Monday, January 8, 2018
আড্ডায় ভাটা চ্যাটে জোয়ার
আড্ডায় ভাটা চ্যাটে জোয়ার

একটা
সময় বাঙালি আর আড্ডা ছিল একে অন্যের পরিপূরক। সময় আর প্রযুক্তি বদলে
দিয়েছে সব। আড্ডায় এখন ভাটার টান। মানুষ ব্যস্ত ফেসবুকসহ নানা মাধ্যমে
চ্যাটে। এই বদল আর এর পরিণতি নিয়ে নিজেদের ভাবনার কথা বলেছেন, নানা
শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজনেরা। তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, মানবজমিনের রিপোর্টার-সিরাজুস সালেকিন, উৎপল রায়, ফয়সাল রাব্বিকীন, কামরুজ্জামান মিলু, হাফিজ মুহাম্মদ এবং এন আই বুলবুল।
অধ্যাপক আনিসুজ্জামান
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিরেটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, আমাদের সময় ফেসবুকের যুগ না থাকায় আমরা সামনাসামনিই বেশি যোগাযোগ করতাম। এখন আড্ডার ধরনটা বদলেছে কিন্তু যোগাযোগের পেছনে যে অন্তর্নিহিত মনোভাব সেটি এখনো বদলায়নি। তিনি বলেন, আগের যে আড্ডা, তারও ভালো- খারাপ দিক ছিল। এখন যে আড্ডা তারও ভালো-খারাপ দিক আছে। তবে, আমার মনে হয় মুখোমুখি বসে যে আড্ডা দেয়া সেটা এখনো কমেনি। তিনি বলেন, এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখি ছেলেমেয়েরা বসে গল্প করছে। টিএসসিতে গেলেই দেখা যায় এত ছেলেমেয়ে গল্প করছে যে, চলাচলই অনেক সময় মুশকিল হয়ে পড়ে। ওই আড্ডাটা বোধহয় একেবারেই বন্ধ হয়নি।
ড. কামাল হোসেন
সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, সমাজের পরিবেশ অনেকটা বদলানো হয়েছে। এক হচ্ছে রাজনীতির যে ভূমিকা মানুষকে একে অন্যের কাছে আনা, একে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া এখন আমরা লক্ষ্য করছি রাজনীতি মানুষের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করছে। মানুষ মানুষের মধ্যে দূরত্ব। কেউ কারও প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হয়ে চায় বিতর্কিত হোক। এটা একটা রোগ যে অন্যকে বিতর্কিত করে দাও। আমরা লক্ষ্য করছি যে, রুগ্ণ রাজনীতির ফল। রুগ্ণ রাজনীতি খারাপের দিকে নেয়। রাজনীতিবিদরা ঐক্যের কথা বলেন কিন্তু করেন উল্টো কাজ। যদি সত্যিই ঐক্যের পরিবেশ থাকতো তবে ঐক্যেই হতো।
নূরে-আলম সিদ্দিকী
ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নূরে-আলম সিদ্দিকী বলেন, আমাদের যৌবনের সময় সামনাসামনি আড্ডাটা ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিকনির্ভর। রাজনীতির কারণে সেসময় বিভিন্ন স্থানে আড্ডা দিতাম আর তা থাকতো আলোচনা, চর্চা ও পর্যালোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ। তখন যে যেই ছিল সে সেইভাবে আড্ডার সঙ্গে যুক্ত ছিল। তবে বর্তমানে বিজ্ঞানের প্রসারতার কারণে মানুষের চিন্তাও দিগন্ত বিস্মৃত হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে মানুষ আত্মকেন্দ্রিকও হয়ে যাচ্ছে। তাই বিজ্ঞানভিত্তিক ও আত্মকেন্দ্রিকতার সংমিশ্রণে অনেকে এক সঙ্গে বসে আড্ডা দেয় না। বরং তাদের চিন্তা ও মননশীলতার যাদের সঙ্গে মিল রয়েছে তাদের সঙ্গেই ইন্টারনেট ফেসবুকসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মাধ্যমে আড্ডা দিচ্ছে। ব্যক্তিগতভাবে সরাসরি আড্ডাটা দেয়ার প্রবণতা এখন একবারেই ম্লান হয়ে যাচ্ছে। এখন দেখা যায় মানুষ দূর দেশে অপরিচিত একজনের সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরি করছে অথচ পাশের বাসার প্রতিবেশী সম্বন্ধে ধারণা রাখছে না। এমনটা আমাদের সময় কখনো দেখা যেত না।
কামাল লোহানী
ভাষা সংগ্রামী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী বলেন, সময়ের পরিবর্তন হয়েছে। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিজ্ঞানের অগ্রগতি হয়েছে। এসবের কারণে অনেক কিছুই পাল্টে গেছে। সময়ের পরিবর্তন যখন হয় তখন সঙ্গে সঙ্গে অন্য উপাচারগুলোর পরিবর্তন হতে থাকে। একারণেই নতুন কিছু আবির্ভাবের সঙ্গে ব্যবহারিক জীবন বা প্রায়োগিক জীবনের পদ্ধতিও পাল্টে যায়। তিনি বলেন, বাঙালি সমাজের যে সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল আড্ডা। আগে পাড়ায় পাড়ায় আড্ডা হতো, চা-খানায় আড্ডা হতো, ঘরে বসে আড্ডা হতো। এখন সেগুলো নেই বললেই চলে। কামাল লোহানী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে জিনিসটা হচ্ছে সেটির একদিকে যেমন ভালো দিক আছে, তেমনি খারাপ দিকও আছে। ভালোর দিকটা যেটা হচ্ছে, মানুষের সঙ্গে খুব সহজেই যোগাযোগ করা যায়। মুক্ত মনে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা যায়। আর অসুবিধে যেটা হচ্ছে আমাদের চিন্তা- ভাবনার বিরুদ্ধে কিছু জিনিস আছে। যেমন মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে কিছু ব্লগ আছে। সেখানে যা ইচ্ছা লেখা হচ্ছে। এগুলো লেখার সাহস যারা পায়, সরকার কি এগুলো দেখে না? আর যেসব ব্লগার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে, জনগণের পক্ষে লেখে তাদেরকে মামলায় জড়িয়ে পড়তে হয়, গ্রেপ্তার হতে হয়।
সৈয়দ আনোয়ার হোসেন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, মুখোমুখি আড্ডায় যে একটা মানবিক স্পর্শ ছিল সেটা এখন উঠে গেছে। ফেসবুকের মাধ্যমে আড্ডা দিতে গিয়ে মানুষের নৈকট্যভিত্তিক যে আন্তঃমানবীয় সম্পর্ক সেটা কিন্তু বিঘ্নিত হচ্ছে। আর তার কারণটা হচ্ছে এখন জীবনযাপন, চলাচল অনেকটা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকটা সময় অযথা ব্যয় করতে হয়। এর বিকল্প হিসেবে ফেসবুক প্রযুক্তি অনেকটা সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবে কাজ করে। তিনি বলেন, মানুষের জন্য আন্তঃমানবীয় সংযোগ সবসময়ই প্রয়োজন রয়েছে। কারণ আন্তঃমানবীয় সংযোগের মধ্য দিয়ে আন্তঃমানবীয় কর্মকাণ্ড উৎসারিত হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভালো দিক হচ্ছে প্রযুক্তিভিত্তিক মানবীয় আন্তঃসম্পর্ক অনেকটা সহজ হয়েছে। আর আজকাল তো চলাচল করা বেশ কঠিন। পথেই অনেকটা সময় কেটে যায়। কাজেই আড্ডা দিতে হলে বা সামাজিক যোগাযোগ রক্ষা করতে হলে ফেসবুক অনেকটা সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবে কাজ করে। সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, যেকোনো প্রযুক্তি ব্যবহারে ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক আছে। ইদানীংকালে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাত্রাটি সম্পর্কে অসচেতনতার কারণে সামাজিক নেতিবাচক প্রভাব বেশ প্রকট হয়ে ওঠছে। এটি এখন আসক্তি পর্যায়ে চলে গেছে। সামাজিকভাবে এর নেতিবাচক প্রভাবও এখন দৃশ্যমান। আর দীর্ঘ সময় ধরে ফেসবুক ব্যবহার বিভিন্ন মানবিক রোগের কারণ। তাই অতিমাত্রায় কোনো কিছুই ভালো নয়। প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে রয়ে সয়ে।
গোলাম সারওয়ার
সমকাল পত্রিকার সম্পাদক গোলাম সারওয়ার বলেন, আমরা আগে দিনে আড্ডা মারতাম, সবাই এক সঙ্গে বসে কথা বলতাম, নিকটজনের সঙ্গে ফুর্তি করতাম এটা এখন একেবারে শেষ হয়ে গেছে। নাতি-নাতনীদের সঙ্গেও আগে সামনে বসে কথা বলতাম, কোলে তুলে নিতাম সেটাও শেষ হওয়ার পথে। আমি আমার নাতিদের কথাই বলি তারা আমেরিকাতে থাকে। দেখা যায় এক ফ্লোর থেকে অন্য ফ্লোরে তারা এসএমএস দেয়। তারা দোতলায় থেকে বলে আমার জন্য এক গ্লাস পানি পাঠিয়ে দেও। একজনের সঙ্গে অন্য কারো সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ নেই। পারস্পরিক সম্পর্কটা একেবারে শিথিল হয়ে গেছে। এটা আমাদের বয়স্কদের মেনে নিতে একটু কষ্ট হয়। তথ্যপ্রযুক্তি আমাদের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে এসেছে। আমরা চাইলেই তো আর এটা পরিবর্তন করতে পারবো না। তবে এখন সবাই বলছে তোমরা আইকনের দিকে চোখ না রেখে তোমাদের সামনে চোখ রাখো কিংবা প্রিয়জনের দিকে তাকাও। তবে এ অবস্থার এক সময় পরিবর্তন আসবেই।
আফসান চৌধুরী
কলামিষ্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আফসান চৌধুরী বলেন, মানুষ এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আড্ডা অনেক বেশি দেয়। সামনাসামনি হয়তো আড্ডা কমে গেছে। ফেসবুক এখন আড্ডার জায়গা। যাদের সঙ্গে কখনো কথা হবে না, দেখা হবে না তাদের সঙ্গেও আড্ডা দেয়া হচ্ছে। আমি ফেসবুকের মাধ্যমে যেটি অর্জন করতে পারি সেটা তো সামনাসামনি আড্ডায় সম্ভব নয়। এখন তো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন বয়সী মানুষের সঙ্গে আড্ডা দেয়া হয়। যেটি আগে সম্ভব হতো না। আগে আড্ডা দিতো চার জন/ পাঁচজন। কিন্তু এখন তো ১০ রকম মানুষের সঙ্গে ফেসবুক টুইটারে যোগাযোগ করা যাচ্ছে। তিনি বলেন, আগে সীমিত কয়েকজনের সঙ্গে সামনাসামনি আড্ডা হতো। কিন্তু এখন আড্ডার পরিসর অনেক বেড়েছে। যেটা হয় না সেটি হচ্ছে সামনাসামনি দেখা কম হচ্ছে। এটি সময়ের বাস্তবতা। আমাদের সবকিছুই এখন পাল্টে গেছে। তিনি বলেন, ১৯ শতকের আড্ডা আর ২০১৮ সালের আড্ডা কিভাবে একরকম হবে? অনেকে বলে ‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম’। কিন্তু কিভাবে দিন কাটাইতাম সেটাতো বলেন না। আগে তো মানুষ খেতে পারতো না, পড়তে পারতো না, অসুখে মারা যেতো। সেগুলো কি সুন্দর দিন কাটানো। আফসান চৌধুরী বলেন, আমার ১০ ঘণ্টার আড্ডার দরকার নেই। প্রযুক্তির কল্যাণে আমার ১০ হাজার মানুষ আছে আড্ডা দেয়ার।
তারেক শামসুর রেহমান
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তারেক শামসুর রেহমান বলেন, মানুষের যে সনাতন আড্ডা তা এখন আর নাই। এটা দখল করে নিয়েছে ফেসবুক টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ভালো প্রভাব ফেলছে। সেটা একধরনের নেতিবাচক প্রভাবে ফেলছে। গণমাধ্যমে যে ধরনের সংবাদ বা ছবি প্রকাশ হচ্ছে তার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে যেকোনো সংবাদ বা ছবি পোস্ট করে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে, উত্তেজনা বাড়াতে পারে বা এটা খারাপ দিকটাকে তুলে ধরে সেই সঙ্গে এটাও সত্য একুশ শতকে দাঁড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করতে পারবো না। আমাদের সামাজিক গণমাধ্যমের প্রয়োজন আছে। তার বড় উদাহরণ হচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টুইট ব্যবহার করেন। তার দেখাদেখি আমাদের রাজনীতিবিদরাও টুইট ব্যবহার করছেন। মোদ্দাকথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভালো দিকগুলো আমরা ব্যবহার করছি কম। ফলে নেতিবাচক দিকগুলোই আমাদের সমাজে প্রভাব ফেলে। এক সময়কার বন্ধুদের মধ্যে আড্ডা এবং জড়ো হওয়ার প্রবণতা কমে গেছে।
আসিফ নজরুল
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক ড. আসিফ নজরুল বলেন, যখন জীবিত মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক কমে যায় তখন সম্ভবত মানবিকতা কমে যায়। বাস্তবতা থেকে এক প্রকার বিচ্ছিন্নতার সৃষ্টি হয়। ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড কিন্তু রিয়েলিটি না। সেখানে সোর্স অব ইনফরমেশন, যে প্যাশন, একজন আরেকজনকে যে ফিলিংস, সহমর্মিতা দেখায় এটা খুব জেনুইন হওয়ার কথা না। একজন আরেকজনের সঙ্গে যখন মুখোমুখি ইন্টার্যাক্ট করে তখন যেই সৎভাবে ফিলিংস এক্সপ্রেস করে ভার্চুয়ালভাবে সেভাবে সম্ভব না। ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডে যোগাযোগ হয় অনেকক্ষেত্রেই চিন্তা-ভাবনা, প্রেক্ষাপট ছাড়া। যখন জেনুইন ইন্টার্যাকশন হয় তখন সেটার একটা প্রেক্ষাপট থাকে। সরাসরি বিষয় সম্পর্কিত হয়। আবার ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডে সীমাবদ্ধতা থাকে। ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড মানুষের প্রকাশ ভঙ্গি, আবেগ, পারস্পরিক ইন্টার্যাকশন, মানবিকতা প্রকাশের সুযোগ অনেক কম। সেখানে মানুষ অনেক বেশি সময় কাটাচ্ছে। ফলে জটিলতা বেড়ে যায়। ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডে তথ্য অসংখ্য এবং অনেক রকম। ফলে আপনার বাস্তব ওয়ার্ল্ডে তথ্য যেভাবে ডিল করতে পারে ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডে তথ্য সেভাবে ডিল করতে পারে না। ফলে অনেক রং এক্সপ্রেশন আসতে পারে। ইমোশন ও প্রকাশ ভঙ্গির সততা কমে যায়।
রাজনীতিতে এটার প্রভাব অবশ্যই পড়ছে। একটা জিনিস আপনি পছন্দ করেন না কিংবা আপনি দেশপ্রেম দেখাতে চান তবে ফিজিক্যালি উপস্থিত হয়ে আপনাকে দেখাতে হবে। ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডে আপনি দেশপ্রেম এক ক্লিকেই প্রকাশ করছেন। মনে হচ্ছে বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলছেন। বেশিরভাগ মানুষ দেশপ্রেমের ক্ষেত্রে হোক বা তার ভালোবাসা বা ঘৃণা প্রকাশ এতই ইজিলি এক্সপ্রেস করে সেটার জন্য তাকে কোনো রকম আত্মত্যাগের কোনো প্রয়োজন পড়ে না। তাকে ফিজিক্যাল যে কষ্ট বা ত্যাগ স্বীকার করতে হয় না। ফলে পলিটিক্সে মানুষের অংশগ্রহণ বা ক্ষোভে অংশগ্রহণ, প্রতিবাদে অংশগ্রহণের ফিজিক্যাল মাত্রাকে কমিয়ে দিয়েছে। আবার যোগাযোগ মাধ্যমে খুব দ্রুত তথ্য প্রেরণ সম্ভব হয় বলে ওইখানে সীমিত পরিসরে হলেও নতুন প্রতিবাদের জায়গা তৈরি হয়েছে। ফলে প্রতিবাদ করার ঝোঁকটা কমে যেতে পারে। একটা জিনিসের প্রতি প্রচণ্ড আপত্তি অনুভব করি, ঘৃণা করি। গুমের বিরুদ্ধে একটা সমাবেশে যাওয়ার যে তাড়না অনুভব করি তার চেয়ে ফেসবুকে পাঁচ-দশটা লাইভ দিয়ে ওই তাড়না মোচন করি তবে সেখানে যাওয়ার আগ্রহ থাকে না। এভাবে হয়তো সমাজে প্রভাব ফেলছে।
আমেনা মোহসিন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক আমেনা মোহসিন বলেন, সোশ্যাল মিডিয়াতে আসক্ত হওয়ার কারণে মানুষ খুব আত্মকেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছে। সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার অন্যতম হলো ইন্টার্যাকশন। মানুষের প্রতি মানুষের দয়া মায়া বন্ধুত্ব, ঘনিষ্ঠতা এবং পরিবারের মধ্যে যে বন্ধনগুলো এসব কমে যাচ্ছে। মানুষের কতগুলো মৌলিক মানবীয় ব্যাপার আছে যেমন মেলামেশা সেটা যদি ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে চলে যায় তখন কিন্তু ডাইমেনশনগুলো অন্যরকম হয়ে যায়। আমরা বলছি যে, র্যাডিক্যালাইজেশন বা সংকীর্ণতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং মানুষ বেশি অন্তর্মুখী ও চরমপন্থি হয়ে যাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে অনলাইন র্যাডিক্যালাইজেশন হচ্ছে।
তৌহিদুল হক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক তৌহিদুল হক বলেন, একটা সময় বাঙালি সম্পর্কের অন্যতম ধরন ছিল বিভিন্ন বয়সের সবাই মিলে বিভিন্ন বিষয়ে সমাজ, রাষ্ট্র, রাজনীতি বিষয়ে পারস্পরিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সংস্কৃতি ছিল। সেই বিষয়টি একবারে উঠে গেছে তা নয়। সামাজিক মিডিয়া নতুন করে জায়গা করে নিয়েছে। সামাজিক মিডিয়ার দাপট বেশি আগের পারস্পরিক আড্ডার। তবে আড্ডা দিলেও মিডিয়া এমন একটা জায়গায় নিয়ে এসেছে যে, তারা বিভিন্ন জায়গা থেকে আড্ডা দিতে পারে। এক জায়গায় তারা একত্রিত না হলেও হয়। এটার পজিটিভ দিক হলো মানুষ প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে, পারস্পরিক যোগাযোগ হচ্ছে সেটা অসুবিধার কিছু না। যে জায়গাটিতে আমাদের সতর্ক হওয়ার সুযোগ আছে সেটি হচ্ছে আমরা বাঙালিরা যে ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধারণ করে তার সঙ্গে এই ধরনের প্রক্রিয়াটার সম্পর্কটা অপেক্ষাকৃত কম। প্রতিটি দেশের মানুষের যে সামাজিকীকরণ নিজ দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে মিল রেখে পরিচালিত হয়। তিনি আরো বলেন, আমরা প্রত্যাশা করি যখন বিভিন্ন বয়সের মানুষ যখন এক সঙ্গে আড্ডায় বসবে তখন পারস্পরিক সম্প্রীতি বাড়বে, মুখোমুখি সময় কাটানোর মধ্য দিয়ে দুঃখবোধ বা সুখ ভাগাভাগির স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ বাড়ে। অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বৃহৎ পরিসরে সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য কাজ করার উদ্দীপনা কিংবা চিন্তা আড্ডা থেকে এসেছে। বিখ্যাত ব্যক্তিদের সৃষ্টিশীল কিংবা নতুন কিছু উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা সহায়ক হিসেবে কাজ করেছে। মুখোমুখি আড্ডার মধ্য দিয়ে সম্প্রীতি তৈরি হয়, এর মধ্য দিয়ে পারস্পরিক সৌহার্দ্য সৃষ্টি হয়। সমাজ জীবনের বৈশিষ্ট্যে আড্ডার যে ভূমিকা তাতে সামাজিক যোগাযোগে আড্ডার পরিবর্তে মুখোমুখি আড্ডাকে বেশি উৎসাহিত করা উচিত।
মাহমুদুর রহমান
আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, মানুষ এখন এক সঙ্গে বসে আড্ডা না দেয়ার একটা কারণ হচ্ছে নিরাপত্তার অভাব। এখন গুমের সংখ্যা এত বেড়েছে যে, তারা এখন এক জায়গায় বসাকে নিরাপদ মনে করছেন না। একসঙ্গে বসে আড্ডা দিলে সেখান থেকে তারা নিরাপদে ফেরত যেতে পারবেন কিনা তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। দ্বিতীয় কারণটি হচ্ছে মানুষ এখন ফেসবুকে আসক্ত হয়ে পড়ছে। ছাত্রজীবনে আমাদের সামনাসামনি অথবা বিভিন্ন জায়গায় বসে যে আড্ডাটা ছিল সেটা এখন তারা ফেসবুকে দিচ্ছে। সোশ্যাল মাধ্যমে যোগাযোগ বাড়িয়ে সেসব আড্ডার কাজটা সেরে ফেলছে। মোট কথা আমি মনে করি নিরাপত্তা আর ফেসবুক আসক্তি হচ্ছে সামনাসামনি আড্ডা না দেয়ার কারণ।
আ.স.ম আবদুর রব
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) রব এর প্রধান আ.স.ম আবদুর রব বলেন, আগে মানুষ একজন আরেকজনকে দেখলে দাঁড়িয়ে কথা বলতো কিংবা এক সঙ্গে বসে আড্ডা দিতো। তখন মানুষ অধিকাংশ ছিল বেকার। তাদের কাজকর্ম তেমন ছিল না। এখন তাদের সময়ের খুব অভাব। আগে এত কর্মসংস্থান, ইন্টারন্যাশনাল প্রফেশনাল ছিল না। এখন সরকারি-বেসরকারি বহু প্রফেশন হয়ে গেছে। এখন সবাই তার নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বলার কিংবা অপ্রয়োজনীয় সময় তাদের নেই। তারা স্কুল-ভার্সিটিতে এসেও একসঙ্গে বসে খুব একটা আড্ডা দেয় না। দূর থেকে হাত জাগিয়ে হায়- হ্যালো বলেই চলে যায়। আমি বলবো মানুষ তার প্রফেশনের দিকে গুরুত্ব দেয়ার কারণে সামনাসামনি আড্ডাটা কমিয়ে দিয়েছে।
আনু মুহাম্মদ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, সাক্ষাতে আড্ডাটা কমে গেছে বলে আমি মনে করি না। আমার পাড়ায় তো দেখেছি ছেলেমেয়ে প্রতিনিয়ত আড্ডা দিচ্ছে। সাক্ষাৎ করছে। সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ভার্চুয়াল মাধ্যমেও তারা যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে ইন্টারনেটে যোগাযোগের কারণে সাক্ষাৎ কমেনি।
ড. শাহদীন মালিক
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, ইন্টারনেটে সময় কাটানো- এটি সারা দুনিয়াতেই হচ্ছে। আর আমাদের এখানে বিশেষ করে ঢাকার মতো বড় শহরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সময় কাটানো বেশি হচ্ছে- এর কারণ উন্মুক্ত পরিসরের অভাব। এই শহরে বহু মানুষ বিশেষ করে তরুণসমাজ মেসে থাকে। কিছু মানুষ ফ্ল্যাটে থাকলেও ছোট জায়গায়, ছোট পরিসরে থাকে। আড্ডা দেয়ার জন্য উন্মুক্ত স্থান কমে গেছে। আর বন্ধু বা আত্মীয়র বাসায় যাতায়াতও একটি বড় সমস্যা। এসব কারণে মানুষ ব্যক্তিকেন্দ্রিক হতে বাধ্য হয়েছে। আর ব্যক্তিকেন্দ্রিক জীবনে ইন্টারনেটের প্রচলন বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। তবে, সার্বিকভাবে এটি সমাজের জন্য মঙ্গলজনক নয়। কারণ, এতে করে আমাদের সামাজিক বন্ধনটা নিবিড় হচ্ছে না। তিনি বলেন, প্রযুক্তির মাধ্যমে অনেক অপরাধমূলক, অশ্লীল, অপ্রয়োজনীয় ও নোংরা বিনোদন বেড়ে গেছে। যার প্রভাবও সুখকর হবে না। ড. শাহদীন মালিক বলেন, ইন্টারনেটের মাধ্যমে অন্যান্য দেশে জ্ঞান-বিজ্ঞানের যে চর্চা হয়, আমাদের তরুণ সমাজে সেটি নেই বললেই চলে। ফলে, ইন্টারনেট বা তথ্যপ্রযুক্তির ভালো দিকটার সুফল আমরা পাচ্ছি না। আমাদের তরুণ সমাজও ভালো দিকটার সুফল গ্রহণ করতে পারছে না। এটি উদ্বেগের বিষয়।
ড. ইফতেখারুজ্জামান
টিআইবির (ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সামাজিকতা, আড্ডার মধ্যে নির্মোহ আনন্দ উৎসাহ পাওয়া যায়। আড্ডার মাধ্যমে মানুষ নিজেদের মধ্যে জ্ঞানের ভাণ্ডার বিস্তৃত করার সুযোগ পায়। একই সঙ্গে সৃষ্টিশীল কাজেও আড্ডা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আমাদের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে আড্ডা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এগুলো বিবেচনায় নিলে আড্ডা এখন উঠেই গেছে বলা যায়। এটি অবশ্যই ঝুঁকিপূর্ণ। এতে করে আমরা সৃষ্টিশীলতা হারাচ্ছি। আমাদের সামাজিক বন্ধন কমে যাচ্ছে। এখন সামাজিক বন্ধন যদি না থাকে তাহলে মানুষের নৈতিক মানবিক গুণাবলী কমে যায় এবং জ্ঞানের যে বিস্তৃতি বা ভাণ্ডার, সেটিও কমে আসে। তিনি বলেন, প্রযুক্তির অনেক ইতিবাচক দিক আছে। পাশাপাশি এর নেতিবাচক দিকও আছে। নেতিবাচক দিকের কারণে শুধু আড্ডাই নয় পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দেখা গেছে একই পরিবারের তিনজন পাশাপাশি বসে আছি। কিন্তু কেউ কারো সঙ্গে কথা বলছি না। যার যার ফোন বা অন্য কোনো প্রযুক্তিতে ব্যস্ত আছে। এই প্রবণতা তরুণ প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এটি নিয়ন্ত্রণের কোনো উপায় দেখা যাচ্ছে না। এছাড়া প্রযুক্তিতে কেউ কেউ এমনভাবে আসক্ত হয় যে আড্ডার বিষয়টি শুধু যে চাপা পড়ে যায় তা-ই না, বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। এ বিষয়টি আমাদের উদ্বিগ্ন করে। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রযুক্তির একটি ব্যালেন্স বা সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবহার যারা করতে পেরেছে বা পারছে, তারাই এটার সম্পূর্ণ ইতিবাচক ফল পাচ্ছে। আর যারা পারছে না তারা ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিকভাবে বিচ্যুত হচ্ছে।
গোলাম মোর্তুজা
সাংবাদিক গোলাম মোর্তুজা বলেন, স্বাভাবিকভাবেই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছু পরিবর্তন হয়। সেই পরিবর্তনের জায়গাটাতে বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীতে সবকিছু প্রযুক্তি কেন্দ্রিক হয়ে গেছে। বাংলাদেশও এখন সেই ধারাতেই আছে। বাচ্চারা এখন কম্পিউটার, ট্যাবে ফুটবল খেলে। এখন এটার খারাপ দিক হচ্ছে মানুষে মানুষে যে একটা সংযোগ হওয়া, মানুষের সম্পর্কে জানা-বোঝা- এ জিনিসগুলো এখন কমে গেছে। এখন সবকিছু হয়ে গেছে ভার্চুয়াল জগতকেন্দ্রিক। তিনি বলেন, ভার্চুয়াল জগত একটি আলাদা জগত। এ জগৎ থেকে বাস্তব জগত একটু আলাদা। ভার্চুয়ালের সঙ্গে বাস্তবতার সম্পর্ক একটু কম থাকে। আর এই দিকটি ভালো কি খারাপ, এটা আসলে এক বাক্যে বলা সম্ভবও নয় যে, আগেরটা ভালো এখনকারটা খারাপ। তবে, আগে মানুষের মধ্যে একধরনের সম্পর্ক তৈরি হতো। মানুষে মানুষে চিনত-জানতো। এখন সেই জায়গাগুলো কিছুটা কমে এসেছে।
তিনি বলেন, ভার্চুয়াল জগতের কিছু ইতিবাচক দিক আছে। যেমন অনেক গ্রুপ তৈরি হয়। তাদের একজনের সঙ্গে আরেকজনের দেখা হয় না। কিন্তু একজন আরেকজনকে জানে, অনলাইন থেকে। বিভিন্ন
সময়ে তারা ইতিবাচক সামাজিক কাজ করে। একজনের বিপদে আরেকজন সহায়তা করে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই যোগাযোগটা বা মানুষের জন্য কিছু করা- এটাও ভার্চুয়াল জগতের কারণে অনেক বেড়ে গেছে। একটা সময় কারো রক্তের প্রয়োজন হলে পারিবারিকভাবে যোগযোগ করা হতো। এখন পাঁচ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হলে ফেসবুকে এটি প্রচার করলে ব্যক্তিগত বন্ধু, বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে ছড়িয়ে যাবে এবং রক্ত পাওয়া যাবে। গোলাম মর্তুজা বলেন, সামগ্রিকভাবে ভার্চুয়াল জগতের কারণে আড্ডার জায়গাটা বা আমাদের যে সংস্কৃতি ছিল সেটি যেহেতু এখন কমে গেছে, সেহেতু আমাদের মধ্যে একধরনের হা-হুতাশ আছে যে আড্ডা থাকলো না, মানুষে মানুষে সম্পৃক্ততা থাকলো না। তবে, আমি মনে করি এটা নিয়ে ওইভাবে হা-হুতাশের কিছু নেই। এটি সময়ের দাবি। প্রযুক্তি বাদ দিয়ে চিন্তা করার সুযোগ নেই। আমাদের প্রযুক্তির মধ্যেই থাকতে হবে। আর এটাকে অস্বীকার করার কোনো উপায় যেহেতু নেই, তাই কী করে প্রযুক্তিকে আরো ভালোভাবে কাজে লাগানো যায়, ব্যবহার করা যায়- সেই ব্যবস্থাই করা দরকার।
গোলাম মওলা রনি
সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মওরা রনি বলেন, ভার্চুয়াল জগতে আমরা যে কাজ করছি- সেটি হলো রুঢ় বাস্তবতা। এই মুহূর্তে ঢাকা শহরের যে সমস্যা, তাতে আড্ডা দেয়ার জন্য ৫০ জন লোককে জড়ো করতে হলে, ৮-১০ ঘণ্টা সময় লেগে যাবে। কিন্তু ফেসবুকে চ্যাটিং করলে কিছুই করতে হবে না। শুধু বলবো, আমি অনলাইনে আছি, কে কোথায় আছো। তিনি বলেন, বর্তমান ব্যস্ত নগরজীবনে ভার্চয়াল আড্ডা বাস্তবতা। কিন্তু এটার খারাপ দিক হলো, এটি মানুষকে দিনের পর দিন পাষাণ করে দিচ্ছে, দিনের পর দিন মানুষকে বন্ধনহীন করে তুলছে, মানুষের চিন্তা-চেতনার যে মৌলিকত্ব সেটি নষ্ট করে দিচ্ছে। কিছু মানুষকে বাস্তবতা বিমুখ করে হিংস্র ও রক্ষণাত্মক বানিয়ে ফেলছে। গোলাম মওলা রনি বলেন, মুখোমুখি আড্ডার যে সুবিধা তাতে আন্তরিকতা বাড়ে, বুদ্ধি বাড়ে। আড্ডার মাধ্যমে শিল্প সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। আড্ডা না থাকলে সৃষ্টিশীলতা আসে না। কারো প্রতি আন্তরিকতা শ্রদ্ধাবোধ আসে না। একে অপরকে তার যোগ্যতা অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হয় না।
শামা ওবায়েদ
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে শুধু দেশেই নয়, সারা পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেই কিন্তু বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনের স্ফুলিঙ্গ জ্বলে উঠেছে। তবে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ব্যক্তিগত পর্যায়ে সামনাসামনি যোগাযোগও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, আমাদের দেশে ফেসবুক ব্যবহারকারী লোকের সংখ্যা হয়তো বেড়েছে। কিন্তু এখনো গ্রামে-গঞ্জে সামাজিকভাবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে যোগাযোগই কিন্তু বেশি কাজে লাগে। আর আমাদের খেয়াল রাখতে হবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেন কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সংগঠনকে ছোট করা বা অপমান করার জন্য ব্যবহার করা না হয়।
সৈয়দ আবদুল হাদি
প্রতিটি বিষয়ের ভালো ও খারাপ দিক রয়েছে। এখন দিন বদলেছে। সময় বদলেছে। প্রযুক্তি ভর করেছে। এটাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে খারাপ না। কিন্তু ল্যাপটপ ও মোবাইলে ফেসবুক চ্যাটিংয়ের যে ব্যাপারটা এটা কিন্তু মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। আমি ফেসবুকের বিপক্ষে নই। কিন্তু সব কিছুর একটা মাত্রা থাকা দরকার। এখানে আমরা প্রযুক্তির অপব্যবহার করছি। অথচ সীমিত প্রযুক্তির ব্যবহার কিন্তু আমাদের আরো ভালোর দিকে নিয়ে যেতে পারে। পাড়া-মহল্লার আড্ডা কিংবা চায়ের টেবিলের আড্ডা কিংবা আলোচনা থেকে কিন্তু অনেক ভালো কিছু উঠে আসতে পারে। পারস্পরিক সম্পর্ককে মজবুত করে। কিন্তু এখন তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ বাস করছে ভার্চুয়াল জগতে। যার ফলে তারা বাস্তবতা ও ভার্চুয়াল জগতের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না। এর ফলে জীবনবোধ, মানবিকতাবোধ, পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা সব কিছুই কমছে। তাই বলে প্রযুক্তিকে অস্বীকার করা যাবে না। চ্যাটিংও চলতে পারে। সেটা একটা লিমিটেডের মধ্যে। অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো ফল বয়ে আনে না।
ফেরদৌসী রহমান
আসলে এক্ষেত্রে পারিবারিক শিক্ষাটা খুব জরুরি। আমি কখনই প্রযুক্তি কিংবা ফেসবুকের বিপক্ষে নই। কারণ এগুলোর দরকার আছে। ফেসবুক ও টুইটার হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। আমি নিজেও ফেসবুক ব্যবহার করি। এর মাধ্যমে যদি বন্ধন দৃঢ় হয় সেটা ভালো। কিন্তু ফেসবুক কিংবা চ্যাটিংকে যদি কেউ নেশায় পরিণত করে তা নিয়ে অবশ্যই আপত্তি রয়েছে। এই প্রজন্মের মধ্যে এমনটা বেশি হচ্ছে। তাই এ বিষয়ে অবশ্যই বাবা-মা কিংবা অভিভাবককে সচেতন হতে হবে। তাদের এ বিষয়ে শিক্ষা দিতে হবে, বোঝাতে হবে। স্কুল ও কলেজের শিক্ষকরাও এসব বিষয়ে সচেতন করতে পারেন। ছোটবেলা থেকেই যদি সচেতন করা যায় তাহলে একজন ছেলে বা মেয়ে সেই মানসিকতা নিয়েই গড়ে ওঠে। কারণ যে কোনো নেশাই খারাপ। ফেসবুক যদি নেশা হয়ে যায় সেটাও ভয়াবহতা ডেকে আনতে পারে। ভার্চুয়াল দুনিয়া আর বাস্তব দুনিয়া এক নয়। আগের মতো আড্ডা এখন হয় না এটা একদম বাস্তব সত্যি। আর এর কারণে বন্ধুত্বও গড়ে উঠছে না। গড়ে উঠছে ফেসবুক বন্ধুত্ব। শুধুমাত্র ফেসবুক বন্ধুত্ব নির্ভরতার প্রতীক হতে পারে না। সুতরাং এ বিষয়ে নিজেদেরও সচেতন হতে হবে।
ড. ইনামুল হক
আমাদের তরুণ সমাজের মধ্যে অস্থিরতা বাড়ছে। কোনো কিছুতে তারা স্থির নয়। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে তরুণ সমাজের অস্থিরতা সহজেই দেখা যায়। আমি মনে করি তাদের ফেরানোর জন্য সংস্কৃতিমুখী করতে হবে। এছাড়া বই পড়ার অভ্যাস করাতে হবে। পাশাপাশি খেলাধুলায় তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন। এসব কাজে যুক্ত থাকলে তারা ফেসবুকের আসক্তি থেকে ফিরে আসবে। পরিবার থেকে শিশু প্রথম শিক্ষা নেয়। কিন্তু আজকাল অনেক পরিবারে দেখা যায় বাবা-মা দুজনের কেউ সৃজনশীল কোনো কাজের সঙ্গে নেই। ফলে তাদের সন্তান এক ধরনের হীনমন্যতায় বড় হয়। আমাদের সন্তানেরা সৃজনশীল কোনো কর্মকান্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে পারছে না বলেই ফেসবুকে সময় কাটাচ্ছে। ফেসবুক ব্যবহার করা দোষের কিছু নয়। কিন্তু এটির অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কিশোর-কিশোরীদের মেধাহীন করছে। অনেক ক্ষেত্রে তাদের লক্ষ্যচ্যুত করছে বলেও আমার মনে হয়। অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি সচেতনতা বাড়াতে হবে। প্রয়োজন ছাড়া তাদের হাতে মোবাইল দেয়াও বন্ধ করতে হবে। তরুণদের জন্য বলতে চাই ফেসবুকে সময় না দিয়ে তাদের বিভিন্ন কর্মকান্ডে ব্যস্ত থাকা প্রয়োজন। না হলে নিজেদের সর্বনাশের জন্য নিজেরাই দায়ী থাকতে হবে।
আবুল হায়াত
বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ফেসবুক। কিন্তু এই মাধ্যমকে আমি এখন কাজের চেয়ে যন্ত্রণাদায়ক মনে করি। এই যন্ত্রণার কারণে এখন আমি সামাজিক যোগাযোগের এই মাধ্যমের সঙ্গে আর নেই। ফেসবুকে আমি নেই তবুও আমাকে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। আমার নামে অনেকগুলো ফেইক আইডি রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের পোস্ট দেয়া হচ্ছে সেসব আইডিগুলো থেকে। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ করেও কোনো সমাধান পাইনি। সত্যি বলতে আমাদের কিছু মানুষ ফেসবুকে আসক্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে এই আসক্তি অনেক বেশি। রাত জেগে তারা ফেসবুকে পড়ে থাকে। সামাজিক কোনো অনুষ্ঠানে গেলে সেখানেও এটিতে মগ্ন থাকে। এটিকে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভয়ংকর মনে হচ্ছে। এটি আমাদের জাতীয় ব্যর্থতা বলেও আমি মনে করি। ভালো একটি মাধ্যমকে আমরা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারছি না। আমি মনে করি চীনের মতো আমাদের এটি বন্ধ করে যোগাযোগের জন্য বিকল্প কিছু করতে হবে। না হলে কিশোর-কিশোরীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নষ্ট হবার প্রবণতা ক্রমেই বাড়বে।
সোহেল রানা
প্রযুক্তির ব্যবহার (নেট চ্যাটিং, ফেসবুক, টুইটার) এখন অনেক তরুণ-তরুণীই বেশ উপভোগ করছে। আগে আমরা টেলিভিশন দেখতাম সাদা-কালো, এখন দেখি রঙিন। আগে একরকম জিনিস ভালো লাগত, আর এখন অন্য কিছু হয়তো তরুণ-তরুণীদের চোখে ভালো লাগে। এই প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের টেকনোলজির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের উন্নতিও হয়েছে। টেকেনোলজির দিক দিয়ে আমাদের চেয়ে তীব্র গতিতে উন্নতির দিকে যাচ্ছে এখনকার তরুণ-তরুণীরা। যারা বলে টেকনোলজির ব্যবহারের ফলে অনেক ব্যাড ইফেক্ট আছে, তাদের ক্ষেত্রে আমি বলতে চাই ব্যাড বা সাইড ইফেক্ট আগেও ছিল, এখনো আছে। জেনারেশন টু জেনারেশন সবসময়ই পরিবর্তন হবে-এটাই স্বাভাবিক। টেকনোলজির সুবাদে খারাপের চেয়ে আমি মনে করি ভালোর দিক বেশি। আর তরুণ-তরুণীরা দিনের পর দিন এর ব্যবহারের কল্যাণে অনেক ভালো ভালো কাজ আজ চারপাশে করছে। চলচ্চিত্রে রিলের ব্যবহার এখন নেই, ছোট্ট একটি চিপসের মাধ্যমে প্রেক্ষাগৃহে দর্শক ছবি দেখছে। টেকনোলজির জন্য আমাদের অনেক উন্নতি হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চারদিকে দ্রুত সবকিছুর পরিবর্তন হচ্ছে। আড্ডা ভুলে মোবাইল এসএমএস বা চ্যাটিংয়ে মেতে থাকা তেমনই একটি পরিবর্তন। আর এসব পরিবর্তন সবসময়ই ভালো কিছুর জন্য হোক এটাই আমার চাওয়া থাকবে।
সুবীর নন্দী
এটা কঠিন বাস্তবতা। আগে পাড়া-মহল্লার আড্ডা কিংবা চায়ের চুমুকে টং দোকানের সেই আড্ডা আর দেখা যায় না। এমনকি গ্রামেও সেই আড্ডা এখন কম। সবাই যেন নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। আর এটা হয়েছে প্রযুক্তির ফলেই। মোবাইলের বাটন চাপলেই সারা বিশ্ব এখন হাতে। তাই এখনকার যুব সমাজ সেই ভার্চুয়াল বিশ্বেই আনন্দ খুঁজে নেয়ার চেষ্টা করে। ফেসবুক কিংবা টুইটার-আমি এ ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিরুদ্ধে নই। তবে সারাদিন চ্যাটিংয়ে পড়ে থাকার মধ্যে ভয়াবহতা লুকিয়ে আছে। সরাসরি বসে কথা বলা আর মোবাইলে কথা বলা কিন্তু এক বিষয় নয়। ঢাকায় থেকে মোবাইলে বলে দেয়া যায় আমি বরিশাল! এটা কিন্তু অহরহই হচ্ছে। ঠিক তেমনই আড্ডার মধ্যে দিয়ে যেমন সুন্দর সুন্দর আলোচনা হতে পারে। সংস্কৃতির চর্চা হতে পারে সেটা ভার্চুয়াল জগতে কই! অনেক সময় শুনি সারাদিন কিংবা সারারাত ফেসবুকে কাটিয়ে দিচ্ছে কেউ কেউ। এটা মর্মাহত করে আমাকে। শুধু পারস্পরিক সম্পর্ক নষ্ট করছে না, মূল্যবান সময় নষ্ট করছে। কেউ যদি সারারাত ফেসবুক চ্যাটিংয়ে ব্যস্ত থাকে সে কি করে সময়মতো সকালে উঠবে! সুতরাং সে কাজও সময়মতো শুরু করতে পারবে না। সে ছাত্রজীবন, ক্যারিয়ার কিংবা জীবনেও পিছিয়ে পড়বে। তাই আমি অনুরোধ করবো বিষয়টিতে সচেতন হতে। সময়ের মূল্য দিতে হবে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মধ্যে দিয়ে বাস্তবতাটাকে বুঝতে হবে।
খুরশিদ আলম
প্রযুক্তি আমাদের দিয়েছে অনেক, কেড়েছে তার থেকে বেশি। বিষয়টি কিন্তু একদম সতি। কিন্তু এটা প্রযুক্তির দোষ নয়। এটা আমাদের নিজেদের দুর্বলতা। পৃথিবীর অন্য দেশের দিকে তাকিয়ে দেখুন তারা কিন্তু প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার করছে। সারাদিন চ্যাটিংয়ে ডুবে থাকার সময় তাদের নেই। আগে আমাদের সারা দুনিয়ায় খ্যাতি ছিলো পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের জন্য। কিন্তু এখন তার উল্টো। আমি যদি সারাদিন কিংবা রাত চ্যাটিংয়ে ডুবে থাকি তাহলে পড়াশোনা করবো কখন? সংস্কৃতি কিংবা গান চর্চা করবো কখন? পরিবার কিংবা বন্ধুদের সময় দিবো কখন? তাহলে কি হচ্ছে? আমরা কিন্তু পিছিয়ে যাচ্ছি অনবরত। একদিকে আমরা যেমন পারস্পরিক সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে ব্যর্থ হচ্ছি তেমনি নিজেরাও পিছিয়ে পড়ছি প্রতিটি ক্ষেত্রে। আমি ফেসবুকের বিরুদ্ধে নই। ফেসবুক ব্যবহার সারা বিশ্বেই হচ্ছে। কিন্তু সবসময় এটা নিয়ে থাকতে হবে কেন? এটা করতে করতে কিন্তু অনেক ক্ষতি করে ফেলছি আমরা। আর যখন অনুধাবন হবে তখন সময় আর হাতে থাকবে না। সুতরাং এগিয়ে যেতে হলে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার করতে হবে, এটাকে নেশায় পরিণত করলে চলবে না।
ফেরদৌস ওয়াহিদ
আমি নিজেও ফেসবুক ব্যবহার করি। চ্যাটিংও করি। কিন্তু সেটা মাত্রাতিরিক্ত নয়। কারণ সীমা লঙ্ঘন করা ঠিক নয়। আমি মনে করি প্রযুক্তি সৃষ্টিকর্তার একটি দান। এটাকে কাজে লাগাতে হবে। আমি ফেসবুক চালাবো। কিন্তু সেটাকে নেশায় পরিণত করবো না। এমন মনোভাব থাকতে হবে। সত্যিইতো এখন সবাই ইন্টারনেট নিয়ে পড়ে থাকে। সরাসরি বন্ধুত্বও এখন কম। ফেসবুক বন্ধু আর স্কুল, কলেজ কিংবা কর্মস্থলের বন্ধু কিন্তু এক নয়। যে কাছে আসবে না, মিশবে না, জানবে না, আনন্দ-কষ্ট ভাগাভাগি করবে না সেই বন্ধুত্ব আসলে বন্ধুত্ব নয়। সুতরাং আমি তরুণ প্রজন্মকে বলবো ফেসবুক চালাও, তবে সেটা সীমার মধ্যে থেকে। আর সঙ্গে সঙ্গে বন্ধুত্ব বাড়াও, আড্ডা দাও। দেখবে সেখান থেকে উঠে আসবে অনেক শিক্ষামূলক বিষয়ও, যেটা কাজে লাগবে পরবর্তী জীবনে।
ববিতা
এই প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা যেভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করছে সেটা ব্যক্তিগতভাবে আমার ভালো লাগে না। কারণ আমার কাছে মনে হয় এই প্রযুক্তির ফলে তারা ভিন্ন জগতে প্রবেশ করছে। প্রতিনিয়ত পরিবার থেকে নিজেকে আলাদা করে ফেলছে। একটা উদাহরণ দিয়ে বললে ভালো হবে। যেমন ওদেরকে (ছেলে-মেয়েদের) কোনো বাসায় বেড়াতে নিয়ে যাবার আগে প্রথমেই প্রশ্ন করে, ওখানে ইন্টারনেট কানেকশনটা কেমন, সিগন্যাল ঠিকমতো থাকবে কিনা। সব ঠিক থাকলে তারা যেতে চাইবে না হলে বলবে ওখানে গিয়ে আমরা কি করবো ? শুধু তাই না, আগে বন্ধু-বান্ধব, বাচ্চা, পরিবারের অন্যান্য সদস্য মিলে যে আড্ডা হতো সেটা বন্ধ হয়ে গেছে। এই সময়ের ছেলে মেয়েরা বিয়ে করছে ঠিকই, কিন্তু মেয়েরা অনেক সময় পরিবার অর্থাৎ তার স্বামীকেও ঠিকমতো সময় দিচ্ছে না। টেকনোলজি বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফলে চারপাশ যতটা উন্নত হয়েছে তেমনই আবার ব্যক্তিগত বা পারিবারিক জীবনে প্রতিনিয়ত বেশ ক্ষতিও আমরা দেখতে পাচ্ছি। তাই এটাকে আমি সাপোর্ট করি না।
আবিদা সুলতানা
এখন আড্ডা নেই, প্রকৃত বন্ধুত্বও নেই। দিন দিন আমরা কেবল যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছি। প্রযুক্তি আমাদের জীবন সহজ করেছে ঠিক, কিন্তু কেড়ে নিয়েছে পারস্পরিক বন্ধন। এখন এক বাড়িতে থেকেও পাশের ফ্ল্যাটের মানুষের খবরই কেউ রাখছেন না। অথচ আগে এমনটা ছিলো না। এখন মানুষ বন্দি জীবন কাটাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। আর তার জন্য প্রযুক্তিকে বেছে নিয়েছে। ল্যাপটপ, মোবাইলের মাধ্যমে সারা বিশ্বকে সে দেখছে নিজের মতো করে। আমার আশেপাশেই তো দেখি প্রযুক্তি কিভাবে গিলে খেয়েছে সহজ-সরলতাকে, বন্ধুত্বকে, পারস্পরিক ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধকে। ফেসবুক কোনো খারাপ বিষয় নয়, কিন্তু এটাকে নেশায় পরিণত করলে হবে না। আমি মনে করি পারিবারিক শিক্ষাই এখান থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করতে পারে। পুরো জেনারেশন যদি ফেসবুক-মেসেঞ্জারে বুদ হয়ে থাকে, তবে ভয়াবহ সময় অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য।
সারা যাকের
আধুনিক যুগে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম শুধু ফেসবুক এটি আমি মনে করি না। ফেসবুক ছাড়াও যোগাযোগের আরো অনেক মাধ্যম রয়েছে। ফেসবুকে কেউ আসল জগৎ প্রকাশ করে না। তার কল্পনার বহিঃপ্রকাশ ঘটায় বলে আমার মনে হয়। এটি না ব্যবহার করলে আমাদের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে তারো কোনো আশঙ্কা নেই। অনেকেই বলে ফেসবুকে নাকি অনেক কিছু জানা যায়। আমি যখন আমার কোনো একটি লেখার লিংক শেয়ার করি সেটি অল্প কয়েকজন পড়ে। তাহলে কিশোর-কিশোরীরা কিংবা তরুণ সমাজ ফেসবুকে কি পড়ছে? ফেসবুকের চেয়ে গুগলে সার্চ দিয়ে অনেক বেশি অজানা তথ্য জানা যায়। এই সময়ে এসে আমি উপলব্ধি করেছি আঠারো বছরের কম বয়সীদের ফেসবুক ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। সেক্ষেত্রে বাবা-মাকে এই বিষয়ে সচেতন হতে হবে। রাষ্ট্রীয়ভাবেও এর জন্য উদ্যোগ নেয়া যায়। রাষ্ট্র ও পরিবার থেকে যদি কোনো সঠিক উদ্যোগ নেয়া হয় তাহলে কিশোর-কিশোরীদের এবং তরুণ সমাজের ফেসবুকের এই আসক্তি কমবে। অন্যথায় সামাজিক যোগাযোগ শুধু ফেসবুকেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
ডলি জহুর
ফেসবুক আমাদের মধ্যে ব্যাধির মতো হয়ে গেছে। যেখানে-সেখানে আমাদের অনেকেই এখন এটিতে ব্যস্ত থাকতে পছন্দ করে। দেখা যায় কয়েকজন আড্ডা দিচ্ছে, সেখানেও যে যার মতো ফেসবুকে চ্যাটিং করছে। এর মধ্য দিয়ে সাময়িক লাভবান হলেও একটা সময় একাকীত্বে ভুগতে হয়। মাধ্যমটা এমন হয়ে গেছে অনেকে এটিকে ছাড়া নিজকে ভাবতে পারে না। সত্যি বলতে প্রযুক্তি মানুষকে যেমন অনেক দূর নিয়ে যায় তেমনি অবক্ষয়ও করে। ফেসবুক তার জ্বলন্ত উদাহরণ আমি বলতে পারি। আমাদের প্রযুক্তির ব্যবহার জানতে হবে। নতুন প্রজন্মকেও প্রযুক্তির ব্যবহার শেখাতে হবে। কখন কোথায় কিভাবে এটিকে ব্যবহার করতে হবে সেটি তারা জানতে না পারলে ক্ষতির প্রভাবটি বাড়তে থাকবে। এদিকে এখন অনেক পরিবারে দেখি অল্প বয়সী ছেলে-মেয়েদের মোবাইল কিনে দিচ্ছে বাবা-মা। পড়ালেখায় সময় না দিয়ে তারা মোবাইলে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সময় ব্যয় করে। আমার মনে হয় এই বিষয়ে বাবা-মাকে আরো বেশি সচেতন হতে হবে। তবে অস্বীকার করার কিছু নেই সময়ের দাবি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক। ফেসবুকের কল্যাণে আজকাল অনেক কিছু সহজে জানা যায়।
চিত্রলেখা গুহ
প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে আছি। অনেক সময় জেনে না জেনেই এটির ব্যবহার করি। ফেসবুক আমাদের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। এটি থেকে কাউকে দূরে রাখা সম্ভব নয়। কিন্তু প্রয়োজন ছাড়াও অনেকেই এটিতে সময় দিয়ে থাকে। একটি মাধ্যম যদি কাজের চেয়ে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায় তাহলে সেটি ব্যবহার না করা ভালো মনে করি। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া আমি ফেসবুকে আসি না। সারা দিন ফেসবুকে সময় দিলে অন্য কাজ করার সময় কোথায়? এই বিষয়টি আমাদের সবাইকে বুঝতে হবে। আজকাল তরুণ-তরুণীদের বাইরে অনেক বয়স্ক মানুষও ফেসবুকে অধিক সময় দিচ্ছেন। ফেসবুক ব্যবহারে সচেতনতা বাড়াতে হবে। ফেইক আইডি বন্ধের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অধিকাংশ তরুণ-তরুণীকে একের অধিক আইডি ব্যবহার করতে দেখা যায়। রাত জেগে স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা চ্যাটিং করে। এ কারণে তাদের অনেকেই আবার পরদিন স্কুল কলেজে অনুপস্থিত থাকে। পরিবারের বাবা-মাকে এ বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। রাত জেগে তার সন্তান কি করছে সেটি দেখতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোরও ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে প্রযুক্তির উৎকর্ষতা ও তার ক্ষতির দিকগুলো তুলে ধরা প্রয়োজন।
ইলিয়াস কাঞ্চন
বর্তমান সময়ে ইন্টারনেটের সুবাদে চ্যাটিংয়ে এক বন্ধু অন্য বন্ধুকে সময় দিচ্ছে। আর আগে আমরা যখন আড্ডা দিতাম তখন অনেকজন থাকতো তাতে। অনেক বিষয়ে কথা হতো। আগে একান্নবর্তী পরিবারের যে বন্ধন ছিল সেটা তো একদমই এখন নেই, বলতে গেলে এককথায় ভেঙে গেছে। এর ফলে তরুণ প্রজন্মের অনেকে নেশায়ও আসক্ত হচ্ছে। আর এ বিষয়গুলো পরিবারের লোকজনরাও অনেক সময় জানতে পারছে না। কারণ দরজা বন্ধ করে ছেলে-মেয়েরা চ্যাটিং করছে। অনেকে ড্রাইভিং সিটে বসে ফোনে কথা বলার পাশাপাশি চ্যাটিং করছে। যেখানে ড্রাইভিং সিটে বসে ফোন ব্যবহার করাটাই নিষেধ, সেখানে চ্যাটিং করা বা ফোনে কথা বলা- এসব তো বলতে গেলে জেনে শুনে মৃত্যুকে ডেকে আনা। তাই টেকনোলজির ব্যবহারে সতর্ক হওয়া উচিত।
মিশা সওদাগর
আমি চলচ্চিত্রের মানুষ। তাই চলচ্চিত্রের প্রমোশনের উদাহরণ দিয়ে এ বিষয়ে একটা কথা বলতে চাই। সেটা হচ্ছে এই প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা নেট বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অনেক বেশি ব্যবহার করছে। হয়তো এজন্যই অনেক সিনেমার প্রমোশনে এখন ব্যবহার হচ্ছে এটি। তবে আমার কাছে মনে হয় এভাবে প্রমোশনের নামে সিনেমার ডিমোশন হচ্ছে। আমরা আগে একটা সময় সিনিয়র জুনিয়র মিলে গল্প করতাম। শুটিং সেটে বা ব্যক্তিগত জীবনে পরিবারের সকলের কাছে কিছু শেখার চেষ্টা করতাম। কিন্তু এখন তো এটা দেখি না। সবাই নেট চ্যাটিংয়ে এতটাই ব্যস্ত যে সামনা সামনি আইডিয়া শেয়ারিং বা কোনো বিষয়ে আলোচনা তেমন হয় না বললেই চলে। আর চলচ্চিত্রের যারা প্রমোশন করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করছে তাদের ক্ষেত্রে বলতে চাই সিনেমা সর্বপ্রথম হলের জন্য, নেটের জন্য না। নেটে তরুণ-তরুণীদের আকৃষ্ট করে সিনেমা হলে নিয়ে যাওয়া খুব কঠিন। আর খুব বেশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ফলে সাইড ইফেক্টও আছে অনেক। সেটা একটা ছেলে বা মেয়ের মানসিক বিকাশে প্রতিনিয়ত ক্ষতি করছে। কিন্তু সেই ছেলে বা মেয়েটি নিজে সেটা বুঝতে পারছে না।
শাবনূর
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আড্ডার চেয়ে সামনা সামনি দেখা ও কথা বলে আড্ডা দিতে আমি ভীষণ পছন্দ করি। কিন্তু এই প্রজন্মের আড্ডাটা ভিন্ন ধরনের। আগে একটা সময় আড্ডার মাধ্যমে ভালো কিছু উঠে আসত। এখন তো ফোনে বা নেটে সব সিদ্ধান্ত হয়ে যায়। দেখা করতে হয় না। ছবি ভেসে ওঠে ফোনে। সবই টেকনোলজির কল্যাণে হয়েছে। তবে এর ফলে ভালোর পাশাপাশি খারাপ অনেক কিছুই ঘটছে। তাই আমি চাইবো সবাই এটার সুন্দর দিকগুলো ব্যবহার করুক, আর খারাপগুলো বর্জন করুক। এর বেশি কিছু বলার নেই আমার।
গ্রন্থনা: ফয়সাল রাব্বিকীন, কামরুজ্জামান মিলু ও এন আই বুলবুল
অধ্যাপক আনিসুজ্জামান
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিরেটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, আমাদের সময় ফেসবুকের যুগ না থাকায় আমরা সামনাসামনিই বেশি যোগাযোগ করতাম। এখন আড্ডার ধরনটা বদলেছে কিন্তু যোগাযোগের পেছনে যে অন্তর্নিহিত মনোভাব সেটি এখনো বদলায়নি। তিনি বলেন, আগের যে আড্ডা, তারও ভালো- খারাপ দিক ছিল। এখন যে আড্ডা তারও ভালো-খারাপ দিক আছে। তবে, আমার মনে হয় মুখোমুখি বসে যে আড্ডা দেয়া সেটা এখনো কমেনি। তিনি বলেন, এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখি ছেলেমেয়েরা বসে গল্প করছে। টিএসসিতে গেলেই দেখা যায় এত ছেলেমেয়ে গল্প করছে যে, চলাচলই অনেক সময় মুশকিল হয়ে পড়ে। ওই আড্ডাটা বোধহয় একেবারেই বন্ধ হয়নি।
ড. কামাল হোসেন
সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, সমাজের পরিবেশ অনেকটা বদলানো হয়েছে। এক হচ্ছে রাজনীতির যে ভূমিকা মানুষকে একে অন্যের কাছে আনা, একে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া এখন আমরা লক্ষ্য করছি রাজনীতি মানুষের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করছে। মানুষ মানুষের মধ্যে দূরত্ব। কেউ কারও প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হয়ে চায় বিতর্কিত হোক। এটা একটা রোগ যে অন্যকে বিতর্কিত করে দাও। আমরা লক্ষ্য করছি যে, রুগ্ণ রাজনীতির ফল। রুগ্ণ রাজনীতি খারাপের দিকে নেয়। রাজনীতিবিদরা ঐক্যের কথা বলেন কিন্তু করেন উল্টো কাজ। যদি সত্যিই ঐক্যের পরিবেশ থাকতো তবে ঐক্যেই হতো।
নূরে-আলম সিদ্দিকী
ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নূরে-আলম সিদ্দিকী বলেন, আমাদের যৌবনের সময় সামনাসামনি আড্ডাটা ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিকনির্ভর। রাজনীতির কারণে সেসময় বিভিন্ন স্থানে আড্ডা দিতাম আর তা থাকতো আলোচনা, চর্চা ও পর্যালোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ। তখন যে যেই ছিল সে সেইভাবে আড্ডার সঙ্গে যুক্ত ছিল। তবে বর্তমানে বিজ্ঞানের প্রসারতার কারণে মানুষের চিন্তাও দিগন্ত বিস্মৃত হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে মানুষ আত্মকেন্দ্রিকও হয়ে যাচ্ছে। তাই বিজ্ঞানভিত্তিক ও আত্মকেন্দ্রিকতার সংমিশ্রণে অনেকে এক সঙ্গে বসে আড্ডা দেয় না। বরং তাদের চিন্তা ও মননশীলতার যাদের সঙ্গে মিল রয়েছে তাদের সঙ্গেই ইন্টারনেট ফেসবুকসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মাধ্যমে আড্ডা দিচ্ছে। ব্যক্তিগতভাবে সরাসরি আড্ডাটা দেয়ার প্রবণতা এখন একবারেই ম্লান হয়ে যাচ্ছে। এখন দেখা যায় মানুষ দূর দেশে অপরিচিত একজনের সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরি করছে অথচ পাশের বাসার প্রতিবেশী সম্বন্ধে ধারণা রাখছে না। এমনটা আমাদের সময় কখনো দেখা যেত না।
কামাল লোহানী
ভাষা সংগ্রামী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী বলেন, সময়ের পরিবর্তন হয়েছে। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিজ্ঞানের অগ্রগতি হয়েছে। এসবের কারণে অনেক কিছুই পাল্টে গেছে। সময়ের পরিবর্তন যখন হয় তখন সঙ্গে সঙ্গে অন্য উপাচারগুলোর পরিবর্তন হতে থাকে। একারণেই নতুন কিছু আবির্ভাবের সঙ্গে ব্যবহারিক জীবন বা প্রায়োগিক জীবনের পদ্ধতিও পাল্টে যায়। তিনি বলেন, বাঙালি সমাজের যে সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল আড্ডা। আগে পাড়ায় পাড়ায় আড্ডা হতো, চা-খানায় আড্ডা হতো, ঘরে বসে আড্ডা হতো। এখন সেগুলো নেই বললেই চলে। কামাল লোহানী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে জিনিসটা হচ্ছে সেটির একদিকে যেমন ভালো দিক আছে, তেমনি খারাপ দিকও আছে। ভালোর দিকটা যেটা হচ্ছে, মানুষের সঙ্গে খুব সহজেই যোগাযোগ করা যায়। মুক্ত মনে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা যায়। আর অসুবিধে যেটা হচ্ছে আমাদের চিন্তা- ভাবনার বিরুদ্ধে কিছু জিনিস আছে। যেমন মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে কিছু ব্লগ আছে। সেখানে যা ইচ্ছা লেখা হচ্ছে। এগুলো লেখার সাহস যারা পায়, সরকার কি এগুলো দেখে না? আর যেসব ব্লগার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে, জনগণের পক্ষে লেখে তাদেরকে মামলায় জড়িয়ে পড়তে হয়, গ্রেপ্তার হতে হয়।
সৈয়দ আনোয়ার হোসেন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, মুখোমুখি আড্ডায় যে একটা মানবিক স্পর্শ ছিল সেটা এখন উঠে গেছে। ফেসবুকের মাধ্যমে আড্ডা দিতে গিয়ে মানুষের নৈকট্যভিত্তিক যে আন্তঃমানবীয় সম্পর্ক সেটা কিন্তু বিঘ্নিত হচ্ছে। আর তার কারণটা হচ্ছে এখন জীবনযাপন, চলাচল অনেকটা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকটা সময় অযথা ব্যয় করতে হয়। এর বিকল্প হিসেবে ফেসবুক প্রযুক্তি অনেকটা সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবে কাজ করে। তিনি বলেন, মানুষের জন্য আন্তঃমানবীয় সংযোগ সবসময়ই প্রয়োজন রয়েছে। কারণ আন্তঃমানবীয় সংযোগের মধ্য দিয়ে আন্তঃমানবীয় কর্মকাণ্ড উৎসারিত হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভালো দিক হচ্ছে প্রযুক্তিভিত্তিক মানবীয় আন্তঃসম্পর্ক অনেকটা সহজ হয়েছে। আর আজকাল তো চলাচল করা বেশ কঠিন। পথেই অনেকটা সময় কেটে যায়। কাজেই আড্ডা দিতে হলে বা সামাজিক যোগাযোগ রক্ষা করতে হলে ফেসবুক অনেকটা সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবে কাজ করে। সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, যেকোনো প্রযুক্তি ব্যবহারে ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক আছে। ইদানীংকালে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাত্রাটি সম্পর্কে অসচেতনতার কারণে সামাজিক নেতিবাচক প্রভাব বেশ প্রকট হয়ে ওঠছে। এটি এখন আসক্তি পর্যায়ে চলে গেছে। সামাজিকভাবে এর নেতিবাচক প্রভাবও এখন দৃশ্যমান। আর দীর্ঘ সময় ধরে ফেসবুক ব্যবহার বিভিন্ন মানবিক রোগের কারণ। তাই অতিমাত্রায় কোনো কিছুই ভালো নয়। প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে রয়ে সয়ে।
গোলাম সারওয়ার
সমকাল পত্রিকার সম্পাদক গোলাম সারওয়ার বলেন, আমরা আগে দিনে আড্ডা মারতাম, সবাই এক সঙ্গে বসে কথা বলতাম, নিকটজনের সঙ্গে ফুর্তি করতাম এটা এখন একেবারে শেষ হয়ে গেছে। নাতি-নাতনীদের সঙ্গেও আগে সামনে বসে কথা বলতাম, কোলে তুলে নিতাম সেটাও শেষ হওয়ার পথে। আমি আমার নাতিদের কথাই বলি তারা আমেরিকাতে থাকে। দেখা যায় এক ফ্লোর থেকে অন্য ফ্লোরে তারা এসএমএস দেয়। তারা দোতলায় থেকে বলে আমার জন্য এক গ্লাস পানি পাঠিয়ে দেও। একজনের সঙ্গে অন্য কারো সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ নেই। পারস্পরিক সম্পর্কটা একেবারে শিথিল হয়ে গেছে। এটা আমাদের বয়স্কদের মেনে নিতে একটু কষ্ট হয়। তথ্যপ্রযুক্তি আমাদের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে এসেছে। আমরা চাইলেই তো আর এটা পরিবর্তন করতে পারবো না। তবে এখন সবাই বলছে তোমরা আইকনের দিকে চোখ না রেখে তোমাদের সামনে চোখ রাখো কিংবা প্রিয়জনের দিকে তাকাও। তবে এ অবস্থার এক সময় পরিবর্তন আসবেই।
আফসান চৌধুরী
কলামিষ্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আফসান চৌধুরী বলেন, মানুষ এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আড্ডা অনেক বেশি দেয়। সামনাসামনি হয়তো আড্ডা কমে গেছে। ফেসবুক এখন আড্ডার জায়গা। যাদের সঙ্গে কখনো কথা হবে না, দেখা হবে না তাদের সঙ্গেও আড্ডা দেয়া হচ্ছে। আমি ফেসবুকের মাধ্যমে যেটি অর্জন করতে পারি সেটা তো সামনাসামনি আড্ডায় সম্ভব নয়। এখন তো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন বয়সী মানুষের সঙ্গে আড্ডা দেয়া হয়। যেটি আগে সম্ভব হতো না। আগে আড্ডা দিতো চার জন/ পাঁচজন। কিন্তু এখন তো ১০ রকম মানুষের সঙ্গে ফেসবুক টুইটারে যোগাযোগ করা যাচ্ছে। তিনি বলেন, আগে সীমিত কয়েকজনের সঙ্গে সামনাসামনি আড্ডা হতো। কিন্তু এখন আড্ডার পরিসর অনেক বেড়েছে। যেটা হয় না সেটি হচ্ছে সামনাসামনি দেখা কম হচ্ছে। এটি সময়ের বাস্তবতা। আমাদের সবকিছুই এখন পাল্টে গেছে। তিনি বলেন, ১৯ শতকের আড্ডা আর ২০১৮ সালের আড্ডা কিভাবে একরকম হবে? অনেকে বলে ‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম’। কিন্তু কিভাবে দিন কাটাইতাম সেটাতো বলেন না। আগে তো মানুষ খেতে পারতো না, পড়তে পারতো না, অসুখে মারা যেতো। সেগুলো কি সুন্দর দিন কাটানো। আফসান চৌধুরী বলেন, আমার ১০ ঘণ্টার আড্ডার দরকার নেই। প্রযুক্তির কল্যাণে আমার ১০ হাজার মানুষ আছে আড্ডা দেয়ার।
তারেক শামসুর রেহমান
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তারেক শামসুর রেহমান বলেন, মানুষের যে সনাতন আড্ডা তা এখন আর নাই। এটা দখল করে নিয়েছে ফেসবুক টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ভালো প্রভাব ফেলছে। সেটা একধরনের নেতিবাচক প্রভাবে ফেলছে। গণমাধ্যমে যে ধরনের সংবাদ বা ছবি প্রকাশ হচ্ছে তার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে যেকোনো সংবাদ বা ছবি পোস্ট করে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে, উত্তেজনা বাড়াতে পারে বা এটা খারাপ দিকটাকে তুলে ধরে সেই সঙ্গে এটাও সত্য একুশ শতকে দাঁড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করতে পারবো না। আমাদের সামাজিক গণমাধ্যমের প্রয়োজন আছে। তার বড় উদাহরণ হচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টুইট ব্যবহার করেন। তার দেখাদেখি আমাদের রাজনীতিবিদরাও টুইট ব্যবহার করছেন। মোদ্দাকথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভালো দিকগুলো আমরা ব্যবহার করছি কম। ফলে নেতিবাচক দিকগুলোই আমাদের সমাজে প্রভাব ফেলে। এক সময়কার বন্ধুদের মধ্যে আড্ডা এবং জড়ো হওয়ার প্রবণতা কমে গেছে।
আসিফ নজরুল
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক ড. আসিফ নজরুল বলেন, যখন জীবিত মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক কমে যায় তখন সম্ভবত মানবিকতা কমে যায়। বাস্তবতা থেকে এক প্রকার বিচ্ছিন্নতার সৃষ্টি হয়। ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড কিন্তু রিয়েলিটি না। সেখানে সোর্স অব ইনফরমেশন, যে প্যাশন, একজন আরেকজনকে যে ফিলিংস, সহমর্মিতা দেখায় এটা খুব জেনুইন হওয়ার কথা না। একজন আরেকজনের সঙ্গে যখন মুখোমুখি ইন্টার্যাক্ট করে তখন যেই সৎভাবে ফিলিংস এক্সপ্রেস করে ভার্চুয়ালভাবে সেভাবে সম্ভব না। ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডে যোগাযোগ হয় অনেকক্ষেত্রেই চিন্তা-ভাবনা, প্রেক্ষাপট ছাড়া। যখন জেনুইন ইন্টার্যাকশন হয় তখন সেটার একটা প্রেক্ষাপট থাকে। সরাসরি বিষয় সম্পর্কিত হয়। আবার ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডে সীমাবদ্ধতা থাকে। ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড মানুষের প্রকাশ ভঙ্গি, আবেগ, পারস্পরিক ইন্টার্যাকশন, মানবিকতা প্রকাশের সুযোগ অনেক কম। সেখানে মানুষ অনেক বেশি সময় কাটাচ্ছে। ফলে জটিলতা বেড়ে যায়। ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডে তথ্য অসংখ্য এবং অনেক রকম। ফলে আপনার বাস্তব ওয়ার্ল্ডে তথ্য যেভাবে ডিল করতে পারে ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডে তথ্য সেভাবে ডিল করতে পারে না। ফলে অনেক রং এক্সপ্রেশন আসতে পারে। ইমোশন ও প্রকাশ ভঙ্গির সততা কমে যায়।
রাজনীতিতে এটার প্রভাব অবশ্যই পড়ছে। একটা জিনিস আপনি পছন্দ করেন না কিংবা আপনি দেশপ্রেম দেখাতে চান তবে ফিজিক্যালি উপস্থিত হয়ে আপনাকে দেখাতে হবে। ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডে আপনি দেশপ্রেম এক ক্লিকেই প্রকাশ করছেন। মনে হচ্ছে বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলছেন। বেশিরভাগ মানুষ দেশপ্রেমের ক্ষেত্রে হোক বা তার ভালোবাসা বা ঘৃণা প্রকাশ এতই ইজিলি এক্সপ্রেস করে সেটার জন্য তাকে কোনো রকম আত্মত্যাগের কোনো প্রয়োজন পড়ে না। তাকে ফিজিক্যাল যে কষ্ট বা ত্যাগ স্বীকার করতে হয় না। ফলে পলিটিক্সে মানুষের অংশগ্রহণ বা ক্ষোভে অংশগ্রহণ, প্রতিবাদে অংশগ্রহণের ফিজিক্যাল মাত্রাকে কমিয়ে দিয়েছে। আবার যোগাযোগ মাধ্যমে খুব দ্রুত তথ্য প্রেরণ সম্ভব হয় বলে ওইখানে সীমিত পরিসরে হলেও নতুন প্রতিবাদের জায়গা তৈরি হয়েছে। ফলে প্রতিবাদ করার ঝোঁকটা কমে যেতে পারে। একটা জিনিসের প্রতি প্রচণ্ড আপত্তি অনুভব করি, ঘৃণা করি। গুমের বিরুদ্ধে একটা সমাবেশে যাওয়ার যে তাড়না অনুভব করি তার চেয়ে ফেসবুকে পাঁচ-দশটা লাইভ দিয়ে ওই তাড়না মোচন করি তবে সেখানে যাওয়ার আগ্রহ থাকে না। এভাবে হয়তো সমাজে প্রভাব ফেলছে।
আমেনা মোহসিন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক আমেনা মোহসিন বলেন, সোশ্যাল মিডিয়াতে আসক্ত হওয়ার কারণে মানুষ খুব আত্মকেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছে। সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার অন্যতম হলো ইন্টার্যাকশন। মানুষের প্রতি মানুষের দয়া মায়া বন্ধুত্ব, ঘনিষ্ঠতা এবং পরিবারের মধ্যে যে বন্ধনগুলো এসব কমে যাচ্ছে। মানুষের কতগুলো মৌলিক মানবীয় ব্যাপার আছে যেমন মেলামেশা সেটা যদি ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে চলে যায় তখন কিন্তু ডাইমেনশনগুলো অন্যরকম হয়ে যায়। আমরা বলছি যে, র্যাডিক্যালাইজেশন বা সংকীর্ণতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং মানুষ বেশি অন্তর্মুখী ও চরমপন্থি হয়ে যাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে অনলাইন র্যাডিক্যালাইজেশন হচ্ছে।
তৌহিদুল হক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক তৌহিদুল হক বলেন, একটা সময় বাঙালি সম্পর্কের অন্যতম ধরন ছিল বিভিন্ন বয়সের সবাই মিলে বিভিন্ন বিষয়ে সমাজ, রাষ্ট্র, রাজনীতি বিষয়ে পারস্পরিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সংস্কৃতি ছিল। সেই বিষয়টি একবারে উঠে গেছে তা নয়। সামাজিক মিডিয়া নতুন করে জায়গা করে নিয়েছে। সামাজিক মিডিয়ার দাপট বেশি আগের পারস্পরিক আড্ডার। তবে আড্ডা দিলেও মিডিয়া এমন একটা জায়গায় নিয়ে এসেছে যে, তারা বিভিন্ন জায়গা থেকে আড্ডা দিতে পারে। এক জায়গায় তারা একত্রিত না হলেও হয়। এটার পজিটিভ দিক হলো মানুষ প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে, পারস্পরিক যোগাযোগ হচ্ছে সেটা অসুবিধার কিছু না। যে জায়গাটিতে আমাদের সতর্ক হওয়ার সুযোগ আছে সেটি হচ্ছে আমরা বাঙালিরা যে ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধারণ করে তার সঙ্গে এই ধরনের প্রক্রিয়াটার সম্পর্কটা অপেক্ষাকৃত কম। প্রতিটি দেশের মানুষের যে সামাজিকীকরণ নিজ দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে মিল রেখে পরিচালিত হয়। তিনি আরো বলেন, আমরা প্রত্যাশা করি যখন বিভিন্ন বয়সের মানুষ যখন এক সঙ্গে আড্ডায় বসবে তখন পারস্পরিক সম্প্রীতি বাড়বে, মুখোমুখি সময় কাটানোর মধ্য দিয়ে দুঃখবোধ বা সুখ ভাগাভাগির স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ বাড়ে। অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বৃহৎ পরিসরে সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য কাজ করার উদ্দীপনা কিংবা চিন্তা আড্ডা থেকে এসেছে। বিখ্যাত ব্যক্তিদের সৃষ্টিশীল কিংবা নতুন কিছু উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা সহায়ক হিসেবে কাজ করেছে। মুখোমুখি আড্ডার মধ্য দিয়ে সম্প্রীতি তৈরি হয়, এর মধ্য দিয়ে পারস্পরিক সৌহার্দ্য সৃষ্টি হয়। সমাজ জীবনের বৈশিষ্ট্যে আড্ডার যে ভূমিকা তাতে সামাজিক যোগাযোগে আড্ডার পরিবর্তে মুখোমুখি আড্ডাকে বেশি উৎসাহিত করা উচিত।
মাহমুদুর রহমান
আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, মানুষ এখন এক সঙ্গে বসে আড্ডা না দেয়ার একটা কারণ হচ্ছে নিরাপত্তার অভাব। এখন গুমের সংখ্যা এত বেড়েছে যে, তারা এখন এক জায়গায় বসাকে নিরাপদ মনে করছেন না। একসঙ্গে বসে আড্ডা দিলে সেখান থেকে তারা নিরাপদে ফেরত যেতে পারবেন কিনা তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। দ্বিতীয় কারণটি হচ্ছে মানুষ এখন ফেসবুকে আসক্ত হয়ে পড়ছে। ছাত্রজীবনে আমাদের সামনাসামনি অথবা বিভিন্ন জায়গায় বসে যে আড্ডাটা ছিল সেটা এখন তারা ফেসবুকে দিচ্ছে। সোশ্যাল মাধ্যমে যোগাযোগ বাড়িয়ে সেসব আড্ডার কাজটা সেরে ফেলছে। মোট কথা আমি মনে করি নিরাপত্তা আর ফেসবুক আসক্তি হচ্ছে সামনাসামনি আড্ডা না দেয়ার কারণ।
আ.স.ম আবদুর রব
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) রব এর প্রধান আ.স.ম আবদুর রব বলেন, আগে মানুষ একজন আরেকজনকে দেখলে দাঁড়িয়ে কথা বলতো কিংবা এক সঙ্গে বসে আড্ডা দিতো। তখন মানুষ অধিকাংশ ছিল বেকার। তাদের কাজকর্ম তেমন ছিল না। এখন তাদের সময়ের খুব অভাব। আগে এত কর্মসংস্থান, ইন্টারন্যাশনাল প্রফেশনাল ছিল না। এখন সরকারি-বেসরকারি বহু প্রফেশন হয়ে গেছে। এখন সবাই তার নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বলার কিংবা অপ্রয়োজনীয় সময় তাদের নেই। তারা স্কুল-ভার্সিটিতে এসেও একসঙ্গে বসে খুব একটা আড্ডা দেয় না। দূর থেকে হাত জাগিয়ে হায়- হ্যালো বলেই চলে যায়। আমি বলবো মানুষ তার প্রফেশনের দিকে গুরুত্ব দেয়ার কারণে সামনাসামনি আড্ডাটা কমিয়ে দিয়েছে।
আনু মুহাম্মদ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, সাক্ষাতে আড্ডাটা কমে গেছে বলে আমি মনে করি না। আমার পাড়ায় তো দেখেছি ছেলেমেয়ে প্রতিনিয়ত আড্ডা দিচ্ছে। সাক্ষাৎ করছে। সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ভার্চুয়াল মাধ্যমেও তারা যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে ইন্টারনেটে যোগাযোগের কারণে সাক্ষাৎ কমেনি।
ড. শাহদীন মালিক
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, ইন্টারনেটে সময় কাটানো- এটি সারা দুনিয়াতেই হচ্ছে। আর আমাদের এখানে বিশেষ করে ঢাকার মতো বড় শহরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সময় কাটানো বেশি হচ্ছে- এর কারণ উন্মুক্ত পরিসরের অভাব। এই শহরে বহু মানুষ বিশেষ করে তরুণসমাজ মেসে থাকে। কিছু মানুষ ফ্ল্যাটে থাকলেও ছোট জায়গায়, ছোট পরিসরে থাকে। আড্ডা দেয়ার জন্য উন্মুক্ত স্থান কমে গেছে। আর বন্ধু বা আত্মীয়র বাসায় যাতায়াতও একটি বড় সমস্যা। এসব কারণে মানুষ ব্যক্তিকেন্দ্রিক হতে বাধ্য হয়েছে। আর ব্যক্তিকেন্দ্রিক জীবনে ইন্টারনেটের প্রচলন বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। তবে, সার্বিকভাবে এটি সমাজের জন্য মঙ্গলজনক নয়। কারণ, এতে করে আমাদের সামাজিক বন্ধনটা নিবিড় হচ্ছে না। তিনি বলেন, প্রযুক্তির মাধ্যমে অনেক অপরাধমূলক, অশ্লীল, অপ্রয়োজনীয় ও নোংরা বিনোদন বেড়ে গেছে। যার প্রভাবও সুখকর হবে না। ড. শাহদীন মালিক বলেন, ইন্টারনেটের মাধ্যমে অন্যান্য দেশে জ্ঞান-বিজ্ঞানের যে চর্চা হয়, আমাদের তরুণ সমাজে সেটি নেই বললেই চলে। ফলে, ইন্টারনেট বা তথ্যপ্রযুক্তির ভালো দিকটার সুফল আমরা পাচ্ছি না। আমাদের তরুণ সমাজও ভালো দিকটার সুফল গ্রহণ করতে পারছে না। এটি উদ্বেগের বিষয়।
ড. ইফতেখারুজ্জামান
টিআইবির (ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সামাজিকতা, আড্ডার মধ্যে নির্মোহ আনন্দ উৎসাহ পাওয়া যায়। আড্ডার মাধ্যমে মানুষ নিজেদের মধ্যে জ্ঞানের ভাণ্ডার বিস্তৃত করার সুযোগ পায়। একই সঙ্গে সৃষ্টিশীল কাজেও আড্ডা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আমাদের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে আড্ডা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এগুলো বিবেচনায় নিলে আড্ডা এখন উঠেই গেছে বলা যায়। এটি অবশ্যই ঝুঁকিপূর্ণ। এতে করে আমরা সৃষ্টিশীলতা হারাচ্ছি। আমাদের সামাজিক বন্ধন কমে যাচ্ছে। এখন সামাজিক বন্ধন যদি না থাকে তাহলে মানুষের নৈতিক মানবিক গুণাবলী কমে যায় এবং জ্ঞানের যে বিস্তৃতি বা ভাণ্ডার, সেটিও কমে আসে। তিনি বলেন, প্রযুক্তির অনেক ইতিবাচক দিক আছে। পাশাপাশি এর নেতিবাচক দিকও আছে। নেতিবাচক দিকের কারণে শুধু আড্ডাই নয় পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দেখা গেছে একই পরিবারের তিনজন পাশাপাশি বসে আছি। কিন্তু কেউ কারো সঙ্গে কথা বলছি না। যার যার ফোন বা অন্য কোনো প্রযুক্তিতে ব্যস্ত আছে। এই প্রবণতা তরুণ প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এটি নিয়ন্ত্রণের কোনো উপায় দেখা যাচ্ছে না। এছাড়া প্রযুক্তিতে কেউ কেউ এমনভাবে আসক্ত হয় যে আড্ডার বিষয়টি শুধু যে চাপা পড়ে যায় তা-ই না, বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। এ বিষয়টি আমাদের উদ্বিগ্ন করে। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রযুক্তির একটি ব্যালেন্স বা সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবহার যারা করতে পেরেছে বা পারছে, তারাই এটার সম্পূর্ণ ইতিবাচক ফল পাচ্ছে। আর যারা পারছে না তারা ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিকভাবে বিচ্যুত হচ্ছে।
গোলাম মোর্তুজা
সাংবাদিক গোলাম মোর্তুজা বলেন, স্বাভাবিকভাবেই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছু পরিবর্তন হয়। সেই পরিবর্তনের জায়গাটাতে বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীতে সবকিছু প্রযুক্তি কেন্দ্রিক হয়ে গেছে। বাংলাদেশও এখন সেই ধারাতেই আছে। বাচ্চারা এখন কম্পিউটার, ট্যাবে ফুটবল খেলে। এখন এটার খারাপ দিক হচ্ছে মানুষে মানুষে যে একটা সংযোগ হওয়া, মানুষের সম্পর্কে জানা-বোঝা- এ জিনিসগুলো এখন কমে গেছে। এখন সবকিছু হয়ে গেছে ভার্চুয়াল জগতকেন্দ্রিক। তিনি বলেন, ভার্চুয়াল জগত একটি আলাদা জগত। এ জগৎ থেকে বাস্তব জগত একটু আলাদা। ভার্চুয়ালের সঙ্গে বাস্তবতার সম্পর্ক একটু কম থাকে। আর এই দিকটি ভালো কি খারাপ, এটা আসলে এক বাক্যে বলা সম্ভবও নয় যে, আগেরটা ভালো এখনকারটা খারাপ। তবে, আগে মানুষের মধ্যে একধরনের সম্পর্ক তৈরি হতো। মানুষে মানুষে চিনত-জানতো। এখন সেই জায়গাগুলো কিছুটা কমে এসেছে।
তিনি বলেন, ভার্চুয়াল জগতের কিছু ইতিবাচক দিক আছে। যেমন অনেক গ্রুপ তৈরি হয়। তাদের একজনের সঙ্গে আরেকজনের দেখা হয় না। কিন্তু একজন আরেকজনকে জানে, অনলাইন থেকে। বিভিন্ন
সময়ে তারা ইতিবাচক সামাজিক কাজ করে। একজনের বিপদে আরেকজন সহায়তা করে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই যোগাযোগটা বা মানুষের জন্য কিছু করা- এটাও ভার্চুয়াল জগতের কারণে অনেক বেড়ে গেছে। একটা সময় কারো রক্তের প্রয়োজন হলে পারিবারিকভাবে যোগযোগ করা হতো। এখন পাঁচ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হলে ফেসবুকে এটি প্রচার করলে ব্যক্তিগত বন্ধু, বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে ছড়িয়ে যাবে এবং রক্ত পাওয়া যাবে। গোলাম মর্তুজা বলেন, সামগ্রিকভাবে ভার্চুয়াল জগতের কারণে আড্ডার জায়গাটা বা আমাদের যে সংস্কৃতি ছিল সেটি যেহেতু এখন কমে গেছে, সেহেতু আমাদের মধ্যে একধরনের হা-হুতাশ আছে যে আড্ডা থাকলো না, মানুষে মানুষে সম্পৃক্ততা থাকলো না। তবে, আমি মনে করি এটা নিয়ে ওইভাবে হা-হুতাশের কিছু নেই। এটি সময়ের দাবি। প্রযুক্তি বাদ দিয়ে চিন্তা করার সুযোগ নেই। আমাদের প্রযুক্তির মধ্যেই থাকতে হবে। আর এটাকে অস্বীকার করার কোনো উপায় যেহেতু নেই, তাই কী করে প্রযুক্তিকে আরো ভালোভাবে কাজে লাগানো যায়, ব্যবহার করা যায়- সেই ব্যবস্থাই করা দরকার।
গোলাম মওলা রনি
সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মওরা রনি বলেন, ভার্চুয়াল জগতে আমরা যে কাজ করছি- সেটি হলো রুঢ় বাস্তবতা। এই মুহূর্তে ঢাকা শহরের যে সমস্যা, তাতে আড্ডা দেয়ার জন্য ৫০ জন লোককে জড়ো করতে হলে, ৮-১০ ঘণ্টা সময় লেগে যাবে। কিন্তু ফেসবুকে চ্যাটিং করলে কিছুই করতে হবে না। শুধু বলবো, আমি অনলাইনে আছি, কে কোথায় আছো। তিনি বলেন, বর্তমান ব্যস্ত নগরজীবনে ভার্চয়াল আড্ডা বাস্তবতা। কিন্তু এটার খারাপ দিক হলো, এটি মানুষকে দিনের পর দিন পাষাণ করে দিচ্ছে, দিনের পর দিন মানুষকে বন্ধনহীন করে তুলছে, মানুষের চিন্তা-চেতনার যে মৌলিকত্ব সেটি নষ্ট করে দিচ্ছে। কিছু মানুষকে বাস্তবতা বিমুখ করে হিংস্র ও রক্ষণাত্মক বানিয়ে ফেলছে। গোলাম মওলা রনি বলেন, মুখোমুখি আড্ডার যে সুবিধা তাতে আন্তরিকতা বাড়ে, বুদ্ধি বাড়ে। আড্ডার মাধ্যমে শিল্প সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। আড্ডা না থাকলে সৃষ্টিশীলতা আসে না। কারো প্রতি আন্তরিকতা শ্রদ্ধাবোধ আসে না। একে অপরকে তার যোগ্যতা অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হয় না।
শামা ওবায়েদ
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে শুধু দেশেই নয়, সারা পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেই কিন্তু বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনের স্ফুলিঙ্গ জ্বলে উঠেছে। তবে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ব্যক্তিগত পর্যায়ে সামনাসামনি যোগাযোগও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, আমাদের দেশে ফেসবুক ব্যবহারকারী লোকের সংখ্যা হয়তো বেড়েছে। কিন্তু এখনো গ্রামে-গঞ্জে সামাজিকভাবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে যোগাযোগই কিন্তু বেশি কাজে লাগে। আর আমাদের খেয়াল রাখতে হবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেন কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সংগঠনকে ছোট করা বা অপমান করার জন্য ব্যবহার করা না হয়।
সৈয়দ আবদুল হাদি
প্রতিটি বিষয়ের ভালো ও খারাপ দিক রয়েছে। এখন দিন বদলেছে। সময় বদলেছে। প্রযুক্তি ভর করেছে। এটাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে খারাপ না। কিন্তু ল্যাপটপ ও মোবাইলে ফেসবুক চ্যাটিংয়ের যে ব্যাপারটা এটা কিন্তু মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। আমি ফেসবুকের বিপক্ষে নই। কিন্তু সব কিছুর একটা মাত্রা থাকা দরকার। এখানে আমরা প্রযুক্তির অপব্যবহার করছি। অথচ সীমিত প্রযুক্তির ব্যবহার কিন্তু আমাদের আরো ভালোর দিকে নিয়ে যেতে পারে। পাড়া-মহল্লার আড্ডা কিংবা চায়ের টেবিলের আড্ডা কিংবা আলোচনা থেকে কিন্তু অনেক ভালো কিছু উঠে আসতে পারে। পারস্পরিক সম্পর্ককে মজবুত করে। কিন্তু এখন তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ বাস করছে ভার্চুয়াল জগতে। যার ফলে তারা বাস্তবতা ও ভার্চুয়াল জগতের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না। এর ফলে জীবনবোধ, মানবিকতাবোধ, পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা সব কিছুই কমছে। তাই বলে প্রযুক্তিকে অস্বীকার করা যাবে না। চ্যাটিংও চলতে পারে। সেটা একটা লিমিটেডের মধ্যে। অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো ফল বয়ে আনে না।
ফেরদৌসী রহমান
আসলে এক্ষেত্রে পারিবারিক শিক্ষাটা খুব জরুরি। আমি কখনই প্রযুক্তি কিংবা ফেসবুকের বিপক্ষে নই। কারণ এগুলোর দরকার আছে। ফেসবুক ও টুইটার হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। আমি নিজেও ফেসবুক ব্যবহার করি। এর মাধ্যমে যদি বন্ধন দৃঢ় হয় সেটা ভালো। কিন্তু ফেসবুক কিংবা চ্যাটিংকে যদি কেউ নেশায় পরিণত করে তা নিয়ে অবশ্যই আপত্তি রয়েছে। এই প্রজন্মের মধ্যে এমনটা বেশি হচ্ছে। তাই এ বিষয়ে অবশ্যই বাবা-মা কিংবা অভিভাবককে সচেতন হতে হবে। তাদের এ বিষয়ে শিক্ষা দিতে হবে, বোঝাতে হবে। স্কুল ও কলেজের শিক্ষকরাও এসব বিষয়ে সচেতন করতে পারেন। ছোটবেলা থেকেই যদি সচেতন করা যায় তাহলে একজন ছেলে বা মেয়ে সেই মানসিকতা নিয়েই গড়ে ওঠে। কারণ যে কোনো নেশাই খারাপ। ফেসবুক যদি নেশা হয়ে যায় সেটাও ভয়াবহতা ডেকে আনতে পারে। ভার্চুয়াল দুনিয়া আর বাস্তব দুনিয়া এক নয়। আগের মতো আড্ডা এখন হয় না এটা একদম বাস্তব সত্যি। আর এর কারণে বন্ধুত্বও গড়ে উঠছে না। গড়ে উঠছে ফেসবুক বন্ধুত্ব। শুধুমাত্র ফেসবুক বন্ধুত্ব নির্ভরতার প্রতীক হতে পারে না। সুতরাং এ বিষয়ে নিজেদেরও সচেতন হতে হবে।
ড. ইনামুল হক
আমাদের তরুণ সমাজের মধ্যে অস্থিরতা বাড়ছে। কোনো কিছুতে তারা স্থির নয়। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে তরুণ সমাজের অস্থিরতা সহজেই দেখা যায়। আমি মনে করি তাদের ফেরানোর জন্য সংস্কৃতিমুখী করতে হবে। এছাড়া বই পড়ার অভ্যাস করাতে হবে। পাশাপাশি খেলাধুলায় তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন। এসব কাজে যুক্ত থাকলে তারা ফেসবুকের আসক্তি থেকে ফিরে আসবে। পরিবার থেকে শিশু প্রথম শিক্ষা নেয়। কিন্তু আজকাল অনেক পরিবারে দেখা যায় বাবা-মা দুজনের কেউ সৃজনশীল কোনো কাজের সঙ্গে নেই। ফলে তাদের সন্তান এক ধরনের হীনমন্যতায় বড় হয়। আমাদের সন্তানেরা সৃজনশীল কোনো কর্মকান্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে পারছে না বলেই ফেসবুকে সময় কাটাচ্ছে। ফেসবুক ব্যবহার করা দোষের কিছু নয়। কিন্তু এটির অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কিশোর-কিশোরীদের মেধাহীন করছে। অনেক ক্ষেত্রে তাদের লক্ষ্যচ্যুত করছে বলেও আমার মনে হয়। অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি সচেতনতা বাড়াতে হবে। প্রয়োজন ছাড়া তাদের হাতে মোবাইল দেয়াও বন্ধ করতে হবে। তরুণদের জন্য বলতে চাই ফেসবুকে সময় না দিয়ে তাদের বিভিন্ন কর্মকান্ডে ব্যস্ত থাকা প্রয়োজন। না হলে নিজেদের সর্বনাশের জন্য নিজেরাই দায়ী থাকতে হবে।
আবুল হায়াত
বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ফেসবুক। কিন্তু এই মাধ্যমকে আমি এখন কাজের চেয়ে যন্ত্রণাদায়ক মনে করি। এই যন্ত্রণার কারণে এখন আমি সামাজিক যোগাযোগের এই মাধ্যমের সঙ্গে আর নেই। ফেসবুকে আমি নেই তবুও আমাকে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। আমার নামে অনেকগুলো ফেইক আইডি রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের পোস্ট দেয়া হচ্ছে সেসব আইডিগুলো থেকে। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ করেও কোনো সমাধান পাইনি। সত্যি বলতে আমাদের কিছু মানুষ ফেসবুকে আসক্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে এই আসক্তি অনেক বেশি। রাত জেগে তারা ফেসবুকে পড়ে থাকে। সামাজিক কোনো অনুষ্ঠানে গেলে সেখানেও এটিতে মগ্ন থাকে। এটিকে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভয়ংকর মনে হচ্ছে। এটি আমাদের জাতীয় ব্যর্থতা বলেও আমি মনে করি। ভালো একটি মাধ্যমকে আমরা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারছি না। আমি মনে করি চীনের মতো আমাদের এটি বন্ধ করে যোগাযোগের জন্য বিকল্প কিছু করতে হবে। না হলে কিশোর-কিশোরীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নষ্ট হবার প্রবণতা ক্রমেই বাড়বে।
সোহেল রানা
প্রযুক্তির ব্যবহার (নেট চ্যাটিং, ফেসবুক, টুইটার) এখন অনেক তরুণ-তরুণীই বেশ উপভোগ করছে। আগে আমরা টেলিভিশন দেখতাম সাদা-কালো, এখন দেখি রঙিন। আগে একরকম জিনিস ভালো লাগত, আর এখন অন্য কিছু হয়তো তরুণ-তরুণীদের চোখে ভালো লাগে। এই প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের টেকনোলজির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের উন্নতিও হয়েছে। টেকেনোলজির দিক দিয়ে আমাদের চেয়ে তীব্র গতিতে উন্নতির দিকে যাচ্ছে এখনকার তরুণ-তরুণীরা। যারা বলে টেকনোলজির ব্যবহারের ফলে অনেক ব্যাড ইফেক্ট আছে, তাদের ক্ষেত্রে আমি বলতে চাই ব্যাড বা সাইড ইফেক্ট আগেও ছিল, এখনো আছে। জেনারেশন টু জেনারেশন সবসময়ই পরিবর্তন হবে-এটাই স্বাভাবিক। টেকনোলজির সুবাদে খারাপের চেয়ে আমি মনে করি ভালোর দিক বেশি। আর তরুণ-তরুণীরা দিনের পর দিন এর ব্যবহারের কল্যাণে অনেক ভালো ভালো কাজ আজ চারপাশে করছে। চলচ্চিত্রে রিলের ব্যবহার এখন নেই, ছোট্ট একটি চিপসের মাধ্যমে প্রেক্ষাগৃহে দর্শক ছবি দেখছে। টেকনোলজির জন্য আমাদের অনেক উন্নতি হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চারদিকে দ্রুত সবকিছুর পরিবর্তন হচ্ছে। আড্ডা ভুলে মোবাইল এসএমএস বা চ্যাটিংয়ে মেতে থাকা তেমনই একটি পরিবর্তন। আর এসব পরিবর্তন সবসময়ই ভালো কিছুর জন্য হোক এটাই আমার চাওয়া থাকবে।
সুবীর নন্দী
এটা কঠিন বাস্তবতা। আগে পাড়া-মহল্লার আড্ডা কিংবা চায়ের চুমুকে টং দোকানের সেই আড্ডা আর দেখা যায় না। এমনকি গ্রামেও সেই আড্ডা এখন কম। সবাই যেন নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। আর এটা হয়েছে প্রযুক্তির ফলেই। মোবাইলের বাটন চাপলেই সারা বিশ্ব এখন হাতে। তাই এখনকার যুব সমাজ সেই ভার্চুয়াল বিশ্বেই আনন্দ খুঁজে নেয়ার চেষ্টা করে। ফেসবুক কিংবা টুইটার-আমি এ ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিরুদ্ধে নই। তবে সারাদিন চ্যাটিংয়ে পড়ে থাকার মধ্যে ভয়াবহতা লুকিয়ে আছে। সরাসরি বসে কথা বলা আর মোবাইলে কথা বলা কিন্তু এক বিষয় নয়। ঢাকায় থেকে মোবাইলে বলে দেয়া যায় আমি বরিশাল! এটা কিন্তু অহরহই হচ্ছে। ঠিক তেমনই আড্ডার মধ্যে দিয়ে যেমন সুন্দর সুন্দর আলোচনা হতে পারে। সংস্কৃতির চর্চা হতে পারে সেটা ভার্চুয়াল জগতে কই! অনেক সময় শুনি সারাদিন কিংবা সারারাত ফেসবুকে কাটিয়ে দিচ্ছে কেউ কেউ। এটা মর্মাহত করে আমাকে। শুধু পারস্পরিক সম্পর্ক নষ্ট করছে না, মূল্যবান সময় নষ্ট করছে। কেউ যদি সারারাত ফেসবুক চ্যাটিংয়ে ব্যস্ত থাকে সে কি করে সময়মতো সকালে উঠবে! সুতরাং সে কাজও সময়মতো শুরু করতে পারবে না। সে ছাত্রজীবন, ক্যারিয়ার কিংবা জীবনেও পিছিয়ে পড়বে। তাই আমি অনুরোধ করবো বিষয়টিতে সচেতন হতে। সময়ের মূল্য দিতে হবে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মধ্যে দিয়ে বাস্তবতাটাকে বুঝতে হবে।
খুরশিদ আলম
প্রযুক্তি আমাদের দিয়েছে অনেক, কেড়েছে তার থেকে বেশি। বিষয়টি কিন্তু একদম সতি। কিন্তু এটা প্রযুক্তির দোষ নয়। এটা আমাদের নিজেদের দুর্বলতা। পৃথিবীর অন্য দেশের দিকে তাকিয়ে দেখুন তারা কিন্তু প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার করছে। সারাদিন চ্যাটিংয়ে ডুবে থাকার সময় তাদের নেই। আগে আমাদের সারা দুনিয়ায় খ্যাতি ছিলো পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের জন্য। কিন্তু এখন তার উল্টো। আমি যদি সারাদিন কিংবা রাত চ্যাটিংয়ে ডুবে থাকি তাহলে পড়াশোনা করবো কখন? সংস্কৃতি কিংবা গান চর্চা করবো কখন? পরিবার কিংবা বন্ধুদের সময় দিবো কখন? তাহলে কি হচ্ছে? আমরা কিন্তু পিছিয়ে যাচ্ছি অনবরত। একদিকে আমরা যেমন পারস্পরিক সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে ব্যর্থ হচ্ছি তেমনি নিজেরাও পিছিয়ে পড়ছি প্রতিটি ক্ষেত্রে। আমি ফেসবুকের বিরুদ্ধে নই। ফেসবুক ব্যবহার সারা বিশ্বেই হচ্ছে। কিন্তু সবসময় এটা নিয়ে থাকতে হবে কেন? এটা করতে করতে কিন্তু অনেক ক্ষতি করে ফেলছি আমরা। আর যখন অনুধাবন হবে তখন সময় আর হাতে থাকবে না। সুতরাং এগিয়ে যেতে হলে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার করতে হবে, এটাকে নেশায় পরিণত করলে চলবে না।
ফেরদৌস ওয়াহিদ
আমি নিজেও ফেসবুক ব্যবহার করি। চ্যাটিংও করি। কিন্তু সেটা মাত্রাতিরিক্ত নয়। কারণ সীমা লঙ্ঘন করা ঠিক নয়। আমি মনে করি প্রযুক্তি সৃষ্টিকর্তার একটি দান। এটাকে কাজে লাগাতে হবে। আমি ফেসবুক চালাবো। কিন্তু সেটাকে নেশায় পরিণত করবো না। এমন মনোভাব থাকতে হবে। সত্যিইতো এখন সবাই ইন্টারনেট নিয়ে পড়ে থাকে। সরাসরি বন্ধুত্বও এখন কম। ফেসবুক বন্ধু আর স্কুল, কলেজ কিংবা কর্মস্থলের বন্ধু কিন্তু এক নয়। যে কাছে আসবে না, মিশবে না, জানবে না, আনন্দ-কষ্ট ভাগাভাগি করবে না সেই বন্ধুত্ব আসলে বন্ধুত্ব নয়। সুতরাং আমি তরুণ প্রজন্মকে বলবো ফেসবুক চালাও, তবে সেটা সীমার মধ্যে থেকে। আর সঙ্গে সঙ্গে বন্ধুত্ব বাড়াও, আড্ডা দাও। দেখবে সেখান থেকে উঠে আসবে অনেক শিক্ষামূলক বিষয়ও, যেটা কাজে লাগবে পরবর্তী জীবনে।
ববিতা
এই প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা যেভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করছে সেটা ব্যক্তিগতভাবে আমার ভালো লাগে না। কারণ আমার কাছে মনে হয় এই প্রযুক্তির ফলে তারা ভিন্ন জগতে প্রবেশ করছে। প্রতিনিয়ত পরিবার থেকে নিজেকে আলাদা করে ফেলছে। একটা উদাহরণ দিয়ে বললে ভালো হবে। যেমন ওদেরকে (ছেলে-মেয়েদের) কোনো বাসায় বেড়াতে নিয়ে যাবার আগে প্রথমেই প্রশ্ন করে, ওখানে ইন্টারনেট কানেকশনটা কেমন, সিগন্যাল ঠিকমতো থাকবে কিনা। সব ঠিক থাকলে তারা যেতে চাইবে না হলে বলবে ওখানে গিয়ে আমরা কি করবো ? শুধু তাই না, আগে বন্ধু-বান্ধব, বাচ্চা, পরিবারের অন্যান্য সদস্য মিলে যে আড্ডা হতো সেটা বন্ধ হয়ে গেছে। এই সময়ের ছেলে মেয়েরা বিয়ে করছে ঠিকই, কিন্তু মেয়েরা অনেক সময় পরিবার অর্থাৎ তার স্বামীকেও ঠিকমতো সময় দিচ্ছে না। টেকনোলজি বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফলে চারপাশ যতটা উন্নত হয়েছে তেমনই আবার ব্যক্তিগত বা পারিবারিক জীবনে প্রতিনিয়ত বেশ ক্ষতিও আমরা দেখতে পাচ্ছি। তাই এটাকে আমি সাপোর্ট করি না।
আবিদা সুলতানা
এখন আড্ডা নেই, প্রকৃত বন্ধুত্বও নেই। দিন দিন আমরা কেবল যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছি। প্রযুক্তি আমাদের জীবন সহজ করেছে ঠিক, কিন্তু কেড়ে নিয়েছে পারস্পরিক বন্ধন। এখন এক বাড়িতে থেকেও পাশের ফ্ল্যাটের মানুষের খবরই কেউ রাখছেন না। অথচ আগে এমনটা ছিলো না। এখন মানুষ বন্দি জীবন কাটাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। আর তার জন্য প্রযুক্তিকে বেছে নিয়েছে। ল্যাপটপ, মোবাইলের মাধ্যমে সারা বিশ্বকে সে দেখছে নিজের মতো করে। আমার আশেপাশেই তো দেখি প্রযুক্তি কিভাবে গিলে খেয়েছে সহজ-সরলতাকে, বন্ধুত্বকে, পারস্পরিক ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধকে। ফেসবুক কোনো খারাপ বিষয় নয়, কিন্তু এটাকে নেশায় পরিণত করলে হবে না। আমি মনে করি পারিবারিক শিক্ষাই এখান থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করতে পারে। পুরো জেনারেশন যদি ফেসবুক-মেসেঞ্জারে বুদ হয়ে থাকে, তবে ভয়াবহ সময় অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য।
সারা যাকের
আধুনিক যুগে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম শুধু ফেসবুক এটি আমি মনে করি না। ফেসবুক ছাড়াও যোগাযোগের আরো অনেক মাধ্যম রয়েছে। ফেসবুকে কেউ আসল জগৎ প্রকাশ করে না। তার কল্পনার বহিঃপ্রকাশ ঘটায় বলে আমার মনে হয়। এটি না ব্যবহার করলে আমাদের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে তারো কোনো আশঙ্কা নেই। অনেকেই বলে ফেসবুকে নাকি অনেক কিছু জানা যায়। আমি যখন আমার কোনো একটি লেখার লিংক শেয়ার করি সেটি অল্প কয়েকজন পড়ে। তাহলে কিশোর-কিশোরীরা কিংবা তরুণ সমাজ ফেসবুকে কি পড়ছে? ফেসবুকের চেয়ে গুগলে সার্চ দিয়ে অনেক বেশি অজানা তথ্য জানা যায়। এই সময়ে এসে আমি উপলব্ধি করেছি আঠারো বছরের কম বয়সীদের ফেসবুক ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। সেক্ষেত্রে বাবা-মাকে এই বিষয়ে সচেতন হতে হবে। রাষ্ট্রীয়ভাবেও এর জন্য উদ্যোগ নেয়া যায়। রাষ্ট্র ও পরিবার থেকে যদি কোনো সঠিক উদ্যোগ নেয়া হয় তাহলে কিশোর-কিশোরীদের এবং তরুণ সমাজের ফেসবুকের এই আসক্তি কমবে। অন্যথায় সামাজিক যোগাযোগ শুধু ফেসবুকেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
ডলি জহুর
ফেসবুক আমাদের মধ্যে ব্যাধির মতো হয়ে গেছে। যেখানে-সেখানে আমাদের অনেকেই এখন এটিতে ব্যস্ত থাকতে পছন্দ করে। দেখা যায় কয়েকজন আড্ডা দিচ্ছে, সেখানেও যে যার মতো ফেসবুকে চ্যাটিং করছে। এর মধ্য দিয়ে সাময়িক লাভবান হলেও একটা সময় একাকীত্বে ভুগতে হয়। মাধ্যমটা এমন হয়ে গেছে অনেকে এটিকে ছাড়া নিজকে ভাবতে পারে না। সত্যি বলতে প্রযুক্তি মানুষকে যেমন অনেক দূর নিয়ে যায় তেমনি অবক্ষয়ও করে। ফেসবুক তার জ্বলন্ত উদাহরণ আমি বলতে পারি। আমাদের প্রযুক্তির ব্যবহার জানতে হবে। নতুন প্রজন্মকেও প্রযুক্তির ব্যবহার শেখাতে হবে। কখন কোথায় কিভাবে এটিকে ব্যবহার করতে হবে সেটি তারা জানতে না পারলে ক্ষতির প্রভাবটি বাড়তে থাকবে। এদিকে এখন অনেক পরিবারে দেখি অল্প বয়সী ছেলে-মেয়েদের মোবাইল কিনে দিচ্ছে বাবা-মা। পড়ালেখায় সময় না দিয়ে তারা মোবাইলে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সময় ব্যয় করে। আমার মনে হয় এই বিষয়ে বাবা-মাকে আরো বেশি সচেতন হতে হবে। তবে অস্বীকার করার কিছু নেই সময়ের দাবি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক। ফেসবুকের কল্যাণে আজকাল অনেক কিছু সহজে জানা যায়।
চিত্রলেখা গুহ
প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে আছি। অনেক সময় জেনে না জেনেই এটির ব্যবহার করি। ফেসবুক আমাদের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। এটি থেকে কাউকে দূরে রাখা সম্ভব নয়। কিন্তু প্রয়োজন ছাড়াও অনেকেই এটিতে সময় দিয়ে থাকে। একটি মাধ্যম যদি কাজের চেয়ে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায় তাহলে সেটি ব্যবহার না করা ভালো মনে করি। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া আমি ফেসবুকে আসি না। সারা দিন ফেসবুকে সময় দিলে অন্য কাজ করার সময় কোথায়? এই বিষয়টি আমাদের সবাইকে বুঝতে হবে। আজকাল তরুণ-তরুণীদের বাইরে অনেক বয়স্ক মানুষও ফেসবুকে অধিক সময় দিচ্ছেন। ফেসবুক ব্যবহারে সচেতনতা বাড়াতে হবে। ফেইক আইডি বন্ধের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অধিকাংশ তরুণ-তরুণীকে একের অধিক আইডি ব্যবহার করতে দেখা যায়। রাত জেগে স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা চ্যাটিং করে। এ কারণে তাদের অনেকেই আবার পরদিন স্কুল কলেজে অনুপস্থিত থাকে। পরিবারের বাবা-মাকে এ বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। রাত জেগে তার সন্তান কি করছে সেটি দেখতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোরও ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে প্রযুক্তির উৎকর্ষতা ও তার ক্ষতির দিকগুলো তুলে ধরা প্রয়োজন।
ইলিয়াস কাঞ্চন
বর্তমান সময়ে ইন্টারনেটের সুবাদে চ্যাটিংয়ে এক বন্ধু অন্য বন্ধুকে সময় দিচ্ছে। আর আগে আমরা যখন আড্ডা দিতাম তখন অনেকজন থাকতো তাতে। অনেক বিষয়ে কথা হতো। আগে একান্নবর্তী পরিবারের যে বন্ধন ছিল সেটা তো একদমই এখন নেই, বলতে গেলে এককথায় ভেঙে গেছে। এর ফলে তরুণ প্রজন্মের অনেকে নেশায়ও আসক্ত হচ্ছে। আর এ বিষয়গুলো পরিবারের লোকজনরাও অনেক সময় জানতে পারছে না। কারণ দরজা বন্ধ করে ছেলে-মেয়েরা চ্যাটিং করছে। অনেকে ড্রাইভিং সিটে বসে ফোনে কথা বলার পাশাপাশি চ্যাটিং করছে। যেখানে ড্রাইভিং সিটে বসে ফোন ব্যবহার করাটাই নিষেধ, সেখানে চ্যাটিং করা বা ফোনে কথা বলা- এসব তো বলতে গেলে জেনে শুনে মৃত্যুকে ডেকে আনা। তাই টেকনোলজির ব্যবহারে সতর্ক হওয়া উচিত।
মিশা সওদাগর
আমি চলচ্চিত্রের মানুষ। তাই চলচ্চিত্রের প্রমোশনের উদাহরণ দিয়ে এ বিষয়ে একটা কথা বলতে চাই। সেটা হচ্ছে এই প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা নেট বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অনেক বেশি ব্যবহার করছে। হয়তো এজন্যই অনেক সিনেমার প্রমোশনে এখন ব্যবহার হচ্ছে এটি। তবে আমার কাছে মনে হয় এভাবে প্রমোশনের নামে সিনেমার ডিমোশন হচ্ছে। আমরা আগে একটা সময় সিনিয়র জুনিয়র মিলে গল্প করতাম। শুটিং সেটে বা ব্যক্তিগত জীবনে পরিবারের সকলের কাছে কিছু শেখার চেষ্টা করতাম। কিন্তু এখন তো এটা দেখি না। সবাই নেট চ্যাটিংয়ে এতটাই ব্যস্ত যে সামনা সামনি আইডিয়া শেয়ারিং বা কোনো বিষয়ে আলোচনা তেমন হয় না বললেই চলে। আর চলচ্চিত্রের যারা প্রমোশন করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করছে তাদের ক্ষেত্রে বলতে চাই সিনেমা সর্বপ্রথম হলের জন্য, নেটের জন্য না। নেটে তরুণ-তরুণীদের আকৃষ্ট করে সিনেমা হলে নিয়ে যাওয়া খুব কঠিন। আর খুব বেশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ফলে সাইড ইফেক্টও আছে অনেক। সেটা একটা ছেলে বা মেয়ের মানসিক বিকাশে প্রতিনিয়ত ক্ষতি করছে। কিন্তু সেই ছেলে বা মেয়েটি নিজে সেটা বুঝতে পারছে না।
শাবনূর
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আড্ডার চেয়ে সামনা সামনি দেখা ও কথা বলে আড্ডা দিতে আমি ভীষণ পছন্দ করি। কিন্তু এই প্রজন্মের আড্ডাটা ভিন্ন ধরনের। আগে একটা সময় আড্ডার মাধ্যমে ভালো কিছু উঠে আসত। এখন তো ফোনে বা নেটে সব সিদ্ধান্ত হয়ে যায়। দেখা করতে হয় না। ছবি ভেসে ওঠে ফোনে। সবই টেকনোলজির কল্যাণে হয়েছে। তবে এর ফলে ভালোর পাশাপাশি খারাপ অনেক কিছুই ঘটছে। তাই আমি চাইবো সবাই এটার সুন্দর দিকগুলো ব্যবহার করুক, আর খারাপগুলো বর্জন করুক। এর বেশি কিছু বলার নেই আমার।
গ্রন্থনা: ফয়সাল রাব্বিকীন, কামরুজ্জামান মিলু ও এন আই বুলবুল
About: Kutubi Web
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1398)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
-
▼
2018
(7025)
-
▼
January
(1086)
-
▼
Jan 08
(67)
- এসএসসি পরীক্ষার সময় কোচিং সেন্টার বন্ধ
- ৪ দিনে ২ বিলিয়ন ডলার আয়!
- ট্রাম্প টাওয়ারে আগুন
- অসুস্থ সাবেক এমপি ইউসুফকে ঢাকায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত
- রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, নিরাপত্তার জন্য খালেদার মাম...
- আমি যদি ফিলিস্তিনি হতাম... by গার্শন বাসকিন
- সাতকানিয়ায় ৩ দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলা শুরু বৃহস্পতিবার
- দেশে নতুন রোগ বিদেশ থেকে আসছে ভাইরাস by ফরিদ উদ্দি...
- যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি ৫ হাজার কোটি ডলার!
- আইনি জটিলতায় বিরাট-আনুশকার বিয়ে
- বিজয় গোখলের জন্য ‘এজেন্ডা’ by প্রশান্ত ঝা
- অভিভাবক নির্যাতনের ঘটনায় ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা, ৩...
- অদক্ষ সরকারের কবলে যুক্তরাষ্ট্র by রস ডৌথাট
- চীন ভ্রমণ by আতাউর রহমান
- লুসি হল্টকে একটা দেশ দিন by ফারুক ওয়াসিফ
- স্ত্রীকে নির্যাতন না করেই দেখুন না! by রোকেয়া রহমান
- বড় আকাশে ডানা মেলতে চায় বিমান
- প্রিয়াঙ্কা এবার রবীন্দ্রনাথের প্রেমিকা
- রজনীকান্ত যার ভক্ত
- ওয়াক্ফ সম্পত্তিতে অবৈধ ইটভাটা চলছেই
- ৪৫০ হোটেলের ছাড়পত্র নেই
- অস্থায়ী আদালতে খালেদার আরও ১৪ মামলা
- তিন ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত
- খালেদার ঘোষণা শুভ লক্ষণ
- দ্বিতীয় বিয়ে লুকাতে ডিআইজির কাণ্ড!
- জনগণের ভালোবাসা রাজনীতিকের বড় অর্জন
- মানবেতর জীবন সাবেক এমপির, পাশে প্রধানমন্ত্রী
- অবৈধ তিন ভাটায় পুড়বে ইট
- পরীক্ষা না দিয়েও পাস!
- বসেছে সংসদ অধিবেশন
- পুলিশকে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী
- উত্তরাঞ্চলের মানুষ জবুথবু
- নামের মিলের এমন খেসারত!
- পঞ্চগড়ে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস
- ‘৯০ মিনিট স্কুল’
- বিমানের ভেতর নবজাতকের মৃতদেহ, মা আটক
- সিরিয়ায় বিস্ফোরণে নিহত ২৩
- ৫০ বছর পর এমন শীত নামলো, ৬ জনের মৃত্যু
- উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরবে সরকার
- প্রত্যাবাসন দেরি করতেই হামলা: মিয়ানমার
- যুক্তরাষ্ট্রকে তীব্র ভর্ৎসনা রাশিয়ার
- যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক সম্প্রসারণ
- রোবটের আগ্রাসন থামাতে মানুষে বিনিয়োগ প্রয়োজন by স্...
- বিভাগীয় শহর ময়মনসিংহ
- চিরশত্রু মায়া! by সারা বুশরা
- রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অনিশ্চয়তার মেঘ by মিজানুর রহমান
- এখন বয়স কত?
- প্রযুক্তিতে এ বছর কী শিখবেন?
- নিউইয়র্কে থেকে দেশে গড়েন স্কুল-কলেজ
- পদত্যাগে বাধ্য হবেন ট্রাম্প?
- ‘বস্ত্রহীন রাজা’ by হাসান ফেরদৌস, যুক্তরাষ্ট্র
- কিমের সঙ্গে নিজেই কথা বলবেন ট্রাম্প
- আড্ডায় ভাটা চ্যাটে জোয়ার
- অরুণাচল থেকে চাকমা-হাজংদের বের করার দাবি
- হায়দরাবাদে মুসলিমদের চিংড়ি খেতে বারণ
- যে ছবি বদলে দিল জীবন
- ট্রাম্পের টুইটই প্রমাণ তিনি প্রতিভাবান নন
- সীমান্তে ১৪ হাজার বাংকার করছে ভারত
- উত্তর–দক্ষিণ দুদিকেই রেকর্ড
- সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস
- অন্যকে বাঁচাতে নিজের জীবনই বিপন্ন
- লক্ষ্য ২০১৮ by সৈয়দা সাদিয়া শাহরীন
- কনকনে ঠান্ডার সঙ্গে হিম বাতাস
- ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়ার ব্যাপারে সৌদি পররাষ্ট্রমন্...
- মসজিদের দানবাক্সে রেকর্ড সোয়া কোটি টাকা
- ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমেদিনেজাদ গ্রেফতার!
- গোপন সুড়ঙ্গ দিয়ে যুক্ত হচ্ছে নেপাল-চীন! অস্বস্তিতে...
-
▼
Jan 08
(67)
-
▼
January
(1086)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
কালবেলা
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
স্বাস্থ্য
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
জীবনযাপন
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
মসজিদ
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
ইয়েমেন
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
Exclusive
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
জনস্বাস্থ্য
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
জোহরান মামদানি
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
ইহুদি
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment