নয়? তাহলে তো মটরসাইকেল চোরদের জানিয়ে দেয়া উচিত, তোমরা টাই পরে চুরি কর হে, ওতে সুবিধা বেশি!
মটরসাইকেল মুছে লোকটি কার্নিশের নিচে এসে দাঁড়াল। আকাশের দিকে একটা অর্থহীন দৃষ্টি দিয়ে বলল, বৃষ্টিটা যে কখন ধরবে!
অর্থাৎ, লোকটি এখন আলাপ জমাতে চাইছে। প্রথম দৃষ্টিতে মোস্তাফিজকে চোর ভেবে ফেলায় সে একান্তই অনুতপ্ত।
মোস্তাফিজের অবশ্য কিছু বলার নেই। সে আবহাওয়াবিদ নয় যে, বৃষ্টি কখন ধরে যাবে, সেটা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারে। কিন্তু আবহাওয়াবিদ না হলেও সে নিতান্তই ভদ্রলোক, কাজেই উসখুস করে উঠে বলল, হ্যাঁ, সেটাই!
দুটোই অনর্থক মন্তব্য। কিন্তু এই অনর্থক মন্তব্য থেকেই বিশাল একটা আলাপ জমে যেতে পারে অনায়াসেই। কেউ একজন যদি আগ বাড়িয়ে বলে, কোথায় যাবেন?
আমি? আর বলবেন না ভাই, ফার্মগেটে রাজধানী হোটেলের সামনে একজনের দাঁড়িয়ে থাকার কথা। ব্যাটা বহুদিনের পুরনো দেনাদার, বহু কষ্টে তাকে ধরা গেছে, ব্যাটা কথা দিয়েছে সাড়ে পাঁচটার সময় দাঁড়িয়ে থাকবে। কিন্তু এতক্ষণে তো বোধহয় ফুটে গেল!
তাই নাকি? দিন ব্যাটার মোবাইলে একটা ফোন! বলুন, বৃষ্টি তো বৃষ্টি, ইস্রাফিলের শিঙ্গা বাজলেও তুমি ঐখানেই দাঁড়িয়ে থাকবে! আই অ্যাম কামিং!
আরে না ভাই! সেরকম কি আর হয়? দেখুন, আন্ডারগ্রাউন্ড রেল থাকলে কিন্তু এত ঝামেলা হত না! বাইরের দেশগুলো এত উন্নতি করেছে কেন জানেন? জাস্ট বাই দ্যা আইডিয়া অব কমিউনিকেশন!
আরে রাখুন ভাই বাইরের দেশ! পাশের দেশ ইন্ডিয়ার অবস্থাই দেখুন! কলকাতার মতো ছ্যারছেরে মার্কা শহরেই পাতালরেল আছে! আর আমাদের অবস্থা?
এরপরেই আসবে দেশের অর্থনীতির কথা। এরপর দুর্নীতি। তারপরেই সবচেয়ে গরম সাবজেক্ট, রাজনীতি। এভাবেই আলাপ জমে যায়। অফিসের, বাসার ঠিকানা বিনিময় হয়… চলে আসবেন ভাই! …এরপর সত্যি সত্যি চলেও আসা হয়। বন্ধুত্ব হয়। কখনো সখনো আবার একজন আরেকজনের প্রফেশন্যাল লাইনের গুরুত্বপূর্ণ চেইনও হয়ে দাঁড়ায়।
এভাবেই হয়। কিন্তু মোস্তাফিজ এভাবে আলাপ জমাতে পারে না। মোস্তাফিজ মুখচোরা এবং নিরীহ। মানুষকে সে অ্যাকাউন্ট হিসেবে ভাবতে পারে না। কারো সাথে আলাপ হয়ে গেলেও সেই সম্পর্কটাকে ধরে রাখতে পারে না।
যেমন তৃণার সাথে তার সম্পর্কটাও পারে নি।
মটরসাইকেলটা নতুন, এইজন্য বেশ ভয়ে থাকি! …লোকটা হাসল, দুই মাস হয় কিনেছি, এর মধ্যে একবার চুরিও হতে নিয়েছিল!
কী বলবে বুঝতে পারল না মোস্তাফিজ। গালে আঙুল রেখে চোখ বড় বড় করে ‘তাই-ই-ই?’ বলা উচিত?
অন্ধকারে আপনাকে দেখে অন্য কিছু ভেবে বসেছিলাম!
না না, আমি সেরকম কিছু নই! এই দেখুন আমার আইডি কার্ড! আমি নিতান্তই একজন ভদ্রলোক, একটা সফটওয়্যার কোম্পানিতে ছুটকো একটা কাজ করি! কেরানির কাজই বলা যায় সেটাকে। বেচাকেনার হিসাবপত্তর রাখি। আমার মতো লোকের পক্ষে আপনার মটরসাইকেল হাপিস করে দেয়া সম্ভব নয়। সেটা করতে অসততার চেয়েও যেটা বেশি দরকার, সাহস, সেটাই আমার নেই!
অনেক কিছুই বলা যায়। কিন্তু মোস্তাফিজের পক্ষে কিছুই সম্ভব নয়। জবাবে সে শুধু একটু হাসল, তারপর বোকার মতো বলল, হ্যাঁ, আজকাল বড্ড গাড়ি চুরি হচ্ছে!
যেন সে গাড়ির কত খোঁজখবর রাখে। এবং মটরসাইকেলকে গাড়ি বলাটাও বোধহয় গ্রামাটিক্যাল মিসটেক।
আপনি জব করেন?
আমি? অ্যা হ্যাঁ, একটা সফটওয়্যার কোম্পানিতে জব করছি!
নাম?
মোস্তাফিজ!
না না, কোম্পানির নামের কথা জিজ্ঞেস করছি!
ও, কোম্পানির নাম ইউনিসফট!
আরে নামকরা কোম্পানি তো আপনার! অফিসের ডেবিট-ক্রেডিট মেলানোর একটা সফটওয়্যার বিক্রি করেন না আপনারা?
অনেক রকম সফটওয়্যারই বিক্রি করি!
তা তো ঠিকই। কিন্তু আপনাদের ঐ সফটওয়্যারটার কথা আমি জানি, কারণ, বহুদিন থেকেই আমাদের অফিসের জন্য ওটা কেনার কথা! আমার ডিপার্টমেন্টের জিএম অনেকবার তাগাদা দিয়েছেন, কিন্তু যাবো যাচ্ছি করে যাওয়া হচ্ছে না! আপনাকে পেয়ে তো বেশ ভালোই হল!
মোস্তাফিজ মৃদু হেসে বলল, তাই তো দেখছি!
আমি আরিফ, মুহাম্মাদ আরিফুল ইসলাম। সোনালি গ্রুপের মার্কেটিংয়ে আছি! অ্যাসিস্ট্যান্ট মার্কেটিং ম্যানেজার!
আচ্ছা!
মার্কেটিংয়ের লোকই বটে। চৌকস, চোখা কথাবার্তা। মটরসাইকেল চোর মনে করে যেরকম বাঘমার্কা গলায় ‘কে’ বলে উঠতে পারে, আবার মাখনঢালা নরম গলায় ‘সরি’ও বলতে পারে! বৃষ্টির মধ্যে একটা লোক অফিসের কাগজপত্র আর নিজের মাথাটা বাঁচাবার জন্য বাড়ির কার্নিশের নিচে এসে দাঁড়িয়েছে, তার সাথেও দিব্যি বিজনেসের আলাপ সেরে ফেলল!
বুদ্ধিমান এবং কর্মঠ লোক। এরাই পারে। এরাই নতুন মটরসাইকেল চালায়, আর বৃষ্টিভেজা মানুষের সাথেও বিজনেসের আলাপ সেরে ফেলে! সব এদেরই জন্য। বীরভোগ্যা বসুন্ধরা!
মোস্তাফিজকে ছেড়ে চলে যাবার পর গত বছর তৃণার তো আবার বিয়ে হয়েছে। এদেরই মতো কারো সঙ্গে নিশ্চয়। এরকমই উজ্জ্বল, উদ্যমী মানুষ তারা! তৃণার নতুন জামাইকে দেখে নি মোস্তাফিজ। কিন্তু এরকমই ঝকঝকে কোনো মানুষ অবশ্যই, সে জানে। তার মতো বুদ্ধিহীন মানুষে অভক্তি ছিল বলেই তো তৃণার চলে যাওয়া। সেক্ষেত্রে এরকম ঝকমকে বুদ্ধির চটক লাগা মানুষকেই তার বেছে নেয়ার কথা।
সফটওয়্যারটার দাম কত রাখেন আপনারা?
একটু চিন্তা করে মোস্তাফিজ বলল, এক লাখ বিশ।
যে বিক্রি করে দেয়, তার কমিশন কত?
কমিশন?
জ্বি ভাই, কমিশন। আপনি আপনার কোম্পানির একটা প্রোডাক্ট বিক্রি করে দিলে কমিশন পাবেন না?
ও আচ্ছা। হ্যাঁ, কমিশন দেয়া হয়। বেশ বড়সড়ই। এটাতে বোধহয় তিরিশের মতো।
মাথা চুলকে মোস্তাফিজ আবার যোগ করল, কমিশনটা সাধারণত মার্কেটিং ডিভিশনকেই দেয়া হয়!
আপনাকে দেবে না?
আমাকে? আমাকে… হ্যাঁ দেবে!
বাঃ! দারুণ! তাহলে আপনার পনেরো, আমার পনেরো!
আরিফ হা-হা করে হেসে উঠল! মোস্তাফিজও একটু ফ্যাকাশে হাসি হাসল।
মোস্তাফিজের কাঁধে একটা হাত এসে পড়ল। চওড়া কব্জিঅলা একটা হাত। সেই হাতের ভেতর যেন উষ্ণ রক্ত বয়ে যাচ্ছে, কান পাতলে শোনা যায়। সেই হাতটাই যেন বলে উঠল, না কি আপনার আপত্তি আছে?
জবাব না দিয়ে মৃদু একটা ভদ্রতার হাসি হাসল মোস্তাফিজ।
আচ্ছা ঠিক আছে, আপনার বিশ, আমার দশ! তবু একটা বউনি হোক! আমার পরিচিত আরো অনেক অফিসই সফটওয়্যারটা কিনবে, তখন থেকে পনেরো-পনেরো! আরে ভাই, ভালো করে একটু হাসুন! টাকা পাইয়ে দিচ্ছি আপনাকে! আমারও লাভ অবশ্য আছে, আপনাদের কোনো মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ আমাকে ঐ ভাগটা দিত না!
কারো ঘর থেকে কি সুন্দরী, বুদ্ধিমতী, বন্ধুত্বপূর্ণ কোনো বৌ চলে যেতে পারে? কিন্তু মোস্তাফিজের যায়। মোস্তাফিজ অবাক হয়ে দেখছিল। সে তো এরকম বুদ্ধিমান চটপটে লোক না, যাদেরকে এক কথায় বলা হয় ‘চালু’! হতে পারলে তাকে ছেড়ে তৃণা চলে যেতে পারত না! একটা পারার সাথে আরেকটা না-পারা সম্পৃক্ত। কী গতি লোকটার! বৃষ্টির ছাঁট থেকে বাঁচার জন্য একটু দাঁড়িয়েছিল সে এখানে, এই খানিক সময়ের মধ্যেই লোকটা তার চোখে বিশ হাজার টাকার নেশা লাগিয়ে দিল! টাকা এত সহজে হাতে চলে আসে?
বিশ হাজার টাকা মোস্তাফিজের এক মাসের বেতন।
কোন ব্র্যান্ড খান?
বুঝতে না পেরে আরিফের দিকে বোকার মতো তাকাল মোস্তাফিজ।
সিগারেট, সিগারেটের কথা বলছি! …আরিফ হাসল।
মাথা ঝাঁকিয়ে মোস্তাফিজ বলল, ওঃ! আমি সিগারেট খাই না!
গ্রেড ওয়ান জিপ্পোর ‘টং’ করে আওয়াজ হল। আধো অন্ধকারে জ্বলে উঠল একটা মুখ। এক পলক, তারপরেই আবার নিভে গেল। মোস্তাফিজ মুগ্ধ হয়ে দেখছিল। তারপর আপনমনেই যেন জিজ্ঞেস করে ফেলল, আপনি বিয়ে করেছেন?
বেশ খানিকক্ষণ থেকেই প্রশ্নটা বারে বারে চোখা ঠোঁট দিয়ে ঘা মারছিল ভেতরে, এবার বেরিয়ে এল।
বিয়ে? …আরিফ একটু অদ্ভুত চোখে তাকাল মোস্তাফিজের দিকে। তারপর একগাল হেসে বলল, গত বছরই বিয়েটা সেরেছি! লাইফের একটা বিশাল কাজ ভাই! সময় থাকতে সেরে রাখা ভালো!
চৌকস! খাসা! মোস্তাফিজ ক্রমশ মুগ্ধ হচ্ছিল। বিয়েটাও তার প্ল্যানের একটা অংশ! এরকমভাবে মোস্তাফিজ কি কোনোদিন ভাবতে পেরেছে? এজন্যেই তৃণা…।
তৃণার কথা বেশিক্ষণ ভাবলেই মোস্তাফিজের ভেতরে এক ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটতে থাকে। এই চারপাশের পৃথিবী ছেড়ে অন্য একটা ছবির পৃথিবীতে মন উড়াল দেয়। সেখানে বেশ কিছু বাছা বাছা ছবি। তেলরঙে, অনেক যত্নে আঁকা। একশোর বছরেও নষ্ট হবে না। …মোস্তাফিজ ক্রমশ তার নিজের চিত্রশালাটার ভেতরে ঢুকে যাচ্ছিল। তেলরঙে আঁকা তৃণার মুখ। বড় যত্নে টাঙানো আছে সেই ছবি। খুব আদর করে আঁকা।
আপনার স্ত্রীর নাম কী?
মোস্তাফিজের স্বরে অপরিসীম সারল্য। দুই চোখে ঘোর। সেই দুই চোখ দেখছে ইজেলে তৃণার মুখ। অথবা দেখছে তৃণার নতুন স্বামীর বুদ্ধিদীপ্ত চেহারা। চটপটে, চৌকস, বিত্তবান, মাথায় সবসময় নতুন নতুন আয়ের চিন্তা। স্বামী তো এরকমই হতে হয়! ঠিক এরকম!
প্রশ্নটা শুনে সিগারেটের আলোটা যেন এক পলক থমকে গেল। আরিফ মুখটা সামনে এগিয়ে নিয়ে এল, ঘোড়েল গলায় বলল, ব্যাপারটা কি ভাই বলুন তো? কোনো বিশাল প্রেম-ট্রেম ছিল নাকি? সোনালি গ্রুপ এসে সাইড মেরে দিয়ে গেছে?
এখন অনায়াসেই একটা মিষ্টি গল্প বানিয়ে বলা যায়… আরে না ভাই, আমার ছোট মামার এক মেয়ের বিয়ে হয়েছে আপনাদের এই সোনালি গ্রুপেই। কাজের চাপে যেতে পারি নি সেই বিয়েতে, জামাইকেও দেখা হয় নি। ভাবলাম, আপনিই সেই জামাইবাবাজি নাকি…!
কিন্তু মোস্তাফিজ এসব গল্প বানিয়ে বলতে পারে না। পারলে… থাক, পারলে কী হত, সে নিয়ে আর কথা বাড়ানোর দরকার নেই।
আরিফ এক মুখ ধোঁয়া ছেড়ে হো হো করে হেসে উঠল! বলল, আরে ভাই প্রেম-ট্রেম থাকলে বলুন না! আমার এসব নিয়ে কোনো প্রবলেম নেই। বিয়ের আগে দেবদাস-পার্বতীর মতো মন দেয়ানেয়া খেলবে না এমন অরোমান্টিক বৌ আমার পছন্দ না! হলে আমি খুশিই হব!
মোস্তাফিজ আলতো গলায় জিজ্ঞেস করল, কী নাম আপনার স্ত্রীর?
আরিফ চোখ পিটপিট করে বলল, তৃণা! আমার বৌয়ের নাম তৃণা! কী ভাই, মিলল নাম?
বুক ধ্বক করে উঠেছিল মোস্তাফিজের। তাহলে ঠিকই ভেবেছে সে! বীরভোগ্যা বসুন্ধরা! এই অসীম আত্মবিশ্বাসী চতুর লোকটিই তৃণার স্বামী!
কিন্তু কোন নিয়তি তাকে বৃষ্টির মধ্যে ফেলে এই আশ্চর্য ছাদের নিচে এনে দাঁড় করাল? এ তো গল্প-উপন্যাস কিংবা সিনেমায় হয়! ঘুরেফিরে ঠিক এই দিনেই, এই বৃষ্টিঝরা সন্ধ্যায় স্বামীসহ তৃণা তাকে এই বাড়ির সামনে কোণঠাসা করে ফেলল?
এবং তৃণা আসছে… ঐ যে শোনা যাচ্ছে তার গলার আওয়াজ!
কথা বলতে বলতে একটি নারীমূর্তি এই সন্ধ্যার আধো অন্ধকার ঠেলে এগিয়ে এল। তার সঙ্গে আরো কয়েকজন। স্বামী নিয়ে এই বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল বোধহয়। বাড়িটার সামনে এই জায়গাতে কোনো আলো নেই। হয় বালব ফিউজ, নয় তো চোর বালব খুলে নিয়ে গেছে! তাতে অবশ্য ভালোই হয়েছে। নিয়তি মোস্তাফিজকে যে জায়গায় নিয়ে এসেছে, সেখানে ঝকঝকে আলোর মধ্যে দাঁড়াবার মতো সাহস নেই তার!
তৃণা এসে রিনরিনে কণ্ঠে বলল, বৃষ্টি থেমেছে তো, তাই না?
পিছন থেকে একজন পুরুষকণ্ঠ বলল, বৃষ্টি থামার জন্য যে পরিমাণ ব্যস্ত হয়েছিলেন, না থেমে উপায় আছে?
একটা মৃদু হাসির গুঞ্জন উঠল।
তৃণা বলল, আহা, বোঝেন না কেন? আমাকে বাসায় রেখে উনাকে আবার আরেক জায়গায় যেতে হবে! আসব আরেকদিন!
এরপরের বার বেশি সময় নিয়ে!
হ্যাঁ, বেশি সময় নিয়ে!
আরিফ গলা খুলল এবার, তৃণা, পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি, ইনি আমার নতুন বন্ধু মোস্তাফিজ! সামনে এসে ভালো করে উনার চেহারা দেখ! দেখ তো চিনতে পার কিনা!
তৃণা সামনে এগিয়ে এল। মোস্তাফিজকে দেখে ম্লান হাসল একটু, বলল, স্লামালিকুম! ভালো আছেন?
ভালো? …মোস্তাফিজের যেন জ্ঞান ফিরে এল, হ্যাঁ, আমি ভালো আছি, আপনি ভালো?
জবাবে তৃণা মৃদু হাসল। বেশ মিষ্টি তার এই হাসিটা। মোস্তাফিজের ভালো লাগল, বড় সুন্দর একটা মেয়ে! না, তার বিগত স্ত্রী তৃণা এ নয়। এ আরো এক তৃণা। আগের তৃণার চেয়েও আরো সুন্দর। হয়ত বা কে জানে, আগের তৃণার আরো মডিফাইড ভার্সন।
আরিফ হাসতে হাসতে বলল, ভালো করে দেখ দেখি একজন আরেকজনকে, চিনতে পার কিনা! মোস্তাফিজ ভাইয়ের ভয়াবহ কোনো এক প্রেমের সমাধি ঘটেছে এই সোনালি গ্র“পে। সেই থেকে সোনালি গ্র“পের লোক শুনলেই তিনি বৌয়ের নাম জিজ্ঞেস করেন!
নির্দয় রসিকতা। তবে সেটা মোস্তাফিজের কাছে, আরিফের কাছে নয়। কিন্তু আরিফরা রসিকতা করবে, আর মোস্তাফিজদের সেটা মাথা নিচু করে শুনতে হবে, এটাই দুনিয়ার নিয়ম এখন।
তৃণা অবশ্য আরিফের কাঁধে শাসনের একটা ছোট্ট আদুরে চাপড় মারল!
যে বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল আরিফরা, সে বাড়ির গৃহকর্তা এবং তার গিন্নির সাথে আলাপ হল। ফাঁকা শুভেচ্ছা বিনিময়, আর ‘কেমন আছেন’ জাতীয় অর্থহীন প্রশ্ন।
মটরসাইকেলে উঠে এক কিকে স্টার্ট দিয়ে পিছন ফিরে হাসল আরিফ, তাহলে ঐ কথাই রইল! আপনি বিশ, আমি দশ, এরপর থেকে পনেরো-পনেরো! আপনার অফিস আমি চিনি, যোগাযোগ করব! মোস্তাফিজ বললে চিনবে তো?
মোস্তাফিজ নীরবে মাথা নাড়ল।
মটরসাইকেলের ওপর চেপে বসল তৃণা। একটা হাত দিয়ে কোমর জড়িয়ে ধরল আরিফের। সেই হাতের ভেতর অনেক কথা আছে। সন্ধ্যার ল্যাম্পপোস্টের আলোয় তার প্রসাধন করা মুখটা তখনো ঝকমক করছে। একরাশ ধোঁয়া ছেড়ে মটরসাইকেলটা চলে গেল।
দ্বিতীয় তৃণার চেহারাটা গলির বাঁকে মিলিয়ে গেল। ঐ তৃণা নয়, এ আরো এক তৃণা। কিন্তু ঘটনা একই।
আগের তৃণাও হয়ত এরকমই কোনো একজনকে বিয়ে করেছে, স্বামীর কোমর জড়িয়ে ধরে মটরসাইকেলে চেপে এলোমেলো বাতাসে চুল ওড়াচ্ছে। মোস্তাফিজের মতো অপদার্থ মানুষের প্রতি তার ভীষণ বিতৃষ্ণা, আরিফের মতো আত্মবিশ্বাসী মানুষই একমাত্র তার তৃষ্ণায় জল ঢালতে পারে।
চোখ কুঁচকে ভাবল মোস্তাফিজ, সেইজন্যই কি সব আরিফরা সব তৃণাদের মটরসাইকেলে তুলে নিয়ে দিগন্তে মিলিয়ে যাচ্ছে… আর পেট্রোলপোড়া ধোঁয়ার মধ্যে বেকুবের মতো দাঁড়িয়ে থাকছে মোস্তাফিজরা… অপদার্থ, সাহসহীন মোস্তাফিজ!
সব তৃষ্ণা ঠাণ্ডা জলে মেটে না। তার ওপর বিতৃষ্ণ হয়ে তৃণা যখন সংসার ছেড়ে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তখন তাকে কেন শক্ত দুই হাতে জড়িয়ে ধরে নি মোস্তাফিজ? চুলের মুঠি চেপে ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দিতে কি সে পারত না? নিছক ভালোমানুষি ছাড়াও স্বামীর কাছে অনেককিছু চাওয়ার থাকে মেয়েদের!
রিকশাঅলাটা গাছতলায় দাঁড়িয়ে আছে। হাতে আবারও একটা বিড়ি। তার একমাত্র বিনোদন।
মোস্তাফিজ যেতেই ‘আসেন সার’ বলে রিকশায় গিয়ে উঠল। ঢুলতে ঢুলতে রিকশা চলেছে, আর মোস্তাফিজ তখন মনে মনে আরেকটা তেলরঙের ছবি আঁকছে। ঝকমকে সুন্দর একটা মুখ, তাতে সন্ধ্যার ম্লান আলো মাখানো। নতুন তৃণার ছবি, যে আগের তৃণার আরো অনেক পরিমার্জিত সংস্করণ। সন্ধ্যার আলোতেও যার রূপ পদ্মফুলের মতো ফুটে থাকে।
পৃথিবীর সব তৃণাদের কেন নিয়ে যায় আরিফেরা? নিয়ে যদি যায়ই, তাহলে আবার কেন মোস্তাফিজদের সাথে নতুন রফা করে পনেরো-পনেরোতে? আর সেই পনেরো-পনেরো কেন তৃণাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়? তাহলে বুদ্ধিহীন, বেকুব, অপদার্থ মোস্তাফিজরা কাকে নিয়ে বাঁচবে?
কল্পনায় তেলরঙে আঁকা মোস্তাফিজের সব ছবিগুলো তার চোখের জলরঙে গুলে একাকার হয়ে যাচ্ছিল…।
============================
গল্প- আলিমের নিভৃতিচর্চা by রাশিদা সুলতানা গল্প- প্রত্যাবর্তন: আমার ‘ফেরা’ নিয়ে যে কাহিনী না ..মানষ চৌঃ গল্প- 'বীচিকলায় ঢেকে যায় মুখ ও শিরোনাম' by আনোয়ার ... গল্প- 'প্রীত পরায়া' by সিউতি সবুর গল্প- 'চলিতেছে' by মাহবুব মোর্শেদ গল্প- 'গোপন কথাটি' by উম্মে মুসলিমা গল্প- 'রূপকথা' by লুনা রুশদী সঞ্জীব চৌধুরীর কয়েকটি গল্প গল্প- 'অস্বস্তির সঙ্গে বসবাস' by ফাহমিদুল হক গল্প- 'মঙ্গামনস্ক শরীরীমুদ্রা' by ইমতিয়ার শামীম গল্প- 'হাজেরার বাপের দাইক দেনা' by জিয়া হাশান গল্প- ‘অপঘাতে মৃত্যু’ ও ‘সাদামাটা’ by লীসা গাজী গল্প- 'দ্বিতীয় জীবন' by ইরাজ আহমেদ গল্প- 'পুষ্পের মঞ্জিল' by সাগুফতা শারমীন তানিয়া গল্প- 'একশ ছেচল্লিশ টাকার গল্প' by কৌশিক আহমেদ গল্প- 'একে আমরা কাকতালীয় বলতে পারি' by মঈনুল আহসান.. গল্প 'গহ্বর' by জাহিদ হায়দার গল্প- 'পুরির গল্প' by ইমরুল হাসান গল্প- 'নওমির এক প্রহর' by সাইমুম পারভেজ গল্প- 'মরিবার হলো তার সাধ' by আহমাদ মোস্তফা কামাল গল্প- 'নিষুপ্ত শেকড়' by নিরমিন শিমেল গল্প- 'লাল ব্যাসার্ধ্ব' by শামীমা বিনতে রহমান
bdnews24 এর সৌজন্যে
লেখকঃ মৃদুল আহমেদ
এই গল্পটি পড়া হয়েছে...
লেখকঃ মৃদুল আহমেদ
এই গল্পটি পড়া হয়েছে...
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1447)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
-
▼
2010
(9402)
-
▼
October
(964)
-
▼
Oct 14
(41)
- গল্প- 'গাদি' by ইফফাত আরেফীন তন্বী
- গল্প- 'অনেক দিন আগের দিনেরা' by রনি আহম্মেদ
- একনেকে ২০৪১ কোটি টাকার নয়টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন
- আজ এডিবির সঙ্গে ১০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি স্বাক্ষর
- দুর্যোগের ‘প্রত্যয়’ ফিরে দেখা by মাহবুবা নাসরীন
- নভেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করবেন রানি এলিজাবেথ
- বংশানুক্রমিক ক্ষমতা হস্তান্তরের বিরোধী কিমের বড় ছেলে
- কলম্বিয়ার সাবেক এক সেনা কর্মকর্তার ৪৪ বছরের কারাদণ্ড
- চিলির খনিশ্রমিকদের তুলে আনা হবে আজ
- শীর্ষ ২০ ধনী নারীর ১১ জনই চীনের!
- ইসরায়েলকে ইহুদি রাষ্ট্রের স্বীকৃতির দাবি ফিলিস্তিন...
- সংশ্লিষ্ট কোম্পানির মালিকানা গ্রহণ করেছে সরকার
- ইউক্রেনে বাস-ট্রেন সংঘর্ষে নিহত ৪০
- পশ্চিমবঙ্গে ভারত ও যুক্তরাজ্যের সামরিক মহড়া
- আফগানিস্তানে ব্রিটিশ জিম্মির মৃত্যু তদন্তের নির্দেশ
- লৈঙ্গিক সমতায় এগিয়ে নরডিক দেশগুলো
- ভারতসহ চার দেশ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য
- সিয়াওবোর নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করতে পারেন তাঁর স্ত্রী
- মার্কিন রেস্তোরাঁগুলোতে হামলার আহ্বান আল-কায়েদার
- প্রার্থীদের অনেকেই আসামি
- পাকিস্তানে আসছেন দূত মেসি
- বিসিবির সভাপতি এবার আইসিসিতে
- চার দিনের ম্যাচ থামিয়ে ওয়ানডে!
- তিনে তিন মেনেজেসের
- দুই মেরুতে দুই দল
- গল্প- 'সম্পর্ক' by তারিক আল বান্না
- গল্প- 'তিতা মিঞার জঙ্গনামা' by অদিতি ফাল্গুনী
- গল্প- 'কর্কট' by রাশিদা সুলতানা
- গল্প- 'কোষা' by পাপড়ি রহমান
- গল্প- 'তুষার-ধবল' by সায়েমা খাতুন
- গল্প- 'নগর পিতা বৃষ্টি নামান' by অদিতি ফাল্গুনী
- গল্প- 'সেদিন বৃষ্টি ছিল' by মৃদুল আহমেদ
- গল্প- 'লাল ব্যাসার্ধ্ব' by শামীমা বিনতে রহমান
- গল্প- 'নিষুপ্ত শেকড়' by নিরমিন শিমেল
- গল্প- 'মরিবার হলো তার সাধ' by আহমাদ মোস্তফা কামাল
- গল্প- 'নওমির এক প্রহর' by সাইমুম পারভেজ
- গল্প- 'পুরির গল্প' by ইমরুল হাসান
- গল্প 'গহ্বর' by জাহিদ হায়দার
- গল্প- 'একে আমরা কাকতালীয় বলতে পারি' by মঈনুল আহসান...
- গল্প- 'একশ ছেচল্লিশ টাকার গল্প' by কৌশিক আহমেদ
- গল্প- 'পুষ্পের মঞ্জিল' by সাগুফতা শারমীন তানিয়া
-
▼
Oct 14
(41)
-
▼
October
(964)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
ইরান
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
কালবেলা
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
মুসলিম
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
জাতিসংঘ
রাশিয়া
মুক্তিযুদ্ধ
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সংখ্যালঘু
সৈয়দ আবুল মকসুদ
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
হিন্দু
রুদ্র মিজান
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
স্বাস্থ্য
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
শুভ্র দেব
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
জীবনযাপন
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কলকাতা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
তথ্য প্রযুক্তি
অস্ট্রেলিয়া
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
মসজিদ
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ইয়েমেন
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
Exclusive
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
জনস্বাস্থ্য
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
জোহরান মামদানি
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
ইহুদি
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
বেলজিয়াম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
জর্দান
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
আহমেদ মুনির
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment