Sunday, January 8, 2012
প্রচ্ছদ রচনা : জীবনের রেলগাড়ি-জসীমউদ্দিন মণ্ডল মজদুর থেকে জননেতা
প্রচ্ছদ রচনা : জীবনের রেলগাড়ি-জসীমউদ্দিন মণ্ডল মজদুর থেকে জননেতা
পলেস্তারা খসে পড়া একটি অতি পুরনো বাড়ি। একেবারে চাকচিক্যহীন। বারান্দাবিহীন বাড়িটির দরজা দিয়ে প্রবেশ করে চৌকি ও একটি চেয়ার। চৌকিতে তখনো মশারির তিন কোনা দড়ি দিয়ে বাঁধা। বোঝাই যায়, এখানেই কেউ একজন শুয়েছিলেন, উঠে গেছেন; মশারি খোলা হয়নি। সেখানেই শুয়েছিলেন জসীমউদ্দিন মণ্ডল। ইতস্তত বিক্ষিপ্ত কিছু জিনিসপত্র। কিছু বই, দু-একটা ছবি। একটি ছবিতে যুবক জসীম ও আরো একজন সাথী। আছে লেনিনের ছবি। সিলিংয়ে একটি ফ্যান
আছে বটে, তবে তা ঘোরে না। শুরু হয় আদ্যোপান্ত মানুষের ভাবনায় পার করা একজন মানুষের সারা জীবনের কথামালা। ব্রিটিশ শাসনের অন্তিমলগ্ন, পাকিস্তান পর্বের গোটা সময় এবং বাংলাদেশের প্রায় অর্ধশতকজুড়ে তিনি নিজেকে সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে জড়িয়ে রেখেছেন। সাধারণ মানুষের মঙ্গল চিন্তায় নিজেকে সক্রিয় রেখেছেন। জীবন শুরু করেছিলেন রেলের বয়লারে কয়লা দেওয়া মজুর হিসেবে, পরবর্তী সময়ে হয়েছেন জননেতা। এখনো দর্শনে ও নিজের বিশ্বাসে অটল। এই মানুষটি আর কেউ নন; জীবন্ত কিংবদন্তি জসীমউদ্দিন মণ্ডল। জসীম মণ্ডলের বাড়িতে আলাপচারিতার পর খুলনায় ফিরে গিয়ে এবারের প্রচ্ছদ করেছেন কালের কণ্ঠের খুলনা অফিসের ব্যুরো চিফ গৌরাঙ্গ নন্দী
আজকের কুষ্টিয়া জেলার কালিদাশপুর গ্রামে এক অতিসাধারণ পরিবারে জসীমউদ্দিন মণ্ডলের জন্ম। তখন কুষ্টিয়া জেলা ছিল নদীয়া জেলার মধ্যে। কবে জন্ম হয়েছিল, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ তিনি বলতে পারেননি। এ সম্পর্কে তিনি লিখেছেন, "মা বলতেন, 'সেই যে দুনিয়াজুড়ে যুদ্ধ শুরু হলো, তার ঠিক ১০ বছর পর তোর জন্ম।' এর থেকে আন্দাজ করতে পারি, ১৯১৪ সাল থেকে ১০ বছর পরে অর্থাৎ ১৯২৪ সালে এই পৃথিবীর আলোর মুখ আমি প্রথম দেখি।" (পৃ. ৯, সংগ্রামী স্মৃতিকথা, জীবনের রেলগাড়ি_জসীমউদ্দিন মণ্ডল)। অবশ্য, জন্মদিন সম্পর্কে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, 'মায়ের কাছে শুনে, আর দাদির হিসাব মতে আমার মনে হয় জন্মদিনটি হবে ১২ আশ্বিন।'
তাঁর বাবা চাকরি করতেন রেলে। বেতন পেতেন মাত্র ১৩ টাকা। তবে মাত্র এক টাকা দুই আনাতেই তখন এক মণ ভালো চাল পাওয়া যেত। বাবার রেলের চাকরির সুবাদে সেই ছোটবেলায় তিনি এখানে-সেখানে ঘুরে বেড়িয়েছেন।
নানাবাড়ির গ্রামের এক পাঠশালায় জসীমউদ্দিন মণ্ডলের লেখাপড়ায় হাতেখড়ি। খড়ের চালা আর বাঁশের বাতা দিয়ে বেড়া দেওয়া পাঠশালা। পাঠশালার হেডপণ্ডিত মহিম মুখুজ্জে (মুখোপাধ্যায়) তাঁর মামাকে একদিন বলেছিলেন, 'বুঝলে হে, ছেলেটা কালে একজন কেউকেটা গোছের কিছু হবে, আমি বলে দিলুম।' মহিম বাবুর কথা মনে পড়ায় তিনি যেন আনমনেই বলে ওঠেন, 'কেউকেটা আর হতে পারলাম কোথায়!'
১৯৩২ সালে তাঁর বাবা পদোন্নতি পেয়ে টালি ক্লার্কের পদ পান। আসেন সিরাজগঞ্জে। ১৯৩৪-এ বদলি হয়ে যান রানাঘাট। সেখান থেকে পার্বতীপুর। ক্রমাগত বদলি এবং স্থান বদলের ধাক্কায় পড়াশোনা তাঁর আর হয়ে ওঠেনি। পার্বতীপুর থাকার সময় তাঁর বাবার এক সহকর্মী তাঁকে পড়ানোর চেষ্টা করেন। তিনি পড়াশোনায় উৎসাহ জোগাতে নানা গল্প বলতেন। এই গল্পের একটি অংশজুড়ে থাকত স্বদেশিদের গল্প। দেশমাতৃকার মুক্তির লক্ষ্যে যেসব তরুণ-তরুণী জীবন বাজি রেখে আন্দোলন করে চলেছে তাদের গল্প। তাঁর মুখে শুনেছেন মাস্টারদা সূর্য সেন, বাঘা যতীন, বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দাদারের সাহসী জীবনসংগ্রাম এবং দেশের প্রতি ভালোবাসা থেকে আ@ে@@@াৎসর্গের কাহিনী।
জসীম মণ্ডল বলেন, 'আসলে লোকটি ছিল স্বদেশি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর বলার ধরনে আমার চোখের সামনে যেন সেসব ঘটনা দেখতে পেতাম, মনে হতো আমার কাছে যদি অস্ত্র থাকত তাহলে আমিও ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াই করতাম।' এ ঘটনার মধ্য দিয়ে স্বদেশিদের প্রতি প্রবল আস্থা ও শ্রদ্ধাবোধ তৈরি হয় জসীম মণ্ডলের। স্বদেশি দেখার জন্য উন্মুখ হন তিনি। স্বদেশি দেখার বাসনায় তিনি একদিন কয়েক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে চলে যান পার্সেল ট্রেনে করে পার্বতীপুর থেকে কলকাতায়। যাহোক, স্বদেশি দেখার সাধ তখনো মেটেনি। এরপর তাঁর বাবা বদলি হয়ে আসেন ঈশ্বরদী।
পৃথিবীর পাঠশালায়
ঈশ্বরদী থাকতে তিনি হরহামেশা কলকাতা যেতেন। এই ট্রেনে যাওয়া তো আবার ফিরতি ট্রেনে চলে আসা। তাঁর ভাষায়, 'ঈশ্বরদীর দিনগুলো (পরে অবশ্য তিনি সেই ঈশ্বরদীতে থিতু হন। এখনো আছেন সেখানে।) সত্যিই রোমাঞ্চে ভরা। সেই সময় কলকাতা যাওয়ার ব্যাপারটা আমার কাছে ডাল-ভাতের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তখন কলকাতায় জোরেশোরে লাল ঝাণ্ডার মিছিল হতো। শ্রমিক আন্দোলন চলছিল। লাল ঝাণ্ডা, মিছিল, শ্রমিকদের আন্দোলন_এগুলো আমাকে ভয়ানকভাবে টানত। আমি বারবার যেতাম এর খবর আনতে।' পরে আর কলকাতায় গিয়ে আন্দোলনের খবর সংগ্রহ করতে হয়নি। একদিন তাঁর বাবা কলকাতায় বদলি হয়ে যান। আর জসীমউদ্দিন মণ্ডলও পেয়ে যান এক নতুন জীবন।
কলকাতা তখন স্বাধিকার আন্দোলনে টগবগ করছে। কলকাতার রাস্তায় রাস্তায় মিছিল আর স্লোগান। জসীমদের বাসা ছিল নারকেলডাঙ্গা কলোনিতে। কলোনির চারপাশে উঁচু দেয়াল। এর পাশ দিয়ে গেছে বড়বাজারের রাস্তা। সেই রাস্তা দিয়ে মিছিল যেত। মিছিলের আগে থাকতেন শ্রমিকরা। মুষ্টিবদ্ধ হাত ওপরে তুলে বজ্রকঠিনভাবে তাঁরা আওয়াজ দিতেন, 'ইংরেজ বেনিয়া এ দেশ ছাড়ো, ভারত মাতাকে মুক্ত করো', 'লাল ঝাণ্ডা কি জয়, ভারত মাতা কি জয়', 'পুকার তা হায় ইনসান রোটি কাপড়া আউর মোকাম' প্রভৃতি। এসব স্লোগান শুনে আনমনা হয়ে পড়েন কিশোর জসীম। নিজের অজান্তেই একদিন নিজেকে আবিষ্কার করেন মিছিলের সারিতে।
মিছিল দেখতে দেখতে তিনি হয়ে যান মিছিলের একজন। স্বাধীনতার দাবিতে স্লোগান দেওয়া, দেশকে দখলদারদের কবল থেকে মুক্ত করা, গরিব মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা, গরিব মানুষের স্বার্থ রক্ষাকারীদের ক্ষমতায় বসানোর আকাঙ্ক্ষায় টগবগ করতে করতে কিশোর জসীম এগোতে থাকেন। মিছিল যেত ধর্মতলা আর বউবাজার ঘুরে মনুমেন্টের দিকে। মনুমেন্টে এসে মিছিল থামত। নেতারা বক্তব্য দিতেন। অনেক দিন পর ১৯৮৯ সালে কলকাতায় সিপিআইয়ের (কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া) কংগ্রেসে সেই মনুমেন্টের পাদদেশে জসীমউদ্দিন মণ্ডলকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
মনুমেন্টের সভা-সমাবেশ শেষে বিলাতি কাপড় পোড়ানোর ধুম পড়ে যেত। জসীমের মতো অল্প বয়সীদের দায়িত্ব ছিল বিলাতি কাপড় জোগাড় করা। তাঁরা হাওড়া ঘাটে স্নান করতে আসা নারীদের বিলাতি কাপড় চুরি করে নিয়ে এসে নেতাদের হাতে তুলে দিতেন। বিলাতি কাপড় চুরির ধান্ধায় জসীমের মতো কিশোরের দল হাওড়া ঘাটে ঘুরঘুর করতেন। আর নেতারা সেই কাপড় পুড়িয়ে দিতেন। তাঁদের আনন্দ আর দেখে কে!
নারকেলডাঙ্গার রেল কলোনিতে জসীমউদ্দিন মণ্ডলের নেতৃত্বে তখন সমবয়সীদের একটি দলের নিত্যদিনকার কাজ হয়ে দাঁড়ায় মিটিং-মিছিলে যোগ দেওয়া। তখন তাঁরা কলকাতা বলতে বুঝতেন গড়ের মাঠকে। কেউ হয়তো খবর আনতেন আজ মিটিং হবে। চল, সবাই মিটিং শুনতে। আর হৈ হৈ করতে করতে বেরিয়ে পড়া। যেমন ছিল মিটিং-মিছিল, তেমনি ছিল পুলিশের আক্রমণ। লাল পাগড়িধারী পুলিশরা মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দিত। এ ছাড়া ছিল লাঠিপেটা। জসীমউদ্দিন বলেন, 'ব্রিটিশরা তো একবার এক গোরা সার্জেন্টকে নিয়ে আসে মিছিল-মিটিং প্রতিরোধ করতে। তার নাম ছিল এন্ডারসন। একটা বিরাট কালো ঘোড়ার পিঠে চড়ে পুলিশ ফোর্স নিয়ে সদর্পে সে কলকাতার রাস্তায় ঘুরে বেড়াত। মিছিল কিংবা পথসভা দেখলেই তার কালো গোড়া দাবড়ে দিত জনতার ওপর। ঘোড়ার পায়ের আঘাতে-চাপে মানুষজন পিষ্ট তো হতোই। তার ওপর নৃশংসভাবে সে লাঠিচার্জ করত।'
দেশমাতৃকার লড়াইয়ে আগুয়ান বিপ্লবীরা সেই সার্জেন্টকে শায়েস্তাও করেছিল। একদিন পরিকল্পিতভাবে বিপ্লবীরা অলিগলিতে লুকিয়ে থেকে সাহেবের আসার অপেক্ষায় ছিল। একসময় দেখা গেল কিছু পার্শ্বচর নিয়ে সার্জেন্ট সাহেব আসছে। ধর্মতলার চৌমাথায় এসে পেঁৗছলে অলিগলি থেকে বন্দে মাতরম স্লোগান ওঠে। সার্জেন্ট স্লোগানের উৎস সন্ধানে এদিক-ওদিক উঁকিঝুঁকি মারতে থাকে। এমন সময় গলির মধ্য থেকে সাহেবকে লক্ষ্য করে একযোগে বোমা পড়তে শুরু করে। একের পর এক বোমার বিস্ফোরণে গোটা এলাকা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। সাহেবের পার্শ্বচররা যে যার মতো ছুটে পালায়। কেউ কেউ বোমার আঘাতে রাস্তায় পড়ে কোঁকাতে থাকে। সার্জেন্টের ঘোড়াটাও মুখ থুবড়ে রাস্তায় হুমড়ি খেয়ে পড়ে। সবাই ভেবেছিল সার্জেন্ট সাহেবও অক্কা পেয়েছে। কিন্তু পরে জানা যায়, সে বেঁচে গেছে। তবে আর কোনো দিন সে মিছিল-মিটিং ছত্রভঙ্গ করতে আসেনি।
দেশোদ্ধারে যুবা-তরুণদের বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের বিপরীতে শুরু হয়েছিল ব্রতচারী আন্দোলন। এ আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল, তরুণ-যুবাদের সংগঠিত করে খেলাধুলা আর শরীরচর্চার মধ্যে আটকে রাখা। জসীমউদ্দিন মণ্ডলের মতে, এই আন্দোলনটি ছিল ইংরেজদের একটি চাল। শাসকরা সব সময় তাদের স্বার্থোদ্ধারের জন্য জনগণের মাঝে তাদের আস্থাভাজন একটি গোষ্ঠী গড়ে তুলতে চায়। ইংরেজরাও তখন স্বাধীনতার নেশায় পেয়ে বসা হাজার হাজার বিপ্লবী যুবা-তরুণদের বিপরীতে একদল স্বাস্থ্যবান যুবা-তরুণ গড়ে তুলতে চাইছিল, যাতে তারা বিপ্লবীদের সংস্পর্শে না যেতে পারে এবং নিজেরা স্বাস্থ্যবান দালাল হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারে।
রেলের চাকরি ও রাজনীতির মাঠ
তখন ১৯৩৯ সাল। দুনিয়াজুড়ে আরো একটি যুদ্ধ শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। যুদ্ধের প্রভাবে জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বাড়তে থাকে। জসীমউদ্দিন মণ্ডলদের পরিবারে মূল্যবৃদ্ধির প্রতিক্রিয়ায় ভাড়ারে টান পড়তে শুরু করে। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র জোগাড় করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। ফলে প্রয়োজনের তাগিদে জসীমউদ্দিনের মাথায় চাকরির চিন্তা উঁকি দেয়। মাথায় ভাবনা এলেই তো আর হবে না, চাকরিটা তো পেতেও হবে।
অবশ্য তখন চাকরির বাজারে এত আকাল পড়েনি। মোটামুটি গায়ে-গতরে ভালো থাকলে লাইনে দাঁড়াতে পারলে চাকরি একটি জুটে যেত। প্রয়োজন ছিল চাকরির লাইনটি। একদিন সেই লাইনে দাঁড়ানোর সুযোগও এসে যায়। যুদ্ধের প্রয়োজনে সেনা সংগ্রহ করা হচ্ছিল। বাড়ির কাউকে না বলে জসীমউদ্দিন মণ্ডল লাইনে দাঁড়িয়ে যান। মিলে যায় চাকরি। সংগৃহীত 'নতুন সেনাদের' নিয়ে ট্রাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল খিদিরপুরে। সেখান থেকে জাহাজে করে নিয়ে যাওয়া হবে কোচিন বন্দরে। কিন্তু বাড়ি থেকে পালিয়ে সেনাদলে নাম লিখিয়েই অনেক দূর যেতে হবে ভেবেই মনটা কেমন যেন হয়ে যায় তাঁর। এ কারণে সুযোগ বুঝেই ট্রাক থেকে নেমে পালিয়ে চলে আসেন জসীমউদ্দিন মণ্ডল।
আবারও চাকরির লাইন। এবার সেনাদলে নয়; রেলের চাকরিতে লাইন। যথারীতি গোরা সাহেবের নানা প্রশ্নের জবাব দিয়ে মন জয় করা। বয়স জিজ্ঞেস করাতে প্রয়োজনের খাতিরে ষোলো বছর বয়সকে আঠারো বলে তিনি চাকরিটি বাগিয়ে নেন। রেল বিভাগে তাঁর চাকরি হয়। কাজটি রেলের ইঞ্জিনে কয়লা দেওয়া। ফায়ারম্যানের সহকারী। নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট রেলে গিয়ে ওঠেন। ডিউটি করে ফিরে আসেন। মাস শেষে বেতন পেলেন ১৫ টাকা। তাঁর লাল ঝাণ্ডার দলে চাঁদা দেন চার আনা। কয়েক মাসের ব্যবধানেই সেই চাঁদার পরিমাণ দাঁড়ায় এক টাকায়।
তখন তিনি নিয়মিত পার্টির অফিসে যাতায়াত শুরু করেছেন। পার্টির নেতাদের সঙ্গে তখনো পরিচয় হয়নি। ভালো করে চেনেন শ্রমিক নেতা ইসমাইল হোসেনকে। পরিচিত হয়েছেন কমরেড মুজাফ্ফর আহমেদ ও কমরেড আবদুল হালিমের সঙ্গে। একদিন দেখেন এক মাথা ঝাঁকড়া চুলো বাউণ্ডুলে গোছের এক লোক কমরেড মুজাফ্ফর আহমেদের সঙ্গে বকবক করে চলেছেন, আর হো হো করে হাসছেন। দৃশ্যটি মোটেই ভালো লাগেনি জসীমউদ্দিন মণ্ডলের। পরে জানতে পারেন সেই ঝাঁকড়া চুলো ব্যক্তিটি আর কেউ নন, আমাদের বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। জানতে পারেন কবি কাজী নজরুলও পার্টির কাজেকর্মে সহযোগিতা করেন।
ছিলেন আরো একজন লাজুক স্বভাবের কবি। কিশোর সুকান্ত ভট্টাচার্য। তিনি দলের জন্য সার্বক্ষণিক কাজ করতেন। অফিসে আরো আসতেন পি সি যোশী, এস এ ডাঙ্গে। আরো পরে আসতে থাকেন জ্যোতি বসু। কমিউনিস্ট মানেই সোনার মানুষ। ত্যাগ, নিষ্ঠা, কর্তব্যপরায়ণতায় অনন্য ব্যক্তিত্ব। জসীমউদ্দিন মণ্ডলের তখনকার লক্ষ্য সোনার মানুষ হওয়া, কমিউনিস্ট হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা। সে কারণে রেলের ডিউটির সময়টুকু বাদে বাকি সময়টা দলের কাজে, দলের প্রয়োজনে ব্যয় করতে থাকেন। উৎসাহভরে নিজে যেচে কাজ করেন। অল্প দিনেই নেতাদের নজরে পড়ে যান। প্রস্তাব আসে ক্যাডার করে নেওয়ার। এতে উৎসাহী হয়ে আরো বেশি বেশি করে দলের কাজ করতে থাকেন। অবশেষে ১৯৪০ সালে তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন। জসীমউদ্দিন মণ্ডল বলেন, 'সেদিন আমার বুক গর্বে ভরে ওঠে। আমি শোষিত মানুষের পার্টি, সর্বহারা শ্রেণীর সংগঠন কমিউনিস্ট পার্টির একজন সক্রিয় সদস্য।'
১৯৪১-৪২ সালের কথা। এরই মধ্যে চাকরিতে তাঁর প্রমোশন হয়েছে। হয়েছেন সেকেন্ড ফায়ারম্যান। ইঞ্জিনে কয়লা না মারলে আর রেল চলবে না। রেল চালনায় এই বিশেষ ভূমিকা থাকার কারণে তখন ফায়ারম্যানরা আচমকা এক কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে বসেন। তখন হরহামেশাই বার্মা রণাঙ্গনে ব্রিটিশের অস্ত্রবোঝাই ট্রেন চলত। এগুলো যেত চিৎপুর হয়ে। একদিন ড্রাইভার ও ফায়ারম্যানরা বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে বললেন, তাঁরা আর ট্রেনে উঠবেন না। বন্ধ হয়ে গেল ট্রেন চলাচল। খবর পেয়ে রেলের গোরা সাহেবরা ছুটে এলেন। প্রথমে হুমকি ধমকি, পরে অনুরোধ-উপরোধ। একপর্যায়ে ট্রেন চলল বটে, তবে এই অপরাধে (!) কয়েকজনকে বদলি করা হলো। জসীমউদ্দিন মণ্ডলকেও বদলি করে দেওয়া হয় কাঠিহার লোকোইয়ার্ডে।
১৯৪২-এর আগস্টে শুরু হয় ভারত ছাড়ো আন্দোলন। সবার মুখে তখন একই ধ্বনি : কুইট ইন্ডিয়া, ডু অর ডাই, করেঙ্গে ইয়ে মরেঙ্গে। বুকভরা বেদনা নিয়ে জসীমউদ্দিন বলেন, 'সর্বাত্মক এই আন্দোলনে কতজনের যে প্রাণ যায়, তার হিসাব নেই।' প্রাণ দেন গান্ধীবুড়ি নামে খ্যাত মাতঙ্গিনী হাজরাও। সে বছরই অসুখে মারা যান জসীমউদ্দিন মণ্ডলের বাবা। এরপর পুরো সংসারের দায় চাপে তাঁর মাথায়।
ভাগ হয়ে গেল বাংলার হৃদয়
১৯৪২ থেকে ১৯৪৭ সাল এই ভূখণ্ডের রাজনীতির জন্য সবচেয়ে খারাপ সময়। জসীমউদ্দিন মণ্ডল বলে চলেন তাঁর দেখা সেই সময়ের নানামুখী তৎপরতার কথা। ইংরেজদের কবল থেকে দেশ মুক্ত করার সংগ্রাম প্রবলভাবে এগিয়ে চলে, পাশাপাশি শুরু হয় হিন্দু-মুসলমানের মধ্যকার বিরোধ। অবশ্য ১৯০৫ সালে বাংলা দুই ভাগ (বঙ্গভঙ্গ) হওয়ার পর থেকেই হিন্দু-মুসলমানের ধর্মীয় পরিচয়ের রাজনীতি শুরু। পরবর্তী সময়ে এরই ধারাবাহিকতায় মুসলিম লীগের রাজনীতি বেশ পোক্ত হয়। দাবি ওঠে হিন্দুদের জন্য একটি দেশ, মুসলমানদের জন্য আরেকটি দেশ। জসীমউদ্দিনের ভাষায়, 'এই বিভক্তির রাজনীতি করে ধনীগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষাকারী কংগ্রেস এবং মুসলীম লীগ। এরা দুটি দল হলেও একই শ্রেণী-স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করে। এর বিপরীতে কমিউনিস্টরা, লাল ঝাণ্ডার প্রতিনিধিরা গরিব মানুষের স্বার্থ রক্ষার কথা বলে। কিন্তু সেদিন এই কমিউনিস্টরা (এমনকি আজও) বেশি মানুষকে তাদের আদর্শে আকৃষ্ট করতে পারেনি। যে কারণে বিভেদ নামক একটি স্থায়ী ক্ষত দানা বাঁধতে শুরু করে (যার প্রকোপে-প্রভাবে আমরা আজও জ্বলে-পুড়ে মরছি)।'
১৯৪৭-এর আগস্টে উপমহাদেশ স্বাধীন হলো। রক্তের হোলি উৎসবের মধ্য দিয়ে দুটি দেশের জন্ম হলো ভারত ও পাকিস্তান নামে। পাকিস্তান নামের দেশটির দুটি অংশ। এক অংশ পুবে এবং অন্য অংশ পশ্চিমে। এখানে বাংলা ভাগ হয়ে পুবের অংশ তথা পূর্ববাংলা হলো পাকিস্তানের অংশ।
কলকাতা ছেড়ে জসীম আসতে চাননি। কিন্তু তাঁকে বলা হলো, তাঁকে পূর্ব পাকিস্তানে যেতে হবে। জসীম মণ্ডল বলেন, 'আমার মুসলমানি নাম দেখে দরখাস্ত গ্রহণকারী হিন্দু কর্মকর্তাটি মনে করে থাকতে পারেন আমি ভুল করে ভারতে থাকার ইচ্ছা পোষণ করেছি: অথবা সেই সময়ে ধর্মীয় হিংসার কারণে ওই হিন্দু কর্মকর্তাটিও চাননি একজন মুসলমান ভারতে থেকে যাক।'
সাধারণ শ্রমিক থেকে নন্দিত নেতা
একজন কমিউনিস্ট হিসেবে জসীমউদ্দিন মণ্ডল নিজে কখনো চাননি ধর্মের ভিত্তিতে দেশ ভাগ হোক। যে কারণে তিনি নিজে যেখানে ছিলেন, সেই কলকাতায়ই থেকে যেতে চেয়েছিলেন। মুসলিম_এই পরিচয় নিয়ে পাকিস্তানে আসতে চাননি। কিন্তু কী আর করা! চলে আসতে হলো। চলে আসেন ঈশ্বরদীতে। চেনা জায়গা। কাছেই নিজের জন্মস্থান। ঈশ্বরদীতে শ্বশুরবাড়ি। আর এর রেলস্টেশন, লোকোশেড সব কিছু তাঁর আপন। এখানেও তাঁর সেই কাজ। রেলে চড়া, বয়লারে কয়লা মারা। আর বাড়তি দলের কাজ।
দেশবিভাগের পরও কিছুদিন কমিউনিস্ট পার্টি বিভক্ত হয়নি। ১৯৪৮-এর শেষের দিকে পূর্ব পাকিস্তানে কমিউনিস্ট পার্টি আলাদাভাবে কর্মকাণ্ড শুরু করে। জ্যোতি বসু, বীরেন দাশগুপ্ত, মনসুর হাবিবের মতো নেতারা ভারতের অংশে আটকে পড়েন। দেশবিভাগের আগে রেল শ্রমিকদের নেতা হিসেবে জ্যোতি বসু শিলিগুড়ি, সৈয়দপুর, পার্বতীপুর, ঈশ্বরদী, শান্তাহার, রানাঘাট প্রভৃতি জায়গায় চষে বেড়িয়েছেন। পাকিস্তান পর্বে রেল শ্রমিকদের সংগঠিত ও উদ্বুদ্ধ করতে পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যকার অর্থাৎ রেলের পশ্চিমাঞ্চল জোনে জসীমউদ্দিন মণ্ডলও চরকির মতো ঘুরে বেড়িয়েছেন।
কিন্তু দলীয় কর্মকাণ্ডে ঝক্কি অনেক। নতুন দেশ। মুসলমানের দেশ। পাকিস্তানি তথা পাঞ্জাবিরা রাজা। শরণার্থীদের চাপ অনেক। জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। চালের দামও বেশ। ১৯৪৯ সালের কথা। এক জেলার চাল যাতে আরেক জেলায় না যায়, তা প্রতিরোধে সরকারের তৈরি করা মিলিশিয়ারা রেলে চেকিং করত। একদিন এভাবে চেক করে ইঞ্জিন বগিতে করে নিয়ে আসা জসীম মণ্ডলের তিন বস্তা চালও তারা রাজশাহী স্টেশনে নামিয়ে নেয়। এতে তাঁর নেতৃত্বে রেল স্ট্রাইক হয়। নিয়ে যাওয়া চাল ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত সেখান থেকে আর কোনো রেল চলাচল করেনি। সরকারের পক্ষে একজন ম্যাজিস্ট্রেট রেল কর্মচারীদের চাল আর মিলিশিয়ারা নামাবে না এমন লিখিত অঙ্গীকারের ভিত্তিতে ট্রেন আবারও চালু হয়। এর ফল হিসেবে জসীমউদ্দিন মণ্ডলকে সাসপেন্ড করা হয়।
রেল শ্রমিক নেতা হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালনকারী আন্দোলনটি হলো খুদবিরোধী আন্দোলন। সেই সময়ে রেল শ্রমিকদের দেওয়া হতো চালের বদলে খুদ। মুরগির খাবার খুদ শ্রমিকদের দিয়ে কর্মকর্তাদের ভালো চাল দেওয়া হতো। জসীমউদ্দিন মণ্ডলের নেতৃত্বে শুরু হয় এই খুদবিরোধী আন্দোলন। একটাই দাবি, সবাইকে চাল দিতে হবে। কোনো শ্রমিককে খুদ দেওয়া চলবে না। সমস্যা বর্ণনা করে জসীমউদ্দিনের দেওয়া বক্তব্যে সব রেল শ্রমিক একমত হন। গর্জে ওঠেন লোকোশেডের শ্রমিকরা। শেড খালাসিরা হাতের গাঁইতি-শাবল-কোদাল ফেলে দিয়ে বুক চিতিয়ে দাঁড়ান। পোর্টার, সান্টার, ফায়ারম্যান, ড্রাইভার সবাই কাজ বন্ধ করে দিয়ে শরিক হন মিছিলে। ঈশ্বরদীতে তখন ট্রেন এসে আটকা পড়ে। কোনো ট্রেন নড়ছে না। শ্রমিকরা কাজ করবেন না। আগে তাঁদের দাবির ব্যাপারে সুস্পষ্ট অবস্থান ব্যাখ্যা করতে হবে, তবেই রেল চলবে।
বিকেল ৫টার দিকে পাবনা থেকে কয়েক লরি রিজার্ভ ফোর্স এসে পেঁৗছায়। তারা একদিকে রেল চালানোর উদ্যোগ নেয়; অন্যদিকে এই আন্দোলনের নেতাদের খুঁজতে থাকে। জসীমউদ্দিন তাঁর বিশ্বস্ত সঙ্গী দেলওয়ারের সহায়তায় রেল কলোনিতে পালিয়ে যান। পরে রাতের একটি ট্রেনে জসীম মণ্ডল আর বিজন সেন পেঁৗছান আবদুলপুর স্টেশনে। সেখান থেকে হাঁটাপথে নাটোর হয়ে বাসুদেবপুর গ্রামের হালদারপাড়ায় গিয়ে ওঠেন গভীর রাতে। সেখানে ছিল পার্টির শক্তিশালী সংগঠন। দিন দুয়েকের মধ্যে জানা যায়, খুদবিরোধী আন্দোলন করায় জসীম মণ্ডলসহ মোট ছয়জনের নামে হুলিয়া জারি হয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি মাস ছয়েকের মতো সেখানকার সাঁওতালপাড়ায় থাকেন। সাঁওতালদের সঙ্গে ক্ষেতে-খামারে কাজ করতেন। গায়ের রং ও শরীর খানিকটা তাঁদের মতো হওয়ায় কেউই কখনো তাঁকে সন্দেহ করেনি।
মাস ছয়েকের মাথায় একদিন ঈশ্বরদীতে এসে ওঠেন লোকোশেডের কমরেড সাহাবুদ্দিনের বাসায়। ১৯৪৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সেখান থেকেই তাঁকে এবং দেলওয়ারকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। একসময় অতিপরিচিত রেলস্টেশন থেকে সবার সামনে দিয়ে স্কর্ট করে নিয়ে যায় তাঁদের। জসীমউদ্দিনকে পাঠানো হয় পাবনা জেলে, আর দেলওয়ারকে নিয়ে যাওয়া হয় রাজশাহী জেলে। এরপর আর দেলওয়ারের সঙ্গে জসীমউদ্দিনের দেখা হয়নি। রাজশাহীর খাপড়া ওয়ার্ডে অন্যান্য কমিউনিস্ট বিপ্লবীর সঙ্গে দেলওয়ার শহীদী মৃত্যুবরণ করেন, যা ইতিহাসে খাপড়া বিদ্রোহ নামে পরিচিত।
রেল শ্রমিকদের দুর্দশা নিয়ে আন্দোলন ছাড়াও জসীমউদ্দিন মণ্ডল সে সময় উত্তরবঙ্গে তেভাগা আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেত্রী ইলা মিত্রের সঙ্গেও কাজ করেছেন। দিন, রাত তাঁরা সাঁওতালপাড়ায় অনেক মিটিং করেছেন। দিনে চলাফেরা করতে হতো লুকিয়ে, রাতেও সাবধানে। কারণ তখন মুসলিম লীগের পাকিস্তানি সরকার কমিউনিস্টদের ওপর বেজায় খেপা ছিল। তবে সাধারণের মাঝে কমিউনিস্টদের সম্পর্কে একটি শ্রদ্ধাবোধ ছিল। লীগ-কংগ্রেস দলের নেতা-কর্মীদের বিপরীতে কমিউনিস্টরা গরিব মানুষের উন্নয়নের কথা বলে, তারা সৎ, নিজের স্বার্থের দিকে তাকিয়ে তারা কোনো সিদ্ধান্ত নেয় না, তাদের কাছে সমষ্টির স্বার্থবোধ অনেক বড় প্রভৃতি। জসীমউদ্দিন মণ্ডল বলেন, 'এ কারণে যেখানে গিয়েছি, মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসা পেয়েছি। কিছু পাওয়ার আশায় মানুষ আমাদের যত্ন-খাতির করেনি। তবে তারা জানত, আমরা ক্ষমতায় গেলে তাদের ভালো হবে।'
মানুষের প্রতি মমত্ববোধ এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করার মানসিকতা জসীমউদ্দিন মণ্ডলের জেলজীবনেও অব্যাহত ছিল। পাবনা জেলে কয়েদি-হাজতিদের দিয়ে ঘানি (সরিষা, তিল, তিসি প্রভৃতি থেকে তেল তৈরির দেশীয় যন্ত্রবিশেষ, যা এখন প্রায় লুপ্ত হয়ে গেছে) টানানো হতো। জসীমউদ্দিন মণ্ডলকেও ঘানি টানতে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি বিদ্রোহ করে বসেন। না, ঘানি টানা হবে না। ঘানি টানে পশু। আমরা পশু নই যে ঘানি টানব। শুধু নিজে নয়, অন্যদেরও ঘানি টানা থেকে তিনি বিরত থাকার আহ্বান জানান। এই বিরোধে ঘানি টানার তদারককারী কয়েদিকে তিনি মারতে উদ্যত হন এবং দুটি ঘানি গাছ ভেঙে ফেলেন। এর জের ধরে জেলখানায় পাগলা ঘণ্টা বাজানো হয়। বেদম পিটুনি দিয়ে তাঁকে একটি সেলে নিয়ে উদোম শরীরে মেঝেতে পানি ঢেলে রাখা হয়। শীতের সময় শরীরে কাপড়বিহীন অবস্থা এবং মেঝের পানিতে তিনি সিঁটিয়ে যাওয়ার দশায় পড়েন। রাত ২টায় ডিউটিতে আসা প্রহরী তাঁর এই অবস্থা দেখে বিচলিত হন। তাঁকে কাপড়চোপড় দিতে চান। কিন্তু ওই প্রহরী বিপদে পড়তে পারেন এই বিবেচনা থেকে তিনি সেই সুযোগ নেননি।
কারা কর্তাদের এই অমানবিক আচরণের প্রতিবাদে তিনি অনশন শুরু করেন। খাবার দিয়ে যাওয়া হয়; তিনি তা গ্রহণ করেন না। এভাবে কেটে যায় দুই দিন। জেলার তাঁকে ভয়-ভীতি দেখান। জসীম মণ্ডলের এক রা। অনশন ভাঙবেন না। তিনি বলেন, ডিসি (ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর, যাঁদের এখন ডিস্ট্রিক্ট কমিশনার বা জেলা প্রশাসক বলা হয়) সাহেবকে জেলে আসতে হবে। খবর পেয়ে জেলখানায় ডিসি আসেন। ডিসি তো উদোম অবস্থায় একটি মানুষকে দেখেই মুখ লুকান। বলেন, 'একি, কাপড় পরুন।' সুযোগ পেয়ে জসীমউদ্দিন বলেন, 'কাপড় তো আপনার জেলার খুলে নিয়ে গেছে, আমার কাছে তো কোনো কাপড় নেই।' এই শুনে তিনি হতবাক বনে যান। এই অমানবিক আচরণের জন্য জেলারকে শাস্তি দেওয়া হবে বলে শাসিয়ে জসীমউদ্দিন মণ্ডলকে কাপড় পরান। অনশন ভাঙার অনুরোধ করেন। এ সময় তিনি ডিসি সাহেবকে দিয়ে জেলখানায় আর মানুষ দিয়ে ঘানি না চালানো, খাবারের মান উন্নত করা প্রভৃতি দাবি আদায় করে নেন। ডিসি সাহেব অনশন ভাঙিয়ে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে তবে ফেরেন।
এর পর তাঁকে পাঠানো হয় রাজশাহী জেলে। সেখানে গিয়েও আরেক ধরনের অশান্তি। এবার তাঁকে গম পিষতে বলা হলো। যথারীতি তিনি গম পিষতে অস্বীকার করলেন। জেল-জীবনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য তাঁকে কঠোরতর শাস্তি ডাণ্ডাবেড়ি পরানো হলো। ডাণ্ডাবেড়ি পরানো থাকলে হাঁটতে-চলতে অসুবিধা হয়। পা ফুলে গিয়ে একসময় দগদগে ঘা হয়ে গেল। ডাণ্ডাবেড়ির ঘায়ের ক্ষতচিহ্ন এখনো জসীমউদ্দিন মণ্ডল বয়ে নিয়ে চলেছেন। পরে তাঁকে এই শাস্তি থেকে কেন যেন মাফ করে দেওয়া হয়। তবে বদলি করে দেওয়া হয় ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে।
সেই সময় ঢাকার সেন্ট্রাল জেলে অনেক গুণী রাজনীতিক বন্দি ছিলেন। ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক-রাজনীতিক সত্যেন সেন, শহীদুল্লা কায়সার, নগেন সরকারসহ আরো অনেকে। এমনি এক সময় স্ত্রীর অসুস্থতার কারণে তাঁর তিন দিনের প্যারোলে মুক্তি মেলে। তাঁকে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ, জগন্নাথগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ হয়ে ঈশ্বরদীতে নিয়ে আসে। পথে পথে অসংখ্য মানুষ তাঁকে স্বাগত জানিয়েছে। কেউ কেউ নিয়ে আসে ফুলের তোড়া, কেউ আনে খাবার। পথিমধ্যে নেতাকে দেখতে পাওয়া আর তাঁকে একটু যত্ন করার সুযোগ কেউই হাতছাড়া করতে চায়নি। মানুষের এই ভালোবাসায় বিমুগ্ধ জসীমউদ্দিন। ১৯৫৫ সালের দিকে জেল থেকে ছাড়া পান জসীমউদ্দিন মণ্ডল।
মুক্তিযুদ্ধের আগে, মুক্তিযুদ্ধকালে
পাকিস্তান পর্বে দুই দফায় মোট আট বছরের মতো তাঁকে জেলে কাটাতে হয়। আর রেল শ্রমিকদের পক্ষে খুদবিরোধী আন্দোলন করার অপরাধে (!) তাঁর রেলের চাকরি চলে যায়। চাকরিবিহীন রেল শ্রমিক নেতা জসীমউদ্দিন মণ্ডল তখন পুরো সময়টি রাজনীতির জন্য ব্যয় করেন। তিনি তখনো জেলে। ১৯৬৩ সালের দিকে জেলের মধ্যেই কমিউনিস্ট রাজনীতির মতাদর্শগত বিভেদ চাঙ্গা হয়। মাও সে তুংয়ের চিন্তা ও তাঁর গেরিলা যুদ্ধের কৌশলে অনেকেই আকৃষ্ট হন। নতুন কমরেডরা দলে ভেড়েন, আর তাঁরা নতুন তত্ত্বের জয়গান করতে থাকেন। আলাউদ্দিন, মতিন, দেবেন শিকদার, আবুল বাশার, আবদুল হক, তোয়াহা প্রমুখ নেতা তখন মাও অনুসারী। মাও সে তুংয়ের বই তখন তাঁদের ধ্যান-জ্ঞান। পূর্ব বাংলায় বিপ্লবের পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে তাঁরা তখনই সশস্ত্র লড়াই শুরু করার আহ্বান জানান।
জসীমউদ্দিন মণ্ডল বলেন, 'এ ধারার বিপরীতে আমরা যাঁরা অবস্থান করছিলাম, তাঁদের তারা সংশোধনবাদী হিসেবে আখ্যা দেয়। বলতে শুরু করে সোভিয়েত ইউনিয়ন সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ।' তখন থেকেই গোপন কমিউনিস্ট দলের রাজনীতিতে চীন ও সোভিয়েত তথা মস্কো অনুসারী নামের দুটো ধারা তৈরি হয়।
কিছুদিন পর পূর্ব বাংলায় শুরু হয়ে যায় আরেক বিপর্যয়। ১৯৬৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হয়। তখন আইয়ুব খানের প্রচারযন্ত্র অন্ধভাবে ভারতবিরোধিতা শুরু করে। স্লোগান ওঠে, 'কাফের ধ্বংস করো।' চীনা রেডিওতেও ভারতবিরোধী প্রচারণা ঠাঁই করে নেয়। এ অবস্থার বর্ণনা করতে গিয়ে জসীমউদ্দিন মণ্ডল লিখেছেন, 'এই উগ্র যুদ্ধংদেহী প্রচারণা পূর্ব বাংলার মানুষকে সাময়িকভাবে হলেও বিভ্রান্ত করে তুলল। এ সময় ন্যাপের কিছু কর্মী, এমনকি পার্টির কিছু কর্মীও যুদ্ধ উন্মাদনায় মেতে উঠল। কমিউনিস্ট পার্টি অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ ও আলোচনা-সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রচার করল।' (পৃ. ৮৪, সংগ্রামী স্মৃতিকথা জীবনের রেলগাড়ি_জসীমউদ্দিন মণ্ডল)।
সে সময় কমিউনিস্ট পার্টির অনুসারীদের একটি অংশ ন্যাপের সঙ্গে কাজ করত। তখন ন্যাপ নেতা মওলানা আবদুুল হামিদ খান ভাসানী। এই ভাসানীর সঙ্গে জসীমউদ্দিন মণ্ডল দেশের উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে প্রচারণা সভা করেছেন। এসব প্রচারণা সভায় যুদ্ধের বিরুদ্ধে এবং যুদ্ধের ভয়াবহ দিকগুলো তুলে ধরা হতো। যুদ্ধের উন্মাদনা থাকলেও অতি দ্রুত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে এর প্রতিক্রিয়া পড়ায় মানুষ এর বীভৎসতা সম্পর্কে আঁচ করতে পারছিল। তাঁরা দিনাজপুরের তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, বোদা, নবাবগঞ্জ, শিবপুর, রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক সভা করে আইয়ুবী শাসনের কৌশল এবং যুদ্ধের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। মানুষও তাঁদের কথা অনুধাবন করতে শুরু করে।
পরবর্তী সময়ে ন্যাপ দুই ভাগ হয়ে যায়। রিকুইজিশন ন্যাপের সভাপতি হন অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ। তখন জসীমউদ্দিন মণ্ডল ন্যাপের এই অংশের সঙ্গে মিশে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। শেষ পর্যন্ত ১৯৬৬-৬৭ সালের দিকে কমিউনিস্ট পার্টিতে দ্বিধা-বিভক্তি আসে। তখনো দলের কর্মকাণ্ড গোপনে পরিচালিত হতো। একটি অংশ সশস্ত্র সংগ্রামের সমর্থক, যারা মাও অনুসারী; অন্য অংশ সোভিয়েত অনুসারী।
১৯৬৮ সালে আইয়ুব শাহী তাঁর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রচারের জন্য উন্নয়ন দশক উদ্যাপন করেন। বিপরীতে ফুঁসে থাকা মানুষ আইয়ুব শাহীর পতন, বিডি সিস্টেম বাতিল ও সাধারণ নির্বাচনের দাবিতে গণ-আন্দোলন শুরু করে। ঈশ্বরদীতেও তখন গণতান্ত্রিক সংগ্রাম কমিটি (ডাক) গঠিত হয়। যা গড়ে তোলার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেন জসীমউদ্দিন মণ্ডল এবং কমিউনিস্ট পার্টির মস্কোপন্থী অনুসারীরা। আইয়ুববিরোধী এই গণতান্ত্রিক আন্দোলনে মাও অনুসারী কমিউনিস্টরা অংশ না নিয়ে বরং তারা একটি নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করত।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে ঢাকায় পাকিস্তানি সেনারা ঝাঁপিয়ে পড়ার ১৬ দিন পর নগরবাড়ী ঘাট থেকে রাস্তার দুই ধারের বাড়িঘর জ্বালাতে জ্বালাতে ঈশ্বরদীতে এসে পেঁৗছায় তারা। জসীমউদ্দিন মণ্ডল তখন ছিলেন তাঁদের তৈরি করা কন্ট্রোল রুমে। সেখানে খবর এল দ্রুত এলাকা ত্যাগ করার। তিনি দ্রুত বাড়ি এসে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। রাস্তায় চার দিন কাটিয়ে গোড়ালি সীমান্তের ফিঙ্গিতলায় পেঁৗছান। সেখান থেকে করিমপুর হয়ে কৃষ্ণনগর এবং পরে কলকাতায় পেঁৗছান। কলকাতায় তিনি ওঠেন তাঁর পুরনো রাজনৈতিক সহকর্মী নাচোলের রানিমা ইলা মিত্রের বাড়িতে। ইলা মিত্র ও তাঁর স্বামী রমেন মিত্র খুবই সাদরে তাঁদের গ্রহণ করেন। তাঁরাই তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করেন। একে একে রাজনৈতিক সহকর্মী মণি সিং, রতন সেন, রণেশ মৈত্র প্রমুখের সঙ্গে দেখা হয়। শুরু হয় বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গঠনের কাজ। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিআই) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য শাখার সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রজিৎ গুপ্তের সঙ্গে তখন সভা-সমাবেশে জসীমউদ্দিন মণ্ডল বাংলাদেশের পক্ষে স্বাধীনতাযুদ্ধের অনিবার্যতা এবং এতে দুনিয়ার শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের যে সমর্থন করা উচিত, সেই যুক্তি তুলে ধরে বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে বেড়ান।
স্বাধীন দেশে
১৯৭১ সালের ডিসেম্বরেই তিনি দেশে ফেরেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর স্ত্রীর তিল তিল শ্রমে গড়ে তোলা দোচালা ঘর দুটো বিহারিরা পুড়িয়ে দেয়। স্বাধীন দেশে সংসার চালানোর জন্যে সেই ১০ কাঠা জমিও বিক্রি করে দিতে হয়। থাকার জায়গার জন্য ঈশ্বরদী রেল স্টেশনের পাশে ছয় শতক পরিত্যক্ত সম্পত্তি বরাদ্দ নেন। বরাদ্দের জন্য প্রয়োজনীয় ৩২ হাজার টাকা জোগাড় হয় রেল শ্রমিক ইউনিয়ন, দলীয় ফান্ড এবং শুভানুধ্যায়ীদের দেওয়া অর্থে। এখনো রেললাইনের কাছে ওই জমিতেই তিনি বসবাস করেন।
মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি তৈরিতে ন্যাপ তথা কমিউনিস্ট পার্টির কর্মী-অনুসারীদের একটি বড় ভূমিকা থাকায় জসীমউদ্দিনের মনে হয়েছিল, এবার দেশে শান্তি আসবে। এই প্রত্যাশা তাঁর আরো বেড়ে যায়, যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় মূলনীতির একটি হিসেবে 'সমাজতন্ত্র'কে বেছে নেন। কমিউনিস্ট পার্টি তখন প্রকাশ্যে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। সমাজতান্ত্রিক আদর্শিক চেতনায় জারিত হওয়ায় তিনি দলের কর্মকাণ্ডে আরো সময় দিতে শুরু করেন। জীবনের শুরুতে সংসারের প্রয়োজনে জসীমউদ্দিন মণ্ডল চাকরি নিয়েছিলেন। কিন্তু গরিব মানুষের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে পরিপূরক রাজনৈতিক-সামাজিক পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করেন, সেই কাজটিকে প্রধান কর্তব্য বিবেচনা করায় আর কখনোই পরিবারের দায়-দায়িত্ব পালন করা হয়ে ওঠেনি। স্ত্রী মরিয়ম ওরফে জাহানারার অসীম ধৈর্য ও বিচক্ষণতায় এবং স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় তাঁর সংসারের খরচ মিটেছে।
১৯৭৩ সালে জসীমউদ্দিন মণ্ডল মস্কো সফরে যান। সেখানকার অভাবনীয় উন্নতি, মানুষের প্রতি মানুষের দরদবোধ, সব কিছুতে পরিপাটি ও স্নিগ্ধতার ছাপ দেখে তিনি মুগ্ধ হন। সমাজতন্ত্রের প্রতি আস্থা আরো বেড়ে যায়। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দেশটি আবারও উল্টোপথে যাত্রা শুরু করলে তিনি হতোদ্যম হয়ে পড়েন। এ সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং দুই বছর জেলে কাটাতে হয়। জসীমউদ্দিনের মতে, ওই সময়টা ছিল বড় খারাপ। সমাজতন্ত্রের প্রতি গোটা বিশ্বে নানাভাবে আক্রমণ হচ্ছিল। আর দেশে জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসন। ১৯৭৯ সালে নির্বাচন দিয়ে সংসদীয় ব্যবস্থার নামে রাষ্ট্রপতির শাসন শুরু হয়। এর তিন বছর পর আবারও এরশাদের সামরিক শাসন। এরশাদবিরোধী আট বছরের গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা শুরু হয়। তবে এর মধ্য দিয়ে দেশে আবারও স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। স্বৈরাচারী এরশাদ ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করে। আর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও সমাজতন্ত্রের ওপর একের পর এক আক্রমণ চলতে থাকে। চলে শীতল যুদ্ধের নানা রকমফের। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ঘটে।
সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে সমাজতন্ত্র বিদায় নেয়। দেশটি কয়েক ভাগে বিভক্ত হলো। সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙন আর সমাজতন্ত্রের পরাজয় জসীমউদ্দিন মণ্ডলকে হতবাক করে তোলে; আর সেই সঙ্গে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন তাঁর স্ত্রী মরিয়ম। তিনি এটি একেবারে মেনে নিতে পারেননি। কেন এমন হলো? সমাজতন্ত্র কি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়? জবাবে জসীমউদ্দিন মণ্ডল বলেন, 'মার্কসবাদ-লেনিনবাদ এখনো অজেয়। এই দর্শনের ভিত্তিতে সমাজবিপ্লব সম্পন্ন হবে। আর সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির মাধ্যমে গরিব-মেহনতি মানুষের মুক্তি আসবে। সোভিয়েত ইউনিয়নে যা ঘটেছে, তা সাময়িক বিপর্যয় মাত্র।' তিনি আরো বলেন, 'মনে রাখতে হবে, মার্কসবাদী দর্শনের প্রয়োগ হচ্ছে সমাজে। এখানে নানা চিন্তার মানুষের বসবাস। ব্যক্তি-আকাঙ্ক্ষা, ব্যক্তি-সম্পত্তির মোহ কাটানো বড় দুঃসাধ্য ও কষ্টকর। এ কারণে বিপর্যয় ঘটতে পারে। বিপর্যয় ঘটা মানে এ কথা বলা যাবে না যে দর্শন মিথ্যা। আর একটি কথা, যারা পুঁজিবাদী তথা বাজার-অর্থনীতির মাধ্যমে সমাজের উন্নয়ন ঘটাতে চেয়েছে, আমরা তো চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি, তারা কী উন্নয়ন ঘটিয়েছে। তাদের উন্নয়ন হচ্ছে, একদিকে চাকচিক্য, অন্যদিকে হাহাকার। আমেরিকাসহ পুঁজিবাদী তথাকথিত উন্নত দেশগুলোর অবস্থা তো একই। উপরন্তু এরা এদের স্বার্থে দেশে দেশে যুুদ্ধ-সংঘাত বাধিয়ে রেখেছে। আমেরিকা স্বাধীন দেশ ইরাকে টন টন বোমা ফেলে। আফগানিস্তানে যুদ্ধ করে। মিয়ানমারের সামরিক জান্তাকে মদদ দেয়। আবার এরাই মানবাধিকারের কথা বলে। সত্যিই বিচিত্র!' তাঁর মতে, মার্কসবাদী দর্শনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সমাজে সব মানুষের মৌলিক অধিকার পূরণ করা সম্ভব।
পরিবার, স্বজন ও কাছের বন্ধুরাও এই মানুষটির রাজনৈতিক চেতনা, মার্কসবাদী দর্শনের প্রতি আস্থা এবং উন্নততর নৈতিক বোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। জসীমউদ্দিনের কাছের বন্ধু রেল শ্রমিক মো. আবদুল আজিজ তাঁর সম্পর্কে বলেন, '১৯৫৭-৫৮ সাল থেকে জসীম ভাইকে চিনি। দেখেছি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা তাঁর অগাধ, প্রশ্নাতীত। জীবনে কখনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বাইরে তিনি কিছু করেননি। মানুষের ভালোর জন্যে সব কিছু করার চেষ্টা করেছেন। আর বর্তমান রাজনীতির যে খাইখাই দশা সেটির সঙ্গে জসীমউদ্দিন মণ্ডল একেবারে বেমানান।'
প্রায় একই কথা বলেন রেল শ্রমিক নেতা শাহ আলম। তিনি জসীম মণ্ডলকে একেবারে কাছ থেকে দেখছেন ১৯৬২ সাল থেকে। তিনি বলেন, 'জসীম ভাই আমাদের শিখিয়েছেন, শ্রমিকরাও মানুষ। শ্রমিকদের অধিকার কেউ দিয়ে দেবে না; অধিকার আদায় করে নিতে হবে। সংগ্রামটি রাজনৈতিক। আর কাজটি সমাজবিপ্লব। বৈজ্ঞানিক আদর্শ মার্কসবাদ-লেনিনবাদের ভিত্তিতে এই সমাজবিপ্লব সম্পন্ন হবে। এ কারণে শ্রমিকশ্রেণীকে সংগঠিত হতে হবে। শ্রেণী আদর্শের রাজনৈতিক দলের ভিত্তিতে সব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতে হবে। সে জন্য ট্রেড ইউনিয়ন করেছি; পাশাপাশি সিপিবির (বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি) রাজনীতির সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেছি। আমাদের আদর্শ জসীম ভাই।'
জসীমউদ্দিন মণ্ডল আজও রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে সমানে বক্তৃতা দিয়ে চলেছেন। গ্রামের কৃষক আর শহরের শ্রমিকের জন্য অতি সহজভাবে তিনি কথা বলতে পারেন বলে তাঁর বক্তৃতার বেশ চাহিদাও আছে। তিনি বলেন, 'যত দিন বেঁচে থাকব, তত দিন সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি ও সাম্যবাদী সমাজের পক্ষে মানুষকে বলে যাব। আমার লক্ষ্য ছিল এই আদর্শ প্রতিষ্ঠা করা। আমার জীবদ্দশায় এই আদর্শের প্রতিষ্ঠা হলো না। তবে একদিন এই আদর্শ প্রতিষ্ঠা পাবেই। তা না হলে গরিব-মেহনতি মানুষের মুক্তি নেই।' তিনি আরো বলেন, 'অনেকে আমাকে বলেন, রাজনীতি করে কী পেয়েছি, তাঁরা হয়তো টাকা-পয়সা, ধন-দৌলতের কথা বলতে চান; আমি তো টাকা-পয়সা বা ব্যক্তিগত সমৃদ্ধির জন্য রাজনীতি করিনি। আমার রাজনীতি ছিল একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য। আদর্শের প্রতিষ্ঠা হয়তো হয়নি। তবে একদিন হবেই।'
আজকের কুষ্টিয়া জেলার কালিদাশপুর গ্রামে এক অতিসাধারণ পরিবারে জসীমউদ্দিন মণ্ডলের জন্ম। তখন কুষ্টিয়া জেলা ছিল নদীয়া জেলার মধ্যে। কবে জন্ম হয়েছিল, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ তিনি বলতে পারেননি। এ সম্পর্কে তিনি লিখেছেন, "মা বলতেন, 'সেই যে দুনিয়াজুড়ে যুদ্ধ শুরু হলো, তার ঠিক ১০ বছর পর তোর জন্ম।' এর থেকে আন্দাজ করতে পারি, ১৯১৪ সাল থেকে ১০ বছর পরে অর্থাৎ ১৯২৪ সালে এই পৃথিবীর আলোর মুখ আমি প্রথম দেখি।" (পৃ. ৯, সংগ্রামী স্মৃতিকথা, জীবনের রেলগাড়ি_জসীমউদ্দিন মণ্ডল)। অবশ্য, জন্মদিন সম্পর্কে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, 'মায়ের কাছে শুনে, আর দাদির হিসাব মতে আমার মনে হয় জন্মদিনটি হবে ১২ আশ্বিন।'
তাঁর বাবা চাকরি করতেন রেলে। বেতন পেতেন মাত্র ১৩ টাকা। তবে মাত্র এক টাকা দুই আনাতেই তখন এক মণ ভালো চাল পাওয়া যেত। বাবার রেলের চাকরির সুবাদে সেই ছোটবেলায় তিনি এখানে-সেখানে ঘুরে বেড়িয়েছেন।
নানাবাড়ির গ্রামের এক পাঠশালায় জসীমউদ্দিন মণ্ডলের লেখাপড়ায় হাতেখড়ি। খড়ের চালা আর বাঁশের বাতা দিয়ে বেড়া দেওয়া পাঠশালা। পাঠশালার হেডপণ্ডিত মহিম মুখুজ্জে (মুখোপাধ্যায়) তাঁর মামাকে একদিন বলেছিলেন, 'বুঝলে হে, ছেলেটা কালে একজন কেউকেটা গোছের কিছু হবে, আমি বলে দিলুম।' মহিম বাবুর কথা মনে পড়ায় তিনি যেন আনমনেই বলে ওঠেন, 'কেউকেটা আর হতে পারলাম কোথায়!'
১৯৩২ সালে তাঁর বাবা পদোন্নতি পেয়ে টালি ক্লার্কের পদ পান। আসেন সিরাজগঞ্জে। ১৯৩৪-এ বদলি হয়ে যান রানাঘাট। সেখান থেকে পার্বতীপুর। ক্রমাগত বদলি এবং স্থান বদলের ধাক্কায় পড়াশোনা তাঁর আর হয়ে ওঠেনি। পার্বতীপুর থাকার সময় তাঁর বাবার এক সহকর্মী তাঁকে পড়ানোর চেষ্টা করেন। তিনি পড়াশোনায় উৎসাহ জোগাতে নানা গল্প বলতেন। এই গল্পের একটি অংশজুড়ে থাকত স্বদেশিদের গল্প। দেশমাতৃকার মুক্তির লক্ষ্যে যেসব তরুণ-তরুণী জীবন বাজি রেখে আন্দোলন করে চলেছে তাদের গল্প। তাঁর মুখে শুনেছেন মাস্টারদা সূর্য সেন, বাঘা যতীন, বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দাদারের সাহসী জীবনসংগ্রাম এবং দেশের প্রতি ভালোবাসা থেকে আ@ে@@@াৎসর্গের কাহিনী।
জসীম মণ্ডল বলেন, 'আসলে লোকটি ছিল স্বদেশি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর বলার ধরনে আমার চোখের সামনে যেন সেসব ঘটনা দেখতে পেতাম, মনে হতো আমার কাছে যদি অস্ত্র থাকত তাহলে আমিও ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াই করতাম।' এ ঘটনার মধ্য দিয়ে স্বদেশিদের প্রতি প্রবল আস্থা ও শ্রদ্ধাবোধ তৈরি হয় জসীম মণ্ডলের। স্বদেশি দেখার জন্য উন্মুখ হন তিনি। স্বদেশি দেখার বাসনায় তিনি একদিন কয়েক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে চলে যান পার্সেল ট্রেনে করে পার্বতীপুর থেকে কলকাতায়। যাহোক, স্বদেশি দেখার সাধ তখনো মেটেনি। এরপর তাঁর বাবা বদলি হয়ে আসেন ঈশ্বরদী।
পৃথিবীর পাঠশালায়
ঈশ্বরদী থাকতে তিনি হরহামেশা কলকাতা যেতেন। এই ট্রেনে যাওয়া তো আবার ফিরতি ট্রেনে চলে আসা। তাঁর ভাষায়, 'ঈশ্বরদীর দিনগুলো (পরে অবশ্য তিনি সেই ঈশ্বরদীতে থিতু হন। এখনো আছেন সেখানে।) সত্যিই রোমাঞ্চে ভরা। সেই সময় কলকাতা যাওয়ার ব্যাপারটা আমার কাছে ডাল-ভাতের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তখন কলকাতায় জোরেশোরে লাল ঝাণ্ডার মিছিল হতো। শ্রমিক আন্দোলন চলছিল। লাল ঝাণ্ডা, মিছিল, শ্রমিকদের আন্দোলন_এগুলো আমাকে ভয়ানকভাবে টানত। আমি বারবার যেতাম এর খবর আনতে।' পরে আর কলকাতায় গিয়ে আন্দোলনের খবর সংগ্রহ করতে হয়নি। একদিন তাঁর বাবা কলকাতায় বদলি হয়ে যান। আর জসীমউদ্দিন মণ্ডলও পেয়ে যান এক নতুন জীবন।
কলকাতা তখন স্বাধিকার আন্দোলনে টগবগ করছে। কলকাতার রাস্তায় রাস্তায় মিছিল আর স্লোগান। জসীমদের বাসা ছিল নারকেলডাঙ্গা কলোনিতে। কলোনির চারপাশে উঁচু দেয়াল। এর পাশ দিয়ে গেছে বড়বাজারের রাস্তা। সেই রাস্তা দিয়ে মিছিল যেত। মিছিলের আগে থাকতেন শ্রমিকরা। মুষ্টিবদ্ধ হাত ওপরে তুলে বজ্রকঠিনভাবে তাঁরা আওয়াজ দিতেন, 'ইংরেজ বেনিয়া এ দেশ ছাড়ো, ভারত মাতাকে মুক্ত করো', 'লাল ঝাণ্ডা কি জয়, ভারত মাতা কি জয়', 'পুকার তা হায় ইনসান রোটি কাপড়া আউর মোকাম' প্রভৃতি। এসব স্লোগান শুনে আনমনা হয়ে পড়েন কিশোর জসীম। নিজের অজান্তেই একদিন নিজেকে আবিষ্কার করেন মিছিলের সারিতে।
মিছিল দেখতে দেখতে তিনি হয়ে যান মিছিলের একজন। স্বাধীনতার দাবিতে স্লোগান দেওয়া, দেশকে দখলদারদের কবল থেকে মুক্ত করা, গরিব মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা, গরিব মানুষের স্বার্থ রক্ষাকারীদের ক্ষমতায় বসানোর আকাঙ্ক্ষায় টগবগ করতে করতে কিশোর জসীম এগোতে থাকেন। মিছিল যেত ধর্মতলা আর বউবাজার ঘুরে মনুমেন্টের দিকে। মনুমেন্টে এসে মিছিল থামত। নেতারা বক্তব্য দিতেন। অনেক দিন পর ১৯৮৯ সালে কলকাতায় সিপিআইয়ের (কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া) কংগ্রেসে সেই মনুমেন্টের পাদদেশে জসীমউদ্দিন মণ্ডলকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
মনুমেন্টের সভা-সমাবেশ শেষে বিলাতি কাপড় পোড়ানোর ধুম পড়ে যেত। জসীমের মতো অল্প বয়সীদের দায়িত্ব ছিল বিলাতি কাপড় জোগাড় করা। তাঁরা হাওড়া ঘাটে স্নান করতে আসা নারীদের বিলাতি কাপড় চুরি করে নিয়ে এসে নেতাদের হাতে তুলে দিতেন। বিলাতি কাপড় চুরির ধান্ধায় জসীমের মতো কিশোরের দল হাওড়া ঘাটে ঘুরঘুর করতেন। আর নেতারা সেই কাপড় পুড়িয়ে দিতেন। তাঁদের আনন্দ আর দেখে কে!
নারকেলডাঙ্গার রেল কলোনিতে জসীমউদ্দিন মণ্ডলের নেতৃত্বে তখন সমবয়সীদের একটি দলের নিত্যদিনকার কাজ হয়ে দাঁড়ায় মিটিং-মিছিলে যোগ দেওয়া। তখন তাঁরা কলকাতা বলতে বুঝতেন গড়ের মাঠকে। কেউ হয়তো খবর আনতেন আজ মিটিং হবে। চল, সবাই মিটিং শুনতে। আর হৈ হৈ করতে করতে বেরিয়ে পড়া। যেমন ছিল মিটিং-মিছিল, তেমনি ছিল পুলিশের আক্রমণ। লাল পাগড়িধারী পুলিশরা মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দিত। এ ছাড়া ছিল লাঠিপেটা। জসীমউদ্দিন বলেন, 'ব্রিটিশরা তো একবার এক গোরা সার্জেন্টকে নিয়ে আসে মিছিল-মিটিং প্রতিরোধ করতে। তার নাম ছিল এন্ডারসন। একটা বিরাট কালো ঘোড়ার পিঠে চড়ে পুলিশ ফোর্স নিয়ে সদর্পে সে কলকাতার রাস্তায় ঘুরে বেড়াত। মিছিল কিংবা পথসভা দেখলেই তার কালো গোড়া দাবড়ে দিত জনতার ওপর। ঘোড়ার পায়ের আঘাতে-চাপে মানুষজন পিষ্ট তো হতোই। তার ওপর নৃশংসভাবে সে লাঠিচার্জ করত।'
দেশমাতৃকার লড়াইয়ে আগুয়ান বিপ্লবীরা সেই সার্জেন্টকে শায়েস্তাও করেছিল। একদিন পরিকল্পিতভাবে বিপ্লবীরা অলিগলিতে লুকিয়ে থেকে সাহেবের আসার অপেক্ষায় ছিল। একসময় দেখা গেল কিছু পার্শ্বচর নিয়ে সার্জেন্ট সাহেব আসছে। ধর্মতলার চৌমাথায় এসে পেঁৗছলে অলিগলি থেকে বন্দে মাতরম স্লোগান ওঠে। সার্জেন্ট স্লোগানের উৎস সন্ধানে এদিক-ওদিক উঁকিঝুঁকি মারতে থাকে। এমন সময় গলির মধ্য থেকে সাহেবকে লক্ষ্য করে একযোগে বোমা পড়তে শুরু করে। একের পর এক বোমার বিস্ফোরণে গোটা এলাকা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। সাহেবের পার্শ্বচররা যে যার মতো ছুটে পালায়। কেউ কেউ বোমার আঘাতে রাস্তায় পড়ে কোঁকাতে থাকে। সার্জেন্টের ঘোড়াটাও মুখ থুবড়ে রাস্তায় হুমড়ি খেয়ে পড়ে। সবাই ভেবেছিল সার্জেন্ট সাহেবও অক্কা পেয়েছে। কিন্তু পরে জানা যায়, সে বেঁচে গেছে। তবে আর কোনো দিন সে মিছিল-মিটিং ছত্রভঙ্গ করতে আসেনি।
দেশোদ্ধারে যুবা-তরুণদের বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের বিপরীতে শুরু হয়েছিল ব্রতচারী আন্দোলন। এ আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল, তরুণ-যুবাদের সংগঠিত করে খেলাধুলা আর শরীরচর্চার মধ্যে আটকে রাখা। জসীমউদ্দিন মণ্ডলের মতে, এই আন্দোলনটি ছিল ইংরেজদের একটি চাল। শাসকরা সব সময় তাদের স্বার্থোদ্ধারের জন্য জনগণের মাঝে তাদের আস্থাভাজন একটি গোষ্ঠী গড়ে তুলতে চায়। ইংরেজরাও তখন স্বাধীনতার নেশায় পেয়ে বসা হাজার হাজার বিপ্লবী যুবা-তরুণদের বিপরীতে একদল স্বাস্থ্যবান যুবা-তরুণ গড়ে তুলতে চাইছিল, যাতে তারা বিপ্লবীদের সংস্পর্শে না যেতে পারে এবং নিজেরা স্বাস্থ্যবান দালাল হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারে।
রেলের চাকরি ও রাজনীতির মাঠ
তখন ১৯৩৯ সাল। দুনিয়াজুড়ে আরো একটি যুদ্ধ শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। যুদ্ধের প্রভাবে জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বাড়তে থাকে। জসীমউদ্দিন মণ্ডলদের পরিবারে মূল্যবৃদ্ধির প্রতিক্রিয়ায় ভাড়ারে টান পড়তে শুরু করে। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র জোগাড় করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। ফলে প্রয়োজনের তাগিদে জসীমউদ্দিনের মাথায় চাকরির চিন্তা উঁকি দেয়। মাথায় ভাবনা এলেই তো আর হবে না, চাকরিটা তো পেতেও হবে।
অবশ্য তখন চাকরির বাজারে এত আকাল পড়েনি। মোটামুটি গায়ে-গতরে ভালো থাকলে লাইনে দাঁড়াতে পারলে চাকরি একটি জুটে যেত। প্রয়োজন ছিল চাকরির লাইনটি। একদিন সেই লাইনে দাঁড়ানোর সুযোগও এসে যায়। যুদ্ধের প্রয়োজনে সেনা সংগ্রহ করা হচ্ছিল। বাড়ির কাউকে না বলে জসীমউদ্দিন মণ্ডল লাইনে দাঁড়িয়ে যান। মিলে যায় চাকরি। সংগৃহীত 'নতুন সেনাদের' নিয়ে ট্রাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল খিদিরপুরে। সেখান থেকে জাহাজে করে নিয়ে যাওয়া হবে কোচিন বন্দরে। কিন্তু বাড়ি থেকে পালিয়ে সেনাদলে নাম লিখিয়েই অনেক দূর যেতে হবে ভেবেই মনটা কেমন যেন হয়ে যায় তাঁর। এ কারণে সুযোগ বুঝেই ট্রাক থেকে নেমে পালিয়ে চলে আসেন জসীমউদ্দিন মণ্ডল।
আবারও চাকরির লাইন। এবার সেনাদলে নয়; রেলের চাকরিতে লাইন। যথারীতি গোরা সাহেবের নানা প্রশ্নের জবাব দিয়ে মন জয় করা। বয়স জিজ্ঞেস করাতে প্রয়োজনের খাতিরে ষোলো বছর বয়সকে আঠারো বলে তিনি চাকরিটি বাগিয়ে নেন। রেল বিভাগে তাঁর চাকরি হয়। কাজটি রেলের ইঞ্জিনে কয়লা দেওয়া। ফায়ারম্যানের সহকারী। নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট রেলে গিয়ে ওঠেন। ডিউটি করে ফিরে আসেন। মাস শেষে বেতন পেলেন ১৫ টাকা। তাঁর লাল ঝাণ্ডার দলে চাঁদা দেন চার আনা। কয়েক মাসের ব্যবধানেই সেই চাঁদার পরিমাণ দাঁড়ায় এক টাকায়।
তখন তিনি নিয়মিত পার্টির অফিসে যাতায়াত শুরু করেছেন। পার্টির নেতাদের সঙ্গে তখনো পরিচয় হয়নি। ভালো করে চেনেন শ্রমিক নেতা ইসমাইল হোসেনকে। পরিচিত হয়েছেন কমরেড মুজাফ্ফর আহমেদ ও কমরেড আবদুল হালিমের সঙ্গে। একদিন দেখেন এক মাথা ঝাঁকড়া চুলো বাউণ্ডুলে গোছের এক লোক কমরেড মুজাফ্ফর আহমেদের সঙ্গে বকবক করে চলেছেন, আর হো হো করে হাসছেন। দৃশ্যটি মোটেই ভালো লাগেনি জসীমউদ্দিন মণ্ডলের। পরে জানতে পারেন সেই ঝাঁকড়া চুলো ব্যক্তিটি আর কেউ নন, আমাদের বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। জানতে পারেন কবি কাজী নজরুলও পার্টির কাজেকর্মে সহযোগিতা করেন।
ছিলেন আরো একজন লাজুক স্বভাবের কবি। কিশোর সুকান্ত ভট্টাচার্য। তিনি দলের জন্য সার্বক্ষণিক কাজ করতেন। অফিসে আরো আসতেন পি সি যোশী, এস এ ডাঙ্গে। আরো পরে আসতে থাকেন জ্যোতি বসু। কমিউনিস্ট মানেই সোনার মানুষ। ত্যাগ, নিষ্ঠা, কর্তব্যপরায়ণতায় অনন্য ব্যক্তিত্ব। জসীমউদ্দিন মণ্ডলের তখনকার লক্ষ্য সোনার মানুষ হওয়া, কমিউনিস্ট হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা। সে কারণে রেলের ডিউটির সময়টুকু বাদে বাকি সময়টা দলের কাজে, দলের প্রয়োজনে ব্যয় করতে থাকেন। উৎসাহভরে নিজে যেচে কাজ করেন। অল্প দিনেই নেতাদের নজরে পড়ে যান। প্রস্তাব আসে ক্যাডার করে নেওয়ার। এতে উৎসাহী হয়ে আরো বেশি বেশি করে দলের কাজ করতে থাকেন। অবশেষে ১৯৪০ সালে তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন। জসীমউদ্দিন মণ্ডল বলেন, 'সেদিন আমার বুক গর্বে ভরে ওঠে। আমি শোষিত মানুষের পার্টি, সর্বহারা শ্রেণীর সংগঠন কমিউনিস্ট পার্টির একজন সক্রিয় সদস্য।'
১৯৪১-৪২ সালের কথা। এরই মধ্যে চাকরিতে তাঁর প্রমোশন হয়েছে। হয়েছেন সেকেন্ড ফায়ারম্যান। ইঞ্জিনে কয়লা না মারলে আর রেল চলবে না। রেল চালনায় এই বিশেষ ভূমিকা থাকার কারণে তখন ফায়ারম্যানরা আচমকা এক কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে বসেন। তখন হরহামেশাই বার্মা রণাঙ্গনে ব্রিটিশের অস্ত্রবোঝাই ট্রেন চলত। এগুলো যেত চিৎপুর হয়ে। একদিন ড্রাইভার ও ফায়ারম্যানরা বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে বললেন, তাঁরা আর ট্রেনে উঠবেন না। বন্ধ হয়ে গেল ট্রেন চলাচল। খবর পেয়ে রেলের গোরা সাহেবরা ছুটে এলেন। প্রথমে হুমকি ধমকি, পরে অনুরোধ-উপরোধ। একপর্যায়ে ট্রেন চলল বটে, তবে এই অপরাধে (!) কয়েকজনকে বদলি করা হলো। জসীমউদ্দিন মণ্ডলকেও বদলি করে দেওয়া হয় কাঠিহার লোকোইয়ার্ডে।
১৯৪২-এর আগস্টে শুরু হয় ভারত ছাড়ো আন্দোলন। সবার মুখে তখন একই ধ্বনি : কুইট ইন্ডিয়া, ডু অর ডাই, করেঙ্গে ইয়ে মরেঙ্গে। বুকভরা বেদনা নিয়ে জসীমউদ্দিন বলেন, 'সর্বাত্মক এই আন্দোলনে কতজনের যে প্রাণ যায়, তার হিসাব নেই।' প্রাণ দেন গান্ধীবুড়ি নামে খ্যাত মাতঙ্গিনী হাজরাও। সে বছরই অসুখে মারা যান জসীমউদ্দিন মণ্ডলের বাবা। এরপর পুরো সংসারের দায় চাপে তাঁর মাথায়।
ভাগ হয়ে গেল বাংলার হৃদয়
১৯৪২ থেকে ১৯৪৭ সাল এই ভূখণ্ডের রাজনীতির জন্য সবচেয়ে খারাপ সময়। জসীমউদ্দিন মণ্ডল বলে চলেন তাঁর দেখা সেই সময়ের নানামুখী তৎপরতার কথা। ইংরেজদের কবল থেকে দেশ মুক্ত করার সংগ্রাম প্রবলভাবে এগিয়ে চলে, পাশাপাশি শুরু হয় হিন্দু-মুসলমানের মধ্যকার বিরোধ। অবশ্য ১৯০৫ সালে বাংলা দুই ভাগ (বঙ্গভঙ্গ) হওয়ার পর থেকেই হিন্দু-মুসলমানের ধর্মীয় পরিচয়ের রাজনীতি শুরু। পরবর্তী সময়ে এরই ধারাবাহিকতায় মুসলিম লীগের রাজনীতি বেশ পোক্ত হয়। দাবি ওঠে হিন্দুদের জন্য একটি দেশ, মুসলমানদের জন্য আরেকটি দেশ। জসীমউদ্দিনের ভাষায়, 'এই বিভক্তির রাজনীতি করে ধনীগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষাকারী কংগ্রেস এবং মুসলীম লীগ। এরা দুটি দল হলেও একই শ্রেণী-স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করে। এর বিপরীতে কমিউনিস্টরা, লাল ঝাণ্ডার প্রতিনিধিরা গরিব মানুষের স্বার্থ রক্ষার কথা বলে। কিন্তু সেদিন এই কমিউনিস্টরা (এমনকি আজও) বেশি মানুষকে তাদের আদর্শে আকৃষ্ট করতে পারেনি। যে কারণে বিভেদ নামক একটি স্থায়ী ক্ষত দানা বাঁধতে শুরু করে (যার প্রকোপে-প্রভাবে আমরা আজও জ্বলে-পুড়ে মরছি)।'
১৯৪৭-এর আগস্টে উপমহাদেশ স্বাধীন হলো। রক্তের হোলি উৎসবের মধ্য দিয়ে দুটি দেশের জন্ম হলো ভারত ও পাকিস্তান নামে। পাকিস্তান নামের দেশটির দুটি অংশ। এক অংশ পুবে এবং অন্য অংশ পশ্চিমে। এখানে বাংলা ভাগ হয়ে পুবের অংশ তথা পূর্ববাংলা হলো পাকিস্তানের অংশ।
কলকাতা ছেড়ে জসীম আসতে চাননি। কিন্তু তাঁকে বলা হলো, তাঁকে পূর্ব পাকিস্তানে যেতে হবে। জসীম মণ্ডল বলেন, 'আমার মুসলমানি নাম দেখে দরখাস্ত গ্রহণকারী হিন্দু কর্মকর্তাটি মনে করে থাকতে পারেন আমি ভুল করে ভারতে থাকার ইচ্ছা পোষণ করেছি: অথবা সেই সময়ে ধর্মীয় হিংসার কারণে ওই হিন্দু কর্মকর্তাটিও চাননি একজন মুসলমান ভারতে থেকে যাক।'
সাধারণ শ্রমিক থেকে নন্দিত নেতা
একজন কমিউনিস্ট হিসেবে জসীমউদ্দিন মণ্ডল নিজে কখনো চাননি ধর্মের ভিত্তিতে দেশ ভাগ হোক। যে কারণে তিনি নিজে যেখানে ছিলেন, সেই কলকাতায়ই থেকে যেতে চেয়েছিলেন। মুসলিম_এই পরিচয় নিয়ে পাকিস্তানে আসতে চাননি। কিন্তু কী আর করা! চলে আসতে হলো। চলে আসেন ঈশ্বরদীতে। চেনা জায়গা। কাছেই নিজের জন্মস্থান। ঈশ্বরদীতে শ্বশুরবাড়ি। আর এর রেলস্টেশন, লোকোশেড সব কিছু তাঁর আপন। এখানেও তাঁর সেই কাজ। রেলে চড়া, বয়লারে কয়লা মারা। আর বাড়তি দলের কাজ।
দেশবিভাগের পরও কিছুদিন কমিউনিস্ট পার্টি বিভক্ত হয়নি। ১৯৪৮-এর শেষের দিকে পূর্ব পাকিস্তানে কমিউনিস্ট পার্টি আলাদাভাবে কর্মকাণ্ড শুরু করে। জ্যোতি বসু, বীরেন দাশগুপ্ত, মনসুর হাবিবের মতো নেতারা ভারতের অংশে আটকে পড়েন। দেশবিভাগের আগে রেল শ্রমিকদের নেতা হিসেবে জ্যোতি বসু শিলিগুড়ি, সৈয়দপুর, পার্বতীপুর, ঈশ্বরদী, শান্তাহার, রানাঘাট প্রভৃতি জায়গায় চষে বেড়িয়েছেন। পাকিস্তান পর্বে রেল শ্রমিকদের সংগঠিত ও উদ্বুদ্ধ করতে পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যকার অর্থাৎ রেলের পশ্চিমাঞ্চল জোনে জসীমউদ্দিন মণ্ডলও চরকির মতো ঘুরে বেড়িয়েছেন।
কিন্তু দলীয় কর্মকাণ্ডে ঝক্কি অনেক। নতুন দেশ। মুসলমানের দেশ। পাকিস্তানি তথা পাঞ্জাবিরা রাজা। শরণার্থীদের চাপ অনেক। জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। চালের দামও বেশ। ১৯৪৯ সালের কথা। এক জেলার চাল যাতে আরেক জেলায় না যায়, তা প্রতিরোধে সরকারের তৈরি করা মিলিশিয়ারা রেলে চেকিং করত। একদিন এভাবে চেক করে ইঞ্জিন বগিতে করে নিয়ে আসা জসীম মণ্ডলের তিন বস্তা চালও তারা রাজশাহী স্টেশনে নামিয়ে নেয়। এতে তাঁর নেতৃত্বে রেল স্ট্রাইক হয়। নিয়ে যাওয়া চাল ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত সেখান থেকে আর কোনো রেল চলাচল করেনি। সরকারের পক্ষে একজন ম্যাজিস্ট্রেট রেল কর্মচারীদের চাল আর মিলিশিয়ারা নামাবে না এমন লিখিত অঙ্গীকারের ভিত্তিতে ট্রেন আবারও চালু হয়। এর ফল হিসেবে জসীমউদ্দিন মণ্ডলকে সাসপেন্ড করা হয়।
রেল শ্রমিক নেতা হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালনকারী আন্দোলনটি হলো খুদবিরোধী আন্দোলন। সেই সময়ে রেল শ্রমিকদের দেওয়া হতো চালের বদলে খুদ। মুরগির খাবার খুদ শ্রমিকদের দিয়ে কর্মকর্তাদের ভালো চাল দেওয়া হতো। জসীমউদ্দিন মণ্ডলের নেতৃত্বে শুরু হয় এই খুদবিরোধী আন্দোলন। একটাই দাবি, সবাইকে চাল দিতে হবে। কোনো শ্রমিককে খুদ দেওয়া চলবে না। সমস্যা বর্ণনা করে জসীমউদ্দিনের দেওয়া বক্তব্যে সব রেল শ্রমিক একমত হন। গর্জে ওঠেন লোকোশেডের শ্রমিকরা। শেড খালাসিরা হাতের গাঁইতি-শাবল-কোদাল ফেলে দিয়ে বুক চিতিয়ে দাঁড়ান। পোর্টার, সান্টার, ফায়ারম্যান, ড্রাইভার সবাই কাজ বন্ধ করে দিয়ে শরিক হন মিছিলে। ঈশ্বরদীতে তখন ট্রেন এসে আটকা পড়ে। কোনো ট্রেন নড়ছে না। শ্রমিকরা কাজ করবেন না। আগে তাঁদের দাবির ব্যাপারে সুস্পষ্ট অবস্থান ব্যাখ্যা করতে হবে, তবেই রেল চলবে।
বিকেল ৫টার দিকে পাবনা থেকে কয়েক লরি রিজার্ভ ফোর্স এসে পেঁৗছায়। তারা একদিকে রেল চালানোর উদ্যোগ নেয়; অন্যদিকে এই আন্দোলনের নেতাদের খুঁজতে থাকে। জসীমউদ্দিন তাঁর বিশ্বস্ত সঙ্গী দেলওয়ারের সহায়তায় রেল কলোনিতে পালিয়ে যান। পরে রাতের একটি ট্রেনে জসীম মণ্ডল আর বিজন সেন পেঁৗছান আবদুলপুর স্টেশনে। সেখান থেকে হাঁটাপথে নাটোর হয়ে বাসুদেবপুর গ্রামের হালদারপাড়ায় গিয়ে ওঠেন গভীর রাতে। সেখানে ছিল পার্টির শক্তিশালী সংগঠন। দিন দুয়েকের মধ্যে জানা যায়, খুদবিরোধী আন্দোলন করায় জসীম মণ্ডলসহ মোট ছয়জনের নামে হুলিয়া জারি হয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি মাস ছয়েকের মতো সেখানকার সাঁওতালপাড়ায় থাকেন। সাঁওতালদের সঙ্গে ক্ষেতে-খামারে কাজ করতেন। গায়ের রং ও শরীর খানিকটা তাঁদের মতো হওয়ায় কেউই কখনো তাঁকে সন্দেহ করেনি।
মাস ছয়েকের মাথায় একদিন ঈশ্বরদীতে এসে ওঠেন লোকোশেডের কমরেড সাহাবুদ্দিনের বাসায়। ১৯৪৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সেখান থেকেই তাঁকে এবং দেলওয়ারকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। একসময় অতিপরিচিত রেলস্টেশন থেকে সবার সামনে দিয়ে স্কর্ট করে নিয়ে যায় তাঁদের। জসীমউদ্দিনকে পাঠানো হয় পাবনা জেলে, আর দেলওয়ারকে নিয়ে যাওয়া হয় রাজশাহী জেলে। এরপর আর দেলওয়ারের সঙ্গে জসীমউদ্দিনের দেখা হয়নি। রাজশাহীর খাপড়া ওয়ার্ডে অন্যান্য কমিউনিস্ট বিপ্লবীর সঙ্গে দেলওয়ার শহীদী মৃত্যুবরণ করেন, যা ইতিহাসে খাপড়া বিদ্রোহ নামে পরিচিত।
রেল শ্রমিকদের দুর্দশা নিয়ে আন্দোলন ছাড়াও জসীমউদ্দিন মণ্ডল সে সময় উত্তরবঙ্গে তেভাগা আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেত্রী ইলা মিত্রের সঙ্গেও কাজ করেছেন। দিন, রাত তাঁরা সাঁওতালপাড়ায় অনেক মিটিং করেছেন। দিনে চলাফেরা করতে হতো লুকিয়ে, রাতেও সাবধানে। কারণ তখন মুসলিম লীগের পাকিস্তানি সরকার কমিউনিস্টদের ওপর বেজায় খেপা ছিল। তবে সাধারণের মাঝে কমিউনিস্টদের সম্পর্কে একটি শ্রদ্ধাবোধ ছিল। লীগ-কংগ্রেস দলের নেতা-কর্মীদের বিপরীতে কমিউনিস্টরা গরিব মানুষের উন্নয়নের কথা বলে, তারা সৎ, নিজের স্বার্থের দিকে তাকিয়ে তারা কোনো সিদ্ধান্ত নেয় না, তাদের কাছে সমষ্টির স্বার্থবোধ অনেক বড় প্রভৃতি। জসীমউদ্দিন মণ্ডল বলেন, 'এ কারণে যেখানে গিয়েছি, মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসা পেয়েছি। কিছু পাওয়ার আশায় মানুষ আমাদের যত্ন-খাতির করেনি। তবে তারা জানত, আমরা ক্ষমতায় গেলে তাদের ভালো হবে।'
মানুষের প্রতি মমত্ববোধ এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করার মানসিকতা জসীমউদ্দিন মণ্ডলের জেলজীবনেও অব্যাহত ছিল। পাবনা জেলে কয়েদি-হাজতিদের দিয়ে ঘানি (সরিষা, তিল, তিসি প্রভৃতি থেকে তেল তৈরির দেশীয় যন্ত্রবিশেষ, যা এখন প্রায় লুপ্ত হয়ে গেছে) টানানো হতো। জসীমউদ্দিন মণ্ডলকেও ঘানি টানতে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি বিদ্রোহ করে বসেন। না, ঘানি টানা হবে না। ঘানি টানে পশু। আমরা পশু নই যে ঘানি টানব। শুধু নিজে নয়, অন্যদেরও ঘানি টানা থেকে তিনি বিরত থাকার আহ্বান জানান। এই বিরোধে ঘানি টানার তদারককারী কয়েদিকে তিনি মারতে উদ্যত হন এবং দুটি ঘানি গাছ ভেঙে ফেলেন। এর জের ধরে জেলখানায় পাগলা ঘণ্টা বাজানো হয়। বেদম পিটুনি দিয়ে তাঁকে একটি সেলে নিয়ে উদোম শরীরে মেঝেতে পানি ঢেলে রাখা হয়। শীতের সময় শরীরে কাপড়বিহীন অবস্থা এবং মেঝের পানিতে তিনি সিঁটিয়ে যাওয়ার দশায় পড়েন। রাত ২টায় ডিউটিতে আসা প্রহরী তাঁর এই অবস্থা দেখে বিচলিত হন। তাঁকে কাপড়চোপড় দিতে চান। কিন্তু ওই প্রহরী বিপদে পড়তে পারেন এই বিবেচনা থেকে তিনি সেই সুযোগ নেননি।
কারা কর্তাদের এই অমানবিক আচরণের প্রতিবাদে তিনি অনশন শুরু করেন। খাবার দিয়ে যাওয়া হয়; তিনি তা গ্রহণ করেন না। এভাবে কেটে যায় দুই দিন। জেলার তাঁকে ভয়-ভীতি দেখান। জসীম মণ্ডলের এক রা। অনশন ভাঙবেন না। তিনি বলেন, ডিসি (ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর, যাঁদের এখন ডিস্ট্রিক্ট কমিশনার বা জেলা প্রশাসক বলা হয়) সাহেবকে জেলে আসতে হবে। খবর পেয়ে জেলখানায় ডিসি আসেন। ডিসি তো উদোম অবস্থায় একটি মানুষকে দেখেই মুখ লুকান। বলেন, 'একি, কাপড় পরুন।' সুযোগ পেয়ে জসীমউদ্দিন বলেন, 'কাপড় তো আপনার জেলার খুলে নিয়ে গেছে, আমার কাছে তো কোনো কাপড় নেই।' এই শুনে তিনি হতবাক বনে যান। এই অমানবিক আচরণের জন্য জেলারকে শাস্তি দেওয়া হবে বলে শাসিয়ে জসীমউদ্দিন মণ্ডলকে কাপড় পরান। অনশন ভাঙার অনুরোধ করেন। এ সময় তিনি ডিসি সাহেবকে দিয়ে জেলখানায় আর মানুষ দিয়ে ঘানি না চালানো, খাবারের মান উন্নত করা প্রভৃতি দাবি আদায় করে নেন। ডিসি সাহেব অনশন ভাঙিয়ে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে তবে ফেরেন।
এর পর তাঁকে পাঠানো হয় রাজশাহী জেলে। সেখানে গিয়েও আরেক ধরনের অশান্তি। এবার তাঁকে গম পিষতে বলা হলো। যথারীতি তিনি গম পিষতে অস্বীকার করলেন। জেল-জীবনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য তাঁকে কঠোরতর শাস্তি ডাণ্ডাবেড়ি পরানো হলো। ডাণ্ডাবেড়ি পরানো থাকলে হাঁটতে-চলতে অসুবিধা হয়। পা ফুলে গিয়ে একসময় দগদগে ঘা হয়ে গেল। ডাণ্ডাবেড়ির ঘায়ের ক্ষতচিহ্ন এখনো জসীমউদ্দিন মণ্ডল বয়ে নিয়ে চলেছেন। পরে তাঁকে এই শাস্তি থেকে কেন যেন মাফ করে দেওয়া হয়। তবে বদলি করে দেওয়া হয় ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে।
সেই সময় ঢাকার সেন্ট্রাল জেলে অনেক গুণী রাজনীতিক বন্দি ছিলেন। ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক-রাজনীতিক সত্যেন সেন, শহীদুল্লা কায়সার, নগেন সরকারসহ আরো অনেকে। এমনি এক সময় স্ত্রীর অসুস্থতার কারণে তাঁর তিন দিনের প্যারোলে মুক্তি মেলে। তাঁকে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ, জগন্নাথগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ হয়ে ঈশ্বরদীতে নিয়ে আসে। পথে পথে অসংখ্য মানুষ তাঁকে স্বাগত জানিয়েছে। কেউ কেউ নিয়ে আসে ফুলের তোড়া, কেউ আনে খাবার। পথিমধ্যে নেতাকে দেখতে পাওয়া আর তাঁকে একটু যত্ন করার সুযোগ কেউই হাতছাড়া করতে চায়নি। মানুষের এই ভালোবাসায় বিমুগ্ধ জসীমউদ্দিন। ১৯৫৫ সালের দিকে জেল থেকে ছাড়া পান জসীমউদ্দিন মণ্ডল।
মুক্তিযুদ্ধের আগে, মুক্তিযুদ্ধকালে
পাকিস্তান পর্বে দুই দফায় মোট আট বছরের মতো তাঁকে জেলে কাটাতে হয়। আর রেল শ্রমিকদের পক্ষে খুদবিরোধী আন্দোলন করার অপরাধে (!) তাঁর রেলের চাকরি চলে যায়। চাকরিবিহীন রেল শ্রমিক নেতা জসীমউদ্দিন মণ্ডল তখন পুরো সময়টি রাজনীতির জন্য ব্যয় করেন। তিনি তখনো জেলে। ১৯৬৩ সালের দিকে জেলের মধ্যেই কমিউনিস্ট রাজনীতির মতাদর্শগত বিভেদ চাঙ্গা হয়। মাও সে তুংয়ের চিন্তা ও তাঁর গেরিলা যুদ্ধের কৌশলে অনেকেই আকৃষ্ট হন। নতুন কমরেডরা দলে ভেড়েন, আর তাঁরা নতুন তত্ত্বের জয়গান করতে থাকেন। আলাউদ্দিন, মতিন, দেবেন শিকদার, আবুল বাশার, আবদুল হক, তোয়াহা প্রমুখ নেতা তখন মাও অনুসারী। মাও সে তুংয়ের বই তখন তাঁদের ধ্যান-জ্ঞান। পূর্ব বাংলায় বিপ্লবের পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে তাঁরা তখনই সশস্ত্র লড়াই শুরু করার আহ্বান জানান।
জসীমউদ্দিন মণ্ডল বলেন, 'এ ধারার বিপরীতে আমরা যাঁরা অবস্থান করছিলাম, তাঁদের তারা সংশোধনবাদী হিসেবে আখ্যা দেয়। বলতে শুরু করে সোভিয়েত ইউনিয়ন সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ।' তখন থেকেই গোপন কমিউনিস্ট দলের রাজনীতিতে চীন ও সোভিয়েত তথা মস্কো অনুসারী নামের দুটো ধারা তৈরি হয়।
কিছুদিন পর পূর্ব বাংলায় শুরু হয়ে যায় আরেক বিপর্যয়। ১৯৬৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হয়। তখন আইয়ুব খানের প্রচারযন্ত্র অন্ধভাবে ভারতবিরোধিতা শুরু করে। স্লোগান ওঠে, 'কাফের ধ্বংস করো।' চীনা রেডিওতেও ভারতবিরোধী প্রচারণা ঠাঁই করে নেয়। এ অবস্থার বর্ণনা করতে গিয়ে জসীমউদ্দিন মণ্ডল লিখেছেন, 'এই উগ্র যুদ্ধংদেহী প্রচারণা পূর্ব বাংলার মানুষকে সাময়িকভাবে হলেও বিভ্রান্ত করে তুলল। এ সময় ন্যাপের কিছু কর্মী, এমনকি পার্টির কিছু কর্মীও যুদ্ধ উন্মাদনায় মেতে উঠল। কমিউনিস্ট পার্টি অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ ও আলোচনা-সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রচার করল।' (পৃ. ৮৪, সংগ্রামী স্মৃতিকথা জীবনের রেলগাড়ি_জসীমউদ্দিন মণ্ডল)।
সে সময় কমিউনিস্ট পার্টির অনুসারীদের একটি অংশ ন্যাপের সঙ্গে কাজ করত। তখন ন্যাপ নেতা মওলানা আবদুুল হামিদ খান ভাসানী। এই ভাসানীর সঙ্গে জসীমউদ্দিন মণ্ডল দেশের উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে প্রচারণা সভা করেছেন। এসব প্রচারণা সভায় যুদ্ধের বিরুদ্ধে এবং যুদ্ধের ভয়াবহ দিকগুলো তুলে ধরা হতো। যুদ্ধের উন্মাদনা থাকলেও অতি দ্রুত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে এর প্রতিক্রিয়া পড়ায় মানুষ এর বীভৎসতা সম্পর্কে আঁচ করতে পারছিল। তাঁরা দিনাজপুরের তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, বোদা, নবাবগঞ্জ, শিবপুর, রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক সভা করে আইয়ুবী শাসনের কৌশল এবং যুদ্ধের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। মানুষও তাঁদের কথা অনুধাবন করতে শুরু করে।
পরবর্তী সময়ে ন্যাপ দুই ভাগ হয়ে যায়। রিকুইজিশন ন্যাপের সভাপতি হন অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ। তখন জসীমউদ্দিন মণ্ডল ন্যাপের এই অংশের সঙ্গে মিশে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। শেষ পর্যন্ত ১৯৬৬-৬৭ সালের দিকে কমিউনিস্ট পার্টিতে দ্বিধা-বিভক্তি আসে। তখনো দলের কর্মকাণ্ড গোপনে পরিচালিত হতো। একটি অংশ সশস্ত্র সংগ্রামের সমর্থক, যারা মাও অনুসারী; অন্য অংশ সোভিয়েত অনুসারী।
১৯৬৮ সালে আইয়ুব শাহী তাঁর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রচারের জন্য উন্নয়ন দশক উদ্যাপন করেন। বিপরীতে ফুঁসে থাকা মানুষ আইয়ুব শাহীর পতন, বিডি সিস্টেম বাতিল ও সাধারণ নির্বাচনের দাবিতে গণ-আন্দোলন শুরু করে। ঈশ্বরদীতেও তখন গণতান্ত্রিক সংগ্রাম কমিটি (ডাক) গঠিত হয়। যা গড়ে তোলার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেন জসীমউদ্দিন মণ্ডল এবং কমিউনিস্ট পার্টির মস্কোপন্থী অনুসারীরা। আইয়ুববিরোধী এই গণতান্ত্রিক আন্দোলনে মাও অনুসারী কমিউনিস্টরা অংশ না নিয়ে বরং তারা একটি নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করত।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে ঢাকায় পাকিস্তানি সেনারা ঝাঁপিয়ে পড়ার ১৬ দিন পর নগরবাড়ী ঘাট থেকে রাস্তার দুই ধারের বাড়িঘর জ্বালাতে জ্বালাতে ঈশ্বরদীতে এসে পেঁৗছায় তারা। জসীমউদ্দিন মণ্ডল তখন ছিলেন তাঁদের তৈরি করা কন্ট্রোল রুমে। সেখানে খবর এল দ্রুত এলাকা ত্যাগ করার। তিনি দ্রুত বাড়ি এসে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। রাস্তায় চার দিন কাটিয়ে গোড়ালি সীমান্তের ফিঙ্গিতলায় পেঁৗছান। সেখান থেকে করিমপুর হয়ে কৃষ্ণনগর এবং পরে কলকাতায় পেঁৗছান। কলকাতায় তিনি ওঠেন তাঁর পুরনো রাজনৈতিক সহকর্মী নাচোলের রানিমা ইলা মিত্রের বাড়িতে। ইলা মিত্র ও তাঁর স্বামী রমেন মিত্র খুবই সাদরে তাঁদের গ্রহণ করেন। তাঁরাই তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করেন। একে একে রাজনৈতিক সহকর্মী মণি সিং, রতন সেন, রণেশ মৈত্র প্রমুখের সঙ্গে দেখা হয়। শুরু হয় বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গঠনের কাজ। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিআই) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য শাখার সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রজিৎ গুপ্তের সঙ্গে তখন সভা-সমাবেশে জসীমউদ্দিন মণ্ডল বাংলাদেশের পক্ষে স্বাধীনতাযুদ্ধের অনিবার্যতা এবং এতে দুনিয়ার শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের যে সমর্থন করা উচিত, সেই যুক্তি তুলে ধরে বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে বেড়ান।
স্বাধীন দেশে
১৯৭১ সালের ডিসেম্বরেই তিনি দেশে ফেরেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর স্ত্রীর তিল তিল শ্রমে গড়ে তোলা দোচালা ঘর দুটো বিহারিরা পুড়িয়ে দেয়। স্বাধীন দেশে সংসার চালানোর জন্যে সেই ১০ কাঠা জমিও বিক্রি করে দিতে হয়। থাকার জায়গার জন্য ঈশ্বরদী রেল স্টেশনের পাশে ছয় শতক পরিত্যক্ত সম্পত্তি বরাদ্দ নেন। বরাদ্দের জন্য প্রয়োজনীয় ৩২ হাজার টাকা জোগাড় হয় রেল শ্রমিক ইউনিয়ন, দলীয় ফান্ড এবং শুভানুধ্যায়ীদের দেওয়া অর্থে। এখনো রেললাইনের কাছে ওই জমিতেই তিনি বসবাস করেন।
মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি তৈরিতে ন্যাপ তথা কমিউনিস্ট পার্টির কর্মী-অনুসারীদের একটি বড় ভূমিকা থাকায় জসীমউদ্দিনের মনে হয়েছিল, এবার দেশে শান্তি আসবে। এই প্রত্যাশা তাঁর আরো বেড়ে যায়, যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় মূলনীতির একটি হিসেবে 'সমাজতন্ত্র'কে বেছে নেন। কমিউনিস্ট পার্টি তখন প্রকাশ্যে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। সমাজতান্ত্রিক আদর্শিক চেতনায় জারিত হওয়ায় তিনি দলের কর্মকাণ্ডে আরো সময় দিতে শুরু করেন। জীবনের শুরুতে সংসারের প্রয়োজনে জসীমউদ্দিন মণ্ডল চাকরি নিয়েছিলেন। কিন্তু গরিব মানুষের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে পরিপূরক রাজনৈতিক-সামাজিক পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করেন, সেই কাজটিকে প্রধান কর্তব্য বিবেচনা করায় আর কখনোই পরিবারের দায়-দায়িত্ব পালন করা হয়ে ওঠেনি। স্ত্রী মরিয়ম ওরফে জাহানারার অসীম ধৈর্য ও বিচক্ষণতায় এবং স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় তাঁর সংসারের খরচ মিটেছে।
১৯৭৩ সালে জসীমউদ্দিন মণ্ডল মস্কো সফরে যান। সেখানকার অভাবনীয় উন্নতি, মানুষের প্রতি মানুষের দরদবোধ, সব কিছুতে পরিপাটি ও স্নিগ্ধতার ছাপ দেখে তিনি মুগ্ধ হন। সমাজতন্ত্রের প্রতি আস্থা আরো বেড়ে যায়। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দেশটি আবারও উল্টোপথে যাত্রা শুরু করলে তিনি হতোদ্যম হয়ে পড়েন। এ সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং দুই বছর জেলে কাটাতে হয়। জসীমউদ্দিনের মতে, ওই সময়টা ছিল বড় খারাপ। সমাজতন্ত্রের প্রতি গোটা বিশ্বে নানাভাবে আক্রমণ হচ্ছিল। আর দেশে জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসন। ১৯৭৯ সালে নির্বাচন দিয়ে সংসদীয় ব্যবস্থার নামে রাষ্ট্রপতির শাসন শুরু হয়। এর তিন বছর পর আবারও এরশাদের সামরিক শাসন। এরশাদবিরোধী আট বছরের গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা শুরু হয়। তবে এর মধ্য দিয়ে দেশে আবারও স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। স্বৈরাচারী এরশাদ ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করে। আর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও সমাজতন্ত্রের ওপর একের পর এক আক্রমণ চলতে থাকে। চলে শীতল যুদ্ধের নানা রকমফের। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ঘটে।
সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে সমাজতন্ত্র বিদায় নেয়। দেশটি কয়েক ভাগে বিভক্ত হলো। সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙন আর সমাজতন্ত্রের পরাজয় জসীমউদ্দিন মণ্ডলকে হতবাক করে তোলে; আর সেই সঙ্গে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন তাঁর স্ত্রী মরিয়ম। তিনি এটি একেবারে মেনে নিতে পারেননি। কেন এমন হলো? সমাজতন্ত্র কি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়? জবাবে জসীমউদ্দিন মণ্ডল বলেন, 'মার্কসবাদ-লেনিনবাদ এখনো অজেয়। এই দর্শনের ভিত্তিতে সমাজবিপ্লব সম্পন্ন হবে। আর সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির মাধ্যমে গরিব-মেহনতি মানুষের মুক্তি আসবে। সোভিয়েত ইউনিয়নে যা ঘটেছে, তা সাময়িক বিপর্যয় মাত্র।' তিনি আরো বলেন, 'মনে রাখতে হবে, মার্কসবাদী দর্শনের প্রয়োগ হচ্ছে সমাজে। এখানে নানা চিন্তার মানুষের বসবাস। ব্যক্তি-আকাঙ্ক্ষা, ব্যক্তি-সম্পত্তির মোহ কাটানো বড় দুঃসাধ্য ও কষ্টকর। এ কারণে বিপর্যয় ঘটতে পারে। বিপর্যয় ঘটা মানে এ কথা বলা যাবে না যে দর্শন মিথ্যা। আর একটি কথা, যারা পুঁজিবাদী তথা বাজার-অর্থনীতির মাধ্যমে সমাজের উন্নয়ন ঘটাতে চেয়েছে, আমরা তো চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি, তারা কী উন্নয়ন ঘটিয়েছে। তাদের উন্নয়ন হচ্ছে, একদিকে চাকচিক্য, অন্যদিকে হাহাকার। আমেরিকাসহ পুঁজিবাদী তথাকথিত উন্নত দেশগুলোর অবস্থা তো একই। উপরন্তু এরা এদের স্বার্থে দেশে দেশে যুুদ্ধ-সংঘাত বাধিয়ে রেখেছে। আমেরিকা স্বাধীন দেশ ইরাকে টন টন বোমা ফেলে। আফগানিস্তানে যুদ্ধ করে। মিয়ানমারের সামরিক জান্তাকে মদদ দেয়। আবার এরাই মানবাধিকারের কথা বলে। সত্যিই বিচিত্র!' তাঁর মতে, মার্কসবাদী দর্শনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সমাজে সব মানুষের মৌলিক অধিকার পূরণ করা সম্ভব।
পরিবার, স্বজন ও কাছের বন্ধুরাও এই মানুষটির রাজনৈতিক চেতনা, মার্কসবাদী দর্শনের প্রতি আস্থা এবং উন্নততর নৈতিক বোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। জসীমউদ্দিনের কাছের বন্ধু রেল শ্রমিক মো. আবদুল আজিজ তাঁর সম্পর্কে বলেন, '১৯৫৭-৫৮ সাল থেকে জসীম ভাইকে চিনি। দেখেছি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা তাঁর অগাধ, প্রশ্নাতীত। জীবনে কখনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বাইরে তিনি কিছু করেননি। মানুষের ভালোর জন্যে সব কিছু করার চেষ্টা করেছেন। আর বর্তমান রাজনীতির যে খাইখাই দশা সেটির সঙ্গে জসীমউদ্দিন মণ্ডল একেবারে বেমানান।'
প্রায় একই কথা বলেন রেল শ্রমিক নেতা শাহ আলম। তিনি জসীম মণ্ডলকে একেবারে কাছ থেকে দেখছেন ১৯৬২ সাল থেকে। তিনি বলেন, 'জসীম ভাই আমাদের শিখিয়েছেন, শ্রমিকরাও মানুষ। শ্রমিকদের অধিকার কেউ দিয়ে দেবে না; অধিকার আদায় করে নিতে হবে। সংগ্রামটি রাজনৈতিক। আর কাজটি সমাজবিপ্লব। বৈজ্ঞানিক আদর্শ মার্কসবাদ-লেনিনবাদের ভিত্তিতে এই সমাজবিপ্লব সম্পন্ন হবে। এ কারণে শ্রমিকশ্রেণীকে সংগঠিত হতে হবে। শ্রেণী আদর্শের রাজনৈতিক দলের ভিত্তিতে সব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতে হবে। সে জন্য ট্রেড ইউনিয়ন করেছি; পাশাপাশি সিপিবির (বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি) রাজনীতির সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেছি। আমাদের আদর্শ জসীম ভাই।'
জসীমউদ্দিন মণ্ডল আজও রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে সমানে বক্তৃতা দিয়ে চলেছেন। গ্রামের কৃষক আর শহরের শ্রমিকের জন্য অতি সহজভাবে তিনি কথা বলতে পারেন বলে তাঁর বক্তৃতার বেশ চাহিদাও আছে। তিনি বলেন, 'যত দিন বেঁচে থাকব, তত দিন সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি ও সাম্যবাদী সমাজের পক্ষে মানুষকে বলে যাব। আমার লক্ষ্য ছিল এই আদর্শ প্রতিষ্ঠা করা। আমার জীবদ্দশায় এই আদর্শের প্রতিষ্ঠা হলো না। তবে একদিন এই আদর্শ প্রতিষ্ঠা পাবেই। তা না হলে গরিব-মেহনতি মানুষের মুক্তি নেই।' তিনি আরো বলেন, 'অনেকে আমাকে বলেন, রাজনীতি করে কী পেয়েছি, তাঁরা হয়তো টাকা-পয়সা, ধন-দৌলতের কথা বলতে চান; আমি তো টাকা-পয়সা বা ব্যক্তিগত সমৃদ্ধির জন্য রাজনীতি করিনি। আমার রাজনীতি ছিল একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য। আদর্শের প্রতিষ্ঠা হয়তো হয়নি। তবে একদিন হবেই।'
About: নিজাম কুতুবী
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1424)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
-
▼
2012
(33842)
-
▼
January
(4234)
-
▼
Jan 08
(110)
- এমন শোচনীয় পরিস্থিতিতে জীবনে পড়িনিঃ সানি লিওন
- ব্লগ থেকে-রাজনীতিতে 'ডাণ্ডাবেড়ি' ও ঘাতক রক্ষার পুন...
- অসময়ের স্বপ্ন-আমার দুঃস্বপ্নের রাত ও আট বাঙালির শি...
- সাম্প্রতিক-বিপদ সংকেত এবং নতুন 'সাকা' by শাকিল ফারুক
- আন্তর্জাতিক : 'উই আর দ্য নাইনটি নাইন পারসেন্ট'-ওয়া...
- স্লিপগল্প-বেনুবালার ভাই by আরিফ জেবতিক
- প্রচ্ছদ রচনা : জীবনের রেলগাড়ি-জসীমউদ্দিন মণ্ডল মজদ...
- হুবহু-সরকারের কথার সঙ্গে কাজের কোনো মিল নেই
- রিয়া হত্যার নেপথ্যে মায়ের পরকীয়া!
- বেচাকেনা বাড়ছে
- পিপিপিতে বেসরকারি খাত সাড়া দিচ্ছে by শেখ আবদুল্লাহ
- পশ্চিমা বাজারে মন্দা-তৈরি পোশাকের বিকল্প বাজারের দ...
- ফেলানির মৃত্যুর এক বছর অথচ... by গোলাম মওলা সিরাজ
- আইন ব্যবস্থা ও আসমাদের স্বপ্নভঙ্গ by মোঃ আনোয়ার সোহেল
- বাল্যবিয়ে মুক্ত এলাকা ঘোষণা by শাহজাহান সোহেল
- পেশার নতুন ভুবন
- র ঙ বে র ঙ-শব্দাবলীর স্টুডিও থিয়েটার
- উদীয়মান দক্ষিণ এশিয়ার যুব উদ্যোক্তা শীর্ষক সেমিনার...
- আরও ৮৭৬টি ইউনিয়ন কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হচ্ছে by জা...
- তিন বছরে ব্যান্ডউইথের ব্যবহার তিনগুণ বেড়েছে-১৫ জান...
- পণ্য পরিবহনে নতুন রেকর্ড-চট্টগ্রাম বন্দর by সারোয়া...
- কাঠগড়ায় কোচ এমেকা
- পাকিস্তান এখন স্ক্যান্ডাল মুক্ত :মিসবাহ
- ভারতীয় বুড়োদের দিন শেষ!
- উল্টো পথ ধরেছে ব্রাদার্সও-ফরাশগঞ্জ-১ :ব্রাদার্স-০ ...
- 'স্বামীর ইমেজ রক্ষায় দ্বন্দ্বে জড়ান মিশেল'
- সবচেয়ে বড় সামরিক মহড়া করবে ইরান-উপসাগরে আরও যুদ্ধজ...
- প্রিয়াঙ্কাকে নিয়ে দ্বিধায় কংগ্রেস-উত্তর প্রদেশে নি...
- সেনাবাহিনীর সঙ্গে 'যুদ্ধে' নেই সরকার :জারদারি-পার্...
- লিখন শরীরচর্চা
- পাবনায় চিরনিদ্রায় শায়িত স্যামসন চৌধুরী by এবিএম ফ...
- রোহিঙ্গা জঙ্গিরা নতুন করে একজোট হচ্ছে by আবু তাহের
- বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে বিপাকে সরকার by নাজমুল ইমাম
- রাজস্ব আদায়ে শ্লথগতি দুশ্চিন্তায় সরকার by আবু কাওসার
- বিরোধীদলীয় নেতার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান-তত্ত্...
- কোটি টাকার বাড়ির ১শ' ফাইল গায়েব by শরীফুল ইসলাম
- জাতীয় জরিপ প্রকল্পের তথ্য-ক্ষুধার্ত মানুষ ও খাদ্যন...
- রোডমার্চে কমিয়ে ঢাকায় জনবল রাখছে জামায়াত by সেলিম ...
- বোয়ালিয়া খাল ভরাট করে আবাসন প্রকল্প!
- মনিপুর স্কুলে মানববন্ধন-অতিরিক্ত টাকা নিয়ে ভর্তি চ...
- টেস্ট সিরিজ-সমালোচকদের জবাব দিলেন স্মিথ
- ক্লার্কেই ত্রাতা খুঁজছে অস্ট্রেলিয়া
- ব্রাদার্স-ঘাতক জুনাপিউ!
- পার্থে ভারতীয়দের জন্য অপেক্ষা করছে গতি!
- বাণিজ্য মেলায় ভিড়ের সঙ্গে বিক্রিও বাড়ছে
- বেসরকারি ডিপোতে আরও দুটি পণ্য খালাসে বাধ্যবাধকতা b...
- দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের
- বেড়া ও সাঁথিয়ায় এক বছরে ২৮ জন খুন-অনেক পরিবার হারি...
- স্কুলের মাঠে আ.লীগ নেতা কর্মীদের আট দোকান by মুক্ত...
- ফসলি জমি ও জনবসতি এলাকায় ইটভাটা by মাহবুবুর রহমান
- কমলাপুর থেকে ভারতীয় গাড়িচালকের লাশ উদ্ধার
- তরুণদের মানবসম্পদে পরিণত করতে রাষ্ট্রপতির আহ্বান
- ২০তম জাতীয় টিকা দিবস উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
- ডাচ্-বাংলা ব্যাংক-প্রথম আলো গণিত উৎসব: ২০১২-গণিতভী...
- 'তাঁকে সন্তুষ্ট করেই চলতে হয়'
- বিএনপি : রাজবাড়ী-২ আসন-কোন্দলের হাত ধরে পথচলা
- আওয়ামী লীগ : রাজবাড়ী-২ আসন-এমপিই সব, আর কেউ কিছু...
- প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি-কথা বেশি কাজ কম
- ইভিএম পদ্ধতি-প্রযুক্তির সুফল মিলেছে
- স্বচ্ছতা নৈতিকতা বজায় রেখেই শিখরে by মাহবুবুর রহমান
- প্রাচীন মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ আধুনিক মানুষ by দে...
- পাকিস্তান-আগাম নির্বাচনের দাবি_ শাসক মোর্চা মানবে ...
- জুয়েল বটে! by আনোয়ার হোসেন
- সময়ের কথা-সব ঝুটা হ্যায়? by অজয় দাশগুপ্ত
- কুমিরা-গুপ্তছড়া ঘাট-যাত্রীবাহী জাহাজ চালু হোক
- পাট রফতানি-নতুন বাজার খুঁজতে হবে
- ঐতিহ্যহীন জাতি!-ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো রক্ষা করা হোক
- পবিত্র কোরআনের আলো-আল্লাহ যে জাতিকে যে নেয়ামত দান ...
- শ্রদ্ধাঞ্জলি-স্যামসন চৌধুরী: কাছ থেকে দেখা by ডা....
- লন্ডনের ডিকেন্স ও তাঁর সহমর্মিতার কথা by গাজীউল হা...
- চরাচর-অস্তিত্ব সংকটে উদবিড়াল by আজিজুর রহমান
- কুড়িয়ে পাওয়া সংলাপ-১০ মাইল লম্বা এক দীর্ঘশ্বাস by ...
- বৃত্তের ভেতরে বৃত্ত-আসকের প্রতিবেদন : যেসব কারণে ক...
- জোনভিত্তিক ফসল উৎপাদন মানচিত্র ও ভবিষ্যতের শস্যবিন...
- আমি এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট
- নতুন বছরের চাওয়া-তবু স্বপ্ন দেখে যাই
- ফিরে দেখা ২০১১-এর ক্রীড়াঙ্গন by মেজর চাকলাদার (অব.)
- ইতিহাসের মুখ: পারলি না! by সানাউল হক খান
- নির্বাসিত জীবন
- চারদিক-বুলেন কোল হাজরা
- খোলা হাওয়া-জনমত মেনে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে by সৈয়দ ম...
- শ্রদ্ধাঞ্জলি-তোমার কীর্তির চেয়ে তুমি যে মহৎ by রাশ...
- পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ-আইন প্রণয়নের উদ্যোগটি ভালো, ...
- অন্য আসামিকেও গ্রেপ্তার করুন, শাস্তি দিন-সাতক্ষীরা...
- ভুল সংশোধনের এখনই সময়-প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ
- বিশেষ সাক্ষাৎকার-কৃষিক্ষেত্রে সরকারের নীতি সুফল দি...
- গ্রামীণফোন-প্রথম আলো ইন্টারনেট উৎসব-আই-জিনিয়াস গ্র...
- গিমে জাদুঘরে পাঠানো পুরাকীর্তি খোয়া-কাউকেই দায়ী কর...
- প্রথম আলো বর্ষসেরা বই ১৪১৭-পুরস্কার পেল ‘অপৌরুষেয় ...
- আজ চার দলের রোডমার্চ-ব্যয় হচ্ছে ১০ কোটি টাকা by টি...
- বিতরণব্যবস্থা চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহের উপযোগী নয়-গ্...
- বিরোধীদলীয় নেত্রীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী-তত্ত্বাবধ...
- সিটি করপোরেশনের গাড়ি ও জনবল বিএনপির প্রচারণায়! by ...
- চট্টগ্রামে মেনন-দেশ ঠিক পথে চলছে না
- পুঠিয়ার রাজবাড়ি রক্ষার দাবি নিয়ে মাঠে সর্বস্তরের ম...
- অধিকারের আলোচনা সভা-আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে গুপ্...
- শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় সমাহিত স্যামসন এইচ চৌধুরী by সরো...
- এক চেয়ারম্যানের নিজস্ব ‘আদালত’ by শাহাবুল শাহীন
- গ্রামীণফোন-প্রথম আলো ইন্টারনেট উৎসব-আই-জিনিয়াস গ্র...
- বীর মুক্তিযোদ্ধা-তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না
- গিমে জাদুঘরে পাঠানো পুরাকীর্তি খোয়া-কাউকেই দায়ী কর...
- খালেদার জন্য রাজকীয় চেয়ার, ৩০০ নেতার মঞ্চ by হাজের...
- বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে ওয়াকা ওয়াকা শাকিরা by বিপুল ...
- নিরব কেন প্রধানমন্ত্রী? by ফজলুল বারী
- মৃদুল-গৌতমের কাছে খোলা চিঠিঃ বন্ধু নাকি শত্রু ভারত...
- তারেক মাসুদের লেখা গান গাইবেন আনুশেহ্ by প্রীতি ওয়...
- ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধিতে বোরোর খরচ বাড়ছে ৩০ ভাগ
- টাইটানিক থেকে উদ্ধার হওয়া জিনিস নিলামে
- ধর্ষণের সংজ্ঞা বদলঃ কেবল নারী নয়, পুরুষও 'ধর্ষিত'...
- ইয়াবার থাবাঃ ব্যবসা করে ১২ লাখ সেবন করে ১৫ লাখ by ...
-
▼
Jan 08
(110)
-
▼
January
(4234)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ইরান
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
কালবেলা
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
রাশিয়া
মুক্তিযুদ্ধ
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
হিন্দু
রুদ্র মিজান
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
স্বাস্থ্য
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
জীবনযাপন
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কলকাতা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
মসজিদ
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ইয়েমেন
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
Exclusive
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
জনস্বাস্থ্য
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
জোহরান মামদানি
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
ইহুদি
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
জর্দান
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
আহমেদ মুনির
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment