Thursday, October 30, 2014
আধুনিকতা অনাধুনিকতা by ফরহাদ মজহার
আধুনিকতা অনাধুনিকতা by ফরহাদ মজহার
Thursday, October 30, 2014
Anonymous
অর্থনীতি,
আলোচনা,
জাতীয়,
নয়া দিগন্ত,
ফরহাদ মজহার,
মতামত,
রাজনীতি
আমি ‘আধুনিক’ নই। এর মানে এই নয় যে আমি
অনাধুনিক। কিম্বা আমি অনাধুনিকতাকে মহিমান্বিত করতে চাই। আধুনিক যুগের
আবির্ভাবের আগে প্রাক-আধুনিক যুগ নামক যদি কিছু থাকে সেখানে প্রত্যাবর্তন
করার ইচ্ছা বা সংকল্প কোনোটিই আমার রাজনীতি না। আমি কোথাও প্রত্যাবর্তন
করছি না, ফিরছি না; বরং আধুনিকতা/অনাধুনিকতার বিভাজন অতিক্রমের চেষ্টা
করছি। যে কারণে আমি আধুনিকতা বনাম অনাধুনিকতা এই দুইয়ের একটিকে মহিমান্বিত
করে অপরটির বিরুদ্ধে দাঁড়াই না। বরং চিন্তা ও চর্চার যে অভ্যাস এই ধরনের
বিভাজন তৈরি করে, সেই অভ্যাস থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে চাই। চিন্তা যেন
সপ্রাণ ও সজীব থাকার চেষ্টায় বিরতি দিয়ে কোনো একটা ‘মত’ বা বদ্ধমূল
সিদ্ধান্তে পর্যবসিত না হয় সেটাই আমার সাধনা। চিন্তায় বিরতি না দেয়াই
বিভাজনের ফাঁদে পা না দেয়ার প্রধান শর্ত। এ ধরনের বিভাজনের মধ্যে নিজের
তৈরি কাদাজলে খাবি খেতে চাই না। সেই বিপদ থেকে নিজেকে সন্তর্পণে রা করে
ভাবতে চেষ্টা করি মানবেতিহাসের গন্তব্য ভিন্ন কোনো জায়গা থেকে ভাবা সম্ভব
কি না। গন্তব্য আগাম নির্ণয় করে নিচ্ছি না, বর্তমানে বসে বর্তমানের মধ্যেই
সম্ভাবনা বিচার করতে চাইছি। আমরা যা হয়েছি আর যে দিকে যাচ্ছি, সেটা তো
বুঝতেই পারছি। পুঁজিতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থার মধ্যে কী হয়েছি, আর কোনো দিকে
যাচ্ছি সেটা বোঝার পর যারা মনে করেন পুঁজিতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থাই
মানুষের একমাত্র নিয়তি, আমি তাদের কাতারে না। শুধু যুক্তি বা ইতিহাস বিচার
করে নয়, এমনকি আমার নিজের স্বভাবের ভেতর থেকে কেউ একজন নিরন্তর বলতে থাকে
পুঁজিতান্ত্রিক সম্পর্কের মধ্যে মানুষের যে রূপ আমি দেখছি সেটাই তার শেষ
অবস্থা নয়। মানুষের এই দুর্দশা কেন সেটা বুঝতেই আমি ধর্ম, দর্শন,
অর্থশাস্ত্র, বিজ্ঞান ইত্যাদির দ্বারস্থ হই। এই সকল শাস্ত্র পাঠে এতটুকু
অনায়াসেই বুঝি এটাই মানুষের নিয়তি এটা বিশ্বাস করা কঠিন। তাই ভাবতে চেষ্টা
করি, যে পথ মানুষকে এই দুর্শার পথে নিয়ে এসেছে সে পথ পরিহার করে ভিন্ন পথ
নেবার সম্ভাবনা মানুষের মধ্যে আছে কি? যদি থাকে তাহলে তা কিভাবে বিরাজ করে।
কিভাবে তার রূপায়ন বা বাস্তবায়ন সম্ভব। এই বিবেচনা থেকেই বারবারই আমি
বৈপ্লবিক চিন্তা-চেতনার রণনীতি ও রণকৌশলে আগ্রহান্বিত হই। এত দিন মানুষের
অপার সম্ভাবনায় আমার আস্থা যেহেতু কমে নি, বরং বেড়েছে, অতএব যে কোনো
বৈপ্লবিক রূপান্তরের আকাক্সায় আলোড়িত না হওয়া আমার পে অসম্ভব। অতএব বর্তমান
‘আধুনিক’ যুগই মানুষের শেষ গন্তব্য, আর এখানেই ইতিহাসের শেষ ইস্টিশান এটা
আমি মানি না। কিন্তু ‘না’ বললে সমস্যা মেটে না, বাড়ে। প্রশ্ন হচ্ছে এই
যুগকে অতিক্রম করে যাবার ত্রেগুলো শনাক্ত করব কিভাবে?
দুই.
পুঁজিতান্ত্রিক আধুনিক বিশ্বব্যবস্থার এই যুগকে অতিক্রম করতে হলে প্রথমেই দরকার পুরানা চিন্তার অভ্যাস ত্যাগ করা। পুরানা চিন্তার অর্থ হচ্ছে আধুনিক ও অনাধুনিকতার বিভাজনকে বিচারের মানদণ্ড জ্ঞান করে আধুনিকতার পে সাফাই গাওয়া। চিন্তাহীনতার এরচেয়ে আর ভালো নজির হতে পারে না, যা সামনে হাজির তাকেই নির্বিচারে গ্রহণ করার চেয়ে অজ্ঞানতা বা জাহেলি আর কিছুই হতে পারে না। পরীা-নিরীার, উদ্ভাবনের কিম্বা নতুন ভাবে চিন্তা করবার কোনো দায় নেই। চিন্তায় বিরতি দিয়ে যে মত সমাজে প্রবল তাকেই সত্য বলে নির্বিচারে মেনে নেয়ার চিন্তাশীলের কাজ হতে পারে না। নতুন ভাবে চিন্তা নিছকই দর্শনের প্রশ্ন নয়। সরাসরি রাজনীতিরও প্রশ্ন। কী করতে হবে তার হদিস চিন্তাশীল ভাবনাই দিতে সম। কোনো আগাম বানানো মতাদর্শ, ছক বা পাথরে খোদাই করা কর্মসূচি নয়।
যারা গন্তব্য আগাম নির্ণয় (teleology) করে ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবাকে দার্শনিক কারণে গ্রহণযোগ্য মনে করেন না, তাদের কাছে একই প্রশ্ন ভিন্ন ভাবে তোলা যাতে পারে। যেমন, নিজেদের বিগত ইতিহাসের ফল হিসাবে আমরা এখন যেভাবে নিজেদের দেখছি, জানছি বা বুঝছি এটাই মানুষের সর্বশেষ রূপান্তর কি না। পুঁজিতান্ত্রিক সম্পর্ক আমাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার বাইরে আমাদের নিরন্তর তৈয়ারি করছে। পুঁজির ইচ্ছা হয়ে উঠছে আমাদের ইচ্ছা ও সংকল্প। টেলিভিশনের বিজ্ঞাপন হয়ে উঠছে আমাদের কামনা, বাসনা ইত্যাদি। আমাদের অজান্তে টেকনলোজি আমাদের ইন্দ্রিয়, বুদ্ধি ও চিন্তার ধরন বদলে দিচ্ছে; মতা কখনো রাষ্ট্রের রূপ নিয়ে, কখনো মতাদর্শের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে মাথা ধোলাই করছে; দৈনন্দিন জীবনের আরো নানান কারিগরি ও কারবারের মধ্য দিয়ে আমরা বদলে যাচ্ছি। আমরা কি টের পাই? বুঝি?
এই পরিস্থিতিতে ‘মানুষ’ নামক ভিন্ন কোনো কর্তাসত্তার চিন্তা সম্ভব কি না, সেটা আমি ভাবি। এমন এক কর্তা যে বিদ্যমান ব্যবস্থার বাইরে দাঁড়িয়ে ইতিহাস ও বর্তমানকে বিচার করতে পারে? কী ‘আছে’ আর কী করা ‘উচিত’ এই দুইয়ের মধ্যে ফারাক করতে সম হয় যেন বর্তমান থেকে বেরিয়ে গিয়ে নতুন বর্তমান নির্মাণ করা মানুষের পে সম্ভবপর সেটা সে প্রমাণ করতে পারে। শুধু জ্ঞানের কর্তার কথা বলছি না, ইতিহাসের কর্তা মানে কী, সেটাই আমি বুঝতে চাই।
তিন.
এই ধরনের কর্তাসত্তার অনুমান করা এবং বাস্তবে তার আবির্ভাব নিশ্চিত করা সহজ নয়। কথাগুলো তুলছি এ কারণে যে অনেকেই বিদ্যমান ব্যবস্থার বাইরে দাঁড়িয়ে বিদ্যমান ব্যবস্থার বিচার এমন তার রূপান্তর ঘটাতে সম এমন কর্তাসত্তার অস্তিত্ব সম্ভব এটা মানতে রাজি না। একদল মনে করে মানুষের বৈষয়িক জীবন বা বিদ্যমান ব্যবস্থাই মানুষ কী করতে পারে বা না পারে তা নির্ধারণ করে। এই েেত্র তার বৈষয়িক বা রক্তমাংসের অস্তিত্বের বাইরে এমন কোনো সত্তা নাই যে বিদ্যমান ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে রূপান্তরের জন্য লড়তে সম। আমি মনে করি বৈপ্লবিক কর্তাসত্তা শুধু বিদ্যমান ব্যবস্থার দ্বন্দ্ব-সংঘাত থেকে তৈয়ার হয়, এই অনুমানকে পর্যালোচনার অধীন করা জরুরি। কথাটার মানে বোঝা জরুরি একটি কাজ। বৈপ্লবিক কর্তাসত্তার উদ্ভব ও চরিত্র আমার আগ্রহের বিষয়। তাকে যেমন, বস্তু ও বিষয়জ্ঞানে ইহলোকিকতার মাপজোখ দিয়ে নির্ণয় করা অসম্পূর্ণ মনে হয়, তেমনি বর্তমান দ্বন্দ্ব-সংঘাতের মধ্য দিয়ে তার আবির্ভাব কোনো বিধিবিধান মেনে চলে এটা মেনে নেওয়াও কঠিন। এই এক আধ্যাত্মিকতা যাকে ধর্মতত্ত্ব দিয়ে বোঝা যেমন কঠিন, অন্য দিকে ইতিহাস ও সমাজতত্ত্ব দিয়ে নির্ণয় করাও সমুদ্রের মধ্যে লবণের কণা অনুসন্ধানের মতো ব্যাপার। এ কালের দর্শন এই কর্তাসত্তাকে কোনো খাপে ফেলতে না পেরে এর নাম দিয়েছে রাজনৈতিক আধ্যাত্মিকতা (Political Spirituality)।
চার.
দাবি করা হয় আধুনিক বিশ্বব্যবস্থায় কেউ আধুনিক অথবা অনাধুনিক। হয় কেউ প্রগতির পে অথবা প্রতিক্রিয়াশীলতার। এই দুই খাপের বাইরে নাকি যাওয়া নিষেধ। তো এই নিষেধ আমি অমান্য করে চলেছি। যারা আধুনিকতার পূজারি তাদের কাছে ‘প্রগতি’র অর্থ বর্তমানকে মেনে নেওয়া। বর্তমানের বিরুদ্ধে তাদের নালিশ বা আপত্তি নেই তা নয়, কিন্তু তারা আধুনিকতার পরিমণ্ডলে সেই নালিশের মীমাংসা খোঁজে। যেখানে যেখানে আপত্তি আধুনিকতার সেই জায়গাগুলো শুদ্ধ করে নিতে চান। সেটা সংস্কারমূলক হোক কিম্বা বৈপ্লবিক কায়দায়, কিন্তু বিধান হচ্ছে আধুনিকতার গোড়ার ভিত্তি ঠিক রেখেই সেটা করতে হবে। ফলে আমি যে রাজনীতির কথা বলি সেখানে প্রগতিবাদীদের সঙ্গে যেমন মেলে না, তেমনি স্বঘোষিত প্রগতিবাদীদের মানদণ্ডে যারা প্রতিক্রিয়াশীল চিহ্নিত হয়েছেন তাদের সঙ্গেও নয়। কারণ আধুনিকতার বিরুদ্ধে অনাধুনিকতা কায়েম আমার রাজনীতি না। যে অনুমান, জ্ঞানগত ভিত্তি ও ঔচিত্যবোধ ‘আধুনিকতা’ নামক বর্তমানকে পয়দা করেছে, তাকে আমি মানুষের কাম্য জ্ঞান করি না শেষ গন্তব্য তো নয়ইÑ আমার কাজ তাকে বদলে দেওয়া। নিদেনপে আদৌ তা সম্ভব কি না সেটা যাচাই করে দেখা। তার জন্য বিভিন্ন দিক থেকে কাজ করা। অতএব ধর্ম, দর্শন, কাব্য, শিল্পকলা, গান, সিনেমা, নাটক ইত্যাদির প্রতি আমার আগ্রহ তুমুল। একই সঙ্গে বর্তমানের মুখে তুড়ি মেরে যে জীবন একা, নিঃসঙ্গ ও দ্রোহী সেই জীবনের প্রতি আমি একাত্ম বোধ করি। যদিও চোর থালা চুরি করে নিয়ে গিয়েছে চোরের ওপর রাগ করে থাকা আমার পথ নয়। আমি আজ বিরাগী নই। সমাজ আমাকে সমাজছাড়া করতে চাইলেও আমি সমাজত্যাগী হতে চাই না। অন্য দিকে দ্রোহী হতে গিয়ে নৈরাজ্যবাদীও নয়। সব কিছুতেই ‘না’ বলা, শূন্যতার পূজা বা নিহিলিস্ট হওয়া আমার ধাতে নাই। সকল প্রকার মূল্যবোধে আস্থা হারানো বা তাদের বিসর্জন দিয়ে সুপারম্যান হওয়াও আমাকে আকৃষ্ট করে না। আমার মনে হয় এ সবই চরম ব্যক্তিতান্ত্রিক সমাজের পরিণতি। কিন্তু তাই বলে আমি ব্যক্তিকে অস্বীকার করি না, ব্যক্তির আবির্ভাবও আমার কাছে এক ধরনের আধ্যাত্মিক ঘটনা বলেই মনে হয়, কারণ এই আবির্ভাবের কোনো বস্তুবাদী ব্যাখ্যা সম্ভব না। যা হাজির হয়ে গিয়েছে ও বর্তমান তাকে এখন আমি অস্বীকার করি কিভাবে? বরং যে সমাজে মানুষ একই সঙ্গে ব্যক্তি ও সামাজিক সেই সমাজের সন্ধান আমি করি। ব্যক্তিতান্ত্রিক সমাজের বিরুদ্ধে পাল্টা লড়ি। কিন্তু সে লড়াই লড়তে গিয়ে ব্যক্তির পাবলম্বনও করি। ইচ্ছা, কামনা, বাসনা, বিদ্রোহ ও নিজের জীবন অনায়াসে ঝুঁকিতে ফেলতে পারার মতাসম্পন্ন এই ব্যক্তি সে এক রহস্যময় ব্যাপার। বিস্ময় যে ব্যক্তির মধ্যেই বৈপ্লবিক কর্তাসত্তার আবির্ভাব ঘটে, যার সামাজিক ও ঐতিহাসিক হওয়ার ব্যাপারটা পরের বিষয়। অতএব সব ধরনের ব্যক্তি আমার আগ্রহের বিষয়। বিশেষত সমাজের প্রান্তে তাড়িয়ে নিয়ে গিয়ে যে মানুষগুলোকে সমাজ, আইন ও রাষ্ট্র অদৃশ্য ও অবাঞ্ছিত করে রাখেÑ আইনবহির্ভূত যাদের মেরে ফেলতে আমাদের নীতিনৈতিকতাতে বাধে নাÑ তাদের প্রতি আমার আগ্রহও চরম। রাষ্ট্র ও আইন কিভাবে আমদের জীবমাত্রে পরিণত করে, ফাঁসিতে ঝোলায়, গুলি করে লাশ বানায়, আইন ও জীবজীবনের এই মাঝখানের জমিনটুকু আমি চিন্তে চাই, অন্বেষণই আমার ধর্ম।
পাঁচ.
ঠিক। আমার বিরুদ্ধে প্রগতিবাদীদের অভিযোগের প্রধান একটি কারণ হচ্ছে ধর্ম। আমি ধর্মে উৎসাহী, আগ্রহী। ধর্ম আমার কাছে পরিত্যাগের বিষয় নয়। আধুনিকতার কালে এসে ধর্ম বা ধর্মতত্ত্ব তার গুরুত্ব হারিয়েছে, তার কিছু দেবার নাইÑ এমন আমি মনে করি না। নিজেকে যেমন নিজে ত্যাগ করতে পারি না, ধর্ম ও ধর্মতত্ত্বও তেমনি। তবে আধুনিকতার কালে ধর্মের উপস্থাপন ও তাৎপর্য ভিন্ন। ভিন্ন বলে তা ধর্ম বা ধর্মতত্ত্ব কি না নাকি নিছকই মতাদর্শ তা নিয়ে তর্ক হতে পারে। কিন্তু তারা বহাল তবিয়তেই আছে। থাকবে। একসময় দাবি করা হোত আধুনিকতার প্রাবল্যে ধর্মের লয় ঘটবে। আধুনিক হলে মানুষ বিভিন্ন কুসংস্কার থেকে মুক্ত হয়ে ধর্মের কুপ্রভাব থেকে মুক্ত হবে। ধর্মের শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে সেটা ঘটেনি। এই ধারণার পেছনকার অনুমান হচ্ছে আধুনিকতা মানেই ধর্মহীনতা। এই অর্থে আধুনিকতার কারণে ধীরে ধীরে মানুষ যুক্তিবাদী হবে, ধর্ম শুকিয়ে মরবে। কিন্তু ধর্ম লোপ পাওয়া দূরে থাকুক, ফিরে এসেছে আরো শক্তি নিয়ে। এখন পাল্টা অভিযোগ উঠেছে খোদ ‘আধুনিকতা’ই কুসংস্কার। সংস্কারের মধ্যে কোনটা ‘কু’ আর কোনটা ‘সু’ সেই তর্ক আমার জন্য অর্থহীন। নীতিবাগিশগিরি আমার কর্তব্য না। নীতিবাদিতা মতা চর্চার অংশ। মতার বিচার ছাড়া নীতির মর্ম ঠাহর করা মুশকিল। আর সেটা করতে হলে আমাকে দর্শনে ফিরে আসতেই হয়। নতুন করে বর্তমানকে পর্যালোচনার দরকারে। মানুষের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে আমরা নিজ নিজ অবস্থান ও কর্তব্য নির্ণয় করি। আমি কিভাবে সেটা নির্ণয় করা হোল, তার অনুমান ও ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলি। কারণ বিদ্যমান অনুমান বা চিন্তার ভিত্তির বাইরেও ভিন্ন অনুমান ও ভিত্তি থাকতেই পারে। আমার অন্বেষণ এই প্রশ্ন দিয়েই শুরু হয়।
ছয়.
আমার কাছে ধর্ম দার্শনিক অন্বেষণের বিষয় তো বটেই একই সঙ্গে রাজনীতিরও। এ ছাড়া বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্ম ইসলাম সম্পর্কে আমার আগ্রহ থাকা খুবই স্বাভাবিক। বাংলাদেশের মানুষকে বুঝতে গেলে ইসলাম বোঝা আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমি মনে করি, বাংলাদেশের বাস্তবতায় ইসলামের উপস্থিতির চরিত্র ও চর্চার ধরনই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ণয় করবে। সেটা আমাদের ইচ্ছা অনিচ্ছার ওপর নির্ভর করবে না। প্রশ্ন হচ্ছে এই চর্চার চরিত্রে আমরা এমন কিছু ছাপ ফেলতে পারি কি না যা বর্তমানকে অতিক্রম করে যাবার অনুকূল হবে। সাম্রাজ্যবাদের ধ্বংস ও পুঁজিতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থার বিনাশের পরে যে নতুন জগত গড়ে উঠবে এবং উঠতে বাধ্য, সেই জগতের নির্মাণে ইসলামের ভূমিকা কী হবে? কিম্বা কী হতে পারে? ইসলামের আবির্ভাব মুহূর্তে চিন্তার এমন কোনো প্রকাশ ছিল কি না যার হদিস নেয়া ছাড়া বর্তমান অতিক্রম করে যাওয়া নতুন জগতের কল্পনা অসম্ভব হয়ে ওঠে? ইসলামের রাজনৈতিক প্রস্তাব ও সংকল্পে বৈশ্বিক ও সার্বজনীন কী ছিল, যার পাশে আধুনিকতার সার্বজনীনতা ও বৈশ্বিকতাকে প্রাদেশিক দাবির অধিক কিছু মনে হয় না। কী সেই উপলব্ধি, অভিজ্ঞতা বা সত্য যা সকল প্রকার নিহিলিজমকে অসম্ভব করে তোলে? ইসলাম কিসের ‘স্যা’ দেয়? মানুষের জীবনের যদি কোনো অর্থই না থাকে তাহলে কিসের সমাজ? কিসের ইতিহাস? কিসের রাজনীতি? এই প্রশ্নগুলো গোলকায়নের এই কালে আমরা আগের চেয়েও আরো তীব্র ভাবে শুনতে পারছি, আগে প্রশ্নগুলোর তাৎপর্য এখনকার মতো স্পষ্ট ছিলনা? নিজের ইতিহাস কিম্বা ঐতিহ্য থেকে ইসলাম এই সকল প্রশ্নের মীমাংসার েেত্র কিছু যোগ করতে পারবে কি না, কিম্বা নতুন নির্মাণের ভিত্তি চেনা ও বিকশিত করে তোলার েেত্র ইসলাম আদৌ নতুন চিন্তার সহায়ক কি না সেটা খোলা মনে আমি খুঁজে দেখতে বদ্ধপরিকর। সংেেপ, আধুনিক/অনাধুনিকের বিভাজন অতিক্রম করে বাংলাদেশে ইসলাম আদৌ কোনো নতুন চিন্তা ও চর্চার দিশা দিতে পারবে কি না সেটা নিরীণ ও বোঝা। অতএব আমি আমার চিন্তা ও তৎপরতার জায়গা থেকেই জরুরি কর্তব্য বলে গণ্য করি। এতে কোনোই সন্দেহ নেই।
সাত.
আমি কার্ল মার্কসের ছাত্র। তাঁর গুরু হেগেলের কাছ থেকেই আমি শিখেছি যে ধর্ম বা ধর্মতত্ত্বের মধ্য দিয়ে যা চর্চা হয় সেটাও চিন্তা। মানুষেরই চিন্তা। ধর্মতত্ত্ব দর্শনের মতোই সমান গুরুত্বপূর্ণ চিন্তা। অবশ্যই। দর্শনের সঙ্গে তার পার্থক্য হচ্ছে তার উপস্থাপনার রূপে। অর্থাৎ মানুষের নিজ নিজ অভিজ্ঞতাকে হাজির করবার েেত্র চিন্তার নিজের একটা বিশেষ ধরন আছে; চিন্তা নিজের স্বরূপে নিজেকে হাজির না করলে শুধু ধর্ম কেন বিজ্ঞান, নীতিবিদ্যা বা রাষ্ট্রতত্ত্ব কোনো কিছুকেই ‘দর্শন’ বলা যায় না। হেগেল প্রটেস্টান্ট ধর্মকে দার্শনিক জায়গা থেকে পাঠ করেছেন। তাহলে ইসলামকে দর্শনের জায়গা থেকে বোঝার একটা কর্তব্য বাংলাদেশের জনগণের রয়েছে। সে কর্তব্যে আমি লিপ্ত আছি, থাকতে চাই। অর্থাৎ ধর্ম ও ধর্মতত্ত্ব অবশ্যই দর্শন ও রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মার্কস, লেনিন বা অ্যাঙ্গেলস কিভাবে ধর্মের মোকাবিলা করেছেন সেটা আমি ‘মোকাবিলা’ বইতে দেখাবার চেষ্টা করেছি। একে মোকাবিলা না করে সমাজের কোনো মৌলিক রূপান্তর অসম্ভব। একে কিভাবে আমরা মোকাবিলা করছি ও আমাদের ঐতিহাসিক ভূমিকা নির্মাণে আত্মস্থ করছি তার ওপর আগামী দিনের বাংলাদেশের রাজনীতি নির্ভর করবে। কিন্তু প্রগতিবাদীরা পরিশ্রমে আগ্রহী নন। তাদের ফতোয়া হচ্ছে, আমি এককালে কমিউনিস্ট ছিলাম, এখন ইসলামপন্থী হয়েছি। আমি দোষী! ঘোড়াও হাসে!!! তাই না?
মজার ব্যাপার হচ্ছে, ইসলামপন্থীদের মধ্যে যারা ধর্ম/অধর্মের বিভাজন দিয়ে জগৎ বিচার করেন তারাও তাই মনে করেন। কমিউনিজম নাস্তিক্যবাদীদের দর্শন। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাবার পর কার্ল মার্কসসহ নাস্তিক্যবাদীদের জগৎ ভেঙে গিয়েছে। কমিউনিজমের ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে গিয়েছে। তাদের অনেকে মনে করেন, আমি এক কালে কমিউনিস্ট ছিলাম। কমিউনিজমের এই দুর্দশা দেখে আমি ধর্মে প্রত্যাবর্তন করেছি। তাদের সামনে কবি আল মাহমুদের উদাহরণ আছে। তারা এর বেশি ভাবতে সম নন। তাদের আমি দোষ দেই না। আল মাহমুদকেও নয়। কারণ এর বেশি বাংলাদেশে আমরা এখনো ভাবতে পারি না। আমার দুর্ভাগ্য, দুই পই ভুল করেন, ভুল বোঝেন। সাধারণ ভাবে বাংলাদেশের চিন্তার দৈন্যতাই এর জন্য দায়ী। আধুনিকতা ও অনাধুনিকতার যে বিভাজন আমি পরিহার করি সেই একই তাগিদে ধর্মতত্ত্ব বনাম দর্শনের বিভাজনও আমি পরিহার করে চলি। অর্থাৎ চিন্তার যে অভ্যাস এই বিভাজনকে ন্যায্যতা দেয়, আমি তা স্বীকার করি না। তাহলে আধুনিকতা ও ধর্ম নিয়ে বিস্তর কথা বলার আছে। বিষয়গুলো জটিল নয়। মুশকিল হোল, দৈনিক পত্রিকার উপসম্পাদকীয় সেই সব আলোচনার প্রশস্ত ত্রে নয়। তবে প্রথাগত চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসার অভ্যাস চর্চা না করলে এই বিষয়ে অগ্রসর হওয়া কঠিন। নিজের কৈফিয়ত হিসেবে এই কথাগুলো বলে রাখা আপাতত যথেষ্ট। তবে আধুনিকতা নিয়ে আরো দুই-একটি কথা এখানে বলা দরকার।
আট.
‘আধুনিক’ হওয়ার অর্থ নিয়ে অনেক আলোচনা হতে পারে। তবে যে অর্থের প্রতাপ সবচেয়ে বেশি সেটা হচ্ছে পাশ্চাত্যসভ্যতাকে নির্বিচারে গ্রহণ করা এবং যারা এর বিপরীতে দাঁড়ায় তাদের অসভ্য ও পশ্চাতপদ গণ্য করা। মুখে বলি বা না বলি ‘প্রগতি’র অর্থ দাঁড়ায় ইংরেজ, ইউরোপীয় বা মার্কিন হওয়ার সাধনা; তবে এই দেশগুলোর মধ্য একাট্টা একপ্রকারের সংস্কৃতি ও সভ্যতার চর্চা চলে, ব্যাপারটা তা না। কিন্তু সেভাবেই এদের দেখতে আমরা অভ্যস্ত। এই দেশগুলো বাংলাদেশের মতো অনাধুনিক (?) দেশে আধুনিকদের চিন্তাচেতনা, কল্পনা ও সংকল্পের মডেল হয়ে হাজির থাকে। চিন্তাচেতনা, পোশাক পরিচ্ছদ, গানবাজনা, খাওয়াদাওয়া, বাড়িঘর সব কিছুই পাশ্চাত্য আধুনিকতার ছকে বা মডেল মান্য করে গড়ে ওঠে। এমনকি নীতিনৈতিকতা, রাষ্ট্রব্যবস্থা ইত্যাদি সব কিছুরই প্রেরণা হয়ে দাঁড়ায় পাশ্চাত্য। আধুনিকতার সাধনা দেশে থেকে করি, কিম্বা বিদেশে পাড়ি দিয়ে তাতে বিশেষ কিছুই আসে যায় না। যারা নানান কারণে সচেতন হয়ে এর বিরোধিতা করেন, তারা আধুনিকতা, সভ্যতা ও প্রগতির ধারণা থেকে বেরিয়ে আসেন সেটা বলা যাবে না। তারা নিজের একটা ভিন্ন পরিচয় নির্মাণের চেষ্টা করেন। তার ভিত্তি হতে পারে নিজের ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্ম, ঐতিহ্য বা অন্য কিছু। নিজেকে বিদ্যমান ব্যবস্থা থেকে আলাদা ভাবা ও নিজের ভিন্ন পরিচয় নির্মাণ ও আঁকড়ে ধরে রাখার চেষ্টা করেন তারা। তবে আধুনিকতার পরিমণ্ডলের মধ্যে থেকেই আত্মপরিচয় নির্মাণ, জাতীয়তা নির্ণয় বা শত্রুমিত্র নির্ধারণ আধুনিকতার বাইরের কোনো ব্যাপার না। আধুনিকতারই অন্তর্গত বিষয়। আধুনিকতার মধ্যে নিজেকে ভিন্ন ভাবা ও নিজের আলাদা আত্মপরিচয় নির্মাণের দুটো সম্ভাব্য পরিণতি হতে পারে। এক. আধুনিকতার পরিমণ্ডলের মধ্যে নিজের স্বার্থের জায়গা হাসিল করবার কাজেই সেটা ব্যয় করা। নিজের ভিন্নতা নিয়ে ‘আধুনিক’ হয়ে থাকা যাতে আধুনিকতার মধ্যে নিজের আর্থসামাজিক ও সাংস্কৃতিক স্বার্থ রা করা যায়। এটা পাশ্চাত্য সভ্যতাকে নির্বিচারে গ্রহণ করবারই ধারাবাহিকতা। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, আধুনিকতা ও পাশ্চাত্যের একাট্টা বিরোধিতা। সেটা অসহায়ের আর্তি হয়ে গুমরে মরতে পারে, অথবা হান্টিংটন মার্কা সভ্যতার দ্বন্দ্ব তত্ত্বের ওপর দাঁড়িয়ে পাশ্চাত্যের বিরুদ্ধে লড়াই হয়েও উঠতে পারে। ‘রাজনৈতিক ইসলাম’ নাম দিয়ে যার বিরুদ্ধে পাশ্চাত্য সব শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্তযুদ্ধ হিসেবে এ কালে যা আমাদের সামনে দৃশ্যমান। ইসলামের পতাকা নিয়ে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও পাল্টা আঘাত হানার চেষ্টাও চলছে।
নয়
প্রথম ধারাকে আমরা অনায়াসেই শনাক্ত করতে পারি। যেমন, নিজের ভাষা ও সংস্কৃতিকে আধুনিক করে তোলা ও আধুনিক পরিমণ্ডলের মধ্যে স্বীকৃতি আদায়। আধুনিক বাংলা সাহিত্য ও আধুনিক বাংলা গান যেমন দৃষ্টান্ত। তেমনি, ধর্মের আধুনিকায়ন। দাবি করা যে ধর্মের সঙ্গে আধুনিক বিজ্ঞান, প্রগতি, গণতন্ত্র, আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ইত্যাদির কোনো বিরোধ নেই। দরকার ধর্মের সঙ্গে আধুনিকতার সঙ্ঘাতের ত্রেগুলো দূর করা। আধুনিকতাকে নয়, আধুনিকতার আলোকে ধর্মের সংস্কার করা। ইসলামকে ‘আধুনিক’ ও ‘যুগোপযোগী’ করে তোলা যেমন। তথাকথিত ‘ইসলামি সভ্যতা’র কল্পনা ও তার আধুনিক নির্মাণ; কিম্বা, আধুনিকতার আলোকে হিন্দু সভ্যতার ধারণা নির্মাণ; দাবি করা যে ‘হিন্দুত্ববাদ’ পাশ্চাত্যসভ্যতার স্বাভাবিক মিত্র (natural ally) ইত্যাদি। বিভিন্নতা ও বৈচিত্র্যের জগৎ থেকে তথাকথিত ‘সভ্যতার’ কাল পর্বে প্রবেশের পেছনে অনুমান হচ্ছে যারা সভ্যতার দাবিদার তারা অপরকে ‘অসভ্য’ বলে চিহ্নিত করতে ও তাদের অধীনস্থ করতে পারে এবং তা ন্যায্য। দেখা যাচ্ছে ‘সভ্যতার’ ধারণার মধ্যেই গোলমাল আছে। একে পরিহার করে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। এটা মনে রাখতে হবে তথাকথিত ‘সভ্যতা’র ধারণা আসলেই একটি আধুনিক ধারণা। এর সঙ্গে দখলদারি, উপনিবেশ স্থাপন, সাম্রাজ্যবাদ এবং এক জনগোষ্ঠীর দ্বারা অন্য জনগোষ্ঠীর দমন পীড়নের ইতিহাস জড়িত। সেই রক্তাক্ত ইতিহাস বাদ দিলে ‘পাশ্চাত্যসভ্যতা’ নামক কোনো সার্বজনীন সভ্যতার অস্তিত্ব নেই। ইতিহাস ভুলে গেলে ‘সভ্যতা’ কথাটার কোনো অর্থই দাঁড়ায় না। নিজেকে অন্যদের চেয়ে ‘সভ্য’ দাবি করার অর্থ অন্যকে বা অপরকে সামরিক ভাবে কিম্বা সার্বজনীন আইন, বিধিবিধান, নীতিনৈতিকতা কিম্বা সার্বজনীন সাংস্কৃতিক মানদণ্ডের দোহাই দিয়ে অধীনস্থ রাখার ধারাবাহিক ইতিহাস অুণœ রাখা এবং তা ন্যায্য বলে দাবি করা। সার কথা হচ্ছে যেকোনো জাতিবাদী কিম্বা সভ্যতাবাদী আত্মপরিচয় কিম্বা নিজের ধর্ম ও সংস্কৃতিকে অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ দাবি করার রাজনীতি আধুনিকতার বাইরের কিছু না। এই সব আধুনিকতারই অন্তর্গত প্রক্রিয়ার অংশ।
দশ
আধুনিকতা বা পাশ্চাত্যসভ্যতার একাট্টা বিরোধিতার আদৌ কোনো ভবিষ্যৎ আছে কি না আমি সন্দেহ করি। বিদ্যমান কোনো ব্যবস্থার পর্যালোচনা, বিদ্যমান ব্যবস্থা থেকে নিজের দূরত্ব অনুভব করা এবং সেই ভিন্নতার উপলব্ধির (intuition) তাগিদে বিদ্যমান ব্যবস্থাকে নতুন করে জানা, বোঝা, বিশ্লেষণ করার চেষ্টা এবং তাকে রাজনৈতিক ও সামরিক ভাবে প্রতিরোধ খুবই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া থেকে অবশ্যই মানুষের ভবিষ্যৎ চলার পথ কী হতে পারে তার বহু কিছুরই মীমাংসা হবে। কিন্তু সেটা বিদ্যমান ‘সভ্যতা’ বিলুপ্তি ও বিনাশ ঘটিয়ে বিদ্যমান সভ্যতা যাদের ‘অসভ্য’ ও ‘বর্বর’ বলে চিহ্নিত করে তাদের অধিষ্ঠিত করা কি না সে বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করি। কারণ এই বিভাজন অতিক্রম করাই কাজ, তাকে প্রতিষ্ঠিত করা নয়। ইতিহাসের অভিমুখ সেই দিকে নয়। আধুনিকতার প বা বিপ হয়ে আমরা একালে আধুনিকতার এই কালপর্ব অতিক্রম করে যেতে পারব না। আধুনিকতার ধারণা মাথায় রেখে কোনো নতুন প্রণোদনার আবির্ভাব অসম্ভব। অথচ বিশ্বব্যবস্থার রূপান্তর নিয়ে চিন্তা ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক নীতি ও কৌশল নিয়ে ভাবনার মানে হচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন ভাবে চিন্তা করবার মতা অর্জন করা, যেসব বিষয় এতকাল মীমাংসিত বলে ধরে নেয়া হয়েছিল সেসব কিছুকে নির্ভয়ে প্রশ্ন করতে শেখা। বলাবাহুল্য, এটাই এ কালের রাজনীতি। এই কাজকে যদি চিন্তার পরিমণ্ডলে আমরা সীমিত রাখি তাহলে আধুনিকতার পরিমণ্ডল ভাঙা কঠিন বলেই আমরা মনে হয়। সেই দিক থেকে জালিম ব্যবস্থার বিরুদ্ধে মজলুমের লড়াইয়ের েেত্রর প্রাধান্য অনস্বীকার্য। আমার লেখায় বারবার এই দিকটির ওপর এ কারণেই আমি জোর দিয়ে থাকি। অর্থাৎ বিদ্যমান ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়তে গিয়েই মানুষ নতুন ভাবে ভাবতে শেখে, অর্থাৎ সেই ভাবনাই দরকার যা একই সঙ্গে লড়াইকে তীব্র ও পরিবর্তনকে অবশ্যম্ভাবী করে তোলে। নতুন চিন্তা স্রেফ নতুন বলেই সমাজ বদলাতে পারে না, বিদ্যমান ব্যবস্থা রূপান্তরের তাগিদই মানুষকে নতুন চিন্তার প্রতি আগ্রহী করে তোলে।
এগারো
এক কালে সাম্রাজ্যবাদের অর্থনৈতিক অসাম্যের বিরুদ্ধে কমিউনিস্টরা লড়েছিলেন। এখনো লড়েন। কিন্তু এ লড়াই আধুনিকতার বিরুদ্ধে নয়। এমনকি কমিউনিজমের জন্যও নয়। সমাজতন্ত্রের জন্য। কিম্বা বলা যায়, আরো ‘আধুনিক’ হয়ে ওঠার জন্য। বাস্তবে তার যে রূপ ও নানান পরীা-নিরীা সেই পর্বের (actually existing socialism) পরিসমাপ্তি ঘটেছে। এখন সেই পর্ব আবার ফিরে আসার আর কোনোই সম্ভাবনা নাই। এটা ঠিক যে এতে কার্ল মার্কস বা বিপ্লবী রাজনীতির শিা ও অভিজ্ঞতা বাতিল হয়ে যায় নি। মার্কস পুরা মাত্রায় তার অর্থশাস্ত্র নিয়ে বহাল আছেন। প্রশ্ন ওঠে, তিনি মানবেতিহাসের যে অনিবার্য ভবিষ্যৎ অনুমান করেছিলেন, সেটাও কি তাহলে বাতিল করে দিতে হবে? আধুনিকতার অর্থনৈতিক ভিত্তি হচ্ছে পুঁজিতান্ত্রিক উৎপাদন সম্পর্ক। কিন্তু এই সম্পর্কই আবার উৎপাদন শক্তি বিকাশের পথে বাধা। এ কারণে মার্কস পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থার দ্বন্দ্ব নিরসনের কথা বলেছিলেন। এর ওপরই তাঁর কেন্দ্রীভূত নজর নিবদ্ধ ছিল। বাস্তবের সমাজতন্ত্রের ব্যর্থতার কথা বাদ দিলে আজো কমিউনিস্টদের লড়াই অর্থনৈতিক েেত্রই কেন্দ্রীভূত। সংস্কৃতি, নীতিনৈতিকতা ও রাজনীতির প্রশ্ন গৌণ। আধুনিকতার বিরোধী তারা নন, আধুনিকতার অন্তর্নিহিত অর্থনৈতিক দ্বন্দ্ব নিরসনের মধ্যেই তারা তাদের কর্তব্য নির্ধারণ করেন। এর জন্যই তারা লড়েন। যে কারণে বলা হয় কমিউনিস্ট আন্দোলন তার অনেক ইতিবাচক অর্জন সত্ত্বেও শেষ বিচারে আধুনিকতার অসম্পূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা মাত্র। তার অর্থনৈতিক ভিত্তির মুশকিল আসান। এটাই কমিউনিজমের ঐতিহাসিক রূপÑ এটাই আমরা এ যাবৎ দেখেছি। আরো নানান কারণের মধ্যে বাস্তবে চর্চিত সমাজতন্ত্রে কমিউনিজমের পতনের দুঃসংবাদ এখানেও সম্ভবত নিহিত ছিল। ইতিহাসের যে অনিবার্য অভিমুখের কথা তরুণ কার্ল মার্কসের কাছে শোনা গিয়েছিল যে,Ñ একদিন মানুষের সঙ্গে মানুষের আর ভেদ থাকবে না, এক ও অবিভাজ্য মানুষের ‘সমাজ’ একদিন গঠিত হবেÑ এই প্রতিশ্রুতিই সবাইকে উজ্জীবিত করেছিল। এখনো করে। কিন্তু পরবর্তীকালে অর্থনৈতিক তত্ত্বের ভারে তরুণ স্বপ্নদর্শী মার্কস চাপা পড়ে গিয়েছেন। জন্ম নিয়েছে উৎপাদনবাদী কার্ল মার্কস। উৎপাদন শক্তির নির্বিচার বিকাশ মানবেতিহাসের পরমার্থ এই দাবি নিয়ে বাস্তবে গড়ে ওঠা কমিউনিজম নিয়ে এ কালে নানান দিক থেকে এখন প্রশ্ন উঠেছে। উৎপাদন শক্তির নির্বিচার বিকাশই কার্ল মার্কস চেয়েছেন কি না তা নিয়ে তর্ক হতে পারে, কিন্তু বাস্তবের কমিউনিস্ট আন্দোলন এই ঘেরাটোপের বাইরে যেতে পারে নি।
বারো
প্রশ্নগুলো নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা এখানে করব না। দুই-একটি উল্লেখ করে রাখছি মাত্র। প্রথম প্রশ্ন উঠছে নারীদের দিক থেকে। নারী যেভাবে উৎপাদনের উপায় হিসাবে গরু, ঘোড়া, জায়গা জমির মতো ইতিহাসে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে উৎপাদনশক্তির বিকাশের প্রকল্পের মধ্যে নারীর ওপর জুলুমের মীমাংসা কি এর মধ্যে সম্ভব? নারী সন্তান জন্ম দিতে না চাইলে তার জন্য জন্মনিরোধকই কি পথ? নাকি প্রজাতি পুনরুৎপাদনকে প্রযুক্তির কারিগরিতে পর্যবসিত করে পুরা নারীজাতিকে মনুষ্য প্রজাতি রার দায় থেকে মুক্তি দেয়াই একমাত্র পথ? টেস্টটিউব বেবি, কিম্বা ল্যাবরেটরির মধ্যে কারখানার মতো মানুষ পয়দা হবে। অসুবিধা কী? ইত্যাদি। নারী-পুরুষের যে সম্পর্কের ভিত্তি প্রজাতি পুনরুৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব, তাকে কি শুধুই উৎপাদন সম্পর্ক বিবেচনা করব? নাকি ইচ্ছা-আকাক্সা-প্রেম-ভালোবাসা ইত্যাদিকে আমলে নিয়ে মানুষ নামক ব্যাপারকে উৎপাদনের বাইরেও চিন্তা করা ছাড়া গত্যন্তর নাই। আরেকটি প্রশ্ন ওঠে প্রাণ, পরিবেশ, প্রাণবৈচিত্র্য রা ইত্যাদির দায়বোধ থেকে। প্রাণ হিসেবে যদি মানুষ বেঁচে থাকতেই না পারে, তাহলে উৎপাদন কার জন্য? কিসের জন্য? প্রকৃতি, প্রাণ ও পরিবেশের যে ধ্বংসযজ্ঞ চলছে তার পরিপ্রেেিত উৎপাদন শক্তির বিকাশই প্রগতি এটা মেনে নেয়া কঠিন। প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশ শুধু পুঁজিতান্ত্রিক সম্পর্কের কারণে ঘটেছে তা নয়, ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় বাস্তবের সমাজতন্ত্র যেসব দেশে একদা কায়েম হয়েছিল সেইসব দেশেও ঘটেছে।
এটা এখন পরিষ্কার যে কমিউনিজম ডাকনামে ঐতিহাসিক যে আন্দোলন সংগ্রামের সঙ্গে আমরা পরিচিত, সেটা আধুনিকতাকে তার গোড়াসুদ্ধ চ্যালেঞ্জ করতে পারে নি। আধুনিকতার মধ্যেই সে মুখ থুবড়ে পড়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সমাজকে নতুন কোন্ ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো যায় তা নিয়ে নতুন চিন্তাভাবনা অনেক দিন ধরেই চলছে। মাও জে দং নতুন মানুষ তৈরির কথা বলেছিলেন বটে, কিন্তু চীন পুঁজিতান্ত্রিক পথ পরিগ্রহণের ফলে সেই চিন্তা অপরীতি রয়ে গেছে। চীন বলি কি ভারত বলি আধুনিকতার যে রূপ আমরা ইউরোপে বা আমেরিকায় দেখেছি তার চেয়ে ভিন্ন কিছু এই নব্য ধনি দেশগুলো প্রদর্শন করতে পারবে সেটা ঘোরতর সন্দেহের বিষয়। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক দুনিয়া জোড়া যে পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিদ্যমান, সেখানে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মতার ভারসাম্যে বদল আসন্ন। এই বদল একটা বিশাল ঝড় ও তাণ্ডব ঘটিয়েই ঘটবে। এর ফলে বিশ্বব্যবস্থার ধসের কারণে দুনিয়ার বৈপ্লবিক রূপান্তরের আন্দোলন সংগ্রামে নতুন চিন্তার আবির্ভাব, পরীা-নিরীার উদয় ঘটতে পারে। অসম্ভব নয়। কিন্তু আধুনিকতার গোড়ার ভিত্তিকে প্রশ্ন করতে না পারলে এটা শুধু বিশ্বব্যবস্থার মতার ভারকেন্দ্রের বদল ঘটবে। মৌলিক কোনো রূপান্তর ঘটবে না।
এই সব কারণে অর্থনৈতিক প্রশ্নের মীমাংসার পাশাপাশি ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রশ্ন এ কালে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। অর্থনৈতিক উন্নতি ও অর্থনৈতিক দ্বন্দ্ব সমাধানের গুরুত্ব কমেনি, কিন্তু তার চেয়েও ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রশ্নকে আগে যেভাবে গুরুত্বহীন মনে করা হোত তারা যে আসলে মোটেও গৌণ বিষয় নয়, সেটাই সামনে চলে এসেছে। আগের মতো এটা ভাববার কোনো কারণ নেই যে অর্থনৈতিক প্রশ্নের মীমাংসা হলে সব কিছুরই সমাধান হয়ে যাবে। না, তা হবে না, এটা নিশ্চিত। পুঁজিতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থার অন্তর্গত প্রক্রিয়া হিসেবে যে আধুনিকতা ও আধুনিক সংস্কৃতির মধ্যে আমাদের বসবাস তার অনুমানগুলো আমাদের মেনে নেবার কোনোই কারণ নেই। এখন আধুনিকতার জগৎ বা তার পরিমণ্ডল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার লড়াই চালিয়ে যাওয়া অনেক বেশি জরুরি এ কালের রাজনীতিতে এটাই প্রধান বিষয়। যারা এটা টের পেয়েছেন, তারা আধুনিকতা/অনাধুনিকতার বিভাজন ভেঙে নতুনকে সহজে শনাক্ত করতে শিখবেন।
একালে এটাই এগিয়ে যাওয়ার পথ।
দুই.
পুঁজিতান্ত্রিক আধুনিক বিশ্বব্যবস্থার এই যুগকে অতিক্রম করতে হলে প্রথমেই দরকার পুরানা চিন্তার অভ্যাস ত্যাগ করা। পুরানা চিন্তার অর্থ হচ্ছে আধুনিক ও অনাধুনিকতার বিভাজনকে বিচারের মানদণ্ড জ্ঞান করে আধুনিকতার পে সাফাই গাওয়া। চিন্তাহীনতার এরচেয়ে আর ভালো নজির হতে পারে না, যা সামনে হাজির তাকেই নির্বিচারে গ্রহণ করার চেয়ে অজ্ঞানতা বা জাহেলি আর কিছুই হতে পারে না। পরীা-নিরীার, উদ্ভাবনের কিম্বা নতুন ভাবে চিন্তা করবার কোনো দায় নেই। চিন্তায় বিরতি দিয়ে যে মত সমাজে প্রবল তাকেই সত্য বলে নির্বিচারে মেনে নেয়ার চিন্তাশীলের কাজ হতে পারে না। নতুন ভাবে চিন্তা নিছকই দর্শনের প্রশ্ন নয়। সরাসরি রাজনীতিরও প্রশ্ন। কী করতে হবে তার হদিস চিন্তাশীল ভাবনাই দিতে সম। কোনো আগাম বানানো মতাদর্শ, ছক বা পাথরে খোদাই করা কর্মসূচি নয়।
যারা গন্তব্য আগাম নির্ণয় (teleology) করে ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবাকে দার্শনিক কারণে গ্রহণযোগ্য মনে করেন না, তাদের কাছে একই প্রশ্ন ভিন্ন ভাবে তোলা যাতে পারে। যেমন, নিজেদের বিগত ইতিহাসের ফল হিসাবে আমরা এখন যেভাবে নিজেদের দেখছি, জানছি বা বুঝছি এটাই মানুষের সর্বশেষ রূপান্তর কি না। পুঁজিতান্ত্রিক সম্পর্ক আমাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার বাইরে আমাদের নিরন্তর তৈয়ারি করছে। পুঁজির ইচ্ছা হয়ে উঠছে আমাদের ইচ্ছা ও সংকল্প। টেলিভিশনের বিজ্ঞাপন হয়ে উঠছে আমাদের কামনা, বাসনা ইত্যাদি। আমাদের অজান্তে টেকনলোজি আমাদের ইন্দ্রিয়, বুদ্ধি ও চিন্তার ধরন বদলে দিচ্ছে; মতা কখনো রাষ্ট্রের রূপ নিয়ে, কখনো মতাদর্শের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে মাথা ধোলাই করছে; দৈনন্দিন জীবনের আরো নানান কারিগরি ও কারবারের মধ্য দিয়ে আমরা বদলে যাচ্ছি। আমরা কি টের পাই? বুঝি?
এই পরিস্থিতিতে ‘মানুষ’ নামক ভিন্ন কোনো কর্তাসত্তার চিন্তা সম্ভব কি না, সেটা আমি ভাবি। এমন এক কর্তা যে বিদ্যমান ব্যবস্থার বাইরে দাঁড়িয়ে ইতিহাস ও বর্তমানকে বিচার করতে পারে? কী ‘আছে’ আর কী করা ‘উচিত’ এই দুইয়ের মধ্যে ফারাক করতে সম হয় যেন বর্তমান থেকে বেরিয়ে গিয়ে নতুন বর্তমান নির্মাণ করা মানুষের পে সম্ভবপর সেটা সে প্রমাণ করতে পারে। শুধু জ্ঞানের কর্তার কথা বলছি না, ইতিহাসের কর্তা মানে কী, সেটাই আমি বুঝতে চাই।
তিন.
এই ধরনের কর্তাসত্তার অনুমান করা এবং বাস্তবে তার আবির্ভাব নিশ্চিত করা সহজ নয়। কথাগুলো তুলছি এ কারণে যে অনেকেই বিদ্যমান ব্যবস্থার বাইরে দাঁড়িয়ে বিদ্যমান ব্যবস্থার বিচার এমন তার রূপান্তর ঘটাতে সম এমন কর্তাসত্তার অস্তিত্ব সম্ভব এটা মানতে রাজি না। একদল মনে করে মানুষের বৈষয়িক জীবন বা বিদ্যমান ব্যবস্থাই মানুষ কী করতে পারে বা না পারে তা নির্ধারণ করে। এই েেত্র তার বৈষয়িক বা রক্তমাংসের অস্তিত্বের বাইরে এমন কোনো সত্তা নাই যে বিদ্যমান ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে রূপান্তরের জন্য লড়তে সম। আমি মনে করি বৈপ্লবিক কর্তাসত্তা শুধু বিদ্যমান ব্যবস্থার দ্বন্দ্ব-সংঘাত থেকে তৈয়ার হয়, এই অনুমানকে পর্যালোচনার অধীন করা জরুরি। কথাটার মানে বোঝা জরুরি একটি কাজ। বৈপ্লবিক কর্তাসত্তার উদ্ভব ও চরিত্র আমার আগ্রহের বিষয়। তাকে যেমন, বস্তু ও বিষয়জ্ঞানে ইহলোকিকতার মাপজোখ দিয়ে নির্ণয় করা অসম্পূর্ণ মনে হয়, তেমনি বর্তমান দ্বন্দ্ব-সংঘাতের মধ্য দিয়ে তার আবির্ভাব কোনো বিধিবিধান মেনে চলে এটা মেনে নেওয়াও কঠিন। এই এক আধ্যাত্মিকতা যাকে ধর্মতত্ত্ব দিয়ে বোঝা যেমন কঠিন, অন্য দিকে ইতিহাস ও সমাজতত্ত্ব দিয়ে নির্ণয় করাও সমুদ্রের মধ্যে লবণের কণা অনুসন্ধানের মতো ব্যাপার। এ কালের দর্শন এই কর্তাসত্তাকে কোনো খাপে ফেলতে না পেরে এর নাম দিয়েছে রাজনৈতিক আধ্যাত্মিকতা (Political Spirituality)।
চার.
দাবি করা হয় আধুনিক বিশ্বব্যবস্থায় কেউ আধুনিক অথবা অনাধুনিক। হয় কেউ প্রগতির পে অথবা প্রতিক্রিয়াশীলতার। এই দুই খাপের বাইরে নাকি যাওয়া নিষেধ। তো এই নিষেধ আমি অমান্য করে চলেছি। যারা আধুনিকতার পূজারি তাদের কাছে ‘প্রগতি’র অর্থ বর্তমানকে মেনে নেওয়া। বর্তমানের বিরুদ্ধে তাদের নালিশ বা আপত্তি নেই তা নয়, কিন্তু তারা আধুনিকতার পরিমণ্ডলে সেই নালিশের মীমাংসা খোঁজে। যেখানে যেখানে আপত্তি আধুনিকতার সেই জায়গাগুলো শুদ্ধ করে নিতে চান। সেটা সংস্কারমূলক হোক কিম্বা বৈপ্লবিক কায়দায়, কিন্তু বিধান হচ্ছে আধুনিকতার গোড়ার ভিত্তি ঠিক রেখেই সেটা করতে হবে। ফলে আমি যে রাজনীতির কথা বলি সেখানে প্রগতিবাদীদের সঙ্গে যেমন মেলে না, তেমনি স্বঘোষিত প্রগতিবাদীদের মানদণ্ডে যারা প্রতিক্রিয়াশীল চিহ্নিত হয়েছেন তাদের সঙ্গেও নয়। কারণ আধুনিকতার বিরুদ্ধে অনাধুনিকতা কায়েম আমার রাজনীতি না। যে অনুমান, জ্ঞানগত ভিত্তি ও ঔচিত্যবোধ ‘আধুনিকতা’ নামক বর্তমানকে পয়দা করেছে, তাকে আমি মানুষের কাম্য জ্ঞান করি না শেষ গন্তব্য তো নয়ইÑ আমার কাজ তাকে বদলে দেওয়া। নিদেনপে আদৌ তা সম্ভব কি না সেটা যাচাই করে দেখা। তার জন্য বিভিন্ন দিক থেকে কাজ করা। অতএব ধর্ম, দর্শন, কাব্য, শিল্পকলা, গান, সিনেমা, নাটক ইত্যাদির প্রতি আমার আগ্রহ তুমুল। একই সঙ্গে বর্তমানের মুখে তুড়ি মেরে যে জীবন একা, নিঃসঙ্গ ও দ্রোহী সেই জীবনের প্রতি আমি একাত্ম বোধ করি। যদিও চোর থালা চুরি করে নিয়ে গিয়েছে চোরের ওপর রাগ করে থাকা আমার পথ নয়। আমি আজ বিরাগী নই। সমাজ আমাকে সমাজছাড়া করতে চাইলেও আমি সমাজত্যাগী হতে চাই না। অন্য দিকে দ্রোহী হতে গিয়ে নৈরাজ্যবাদীও নয়। সব কিছুতেই ‘না’ বলা, শূন্যতার পূজা বা নিহিলিস্ট হওয়া আমার ধাতে নাই। সকল প্রকার মূল্যবোধে আস্থা হারানো বা তাদের বিসর্জন দিয়ে সুপারম্যান হওয়াও আমাকে আকৃষ্ট করে না। আমার মনে হয় এ সবই চরম ব্যক্তিতান্ত্রিক সমাজের পরিণতি। কিন্তু তাই বলে আমি ব্যক্তিকে অস্বীকার করি না, ব্যক্তির আবির্ভাবও আমার কাছে এক ধরনের আধ্যাত্মিক ঘটনা বলেই মনে হয়, কারণ এই আবির্ভাবের কোনো বস্তুবাদী ব্যাখ্যা সম্ভব না। যা হাজির হয়ে গিয়েছে ও বর্তমান তাকে এখন আমি অস্বীকার করি কিভাবে? বরং যে সমাজে মানুষ একই সঙ্গে ব্যক্তি ও সামাজিক সেই সমাজের সন্ধান আমি করি। ব্যক্তিতান্ত্রিক সমাজের বিরুদ্ধে পাল্টা লড়ি। কিন্তু সে লড়াই লড়তে গিয়ে ব্যক্তির পাবলম্বনও করি। ইচ্ছা, কামনা, বাসনা, বিদ্রোহ ও নিজের জীবন অনায়াসে ঝুঁকিতে ফেলতে পারার মতাসম্পন্ন এই ব্যক্তি সে এক রহস্যময় ব্যাপার। বিস্ময় যে ব্যক্তির মধ্যেই বৈপ্লবিক কর্তাসত্তার আবির্ভাব ঘটে, যার সামাজিক ও ঐতিহাসিক হওয়ার ব্যাপারটা পরের বিষয়। অতএব সব ধরনের ব্যক্তি আমার আগ্রহের বিষয়। বিশেষত সমাজের প্রান্তে তাড়িয়ে নিয়ে গিয়ে যে মানুষগুলোকে সমাজ, আইন ও রাষ্ট্র অদৃশ্য ও অবাঞ্ছিত করে রাখেÑ আইনবহির্ভূত যাদের মেরে ফেলতে আমাদের নীতিনৈতিকতাতে বাধে নাÑ তাদের প্রতি আমার আগ্রহও চরম। রাষ্ট্র ও আইন কিভাবে আমদের জীবমাত্রে পরিণত করে, ফাঁসিতে ঝোলায়, গুলি করে লাশ বানায়, আইন ও জীবজীবনের এই মাঝখানের জমিনটুকু আমি চিন্তে চাই, অন্বেষণই আমার ধর্ম।
পাঁচ.
ঠিক। আমার বিরুদ্ধে প্রগতিবাদীদের অভিযোগের প্রধান একটি কারণ হচ্ছে ধর্ম। আমি ধর্মে উৎসাহী, আগ্রহী। ধর্ম আমার কাছে পরিত্যাগের বিষয় নয়। আধুনিকতার কালে এসে ধর্ম বা ধর্মতত্ত্ব তার গুরুত্ব হারিয়েছে, তার কিছু দেবার নাইÑ এমন আমি মনে করি না। নিজেকে যেমন নিজে ত্যাগ করতে পারি না, ধর্ম ও ধর্মতত্ত্বও তেমনি। তবে আধুনিকতার কালে ধর্মের উপস্থাপন ও তাৎপর্য ভিন্ন। ভিন্ন বলে তা ধর্ম বা ধর্মতত্ত্ব কি না নাকি নিছকই মতাদর্শ তা নিয়ে তর্ক হতে পারে। কিন্তু তারা বহাল তবিয়তেই আছে। থাকবে। একসময় দাবি করা হোত আধুনিকতার প্রাবল্যে ধর্মের লয় ঘটবে। আধুনিক হলে মানুষ বিভিন্ন কুসংস্কার থেকে মুক্ত হয়ে ধর্মের কুপ্রভাব থেকে মুক্ত হবে। ধর্মের শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে সেটা ঘটেনি। এই ধারণার পেছনকার অনুমান হচ্ছে আধুনিকতা মানেই ধর্মহীনতা। এই অর্থে আধুনিকতার কারণে ধীরে ধীরে মানুষ যুক্তিবাদী হবে, ধর্ম শুকিয়ে মরবে। কিন্তু ধর্ম লোপ পাওয়া দূরে থাকুক, ফিরে এসেছে আরো শক্তি নিয়ে। এখন পাল্টা অভিযোগ উঠেছে খোদ ‘আধুনিকতা’ই কুসংস্কার। সংস্কারের মধ্যে কোনটা ‘কু’ আর কোনটা ‘সু’ সেই তর্ক আমার জন্য অর্থহীন। নীতিবাগিশগিরি আমার কর্তব্য না। নীতিবাদিতা মতা চর্চার অংশ। মতার বিচার ছাড়া নীতির মর্ম ঠাহর করা মুশকিল। আর সেটা করতে হলে আমাকে দর্শনে ফিরে আসতেই হয়। নতুন করে বর্তমানকে পর্যালোচনার দরকারে। মানুষের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে আমরা নিজ নিজ অবস্থান ও কর্তব্য নির্ণয় করি। আমি কিভাবে সেটা নির্ণয় করা হোল, তার অনুমান ও ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলি। কারণ বিদ্যমান অনুমান বা চিন্তার ভিত্তির বাইরেও ভিন্ন অনুমান ও ভিত্তি থাকতেই পারে। আমার অন্বেষণ এই প্রশ্ন দিয়েই শুরু হয়।
ছয়.
আমার কাছে ধর্ম দার্শনিক অন্বেষণের বিষয় তো বটেই একই সঙ্গে রাজনীতিরও। এ ছাড়া বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্ম ইসলাম সম্পর্কে আমার আগ্রহ থাকা খুবই স্বাভাবিক। বাংলাদেশের মানুষকে বুঝতে গেলে ইসলাম বোঝা আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমি মনে করি, বাংলাদেশের বাস্তবতায় ইসলামের উপস্থিতির চরিত্র ও চর্চার ধরনই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ণয় করবে। সেটা আমাদের ইচ্ছা অনিচ্ছার ওপর নির্ভর করবে না। প্রশ্ন হচ্ছে এই চর্চার চরিত্রে আমরা এমন কিছু ছাপ ফেলতে পারি কি না যা বর্তমানকে অতিক্রম করে যাবার অনুকূল হবে। সাম্রাজ্যবাদের ধ্বংস ও পুঁজিতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থার বিনাশের পরে যে নতুন জগত গড়ে উঠবে এবং উঠতে বাধ্য, সেই জগতের নির্মাণে ইসলামের ভূমিকা কী হবে? কিম্বা কী হতে পারে? ইসলামের আবির্ভাব মুহূর্তে চিন্তার এমন কোনো প্রকাশ ছিল কি না যার হদিস নেয়া ছাড়া বর্তমান অতিক্রম করে যাওয়া নতুন জগতের কল্পনা অসম্ভব হয়ে ওঠে? ইসলামের রাজনৈতিক প্রস্তাব ও সংকল্পে বৈশ্বিক ও সার্বজনীন কী ছিল, যার পাশে আধুনিকতার সার্বজনীনতা ও বৈশ্বিকতাকে প্রাদেশিক দাবির অধিক কিছু মনে হয় না। কী সেই উপলব্ধি, অভিজ্ঞতা বা সত্য যা সকল প্রকার নিহিলিজমকে অসম্ভব করে তোলে? ইসলাম কিসের ‘স্যা’ দেয়? মানুষের জীবনের যদি কোনো অর্থই না থাকে তাহলে কিসের সমাজ? কিসের ইতিহাস? কিসের রাজনীতি? এই প্রশ্নগুলো গোলকায়নের এই কালে আমরা আগের চেয়েও আরো তীব্র ভাবে শুনতে পারছি, আগে প্রশ্নগুলোর তাৎপর্য এখনকার মতো স্পষ্ট ছিলনা? নিজের ইতিহাস কিম্বা ঐতিহ্য থেকে ইসলাম এই সকল প্রশ্নের মীমাংসার েেত্র কিছু যোগ করতে পারবে কি না, কিম্বা নতুন নির্মাণের ভিত্তি চেনা ও বিকশিত করে তোলার েেত্র ইসলাম আদৌ নতুন চিন্তার সহায়ক কি না সেটা খোলা মনে আমি খুঁজে দেখতে বদ্ধপরিকর। সংেেপ, আধুনিক/অনাধুনিকের বিভাজন অতিক্রম করে বাংলাদেশে ইসলাম আদৌ কোনো নতুন চিন্তা ও চর্চার দিশা দিতে পারবে কি না সেটা নিরীণ ও বোঝা। অতএব আমি আমার চিন্তা ও তৎপরতার জায়গা থেকেই জরুরি কর্তব্য বলে গণ্য করি। এতে কোনোই সন্দেহ নেই।
সাত.
আমি কার্ল মার্কসের ছাত্র। তাঁর গুরু হেগেলের কাছ থেকেই আমি শিখেছি যে ধর্ম বা ধর্মতত্ত্বের মধ্য দিয়ে যা চর্চা হয় সেটাও চিন্তা। মানুষেরই চিন্তা। ধর্মতত্ত্ব দর্শনের মতোই সমান গুরুত্বপূর্ণ চিন্তা। অবশ্যই। দর্শনের সঙ্গে তার পার্থক্য হচ্ছে তার উপস্থাপনার রূপে। অর্থাৎ মানুষের নিজ নিজ অভিজ্ঞতাকে হাজির করবার েেত্র চিন্তার নিজের একটা বিশেষ ধরন আছে; চিন্তা নিজের স্বরূপে নিজেকে হাজির না করলে শুধু ধর্ম কেন বিজ্ঞান, নীতিবিদ্যা বা রাষ্ট্রতত্ত্ব কোনো কিছুকেই ‘দর্শন’ বলা যায় না। হেগেল প্রটেস্টান্ট ধর্মকে দার্শনিক জায়গা থেকে পাঠ করেছেন। তাহলে ইসলামকে দর্শনের জায়গা থেকে বোঝার একটা কর্তব্য বাংলাদেশের জনগণের রয়েছে। সে কর্তব্যে আমি লিপ্ত আছি, থাকতে চাই। অর্থাৎ ধর্ম ও ধর্মতত্ত্ব অবশ্যই দর্শন ও রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মার্কস, লেনিন বা অ্যাঙ্গেলস কিভাবে ধর্মের মোকাবিলা করেছেন সেটা আমি ‘মোকাবিলা’ বইতে দেখাবার চেষ্টা করেছি। একে মোকাবিলা না করে সমাজের কোনো মৌলিক রূপান্তর অসম্ভব। একে কিভাবে আমরা মোকাবিলা করছি ও আমাদের ঐতিহাসিক ভূমিকা নির্মাণে আত্মস্থ করছি তার ওপর আগামী দিনের বাংলাদেশের রাজনীতি নির্ভর করবে। কিন্তু প্রগতিবাদীরা পরিশ্রমে আগ্রহী নন। তাদের ফতোয়া হচ্ছে, আমি এককালে কমিউনিস্ট ছিলাম, এখন ইসলামপন্থী হয়েছি। আমি দোষী! ঘোড়াও হাসে!!! তাই না?
মজার ব্যাপার হচ্ছে, ইসলামপন্থীদের মধ্যে যারা ধর্ম/অধর্মের বিভাজন দিয়ে জগৎ বিচার করেন তারাও তাই মনে করেন। কমিউনিজম নাস্তিক্যবাদীদের দর্শন। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাবার পর কার্ল মার্কসসহ নাস্তিক্যবাদীদের জগৎ ভেঙে গিয়েছে। কমিউনিজমের ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে গিয়েছে। তাদের অনেকে মনে করেন, আমি এক কালে কমিউনিস্ট ছিলাম। কমিউনিজমের এই দুর্দশা দেখে আমি ধর্মে প্রত্যাবর্তন করেছি। তাদের সামনে কবি আল মাহমুদের উদাহরণ আছে। তারা এর বেশি ভাবতে সম নন। তাদের আমি দোষ দেই না। আল মাহমুদকেও নয়। কারণ এর বেশি বাংলাদেশে আমরা এখনো ভাবতে পারি না। আমার দুর্ভাগ্য, দুই পই ভুল করেন, ভুল বোঝেন। সাধারণ ভাবে বাংলাদেশের চিন্তার দৈন্যতাই এর জন্য দায়ী। আধুনিকতা ও অনাধুনিকতার যে বিভাজন আমি পরিহার করি সেই একই তাগিদে ধর্মতত্ত্ব বনাম দর্শনের বিভাজনও আমি পরিহার করে চলি। অর্থাৎ চিন্তার যে অভ্যাস এই বিভাজনকে ন্যায্যতা দেয়, আমি তা স্বীকার করি না। তাহলে আধুনিকতা ও ধর্ম নিয়ে বিস্তর কথা বলার আছে। বিষয়গুলো জটিল নয়। মুশকিল হোল, দৈনিক পত্রিকার উপসম্পাদকীয় সেই সব আলোচনার প্রশস্ত ত্রে নয়। তবে প্রথাগত চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসার অভ্যাস চর্চা না করলে এই বিষয়ে অগ্রসর হওয়া কঠিন। নিজের কৈফিয়ত হিসেবে এই কথাগুলো বলে রাখা আপাতত যথেষ্ট। তবে আধুনিকতা নিয়ে আরো দুই-একটি কথা এখানে বলা দরকার।
আট.
‘আধুনিক’ হওয়ার অর্থ নিয়ে অনেক আলোচনা হতে পারে। তবে যে অর্থের প্রতাপ সবচেয়ে বেশি সেটা হচ্ছে পাশ্চাত্যসভ্যতাকে নির্বিচারে গ্রহণ করা এবং যারা এর বিপরীতে দাঁড়ায় তাদের অসভ্য ও পশ্চাতপদ গণ্য করা। মুখে বলি বা না বলি ‘প্রগতি’র অর্থ দাঁড়ায় ইংরেজ, ইউরোপীয় বা মার্কিন হওয়ার সাধনা; তবে এই দেশগুলোর মধ্য একাট্টা একপ্রকারের সংস্কৃতি ও সভ্যতার চর্চা চলে, ব্যাপারটা তা না। কিন্তু সেভাবেই এদের দেখতে আমরা অভ্যস্ত। এই দেশগুলো বাংলাদেশের মতো অনাধুনিক (?) দেশে আধুনিকদের চিন্তাচেতনা, কল্পনা ও সংকল্পের মডেল হয়ে হাজির থাকে। চিন্তাচেতনা, পোশাক পরিচ্ছদ, গানবাজনা, খাওয়াদাওয়া, বাড়িঘর সব কিছুই পাশ্চাত্য আধুনিকতার ছকে বা মডেল মান্য করে গড়ে ওঠে। এমনকি নীতিনৈতিকতা, রাষ্ট্রব্যবস্থা ইত্যাদি সব কিছুরই প্রেরণা হয়ে দাঁড়ায় পাশ্চাত্য। আধুনিকতার সাধনা দেশে থেকে করি, কিম্বা বিদেশে পাড়ি দিয়ে তাতে বিশেষ কিছুই আসে যায় না। যারা নানান কারণে সচেতন হয়ে এর বিরোধিতা করেন, তারা আধুনিকতা, সভ্যতা ও প্রগতির ধারণা থেকে বেরিয়ে আসেন সেটা বলা যাবে না। তারা নিজের একটা ভিন্ন পরিচয় নির্মাণের চেষ্টা করেন। তার ভিত্তি হতে পারে নিজের ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্ম, ঐতিহ্য বা অন্য কিছু। নিজেকে বিদ্যমান ব্যবস্থা থেকে আলাদা ভাবা ও নিজের ভিন্ন পরিচয় নির্মাণ ও আঁকড়ে ধরে রাখার চেষ্টা করেন তারা। তবে আধুনিকতার পরিমণ্ডলের মধ্যে থেকেই আত্মপরিচয় নির্মাণ, জাতীয়তা নির্ণয় বা শত্রুমিত্র নির্ধারণ আধুনিকতার বাইরের কোনো ব্যাপার না। আধুনিকতারই অন্তর্গত বিষয়। আধুনিকতার মধ্যে নিজেকে ভিন্ন ভাবা ও নিজের আলাদা আত্মপরিচয় নির্মাণের দুটো সম্ভাব্য পরিণতি হতে পারে। এক. আধুনিকতার পরিমণ্ডলের মধ্যে নিজের স্বার্থের জায়গা হাসিল করবার কাজেই সেটা ব্যয় করা। নিজের ভিন্নতা নিয়ে ‘আধুনিক’ হয়ে থাকা যাতে আধুনিকতার মধ্যে নিজের আর্থসামাজিক ও সাংস্কৃতিক স্বার্থ রা করা যায়। এটা পাশ্চাত্য সভ্যতাকে নির্বিচারে গ্রহণ করবারই ধারাবাহিকতা। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, আধুনিকতা ও পাশ্চাত্যের একাট্টা বিরোধিতা। সেটা অসহায়ের আর্তি হয়ে গুমরে মরতে পারে, অথবা হান্টিংটন মার্কা সভ্যতার দ্বন্দ্ব তত্ত্বের ওপর দাঁড়িয়ে পাশ্চাত্যের বিরুদ্ধে লড়াই হয়েও উঠতে পারে। ‘রাজনৈতিক ইসলাম’ নাম দিয়ে যার বিরুদ্ধে পাশ্চাত্য সব শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্তযুদ্ধ হিসেবে এ কালে যা আমাদের সামনে দৃশ্যমান। ইসলামের পতাকা নিয়ে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও পাল্টা আঘাত হানার চেষ্টাও চলছে।
নয়
প্রথম ধারাকে আমরা অনায়াসেই শনাক্ত করতে পারি। যেমন, নিজের ভাষা ও সংস্কৃতিকে আধুনিক করে তোলা ও আধুনিক পরিমণ্ডলের মধ্যে স্বীকৃতি আদায়। আধুনিক বাংলা সাহিত্য ও আধুনিক বাংলা গান যেমন দৃষ্টান্ত। তেমনি, ধর্মের আধুনিকায়ন। দাবি করা যে ধর্মের সঙ্গে আধুনিক বিজ্ঞান, প্রগতি, গণতন্ত্র, আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ইত্যাদির কোনো বিরোধ নেই। দরকার ধর্মের সঙ্গে আধুনিকতার সঙ্ঘাতের ত্রেগুলো দূর করা। আধুনিকতাকে নয়, আধুনিকতার আলোকে ধর্মের সংস্কার করা। ইসলামকে ‘আধুনিক’ ও ‘যুগোপযোগী’ করে তোলা যেমন। তথাকথিত ‘ইসলামি সভ্যতা’র কল্পনা ও তার আধুনিক নির্মাণ; কিম্বা, আধুনিকতার আলোকে হিন্দু সভ্যতার ধারণা নির্মাণ; দাবি করা যে ‘হিন্দুত্ববাদ’ পাশ্চাত্যসভ্যতার স্বাভাবিক মিত্র (natural ally) ইত্যাদি। বিভিন্নতা ও বৈচিত্র্যের জগৎ থেকে তথাকথিত ‘সভ্যতার’ কাল পর্বে প্রবেশের পেছনে অনুমান হচ্ছে যারা সভ্যতার দাবিদার তারা অপরকে ‘অসভ্য’ বলে চিহ্নিত করতে ও তাদের অধীনস্থ করতে পারে এবং তা ন্যায্য। দেখা যাচ্ছে ‘সভ্যতার’ ধারণার মধ্যেই গোলমাল আছে। একে পরিহার করে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। এটা মনে রাখতে হবে তথাকথিত ‘সভ্যতা’র ধারণা আসলেই একটি আধুনিক ধারণা। এর সঙ্গে দখলদারি, উপনিবেশ স্থাপন, সাম্রাজ্যবাদ এবং এক জনগোষ্ঠীর দ্বারা অন্য জনগোষ্ঠীর দমন পীড়নের ইতিহাস জড়িত। সেই রক্তাক্ত ইতিহাস বাদ দিলে ‘পাশ্চাত্যসভ্যতা’ নামক কোনো সার্বজনীন সভ্যতার অস্তিত্ব নেই। ইতিহাস ভুলে গেলে ‘সভ্যতা’ কথাটার কোনো অর্থই দাঁড়ায় না। নিজেকে অন্যদের চেয়ে ‘সভ্য’ দাবি করার অর্থ অন্যকে বা অপরকে সামরিক ভাবে কিম্বা সার্বজনীন আইন, বিধিবিধান, নীতিনৈতিকতা কিম্বা সার্বজনীন সাংস্কৃতিক মানদণ্ডের দোহাই দিয়ে অধীনস্থ রাখার ধারাবাহিক ইতিহাস অুণœ রাখা এবং তা ন্যায্য বলে দাবি করা। সার কথা হচ্ছে যেকোনো জাতিবাদী কিম্বা সভ্যতাবাদী আত্মপরিচয় কিম্বা নিজের ধর্ম ও সংস্কৃতিকে অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ দাবি করার রাজনীতি আধুনিকতার বাইরের কিছু না। এই সব আধুনিকতারই অন্তর্গত প্রক্রিয়ার অংশ।
দশ
আধুনিকতা বা পাশ্চাত্যসভ্যতার একাট্টা বিরোধিতার আদৌ কোনো ভবিষ্যৎ আছে কি না আমি সন্দেহ করি। বিদ্যমান কোনো ব্যবস্থার পর্যালোচনা, বিদ্যমান ব্যবস্থা থেকে নিজের দূরত্ব অনুভব করা এবং সেই ভিন্নতার উপলব্ধির (intuition) তাগিদে বিদ্যমান ব্যবস্থাকে নতুন করে জানা, বোঝা, বিশ্লেষণ করার চেষ্টা এবং তাকে রাজনৈতিক ও সামরিক ভাবে প্রতিরোধ খুবই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া থেকে অবশ্যই মানুষের ভবিষ্যৎ চলার পথ কী হতে পারে তার বহু কিছুরই মীমাংসা হবে। কিন্তু সেটা বিদ্যমান ‘সভ্যতা’ বিলুপ্তি ও বিনাশ ঘটিয়ে বিদ্যমান সভ্যতা যাদের ‘অসভ্য’ ও ‘বর্বর’ বলে চিহ্নিত করে তাদের অধিষ্ঠিত করা কি না সে বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করি। কারণ এই বিভাজন অতিক্রম করাই কাজ, তাকে প্রতিষ্ঠিত করা নয়। ইতিহাসের অভিমুখ সেই দিকে নয়। আধুনিকতার প বা বিপ হয়ে আমরা একালে আধুনিকতার এই কালপর্ব অতিক্রম করে যেতে পারব না। আধুনিকতার ধারণা মাথায় রেখে কোনো নতুন প্রণোদনার আবির্ভাব অসম্ভব। অথচ বিশ্বব্যবস্থার রূপান্তর নিয়ে চিন্তা ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক নীতি ও কৌশল নিয়ে ভাবনার মানে হচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন ভাবে চিন্তা করবার মতা অর্জন করা, যেসব বিষয় এতকাল মীমাংসিত বলে ধরে নেয়া হয়েছিল সেসব কিছুকে নির্ভয়ে প্রশ্ন করতে শেখা। বলাবাহুল্য, এটাই এ কালের রাজনীতি। এই কাজকে যদি চিন্তার পরিমণ্ডলে আমরা সীমিত রাখি তাহলে আধুনিকতার পরিমণ্ডল ভাঙা কঠিন বলেই আমরা মনে হয়। সেই দিক থেকে জালিম ব্যবস্থার বিরুদ্ধে মজলুমের লড়াইয়ের েেত্রর প্রাধান্য অনস্বীকার্য। আমার লেখায় বারবার এই দিকটির ওপর এ কারণেই আমি জোর দিয়ে থাকি। অর্থাৎ বিদ্যমান ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়তে গিয়েই মানুষ নতুন ভাবে ভাবতে শেখে, অর্থাৎ সেই ভাবনাই দরকার যা একই সঙ্গে লড়াইকে তীব্র ও পরিবর্তনকে অবশ্যম্ভাবী করে তোলে। নতুন চিন্তা স্রেফ নতুন বলেই সমাজ বদলাতে পারে না, বিদ্যমান ব্যবস্থা রূপান্তরের তাগিদই মানুষকে নতুন চিন্তার প্রতি আগ্রহী করে তোলে।
এগারো
এক কালে সাম্রাজ্যবাদের অর্থনৈতিক অসাম্যের বিরুদ্ধে কমিউনিস্টরা লড়েছিলেন। এখনো লড়েন। কিন্তু এ লড়াই আধুনিকতার বিরুদ্ধে নয়। এমনকি কমিউনিজমের জন্যও নয়। সমাজতন্ত্রের জন্য। কিম্বা বলা যায়, আরো ‘আধুনিক’ হয়ে ওঠার জন্য। বাস্তবে তার যে রূপ ও নানান পরীা-নিরীা সেই পর্বের (actually existing socialism) পরিসমাপ্তি ঘটেছে। এখন সেই পর্ব আবার ফিরে আসার আর কোনোই সম্ভাবনা নাই। এটা ঠিক যে এতে কার্ল মার্কস বা বিপ্লবী রাজনীতির শিা ও অভিজ্ঞতা বাতিল হয়ে যায় নি। মার্কস পুরা মাত্রায় তার অর্থশাস্ত্র নিয়ে বহাল আছেন। প্রশ্ন ওঠে, তিনি মানবেতিহাসের যে অনিবার্য ভবিষ্যৎ অনুমান করেছিলেন, সেটাও কি তাহলে বাতিল করে দিতে হবে? আধুনিকতার অর্থনৈতিক ভিত্তি হচ্ছে পুঁজিতান্ত্রিক উৎপাদন সম্পর্ক। কিন্তু এই সম্পর্কই আবার উৎপাদন শক্তি বিকাশের পথে বাধা। এ কারণে মার্কস পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থার দ্বন্দ্ব নিরসনের কথা বলেছিলেন। এর ওপরই তাঁর কেন্দ্রীভূত নজর নিবদ্ধ ছিল। বাস্তবের সমাজতন্ত্রের ব্যর্থতার কথা বাদ দিলে আজো কমিউনিস্টদের লড়াই অর্থনৈতিক েেত্রই কেন্দ্রীভূত। সংস্কৃতি, নীতিনৈতিকতা ও রাজনীতির প্রশ্ন গৌণ। আধুনিকতার বিরোধী তারা নন, আধুনিকতার অন্তর্নিহিত অর্থনৈতিক দ্বন্দ্ব নিরসনের মধ্যেই তারা তাদের কর্তব্য নির্ধারণ করেন। এর জন্যই তারা লড়েন। যে কারণে বলা হয় কমিউনিস্ট আন্দোলন তার অনেক ইতিবাচক অর্জন সত্ত্বেও শেষ বিচারে আধুনিকতার অসম্পূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা মাত্র। তার অর্থনৈতিক ভিত্তির মুশকিল আসান। এটাই কমিউনিজমের ঐতিহাসিক রূপÑ এটাই আমরা এ যাবৎ দেখেছি। আরো নানান কারণের মধ্যে বাস্তবে চর্চিত সমাজতন্ত্রে কমিউনিজমের পতনের দুঃসংবাদ এখানেও সম্ভবত নিহিত ছিল। ইতিহাসের যে অনিবার্য অভিমুখের কথা তরুণ কার্ল মার্কসের কাছে শোনা গিয়েছিল যে,Ñ একদিন মানুষের সঙ্গে মানুষের আর ভেদ থাকবে না, এক ও অবিভাজ্য মানুষের ‘সমাজ’ একদিন গঠিত হবেÑ এই প্রতিশ্রুতিই সবাইকে উজ্জীবিত করেছিল। এখনো করে। কিন্তু পরবর্তীকালে অর্থনৈতিক তত্ত্বের ভারে তরুণ স্বপ্নদর্শী মার্কস চাপা পড়ে গিয়েছেন। জন্ম নিয়েছে উৎপাদনবাদী কার্ল মার্কস। উৎপাদন শক্তির নির্বিচার বিকাশ মানবেতিহাসের পরমার্থ এই দাবি নিয়ে বাস্তবে গড়ে ওঠা কমিউনিজম নিয়ে এ কালে নানান দিক থেকে এখন প্রশ্ন উঠেছে। উৎপাদন শক্তির নির্বিচার বিকাশই কার্ল মার্কস চেয়েছেন কি না তা নিয়ে তর্ক হতে পারে, কিন্তু বাস্তবের কমিউনিস্ট আন্দোলন এই ঘেরাটোপের বাইরে যেতে পারে নি।
বারো
প্রশ্নগুলো নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা এখানে করব না। দুই-একটি উল্লেখ করে রাখছি মাত্র। প্রথম প্রশ্ন উঠছে নারীদের দিক থেকে। নারী যেভাবে উৎপাদনের উপায় হিসাবে গরু, ঘোড়া, জায়গা জমির মতো ইতিহাসে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে উৎপাদনশক্তির বিকাশের প্রকল্পের মধ্যে নারীর ওপর জুলুমের মীমাংসা কি এর মধ্যে সম্ভব? নারী সন্তান জন্ম দিতে না চাইলে তার জন্য জন্মনিরোধকই কি পথ? নাকি প্রজাতি পুনরুৎপাদনকে প্রযুক্তির কারিগরিতে পর্যবসিত করে পুরা নারীজাতিকে মনুষ্য প্রজাতি রার দায় থেকে মুক্তি দেয়াই একমাত্র পথ? টেস্টটিউব বেবি, কিম্বা ল্যাবরেটরির মধ্যে কারখানার মতো মানুষ পয়দা হবে। অসুবিধা কী? ইত্যাদি। নারী-পুরুষের যে সম্পর্কের ভিত্তি প্রজাতি পুনরুৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব, তাকে কি শুধুই উৎপাদন সম্পর্ক বিবেচনা করব? নাকি ইচ্ছা-আকাক্সা-প্রেম-ভালোবাসা ইত্যাদিকে আমলে নিয়ে মানুষ নামক ব্যাপারকে উৎপাদনের বাইরেও চিন্তা করা ছাড়া গত্যন্তর নাই। আরেকটি প্রশ্ন ওঠে প্রাণ, পরিবেশ, প্রাণবৈচিত্র্য রা ইত্যাদির দায়বোধ থেকে। প্রাণ হিসেবে যদি মানুষ বেঁচে থাকতেই না পারে, তাহলে উৎপাদন কার জন্য? কিসের জন্য? প্রকৃতি, প্রাণ ও পরিবেশের যে ধ্বংসযজ্ঞ চলছে তার পরিপ্রেেিত উৎপাদন শক্তির বিকাশই প্রগতি এটা মেনে নেয়া কঠিন। প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশ শুধু পুঁজিতান্ত্রিক সম্পর্কের কারণে ঘটেছে তা নয়, ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় বাস্তবের সমাজতন্ত্র যেসব দেশে একদা কায়েম হয়েছিল সেইসব দেশেও ঘটেছে।
এটা এখন পরিষ্কার যে কমিউনিজম ডাকনামে ঐতিহাসিক যে আন্দোলন সংগ্রামের সঙ্গে আমরা পরিচিত, সেটা আধুনিকতাকে তার গোড়াসুদ্ধ চ্যালেঞ্জ করতে পারে নি। আধুনিকতার মধ্যেই সে মুখ থুবড়ে পড়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সমাজকে নতুন কোন্ ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো যায় তা নিয়ে নতুন চিন্তাভাবনা অনেক দিন ধরেই চলছে। মাও জে দং নতুন মানুষ তৈরির কথা বলেছিলেন বটে, কিন্তু চীন পুঁজিতান্ত্রিক পথ পরিগ্রহণের ফলে সেই চিন্তা অপরীতি রয়ে গেছে। চীন বলি কি ভারত বলি আধুনিকতার যে রূপ আমরা ইউরোপে বা আমেরিকায় দেখেছি তার চেয়ে ভিন্ন কিছু এই নব্য ধনি দেশগুলো প্রদর্শন করতে পারবে সেটা ঘোরতর সন্দেহের বিষয়। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক দুনিয়া জোড়া যে পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিদ্যমান, সেখানে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মতার ভারসাম্যে বদল আসন্ন। এই বদল একটা বিশাল ঝড় ও তাণ্ডব ঘটিয়েই ঘটবে। এর ফলে বিশ্বব্যবস্থার ধসের কারণে দুনিয়ার বৈপ্লবিক রূপান্তরের আন্দোলন সংগ্রামে নতুন চিন্তার আবির্ভাব, পরীা-নিরীার উদয় ঘটতে পারে। অসম্ভব নয়। কিন্তু আধুনিকতার গোড়ার ভিত্তিকে প্রশ্ন করতে না পারলে এটা শুধু বিশ্বব্যবস্থার মতার ভারকেন্দ্রের বদল ঘটবে। মৌলিক কোনো রূপান্তর ঘটবে না।
এই সব কারণে অর্থনৈতিক প্রশ্নের মীমাংসার পাশাপাশি ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রশ্ন এ কালে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। অর্থনৈতিক উন্নতি ও অর্থনৈতিক দ্বন্দ্ব সমাধানের গুরুত্ব কমেনি, কিন্তু তার চেয়েও ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রশ্নকে আগে যেভাবে গুরুত্বহীন মনে করা হোত তারা যে আসলে মোটেও গৌণ বিষয় নয়, সেটাই সামনে চলে এসেছে। আগের মতো এটা ভাববার কোনো কারণ নেই যে অর্থনৈতিক প্রশ্নের মীমাংসা হলে সব কিছুরই সমাধান হয়ে যাবে। না, তা হবে না, এটা নিশ্চিত। পুঁজিতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থার অন্তর্গত প্রক্রিয়া হিসেবে যে আধুনিকতা ও আধুনিক সংস্কৃতির মধ্যে আমাদের বসবাস তার অনুমানগুলো আমাদের মেনে নেবার কোনোই কারণ নেই। এখন আধুনিকতার জগৎ বা তার পরিমণ্ডল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার লড়াই চালিয়ে যাওয়া অনেক বেশি জরুরি এ কালের রাজনীতিতে এটাই প্রধান বিষয়। যারা এটা টের পেয়েছেন, তারা আধুনিকতা/অনাধুনিকতার বিভাজন ভেঙে নতুনকে সহজে শনাক্ত করতে শিখবেন।
একালে এটাই এগিয়ে যাওয়ার পথ।

লেখক : কবি, চিন্তাবিদ, কলামিস্ট
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1340)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
October
(1240)
-
▼
Oct 30
(58)
- মা আয়েশার ছবি, কাপড় বুকে নিয়ে মেয়ের কান্না- গ্...
- আরও কিছু দিবস চাই by সাহস রতন
- ফারুকীর ‘পিঁপড়াবিদ্যা’ ও সমাজ-বাস্তবতা by ড. মাহফু...
- আবু তোরাব, সিধুলী কাঁদছে কান্নার মিছিলে ক্যাথরিনরা...
- ক্ষোভে উত্তাল বুরকিনা ফাসো, পার্লামেন্টে আগুন
- বিশ্বব্যাংকের কান ধরে উঠবস করা উচিত: মতিয়া
- লন্ডনে সেমিনার- বাংলাদেশে অস্থিরতা বাড়তে পারে by ত...
- সান্ত্বনার জায়গা ‘আদালত-এ-আখেরাত’ by মাসুদ মজুমদার
- ট্র্যাজিক প্রেম, দুটি গান এবং নির্দোষ কুদ্দুসের ফ...
- দেশের চাহিদা মিটছে না, তবুও চাল রফতানি- এমন পদক্ষে...
- রাজনৈতিক সংলাপে বসার ব্রিটিশ মন্ত্রীর তাগিদ- বিদ্য...
- রাজনীতি ও পিছিয়ে পড়া সমাজ by ড. ফজলুল হক সৈকত
- বাংলাদেশের চার দশক : গণমাধ্যম পরিস্থিতি by সৈয়দ আব...
- রাজনৈতিক সঙ্কট : উত্তরণের কোনো পথ নেই? by প্রফেসর ...
- উন্নয়নের আশ্বাস বা চমক সাংবিধানিক অনৈক্যের সমাধান ...
- মেরন সান স্কুল এন্ড কলেজ চকবাজার ক্যাম্পাস এর জেএস...
- আল-আকসা মসজিদ বন্ধ- ফিলিস্তিনি তরুণ নিহত
- সময় কাউকে ছেড়ে কথা বলে না by মেজর জেনারেল (অব:) সৈ...
- রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ হোক- দেশে সুস্থ রাজনীতি...
- আধুনিকতা অনাধুনিকতা by ফরহাদ মজহার
- সঙ্কট মুক্তির অনিঃশেষ অন্বেষা by ড. মীজানূর রহমানশেলী
- মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার জরুরি by আসম আবদু...
- সামাজিক ব্যবসা পৃথিবীকে বদলে দিতে পারে by মুহাম্মদ...
- অনুভূতি রক্ষার অধিকার by ডক্টর তুহিন মালিক
- ছাত্রের গালে চিমটি কাটায় শিক্ষিকাকে জরিমানা ৫০ হাজ...
- নিজামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ রদ করুন : অ্যামনেস্টি ইন্টা...
- কোমর ব্যথা, কারণ ও চিকিৎসা by ডা: মিজানুর রহমান কল...
- হাছন রাজা জাদুঘর
- মৃগি রোগের নানান কথা by ডা: মৌসুমী রিদওয়ান
- কোবানির পথে ইরাকের কুর্দিরা
- অজ্ঞতায় সেরা মার্কিন আর ইতালীয়রা!
- লবণে নষ্ট হচ্ছে দিনে ২ হাজার হেক্টর জমি
- লন্ডনে মারা গেলেন জাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট
- পোপের বিশ্বাস
- সত্যিই ‘এলিয়েন’ রয়েছে!
- গাজায় মালালার ৫০ হাজার ডলার দান
- সত্যের সঙ্গে প্রতিদিন by আলমগীর মহিউদ্দিন
- তুরস্কে পৌঁছেছে ইরাকি যোদ্ধারা
- আল্লাহর আদালতে সুবিচার পাবই
- এ রায় ন্যায়ভ্রষ্ট- আসামিপক্ষের প্রতিক্রিয়া
- মৃত্যু নিয়ে চিন্তিত নই -মাওলানা নিজামী
- জেএসসির আগেই ঝরে গেল সাড়ে ৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থী ...
- মহাকাশযান অভিযানে বিপত্তি- ৬ সেকেন্ডেই শেষ
- মীর কাসেমের মামলার রায় রোববার
- স্মরণ- ফজলে লোহানী
- আইএসবিরোধী লড়াই- কোবানির পথে ইরাকের কুর্দিরা
- ছেলে না মেয়ে? ১২ পুত্রের পর ১৩তম সন্তানের অপেক্ষা
- গেঁটে বাতের লক্ষণ ও চিকিৎসা by ডা. শাহজাদা সেলিম
- কবিতাযোনীর প্রজনন তত্ত্ব by অমিতাভ পাল
- ব্যবসায়ীদেরও আসতে হবে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে
- কোবানি প্রতিরক্ষায় সিরীয় বিদ্রোহীরা
- মায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু- কান্না থামছে না রাইসা’র
- মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি- বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, ...
- শোকের মাতম- ৩ বাংলাদেশীর লাশ ফেরত দেয়নি বিএসএফ by ...
- হাসিনা-খালেদাকে হত্যা পরিকল্পনা জেএমবি’র
- বৃটেনে ৫০ হাজার রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী নিখোঁজ!
- নিজামীর রায়- ফের বিশ্বের দৃষ্টি বাংলাদেশের দিকে
- ২০ কোটি টাকা হাতবদল- রাজউকে স্বাক্ষর জালিয়াতি
-
▼
Oct 30
(58)
-
▼
October
(1240)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
মালয়েশিয়া
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
স্বাস্থ্য
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
জ্যোতির্বিজ্ঞান
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
মিয়ানমার
ঢাকা
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
জীবনযাপন
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
মেহেদী হাসান
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
ইয়েমেন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
Exclusive
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিজ্ঞান
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
ফরিদপুর
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মহাকাশচারী
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
জোহরান মামদানি
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
ইহুদি
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বকাপ ফুটবল
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment