জয়ে ফেরার স্বপ্ন শ্রীলঙ্কানদের

ব্যাটসম্যানদের দিয়ে ওয়ানডে জেতা যায়, কিন্তু টেস্ট জিততে চাই বিশ্বমানের বোলার। কারণ, প্রতিপক্ষকে দুবার অল আউট করতে হবে তো! মুত্তিয়া মুরালিধরনের অবসরের পর থেকে এই সত্যিটা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে শ্রীলঙ্কা। গত দেড় বছরে খেলা ১১টি টেস্টের কোনোটাতেই যে আর জয়ের দেখা পায়নি তারা। তবে এবার সেই ধারা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী অধিনায়ক তিলকরত্নে দিলশান। পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজ থেকেই সেটা শুরু করতে চান তিনি।বিশ্ব-ক্রিকেট থেকে পাকিস্তানি ভেন্যুর নির্বাসন শুরু হয়েছিল এই শ্রীলঙ্কান দলেরই একটি সফর থেকে, ২০০৯ সালে লাহোরের মাঠে যাওয়ার পথে শ্রীলঙ্কান টিম বাসের ওপর আক্রমণের সূত্র ধরে।


সেই শ্রীলঙ্কার সঙ্গে আরেকটি হোম সিরিজ পাকিস্তানকে তাই খেলতে হচ্ছে 'নিরপেক্ষ' ভেন্যু সংযুক্ত আরব আমিরাতে। আগামী ১৮ অক্টোবর আবুধাবিতে শুরু হতে যাওয়া তিন টেস্টের সিরিজটাকেই টার্গেট করেছেন দিলশান। 'আশা করি এবার পরিস্থিতি বদল হবে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে ধৈর্য ধরে রাখা। দেখুন, আমাদের দলে বেশ কয়েকজন অনভিজ্ঞ বোলার, ওদের গড়ে ওঠার সময় তো দিতে হবে'_কলম্বোর একটি পত্রিকাকে বলেছেন দিলশান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তাঁর যুক্তি, 'ওই সিরিজে আমরা একটা টেস্টে হেরেছি, কিন্তু সেটায় উল্টো ফলও হতে পারত। বাকি দুটি টেস্টে আমার তো মনে হয় আমরা ভালোই খেলেছি।'
তিন টেস্টের ওই সিরিজে ০-১ ব্যবধানে হেরেছিল শ্রীলঙ্কা, তার আগে ইংল্যান্ড সফর থেকেও ফিরেছে একই ব্যবধানে হেরে। আর এসব হারের পেছনের কারণ খুঁজতে গিয়ে মুরালিধরনের অভাবটা ঠিকই অনুভব করেছেন শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক, 'মুরালি বা ভাসের মতো বোলাররা ১৫ বছর ধরে অসাধারণ অবদান রেখে গেছেন, ওদের হঠাৎ অবসরের পর দল তো দুর্বল হয়ে পড়বেই। এ রকম অবস্থায় কঠিন কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে ধৈর্য ধরতে হবে।'
কঠিন সিদ্ধান্ত বলতে শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক বুঝিয়েছেন নবীন বোলারদের নিজেদের প্রমাণের সুযোগ না দেওয়াকে। সে রকম একটা সুযোগ এ সিরিজে পাচ্ছেন তরুণ পেসার নুয়ান প্রদীপ, ইনজুরি কাটিয়ে যিনি দলে ফিরেছেন। সঙ্গে অফস্পিনার সুরাজ রনদীভ আর বাঁহাতি স্পিনার রঙ্গনা হেরাথদের নিয়ে গড়া শ্রীলঙ্কান বোলিং আক্রমণের সামনে তার পরও কঠিন চ্যালেঞ্জ, এ কথা মানছেন দিলশানও, 'আমার তো মনে হয় ওদের (পাকিস্তান) দলটা খুবই ব্যালান্সড। উইকেটগুলোও ব্যাটসম্যানদের অনুুকূল হবে, তাই ২০ উইকেট তুলে নেওয়া আমাদের জন্য বড় একটা চ্যালেঞ্জই হবে।' ওয়েবসাইট