Thursday, August 8, 2019
শাহানারা হোসেনের বেলাশেষের পাঁচালি by সনৎকুমার সাহা
শাহানারা হোসেনের বেলাশেষের পাঁচালি by সনৎকুমার সাহা

তাঁ
কে প্রথম দেখি ১৯৬০ সালে। একা নন। স্বামী ডক্টর এ.বি. মোশাররফ হোসেনও তাঁর
সঙ্গে। দুজনই এসেছেন আমাদের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনায় যোগ দিতে।
আমি তখনো ছাত্র। তাঁদের বিষয়ে কিছুই জানি না। কিন্তু চোখে পড়াতেই মুগ্ধ।
দুজনেই সাধারণের তুলনায় দীর্ঘদেহী-দিব্যকাস্তি। শাহানারা হোসেন যেন
রাজহংসী। লালিত্যের সঙ্গে গাম্ভীর্যের মিশেল। দেবী প্রতিমার মতো। আপনা থেকে
মাথা নত হয়। গুণের কথা জেনে অবাক হই আরো। দুজনেই লন্ডন-স্কুল অফ
ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজ থেকে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে
এসেছেন। এ.বি. এম হোসেন ইসলামের ইতিহাসে ডক্টরেট। আর শাহানারা হোসেন পরে
গিয়ে খুব অল্প সময়েই সাধারণ ইতিহাসে এমএ। অবশ্য তার আগে ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নজরকাড়া ফল দেখিয়ে যোগ্যতার ছাপ রাখতে পারেন বলেই
লন্ডনের সেরা স্কুলে তাঁরা ভর্তি হতে পারেন। শাহানারা হোসেন পরে আবার ওখান
থেকে ডক্টরেট করেন। সেটা ১৯৬৬ সালে। ডক্টর এ.বি. এম হোসেন এখন রাজশাহী
বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেসর এমেরিটাস। ক’বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন
ডক্টর শাহানারা হোসেনকেও তাঁদের বিশেষ মর্যাদার ইউজিসি-প্রফেসর পদে বরণ
করে তাঁর মেধার প্রতি সম্মান জানান। দুজনই আমাদের অশেষ শ্রদ্ধার। এ.বি. এম
হোসেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসলামিক সংস্কৃতি, বিশেষ করে স্থাপত্যকলার ওপর
একজন বিশেষজ্ঞ বলে নন্দিত। শাহানারা হোসেনের অবিসংবাদী দক্ষতা প্রাচীন
বাংলার ইতিহাসে।
শাহানারা হোসেনের সঙ্গে আমার বোধহয় বছর-তিনেকের ফারাক যখন এখানে এলেন, তখন ওই বয়সেই তাঁর জুটেছে মেধার পূর্ণ
স্বীকৃতি, এটা আমাদের সমীহ জাগায়। আত্মবিশ্বাসের অভাব তাঁর ভেতরে কখনো চোখে পড়েনি। মনে হয়েছে এমনটিই বুঝি স্বাভাবিক। যদিও মহিলা শিক্ষক ঠিক তখন আর কেউ ছিলেন কিনা মনে করতে পারছি না।
আমি অবশ্য তাঁকে দেখেছি কালে-ভদ্রে। এই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস নির্মাণকাজের তখন শৈশব। ছাড়া ছাড়া কটি ভবনে চলে পাঠদান। প্রত্যেকটি পরস্পর বিচ্ছিন্ন। ইতিহাস-সংলগ্ন বিষয়গুলো পড়ানো হতো শহরে। আমরা পড়তাম ক্যাম্পাস যেখানে গড়ে উঠছিল, সেই মতিহারে। পুরনো কটা কুঠি ছিল, সেগুলোতেই ঝাড়াই-বাছাই করে। আর সবার সঙ্গে দেখা হতো গোটা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠানে। তখন এখানে শুধু দু-বছরের মাস্টার্স কোর্স ছিল। স্নাতক-পাশ ও সম্মান পাঠ সারা হতো কলেজে। কতইবা ছিল ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা! সব মিলিয়ে বড়জোর হাজারখানেক। শিক্ষক-সংখ্যা কি পঞ্চাশ-ষাটের বেশি ছিল? কখনো কখনো এই হোসেন দম্পতি থাকলে তাঁরা দৃষ্টি আকর্ষণ করতেন অবশ্যই। তবে ওই সময়ে তাঁদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। যদিও শিক্ষক হিসেবে তাঁরা যে সমীহ আদায় করতেন, এটা ভেবে এখন অবাকই হই।
একটু হিসাব করলেই ধরা পড়বে, যে বয়সে শাহানারা হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ মানে পড়াবার দায়িত্ব নিয়ে আসেন – এবং তা তাঁর স্বোপার্জিত সর্বজনমান্য সক্ষমতায় – সে বয়সে আজকাল খুব কম ছেলেমেয়েই আমাদের দেশে তাদের ছাত্রজীবনের সমাপ্তি ঘটায়। এখন সম্মান-পাঠে এমনিতে এক বছর বাড়তি যোগ হয়েছে। তার সঙ্গে পরীক্ষা-পদ্ধতির নতুন বিন্যাসে পাঠক্রম শেষ হতে কমপক্ষে আরো এক বছর লেগে যায়। নিটফল দাঁড়ায় এই, শাহানারা হোসেন যখন ঢাকা-লন্ডনে তাঁর কৃতিত্বের সর্বোচ্চ স্বাক্ষর রেখে ফিরে আসেন, তার তুল্য সময়ে বর্তমানে ছাত্রছাত্রীদের নির্ধারিত পাঠচক্র অসমাপ্তই থেকে যায়। শাহানারা হোসেন কিন্তু তাঁর মেধার স্বীকৃতি আদায় করেছেন শুরু থেকেই। এবং তা যথার্থ। অবাক হই এ কারণে যে, আমাদের নীতিনির্ধারকরা যে ছেলেমেয়েদের ছাত্রত্ব অনেকটা বাধ্যতামূলকভাবে নিঃশব্দে দু-বছর বাড়িয়ে দেন, তার সার্বিক ভালোমন্দ আমরা যাচাই করি না।
কথাগুলো মনে এলো শাহানারা হোসেনের সম্প্রতি প্রকাশিত অতি উজ্জ্বল স্মৃতিকথা বেলাশেষের পাঁচালি পড়া শেষ করে। বইটি ছেপেছে বাংলা একাডেমি। আমার বিশ্বাস, এটি তাদের সেরা প্রকাশনার একটি বলে গণ্য হতে থাকবে। প্রফেসর এ.বি. এম হোসেনের আত্মকথা পড়ন্ত বেলার গল্প ছেপে বেরোয় বছর দুই আগে। সেটিও উপাদেয়। শালীন, মার্জিত ও আন্তরিক। বেগম হোসেনের এই বইটিও তেমন। সবাই তাঁদের রাজযোটক বলে মানে। তার পরিচয় মিলল এখানেও। মেধার কর্ষণার অনায়াসলব্ধ ছাপ আমাদের সম্ভ্রম জাগায়। তবে দূরতব বাড়ায় না। আমরা বরং আকৃষ্ট হই। যদিও মেজাজ বারোয়ারি নয়। অন্তর্মুখীই বলা চলে। এতেই কিন্তু তাঁর সত্যস্বরূপ ফোটে। আমরা মুগ্ধ হই।
শাহানারা হোসেনের কথা শুরু তাঁর পূর্বমাতাদের স্মরণ করে, – যতদূর জানা যায়। তাও আজ থেকে প্রায় দেড়শো বছরের ব্যাপ্তি। এটা ইঙ্গিতবহ। নারী-বাস্তবতার প্রবাহকেই যে তিনি অগ্রাধিকার দেন, তার অনুমান এতে মেলে। তবে সক্রিয়বাদী তিনি নন। ঐতিহাসিকের অনাচ্ছন্ন দৃষ্টি বরাবর বজায় থাকে। তাতে অন্যরাও গুরুত্ব হারান না। তারপরও তাঁর সময় পর্যন্ত কত সম্ভাবনাময় নারী যে সংসারচক্রে বাঁধা পড়ে অকালে পথ হারান, পছন্দের সীমা তাঁদের কতটা যে সংকুচিত হয়, অভ্যাসের গতানুগতিকতায় তাঁরাও যে তাল মেলান, কারণ সেইটিই বাস্তব এবং তাতেই সমাজের প্রশ্নহীন অনুমোদন, – সংবেদনশীল মন নিয়ে পড়তে গেলে এগুলোও আমাদের চোখে পড়ে। অসহায় আক্ষেপ বাড়ে। তিনি অবশ্য কোথাও অভিযোগের আঙুল তোলেননি। আপন বৃত্তে চলমান বাস্তবতার স্বরূপটাকে চেতনায় ধরতে চেয়েছেন। আবেগের অতিরিক্ত মিশেল দেননি। তাঁর ইতিহাস পাঠের শৃঙ্খলা যেন স্বয়ং তাঁকে চালিত করে। যদিও সমবেদনার অশ্রুত রাগিণী আপনা থেকে বেজে চলে। ভূমিকায় তিনি জানান, ‘… বিশেষ করে পূর্ব মাতাগণের জীবনকথা স্মরণ হলে হৃদয়ে বেদনা বোধ করি। তাদের বঞ্চিত জীবন, অবহেলার কারণে তাদের কারও কারও অকালমৃত্যু – এসবই এখনও আমাকে কাঁদায়। আমার আম্মার মুখে আমি সদাই দেখতে চেয়েছি ম্যাডোনার প্রশান্ত হাসি – কিন্তু বারবার আমার সেই আশা নিরাশায় পরিণত হয়েছে। মনে পড়ে আমার অন্ধ মাতামহীর কপোল প্রায়ই অশ্রুতে সিক্ত থাকত।…’ – এই স্মৃতির সঙ্গে প্রতারণা তিনি করেননি। তবে আতিশয্যে ও অতিনাটকীয়তায় ভেসেও যাননি। ভাষার নির্মাণ পূর্বাপর সভ্য ও সংযত।
শাহানারা হোসেনের শৈশব ও বালিকাবেলার অনেকটা সময় কাটে কলকাতায়। বাবা ছিলেন সেখানে পুলিশের সর্বজনমান্য কর্মকর্তা। আস্থা ও শ্রদ্ধা তিনি অর্জন করেছিলেন চারপাশে সবার। বেড়ে ওঠার এই পর্বে কোনো বিভেদ বা বৈষম্যের কাঁটা তাঁর মনে ফোটেনি। তবে ওই সময়েই জাতিগত নৈর্ব্যক্তিক সাম্প্রদায়িকতা বিস্ফোরক হয়ে উঠেছে। তা নিয়ন্ত্রণাতীত প্রচ-তায় ফেটে পড়ে ১৯৪৬-এর আগস্ট মাসে। প্রধানত নিরাপত্তার কারণেই তাঁরা তখন বারবার বাসা বদল করেন। কোনো অঘটনের শিকার তাঁরা হননি। তবে সামষ্টিক চিন্তার কক্ষপথ আর আগের মতো থাকে না। তা পারিবারিক সিদ্ধান্তকেও প্রবলভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। ১৯৪৭-এই দেশভাগের আগে-পরে কর্মসূত্রে শাহানারা হোসেনের আত্মীয়স্বজন যাঁরা ওপারে ছিলেন, তাঁরা প্রায় সবাই এপারে চলে আসেন। এটা অবশ্য তাঁদের স্বগৃহে প্রত্যাবর্তনই। কারণ তাঁদের স্থায়ী নিবাস কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলে। অভিজাত এবং শিক্ষ-দীক্ষায় অগ্রগণ্য। শিক্ষর মাপকাঠি অবশ্য পুরুষকেন্দ্রিক। মেয়েদের কথা বিবেচনায় আনা কেউ প্রয়োজন মনে করতেন না। তারা ভবিষ্যতে নম্র-বাধ্য-সুগৃহিণী হবে, এতেই ছিল প্রত্যাশায় অগ্রাধিকার। বাকিটা ভাগ্যের ব্যাপার।
শাহানারা হোসেন জানাচ্ছেন, তাঁর মা বিরক্ত হলে রান্না করাকে বলতেন ‘হাঁড়ি ঠ্যালা’। আমার মা-ও ওই শব্দটি প্রায় ব্যবহার করতেন। এছাড়া বাবা ছিলেন স্কুলমাস্টার। তার সঙ্গে মিলিয়ে বলতেন, তিনি করেন ‘ডেগ মাস্টারি’। তবে এটা কিন্তু ছিল পরিবারে গৃহিণীর অধিকারের জায়গা। ভাগ্যের পরিহাস, বিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠানের রীতিনীতি বজায় রেখে পুরুষতান্ত্রিক মূল্যবোধ মজবুত করায় মূল ভূমিকাও আরোপিত থাকে তাঁদের ওপরেই। নিজেদের নিয়ে স্বপ্নের সীমা তাঁদের পরিবারের গ– পেরোতে পারত না। এখনো কতটা পারে জানি না। শাহানারা হোসেনরা ছিলেন কেবল দুবোন। তাঁদের কোনো আপন ভাই ছিল না। বাবা আধুনিক শিক্ষয় শিক্ষিত, উদারমনা। মায়ের আক্ষেপ পূরণের আকাঙ্ক্ষা হয়তো মেয়েদের ভেতর সঞ্চারিত হয়েছিল। তবু অদম্য মনোবল নিয়ে প্রতিকূলতা ঠেলেই তাঁদের এগিয়ে যাওয়া। মেধার উত্তরাধিকার অবশ্য তাঁরা পেয়েছেন নিঃসন্দেহে। অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। অনুপ্রেরণাও। কিন্তু বাস্তবের অসংখ্য প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে সব মেয়ের সামনে আয়ত্তসম্ভব-উদাহরণ কতটা হতে পারেন, জানি না। এটা ঠিক, রন্ধন-প্রযুক্তি অনেক পালটেছে। যোগাযোগে বিস্ময়কর উন্নতি স্থানের সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। তবু আমাদের মনোজগৎ এদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলায় না। মেয়েরা একরকম ‘ন যযৌ ন তস্থৌ’ অবস্থায় থেকে যায়। আর কষ্ট পায়। আমাদের উদাসীনতা এতটুকু কমে না। বরং প্রতিক্রিয়ায় অনেকে আরো বেশি মারমুখো হই।
শাহানারা হোসেনের শৈশব স্মৃতিতে আরো সেঁটে আছে ১৯৪৩-এর মন্বন্তর। পথে-পথে মানুষের হাহাকার তাঁর কানে এসে বেজেছে। মৃত ও অনশনক্লিষ্ট মুমূর্ষুরা খোলা আকাশের নিচে চোখেও পড়েছে। তিনি লিখছেন, ‘সেই সব দৃশ্য দেখে আমাদের মুখে আর হাসি ফুটত না, আমরা মানসিক ক্লিষ্টতায় ভুগতাম।’ বড় হয়ে জেনেছেন, ‘এই মন্বন্তর ছিল মানুষের সৃষ্ট দুর্যোগ, ইচ্ছে করেই একটা সংকট সৃষ্টি করা হয়েছিল। ব্রিটিশ সরকার বাংলা ও পার্শ্ববর্তী প্রদেশগুলোর সকল শস্য মজুত করেছিল সেনাবাহিনীর জন্য। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় সরকার পোড়ামাটি নীতি অবলম্বন করেছিল। সরকারের স্বার্থপর প্রজাপীড়ন ও নির্যাতনের নীতির সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল দেশীয় মুনাফালোভী ব্যবসায়ী সম্প্রদায় …।’ পরে জেনেছি, এইসব নয়। পাছে শত্রম্নরা নদীপথ ব্যবহার করে, তাই সব নৌকো তারা বাজেয়াপ্ত করেছিল। হঠাৎ করে বিপুলসংখ্যক দিন-আনা-দিন-খাওয়া মানুষের কর্মসংস্থান ও ক্রয়ক্ষমতা পারস্পরিক যোগাযোগে উবে গেল। দুর্ভিক্ষ দ্রম্নত গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ল। এরই দীর্ঘস্থায়ী প্রতিক্রিয়ায় ঢিলেঢালা সরল উৎপাদন ও ভোগব্যবস্থা ভেঙে পড়তে শুরু করে। রেশনিং, বণ্টন ব্যবস্থায় বাধ্যতামূলক বহুমুখী সংযোগ, – এগুলো আত্মপ্রকাশ করতে থাকে। অর্থনীতিতে রাষ্ট্রব্যবস্থার গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ে। তবে ওই সময়ের মন্বন্তরেই পঞ্চাশ লাখের ওপর মানুষ প্রাণ হারায়। সবই শাসনব্যবস্থায় নির্মম উদাসীনতার কারণে। শাহানারা হোসেনের শৈশব স্মৃতির এই নিষ্করুণ টুকরো আমাদের সংক্ষোভ আবার জাগিয়ে তোলে।
সাতচলিস্নশে দেশভাগের পরিণামে পিতা আবদুল হাফিজ সপরিবারে এ-বাংলায় চলে এসে থিতু হন ঢাকায়। কোনো অনিশ্চয়তা তাঁকে তাড়া করে না। দুই মেয়েকেই স্কুলে ভর্তি করে দেন। শাহানারা পড়েন মুসলিম গার্লস হাইস্কুলে, ও পরে কামরুন্নেসা হাইস্কুলে। স্কুলজীবনের বান্ধবীদের তিনি এ-বইতে আন্তরিক সহমর্মিতায় স্মরণ করেছেন। তাঁর অনুভবের নির্মাল্য ও প্রখর স্মরণশক্তি আমাকে মুগ্ধ করে।
তবে এই পর্বে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা তাঁর বড় বোন হাসনা বেগমের বিয়ে। বিয়ের তারিখ ১৮ মে, ১৯৪৯। পাত্রীর বয়স তখন বোধহয় বছর-চোদ্দ। এমনটি তখন ছিল খুবই স্বাভাবিক। আর পাত্রও সদ্বংশজাত, উচ্চশিক্ষিত ও যোগ্য। তবু শাহানারা হোসেনের এই বিয়ে মেনে নিতে কষ্ট হয়। অকপটে তিনি জানাচ্ছেন, ‘… আপার প্রতি আমার একটা প্রবল অধিকারবোধ ছিল। বিয়ের পরপরই আববা যেভাবে দুলাভাই ও তার আববার হাতে আপার সকল দায়িত্ব সমর্পণ করলেন তা থেকে এ-কথা বুঝতে আমার এক মুহূর্তও দেরি হয়নি যে, এখন থেকে আপার ওপর দুলাভাইয়েরই সর্বাধিকার। তাছাড়া
পিতৃতন্ত্র, পুরুষতন্ত্র এসব শব্দের সঙ্গে তখনো পরিচিত না হলেও নানি, মা, খালা, ফুফু, বিবাহিতা আত্মীয়া এবং আশপাশের অন্য মহিলাদের জীবনধারা দেখে ছোট হলেও এই জ্ঞান আমার হয়েছিল যে, একটি বিবাহিতা মেয়েকে তার স্বামীকে সন্তুষ্ট করেই আজীবন চলতে হয়।’ শাহানারা তখন নিতান্ত বালিকা। বয়স মাত্র তেরো। তিনি আরো লিখছেন : ‘… বেদনার মেঘে ঢাকা হৃদয়ে আমি সেদিন নিজের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছিলাম, পরিস্থিতি যাই হোক কোন বিয়ের প্রস্তাবে আমার অভিমত জানতে চাইলে আমি কোনদিনই আপার মত বলবো না, ‘আববা-আম্মার মতই আমার মত’। আমি আরো সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম পরিণত বয়স না হওয়া পর্যন্ত এবং বিয়ে ও ঘরকন্না করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্ত্ততি গ্রহণ না করে কোনো চাপের মুখেই আমি বিয়েতে সম্মত হব না। …।’ আমরা জানি, তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাশ করার পরই তিনি প্রফেসর এ.বি. এম হোসেনকে বিয়ে করেন। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় লন্ডনে। এ-বইয়ে তারও রুচিস্নিগ্ধ বিবরণ আছে।
বইটিতে আরো আছে বিয়ের পর সাত বছরের ভেতরেই হাসনা বেগম তিন কন্যার জননী। এছাড়াও ষোলো বছর বয়সে এক শিশুপুত্রের মৃত্যুশোক তিনি সহ্য করেছেন। মেয়েদের যত্ন নিয়ে ঘর-সংসারের কাজকর্ম সামলাতে তাঁর হিমশিম অবস্থা। এমনে এতে অস্বাভাবিক কিছু নেই। কিন্তু যা আমাকে বিস্মিত করে, তা হলো, এইসব দায়িত্ব যথাযথ পালন করে কখন তিনি পড়াশোনায় মন দিতে পারলেন? কেমন করে তিনি বিশ্ববিদ্যা সভায় দর্শনে মুর, রাইল এঁদের ধ্যান-ধারণার বিচার-বিশেস্নষণের পর আপন যুক্তি প্রতিষ্ঠা করে একজন বিশেষজ্ঞের মর্যাদা পেলেন? আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শনের সর্বজনমান্য অধ্যাপক থেকে নিজের কর্মজীবনের সমাপ্তি ঘটালেন? আমার বিস্ময় আকাশ ছোঁয়। এই বইতে দুই বোনের বেড়ে ওঠার কথা অনেকদূর পর্যন্ত একত্রে পাই। কিন্তু অগ্রজাকে নিয়ে কৌতূহল পুরো মেটে না। অবশ্য এখানে তা মেটানো প্রাসঙ্গিক নয়।
মাধ্যমিক পর্ব পেরিয়ে শাহানারা হোসেন উচ্চ মাধ্যমিকের পাট সারেন ঢাকার ইডেন কলেজ থেকে। বরাবরই তিনি মনোযোগী ছাত্রী। তবে অংকে দুর্বল। আগ্রহ বেশি সাহিত্যে – দেশি-বিদেশি, দুই-ই। পাঠ তালিকা থেকে বুঝি, তা ছিল সুনির্বাচিত ও ব্যাপক। পারিবারিক আবহ যে অনুকূল ছিল, তাও বোঝা যায়। উদার-মুক্ত মন তাঁর গড়ে ওঠে এভাবে। উচ্চ মাধ্যমিকে দারুণ ভালো ফল করে এবার তিনি পা রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাঁর ইচ্ছে ছিল, পড়বেন ইংরেজি সাহিত্য, কিন্তু বাবার পছন্দ ইতিহাস। ভেবেচিন্তে তিনিও বাবার ইচ্ছাতেই সম্মতি দিলেন। পেছন ফিরে তাকিয়ে মনে হয়, ভুল করেননি। সাহিত্য পাঠের স্বাধীনতা তাঁর অক্ষুণ্ণই থাকে। বাড়তি যোগ হয় ইতিহাসের ব্যাপ্তি ও দূরান্বয়ী দৃষ্টি। বিশ্বাস, কর্মজীবনে তাঁকে কখনো আফসোস করতে হয়নি। এই বইতেও দেখি ভাষার কমনীয়তার সঙ্গে আতিশয্যহীন অনাচ্ছন্নতা। ইতিহাস ও সাহিত্যের সমন্বিত প্রভাব। তার গরিমায় আমরা মুগ্ধ। পূর্ণ ব্যক্তিত্বে তিনি ধরা দেন।
তাঁর দেখা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলো এখানে আঁকা। বিন্দুমাত্র অতিরঞ্জন নেই। যাঁদের কাছে পড়েছেন, যাঁরা সতীর্থ ছিলেন, তাঁদের পরিচয়ও মেলে। যেন একটানা ছবি। এবং সবই তিনি যেমন দেখেন, তেমন। তাতে কোনো কপটতা নেই। মালিন্যও নেই। অস্থিতিশীল দেশের রাজনৈতিক অবস্থা। তার ছাপও পড়ে। তবে তিনি তাতে সক্রিয় নন। যদিও গণজাগরণ ও প্রগতির পক্ষে তাঁর অনুচ্চারিত মনোভাব একেবারে অস্পষ্ট থাকে না। এছাড়া যা চমৎকৃত করে, তা হলো, তাঁর অসাধারণ স্মরণশক্তি। আপন পরিসরে যা ঘটে, যা দেখেন, সবই তিনি মনে রাখেন। কিছুই হারিয়ে যায় না। চেনাজানা কেউ না। সব মিলিয়ে তারা বইটিতে অন্তরঙ্গতার স্বাদ দেয়। মনে হয়, যেন এই তো সেদিন!
পরের কথা তাঁর ‘পাঁচালির শেষ কথা’। লন্ডনে পৌঁছুনো, বিয়ে, পড়াশোনা, ফিরে আসা, দুজনেরই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনায় যোগ দেওয়া, আবার গিয়ে ছেষট্টি সালে তাঁর ডক্টরেট করে আসা, দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা, শহীদ-ডক্টর জোহার কথা, মুক্তিসংগ্রাম, আটকেপড়া জীবনের আতঙ্ক, স্বাধীনতা, এ সবের কথা তিনি বলে গেছেন একটানা। অনেকটা প্রামাণ্যচিত্রের মতো। আগের পরিচ্ছেদগুলোর মতো নিচে থেকে বা ভেতর থেকে দেখা নয়। ফলে একটু ভিন্ন রকম লাগে বইকি! তবে এখানে তাঁর বাবার পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পদ থেকে স্বেচ্ছা-অবসরে যাওয়ার যে-কাহিনি তিনি শুনিয়েছেন, তা পড়ে ওই আত্মমর্যাদাসম্পন্ন মহান ব্যক্তিটিকে মনে করে শ্রদ্ধায় মাথা নোয়াই। কন্যা লিখছেন : ‘পাক-ভারত যুদ্ধ শেষ হবার কিছুদিন পর আববা আমাদের (লন্ডনে) চিঠি লিখে জানান যে, তিনি স্বেচ্ছায় অবসর নিয়েছেন এবং একটি বিদেশি পুস্তক প্রকাশনা সংস্থায় চাকরি করছেন। অবসর গ্রহণ করার পর তিনি অনেক মুক্তবোধ করছেন। ১৯৬৬ সালে দেশে ফিরে আম্মা ও আপাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করে জানতে পারি যে, Intelligence Branch-এর একজন পদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে আববা ১৯৬৫ সালের আগে হতে বুঝেছিলেন যে সামনের দিনগুলোতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরো উত্তাল হতে চলেছে। একজন পুলিশের কর্মকর্তাকে সে ধরনের বিপর্যয় ঘটলে অনেক বিবেকহীন কাজ করতে হবে এবং অসত্য কথা বলে পাকিস্তানি শাসকদের নির্দেশে বাঙালি রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণ করতে হবে। তিনি একজন বিবেকবান মানুষ ও বাঙালি। উচ্চপদ ও অর্থের প্রলোভনে তিনি তাঁর মানবিক সততা ও বাঙালি সত্তা বিসর্জন দিতে পারেন না। তাই তিনি স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেছেন।’
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় হোসেন দম্পতি সপরিবারে দেশেই আটকা পড়েছিলেন। প্রফেসর এ.বি. এম হোসেনকে যে একাধিকবার সামরিক বাহিনীর লোকেরা তুলে নিয়ে গিয়ে ভয় দেখায়, আর উপাচার্য প্রফেসর সাজ্জাদ হোসেন জেনেও যে শুধু উদাসীন থাকেন, তাই নয়, এমন ঘটনার জন্যে সবসময় প্রস্ত্তত থাকাই উত্তম, এই বলে শাহানারা হোসেনকে বিদায় করেন, এ-কথার উল্লেখ বইটিতে পাই। পড়ে এখনো গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে।
বইটি নিঃসন্দেহে বাংলায় স্মৃতিকথা পর্যায়ে সেরা তালিকার একটি। আরো উল্লেখযোগ্য এখানে নারী লেখকদেরই প্রাধান্য। তাঁরা কি প্রকৃতিগতভাবে বেশি অনুভূতিশীল? অথবা এমনকি হতে পারে, তাঁদের মনে বলার কথা জমে অনেক, যা প্রকাশের সুযোগ তাঁদের হয় না? বাংলা ভাষায় এমন প্রথম বই এবং অন্যতম সেরা, আমার জীবনকথা – লেখক, রাসসুন্দরী দেবী পাবনার পোতাজিয়া গ্রামের এক অখ্যাত মহিলা, যিনি বাড়ির ছেলেদের পড়া শুনে শুনে আর অক্ষর পরিচয় অনুকরণ করে, নিজে লেখা শেখেন। এবং আত্মগোপনে। এখন এ জাতীয় যেসব বই মনে দাগ কাটে তাদের ভেতর অবশ্যই থাকবে হামিদা খানমের ঝরা বকুলের গন্ধ ও অলকনন্দা প্যাটেলের পৃথিবীর পথে হেঁটে। শাহানারা হোসেনের এই বইতে হামিদা খানমের বিনম্র উল্লেখ আছে। এঁরা তিনজনই প্রতিভাময়ী ও উচ্চশিক্ষিত। বিশ্ববিদ্বৎসভায় অতি শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয় তাঁদের নাম। আরো বলবার, তিনজনেরই বাড়ি এই বাংলায়। তাঁদের স্মৃতিতে রয়ে গেছে কলকাতাও। এঁদের লেখার আলাদা আলাদা আবেদন আমাদের চেতনাকে ঋদ্ধ করে, দৃষ্টিকে প্রসারিত করে। আমাদের সশ্রদ্ধ অভিবাদন এঁদের প্রাপ্য।বেলাশেষের পাঁচালিতে সবশেষে আছে ছবির অ্যালবাম। লেখা যেখানে সমাপ্ত, তার পরের পর্বের কিছু নিদর্শন বেশকটি ছবিতে আছে। লেখকের জীবন-সংক্ষেপও তাঁর কৃতি মেলে ধরে। তা সামান্য নয়।
শাহানারা হোসেনের সঙ্গে আমার বোধহয় বছর-তিনেকের ফারাক যখন এখানে এলেন, তখন ওই বয়সেই তাঁর জুটেছে মেধার পূর্ণ
স্বীকৃতি, এটা আমাদের সমীহ জাগায়। আত্মবিশ্বাসের অভাব তাঁর ভেতরে কখনো চোখে পড়েনি। মনে হয়েছে এমনটিই বুঝি স্বাভাবিক। যদিও মহিলা শিক্ষক ঠিক তখন আর কেউ ছিলেন কিনা মনে করতে পারছি না।
আমি অবশ্য তাঁকে দেখেছি কালে-ভদ্রে। এই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস নির্মাণকাজের তখন শৈশব। ছাড়া ছাড়া কটি ভবনে চলে পাঠদান। প্রত্যেকটি পরস্পর বিচ্ছিন্ন। ইতিহাস-সংলগ্ন বিষয়গুলো পড়ানো হতো শহরে। আমরা পড়তাম ক্যাম্পাস যেখানে গড়ে উঠছিল, সেই মতিহারে। পুরনো কটা কুঠি ছিল, সেগুলোতেই ঝাড়াই-বাছাই করে। আর সবার সঙ্গে দেখা হতো গোটা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠানে। তখন এখানে শুধু দু-বছরের মাস্টার্স কোর্স ছিল। স্নাতক-পাশ ও সম্মান পাঠ সারা হতো কলেজে। কতইবা ছিল ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা! সব মিলিয়ে বড়জোর হাজারখানেক। শিক্ষক-সংখ্যা কি পঞ্চাশ-ষাটের বেশি ছিল? কখনো কখনো এই হোসেন দম্পতি থাকলে তাঁরা দৃষ্টি আকর্ষণ করতেন অবশ্যই। তবে ওই সময়ে তাঁদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। যদিও শিক্ষক হিসেবে তাঁরা যে সমীহ আদায় করতেন, এটা ভেবে এখন অবাকই হই।
একটু হিসাব করলেই ধরা পড়বে, যে বয়সে শাহানারা হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ মানে পড়াবার দায়িত্ব নিয়ে আসেন – এবং তা তাঁর স্বোপার্জিত সর্বজনমান্য সক্ষমতায় – সে বয়সে আজকাল খুব কম ছেলেমেয়েই আমাদের দেশে তাদের ছাত্রজীবনের সমাপ্তি ঘটায়। এখন সম্মান-পাঠে এমনিতে এক বছর বাড়তি যোগ হয়েছে। তার সঙ্গে পরীক্ষা-পদ্ধতির নতুন বিন্যাসে পাঠক্রম শেষ হতে কমপক্ষে আরো এক বছর লেগে যায়। নিটফল দাঁড়ায় এই, শাহানারা হোসেন যখন ঢাকা-লন্ডনে তাঁর কৃতিত্বের সর্বোচ্চ স্বাক্ষর রেখে ফিরে আসেন, তার তুল্য সময়ে বর্তমানে ছাত্রছাত্রীদের নির্ধারিত পাঠচক্র অসমাপ্তই থেকে যায়। শাহানারা হোসেন কিন্তু তাঁর মেধার স্বীকৃতি আদায় করেছেন শুরু থেকেই। এবং তা যথার্থ। অবাক হই এ কারণে যে, আমাদের নীতিনির্ধারকরা যে ছেলেমেয়েদের ছাত্রত্ব অনেকটা বাধ্যতামূলকভাবে নিঃশব্দে দু-বছর বাড়িয়ে দেন, তার সার্বিক ভালোমন্দ আমরা যাচাই করি না।
কথাগুলো মনে এলো শাহানারা হোসেনের সম্প্রতি প্রকাশিত অতি উজ্জ্বল স্মৃতিকথা বেলাশেষের পাঁচালি পড়া শেষ করে। বইটি ছেপেছে বাংলা একাডেমি। আমার বিশ্বাস, এটি তাদের সেরা প্রকাশনার একটি বলে গণ্য হতে থাকবে। প্রফেসর এ.বি. এম হোসেনের আত্মকথা পড়ন্ত বেলার গল্প ছেপে বেরোয় বছর দুই আগে। সেটিও উপাদেয়। শালীন, মার্জিত ও আন্তরিক। বেগম হোসেনের এই বইটিও তেমন। সবাই তাঁদের রাজযোটক বলে মানে। তার পরিচয় মিলল এখানেও। মেধার কর্ষণার অনায়াসলব্ধ ছাপ আমাদের সম্ভ্রম জাগায়। তবে দূরতব বাড়ায় না। আমরা বরং আকৃষ্ট হই। যদিও মেজাজ বারোয়ারি নয়। অন্তর্মুখীই বলা চলে। এতেই কিন্তু তাঁর সত্যস্বরূপ ফোটে। আমরা মুগ্ধ হই।
শাহানারা হোসেনের কথা শুরু তাঁর পূর্বমাতাদের স্মরণ করে, – যতদূর জানা যায়। তাও আজ থেকে প্রায় দেড়শো বছরের ব্যাপ্তি। এটা ইঙ্গিতবহ। নারী-বাস্তবতার প্রবাহকেই যে তিনি অগ্রাধিকার দেন, তার অনুমান এতে মেলে। তবে সক্রিয়বাদী তিনি নন। ঐতিহাসিকের অনাচ্ছন্ন দৃষ্টি বরাবর বজায় থাকে। তাতে অন্যরাও গুরুত্ব হারান না। তারপরও তাঁর সময় পর্যন্ত কত সম্ভাবনাময় নারী যে সংসারচক্রে বাঁধা পড়ে অকালে পথ হারান, পছন্দের সীমা তাঁদের কতটা যে সংকুচিত হয়, অভ্যাসের গতানুগতিকতায় তাঁরাও যে তাল মেলান, কারণ সেইটিই বাস্তব এবং তাতেই সমাজের প্রশ্নহীন অনুমোদন, – সংবেদনশীল মন নিয়ে পড়তে গেলে এগুলোও আমাদের চোখে পড়ে। অসহায় আক্ষেপ বাড়ে। তিনি অবশ্য কোথাও অভিযোগের আঙুল তোলেননি। আপন বৃত্তে চলমান বাস্তবতার স্বরূপটাকে চেতনায় ধরতে চেয়েছেন। আবেগের অতিরিক্ত মিশেল দেননি। তাঁর ইতিহাস পাঠের শৃঙ্খলা যেন স্বয়ং তাঁকে চালিত করে। যদিও সমবেদনার অশ্রুত রাগিণী আপনা থেকে বেজে চলে। ভূমিকায় তিনি জানান, ‘… বিশেষ করে পূর্ব মাতাগণের জীবনকথা স্মরণ হলে হৃদয়ে বেদনা বোধ করি। তাদের বঞ্চিত জীবন, অবহেলার কারণে তাদের কারও কারও অকালমৃত্যু – এসবই এখনও আমাকে কাঁদায়। আমার আম্মার মুখে আমি সদাই দেখতে চেয়েছি ম্যাডোনার প্রশান্ত হাসি – কিন্তু বারবার আমার সেই আশা নিরাশায় পরিণত হয়েছে। মনে পড়ে আমার অন্ধ মাতামহীর কপোল প্রায়ই অশ্রুতে সিক্ত থাকত।…’ – এই স্মৃতির সঙ্গে প্রতারণা তিনি করেননি। তবে আতিশয্যে ও অতিনাটকীয়তায় ভেসেও যাননি। ভাষার নির্মাণ পূর্বাপর সভ্য ও সংযত।
শাহানারা হোসেনের শৈশব ও বালিকাবেলার অনেকটা সময় কাটে কলকাতায়। বাবা ছিলেন সেখানে পুলিশের সর্বজনমান্য কর্মকর্তা। আস্থা ও শ্রদ্ধা তিনি অর্জন করেছিলেন চারপাশে সবার। বেড়ে ওঠার এই পর্বে কোনো বিভেদ বা বৈষম্যের কাঁটা তাঁর মনে ফোটেনি। তবে ওই সময়েই জাতিগত নৈর্ব্যক্তিক সাম্প্রদায়িকতা বিস্ফোরক হয়ে উঠেছে। তা নিয়ন্ত্রণাতীত প্রচ-তায় ফেটে পড়ে ১৯৪৬-এর আগস্ট মাসে। প্রধানত নিরাপত্তার কারণেই তাঁরা তখন বারবার বাসা বদল করেন। কোনো অঘটনের শিকার তাঁরা হননি। তবে সামষ্টিক চিন্তার কক্ষপথ আর আগের মতো থাকে না। তা পারিবারিক সিদ্ধান্তকেও প্রবলভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। ১৯৪৭-এই দেশভাগের আগে-পরে কর্মসূত্রে শাহানারা হোসেনের আত্মীয়স্বজন যাঁরা ওপারে ছিলেন, তাঁরা প্রায় সবাই এপারে চলে আসেন। এটা অবশ্য তাঁদের স্বগৃহে প্রত্যাবর্তনই। কারণ তাঁদের স্থায়ী নিবাস কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলে। অভিজাত এবং শিক্ষ-দীক্ষায় অগ্রগণ্য। শিক্ষর মাপকাঠি অবশ্য পুরুষকেন্দ্রিক। মেয়েদের কথা বিবেচনায় আনা কেউ প্রয়োজন মনে করতেন না। তারা ভবিষ্যতে নম্র-বাধ্য-সুগৃহিণী হবে, এতেই ছিল প্রত্যাশায় অগ্রাধিকার। বাকিটা ভাগ্যের ব্যাপার।
শাহানারা হোসেন জানাচ্ছেন, তাঁর মা বিরক্ত হলে রান্না করাকে বলতেন ‘হাঁড়ি ঠ্যালা’। আমার মা-ও ওই শব্দটি প্রায় ব্যবহার করতেন। এছাড়া বাবা ছিলেন স্কুলমাস্টার। তার সঙ্গে মিলিয়ে বলতেন, তিনি করেন ‘ডেগ মাস্টারি’। তবে এটা কিন্তু ছিল পরিবারে গৃহিণীর অধিকারের জায়গা। ভাগ্যের পরিহাস, বিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠানের রীতিনীতি বজায় রেখে পুরুষতান্ত্রিক মূল্যবোধ মজবুত করায় মূল ভূমিকাও আরোপিত থাকে তাঁদের ওপরেই। নিজেদের নিয়ে স্বপ্নের সীমা তাঁদের পরিবারের গ– পেরোতে পারত না। এখনো কতটা পারে জানি না। শাহানারা হোসেনরা ছিলেন কেবল দুবোন। তাঁদের কোনো আপন ভাই ছিল না। বাবা আধুনিক শিক্ষয় শিক্ষিত, উদারমনা। মায়ের আক্ষেপ পূরণের আকাঙ্ক্ষা হয়তো মেয়েদের ভেতর সঞ্চারিত হয়েছিল। তবু অদম্য মনোবল নিয়ে প্রতিকূলতা ঠেলেই তাঁদের এগিয়ে যাওয়া। মেধার উত্তরাধিকার অবশ্য তাঁরা পেয়েছেন নিঃসন্দেহে। অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। অনুপ্রেরণাও। কিন্তু বাস্তবের অসংখ্য প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে সব মেয়ের সামনে আয়ত্তসম্ভব-উদাহরণ কতটা হতে পারেন, জানি না। এটা ঠিক, রন্ধন-প্রযুক্তি অনেক পালটেছে। যোগাযোগে বিস্ময়কর উন্নতি স্থানের সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। তবু আমাদের মনোজগৎ এদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলায় না। মেয়েরা একরকম ‘ন যযৌ ন তস্থৌ’ অবস্থায় থেকে যায়। আর কষ্ট পায়। আমাদের উদাসীনতা এতটুকু কমে না। বরং প্রতিক্রিয়ায় অনেকে আরো বেশি মারমুখো হই।
শাহানারা হোসেনের শৈশব স্মৃতিতে আরো সেঁটে আছে ১৯৪৩-এর মন্বন্তর। পথে-পথে মানুষের হাহাকার তাঁর কানে এসে বেজেছে। মৃত ও অনশনক্লিষ্ট মুমূর্ষুরা খোলা আকাশের নিচে চোখেও পড়েছে। তিনি লিখছেন, ‘সেই সব দৃশ্য দেখে আমাদের মুখে আর হাসি ফুটত না, আমরা মানসিক ক্লিষ্টতায় ভুগতাম।’ বড় হয়ে জেনেছেন, ‘এই মন্বন্তর ছিল মানুষের সৃষ্ট দুর্যোগ, ইচ্ছে করেই একটা সংকট সৃষ্টি করা হয়েছিল। ব্রিটিশ সরকার বাংলা ও পার্শ্ববর্তী প্রদেশগুলোর সকল শস্য মজুত করেছিল সেনাবাহিনীর জন্য। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় সরকার পোড়ামাটি নীতি অবলম্বন করেছিল। সরকারের স্বার্থপর প্রজাপীড়ন ও নির্যাতনের নীতির সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল দেশীয় মুনাফালোভী ব্যবসায়ী সম্প্রদায় …।’ পরে জেনেছি, এইসব নয়। পাছে শত্রম্নরা নদীপথ ব্যবহার করে, তাই সব নৌকো তারা বাজেয়াপ্ত করেছিল। হঠাৎ করে বিপুলসংখ্যক দিন-আনা-দিন-খাওয়া মানুষের কর্মসংস্থান ও ক্রয়ক্ষমতা পারস্পরিক যোগাযোগে উবে গেল। দুর্ভিক্ষ দ্রম্নত গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ল। এরই দীর্ঘস্থায়ী প্রতিক্রিয়ায় ঢিলেঢালা সরল উৎপাদন ও ভোগব্যবস্থা ভেঙে পড়তে শুরু করে। রেশনিং, বণ্টন ব্যবস্থায় বাধ্যতামূলক বহুমুখী সংযোগ, – এগুলো আত্মপ্রকাশ করতে থাকে। অর্থনীতিতে রাষ্ট্রব্যবস্থার গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ে। তবে ওই সময়ের মন্বন্তরেই পঞ্চাশ লাখের ওপর মানুষ প্রাণ হারায়। সবই শাসনব্যবস্থায় নির্মম উদাসীনতার কারণে। শাহানারা হোসেনের শৈশব স্মৃতির এই নিষ্করুণ টুকরো আমাদের সংক্ষোভ আবার জাগিয়ে তোলে।
সাতচলিস্নশে দেশভাগের পরিণামে পিতা আবদুল হাফিজ সপরিবারে এ-বাংলায় চলে এসে থিতু হন ঢাকায়। কোনো অনিশ্চয়তা তাঁকে তাড়া করে না। দুই মেয়েকেই স্কুলে ভর্তি করে দেন। শাহানারা পড়েন মুসলিম গার্লস হাইস্কুলে, ও পরে কামরুন্নেসা হাইস্কুলে। স্কুলজীবনের বান্ধবীদের তিনি এ-বইতে আন্তরিক সহমর্মিতায় স্মরণ করেছেন। তাঁর অনুভবের নির্মাল্য ও প্রখর স্মরণশক্তি আমাকে মুগ্ধ করে।
তবে এই পর্বে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা তাঁর বড় বোন হাসনা বেগমের বিয়ে। বিয়ের তারিখ ১৮ মে, ১৯৪৯। পাত্রীর বয়স তখন বোধহয় বছর-চোদ্দ। এমনটি তখন ছিল খুবই স্বাভাবিক। আর পাত্রও সদ্বংশজাত, উচ্চশিক্ষিত ও যোগ্য। তবু শাহানারা হোসেনের এই বিয়ে মেনে নিতে কষ্ট হয়। অকপটে তিনি জানাচ্ছেন, ‘… আপার প্রতি আমার একটা প্রবল অধিকারবোধ ছিল। বিয়ের পরপরই আববা যেভাবে দুলাভাই ও তার আববার হাতে আপার সকল দায়িত্ব সমর্পণ করলেন তা থেকে এ-কথা বুঝতে আমার এক মুহূর্তও দেরি হয়নি যে, এখন থেকে আপার ওপর দুলাভাইয়েরই সর্বাধিকার। তাছাড়া
পিতৃতন্ত্র, পুরুষতন্ত্র এসব শব্দের সঙ্গে তখনো পরিচিত না হলেও নানি, মা, খালা, ফুফু, বিবাহিতা আত্মীয়া এবং আশপাশের অন্য মহিলাদের জীবনধারা দেখে ছোট হলেও এই জ্ঞান আমার হয়েছিল যে, একটি বিবাহিতা মেয়েকে তার স্বামীকে সন্তুষ্ট করেই আজীবন চলতে হয়।’ শাহানারা তখন নিতান্ত বালিকা। বয়স মাত্র তেরো। তিনি আরো লিখছেন : ‘… বেদনার মেঘে ঢাকা হৃদয়ে আমি সেদিন নিজের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছিলাম, পরিস্থিতি যাই হোক কোন বিয়ের প্রস্তাবে আমার অভিমত জানতে চাইলে আমি কোনদিনই আপার মত বলবো না, ‘আববা-আম্মার মতই আমার মত’। আমি আরো সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম পরিণত বয়স না হওয়া পর্যন্ত এবং বিয়ে ও ঘরকন্না করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্ত্ততি গ্রহণ না করে কোনো চাপের মুখেই আমি বিয়েতে সম্মত হব না। …।’ আমরা জানি, তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাশ করার পরই তিনি প্রফেসর এ.বি. এম হোসেনকে বিয়ে করেন। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় লন্ডনে। এ-বইয়ে তারও রুচিস্নিগ্ধ বিবরণ আছে।
বইটিতে আরো আছে বিয়ের পর সাত বছরের ভেতরেই হাসনা বেগম তিন কন্যার জননী। এছাড়াও ষোলো বছর বয়সে এক শিশুপুত্রের মৃত্যুশোক তিনি সহ্য করেছেন। মেয়েদের যত্ন নিয়ে ঘর-সংসারের কাজকর্ম সামলাতে তাঁর হিমশিম অবস্থা। এমনে এতে অস্বাভাবিক কিছু নেই। কিন্তু যা আমাকে বিস্মিত করে, তা হলো, এইসব দায়িত্ব যথাযথ পালন করে কখন তিনি পড়াশোনায় মন দিতে পারলেন? কেমন করে তিনি বিশ্ববিদ্যা সভায় দর্শনে মুর, রাইল এঁদের ধ্যান-ধারণার বিচার-বিশেস্নষণের পর আপন যুক্তি প্রতিষ্ঠা করে একজন বিশেষজ্ঞের মর্যাদা পেলেন? আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শনের সর্বজনমান্য অধ্যাপক থেকে নিজের কর্মজীবনের সমাপ্তি ঘটালেন? আমার বিস্ময় আকাশ ছোঁয়। এই বইতে দুই বোনের বেড়ে ওঠার কথা অনেকদূর পর্যন্ত একত্রে পাই। কিন্তু অগ্রজাকে নিয়ে কৌতূহল পুরো মেটে না। অবশ্য এখানে তা মেটানো প্রাসঙ্গিক নয়।
মাধ্যমিক পর্ব পেরিয়ে শাহানারা হোসেন উচ্চ মাধ্যমিকের পাট সারেন ঢাকার ইডেন কলেজ থেকে। বরাবরই তিনি মনোযোগী ছাত্রী। তবে অংকে দুর্বল। আগ্রহ বেশি সাহিত্যে – দেশি-বিদেশি, দুই-ই। পাঠ তালিকা থেকে বুঝি, তা ছিল সুনির্বাচিত ও ব্যাপক। পারিবারিক আবহ যে অনুকূল ছিল, তাও বোঝা যায়। উদার-মুক্ত মন তাঁর গড়ে ওঠে এভাবে। উচ্চ মাধ্যমিকে দারুণ ভালো ফল করে এবার তিনি পা রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাঁর ইচ্ছে ছিল, পড়বেন ইংরেজি সাহিত্য, কিন্তু বাবার পছন্দ ইতিহাস। ভেবেচিন্তে তিনিও বাবার ইচ্ছাতেই সম্মতি দিলেন। পেছন ফিরে তাকিয়ে মনে হয়, ভুল করেননি। সাহিত্য পাঠের স্বাধীনতা তাঁর অক্ষুণ্ণই থাকে। বাড়তি যোগ হয় ইতিহাসের ব্যাপ্তি ও দূরান্বয়ী দৃষ্টি। বিশ্বাস, কর্মজীবনে তাঁকে কখনো আফসোস করতে হয়নি। এই বইতেও দেখি ভাষার কমনীয়তার সঙ্গে আতিশয্যহীন অনাচ্ছন্নতা। ইতিহাস ও সাহিত্যের সমন্বিত প্রভাব। তার গরিমায় আমরা মুগ্ধ। পূর্ণ ব্যক্তিত্বে তিনি ধরা দেন।
তাঁর দেখা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলো এখানে আঁকা। বিন্দুমাত্র অতিরঞ্জন নেই। যাঁদের কাছে পড়েছেন, যাঁরা সতীর্থ ছিলেন, তাঁদের পরিচয়ও মেলে। যেন একটানা ছবি। এবং সবই তিনি যেমন দেখেন, তেমন। তাতে কোনো কপটতা নেই। মালিন্যও নেই। অস্থিতিশীল দেশের রাজনৈতিক অবস্থা। তার ছাপও পড়ে। তবে তিনি তাতে সক্রিয় নন। যদিও গণজাগরণ ও প্রগতির পক্ষে তাঁর অনুচ্চারিত মনোভাব একেবারে অস্পষ্ট থাকে না। এছাড়া যা চমৎকৃত করে, তা হলো, তাঁর অসাধারণ স্মরণশক্তি। আপন পরিসরে যা ঘটে, যা দেখেন, সবই তিনি মনে রাখেন। কিছুই হারিয়ে যায় না। চেনাজানা কেউ না। সব মিলিয়ে তারা বইটিতে অন্তরঙ্গতার স্বাদ দেয়। মনে হয়, যেন এই তো সেদিন!
পরের কথা তাঁর ‘পাঁচালির শেষ কথা’। লন্ডনে পৌঁছুনো, বিয়ে, পড়াশোনা, ফিরে আসা, দুজনেরই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনায় যোগ দেওয়া, আবার গিয়ে ছেষট্টি সালে তাঁর ডক্টরেট করে আসা, দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা, শহীদ-ডক্টর জোহার কথা, মুক্তিসংগ্রাম, আটকেপড়া জীবনের আতঙ্ক, স্বাধীনতা, এ সবের কথা তিনি বলে গেছেন একটানা। অনেকটা প্রামাণ্যচিত্রের মতো। আগের পরিচ্ছেদগুলোর মতো নিচে থেকে বা ভেতর থেকে দেখা নয়। ফলে একটু ভিন্ন রকম লাগে বইকি! তবে এখানে তাঁর বাবার পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পদ থেকে স্বেচ্ছা-অবসরে যাওয়ার যে-কাহিনি তিনি শুনিয়েছেন, তা পড়ে ওই আত্মমর্যাদাসম্পন্ন মহান ব্যক্তিটিকে মনে করে শ্রদ্ধায় মাথা নোয়াই। কন্যা লিখছেন : ‘পাক-ভারত যুদ্ধ শেষ হবার কিছুদিন পর আববা আমাদের (লন্ডনে) চিঠি লিখে জানান যে, তিনি স্বেচ্ছায় অবসর নিয়েছেন এবং একটি বিদেশি পুস্তক প্রকাশনা সংস্থায় চাকরি করছেন। অবসর গ্রহণ করার পর তিনি অনেক মুক্তবোধ করছেন। ১৯৬৬ সালে দেশে ফিরে আম্মা ও আপাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করে জানতে পারি যে, Intelligence Branch-এর একজন পদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে আববা ১৯৬৫ সালের আগে হতে বুঝেছিলেন যে সামনের দিনগুলোতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরো উত্তাল হতে চলেছে। একজন পুলিশের কর্মকর্তাকে সে ধরনের বিপর্যয় ঘটলে অনেক বিবেকহীন কাজ করতে হবে এবং অসত্য কথা বলে পাকিস্তানি শাসকদের নির্দেশে বাঙালি রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণ করতে হবে। তিনি একজন বিবেকবান মানুষ ও বাঙালি। উচ্চপদ ও অর্থের প্রলোভনে তিনি তাঁর মানবিক সততা ও বাঙালি সত্তা বিসর্জন দিতে পারেন না। তাই তিনি স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেছেন।’
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় হোসেন দম্পতি সপরিবারে দেশেই আটকা পড়েছিলেন। প্রফেসর এ.বি. এম হোসেনকে যে একাধিকবার সামরিক বাহিনীর লোকেরা তুলে নিয়ে গিয়ে ভয় দেখায়, আর উপাচার্য প্রফেসর সাজ্জাদ হোসেন জেনেও যে শুধু উদাসীন থাকেন, তাই নয়, এমন ঘটনার জন্যে সবসময় প্রস্ত্তত থাকাই উত্তম, এই বলে শাহানারা হোসেনকে বিদায় করেন, এ-কথার উল্লেখ বইটিতে পাই। পড়ে এখনো গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে।
বইটি নিঃসন্দেহে বাংলায় স্মৃতিকথা পর্যায়ে সেরা তালিকার একটি। আরো উল্লেখযোগ্য এখানে নারী লেখকদেরই প্রাধান্য। তাঁরা কি প্রকৃতিগতভাবে বেশি অনুভূতিশীল? অথবা এমনকি হতে পারে, তাঁদের মনে বলার কথা জমে অনেক, যা প্রকাশের সুযোগ তাঁদের হয় না? বাংলা ভাষায় এমন প্রথম বই এবং অন্যতম সেরা, আমার জীবনকথা – লেখক, রাসসুন্দরী দেবী পাবনার পোতাজিয়া গ্রামের এক অখ্যাত মহিলা, যিনি বাড়ির ছেলেদের পড়া শুনে শুনে আর অক্ষর পরিচয় অনুকরণ করে, নিজে লেখা শেখেন। এবং আত্মগোপনে। এখন এ জাতীয় যেসব বই মনে দাগ কাটে তাদের ভেতর অবশ্যই থাকবে হামিদা খানমের ঝরা বকুলের গন্ধ ও অলকনন্দা প্যাটেলের পৃথিবীর পথে হেঁটে। শাহানারা হোসেনের এই বইতে হামিদা খানমের বিনম্র উল্লেখ আছে। এঁরা তিনজনই প্রতিভাময়ী ও উচ্চশিক্ষিত। বিশ্ববিদ্বৎসভায় অতি শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয় তাঁদের নাম। আরো বলবার, তিনজনেরই বাড়ি এই বাংলায়। তাঁদের স্মৃতিতে রয়ে গেছে কলকাতাও। এঁদের লেখার আলাদা আলাদা আবেদন আমাদের চেতনাকে ঋদ্ধ করে, দৃষ্টিকে প্রসারিত করে। আমাদের সশ্রদ্ধ অভিবাদন এঁদের প্রাপ্য।বেলাশেষের পাঁচালিতে সবশেষে আছে ছবির অ্যালবাম। লেখা যেখানে সমাপ্ত, তার পরের পর্বের কিছু নিদর্শন বেশকটি ছবিতে আছে। লেখকের জীবন-সংক্ষেপও তাঁর কৃতি মেলে ধরে। তা সামান্য নয়।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1390)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
-
▼
2019
(6282)
-
▼
August
(1053)
-
▼
Aug 08
(54)
- রিফাতের পাশাপাশি নয়ন বন্ডের সঙ্গেও শারীরিক সম্পর্ক...
- ভারত কর্তৃক অধিকৃত কাশ্মীরের স্ট্যাটাস বদলের অর্থ কি
- মানবপাচারের ঝুঁকিতে ১৫ লাখ নেপালি
- ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করছে পাকিস্তান, বাণিজ...
- আমির কন্যার ফটোশুট নিয়ে হইচই
- মিয়ানমারের নিজস্ব স্যাটেলাইট এখন কক্ষপথে
- কাশ্মিরে উত্তেজনা: শতাধিক রাজনৈতিক নেতা-কর্মী গ্রে...
- ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্পেশাল মশার কামড়! by ফাওজিয়া ফার...
- কাশ্মীর: আমরা স্বাধীনতা হারালাম- বলছেন বারামুলার ক...
- কাশ্মীর: বিশেষ মর্যাদা বাতিল নিয়ে কি বলছে কাশ্মীর...
- কোণঠাসা কাশ্মিরিরা, বিরোধপূর্ণ অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ কঠ...
- কোরবানির গোশতের সামাজিক বণ্টন কি জায়েজ? by মুফতি ম...
- ডেঙ্গু রোগীদের সর্বত্রই ভোগান্তি: হাসপাতাল থেকে হা...
- উজানী by জাকিয়া সুলতানা
- শাহানারা হোসেনের বেলাশেষের পাঁচালি by সনৎকুমার সাহা
- বই: বাংলাদেশের আকাশ; কবিতায় প্রিয় বঙ্গবন্ধু by শিউ...
- কাবা শরিফের নতুন গিলাফ হস্তান্তর, বদলানো হবে ১০ জিলহজ
- এবার রাখির হানিমুনের ছবি ভাইরাল
- ভারত শাসিত কাশ্মীরের কোন খবর পাওয়া যাচ্ছে না, যোগ...
- আগস্টে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ হাজার ছাড়ালো
- এবার পশ্চিমবঙ্গ ভাঙার দাবি
- ক্ষুদ্র প্রাণী মশা ‘ভয়ংকর’ দংশনে হতে পারে মারাত্মক...
- জিম্বাবুয়ে ২৫ লাখ মানুষ অনাহারে দিন কাটাচ্ছে
- এক দুর্ধর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর অভিনব কৌশল
- ঠিক কী কী বদলে যাচ্ছে ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে by ...
- জম্মু ও কাশ্মির নিয়ে পাকিস্তানের সাথে ভারতের বিরোধ...
- বিবিসি বাংলাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা: 'একটা শ্র...
- ডিজিটাল হাটে মেসি–টাইগার–টাইটানিক by মো. মিন্টু হোসেন
- ফ্রান্স সেনাবাহিনীর সহায়তায় এবার কল্পকাহিনির লেখকেরা!
- এনআরসি পুনর্যাচাই আতঙ্কে আসামের মানুষ
- ডেঙ্গু সচেতনতায় পান্ডুঘরের প্রচারণা
- ভিআইপি সংস্কৃতির বেদিতে বলিদান by সাজেদুল হক
- পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে তীব্রগতির উল্কাপিণ্ড
- আসন্ন আফগান চুক্তি কেন পাকিস্তানের জন্য বিজয় by সা...
- হিজড়ারা কি আসলেই মগেরমুল্লুক পেয়েছে? by মানসুরা হো...
- কাশ্মীর নিয়ে ভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে মোদি সরকারের by...
- ১ টনের বুদ্দু বাবু
- রেল স্টেশন থেকে তিন বছরের শিশুকন্যাকে চুরি করে নিয...
- বাংলাদেশের অব্যাহত উত্থান
- ভুল বা সত্য যাই হোক, মোদির রাজনৈতিক বিবেচনাবোধ নিয়...
- বরগুনা হত্যাকাণ্ড: মাদক, রাজনৈতিক প্রভাব আর ক্ষমতা...
- ৬ মাসে প্রায় ৪০০ শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টার শিকার...
- খেলাপি ঋণের পাহাড় by আশরাফুল ইসলাম
- সুদান সঙ্কট: খার্তুম নিয়ে কেন আগ্রহ রিয়াদ থেকে ক...
- ভারত-চীন পানিযুদ্ধ: নয়াদিল্লির ঘুম কেড়ে নিতে পারে ...
- যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সেনাদের কাছে গুয়েতামালার এক ...
- চট্টগ্রামের পাঁচ জয়ীতার গল্প
- কেন কানাডায় আশ্রয় চেয়েছেন জানালেন বিচারপতি সিনহা
- 'ইনসটেক্স' ইরানের সঙ্গে ইউরোপের রাজনৈতিক খেলার হাত...
- ৩৭০ ধারা বাতিল: দুই ভাগ হলো কাশ্মির, উত্তপ্ত রাজ্যসভা
- আফগানিস্তানের জন্য মৃত্যুর মূল্য নেই by ড্যানিয়েল ...
- মধুচক্রের পর্দা ফাঁস, পুলিশের হাতে মডেলদের তালিকা
- যে কোনও মুহূর্তে ভূমিকম্পে কেঁপে উঠতে পারে কলকাতা...
- তালেবানের সঙ্গে আমেরিকার সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে উদ্ব...
-
▼
Aug 08
(54)
-
▼
August
(1053)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
স্বাস্থ্য
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
জীবনযাপন
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
ইয়েমেন
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
Exclusive
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
জনস্বাস্থ্য
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
জোহরান মামদানি
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
ইহুদি
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment