ছাত্র-শ্রমিক সংঘর্ষে রণক্ষেত্র সিলেটের উপশহর

শিক্ষার্থীদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ও পরে  গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় গতকাল দুপুরে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় সিলেট নগরীর উপশহর এলাকা। দফায় দফায় সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ সহ আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। গতকাল দুপুর পৌনে ১২টা থেকে সোয়া ১টা পর্যন্ত এ সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষকালে ৫টি গাড়ি ও সিটি কলেজের সামনের গ্লাস ও আসবাবপত্র ভাঙচুর হয়। সংঘর্ষকালে পুলিশ ১৯ জনকে আটক করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাঁজোয়া যান নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরে বেশ কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে শাহজালাল সিটি কলেজের দুই দল শিক্ষার্থীর মধ্যে কলেজ ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ ঘটে। এক পর্যায়ে একদল শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে পার্শ্ববর্তী স্ট্যান্ডে রাখা কয়েকটি মাইক্রোবাসে ভাঙচুর চালায়। এ সময় পরিবহন শ্রমিকরা প্রতিরোধে এগিয়ে এলে সংঘর্ষ বাধে। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করে কলেজ ক্যাম্পাসে নিয়ে যায়। পরে তারা কলেজের সামনের গ্লাস ও ভেতরে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। ওই সময় শ্রমিকরা কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে মারধরও করে। পরে পরিবহন শ্রমিকরা টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। তারা রাস্তার পাশে লাগানো সিটি কলেজের কয়েকটি সাইনবোর্ডও ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে সোয়া ১২টার দিকে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. রহমত উল্লাহ কোতোয়ালি ও শাহপরাণ থানা পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। তিনি শ্রমিকদের অবরোধ তুলে নেয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহারে রাজি হয়নি। বেলা ১টার দিকে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়ে এবং লাঠিচার্জ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় ৯ শ্রমিককে আটক করা হয়। পরে শাহজালাল সিটি কলেজ থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১০ ছাত্রকে আটক করে। শ্রমিক নেতারা জানান, সিটি কলেজের শিক্ষার্থীরা কয়েক দিন পর পর সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। তারা কলেজ ক্যাম্পাসে মারামারি করে বেরিয়ে এসে আমাদের স্ট্যান্ডের কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে। পরে শ্রমিকরা এক হয়ে তাদের প্রতিরোধ করে। শাহজালাল সিটি কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম রব্বানী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডের শ্রমিকরা প্রায়ই কলেজের ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করে। মঙ্গলবারও তারা কয়েক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করলে কয়েকজন ছাত্র গিয়ে তাদের কাছে কারণ জানতে চায়। এরপরই শ্রমিকরা সংঘবদ্ধ হয়ে কলেজে হামলা চালায়। হামলার সময় ফোন করে পুলিশের সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। সিলেট পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. রহমত উল্লাহ জানিয়েছেন, ছাত্র-শ্রমিকদের সংঘর্ষের জের ধরে পরিবহন শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করেছিল। পরে টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়েছে। বিশৃঙ্খলার অভিযোগে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও শ্রমিককে আটক করা হয়েছে।
>> সিলেট নগরীর উপশহরস্থ শাহজালাল সিটি কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশি অ্যাকশন -নিজস্ব ছবি