নরসিংদীর মেয়র পদে লড়বেন লোকমান পরিবারের সদস্য-আ'লীগে বিদ্রোহের আশঙ্কা, বর্জনের চিন্তা বিএনপিতে by শাহেদ চৌধুরী

রসিংদী পৌরসভায় মেয়র পদে লড়বেন সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত জনপ্রিয় মেয়র আলহাজ লোকমান হোসেনের পত্নী কিংবা ছোট ভাই। এই দু'জনের মধ্যে কে নির্বাচনে প্রার্থী হবেন_ তা আজ বৃহস্পতিবার নির্ধারণ করা হবে। প্রয়াত মেয়রের শোকাহত মা মজিদা খাতুন তার পরিবারের পক্ষ থেকে মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবেন। এদিকে মেয়র প্রার্থিতা বাছাই নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগে মনস্তাত্তি্বক লড়াই শুরু হয়েছে। আলহাজ লোকমান


হোসেন হত্যা মামলা নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন নেতাকর্মীরা। এই অবস্থায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন রয়েছে। এ নিয়ে নতুন করে বিদ্রোহের আশঙ্কাও করছেন কেউ কেউ।
স্থানীয় বিএনপি এই নির্বাচন নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখন পর্যন্ত কোনো আলোচনা করেনি। আগামী ১৭ ডিসেম্বরের পর তারা বৈঠকে বসে দলীয় সিদ্ধান্ত নেবে। তবে কেন্দ্রীয় এবং জেলা পর্যায়ের কয়েক নেতার সঙ্গে কথা বলে বোঝা গেছে, তারা এই নির্বাচনে লড়তে চাইছেন না। এ ক্ষেত্রে তারা নির্বাচন বর্জনের চিন্তাভাবনা করছেন।
আগামী ১৯ জানুয়ারি নরসিংদী পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে ইতিমধ্যে শহরে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে জনবন্ধু হিসেবে সমধিক খ্যাত নরসিংদী পৌরসভা উন্নয়নের রূপকার মেয়র লোকমান হোসেন পরিবারের কেউ প্রার্থী হচ্ছেন কি-না, সেটা জানার আগ্রহ কম বেশি সবার।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে লোকমান হোসেনের ছোট ভাই ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান কামরুল সমকালকে জানিয়েছেন, তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে মেয়র প্রার্থী হবে। আজ সকাল ১১টায় বাসাইলের বাসভবনে এই ঘোষণা দেবেন তার মা মজিদা খাতুন। এ জন্য লোকমান হোসেনের বন্ধু, মুরুবি্ব ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
লোকমান পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েক জন জানিয়েছেন, আলহাজ লোকমান হোসেনের পত্নী তামান্না নুসরাত বুবলি অথবা লোকমানের ছোট ভাই কামরুজ্জামান কামরুল মেয়র প্রার্থী হবেন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়নি। পরিবারের সদস্যরা গতকাল লোকমান হোসেনের চেহলাম উপলক্ষে শহরজুড়ে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন।
এ অবস্থায় নরসিংদী-১ আসনের আওয়ামী লীগ সাংসদ লে. কর্নেল (অব.) নজরুল ইসলাম হিরু বীরপ্রতীকের আত্মীয় আফজাল হোসেন মোল্লা এবং স্বতন্ত্র হিসেবে আমজাদ হোসেন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্টার ছেপে শহরবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন কেউ কেউ।
জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য আবুল হায়াত সরকার প্রার্থী হতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। তিনি নরসিংদী পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি শহরের দত্তপাড়ার বাসিন্দা। এই এলাকা থেকে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান প্রার্থী হতে পারেন। তিনি প্রার্থী না হলে জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান খোকন নির্বাচনে লড়বেন।
তবে প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগে এলোমেলো অবস্থা বিরাজ করছে। আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজি উদ্দিন আহমেদ রাজুর সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তিনি এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। তবে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট আসাদোজ্জামান যুৎসই প্রার্থী খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এ ক্ষেত্রে শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ লোকমান হোসেন পরিবারের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তাদের দৃষ্টিতে, মেয়র পদে নির্বাচনের বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর ও সংবেদনশীল। এই অবস্থায় নির্বাচন হলে সহানুভূতি ভোটে সহজেই নির্বাচনী বৈতরণী পেরিয়ে যাবেন লোকমান পরিবারের সদস্য মেয়র প্রার্থী।
অবশ্য এ ক্ষেত্রে স্থানীয় আওয়ামী লীগে কিছুটা দ্বিধাবিভক্তি আছে। বিশেষ করে লোকমান হত্যা মামলার প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে আছেন কেউ কেউ। এ কারণে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী নির্বাচনে লড়তে পারেন। সে ক্ষেত্রে দত্তপাড়া এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের একজন প্রার্থী হতে পারেন বলে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে।
বিএনপি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন থেকে মেয়র প্রার্থী সরিয়ে নিয়েছে। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন বর্জন করছে। বিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়েও অনীহা রয়েছে বিএনপির। এই অবস্থায় নরসিংদী মেয়র নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে বিএনপির সিদ্ধান্ত জানার অপেক্ষায় রয়েছে সবাই। অবশ্য এ নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় বিএনপিতে তেমন একটা সাড়া-শব্দ নেই। কোনো বৈঠকও হয়নি। নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকন বলেছেন, তারা এখনও নির্বাচন বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। তবে আগামী ১৭ ডিসেম্বরের পর কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার বলেছেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে দলীয় পর্যায়ে কোনো আলোচনা হয়নি। জেলা বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, নরসিংদীর নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতারা নানা কিছু বিচার-বিশ্লেষণ করছেন। এ ক্ষেত্রে তারা আওয়ামী লীগকে ওয়াকওভার দিয়ে রাজনৈতিকভাবে লাভবান হতে চাইছেন।