Friday, February 5, 2016
প্রধান বিচারপতি হতাশা থেকে কথাটা বলেছেন -সাক্ষাৎকারে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক by মিজানুর রহমান খান
প্রধান বিচারপতি হতাশা থেকে কথাটা বলেছেন -সাক্ষাৎকারে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক by মিজানুর রহমান খান
![]() |
| আইনমন্ত্রী আনিসুল হক |
প্রধান
বিচারপতির সংস্কার উদ্যোগ, অবসরের পরে রায় লেখা, বিচারপতি নিয়োগ ও
অপসারণ আইন, জামায়াত নিষিদ্ধকরণসহ বিচার বিভাগের বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মিজানুর রহমান খান
প্রথম আলো : প্রধান বিচারপতির মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে। কিন্তু অবসরে গিয়ে নয়, কর্মরতদের তরফে সংক্ষিপ্ত আদেশ বা রায় ঘোষণার তিন থেকে চার বছর পরে পূর্ণাঙ্গ রায় মিলছে, এ সমস্যার প্রতিকার কীভাবে?
আনিসুল হক: প্রধান বিচারপতি অবসরে রায় লেখাকে অসাংবিধানিক বলেছেন। কিন্তু এটা অসাংবিধানিক নয়। হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের বিধিতে কোথাও লেখা নেই যে কত সময়ের মধ্যে রায় লিখতে হবে। তবে আমি মনে করি, প্রধান বিচারপতি একটা হতাশা থেকে কথাটা বলেছেন। কারণ, আমরা দেখছি যে তিন-চার বছরেও রায় মিলছে না। কিন্তু আচরণবিধিতে তাঁরা লেখেননি যে, রায় কত দিনে মিলবে। এখন তাঁরা যদি চান তাহলে রায় লেখার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে একটি ‘প্র্যাকটিস ডাইরেকশন’ দিয়ে দিন। তাহলে জনগণ ও বিচার বিভাগ উপকৃত হবে।
প্রথম আলো: সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি বিষয়টিকে শুধুই দলীয়ভাবে নিল।
আনিসুল হক: প্রধান বিচারপতি এখন বলেই দিয়েছেন এ জন্য পুরোনো রায়গুলো বাতিল হবে না। আর আমি মনে করি না যে, রাজনৈতিক স্বার্থে কারও বক্তব্যের অপব্যাখ্যা দেওয়া কোনো দায়িত্বশীল রাজনীতির মধ্যে পড়ে।
প্রথম আলো: তার মানে আপনি অবিলম্বে রায় লেখা বিষয়ে একটি বিধি প্রণয়নের পক্ষে?
আনিসুল হক: নিশ্চয়ই। তার সব থেকে বড় কারণ হলো রায় বাস্তবায়নে, বিশেষ করে দেওয়ানি মামলার রায় কার্যকর করতে তার সার্টিফায়েড কপি লাগে।
প্রথম আলো: একজন বিচারক ১৯৪ মামলার রায় না লিখে সম্প্রতি অবসরে গেছেন।
আনিসুল হক: আমি যখন আইনজীবী ছিলাম তখনো আমি এই বিষয়টির দিকে তাঁদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয় তখন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
প্রথম আলো: ১৯৪টির মধ্যে এখনো ১৬৩টির রায় লেখা হয়নি বলে আমরা জানি। এখন এর কী হবে?
আনিসুল হক: সেটা তো আমি বলে দিতে পারব না। এ বিষয়ে যখন কোনো আইন নেই, তাই এখন কোনো সিদ্ধান্ত নিলেও তা ভূতাপেক্ষভাবে কার্যকর করা যাবে না। আমি শুধু এটুকুই বলব, যাঁর কাছে ১৬৩টি রায় লেখার কাজ পড়ে আছে, তিনি যেন অমানুষিক খাটুনি দিয়ে হলেও স্বল্প সময়ের মধ্যে তা সম্পন্ন করে দেন।
প্রথম আলো: বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে টিভি চ্যানেলে বক্তব্য দিচ্ছেন। বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?
আনিসুল হক: আমি একে কিছুতেই সমর্থন করতে পারি না। এটা অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক। আমার মনে হয়, এখানে টিভি চ্যানেলগুলোর সংযত হওয়ার ব্যাপার আছে। তাদেরও দায়িত্বশীল হওয়ার সময় এসেছে। তারা সম্ভবত এ বিষয়ে ঠিক ভূমিকা রাখছে না।
প্রথম আলো: অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের আচরণবিধি দরকার কি না?
আনিসুল হক: কেউ কেউ কর্মরত থাকাকালেও আচরণবিধির ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এ বিষয়ে আমি আর কী বলব বলুন। সে জন্যই আইন করতে হয়, সে বিষয়ে বলে আর লাভ নেই। কথা হলো দায়িত্বজ্ঞান তো মানুষের ব্যক্তিগত ব্যাপার। তাই মনে হয় আমাদের অনেক দায়িত্বশীল হওয়ার দরকার।
প্রথম আলো: আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত প্রধান বিচারপতির কিছু বক্তব্য বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন বলে খবর বেরিয়েছে।
আনিসুল হক: এটা আমার মন্তব্য নয় বলে আমি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। তবে আমি সবাইকে বলব, আমরা সবাই দায়িত্বশীল পদের অধিকারী। আমাদের কথাবার্তার মধ্যে সেই দায়িত্বশীল পদের যে দায়িত্ব, সেটার প্রতিফলন ঘটা উচিত।
প্রথম আলো: আপনি কি সংশ্লিষ্ট সবার উদ্দেশেই বললেন?
আনিসুল হক: হ্যাঁ। আমি সবাইকেই বলছি।
প্রথম আলো: একটু অন্য প্রসঙ্গে যাই। জামায়াত নিষিদ্ধ আইন কবে আসছে?
আনিসুল হক: শিগগিরই। মন্ত্রিসভায়খসড়া পাস হলে আমরা এর বিস্তারিত প্রকাশ করব। এটা হবে ’৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনী।
প্রথম আলো: শিগগিরই মানে কবে? ন্যুরেমবার্গে বা বিশ্বের অন্যত্র কোথাও সংগঠনের বিচার হয়েছে?
আনিসুল হক: ফেব্রুয়ারির গোড়ায়। বিশ্বের অন্যত্র হয়নি। এখানেও দরকার ছিল না, কারণ বাহাত্তরের সংবিধানে তো জামায়াত নিষিদ্ধ ছিল আগেই। খুনি মোশতাক ও জিয়াউর রহমান এসে এটা বদলান।
প্রথম আলো: একাত্তরের ডিসেম্বরে জামায়াত নির্দিষ্টভাবে নিষিদ্ধ হয়, সংবিধানে হয়েছিল কেবল ধর্মীয় সংগঠন হিসেবেই।
আনিসুল হক: যখন সংবিধান প্রণীত হয়, তখন তাতে আগের আইনকে সুরক্ষাদেওয়া হয়। পরে যখন এই সংবিধান নিয়ে ফুটবল খেলা হলো, তখন জামায়াতকে আবার ঢোকানো হলো, তারা রাজনৈতিক দল হলো। এরপর ট্রাইব্যুনাল পর্যবেক্ষণ দিলেন যে জামায়াতকে কাঠগড়ায় তোলা যায়।২০১৩ সালেআমরা সংবিধানে ‘সংগঠন’ শব্দটি ঢোকালাম, কিন্তু সেটাই তার বিচারের জন্য পর্যাপ্ত নয়। তাই বিচার-প্রক্রিয়ার বিস্তারিত লিপিবদ্ধ করতেই সংশোধনী আনা হচ্ছে।
প্রথম আলো: এ বিষয়ে এটাই হবে বিশ্বের প্রথম নজির?
আনিসুল হক: ইনশা আল্লাহ।
প্রথম আলো: বিচার বিভাগের অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার খুব সফল কি? যেমন জেলায় জেলায় বিচার ভবন নির্মাণের একটি মেগা প্রকল্প সরকার নিয়েছে, কিন্তু অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়।
আনিসুল হক: জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে রিট পিটিশন করে বছরের পর বছর আটকে রাখা হচ্ছে। যেমন ফরিদপুরে ‘বেলা’ রিট করেছিল, তাদের বলেছি দিঘি ভরাটের যে ধারণায় তারা এটা করেছে, তা ঠিক নয়।
প্রথম আলো: এনবিআর, ভ্যাট, ট্যাক্স বা উন্নয়ন প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট অনেক রিট, যা দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করে, তা নিষ্পত্তিতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া যায় না?
আনিসুল হক: এসব বিষয়ে একটা বিহিত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এগুলোর যাতে দ্রুত শুনানি হয়, তার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এসব বিষয়ে আপিল শুনতে পাঁচটি বেঞ্চ দেওয়া হয়েছে। হ্যাঁ, গাছ লাগালেই ফল পাব না। সুফল পেতে ছয় মাস লাগবেই। আমরা মামলাজট (প্রায় ৩০ লাখ) নিরসনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। কিন্তু ২০-৩০ বছরের জট তো ছয় মাসে শেষ করতে পারব না।
প্রথম আলো: বর্তমানে নিম্ন ও উচ্চ আদালতে শতাধিক বিচারকের পদ শূন্য। আপিল বিভাগে প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ১১টি পদের মধ্যে এখন ৫টি শূন্য।
আনিসুল হক: আপিল বিভাগে পদ শূন্য, এ কথা কিন্তু সঠিক নয়। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার শুনানির জন্য ১১টি পদ সৃষ্টি করা হয়েছিল। কারণ, তখনকার আপিল বিভাগে ওই মামলা শোনার মতো পাঁচ বিচারক ছিলেন না।
প্রথম আলো: এখন না দরকার পড়লে প্রজ্ঞাপন শুধরে নিন। অনধিক ১১ নয়, প্রজ্ঞাপন বলেছে ১১ জনের সমন্বয়ে আপিল বিভাগ হবে। তা ছাড়া, প্রধান বিচারপতি আপিল বিভাগে তিনটি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ করতে উদ্যোগী হয়েছেন। তাঁর কাছ থেকে কি কোনো নামের প্রস্তাব গেছে?
আনিসুল হক: সংশোধন দরকার নেই। নাম প্রস্তাবও যায়নি। আর ১১ জন কিন্তু থাকতেই হবে না। প্রয়োজনে ১১ পর্যন্ত যাওয়া যাবে। তবে নিয়োগের বিষয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করছি। কিছুদিন আগেও নয়জন ছিল, তিনজন অবসরে যাওয়ায় এখন ছয়জন আছে। আপিল বিভাগে খুব শিগগির নিয়োগ দেওয়া হবে।
প্রথম আলো: কতজন? কোনো নাম নির্বাহী বিভাগের কাছে যায়নি? আর হাইকোর্টে কোনো নতুন নিয়োগ?
আনিসুল হক: সেটা প্রধান বিচারপতি জানেন। না, যায়নি। আপনি যদি ২০ বছর পেছনে তাকান, হাইকোর্টে ৬০ জন বিচারক ছিলেন। এখন সেখানে ৯৫ থেকে ১০০ জন। আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়াতে-কমাতে পারি। যদি এমন বিচারক থাকেন, যার কোনো কাজ নেই, তেমন বিচারক তো নিয়োগ দেওয়া ঠিক হবে না। এতে করদাতাদের কাঁধে বোঝা বাড়বে। আমরা তো সেটা করতে চাই না। প্রয়োজন অনুযায়ী দিতে চাই। আমি আপনাকে হাইকোর্ট বিভাগ পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানাই। সেখানে গেলে দেখবেন, যে বেঞ্চে আপিল মামলার শুনানি চলে সেখানে ভিড় নেই। ওখানে কোনো আইনজীবী থাকবেন না। মোশন কোর্টে তাঁদের ভিড় দেখবেন।
প্রথম আলো: এই অবস্থা বদলানোর কোনো প্রয়াস, সংস্কারের কোনো চিন্তা?
আনিসুল হক: আমি কী সংস্কার করব? বিচার বিভাগ সম্পূর্ণরূপে স্বাধীন। এ বিষয়ে আমি কোনো কথাই বলতে চাই না। কিন্তু এটা সঠিক যে আপিল মামলার শুনানি খুব তাড়াতাড়ি হয় না। এ জন্যই মামলাজট। হাইকোর্টে অচিরে নতুন বিচারক আসবেন, তাও বলতে পারছি না।
প্রথম আলো: বিচারপতি নিয়োগ নীতিমালার কী হলো?
আনিসুল হক: এটা নিয়ে কাজ হচ্ছে।
প্রথম আলো: দুই বছর আগেও এ কথা বলেছিলেন। জুডিশিয়াল কমিশন ধরনের কিছু হবে? আপিল বিভাগে নিয়োগের জন্যও কি?
আনিসুল হক: দুই বছর আগে ঠিকই বলেছিলাম, কিন্তু এটা এমন একটি বিষয়, এটা আজকে বললে কালকে করা যায় না। আমরা একটা নতুন বিষয়ের সূচনা ঘটাতে যাচ্ছি, যা আগে কখনো হয়নি। জুডিশিয়াল কমিশন বলব না। একটা নাম দেব। তবে অত্যন্ত শক্তিশালী একটি বডি হবে। না, আপাতত হাইকোর্টের বিচারক নিয়োগে বডি হবে। আপিল বিভাগের জন্য নয়।
প্রথম আলো: ইমপিচমেন্ট করার আইন কবে? খসড়া কি প্রস্তুত?
আনিসুল হক: খসড়া প্রস্তুত। তবে আমি বিনয়ের সঙ্গে বলব, কথাটি ইমপিচ নয়, ৯৬ অনুচ্ছেদ বলেছে, প্রমাণিত অসদাচরণ বা অসামর্থ্যের অর্থাৎ দুই কারণে বিচারক অপসারণ করা যাবে। অভিশংসন মানে বিচার করা, এতে যে শুধু অপসারণ ঘটে, তা সত্য নয়। পদই শূন্য হবে না, শাস্তিও দেওয়া যাবে। তাই অভিশংসনে ক্ষমতা ব্যাপকতর। কিন্তু আমরা এখানে শুধু ওই দুটো বিষয়ের মধ্যে সীমিত থাকব। চলতি অধিবেশনে এটি পাস হয়ে যাবে, ইনশা আল্লাহ।
প্রথম আলো: সুপ্রিম কোর্টের কাছে কি খসড়া পাঠাবেন? তাদেরমতামত নেবেন?
আনিসুল হক: নিশ্চয়ই। আমি এটি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠাব। এবং সেই সঙ্গে এই অনুরোধও তাঁর কাছে রাখব যে অন্য বিচারপতিদের সঙ্গেও যাতে তিনি বিষয়টিআলোচনা করেন।
প্রথম আলো: তিন মাসের মধ্যে এটি পাসের কথা বলেছিলেন। আপনি কি মানেন যে আইনটির অভাবে বিচারপতিসহ সব সাংবিধানিক পদধারীর জবাবদিহির জায়গায় কিছুটা শূন্যতা চলছে?
আনিসুল হক: হ্যাঁ। তা কিছুটা চলছে। তবে এই শূন্যতা এবারই প্রথম নয়। বাহাত্তর-পঁচাত্তরেও এটা শূন্য ছিল। কিন্তু এটা কাম্য নয়। এটা সুচিন্তিত ও অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে করা উচিত। বিচারপতিরা অত্যন্ত সম্মানিত ও বিজ্ঞ, তাঁদেরবিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি।
প্রথম আলো: তাঁদের বিষয়ে তদন্তের জন্য শুধু কর্মরত বিচারকেরাই, নাকি ভারতের মতো বাইরে থেকেও অন্তর্ভুক্ত হবেন?
আনিসুল হক: মন্ত্রী হিসেবে আমি একটি নীতি নিয়েছি, সেটি হলো প্রস্তাবিত আইনের কোনো খসড়া মন্ত্রিসভায় পাস না হওয়া পর্যন্ত কোনো বক্তব্য দেব না।
প্রথম আলো: প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টের আর্থিক স্বায়ত্তশাসনের সপক্ষে মত দিয়েছেন।
আনিসুল হক: দেখুন, রোম সাম্রাজ্য এক দিনে গড়ে ওঠেনি। আপনারাই বলেন, ২০০৭-এ আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার বিভাগ পৃথক্করণ হয়েছে। কিন্তু তখন যেসব বিচারকার্য হয়েছিল, তা খুব স্বাধীনভাবে হয়নি।
প্রথম আলো: আমরা বলি, কিন্তু ঢালাওভাবে বলি না—
আনিসুল হক: এই স্বাধীনতাকে অর্থপূর্ণ ও আরও সুদৃঢ় করতে আমি চেষ্টা করছি। ১৯৯৬ থেকে সুপ্রিম কোর্টের জন্য আলাদা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এবারের থোক বরাদ্দ ১১২ কোটি টাকা। আমরা একটি মাইন্ড সেট থেকে আরেকটি মাইন্ড সেটে যাচ্ছি। পঁচাত্তরের পরের হাইকোর্টে ইনডেমনিটি বিল বাতিলের জন্য তার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করতে হয়েছিল। হাইকোর্টের যে স্বাধীনতা আজকে আছে, সেটা তখন কোথায় ছিল? পিআইএল (জনস্বার্থে মামলা) কেন তখন হয়নি? সংবিধান-সংক্রান্ত একটি মামলা জিয়ার আমলে সাবেক ডেপুটি স্পিকার আলী আশরাফ সাহেব আমার বাবা অ্যাডভোকেট সিরাজুল হককে দিয়ে করিয়েছিলেন, দুদিন শোনার পরে তা খারিজ হয়েছিল। এভাবে তখনকার হাইকোর্ট যখনই জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার মামলা পেয়েছেন, বাতিল করেছেন। আমি নিজেই তার সাক্ষী। সেই হাইকোর্টের সঙ্গে কিন্তু আজকের হাইকোর্টের কোনো মিল নেই। আজকের হাইকোর্টও আপিল বিভাগ নির্বাহী বিভাগের শ্রদ্ধার পাত্র। হাইকোর্টের রায়ে আমাদের অনেক আইনে পরিবর্তন এসেছে।
প্রথম আলো: এই হাইকোর্ট যখন নিম্ন আদালতের বিচারক বদলির সিদ্ধান্ত দেন, তখন কখনো সরকারকে খড়্গহস্ত হতে দেখি—
আনিসুল হক: আপনাকে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ তার যথাযথ ভাষায় পড়তে অনুরোধ করব। আমি তো কোনোশব্দ উদ্ভাবন করতে পারব না। আপনিও পারবেন না। ওখানে লেখা পরামর্শক্রমে। রাষ্ট্রপতি কোন কাজটি পরামর্শক্রমেকরেননি?
প্রথম আলো: বিচারকের কর্মস্থল নির্ধারণে সুপ্রিম কোর্টের স্বপ্রণোদিত পরামর্শ কি সংবিধানের চেতনাবিরুদ্ধ?
আনিসুল হক: না, প্রশ্ন হলো পরামর্শ গ্রহণ করা বা না করা। পরামর্শক্রমে পরামর্শ গ্রহণ করা হয় কি না? শুনুন, আমার মনে হয় না কেউ আমার সঙ্গে দ্বিমত করবেন যে, ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ মানা হয়। এখন কিছু ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি তো তাঁর ডিসক্রিশন প্রয়োগ করতেই পারেন। আইন তাঁকে সেই সুযোগ দিয়েছে। এখানে অন্যায় কোথায়?
প্রথম আলো: আপনি বদলির নীতিমালার কথা বলেছিলেন। সেটার কী হলো? কোথাও বছরের পর বছর কেউ টিকে আছেন, আবার ছয় মাস না যেতেই তাঁকে বদলির প্রস্তাব পাঠাচ্ছেন।
আনিসুল হক: আমি যে অধস্তন আদালত উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি, সেখানে বিচারক ও লোকবলের সংকট ছিল। আমি এটা মেটাতে পদোন্নতির শর্ত দুই বছর থেকে ছয় মাস বা এক বছরে নামিয়ে এনেছি। বিএনপি আমলে বিরাট ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছিল। কী করে আমি ছয় মাসে তা পূরণ করব? তাড়াহুড়ো করলে আপনি বিচারক পাবেন, বিচার পাবেন না। যেখানে পরিবর্তন দরকার ছিল, সেখানে পরিবর্তন আনতে পিছপা হইনি। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা সিলেবাস পরিবর্তন করতেবলেছেন, করে দিয়েছি। তিনি যেভাবে বলছেন সেভাবে করারই চেষ্টা করছি। সুতরাং প্রক্রিয়া চলমান আছে। এর সুফল পেতে আপনাকে ছয় মাস থেকে এক বছর অপেক্ষা করতেই হবে।
প্রথম আলো: ২০০৭ সালে দেড় হাজার বিচারক দিয়ে শুরু হয় পৃথক্করণ। অথচ গত আট বছরে আপনারা কোনো নতুন পদ সৃষ্টি করেননি, শুধু শূন্যতা পূরণ করেছেন মাত্র।
আনিসুল হক: ৩৪৯ বিচারকের নতুন পদসৃষ্টিতে আমি সম্প্রতি জনপ্রশাসনকে লিখেছি। সেই সঙ্গে ৩৪৯ জনের সহায়ক জনবল হিসেবে মোট ১ হাজার ১৮ জন নিয়োগ পাবে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এর নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে।
প্রথম আলো: জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ থেকে যুগ্ম জেলা জজ হয়েছেন। এরপর দ্বিতীয়বার পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত জেলা জজ হয়েছেন। অথচ তাঁরা বেতন পান দুই ধাপ নিচেরজ্যেষ্ঠ সহকারী জজ হিসেবে। পদোন্নতি আছে, দায়িত্ব পালন আছে, কিন্তু প্রাপ্য মজুরি নেই। আমাদের হিসাবে এর ফলে তিন শর বেশি বিচারক অন্তত ১৫ কোটি টাকা বঞ্চিত। বিচারকদের প্রতি এ কেমন বিচার?
আনিসুল হক: আমি বিষয়টি নিশ্চয়ই দেখব।
প্রথম আলো: বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার পে-কমিশন পর্যালোচনায় আট মন্ত্রী নিয়ে কমিটি হয়েছে। কিন্তু কবে রিপোর্ট দেবেন, তার তারিখ না দিয়ে ১২ জানুয়ারি গেজেট করেছেন।
আনিসুল হক: আমরা চার মন্ত্রী সব কটি কমিটিতে আছি। সকলের নতুন পে-স্কেল হয়ে গেছে। বিজ্ঞ বিচারকেরা কেন বঞ্চিত হবেন। বিষয়টি নিরসন করা দরকার। আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন, এ সমস্যার ত্বরিত সমাধান দরকার। এই ইস্যু শেষ করতেই মন্ত্রিসভা কমিটি হয়েছে। এক মাস বা তার কম সময়ে স্কেল দেব। তাঁরা যাতে বৈষম্যের শিকার না হন, সেদিকে বিশেষ নজর দেব।
প্রথম আলো: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ২০০৬ থেকে চার-পাঁচ বছরের বকেয়াসহ জজদের বেতন-ভাতা দিতে বললে সব রাজ্য সরকার তা মেনে নিয়েছে। আর ২০০৯ সালে বাংলাদেশে সবাই যখন বেতন পেল, তখন জজদের ঠকানো হলো। এমনকি তাঁদের প্রাপ্য তুলে নেওয়ার পর অলিখিত আদেশে তা ফেরত দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এ কেমন আর্থিক শৃঙ্খলা?
আনিসুল হক: যখন বেতন কমিটির সভা হবে, তখন আমি এ বিষয়টি সেখানে তুলব। আমি এর সম্পর্কে সবকিছু জেনে নিয়ে এর একটা সুরাহা করা যায় কি না, সে ব্যবস্থা আমি নেব।
প্রথম আলো: আমরা এর একটা হিসাব করেছি। তাতে বিচারকদের বঞ্চিত করা অর্থের পরিমাণ দেখলাম ৭৫ কোটি ৭৫ লাখ ১৮৭ টাকা ৫০ পয়সা। এক বিচারক তো এই অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়ে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন। এর প্রতিকার চেয়ে আপিল বিভাগে দরখাস্ত পেন্ডিং। এটা কিন্তু রিটেও চ্যালেঞ্জযোগ্য।
আনিসুল হক: ঠিক আছে। আমি এর যথাবিহিত ব্যবস্থা নেব।
প্রথম আলো: প্রধান বিচারপতি বলেছেন, যদি অবকাঠামোগত সুবিধা সরকার নিশ্চিত করে, তাহলে ঢাকার বাইরে হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ হতে পারে।
আনিসুল হক: তিনি নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন। তবে এখন এর সাধন পদ্ধতি তাঁর ব্যাপার, তিনি যখন যেভাবে চাইবেন, সেভাবেই হবে। আগে স্থায়ী সার্কিট বেঞ্চ অষ্টম সংশোধনীতে বাতিল হয়েছিল। এখন তিনি অস্থায়ী বেঞ্চ করতে আমাকে জিজ্ঞেস করলে সেভাবে আমি পরামর্শ দেব। এখন পর্যন্ত এ নিয়ে তাঁর সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।
প্রথম আলো: চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী কী বিবেচনায় হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ করতে চেয়েছেন—
আনিসুল হক: অনেক সময় অঞ্চলগত মামলার সংখ্যা বাড়ে-কমে। যেমন বন্দরনগর হিসেবে চট্টগ্রামের কাস্টমসের মামলা কখনো বেড়ে যায়। সেখানে তখন হাইকোর্ট বিভাগ চট্টগ্রামে বসবেন। স্থানীয় আইনজীবীরা তখন শুনানিতে অংশ নিতেপারবেন। এটা একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাও বটে। তাতে হয়তো কোনো একটি এলাকার মামলার ত্বরিত নিষ্পত্তি হবে। আইনজীবীদের অনেক সমস্যার সমাধান হবে। এটা বিকেন্দ্রীকরণ। আমরা জনগণের ক্ষমতা সর্বদা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিতে সচেষ্ট।
প্রথম আলো: বিচার ও নির্বাহী বিভাগীয়একটা সংলাপের সূচনা আমরা সম্প্রতি দেখলাম।
আনিসুল হক: আমি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বিচার বিভাগের উৎকর্ষ সাধনে সংলাপ অব্যাহত রেখেছি। তাঁর স্বপদের এক বছর পূর্তিতে আমি গিয়ে সাক্ষাৎ করেছি। গত এক বছরে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে যতবার আমার বৈঠক হয়েছে, আমার মনে হয় না এমনটা আগে কোনো আইনমন্ত্রীর সঙ্গে ঘটেছে।
প্রথম আলো: এই সংলাপটাকি আরেকটু বিস্তৃত পরিসরে হতে পারে? যেমন আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ বিচারক থাকলেন—
আনিসুল হক: আমার আপত্তি নেই। আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক উভয় রকমের হতে পারে। সর্বোপরি আমরা সবাই দেশের জন্য কাজ করছি। কোনো একটি অঙ্গকে বাদ দিয়ে কিন্তু দেশ চলবে না। তাই সমন্বয়সাধনের জন্য আলাপ-আলোচনার দরকার, আর তার মধ্যে আমি আছি।
প্রথম আলো: প্রধান বিচারপতি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা থাকার কথা বলেছেন, আবার কোনো একটা কষ্টের জায়গা থেকে হয়তো বলেছেন যে, নির্বাহী বিভাগ বিচার বিভাগের ক্ষমতা কেড়ে নিতে চাইছে। আপনি কীভাবেদেখছেন?
আনিসুল হক: আমি এটা অস্বীকার করব না যে আমার সঙ্গে তাঁর এ বিষয়ে গত ১৭ জানুয়ারি আলাপ হয়েছে। যে ঘটনার কারণে তাঁর এই মন্তব্য সেটা আমি শুনেছি। যখন তিনি এটা বলেছেন তার আগে নয়, পরে আলাপ হয়েছে।
প্রথম আলো: আপনি মনে হয় বিষয়টি পাঠককে অবহিত করতে পারেন। মনে হচ্ছে তাঁর ওই মন্তব্য কোনো নীতিগত নয়, নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার কারণে—
আনিসুল হক: আপনার সঙ্গে আমি একমত। এটা একটি নির্দিষ্ট ঘটনাকে কেন্দ্র করেই। তিনি যখন আমাকে বলেন যে, এটাই ব্যাপারটা, তখন আমি তাঁকে বলেছি যে, আমি ইতিমধ্যে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছি। সেটা জেনে প্রধান বিচারপতি খুশি হয়েছেন।
প্রথম আলো: তার মানে যে কারণে প্রধান বিচারপতির উষ্মা, তার অপনোদন ঘটেছে?
আনিসুল হক: দেখুন, বিচারকার্য বিচারকেরা ছাড়া অন্য কেউ করুন, এটা তো ঠিক হবে না। ব্যাপারটা হচ্ছে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেসি নিশ্চয় কিছু কাজ করবে। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে তারা বিচার বিভাগের কাজটা করে ফেলবে, সেখানে আমার মনে হয় একটা চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স বা সমন্বয়ের দরকার আছে।
প্রথম আলো: আমরা মনে করি, যেসব সরকারি কর্মকর্তা যখন মোবাইল কোর্টে বিচারকাজ করবেন, তখন সেই সময়ের জন্য তাঁর জবাবদিহি সুপ্রিম কোর্টের কাছে ন্যস্ত থাকতে পারে। এখন এখানে একটা শূন্যতা চলছে।
আনিসুল হক: আপনি কথাটি বেঠিকবলেননি। আমরা এ রকম কিছু ভাবছি।
প্রথম আলো: আপনার এই সিদ্ধান্ত ইতিবাচক—
আনিসুল হক: সেটাই ব্যাপার। প্রধানবিচারপতিওকিছুদিন আগে বলেছেন, নির্বাহী বিভাগ তাঁর কাজে হস্তক্ষেপ করেন না এবং সেটা তিনি রক্ষা করছেন। হ্যাঁ, যেটার ব্যাপারে তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন, সে ক্ষেত্রে আমরাও সজাগ। প্রধান বিচারপতি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা করতে চান।
প্রথম আলো: ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে কী করে নিম্ন আদালতে ১০৭, হাইকোর্টে ১৪৯ ও আপিল বিভাগে ১৬২ শতাংশ মামলা হ্রাস পেল?
আনিসুল হক: প্রথমত তদারকি। রাকিব ও রাজন হত্যার যে দ্রুত বিচার, তা ইতিহাসে প্রথম। আর বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার শেষ হতে ৩৪ বছর লেগেছিল। সুতরাং একটা তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন ঘটেছে। আপনারা আমাদের সমালোচনা না করে উৎসাহিত করুন। কারণ, আমরা সঠিক পথে যাচ্ছি। উৎসাহ পেলে কাজ আরও বেড়ে যাবে।
১৯৮৪-৮৬ পর্বে হাইকোর্টে মামলার শুনানি করা যেত না। আমাদের চেম্বারেই দেখেছি, আসামি সাজা খেটে ফেলেছে। কিন্তু তার আপিল শুনানি হয়নি। বিচারপতি সাহাবুদ্দীন ও বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের সময়ে দুটো বিজ্ঞপ্তি বের করা হয়েছিল, যাতে সাজার রেয়াত দেওয়া হয়েছিল। যেমন যাবজ্জীনের সাজা ছিল ২০ বছর। বলা হয়েছিল, যাঁরা ১০ বছর খেটে ফেলেছেন তাঁকে জেলমুক্ত কর। এই করে তখনকার জট অনেকটা ঘোচানো হয়েছিল। দু-একটি ছাড়া এ রকম মামলা আজ আর নেই। আজ তিন থেকে পাঁচবছর দেরি হয়।
প্রথম আলো: এটা কি ঠিক যে কারাগারগুলোতে দোষী সাব্যস্তদের চেয়ে বিচারাধীন কয়েদিরা সংখ্যায় বেশি?
আনিসুল হক: তাঁরা অনেক বেশি। কিন্তু তার মানে কী, তাঁরা তো এখনো সাজাপ্রাপ্ত নন।
প্রথম আলো: তাঁরা বিনা বিচারে বন্দী।
আনিসুল হক: এটা বলা যাবে না। কারণ, দণ্ডবিধির ৩৫ ধারা বলেছে, যেদিন দোষী সাব্যস্ত হবে, তার আগ পর্যন্ত যতটুকু জেল খেটেছে, তা তার সাজার মেয়াদ থেকে বাদ যাবে।
প্রথম আলো: আর যাঁরা নির্দোষ হবেন, তাঁদের কারাবাসের কী হবে?
আনিসুল হক: এই সমস্যা সারা বিশ্বে চলছে। আমরা তার কী করব? তবে হ্যাঁ, এই সমস্যা মোকাবিলার চেষ্টা করছি আমরা। যতগুলো জামিনযোগ্য ধারা আছে, সেখানে শিথিলভাবে দেখে জামিন দেওয়া হচ্ছে। কিছু মামলায় জামিন প্রদানে রক্ষণশীল মনোভাবের পরিচয় দেওয়া হচ্ছে। হত্যা মামলার চেয়েও সন্ত্রাসী মামলায় প্রসিকিউশন কঠোর হওয়ার চেষ্টা করছে। অভ্যাসগত অপরাধ মাদক প্রভৃতি এমন কিছু ব্যাধি রয়েছে, যা সমাজকে কলুষিতই করে না, সমাজের গঠন ধ্বংস করে দেয়। এসব অপরাধের বিষয়ে আমরা নমনীয় হব না।
প্রথম আলো: মামলাজট কমাতে প্রধান বিচারপতি একটি সফল নেতৃত্ব দেখিয়েছেন?
আনিসুল হক: নিশ্চয়ই, আমি তা স্বীকার করব।
প্রথম আলো: তাহলে ২৭ হাজার মামলা নিষ্পত্তিতে আইন কমিশন যে তিন হাজার বিচারক নিয়োগ দিতে বলেছে, তার দরকার হবে?
আনিসুল হক: আমাদের ভবিষ্যৎ দেখতে হবে না? যেমনটা বলছিলাম যে মোশন কোর্টে ভিড় থাকে, তার মানে এন্ট্রি পয়েন্ট অর্থাৎ নতুন মামলা রুজু করার পর্যায়ে ভিড় থাকে। জনসংখ্যা বাড়ছে। সুতরাং সেসব সমস্যা মোকাবিলা করতে হলে বিচারকের সংখ্যা বাড়াতে হবে। কিন্তু সব ব্যাপার আদালতে নিতে আমাদের যে প্রবণতা, তা থেকে জনগণকে বিমুখ করতে হবে। আদালতের বাইরে বিরোধ নিষ্পত্তি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। তবে এ রকম নতুন ব্যবস্থার ওপরে যতক্ষণ না মানুষের বিশ্বাস জন্মায়, ততক্ষণ তো এর ওপরে তারা নির্ভরশীল হবে না।
প্রথম আলো: কিন্তু আইনের শাসনের সূচক, যা ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট, বিশ্বব্যাংক ও ব্র্যাক করেছে, তার সবটাতেই বাংলাদেশের অবস্থান সন্তোষজনক নয়। এটা কীভাবে দেখবেন?
আনিসুল হক: শুনুন, ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত ওনাদের এই সূচকটা কোথায় ছিল? যখন ইনডেমনিটি ছিল, ১৮ জনকে মেরে ফেলা হয়েছে, তার বিচার হবে না। তখন সূচক বুঝি খুব হাই ছিল? আর এখন আইনের শাসন সূচক নিম্নমুখী হয়েছে! এই সূচক আমি গ্রহণ করি না। বাংলাদেশেরমানুষ দেখছে, এখানে কী হচ্ছে। আপনারা এটা তুলনা করুন, তখন কি বলার ছিল না যে, এখানে আইনের শাসন নেই। তখন কি তারা তেমন বিবৃতি দিয়েছিল? কখনোই নয়। তারা সমর্থন করেছিল। আজ যখন এসব জঞ্জাল দূর করছি, আইনের শাসন ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি, যখন মানুষের মনে বিশ্বাস জন্মেছে যেকোনো অপরাধ হলে তারা বিচার পাবে, তখন তাঁরা বলেন আইনের শাসন সূচক খুব উচ্চ নয়, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।
প্রথম আলো: আপনাকে ধন্যবাদ
আনিসুল হক: ধন্যবাদ।
প্রথম আলো : প্রধান বিচারপতির মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে। কিন্তু অবসরে গিয়ে নয়, কর্মরতদের তরফে সংক্ষিপ্ত আদেশ বা রায় ঘোষণার তিন থেকে চার বছর পরে পূর্ণাঙ্গ রায় মিলছে, এ সমস্যার প্রতিকার কীভাবে?
আনিসুল হক: প্রধান বিচারপতি অবসরে রায় লেখাকে অসাংবিধানিক বলেছেন। কিন্তু এটা অসাংবিধানিক নয়। হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের বিধিতে কোথাও লেখা নেই যে কত সময়ের মধ্যে রায় লিখতে হবে। তবে আমি মনে করি, প্রধান বিচারপতি একটা হতাশা থেকে কথাটা বলেছেন। কারণ, আমরা দেখছি যে তিন-চার বছরেও রায় মিলছে না। কিন্তু আচরণবিধিতে তাঁরা লেখেননি যে, রায় কত দিনে মিলবে। এখন তাঁরা যদি চান তাহলে রায় লেখার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে একটি ‘প্র্যাকটিস ডাইরেকশন’ দিয়ে দিন। তাহলে জনগণ ও বিচার বিভাগ উপকৃত হবে।
প্রথম আলো: সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি বিষয়টিকে শুধুই দলীয়ভাবে নিল।
আনিসুল হক: প্রধান বিচারপতি এখন বলেই দিয়েছেন এ জন্য পুরোনো রায়গুলো বাতিল হবে না। আর আমি মনে করি না যে, রাজনৈতিক স্বার্থে কারও বক্তব্যের অপব্যাখ্যা দেওয়া কোনো দায়িত্বশীল রাজনীতির মধ্যে পড়ে।
প্রথম আলো: তার মানে আপনি অবিলম্বে রায় লেখা বিষয়ে একটি বিধি প্রণয়নের পক্ষে?
আনিসুল হক: নিশ্চয়ই। তার সব থেকে বড় কারণ হলো রায় বাস্তবায়নে, বিশেষ করে দেওয়ানি মামলার রায় কার্যকর করতে তার সার্টিফায়েড কপি লাগে।
প্রথম আলো: একজন বিচারক ১৯৪ মামলার রায় না লিখে সম্প্রতি অবসরে গেছেন।
আনিসুল হক: আমি যখন আইনজীবী ছিলাম তখনো আমি এই বিষয়টির দিকে তাঁদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয় তখন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
প্রথম আলো: ১৯৪টির মধ্যে এখনো ১৬৩টির রায় লেখা হয়নি বলে আমরা জানি। এখন এর কী হবে?
আনিসুল হক: সেটা তো আমি বলে দিতে পারব না। এ বিষয়ে যখন কোনো আইন নেই, তাই এখন কোনো সিদ্ধান্ত নিলেও তা ভূতাপেক্ষভাবে কার্যকর করা যাবে না। আমি শুধু এটুকুই বলব, যাঁর কাছে ১৬৩টি রায় লেখার কাজ পড়ে আছে, তিনি যেন অমানুষিক খাটুনি দিয়ে হলেও স্বল্প সময়ের মধ্যে তা সম্পন্ন করে দেন।
প্রথম আলো: বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে টিভি চ্যানেলে বক্তব্য দিচ্ছেন। বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?
আনিসুল হক: আমি একে কিছুতেই সমর্থন করতে পারি না। এটা অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক। আমার মনে হয়, এখানে টিভি চ্যানেলগুলোর সংযত হওয়ার ব্যাপার আছে। তাদেরও দায়িত্বশীল হওয়ার সময় এসেছে। তারা সম্ভবত এ বিষয়ে ঠিক ভূমিকা রাখছে না।
প্রথম আলো: অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের আচরণবিধি দরকার কি না?
আনিসুল হক: কেউ কেউ কর্মরত থাকাকালেও আচরণবিধির ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এ বিষয়ে আমি আর কী বলব বলুন। সে জন্যই আইন করতে হয়, সে বিষয়ে বলে আর লাভ নেই। কথা হলো দায়িত্বজ্ঞান তো মানুষের ব্যক্তিগত ব্যাপার। তাই মনে হয় আমাদের অনেক দায়িত্বশীল হওয়ার দরকার।
প্রথম আলো: আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত প্রধান বিচারপতির কিছু বক্তব্য বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন বলে খবর বেরিয়েছে।
আনিসুল হক: এটা আমার মন্তব্য নয় বলে আমি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। তবে আমি সবাইকে বলব, আমরা সবাই দায়িত্বশীল পদের অধিকারী। আমাদের কথাবার্তার মধ্যে সেই দায়িত্বশীল পদের যে দায়িত্ব, সেটার প্রতিফলন ঘটা উচিত।
প্রথম আলো: আপনি কি সংশ্লিষ্ট সবার উদ্দেশেই বললেন?
আনিসুল হক: হ্যাঁ। আমি সবাইকেই বলছি।
প্রথম আলো: একটু অন্য প্রসঙ্গে যাই। জামায়াত নিষিদ্ধ আইন কবে আসছে?
আনিসুল হক: শিগগিরই। মন্ত্রিসভায়খসড়া পাস হলে আমরা এর বিস্তারিত প্রকাশ করব। এটা হবে ’৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনী।
প্রথম আলো: শিগগিরই মানে কবে? ন্যুরেমবার্গে বা বিশ্বের অন্যত্র কোথাও সংগঠনের বিচার হয়েছে?
আনিসুল হক: ফেব্রুয়ারির গোড়ায়। বিশ্বের অন্যত্র হয়নি। এখানেও দরকার ছিল না, কারণ বাহাত্তরের সংবিধানে তো জামায়াত নিষিদ্ধ ছিল আগেই। খুনি মোশতাক ও জিয়াউর রহমান এসে এটা বদলান।
প্রথম আলো: একাত্তরের ডিসেম্বরে জামায়াত নির্দিষ্টভাবে নিষিদ্ধ হয়, সংবিধানে হয়েছিল কেবল ধর্মীয় সংগঠন হিসেবেই।
আনিসুল হক: যখন সংবিধান প্রণীত হয়, তখন তাতে আগের আইনকে সুরক্ষাদেওয়া হয়। পরে যখন এই সংবিধান নিয়ে ফুটবল খেলা হলো, তখন জামায়াতকে আবার ঢোকানো হলো, তারা রাজনৈতিক দল হলো। এরপর ট্রাইব্যুনাল পর্যবেক্ষণ দিলেন যে জামায়াতকে কাঠগড়ায় তোলা যায়।২০১৩ সালেআমরা সংবিধানে ‘সংগঠন’ শব্দটি ঢোকালাম, কিন্তু সেটাই তার বিচারের জন্য পর্যাপ্ত নয়। তাই বিচার-প্রক্রিয়ার বিস্তারিত লিপিবদ্ধ করতেই সংশোধনী আনা হচ্ছে।
প্রথম আলো: এ বিষয়ে এটাই হবে বিশ্বের প্রথম নজির?
আনিসুল হক: ইনশা আল্লাহ।
প্রথম আলো: বিচার বিভাগের অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার খুব সফল কি? যেমন জেলায় জেলায় বিচার ভবন নির্মাণের একটি মেগা প্রকল্প সরকার নিয়েছে, কিন্তু অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়।
আনিসুল হক: জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে রিট পিটিশন করে বছরের পর বছর আটকে রাখা হচ্ছে। যেমন ফরিদপুরে ‘বেলা’ রিট করেছিল, তাদের বলেছি দিঘি ভরাটের যে ধারণায় তারা এটা করেছে, তা ঠিক নয়।
প্রথম আলো: এনবিআর, ভ্যাট, ট্যাক্স বা উন্নয়ন প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট অনেক রিট, যা দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করে, তা নিষ্পত্তিতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া যায় না?
আনিসুল হক: এসব বিষয়ে একটা বিহিত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এগুলোর যাতে দ্রুত শুনানি হয়, তার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এসব বিষয়ে আপিল শুনতে পাঁচটি বেঞ্চ দেওয়া হয়েছে। হ্যাঁ, গাছ লাগালেই ফল পাব না। সুফল পেতে ছয় মাস লাগবেই। আমরা মামলাজট (প্রায় ৩০ লাখ) নিরসনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। কিন্তু ২০-৩০ বছরের জট তো ছয় মাসে শেষ করতে পারব না।
প্রথম আলো: বর্তমানে নিম্ন ও উচ্চ আদালতে শতাধিক বিচারকের পদ শূন্য। আপিল বিভাগে প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ১১টি পদের মধ্যে এখন ৫টি শূন্য।
আনিসুল হক: আপিল বিভাগে পদ শূন্য, এ কথা কিন্তু সঠিক নয়। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার শুনানির জন্য ১১টি পদ সৃষ্টি করা হয়েছিল। কারণ, তখনকার আপিল বিভাগে ওই মামলা শোনার মতো পাঁচ বিচারক ছিলেন না।
প্রথম আলো: এখন না দরকার পড়লে প্রজ্ঞাপন শুধরে নিন। অনধিক ১১ নয়, প্রজ্ঞাপন বলেছে ১১ জনের সমন্বয়ে আপিল বিভাগ হবে। তা ছাড়া, প্রধান বিচারপতি আপিল বিভাগে তিনটি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ করতে উদ্যোগী হয়েছেন। তাঁর কাছ থেকে কি কোনো নামের প্রস্তাব গেছে?
আনিসুল হক: সংশোধন দরকার নেই। নাম প্রস্তাবও যায়নি। আর ১১ জন কিন্তু থাকতেই হবে না। প্রয়োজনে ১১ পর্যন্ত যাওয়া যাবে। তবে নিয়োগের বিষয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করছি। কিছুদিন আগেও নয়জন ছিল, তিনজন অবসরে যাওয়ায় এখন ছয়জন আছে। আপিল বিভাগে খুব শিগগির নিয়োগ দেওয়া হবে।
প্রথম আলো: কতজন? কোনো নাম নির্বাহী বিভাগের কাছে যায়নি? আর হাইকোর্টে কোনো নতুন নিয়োগ?
আনিসুল হক: সেটা প্রধান বিচারপতি জানেন। না, যায়নি। আপনি যদি ২০ বছর পেছনে তাকান, হাইকোর্টে ৬০ জন বিচারক ছিলেন। এখন সেখানে ৯৫ থেকে ১০০ জন। আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়াতে-কমাতে পারি। যদি এমন বিচারক থাকেন, যার কোনো কাজ নেই, তেমন বিচারক তো নিয়োগ দেওয়া ঠিক হবে না। এতে করদাতাদের কাঁধে বোঝা বাড়বে। আমরা তো সেটা করতে চাই না। প্রয়োজন অনুযায়ী দিতে চাই। আমি আপনাকে হাইকোর্ট বিভাগ পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানাই। সেখানে গেলে দেখবেন, যে বেঞ্চে আপিল মামলার শুনানি চলে সেখানে ভিড় নেই। ওখানে কোনো আইনজীবী থাকবেন না। মোশন কোর্টে তাঁদের ভিড় দেখবেন।
প্রথম আলো: এই অবস্থা বদলানোর কোনো প্রয়াস, সংস্কারের কোনো চিন্তা?
আনিসুল হক: আমি কী সংস্কার করব? বিচার বিভাগ সম্পূর্ণরূপে স্বাধীন। এ বিষয়ে আমি কোনো কথাই বলতে চাই না। কিন্তু এটা সঠিক যে আপিল মামলার শুনানি খুব তাড়াতাড়ি হয় না। এ জন্যই মামলাজট। হাইকোর্টে অচিরে নতুন বিচারক আসবেন, তাও বলতে পারছি না।
প্রথম আলো: বিচারপতি নিয়োগ নীতিমালার কী হলো?
আনিসুল হক: এটা নিয়ে কাজ হচ্ছে।
প্রথম আলো: দুই বছর আগেও এ কথা বলেছিলেন। জুডিশিয়াল কমিশন ধরনের কিছু হবে? আপিল বিভাগে নিয়োগের জন্যও কি?
আনিসুল হক: দুই বছর আগে ঠিকই বলেছিলাম, কিন্তু এটা এমন একটি বিষয়, এটা আজকে বললে কালকে করা যায় না। আমরা একটা নতুন বিষয়ের সূচনা ঘটাতে যাচ্ছি, যা আগে কখনো হয়নি। জুডিশিয়াল কমিশন বলব না। একটা নাম দেব। তবে অত্যন্ত শক্তিশালী একটি বডি হবে। না, আপাতত হাইকোর্টের বিচারক নিয়োগে বডি হবে। আপিল বিভাগের জন্য নয়।
প্রথম আলো: ইমপিচমেন্ট করার আইন কবে? খসড়া কি প্রস্তুত?
আনিসুল হক: খসড়া প্রস্তুত। তবে আমি বিনয়ের সঙ্গে বলব, কথাটি ইমপিচ নয়, ৯৬ অনুচ্ছেদ বলেছে, প্রমাণিত অসদাচরণ বা অসামর্থ্যের অর্থাৎ দুই কারণে বিচারক অপসারণ করা যাবে। অভিশংসন মানে বিচার করা, এতে যে শুধু অপসারণ ঘটে, তা সত্য নয়। পদই শূন্য হবে না, শাস্তিও দেওয়া যাবে। তাই অভিশংসনে ক্ষমতা ব্যাপকতর। কিন্তু আমরা এখানে শুধু ওই দুটো বিষয়ের মধ্যে সীমিত থাকব। চলতি অধিবেশনে এটি পাস হয়ে যাবে, ইনশা আল্লাহ।
প্রথম আলো: সুপ্রিম কোর্টের কাছে কি খসড়া পাঠাবেন? তাদেরমতামত নেবেন?
আনিসুল হক: নিশ্চয়ই। আমি এটি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠাব। এবং সেই সঙ্গে এই অনুরোধও তাঁর কাছে রাখব যে অন্য বিচারপতিদের সঙ্গেও যাতে তিনি বিষয়টিআলোচনা করেন।
প্রথম আলো: তিন মাসের মধ্যে এটি পাসের কথা বলেছিলেন। আপনি কি মানেন যে আইনটির অভাবে বিচারপতিসহ সব সাংবিধানিক পদধারীর জবাবদিহির জায়গায় কিছুটা শূন্যতা চলছে?
আনিসুল হক: হ্যাঁ। তা কিছুটা চলছে। তবে এই শূন্যতা এবারই প্রথম নয়। বাহাত্তর-পঁচাত্তরেও এটা শূন্য ছিল। কিন্তু এটা কাম্য নয়। এটা সুচিন্তিত ও অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে করা উচিত। বিচারপতিরা অত্যন্ত সম্মানিত ও বিজ্ঞ, তাঁদেরবিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি।
প্রথম আলো: তাঁদের বিষয়ে তদন্তের জন্য শুধু কর্মরত বিচারকেরাই, নাকি ভারতের মতো বাইরে থেকেও অন্তর্ভুক্ত হবেন?
আনিসুল হক: মন্ত্রী হিসেবে আমি একটি নীতি নিয়েছি, সেটি হলো প্রস্তাবিত আইনের কোনো খসড়া মন্ত্রিসভায় পাস না হওয়া পর্যন্ত কোনো বক্তব্য দেব না।
প্রথম আলো: প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টের আর্থিক স্বায়ত্তশাসনের সপক্ষে মত দিয়েছেন।
আনিসুল হক: দেখুন, রোম সাম্রাজ্য এক দিনে গড়ে ওঠেনি। আপনারাই বলেন, ২০০৭-এ আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার বিভাগ পৃথক্করণ হয়েছে। কিন্তু তখন যেসব বিচারকার্য হয়েছিল, তা খুব স্বাধীনভাবে হয়নি।
প্রথম আলো: আমরা বলি, কিন্তু ঢালাওভাবে বলি না—
আনিসুল হক: এই স্বাধীনতাকে অর্থপূর্ণ ও আরও সুদৃঢ় করতে আমি চেষ্টা করছি। ১৯৯৬ থেকে সুপ্রিম কোর্টের জন্য আলাদা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এবারের থোক বরাদ্দ ১১২ কোটি টাকা। আমরা একটি মাইন্ড সেট থেকে আরেকটি মাইন্ড সেটে যাচ্ছি। পঁচাত্তরের পরের হাইকোর্টে ইনডেমনিটি বিল বাতিলের জন্য তার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করতে হয়েছিল। হাইকোর্টের যে স্বাধীনতা আজকে আছে, সেটা তখন কোথায় ছিল? পিআইএল (জনস্বার্থে মামলা) কেন তখন হয়নি? সংবিধান-সংক্রান্ত একটি মামলা জিয়ার আমলে সাবেক ডেপুটি স্পিকার আলী আশরাফ সাহেব আমার বাবা অ্যাডভোকেট সিরাজুল হককে দিয়ে করিয়েছিলেন, দুদিন শোনার পরে তা খারিজ হয়েছিল। এভাবে তখনকার হাইকোর্ট যখনই জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার মামলা পেয়েছেন, বাতিল করেছেন। আমি নিজেই তার সাক্ষী। সেই হাইকোর্টের সঙ্গে কিন্তু আজকের হাইকোর্টের কোনো মিল নেই। আজকের হাইকোর্টও আপিল বিভাগ নির্বাহী বিভাগের শ্রদ্ধার পাত্র। হাইকোর্টের রায়ে আমাদের অনেক আইনে পরিবর্তন এসেছে।
প্রথম আলো: এই হাইকোর্ট যখন নিম্ন আদালতের বিচারক বদলির সিদ্ধান্ত দেন, তখন কখনো সরকারকে খড়্গহস্ত হতে দেখি—
আনিসুল হক: আপনাকে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ তার যথাযথ ভাষায় পড়তে অনুরোধ করব। আমি তো কোনোশব্দ উদ্ভাবন করতে পারব না। আপনিও পারবেন না। ওখানে লেখা পরামর্শক্রমে। রাষ্ট্রপতি কোন কাজটি পরামর্শক্রমেকরেননি?
প্রথম আলো: বিচারকের কর্মস্থল নির্ধারণে সুপ্রিম কোর্টের স্বপ্রণোদিত পরামর্শ কি সংবিধানের চেতনাবিরুদ্ধ?
আনিসুল হক: না, প্রশ্ন হলো পরামর্শ গ্রহণ করা বা না করা। পরামর্শক্রমে পরামর্শ গ্রহণ করা হয় কি না? শুনুন, আমার মনে হয় না কেউ আমার সঙ্গে দ্বিমত করবেন যে, ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ মানা হয়। এখন কিছু ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি তো তাঁর ডিসক্রিশন প্রয়োগ করতেই পারেন। আইন তাঁকে সেই সুযোগ দিয়েছে। এখানে অন্যায় কোথায়?
প্রথম আলো: আপনি বদলির নীতিমালার কথা বলেছিলেন। সেটার কী হলো? কোথাও বছরের পর বছর কেউ টিকে আছেন, আবার ছয় মাস না যেতেই তাঁকে বদলির প্রস্তাব পাঠাচ্ছেন।
আনিসুল হক: আমি যে অধস্তন আদালত উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি, সেখানে বিচারক ও লোকবলের সংকট ছিল। আমি এটা মেটাতে পদোন্নতির শর্ত দুই বছর থেকে ছয় মাস বা এক বছরে নামিয়ে এনেছি। বিএনপি আমলে বিরাট ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছিল। কী করে আমি ছয় মাসে তা পূরণ করব? তাড়াহুড়ো করলে আপনি বিচারক পাবেন, বিচার পাবেন না। যেখানে পরিবর্তন দরকার ছিল, সেখানে পরিবর্তন আনতে পিছপা হইনি। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা সিলেবাস পরিবর্তন করতেবলেছেন, করে দিয়েছি। তিনি যেভাবে বলছেন সেভাবে করারই চেষ্টা করছি। সুতরাং প্রক্রিয়া চলমান আছে। এর সুফল পেতে আপনাকে ছয় মাস থেকে এক বছর অপেক্ষা করতেই হবে।
প্রথম আলো: ২০০৭ সালে দেড় হাজার বিচারক দিয়ে শুরু হয় পৃথক্করণ। অথচ গত আট বছরে আপনারা কোনো নতুন পদ সৃষ্টি করেননি, শুধু শূন্যতা পূরণ করেছেন মাত্র।
আনিসুল হক: ৩৪৯ বিচারকের নতুন পদসৃষ্টিতে আমি সম্প্রতি জনপ্রশাসনকে লিখেছি। সেই সঙ্গে ৩৪৯ জনের সহায়ক জনবল হিসেবে মোট ১ হাজার ১৮ জন নিয়োগ পাবে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এর নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে।
প্রথম আলো: জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ থেকে যুগ্ম জেলা জজ হয়েছেন। এরপর দ্বিতীয়বার পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত জেলা জজ হয়েছেন। অথচ তাঁরা বেতন পান দুই ধাপ নিচেরজ্যেষ্ঠ সহকারী জজ হিসেবে। পদোন্নতি আছে, দায়িত্ব পালন আছে, কিন্তু প্রাপ্য মজুরি নেই। আমাদের হিসাবে এর ফলে তিন শর বেশি বিচারক অন্তত ১৫ কোটি টাকা বঞ্চিত। বিচারকদের প্রতি এ কেমন বিচার?
আনিসুল হক: আমি বিষয়টি নিশ্চয়ই দেখব।
প্রথম আলো: বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার পে-কমিশন পর্যালোচনায় আট মন্ত্রী নিয়ে কমিটি হয়েছে। কিন্তু কবে রিপোর্ট দেবেন, তার তারিখ না দিয়ে ১২ জানুয়ারি গেজেট করেছেন।
আনিসুল হক: আমরা চার মন্ত্রী সব কটি কমিটিতে আছি। সকলের নতুন পে-স্কেল হয়ে গেছে। বিজ্ঞ বিচারকেরা কেন বঞ্চিত হবেন। বিষয়টি নিরসন করা দরকার। আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন, এ সমস্যার ত্বরিত সমাধান দরকার। এই ইস্যু শেষ করতেই মন্ত্রিসভা কমিটি হয়েছে। এক মাস বা তার কম সময়ে স্কেল দেব। তাঁরা যাতে বৈষম্যের শিকার না হন, সেদিকে বিশেষ নজর দেব।
প্রথম আলো: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ২০০৬ থেকে চার-পাঁচ বছরের বকেয়াসহ জজদের বেতন-ভাতা দিতে বললে সব রাজ্য সরকার তা মেনে নিয়েছে। আর ২০০৯ সালে বাংলাদেশে সবাই যখন বেতন পেল, তখন জজদের ঠকানো হলো। এমনকি তাঁদের প্রাপ্য তুলে নেওয়ার পর অলিখিত আদেশে তা ফেরত দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এ কেমন আর্থিক শৃঙ্খলা?
আনিসুল হক: যখন বেতন কমিটির সভা হবে, তখন আমি এ বিষয়টি সেখানে তুলব। আমি এর সম্পর্কে সবকিছু জেনে নিয়ে এর একটা সুরাহা করা যায় কি না, সে ব্যবস্থা আমি নেব।
প্রথম আলো: আমরা এর একটা হিসাব করেছি। তাতে বিচারকদের বঞ্চিত করা অর্থের পরিমাণ দেখলাম ৭৫ কোটি ৭৫ লাখ ১৮৭ টাকা ৫০ পয়সা। এক বিচারক তো এই অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়ে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন। এর প্রতিকার চেয়ে আপিল বিভাগে দরখাস্ত পেন্ডিং। এটা কিন্তু রিটেও চ্যালেঞ্জযোগ্য।
আনিসুল হক: ঠিক আছে। আমি এর যথাবিহিত ব্যবস্থা নেব।
প্রথম আলো: প্রধান বিচারপতি বলেছেন, যদি অবকাঠামোগত সুবিধা সরকার নিশ্চিত করে, তাহলে ঢাকার বাইরে হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ হতে পারে।
আনিসুল হক: তিনি নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন। তবে এখন এর সাধন পদ্ধতি তাঁর ব্যাপার, তিনি যখন যেভাবে চাইবেন, সেভাবেই হবে। আগে স্থায়ী সার্কিট বেঞ্চ অষ্টম সংশোধনীতে বাতিল হয়েছিল। এখন তিনি অস্থায়ী বেঞ্চ করতে আমাকে জিজ্ঞেস করলে সেভাবে আমি পরামর্শ দেব। এখন পর্যন্ত এ নিয়ে তাঁর সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।
প্রথম আলো: চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী কী বিবেচনায় হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ করতে চেয়েছেন—
আনিসুল হক: অনেক সময় অঞ্চলগত মামলার সংখ্যা বাড়ে-কমে। যেমন বন্দরনগর হিসেবে চট্টগ্রামের কাস্টমসের মামলা কখনো বেড়ে যায়। সেখানে তখন হাইকোর্ট বিভাগ চট্টগ্রামে বসবেন। স্থানীয় আইনজীবীরা তখন শুনানিতে অংশ নিতেপারবেন। এটা একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাও বটে। তাতে হয়তো কোনো একটি এলাকার মামলার ত্বরিত নিষ্পত্তি হবে। আইনজীবীদের অনেক সমস্যার সমাধান হবে। এটা বিকেন্দ্রীকরণ। আমরা জনগণের ক্ষমতা সর্বদা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিতে সচেষ্ট।
প্রথম আলো: বিচার ও নির্বাহী বিভাগীয়একটা সংলাপের সূচনা আমরা সম্প্রতি দেখলাম।
আনিসুল হক: আমি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বিচার বিভাগের উৎকর্ষ সাধনে সংলাপ অব্যাহত রেখেছি। তাঁর স্বপদের এক বছর পূর্তিতে আমি গিয়ে সাক্ষাৎ করেছি। গত এক বছরে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে যতবার আমার বৈঠক হয়েছে, আমার মনে হয় না এমনটা আগে কোনো আইনমন্ত্রীর সঙ্গে ঘটেছে।
প্রথম আলো: এই সংলাপটাকি আরেকটু বিস্তৃত পরিসরে হতে পারে? যেমন আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ বিচারক থাকলেন—
আনিসুল হক: আমার আপত্তি নেই। আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক উভয় রকমের হতে পারে। সর্বোপরি আমরা সবাই দেশের জন্য কাজ করছি। কোনো একটি অঙ্গকে বাদ দিয়ে কিন্তু দেশ চলবে না। তাই সমন্বয়সাধনের জন্য আলাপ-আলোচনার দরকার, আর তার মধ্যে আমি আছি।
প্রথম আলো: প্রধান বিচারপতি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা থাকার কথা বলেছেন, আবার কোনো একটা কষ্টের জায়গা থেকে হয়তো বলেছেন যে, নির্বাহী বিভাগ বিচার বিভাগের ক্ষমতা কেড়ে নিতে চাইছে। আপনি কীভাবেদেখছেন?
আনিসুল হক: আমি এটা অস্বীকার করব না যে আমার সঙ্গে তাঁর এ বিষয়ে গত ১৭ জানুয়ারি আলাপ হয়েছে। যে ঘটনার কারণে তাঁর এই মন্তব্য সেটা আমি শুনেছি। যখন তিনি এটা বলেছেন তার আগে নয়, পরে আলাপ হয়েছে।
প্রথম আলো: আপনি মনে হয় বিষয়টি পাঠককে অবহিত করতে পারেন। মনে হচ্ছে তাঁর ওই মন্তব্য কোনো নীতিগত নয়, নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার কারণে—
আনিসুল হক: আপনার সঙ্গে আমি একমত। এটা একটি নির্দিষ্ট ঘটনাকে কেন্দ্র করেই। তিনি যখন আমাকে বলেন যে, এটাই ব্যাপারটা, তখন আমি তাঁকে বলেছি যে, আমি ইতিমধ্যে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছি। সেটা জেনে প্রধান বিচারপতি খুশি হয়েছেন।
প্রথম আলো: তার মানে যে কারণে প্রধান বিচারপতির উষ্মা, তার অপনোদন ঘটেছে?
আনিসুল হক: দেখুন, বিচারকার্য বিচারকেরা ছাড়া অন্য কেউ করুন, এটা তো ঠিক হবে না। ব্যাপারটা হচ্ছে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেসি নিশ্চয় কিছু কাজ করবে। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে তারা বিচার বিভাগের কাজটা করে ফেলবে, সেখানে আমার মনে হয় একটা চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স বা সমন্বয়ের দরকার আছে।
প্রথম আলো: আমরা মনে করি, যেসব সরকারি কর্মকর্তা যখন মোবাইল কোর্টে বিচারকাজ করবেন, তখন সেই সময়ের জন্য তাঁর জবাবদিহি সুপ্রিম কোর্টের কাছে ন্যস্ত থাকতে পারে। এখন এখানে একটা শূন্যতা চলছে।
আনিসুল হক: আপনি কথাটি বেঠিকবলেননি। আমরা এ রকম কিছু ভাবছি।
প্রথম আলো: আপনার এই সিদ্ধান্ত ইতিবাচক—
আনিসুল হক: সেটাই ব্যাপার। প্রধানবিচারপতিওকিছুদিন আগে বলেছেন, নির্বাহী বিভাগ তাঁর কাজে হস্তক্ষেপ করেন না এবং সেটা তিনি রক্ষা করছেন। হ্যাঁ, যেটার ব্যাপারে তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন, সে ক্ষেত্রে আমরাও সজাগ। প্রধান বিচারপতি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা করতে চান।
প্রথম আলো: ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে কী করে নিম্ন আদালতে ১০৭, হাইকোর্টে ১৪৯ ও আপিল বিভাগে ১৬২ শতাংশ মামলা হ্রাস পেল?
আনিসুল হক: প্রথমত তদারকি। রাকিব ও রাজন হত্যার যে দ্রুত বিচার, তা ইতিহাসে প্রথম। আর বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার শেষ হতে ৩৪ বছর লেগেছিল। সুতরাং একটা তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন ঘটেছে। আপনারা আমাদের সমালোচনা না করে উৎসাহিত করুন। কারণ, আমরা সঠিক পথে যাচ্ছি। উৎসাহ পেলে কাজ আরও বেড়ে যাবে।
১৯৮৪-৮৬ পর্বে হাইকোর্টে মামলার শুনানি করা যেত না। আমাদের চেম্বারেই দেখেছি, আসামি সাজা খেটে ফেলেছে। কিন্তু তার আপিল শুনানি হয়নি। বিচারপতি সাহাবুদ্দীন ও বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের সময়ে দুটো বিজ্ঞপ্তি বের করা হয়েছিল, যাতে সাজার রেয়াত দেওয়া হয়েছিল। যেমন যাবজ্জীনের সাজা ছিল ২০ বছর। বলা হয়েছিল, যাঁরা ১০ বছর খেটে ফেলেছেন তাঁকে জেলমুক্ত কর। এই করে তখনকার জট অনেকটা ঘোচানো হয়েছিল। দু-একটি ছাড়া এ রকম মামলা আজ আর নেই। আজ তিন থেকে পাঁচবছর দেরি হয়।
প্রথম আলো: এটা কি ঠিক যে কারাগারগুলোতে দোষী সাব্যস্তদের চেয়ে বিচারাধীন কয়েদিরা সংখ্যায় বেশি?
আনিসুল হক: তাঁরা অনেক বেশি। কিন্তু তার মানে কী, তাঁরা তো এখনো সাজাপ্রাপ্ত নন।
প্রথম আলো: তাঁরা বিনা বিচারে বন্দী।
আনিসুল হক: এটা বলা যাবে না। কারণ, দণ্ডবিধির ৩৫ ধারা বলেছে, যেদিন দোষী সাব্যস্ত হবে, তার আগ পর্যন্ত যতটুকু জেল খেটেছে, তা তার সাজার মেয়াদ থেকে বাদ যাবে।
প্রথম আলো: আর যাঁরা নির্দোষ হবেন, তাঁদের কারাবাসের কী হবে?
আনিসুল হক: এই সমস্যা সারা বিশ্বে চলছে। আমরা তার কী করব? তবে হ্যাঁ, এই সমস্যা মোকাবিলার চেষ্টা করছি আমরা। যতগুলো জামিনযোগ্য ধারা আছে, সেখানে শিথিলভাবে দেখে জামিন দেওয়া হচ্ছে। কিছু মামলায় জামিন প্রদানে রক্ষণশীল মনোভাবের পরিচয় দেওয়া হচ্ছে। হত্যা মামলার চেয়েও সন্ত্রাসী মামলায় প্রসিকিউশন কঠোর হওয়ার চেষ্টা করছে। অভ্যাসগত অপরাধ মাদক প্রভৃতি এমন কিছু ব্যাধি রয়েছে, যা সমাজকে কলুষিতই করে না, সমাজের গঠন ধ্বংস করে দেয়। এসব অপরাধের বিষয়ে আমরা নমনীয় হব না।
প্রথম আলো: মামলাজট কমাতে প্রধান বিচারপতি একটি সফল নেতৃত্ব দেখিয়েছেন?
আনিসুল হক: নিশ্চয়ই, আমি তা স্বীকার করব।
প্রথম আলো: তাহলে ২৭ হাজার মামলা নিষ্পত্তিতে আইন কমিশন যে তিন হাজার বিচারক নিয়োগ দিতে বলেছে, তার দরকার হবে?
আনিসুল হক: আমাদের ভবিষ্যৎ দেখতে হবে না? যেমনটা বলছিলাম যে মোশন কোর্টে ভিড় থাকে, তার মানে এন্ট্রি পয়েন্ট অর্থাৎ নতুন মামলা রুজু করার পর্যায়ে ভিড় থাকে। জনসংখ্যা বাড়ছে। সুতরাং সেসব সমস্যা মোকাবিলা করতে হলে বিচারকের সংখ্যা বাড়াতে হবে। কিন্তু সব ব্যাপার আদালতে নিতে আমাদের যে প্রবণতা, তা থেকে জনগণকে বিমুখ করতে হবে। আদালতের বাইরে বিরোধ নিষ্পত্তি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। তবে এ রকম নতুন ব্যবস্থার ওপরে যতক্ষণ না মানুষের বিশ্বাস জন্মায়, ততক্ষণ তো এর ওপরে তারা নির্ভরশীল হবে না।
প্রথম আলো: কিন্তু আইনের শাসনের সূচক, যা ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট, বিশ্বব্যাংক ও ব্র্যাক করেছে, তার সবটাতেই বাংলাদেশের অবস্থান সন্তোষজনক নয়। এটা কীভাবে দেখবেন?
আনিসুল হক: শুনুন, ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত ওনাদের এই সূচকটা কোথায় ছিল? যখন ইনডেমনিটি ছিল, ১৮ জনকে মেরে ফেলা হয়েছে, তার বিচার হবে না। তখন সূচক বুঝি খুব হাই ছিল? আর এখন আইনের শাসন সূচক নিম্নমুখী হয়েছে! এই সূচক আমি গ্রহণ করি না। বাংলাদেশেরমানুষ দেখছে, এখানে কী হচ্ছে। আপনারা এটা তুলনা করুন, তখন কি বলার ছিল না যে, এখানে আইনের শাসন নেই। তখন কি তারা তেমন বিবৃতি দিয়েছিল? কখনোই নয়। তারা সমর্থন করেছিল। আজ যখন এসব জঞ্জাল দূর করছি, আইনের শাসন ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি, যখন মানুষের মনে বিশ্বাস জন্মেছে যেকোনো অপরাধ হলে তারা বিচার পাবে, তখন তাঁরা বলেন আইনের শাসন সূচক খুব উচ্চ নয়, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।
প্রথম আলো: আপনাকে ধন্যবাদ
আনিসুল হক: ধন্যবাদ।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1338)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
-
▼
2016
(3416)
-
▼
February
(648)
-
▼
Feb 05
(64)
- খালেদা-তারেকের ড্যান্ডি ডায়িং মামলায় বিচার শুরু
- আনোয়ার চৌধুরীর ওপর হামলার রায় ১১ ফেব্রুয়ারি
- প্রাথমিকে ‘পুল’ থেকে শিক্ষক নিয়োগের নির্দেশ
- শিশু আবদুল্লাহ হত্যা মামলায় চারজনের রিমান্ড
- কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র অবৈধ: হাইকোর্ট
- মধ্যপ্রাচ্য থেকে কমছে রেমিট্যান্স আয়
- ডিএসই থেকে রাজস্ব আদায় বেড়েছে ৪০ শতাংশ
- টেকসই উন্নয়ন নিয়ে ইউল্যাবে আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু
- সোনার দাম বাড়ছে
- ইউনাইটেড এয়ারের সব ফ্লাইট বন্ধ
- পুলিশ এখন নিজেই সন্ত্রাস করছে: বিএনপি
- গণপূর্ত থেকে কাউন্সিলের অনুমতি মিলেছে: রিজভী
- শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক রুগণ রাজনীতি: ড. কামাল
- পুলিশের বিচার দ্রুত বিচার আইনে করতে হবে: সুরঞ্জিত
- রাজপথে থেকে দাবি আদায় করবো: ইমরান
- গণতন্ত্রের জন্য দর্শনের ভূমিকাও কম নয়: প্রধান বিচা...
- বইমেলায় মুখরিত প্রথম শিশুপ্রহর
- গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে আক্রমণ গণতন্ত্রের জন্য হুমকি: ...
- চা-বিক্রেতার মৃত্যু: শাহ আলীর ওসি প্রত্যাহার
- মায়ের নামে হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যপরীক্ষা
- আজ ইকুয়েডরের দূতাবাস ছাড়তে পারেন অ্যাসাঞ্জ
- শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে মনোনয়ন পেয়েছেন ট্রাম্প
- নিখোঁজের ৪০ বছর পর মৃত ঘোষণা!
- আরব আমিরাতে মন্ত্রী পদে ছাত্র নিয়োগের বিজ্ঞাপন
- দেশে প্রথমবারের মতো অভিনব পরামর্শ সেবা নিয়ে এলো ‘র...
- নিহত ও নিখোঁজ হাজারো আয়লানের দায় by ফারুক ওয়াসিফ
- বিরল এই বৃক্ষমানব রোগ হয়েছে দেশে একজনেরই
- জিকা ভাইরাস: জরুরি অবস্থা ঘোষণা বিশ্ব স্বাস্থ্য সং...
- পরীক্ষার জন্য বৃক্ষ মানবের রক্ত যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে
- আলুর বিকল্প কেন হতে চলেছে কলা?
- মেসি-সুয়ারেজের ডাবল হ্যাটট্রিকে গোলের মালা বার্সার
- দুই খানের গল্প নয়, দুটি দেশের গল্প by হামিদ মির
- কাঠগড়ায় পুলিশ
- এশিয়াকে নিয়ে চীন ও আমেরিকার প্রতিযোগিতা by ব্রহ্ম ...
- মানবাধিকার কার মাথাব্যথার বিষয়? by মশিউল আলম
- উদারতার বিকল্প নেই by কুলদীপ নায়ার
- ওয়াটফোর্ডে আটকে গেল চেলসি
- এখন শুধুই রোসানা ম্যাজিক
- ২০১৮ পর্যন্ত রোনাল্ডোদের কোচ জিদান
- চা বিক্রেতাকে পুড়িয়ে হত্যার- চা বিক্রেতাকে পুড়িয়ে ...
- কে হত্যা করেছিল গাদ্দাফিকে?
- অভিযোগপত্রে সাংসদেরা চার ভাই by কামনাশীষ শেখর
- বিএনপিতে নানামুখী লবিং-তদবির by কাফি কামাল
- পুলিশের চাঁদার আগুনে প্রাণ গেল চা দোকানির by শহিদু...
- আপনি তুমি তুই by উম্মে মুসলিমা
- সোনার পিস্তলের খোঁজে
- বঙ্গবন্ধু হত্যার খবর শুনে জিয়া যা বলেছিলেন
- সেনাবাহিনীকে চ্যালেঞ্জ জানাবে এনএলডি!
- দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিবেক জাগ্রত করার আহ্বান
- আপনারা মুসলিম ও আমেরিকান -বাল্টিমোরের মসজিদে ওবামা
- ৯ / ১১ হামলার ধারণা কীভাবে পেলেন ওসামা?
- ক্যানসারে ভুগছে ১৫ লাখ- চিকিৎসা ও পুনর্বাসন অপর্যা...
- গুজব, গুজব নয়
- দুই পৃথিবী মিলে এক পৃথিবী
- সাগরতলের তথ্যভান্ডার!
- যুক্তরাষ্ট্র সাংবাদিকদের হয়রানি বা কাজে বাধা দেখতে...
- প্রধান বিচারপতি হতাশা থেকে কথাটা বলেছেন -সাক্ষাৎক...
- এরশাদের জাপায় সবকিছু বেশি বেশি by সোহরাব হাসান
- পুলিশের অপরাধের শাস্তি দৃশ্যমান চায় সংসদীয় কমিটি
- অ্যাসাঞ্জ হেরে গেলে ধরা দিতে রাজি
- স্বজনের খোঁজে বাংলাদেশে ডাচ সুলতানা
- একজন যাত্রী নিয়েই উড়ল বিমান
- ‘আমাকে নিলে না কেন?’
- শ্রেণীকক্ষে নগ্ন শিক্ষিকা
-
▼
Feb 05
(64)
-
▼
February
(648)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
মালয়েশিয়া
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
স্বাস্থ্য
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
জ্যোতির্বিজ্ঞান
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
মিয়ানমার
ঢাকা
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
জীবনযাপন
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
মেহেদী হাসান
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
ইয়েমেন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
Exclusive
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
উচ্চশিক্ষা
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিজ্ঞান
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
ফরিদপুর
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মহাকাশচারী
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
জোহরান মামদানি
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
ইহুদি
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বকাপ ফুটবল
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হুগজিল্ট

No comments:
Post a Comment