Wednesday, March 4, 2015
আত্মসঙ্কটে বাঙালি বুদ্ধিজীবীরা by মিনা ফারাহ
আত্মসঙ্কটে বাঙালি বুদ্ধিজীবীরা by মিনা ফারাহ
অমীমাংসিত
৪৭, বুদ্ধিজীবীদের আত্মসঙ্কট, সাউথ ব্লকের ষড়যন্ত্র- তিন রাহুর কবলে
বাংলাদেশ। লাহোর প্রস্তাবের ৭৫ বছর পর শেষবারের মতো এবার বাঙালি মুসলমান
বুদ্ধিজীবীদেরকেই মীমাংসা করতে হবে শান্তি না যুদ্ধ- কোনটা পছন্দ। তাদের
ভুলের বিরুদ্ধে নারাজির অধিকার পাবলিকের জন্মগত সত্ত্বেও ওরা সেটা মানছে
না। এভাবে মারদাঙ্গা জীবন আর চলছে না।
৭৫ বছরের ইতিহাস বলছে, ৪৭-কে কেন্দ্র করে যতগুলো যুদ্ধ এবং দাঙ্গা, একসাথে যোগ করলে মাঝারি আকারের বিশ্বযুদ্ধের সমান। দেশ বিভাগের আগে ও পরের গণহত্যাগুলোর পরিসংখ্যান নেই। কোটি কোটি মানুষের দেশ হারানোর কষ্ট পরোয়া করেন না বুদ্ধিজীবীরা। ইতিহাস সাক্ষী দেয়, অমীমাংসিত দেশ বিভাগের দৃশ্যপট পাল্টে দেয়ার সুযোগ বৃহত্তর বাংলার বুদ্ধিজীবীদের হাতেই ছিল। দিল্লি সব সময় দুই বাংলার রাওয়ালপিন্ডি এবং দুই বাংলা জমজ বোনের মতো। ভারতীয় আগ্রাসনের গভীরতা কখনোই বুঝতে চান না বুদ্ধিজীবীরা। দিল্লির গরু, সুপারি আর মতার ষড়যন্ত্রমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত জ্বলবে বাংলাদেশ।
ভুলের কিছুটা নমুনা। লাহোর প্রস্তাব ভালো কিন্তু মুসলিম লীগ খারাপ। ডাইরেক্ট অ্যাকশন ভালো, কিন্তু পাকিস্তান খারাপ। মুসলিম লীগ খারাপ, কিন্তু পাকিস্তান ভালো। জিন্না খারাপ, কিন্তু কেবিনেট মিটিং ভালো। ভাষা আন্দোলন ভালো, কিন্তু লাহোর প্রস্তাব ভালো না। যুক্তফ্রন্ট, মুসলিম লীগ কোনোটাই ভালো না বরং ছয় দফাই সব। সমাধান দেয়নি কাগমারি সম্মেলন, এনডিএফ চাই। গোলটেবিল ভালো, কিন্তু বেসিক ডেমোক্র্যাসি খারাপ? এরই ধারাবাহিকতায় একদলীয় ও বহুদলীয় গণতন্ত্র, বাংলাদেশের শরীরে জমজ সন্তানের মতো মাথা থেকে পা পর্যন্ত জোড়া। দিল্লি না রাওয়ালপিন্ডি, একবারো সঠিক সিদ্ধান্ত নেননি বুদ্ধিজীবীরা।
লাহোর প্রস্তাবের ৭৫ বছর পর, যে পর্যন্ত না ৪৭, ৭১ ও ৫ জানুয়ারির মীমাংসা হবে, তত দিন পর্যন্ত জেরুসালেম আর কাশ্মিরের মতো অমীমাংসিতই থাকবে বাংলাদেশ। এক একর জমি লালনপালনে পরিকল্পনা লাগে, ৫৬ হাজার বর্গমাইলের জন্য লাগে না? ’৭৪-এর মতো আবারো কতকাল র্যাব-পুলিশ দিয়ে জনজীবন চালাতে চায় আওয়ামী লীগ? বন্দুকের নল উত্তর হলে, আইয়ুব-এরশাদের দোষটা কোথায়? দেশ বিভাগের পর থেকে এদের নেতৃত্বে যুদ্ধ-দাঙ্গা অনেকটাই রুয়ান্ডা-বসনিয়ার মতো। একমাত্র পাগল আর শিশুই বলবে না, লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে নেই বাংলাদেশ।
যারা নিজেকে অস্বীকার করে, তারা কাউকেই স্বীকার করে না। তখন তাদের কাজ অন্যের দোষ খোঁজা। ধরে নিতে পারি, ইংরেজ উপনিবেশের নর্দমাগুলো ৫৬ হাজার বর্গমাইলেই শেষ করেছিল কংগ্রেস। সেই নর্দমার বিষেই বুদ্ধিজগতে ধস। এর ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়েছিল দেশ বিভাগে।
বারবার ভুল করা বুদ্ধিজীবীদের কাছে প্রশ্ন- এখন সমস্যা কোনটা? ৫ জানুয়ারিতে অবৈধ নির্বাচন করে ক্ষমতায় যায়নি ২০ দলীয় জোট। ৫ জানুয়ারির আগে বহু মানুষ পুড়ে মরার পর বার্ন ইউনিটের যেন পুনরাবৃত্তি না হয়, সেই জাদুরকাঠি যার হাতে, তিনি কি তার দায়িত্ব পালন করেছেন? নিরপেক্ষ নির্বাচন না দিয়ে বরং বারবার বার্ন ইউনিটে যাওয়া জর্জ বুশের মিশন কমপ্লিটের মতো দুরভিসন্ধিমূলক। পশু না, আমরা মানুষ। ৪৭ ও ৭১ পারেনি, এবার ৫ জানুয়ারির জবাব প্রতিটি বাঙালি মুসলমান বুদ্ধিজীবীকে অবশ্যই দিতে হবে। প্রমাণসাপেক্ষে নির্বাচনজনিত গণহত্যারও বিচার হবে। ১৬ ডিসেম্বরের পর পাকিস্তান বিদায়, ৪৭ সাল থেকে ৭৪ পর্যন্ত একবারো সৈন্য নামাতে হয়নি ভারতে। আমাদের ইতিহাস কী বলে? প্রধান সমস্যা হলো, বুদ্ধিজীবীদের বুদ্ধিবৃত্তিতে ধস। ভোটের অধিকার ছিনতাইকারীদের কার্যালয় ঘেরাও না করে, করছে উল্টোটা।
যুদ্ধ-দাঙ্গায় যাদেরকে মরতে হয় তারা ভাগ্যবান। কিন্তু যারা বেঁচে যায় আমৃত্যু ওই স্মৃতি বহন করে। তাদের জীবন কখনোই স্বাভাবিক হয় না। দেশ বিভাগের পর জন্ম নেয়া আমিও তাদেরই একজন। জীবনের প্রথম অর্ধেক কাটল হিন্দু-মুসলমানের যুদ্ধ-দাঙ্গা আর দেশ ত্যাগের ধারাবাহিকতা দেখে। প্রথম নষ্ট অভিজ্ঞতা, ১৯৬৪-এর দাঙ্গা। বাবার মুখে শুনেছি, প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবসকে কেন্দ্র করে কলকাতা-নোয়াখালীতে ভয়ানক দাঙ্গা। ৫০-এ ক্ষতিগ্রস্ত আমার পরিবারও। পরপর ১৯৪৭, ৪৮, ৫০... লাগাতার মারদাঙ্গায় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানবসৃষ্ট দুর্ভোগের কারণ আলোচনায় না থাকলে আজকের সমস্যার সমাধান হবে না। একসাথে স্বাধীন হয়েও কোথায় চলে গেল ভারত! ভোটের ১৫ দিন পর্যন্ত বাক্সগুলো নির্বাচন কমিশনের জিম্মায় থাকে। ৬৭ বছরে এই কথা কি একবারো বলতে পেরেছি? বুদ্ধির গভীরতা এতটাই নিম্নমানের, প্রতিবারই যা চায়, কড়ায়-গণ্ডায় পায়; কিন্তু প্রতিবারই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করে।
৯৬ শতাংশ ভোট দিয়ে এরাই আনল পাকিস্তান, ওই রাতেই সিদ্ধান্ত পাকিস্তান ভালো না। ধর্মভিত্তিক দেশ বিভাগ ছাড়া মানবেই না, ৭২-এ পৌঁছে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি আর বিষ্ঠা এক সমান। এই রাজনীতির পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে জিয়াউর রহমান হলেন মুক্তিযুদ্ধের কলঙ্ক; কিন্তু ধর্মকে সংবিধানের অংশ করা এরশাদ হলেন সবচেয়ে ভালো। ৮৬-তে এরশাদ খারাপ, কিন্তু জামায়াত ভালো। ৯৬-তে এরশাদ ও জামায়াত দুইই ভালো। বুদ্ধিজীবীরা কী চান, জানেন তো? ৪৭ সালে সৃষ্ট বাংলা-পাঞ্জাবের শরীরে ছুরি চালিয়ে দুই ব্যাগ ভর্তি অদ্ভুত পাকিস্তান, ইতিহাসের নিকৃষ্ট কলঙ্ক। দুই হাজার মাইল দূরত্বে মাথা আর পা, মধ্যখানে কাশ্মিরের ক্যানসার নিয়ে রামরাজত্ব ভারতের। এই দৃষ্টান্ত পৃথিবীর কোথাও নেই।
পৃথিবীর আর কোথাও এত অল্প সময়ে এতগুলো যুদ্ধ, দাঙ্গা আর দেশত্যাগের ঘটনা ঘটেনি। দুইবার দেশ কর্তনও হয়নি। তখন দাবি ৯ + ৫ = ১০। আমার কথা, ডাইরেক্ট অ্যাকশন সবচেয়ে বড় ভুল। ওদের চোখে ডাইরেক্ট অ্যাকশনই একমাত্র পথ। লাহোর প্রস্তাবের বিকল্প অবশ্যই ছিল। বিধানসভা পরপর দুই দফা তাদের দখলেই। দিল্লির কেবিনেট মিটিংয়েই কংগ্রেসের উদ্দেশ্য পরিষ্কার। ইতিহাস বলে, অস্পৃশ্যদের মতো বাঙালি মুসলমানদেরকেও দীর্ঘ সময় বঞ্চিত রেখেছিল কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা। ফলে বুদ্ধি প্রয়োগে নেতিবাচক প্রভাব অবশ্যই পড়েছিল ভারত ভাগের সময়। ইতিহাসের এই অধ্যায়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাঁটি হাঁটি পা পা করে দুই দফা বিধানসভার মতা পাওয়ার মতো অসম্ভব সম্ভব করলেও, আসল অঙ্কে ভুল করলেন বুদ্ধিজীবীরা। অর্থাৎ ৬৭ বছর যা ঘটছে, অতীতের বুদ্ধিহীনতার প্রতিচ্ছবি।
যে মুহূর্তে কনফেডারেশন সরকারের দাবি বাতিল হলো, বৃহত্তর বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর তখনই সুযোগ ছিল প্রত্যক্ষ সংগ্রাম না করে পুরনো দাবিতে ফেরা। প্রয়োজনে দুই-চার বছর অপেক্ষা করলে ক্ষতি ছিল না। সে রকম হলে ইংরেজরা যেনতেন ও অসম দেশ বিভাগ চাপিয়ে দিতে পারত না। কাশ্মির কিংবা ছিটমহলেরও প্রশ্ন উঠত না। একই অস্থিরতার পুনরাবৃত্তি ৭১-এ। এখনই এই মুহূর্তে সব সমস্যার সমাধান চাই। মাত্র ৯ মাসে স্বাধীনতা পৃথিবীতে একটাই। এরপর রাওয়ালপিন্ডিকে সরিয়ে সাউথ ব্লকের কবলে। সারা পৃথিবীতেই মুসলমান, তার মানে এই নয়, সব দেশেই মুসলমানদের জন্য আলাদা-আলাদা দেশ বানাতে হবে। ভুলগুলো যত দিন না আলোচনায় আসবে, তত দিন পর্যন্ত আজকের সমস্যার গোড়া খুঁজে পাবে না।
পাকিস্তানি আর বাঙালিদের ভাষা-সংস্কৃতি যে ভিন্ন, তারা জানতেন। তখনই সাবধান হলে ৬৭ বছর ধরে যা হচ্ছে, হতো না। বাংলা ভাগ হলেও অল্পসংখ্যক মুসলমান ভারত ছেড়েছে, এপার বাংলার হিন্দুদের সংখ্যা ৩৮ থেকে কমে ৮ ভাগের প্রধান কারণ, বারবার যুদ্ধ-দাঙ্গায় অনিরাপত্তাবোধ। সত্য যে, ভারত ভাগের পক্ষে ৯৬ ভাগ ভোট বাঙালিদের আর ৪৯ ভাগ অবাঙালিদের। আমার অভিজ্ঞতায়, এদের রাজনীতির প্রধান পুঁজি লাঠি বনাম ভারতীয়দের বুদ্ধির সুব্যবহার। আজকের সঙ্কটের সূত্র ধামাচাপা দিলে আরো যুদ্ধ, আরো দাঙ্গা হবে। অন্যথায় ৪৭-এর মাত্র ২৪ বছর পর আরেকটা যুদ্ধ করতে হতো না।
ডাইরেক্ট অ্যাকশনের কারণেই রেডক্লিফেকে জরুরিভিত্তিতে তলব করে সৃষ্টি করা হলো অদ্ভুত দু’টি দেশ, যার শরীরটা মধ্যখানে আর মাথা ও পা দুই হাজার মাইল দূরত্বে। বাংলা-পাঞ্জাবকে শ্মশান করা দেশ বিভাগের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বহু বছর গবেষণা ও বিতর্ক চলতে পারে। কয়েক দিনে খুন হলো প্রায় ১৫ লাখ, রিফিউজি আরো লাখ লাখ, জন্ম থেকেই জ্বলছে সবগুলো দেশ। কাশ্মিরসহ ভারতের অনেক অঙ্গরাজ্যের অবস্থা ৭১-এর মতো। আমাদের রসদ জোগানো ভারতের ৭১ ঠেকানোর দায়িত্ব, সর্বদাই আওয়ামী লীগের ঘাড়ে। এই উপলে উভয় পরে সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র এবং এটাই বাংলাদেশের এক নম্বর সমস্যা।
মধ্যরাতেই কলকাতায় বুদ্ধিজীবীদের বৈঠক, হায় হায়! পকিস্তান ভালো না, আলাদা হতে হবে। আমার প্রশ্ন- ডাইরেক্ট অ্যাকশনের আগে ছিলেন কোথায়? যুদ্ধ, খুনাখুনি ও দাঙ্গায় কেটে গেলো ৪৭, ৪৮, ৫০, ৬২, ৬৪, ৬৫, ৭১...। ৯৬ শতাংশ ভোট দিয়ে পাকিস্তান আনল, কিন্তু পাকিস্তান ভালো না। ভাঙো ১৪৪ ধারা, পেটাও জিন্নাকে। রাতারাতি ইতিহাস গড়ল ভাষা আন্দোলন। তারপর? এবার যুক্তফ্রন্ট করে দেখিয়ে দিতে হবে। যুক্তফ্রন্ট হলো, তারপর? দেশ বিভাগ করা বুদ্ধিজীবীদের মারামারি-কাটাকাটি বাড়ল দেড়শ’ দ্বিগুণ। একজন আরেকজনের মুখ দেখে না। একজন আরেকজনের ভোটকেন্দ্রে ডাকাতি করতে এক ডজন জাহাজ নিয়ে হাজির হয়। আনল পাকিস্তান আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগ, ন্যাপ... কাগমারি সম্মেলনেই স্বায়ত্তশাসন কায়েমের অবস্থা সৃষ্টি করলে আইয়ুব খানের আগমন। যুক্তফ্রন্ট ফেল, তারপর? হুজুর ভাসানী নাম দিলেন নাথিং ডুইং ফ্রন্ট, অর্থাৎ এনডিএফ। সেটাও যথাসময়ে ফেল। আইয়ুব খানের স্বৈরগণতন্ত্রের বেসিক ডেমোক্র্যসির সাথে যোগ দিলেন মোনায়েম খান ও সবুর খানের মতো বড় বড় শিংওয়ালা বুদ্ধিজীবীরা। ওটাই স্বৈরগণতন্ত্রের প্রসব। সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুতে মুজিবের প্রত্যাশিত চন্দ্রগ্রহণ কাটল। মরেনি মুসলিম লীগ, তাই ছয় দফাকে কেন্দ্র করে আবারো দ্বিখণ্ডিত। এক ভাগ চায় পাকিস্তান, অন্য ভাগ বাংলাদেশ। ধর্মভিত্তিক নয়, বরং এবার নিজেদের মধ্যেই দুই নম্বর ডাইরেক্ট অ্যাকশন।
সীমান্তের কাছে হওয়ায়, ৬৪-এর ভয়াবহ দাঙ্গা দিয়ে আমার ক্ষতবিক্ষত স্মৃতির ভাণ্ডারে প্রথম নষ্ট অভিজ্ঞতার শুরু। আসাম থেকে মুসলমানের ঢল আর গভীর রাতে এপার থেকে হাজার হাজার হিন্দু দেশ ছাড়ে। ৫০-এরপর ৬০-এর দশকে আবারো পাল্টে যেতে থাকল শহরের চেহারা, সাইনবোর্ড, শিক্ষাঙ্গন ইত্যাদি। কৈশোরের লণ্ডভণ্ড অভিজ্ঞতা। ৪৮-এর পর কাশ্মিরকে কেন্দ্র করে আবারো ৬৫-এর যুদ্ধে ভয়ানক সাম্প্রদায়িক অসম্প্রীতিতে মুখোমুখি দুই প। যুদ্ধ হয় দুই পাকিস্তানে, বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এপারের হিন্দুরা (ওপারের ক্ষতিগ্রস্তরা তুলনামূলক কম)। ৬৫-কে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হলো ঐতিহাসিক শত্রুসম্পত্তি, যার পরিমাণ পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত এক নম্বর। পাকিস্তান আনল, কিন্তু ছয় দফার দাবিতে ফের দেশ অচল। এবার কংগ্রেস নেই; বরং বাঙালি বনাম বাংলাদেশী জাতিয়তাবাদের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে আরেকটা হলোকস্ট।
৬০-এর দশকে লাগাতার আন্দোলন, মিছিল-মিটিংই যেন জীবন। একবার ছয় দফা আবার ১১ দফা। স্বায়ত্তশাসন বনাম স্বাধীনতার মধ্যে তালগোল পাকিয়ে ফেলা। দম নেয়ার ফুরসত নেই। দেশ বিভাগের ২৪ বছর পর, ৭১-এ আবারো বিশ্বকাপ জিতল; কিন্তু সেটাও অনেকেরই পছন্দ নয়। কাশ্মির নই, কিন্তু কম কিসে?
৪৭-এর মতোই ৭১ এসেছিল বহু অমীমাংসিত প্রশ্ন নিয়ে। রাওয়ালপিন্ডিকে সরিয়ে এবার দিল্লি। স্বাধীন হওয়ামাত্র রক্ষীবাহিনী, বাকশাল, র, কম্বলচোরদের জয়জয়কার। সকালে রাষ্ট্রপতি, দুপুরে প্রধানমন্ত্রী, বিকেলে আবার রাষ্ট্রপতি- কোনটা চান মুজিব নিজেও জানেন না; কিন্তু মানুষের কী হবে, সেটা ভাবনা নয়। নব্য দখলদার, কালোবাজারারি আর রক্ষীবাহিনীর মিশনে অতিষ্ঠ জীবন। সিরাজ শিকদার হত্যা মুজিবতন্ত্রের অন্যতম চমক। ৭৩ সালে তিন টাকা সের চিনি, ৭৪ সালে ৩৩ টাকা। এক দিকে দুর্ভি, অন্য দিকে ফুলের মালা আর মানপত্র নিয়ে ব্যস্ত মুজিব। টাইম ম্যাগাজিনে জালপরা বাসন্তীর ছবি নিয়ে হইচই। যুদ্ধ ফেরত উচ্ছৃঙ্খল বাহিনীগুলোর খুনাখুনিতে ভয়ঙ্কর অবস্থা আমার স্মৃতির ভাণ্ডারে অন্যতম নষ্ট অভিজ্ঞতা। কে অস্বীকার করবে সাড়ে তিন বছরের দুঃশাসন? আমার অভিজ্ঞতায় বাঙালি বুদ্ধিজীবীরা সর্বদা ১০ নম্বর মহাবিপদ সঙ্কেতের মতো। রুয়ান্ডা ও বসনিয়ার কথা বলি, কিন্তু আমাদের বেলায় কোনটা কম!
৭২ থেকে ৭৫-এর জবাব দিতে চলে গেল ৯০। বর্তমান দুর্ভোগের জন্য দায়ী ছয় দফা বনাম স্বায়ত্তশাসনের মধ্যে আজ পর্যন্ত মীমাংসা না করা। রাজাকার বনাম মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা স্পষ্ট না করা। তর্কবিদেরা বলবেন, বঙ্গবীর রাজাকার হলে গোলাম আযম মুক্তিযোদ্ধা! ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের রমরমা সার্টিফিকেটবাণিজ্য তাই আওয়ামী বুদ্ধিজীবীদের মতে এ কে খন্দকার একটা রাজাকার। পাঠ্যপুস্তক থেকে ভাসানী, জেনারেল ওসমানী ও বঙ্গতাজের মতো গর্বিত সন্তানেরা উধাও? ইনডেমনিটি দিয়ে স্বাধীনতার ঘোষক সাব্যস্ত করতে হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কারো পৈত্রিক সম্পত্তি। ‘জয়বাংলা’ বনাম ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদের’ যুদ্ধ হেঁটে হেঁটে আসেনি। হুটু-টুটসিদের মতো নিজেরাই খুনাখুনি, আর সব দোষ ৭৫-এর? ভেবেছিল ৯০ পার হলেই বাংলাদেশ এমন গণতন্ত্র পাবে, ব্রিটেনের সংসদীয় গণতন্ত্র পর্যন্ত লজ্জা পাবে। দুই মহিলার নেতৃত্বে এরশাদের অবস্থা খান সাহেবদের মতো ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি। বিদেশী দূতদের জানা উচিত, সংলাপ কত সহজলভ্য, ৯০-এ প্রমাণ করেছেন দুই নেত্রী। এরশাদকে টেনে নামানোর জন্য দুই নেত্রীর ডাইরেক্ট অ্যাকশনের ঘটনা কে না জানে! ৯১ সাল থেকে স্বাধীনতার ঘোষক প্রশ্নে দুই-সতীনের চুলাচুলির শুরু। বুদ্ধিজীবীরা বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্র হলো, কিন্তু ৯২ সালে এসব কী? বাবরি মসজিদ ভাঙ্গল ওই পারে আর গণহত্যা এই পারে? পাকিস্তানের চেয়ে দীর্ঘ সামরিক শাসন আর স্বৈরগণতন্ত্রের চেহারা দেখে বুদ্ধিজীবীরা গান গায়- ভুল সবই ভুল, এই জীবনের পাতায় পাতায় যা লেখা সবই ভুল...।
৮৬ থেকে যা পেলাম। জামায়াত বহুদলীয় গণতন্ত্র, কিন্তু এরশাদ মহাস্বৈরাচার। একবার জামায়াত সন্ত্রাস, পরেরবার এরশাদ। বহুদলীয় গণতন্ত্র ভালো, কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান একটা খাঁটি রাজাকার। ক্ষমতার প্রশ্নে জামায়াত আর জাতীয় পার্টি- দুই নেত্রীর চোখে দুই কোহিনূর। এক দল ধরে, অন্য দল ছাড়ে। ক্ষমতার প্রয়োজন হলেই একজনকে পাঠায় ফাঁসির মঞ্চে, আরেকজনকে নামায়। ফাঁসির সুইচ অন-অফ খেলা, দুই নেত্রীর ক্ষমতায় যাওয়ার কৌশল। তার পরেও ৫ জানুয়ারি নিয়ে বুদ্ধিজীবীদের বক্তব্য কী প্রমাণ করে?
ছয় দফা যে স্বায়ত্তশাসন বা স্বাধীনতা কোনোটাই নয়, উত্তর- ৯১ থেকে ২০১৫-এর অদ্ভুত গণতন্ত্র যেখানে সংসদ মানেই বিরোধী দল রাস্তায়। দুই দফায় ৩০৩ দিন আওয়ামী হরতালের বিশ্বরেকর্ড এখন পর্যন্ত ভাঙতে পারেনি বিএনপি। জনতার মঞ্চ বানিয়ে প্রত্য সংগ্রাম দিবসের রক্তারক্তির রেকর্ডও ভাঙতে পারেনি ২০ দলীয় জোট। বাংলাভাই অবশ্যই খারাপ, কিন্তু আওয়ামী লীগের অস্ত্র আর ক্যাডার সরবরাহকারী এরশাদ শিকদার নিশ্চয়ই ধোয়া তুলসিপাতা নন। নিজেদের গায়ে গ্রেনেড হামলার মল; কিন্তু ২৮ অক্টোবরে আওয়ামী সন্ত্রাসের মুখোশ খুলতে ব্যর্থ বিএনপি। গানপাউডার ছিটিয়ে আগুন, পেট্রলবোমার রেকর্ড এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগেরই সম্পদ। একটা পড়লে ১০টা লাশ চাই, শেখ হাসিনা ঘোষণা দিলেন মানুষ মারার রাজনীতির (ইউটিউব)। ওই তো শুরু। তুলনামূলকভাবে বিএনপির জাতীয়তাবাদ অনেকটাই জিন্নার পোকায় খাওয়া পাকিস্তানের মতো, ধুঁকে ধুঁকে মরছে। এত বছর মতায় থেকেও না জাতীয়তাবাদ, না জাতীয় কবির অস্বস্তি, কোনোটাই প্রতিষ্ঠা করতে পারলো না জাতীয়তাবাদী দল।
এরশাদ গেল কিন্তু মারামারি-কাটাকাটি আগের মতোই। তত্ত্বাবধায়ক সরকার হলেই ওঁম শান্তি! সংসদীয় গণতন্ত্র না এসে যাবেটা কোথায়! জনতার মঞ্চ থেকে লাগাতার হরতাল আর মানুষ খুনের ঘোষণা দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আদায় যেন আরেকটা ৪৬। সংসদ খালি, কয়েক দিন পরপরই হরতাল। রাস্তায় মুখোমুখি গানপাউডার বনাম জলকামান গণতন্ত্র? বুদ্ধিজীবীরা বলেন, ১-১১ এলেই সব ঠিক। তারপর? ৪৭-এর মতো আবারো বিদেশীরাই ঠিক করল, ২০০৮ সালে জিতবে শেখ হাসিনা, হারবে খালেদা জিয়া। মাইনু-ফকরু বললেন- আসেন বসি, ঘোড়া দিয়েছে প্রণববাবু, ঘোড়ায় বসে আলাপ করি। সাউথ ব্লকের প্রেসক্রিপশন পূরণ হলেই ওঁম শান্তি। প্রথম শর্ত, বিডিআর নির্মূল করে সীমান্তের দখল পরিবর্তন। দ্বিতীয় শর্ত, ভারতের স্বাধীনতাকামীদের ঠেকাতে ভবিষ্যতের যেকোনো উৎপাত দমনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী ও ইনডেমনিটি। সাউথ ব্লকের বিরুদ্ধে যেকোনো সংগ্রাম শক্তহাতে দমনের আইন সংশোধনীতে থাকতে হবে। ১৭৫৭ সালের মতো আরেক খায়রুল হককে খুঁজে পেতে এক মুহূর্তও দেরি করল না নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বুদ্ধিজীবীরা। ৩২ নম্বর ট্রাস্টের অর্থগ্রহণ বনাম ১৫তম সংশোধনী পাস, আদালতে অবশ্যই কনফিক্ট অব ইন্টারেস্ট। পলাশির সেনাপতিরা অস্ত্র সমর্পণ করলে সর্বসম্মতিক্রমে আবারো জ্বলে উঠল বাংলাদেশ।
সাতটি মহাদেশে সাত রকমের সমস্যা, বাংলাদেশে একসাথে সব মহাদেশের সব সমস্যা। সিমলা চুক্তি থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি, এখানে নেই এমন কোনো সমস্যা পৃথিবীতে নেই। ৪৭-এর আগে এবং ১-১১-এর পর, বুদ্ধিজীবীদের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি জীবন। বাকশালকে পরাজিত করার মতো অভূতপূর্ব শাসনতন্ত্র প্রসব করল ৫ জানুয়ারি। ১-১১ আনা বুদ্ধিজীবীরা মাথা চুলকায়। সব করলাম ভাই, উকুন গেল না। মনে হয় উকুন না, মাথার মধ্যে শুঁয়োপোকা। চাইলাম গণতন্ত্র, এসে গেল মনমোহন-পুতিনের উন্নতিতন্ত্র। উন্নতি ধুয়ে কি পানি খাবো? ব্রিটিশ-পাকিস্তান সব দেখলাম; কিন্তু এই রকম উন্নতি জীবনেও দেখেছি? দেখেন খবরের কাগজগুলো কী লেখে! শোনেন টকশোতে কী বলে! ১০ বছরে কত মানুষ খুন হলো, ভাবতে পারেন? ভাই! রুয়ান্ডা-বসনিয়া ফেল! ভুল সবই ভুল...। ১৫তম সংশোধনী নাটকের সর্বশেষ পর্ব। যাদের সাথে একাধিকবার সংসদে এবং বিরোধী দলে, সেই জামায়াতের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের মেনুফেস্টোতে তিন নম্বর ডাইরেক্ট অ্যাকশনের ঘোষণা। যারা মেন্ডেলার ইতিহাস পড়েছেন, নিশ্চয়ই জানেন, বর্ণবাদ সমস্যা সমাধানে তার ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা। ঠিক তার উল্টো, দেশটাকে রুয়ান্ডা-বসনিয়া বানানোর জন্য আওয়ামী লীগের এই একটি সিদ্ধান্তই যথেষ্ট। যুদ্ধাপরাধের বিচারকে কেন্দ্র করে মুসলিম লীগ নির্মূলের ধারবাহিকতায় জামায়াত-বিএনপি নির্মূলই লক্ষ্য। কৃতকার্য হলে ২০৪১ পর্যন্ত মতার গ্যারান্টি। সুতরাং নামানো হলো ইমরান সরকারের নামে র-বাহিনী। সুজাতা সিংয়ের আগমনে, গণতন্ত্রের চেহারা হলো ৫ জানুয়ারির মতো। সুজাতার প্রেসক্রিপশন, এরশাদকে সিএমএইচে ঢুকিয়ে নির্বাচনের শক দাও। শক খেয়েই এরশাদ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা। এরই নাম সাউথ ব্লক- এই আচার যে খায়নি, বুঝবে না কত ঝাঁঝ। বুদ্ধিজীবীদের একাংশের স্বপ্নভঙ্গ ছয় দফা, ১১ দফা, ৭১... ভুল? মধ্যরাতের টকশোতে দুই দল বসে ‘অদৃশ্যের’ সাথে যুদ্ধ করে। এই জন্য লাইভ মারামারিও করেন। করের টাকায় তিন মাস পরপর মিলিয়ন ডলারের বকপক্ষিটি উড়ে এসেই ডিজিটাল উন্নতি আর নতুন নতুন সন্ত্রাসের ফর্মূলা ঢুকিয়ে দিয়ে হাওয়া। প্রমাণ হয়েছে, গণ্ডগোল বাধানোই বকপক্ষিটির কাজ। আওয়ামী বুদ্ধিজীবীদের দাবি- গণতন্ত্র হচ্ছে ফিউডালিজমের মতো, ‘রাজা লুই’ যা বলবে, সেটাই আহেলি কিতাব। কম গণতন্ত্র, বেশি উন্নতি; অবশ্যই ভিশন-২০২১ ও ২০৪১ হবে রাশিয়া ও চীনের মতো। যাদের পছন্দ না, নির্মূল করা হবে। এই উপলে যা করার, দেখিয়ে দেবো। দুঃখে অনেকেই লুকিয়ে লুকিয়ে গান করেন, ভুল সবই ভুল...।
ছয় দফা স্বাধীনতা নাকি স্বায়ত্তশাসন প্রশ্নে যত দিন সমঝোতা না হবে তত দিন ৭১ প্রশ্নবিদ্ধ যুদ্ধ রূপে বহাল থাকবে। ইতিহাসে এর স্থায়ী ঠিকানা কখনোই হবে না। কারণ ভারতীয়রা এর নাম দিয়েছে চতুর্থ ইন্দো-পাক যুদ্ধ এবং সব প্রশ্নের উত্তর এখানেই। ৪৭ থেকে ৭১, দুই বাংলা যত দিন দিল্লিমুক্ত না হবে, তত দিন মানবসৃষ্ট দুর্যোগ কাটবে না। দিল্লির সাথে দুই বাংলার দূরত্ব বনাম দুই বাংলার নৈকট্য, দুই হাজার মাইল দূরত্বে দুই পাকিস্তানের মতোই অদৃশ্য অভিশাপ। আওয়ামী লীগ যত দিন থাকবে, ভারতের সাথে ভেজাল পররাষ্ট্রনীতির নাড়িকর্তন অসম্ভব। ভারতের পাকস্থলির মধ্যে আমরা, হজম করে ফেলেছে। ভারতের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, আওয়ামী লীগ মতায় না থাকলে পশ্চিমবঙ্গসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য টুকরা-টুকরা হবে। আওয়ামী লীগের প্রতিশ্রুতি, অখণ্ডতা বজায় রাখতে সব করবে। এই অদৃশ্য শৃঙ্খল যত দিন না আলোচনায় আসবে, জ্বলবে বাংলাদেশ। সুতরাং ২০৪১ সাল পর্যন্ত যতবার নির্বাচন হবে, ভারতের প্রয়োজনে প্রতিবারই জিতবে এরা। ৫ জানুয়ারি সর্বশেষ প্রমাণ। ৪৭, ৭১, ৫ জানুয়ারি ধারবাহিকভাবে কংগ্রেসের কর্ম। এই সত্য যত দ্রুত উপলব্ধি করবে, তত দ্রুত নিভবে আগুন। তাদের দুই প্রেসক্রিপসন- হয় সিকিম, নয় ব্রিটিশ উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে গণজাগরণ জরুরি। বারবার প্রমাণ হয়েছে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে সাউথ ব্লকের ষড়যন্ত্রে গরু, সুপারি আর মতার মোহমুক্তি সম্ভব না। তর্কবিদেরা বলবেন, দিল্লির উপনিবেশবাদের কারণেই রাওয়ালপিন্ডি বিদায়।
বারবার বার্ন ইউনিটের উত্তাপ অনুভবে ব্যর্থ ভিশনারিরা, হ্যামিলনের বংশীবাদকের মতো। এরাই পৃথিবীর বহু দেশে বিএনপি-আওয়ামী লীগ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। এমনকি পাকিস্তানি বা ভারতীয়রা বিদেশের মাটিতে দেশীয় রাজনীতি করে না। ভারতীয়রা সব সময় দেশকে তুলে ধরার কাজে নিয়োজিত, পাকিস্তানিরা সাতে-পাঁচে নেই। একমাত্র বাঙালি কমিউনিটিতেই ঘরে ঘরে বিএনপি-আওয়ামী লীগ, বাংলা পত্রিকার ঢল। সেপ্টেম্বর মাস এলে স্বরূপে বিকশিত হয় কেনেডি এয়ারপোর্টে। খালেদা-হাসিনার ছবি নিয়ে মারামারি শুরু করলে এয়ারপোর্টের পুলিশ মধ্যখানে দাঁড়ায়। বুদ্ধিবৃত্তিতে খরার প্রভাব, দূরদেশেও।
এই দফায় ৫ জানুয়ারির ফ্যাসিজমকে জোর করে গণতন্ত্র বলে চালিয়ে দেয়ার দানবীয় চেষ্টা। এদেরকে সাহায্য করছে প্যারোলে থাকা লাখ লাখ আওয়ামী শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও ছাত্ররূপী সন্ত্রাসীরা। এরাই পরপর নেহেরু, ইন্দিরা এবং প্রণবের পাতা ফাঁদে পা দিয়েছিল। আবারো কংগ্রেসের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে ৫ জানুয়ারি কায়েম করেও বুঝতে অক্ষম। অবাঙালি নয়, বারবার বাঙালি মুসলমানেরাই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে আর সব দোষ খান সাহেবদের? জঙ্গিবাদের সমালোচনা করি; কিন্তু সংসদীয় জঙ্গিবাদ যে কত ভয়ঙ্কর- প্রমাণ বাংলাদেশ।
মহাত্মা, লিয়াকত আলী খান, মুজিব, ইন্দিরার করুণ পরিণতি কাম্য নয়। বেঁচে থাকবে এবং বাঁচতে দেবে। স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি এবং পরিবার নিয়ে শান্তিতে থাকার অধিকার প্রতিটি নাগরিকের জন্মগত। এখানে হাত দিলেই পুড়বে। যারাই অতীত থেকে শিক্ষা না নিয়ে বারবার ডাইরেক্ট অ্যাকশনের ভুল করে, বলছি সাধু সাবধান!
৭৫ বছরের ইতিহাস বলছে, ৪৭-কে কেন্দ্র করে যতগুলো যুদ্ধ এবং দাঙ্গা, একসাথে যোগ করলে মাঝারি আকারের বিশ্বযুদ্ধের সমান। দেশ বিভাগের আগে ও পরের গণহত্যাগুলোর পরিসংখ্যান নেই। কোটি কোটি মানুষের দেশ হারানোর কষ্ট পরোয়া করেন না বুদ্ধিজীবীরা। ইতিহাস সাক্ষী দেয়, অমীমাংসিত দেশ বিভাগের দৃশ্যপট পাল্টে দেয়ার সুযোগ বৃহত্তর বাংলার বুদ্ধিজীবীদের হাতেই ছিল। দিল্লি সব সময় দুই বাংলার রাওয়ালপিন্ডি এবং দুই বাংলা জমজ বোনের মতো। ভারতীয় আগ্রাসনের গভীরতা কখনোই বুঝতে চান না বুদ্ধিজীবীরা। দিল্লির গরু, সুপারি আর মতার ষড়যন্ত্রমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত জ্বলবে বাংলাদেশ।
ভুলের কিছুটা নমুনা। লাহোর প্রস্তাব ভালো কিন্তু মুসলিম লীগ খারাপ। ডাইরেক্ট অ্যাকশন ভালো, কিন্তু পাকিস্তান খারাপ। মুসলিম লীগ খারাপ, কিন্তু পাকিস্তান ভালো। জিন্না খারাপ, কিন্তু কেবিনেট মিটিং ভালো। ভাষা আন্দোলন ভালো, কিন্তু লাহোর প্রস্তাব ভালো না। যুক্তফ্রন্ট, মুসলিম লীগ কোনোটাই ভালো না বরং ছয় দফাই সব। সমাধান দেয়নি কাগমারি সম্মেলন, এনডিএফ চাই। গোলটেবিল ভালো, কিন্তু বেসিক ডেমোক্র্যাসি খারাপ? এরই ধারাবাহিকতায় একদলীয় ও বহুদলীয় গণতন্ত্র, বাংলাদেশের শরীরে জমজ সন্তানের মতো মাথা থেকে পা পর্যন্ত জোড়া। দিল্লি না রাওয়ালপিন্ডি, একবারো সঠিক সিদ্ধান্ত নেননি বুদ্ধিজীবীরা।
লাহোর প্রস্তাবের ৭৫ বছর পর, যে পর্যন্ত না ৪৭, ৭১ ও ৫ জানুয়ারির মীমাংসা হবে, তত দিন পর্যন্ত জেরুসালেম আর কাশ্মিরের মতো অমীমাংসিতই থাকবে বাংলাদেশ। এক একর জমি লালনপালনে পরিকল্পনা লাগে, ৫৬ হাজার বর্গমাইলের জন্য লাগে না? ’৭৪-এর মতো আবারো কতকাল র্যাব-পুলিশ দিয়ে জনজীবন চালাতে চায় আওয়ামী লীগ? বন্দুকের নল উত্তর হলে, আইয়ুব-এরশাদের দোষটা কোথায়? দেশ বিভাগের পর থেকে এদের নেতৃত্বে যুদ্ধ-দাঙ্গা অনেকটাই রুয়ান্ডা-বসনিয়ার মতো। একমাত্র পাগল আর শিশুই বলবে না, লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে নেই বাংলাদেশ।
যারা নিজেকে অস্বীকার করে, তারা কাউকেই স্বীকার করে না। তখন তাদের কাজ অন্যের দোষ খোঁজা। ধরে নিতে পারি, ইংরেজ উপনিবেশের নর্দমাগুলো ৫৬ হাজার বর্গমাইলেই শেষ করেছিল কংগ্রেস। সেই নর্দমার বিষেই বুদ্ধিজগতে ধস। এর ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়েছিল দেশ বিভাগে।
বারবার ভুল করা বুদ্ধিজীবীদের কাছে প্রশ্ন- এখন সমস্যা কোনটা? ৫ জানুয়ারিতে অবৈধ নির্বাচন করে ক্ষমতায় যায়নি ২০ দলীয় জোট। ৫ জানুয়ারির আগে বহু মানুষ পুড়ে মরার পর বার্ন ইউনিটের যেন পুনরাবৃত্তি না হয়, সেই জাদুরকাঠি যার হাতে, তিনি কি তার দায়িত্ব পালন করেছেন? নিরপেক্ষ নির্বাচন না দিয়ে বরং বারবার বার্ন ইউনিটে যাওয়া জর্জ বুশের মিশন কমপ্লিটের মতো দুরভিসন্ধিমূলক। পশু না, আমরা মানুষ। ৪৭ ও ৭১ পারেনি, এবার ৫ জানুয়ারির জবাব প্রতিটি বাঙালি মুসলমান বুদ্ধিজীবীকে অবশ্যই দিতে হবে। প্রমাণসাপেক্ষে নির্বাচনজনিত গণহত্যারও বিচার হবে। ১৬ ডিসেম্বরের পর পাকিস্তান বিদায়, ৪৭ সাল থেকে ৭৪ পর্যন্ত একবারো সৈন্য নামাতে হয়নি ভারতে। আমাদের ইতিহাস কী বলে? প্রধান সমস্যা হলো, বুদ্ধিজীবীদের বুদ্ধিবৃত্তিতে ধস। ভোটের অধিকার ছিনতাইকারীদের কার্যালয় ঘেরাও না করে, করছে উল্টোটা।
যুদ্ধ-দাঙ্গায় যাদেরকে মরতে হয় তারা ভাগ্যবান। কিন্তু যারা বেঁচে যায় আমৃত্যু ওই স্মৃতি বহন করে। তাদের জীবন কখনোই স্বাভাবিক হয় না। দেশ বিভাগের পর জন্ম নেয়া আমিও তাদেরই একজন। জীবনের প্রথম অর্ধেক কাটল হিন্দু-মুসলমানের যুদ্ধ-দাঙ্গা আর দেশ ত্যাগের ধারাবাহিকতা দেখে। প্রথম নষ্ট অভিজ্ঞতা, ১৯৬৪-এর দাঙ্গা। বাবার মুখে শুনেছি, প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবসকে কেন্দ্র করে কলকাতা-নোয়াখালীতে ভয়ানক দাঙ্গা। ৫০-এ ক্ষতিগ্রস্ত আমার পরিবারও। পরপর ১৯৪৭, ৪৮, ৫০... লাগাতার মারদাঙ্গায় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানবসৃষ্ট দুর্ভোগের কারণ আলোচনায় না থাকলে আজকের সমস্যার সমাধান হবে না। একসাথে স্বাধীন হয়েও কোথায় চলে গেল ভারত! ভোটের ১৫ দিন পর্যন্ত বাক্সগুলো নির্বাচন কমিশনের জিম্মায় থাকে। ৬৭ বছরে এই কথা কি একবারো বলতে পেরেছি? বুদ্ধির গভীরতা এতটাই নিম্নমানের, প্রতিবারই যা চায়, কড়ায়-গণ্ডায় পায়; কিন্তু প্রতিবারই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করে।
৯৬ শতাংশ ভোট দিয়ে এরাই আনল পাকিস্তান, ওই রাতেই সিদ্ধান্ত পাকিস্তান ভালো না। ধর্মভিত্তিক দেশ বিভাগ ছাড়া মানবেই না, ৭২-এ পৌঁছে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি আর বিষ্ঠা এক সমান। এই রাজনীতির পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে জিয়াউর রহমান হলেন মুক্তিযুদ্ধের কলঙ্ক; কিন্তু ধর্মকে সংবিধানের অংশ করা এরশাদ হলেন সবচেয়ে ভালো। ৮৬-তে এরশাদ খারাপ, কিন্তু জামায়াত ভালো। ৯৬-তে এরশাদ ও জামায়াত দুইই ভালো। বুদ্ধিজীবীরা কী চান, জানেন তো? ৪৭ সালে সৃষ্ট বাংলা-পাঞ্জাবের শরীরে ছুরি চালিয়ে দুই ব্যাগ ভর্তি অদ্ভুত পাকিস্তান, ইতিহাসের নিকৃষ্ট কলঙ্ক। দুই হাজার মাইল দূরত্বে মাথা আর পা, মধ্যখানে কাশ্মিরের ক্যানসার নিয়ে রামরাজত্ব ভারতের। এই দৃষ্টান্ত পৃথিবীর কোথাও নেই।
পৃথিবীর আর কোথাও এত অল্প সময়ে এতগুলো যুদ্ধ, দাঙ্গা আর দেশত্যাগের ঘটনা ঘটেনি। দুইবার দেশ কর্তনও হয়নি। তখন দাবি ৯ + ৫ = ১০। আমার কথা, ডাইরেক্ট অ্যাকশন সবচেয়ে বড় ভুল। ওদের চোখে ডাইরেক্ট অ্যাকশনই একমাত্র পথ। লাহোর প্রস্তাবের বিকল্প অবশ্যই ছিল। বিধানসভা পরপর দুই দফা তাদের দখলেই। দিল্লির কেবিনেট মিটিংয়েই কংগ্রেসের উদ্দেশ্য পরিষ্কার। ইতিহাস বলে, অস্পৃশ্যদের মতো বাঙালি মুসলমানদেরকেও দীর্ঘ সময় বঞ্চিত রেখেছিল কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা। ফলে বুদ্ধি প্রয়োগে নেতিবাচক প্রভাব অবশ্যই পড়েছিল ভারত ভাগের সময়। ইতিহাসের এই অধ্যায়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাঁটি হাঁটি পা পা করে দুই দফা বিধানসভার মতা পাওয়ার মতো অসম্ভব সম্ভব করলেও, আসল অঙ্কে ভুল করলেন বুদ্ধিজীবীরা। অর্থাৎ ৬৭ বছর যা ঘটছে, অতীতের বুদ্ধিহীনতার প্রতিচ্ছবি।
যে মুহূর্তে কনফেডারেশন সরকারের দাবি বাতিল হলো, বৃহত্তর বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর তখনই সুযোগ ছিল প্রত্যক্ষ সংগ্রাম না করে পুরনো দাবিতে ফেরা। প্রয়োজনে দুই-চার বছর অপেক্ষা করলে ক্ষতি ছিল না। সে রকম হলে ইংরেজরা যেনতেন ও অসম দেশ বিভাগ চাপিয়ে দিতে পারত না। কাশ্মির কিংবা ছিটমহলেরও প্রশ্ন উঠত না। একই অস্থিরতার পুনরাবৃত্তি ৭১-এ। এখনই এই মুহূর্তে সব সমস্যার সমাধান চাই। মাত্র ৯ মাসে স্বাধীনতা পৃথিবীতে একটাই। এরপর রাওয়ালপিন্ডিকে সরিয়ে সাউথ ব্লকের কবলে। সারা পৃথিবীতেই মুসলমান, তার মানে এই নয়, সব দেশেই মুসলমানদের জন্য আলাদা-আলাদা দেশ বানাতে হবে। ভুলগুলো যত দিন না আলোচনায় আসবে, তত দিন পর্যন্ত আজকের সমস্যার গোড়া খুঁজে পাবে না।
পাকিস্তানি আর বাঙালিদের ভাষা-সংস্কৃতি যে ভিন্ন, তারা জানতেন। তখনই সাবধান হলে ৬৭ বছর ধরে যা হচ্ছে, হতো না। বাংলা ভাগ হলেও অল্পসংখ্যক মুসলমান ভারত ছেড়েছে, এপার বাংলার হিন্দুদের সংখ্যা ৩৮ থেকে কমে ৮ ভাগের প্রধান কারণ, বারবার যুদ্ধ-দাঙ্গায় অনিরাপত্তাবোধ। সত্য যে, ভারত ভাগের পক্ষে ৯৬ ভাগ ভোট বাঙালিদের আর ৪৯ ভাগ অবাঙালিদের। আমার অভিজ্ঞতায়, এদের রাজনীতির প্রধান পুঁজি লাঠি বনাম ভারতীয়দের বুদ্ধির সুব্যবহার। আজকের সঙ্কটের সূত্র ধামাচাপা দিলে আরো যুদ্ধ, আরো দাঙ্গা হবে। অন্যথায় ৪৭-এর মাত্র ২৪ বছর পর আরেকটা যুদ্ধ করতে হতো না।
ডাইরেক্ট অ্যাকশনের কারণেই রেডক্লিফেকে জরুরিভিত্তিতে তলব করে সৃষ্টি করা হলো অদ্ভুত দু’টি দেশ, যার শরীরটা মধ্যখানে আর মাথা ও পা দুই হাজার মাইল দূরত্বে। বাংলা-পাঞ্জাবকে শ্মশান করা দেশ বিভাগের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বহু বছর গবেষণা ও বিতর্ক চলতে পারে। কয়েক দিনে খুন হলো প্রায় ১৫ লাখ, রিফিউজি আরো লাখ লাখ, জন্ম থেকেই জ্বলছে সবগুলো দেশ। কাশ্মিরসহ ভারতের অনেক অঙ্গরাজ্যের অবস্থা ৭১-এর মতো। আমাদের রসদ জোগানো ভারতের ৭১ ঠেকানোর দায়িত্ব, সর্বদাই আওয়ামী লীগের ঘাড়ে। এই উপলে উভয় পরে সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র এবং এটাই বাংলাদেশের এক নম্বর সমস্যা।
মধ্যরাতেই কলকাতায় বুদ্ধিজীবীদের বৈঠক, হায় হায়! পকিস্তান ভালো না, আলাদা হতে হবে। আমার প্রশ্ন- ডাইরেক্ট অ্যাকশনের আগে ছিলেন কোথায়? যুদ্ধ, খুনাখুনি ও দাঙ্গায় কেটে গেলো ৪৭, ৪৮, ৫০, ৬২, ৬৪, ৬৫, ৭১...। ৯৬ শতাংশ ভোট দিয়ে পাকিস্তান আনল, কিন্তু পাকিস্তান ভালো না। ভাঙো ১৪৪ ধারা, পেটাও জিন্নাকে। রাতারাতি ইতিহাস গড়ল ভাষা আন্দোলন। তারপর? এবার যুক্তফ্রন্ট করে দেখিয়ে দিতে হবে। যুক্তফ্রন্ট হলো, তারপর? দেশ বিভাগ করা বুদ্ধিজীবীদের মারামারি-কাটাকাটি বাড়ল দেড়শ’ দ্বিগুণ। একজন আরেকজনের মুখ দেখে না। একজন আরেকজনের ভোটকেন্দ্রে ডাকাতি করতে এক ডজন জাহাজ নিয়ে হাজির হয়। আনল পাকিস্তান আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগ, ন্যাপ... কাগমারি সম্মেলনেই স্বায়ত্তশাসন কায়েমের অবস্থা সৃষ্টি করলে আইয়ুব খানের আগমন। যুক্তফ্রন্ট ফেল, তারপর? হুজুর ভাসানী নাম দিলেন নাথিং ডুইং ফ্রন্ট, অর্থাৎ এনডিএফ। সেটাও যথাসময়ে ফেল। আইয়ুব খানের স্বৈরগণতন্ত্রের বেসিক ডেমোক্র্যসির সাথে যোগ দিলেন মোনায়েম খান ও সবুর খানের মতো বড় বড় শিংওয়ালা বুদ্ধিজীবীরা। ওটাই স্বৈরগণতন্ত্রের প্রসব। সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুতে মুজিবের প্রত্যাশিত চন্দ্রগ্রহণ কাটল। মরেনি মুসলিম লীগ, তাই ছয় দফাকে কেন্দ্র করে আবারো দ্বিখণ্ডিত। এক ভাগ চায় পাকিস্তান, অন্য ভাগ বাংলাদেশ। ধর্মভিত্তিক নয়, বরং এবার নিজেদের মধ্যেই দুই নম্বর ডাইরেক্ট অ্যাকশন।
সীমান্তের কাছে হওয়ায়, ৬৪-এর ভয়াবহ দাঙ্গা দিয়ে আমার ক্ষতবিক্ষত স্মৃতির ভাণ্ডারে প্রথম নষ্ট অভিজ্ঞতার শুরু। আসাম থেকে মুসলমানের ঢল আর গভীর রাতে এপার থেকে হাজার হাজার হিন্দু দেশ ছাড়ে। ৫০-এরপর ৬০-এর দশকে আবারো পাল্টে যেতে থাকল শহরের চেহারা, সাইনবোর্ড, শিক্ষাঙ্গন ইত্যাদি। কৈশোরের লণ্ডভণ্ড অভিজ্ঞতা। ৪৮-এর পর কাশ্মিরকে কেন্দ্র করে আবারো ৬৫-এর যুদ্ধে ভয়ানক সাম্প্রদায়িক অসম্প্রীতিতে মুখোমুখি দুই প। যুদ্ধ হয় দুই পাকিস্তানে, বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এপারের হিন্দুরা (ওপারের ক্ষতিগ্রস্তরা তুলনামূলক কম)। ৬৫-কে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হলো ঐতিহাসিক শত্রুসম্পত্তি, যার পরিমাণ পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত এক নম্বর। পাকিস্তান আনল, কিন্তু ছয় দফার দাবিতে ফের দেশ অচল। এবার কংগ্রেস নেই; বরং বাঙালি বনাম বাংলাদেশী জাতিয়তাবাদের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে আরেকটা হলোকস্ট।
৬০-এর দশকে লাগাতার আন্দোলন, মিছিল-মিটিংই যেন জীবন। একবার ছয় দফা আবার ১১ দফা। স্বায়ত্তশাসন বনাম স্বাধীনতার মধ্যে তালগোল পাকিয়ে ফেলা। দম নেয়ার ফুরসত নেই। দেশ বিভাগের ২৪ বছর পর, ৭১-এ আবারো বিশ্বকাপ জিতল; কিন্তু সেটাও অনেকেরই পছন্দ নয়। কাশ্মির নই, কিন্তু কম কিসে?
৪৭-এর মতোই ৭১ এসেছিল বহু অমীমাংসিত প্রশ্ন নিয়ে। রাওয়ালপিন্ডিকে সরিয়ে এবার দিল্লি। স্বাধীন হওয়ামাত্র রক্ষীবাহিনী, বাকশাল, র, কম্বলচোরদের জয়জয়কার। সকালে রাষ্ট্রপতি, দুপুরে প্রধানমন্ত্রী, বিকেলে আবার রাষ্ট্রপতি- কোনটা চান মুজিব নিজেও জানেন না; কিন্তু মানুষের কী হবে, সেটা ভাবনা নয়। নব্য দখলদার, কালোবাজারারি আর রক্ষীবাহিনীর মিশনে অতিষ্ঠ জীবন। সিরাজ শিকদার হত্যা মুজিবতন্ত্রের অন্যতম চমক। ৭৩ সালে তিন টাকা সের চিনি, ৭৪ সালে ৩৩ টাকা। এক দিকে দুর্ভি, অন্য দিকে ফুলের মালা আর মানপত্র নিয়ে ব্যস্ত মুজিব। টাইম ম্যাগাজিনে জালপরা বাসন্তীর ছবি নিয়ে হইচই। যুদ্ধ ফেরত উচ্ছৃঙ্খল বাহিনীগুলোর খুনাখুনিতে ভয়ঙ্কর অবস্থা আমার স্মৃতির ভাণ্ডারে অন্যতম নষ্ট অভিজ্ঞতা। কে অস্বীকার করবে সাড়ে তিন বছরের দুঃশাসন? আমার অভিজ্ঞতায় বাঙালি বুদ্ধিজীবীরা সর্বদা ১০ নম্বর মহাবিপদ সঙ্কেতের মতো। রুয়ান্ডা ও বসনিয়ার কথা বলি, কিন্তু আমাদের বেলায় কোনটা কম!
৭২ থেকে ৭৫-এর জবাব দিতে চলে গেল ৯০। বর্তমান দুর্ভোগের জন্য দায়ী ছয় দফা বনাম স্বায়ত্তশাসনের মধ্যে আজ পর্যন্ত মীমাংসা না করা। রাজাকার বনাম মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা স্পষ্ট না করা। তর্কবিদেরা বলবেন, বঙ্গবীর রাজাকার হলে গোলাম আযম মুক্তিযোদ্ধা! ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের রমরমা সার্টিফিকেটবাণিজ্য তাই আওয়ামী বুদ্ধিজীবীদের মতে এ কে খন্দকার একটা রাজাকার। পাঠ্যপুস্তক থেকে ভাসানী, জেনারেল ওসমানী ও বঙ্গতাজের মতো গর্বিত সন্তানেরা উধাও? ইনডেমনিটি দিয়ে স্বাধীনতার ঘোষক সাব্যস্ত করতে হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কারো পৈত্রিক সম্পত্তি। ‘জয়বাংলা’ বনাম ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদের’ যুদ্ধ হেঁটে হেঁটে আসেনি। হুটু-টুটসিদের মতো নিজেরাই খুনাখুনি, আর সব দোষ ৭৫-এর? ভেবেছিল ৯০ পার হলেই বাংলাদেশ এমন গণতন্ত্র পাবে, ব্রিটেনের সংসদীয় গণতন্ত্র পর্যন্ত লজ্জা পাবে। দুই মহিলার নেতৃত্বে এরশাদের অবস্থা খান সাহেবদের মতো ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি। বিদেশী দূতদের জানা উচিত, সংলাপ কত সহজলভ্য, ৯০-এ প্রমাণ করেছেন দুই নেত্রী। এরশাদকে টেনে নামানোর জন্য দুই নেত্রীর ডাইরেক্ট অ্যাকশনের ঘটনা কে না জানে! ৯১ সাল থেকে স্বাধীনতার ঘোষক প্রশ্নে দুই-সতীনের চুলাচুলির শুরু। বুদ্ধিজীবীরা বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্র হলো, কিন্তু ৯২ সালে এসব কী? বাবরি মসজিদ ভাঙ্গল ওই পারে আর গণহত্যা এই পারে? পাকিস্তানের চেয়ে দীর্ঘ সামরিক শাসন আর স্বৈরগণতন্ত্রের চেহারা দেখে বুদ্ধিজীবীরা গান গায়- ভুল সবই ভুল, এই জীবনের পাতায় পাতায় যা লেখা সবই ভুল...।
৮৬ থেকে যা পেলাম। জামায়াত বহুদলীয় গণতন্ত্র, কিন্তু এরশাদ মহাস্বৈরাচার। একবার জামায়াত সন্ত্রাস, পরেরবার এরশাদ। বহুদলীয় গণতন্ত্র ভালো, কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান একটা খাঁটি রাজাকার। ক্ষমতার প্রশ্নে জামায়াত আর জাতীয় পার্টি- দুই নেত্রীর চোখে দুই কোহিনূর। এক দল ধরে, অন্য দল ছাড়ে। ক্ষমতার প্রয়োজন হলেই একজনকে পাঠায় ফাঁসির মঞ্চে, আরেকজনকে নামায়। ফাঁসির সুইচ অন-অফ খেলা, দুই নেত্রীর ক্ষমতায় যাওয়ার কৌশল। তার পরেও ৫ জানুয়ারি নিয়ে বুদ্ধিজীবীদের বক্তব্য কী প্রমাণ করে?
ছয় দফা যে স্বায়ত্তশাসন বা স্বাধীনতা কোনোটাই নয়, উত্তর- ৯১ থেকে ২০১৫-এর অদ্ভুত গণতন্ত্র যেখানে সংসদ মানেই বিরোধী দল রাস্তায়। দুই দফায় ৩০৩ দিন আওয়ামী হরতালের বিশ্বরেকর্ড এখন পর্যন্ত ভাঙতে পারেনি বিএনপি। জনতার মঞ্চ বানিয়ে প্রত্য সংগ্রাম দিবসের রক্তারক্তির রেকর্ডও ভাঙতে পারেনি ২০ দলীয় জোট। বাংলাভাই অবশ্যই খারাপ, কিন্তু আওয়ামী লীগের অস্ত্র আর ক্যাডার সরবরাহকারী এরশাদ শিকদার নিশ্চয়ই ধোয়া তুলসিপাতা নন। নিজেদের গায়ে গ্রেনেড হামলার মল; কিন্তু ২৮ অক্টোবরে আওয়ামী সন্ত্রাসের মুখোশ খুলতে ব্যর্থ বিএনপি। গানপাউডার ছিটিয়ে আগুন, পেট্রলবোমার রেকর্ড এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগেরই সম্পদ। একটা পড়লে ১০টা লাশ চাই, শেখ হাসিনা ঘোষণা দিলেন মানুষ মারার রাজনীতির (ইউটিউব)। ওই তো শুরু। তুলনামূলকভাবে বিএনপির জাতীয়তাবাদ অনেকটাই জিন্নার পোকায় খাওয়া পাকিস্তানের মতো, ধুঁকে ধুঁকে মরছে। এত বছর মতায় থেকেও না জাতীয়তাবাদ, না জাতীয় কবির অস্বস্তি, কোনোটাই প্রতিষ্ঠা করতে পারলো না জাতীয়তাবাদী দল।
এরশাদ গেল কিন্তু মারামারি-কাটাকাটি আগের মতোই। তত্ত্বাবধায়ক সরকার হলেই ওঁম শান্তি! সংসদীয় গণতন্ত্র না এসে যাবেটা কোথায়! জনতার মঞ্চ থেকে লাগাতার হরতাল আর মানুষ খুনের ঘোষণা দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আদায় যেন আরেকটা ৪৬। সংসদ খালি, কয়েক দিন পরপরই হরতাল। রাস্তায় মুখোমুখি গানপাউডার বনাম জলকামান গণতন্ত্র? বুদ্ধিজীবীরা বলেন, ১-১১ এলেই সব ঠিক। তারপর? ৪৭-এর মতো আবারো বিদেশীরাই ঠিক করল, ২০০৮ সালে জিতবে শেখ হাসিনা, হারবে খালেদা জিয়া। মাইনু-ফকরু বললেন- আসেন বসি, ঘোড়া দিয়েছে প্রণববাবু, ঘোড়ায় বসে আলাপ করি। সাউথ ব্লকের প্রেসক্রিপশন পূরণ হলেই ওঁম শান্তি। প্রথম শর্ত, বিডিআর নির্মূল করে সীমান্তের দখল পরিবর্তন। দ্বিতীয় শর্ত, ভারতের স্বাধীনতাকামীদের ঠেকাতে ভবিষ্যতের যেকোনো উৎপাত দমনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী ও ইনডেমনিটি। সাউথ ব্লকের বিরুদ্ধে যেকোনো সংগ্রাম শক্তহাতে দমনের আইন সংশোধনীতে থাকতে হবে। ১৭৫৭ সালের মতো আরেক খায়রুল হককে খুঁজে পেতে এক মুহূর্তও দেরি করল না নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বুদ্ধিজীবীরা। ৩২ নম্বর ট্রাস্টের অর্থগ্রহণ বনাম ১৫তম সংশোধনী পাস, আদালতে অবশ্যই কনফিক্ট অব ইন্টারেস্ট। পলাশির সেনাপতিরা অস্ত্র সমর্পণ করলে সর্বসম্মতিক্রমে আবারো জ্বলে উঠল বাংলাদেশ।
সাতটি মহাদেশে সাত রকমের সমস্যা, বাংলাদেশে একসাথে সব মহাদেশের সব সমস্যা। সিমলা চুক্তি থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি, এখানে নেই এমন কোনো সমস্যা পৃথিবীতে নেই। ৪৭-এর আগে এবং ১-১১-এর পর, বুদ্ধিজীবীদের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি জীবন। বাকশালকে পরাজিত করার মতো অভূতপূর্ব শাসনতন্ত্র প্রসব করল ৫ জানুয়ারি। ১-১১ আনা বুদ্ধিজীবীরা মাথা চুলকায়। সব করলাম ভাই, উকুন গেল না। মনে হয় উকুন না, মাথার মধ্যে শুঁয়োপোকা। চাইলাম গণতন্ত্র, এসে গেল মনমোহন-পুতিনের উন্নতিতন্ত্র। উন্নতি ধুয়ে কি পানি খাবো? ব্রিটিশ-পাকিস্তান সব দেখলাম; কিন্তু এই রকম উন্নতি জীবনেও দেখেছি? দেখেন খবরের কাগজগুলো কী লেখে! শোনেন টকশোতে কী বলে! ১০ বছরে কত মানুষ খুন হলো, ভাবতে পারেন? ভাই! রুয়ান্ডা-বসনিয়া ফেল! ভুল সবই ভুল...। ১৫তম সংশোধনী নাটকের সর্বশেষ পর্ব। যাদের সাথে একাধিকবার সংসদে এবং বিরোধী দলে, সেই জামায়াতের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের মেনুফেস্টোতে তিন নম্বর ডাইরেক্ট অ্যাকশনের ঘোষণা। যারা মেন্ডেলার ইতিহাস পড়েছেন, নিশ্চয়ই জানেন, বর্ণবাদ সমস্যা সমাধানে তার ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা। ঠিক তার উল্টো, দেশটাকে রুয়ান্ডা-বসনিয়া বানানোর জন্য আওয়ামী লীগের এই একটি সিদ্ধান্তই যথেষ্ট। যুদ্ধাপরাধের বিচারকে কেন্দ্র করে মুসলিম লীগ নির্মূলের ধারবাহিকতায় জামায়াত-বিএনপি নির্মূলই লক্ষ্য। কৃতকার্য হলে ২০৪১ পর্যন্ত মতার গ্যারান্টি। সুতরাং নামানো হলো ইমরান সরকারের নামে র-বাহিনী। সুজাতা সিংয়ের আগমনে, গণতন্ত্রের চেহারা হলো ৫ জানুয়ারির মতো। সুজাতার প্রেসক্রিপশন, এরশাদকে সিএমএইচে ঢুকিয়ে নির্বাচনের শক দাও। শক খেয়েই এরশাদ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা। এরই নাম সাউথ ব্লক- এই আচার যে খায়নি, বুঝবে না কত ঝাঁঝ। বুদ্ধিজীবীদের একাংশের স্বপ্নভঙ্গ ছয় দফা, ১১ দফা, ৭১... ভুল? মধ্যরাতের টকশোতে দুই দল বসে ‘অদৃশ্যের’ সাথে যুদ্ধ করে। এই জন্য লাইভ মারামারিও করেন। করের টাকায় তিন মাস পরপর মিলিয়ন ডলারের বকপক্ষিটি উড়ে এসেই ডিজিটাল উন্নতি আর নতুন নতুন সন্ত্রাসের ফর্মূলা ঢুকিয়ে দিয়ে হাওয়া। প্রমাণ হয়েছে, গণ্ডগোল বাধানোই বকপক্ষিটির কাজ। আওয়ামী বুদ্ধিজীবীদের দাবি- গণতন্ত্র হচ্ছে ফিউডালিজমের মতো, ‘রাজা লুই’ যা বলবে, সেটাই আহেলি কিতাব। কম গণতন্ত্র, বেশি উন্নতি; অবশ্যই ভিশন-২০২১ ও ২০৪১ হবে রাশিয়া ও চীনের মতো। যাদের পছন্দ না, নির্মূল করা হবে। এই উপলে যা করার, দেখিয়ে দেবো। দুঃখে অনেকেই লুকিয়ে লুকিয়ে গান করেন, ভুল সবই ভুল...।
ছয় দফা স্বাধীনতা নাকি স্বায়ত্তশাসন প্রশ্নে যত দিন সমঝোতা না হবে তত দিন ৭১ প্রশ্নবিদ্ধ যুদ্ধ রূপে বহাল থাকবে। ইতিহাসে এর স্থায়ী ঠিকানা কখনোই হবে না। কারণ ভারতীয়রা এর নাম দিয়েছে চতুর্থ ইন্দো-পাক যুদ্ধ এবং সব প্রশ্নের উত্তর এখানেই। ৪৭ থেকে ৭১, দুই বাংলা যত দিন দিল্লিমুক্ত না হবে, তত দিন মানবসৃষ্ট দুর্যোগ কাটবে না। দিল্লির সাথে দুই বাংলার দূরত্ব বনাম দুই বাংলার নৈকট্য, দুই হাজার মাইল দূরত্বে দুই পাকিস্তানের মতোই অদৃশ্য অভিশাপ। আওয়ামী লীগ যত দিন থাকবে, ভারতের সাথে ভেজাল পররাষ্ট্রনীতির নাড়িকর্তন অসম্ভব। ভারতের পাকস্থলির মধ্যে আমরা, হজম করে ফেলেছে। ভারতের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, আওয়ামী লীগ মতায় না থাকলে পশ্চিমবঙ্গসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য টুকরা-টুকরা হবে। আওয়ামী লীগের প্রতিশ্রুতি, অখণ্ডতা বজায় রাখতে সব করবে। এই অদৃশ্য শৃঙ্খল যত দিন না আলোচনায় আসবে, জ্বলবে বাংলাদেশ। সুতরাং ২০৪১ সাল পর্যন্ত যতবার নির্বাচন হবে, ভারতের প্রয়োজনে প্রতিবারই জিতবে এরা। ৫ জানুয়ারি সর্বশেষ প্রমাণ। ৪৭, ৭১, ৫ জানুয়ারি ধারবাহিকভাবে কংগ্রেসের কর্ম। এই সত্য যত দ্রুত উপলব্ধি করবে, তত দ্রুত নিভবে আগুন। তাদের দুই প্রেসক্রিপসন- হয় সিকিম, নয় ব্রিটিশ উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে গণজাগরণ জরুরি। বারবার প্রমাণ হয়েছে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে সাউথ ব্লকের ষড়যন্ত্রে গরু, সুপারি আর মতার মোহমুক্তি সম্ভব না। তর্কবিদেরা বলবেন, দিল্লির উপনিবেশবাদের কারণেই রাওয়ালপিন্ডি বিদায়।
বারবার বার্ন ইউনিটের উত্তাপ অনুভবে ব্যর্থ ভিশনারিরা, হ্যামিলনের বংশীবাদকের মতো। এরাই পৃথিবীর বহু দেশে বিএনপি-আওয়ামী লীগ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। এমনকি পাকিস্তানি বা ভারতীয়রা বিদেশের মাটিতে দেশীয় রাজনীতি করে না। ভারতীয়রা সব সময় দেশকে তুলে ধরার কাজে নিয়োজিত, পাকিস্তানিরা সাতে-পাঁচে নেই। একমাত্র বাঙালি কমিউনিটিতেই ঘরে ঘরে বিএনপি-আওয়ামী লীগ, বাংলা পত্রিকার ঢল। সেপ্টেম্বর মাস এলে স্বরূপে বিকশিত হয় কেনেডি এয়ারপোর্টে। খালেদা-হাসিনার ছবি নিয়ে মারামারি শুরু করলে এয়ারপোর্টের পুলিশ মধ্যখানে দাঁড়ায়। বুদ্ধিবৃত্তিতে খরার প্রভাব, দূরদেশেও।
এই দফায় ৫ জানুয়ারির ফ্যাসিজমকে জোর করে গণতন্ত্র বলে চালিয়ে দেয়ার দানবীয় চেষ্টা। এদেরকে সাহায্য করছে প্যারোলে থাকা লাখ লাখ আওয়ামী শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও ছাত্ররূপী সন্ত্রাসীরা। এরাই পরপর নেহেরু, ইন্দিরা এবং প্রণবের পাতা ফাঁদে পা দিয়েছিল। আবারো কংগ্রেসের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে ৫ জানুয়ারি কায়েম করেও বুঝতে অক্ষম। অবাঙালি নয়, বারবার বাঙালি মুসলমানেরাই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে আর সব দোষ খান সাহেবদের? জঙ্গিবাদের সমালোচনা করি; কিন্তু সংসদীয় জঙ্গিবাদ যে কত ভয়ঙ্কর- প্রমাণ বাংলাদেশ।
মহাত্মা, লিয়াকত আলী খান, মুজিব, ইন্দিরার করুণ পরিণতি কাম্য নয়। বেঁচে থাকবে এবং বাঁচতে দেবে। স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি এবং পরিবার নিয়ে শান্তিতে থাকার অধিকার প্রতিটি নাগরিকের জন্মগত। এখানে হাত দিলেই পুড়বে। যারাই অতীত থেকে শিক্ষা না নিয়ে বারবার ডাইরেক্ট অ্যাকশনের ভুল করে, বলছি সাধু সাবধান!
মিনা ফারাহ : নিউইয়ক প্রবাসী লেখক
ইমেইল : farahmina@gmail.com
ওয়েবসাইট : www.minafarah.co
ইমেইল : farahmina@gmail.com
ওয়েবসাইট : www.minafarah.co
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
March
(1092)
-
▼
Mar 04
(38)
- খালেদার গ্রেপ্তারে সঙ্কট বাড়বে
- শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই মুক্তির একমাত্র পথ -এমাজউদ্দীন
- ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ১০ বছর স্থগিত রাখতে হবে : ও...
- সোয়াইন ফ্লু
- সুব্রামানিয়াম জয়শংকরের সফর
- সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য -১৬৬ by ড. একেএম শাহনাওয়াজ
- খালেদা জিয়ার আত্মসমর্পণ ও গ্রেপ্তার নিয়ে ধোঁয়াশা-...
- তিস্তা নিয়ে মোদীকে চিঠি দিলেন মমতা
- এক বছরেই মোদি-হাওয়া পাল্টাচ্ছে by মাসুমুর রহমান খলিলী
- বাংলাদেশ ইন্ডিয়ার জন্যে একটি অগ্নি পরীক্ষা by মিনা...
- সুবচন যখন নির্বাসনে, রাজনীতি তখন... by ড. মাহবুব উ...
- তালগোল by মাহবুব তালুকদার
- ভরদুপুরে মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে by সৈয়দ আবুল মকসুদ
- 'মরু সাহারা' হওয়ার পথে ভারত!
- গণমাধ্যমের ওপর অশুভ ছায়া by সৈয়দ আবদাল আহমদ
- ভয়ের সংস্কৃতি বনাম মানবাধিকার সংস্কৃতি by সুলতানা ...
- গ্যাস-সমস্যায় জর্জরিত পুতিন by পল আর গ্রেগরি
- ভারত-চীন সম্পর্ক ও দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি by তারেক ...
- বৃহৎ অর্থে জাতীয় সংলাপ প্রয়োজন by অধ্যাপক মেসবাহ ক...
- আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিই দুষ্কৃতকারীদের বেপরো...
- আত্মসঙ্কটে বাঙালি বুদ্ধিজীবীরা by মিনা ফারাহ
- ঢাকা-ইসলামাবাদ সম্পর্কে উত্তেজনা
- আইনটি বাস্তবায়িত হলে অনেক বিপন্ন প্রাণী রক্ষা পাবে...
- স্বামীর কড়া নজরদারিও ঠেকাতে পারেনি by মহিউদ্দীন জুয়েল
- বাবার মৃত্যু বৃথা যেতে দেবেন না by তৃষা আহমেদ
- বনের ওপর বন বিভাগের থাবা by হাফিজুর রহমান ও এম জসী...
- রংপুরে বোরো আবাদে খরচ বৃদ্ধির আশঙ্কা
- ক্লাসে ৭০% উপস্থিতিতেই পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ
- এ অপরাজনীতি নির্মূল করতে হবে by মোহাম্মদ আলী আশরাফ
- পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রয়োজনে সেনা মোতায়েন করতে হবে
- পথে বসছেন আবাসন ও লিঙ্কেজ শিল্প ব্যবসায়ীরা by হামি...
- যে অপরাধের ক্ষমা নেই by ডা. সারওয়ার আলী
- মানহীন সার্জিক্যাল পণ্য
- ওদের সামনে শুধুই অন্ধকার by শিপন হাবীব
- টিনের ভাঙা ঘরে পাঠদান
- দ্বিধাদ্বন্দ্বে সরকার by মঈন উদ্দিন খান ও জাকির হো...
- খেলাপি হয়ে যাচ্ছেন রফতানিকারকেরা by আশরাফুল ইসলাম
- রাজনৈতিক সঙ্কটের সর্বগ্রাসী প্রতিক্রিয়া
-
▼
Mar 04
(38)
-
▼
March
(1092)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
দুর্নীতি
শিশু
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
মালয়েশিয়া
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
স্বাস্থ্য
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
জ্যোতির্বিজ্ঞান
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
মিয়ানমার
ঢাকা
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
জীবনযাপন
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
মেহেদী হাসান
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
ইয়েমেন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
Exclusive
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
উচ্চশিক্ষা
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিজ্ঞান
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
ফরিদপুর
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মহাকাশচারী
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
জোহরান মামদানি
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
ইহুদি
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বকাপ ফুটবল
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হুগজিল্ট

No comments:
Post a Comment