Sunday, November 2, 2014
সব স্তরেই শিক্ষার মান বাড়াতে হবে -সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম by মোহাম্মদ কবীর আহমদ
সব স্তরেই শিক্ষার মান বাড়াতে হবে -সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম by মোহাম্মদ কবীর আহমদ
যুগান্তর : এসএসসি ও এইচএসসিতে ভালো ফল করা বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় কাক্সিক্ষত পর্যায়ের নম্বর পেতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে তারা এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছে না। বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাটি এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষার মতো নয়। এটি একটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা এবং সেখানে পাস-ফেলের কোনো ব্যাপার নেই; সেটি যোগ্যতা দেখানোর ব্যাপার। ফলে ২০ শতাংশ বা ২১ শতাংশ যারা পাস করেন, তাদের পাস না বলে বলা যায় তারা ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছেন। সেই যোগ্যতা অর্জনের পরও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারছেন না। কারণ আমাদের আসন সংখ্যা সীমিত। এটিকে বড় বিপর্যয় হিসেবে দেখা উচিত নয় বা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার বিপর্যয় হিসেবে দেখা উচিত নয়। যে কোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ক্ষেত্রেই এটি ঘটে থাকে। বিসিএস পরীক্ষা যারা দেন, তারা বেশিসংখ্যক পাস করেন না। তার মানে এই নয় যে, তাদের মাস্টার্স পড়াশোনাটা বৃথা গেছে। এ জন্য আমি মনে করি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাকে দেখতে হবে এই দৃষ্টিতে- এখানে যোগ্যতাটা প্রধান- যে পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্যতা প্রদর্শন করতে হয়। পরীক্ষার্থীদের অনেকেই হয়তো এ পরীক্ষা পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত নন। আমি খুশি হতাম, যদি ভর্তিচ্ছু সব শিক্ষার্থীকে আমরা ভর্তি করাতে পারতাম। কিন্তু সেটি আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
যুগান্তর : ইদানীং এসএসসি ও এইচএসসিতে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পাস করছে ও জিপিএ-৫ পাচ্ছে। এতে শিক্ষার মান কতটা বাড়ছে?
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাচ্ছে, আমি এতে আনন্দিত। আমি মনে করি, আমাদের প্রত্যেক শিক্ষার্থীর অধিকার আছে ভালো ফল করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার। কিন্তু মানের যে প্রশ্নটি তোলা হচ্ছে, আসলে কিন্তু সেখানে একটা ঘাটতি রয়ে যাচ্ছে- এটি অনেকে স্বীকার না করলেও আমি বুঝতে পারি। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের আমি দেখেছি- তাদের অনেকের ভাষাজ্ঞানে অনেক ঘাটতি লক্ষ্য করা যায়। তাদের অনেকের কোনো কোনো বিষয়ে দশটি বাক্য শুদ্ধভাবে লেখার যোগ্যতায় ঘাটতি দেখা যায়। তার মানে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে যে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে, সেখানে একটা ঘাটতি রয়ে যাচ্ছে। সে জন্য আমি মনে করি, প্রাইমারিসহ শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে- ভৌত অবকাঠামোর উন্নতির পাশাপাশি মেধাবীদের শিক্ষক পেশায় আগ্রহী করে তোলা, তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া, পাঠ্যপুস্তকের মান আরও উন্নত করা, শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানো, তাদের বৃত্তির পাশাপাশি স্কুলে একবেলা আহারের ব্যবস্থা করা- এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে প্রচুরসংখ্যক শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ হবে, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার সংখ্যা কমবে এবং ভালো ফল নিয়ে তারা বের হতে পারবে। মানের বিষয়টি আমি বিবেচনা করি একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। কোনো একটি পরীক্ষায় এত সংখ্যক জিপিএ পেয়ে পাস করে বের হল বলে শিক্ষার মান বেড়ে গেছে বা কমে গেছে- এ বিষয়টি বিবেচনা না করে বরং সার্বিক মানের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। একেবারে প্রাইমারি থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত আমাদের মানকে আরও উন্নত করতে হবে। যাতে আমরা আমাদের শিক্ষাকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করতে পারি। সেটি যেদিন হবে সেদিন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক কম হলেও আমি সেটা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করব।
যুগান্তর : বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক শিক্ষার্থী পছন্দের বিষয়ে ভর্তি হতে পারছে না। এটা শিক্ষার্থীর পরবর্তী জীবনে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে?
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে একটি আসনের জন্য অনেক শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতা করে। ফলে প্রত্যেকে তার কাক্সিক্ষত আসনটি পায় না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সীমিতসংখ্যক আসনে লাখ লাখ শিক্ষার্থী ভর্তি হতে আসে। এ প্রতিযোগিতায় অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীও পিছিয়ে পড়ে। কাক্সিক্ষত বিষয়টি না পেয়ে অনেকে হতাশ হয়, অনেকে বিষয় বদল করে; শুনেছি অনেকে পড়াশোনাও ছেড়ে দেয়। কেউ কেউ হয়তো বিদেশেও চলে যায়, কেউ কেউ চাকরিতে যোগদান করে। এ সমস্যার সমাধান হল- যদি সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে সামগ্রিকভাবে মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায়, তাহলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর চাপ কমে যাবে।
প্রত্যেক শিক্ষার্থীর অধিকার আছে তার পছন্দের বিষয়ে পড়ার। দেশের যোগ্য প্রতিটি শিক্ষার্থীর মানসম্মত শিক্ষার ব্যবস্থা করার দায়িত্ব সরকারের। তাই শিক্ষার্থীরা যাতে তাদের কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জনে সফল হতে পারে সে ব্যাপারে সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে। দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে মানসম্মত করতে সরকার যথাযথ উদ্যোগ নিলে স্বাভাবিকভাবেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর শিক্ষার্থীদের চাপ কমবে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয় কলেজগুলোকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মানে উন্নীত করা গেলে উল্লিখিত সমস্যাগুলো স্বাভাবিকভাবেই সমাধান হয়ে যাবে। কাক্সিক্ষত বিষয়ে ভর্তি হতে না পারলে শিক্ষা-পরবর্তী জীবনে এর নেতিবাচক প্রভাবটা থেকে যায়। যে শিক্ষার্থীর বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন ছিল, তিনি কাক্সিক্ষত বিষয়ে ভর্তির সুযোগ না পেলে তার হতাশা থেকেই যাবে। কাজেই শিক্ষার্থীরা যাতে কাক্সিক্ষত বিষয়ে ভর্তির সুযোগ পান এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
যুগান্তর : আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারসহ বিভিন্ন অসৎ উপায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাইয়ে দিতে একটি চক্র তৎপর। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগও নিয়েছে। এসব প্রক্রিয়ার কথা শুনে স্বাভাবিকভাবেই অনেক শিক্ষার্থী হতাশ হয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতি আপনার কী উপদেশ?
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : ভর্তি পরীক্ষার সময় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারকারী বিভিন্ন চক্রের অপতৎপরতা বৃদ্ধির কারণ, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি ত্রুটিপূর্ণ। এমসিকিউ পদ্ধতি মেধা যাচাইয়ের কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা নয়। বিশ্বব্যাপী এ পদ্ধতি প্রচলিত থাকলেও এর সঙ্গে লিখিত পরীক্ষার বিষয়টিও সম্পর্কিত। লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর মেধা যাচাইয়ের বিষয়টি অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য। আমরা বহুদিন ধরে বলে আসছি, বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাদা ভর্তি পরীক্ষা না নিয়ে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা নেয়া হোক- যাতে গুচ্ছ পদ্ধতিতে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে একটি পরীক্ষা নেয়া হয়। সেখানে এমসিকিউ পদ্ধতির কিছু প্রশ্ন থাকলেও পাশাপাশি কিছু প্রশ্ন থাকা উচিত, যেগুলোর লিখিত উত্তর দিতে হবে। যেমন বিভিন্ন ভাষার সাহিত্য যারা পড়তে ইচ্ছুক, তাদের ভাষা বিষয়ে বিশেষ দক্ষতা দেখাতে হবে। যারা বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে ভর্তি হতে ইচ্ছুক, তাদের গণিতে দক্ষতা দেখাতে হবে। শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের লিখিত জবাব দিতে হলে অসৎ উপায় অবলম্বনকারীরা সেখানে ভূমিকা রাখতে পারবে না। কাজেই তখন ওই চক্রগুলো স্বাভাবিকভাবেই নিষ্ক্রিয় হবে।
অসৎ চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি আইনশৃংখলা রক্ষায় যারা কাজ করেন তাদের এখতিয়ারভুক্ত। আমি মনে করি, সরকারকে এ ব্যাপারে কঠোর হতে হবে। অসৎ চক্রের সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিলে অন্যরা নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। অসৎ উপায় অবলম্বন করে কোনো কোনো শিক্ষার্থী ভালো ফল অর্জন করলে অন্য শিক্ষার্থীরা হতাশ হবে- এটাই স্বাভাবিক। একজন শিক্ষার্থী সৎভাবে পরীক্ষা দিল, অন্য একজন অসৎ উপায় অবলম্বন করে হয়তো অনেক ভালো ফল অর্জন করল; এ ক্ষেত্রে যে শিক্ষার্থী সৎভাবে পরীক্ষা দিচ্ছে তার জন্য এটি চাপ সৃষ্টি করবে, হতাশা সৃষ্টি করবে। এ বিষয়ে অভিভাবকদের প্রতি আমার অনুরোধ, আপনারা কোনোভাবেই আপনাদের সন্তানকে অসাধু চক্রের হাতে তুলে দেবেন না। কারণ আপনার সন্তান অসাধু পন্থা অবলম্বন করে যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়, তাহলে সারা জীবন সে অসাধু পন্থা অবলম্বনের চেষ্টা করবে। এ ব্যাপারে শিক্ষার্থীদেরও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে এবং সতর্ক থাকতে হবে। কোনো অসৎ চক্র ধারে-কাছে এলে এদের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে অবহিত করতে হবে।
যুগান্তর : বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নিয়ে অনেক সমালোচনা আছে। আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও তো আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে পিছিয়ে?
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : শিক্ষার্থীরা পছন্দের বিষয়ে ভর্তির সুযোগ না পাওয়ার বিষয়টি আমাদের দেশে নতুন নয়। এ চাহিদা বা শূন্যতা পূরণের লক্ষ্য থেকেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সৃষ্টি। অন্য কথায় বললে উল্লিখিত সমস্যার সমাধানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশেষ অবদান রাখছে। একসময় প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পড়তে যেতেন। এ প্রক্রিয়ায় আমাদের দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিভিন্ন দেশে চলে যেত। যারা বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যেতেন, তারা যে বিশ্বমানের শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পেতেন তা নয়। কারণ তারা যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ পেতেন সেসবের অনেক প্রতিষ্ঠানই খুব মানসম্পন্ন ছিল না। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ফলে দেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বিস্তৃত হয়েছে। উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গমনের হার অনেক কমেছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ফলে পছন্দের বিষয়ে পড়ার সুযোগও বেড়েছে। কিন্তু লক্ষ্য করার বিষয় হল, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়েই শিক্ষার্থীদের যত্নসহ পড়ালেখা করানো হয় এবং শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু বৃত্তির ব্যবস্থাও আছে। বেশিরভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাণিজ্যিক প্রবণতাই বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায়। ফলে সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে কাক্সিক্ষত মান রক্ষা করা সম্ভব হয় না। অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আমরা শুনতে পাই। কোনো কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগও শুনতে পাই। সেসব ব্যাপারে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। যে প্রতিজ্ঞা ও প্রত্যয়ের কথা বলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, সেই প্রতিজ্ঞা অক্ষরে অক্ষরে পালনের ব্যাপারে তাদের সচেষ্ট হতে হবে।
আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে পিছিয়ে পড়ার অনেক কারণ রয়েছে। অনেক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আন্তর্জাতিক র্যাংকিং করা হয়। শিক্ষকদের যোগ্যতা থেকে শুরু করে শিক্ষাদানের পদ্ধতি, পরীক্ষা গ্রহণের পদ্ধতি, স্বচ্ছতার প্রশ্ন, শ্রেণীকক্ষের সুযোগ-সুবিধা- এরকম অনেক কিছু আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেয়া হয়। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অবকাঠামোগত অনেক সমস্যা রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরলেই দেখা যাবে শ্রেণীকক্ষগুলো একেবারেই দুর্দশাগ্রস্ত। আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলছি, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বিভাগেই ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে শ্রেণীকক্ষে প্রযুক্তির ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন-ভাতা এতই কম যে, অনেকে বাধ্য হয়ে বাইরে খণ্ডকালীন চাকরি করতে চান, কেউ কেউ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। ফলে শিক্ষকরা যে পুরোপুরি নিজেদের উজাড় করে শ্রেণীকক্ষে পাঠ দেবেন, সেটিও সম্ভব হয় না।
আমি মনে করি আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র্যাংকিং উন্নতির জন্য আমাদের একটি সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণ করা প্রয়োজন। আমি যে শিক্ষা বিনিয়োগের কথা বলছি- সে বিনিয়োগটা এখানেও আসতে হবে। প্রাথমিক পর্যায় থেকে শিক্ষার্থীদের মান বাড়াতে হবে। শিক্ষাদান পদ্ধতির মান বাড়াতে হবে। পাঠ্যপুস্তকের মান বাড়াতে হবে। তারপর শিক্ষার্থীরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসবে, তখন তারা যাতে পছন্দের বিষয়ে ভর্তির পর্যাপ্ত সুযোগ পায়, সেখানে যেন আন্তর্জাতিক মানের পাঠ্যক্রম অনুসরণ করা হয়, গ্রন্থাগারে পর্যাপ্ত বই থাকে, বৃত্তির ব্যবস্থা থাকে, আবাসন ব্যবস্থা উন্নত হয়, শিক্ষকদের জীবনমান উন্নত হয়- এ বিষয়গুলোর প্রতি যদি সঠিকভাবে নজর দেয়া হয় তাহলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের হারিয়ে যাওয়া গৌরব পুনরুদ্ধার করা খুব একটা কঠিন হবে না।
যুগান্তর : অনেক শিক্ষিত ব্যক্তির ক্ষেত্রেও বাংলা ভাষার জ্ঞানে অনেক সীমাবদ্ধতা লক্ষ্য করা যায়। বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : কোনো শিক্ষিত ব্যক্তির মাতৃভাষায় সীমাবদ্ধতার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমাদের বিভাগে (ইংরেজিতে) যারা প্রথমবর্ষে ভর্তি হয় তাদের ইংরেজির মান ক্রমে কমছে, এটা আমি স্বয়ং পরীক্ষা করে দেখেছি। তাদের বাংলা ভাষায় দখলের মানও কমছে, ভয়ানকভাবে কমছে। একসময় (সত্তরের দশকে) বিএ (পাস) পরীক্ষা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হতো- এখন যা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়- তখন বিএ (পাস) শ্রেণীতে ইংরেজি বাধ্যতামূলক ছিল। তখন বিএ (পাস) পরীক্ষায় পাসের হার ছিল প্রায় ১৫ শতাংশ। ওই সময়ের ফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যারা ইংরেজিতে পাস করতে সক্ষম হতেন তারাই বিএ (পাস) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতেন বলে ধরে নেয়া হতো। বিএ (পাস) শ্রেণীর সিলেবাসে ইংরেজিকে যখন ঐচ্ছিক বিষয় করা হল তখনও পাসের হার ওই ১৪ বা ১৫ শতাংশই রয়ে গেল। তখন দেখা গেল আবশ্যকীয় বাংলাতেই ১৫ শতাংশ পাস করছেন। এখন বাংলায় পাস করলেই বিএ (পাস) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া নিশ্চিত বলে ধরে নেয়া হয়। বাংলায় পাসের হার এত কম হওয়ার অন্যতম কারণ বাংলার প্রতি শিক্ষার্থীদের উদাসীনতা। অনেকে মনে করেন, বাংলা তো মাতৃভাষা, এর প্রতি বাড়তি মনোযোগ দেয়ার কী আছে? যারা এমনটি মনে করেন, যথাযথ প্রস্তুতি না নিয়ে পরীক্ষা দেন, তারাই অকৃতকার্য হন। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবার মনে রাখা দরকার- যে কোনো ভাষা শেখার একটা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি আছে, সে বিষয়গুলোর প্রতি অবহেলার ফলেই অনেক শিক্ষিত ব্যক্তিও সাধারণ বাংলা শব্দের বানানও ভুল করেন।
আমি মনে করি, মাতৃভাষার প্রতি যে দুর্বলতা এটি সাময়িক একটি অবস্থা। আমি নিশ্চিত, একটু চেষ্টা করলেই আমরা কেবল বানান কেন, মাতৃভাষায় সুন্দরভাবে নিজেকে প্রকাশ করা এবং লেখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারব। তার জন্য প্রয়োজন যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক এবং সেই শিক্ষক তৈরির জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত বিনিয়োগ। কাজেই আমি কোনো বিষয়কেই খণ্ডিতভাবে দেখব না। পুরো বিষয়টিকে সামগ্রিক দৃষ্টিতে দেখার চেষ্টা করব।
যুগান্তর : শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক মাঠ পর্যায়ের সমীক্ষার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এইচএসসি পর্যন্ত ঝরে পড়ছে ৯১ শতাংশ শিক্ষার্থী। এ অবস্থার উত্তরণে কী করণীয়?
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : এসএসসি, এইচএসসিসহ শিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার সমস্যা সহজেই সমাধান করা যায়। শিক্ষার প্রাথমিক পর্যায় থেকে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রচুর বৃত্তির ব্যবস্থা করা গেলে, শিক্ষার্থীদের একবেলা মানসম্মত খাবারের ব্যবস্থা করা গেলে, একই সঙ্গে মানসম্মত শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বাড়ানো হলে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম অনেক বেশি বিস্তৃত করা সম্ভব হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও বৈচিত্র্যপূর্ণ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখা সম্ভব হলে স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষার সামগ্রিক মান অনেক বেড়ে যাবে। পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি বিভিন্ন সুকুমার বৃত্তির চর্চা অব্যাহত থাকলে শ্রেণীকক্ষ আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। সরকার বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের বই প্রদান করছে। এটি প্রশংসনীয় একটি উদ্যোগ। এর পাশাপাশি শিক্ষার অন্যান্য উপকরণ বিনামূল্যে প্রদান করা সম্ভব হলে দরিদ্র অভিভাবকদের ওপর চাপ কমবে। ফলে তারা সন্তানদের শিক্ষামুখী করার বাড়তি আগ্রহ অনুভব করবেন।
যুগান্তর : বিজ্ঞানে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমছে। এতে আগামীতে দেশের সামগ্রিক অবস্থার ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে?
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : দেশের অনেক বিদ্যালয়েই বিজ্ঞান শিক্ষার আধুনিক উপকরণের অভাব রয়েছে, যোগ্যতাসম্পন্ন বিজ্ঞান শিক্ষকের অভাব রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বিজ্ঞান শিক্ষার ব্যাপারে মেয়েদের তেমন উৎসাহ প্রদান করা হয় না, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে বিজ্ঞান শিক্ষার ব্যাপারে মেয়েদের নিরুৎসাহিত করা হয়। ছেলেমেয়ে নির্বিশেষে সব শিক্ষার্থীকে শৈশব থেকে বিজ্ঞান শিক্ষায় আগ্রহী করতে হবে। স্কুলগুলোতে বিজ্ঞান শিক্ষার আধুনিক উপকরণ সরবরাহ করা হলে বিজ্ঞানের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়বে। বিজ্ঞানের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ যত বাড়ানো হবে শিক্ষার্থীর সংখ্যা তত বাড়বে। বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমলে স্বাভাবিকভাবেই দেশে বিজ্ঞানীর সংখ্যাও কমে যাবে। দেশে বিজ্ঞানীর সংখ্যা কমলে সামান্য প্রযুক্তির জন্য বিদেশের ওপর নির্ভরশীল হতে হবে। বিজ্ঞানীর সংখ্যা কমে গেলে দেশের উন্নয়ন ব্যাহত হওয়ার আশংকা দেখা দেবে।
যুগান্তর : শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের যে গতি লক্ষ্য কার যাচ্ছে এ ব্যাপারে আপনার মূল্যায়ন কী?
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের গতি আরও বাড়াতে হবে। শিক্ষানীতিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংযুক্ত করা হয়েছে। আমি একটি বিষয়ের উল্লেখ করতে চাই। যেমন- প্রাথমিক বিদ্যালয়কে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত উন্নীত করা এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত উন্নীত করার কাজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই বছরের কলেজ শিক্ষার জন্য যে ব্যয় হয়, তা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিনিয়োগ করলে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভৌত কাঠামোর উন্নয়ন ঘটবে। এ ধরনের আনুষ্ঠানিক কিছু বিষয় দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষার কাক্সিক্ষত পরিবেশ সৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়বে।
যুগান্তর : উন্নত দেশগুলোতে একাধিক বিদেশী ভাষা শেখার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। আমাদের দেশে ভাষা শেখার এ প্রবণতা অনুপস্থিত কেন? বিদেশী ভাষা শেখার ক্ষেত্রে কী করণীয়?
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : উন্নত অনেক দেশেই একাধিক ভাষা শিক্ষা দেয়া হয়। এমনকি ভারত, শ্রীলংকায়ও দুটি ভাষা শেখার ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। বাংলা যেহেতু আমাদের মাতৃভাষা, তাই আমি চাই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার একেবারে শেষ পর্যায় পর্যন্ত বাংলা ভাষায় অধ্যয়নের সুযোগ তৈরি হোক। পাশাপাশি ইংরেজি ভাষা অত্যন্ত ভালোভাবে রপ্ত করা দরকার। কারণ বিশ্বের যোগাযোগের মাধ্যম এখন ইংরেজি। বিশ্বের বিজ্ঞান শিক্ষার মাধ্যম ইংরেজি। বিশ্বের ব্যবসা-বাণিজ্যের ভাষা এখন ইংরেজি। বিশ্বের যে কোনো উদ্যোগের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার অন্যতম মাধ্যম ইংরেজি। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের শুরুতেই ইংরেজি শেখার জন্য যথাযথ সুযোগ সৃষ্টি করা হলে তারা ইংরেজি ভালোভাবে রপ্ত করতে পারবে। যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক তৈরি করে তাদের অব্যাহত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বাড়ানো গেলে ইংরেজি ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে যে অরাজকতা রয়েছে সেটি দূর হবে। কোনো শিক্ষার্থী দুটি ভাষা ভালোভাবে রপ্ত করতে পারলে তার আÍবিশ্বাস বেড়ে যায়, নিজেকে প্রকাশ করার অনেক পথ তৈরি হয়। ফলে ওই শিক্ষার্থীর জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। অনেকে বিদেশের চাকরিতে সুবিধা পাওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন ভাষা আয়ত্ত করে থাকেন। এ বিষয়টিকে আমি তেমন গুরুত্ব দিতে চাই না। আমি গুরুত্ব দিতে চাই জ্ঞানের চর্চার পরিধি বৃদ্ধির জন্য কোন শিক্ষার্থী কয়টি বিদেশী ভাষা আয়ত্ত করছেন তার ওপর। কোনো শিক্ষার্থী বা কোনো ব্যক্তি যদি অনেক ভাষায় দক্ষতা অর্জন করতে পারেন তাহলে ওই ব্যক্তির মুঠোয় বিশ্ব চলে আসে।
যুগান্তর : মঙ্গলগ্রহে ভারতের সফল অভিযান আমাদের জন্য কি কেবল একটি তথ্য? প্রতিবেশী দেশ হিসেবে মহাকাশ গবেষণায় আমাদের কী ধরনের প্রস্তুতি নেয়া দরকার?
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : ভারতের মঙ্গল অভিযানে বড় ধরনের সাফল্যের নেপথ্যে তাদের বড় ধরনের বিনিয়োগ রয়েছে। নেহেরু যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তখন থেকেই বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তাদের একটা বিশাল বিনিয়োগ আছে। কলকাতায় একটি সায়েন্স সিটি রয়েছে। আমাদের দেশে অন্য শহরে তো দূরের কথা, খোদ রাজধানীতেও সায়েন্স সিটি এখনও তৈরি হয়নি। ভারতে বিজ্ঞানীদের প্রচুর উৎসাহ প্রদান করা হয়। আমাদের দেশে তেমনটি লক্ষ্য করা যায় না। আমাদের যে একটি উপগ্রহ পাঠানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে, সেখানেও বিদেশী প্রযুক্তির প্রাধান্য। আমরা দেশীয় প্রযুক্তিতে উপগ্রহ তৈরি করে যেদিন তা উৎক্ষেপণ করতে পারব, সেদিনই আমি করতালি দিয়ে বিষয়টিকে অভিনন্দন জানাব। বিদেশী প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা যদি একটি উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করি, তাহলে বড় কোনো গৌরব হল বলে আমার মনে হয় না। মঙ্গলযান যা ভারত মহাকাশে পাঠিয়েছে তার পুরোটাই দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করেছেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা। এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে মঙ্গলের কক্ষপথে একটি নভোযান রেখেছে ভারত। মেধার দিক থেকে আমরা যে খুব পিছিয়ে আছি তা নয়। কিন্তু আমাদের শিক্ষা ক্ষেত্রে তেমন বিনিয়োগ হচ্ছে না, অথচ ভারত শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রচুর বিনিয়োগ করছে। আমি সব সময় মনে করি আমরা যদি জিডিপির ৬ শতাংশ বা বাজেটের ২৫ শতাংশ শিক্ষায় বিনিয়োগ করতাম, তাহলে বিজ্ঞান শিক্ষায় এমন অগ্রগতি দৃশ্যমান হতো যে, এক প্রজন্ম পরে আমাদের বিজ্ঞানীরাই নিজের ল্যাবরেটরিতে এ ধরনের উপগ্রহ তৈরি করে পৃথিবীর বা অন্য যে কোনো গ্রহের কক্ষপথে তা উৎক্ষেপণ করার যোগ্যতা অর্জন করতে পারতেন। এ ক্ষেত্রে তাত্ত্বিক গবেষণার প্রয়োজন, প্রায়োগিক গবেষণাও প্রয়োজন। সব ধরনের গবেষণাকেই বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
যুগান্তর : প্রতিবছর দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ যাতে গবেষণার জন্য বিদেশে যেতে পারে সেজন্য কী করণীয়?
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : প্রতিবছর প্রচুর শিক্ষার্থী নিজেদের চেষ্টায় বিদেশে অধ্যয়ন করতে যাচ্ছে, সেখানে সরকার খুব বেশি সাহায্য করছে না। আমার মনে হয়, সরকার প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করে তরুণদের প্রশিক্ষিত করে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করলে এর মাধ্যমে দেশ বিশেষভাবে উপকৃত হতো। বিদেশে অবস্থানরত অনেক তরুণ তাদের শিক্ষা-প্রশিক্ষণ-গবেষণা শেষে দেশে ফিরতে আগ্রহী। এটি অত্যন্ত ভালো একটি প্রবণতা। তরুণদের আরও উৎসাহিত করার জন্য সরকারের উচিত হবে এসব তরুণকে দেশে ফিরিয়ে এনে যোগ্যতা অনুযায়ী তাদের চাকরির ব্যবস্থা করা। একই সঙ্গে আরও প্রচুরসংখ্যক তরুণকে বিদেশে গিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ করে দিয়ে প্রশিক্ষণ শেষে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনাও সরকারের দায়িত্ব। শিক্ষা ক্ষেত্রে বড় অংকের বিনিয়োগ করা হলে উল্লিখিত কাজগুলো সহজেই সম্পন্ন করা সম্ভব।
যুগান্তর : অনেকে বলেন, শিশুদের ওপর বাড়তি বোঝা চাপানো হচ্ছে? তাদের যদি যোগ্য করে তোলা না হয়, তাহলে তারা আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করবে কী করে?
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : শিশুদের ওপর পাঠ্যক্রমের বড় বোঝা চাপিয়ে দেয়া কোনোক্রমেই উচিত নয়। আমি মনে করি, প্রাথমিকের শিক্ষা হতে হবে অত্যন্ত আনন্দদায়ক, শিক্ষা হবে জীবন কুশলতা শেখার সমান্তরাল একটি বিষয়। শিশুদের বেশি বিষয় পড়ানোর প্রয়োজন নেই। আমার মনে হয়, তাদের প্রধানত গণিত ও ভাষা এ দুই বিষয়ে শিক্ষা দেয়া উচিত। গণিত ও ভাষায় যদি একটি শিশু সুশিক্ষিত হতে পারে, তাহলে তার নিজেকে প্রকাশ করার সব রাস্তা খুলে যাবে, তার মেধা শক্তিশালী হবে। প্রতিটি মানব শিশুই মেধাবী হিসেবেই জন্ম নেয়। তার মেধার অপচয় হয় বা মেধাকে আমরা কাজে লাগাতে পারি না বলেই কোনো কোনো শিশু তার মেধার প্রকাশ ঘটাতে পারে না। আমরা যদি প্রাথমিকে আনন্দঘন পরিবেশে পাঠদান শুরু করি- যেখানে শিক্ষার পাশাপাশি অন্যান্য কার্যক্রম যেমন শিশুরা গান শিখতে পারবে, অভিনয় শিখতে পারবে, সুন্দর খেলার মাঠ থাকবে, সেখানে
শিশুরা খেলাধুলা করতে পারবে- যদি এরকম আনন্দঘন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারি, তাহলে শিশুদের ওপর পাঠ্যক্রমের বোঝা চাপানোর প্রয়োজন নেই। বছরের নয় মাস তারা শিক্ষা গ্রহণ করবে; তারা শুরু থেকেই শিখবে ভাষা ও গণিত; তারপর দেখা যাবে সমাজ, বিজ্ঞান, ভূগোল, ইতিহাস- এসব বিষয় স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় তাদের আয়ত্তে চলে আসবে। যে শিশু গণিত আর ভাষা জানে, তার যে কোনো গ্রন্থ আয়ত্তে আনা কঠিন কিছু নয়। সে চিন্তাও করতে শিখবে, নিজেকে প্রকাশ করতেও শিখবে।
যুগান্তর : দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাত্ত্বিক বা প্রায়োগিক কোন ধরনের শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দেয়া উচিত?
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : সব ধরনের প্রায়োগিক শিক্ষার প্রতি আমাদের গুরুত্ব দেয়া উচিত। আমাদের একটা ধারণা আছে, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ বোধহয় খুব উচ্চ ধরনের শিক্ষা নয়। বিদেশে এমনটি লক্ষ্য করা যায় না। আমাদের এখানে লক্ষ্য করা যায়, যিনি তাঁত শিল্পে দক্ষতা অর্জন করলেন বা ওয়েল্ডিং শিখলেন তার তুলনায় যিনি দর্শন বা সাহিত্যের কোনো বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করলেন তাকে অনেক বেশি মূল্যবান বিবেচনা করা হয়। আমি মনে করি, সব বিষয়ের শিক্ষাকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। যে কোনো বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ নিয়ে যে কেউ দেশের জন্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। বৃত্তিমূলক পেশার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হলে সাহিত্যের কোনো বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারীও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নিজেকে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবেন।
প্রযুক্তিনির্ভর বিজ্ঞানে গুরুত্ব বাড়ানো উচিত। আমাদের দেশে প্রচুর ডাক্তার প্রয়োজন, নার্সের প্রয়োজন। আমাদের দেশে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে বিএসসি ডিগ্রিধারী ইঞ্জিনিয়ারদের একটি দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। এই বৈষম্য দূর করা গেলে, বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রতি নেতিবাচক ধারণা দূর করা গেলে প্রতিটি বিষয়েই বৃত্তিমূলক শিক্ষায় আগ্রহ বাড়বে। তবে তাত্ত্বিক শিক্ষা ও গবেষণায় অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক এ দুই শিক্ষার সমন্বয় সাধন করতে হবে।
যুগান্তর : আপনাকে ধন্যবাদ
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : ধন্যবাদ।
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাটি এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষার মতো নয়। এটি একটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা এবং সেখানে পাস-ফেলের কোনো ব্যাপার নেই; সেটি যোগ্যতা দেখানোর ব্যাপার। ফলে ২০ শতাংশ বা ২১ শতাংশ যারা পাস করেন, তাদের পাস না বলে বলা যায় তারা ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছেন। সেই যোগ্যতা অর্জনের পরও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারছেন না। কারণ আমাদের আসন সংখ্যা সীমিত। এটিকে বড় বিপর্যয় হিসেবে দেখা উচিত নয় বা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার বিপর্যয় হিসেবে দেখা উচিত নয়। যে কোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ক্ষেত্রেই এটি ঘটে থাকে। বিসিএস পরীক্ষা যারা দেন, তারা বেশিসংখ্যক পাস করেন না। তার মানে এই নয় যে, তাদের মাস্টার্স পড়াশোনাটা বৃথা গেছে। এ জন্য আমি মনে করি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাকে দেখতে হবে এই দৃষ্টিতে- এখানে যোগ্যতাটা প্রধান- যে পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্যতা প্রদর্শন করতে হয়। পরীক্ষার্থীদের অনেকেই হয়তো এ পরীক্ষা পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত নন। আমি খুশি হতাম, যদি ভর্তিচ্ছু সব শিক্ষার্থীকে আমরা ভর্তি করাতে পারতাম। কিন্তু সেটি আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
যুগান্তর : ইদানীং এসএসসি ও এইচএসসিতে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পাস করছে ও জিপিএ-৫ পাচ্ছে। এতে শিক্ষার মান কতটা বাড়ছে?
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাচ্ছে, আমি এতে আনন্দিত। আমি মনে করি, আমাদের প্রত্যেক শিক্ষার্থীর অধিকার আছে ভালো ফল করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার। কিন্তু মানের যে প্রশ্নটি তোলা হচ্ছে, আসলে কিন্তু সেখানে একটা ঘাটতি রয়ে যাচ্ছে- এটি অনেকে স্বীকার না করলেও আমি বুঝতে পারি। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের আমি দেখেছি- তাদের অনেকের ভাষাজ্ঞানে অনেক ঘাটতি লক্ষ্য করা যায়। তাদের অনেকের কোনো কোনো বিষয়ে দশটি বাক্য শুদ্ধভাবে লেখার যোগ্যতায় ঘাটতি দেখা যায়। তার মানে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে যে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে, সেখানে একটা ঘাটতি রয়ে যাচ্ছে। সে জন্য আমি মনে করি, প্রাইমারিসহ শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে- ভৌত অবকাঠামোর উন্নতির পাশাপাশি মেধাবীদের শিক্ষক পেশায় আগ্রহী করে তোলা, তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া, পাঠ্যপুস্তকের মান আরও উন্নত করা, শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানো, তাদের বৃত্তির পাশাপাশি স্কুলে একবেলা আহারের ব্যবস্থা করা- এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে প্রচুরসংখ্যক শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ হবে, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার সংখ্যা কমবে এবং ভালো ফল নিয়ে তারা বের হতে পারবে। মানের বিষয়টি আমি বিবেচনা করি একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। কোনো একটি পরীক্ষায় এত সংখ্যক জিপিএ পেয়ে পাস করে বের হল বলে শিক্ষার মান বেড়ে গেছে বা কমে গেছে- এ বিষয়টি বিবেচনা না করে বরং সার্বিক মানের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। একেবারে প্রাইমারি থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত আমাদের মানকে আরও উন্নত করতে হবে। যাতে আমরা আমাদের শিক্ষাকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করতে পারি। সেটি যেদিন হবে সেদিন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক কম হলেও আমি সেটা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করব।
যুগান্তর : বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক শিক্ষার্থী পছন্দের বিষয়ে ভর্তি হতে পারছে না। এটা শিক্ষার্থীর পরবর্তী জীবনে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে?
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে একটি আসনের জন্য অনেক শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতা করে। ফলে প্রত্যেকে তার কাক্সিক্ষত আসনটি পায় না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সীমিতসংখ্যক আসনে লাখ লাখ শিক্ষার্থী ভর্তি হতে আসে। এ প্রতিযোগিতায় অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীও পিছিয়ে পড়ে। কাক্সিক্ষত বিষয়টি না পেয়ে অনেকে হতাশ হয়, অনেকে বিষয় বদল করে; শুনেছি অনেকে পড়াশোনাও ছেড়ে দেয়। কেউ কেউ হয়তো বিদেশেও চলে যায়, কেউ কেউ চাকরিতে যোগদান করে। এ সমস্যার সমাধান হল- যদি সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে সামগ্রিকভাবে মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায়, তাহলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর চাপ কমে যাবে।
প্রত্যেক শিক্ষার্থীর অধিকার আছে তার পছন্দের বিষয়ে পড়ার। দেশের যোগ্য প্রতিটি শিক্ষার্থীর মানসম্মত শিক্ষার ব্যবস্থা করার দায়িত্ব সরকারের। তাই শিক্ষার্থীরা যাতে তাদের কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জনে সফল হতে পারে সে ব্যাপারে সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে। দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে মানসম্মত করতে সরকার যথাযথ উদ্যোগ নিলে স্বাভাবিকভাবেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর শিক্ষার্থীদের চাপ কমবে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয় কলেজগুলোকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মানে উন্নীত করা গেলে উল্লিখিত সমস্যাগুলো স্বাভাবিকভাবেই সমাধান হয়ে যাবে। কাক্সিক্ষত বিষয়ে ভর্তি হতে না পারলে শিক্ষা-পরবর্তী জীবনে এর নেতিবাচক প্রভাবটা থেকে যায়। যে শিক্ষার্থীর বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন ছিল, তিনি কাক্সিক্ষত বিষয়ে ভর্তির সুযোগ না পেলে তার হতাশা থেকেই যাবে। কাজেই শিক্ষার্থীরা যাতে কাক্সিক্ষত বিষয়ে ভর্তির সুযোগ পান এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
যুগান্তর : আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারসহ বিভিন্ন অসৎ উপায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাইয়ে দিতে একটি চক্র তৎপর। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগও নিয়েছে। এসব প্রক্রিয়ার কথা শুনে স্বাভাবিকভাবেই অনেক শিক্ষার্থী হতাশ হয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতি আপনার কী উপদেশ?
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : ভর্তি পরীক্ষার সময় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারকারী বিভিন্ন চক্রের অপতৎপরতা বৃদ্ধির কারণ, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি ত্রুটিপূর্ণ। এমসিকিউ পদ্ধতি মেধা যাচাইয়ের কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা নয়। বিশ্বব্যাপী এ পদ্ধতি প্রচলিত থাকলেও এর সঙ্গে লিখিত পরীক্ষার বিষয়টিও সম্পর্কিত। লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর মেধা যাচাইয়ের বিষয়টি অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য। আমরা বহুদিন ধরে বলে আসছি, বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাদা ভর্তি পরীক্ষা না নিয়ে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা নেয়া হোক- যাতে গুচ্ছ পদ্ধতিতে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে একটি পরীক্ষা নেয়া হয়। সেখানে এমসিকিউ পদ্ধতির কিছু প্রশ্ন থাকলেও পাশাপাশি কিছু প্রশ্ন থাকা উচিত, যেগুলোর লিখিত উত্তর দিতে হবে। যেমন বিভিন্ন ভাষার সাহিত্য যারা পড়তে ইচ্ছুক, তাদের ভাষা বিষয়ে বিশেষ দক্ষতা দেখাতে হবে। যারা বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে ভর্তি হতে ইচ্ছুক, তাদের গণিতে দক্ষতা দেখাতে হবে। শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের লিখিত জবাব দিতে হলে অসৎ উপায় অবলম্বনকারীরা সেখানে ভূমিকা রাখতে পারবে না। কাজেই তখন ওই চক্রগুলো স্বাভাবিকভাবেই নিষ্ক্রিয় হবে।
অসৎ চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি আইনশৃংখলা রক্ষায় যারা কাজ করেন তাদের এখতিয়ারভুক্ত। আমি মনে করি, সরকারকে এ ব্যাপারে কঠোর হতে হবে। অসৎ চক্রের সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিলে অন্যরা নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। অসৎ উপায় অবলম্বন করে কোনো কোনো শিক্ষার্থী ভালো ফল অর্জন করলে অন্য শিক্ষার্থীরা হতাশ হবে- এটাই স্বাভাবিক। একজন শিক্ষার্থী সৎভাবে পরীক্ষা দিল, অন্য একজন অসৎ উপায় অবলম্বন করে হয়তো অনেক ভালো ফল অর্জন করল; এ ক্ষেত্রে যে শিক্ষার্থী সৎভাবে পরীক্ষা দিচ্ছে তার জন্য এটি চাপ সৃষ্টি করবে, হতাশা সৃষ্টি করবে। এ বিষয়ে অভিভাবকদের প্রতি আমার অনুরোধ, আপনারা কোনোভাবেই আপনাদের সন্তানকে অসাধু চক্রের হাতে তুলে দেবেন না। কারণ আপনার সন্তান অসাধু পন্থা অবলম্বন করে যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়, তাহলে সারা জীবন সে অসাধু পন্থা অবলম্বনের চেষ্টা করবে। এ ব্যাপারে শিক্ষার্থীদেরও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে এবং সতর্ক থাকতে হবে। কোনো অসৎ চক্র ধারে-কাছে এলে এদের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে অবহিত করতে হবে।
যুগান্তর : বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নিয়ে অনেক সমালোচনা আছে। আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও তো আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে পিছিয়ে?
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : শিক্ষার্থীরা পছন্দের বিষয়ে ভর্তির সুযোগ না পাওয়ার বিষয়টি আমাদের দেশে নতুন নয়। এ চাহিদা বা শূন্যতা পূরণের লক্ষ্য থেকেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সৃষ্টি। অন্য কথায় বললে উল্লিখিত সমস্যার সমাধানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশেষ অবদান রাখছে। একসময় প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পড়তে যেতেন। এ প্রক্রিয়ায় আমাদের দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিভিন্ন দেশে চলে যেত। যারা বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যেতেন, তারা যে বিশ্বমানের শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পেতেন তা নয়। কারণ তারা যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ পেতেন সেসবের অনেক প্রতিষ্ঠানই খুব মানসম্পন্ন ছিল না। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ফলে দেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বিস্তৃত হয়েছে। উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গমনের হার অনেক কমেছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ফলে পছন্দের বিষয়ে পড়ার সুযোগও বেড়েছে। কিন্তু লক্ষ্য করার বিষয় হল, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়েই শিক্ষার্থীদের যত্নসহ পড়ালেখা করানো হয় এবং শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু বৃত্তির ব্যবস্থাও আছে। বেশিরভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাণিজ্যিক প্রবণতাই বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায়। ফলে সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে কাক্সিক্ষত মান রক্ষা করা সম্ভব হয় না। অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আমরা শুনতে পাই। কোনো কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগও শুনতে পাই। সেসব ব্যাপারে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। যে প্রতিজ্ঞা ও প্রত্যয়ের কথা বলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, সেই প্রতিজ্ঞা অক্ষরে অক্ষরে পালনের ব্যাপারে তাদের সচেষ্ট হতে হবে।
আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে পিছিয়ে পড়ার অনেক কারণ রয়েছে। অনেক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আন্তর্জাতিক র্যাংকিং করা হয়। শিক্ষকদের যোগ্যতা থেকে শুরু করে শিক্ষাদানের পদ্ধতি, পরীক্ষা গ্রহণের পদ্ধতি, স্বচ্ছতার প্রশ্ন, শ্রেণীকক্ষের সুযোগ-সুবিধা- এরকম অনেক কিছু আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেয়া হয়। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অবকাঠামোগত অনেক সমস্যা রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরলেই দেখা যাবে শ্রেণীকক্ষগুলো একেবারেই দুর্দশাগ্রস্ত। আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলছি, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বিভাগেই ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে শ্রেণীকক্ষে প্রযুক্তির ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন-ভাতা এতই কম যে, অনেকে বাধ্য হয়ে বাইরে খণ্ডকালীন চাকরি করতে চান, কেউ কেউ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। ফলে শিক্ষকরা যে পুরোপুরি নিজেদের উজাড় করে শ্রেণীকক্ষে পাঠ দেবেন, সেটিও সম্ভব হয় না।
আমি মনে করি আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র্যাংকিং উন্নতির জন্য আমাদের একটি সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণ করা প্রয়োজন। আমি যে শিক্ষা বিনিয়োগের কথা বলছি- সে বিনিয়োগটা এখানেও আসতে হবে। প্রাথমিক পর্যায় থেকে শিক্ষার্থীদের মান বাড়াতে হবে। শিক্ষাদান পদ্ধতির মান বাড়াতে হবে। পাঠ্যপুস্তকের মান বাড়াতে হবে। তারপর শিক্ষার্থীরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসবে, তখন তারা যাতে পছন্দের বিষয়ে ভর্তির পর্যাপ্ত সুযোগ পায়, সেখানে যেন আন্তর্জাতিক মানের পাঠ্যক্রম অনুসরণ করা হয়, গ্রন্থাগারে পর্যাপ্ত বই থাকে, বৃত্তির ব্যবস্থা থাকে, আবাসন ব্যবস্থা উন্নত হয়, শিক্ষকদের জীবনমান উন্নত হয়- এ বিষয়গুলোর প্রতি যদি সঠিকভাবে নজর দেয়া হয় তাহলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের হারিয়ে যাওয়া গৌরব পুনরুদ্ধার করা খুব একটা কঠিন হবে না।
যুগান্তর : অনেক শিক্ষিত ব্যক্তির ক্ষেত্রেও বাংলা ভাষার জ্ঞানে অনেক সীমাবদ্ধতা লক্ষ্য করা যায়। বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : কোনো শিক্ষিত ব্যক্তির মাতৃভাষায় সীমাবদ্ধতার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমাদের বিভাগে (ইংরেজিতে) যারা প্রথমবর্ষে ভর্তি হয় তাদের ইংরেজির মান ক্রমে কমছে, এটা আমি স্বয়ং পরীক্ষা করে দেখেছি। তাদের বাংলা ভাষায় দখলের মানও কমছে, ভয়ানকভাবে কমছে। একসময় (সত্তরের দশকে) বিএ (পাস) পরীক্ষা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হতো- এখন যা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়- তখন বিএ (পাস) শ্রেণীতে ইংরেজি বাধ্যতামূলক ছিল। তখন বিএ (পাস) পরীক্ষায় পাসের হার ছিল প্রায় ১৫ শতাংশ। ওই সময়ের ফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যারা ইংরেজিতে পাস করতে সক্ষম হতেন তারাই বিএ (পাস) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতেন বলে ধরে নেয়া হতো। বিএ (পাস) শ্রেণীর সিলেবাসে ইংরেজিকে যখন ঐচ্ছিক বিষয় করা হল তখনও পাসের হার ওই ১৪ বা ১৫ শতাংশই রয়ে গেল। তখন দেখা গেল আবশ্যকীয় বাংলাতেই ১৫ শতাংশ পাস করছেন। এখন বাংলায় পাস করলেই বিএ (পাস) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া নিশ্চিত বলে ধরে নেয়া হয়। বাংলায় পাসের হার এত কম হওয়ার অন্যতম কারণ বাংলার প্রতি শিক্ষার্থীদের উদাসীনতা। অনেকে মনে করেন, বাংলা তো মাতৃভাষা, এর প্রতি বাড়তি মনোযোগ দেয়ার কী আছে? যারা এমনটি মনে করেন, যথাযথ প্রস্তুতি না নিয়ে পরীক্ষা দেন, তারাই অকৃতকার্য হন। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবার মনে রাখা দরকার- যে কোনো ভাষা শেখার একটা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি আছে, সে বিষয়গুলোর প্রতি অবহেলার ফলেই অনেক শিক্ষিত ব্যক্তিও সাধারণ বাংলা শব্দের বানানও ভুল করেন।
আমি মনে করি, মাতৃভাষার প্রতি যে দুর্বলতা এটি সাময়িক একটি অবস্থা। আমি নিশ্চিত, একটু চেষ্টা করলেই আমরা কেবল বানান কেন, মাতৃভাষায় সুন্দরভাবে নিজেকে প্রকাশ করা এবং লেখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারব। তার জন্য প্রয়োজন যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক এবং সেই শিক্ষক তৈরির জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত বিনিয়োগ। কাজেই আমি কোনো বিষয়কেই খণ্ডিতভাবে দেখব না। পুরো বিষয়টিকে সামগ্রিক দৃষ্টিতে দেখার চেষ্টা করব।
যুগান্তর : শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক মাঠ পর্যায়ের সমীক্ষার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এইচএসসি পর্যন্ত ঝরে পড়ছে ৯১ শতাংশ শিক্ষার্থী। এ অবস্থার উত্তরণে কী করণীয়?
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : এসএসসি, এইচএসসিসহ শিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার সমস্যা সহজেই সমাধান করা যায়। শিক্ষার প্রাথমিক পর্যায় থেকে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রচুর বৃত্তির ব্যবস্থা করা গেলে, শিক্ষার্থীদের একবেলা মানসম্মত খাবারের ব্যবস্থা করা গেলে, একই সঙ্গে মানসম্মত শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বাড়ানো হলে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম অনেক বেশি বিস্তৃত করা সম্ভব হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও বৈচিত্র্যপূর্ণ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখা সম্ভব হলে স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষার সামগ্রিক মান অনেক বেড়ে যাবে। পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি বিভিন্ন সুকুমার বৃত্তির চর্চা অব্যাহত থাকলে শ্রেণীকক্ষ আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। সরকার বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের বই প্রদান করছে। এটি প্রশংসনীয় একটি উদ্যোগ। এর পাশাপাশি শিক্ষার অন্যান্য উপকরণ বিনামূল্যে প্রদান করা সম্ভব হলে দরিদ্র অভিভাবকদের ওপর চাপ কমবে। ফলে তারা সন্তানদের শিক্ষামুখী করার বাড়তি আগ্রহ অনুভব করবেন।
যুগান্তর : বিজ্ঞানে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমছে। এতে আগামীতে দেশের সামগ্রিক অবস্থার ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে?
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : দেশের অনেক বিদ্যালয়েই বিজ্ঞান শিক্ষার আধুনিক উপকরণের অভাব রয়েছে, যোগ্যতাসম্পন্ন বিজ্ঞান শিক্ষকের অভাব রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বিজ্ঞান শিক্ষার ব্যাপারে মেয়েদের তেমন উৎসাহ প্রদান করা হয় না, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে বিজ্ঞান শিক্ষার ব্যাপারে মেয়েদের নিরুৎসাহিত করা হয়। ছেলেমেয়ে নির্বিশেষে সব শিক্ষার্থীকে শৈশব থেকে বিজ্ঞান শিক্ষায় আগ্রহী করতে হবে। স্কুলগুলোতে বিজ্ঞান শিক্ষার আধুনিক উপকরণ সরবরাহ করা হলে বিজ্ঞানের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়বে। বিজ্ঞানের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ যত বাড়ানো হবে শিক্ষার্থীর সংখ্যা তত বাড়বে। বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমলে স্বাভাবিকভাবেই দেশে বিজ্ঞানীর সংখ্যাও কমে যাবে। দেশে বিজ্ঞানীর সংখ্যা কমলে সামান্য প্রযুক্তির জন্য বিদেশের ওপর নির্ভরশীল হতে হবে। বিজ্ঞানীর সংখ্যা কমে গেলে দেশের উন্নয়ন ব্যাহত হওয়ার আশংকা দেখা দেবে।
যুগান্তর : শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের যে গতি লক্ষ্য কার যাচ্ছে এ ব্যাপারে আপনার মূল্যায়ন কী?
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের গতি আরও বাড়াতে হবে। শিক্ষানীতিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংযুক্ত করা হয়েছে। আমি একটি বিষয়ের উল্লেখ করতে চাই। যেমন- প্রাথমিক বিদ্যালয়কে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত উন্নীত করা এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত উন্নীত করার কাজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই বছরের কলেজ শিক্ষার জন্য যে ব্যয় হয়, তা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিনিয়োগ করলে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভৌত কাঠামোর উন্নয়ন ঘটবে। এ ধরনের আনুষ্ঠানিক কিছু বিষয় দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষার কাক্সিক্ষত পরিবেশ সৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়বে।
যুগান্তর : উন্নত দেশগুলোতে একাধিক বিদেশী ভাষা শেখার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। আমাদের দেশে ভাষা শেখার এ প্রবণতা অনুপস্থিত কেন? বিদেশী ভাষা শেখার ক্ষেত্রে কী করণীয়?
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : উন্নত অনেক দেশেই একাধিক ভাষা শিক্ষা দেয়া হয়। এমনকি ভারত, শ্রীলংকায়ও দুটি ভাষা শেখার ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। বাংলা যেহেতু আমাদের মাতৃভাষা, তাই আমি চাই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার একেবারে শেষ পর্যায় পর্যন্ত বাংলা ভাষায় অধ্যয়নের সুযোগ তৈরি হোক। পাশাপাশি ইংরেজি ভাষা অত্যন্ত ভালোভাবে রপ্ত করা দরকার। কারণ বিশ্বের যোগাযোগের মাধ্যম এখন ইংরেজি। বিশ্বের বিজ্ঞান শিক্ষার মাধ্যম ইংরেজি। বিশ্বের ব্যবসা-বাণিজ্যের ভাষা এখন ইংরেজি। বিশ্বের যে কোনো উদ্যোগের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার অন্যতম মাধ্যম ইংরেজি। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের শুরুতেই ইংরেজি শেখার জন্য যথাযথ সুযোগ সৃষ্টি করা হলে তারা ইংরেজি ভালোভাবে রপ্ত করতে পারবে। যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক তৈরি করে তাদের অব্যাহত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বাড়ানো গেলে ইংরেজি ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে যে অরাজকতা রয়েছে সেটি দূর হবে। কোনো শিক্ষার্থী দুটি ভাষা ভালোভাবে রপ্ত করতে পারলে তার আÍবিশ্বাস বেড়ে যায়, নিজেকে প্রকাশ করার অনেক পথ তৈরি হয়। ফলে ওই শিক্ষার্থীর জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। অনেকে বিদেশের চাকরিতে সুবিধা পাওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন ভাষা আয়ত্ত করে থাকেন। এ বিষয়টিকে আমি তেমন গুরুত্ব দিতে চাই না। আমি গুরুত্ব দিতে চাই জ্ঞানের চর্চার পরিধি বৃদ্ধির জন্য কোন শিক্ষার্থী কয়টি বিদেশী ভাষা আয়ত্ত করছেন তার ওপর। কোনো শিক্ষার্থী বা কোনো ব্যক্তি যদি অনেক ভাষায় দক্ষতা অর্জন করতে পারেন তাহলে ওই ব্যক্তির মুঠোয় বিশ্ব চলে আসে।
যুগান্তর : মঙ্গলগ্রহে ভারতের সফল অভিযান আমাদের জন্য কি কেবল একটি তথ্য? প্রতিবেশী দেশ হিসেবে মহাকাশ গবেষণায় আমাদের কী ধরনের প্রস্তুতি নেয়া দরকার?
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : ভারতের মঙ্গল অভিযানে বড় ধরনের সাফল্যের নেপথ্যে তাদের বড় ধরনের বিনিয়োগ রয়েছে। নেহেরু যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তখন থেকেই বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তাদের একটা বিশাল বিনিয়োগ আছে। কলকাতায় একটি সায়েন্স সিটি রয়েছে। আমাদের দেশে অন্য শহরে তো দূরের কথা, খোদ রাজধানীতেও সায়েন্স সিটি এখনও তৈরি হয়নি। ভারতে বিজ্ঞানীদের প্রচুর উৎসাহ প্রদান করা হয়। আমাদের দেশে তেমনটি লক্ষ্য করা যায় না। আমাদের যে একটি উপগ্রহ পাঠানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে, সেখানেও বিদেশী প্রযুক্তির প্রাধান্য। আমরা দেশীয় প্রযুক্তিতে উপগ্রহ তৈরি করে যেদিন তা উৎক্ষেপণ করতে পারব, সেদিনই আমি করতালি দিয়ে বিষয়টিকে অভিনন্দন জানাব। বিদেশী প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা যদি একটি উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করি, তাহলে বড় কোনো গৌরব হল বলে আমার মনে হয় না। মঙ্গলযান যা ভারত মহাকাশে পাঠিয়েছে তার পুরোটাই দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করেছেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা। এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে মঙ্গলের কক্ষপথে একটি নভোযান রেখেছে ভারত। মেধার দিক থেকে আমরা যে খুব পিছিয়ে আছি তা নয়। কিন্তু আমাদের শিক্ষা ক্ষেত্রে তেমন বিনিয়োগ হচ্ছে না, অথচ ভারত শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রচুর বিনিয়োগ করছে। আমি সব সময় মনে করি আমরা যদি জিডিপির ৬ শতাংশ বা বাজেটের ২৫ শতাংশ শিক্ষায় বিনিয়োগ করতাম, তাহলে বিজ্ঞান শিক্ষায় এমন অগ্রগতি দৃশ্যমান হতো যে, এক প্রজন্ম পরে আমাদের বিজ্ঞানীরাই নিজের ল্যাবরেটরিতে এ ধরনের উপগ্রহ তৈরি করে পৃথিবীর বা অন্য যে কোনো গ্রহের কক্ষপথে তা উৎক্ষেপণ করার যোগ্যতা অর্জন করতে পারতেন। এ ক্ষেত্রে তাত্ত্বিক গবেষণার প্রয়োজন, প্রায়োগিক গবেষণাও প্রয়োজন। সব ধরনের গবেষণাকেই বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
যুগান্তর : প্রতিবছর দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ যাতে গবেষণার জন্য বিদেশে যেতে পারে সেজন্য কী করণীয়?
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : প্রতিবছর প্রচুর শিক্ষার্থী নিজেদের চেষ্টায় বিদেশে অধ্যয়ন করতে যাচ্ছে, সেখানে সরকার খুব বেশি সাহায্য করছে না। আমার মনে হয়, সরকার প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করে তরুণদের প্রশিক্ষিত করে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করলে এর মাধ্যমে দেশ বিশেষভাবে উপকৃত হতো। বিদেশে অবস্থানরত অনেক তরুণ তাদের শিক্ষা-প্রশিক্ষণ-গবেষণা শেষে দেশে ফিরতে আগ্রহী। এটি অত্যন্ত ভালো একটি প্রবণতা। তরুণদের আরও উৎসাহিত করার জন্য সরকারের উচিত হবে এসব তরুণকে দেশে ফিরিয়ে এনে যোগ্যতা অনুযায়ী তাদের চাকরির ব্যবস্থা করা। একই সঙ্গে আরও প্রচুরসংখ্যক তরুণকে বিদেশে গিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ করে দিয়ে প্রশিক্ষণ শেষে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনাও সরকারের দায়িত্ব। শিক্ষা ক্ষেত্রে বড় অংকের বিনিয়োগ করা হলে উল্লিখিত কাজগুলো সহজেই সম্পন্ন করা সম্ভব।
যুগান্তর : অনেকে বলেন, শিশুদের ওপর বাড়তি বোঝা চাপানো হচ্ছে? তাদের যদি যোগ্য করে তোলা না হয়, তাহলে তারা আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করবে কী করে?
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : শিশুদের ওপর পাঠ্যক্রমের বড় বোঝা চাপিয়ে দেয়া কোনোক্রমেই উচিত নয়। আমি মনে করি, প্রাথমিকের শিক্ষা হতে হবে অত্যন্ত আনন্দদায়ক, শিক্ষা হবে জীবন কুশলতা শেখার সমান্তরাল একটি বিষয়। শিশুদের বেশি বিষয় পড়ানোর প্রয়োজন নেই। আমার মনে হয়, তাদের প্রধানত গণিত ও ভাষা এ দুই বিষয়ে শিক্ষা দেয়া উচিত। গণিত ও ভাষায় যদি একটি শিশু সুশিক্ষিত হতে পারে, তাহলে তার নিজেকে প্রকাশ করার সব রাস্তা খুলে যাবে, তার মেধা শক্তিশালী হবে। প্রতিটি মানব শিশুই মেধাবী হিসেবেই জন্ম নেয়। তার মেধার অপচয় হয় বা মেধাকে আমরা কাজে লাগাতে পারি না বলেই কোনো কোনো শিশু তার মেধার প্রকাশ ঘটাতে পারে না। আমরা যদি প্রাথমিকে আনন্দঘন পরিবেশে পাঠদান শুরু করি- যেখানে শিক্ষার পাশাপাশি অন্যান্য কার্যক্রম যেমন শিশুরা গান শিখতে পারবে, অভিনয় শিখতে পারবে, সুন্দর খেলার মাঠ থাকবে, সেখানে
শিশুরা খেলাধুলা করতে পারবে- যদি এরকম আনন্দঘন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারি, তাহলে শিশুদের ওপর পাঠ্যক্রমের বোঝা চাপানোর প্রয়োজন নেই। বছরের নয় মাস তারা শিক্ষা গ্রহণ করবে; তারা শুরু থেকেই শিখবে ভাষা ও গণিত; তারপর দেখা যাবে সমাজ, বিজ্ঞান, ভূগোল, ইতিহাস- এসব বিষয় স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় তাদের আয়ত্তে চলে আসবে। যে শিশু গণিত আর ভাষা জানে, তার যে কোনো গ্রন্থ আয়ত্তে আনা কঠিন কিছু নয়। সে চিন্তাও করতে শিখবে, নিজেকে প্রকাশ করতেও শিখবে।
যুগান্তর : দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাত্ত্বিক বা প্রায়োগিক কোন ধরনের শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দেয়া উচিত?
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : সব ধরনের প্রায়োগিক শিক্ষার প্রতি আমাদের গুরুত্ব দেয়া উচিত। আমাদের একটা ধারণা আছে, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ বোধহয় খুব উচ্চ ধরনের শিক্ষা নয়। বিদেশে এমনটি লক্ষ্য করা যায় না। আমাদের এখানে লক্ষ্য করা যায়, যিনি তাঁত শিল্পে দক্ষতা অর্জন করলেন বা ওয়েল্ডিং শিখলেন তার তুলনায় যিনি দর্শন বা সাহিত্যের কোনো বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করলেন তাকে অনেক বেশি মূল্যবান বিবেচনা করা হয়। আমি মনে করি, সব বিষয়ের শিক্ষাকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। যে কোনো বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ নিয়ে যে কেউ দেশের জন্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। বৃত্তিমূলক পেশার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হলে সাহিত্যের কোনো বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারীও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নিজেকে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবেন।
প্রযুক্তিনির্ভর বিজ্ঞানে গুরুত্ব বাড়ানো উচিত। আমাদের দেশে প্রচুর ডাক্তার প্রয়োজন, নার্সের প্রয়োজন। আমাদের দেশে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে বিএসসি ডিগ্রিধারী ইঞ্জিনিয়ারদের একটি দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। এই বৈষম্য দূর করা গেলে, বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রতি নেতিবাচক ধারণা দূর করা গেলে প্রতিটি বিষয়েই বৃত্তিমূলক শিক্ষায় আগ্রহ বাড়বে। তবে তাত্ত্বিক শিক্ষা ও গবেষণায় অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক এ দুই শিক্ষার সমন্বয় সাধন করতে হবে।
যুগান্তর : আপনাকে ধন্যবাদ
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : ধন্যবাদ।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1429)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
November
(2026)
-
▼
Nov 02
(48)
- কর নিতে হলে রাষ্ট্রকে সেবাও দিতে হবে by প্রতীক বর্ধন
- বিজিবির দপ্তর নির্মাণ- আদিবাসীদের জমি ও শ্মশানভূমি...
- জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও ‘পরিত্যক্ত’ গণজাগরণ মঞ...
- আমরা কোন পথে এগোচ্ছি? by সজল চৌধুরী
- পাগলাঘণ্টি বেজেই চলেছে, শুনতে কি পাও? by ফারুক ওয়াসিফ
- প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে কিছু কথা by আমিরুল আলম খান
- বৌদ্ধদের ধর্মীয়, সামাজিক কুসংস্কার ও লৌকিক আচার-অ...
- নিজামীর মৃত্যুদণ্ডের রায়ে পাকিস্তানের উদ্বেগ
- দুবাই বিজয়ী প্রধানমন্ত্রী by ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
- জাতির বিভক্তি ও বিভাজকদের শক্তি by মিনার রশীদ
- সরকারকে সঠিক পথে চলতে সাহায্য করে প্রতিবাদ by মোহা...
- পিয়াস করিম এবং রাজনৈতিক নীচতা by ড. আবদুল লতিফ মাসুম
- স্মরণ- মুহাম্মদ শামসুর রহমান by সরদার হাসান জামান
- সৌন্দর্যবর্ধনের পরও এমন দশা! by মতিউর রহমান
- মা-মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু
- সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য by ড. একেএম শাহনাওয়াজ
- বিমান কি এভাবেই চলবে?
- ব্যক্তির চেয়ে নাগরিক সম্প্রদায় বড় by ইকতেদার আহমেদ
- সব স্তরেই শিক্ষার মান বাড়াতে হবে -সৈয়দ মনজুরুল ইসল...
- কু-ঝিক-ঝিক রেলগাড়ি বাতাসে উড়ে বন্ধুর শাড়ি... by মো...
- বিনিয়োগ বাড়লে প্রবৃদ্ধিও বাড়বে by ড. আর এম দেবনাথ
- বুরকিনা ফাসোতে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব
- অবর্ণনীয় দুর্ভোগ- মধ্যরাতে কাটল আঁধার
- মহাকাশ পর্যটনের স্বপ্নে ধাক্কা
- কিমের নির্দেশ
- ড. ইউনূসের পারিবারিক প্রতিষ্ঠানকে গ্রামীণ ব্যাংকের...
- ভয়াবহতম বিদ্যুৎ বিপর্যয় by আশরাফুল ইসলাম
- শেখ হাসিনা নব্য হিটলার আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসী দল -না...
- বিদেশী মিডিয়ায় বাংলাদেশের ‘অন্ধকারের’ খবর
- বৃহস্পতিবারও জামায়াতের হরতাল বুধবার বিক্ষোভ
- ‘দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতি নেই’ -বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী
- মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ড
- বুরকিনা ফাসোয় ক্ষমতার লড়াই
- হাসপাতালে ভুতুড়ে অবস্থা
- ব্ল্যাকআউট- স্মরণকালের ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়
- স্ত্রীকে অচেতন করে মেয়েকে ধর্ষণ
- চুলকোলেও চুলকোবেন না
- বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের দায় নিলো না দিল্লি
- রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেয়ার আহ্বান -জাতিসঙ্ঘের খসড়...
- পুলিশের অপহরণ বাণিজ্য- বর্ষার প্রেমের ফাঁদ by নুরু...
- বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের নেপথ্যে-
- আমরা বার বার কেন হারছি : রাহুল
- ভারত-বাংলাদেশ লাইনকে দূরে রাখার চেষ্টা কেন?
- বিএসইসি ভবনে নিজ অফিসে আগুনে ঘটনায় থানায় জিডি করেছ...
- তরুণীর অশ্লীল ফুটেজ জৈন্তাপুরে তোলপাড়
- স্বাধীনতার ঘোষণা আবার জাতীয় ঐক্যের দলিল হোক by ফরহ...
- ভিন্নমতের সঙ্গে শহীদ মিনারের কী সম্পর্ক? by মোঃ মা...
- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল স্বচ্ছ নয়: টবি ক্যা...
-
▼
Nov 02
(48)
-
▼
November
(2026)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ইরান
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
কালবেলা
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
রাশিয়া
মুক্তিযুদ্ধ
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
হিন্দু
রুদ্র মিজান
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
স্বাস্থ্য
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
শুভ্র দেব
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
জীবনযাপন
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কলকাতা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
মসজিদ
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ইয়েমেন
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
Exclusive
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
জনস্বাস্থ্য
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
জোহরান মামদানি
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
ইহুদি
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
বেলজিয়াম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
জর্দান
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
আহমেদ মুনির
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment