Wednesday, August 12, 2015
গাফ্ফার চৌধুরীর বক্তব্যের একটি একাডেমিক জবাব- প্রসঙ্গ: ‘আল্লাহর ৯৯ নাম দেবতাদের নাম থেকে এডাপ্ট’ by তাইছির মাহমুদ
গাফ্ফার চৌধুরীর বক্তব্যের একটি একাডেমিক জবাব- প্রসঙ্গ: ‘আল্লাহর ৯৯ নাম দেবতাদের নাম থেকে এডাপ্ট’ by তাইছির মাহমুদ
নিউ
ইয়র্কে সাংবাদিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর দেয়া ‘একাডেমিক’ বক্তব্যের একটি
একাডেমিক জবাব লিখবো ভাবছিলাম। কিন্তু প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে
গিয়ে কিছুটা দেরি হয়ে যায়। তাই ভাবছিলাম আর লিখবো না, কিন্তু বিবেকের
তাড়নায় লিখতে হলো। কারণ গাফ্ফার চৌধুরী গত ২০শে জুলাই দৈনিক জনকণ্ঠে তার
একটি কলামে লিখেছেন ‘আমি যদি ভুল বলে থাকি, তাহলে নিশ্চয়ই আমার বক্তব্য কেউ
খ-ন করতে পারেন এবং আমিও ভুল শোধরাতে পারি।’ তাছাড়া তাঁর বক্তব্যের
স্বপক্ষে না বুঝে অনেকেই অনেক কিছু লিখছেন, বিবৃতি দিচ্ছেন। তাই এ ব্যাপারে
তথ্যভিত্তিক একটি লেখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করি। তবে এ লেখার
মাধ্যমে তাঁকে শোধরানোর কোন দায়িত্ব বা উদ্দেশ্য আমার নেই। শুধু
কুরআন-হাদিসের আলোকে একটি দালিলিক জবাব দেয়ার চেষ্টা করবো। এই লেখাটি পড়ে
মনঃপূত হলে গাফ্ফার চৌধুরী চিন্তা করে দেখতে পারেন তাঁর দেয়া বক্তব্য সঠিক
কি-না। আর সঠিক না হলে তাঁর করণীয় কী? আর দ্বিমত করলে একটি পাল্টা লেখা
পাঠাতে পারেন। অবশ্যই সেটি ছাপানো হবে- যদি তা কোরআন-হাদিসের সঙ্গে
সাংঘর্ষিক না হয়। গাফ্ফার ভাইয়ের সঙ্গে আমার একটি ব্যক্তিগত সম্পর্ক আছে।
সাপ্তাহিক দেশ-এর সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণের অগে আমি দীর্ঘ প্রায় এক দশক
সাপ্তাহিক নতুন দিনের নির্বাহী সম্পাদক ছিলাম। তিনি এই কাগজের প্রতিষ্ঠাতা
সম্পাদক ছিলেন। আমার যোগদানের পর তিনি কিছুদিন নতুন দিনে নিয়মিত লিখেছেন।
এই সূত্রে তাঁর সাথে প্রায়শই যোগাযোগ হতো। তাঁর সাথে অনেক মজার মজার ঘটনা
আছে। সেটি কোনদিন সময়-সুযোগে প্রয়োজন হলে লিখবো। তিনি আমাকে স্নেহ করতেন,
এখনও করেন কি-না জানি না! তবে একজন বর্ষীয়ান ও বিজ্ঞ সাংবাদিক হিসেবে তাঁর
প্রতি আমার শ্রদ্ধার কোন কমতি নেই। গঠনমূলক সমালোচনার অর্থ কাউকে অশ্রদ্ধা
করা নয়। অতএব, তিনি এই আলোচনাকে ইতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখবেন বলে আশা রাখি। সে
যাক, এবার মূল আলোচনায় মনোনিবেশ করা যাক। গাফ্ফার চৌধুরীর বক্তব্য নিয়ে
আলোচনা শুরুর আগে তিনি ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে যে বক্তব্য রেখেছেন তা পাঠকদের
সুবিধার্থে পুনরায় উল্লেখ করা প্রয়োজন। ৩রা জুলাই শুক্রবার বিকালে
জাতিসংঘের স্থায়ী মিশনে তিনি ‘বাংলাদেশ: অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক
এক আলোচনা সভায় একক বক্তব্য রাখেন। সভায় তিনি বাংলা ভাষার উৎপত্তি, এর
ব্যবহার, হাজার বছর আগে ও পরে বিভিন্ন সময়ে বাংলা ভাষা গ্রহণ ও বর্জনের
ইতিকথা তুলে ধরেন। বাংলা ভাষার বিবর্তনের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন,
আল্লাহ্র যে ৯৯ নাম রয়েছে এগুলো কাফেরদের দেবতাদের নাম থেকে এডাপ্ট করা
হয়েছে। বাংলাদেশে আরবি ভাষায় সন্তানের নামকরণের প্রবণতা প্রসঙ্গে তিনি
বলেছেন, সবচেয়ে বেশি হাদিস সংগ্রহকারী আবু হুরায়রা নামের অর্থ হচ্ছে
বিড়ালের বাবা। আর আবু বকর নামের অর্থ হচ্ছেÑ ছাগলের বাবা। বাংলাদেশের মানুষ
অর্থ না জেনে এসব নাম রাখে। আরবে কোথাও এসব নাম পাওয়া যাবে না। বক্তৃতার
একপর্যায়ে বাঙালি মহিলাদের হিজাব পরার বিরোধিতা করে তিনি বলেছেন- বাঙালি
নারীরা শাড়ি পরবেন, কপালে টিপ দেবেন, এটা আমাদের সংস্কৃতি। তাঁর এ
বক্তব্যের পর দেশে-বিদেশে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠলে তিনি নিউ ইয়র্কের
স্থানীয় একটি টেলিভিশনে তাঁর বক্তব্যের স্বপক্ষে ব্যাখ্যা দেন। ব্যাখ্যায়
তিনি বলেন, আমি ভুল কিছু বলিনি। আমি বড় মুসলমান। তিনি আবারও বলেন, আল্লাহ্
নামতো আগে কাফেরদের দেবতার নাম ছিল। তা না হলে রাসূলের (সাঃ) পিতার নাম
আবদুল্লাহ কী করে হলো? এটা তো মুসলমান নাম নয়। তিনি আরও বলেন, হজও ইসলামের
হজ নয়। এটাও ২ হাজার ৩ হাজার বছর আগে কাফেরদের প্রবর্তিত হজ। সর্বশেষ গত
২০শে জুলাই সোমবার ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক জনকণ্ঠে ‘নিউ ইয়র্কে আমার ঘটনা
এবং বন্ধুদের রটনা’Ñ শীর্ষক কলামে তাঁর বক্তব্যের স্বপক্ষে বিস্তর
লিখেছেন। কলামে তিনি ঐদিন নিউ ইয়র্কে প্রকৃতপক্ষে কী বলেছিলেন তা তুলে
ধরেছেন। তিনি লিখেছেন- ‘ভাষা-জাতীয়তা সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে আমি বলেছি,
ভাষার কোন ধর্মীয় পরিচয় নেই। ইসলাম-পূর্ব যুগে আরবি ভাষা অমুসলিমদের ভাষা
ছিল। সেই ভাষাতেই কোরআন নাজিল হয়েছে এবং ইসলাম প্রচারিত হয়েছে। আল্লাহ্র
বহু গুণবাচক নাম আরবি ভাষা থেকেই সংগৃহীত এবং আগে তা কা’বার দেবতাদের নাম
হিসেবে ব্যবহৃত হতো। দেবতাদের মূর্তিগুলো ভেঙে ফেলার পর এই নাম শুধু
আল্লাহ্র গুণবাচক নাম হয়ে দাঁড়ায়।’ তিনি ওই কলামে আরও লিখেছেন, তাঁর
বক্তব্য কাটছাঁট করে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হয়েছে। তবে তিনি
দেখিয়ে দেননি কোথায় কাটছাঁট করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্যের ভিডিও রেকর্ড
ফেসবুক ও ইউটিউবসহ সকল সোশ্যাল মিডিয়ায় রয়েছে। এটাতো কাটছাঁট করার কোন
সুযোগই নেই। তিনি কি বলতে চান ভিডিওটি কোন আইটি বিশেষজ্ঞ তৈরি করেছেন। নাহ,
এমন অভিযোগ অবশ্য তিনি এখনও করেননি। আচ্ছা, ধরে নিলাম ভিডিওটিতে কাটছাঁট
করা হয়েছে। কিন্তু তিনি এবার জনকণ্ঠে তাঁর কলামে স্বজ্ঞানে লিখেছেন-
আল্লাহ্র বহু গুণবাচক নাম আরবি ভাষা থেকেই সংগৃহীত এবং আগে তা কা’বার
দেবতাদের নাম হিসেবে ব্যবহৃত হতো। দেবতাদের মূর্তিগুলো ভেঙে ফেলার পর এই
নাম শুধু আল্লাহ্র গুণবাচক নাম হয়ে দাঁড়ায়। এটুকুই যথেষ্ট। আমি তাঁর
বক্তব্যের উপরোক্ত অংশের আলোকেই জবাবটি লিখতে চাই। তবে মূল বক্তব্যে যাওয়ার
আগে আল্লাহ্র গুণবাচক নাম সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত একটি বর্ণনা দিচ্ছি।
আল্লাহ্র গুণবাচক নামের উৎস কী? আল্লাহ্র ৯৯ নাম কোথা থেকে এলো? আমরা
কিভাবে জানতে পারলাম যে, আল্লাহ্তায়ালার ৯৯টি নাম আছে। অনেকের মনে নতুন করে
এ প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। তাই প্রথমে ৯৯ নামের ব্যাপারে একটি ভূমিকা দিতে
চাই। পবিত্র কোরআনের নবম পারায় সূরা আল-আরাফের ৮০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে,
‘আল্লাহ্তায়ালার জন্য রয়েছে সব উত্তম নাম। কাজেই সেই নাম ধরেই তাঁকে ডাকো।
আর তাদেরকে বর্জন করো, যারা তাঁর নামে বিকৃতি ঘটায়। তারা নিজেদের
কৃতকর্মের ফল শিগগিরই পাবে।’ ৩০ পারা কোরআনের বিভিন্ন স্থানে
বিচ্ছিন্নভাবে নামগুলো সুবিন্যস্ত রয়েছে। যেমন রাহমান, রাহিম, গাফ্ফার,
হাকিম, কাদির, রাজ্জাক ইত্যাদি। সূরা হাশরের শেষ আয়াতগুলোতে একত্রে বেশ
কয়েকটি নাম উল্লেখ রয়েছে। তবে নামের প্রকৃত সংখ্যা কত- এ সম্পর্কে
নির্দিষ্ট করে কোরআনে কিছু বলা হয়নি। এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বিশুদ্ধ
হাদিসগ্রন্থ বোখারী ও মুসলিম শরীফের ২৭৩৬ ও ২৬৭৭ নং হাদিসে রাসূল (সাঃ)
বলেছেন, ‘আল্লাহ্তায়ালার ৯৯টি নাম রয়েছে। এক কম একশ’। যে ব্যক্তি নামগুলো
গণনা (পাঠ) করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ এখানে হাদিসে নামের সংখ্যা
উল্লেখ করা হলেও কোন্ কোন্ নাম আল্লাহ্র গুণবাচক নাম- এ ব্যাপারে স্পষ্ট
করে কিছু বলা হয়নি। তাছাড়া বিভিন্ন পুস্তকাদিতে যে ৯৯ নামের তালিকা রয়েছে
এগুলো কোন হাদিসে পাওয়া যায়নি। কোরআন শরীফের বিভিন্ন স্থান থেকে
নির্ভরযোগ্য নামগুলো নিয়ে হয়তো ইসলামী চিন্তাবিদরা ৯৯ নামের একটি তালিকা
তৈরি করেছেন। এসব নামের পৃথক পৃথক অর্থ রয়েছে। যেমন রহমান অর্থ দয়াশীল,
গাফুর অর্থ ক্ষমাশীল, কাদির অর্থ শক্তিশালী ইত্যাদি। আল্লাহতায়ালা এসব
গুণের অধিকারী বলেই এসব নামে তাঁকে ডাকতে বলেছেন। আর যারা এসব নাম নিয়ে
আজে-বাজে কথা বলে, নামের বিকৃতি ঘটায় তাদেরকে বর্জন করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
এই হচ্ছে আল্লাহতায়ালার ৯৯ নামের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা। এখন আলোচনায় আসা যাক
সাংবাদিক আŸদুল গাফ্ফার চৌধুরীর বক্তব্য প্রসঙ্গে। তিনি বলেছেন, এই ৯৯ নাম
কাফেরদের দেবতা বা মূর্তির নাম ছিল। সেখান থেকেই নামগুলো ইসলামে সংযোজন করা
হয়েছে। যেহেতু কোরআন ইসলামের উৎস সেহেতু তাঁর বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয়,
হযরত মুহম্মদ (সাঃ) কাফেরদের দেবতাদের নামানুসারে এই নামগুলো পবিত্র কোরআনে
সুবিন্যস্ত করেছেন। অর্থাৎ, রাসূল (সাঃ) নিজেই কোরআন রচনা করেছেন
(নাউজুবিল্লাহ)। আল্লাহ্র ৯৯ নাম যে কোথাও থেকে সংযোজন করা হয়নি, বরং তা
অনন্তকাল ধরে ছিল তার কিছু প্রমাণ ও যৌক্তিক দৃষ্টান্ত তুলে ধরতে চাই।
এক. আল্লাহ্ নিজেই যেহেতু পবিত্র কোরআনে বলেছেন, তাঁর অনেক সুন্দর সুন্দর
নাম রয়েছে। সুতরাং আমাদের আর বলার কোন সুযোগ নেই যে, এই নামগুলো সংযোজন করা
হয়েছে। কারণ এই বিশ্ব সৃষ্টির আগে অনন্তকাল থেকে যেমন আল্লাহতায়ালা ছিলেন
তেমনি তাঁর নামগুলোও বিদ্যমান ছিল। পরবর্তীতে অন্য কারো কাছ থেকে এসব নাম
হাওলাত করে নেয়া বা সংযোজন করার প্রশ্নই ওঠে না। দুই. পবিত্র কোরআনে
আল্লাহ্র গুণবাচক নামগুলোর উল্লেখ রয়েছে। আর কোরআন শরীফ আজ থেকে ১৪০৬ বছর
আগে ৬০৯ খ্রিস্টাব্দে মুহাম্মদ (সাঃ) এর উপর অবতীর্ণ হলেও এই গ্রন্থ
অনন্তকাল থেকেই লওহে মাহ্ফুজে সংরক্ষিত ছিল। আর কোরআন শরীফ যখন লওহে
মাহ্ফুজে সংরক্ষিত ছিল, তাহলে আল্লাহ্র নামগুলোও সেখানেই সংরক্ষিত ছিল।
এক্ষেত্রে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, কোরআন শরীফ তো প্রয়োজন অনুসারে
জিবরাইল (আঃ) এর মাধ্যমে কিছু কিছু করে ২৩ বছরে নাজিল হলো। তাহলে এটি লওহে
মাহ্ফুজে সংরক্ষিত ছিল কিভাবে? এর জবাব কোরআন শরীফেই দেয়া হয়েছে। পবিত্র
কোরআনের ৩০তম পারায় সূরা কদরের প্রথম আয়াতে আল্লাহ্তায়ালা বলেছেন, ইন্না
আনজালনাহু ফি লাইলাতিল কাদর। অর্থাৎ আমি ইহা (কোরআন) কদরের রাত্রে নাজিল
করেছি। কদর বলতে আমরা কী বুঝি? হাদিস অনুযায়ী লাইলাতুল কদর হচ্ছে এমন একটি
মর্যাদাকর রাত্রি, যে রাত হাজারও মাসের চেয়ে উত্তম। রাসূল (সাঃ) এই রাতকে
রামাদানের শেষ ১০ দিনের যে কোন বিজোড় রাতে খুঁজতে বলেছেন। এজন্যই রামাদানের
শেষ দশ রাতে বেশি করে ইবাদত করতে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। শবেকদর যাতে
হাতছাড়া না হয় এজন্য শেষ ১০ দিন মসজিদে ইতেকাফ করার বিধান রয়েছে। এই
শবেকদরের রাতেই পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছে। মুফাস্সিরগণ এই আয়াতের তাফসিরে
বলেছেন, আরবিতে আনজালা শব্দটি ব্যবহৃত হয় কোন কিছু একসঙ্গে অবতীর্ণ করা
অর্থে। আর নাজ্জালা ব্যবহৃত হয় অংশবিশেষ করে (সামান্য সামান্য) নাজিল করা
অর্থে। কদরের রাতে লওহে মাহ্ফুজ থেকে একসাথে পূর্ণ কুরআন শরীফ প্রথম আসমানে
নাজিল করা হয়েছে বলেই সূরা কদরে আনজালনা শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। এবং
পরবর্তীতে প্রথম আসমান থেকে এক আয়াত দুই আয়াত করে প্রয়োজন অনুযায়ী মুহাম্মদ
(সাঃ)-এর উপর নাজিল হয়। এজন্য সূরা আল-ইমরানের ৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ্
তায়ালা বলেছেনÑ ‘নাহনু নাজ্জালনাল কোরআনা’। অর্থাৎ আমরা কোরআন নাজিল
করেছি। এখানে নাজ্জালা শব্দটি সামান্য সামান্য করে নাজিল করা অর্থে ব্যবহৃত
হয়েছে। তাহলে এই আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় কোরআন নতুন কোন ঐশীবাণী নয়। এটি
আগে থেকেই লওহে মাহ্ফুজে সংরক্ষিত ছিল। আর কেয়ামত পর্যন্ত এটি লওহে
মাহ্ফুজেই সংরক্ষিত থাকবে। সংরক্ষণের ব্যাপারে আল্লাহ্তায়ালা পবিত্র
কোরআনের ৩০তম পারায় সূরা আল-বুরুজের ২১ ও ২২ নং আয়াতে বলছেন- ‘বাল হুয়া
কোরআনুম মাজিদ, ফি লওহিম মাহফুজ’। অর্থাৎ- ‘বরং এটি কোরআন মজিদ, লওহে
মাহ্ফুজে সংরক্ষিত রয়েছে।’ সুতরাং এই বিশ্লেষণে প্রমাণিত হয় কোরআন শরীফ
লওহে মাহ্ফুজে অনন্তকাল ধরে সংরক্ষিত ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। সুতরাং
কোন যুক্তিতেই বিশ্বাস করার সুযোগ নেই যে, কোরআনে এই নামগুলো কাফেরদের
দেবতাদের নাম থেকে সংযোজন করা হয়েছে। কোরআন যেমন অনন্তকাল ধরে সংরক্ষিত
ছিল, তেমনি আল্লাহ্তায়ালার নামগুলোও কোরআনে সংরক্ষিত ছিল।
তিন. হযরত নুহ (আঃ)-এর মহাপ্লাবনের পর থেকে হযরত ইব্রাহিম (আঃ)- এর আগমনের পূর্ব পর্যন্ত সময়ে মক্কা নগরীতে কোন মানুষের বসতি ছিলো না। বোখারী শরীফের ৮৩৩ নং হাদিসে এব্যাপারে বিশদ বর্ণনা রয়েছে। হাদিসের সারসংক্ষেপ হচ্ছেÑ যখন ইব্রাহিম (আঃ)-এর স্ত্রী সারাহ ও হাজেরার মধ্যে চরম দ্বন্দ্ব দেখা দেয়, তখন তিনি আল্লাহতায়ালার নির্দেশে হাজেরা ও শিশুপুত্র ইসমাইলকে নির্বাসনে পাঠাতে মক্কা নগরীতে নিয়ে গেলেন এবং বর্তমান জমজম কূপের পাশে জনমানবহীন ভূমিতে একা রেখে ফিরে গেলেন। তখন সেখানে কোন পানি ছিলো না। ইব্রাহিম (আঃ) তাঁদেরকে যে সামান্য খেজুর ও পানি দিয়েছিলেন তা কিছু দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। হাজেরা দুগ্ধপোষ্য শিশুকে পানি পান করানোর জন্য অস্থির হয়ে পড়েন। সাফা ও মারওয়া পর্বত দুটোর উপরে উঠে সমতল ভূমির দিকে লক্ষ্য করে মানুষের খোঁজ করতে থাকেন। এভাবে তিনি সাফা ও মারওয়া পর্বতের একটি থেকে অপরটিতে সাতবার দৌড়াদৌড়ি করেন (এ জন্য পরবর্তী হজের সময় হাজীদের ৭ বার দৌড়ানো অপরিহার্য হয়ে যায়)। একসময় তিনি একটি শব্দ শুনতে পান এবং একজন ফেরেশতা দেখতে পান। ঐ ফেরেশতা পায়ের গোড়ালি দিয়ে মাটিতে আঘাত করেন। এতে করে কূপের সৃষ্টি হয় এবং মাটি ফেটে পানি বের হতে শুরু থাকে। এটাই হলো আজকের জমজম কূপ। পরবর্তীতে জমজম কূপ এলাকায় পাখির উড়াউড়ি দেখে দূর থেকে একদল লোক অনুমান করে সেখানে সম্ভবত পানি থাকতে পারে। তারা পানির অনুসন্ধানে সেখানে ছুটে আসে এবং পানি পেয়ে যায়। একসময় হাজেরার অনুমতি নিয়ে তাঁরা সেখানে বসবাস শুরু করে। ওরা ছিলো জুরহুম সম্প্রদায়ের লোক। ইসমাইল (আঃ) তাদের কাছ থেকে আরবি ভাষা শিক্ষা গ্রহণ করেন। এভাবেই মক্কা নগরীতে মানুষের বসবাস শুরু হয়। পরবর্তীতে ইব্রাহিম (আঃ) ফিরে আসেন। তিনি ও পুত্র ইসমাইল মিলে কাবাঘর নির্মাণ করেন। তিনি শরীয়তপ্রাপ্ত হন এবং আল্লাহর একাত্ববাদ প্রচার শুরু করেন। তখন মক্কা নগরীর মানুষ এক আল্লাহর উপাসনা করতো। আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করতো না। কাবাঘরে কোন মূর্তি কিংবা দেবতা ছিলো না। কিন্তু পরবর্তীতে তাঁর অনেক অনুসারী ধর্মকে বিকৃত করে মূর্তিপূজা শুরু করে। তারা কাবাঘরে ৩৬০টি মূর্তি স্থাপন করে প্রত্যেকটির পৃথক পৃথক নামকরণ করে। আরবের বিভিন্ন স্থানে তারা লাত, ওজ্জা ও মানাত নামে তিনটি বড় দেবতা স্থাপন করে। কাফেররা বলতো এগুলো আল্লাহতায়ালার নাম। তাই আল্লাহতায়ালা পবিত্র কুরআনের ২৭ নং পারায় সূরা আল-নজমের ১৯, ২০ ও ২৩ নম্বর আয়াতে এই তিনটি মূর্তির কথা উল্লেখ করে ঘোষণা দেন এসব নামের সঙ্গে তাঁর ন্যূনতম কোন সম্পৃক্ততা নেই। আল্লাহতায়ালা উক্ত তিনটি আয়াতে বলেন “তোমরা কি ভেবে দেখেছো লাত ও ওজ্জা সম্পর্কে এবং তৃতীয় আরেকটি (দেবী) মানাত সম্পর্কে? (মূলত) এগুলো কতিপয় (দেব-দেবীর) নাম ছাড়া কিছুই নয়, যা তোমরা নিজেরা এবং তোমাদের বাপ-দাদারা ঠিক করে নিয়েছো। আল্লাহতায়ালা এর (নামে) সমর্থনে কোন রকম দলিল প্রমাণ নাজিল করেননি। সুতরাং, আল্লাহর গুণবাচক নাম আগে থেকেই ছিলো। কাফেররা মূর্তি তৈরি ও পূজা শুরু করে ইব্রাহিম (আঃ)-এর ইন্তিকালের অনেক পরে। সুতরাং দেবতার নাম থেকে আল্লাহর নামকরণের কোন সুযোগ নেই। কারণ আল্লাহর নাম অনেক আগে, দেবতা তৈরি ও পূজা শুরু হয় অনেক পরে। আর হাদিস দ্বারাই প্রমাণিত হয়, আরবি ভাষা ছিলো ঐ জুরহুম সম্প্রদায়ের ভাষা। ইসমাইল (আঃ) তাদের কাছ থেকে ভাষা শিখেছিলেন। তাহলে আরবি কাফেরদের ভাষা ছিলো না, কাফেররা পরবর্তীতে এ ভাষায় কথা বলে। আর লাত, ওজ্জা ও মানাত সম্পর্কে হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে তাফসীরে ইবনে কাসিরে বলা হয়েছে, লাত নামে জাহিলিয়াত যুগে একজন সৎ লোক ছিলেন। তিনি হজ মওসুমে পানির সঙ্গে পাউডার মিশিয়ে হাজীদের পান করাতেন। তাঁর মৃত্যুর পর লোকজন তাঁর কবরের সেবা শুরু করে। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে তার ইবাদত শুরু করে। এভাবেই তখনকার আরবে সৎ মানুষের নামে মূর্তি তৈরি করে লোকজন তাদের এবাদত (মূর্তিপূজা) করতো। চার. ইসলাম আসার আগে কি আরবে আল্লাহর গুণবাচক নামের ব্যবহার ছিলো? এই প্রশ্নটি অনেকের মনেই দেখা দিতে পারে। হ্যাঁ, ইসলাম আসার আগেও আরবে আল্লাহর অনেক নামের ব্যবহার ছিলো। কারণ মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আগে আরও লক্ষাধিক নবী পৃথিবীতে এসেছেন। কেউ নতুন শরীয়ত পেয়েছেন, কেউ পুরাতন শরীয়ত প্রচার করেছেন। কারো উপরে বড় ধর্মগ্রন্থ, আবার কারো উপর ছোট ধর্মগ্রন্থ (সহিফা) নাজিল হয়েছে। এসব ধর্মগ্রন্থের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর গুণবাচক নামগুলো সম্পর্কে জানতে পেরেছে এবং আরবে এর প্রচলন ছিলো। এতো সাধারণ একটি বিষয় আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর মতো একজন বিজ্ঞ সাংবাদিকের কাছে কেন পরিষ্কার নয়, এটা আমার বোধগম্য নয়। তবে ধর্ম সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকলে এই সাধারণ ভুলগুলো যে কারো ক্ষেত্রেই হওয়া খুবই স্বাভাবিক। অতিসম্প্রতি যেমনটি করেছেন অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির রেডিওকার্বন বিভাগের একদল গবেষক। বার্মিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আবিষ্কৃত পবিত্র কোরআনের প্রাচীনতম পা-ুলিপিটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাঁরা ৯৫ ভাগ নিশ্চয়তার সঙ্গে বলেছেন, এটি ৫৬৮ থেকে ৬৪৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী কোন সময়ে লেখা। কিন্তু আমার মতে পা-ুলিপিটি যতই প্রাচীন হোক এটি ৬০৯ খ্রিস্টাব্দের আগে লিপিবদ্ধ করার কোন সুযোগই নেই। কারণ রাসুল (সাঃ) জন্মগ্রহণ করেন ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে। আর ৬০৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি যখন ৪০ বছর বয়সে উপনীত হন তখন নবুয়ত (কোরআন নাজিল শুরু হয়) লাভ করেন। অর্থাৎ ৬০৯ খ্রিস্টাব্দে কোরআন শরীফ অবতীর্ণ হওয়া শুরু হয়ে দীর্ঘ ২৩ বছরে (৬৩২ খ্রিস্টাব্দে) তা পরিপূর্ণ হয়। তাহলে বলতে হবে ৬০৯ থেকে ৬৩২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে অথবা এরও অনেক পরে কোন এক সময় এই পা-ুলিপি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এটা অতি সাধারণ একটি বিষয় হলেও পাশ্চাত্যের গবেষকদের তা বোধগম্য হচ্ছে না। কারণ হয়তো তাদের ইসলামবিষয়ক জ্ঞান একেবারেই সীমিত। আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর বেলায়ও এমনটি হতে পারে। তিনি সাংবাদিক হিসেবে বিজ্ঞ হতে পারেন। তাঁর লেখার শত শত পাঠক থাকতে পারে। কিন্তু এজন্য তিনি যে সব বিষয়েই পারদর্শী হবেনÑএমন কথা বলা যাবে না। যে যে বিষয়ে পারদর্শী সে বিষয়েই কাজ করা উচিত। সারাবিশ্বে সাংবাদিকতায় বিট (নির্দিষ্ট বিভাগ) পদ্ধতি আছে। অর্থনীতি বিটের সাংবাদিককে যেমন পলিটিক্যাল বিটে রিপোর্টিংয়ে পাঠানো হয় না, তেমনি রমজান মাসকে স্বাগত জানিয়ে কোন স্পোর্টস রিপোর্টারকে নিউজ লিখতে বলা হবে না। আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী ‘একাডেমিক’ আলোচনায় কোরআন-হাদিস নিয়ে নাড়াচাড়া না করলেই পারতেন। কারণ এটি তার বিট-এর আওতায় নয়। আবু হোরায়রা ও আবু বকর নামের অর্থ সাংবাদিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী রাসুল (সাঃ)-এর সবচেয়ে বেশি হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবী হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) ও ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রাঃ)-এর নামের অর্থ ব্যাখ্যা করে এসব নাম কেন রাখা হয় তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দৃষ্টিতে বাংলাদেশের মানুষ এসব নামের অর্থ না জেনে, না বুঝেই রাখে। আরবের মানুষ এই নামগুলো ব্যবহার করেন না। তিনি নামের অর্থ অনুবাদ করেছেন এভাবেÑ আবু হোরায়রা অর্থ বিড়ালের বাবা, আবু বকর অর্থ ছাগলের বাবা। এখানে তিনি কী ভুল করেছেন নিচের নামবিষয়ক আলোচনা থেকে পরিষ্কার হবে। প্রতিটি ভাষায় একটি শব্দের ভিন্ন ভিন্ন অর্থ হয়ে থাকে। তেমনি আরবি ভাষায়ও একটি শব্দের একাধিক অর্থ রয়েছে। কোন কোন সময় একটি শব্দের ১০-১২টি অর্থও হয়। ‘আবু’ শব্দটির একটি অর্থ হচ্ছে পিতা। কিন্তু এর একাধিক অর্থ রয়েছে। আবু হোরায়রা নামের ক্ষেত্রে আবু শব্দটি ওয়ালা বা অধিকারী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে বলেই আরবি ভাষাবিদরা অভিমত দিয়েছেন। আর হোরায়রা অর্থ বিড়াল। সুতরাং আবু হোরায়রা নামের অর্থ বিড়ালওয়ালা অথবা বিড়ালের মালিক। আবু হোরায়রা (রাঃ)-এর প্রকৃত নাম ছিলো আবদুল্লাহ বা আবদুর রহমান। তিনি বিড়াল ও বিড়ালের বাচ্চা খুব বেশি পছন্দ করতেন। একদিন তিনি রাসুল (সাঃ)-এর সম্মুখে উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ তার আস্তিন বা জামার ভেতর থেকে একটি বিড়ালের বাচ্চা বের হয়। এ দেখে রাসুল (সাঃ) তাঁকে মৃদু হেসে বলে উঠেন, হে আবু হোরায়রা। অর্থাৎ হে বিড়ালওয়ালা বা বিড়ালের মালিক। এখানে রাসুল তাঁকে বিড়ালের বাবা অর্থে সম্বোধন করেন নি। অনুরূপ আবু বকর নামটিরও সুন্দর অর্থ রয়েছে। বকর শব্দটি বুকরা থেকে নির্গত। বুকরা অর্থ প্রত্যুষ। আবু বকর অর্থ যিনি প্রত্যুষে বা সর্বাগ্রে চলেন। যিনি অগ্রগামী। আর আবু শব্দটি যেহেতু ওয়ালা অর্থে ব্যবহৃত হয় তাই আবু বকর অর্থ হচ্ছে যিনি আগে চলেন। শুদ্ধ বাংলায় বললে অর্থ দাঁড়াবে অগ্রপথিক। এছাড়াও কোন কোন ক্ষেত্রে বকর শব্দটি যুবক উট অর্থে ব্যবহৃত হয়। এ ক্ষেত্রে আবু বকর শব্দযুগলের অর্থ দাঁড়াবে উটওয়ালা বা উটের মালিক। কিন্তু আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী কেন আবু বকর নামের অর্থ ছাগলের বাবা বললেন জানি না। সাধারণত বাংলাদেশে ছাগলকে বকরি বলা হয়। তিনি সম্ভবত বাংলাদেশী তরজমাটি গ্রহণ করে বলেছেন, আবু বকর অর্থ ছাগলের বাবা। তিনি আরও বলেছেন, এসব নামে আরবে কোন মানুষের নাম নেই। কিন্তু অনুসন্ধানে এই নামে শত শত মানুষ পাওয়া যাবে। আবু বকর আল রাজি, আবু বকর আল জাযায়েরী, আবু বকর আল জাস্সাস নামক শিক্ষক ও প-িত ব্যক্তিদের নাম রয়েছে আরবে। আবু হোরায়রা ছিলেন রাসুল (সাঃ)-এর একজন বিশ্বস্ত সহচর। তিনি সার্বক্ষণিক রাসুল (সাঃ)-এর সাহচর্যে থাকতেন। চরম ক্ষুধায় ছটফট করলেও মসজিদে নববীতে আল্লাহর রাসুল (সাঃ)কে একা ফেলে তিনি কখনো ঘরে ফিরে যেতেন না। কারণ আল্লাহর রাসুল কখন কী বলেন, আর তিনি যদি না শুনেন তাহলে তা হয়তো পরবর্তীতে হাদিস হিসেবে লিপিবদ্ধ হবে না, এই ভয়ে। তাইতো তিনি আজ বোখারী মুসলিমসহ সকল হাদিস গ্রন্থের শিরোমণি। সিংহভাগ হাদিসের শুরুতেই “আন আবি হোরায়রাতা (রাঃ) আনহু...” বলে হাদিস শুরু করতে হয়। অন্যদিকে হযরত আবু বকর (রাঃ) ছিলেন ইসলামের প্রথম খলিফা। যে ১০ সাহাবা আল্লাহর রাসুল (সাঃ)-এর কাছ থেকে বেহেশতের সার্টিফিকেট পেয়েছেন তাদের মধ্যে আবু বকর হচ্ছেন একজন। সুতরাং নামের শাব্দিক অর্থ বিবেচনা না করে বরং মর্যাদার দিক বিবেচনা করে এই দুই নামে যদি কেউ নিজের সন্তানের নামকরণ করে থাকে, তাহলে মন্দের কিছু দেখি না। নাম দুটো নিয়ে উপহাসের ছলে কথা বলারও কোন কারণ দেখতে পাই না। বরং দুইজন বড় সাহাবী হিসেবে তাঁদের নাম সম্মানের সঙ্গে উচ্চারণ করা উচিত ছিলো। গাফ্ফার চৌধুরী এই দুই সাহাবীর নাম নিয়ে কথা বলার সময় রাদিয়াল্লাহু আনহু (আল্লাহ তাঁর উপর সন্তুষ্ট) শব্দটি পর্যন্ত উচ্চারণ করেননি। তিনি বরং বলেছেন, রাসুল (সাঃ) ঠাট্টা করে আবু হোরায়রা বলেছেন। রাসুল (সাঃ) তো এভাবে কাউকে নিয়ে কখনো ঠাট্টা করেন নি। তিনি বরং আদর করেই প্রখ্যাত এই সাহাবীকে আবু হোরায়রা বলে সম্বোধন করেছিলেন। আর আবু হোরায়রা (রাঃ)-এর কাছেও সেই সম্বোধনটি ছিলো খুব প্রিয়। তাই এই নামেই তিনি পরিচিত হতে পছন্দ করতেন। রাসুলের পিতার নাম আবদুল্লাহ কী করে হলো? গাফ্ফার চৌধুরী তাঁর বক্তব্যের স্বপক্ষে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে নিউ ইয়র্কের একটি টেলিভিশনকে বলেছেন, “আল্লাহ নামতো আগে কাফেরদের দেবতার নাম ছিলো। তা না হলে রাসুলের পিতার নাম আবদুল্লাহ কী করে হলো? এটা তো মুসলমান নাম নয়।” আরবে কোথাও কোন দেবতার নাম আল্লাহ ছিলোÑএমন কোন দলিল- প্রমাণ নেই। তাছাড়া গাফ্ফার চৌধুরী বলেছেন, রাহমান, রাহিম, গাফুর এগুলো দেবতার নাম ছিলো। কিন্তু এর পক্ষে তিনি কোন রেফারেন্স কিংবা প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। ধর্মীয় বিষয়ে হাদিস ও কোরআনের রেফারেন্স ছাড়া মনগড়া কোন ব্যাখ্যা দেয়া গর্হিত অন্যায়। আল্লাহ শব্দটি আল্লাহতায়ালার মূল নাম। আর আবদুন শব্দের অর্থ বান্দা বা দাস। সুতরাং আবদুল্লাহ নামের অর্থ আল্লাহর বান্দা। রাসুলের (সাঃ) পিতা যদি কাফেরও হয়ে থাকেন তাহলে তার নামটি তো কোরআনিক নাম। একজন কাফেরের ইসলামিক নাম হতেই পারে। যেমনÑ কোন নাস্তিক ব্যক্তির নাম যদি আহমদ শরীফ হয়, তাহলে তাঁর নামটি তো আর নাস্তিক বা কাফের হয়ে যায় না। আহমদ তো মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আরও একটি নাম ছিলো। এখানে মুহাম্মদ (সাঃ)-এর পিতা-মাতা সম্পর্কে একটি বর্ণনা দিতে চাই। রাসুলের জন্মের ছয় মাস আগে তাঁর পিতা আবদুল্লাহ ইন্তিকাল করেন। আর জন্মের ৬ মাস পরে ইন্তিকাল করেন তাঁর মা আমেনা। তাঁর পিতা-মাতার পরকালীন অবস্থা কী হতে পারেÑ তা দুটি হাদিস থেকে পরিষ্কার হওয়া যেতে পারে। মুসলিম শরীফের ২০৩ নং হাদিসে হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একদিন রাসুল (সাঃ)-এর কাছে এক ব্যক্তি এসে বললোÑ হে আল্লাহর রাসুল আমার (মৃত) পিতা কোথায়? জবাবে রাসুল (সাঃ) বললেন, দোজখে। এ কথা শুনে লোকটি যখন বেরিয়ে যাচ্ছে তখন রাসুল (সাঃ) তাঁকে ডাকলেন এবং বললেন, নিশ্চয় আমার পিতা ও তোমার পিতা দোজখে। মুসলিম শরীফের ১৭৬৩ নম্বর হাদিসে হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে, একদিন রাসুল (সাঃ) তাঁর মা’র কবর জেয়ারত করতে গেলেন, তিনি সেখানে কাঁদলেন এবং তাঁর সঙ্গীরাও কাঁদলেন। এব্যাপারে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বললেন, আমি আল্লাহর কাছে আমার মায়ের রুহের মাগফেরাতের জন্য দোয়া করতে অনুমতি চেয়েছিলাম, আমাকে দোয়ার অনুমতির পরিবর্তে শুধু কবর জেয়ারত করার অনুমতি দেয়া হয়েছে এবং বলা হয়েছে তোমরা কবর জেয়ারত করো, এতে তোমাদের মৃত্যুর কথা স্মরণ হবে। এই হলো হাদিসের ভাষ্য। তবে এব্যাপারে অর্থাৎ রাসুলের পিতা-মাতা সম্পর্কে কোন ধরনের মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। হিজাবের পরিবর্তে শাড়ি পরা ও কপালে টিপ দেয়া বাঙালি সংস্কৃতি চর্চার জন্য হিজাব না পরে বরং শাড়ি এবং কপালে টিপ পরতে বলেছেন সাংবাদিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী। হিজাব হচ্ছে পর্দার একটি অনুষঙ্গ। ইসলাম আসার আগে আরবে মহিলারা পর্দাহীন চলাফেরা করতেন। এমনকি রাসুলের (সাঃ) স্ত্রীরাও পর্দা করতেন না। পঞ্চম অথবা ৬ষ্ঠ হিজরিতে পর্দার বিধান নাজিল হয়। সূরা আহযাবের ৫৯ নং আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলছেন, “হে নবী, আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে, আপনার মেয়েদেরকে ও বিশ্বাসীদের স্ত্রীদেরকে বলুন, ‘‘তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়। এতে করে তাঁদের চেনা সহজতর হবে (তাঁরা যে মুসলমান নারী) এবং তাদের উত্ত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু”। এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর থেকে মূলত মহিলারা নিজেদেরকে আবৃত বা পর্দা করতে শুরু করেন। পর্দা শরীয়তের একটি অর্ডার বা ফরজ বিধান। ফরজ কাজ ছাড়লে শাস্তি প্রাপ্য হয়। তবে কেউ কাফের বা অমুসলমান হয়ে যায় না। কিন্তু যদি কেউ আল্লাহতায়ালার বিধানের ব্যাপারে সাংঘর্ষিক কোন বক্তব্য দেয় অর্থাৎ আল্লাহর আদেশের বিরুদ্ধে কাজ করতে বলে তখন প্রতীয়মান হয় তিনি ফরজকেই অস্বীকার করছেন। হজ কি কাফেরদের দ্বারা প্রবর্তিত? আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী তাঁর বক্তব্যের স্বপক্ষে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আরও বলেছেন, হজও ইসলামের হজ নয়। এটাও ২ হাজার ৩ হাজার বছর আগে কাফেরদের প্রবর্তিত হজ। ইসলামে পূর্ণ হজরীতি ফরজ হয়েছে ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে। কিন্তু হজ তো মানব জাতির আদি পিতা হযরত আদম (আঃ)-এর সময়েও ছিলো। আদম (আঃ) পবিত্র কাবাঘর নির্মাণ করে তওয়াফ চালু করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন নবীর সময়ে বিভিন্ন নিয়মে হজের প্রচলন ছিলো। আজ থেকে প্রায় ৪ হাজার বছর আগে জাতির পিতা ইব্রাহিম (আঃ) হজ পুনঃপ্রবর্তন করেন। পবিত্র কোরআনের সুরা হাজ্জ-এর ২৭ নং আয়াতে আল্লাহ বলেছেন “হে ইব্রাহিম, মানুষের মধ্যে হজের ঘোষণা দাও...।” কিন্তু তাঁর ইন্তিকালের পর ধর্মকে বিকৃত করে অনুসারীরা মূর্তিপূজা শুরু করে। চালু করে ভিন্ন প্রক্রিয়ার হজ। কাফেররা উলঙ্গ হয়ে কাবাঘর তওয়াফ করতো এবং সাফা ও মারওয়া পর্বতে দৌড়াতো। আল্লাহতায়ালাই মুহাম্মদ (সাঃ)-এর উপর ওহি নাজিল করে হজের সঠিক পন্থা শিখিয়ে দেন। সুতরাং কাফেরদের হজ অনুসারে হজ প্রবর্তন হওয়ার কোন যৌক্তিকতা নেই। কোন প্রমাণাদিও নেই। কোরআন আল্লাহতায়ালার বাণী। মুহাম্মদ (সাঃ)-এর উপর এটি অবতীর্ণ হয়েছে। কোরআনের কথাগুলো একান্তই আল্লাহতায়ালার। জিবরাইল (আঃ) এসে রাসুল (সাঃ)কে বলেছেন। রাসুল (সাঃ) কথাগুলো মুখস্থ করেছেন। পরে তাঁর সঙ্গীদের জানিয়েছেন। মুসলমানরা দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ করেছেন। রাসুল (সাঃ) তাঁর মনগড়া কোন কিছু বলেন নি, করেন নি। এখন কেউ যদি বলেন, হজ কাফেরদের প্রবর্তিত। তাহলে প্রতীয়মান হবে কাফেরদের হজ থেকেই এই বিধান রাসুল (সাঃ) কোরআনে এডাপ্ট (সংযোজন) করেছেন। অর্থাৎ এটি আল্লাহতায়ালার বিধান নয়, মুহাম্মদ (সাঃ) কাফেরদের থেকে এটি প্রচলন করেছেন। আলোচনা আর দীর্ঘ করতে চাই না। অনেক দীর্ঘ হয়ে গেছে। আশাকরি এই আলোচনা বুঝতে সহায়তা করবে সাংবাদিক গাফ্ফার চৌধুরীর বক্তব্য কোরআন-হাদিসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি-না? পাদটীকা: যেহেতু লেখাটি অনেক অমুসলিমও পড়তে পারেন, যাদের কোরআন-হাদিস সম্পর্কে ধারণা নেই তাদের জন্য একটি পাদটীকা সংযোজনের প্রয়োজন বোধ করছি। কোরআনের কথাগুলো একান্তই আল্লাহতায়ালার। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)কে জিবরাইল আলাইহিস সালামের (ফেরেশতা বা দূতের নাম) মাধ্যমে আল্লাহতায়ালা তাঁর কথাগুলো জানিয়ে দেন। ৬০৯ থেকে ৬৩২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে দীর্ঘ ২৩ বছর সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সামান্য সামান্য করে ৩০ পারা কোরআন অবতীর্ণ হয়। আর হাদিস হচ্ছে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর বাণী। অর্থাৎ রাসুল (সাঃ) তাঁর জীবনে যেসব নির্দেশনা দিয়েছেন, যেসব কাজ করেছেন অথবা সমর্থন দিয়েছেন সেগুলোই হচ্ছে হাদিস। রাসুলের (সাঃ) জীবনের যাবতীয় কর্মকা- একাধিক গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে ভারতীয় উপমহাদেশের হাদিস বিশেষজ্ঞদের মতে সিহাহ সিত্তাহ বা বিশুদ্ধ ছয়টি গ্রন্থ হচ্ছেÑ বোখারী, মুসলিম, তিরমিজি, আবু দাউদ, ইবনে মাজা, নাসাঈ। এই ছয়টির মধ্যে বোখারী ও মুসলিম হচ্ছে সবচেয়ে বিশুদ্ধ হাদিস গ্রন্থ। এ লেখায় আমি বোখারী ও মুসলিম শরীফের বিশুদ্ধ হাদিসগুলোই উল্লেখ করেছি। মুসলমান মাত্র কোরআন-হাদিসের সবগুলো কথা বা নির্দেশনার প্রতি অবশ্যই শতভাগ বিশ্বাস থাকতে হবে। এছাড়াও এ লেখায় কিছু আরবি বাক্যের সংক্ষিপ্ত রূপ রয়েছে। এব্যাপারে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দেয়া প্রয়োজন। যেমন (সাঃ) শব্দটি সংক্ষিপ্ত হয়েছে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে। এর অর্থ ‘আল্লাহতায়ালা তাঁর ওপর শান্তি প্রেরণ করুন।’ (সাঃ) বাক্যটি শুধুমাত্র রাসুলের নাম উচ্চারণের পর বলতে হয়। (রাঃ) শব্দটি রাদিয়াল্লাহু আনহু’র সংক্ষিপ্ত রূপ। এর অর্থ ‘আল্লাহতায়ালা তাঁর ওপর সন্তুষ্ট’। সাহাবা অর্থাৎ রাসুলের সঙ্গীদের (যেমন: আবু বকর, আবু হোরায়রা, ওমর) নাম উচ্চারণ করার পর এই বাক্যটি উচ্চারণ করতে হয়। (রাহঃ) বাক্যটি রাহমাতুল্লাহ আলাইহি’র সংক্ষিপ্ত রূপ। বাক্যটির অর্থ তার ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। সাধারণত এই বাক্যটি বিশিষ্ট আলেম ও চিন্তাবিদদের (ইমাম আবু হানিফা, হযরত শাহজালাল, হযরত শাহপরান প্রমুখ) নাম উচ্চারণ করার পর বলতে হয়। আর (আঃ) বাক্যটি সংক্ষিপ্ত হয়েছে আলাইহিস সালাম থেকে। এই বাক্যের অর্থ আল্লাহ তাঁর উপর করুণা করুন। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ছাড়া অন্যান্য নবী- রাসুলদের নামের পর এই বাক্যটি উচ্চারণ করা হয় যেমন: ইব্রাহিম (আঃ), ইসা (আঃ), দাউদ (আঃ)। লেখক: সম্পাদক, সাপ্তাহিক দেশ, লন্ডন
তিন. হযরত নুহ (আঃ)-এর মহাপ্লাবনের পর থেকে হযরত ইব্রাহিম (আঃ)- এর আগমনের পূর্ব পর্যন্ত সময়ে মক্কা নগরীতে কোন মানুষের বসতি ছিলো না। বোখারী শরীফের ৮৩৩ নং হাদিসে এব্যাপারে বিশদ বর্ণনা রয়েছে। হাদিসের সারসংক্ষেপ হচ্ছেÑ যখন ইব্রাহিম (আঃ)-এর স্ত্রী সারাহ ও হাজেরার মধ্যে চরম দ্বন্দ্ব দেখা দেয়, তখন তিনি আল্লাহতায়ালার নির্দেশে হাজেরা ও শিশুপুত্র ইসমাইলকে নির্বাসনে পাঠাতে মক্কা নগরীতে নিয়ে গেলেন এবং বর্তমান জমজম কূপের পাশে জনমানবহীন ভূমিতে একা রেখে ফিরে গেলেন। তখন সেখানে কোন পানি ছিলো না। ইব্রাহিম (আঃ) তাঁদেরকে যে সামান্য খেজুর ও পানি দিয়েছিলেন তা কিছু দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। হাজেরা দুগ্ধপোষ্য শিশুকে পানি পান করানোর জন্য অস্থির হয়ে পড়েন। সাফা ও মারওয়া পর্বত দুটোর উপরে উঠে সমতল ভূমির দিকে লক্ষ্য করে মানুষের খোঁজ করতে থাকেন। এভাবে তিনি সাফা ও মারওয়া পর্বতের একটি থেকে অপরটিতে সাতবার দৌড়াদৌড়ি করেন (এ জন্য পরবর্তী হজের সময় হাজীদের ৭ বার দৌড়ানো অপরিহার্য হয়ে যায়)। একসময় তিনি একটি শব্দ শুনতে পান এবং একজন ফেরেশতা দেখতে পান। ঐ ফেরেশতা পায়ের গোড়ালি দিয়ে মাটিতে আঘাত করেন। এতে করে কূপের সৃষ্টি হয় এবং মাটি ফেটে পানি বের হতে শুরু থাকে। এটাই হলো আজকের জমজম কূপ। পরবর্তীতে জমজম কূপ এলাকায় পাখির উড়াউড়ি দেখে দূর থেকে একদল লোক অনুমান করে সেখানে সম্ভবত পানি থাকতে পারে। তারা পানির অনুসন্ধানে সেখানে ছুটে আসে এবং পানি পেয়ে যায়। একসময় হাজেরার অনুমতি নিয়ে তাঁরা সেখানে বসবাস শুরু করে। ওরা ছিলো জুরহুম সম্প্রদায়ের লোক। ইসমাইল (আঃ) তাদের কাছ থেকে আরবি ভাষা শিক্ষা গ্রহণ করেন। এভাবেই মক্কা নগরীতে মানুষের বসবাস শুরু হয়। পরবর্তীতে ইব্রাহিম (আঃ) ফিরে আসেন। তিনি ও পুত্র ইসমাইল মিলে কাবাঘর নির্মাণ করেন। তিনি শরীয়তপ্রাপ্ত হন এবং আল্লাহর একাত্ববাদ প্রচার শুরু করেন। তখন মক্কা নগরীর মানুষ এক আল্লাহর উপাসনা করতো। আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করতো না। কাবাঘরে কোন মূর্তি কিংবা দেবতা ছিলো না। কিন্তু পরবর্তীতে তাঁর অনেক অনুসারী ধর্মকে বিকৃত করে মূর্তিপূজা শুরু করে। তারা কাবাঘরে ৩৬০টি মূর্তি স্থাপন করে প্রত্যেকটির পৃথক পৃথক নামকরণ করে। আরবের বিভিন্ন স্থানে তারা লাত, ওজ্জা ও মানাত নামে তিনটি বড় দেবতা স্থাপন করে। কাফেররা বলতো এগুলো আল্লাহতায়ালার নাম। তাই আল্লাহতায়ালা পবিত্র কুরআনের ২৭ নং পারায় সূরা আল-নজমের ১৯, ২০ ও ২৩ নম্বর আয়াতে এই তিনটি মূর্তির কথা উল্লেখ করে ঘোষণা দেন এসব নামের সঙ্গে তাঁর ন্যূনতম কোন সম্পৃক্ততা নেই। আল্লাহতায়ালা উক্ত তিনটি আয়াতে বলেন “তোমরা কি ভেবে দেখেছো লাত ও ওজ্জা সম্পর্কে এবং তৃতীয় আরেকটি (দেবী) মানাত সম্পর্কে? (মূলত) এগুলো কতিপয় (দেব-দেবীর) নাম ছাড়া কিছুই নয়, যা তোমরা নিজেরা এবং তোমাদের বাপ-দাদারা ঠিক করে নিয়েছো। আল্লাহতায়ালা এর (নামে) সমর্থনে কোন রকম দলিল প্রমাণ নাজিল করেননি। সুতরাং, আল্লাহর গুণবাচক নাম আগে থেকেই ছিলো। কাফেররা মূর্তি তৈরি ও পূজা শুরু করে ইব্রাহিম (আঃ)-এর ইন্তিকালের অনেক পরে। সুতরাং দেবতার নাম থেকে আল্লাহর নামকরণের কোন সুযোগ নেই। কারণ আল্লাহর নাম অনেক আগে, দেবতা তৈরি ও পূজা শুরু হয় অনেক পরে। আর হাদিস দ্বারাই প্রমাণিত হয়, আরবি ভাষা ছিলো ঐ জুরহুম সম্প্রদায়ের ভাষা। ইসমাইল (আঃ) তাদের কাছ থেকে ভাষা শিখেছিলেন। তাহলে আরবি কাফেরদের ভাষা ছিলো না, কাফেররা পরবর্তীতে এ ভাষায় কথা বলে। আর লাত, ওজ্জা ও মানাত সম্পর্কে হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে তাফসীরে ইবনে কাসিরে বলা হয়েছে, লাত নামে জাহিলিয়াত যুগে একজন সৎ লোক ছিলেন। তিনি হজ মওসুমে পানির সঙ্গে পাউডার মিশিয়ে হাজীদের পান করাতেন। তাঁর মৃত্যুর পর লোকজন তাঁর কবরের সেবা শুরু করে। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে তার ইবাদত শুরু করে। এভাবেই তখনকার আরবে সৎ মানুষের নামে মূর্তি তৈরি করে লোকজন তাদের এবাদত (মূর্তিপূজা) করতো। চার. ইসলাম আসার আগে কি আরবে আল্লাহর গুণবাচক নামের ব্যবহার ছিলো? এই প্রশ্নটি অনেকের মনেই দেখা দিতে পারে। হ্যাঁ, ইসলাম আসার আগেও আরবে আল্লাহর অনেক নামের ব্যবহার ছিলো। কারণ মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আগে আরও লক্ষাধিক নবী পৃথিবীতে এসেছেন। কেউ নতুন শরীয়ত পেয়েছেন, কেউ পুরাতন শরীয়ত প্রচার করেছেন। কারো উপরে বড় ধর্মগ্রন্থ, আবার কারো উপর ছোট ধর্মগ্রন্থ (সহিফা) নাজিল হয়েছে। এসব ধর্মগ্রন্থের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর গুণবাচক নামগুলো সম্পর্কে জানতে পেরেছে এবং আরবে এর প্রচলন ছিলো। এতো সাধারণ একটি বিষয় আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর মতো একজন বিজ্ঞ সাংবাদিকের কাছে কেন পরিষ্কার নয়, এটা আমার বোধগম্য নয়। তবে ধর্ম সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকলে এই সাধারণ ভুলগুলো যে কারো ক্ষেত্রেই হওয়া খুবই স্বাভাবিক। অতিসম্প্রতি যেমনটি করেছেন অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির রেডিওকার্বন বিভাগের একদল গবেষক। বার্মিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আবিষ্কৃত পবিত্র কোরআনের প্রাচীনতম পা-ুলিপিটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাঁরা ৯৫ ভাগ নিশ্চয়তার সঙ্গে বলেছেন, এটি ৫৬৮ থেকে ৬৪৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী কোন সময়ে লেখা। কিন্তু আমার মতে পা-ুলিপিটি যতই প্রাচীন হোক এটি ৬০৯ খ্রিস্টাব্দের আগে লিপিবদ্ধ করার কোন সুযোগই নেই। কারণ রাসুল (সাঃ) জন্মগ্রহণ করেন ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে। আর ৬০৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি যখন ৪০ বছর বয়সে উপনীত হন তখন নবুয়ত (কোরআন নাজিল শুরু হয়) লাভ করেন। অর্থাৎ ৬০৯ খ্রিস্টাব্দে কোরআন শরীফ অবতীর্ণ হওয়া শুরু হয়ে দীর্ঘ ২৩ বছরে (৬৩২ খ্রিস্টাব্দে) তা পরিপূর্ণ হয়। তাহলে বলতে হবে ৬০৯ থেকে ৬৩২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে অথবা এরও অনেক পরে কোন এক সময় এই পা-ুলিপি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এটা অতি সাধারণ একটি বিষয় হলেও পাশ্চাত্যের গবেষকদের তা বোধগম্য হচ্ছে না। কারণ হয়তো তাদের ইসলামবিষয়ক জ্ঞান একেবারেই সীমিত। আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর বেলায়ও এমনটি হতে পারে। তিনি সাংবাদিক হিসেবে বিজ্ঞ হতে পারেন। তাঁর লেখার শত শত পাঠক থাকতে পারে। কিন্তু এজন্য তিনি যে সব বিষয়েই পারদর্শী হবেনÑএমন কথা বলা যাবে না। যে যে বিষয়ে পারদর্শী সে বিষয়েই কাজ করা উচিত। সারাবিশ্বে সাংবাদিকতায় বিট (নির্দিষ্ট বিভাগ) পদ্ধতি আছে। অর্থনীতি বিটের সাংবাদিককে যেমন পলিটিক্যাল বিটে রিপোর্টিংয়ে পাঠানো হয় না, তেমনি রমজান মাসকে স্বাগত জানিয়ে কোন স্পোর্টস রিপোর্টারকে নিউজ লিখতে বলা হবে না। আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী ‘একাডেমিক’ আলোচনায় কোরআন-হাদিস নিয়ে নাড়াচাড়া না করলেই পারতেন। কারণ এটি তার বিট-এর আওতায় নয়। আবু হোরায়রা ও আবু বকর নামের অর্থ সাংবাদিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী রাসুল (সাঃ)-এর সবচেয়ে বেশি হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবী হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) ও ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রাঃ)-এর নামের অর্থ ব্যাখ্যা করে এসব নাম কেন রাখা হয় তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দৃষ্টিতে বাংলাদেশের মানুষ এসব নামের অর্থ না জেনে, না বুঝেই রাখে। আরবের মানুষ এই নামগুলো ব্যবহার করেন না। তিনি নামের অর্থ অনুবাদ করেছেন এভাবেÑ আবু হোরায়রা অর্থ বিড়ালের বাবা, আবু বকর অর্থ ছাগলের বাবা। এখানে তিনি কী ভুল করেছেন নিচের নামবিষয়ক আলোচনা থেকে পরিষ্কার হবে। প্রতিটি ভাষায় একটি শব্দের ভিন্ন ভিন্ন অর্থ হয়ে থাকে। তেমনি আরবি ভাষায়ও একটি শব্দের একাধিক অর্থ রয়েছে। কোন কোন সময় একটি শব্দের ১০-১২টি অর্থও হয়। ‘আবু’ শব্দটির একটি অর্থ হচ্ছে পিতা। কিন্তু এর একাধিক অর্থ রয়েছে। আবু হোরায়রা নামের ক্ষেত্রে আবু শব্দটি ওয়ালা বা অধিকারী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে বলেই আরবি ভাষাবিদরা অভিমত দিয়েছেন। আর হোরায়রা অর্থ বিড়াল। সুতরাং আবু হোরায়রা নামের অর্থ বিড়ালওয়ালা অথবা বিড়ালের মালিক। আবু হোরায়রা (রাঃ)-এর প্রকৃত নাম ছিলো আবদুল্লাহ বা আবদুর রহমান। তিনি বিড়াল ও বিড়ালের বাচ্চা খুব বেশি পছন্দ করতেন। একদিন তিনি রাসুল (সাঃ)-এর সম্মুখে উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ তার আস্তিন বা জামার ভেতর থেকে একটি বিড়ালের বাচ্চা বের হয়। এ দেখে রাসুল (সাঃ) তাঁকে মৃদু হেসে বলে উঠেন, হে আবু হোরায়রা। অর্থাৎ হে বিড়ালওয়ালা বা বিড়ালের মালিক। এখানে রাসুল তাঁকে বিড়ালের বাবা অর্থে সম্বোধন করেন নি। অনুরূপ আবু বকর নামটিরও সুন্দর অর্থ রয়েছে। বকর শব্দটি বুকরা থেকে নির্গত। বুকরা অর্থ প্রত্যুষ। আবু বকর অর্থ যিনি প্রত্যুষে বা সর্বাগ্রে চলেন। যিনি অগ্রগামী। আর আবু শব্দটি যেহেতু ওয়ালা অর্থে ব্যবহৃত হয় তাই আবু বকর অর্থ হচ্ছে যিনি আগে চলেন। শুদ্ধ বাংলায় বললে অর্থ দাঁড়াবে অগ্রপথিক। এছাড়াও কোন কোন ক্ষেত্রে বকর শব্দটি যুবক উট অর্থে ব্যবহৃত হয়। এ ক্ষেত্রে আবু বকর শব্দযুগলের অর্থ দাঁড়াবে উটওয়ালা বা উটের মালিক। কিন্তু আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী কেন আবু বকর নামের অর্থ ছাগলের বাবা বললেন জানি না। সাধারণত বাংলাদেশে ছাগলকে বকরি বলা হয়। তিনি সম্ভবত বাংলাদেশী তরজমাটি গ্রহণ করে বলেছেন, আবু বকর অর্থ ছাগলের বাবা। তিনি আরও বলেছেন, এসব নামে আরবে কোন মানুষের নাম নেই। কিন্তু অনুসন্ধানে এই নামে শত শত মানুষ পাওয়া যাবে। আবু বকর আল রাজি, আবু বকর আল জাযায়েরী, আবু বকর আল জাস্সাস নামক শিক্ষক ও প-িত ব্যক্তিদের নাম রয়েছে আরবে। আবু হোরায়রা ছিলেন রাসুল (সাঃ)-এর একজন বিশ্বস্ত সহচর। তিনি সার্বক্ষণিক রাসুল (সাঃ)-এর সাহচর্যে থাকতেন। চরম ক্ষুধায় ছটফট করলেও মসজিদে নববীতে আল্লাহর রাসুল (সাঃ)কে একা ফেলে তিনি কখনো ঘরে ফিরে যেতেন না। কারণ আল্লাহর রাসুল কখন কী বলেন, আর তিনি যদি না শুনেন তাহলে তা হয়তো পরবর্তীতে হাদিস হিসেবে লিপিবদ্ধ হবে না, এই ভয়ে। তাইতো তিনি আজ বোখারী মুসলিমসহ সকল হাদিস গ্রন্থের শিরোমণি। সিংহভাগ হাদিসের শুরুতেই “আন আবি হোরায়রাতা (রাঃ) আনহু...” বলে হাদিস শুরু করতে হয়। অন্যদিকে হযরত আবু বকর (রাঃ) ছিলেন ইসলামের প্রথম খলিফা। যে ১০ সাহাবা আল্লাহর রাসুল (সাঃ)-এর কাছ থেকে বেহেশতের সার্টিফিকেট পেয়েছেন তাদের মধ্যে আবু বকর হচ্ছেন একজন। সুতরাং নামের শাব্দিক অর্থ বিবেচনা না করে বরং মর্যাদার দিক বিবেচনা করে এই দুই নামে যদি কেউ নিজের সন্তানের নামকরণ করে থাকে, তাহলে মন্দের কিছু দেখি না। নাম দুটো নিয়ে উপহাসের ছলে কথা বলারও কোন কারণ দেখতে পাই না। বরং দুইজন বড় সাহাবী হিসেবে তাঁদের নাম সম্মানের সঙ্গে উচ্চারণ করা উচিত ছিলো। গাফ্ফার চৌধুরী এই দুই সাহাবীর নাম নিয়ে কথা বলার সময় রাদিয়াল্লাহু আনহু (আল্লাহ তাঁর উপর সন্তুষ্ট) শব্দটি পর্যন্ত উচ্চারণ করেননি। তিনি বরং বলেছেন, রাসুল (সাঃ) ঠাট্টা করে আবু হোরায়রা বলেছেন। রাসুল (সাঃ) তো এভাবে কাউকে নিয়ে কখনো ঠাট্টা করেন নি। তিনি বরং আদর করেই প্রখ্যাত এই সাহাবীকে আবু হোরায়রা বলে সম্বোধন করেছিলেন। আর আবু হোরায়রা (রাঃ)-এর কাছেও সেই সম্বোধনটি ছিলো খুব প্রিয়। তাই এই নামেই তিনি পরিচিত হতে পছন্দ করতেন। রাসুলের পিতার নাম আবদুল্লাহ কী করে হলো? গাফ্ফার চৌধুরী তাঁর বক্তব্যের স্বপক্ষে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে নিউ ইয়র্কের একটি টেলিভিশনকে বলেছেন, “আল্লাহ নামতো আগে কাফেরদের দেবতার নাম ছিলো। তা না হলে রাসুলের পিতার নাম আবদুল্লাহ কী করে হলো? এটা তো মুসলমান নাম নয়।” আরবে কোথাও কোন দেবতার নাম আল্লাহ ছিলোÑএমন কোন দলিল- প্রমাণ নেই। তাছাড়া গাফ্ফার চৌধুরী বলেছেন, রাহমান, রাহিম, গাফুর এগুলো দেবতার নাম ছিলো। কিন্তু এর পক্ষে তিনি কোন রেফারেন্স কিংবা প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। ধর্মীয় বিষয়ে হাদিস ও কোরআনের রেফারেন্স ছাড়া মনগড়া কোন ব্যাখ্যা দেয়া গর্হিত অন্যায়। আল্লাহ শব্দটি আল্লাহতায়ালার মূল নাম। আর আবদুন শব্দের অর্থ বান্দা বা দাস। সুতরাং আবদুল্লাহ নামের অর্থ আল্লাহর বান্দা। রাসুলের (সাঃ) পিতা যদি কাফেরও হয়ে থাকেন তাহলে তার নামটি তো কোরআনিক নাম। একজন কাফেরের ইসলামিক নাম হতেই পারে। যেমনÑ কোন নাস্তিক ব্যক্তির নাম যদি আহমদ শরীফ হয়, তাহলে তাঁর নামটি তো আর নাস্তিক বা কাফের হয়ে যায় না। আহমদ তো মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আরও একটি নাম ছিলো। এখানে মুহাম্মদ (সাঃ)-এর পিতা-মাতা সম্পর্কে একটি বর্ণনা দিতে চাই। রাসুলের জন্মের ছয় মাস আগে তাঁর পিতা আবদুল্লাহ ইন্তিকাল করেন। আর জন্মের ৬ মাস পরে ইন্তিকাল করেন তাঁর মা আমেনা। তাঁর পিতা-মাতার পরকালীন অবস্থা কী হতে পারেÑ তা দুটি হাদিস থেকে পরিষ্কার হওয়া যেতে পারে। মুসলিম শরীফের ২০৩ নং হাদিসে হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একদিন রাসুল (সাঃ)-এর কাছে এক ব্যক্তি এসে বললোÑ হে আল্লাহর রাসুল আমার (মৃত) পিতা কোথায়? জবাবে রাসুল (সাঃ) বললেন, দোজখে। এ কথা শুনে লোকটি যখন বেরিয়ে যাচ্ছে তখন রাসুল (সাঃ) তাঁকে ডাকলেন এবং বললেন, নিশ্চয় আমার পিতা ও তোমার পিতা দোজখে। মুসলিম শরীফের ১৭৬৩ নম্বর হাদিসে হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে, একদিন রাসুল (সাঃ) তাঁর মা’র কবর জেয়ারত করতে গেলেন, তিনি সেখানে কাঁদলেন এবং তাঁর সঙ্গীরাও কাঁদলেন। এব্যাপারে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বললেন, আমি আল্লাহর কাছে আমার মায়ের রুহের মাগফেরাতের জন্য দোয়া করতে অনুমতি চেয়েছিলাম, আমাকে দোয়ার অনুমতির পরিবর্তে শুধু কবর জেয়ারত করার অনুমতি দেয়া হয়েছে এবং বলা হয়েছে তোমরা কবর জেয়ারত করো, এতে তোমাদের মৃত্যুর কথা স্মরণ হবে। এই হলো হাদিসের ভাষ্য। তবে এব্যাপারে অর্থাৎ রাসুলের পিতা-মাতা সম্পর্কে কোন ধরনের মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। হিজাবের পরিবর্তে শাড়ি পরা ও কপালে টিপ দেয়া বাঙালি সংস্কৃতি চর্চার জন্য হিজাব না পরে বরং শাড়ি এবং কপালে টিপ পরতে বলেছেন সাংবাদিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী। হিজাব হচ্ছে পর্দার একটি অনুষঙ্গ। ইসলাম আসার আগে আরবে মহিলারা পর্দাহীন চলাফেরা করতেন। এমনকি রাসুলের (সাঃ) স্ত্রীরাও পর্দা করতেন না। পঞ্চম অথবা ৬ষ্ঠ হিজরিতে পর্দার বিধান নাজিল হয়। সূরা আহযাবের ৫৯ নং আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলছেন, “হে নবী, আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে, আপনার মেয়েদেরকে ও বিশ্বাসীদের স্ত্রীদেরকে বলুন, ‘‘তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়। এতে করে তাঁদের চেনা সহজতর হবে (তাঁরা যে মুসলমান নারী) এবং তাদের উত্ত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু”। এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর থেকে মূলত মহিলারা নিজেদেরকে আবৃত বা পর্দা করতে শুরু করেন। পর্দা শরীয়তের একটি অর্ডার বা ফরজ বিধান। ফরজ কাজ ছাড়লে শাস্তি প্রাপ্য হয়। তবে কেউ কাফের বা অমুসলমান হয়ে যায় না। কিন্তু যদি কেউ আল্লাহতায়ালার বিধানের ব্যাপারে সাংঘর্ষিক কোন বক্তব্য দেয় অর্থাৎ আল্লাহর আদেশের বিরুদ্ধে কাজ করতে বলে তখন প্রতীয়মান হয় তিনি ফরজকেই অস্বীকার করছেন। হজ কি কাফেরদের দ্বারা প্রবর্তিত? আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী তাঁর বক্তব্যের স্বপক্ষে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আরও বলেছেন, হজও ইসলামের হজ নয়। এটাও ২ হাজার ৩ হাজার বছর আগে কাফেরদের প্রবর্তিত হজ। ইসলামে পূর্ণ হজরীতি ফরজ হয়েছে ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে। কিন্তু হজ তো মানব জাতির আদি পিতা হযরত আদম (আঃ)-এর সময়েও ছিলো। আদম (আঃ) পবিত্র কাবাঘর নির্মাণ করে তওয়াফ চালু করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন নবীর সময়ে বিভিন্ন নিয়মে হজের প্রচলন ছিলো। আজ থেকে প্রায় ৪ হাজার বছর আগে জাতির পিতা ইব্রাহিম (আঃ) হজ পুনঃপ্রবর্তন করেন। পবিত্র কোরআনের সুরা হাজ্জ-এর ২৭ নং আয়াতে আল্লাহ বলেছেন “হে ইব্রাহিম, মানুষের মধ্যে হজের ঘোষণা দাও...।” কিন্তু তাঁর ইন্তিকালের পর ধর্মকে বিকৃত করে অনুসারীরা মূর্তিপূজা শুরু করে। চালু করে ভিন্ন প্রক্রিয়ার হজ। কাফেররা উলঙ্গ হয়ে কাবাঘর তওয়াফ করতো এবং সাফা ও মারওয়া পর্বতে দৌড়াতো। আল্লাহতায়ালাই মুহাম্মদ (সাঃ)-এর উপর ওহি নাজিল করে হজের সঠিক পন্থা শিখিয়ে দেন। সুতরাং কাফেরদের হজ অনুসারে হজ প্রবর্তন হওয়ার কোন যৌক্তিকতা নেই। কোন প্রমাণাদিও নেই। কোরআন আল্লাহতায়ালার বাণী। মুহাম্মদ (সাঃ)-এর উপর এটি অবতীর্ণ হয়েছে। কোরআনের কথাগুলো একান্তই আল্লাহতায়ালার। জিবরাইল (আঃ) এসে রাসুল (সাঃ)কে বলেছেন। রাসুল (সাঃ) কথাগুলো মুখস্থ করেছেন। পরে তাঁর সঙ্গীদের জানিয়েছেন। মুসলমানরা দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ করেছেন। রাসুল (সাঃ) তাঁর মনগড়া কোন কিছু বলেন নি, করেন নি। এখন কেউ যদি বলেন, হজ কাফেরদের প্রবর্তিত। তাহলে প্রতীয়মান হবে কাফেরদের হজ থেকেই এই বিধান রাসুল (সাঃ) কোরআনে এডাপ্ট (সংযোজন) করেছেন। অর্থাৎ এটি আল্লাহতায়ালার বিধান নয়, মুহাম্মদ (সাঃ) কাফেরদের থেকে এটি প্রচলন করেছেন। আলোচনা আর দীর্ঘ করতে চাই না। অনেক দীর্ঘ হয়ে গেছে। আশাকরি এই আলোচনা বুঝতে সহায়তা করবে সাংবাদিক গাফ্ফার চৌধুরীর বক্তব্য কোরআন-হাদিসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি-না? পাদটীকা: যেহেতু লেখাটি অনেক অমুসলিমও পড়তে পারেন, যাদের কোরআন-হাদিস সম্পর্কে ধারণা নেই তাদের জন্য একটি পাদটীকা সংযোজনের প্রয়োজন বোধ করছি। কোরআনের কথাগুলো একান্তই আল্লাহতায়ালার। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)কে জিবরাইল আলাইহিস সালামের (ফেরেশতা বা দূতের নাম) মাধ্যমে আল্লাহতায়ালা তাঁর কথাগুলো জানিয়ে দেন। ৬০৯ থেকে ৬৩২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে দীর্ঘ ২৩ বছর সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সামান্য সামান্য করে ৩০ পারা কোরআন অবতীর্ণ হয়। আর হাদিস হচ্ছে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর বাণী। অর্থাৎ রাসুল (সাঃ) তাঁর জীবনে যেসব নির্দেশনা দিয়েছেন, যেসব কাজ করেছেন অথবা সমর্থন দিয়েছেন সেগুলোই হচ্ছে হাদিস। রাসুলের (সাঃ) জীবনের যাবতীয় কর্মকা- একাধিক গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে ভারতীয় উপমহাদেশের হাদিস বিশেষজ্ঞদের মতে সিহাহ সিত্তাহ বা বিশুদ্ধ ছয়টি গ্রন্থ হচ্ছেÑ বোখারী, মুসলিম, তিরমিজি, আবু দাউদ, ইবনে মাজা, নাসাঈ। এই ছয়টির মধ্যে বোখারী ও মুসলিম হচ্ছে সবচেয়ে বিশুদ্ধ হাদিস গ্রন্থ। এ লেখায় আমি বোখারী ও মুসলিম শরীফের বিশুদ্ধ হাদিসগুলোই উল্লেখ করেছি। মুসলমান মাত্র কোরআন-হাদিসের সবগুলো কথা বা নির্দেশনার প্রতি অবশ্যই শতভাগ বিশ্বাস থাকতে হবে। এছাড়াও এ লেখায় কিছু আরবি বাক্যের সংক্ষিপ্ত রূপ রয়েছে। এব্যাপারে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দেয়া প্রয়োজন। যেমন (সাঃ) শব্দটি সংক্ষিপ্ত হয়েছে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে। এর অর্থ ‘আল্লাহতায়ালা তাঁর ওপর শান্তি প্রেরণ করুন।’ (সাঃ) বাক্যটি শুধুমাত্র রাসুলের নাম উচ্চারণের পর বলতে হয়। (রাঃ) শব্দটি রাদিয়াল্লাহু আনহু’র সংক্ষিপ্ত রূপ। এর অর্থ ‘আল্লাহতায়ালা তাঁর ওপর সন্তুষ্ট’। সাহাবা অর্থাৎ রাসুলের সঙ্গীদের (যেমন: আবু বকর, আবু হোরায়রা, ওমর) নাম উচ্চারণ করার পর এই বাক্যটি উচ্চারণ করতে হয়। (রাহঃ) বাক্যটি রাহমাতুল্লাহ আলাইহি’র সংক্ষিপ্ত রূপ। বাক্যটির অর্থ তার ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। সাধারণত এই বাক্যটি বিশিষ্ট আলেম ও চিন্তাবিদদের (ইমাম আবু হানিফা, হযরত শাহজালাল, হযরত শাহপরান প্রমুখ) নাম উচ্চারণ করার পর বলতে হয়। আর (আঃ) বাক্যটি সংক্ষিপ্ত হয়েছে আলাইহিস সালাম থেকে। এই বাক্যের অর্থ আল্লাহ তাঁর উপর করুণা করুন। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ছাড়া অন্যান্য নবী- রাসুলদের নামের পর এই বাক্যটি উচ্চারণ করা হয় যেমন: ইব্রাহিম (আঃ), ইসা (আঃ), দাউদ (আঃ)। লেখক: সম্পাদক, সাপ্তাহিক দেশ, লন্ডন
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1373)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
August
(765)
-
▼
Aug 12
(26)
- গাফ্ফার চৌধুরীর বক্তব্যের একটি একাডেমিক জবাব- প্রস...
- পূর্ণ গণতন্ত্রের জন্য ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য
- কে এই সুন্দর পিচাই?
- নতুন নতুন সংকটে গ্রামীণ ব্যাংক by ফখরুল ইসলাম ও জা...
- ফুকুশিমার পর প্রথম পারমাণবিক চুল্লি চালু জাপানের
- লক্ষণ তো দেখতেই পাচ্ছি কিন্তু কারণটা যেন না ভুলি b...
- শাহজালাল বিমানবন্দরে হামলা চালিয়ে পণ্য ছিনতাই by ক...
- সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা মাত্র ১০৬ -বাঘ গণনা জরিপ ২০...
- মনে হচ্ছে তিনি আজ এখানে আমার সঙ্গে আছেন -সালমা সোব...
- সুন্দরবনে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ছয়জনকে আগের রাতেই আট...
- ৫ কারণে এবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফল খারাপ by শরি...
- বিচারহীনতায় বাড়ছে শিশু নির্যাতন
- আতঙ্কে দিন কাটছে ব্লগারদের
- মহাসড়কে সর্বোচ্চ গতিসীমা ৮০ কি: বাস্তবায়নের পথ খু...
- মরা মৌমাছি দিয়ে ‘ওষুধ’ তৈরি!
- এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর আনন্দে–উৎকণ্ঠায় স...
- নেতা কর্মীদের ‘খাই খাই’ ছাড়তে বললেন আশরাফ
- রাস্তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত, বাস উধাও! by কমল জোহা খান
- খালেদার লন্ডন সফর সুখকর হবে না -যুক্তরাজ্য আ.লীগের...
- রায়গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খোলা আকাশের ন...
- ‘মা তুমি শুধু কাঁদো কেন?’ by মানসুরা হোসাইন
- ‘যুক্তরাষ্ট্রে শুল্ক-কোটামুক্ত পণ্য প্রবেশের যৌক্ত...
- নীলাদ্রি হত্যার তদন্তে অগ্রগতি নেই, কেউ গ্রেপ্তার ...
- কামরুলকে পলাতক দেখিয়ে দেওয়া হচ্ছে অভিযোগপত্র
- প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলা আবার পুলিশের কাছে
- আজও প্রথম আলোতে আগুন, দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সভা
-
▼
Aug 12
(26)
-
▼
August
(765)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
মালয়েশিয়া
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
স্বাস্থ্য
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
জ্যোতির্বিজ্ঞান
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
জীবনযাপন
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
ইয়েমেন
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
Exclusive
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
জোহরান মামদানি
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
ইহুদি
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট

No comments:
Post a Comment