Thursday, October 30, 2014
ট্র্যাজিক প্রেম, দুটি গান এবং নির্দোষ কুদ্দুসের ফাসি by শফিক রেহমান
ট্র্যাজিক প্রেম, দুটি গান এবং নির্দোষ কুদ্দুসের ফাসি by শফিক রেহমান
Thursday, October 30, 2014
Anonymous
আইন আদালত ও বিচার,
আলোচনা,
উপ-সম্পাদকীয়,
নয়া দিগন্ত,
মতামত,
রাজনীতি
পঞ্চাশের দশকে গ্র্যাজুয়েশন অথবা মাস্টার্সের শেষে যখন আমার সহপাঠী ও সমসাময়িকরা সিভিল সার্ভিসে যোগ দেওয়ার জন্য মনোনিবেশ করেছিলেন আমি তখন লন্ডনে যাওয়ার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিলাম। এর প্রধান দুটি লক্ষ্য ছিল :
এক. লেখা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য চার্টার্ড একাউন্টেন্ট হওয়া এবং দুই. হাওয়াইয়ান স্টাইলে হাওইয়ান গিটার বাজানো শেখা।
৮ নভেম্বর ১৯৫৭-তে ঢাকা ছেড়ে করাচি পৌছাই পিআইএ-র সুপার কনস্টেলেশন প্লেনে। সেই সময়ে ঢাকা ছিল ডমেস্টিক এয়ারপোর্ট। করাচি ছিল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট এবং সেখানেই হতো কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন চেকিং। ১০ নভেম্বর করাচি ছেড়ে বৃটিশ ওভারসিজ এয়ারওয়েজ (বিওএসি নামে পরিচিত)-এর বৃস্টল ব্রাবাজন টারবো প্রপ প্লেনে জুরিখ হয়ে ১১ নভেম্বর সন্ধ্যায় পৌছাই প্যারিসে। ওরলি এয়ারপোর্টে। আমার দুই প্রিয় বন্ধু, ফারুক চৌধুরী ও আবদুল বারি আমাকে এয়ারপোর্টে রিসিভ করেছিলেন। তারা তখন পাকিস্তান ফরেন সার্ভিসে নিয়োগপ্রাপ্ত এবং প্যারিসে ফ্রেঞ্চ ভাষা শিখছিলেন।
সেখানে চার দিন থেকে ১৫ নভেম্বর ১৯৫৭-র সন্ধ্যায় পৌছাই লন্ডনে হিথরো এয়ারপোর্টে। তখন আমার পিতা সাইদুর রহমান একটি স্কলারশিপে ছিলেন লন্ডন ইউনিভার্সিটিতে। তারপর একটানা দশ বছরেরও বেশি ছিলাম লন্ডনে এবং দুটি লক্ষ্যই অর্জনে সফল হয়েছিলাম।
প্রথম লক্ষ্যটি অর্জনের সুফলে আমি লেখালেখি ও অন্যান্য কর্মকাণ্ডে স্বাধীনভাবে আমার মত প্রকাশ করতে পেরেছি এবং মৃত্যুদণ্ডে অতি উৎসাহী আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও এই চরম অসভ্যতার বিরুদ্ধে লিখতে পারছি। আর দ্বিতীয় লক্ষ্যটি অর্জনের সুফলে ওয়েস্টার্ন মিউজিকের সঙ্গে আমার পরিচয়ের সুবাদে মৃত্যুদণ্ড বিষয়ে গান শুনতে এবং গিটারে সেই সুর তুলতে পেরেছিলাম।
মৃত্যুদণ্ড বিষয়ে গান?
এ রকম কঠিন বিষয়ে গান?
হ্যা।
মৃত্যুদণ্ড বিষয়ে দুটি গান এক সময়ে পশ্চিমের বিভিন্ন দেশে খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল।
১৯৫৮-তে ইংল্যান্ডে হিট হয় টম ডুলি (Tom Dooley) গানটি। প্রথমে আটলান্টিকের অপর পারে আমেরিকান গায়কত্রয় দি কিংসটন টৃও (The Kingston Trio) এই গানটি জনপ্রিয় করেন। তারপর ইংল্যান্ডে লনি ডোনেগান গানটি জনপ্রিয় করেন।
এই গানটির আট বছর পরে ১৯৬৬-তে লন্ডনে টম জোনস (Tom Jones) জনপ্রিয় করেন গৃন, গৃন গ্রাস অফ হোম (Green, Green Grass of Home) গানটি।
এই দুটি গানের জনপ্রিয়তা বৃটেনে মৃত্যুদণ্ড রহিত করতে জনমত গঠনে খুব সহায়ক হয়েছিল। বিশেষত টম ডুলি গানটি। কারণ, ধারণা করা হয় টম ডুলি ছিলেন নিরপরাধ এবং ত্রুটিপূর্ণ বিচারে তার ফাসি হয়েছিল।
ঘটনাটি জেনে নিন।
টম ডুলির ট্র্যাজিক ত্রিভুজ প্রেম
টম ডুলি-র জন্মগত নাম ছিল টমাস সি ডুলা (Thomas C Dula)। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য নর্থ ক্যারোলাইনার অ্যাপালেচিয়ান পাহাড়ি এলাকায় উইলক্সবরোতে একটি গরিব পরিবারে টম ডুলির জন্ম হয়েছিল ২২ জুন ১৮৪৬-এ। স্থানীয় উচ্চারণে ডুলাকে বলা হতো ডুলি। তাই তিনি পরিচিত হন টম ডুলি নামে।
তিন ভাইয়ের মধ্যে টম ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। তার ছোট ছিলেন এলিজা নামে এক বোন। শৈশবে স্কুলে টমের পরিচয় হয়েছিল এলিজার বান্ধবী অ্যান এবং অ্যানের দুই কাজিন সিস্টার লরা ও পলিনের সঙ্গে।
শৈশব পেরিয়ে যৌবনে ঢোকার মুহূর্তে টম আর অ্যানের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়। অ্যানের বয়স যখন মাত্র চৌদ্দ তখন তার মা একদিন অ্যানকে আবিষ্কার করেন টমের সঙ্গে একই বিছানায়। টম ঘটনাটা কোনো রকমে সামলে নেন।
মায়ের কাছে ধরা পড়ার পর অ্যান বাধ্য হয়েছিলেন টমকে এড়িয়ে চলতে। তাদের দুজনের প্রতিবেশী ছিলেন একজন বয়স্ক কিন্তু ধনী কৃষক ও মুচি জেমস মেলটন। অ্যানের মা চেয়েছিলেন জেমসের সঙ্গে অ্যানের বিয়ে হোক। তাই হয়েছিল।
আমেরিকায় তখন গৃহযুদ্ধ (১৮৬১ Ñ ১৮৬৫) শুরু হতে যাচ্ছিল। অ্যান আর জেমসের বিয়ে হয়ে যায়। তারপর কনফেডারেট আর্মির পক্ষে যোগ দিয়ে জেমস চলে যান যুদ্ধে। কনফেডারেট আর্মি দাসত্ব প্রথার বিরুদ্ধে লড়ছিল। গৃহযুদ্ধে তারা বিজয়ী হয়েছিল এবং আমেরিকাতে দাসত্ব প্রথা নিষিদ্ধ হয়েছিল।
টমও আমেরিকান গৃহযুদ্ধে যোগ দিতে চান। কিন্তু বয়স কম থাকায় তার আবেদনপত্র নাকচ হয়ে যায়। তারপরও তিনি চেষ্টা চালিয়ে যান। ১৫ মার্চ ১৮৬২-তে তিনি তখন কনফেডারেট আর্মিতে যোগ দেওয়ার অনুমতি পান তখন তার বয়স আঠার হতে তিন মাস বাকি ছিল।
জেমস ও টম উভয়ে ব্যাটল অফ গেটিসবার্গ-এ অংশ নেন। তারা দুজনই বন্দি হয়েছিলেন।
অল্প বয়স থেকেই টম কয়েকটি বিষয়ে ছিলেন ব্যতিক্রমী।
খুব গরিব পরিবারে জন্ম এবং একটি অখ্যাত স্কুলে পড়াশোনা করলেও তার সাক্ষরতা ছিল অসাধারণ। সেই বয়সেই তিনি ১৫ পৃষ্ঠাব্যাপী আত্মজীবনী লিখে ফেলেছিলেন। তিনি বাশি ও ড্রাম বাজাতে পারতেন। এসব গুণের জন্য টম অল্প বয়স থেকেই হয়েছিলেন লেডিজম্যান Ñ নারীদের প্রিয়পাত্র। নারীরা তাকে কাছে পেতে চাইত।
গৃহযুদ্ধের সময়ে সেনাবাহিনীতে তিনি তার ঊর্ধ্বতন অফিসার কর্নেল ভান্স-এর মন জয় করেছিলেন এবং সহযোদ্ধাদের প্রিয়পাত্র হয়েছিলেন। কারণ টমের ছিল সাহস। যুদ্ধের সময় একাধিকবার তিনি আহত হয়েছিলেন। তার ভাইরা যুদ্ধে মারা গিয়েছিলেন।
যুদ্ধ শেষে টম ও জেমস দুজনই বাড়ি ফিরে আসেন। যদিও তখন অ্যান ছিলেন জেমসের স্ত্রী তবু আত্মবিশ্বাসে ভরপুর টম তার সঙ্গে পূর্ব সম্পর্কের নবায়ন করলেন। অর্থাৎ পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত হলেন। কিন্তু সেখানেই তিনি থেমে থাকলেন না। অ্যানের কাজিন সিস্টার লরা ফস্টারের সঙ্গেও অন্তরঙ্গ সম্পর্ক গড়ে তুললেন।
কয়েক মাস পরে লরা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। টম ও লরা ঠিক করেন তারা পালিয়ে যাবেন। পালানোর দিনক্ষণ ধার্য হয় ২৫ মে ১৮৬৬-তে সকাল বেলা।
লরা থাকতেন তার পিতামাতার সঙ্গে। পিতা মি. ফস্টার ঘোড়া পালতেন। সেদিন ভোরে উঠে বেলে নামে একটি ঘোড়ার পিঠে চেপে সবার অজ্ঞাতসারে লরা চলে যান। এরপর তাকে জীবিত অবস্থায় আর পাওয়া যায়নি।
সেদিন যে কি ঘটেছিল তার সত্য ও পূর্ণ বিবরণ পাওয়া যায়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গুজব ও কল্পকাহিনীর প্রতি মানুষ ঝুকে পড়ে।
কেউ কেউ মনে করেন অ্যানই খুন করেছিলেন লরাকে। কারণ অ্যান তখনো ভালোবাসতেন টমকে এবং লরা বিয়ে করবেন টমকে Ñ এটা জানার পর থেকে অ্যান প্রচণ্ড ঈর্ষাপরায়ণ হয়েছিলেন।
আবার কেউ কেউ মনে করেন টম জানতেন অথবা সন্দেহ করেছিলেন অ্যানই ছিলেন লরার খুনি। কিন্তু যেহেতু টমও তখনো ভালোবাসতেন অ্যানকে সেহেতু তিনি (টম) গ্রেফতার হওয়ার পরে অ্যানকে বাচানোর জন্য খুনের দায়িত্ব নিয়েছিলেন।
ওই সময়ে অ্যানের দেওয়া তথ্য থেকে লরার মৃতদেহ পুলিশ খুজে পায়। এর ফলে অনেকেই মনে করেন, টম নয় Ñ প্রকৃত খুনি ছিলেন অ্যান।
এই সন্দেহ আরো বিশ্বাসযোগ্যতা পায় যখন অ্যানের আরেক কাজিন সিস্টার পলিন (লরার বোন) সাক্ষ্য দেন যে, এক রাতে তাকে (পলিন) নিয়ে অ্যান গিয়েছিলেন লরার কবর চেক করতে। অ্যান নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন কবরটা কেউ খুজে পায়নি।
এদিকে আদালতে কয়েকজন সাক্ষী জানায় যে টমের যৌন রোগ (সিফিলিস) হয়েছিল এবং সেজন্য টম প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ছিলেন। তিনি তাদের (সাক্ষীদের) বলেছিলেন, যে নারী তাকে এই রোগ দিয়েছে তাকে তিনি খতম করবেন। সাক্ষীরা আরো বলেন, টমের বদ্ধমূল বিশ্বাস হয়েছিল রোগটা এসেছিল লরার কাছ থেকে এবং টম পরবর্তী সময়ে রোগটা সংক্রমিত করেছিলেন অ্যানের দেহে। স্থানীয় ডাক্তার সাক্ষ্য দেন যে, তিনি টম এবং অ্যানের সিফিলিসের চিকিৎসা করেছিলেন। তবে তিনি আরো বলেন, পলিনেরও এই রোগ হয়েছিল এবং প্রথম চিকিৎসাটি করিয়েছিলেন পলিন। তাই অনেকের ধারণা হয় পলিনের কাছ থেকে রোগটি পেয়েছিলেন টম, যিনি ভুল করে ভেবেছিলেন লরার কাছ থেকে রোগটি পেয়েছিলেন। এরা ধারণা করেন, নিজের দোষ ঢাকার জন্য এবং টমের হুমকির হাত থেকে বাচার জন্য পলিনই হয়তো তার আপন বোন লরাকে খুন করেছিলেন।
টম, অ্যান আর পলিন Ñ এই তিনজনের মধ্যে কে তাহলে ছিলেন প্রকৃত খুনি?
লরার গলিত দেহাবশেষ পাওয়া গিয়েছিল একটি অগভীর ছোট কবরে। কবরটি ছোট ছিল বলে লরার হাটু ভাজ করে সেখানে তাকে শায়িত করা হয়েছিল। তার বুকে শুধু একটি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল।
শান্ত একটি শহরে এ ধরনের একটি খুন যেখানে তিনজন ছিলেন খুনিরূপে সন্দেহভাজন এবং যেখানে খুনের মোটিভ হতে পারত তিনটি :
প্রেম (অ্যানের প্রতি টমের) অথবা
ঈর্ষা (লরার প্রতি অ্যানের) অথবা
অপরাধ গোপন (পলিনের)।
ঘটনাটি সারা দেশে বিশাল পাবলিসিটি পায়। দি নিউ ইয়র্ক টাইমস এই মামলার বিস্তারিত বিবরণ ছাপতে থাকে। জীবিত অবস্থাতেই টম ডুলি লেজেন্ড (Legend, উচ্চারণ লিজেন্ড নয়) বা কিংবদন্তিতে পরিণত হন।
আদালতে টমের পক্ষে সাক্ষ্য দিতে এগিয়ে আসেন নর্থ ক্যারোলাইনার গভর্নর জেবুলন ভান্স যিনি গৃহযুদ্ধের সময় ছিলেন টমের ঊর্ধ্বতন অফিসার।
তিনি বিশ্বাস করেছিলেন টম নিরপরাধ এবং রাজনৈতিক কারণেও তিনি চাননি যে একজন বীর যোদ্ধা অন্যায়ভাবে দণ্ডিত হোক। কিন্তু টমের স্থানীয় এলাকা উইলক্সবরোতে তার বিরুদ্ধে জনমত প্রবল হয়ে উঠছিল। গভর্নর ভান্স সিদ্ধান্তে আসেন স্থানীয় এলাকায় বিচারকরা প্রভাবিত হতে পারেন স্থানীয় জনমতের দ্বারা। টম ন্যায়বিচার পাবেন না। তাই তিনি টমের বিচার স্টেটসভিল-এ স্থানান্তরিত করেন।
স্টেটসভিলে টমের সঙ্গে অভিযুক্ত হন তার বন্ধু জ্যাক কিটন। বলা হয় খুনের সহযোগী ছিলেন জ্যাক। কিন্তু আদালতে টম বলেন, তিনি একাই খুন করেছিলেন লরাকে। টমের কথায় জ্যাক মুক্তি পান। টমের মৃত্যুদণ্ড হয়। টম আপিল করেন। কিন্তু তার আপিল নাকচ হয়ে যায়।
ফাসিতে টমের (২২) মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ১ মে ১৮৬৮-তে Ñ লরা খুন হওয়ার প্রায় দুই বছর পরে। টমের ছোট বোন ও তার স্বামী মৃতদেহ নিয়ে কবর দেন।
কথিত আছে, ফাসির পূর্ব মুহূর্তে টম বলেছিলেন, জেন্টলমেন, আপনারা এই হাতটি দেখছেন? আমি ওই মেয়েটির মাথার একটি চুলেরও ক্ষতি করিনি (Gentlemen, do you see this hand? I didn-t harm a hair on the girl-s head)।
এভাবে মৃত্যুর আগে টম জানিয়ে যান আদালতে আত্মস্বীকৃত খুনি হলেও আসলে তিনি খুনি ছিলেন না।
এরপর ক্রমেই টম ডুলির পক্ষে জনমত গড়ে উঠতে থাকে। তাকে নিয়ে কবিতা, গান ও কাহিনী ছড়িয়ে পড়তে থাকে। টমাস ল্যান্ড নামে একজন স্থানীয় কবি একটি গান লেখেন। সেই গান ১৯৫৮-তে আমেরিকান গায়কত্রয় দি কিংসটন টৃও-র গাওয়া, হ্যাং ডাউন ইয়োর হেড টম ডুলি (Hang down your head Tom Dooley, 1958) ওয়ার্ল্ড হিট হয়। ইউটিউবে ১ আগস্ট ২০১৪-তে এই গানের হিট সংখ্যা ছিল ৮৮০,৪৩৭। এই গানের ৬০ লাখের বেশি রেকর্ড বিক্রি হয়। গানটির জার্মান, ফ্রেঞ্চ, স্প্যানিশ, ইটালিয়ান ভার্সন বিভিন্ন গায়ক রেকর্ড করেন। ইউটিউবে গেলে এই গানটির বিভিন্ন সংস্করণ পাওয়া যাবে। সর্বাধুনিক একটি সংস্করণ বেনজামিন মাসের-এর গাওয়া ইন্টারনেট হিট হয়েছে। ইউটিউবে ১ আগস্ট ২০১৪-এ এই সংস্করণের হিট সংখ্যা ছিল ৬৩৫,৬২৫। কিক করুন।
নিচে গানটির বাংলা ভাষান্তর প্রকাশিত হলো। তবে গানটির পূর্ণ আবেদন বুঝতে হলে দি কিংসটন টৃও (The Kingston Trio) এবং বেনজামিন মাসের (Benjamin Musser)-এর গান, দুটিই ইউটিউবে শুনে নিন।
১৩৩ বছর পর নির্দোষ ঘোষিত
টম ডুলি কাহিনীর চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি নাটকীয়ভাবে ঘটে তার মৃত্যুর ১৩৩ বছর পরে ২০০১-এ। উইলক্সবরোর অধিবাসীরা স্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান শুরু করেন। তারা বলেন, টম ডুলি নির্দোষ ছিলেন এবং সেই সত্যটা প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত। উইলক্সবরো অধিবাসীদের এই ক্যামপেইন ছিল বেসরকারি এবং এর কোনো আইনগত ভিত্তি ছিল না। কিন্তু উইলক্সবরোর অধিবাসীদের স্বাক্ষরিত এই আবেদনপত্রটি নৈতিক বৈধতা পেয়েছে।
১৩৩ বছর জুড়ে টম ডুলি সম্পর্কে অনেক কাহিনী ছড়িয়ে পড়েছিল। টম ডুলি ভালো বাশি এবং হয়তো ব্যানজো বাজাতে পারতেন। তাই হ্যাং ডাউন ইয়োর টম ডুলি গানে ব্যানজো বাজানো হয়েছে।
আরেকটি কাহিনী হলো, অ্যান তার মৃত্যুশয্যায় স্বীকার করে যান, প্রচণ্ড ঈর্ষায় উন্মত্ত হয়ে তিনি লরাকে খুন করেছিলেন। তারপর তিনি টমের কাছে সাহায্য চান এবং টম তাকে সাহায্য করেছিলেন লরার মৃতদেহ লুকিয়ে রাখতে।
এসব কারণে লরার খুনে টমের সম্পৃক্ততা সঠিকভাবে নিরূপণ সম্ভব হয়নি। টমকে সন্দেহভাজন ঘোষণার পর তিনি উইলক্সবরো থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন টেনেসি-র ট্রেড শহরে। লরার মৃতদেহ পাওয়া যায় টমের পালানোর পরে। টেনেসিতে টম ডুলি নিজের নাম বদলে টম হল রাখেন। কর্নেল জেমস গ্রেইসন নামে এক রিটায়ার্ড আর্মি অফিসারের ব্যবসায়ে কাজ করতে থাকেন টম। গ্রেইসন জানতেন না উইলক্সবরোতে কি ঘটেছিল। গ্রেইসন চিনতেন না লরাকে। কিন্তু বিভিন্ন কাহিনীতে টমের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রেমিকরূপে গ্রেইসনকে বর্ণনা করা হয়। এটা সত্যি ছিল না।
হ্যাং ডাউন ইয়োর হেড টম ডুলি গানে গ্রেইসনের কথা আছে। গানে বলা হয়েছে, গ্রেইসনই পুলিশের কাছে টমকে ধরিয়ে দিয়েছিলেন। এটা সত্যি ছিল। উইলক্সবরোর পুলিশ যখন জানতে পারে টম পরিচয় গোপন করে টেনেসিতে আছে তখন তারা যোগাযোগ করে গ্রেইসনের সঙ্গে। গ্রেইসন তখন টমকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন।
টম ডুলিকে নিয়ে গান, লেখালেখি ও মুভি এখনো চলছে। ১৯৫৯-তে দি লেজেন্ড অফ টম ডুলি মুভিটি রিলিজ হয়। ২০১১-তে শ্যারিন ম্যাক ক্রামবি-র উপন্যাস দি ব্যালাড অফ টম ডুলি প্রকাশিত হয়। নিচে গানটির ভাষান্তর প্রকাশিত হলো :
Hang down your head, Tom Dooley
Hang down your head and cry
Hang down your head, Tom Dooley
Poor boy, you-re bound to die...
(কোরাস)
তোমার মাথা নিচু করো টম ডুলি
মাথা নিচু করে কাদো টম ডুলি
বেচারা টম, তুমি মরতে যাচ্ছ।
(সলো)
তার সঙ্গে দেখা করেছিলাম পাহাড়ে
সেখানে তাকে খুন করেছিলাম
ছুরি দিয়ে মেরেছিলাম।
আগামীকাল এই সময়ে
ভেবে দেখ আমি কোথায় থাকব?
গ্রেইসন ধরিয়ে না দিলে
আমি টেনেসিতে থাকতাম।
আগামীকাল এই সময়ে
ভেবে দেখ আমি কোথায় থাকব?
কোনো এক নির্জন উপত্যকায়
একটা শাদা ওক গাছ থেকে ঝুলে থাকব।
হ্যাং ডাউন ইয়োর হেড টম ডুলি গানটির রেশ মিলিয়ে যাওয়ার আগেই ১৯৬৬-তে রিলিজড হয় টম জোন্স-এর (Tom Jones) গৃন, গৃন গ্রাস অফ হোম (Green, Green Grass of Home)। কড কার্লি পাটম্যান জুনিয়রের লেখা এ গানটি টম ডুলির চাইতেও অনেক বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং টম ডুলির মতো অনেক গায়ক এ গানটি গেয়েছেন। ইউটিউবে কিক করলে দেখবেন এই গানের জনপ্রিয়তা। এলভিস প্রেসলি (Elvis Presley, যাকে টম জোন্স শ্রদ্ধা করতেন ও যার বন্ধু হয়েছিলেন) তার গাওয়া এই গানে ১ আগস্ট ২০১৪ পর্যন্ত হিট হয়েছে ১,২৬৩,১১৬ বার। আর জোন বেইজ (Joan Baez)-এর গাওয়া এই গানে ১ আগস্ট পর্যন্ত হিট হয়েছে ৩,১৬৫,২৩১ বার। টম জোন্সের অরিজিনাল ভার্সনে কত হিট হয়েছে সেটা জানা সম্ভব হয়নি। টম জোন্স ইংল্যান্ডে রানির কাছ থেকে স্যার উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন এবং এখনো গানটি নিয়মিতভাবে গাইছেন লাস ভেগাস-এ তার লাইভ শো-তে।
এই গানটির দুটি পার্ট আছে। প্রথম পার্টে বোঝা যায় এক ব্যক্তি তার শৈশবকালের গ্রামের বাড়িতে ফিরে এসেছে। যৌবনে এই গ্রাম ছেড়ে যাওয়ার পরে সম্ভবত এই প্রথম সে ফিরেছে। ট্রেন থেকে নামার পরে সে দেখতে পায় তার পিতামাতা এবং আদরের ছোট বোন মেরিকে। তারা সবাই তাকে দেখতে আসছে। মেরি ছুটে আসছে। ওই ব্যক্তি তার পুরনো বাড়িঘর, ওক গাছ আর সবুজ ঘাস দেখতে পায়। সে ছুতে চায় সবুজ ঘাসকে।
প্রথম পার্টে এটি শুনলে মনে হবে ব্যক্তিটি স্মৃতিচারণা করছে। কিন্তু হঠাৎ দৃশ্যপট বদলে যায়। দ্বিতীয় পার্টে বোঝা যায় ওই ব্যক্তিকে তার গ্রামে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে। ব্যক্তিটি বুঝতে পারে তার শেষ সময়ের জন্য উপস্থিত আছেন এক বৃদ্ধ পাদরি। সে বুঝতে পারে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর তার মৃতদেহ কবর দেওয়া হবে সেই পুরনো ওক গাছের ছায়ায় সবুজ ঘাসের নিচে।
মানবতাবাদী গায়িকা জোন বেইজ, যিনি ১৯৭১-এ বাংলাদেশের নির্যাতিত জনগণের পক্ষে ভূমিকা নিয়েছিলেন, তিনি তার গাওয়া গানের শেষে আরো যোগ করেছেন, হ্যা, আমরা সবাই পুরনো ওক গাছের ছায়ায়, যখন আমরা সবাই মিলিত হব বাড়ির সবুজ, সবুজ ঘাসের নিচে।
পুরো গানটির ভাষান্তর :
ট্রেন থেকে নেমে আমি দেখছি
সেই পুরনো বাড়ি ঘর ঠিক সেই রকমই আছে।
আর আমাকে দেখতে সেখানে এসেছেন
আমার মা, বাবা।
পথে দৌড়ে আসছে আমার ছোট বোন মেরি
তার চুল সোনালি, ঠোট দুটো চেরি ফলের মতো।
বাড়ির সবুজ, সবুজ ঘাস ছুতে লাগে ভালো।
হ্যা, তারা সবাই আসবে আমার সঙ্গে দেখা করতে।
দুই হাত বাড়িয়ে মিষ্টি হাসি মুখে।
বাড়ির সবুজ, সবুজ ঘাস ভালো লাগে ছুতে।
সেই পুরনো বাড়িটা এখনো দাড়িয়ে আছে
যদিও বাড়ির রং ফেটে গেছে, ময়লা হয়ে গিয়েছে।
আর ওই যে সেই ওক গাছটা আছে
যার নিচে আমি খেলতাম।
আমি পথে হাটছি।
সোনালি চুল আর চেরি ঠোটে আমার মিষ্টি বোন
মেরি ছুটে আসছে।
হ্যা, তারা সবাই আসবে আমার সঙ্গে দেখা করতে।
হঠাৎ আমার স্বপ্ন ভেঙ্গে গেল।
আমি চারদিকে তাকিয়ে দেখি
আমি তো চার দেয়ালের মধ্যে বন্দি।
আমি বুঝতে পারি
আমি স্বপ্ন দেখছিলাম।
ওই তো আমাকে একটা গার্ড পাহারা দিচ্ছে।
তার পাশে আছেন বিষণœ মুখে এক বুড়ো পাদরি।
কাল ভোরে সূর্য উঠলে ওরা আমাকে ধরে নিয়ে যাবে।
আমি আবার বাড়ির সবুজ, সবুজ ঘাস ছোবো।
হ্যা, তারা সবাই আসবে
সেই পুরনো ওক গাছের ছায়ায়
আমাকে দেখতে।
আমাকে যখন তারা সবুজ, সবুজ ঘাসের নিচে
শুইয়ে দেবে।
বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত বহু ব্যক্তির মৃতদেহ শায়িত করা হয়েছে তাদের গ্রামের বাড়িতে সবুজ ঘাসের নিচে।
কোনো বাংলাদেশি গায়ক একদিন নিশ্চয়ই গাইবেন বাংলাদেশে টম ডুলির মতো মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত কিন্তু নিরপরাধ ব্যক্তির কাহিনী।
অথবা কোনো বাংলাদেশি গায়ক একদিন নিশ্চয়ই গাইবেন বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত যেকোনো ব্যক্তির তার গ্রামের বাড়িতে সবুজ ঘাসের নিচে চিরঘুমের কাহিনী।
সেটি হতে পারে কুদ্দুসের জীবনী নির্ভর।
কুদ্দুস কে ছিলেন সেটা লিখেছিলেন রিটায়ার্ড ডেপুটি জেইলার মোহাম্মদ আমিনুর রহমান পত্রিকায় প্রকাশিত তার একটি স্মৃতিচারণায় যার শিরোনাম ছিল :
ফাসি হওয়া কুদ্দুস এখনো আমার সামনে এসে দাড়ায়-।
ডেপুটি জেইলার হিসেবে যোগদানের এগার মাস পরই ১৯৬৪ সালে একটি ফাসি কার্যকরের দায়িত্ব পড়ে আমার ওপর। এর আগে ফাসি দেওয়ার অভিজ্ঞতা আমার ছিল না।
আমি তখন বরিশাল জেলা কারাগারে চাকরি করি। ফাসি কার্যকরের মতো একটি দায়িত্ব পাওয়ার পর আমার খারাপ লাগছিল। এরপরও চাকরি করি, তাই এই দায়িত্ব আমাকে পালন করতেই হবে। জেনেশুনেই এই চাকরিতে যোগ দিয়েছি। এরপরও তো আমি একজন মানুষ। আমার সামনে ফাসির রশিতে ঝুলে একজন তরতাজা মানুষ জীবন হারাবে Ñ ভাবতেই কেমন জানি লাগছিল।
স্মৃতিতে যত দূর মনে পড়ে, যার ফাসি কার্যকর করেছিলাম তার নাম কুদ্দুস। বাড়ি বরিশালের উজিরপুর এলাকায়। পেশায় কৃষিজীবী হলেও সে ছিল সুদর্শন যুবক। বাবাকে জবাই করার দায়ে তার ফাসির রায় হয়েছিল।
তারিখ মনে নেই। তবে ঘটনাটা মনে আছে।
সিনিয়র অফিসারের নির্দেশে আমি ফাসি কার্যকরের দিন বিকেলে কুদ্দুসের সেলে যাই। গিয়ে দেখি কুদ্দুস মনমরা হয়ে বসে আছে। তখনো সে জানে না আজ রাতেই তার ফাসি হবে। আমি গিয়ে জানালাম। ভেবেছিলাম শুনেই সে আতকে উঠবে। কিন্তু দেখলাম তার মাঝে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া হলো না। মনে হলো সে প্রস্তুতি নিয়েই রেখেছে। শুধু বড় একটা নিঃশ্বাস ফেলে বলল, স্যার, ফাসি-টাসি কেয়ার করি না। তবে কি, পিতাকে হত্যা না করেও হত্যার অভিযোগ নিয়ে দুনিয়া ছেড়ে যেতে হচ্ছে, এটাই দুঃখ।
তার কথা শুনে চমকে উঠলাম এই কারণে যে, তার কথা অনুযায়ী অপরাধ না করেও তাকে ফাসিতে ঝুলতে হচ্ছে!
আগ্রহ জন্মাল ঘটনাটি জানার।
কুদ্দুস আমাকে জানাল, তার বাবা দুই বিয়ে করেছে। প্রথম স্ত্রীর ছেলে সে। মা মারা যাওয়ার পর তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে। ওই ঘরে দুই মেয়ের জন্ম হয়। প্রত্যেকেই বড় হয়, বিয়েশাদি করে। কুদ্দুসেরও এক ছেলে হয়। তার বাবার বিষয়-সম্পত্তি দখলের জন্য সৎ বোনের জামাই হন্যে হয়ে ওঠে। তার বোন, বোনজামাই ও সৎ মা মিলে পরিকল্পনা করে তার বাবাকে হত্যার। সেই হত্যার দায় চাপানোর জন্য তাকে আসামি করার পরিকল্পনাও করে।
এক রাতে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে কুদ্দুস তার বাবার বিছানায় শুয়ে থাকে। বাবা চলে গিয়েছিল অন্য ঘরে। ওই রাতে তার বোনজামাাই বাবাকে হত্যার জন্য যায়। গিয়ে কাথা সরিয়ে দেখতে পায় কুদ্দুসকে। তাকে দেখে দ্রুত চলে যায়। সেদিন কুদ্দুস বুঝতে পেরেছিল তার বাবাকে হত্যার জন্যই চেষ্টা করছে তারা। এর ক-দিন পর এক রাতে তার বোন ও বোনজামাই তার বাবাকে জবাই করে।
বিষয়টি কুদ্দুস আচ করতে পেরেও কিছুই করতে পারেনি। বরং তার মা বাদী হয়ে কুদ্দুসকেই প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করে।
মা, বোন ও বোনজামাই প্রত্যেকেই কুদ্দুস হত্যা করেছে বলে আদালতে সাক্ষ্য দেয়। মায়ের সাক্ষ্যকে আদালত গ্রহণ করে। সেই সাক্ষ্যের ভিত্তিতে কুদ্দুসের ফাসির রায় হয় বলে সে আমাকে জানায়।
এসব কথা বলার সময় কুদ্দুস অঝোর ধারায় কাদতে থাকে। সেই কান্না দেখাও ছিল বেশ কষ্টকর। কুদ্দুসের ইচ্ছা কি জানতে চাওয়া হলে সে একটি চিঠি লেখার আগ্রহ প্রকাশ করে।
তাকে চিঠি লেখার জন্য কাগজ-কলম দিয়ে সেল থেকে বিদায় হই।
কুদ্দুসকে ফাসি দেওয়ার সব আয়োজন সম্পন্ন করা হলো। রাত দশটার দিকে কুদ্দুসের সেলে যাই আমি। কুদ্দুস তার লেখা চিঠিটি দেয় আমার হাতে।
অনুরোধ করে বলল, স্যার আমি আপনার পায়ে ধরি। চিঠিটি আমার মায়ের কাছে পৌছে দেবেন।
আমি তাকে কথা দিলাম তার চিঠি অবশ্যই আমি পৌছে দেওয়ার ব্যবস্থা করব।
চিঠিটি নিয়ে পড়ার আগ্রহ বোধ করলাম। দেখলাম সে লিখেছে,
মা, তুমি তোমার জামাই মিলে বাবারে হত্যা করলা আর আমারে দিলা ফাসি। কোর্টে সাক্ষী দিলা যে আমিই মারছি। ঠিক আছে আমি তো চলে যাচ্ছি, তোমার সঙ্গে দেখা হবে ওপারে। রোজ হাশরের মাঠে। তোমার সঙ্গে ওইখানে মোকাবেলা হবে। আর একটা কথা, আমার বউ যদি অন্য কোথাও বিয়ে করতে চায় তুমি বাধা দিও না। তুমি যত দিন বাইচা থাকবা তত দিন আমার ছেলেকে দেখবা। তুমি আমার ছেলেকে পড়াবা। আমি যখন একা কবরে যাচ্ছি, তোমাকেও একা কবরে যেতে হবে। সে সময় তোমার মেয়ের জামাই ও মেয়ে কিন্তু সঙ্গে যাবে না। দুনিয়ায় তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে এত বড় অপরাধ করলা। কিন্তু তাদের কাউকে তুমি পাবা না। তোমার সঙ্গে চূড়ান্ত হিসাব-নিকাশ হবে হাশরের ময়দানে।
এই কথাগুলো কুদ্দুস কয়েকবার লিখেছিল। চিঠির কাগজটি ভেজা ছিল। বোঝাই যাচ্ছিল লেখার সময় তার চোখ বেয়ে পানি ঝরছিল খুব। যে কারণে চোখের পানিতে কালি লেপটে যায়।
চিঠিটি নিয়ে সিনিয়র অফিসারকে দিলাম। তার কাছে জানতে চাইলাম চিঠিটি কিভাবে পাঠাব। তিনি পরামর্শ দিলেন রেজিস্টৃ ডাকে পাঠানোর জন্য। নিজের টাকা খরচ করে সেই চিঠিটি আমি পাঠিয়েছিলাম।
রাত আড়াইটার দিকে ফাসি দেওয়ার সময় নির্ধারণ করা হলো। নিয়ম অনুযায়ী এক ঘণ্টা আগে গিয়ে কুদ্দুসকে গোসল করানো হলো। এরপর সে নামাজ আদায় করল। মসজিদের ইমাম গিয়ে তাকে তওবা পড়ান। ফাসির কিছুক্ষণ আগে কুদ্দুসের কাছে জানতে চাইলাম, সে শেষবারের মতো কিছু খেতে চায় কি না।
সে বলল, একটু দুধ খাবে।
আমরা দ্রুত দুধের ব্যবস্থা করলাম।
দুধটুকু খাওয়ার পর কুদ্দুসই বলল, স্যার চলেন।
নিয়ম অনুযায়ী তার দুই হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে দিলাম। সেল থেকে পঞ্চাশ গজের মতো দূরে ফাসির মঞ্চে আমরা তাকে নিয়ে গেলাম। কারণ ফাসির আসামি যদি মঞ্চে না গিয়ে দৌড় দেয় বা অন্য কিছু করে বসে সে কারণে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে নিতে হয়।
সেখানে গিয়ে কুদ্দুস কোনো ঝামেলা না করেই ফাসির রশি গলায় ঝোলাল।
এ সময় ম্যাজিস্ট্রেট ডি জি সেনগুপ্ত, সিভিল সার্জন আবদুল লতিফ, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কারাগারের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সকালে লাশ নেওয়ার জন্য পরিবারের সদস্যদের ডাকা হয়। লাশ গ্রহণ করতে তার মা আসেনি। এসেছিল তার বড় বোন ও তার স্বামী। কয়েক ঘণ্টা আগেই আমি কুদ্দুসের মুখ থেকে শুনেছিলাম তার সৎ বোন ও স্বামী তার বাবাকে জবাই করেছে। এ কারণে নিজের আগ্রহ থেকে তাদের দুজনকে জানালাম যে, কুদ্দুস মৃত্যুর আগে বলে গেছে আপনারা হত্যা করে সেই দায় কুদ্দুসের ওপর চাপিয়েছেন।
এ সময় তারা দুজনই থতমত খেয়ে গেলেও পুরো ঘটনাটি অস্বীকার করে।
দীর্ঘ দিন কারাগারে চাকরি করেছি। অনেক মানুষের ফাসি কার্যকরের সময় উপস্থিত ছিলাম।
কিন্তু কুদ্দুসের ফাসিটি এখনো আমার মনে পড়ে।
কুদ্দুস স্বপ্নে এখনো আমার সামনে এসে দাড়ায়।
নতুন করে বলে, তার মৃত্যুর কাহিনী।
তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০১৪
facebook.com/Shafik Rehman Presents
এক. লেখা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য চার্টার্ড একাউন্টেন্ট হওয়া এবং দুই. হাওয়াইয়ান স্টাইলে হাওইয়ান গিটার বাজানো শেখা।
৮ নভেম্বর ১৯৫৭-তে ঢাকা ছেড়ে করাচি পৌছাই পিআইএ-র সুপার কনস্টেলেশন প্লেনে। সেই সময়ে ঢাকা ছিল ডমেস্টিক এয়ারপোর্ট। করাচি ছিল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট এবং সেখানেই হতো কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন চেকিং। ১০ নভেম্বর করাচি ছেড়ে বৃটিশ ওভারসিজ এয়ারওয়েজ (বিওএসি নামে পরিচিত)-এর বৃস্টল ব্রাবাজন টারবো প্রপ প্লেনে জুরিখ হয়ে ১১ নভেম্বর সন্ধ্যায় পৌছাই প্যারিসে। ওরলি এয়ারপোর্টে। আমার দুই প্রিয় বন্ধু, ফারুক চৌধুরী ও আবদুল বারি আমাকে এয়ারপোর্টে রিসিভ করেছিলেন। তারা তখন পাকিস্তান ফরেন সার্ভিসে নিয়োগপ্রাপ্ত এবং প্যারিসে ফ্রেঞ্চ ভাষা শিখছিলেন।
সেখানে চার দিন থেকে ১৫ নভেম্বর ১৯৫৭-র সন্ধ্যায় পৌছাই লন্ডনে হিথরো এয়ারপোর্টে। তখন আমার পিতা সাইদুর রহমান একটি স্কলারশিপে ছিলেন লন্ডন ইউনিভার্সিটিতে। তারপর একটানা দশ বছরেরও বেশি ছিলাম লন্ডনে এবং দুটি লক্ষ্যই অর্জনে সফল হয়েছিলাম।
প্রথম লক্ষ্যটি অর্জনের সুফলে আমি লেখালেখি ও অন্যান্য কর্মকাণ্ডে স্বাধীনভাবে আমার মত প্রকাশ করতে পেরেছি এবং মৃত্যুদণ্ডে অতি উৎসাহী আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও এই চরম অসভ্যতার বিরুদ্ধে লিখতে পারছি। আর দ্বিতীয় লক্ষ্যটি অর্জনের সুফলে ওয়েস্টার্ন মিউজিকের সঙ্গে আমার পরিচয়ের সুবাদে মৃত্যুদণ্ড বিষয়ে গান শুনতে এবং গিটারে সেই সুর তুলতে পেরেছিলাম।
মৃত্যুদণ্ড বিষয়ে গান?
এ রকম কঠিন বিষয়ে গান?
হ্যা।
মৃত্যুদণ্ড বিষয়ে দুটি গান এক সময়ে পশ্চিমের বিভিন্ন দেশে খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল।
১৯৫৮-তে ইংল্যান্ডে হিট হয় টম ডুলি (Tom Dooley) গানটি। প্রথমে আটলান্টিকের অপর পারে আমেরিকান গায়কত্রয় দি কিংসটন টৃও (The Kingston Trio) এই গানটি জনপ্রিয় করেন। তারপর ইংল্যান্ডে লনি ডোনেগান গানটি জনপ্রিয় করেন।
এই গানটির আট বছর পরে ১৯৬৬-তে লন্ডনে টম জোনস (Tom Jones) জনপ্রিয় করেন গৃন, গৃন গ্রাস অফ হোম (Green, Green Grass of Home) গানটি।
এই দুটি গানের জনপ্রিয়তা বৃটেনে মৃত্যুদণ্ড রহিত করতে জনমত গঠনে খুব সহায়ক হয়েছিল। বিশেষত টম ডুলি গানটি। কারণ, ধারণা করা হয় টম ডুলি ছিলেন নিরপরাধ এবং ত্রুটিপূর্ণ বিচারে তার ফাসি হয়েছিল।
ঘটনাটি জেনে নিন।
টম ডুলির ট্র্যাজিক ত্রিভুজ প্রেম
টম ডুলি-র জন্মগত নাম ছিল টমাস সি ডুলা (Thomas C Dula)। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য নর্থ ক্যারোলাইনার অ্যাপালেচিয়ান পাহাড়ি এলাকায় উইলক্সবরোতে একটি গরিব পরিবারে টম ডুলির জন্ম হয়েছিল ২২ জুন ১৮৪৬-এ। স্থানীয় উচ্চারণে ডুলাকে বলা হতো ডুলি। তাই তিনি পরিচিত হন টম ডুলি নামে।
তিন ভাইয়ের মধ্যে টম ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। তার ছোট ছিলেন এলিজা নামে এক বোন। শৈশবে স্কুলে টমের পরিচয় হয়েছিল এলিজার বান্ধবী অ্যান এবং অ্যানের দুই কাজিন সিস্টার লরা ও পলিনের সঙ্গে।
শৈশব পেরিয়ে যৌবনে ঢোকার মুহূর্তে টম আর অ্যানের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়। অ্যানের বয়স যখন মাত্র চৌদ্দ তখন তার মা একদিন অ্যানকে আবিষ্কার করেন টমের সঙ্গে একই বিছানায়। টম ঘটনাটা কোনো রকমে সামলে নেন।
মায়ের কাছে ধরা পড়ার পর অ্যান বাধ্য হয়েছিলেন টমকে এড়িয়ে চলতে। তাদের দুজনের প্রতিবেশী ছিলেন একজন বয়স্ক কিন্তু ধনী কৃষক ও মুচি জেমস মেলটন। অ্যানের মা চেয়েছিলেন জেমসের সঙ্গে অ্যানের বিয়ে হোক। তাই হয়েছিল।
আমেরিকায় তখন গৃহযুদ্ধ (১৮৬১ Ñ ১৮৬৫) শুরু হতে যাচ্ছিল। অ্যান আর জেমসের বিয়ে হয়ে যায়। তারপর কনফেডারেট আর্মির পক্ষে যোগ দিয়ে জেমস চলে যান যুদ্ধে। কনফেডারেট আর্মি দাসত্ব প্রথার বিরুদ্ধে লড়ছিল। গৃহযুদ্ধে তারা বিজয়ী হয়েছিল এবং আমেরিকাতে দাসত্ব প্রথা নিষিদ্ধ হয়েছিল।
টমও আমেরিকান গৃহযুদ্ধে যোগ দিতে চান। কিন্তু বয়স কম থাকায় তার আবেদনপত্র নাকচ হয়ে যায়। তারপরও তিনি চেষ্টা চালিয়ে যান। ১৫ মার্চ ১৮৬২-তে তিনি তখন কনফেডারেট আর্মিতে যোগ দেওয়ার অনুমতি পান তখন তার বয়স আঠার হতে তিন মাস বাকি ছিল।
জেমস ও টম উভয়ে ব্যাটল অফ গেটিসবার্গ-এ অংশ নেন। তারা দুজনই বন্দি হয়েছিলেন।
অল্প বয়স থেকেই টম কয়েকটি বিষয়ে ছিলেন ব্যতিক্রমী।
খুব গরিব পরিবারে জন্ম এবং একটি অখ্যাত স্কুলে পড়াশোনা করলেও তার সাক্ষরতা ছিল অসাধারণ। সেই বয়সেই তিনি ১৫ পৃষ্ঠাব্যাপী আত্মজীবনী লিখে ফেলেছিলেন। তিনি বাশি ও ড্রাম বাজাতে পারতেন। এসব গুণের জন্য টম অল্প বয়স থেকেই হয়েছিলেন লেডিজম্যান Ñ নারীদের প্রিয়পাত্র। নারীরা তাকে কাছে পেতে চাইত।
গৃহযুদ্ধের সময়ে সেনাবাহিনীতে তিনি তার ঊর্ধ্বতন অফিসার কর্নেল ভান্স-এর মন জয় করেছিলেন এবং সহযোদ্ধাদের প্রিয়পাত্র হয়েছিলেন। কারণ টমের ছিল সাহস। যুদ্ধের সময় একাধিকবার তিনি আহত হয়েছিলেন। তার ভাইরা যুদ্ধে মারা গিয়েছিলেন।
যুদ্ধ শেষে টম ও জেমস দুজনই বাড়ি ফিরে আসেন। যদিও তখন অ্যান ছিলেন জেমসের স্ত্রী তবু আত্মবিশ্বাসে ভরপুর টম তার সঙ্গে পূর্ব সম্পর্কের নবায়ন করলেন। অর্থাৎ পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত হলেন। কিন্তু সেখানেই তিনি থেমে থাকলেন না। অ্যানের কাজিন সিস্টার লরা ফস্টারের সঙ্গেও অন্তরঙ্গ সম্পর্ক গড়ে তুললেন।
কয়েক মাস পরে লরা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। টম ও লরা ঠিক করেন তারা পালিয়ে যাবেন। পালানোর দিনক্ষণ ধার্য হয় ২৫ মে ১৮৬৬-তে সকাল বেলা।
লরা থাকতেন তার পিতামাতার সঙ্গে। পিতা মি. ফস্টার ঘোড়া পালতেন। সেদিন ভোরে উঠে বেলে নামে একটি ঘোড়ার পিঠে চেপে সবার অজ্ঞাতসারে লরা চলে যান। এরপর তাকে জীবিত অবস্থায় আর পাওয়া যায়নি।
সেদিন যে কি ঘটেছিল তার সত্য ও পূর্ণ বিবরণ পাওয়া যায়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গুজব ও কল্পকাহিনীর প্রতি মানুষ ঝুকে পড়ে।
কেউ কেউ মনে করেন অ্যানই খুন করেছিলেন লরাকে। কারণ অ্যান তখনো ভালোবাসতেন টমকে এবং লরা বিয়ে করবেন টমকে Ñ এটা জানার পর থেকে অ্যান প্রচণ্ড ঈর্ষাপরায়ণ হয়েছিলেন।
আবার কেউ কেউ মনে করেন টম জানতেন অথবা সন্দেহ করেছিলেন অ্যানই ছিলেন লরার খুনি। কিন্তু যেহেতু টমও তখনো ভালোবাসতেন অ্যানকে সেহেতু তিনি (টম) গ্রেফতার হওয়ার পরে অ্যানকে বাচানোর জন্য খুনের দায়িত্ব নিয়েছিলেন।
ওই সময়ে অ্যানের দেওয়া তথ্য থেকে লরার মৃতদেহ পুলিশ খুজে পায়। এর ফলে অনেকেই মনে করেন, টম নয় Ñ প্রকৃত খুনি ছিলেন অ্যান।
এই সন্দেহ আরো বিশ্বাসযোগ্যতা পায় যখন অ্যানের আরেক কাজিন সিস্টার পলিন (লরার বোন) সাক্ষ্য দেন যে, এক রাতে তাকে (পলিন) নিয়ে অ্যান গিয়েছিলেন লরার কবর চেক করতে। অ্যান নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন কবরটা কেউ খুজে পায়নি।
এদিকে আদালতে কয়েকজন সাক্ষী জানায় যে টমের যৌন রোগ (সিফিলিস) হয়েছিল এবং সেজন্য টম প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ছিলেন। তিনি তাদের (সাক্ষীদের) বলেছিলেন, যে নারী তাকে এই রোগ দিয়েছে তাকে তিনি খতম করবেন। সাক্ষীরা আরো বলেন, টমের বদ্ধমূল বিশ্বাস হয়েছিল রোগটা এসেছিল লরার কাছ থেকে এবং টম পরবর্তী সময়ে রোগটা সংক্রমিত করেছিলেন অ্যানের দেহে। স্থানীয় ডাক্তার সাক্ষ্য দেন যে, তিনি টম এবং অ্যানের সিফিলিসের চিকিৎসা করেছিলেন। তবে তিনি আরো বলেন, পলিনেরও এই রোগ হয়েছিল এবং প্রথম চিকিৎসাটি করিয়েছিলেন পলিন। তাই অনেকের ধারণা হয় পলিনের কাছ থেকে রোগটি পেয়েছিলেন টম, যিনি ভুল করে ভেবেছিলেন লরার কাছ থেকে রোগটি পেয়েছিলেন। এরা ধারণা করেন, নিজের দোষ ঢাকার জন্য এবং টমের হুমকির হাত থেকে বাচার জন্য পলিনই হয়তো তার আপন বোন লরাকে খুন করেছিলেন।
টম, অ্যান আর পলিন Ñ এই তিনজনের মধ্যে কে তাহলে ছিলেন প্রকৃত খুনি?
লরার গলিত দেহাবশেষ পাওয়া গিয়েছিল একটি অগভীর ছোট কবরে। কবরটি ছোট ছিল বলে লরার হাটু ভাজ করে সেখানে তাকে শায়িত করা হয়েছিল। তার বুকে শুধু একটি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল।
শান্ত একটি শহরে এ ধরনের একটি খুন যেখানে তিনজন ছিলেন খুনিরূপে সন্দেহভাজন এবং যেখানে খুনের মোটিভ হতে পারত তিনটি :
প্রেম (অ্যানের প্রতি টমের) অথবা
ঈর্ষা (লরার প্রতি অ্যানের) অথবা
অপরাধ গোপন (পলিনের)।
ঘটনাটি সারা দেশে বিশাল পাবলিসিটি পায়। দি নিউ ইয়র্ক টাইমস এই মামলার বিস্তারিত বিবরণ ছাপতে থাকে। জীবিত অবস্থাতেই টম ডুলি লেজেন্ড (Legend, উচ্চারণ লিজেন্ড নয়) বা কিংবদন্তিতে পরিণত হন।
আদালতে টমের পক্ষে সাক্ষ্য দিতে এগিয়ে আসেন নর্থ ক্যারোলাইনার গভর্নর জেবুলন ভান্স যিনি গৃহযুদ্ধের সময় ছিলেন টমের ঊর্ধ্বতন অফিসার।
তিনি বিশ্বাস করেছিলেন টম নিরপরাধ এবং রাজনৈতিক কারণেও তিনি চাননি যে একজন বীর যোদ্ধা অন্যায়ভাবে দণ্ডিত হোক। কিন্তু টমের স্থানীয় এলাকা উইলক্সবরোতে তার বিরুদ্ধে জনমত প্রবল হয়ে উঠছিল। গভর্নর ভান্স সিদ্ধান্তে আসেন স্থানীয় এলাকায় বিচারকরা প্রভাবিত হতে পারেন স্থানীয় জনমতের দ্বারা। টম ন্যায়বিচার পাবেন না। তাই তিনি টমের বিচার স্টেটসভিল-এ স্থানান্তরিত করেন।
স্টেটসভিলে টমের সঙ্গে অভিযুক্ত হন তার বন্ধু জ্যাক কিটন। বলা হয় খুনের সহযোগী ছিলেন জ্যাক। কিন্তু আদালতে টম বলেন, তিনি একাই খুন করেছিলেন লরাকে। টমের কথায় জ্যাক মুক্তি পান। টমের মৃত্যুদণ্ড হয়। টম আপিল করেন। কিন্তু তার আপিল নাকচ হয়ে যায়।
ফাসিতে টমের (২২) মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ১ মে ১৮৬৮-তে Ñ লরা খুন হওয়ার প্রায় দুই বছর পরে। টমের ছোট বোন ও তার স্বামী মৃতদেহ নিয়ে কবর দেন।
কথিত আছে, ফাসির পূর্ব মুহূর্তে টম বলেছিলেন, জেন্টলমেন, আপনারা এই হাতটি দেখছেন? আমি ওই মেয়েটির মাথার একটি চুলেরও ক্ষতি করিনি (Gentlemen, do you see this hand? I didn-t harm a hair on the girl-s head)।
এভাবে মৃত্যুর আগে টম জানিয়ে যান আদালতে আত্মস্বীকৃত খুনি হলেও আসলে তিনি খুনি ছিলেন না।
এরপর ক্রমেই টম ডুলির পক্ষে জনমত গড়ে উঠতে থাকে। তাকে নিয়ে কবিতা, গান ও কাহিনী ছড়িয়ে পড়তে থাকে। টমাস ল্যান্ড নামে একজন স্থানীয় কবি একটি গান লেখেন। সেই গান ১৯৫৮-তে আমেরিকান গায়কত্রয় দি কিংসটন টৃও-র গাওয়া, হ্যাং ডাউন ইয়োর হেড টম ডুলি (Hang down your head Tom Dooley, 1958) ওয়ার্ল্ড হিট হয়। ইউটিউবে ১ আগস্ট ২০১৪-তে এই গানের হিট সংখ্যা ছিল ৮৮০,৪৩৭। এই গানের ৬০ লাখের বেশি রেকর্ড বিক্রি হয়। গানটির জার্মান, ফ্রেঞ্চ, স্প্যানিশ, ইটালিয়ান ভার্সন বিভিন্ন গায়ক রেকর্ড করেন। ইউটিউবে গেলে এই গানটির বিভিন্ন সংস্করণ পাওয়া যাবে। সর্বাধুনিক একটি সংস্করণ বেনজামিন মাসের-এর গাওয়া ইন্টারনেট হিট হয়েছে। ইউটিউবে ১ আগস্ট ২০১৪-এ এই সংস্করণের হিট সংখ্যা ছিল ৬৩৫,৬২৫। কিক করুন।
নিচে গানটির বাংলা ভাষান্তর প্রকাশিত হলো। তবে গানটির পূর্ণ আবেদন বুঝতে হলে দি কিংসটন টৃও (The Kingston Trio) এবং বেনজামিন মাসের (Benjamin Musser)-এর গান, দুটিই ইউটিউবে শুনে নিন।
১৩৩ বছর পর নির্দোষ ঘোষিত
টম ডুলি কাহিনীর চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি নাটকীয়ভাবে ঘটে তার মৃত্যুর ১৩৩ বছর পরে ২০০১-এ। উইলক্সবরোর অধিবাসীরা স্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান শুরু করেন। তারা বলেন, টম ডুলি নির্দোষ ছিলেন এবং সেই সত্যটা প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত। উইলক্সবরো অধিবাসীদের এই ক্যামপেইন ছিল বেসরকারি এবং এর কোনো আইনগত ভিত্তি ছিল না। কিন্তু উইলক্সবরোর অধিবাসীদের স্বাক্ষরিত এই আবেদনপত্রটি নৈতিক বৈধতা পেয়েছে।
১৩৩ বছর জুড়ে টম ডুলি সম্পর্কে অনেক কাহিনী ছড়িয়ে পড়েছিল। টম ডুলি ভালো বাশি এবং হয়তো ব্যানজো বাজাতে পারতেন। তাই হ্যাং ডাউন ইয়োর টম ডুলি গানে ব্যানজো বাজানো হয়েছে।
আরেকটি কাহিনী হলো, অ্যান তার মৃত্যুশয্যায় স্বীকার করে যান, প্রচণ্ড ঈর্ষায় উন্মত্ত হয়ে তিনি লরাকে খুন করেছিলেন। তারপর তিনি টমের কাছে সাহায্য চান এবং টম তাকে সাহায্য করেছিলেন লরার মৃতদেহ লুকিয়ে রাখতে।
এসব কারণে লরার খুনে টমের সম্পৃক্ততা সঠিকভাবে নিরূপণ সম্ভব হয়নি। টমকে সন্দেহভাজন ঘোষণার পর তিনি উইলক্সবরো থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন টেনেসি-র ট্রেড শহরে। লরার মৃতদেহ পাওয়া যায় টমের পালানোর পরে। টেনেসিতে টম ডুলি নিজের নাম বদলে টম হল রাখেন। কর্নেল জেমস গ্রেইসন নামে এক রিটায়ার্ড আর্মি অফিসারের ব্যবসায়ে কাজ করতে থাকেন টম। গ্রেইসন জানতেন না উইলক্সবরোতে কি ঘটেছিল। গ্রেইসন চিনতেন না লরাকে। কিন্তু বিভিন্ন কাহিনীতে টমের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রেমিকরূপে গ্রেইসনকে বর্ণনা করা হয়। এটা সত্যি ছিল না।
হ্যাং ডাউন ইয়োর হেড টম ডুলি গানে গ্রেইসনের কথা আছে। গানে বলা হয়েছে, গ্রেইসনই পুলিশের কাছে টমকে ধরিয়ে দিয়েছিলেন। এটা সত্যি ছিল। উইলক্সবরোর পুলিশ যখন জানতে পারে টম পরিচয় গোপন করে টেনেসিতে আছে তখন তারা যোগাযোগ করে গ্রেইসনের সঙ্গে। গ্রেইসন তখন টমকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন।
টম ডুলিকে নিয়ে গান, লেখালেখি ও মুভি এখনো চলছে। ১৯৫৯-তে দি লেজেন্ড অফ টম ডুলি মুভিটি রিলিজ হয়। ২০১১-তে শ্যারিন ম্যাক ক্রামবি-র উপন্যাস দি ব্যালাড অফ টম ডুলি প্রকাশিত হয়। নিচে গানটির ভাষান্তর প্রকাশিত হলো :
Hang down your head, Tom Dooley
Hang down your head and cry
Hang down your head, Tom Dooley
Poor boy, you-re bound to die...
(কোরাস)
তোমার মাথা নিচু করো টম ডুলি
মাথা নিচু করে কাদো টম ডুলি
বেচারা টম, তুমি মরতে যাচ্ছ।
(সলো)
তার সঙ্গে দেখা করেছিলাম পাহাড়ে
সেখানে তাকে খুন করেছিলাম
ছুরি দিয়ে মেরেছিলাম।
আগামীকাল এই সময়ে
ভেবে দেখ আমি কোথায় থাকব?
গ্রেইসন ধরিয়ে না দিলে
আমি টেনেসিতে থাকতাম।
আগামীকাল এই সময়ে
ভেবে দেখ আমি কোথায় থাকব?
কোনো এক নির্জন উপত্যকায়
একটা শাদা ওক গাছ থেকে ঝুলে থাকব।
হ্যাং ডাউন ইয়োর হেড টম ডুলি গানটির রেশ মিলিয়ে যাওয়ার আগেই ১৯৬৬-তে রিলিজড হয় টম জোন্স-এর (Tom Jones) গৃন, গৃন গ্রাস অফ হোম (Green, Green Grass of Home)। কড কার্লি পাটম্যান জুনিয়রের লেখা এ গানটি টম ডুলির চাইতেও অনেক বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং টম ডুলির মতো অনেক গায়ক এ গানটি গেয়েছেন। ইউটিউবে কিক করলে দেখবেন এই গানের জনপ্রিয়তা। এলভিস প্রেসলি (Elvis Presley, যাকে টম জোন্স শ্রদ্ধা করতেন ও যার বন্ধু হয়েছিলেন) তার গাওয়া এই গানে ১ আগস্ট ২০১৪ পর্যন্ত হিট হয়েছে ১,২৬৩,১১৬ বার। আর জোন বেইজ (Joan Baez)-এর গাওয়া এই গানে ১ আগস্ট পর্যন্ত হিট হয়েছে ৩,১৬৫,২৩১ বার। টম জোন্সের অরিজিনাল ভার্সনে কত হিট হয়েছে সেটা জানা সম্ভব হয়নি। টম জোন্স ইংল্যান্ডে রানির কাছ থেকে স্যার উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন এবং এখনো গানটি নিয়মিতভাবে গাইছেন লাস ভেগাস-এ তার লাইভ শো-তে।
এই গানটির দুটি পার্ট আছে। প্রথম পার্টে বোঝা যায় এক ব্যক্তি তার শৈশবকালের গ্রামের বাড়িতে ফিরে এসেছে। যৌবনে এই গ্রাম ছেড়ে যাওয়ার পরে সম্ভবত এই প্রথম সে ফিরেছে। ট্রেন থেকে নামার পরে সে দেখতে পায় তার পিতামাতা এবং আদরের ছোট বোন মেরিকে। তারা সবাই তাকে দেখতে আসছে। মেরি ছুটে আসছে। ওই ব্যক্তি তার পুরনো বাড়িঘর, ওক গাছ আর সবুজ ঘাস দেখতে পায়। সে ছুতে চায় সবুজ ঘাসকে।
প্রথম পার্টে এটি শুনলে মনে হবে ব্যক্তিটি স্মৃতিচারণা করছে। কিন্তু হঠাৎ দৃশ্যপট বদলে যায়। দ্বিতীয় পার্টে বোঝা যায় ওই ব্যক্তিকে তার গ্রামে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে। ব্যক্তিটি বুঝতে পারে তার শেষ সময়ের জন্য উপস্থিত আছেন এক বৃদ্ধ পাদরি। সে বুঝতে পারে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর তার মৃতদেহ কবর দেওয়া হবে সেই পুরনো ওক গাছের ছায়ায় সবুজ ঘাসের নিচে।
মানবতাবাদী গায়িকা জোন বেইজ, যিনি ১৯৭১-এ বাংলাদেশের নির্যাতিত জনগণের পক্ষে ভূমিকা নিয়েছিলেন, তিনি তার গাওয়া গানের শেষে আরো যোগ করেছেন, হ্যা, আমরা সবাই পুরনো ওক গাছের ছায়ায়, যখন আমরা সবাই মিলিত হব বাড়ির সবুজ, সবুজ ঘাসের নিচে।
পুরো গানটির ভাষান্তর :
ট্রেন থেকে নেমে আমি দেখছি
সেই পুরনো বাড়ি ঘর ঠিক সেই রকমই আছে।
আর আমাকে দেখতে সেখানে এসেছেন
আমার মা, বাবা।
পথে দৌড়ে আসছে আমার ছোট বোন মেরি
তার চুল সোনালি, ঠোট দুটো চেরি ফলের মতো।
বাড়ির সবুজ, সবুজ ঘাস ছুতে লাগে ভালো।
হ্যা, তারা সবাই আসবে আমার সঙ্গে দেখা করতে।
দুই হাত বাড়িয়ে মিষ্টি হাসি মুখে।
বাড়ির সবুজ, সবুজ ঘাস ভালো লাগে ছুতে।
সেই পুরনো বাড়িটা এখনো দাড়িয়ে আছে
যদিও বাড়ির রং ফেটে গেছে, ময়লা হয়ে গিয়েছে।
আর ওই যে সেই ওক গাছটা আছে
যার নিচে আমি খেলতাম।
আমি পথে হাটছি।
সোনালি চুল আর চেরি ঠোটে আমার মিষ্টি বোন
মেরি ছুটে আসছে।
হ্যা, তারা সবাই আসবে আমার সঙ্গে দেখা করতে।
হঠাৎ আমার স্বপ্ন ভেঙ্গে গেল।
আমি চারদিকে তাকিয়ে দেখি
আমি তো চার দেয়ালের মধ্যে বন্দি।
আমি বুঝতে পারি
আমি স্বপ্ন দেখছিলাম।
ওই তো আমাকে একটা গার্ড পাহারা দিচ্ছে।
তার পাশে আছেন বিষণœ মুখে এক বুড়ো পাদরি।
কাল ভোরে সূর্য উঠলে ওরা আমাকে ধরে নিয়ে যাবে।
আমি আবার বাড়ির সবুজ, সবুজ ঘাস ছোবো।
হ্যা, তারা সবাই আসবে
সেই পুরনো ওক গাছের ছায়ায়
আমাকে দেখতে।
আমাকে যখন তারা সবুজ, সবুজ ঘাসের নিচে
শুইয়ে দেবে।
বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত বহু ব্যক্তির মৃতদেহ শায়িত করা হয়েছে তাদের গ্রামের বাড়িতে সবুজ ঘাসের নিচে।
কোনো বাংলাদেশি গায়ক একদিন নিশ্চয়ই গাইবেন বাংলাদেশে টম ডুলির মতো মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত কিন্তু নিরপরাধ ব্যক্তির কাহিনী।
অথবা কোনো বাংলাদেশি গায়ক একদিন নিশ্চয়ই গাইবেন বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত যেকোনো ব্যক্তির তার গ্রামের বাড়িতে সবুজ ঘাসের নিচে চিরঘুমের কাহিনী।
সেটি হতে পারে কুদ্দুসের জীবনী নির্ভর।
কুদ্দুস কে ছিলেন সেটা লিখেছিলেন রিটায়ার্ড ডেপুটি জেইলার মোহাম্মদ আমিনুর রহমান পত্রিকায় প্রকাশিত তার একটি স্মৃতিচারণায় যার শিরোনাম ছিল :
ফাসি হওয়া কুদ্দুস এখনো আমার সামনে এসে দাড়ায়-।
ডেপুটি জেইলার হিসেবে যোগদানের এগার মাস পরই ১৯৬৪ সালে একটি ফাসি কার্যকরের দায়িত্ব পড়ে আমার ওপর। এর আগে ফাসি দেওয়ার অভিজ্ঞতা আমার ছিল না।
আমি তখন বরিশাল জেলা কারাগারে চাকরি করি। ফাসি কার্যকরের মতো একটি দায়িত্ব পাওয়ার পর আমার খারাপ লাগছিল। এরপরও চাকরি করি, তাই এই দায়িত্ব আমাকে পালন করতেই হবে। জেনেশুনেই এই চাকরিতে যোগ দিয়েছি। এরপরও তো আমি একজন মানুষ। আমার সামনে ফাসির রশিতে ঝুলে একজন তরতাজা মানুষ জীবন হারাবে Ñ ভাবতেই কেমন জানি লাগছিল।
স্মৃতিতে যত দূর মনে পড়ে, যার ফাসি কার্যকর করেছিলাম তার নাম কুদ্দুস। বাড়ি বরিশালের উজিরপুর এলাকায়। পেশায় কৃষিজীবী হলেও সে ছিল সুদর্শন যুবক। বাবাকে জবাই করার দায়ে তার ফাসির রায় হয়েছিল।
তারিখ মনে নেই। তবে ঘটনাটা মনে আছে।
সিনিয়র অফিসারের নির্দেশে আমি ফাসি কার্যকরের দিন বিকেলে কুদ্দুসের সেলে যাই। গিয়ে দেখি কুদ্দুস মনমরা হয়ে বসে আছে। তখনো সে জানে না আজ রাতেই তার ফাসি হবে। আমি গিয়ে জানালাম। ভেবেছিলাম শুনেই সে আতকে উঠবে। কিন্তু দেখলাম তার মাঝে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া হলো না। মনে হলো সে প্রস্তুতি নিয়েই রেখেছে। শুধু বড় একটা নিঃশ্বাস ফেলে বলল, স্যার, ফাসি-টাসি কেয়ার করি না। তবে কি, পিতাকে হত্যা না করেও হত্যার অভিযোগ নিয়ে দুনিয়া ছেড়ে যেতে হচ্ছে, এটাই দুঃখ।
তার কথা শুনে চমকে উঠলাম এই কারণে যে, তার কথা অনুযায়ী অপরাধ না করেও তাকে ফাসিতে ঝুলতে হচ্ছে!
আগ্রহ জন্মাল ঘটনাটি জানার।
কুদ্দুস আমাকে জানাল, তার বাবা দুই বিয়ে করেছে। প্রথম স্ত্রীর ছেলে সে। মা মারা যাওয়ার পর তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে। ওই ঘরে দুই মেয়ের জন্ম হয়। প্রত্যেকেই বড় হয়, বিয়েশাদি করে। কুদ্দুসেরও এক ছেলে হয়। তার বাবার বিষয়-সম্পত্তি দখলের জন্য সৎ বোনের জামাই হন্যে হয়ে ওঠে। তার বোন, বোনজামাই ও সৎ মা মিলে পরিকল্পনা করে তার বাবাকে হত্যার। সেই হত্যার দায় চাপানোর জন্য তাকে আসামি করার পরিকল্পনাও করে।
এক রাতে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে কুদ্দুস তার বাবার বিছানায় শুয়ে থাকে। বাবা চলে গিয়েছিল অন্য ঘরে। ওই রাতে তার বোনজামাাই বাবাকে হত্যার জন্য যায়। গিয়ে কাথা সরিয়ে দেখতে পায় কুদ্দুসকে। তাকে দেখে দ্রুত চলে যায়। সেদিন কুদ্দুস বুঝতে পেরেছিল তার বাবাকে হত্যার জন্যই চেষ্টা করছে তারা। এর ক-দিন পর এক রাতে তার বোন ও বোনজামাই তার বাবাকে জবাই করে।
বিষয়টি কুদ্দুস আচ করতে পেরেও কিছুই করতে পারেনি। বরং তার মা বাদী হয়ে কুদ্দুসকেই প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করে।
মা, বোন ও বোনজামাই প্রত্যেকেই কুদ্দুস হত্যা করেছে বলে আদালতে সাক্ষ্য দেয়। মায়ের সাক্ষ্যকে আদালত গ্রহণ করে। সেই সাক্ষ্যের ভিত্তিতে কুদ্দুসের ফাসির রায় হয় বলে সে আমাকে জানায়।
এসব কথা বলার সময় কুদ্দুস অঝোর ধারায় কাদতে থাকে। সেই কান্না দেখাও ছিল বেশ কষ্টকর। কুদ্দুসের ইচ্ছা কি জানতে চাওয়া হলে সে একটি চিঠি লেখার আগ্রহ প্রকাশ করে।
তাকে চিঠি লেখার জন্য কাগজ-কলম দিয়ে সেল থেকে বিদায় হই।
কুদ্দুসকে ফাসি দেওয়ার সব আয়োজন সম্পন্ন করা হলো। রাত দশটার দিকে কুদ্দুসের সেলে যাই আমি। কুদ্দুস তার লেখা চিঠিটি দেয় আমার হাতে।
অনুরোধ করে বলল, স্যার আমি আপনার পায়ে ধরি। চিঠিটি আমার মায়ের কাছে পৌছে দেবেন।
আমি তাকে কথা দিলাম তার চিঠি অবশ্যই আমি পৌছে দেওয়ার ব্যবস্থা করব।
চিঠিটি নিয়ে পড়ার আগ্রহ বোধ করলাম। দেখলাম সে লিখেছে,
মা, তুমি তোমার জামাই মিলে বাবারে হত্যা করলা আর আমারে দিলা ফাসি। কোর্টে সাক্ষী দিলা যে আমিই মারছি। ঠিক আছে আমি তো চলে যাচ্ছি, তোমার সঙ্গে দেখা হবে ওপারে। রোজ হাশরের মাঠে। তোমার সঙ্গে ওইখানে মোকাবেলা হবে। আর একটা কথা, আমার বউ যদি অন্য কোথাও বিয়ে করতে চায় তুমি বাধা দিও না। তুমি যত দিন বাইচা থাকবা তত দিন আমার ছেলেকে দেখবা। তুমি আমার ছেলেকে পড়াবা। আমি যখন একা কবরে যাচ্ছি, তোমাকেও একা কবরে যেতে হবে। সে সময় তোমার মেয়ের জামাই ও মেয়ে কিন্তু সঙ্গে যাবে না। দুনিয়ায় তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে এত বড় অপরাধ করলা। কিন্তু তাদের কাউকে তুমি পাবা না। তোমার সঙ্গে চূড়ান্ত হিসাব-নিকাশ হবে হাশরের ময়দানে।
এই কথাগুলো কুদ্দুস কয়েকবার লিখেছিল। চিঠির কাগজটি ভেজা ছিল। বোঝাই যাচ্ছিল লেখার সময় তার চোখ বেয়ে পানি ঝরছিল খুব। যে কারণে চোখের পানিতে কালি লেপটে যায়।
চিঠিটি নিয়ে সিনিয়র অফিসারকে দিলাম। তার কাছে জানতে চাইলাম চিঠিটি কিভাবে পাঠাব। তিনি পরামর্শ দিলেন রেজিস্টৃ ডাকে পাঠানোর জন্য। নিজের টাকা খরচ করে সেই চিঠিটি আমি পাঠিয়েছিলাম।
রাত আড়াইটার দিকে ফাসি দেওয়ার সময় নির্ধারণ করা হলো। নিয়ম অনুযায়ী এক ঘণ্টা আগে গিয়ে কুদ্দুসকে গোসল করানো হলো। এরপর সে নামাজ আদায় করল। মসজিদের ইমাম গিয়ে তাকে তওবা পড়ান। ফাসির কিছুক্ষণ আগে কুদ্দুসের কাছে জানতে চাইলাম, সে শেষবারের মতো কিছু খেতে চায় কি না।
সে বলল, একটু দুধ খাবে।
আমরা দ্রুত দুধের ব্যবস্থা করলাম।
দুধটুকু খাওয়ার পর কুদ্দুসই বলল, স্যার চলেন।
নিয়ম অনুযায়ী তার দুই হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে দিলাম। সেল থেকে পঞ্চাশ গজের মতো দূরে ফাসির মঞ্চে আমরা তাকে নিয়ে গেলাম। কারণ ফাসির আসামি যদি মঞ্চে না গিয়ে দৌড় দেয় বা অন্য কিছু করে বসে সে কারণে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে নিতে হয়।
সেখানে গিয়ে কুদ্দুস কোনো ঝামেলা না করেই ফাসির রশি গলায় ঝোলাল।
এ সময় ম্যাজিস্ট্রেট ডি জি সেনগুপ্ত, সিভিল সার্জন আবদুল লতিফ, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কারাগারের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সকালে লাশ নেওয়ার জন্য পরিবারের সদস্যদের ডাকা হয়। লাশ গ্রহণ করতে তার মা আসেনি। এসেছিল তার বড় বোন ও তার স্বামী। কয়েক ঘণ্টা আগেই আমি কুদ্দুসের মুখ থেকে শুনেছিলাম তার সৎ বোন ও স্বামী তার বাবাকে জবাই করেছে। এ কারণে নিজের আগ্রহ থেকে তাদের দুজনকে জানালাম যে, কুদ্দুস মৃত্যুর আগে বলে গেছে আপনারা হত্যা করে সেই দায় কুদ্দুসের ওপর চাপিয়েছেন।
এ সময় তারা দুজনই থতমত খেয়ে গেলেও পুরো ঘটনাটি অস্বীকার করে।
দীর্ঘ দিন কারাগারে চাকরি করেছি। অনেক মানুষের ফাসি কার্যকরের সময় উপস্থিত ছিলাম।
কিন্তু কুদ্দুসের ফাসিটি এখনো আমার মনে পড়ে।
কুদ্দুস স্বপ্নে এখনো আমার সামনে এসে দাড়ায়।
নতুন করে বলে, তার মৃত্যুর কাহিনী।
তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০১৪
facebook.com/Shafik Rehman Presents
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1340)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
October
(1240)
-
▼
Oct 30
(58)
- মা আয়েশার ছবি, কাপড় বুকে নিয়ে মেয়ের কান্না- গ্...
- আরও কিছু দিবস চাই by সাহস রতন
- ফারুকীর ‘পিঁপড়াবিদ্যা’ ও সমাজ-বাস্তবতা by ড. মাহফু...
- আবু তোরাব, সিধুলী কাঁদছে কান্নার মিছিলে ক্যাথরিনরা...
- ক্ষোভে উত্তাল বুরকিনা ফাসো, পার্লামেন্টে আগুন
- বিশ্বব্যাংকের কান ধরে উঠবস করা উচিত: মতিয়া
- লন্ডনে সেমিনার- বাংলাদেশে অস্থিরতা বাড়তে পারে by ত...
- সান্ত্বনার জায়গা ‘আদালত-এ-আখেরাত’ by মাসুদ মজুমদার
- ট্র্যাজিক প্রেম, দুটি গান এবং নির্দোষ কুদ্দুসের ফ...
- দেশের চাহিদা মিটছে না, তবুও চাল রফতানি- এমন পদক্ষে...
- রাজনৈতিক সংলাপে বসার ব্রিটিশ মন্ত্রীর তাগিদ- বিদ্য...
- রাজনীতি ও পিছিয়ে পড়া সমাজ by ড. ফজলুল হক সৈকত
- বাংলাদেশের চার দশক : গণমাধ্যম পরিস্থিতি by সৈয়দ আব...
- রাজনৈতিক সঙ্কট : উত্তরণের কোনো পথ নেই? by প্রফেসর ...
- উন্নয়নের আশ্বাস বা চমক সাংবিধানিক অনৈক্যের সমাধান ...
- মেরন সান স্কুল এন্ড কলেজ চকবাজার ক্যাম্পাস এর জেএস...
- আল-আকসা মসজিদ বন্ধ- ফিলিস্তিনি তরুণ নিহত
- সময় কাউকে ছেড়ে কথা বলে না by মেজর জেনারেল (অব:) সৈ...
- রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ হোক- দেশে সুস্থ রাজনীতি...
- আধুনিকতা অনাধুনিকতা by ফরহাদ মজহার
- সঙ্কট মুক্তির অনিঃশেষ অন্বেষা by ড. মীজানূর রহমানশেলী
- মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার জরুরি by আসম আবদু...
- সামাজিক ব্যবসা পৃথিবীকে বদলে দিতে পারে by মুহাম্মদ...
- অনুভূতি রক্ষার অধিকার by ডক্টর তুহিন মালিক
- ছাত্রের গালে চিমটি কাটায় শিক্ষিকাকে জরিমানা ৫০ হাজ...
- নিজামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ রদ করুন : অ্যামনেস্টি ইন্টা...
- কোমর ব্যথা, কারণ ও চিকিৎসা by ডা: মিজানুর রহমান কল...
- হাছন রাজা জাদুঘর
- মৃগি রোগের নানান কথা by ডা: মৌসুমী রিদওয়ান
- কোবানির পথে ইরাকের কুর্দিরা
- অজ্ঞতায় সেরা মার্কিন আর ইতালীয়রা!
- লবণে নষ্ট হচ্ছে দিনে ২ হাজার হেক্টর জমি
- লন্ডনে মারা গেলেন জাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট
- পোপের বিশ্বাস
- সত্যিই ‘এলিয়েন’ রয়েছে!
- গাজায় মালালার ৫০ হাজার ডলার দান
- সত্যের সঙ্গে প্রতিদিন by আলমগীর মহিউদ্দিন
- তুরস্কে পৌঁছেছে ইরাকি যোদ্ধারা
- আল্লাহর আদালতে সুবিচার পাবই
- এ রায় ন্যায়ভ্রষ্ট- আসামিপক্ষের প্রতিক্রিয়া
- মৃত্যু নিয়ে চিন্তিত নই -মাওলানা নিজামী
- জেএসসির আগেই ঝরে গেল সাড়ে ৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থী ...
- মহাকাশযান অভিযানে বিপত্তি- ৬ সেকেন্ডেই শেষ
- মীর কাসেমের মামলার রায় রোববার
- স্মরণ- ফজলে লোহানী
- আইএসবিরোধী লড়াই- কোবানির পথে ইরাকের কুর্দিরা
- ছেলে না মেয়ে? ১২ পুত্রের পর ১৩তম সন্তানের অপেক্ষা
- গেঁটে বাতের লক্ষণ ও চিকিৎসা by ডা. শাহজাদা সেলিম
- কবিতাযোনীর প্রজনন তত্ত্ব by অমিতাভ পাল
- ব্যবসায়ীদেরও আসতে হবে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে
- কোবানি প্রতিরক্ষায় সিরীয় বিদ্রোহীরা
- মায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু- কান্না থামছে না রাইসা’র
- মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি- বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, ...
- শোকের মাতম- ৩ বাংলাদেশীর লাশ ফেরত দেয়নি বিএসএফ by ...
- হাসিনা-খালেদাকে হত্যা পরিকল্পনা জেএমবি’র
- বৃটেনে ৫০ হাজার রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী নিখোঁজ!
- নিজামীর রায়- ফের বিশ্বের দৃষ্টি বাংলাদেশের দিকে
- ২০ কোটি টাকা হাতবদল- রাজউকে স্বাক্ষর জালিয়াতি
-
▼
Oct 30
(58)
-
▼
October
(1240)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
মালয়েশিয়া
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
স্বাস্থ্য
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
জ্যোতির্বিজ্ঞান
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
মিয়ানমার
ঢাকা
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
জীবনযাপন
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
মেহেদী হাসান
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
ইয়েমেন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
Exclusive
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিজ্ঞান
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
ফরিদপুর
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মহাকাশচারী
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
জোহরান মামদানি
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
ইহুদি
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বকাপ ফুটবল
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment