Wednesday, February 4, 2015
সৌদি নেতৃত্বের নতুন বার্তা by মাসুম খলিলী
সৌদি নেতৃত্বের নতুন বার্তা by মাসুম খলিলী
Wednesday, February 04, 2015
Anonymous
আন্তর্জাতিক,
আলোচনা,
উপ-সম্পাদকীয়,
নয়া দিগন্ত,
মতামত,
মধ্যপ্রাচ্য

নতুন
বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রাসাদে ক্ষমতা সংহতকরণ
সম্পন্ন হয়েছে। সৌদি বাদশাহ তার বৈমাত্রেয় ভাই আবদুল্লাহর কাছ থেকে
উত্তরাধিকার গ্রহণের পর এ পর্যন্ত অনেক রাজকীয় ফরমান জারি করেছেন। এর
মাধ্যমে যেসব পরিবর্তন তিনি সম্পন্ন করেছেন তাতে সৌদি গন্তব্যে
গুরুত্বপূর্ণ বাঁক পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। নতুন বিন্যাসে সৌদি আরব
তুরস্ক ও কাতারের সাথে ঐতিহ্যগত বিশেষ আঞ্চলিক সম্পর্ক এবং ফিলিস্তিন
প্রশ্নে ফাতাহ ও হামাসের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকার দিকে ফিরে আসবে বলে
মনে হচ্ছে। নতুন সৌদি নেতৃত্বের কাছে মিসরের বিতর্কিত শাসক জেনারেল সিসি আর
ফাঁকা চেক পাবেন বলে মনে হচ্ছে না। যদিও তাকে এখনই পরিত্যাগ করা হবে এমন
ভাবনার কারণ হয়তো বা নেই।
তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন
মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামিস্ট দমনের অন্যতম নায়ক হিসেবে খ্যাত সাবেক সৌদি গোয়েন্দাপ্রধান প্রিন্স বন্দর বিন সুলতানের কাছ থেকে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধানের অতি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বটিও নিয়ে নেয়া হয়েছে। তিনি এখন আর বাদশাহর উপদেষ্টার পদেও নেই। কার্যত এর মাধ্যমে বন্দর বিন সুলতানের সব ধরনের ক্ষমতার অবসান ঘটল। একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র থেকে মুসলিম ব্রাদারহুডকে নির্মূল করার জন্য তিনি যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তারও ইতি ঘটছে বলে মনে হচ্ছে এ মুহূর্তে। এই দুঃস্বপ্ন বাস্তবায়নের আরেক নায়ক ছিলেন রয়েল কোর্টের সেক্রেটারি জেনারেল, বাদশাহ আবদুল্লাহর একান্ত সচিব ও নিয়োগ কমিটির প্রধান খালিদ আল তুয়াইজরি। রাজ পরিবারের কেউ না হয়েও আমেরিকা থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ ডিগ্রি নিয়ে আসা এ লোক বাদশাহ আবদুল্লাহর আমলে সর্বেসর্বা হয়ে উঠেছিলেন। আরব আমিরাতের ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স বিন জায়েদের সাথে যৌথ পরিকল্পনা নিয়ে মিসরে ড. মুরসির সরকারকে সরিয়ে সিসির নির্মম সেনা সরকার প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে তিনি মূল ভূমিকা নিয়েছিলেন বলে মনে করা হয়। সৌদি প্রশাসনের সর্বত্র থেকে ইসলামিস্টদের বিদায় করে লিবারেলিস্ট-সেকুলারিস্টদের বসানোর মূল কাজটিও করেন তিনি। বাদশাহ আবদুল্লাহর দাফন সম্পন্ন করার আগেই যে দু’টি কাজ বাদশাহ সালমান সম্পন্ন করেন তার মধ্যে একটি হলো মুকরিন বিন আবদুল আজিজকে ক্রাউন প্রিন্স ঘোষণা আর বাকি কাজটি হলো খালিদ আল তুয়াইজরিকে রয়েল কোর্টের সেক্রেটারি জেনারেলসহ রাষ্ট্রের সব পদ থেকে অপসারণ করা। অপসারণের পর কয়েক ঘণ্টা সময় দেয়া হয় তার কাগজপত্র নেয়ার জন্য। এর পর তাকে আর রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। সৌদি প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োজিত তার পরিবারের শতাধিক কর্মকর্তাকে তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এই পদক্ষেপ এ অঞ্চলের অস্থিরতা দূর করতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হয়।
রণশীল এবং উদার
সালমান দায়িত্ব নেয়ার পর সৌদি সমাজের ধর্মীয় প্রভাব শিথিল করার উদ্যোক্তা অনেককে বিদায় করার পাশাপাশি এসব পদে ঐতিহ্যবাদীদের নিয়োগ দান করা হয়েছে। একজন রণশীল ধর্মীয় নেতা সাদ আল-শেখরিকে বাদশাহ সালমান ব্যক্তিগত উপদেষ্টা করেছেন। তিনি অবশ্য ভারসাম্য রাখার জন্য আল আরাবিয়া সংবাদ চ্যানেলের সাবেক প্রধান উদারপন্থী তরুণ আদেল আল-তোরাইফিকে নতুন তথ্যমন্ত্রী করেছেন। ক্ষমতার নতুন বিন্যাসে ক্ষমতাধর হিসেবে নতুন দু’জনের আবির্ভাব হয়েছে। তারা হলেন নবনিযুক্ত ক্রাউন প্রিন্স স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মোহাম্মদ বিন নায়েফ এবং নবনিযুক্ত প্রতিরামন্ত্রী, রয়েল কোর্টের জেনারেল সেক্রেটারি এবং একটি নবগঠিত মন্ত্রিসভা কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন সালমান। বাদশাহর অপর ছেলে আবদুল আজিজ পেট্রোলিয়াম উপমন্ত্রী হয়েছেন। নতুন বিন্যাসে সৌদি আরবে ধর্মীয় নেতৃত্বের ঐতিহ্যবাহী সুদাইরি পরিবারের সন্তানদের আবারো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনা হয়েছে। আবদুল্লাহর সময় তাদের অনেকে ছিটকে পড়েছিলেন। তবে পারিবারিক ভারসাম্যকে সালমান সমুন্নত রেখেছেন। তার নতুন পদক্ষেপের মধ্যে অন্যতম হলো আবদুল্লাহর দুই ছেলে প্রিন্স মিশালকে রাজধানী রিয়াদের এবং প্রিন্স তুর্কিকে মক্কার গভর্নর পদ থেকে বিদায় করা। কিন্তু আবদুল্লাহর অপর ছেলে মুতায়েবকে ন্যাশনাল গার্ড প্রধান হিসেবে বহাল রাখা হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পদে আবদুল্লাহর অন্য এক ছেলেও বহাল রয়েছেন। নতুন ক্রাউন প্রিন্স মুকরিনের দুই ছেলেকেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আবদুল্লাহর রাজত্বের শেষ বছরে রাজকীয় নিয়োগে ক্রাউন প্রিন্সের সাথে পরামর্শ না করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে প্রিন্স মুতায়েব ও খালেদ তুয়াইজরির সাথে পরামর্শ করে। এসব নিয়োগের বেশির ভাগ এখন বাতিল হয়ে গেছে। বাদশাহ সালমান তার রাজত্বের সূচনা করেছেন জনগণের ভালোবাসা জয় করার প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে। তিনি রাষ্ট্রের সব কর্মচারীর জন্য দুই মাসের বেতন সমান বোনাস এবং সব অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর জন্য দুই মাস বোনাস পেনশন ঘোষণা করেছেন। বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্ররাও দুই মাস সমান অতিরিক্ত তহবিল পাবেন। এ জন্য ব্যয় হবে তিন হাজার কোটি ডলারের মতো। তেলের দাম কমে যাওয়ার জন্য আবদুল্লাহ যেখানে সরকারের খরচ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন, সেখানে নতুন বাদশাহ জনগণকে বিশেষ সুবিধা দিতে বিপুল তহবিল ব্যয় করছেন।
কৌশলগত ভ্রান্তি
সৌদি আরবের মতাদর্শগত প্রবণতা নিয়ে এখন যে রেষারেষি ও বিরোধ চলছে, তা রণশীল সৌদি ব্যবস্থার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। দেশটি সাফল্যের সাথে জাতীয়তাবাদী, নাসেরবাদী ও বাথ পার্টির উত্থানপ্রবণতা মোকাবেলা করেছে। একই সাথে দেশটির বামপন্থী ও বিপ্লবী সরকারের সাথে ইন্টারেকশনের অভিজ্ঞতাও রয়েছে। সৌদি আরবের সাথে মুসলিম ব্রাদারহুডের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল দীর্ঘ দিন। সৌদি কৌশলের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল এটি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন কার্ড খেলেছে। কৌশলগত বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভালো খেলা কিভাবে খেলতে হয় তাতে দক্ষতা অর্জন করেছে। বিভিন্ন সঙ্কটে সৌদি আরব সুষম নীতি বজায় রাখা এবং একটি শূন্য সমষ্টি সমীকরণের মধ্যে স্খলন এড়াতে সম হয়েছে। কারো সাথে বিরোধ নিষ্পত্তি করেছে দক্ষতার সাথে আবার কারো সাথে সীমিত সঙ্ঘাতেও জড়িয়েছে। কিন্তু সব কিছু করা গেছে একধরনের ভারসাম্য বজায় রেখে এবং চূড়ান্ত কোনো লড়াইয়ে নিজে না জড়িয়ে। এভাবে দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে স্পর্শকাতর অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ প্লেয়ার হিসেবে থেকেছে। আর এ অবস্থান বজায় রাখতে সক্ষম হয় সঙ্ঘাত ও রেষারেষিতে চরমভাবে কোনো পক্ষ গ্রহণ না করে।
বাদশাহ আবদুল্লাহর পররাষ্ট্রনীতিতে শেষ দিকে এসে স্বাভাবিক এ সৌদি কৌশল থেকে বিচ্যুতি ঘটে। এ অঞ্চলের সাম্প্রতিক অস্থির পরিস্থিতিতে এর প্রভাবই দেখা যাচ্ছে। দেশটির প্রতিবেশী ইয়েমেনের রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে হুতিদের কাছে। ইরান নিয়ন্ত্রিত এই বিদ্রোহী মিলিশিয়াকে মোকাবেলা করার মতো সুন্নি শক্তির মধ্যে এখন কেবলই রয়েছে আলকায়েদা। ইরাকে সুন্নি ভুক্তভোগীরা নির্বিচার গণহত্যার কাছাকাছি এবং অপমানের প্রান্তসীমায় পৌঁছার পরও সেখানকার অবস্থাকে উপো করেছে সৌদি আরব। এর ফলে তাদের রক্ষার জন্য আবির্ভূত হতে দেখা গেল আইসিসকে। সৌদি হিসাব-নিকাশ ও ভীতির কারণে সিরিয়ার বিপ্লব সাফল্যের মুখ দেখেনি। আর এ শূন্যস্থান দখল করেছে আলকায়েদা ও আইএস। এর বাইরেও দেখা গেছে রিয়াদের ফোকাস বারবার যথাস্থান থেকে সরে গেছে অন্যত্র। এর ফলে লেবানন হয়ে পড়েছে হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রে। আরব বিশ্বে সবচেয়ে সুসংহত ব্লক হিসেবে চিহ্নিত উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) বিভক্তির মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। কাতারকে অবরুদ্ধ করে রাখার হুমকি দেয়া হয়েছে। ওমান ইরানের সাথে একটি কৌশলগত মৈত্রী গড়ে নিজেকে প্রত্যাহার করার হুমকি পর্যন্ত দিয়েছে।
মরহুম আবদুল্লাহর আমলে ফিলিস্তিন প্রশ্নেও সৌদি নীতি ছিল বিভিন্ন ত্রুটি, ব্যক্তিগত ধারণা ও মেজাজ মর্জিনির্ভর। মক্কায় ফিলিস্তিনি পুনর্মিলন সম্মেলন করার পর আবদুল্লাহ হামাসের সাথে একটি ব্যক্তিগত বিবাদে জড়িয়ে পড়ায় উদ্যোগটি ব্যর্থ হয়। ইসরাইলের গাজা যুদ্ধ এবং ইসরাইল-মিসরের অবরোধসংক্রান্ত ইস্যুতে সৌদি আরবের এক রকম নীরব অথবা ভুল পক্ষে অবস্থান ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলন ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। জেরুসালেম রার দাবি করে ইরান যেখানে সাফল্যের সাথে ফিলিস্তিন কার্ড ব্যবহার করতে পেরেছে, সেখানে মরহুম বাদশাহ নিজের তলোয়ার ভেঙে শত্রুর সুবিধা করে দিয়েছেন। ইসরাইল-মিসরের গাজা অবরোধে নীরব সমর্থন দিয়ে ইরানি প্রভাব বলয়ে ঠেলে দিয়েছে ফিলিস্তিনিদের। ইয়েমেনের ব্রাদারহুড হিসেবে পরিচিত আল ইসলাহকে দুর্বল করতে আরব আমিরাতের হুতির সাথে গোপন সমঝোতাকে এগোতে দেয়ায় সেখানে এখন শিয়া মিলিশিয়ার অগ্রগতি রুখতে কাউকে পাশে পাওয়া যাচ্ছে না। ক্রমবর্ধমান ইরানের প্রভাব মোকাবেলা করতে ইয়েমেন, ইরাক ও সিরিয়ার মধ্যপন্থী ইসলামি আন্দোলনের সহযোগিতার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বিদায়ী সৌদি শাসক সেই প্রয়োজন অনুভব করতে পারেননি। ফলে আইএস সৌদি সীমান্তে হানা দিলে নিজ দেশের অভ্যন্তরে যে রকম সাড়া পাওয়া উচিত ছিল সেটি পাওয়া যাচ্ছে না।
এটি অস্বীকার করার কোনো কারণ নেই যে, আরব জাগরণ সৌদি রাজপরিবারের ক্ষমতার সামনে চ্যালেঞ্জ সৃর্স্টি করেছিল। আর এ জাগরণে ব্রাদারহুড ভূমিকা রাখায় তাদের প্রতি সৌদি দৃষ্টিভঙ্গির পুনর্বিবেচনাও অস্বাভাবিক ছিল না। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ভারসাম্য বা মাত্রার যে বিষয়টি থাকা উচিত ছিল সেটি এমনভাবে উপেক্ষিত হয় যে, তা সৌদি রাষ্ট্রের নিরাপত্তার মূল ভিত্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। জনগণের বড় অংশের সাথে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে রাজপরিবারের। ইরানের ইসলামি বিপ্লবের পর আয়াতুল্লাহ খোমেনি বিপ্লব রফতানির কথা বললে দেশটির প্রভাব বিস্তারের পথে বাধা দিতে অনেক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে। এসব ক্ষেত্রে তাদের লক্ষ্য অর্জিতও হয়েছে। কিন্তু মধ্যপন্থী ইসলামি আন্দোলনকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে নির্মূল করার যে নীতির দিকে বাদশাহ আবদুল্লাহকে বন্দর-খালেদ চক্র ঠেলে দিয়েছে, তা সৌদি আরবের সার্বিক জনভিত্তিকে দুর্বল করেছে।
কাতার ও তুরস্কের সাথে দূরত্ব ঘুচবে
এরই মধ্যে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছেন তাতে আবদুল্লাহর নীতির সমালোচকেরা এখন নতুন বাদশাহর প্রশংসা করছেন। আবদুল্লাহ তার শাসনের শেষ বছরে অনেকটা বেপরোয়া ধরনের মনোভাব নিয়েছিলেন। সালমান চাচ্ছেন তার বড় ভাই বাদশাহ ফাহাদ আমলের সংযত মধ্যপন্থায় ফিরে যেতে। সেই সময় রাজপরিবার ইসলামপন্থী উদার নির্বিশেষে সবার সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছিল। নতুন বাদশাহ ধারাবাহিকতার ওপর জোর দিয়েছেন, কিন্তু তার মতার প্রথম সাত দিনে এমন কিছু হয়েছে যাতে এ পরিবর্তনের প্রভাব পড়ছে উল্লেখযোগ্যভাবে। রাজনীতির বাইরে ব্যক্তিগত সম্পর্ক অনেক ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। ফলে এখন দেখার ব্যাপার হলো বিদেশে কারা সালমান বা নায়েফের বন্ধু সেটি। বাদশাহ সালমানের ঘনিষ্ঠ হলেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ। সালমান বাদশাহ হওয়ার পর কাতারের ওপর বৃহৎ প্রতিবেশী সৌদি আরবের অবরোধ আরোপ বা জিসিসি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার যে হুমকি ছিল, তা এখন অতীতের বিষয়। একইভাবে মোহাম্মদ বিন নায়েফ হলেন সিনিয়র তুর্কি কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ফলে এ দুই দেশের টানাপড়েনেরও অবসান ঘটার সম্ভাবনাই বেশি। ২০১১ আরব বিপ্লবের পর তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে সৃষ্ট দূরত্ব নিরসন; ইরাক, ইয়েমেন, লেবানন ও সিরিয়ায় ইরানের প্রসারিত প্রভাব মোকাবেলার জন্যই প্রয়োজন তা নয়, একই সাথে তার প্রয়োজন নেতৃবৃন্দের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণেও। এই ফাটল খুব সম্ভবত জোড়া লেগে যাবে।
ব্রাদার নির্মূলে বন্ধুহীন বিন জায়েদ!
ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের জন্য যেমন সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটতে পারে তেমনিভাবে বৈরী সম্পর্কের কারণে অবনতিও ঘটতে পারে। একসময় বিন নায়েফের সাথে যারা ব্যক্তিগত শত্রুতা করেছিলেন এখন হয়তো তাদের মূল্য দেয়ার সময় এসেছে। মোহাম্মদ বিন নায়েফ এখনো ভুলে যাননি যে, আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স ও ব্রাদারহুড নির্মূল অভিযানের অন্যতম নায়ক মোহাম্মদ বিন জায়েদ ১২ বছর আগে রিচার্ড হাসের সাথে দুই ঘণ্টার কথোপকথনের সময় তখনকার সৌদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মোহাম্মদের বাবা নায়েফ সম্পর্কে বলতে গিয়ে উল্লেখ করেছিলেন, ‘তাকে দেখে মনে হয় বানর থেকে মানুষ হয়েছে বলে ডারউইনের যে তত্ত্ব, তা সঠিক ছিল’। আবুধাবির শাসকের সাথে নিষ্পত্তি করার মতো আরো স্কোর সম্প্রতি বিন নায়েফের ঝুলিতে জমা হয়েছে। আমিরাতের রাজকীয় আদালত নিয়ন্ত্রিত ইরেম নিউজ মোহাম্মদ বিন নায়েফকে ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মুখপত্রে বলা হয়েছে, ‘বাদশাহ আবদুল আজিজের বিশিষ্ট নাতিদের মধ্যে থেকে মোহাম্মদ বিন নায়েফের নির্বাচনপ্রক্রিয়া পর্যবেকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। সালমান এ নিয়োগের ব্যাপারে এলিজিয়েন্স কাউন্সিলের পরামর্শ নেননি।’ অথচ বাদশাহ আবদুল্লাহও এ ধরনের নিয়োগে পরামর্শ করেননি। বিন জায়েদ চাচ্ছিলেন আবদুল্লাহর ছেলে মুতায়েব ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স হোক। গোপন সৌদি তথ্যানুসারে আবদুল্লাহর আস্থাভাজন একান্ত সচিব খালিদ আল তুয়াইজরি মুতায়েবকে ডেপুটি যুবরাজ করতে পরিকল্পনা করেন। মিসরের সিসির অফিস ম্যানেজার আব্বাস কামিলের পাঠানো এক তথ্যেও মুতায়েব ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স হওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু এ বিষয়ে সালমানের ওপর অধিক চাপ প্রয়োগের আগেই বাদশাহ আবদুল্লাহ অসুস্থ হয়ে মারা যান। তুয়াইজরি, প্রিন্স বন্দর ও বিন জায়েদ এখন সময়ের অন্তরালে চলে গেছেন। এখন তাদের মধ্যে দু’জন অন্তত ক্ষমতা থেকে বিদায় নিয়ে অতীত হয়ে গেছেন। তৃতীয় জনের ভাগ্যে কী অপেক্ষা করছে, সেটি আগ্রহের সাথে অবলোকন করতে হবে। এর মাধ্যমে রিয়াদ থেকে কায়রো পর্যন্ত ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে যে চক্র ছিল, সেটিও ভেঙে গেল।
সিসি হারাতে পারেন ফাঁকা চেক
আবদুল্লাহর রাজত্বের সময় সৌদি রাজনীতিতে সবচেয়ে বেপরোয়া পপাত ছিল মিসর ইস্যুতে। হোসনি মুবারকের শাসন এবং তার সহযোগীদের পতনে যে বিপ্লবী জোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল, খালিদ আল তুয়াইজরির নেতৃত্বে একদল সেটিকে মুসলিম ব্রাদারহুডের সৃষ্টি সৌদি রাজতন্ত্রের সামনে অনেক বড় ঝুঁকি হিসেবে বাদশাহর সামনে তুলে ধরে। এতে আবদুল্লাহ প্রভাবিত হয়ে সৌদি আরবের আগের অবস্থান থেকে সরে এসে মুরসির সরকারকে উৎখাত করে মিসরে পাশবিক সামরিক সরকার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে আরব আমিরাত-ইসরাইল পরিকল্পনার সাথে জড়িয়ে পড়েন। এর ফলে মিসর সহিংসতা ও গোলযোগের দীর্ঘস্থায়ী ও গভীর ফাঁদে পরিণত হয়। আসল বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট হয়ে ওঠার আগেই সামরিক অভ্যুত্থানের সমর্থনে এভাবে ঝাঁপিয়ে পড়া ছিল আবদুল্লাহর জন্য ভয়ানক; বিশ্বের চোখের সামনে সামরিক জান্তা হাজার হাজার মিসরীয়ের রক্তসাগরে অবগাহনের পরও তাদের সমর্থন জানিয়ে যাওয়া ছিল তার জন্য আরো বেশি ভয়ানক। সিসি সরকারকে সমর্থন জোগানোর ধারণা আবদুল্লাহর মনে এত গভীরভাবে বদ্ধমূল করা হয়েছিল যে, তার পররাষ্ট্রনীতির শীর্ষ অগ্রাধিকার হয়ে ওঠে এটি। সিসির অনুরোধে আবদুল্লাহ তার জন্য এমন কিছু করেন, যাতে রাষ্ট্রের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিকভাবে বিদ্যমান সৌদি মর্যাদার বিষয় পর্যন্ত বিবেচনায় আনা হয়নি। সিসির জন্য আবদুল্লাহ কাতারের সাথে নিজ দেশকে প্রায় যুদ্ধের পর্যায়ে নিয়ে যান আর জিসিসিকে পৌঁছান বিপর্যয়ের প্রান্তসীমায়। এই সিসির সরকারের জন্য তুরস্কের সাথে সম্পর্কে বড় ফাটল সৃষ্টি করেন আবদুল্লাহ। তার পর বিস্ময়করভাবে ‘সন্ত্রাসী’ তালিকায় যোগ করেন মুসলিম ব্রাদারহুডের নাম। অথচ পশ্চিমা সরকারগুলোও এ পদক্ষেপ তাদের বিরুদ্ধে নেয়নি। মিসরের অভ্যুত্থানের পক্ষে বেপরোয়া অবস্থানে সৌদি আরব তার কৌশলগত প্রতিপক্ষ ইরানের বিরুদ্ধে খেলার মতো অনেক কার্ড নিজের হাতছাড়া করে। সৌদি নীতিতে অনুভূত প্রধান প্রতিপরে বিরুদ্ধে কৌশলগত জোট গড়ার স্বার্থে আঞ্চলিকভাবে প্রভাবশালী তুরস্কের সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখার যে প্রয়োজন ছিল, সেটি বিসর্জন দেয়া হয় কেবল সিসির জন্য।
সৌদি রাজপ্রসাাদে এরই মধ্যে যে পরিবর্তন ঘটেছে, তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। মিসরের প্রেসিডেন্ট আল সিসি ও আমিরাতের বিন জায়েদ আবদুল্লাহর দাফন অনুষ্ঠান থেকে দূরে ছিলেন। যে সময়ে সিসির জন্য সৌদি নগদ সহায়তা অনেক বেশি প্রয়োজন ছিল, তখন অধিক অস্থির হয়ে পড়েছে মিসরের পরিস্থিতি। সিনাইয়ে পূর্ণ স্কেলের সামরিক অভিযানের সাথে সারা দেশে বিক্ষোভ ক্রমবর্ধমান রূপ নিচ্ছে, যা কখনো শেষ হবে বলে মনে হচ্ছে না। মিসরীয় পাউন্ডের দাম এখন স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে কম। সিসির জন্য বিকল্প ক্রমেই সঙ্কীর্ণ হয়ে আসছে। এটি মিসরীয় সেনাবাহিনীর জন্য মোটেই সুখকর নয় যে রিয়াদে তাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক তুয়াইজরি হয়ে পড়েছেন কক্ষচ্যুত। এখন সালমান-নায়েফ মিসরকে যদি এই তহবিলের জোগান অব্যাহত না রাখার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে বিপর্যয় অনিবার্য হয়ে উঠবে সিসির জন্য। এ ছাড়া প্রতিশ্রুত ও বাস্তব সাহায্য অবমুক্তির মধ্যেও একটি ব্যবধান থেকে যেতে পারে।
ভারসাম্যে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ
বাদশাহ আবদুল্লাহর মৃত্যুতে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রনীতির জন্য ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার পুরনো নীতিতে প্রত্যাবর্তনের একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সম্ভবত বাদশাহ সালমান ও উপ-ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ সৌদি আরবকে সে দিকে নিতে চাচ্ছেন। তবে তার মানে এটি হবে না যে, সৌদি আরব মিসরে সিসির শাসনকে একবারে পরিত্যাগ করবে। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ব্রাদারহুডকে নিয়ে আসার একটি সমঝোতামূলক পদক্ষেপ সামনে হয়তো দেখা যেতে পারে। যার প্রয়োজনের কথা আল বারাদি তার সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন পরিস্থিতিতে সৌদি-তুরস্ক-কাতার সমঝোতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সিংহাসনে বাদশাহ সালমান আরোহণের পর সবার সাথে একটি ব্যাপক পুনর্মিলন ও আস্থা ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। এটি মধ্যপন্থী ইসলামি আন্দোলন এবং এরদোগান-তামিমের জন্য ভালো সুযোগ এনে দিতে পারে। এমনকি এটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্যে মিসরকে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সিসির জন্য সুযোগ সৃষ্টি করবে, যা তার জন্য একটি নিরাপদ প্রস্থানও নিশ্চিত করতে পারে। ব্রাদারহুডকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণারও পরিবর্তন হতে পারে। তিউনিসিয়ার আন নাহদা নেতা ড. রশিদ ঘানুশি আবদুল্লাহর মৃত্যুতে শোক জানাতে এলে সালমান নিজে তাকে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। ঘানুশি হলেন সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ ইসলামিস্ট (মুসলিম ব্রাদারহুড ঘরানার) নেতা, সৌদি আরবে যাকে এভাবে স্বাগত জানানো হলো। ওয়াক্ফ ও ইসলামিবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে সুলায়মান এবি আল-খাইলের নিয়োগও সৌদি নীতি পরিবর্তনের আরেকটি লক্ষণ হিসেবে মূল্যায়িত হচ্ছে। সৌদি আরবের গত সপ্তাহের রাজনৈতিক ভূমিকম্পের বিভিন্নমুখী পরোক্ষ ফলাফলও আসতে পারে। ব্রিটেনে ব্রাদারহুডের ব্যাপারে তদন্তকাজের সাথে জড়িত সিনিয়র ইউকে কর্মকর্তারা খুশি হবেন যে, তারা ব্রাদারহুডের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকার ব্যাপারে যে অনুসিদ্ধান্তে এসেছেন, তা প্রকাশ করতে পারবেন। ডেভিড ক্যামেরনের নির্দেশে স্যার জন জেনকিন্সের নেতৃত্বে পরিচালিত এ তদন্তের রিপোর্টটি সৌদি আরব ও আমিরাতের চাপে তারা এত দিন প্রকাশ করতে পারেননি। সালমান বাদশাহ হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার আগ পর্যন্ত এ দুই দেশের নেতৃত্ব মিসরের সন্ত্রাসবাদে ব্রাদারহুডের কোনো সম্পৃক্ততা না পাওয়া ‘ভুল’ সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করছিল। এর মাধ্যমে ব্রাদারহুড সন্ত্রাসের অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি পাচ্ছিল। রিয়াদের নতুন কর্তারা এমন ধরনের একটি উপসংহারকে এখন স্বাগত জানাতে পারেন।
তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন
মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামিস্ট দমনের অন্যতম নায়ক হিসেবে খ্যাত সাবেক সৌদি গোয়েন্দাপ্রধান প্রিন্স বন্দর বিন সুলতানের কাছ থেকে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধানের অতি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বটিও নিয়ে নেয়া হয়েছে। তিনি এখন আর বাদশাহর উপদেষ্টার পদেও নেই। কার্যত এর মাধ্যমে বন্দর বিন সুলতানের সব ধরনের ক্ষমতার অবসান ঘটল। একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র থেকে মুসলিম ব্রাদারহুডকে নির্মূল করার জন্য তিনি যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তারও ইতি ঘটছে বলে মনে হচ্ছে এ মুহূর্তে। এই দুঃস্বপ্ন বাস্তবায়নের আরেক নায়ক ছিলেন রয়েল কোর্টের সেক্রেটারি জেনারেল, বাদশাহ আবদুল্লাহর একান্ত সচিব ও নিয়োগ কমিটির প্রধান খালিদ আল তুয়াইজরি। রাজ পরিবারের কেউ না হয়েও আমেরিকা থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ ডিগ্রি নিয়ে আসা এ লোক বাদশাহ আবদুল্লাহর আমলে সর্বেসর্বা হয়ে উঠেছিলেন। আরব আমিরাতের ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স বিন জায়েদের সাথে যৌথ পরিকল্পনা নিয়ে মিসরে ড. মুরসির সরকারকে সরিয়ে সিসির নির্মম সেনা সরকার প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে তিনি মূল ভূমিকা নিয়েছিলেন বলে মনে করা হয়। সৌদি প্রশাসনের সর্বত্র থেকে ইসলামিস্টদের বিদায় করে লিবারেলিস্ট-সেকুলারিস্টদের বসানোর মূল কাজটিও করেন তিনি। বাদশাহ আবদুল্লাহর দাফন সম্পন্ন করার আগেই যে দু’টি কাজ বাদশাহ সালমান সম্পন্ন করেন তার মধ্যে একটি হলো মুকরিন বিন আবদুল আজিজকে ক্রাউন প্রিন্স ঘোষণা আর বাকি কাজটি হলো খালিদ আল তুয়াইজরিকে রয়েল কোর্টের সেক্রেটারি জেনারেলসহ রাষ্ট্রের সব পদ থেকে অপসারণ করা। অপসারণের পর কয়েক ঘণ্টা সময় দেয়া হয় তার কাগজপত্র নেয়ার জন্য। এর পর তাকে আর রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। সৌদি প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োজিত তার পরিবারের শতাধিক কর্মকর্তাকে তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এই পদক্ষেপ এ অঞ্চলের অস্থিরতা দূর করতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হয়।
রণশীল এবং উদার
সালমান দায়িত্ব নেয়ার পর সৌদি সমাজের ধর্মীয় প্রভাব শিথিল করার উদ্যোক্তা অনেককে বিদায় করার পাশাপাশি এসব পদে ঐতিহ্যবাদীদের নিয়োগ দান করা হয়েছে। একজন রণশীল ধর্মীয় নেতা সাদ আল-শেখরিকে বাদশাহ সালমান ব্যক্তিগত উপদেষ্টা করেছেন। তিনি অবশ্য ভারসাম্য রাখার জন্য আল আরাবিয়া সংবাদ চ্যানেলের সাবেক প্রধান উদারপন্থী তরুণ আদেল আল-তোরাইফিকে নতুন তথ্যমন্ত্রী করেছেন। ক্ষমতার নতুন বিন্যাসে ক্ষমতাধর হিসেবে নতুন দু’জনের আবির্ভাব হয়েছে। তারা হলেন নবনিযুক্ত ক্রাউন প্রিন্স স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মোহাম্মদ বিন নায়েফ এবং নবনিযুক্ত প্রতিরামন্ত্রী, রয়েল কোর্টের জেনারেল সেক্রেটারি এবং একটি নবগঠিত মন্ত্রিসভা কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন সালমান। বাদশাহর অপর ছেলে আবদুল আজিজ পেট্রোলিয়াম উপমন্ত্রী হয়েছেন। নতুন বিন্যাসে সৌদি আরবে ধর্মীয় নেতৃত্বের ঐতিহ্যবাহী সুদাইরি পরিবারের সন্তানদের আবারো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনা হয়েছে। আবদুল্লাহর সময় তাদের অনেকে ছিটকে পড়েছিলেন। তবে পারিবারিক ভারসাম্যকে সালমান সমুন্নত রেখেছেন। তার নতুন পদক্ষেপের মধ্যে অন্যতম হলো আবদুল্লাহর দুই ছেলে প্রিন্স মিশালকে রাজধানী রিয়াদের এবং প্রিন্স তুর্কিকে মক্কার গভর্নর পদ থেকে বিদায় করা। কিন্তু আবদুল্লাহর অপর ছেলে মুতায়েবকে ন্যাশনাল গার্ড প্রধান হিসেবে বহাল রাখা হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পদে আবদুল্লাহর অন্য এক ছেলেও বহাল রয়েছেন। নতুন ক্রাউন প্রিন্স মুকরিনের দুই ছেলেকেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আবদুল্লাহর রাজত্বের শেষ বছরে রাজকীয় নিয়োগে ক্রাউন প্রিন্সের সাথে পরামর্শ না করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে প্রিন্স মুতায়েব ও খালেদ তুয়াইজরির সাথে পরামর্শ করে। এসব নিয়োগের বেশির ভাগ এখন বাতিল হয়ে গেছে। বাদশাহ সালমান তার রাজত্বের সূচনা করেছেন জনগণের ভালোবাসা জয় করার প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে। তিনি রাষ্ট্রের সব কর্মচারীর জন্য দুই মাসের বেতন সমান বোনাস এবং সব অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর জন্য দুই মাস বোনাস পেনশন ঘোষণা করেছেন। বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্ররাও দুই মাস সমান অতিরিক্ত তহবিল পাবেন। এ জন্য ব্যয় হবে তিন হাজার কোটি ডলারের মতো। তেলের দাম কমে যাওয়ার জন্য আবদুল্লাহ যেখানে সরকারের খরচ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন, সেখানে নতুন বাদশাহ জনগণকে বিশেষ সুবিধা দিতে বিপুল তহবিল ব্যয় করছেন।
কৌশলগত ভ্রান্তি
সৌদি আরবের মতাদর্শগত প্রবণতা নিয়ে এখন যে রেষারেষি ও বিরোধ চলছে, তা রণশীল সৌদি ব্যবস্থার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। দেশটি সাফল্যের সাথে জাতীয়তাবাদী, নাসেরবাদী ও বাথ পার্টির উত্থানপ্রবণতা মোকাবেলা করেছে। একই সাথে দেশটির বামপন্থী ও বিপ্লবী সরকারের সাথে ইন্টারেকশনের অভিজ্ঞতাও রয়েছে। সৌদি আরবের সাথে মুসলিম ব্রাদারহুডের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল দীর্ঘ দিন। সৌদি কৌশলের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল এটি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন কার্ড খেলেছে। কৌশলগত বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভালো খেলা কিভাবে খেলতে হয় তাতে দক্ষতা অর্জন করেছে। বিভিন্ন সঙ্কটে সৌদি আরব সুষম নীতি বজায় রাখা এবং একটি শূন্য সমষ্টি সমীকরণের মধ্যে স্খলন এড়াতে সম হয়েছে। কারো সাথে বিরোধ নিষ্পত্তি করেছে দক্ষতার সাথে আবার কারো সাথে সীমিত সঙ্ঘাতেও জড়িয়েছে। কিন্তু সব কিছু করা গেছে একধরনের ভারসাম্য বজায় রেখে এবং চূড়ান্ত কোনো লড়াইয়ে নিজে না জড়িয়ে। এভাবে দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে স্পর্শকাতর অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ প্লেয়ার হিসেবে থেকেছে। আর এ অবস্থান বজায় রাখতে সক্ষম হয় সঙ্ঘাত ও রেষারেষিতে চরমভাবে কোনো পক্ষ গ্রহণ না করে।
বাদশাহ আবদুল্লাহর পররাষ্ট্রনীতিতে শেষ দিকে এসে স্বাভাবিক এ সৌদি কৌশল থেকে বিচ্যুতি ঘটে। এ অঞ্চলের সাম্প্রতিক অস্থির পরিস্থিতিতে এর প্রভাবই দেখা যাচ্ছে। দেশটির প্রতিবেশী ইয়েমেনের রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে হুতিদের কাছে। ইরান নিয়ন্ত্রিত এই বিদ্রোহী মিলিশিয়াকে মোকাবেলা করার মতো সুন্নি শক্তির মধ্যে এখন কেবলই রয়েছে আলকায়েদা। ইরাকে সুন্নি ভুক্তভোগীরা নির্বিচার গণহত্যার কাছাকাছি এবং অপমানের প্রান্তসীমায় পৌঁছার পরও সেখানকার অবস্থাকে উপো করেছে সৌদি আরব। এর ফলে তাদের রক্ষার জন্য আবির্ভূত হতে দেখা গেল আইসিসকে। সৌদি হিসাব-নিকাশ ও ভীতির কারণে সিরিয়ার বিপ্লব সাফল্যের মুখ দেখেনি। আর এ শূন্যস্থান দখল করেছে আলকায়েদা ও আইএস। এর বাইরেও দেখা গেছে রিয়াদের ফোকাস বারবার যথাস্থান থেকে সরে গেছে অন্যত্র। এর ফলে লেবানন হয়ে পড়েছে হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রে। আরব বিশ্বে সবচেয়ে সুসংহত ব্লক হিসেবে চিহ্নিত উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) বিভক্তির মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। কাতারকে অবরুদ্ধ করে রাখার হুমকি দেয়া হয়েছে। ওমান ইরানের সাথে একটি কৌশলগত মৈত্রী গড়ে নিজেকে প্রত্যাহার করার হুমকি পর্যন্ত দিয়েছে।
মরহুম আবদুল্লাহর আমলে ফিলিস্তিন প্রশ্নেও সৌদি নীতি ছিল বিভিন্ন ত্রুটি, ব্যক্তিগত ধারণা ও মেজাজ মর্জিনির্ভর। মক্কায় ফিলিস্তিনি পুনর্মিলন সম্মেলন করার পর আবদুল্লাহ হামাসের সাথে একটি ব্যক্তিগত বিবাদে জড়িয়ে পড়ায় উদ্যোগটি ব্যর্থ হয়। ইসরাইলের গাজা যুদ্ধ এবং ইসরাইল-মিসরের অবরোধসংক্রান্ত ইস্যুতে সৌদি আরবের এক রকম নীরব অথবা ভুল পক্ষে অবস্থান ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলন ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। জেরুসালেম রার দাবি করে ইরান যেখানে সাফল্যের সাথে ফিলিস্তিন কার্ড ব্যবহার করতে পেরেছে, সেখানে মরহুম বাদশাহ নিজের তলোয়ার ভেঙে শত্রুর সুবিধা করে দিয়েছেন। ইসরাইল-মিসরের গাজা অবরোধে নীরব সমর্থন দিয়ে ইরানি প্রভাব বলয়ে ঠেলে দিয়েছে ফিলিস্তিনিদের। ইয়েমেনের ব্রাদারহুড হিসেবে পরিচিত আল ইসলাহকে দুর্বল করতে আরব আমিরাতের হুতির সাথে গোপন সমঝোতাকে এগোতে দেয়ায় সেখানে এখন শিয়া মিলিশিয়ার অগ্রগতি রুখতে কাউকে পাশে পাওয়া যাচ্ছে না। ক্রমবর্ধমান ইরানের প্রভাব মোকাবেলা করতে ইয়েমেন, ইরাক ও সিরিয়ার মধ্যপন্থী ইসলামি আন্দোলনের সহযোগিতার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বিদায়ী সৌদি শাসক সেই প্রয়োজন অনুভব করতে পারেননি। ফলে আইএস সৌদি সীমান্তে হানা দিলে নিজ দেশের অভ্যন্তরে যে রকম সাড়া পাওয়া উচিত ছিল সেটি পাওয়া যাচ্ছে না।
এটি অস্বীকার করার কোনো কারণ নেই যে, আরব জাগরণ সৌদি রাজপরিবারের ক্ষমতার সামনে চ্যালেঞ্জ সৃর্স্টি করেছিল। আর এ জাগরণে ব্রাদারহুড ভূমিকা রাখায় তাদের প্রতি সৌদি দৃষ্টিভঙ্গির পুনর্বিবেচনাও অস্বাভাবিক ছিল না। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ভারসাম্য বা মাত্রার যে বিষয়টি থাকা উচিত ছিল সেটি এমনভাবে উপেক্ষিত হয় যে, তা সৌদি রাষ্ট্রের নিরাপত্তার মূল ভিত্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। জনগণের বড় অংশের সাথে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে রাজপরিবারের। ইরানের ইসলামি বিপ্লবের পর আয়াতুল্লাহ খোমেনি বিপ্লব রফতানির কথা বললে দেশটির প্রভাব বিস্তারের পথে বাধা দিতে অনেক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে। এসব ক্ষেত্রে তাদের লক্ষ্য অর্জিতও হয়েছে। কিন্তু মধ্যপন্থী ইসলামি আন্দোলনকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে নির্মূল করার যে নীতির দিকে বাদশাহ আবদুল্লাহকে বন্দর-খালেদ চক্র ঠেলে দিয়েছে, তা সৌদি আরবের সার্বিক জনভিত্তিকে দুর্বল করেছে।
কাতার ও তুরস্কের সাথে দূরত্ব ঘুচবে
এরই মধ্যে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছেন তাতে আবদুল্লাহর নীতির সমালোচকেরা এখন নতুন বাদশাহর প্রশংসা করছেন। আবদুল্লাহ তার শাসনের শেষ বছরে অনেকটা বেপরোয়া ধরনের মনোভাব নিয়েছিলেন। সালমান চাচ্ছেন তার বড় ভাই বাদশাহ ফাহাদ আমলের সংযত মধ্যপন্থায় ফিরে যেতে। সেই সময় রাজপরিবার ইসলামপন্থী উদার নির্বিশেষে সবার সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছিল। নতুন বাদশাহ ধারাবাহিকতার ওপর জোর দিয়েছেন, কিন্তু তার মতার প্রথম সাত দিনে এমন কিছু হয়েছে যাতে এ পরিবর্তনের প্রভাব পড়ছে উল্লেখযোগ্যভাবে। রাজনীতির বাইরে ব্যক্তিগত সম্পর্ক অনেক ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। ফলে এখন দেখার ব্যাপার হলো বিদেশে কারা সালমান বা নায়েফের বন্ধু সেটি। বাদশাহ সালমানের ঘনিষ্ঠ হলেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ। সালমান বাদশাহ হওয়ার পর কাতারের ওপর বৃহৎ প্রতিবেশী সৌদি আরবের অবরোধ আরোপ বা জিসিসি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার যে হুমকি ছিল, তা এখন অতীতের বিষয়। একইভাবে মোহাম্মদ বিন নায়েফ হলেন সিনিয়র তুর্কি কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ফলে এ দুই দেশের টানাপড়েনেরও অবসান ঘটার সম্ভাবনাই বেশি। ২০১১ আরব বিপ্লবের পর তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে সৃষ্ট দূরত্ব নিরসন; ইরাক, ইয়েমেন, লেবানন ও সিরিয়ায় ইরানের প্রসারিত প্রভাব মোকাবেলার জন্যই প্রয়োজন তা নয়, একই সাথে তার প্রয়োজন নেতৃবৃন্দের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণেও। এই ফাটল খুব সম্ভবত জোড়া লেগে যাবে।
ব্রাদার নির্মূলে বন্ধুহীন বিন জায়েদ!
ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের জন্য যেমন সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটতে পারে তেমনিভাবে বৈরী সম্পর্কের কারণে অবনতিও ঘটতে পারে। একসময় বিন নায়েফের সাথে যারা ব্যক্তিগত শত্রুতা করেছিলেন এখন হয়তো তাদের মূল্য দেয়ার সময় এসেছে। মোহাম্মদ বিন নায়েফ এখনো ভুলে যাননি যে, আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স ও ব্রাদারহুড নির্মূল অভিযানের অন্যতম নায়ক মোহাম্মদ বিন জায়েদ ১২ বছর আগে রিচার্ড হাসের সাথে দুই ঘণ্টার কথোপকথনের সময় তখনকার সৌদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মোহাম্মদের বাবা নায়েফ সম্পর্কে বলতে গিয়ে উল্লেখ করেছিলেন, ‘তাকে দেখে মনে হয় বানর থেকে মানুষ হয়েছে বলে ডারউইনের যে তত্ত্ব, তা সঠিক ছিল’। আবুধাবির শাসকের সাথে নিষ্পত্তি করার মতো আরো স্কোর সম্প্রতি বিন নায়েফের ঝুলিতে জমা হয়েছে। আমিরাতের রাজকীয় আদালত নিয়ন্ত্রিত ইরেম নিউজ মোহাম্মদ বিন নায়েফকে ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মুখপত্রে বলা হয়েছে, ‘বাদশাহ আবদুল আজিজের বিশিষ্ট নাতিদের মধ্যে থেকে মোহাম্মদ বিন নায়েফের নির্বাচনপ্রক্রিয়া পর্যবেকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। সালমান এ নিয়োগের ব্যাপারে এলিজিয়েন্স কাউন্সিলের পরামর্শ নেননি।’ অথচ বাদশাহ আবদুল্লাহও এ ধরনের নিয়োগে পরামর্শ করেননি। বিন জায়েদ চাচ্ছিলেন আবদুল্লাহর ছেলে মুতায়েব ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স হোক। গোপন সৌদি তথ্যানুসারে আবদুল্লাহর আস্থাভাজন একান্ত সচিব খালিদ আল তুয়াইজরি মুতায়েবকে ডেপুটি যুবরাজ করতে পরিকল্পনা করেন। মিসরের সিসির অফিস ম্যানেজার আব্বাস কামিলের পাঠানো এক তথ্যেও মুতায়েব ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স হওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু এ বিষয়ে সালমানের ওপর অধিক চাপ প্রয়োগের আগেই বাদশাহ আবদুল্লাহ অসুস্থ হয়ে মারা যান। তুয়াইজরি, প্রিন্স বন্দর ও বিন জায়েদ এখন সময়ের অন্তরালে চলে গেছেন। এখন তাদের মধ্যে দু’জন অন্তত ক্ষমতা থেকে বিদায় নিয়ে অতীত হয়ে গেছেন। তৃতীয় জনের ভাগ্যে কী অপেক্ষা করছে, সেটি আগ্রহের সাথে অবলোকন করতে হবে। এর মাধ্যমে রিয়াদ থেকে কায়রো পর্যন্ত ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে যে চক্র ছিল, সেটিও ভেঙে গেল।
সিসি হারাতে পারেন ফাঁকা চেক
আবদুল্লাহর রাজত্বের সময় সৌদি রাজনীতিতে সবচেয়ে বেপরোয়া পপাত ছিল মিসর ইস্যুতে। হোসনি মুবারকের শাসন এবং তার সহযোগীদের পতনে যে বিপ্লবী জোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল, খালিদ আল তুয়াইজরির নেতৃত্বে একদল সেটিকে মুসলিম ব্রাদারহুডের সৃষ্টি সৌদি রাজতন্ত্রের সামনে অনেক বড় ঝুঁকি হিসেবে বাদশাহর সামনে তুলে ধরে। এতে আবদুল্লাহ প্রভাবিত হয়ে সৌদি আরবের আগের অবস্থান থেকে সরে এসে মুরসির সরকারকে উৎখাত করে মিসরে পাশবিক সামরিক সরকার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে আরব আমিরাত-ইসরাইল পরিকল্পনার সাথে জড়িয়ে পড়েন। এর ফলে মিসর সহিংসতা ও গোলযোগের দীর্ঘস্থায়ী ও গভীর ফাঁদে পরিণত হয়। আসল বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট হয়ে ওঠার আগেই সামরিক অভ্যুত্থানের সমর্থনে এভাবে ঝাঁপিয়ে পড়া ছিল আবদুল্লাহর জন্য ভয়ানক; বিশ্বের চোখের সামনে সামরিক জান্তা হাজার হাজার মিসরীয়ের রক্তসাগরে অবগাহনের পরও তাদের সমর্থন জানিয়ে যাওয়া ছিল তার জন্য আরো বেশি ভয়ানক। সিসি সরকারকে সমর্থন জোগানোর ধারণা আবদুল্লাহর মনে এত গভীরভাবে বদ্ধমূল করা হয়েছিল যে, তার পররাষ্ট্রনীতির শীর্ষ অগ্রাধিকার হয়ে ওঠে এটি। সিসির অনুরোধে আবদুল্লাহ তার জন্য এমন কিছু করেন, যাতে রাষ্ট্রের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিকভাবে বিদ্যমান সৌদি মর্যাদার বিষয় পর্যন্ত বিবেচনায় আনা হয়নি। সিসির জন্য আবদুল্লাহ কাতারের সাথে নিজ দেশকে প্রায় যুদ্ধের পর্যায়ে নিয়ে যান আর জিসিসিকে পৌঁছান বিপর্যয়ের প্রান্তসীমায়। এই সিসির সরকারের জন্য তুরস্কের সাথে সম্পর্কে বড় ফাটল সৃষ্টি করেন আবদুল্লাহ। তার পর বিস্ময়করভাবে ‘সন্ত্রাসী’ তালিকায় যোগ করেন মুসলিম ব্রাদারহুডের নাম। অথচ পশ্চিমা সরকারগুলোও এ পদক্ষেপ তাদের বিরুদ্ধে নেয়নি। মিসরের অভ্যুত্থানের পক্ষে বেপরোয়া অবস্থানে সৌদি আরব তার কৌশলগত প্রতিপক্ষ ইরানের বিরুদ্ধে খেলার মতো অনেক কার্ড নিজের হাতছাড়া করে। সৌদি নীতিতে অনুভূত প্রধান প্রতিপরে বিরুদ্ধে কৌশলগত জোট গড়ার স্বার্থে আঞ্চলিকভাবে প্রভাবশালী তুরস্কের সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখার যে প্রয়োজন ছিল, সেটি বিসর্জন দেয়া হয় কেবল সিসির জন্য।
সৌদি রাজপ্রসাাদে এরই মধ্যে যে পরিবর্তন ঘটেছে, তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। মিসরের প্রেসিডেন্ট আল সিসি ও আমিরাতের বিন জায়েদ আবদুল্লাহর দাফন অনুষ্ঠান থেকে দূরে ছিলেন। যে সময়ে সিসির জন্য সৌদি নগদ সহায়তা অনেক বেশি প্রয়োজন ছিল, তখন অধিক অস্থির হয়ে পড়েছে মিসরের পরিস্থিতি। সিনাইয়ে পূর্ণ স্কেলের সামরিক অভিযানের সাথে সারা দেশে বিক্ষোভ ক্রমবর্ধমান রূপ নিচ্ছে, যা কখনো শেষ হবে বলে মনে হচ্ছে না। মিসরীয় পাউন্ডের দাম এখন স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে কম। সিসির জন্য বিকল্প ক্রমেই সঙ্কীর্ণ হয়ে আসছে। এটি মিসরীয় সেনাবাহিনীর জন্য মোটেই সুখকর নয় যে রিয়াদে তাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক তুয়াইজরি হয়ে পড়েছেন কক্ষচ্যুত। এখন সালমান-নায়েফ মিসরকে যদি এই তহবিলের জোগান অব্যাহত না রাখার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে বিপর্যয় অনিবার্য হয়ে উঠবে সিসির জন্য। এ ছাড়া প্রতিশ্রুত ও বাস্তব সাহায্য অবমুক্তির মধ্যেও একটি ব্যবধান থেকে যেতে পারে।
ভারসাম্যে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ
বাদশাহ আবদুল্লাহর মৃত্যুতে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রনীতির জন্য ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার পুরনো নীতিতে প্রত্যাবর্তনের একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সম্ভবত বাদশাহ সালমান ও উপ-ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ সৌদি আরবকে সে দিকে নিতে চাচ্ছেন। তবে তার মানে এটি হবে না যে, সৌদি আরব মিসরে সিসির শাসনকে একবারে পরিত্যাগ করবে। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ব্রাদারহুডকে নিয়ে আসার একটি সমঝোতামূলক পদক্ষেপ সামনে হয়তো দেখা যেতে পারে। যার প্রয়োজনের কথা আল বারাদি তার সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন পরিস্থিতিতে সৌদি-তুরস্ক-কাতার সমঝোতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সিংহাসনে বাদশাহ সালমান আরোহণের পর সবার সাথে একটি ব্যাপক পুনর্মিলন ও আস্থা ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। এটি মধ্যপন্থী ইসলামি আন্দোলন এবং এরদোগান-তামিমের জন্য ভালো সুযোগ এনে দিতে পারে। এমনকি এটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্যে মিসরকে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সিসির জন্য সুযোগ সৃষ্টি করবে, যা তার জন্য একটি নিরাপদ প্রস্থানও নিশ্চিত করতে পারে। ব্রাদারহুডকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণারও পরিবর্তন হতে পারে। তিউনিসিয়ার আন নাহদা নেতা ড. রশিদ ঘানুশি আবদুল্লাহর মৃত্যুতে শোক জানাতে এলে সালমান নিজে তাকে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। ঘানুশি হলেন সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ ইসলামিস্ট (মুসলিম ব্রাদারহুড ঘরানার) নেতা, সৌদি আরবে যাকে এভাবে স্বাগত জানানো হলো। ওয়াক্ফ ও ইসলামিবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে সুলায়মান এবি আল-খাইলের নিয়োগও সৌদি নীতি পরিবর্তনের আরেকটি লক্ষণ হিসেবে মূল্যায়িত হচ্ছে। সৌদি আরবের গত সপ্তাহের রাজনৈতিক ভূমিকম্পের বিভিন্নমুখী পরোক্ষ ফলাফলও আসতে পারে। ব্রিটেনে ব্রাদারহুডের ব্যাপারে তদন্তকাজের সাথে জড়িত সিনিয়র ইউকে কর্মকর্তারা খুশি হবেন যে, তারা ব্রাদারহুডের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকার ব্যাপারে যে অনুসিদ্ধান্তে এসেছেন, তা প্রকাশ করতে পারবেন। ডেভিড ক্যামেরনের নির্দেশে স্যার জন জেনকিন্সের নেতৃত্বে পরিচালিত এ তদন্তের রিপোর্টটি সৌদি আরব ও আমিরাতের চাপে তারা এত দিন প্রকাশ করতে পারেননি। সালমান বাদশাহ হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার আগ পর্যন্ত এ দুই দেশের নেতৃত্ব মিসরের সন্ত্রাসবাদে ব্রাদারহুডের কোনো সম্পৃক্ততা না পাওয়া ‘ভুল’ সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করছিল। এর মাধ্যমে ব্রাদারহুড সন্ত্রাসের অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি পাচ্ছিল। রিয়াদের নতুন কর্তারা এমন ধরনের একটি উপসংহারকে এখন স্বাগত জানাতে পারেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1353)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
February
(1363)
-
▼
Feb 04
(36)
- অবহেলিত জীবনের কিছু কথা by তৌহিদুল ইসলাম
- নিউ ইয়র্কে ট্রেন-জিপ সংঘর্ষ: নিহত ৭, আহত ১২
- তাইওয়ানে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ১২
- এখনো জরুরি অবস্থার পরিস্থিতি হয়নি : সংসদে প্রধানমন...
- বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা বিস্তৃত by ড...
- মিয়ানমারে এক টুকরো বাংলাদেশ by সোহরাব হাসান
- মোদি-ওবামার ফ্যাশন কূটনীতি by গৌতম লাহিড়ী
- সৌদি নেতৃত্বের নতুন বার্তা by মাসুম খলিলী
- সুড়ঙ্গ মহলে ইঁদুর জীবন
- শেষ চারে থাইল্যান্ডকে পেল বাংলাদেশ
- ভারত সফরে বাংলাদেশ নিয়ে ওবামা-মোদির আলোচনা
- সব সময় ভয় ভয় লাগে
- মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাস্তবতা by গোলাম মোহাম্মদ...
- জেদাজেদির রাজনীতিতে রসাতলে যাচ্ছে দেশ by মইনুল ইসলাম
- আর কত মৃত্যু, আর কত পোড়া মুখ- পেট্রলবোমায় পুড়ে অ...
- পুড়ছে মানুষ জ্বলছে দেশ by আব্দুল কাইয়ুম
- ধর্ম, দেশ, সমাজ ও সংস্কৃতি by তানজীনা ইয়াসমিন চৌধুরী
- মার্কিন-ভারত আঁতাত ও ভারত-চীন সম্পর্ক by বদরুদ্দীন...
- সংবিধান ও রাজনীতি- খায়রুল হকের আশঙ্কা শতভাগ সত্য প...
- যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন খালেদা জিয়া
- একটি মৃত্যু- অসংখ্য মানুষের মর্মবেদনা by মিলি যাকা...
- পুলিশের হয়রানি- প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে বস...
- ইকোনমিস্টের ভবিষ্যদ্বাণী
- দগ্ধতার অন্য সমীকরণ by পাভেল পার্থ
- সেনাবাহিনী ছাড়া দেশে জরুরি অবস্থার দাবি সংসদে
- অবরোধে অচল বাংলাদেশ
- ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতা by মো. আবদুর রশিদ
- ডু অর ডাই নীতিতে বিএনপি by কাফি কামাল
- নৈশকোচে পেট্রলবোমায় সাত জনের মৃত্যু, যশোর, পটুয়াখা...
- পেট্রলবোমায় ওদের স্বপ্ন পুড়ে ছাই by রুদ্র মিজান
- টানা অবরোধ-হরতাল, সহিংসতা বন্ধ করতেই হবে
- ‘বীরকে সম্মান না দিলে সেই দেশে বীরের জন্ম হয় না’ -...
- একদিকে পুলিশ, অন্যদিকে বোমাবাজ, সিলেটে আতঙ্ক by ওয়...
- সংলাপ-সমঝোতার জন্য আকুতি
- সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী- প্রসূতি দুস্থ রেখে সুস্...
- পেট বাঁচাতে ওরা ঘুরে গ্রামে গ্রামে by ইমাদ উদ দীন
-
▼
Feb 04
(36)
-
▼
February
(1363)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
মালয়েশিয়া
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
স্বাস্থ্য
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
জ্যোতির্বিজ্ঞান
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
মিয়ানমার
ঢাকা
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
জীবনযাপন
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
মেহেদী হাসান
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
ইয়েমেন
একরামুল হক
Exclusive
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিজ্ঞান
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
ফরিদপুর
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মহাকাশচারী
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
জোহরান মামদানি
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
ইহুদি
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বকাপ ফুটবল
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment