Sunday, April 7, 2013
আবির্ভাব ঘটেছে নতুন শক্তির by সাযযাদ কাদির
আবির্ভাব ঘটেছে নতুন শক্তির by সাযযাদ কাদির
দেশে আবির্ভাব ঘটেছে এক নতুন শক্তির।
বিরোধে বিবাদে দ্বন্দ্বে সংঘাতে সহিংসতায় সংক্ষুব্ধ রাজনীতির আকাশে উদিত,
উত্থিত হয়ে এ শক্তি এখন দেদীপ্যমান। এ উদয় আকস্মিক, অভাবনীয়।
বিদ্যমান
দুই পরাশক্তির কোলাহল ভেদ করে আরও এক পরাশক্তির আবির্ভাব ঘটতে পারে বলে
ধারণা ছিল না কারও। কিন্তু সেই আবির্ভাব ঘটেছে সত্যি সত্যি। এ শক্তির নাম
হেফাজতে ইসলাম। দেশের কোথায় কিভাবে সঞ্চিত ছিল এ শক্তি তা হয়তো অনুমান করা
সম্ভব হবে না অনেকের পক্ষে। কিন্তু ছিল যে তা গতকাল এক বিশাল গণঅভ্যুদয়ের
মাধ্যমে জানান দিয়েছেন তারা। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, তার জোটের ১৪ দল,
বামপন্থি মহল, সুশীল বুদ্ধিজীবী এবং ব্লগার ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট মিলে এক
শক্তি যখন দমন নির্যাতন শুরু করেছে অপর শক্তি বিরোধী বিএনপি, জামায়াত,
তাদের জোটের ১৮ দলের ওপর তখন তৃতীয় শক্তি হিসেবে দেখা দিলো হেফাজত ইসলাম।
স্মরণকালের বৃহত্তম গণসমাবেশ, লংমার্চ, সাংগঠনিক শক্তি দেখিয়ে তারা সবচেয়ে
কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে সরকারের প্রতি- সেই সঙ্গে বিদ্যমান অপরাজনীতির
বিরুদ্ধেও। ঘুষ-দুর্নীতি, লুট, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি সর্বস্ব দেউলিয়া
রাজনীতির বিরুদ্ধে নৈতিক শক্তিতে বলীয়ান এ এক আদর্শবাদী আন্দোলন-সংগ্রাম।
এদের স্লোগান অরাজনৈতিক। ধর্মানুভূতিতে আঘাতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চান তারা।
চান কঠোর আইন দ্বারা চরম শাস্তি। কোন দলের পক্ষে বা বিরুদ্ধে নয় তাদের ১৩
দফা দাবি। নষ্ট রাজনীতিতে আচ্ছন্ন সমাজে তারা চান ইসলামের সুমহান ভাবাদর্শে
উজ্জীবিত মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে। প্রচলিত রাজনীতিতে সেকুলার
চিন্তা-চেতনার ধারক বাহকদের জন্য এটাই এখন হয়ে উঠেছে চরম গাত্রদাহ ও
আতঙ্কের কারণ। তারা জানেন, হেফাজত ইসলামের অনড় অবস্থান ও লাগাতার কর্মসূচি
ধস নামাতে পারে তাদের ক্ষমতার ভিতে। তাদের প্রতিষ্ঠায় ঘটাতে পারে মারাত্মক
বিপর্যয়। প্রশ্ন এখন, নতুন শক্তির কাছে কি আপস করবে কায়েমি শক্তি? নাকি লড়ে
যেতে চাইবে সমানে সমানে- তা পরিণাম যা-ই হোক?
বাংলাদেশের রাজনীতি অভাবনীয়ভাবে তৃতীয় শক্তির আবির্ভাব অবশ্য নতুন নয়। ১৯৭৫, ১৯৮২, ১৯৯০, ২০০৬ সালে এমন আকস্মিক আত্মপ্রকাশ আমরা দেখেছি। তবে ’৯০-এর গণঅভ্যুত্থান বাদে আর সবই সেনাঘটিত। সেদিক থেকে ২০১৩’র এই অভ্যুদয় শুধু বৈশিষ্ট্যে স্বতন্ত্র নয়, এর তাৎপর্যও ব্যাপক। কারণ হেফাজতে ইসলাম উত্থিত হয়েছে বিশাল বাংলার বুক থেকে। সেনানিবাস বা রাজধানীর রাজপথ থেকে উঠে আসা শক্তি নয় সে। তার শক্তিতে নিহিত আছে বৃহত্তর সামাজিক বিপ্লবের বিস্ফোরক। সে শক্তি বোঝা যায় পরোক্ষে প্রত্যক্ষে সর্বোচ্চ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেও সরকার যখন তাদের লংমার্চ ও সমাবেশ ঠেকাতে ব্যর্থ হয়। আর এটাও বোঝা যায়, বাধা না দিলে কি হতে পারতো, কি ঘটতে পারতো গতকালের জনসমুদ্র রুদ্র রূপ ধারণ করলে। সেই ঘটনার আশঙ্কাই আজ কাঁপিয়ে দিয়েছে প্রতিষ্ঠার প্রতিভূদের, ক্ষমতার ভিত্তিমূলকে।
না, লড়াই শুরু হয়নি। রণক্ষেত্র হয়নি দেশ। দৃঢ় সংযম দু’পক্ষেই। তবে অবস্থান তাদের মুখোমুখি। এ অবস্থান থেকে হেফাজত একটুকুও সরেনি। সরকারও চাইছে না সরতে।
দু’পক্ষকে আজ এভাবে দু’দিকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে রাষ্ট্রের বৈষম্য ও বঞ্চনা। একদিকে ‘হ্যাভ’, আরেকদিকে ‘হ্যাভ নট’। একদিকে রাষ্ট্রের দুধ সর ক্ষীর খাওয়া আদরের সুপত্র, আরেকদিকে ঘোল মাঠা খেয়ে কোন রকমে বেঁচে থাকা অবহেলিত সন্তান। একদিন রাষ্ট্রের সকল সুযোগপ্রাপ্ত, সুবিধাভোগী, সর্বাধুনিক শিক্ষাদীক্ষায় সুসভ্য, আলোকিত, সুশীল, বুদ্ধিজীবী, সেকুলার, অভিজাত সমাজের প্রতিনিধি। লাঞ্ছিত আরেকদিকে দারিদ্র্য, বিত্তহীন শ্রমজীবী সাধারণ মানুষ। তাদের শ্রম ঘাম রক্ত শোষণ করে অর্জিত হয় মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা। তারা ধুঁকে ধুঁকে মরে মধ্যপ্রাচ্যে, বঙ্গোসাগরে ভূমধ্যসাগরে, আফ্রিকার মরুভূমিতে, দক্ষিণ আমেরিকার বনে-জঙ্গলে। এক পক্ষের আছে হাসিনা, খালেদা, ইন্ডিয়া, আমেরিকা। আরেক পক্ষের কেউ নেই আল্লাহ ছাড়া। প্রান্তিক অবস্থানে ঠেলে দেয়া এই তাদের সকল আশা-ভরসা তো এই একখানেই। সেখানেই এসেছে আঘাত। এ আঘাত এসেছে আসলে তাদের অস্তিত্বেই। সব কিছু সয়ে তারা যুগ যুগ ধরে মুখ বুজে রয়েছে নীরবেই। স্বাধীনতার পর কত জনের কত ভাগ্য বদলে গেল, কিন্তু তারা যে তিমিরে সেই তিমিরেই। মাত্র বছর তিনেক আগে মুখ খুলেছিল হেফাজতে ইসলাম। সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’। বাদ দেয়ায় ও নারীনীতি ঘোষণার প্রতিবাদে উচ্চারিত হয়েছিল তারা। মাঝেমধ্যে চট্টগ্রাম, বিচ্ছিন্ন ভাবে ঢাকায় সমাবেশ করেছে। শাহবাগ চত্বরের জাগরণ মঞ্চের নাস্তিক ব্লগারদের বিরুদ্ধে তারা সোচ্চার হয়েছে তাদের কর্মসূচির মাসখানেক পরে, গত ৯ই মার্চ। জানিয়েছে দাবি-দাওয়া। বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়েছে। শেষে সরকারের কার্যক্রমে হতাশ হয়ে নিয়েছে এই কর্মসূচি- যা গতকাল এক সুবিশাল জনবিস্ফোরণ ঘটিয়ে তাদের প্রতিষ্ঠিত করেছে নতুন এক পরাশক্তিতে। মাত্র তিন বছরে গড়ে ওঠা এই শক্তি দেশের রাজনীতিকে সহসাই কোনদিকে ধাবিত করবে তা হয়তো অনুমানও করতে পারছেন না অনেককে। কিন্তু জানেন তা করবেই কোন এক দিকে।
কাল হরতাল, ৫ই মে ঢাকা অবরোধ: ওদিকে আমাদের রিপোর্টার দীন ইসলাম, লায়েকুজ্জামান, হাসান শাফিঈ, কাজী সোহাগ, কাফি কামাল, সাজেদুল হক, আহমেদ জামাল, সিরাজুল ইসলাম, নূরুজ্জামান, সালমান ফরিদ, ফরিদ উদ্দীন আহমেদ ও কাজী সুমন জানান, ১৩ দফা দাবি পূরণে এবার এক মাসের আলটিমেটাম দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। এর মধ্যে দাবি আদায় না হলে ৫ই মে ঢাকা ঘেরাও করার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। এছাড়া আগামীকাল সারা দেশে ২৪ ঘণ্টা হরতালের ঘোষণা দিয়েছে তারা। গতকাল রাজধানীর শাপলা চত্বরে লাখ লাখ জনতার উপস্থিতিতে এই কর্মসূচি ঘোষণা দেয়া হয়। ঘোষিত কর্মসূচিতে রয়েছে ১১ই এপ্রিল সিলেটে শানে রেসালত সম্মেলন। ১২ই এপ্রিল শুক্রবার, বি. বাড়িয়ায় শানে রেসালত সম্মেলন। ১৩ই এপ্রিল শনিবার, মংমনসিংহে শানে রেসালত সম্মেলন। ১৮ই এপ্রিল বৃহস্পতিবার, বরিশালে শানে রেসালত সম্মেলন। ১৯শে এপ্রিল শুক্রবার, ফরিদপুরে শানে রেসালত সম্মেলন। ২০শে এপ্রিল শনিবার, খুলনায় শানে রেসালত সম্মেলন। ২৬শে এপ্রিল শুক্রবার, চট্টগ্রামে শানে রেসালত সম্মেলন। ২৯শে এপ্রিল সোমবার, রাজশাহীতে শানে রেসালত সম্মেলন। ৩০শে এপ্রিল মঙ্গলবার, বগুড়ায় শানে রেসালত সম্মেলন।
সমাবেশের সূচনা: নির্ধারিত সময় সকাল ১০টায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশ শুরু হয়। তবে তার আগেই দক্ষিণে টিকাটুলী মোড়, উত্তরে ফকিরেরপুল বাজার, পূর্বে কমলাপুর বাজার, পশ্চিমে, দৈনিক বাংলা মোড়, পল্টন মোড় উপচিয়ে প্রেস ক্লাব পর্যন্ত লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোকের উপস্থিতি আরও বাড়তে থাকে। রাজধানীর চতুর্দিক থেকে পায়ে হেঁটে হাজার হাজার মানুষ সমাবেশে অংশ নেয়। এতে মহাসমাবেশ যেন মহাজনসমুদ্রে রূপ নেয়। কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র শাপলা চত্বরের চারদিকের প্রায় ১০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা। দুপুরের পর মতিঝিল, আরামবাগ, ফকিরেরপুল, টিকাটুলী, নয়াপল্টন, পুরানা পল্টনসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার অলিগলি পর্যন্ত লোকজন অবস্থান নেয়। ওইসব অলিগলিতে মাইকের শব্দ শোনা যায়নি। তারপরও হেফাজত কর্মীরা ক্লান্তিহীনভাবে নানা স্লোগান দিয়ে সমাবেশের শেষ পর্যন্ত সরব থাকে। প্রায় সপ্তাহ জুড়ে টানটান উদ্বেগ-উত্তেজনা ছিল সামপ্রতিক কালের বৃহত্তম এই সমাবেশকে ঘিরে। ছিল সরকারি-বেসরকারি নানা পদ্ধতির বাধা-বিপত্তি। সমাবেশ মঞ্চ দখল কারার হুমকিও ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সকল বাধা পদদলিত করেছে জনতা। ইতিহাস সৃষ্টি করে হেফাজতে ইসলাম। দেশের লাখো ইসলামপন্থি মানুষের সামনে অধ্যাত্মিক নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন ৯৩ বছর বয়স্ক আল্লামা আহমদ শফী। বেলা পৌনে ৩টার দিকে মঞ্চে আসেন অরাজনৈতিক এই নেতা। তার আগে সংগঠনের বিভিন্ন সারির প্রায় ১২০ জন নেতা বক্তব্য রাখেন। মহাসমাবেশে মূল আকর্ষণ ছিলেন আল্লামা আহমদ শফী। তবে বয়সের ভারে ন্যূব্জ এই নেতা মাইকে দাঁড়িবে বক্তব্য দিতে পারেননি। তার লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান পুত্র মাওলানা আনাস মাদানী। তবে মহাসমাবেশ শেষে মোনাজাত করেন আল্লামা আহমদ শফী। মোনাজাতে তিনি বলেন, আল্লাহ তুমি এ সরকারকে ধর, নাস্তিকদের খতম কর। খেলাফত ছাত্র আন্দোলনের সুলতান মহীউদ্দিন সমাবেশে সুচনা বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে লিখিত বক্তব্যে আল্লামা শাহ্ শফী বলেন, হাজারও বাধা প্রতিবন্ধকতার জাল ছিন্ন-ভিন্ন করে সকল অপশক্তির রক্তচক্ষু এবং তাদের তাবৎ ষড়যন্ত্র ও বাধার পাহাড় ডিঙিয়ে হেফাজতে ইসলাম ১৩ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আজকের এই মহা জনসমুদ্রে উপস্থিত দেশের উলামা-মাশায়েখ, ছাত্র-শিক্ষক ও আমার সংগ্রামী তৌহীদী জনতা।
সত্যের কথা বললে, ন্যায় ও ইনসাফের কথা বললে বাতিল অপশক্তির গাত্রদাহ শুরু হয়, সত্যের টুঁটি চেপে ধরে হত্যা করার অপচেষ্টা করা হয়, কিন্তু বাতিল অপশক্তি কোনকালেই টিকে থাকতে পারেনি, অত্যন্ত গ্লানিকর অবস্থায় তাদের পরাজয় হয়েছে, ইতিহাস তার জ্বলন্ত সাক্ষী। এখনও কোন বাতিল শক্তি টিকে থাকতে পারবে না। তারাই ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। বিজয় হবে সত্যবাদীদের এই বিশ্বাস আমাদের আছে। কেননা আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন- সত্য সমাগত মিথ্যা অপসৃত নিশ্চয় মিথ্যা অপসৃয়মান। এই বাণী অচিরেই বাংলার মাটিতে বাস্তবায়িত হবে ইনশাআল্লাহ! তিনি বলেন, আপনারা হিম্মত করে বাতিলকে রুখে দাঁড়ান, বাতিল অপশক্তি আপনাদের পায়ের নিচে মাথানত করতে বাধ্য হবেই হবে। শয়তান হযরত আদম (আঃ)কে মিথ্যার পথে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল, তিনি শয়তানের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন বলেই শয়তান হয়েছে অভিশপ্ত, লানতপ্রাপ্ত ও বিতাড়িত। হযরত নূহ (আঃ) সত্যের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ছিলেন বলেই তার বিপথগামী জাতি ধ্বংস হয়েছিল। হযরত লুত (আঃ) হযরত ইউনূস (আঃ) সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন বলেই তাদের বিজয় অর্জিত হয়েছে। হযরত মূসা (আঃ) সত্যের পতাকা বহন করেছিলেন বলেই ফেরাউন ও তার বাহিনী সাগরে নিমজ্জিত হয়ে ধ্বংস হয়েছে। হযরত ইবরাহীম (আঃ) সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন বলেই আগুন তাকে জালাতে পারেনি; বরং একটি সামান্য মশার আক্রমণে নমরুদের অপমানজনক মৃত্যু হয়েছে। ইতিহাস সাক্ষী আবরাহা আল্লাহ্র ঘর ধ্বংস করতে বিশাল হস্তিবাহিনী নিয়ে এগিয়ে এলে তাকে এবং তার বাহিনীকে ছোট পাখির দ্বারা আল্লাহ্তায়ালা ধ্বংস করে দিয়েছেন। আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্যের আহ্বানকে স্তিমিত করার হীন মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে এসেছিল আবু জাহেল, আবু লাহাবসহ আরবের কাফের মুশরিকচক্র, কিন্তু তারাই পৃথিবীর আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। আর ইসলামের আলো ছড়িয়ে পড়েছে সমগ্র বিশ্ব জাহানে এরপর বহুবার চেষ্টা করা হয়েছে ইসলামের আলোকে নিভিয়ে দেয়ার, কিন্তু ইসলামের আলো নেভাতে সক্ষম হয়নি ইসলামের দুশমনরা। সত্যের পতাকাবাহীরা বাতিল শক্তিকে চুরমার করে দিয়ে তাদের ষড়যন্ত্রের জালকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন সব যুগেই। সেই ইতিহাস সবারই জানা। তিনি বলেন, বাতিলের এই আক্রমণ কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে, কিন্তু সাময়িক সফলতার আস্ফালন দেখালেও চূড়ান্ত সফলতা মুসলমানদেরই হবে। বাংলাদেশের মুসলমানরা বাতিলের ভয়ঙ্কর থাবায় আক্রান্ত, সংবিধান থেকে আল্লাহ্র উপর পূর্ণ আস্থা বিশ্বাস মুছে দিয়ে ফিরাউনী ও নমরূদী শাসনব্যবস্থা কায়েমের অপচেষ্টা দেশকে খোদায়ী গজব অনিবার্য করে তুলছে। আল্লাহ্কে কটাক্ষ করার মতো দুঃসাহস দেখানো হচ্ছে। আমার পেয়ারা নবী (সাঃ) এবং আমাদের প্রাণপ্রিয় ধর্ম ইসলামের অবমাননা করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করার কারণে তার শাস্তির ত্বরিৎ ব্যবস্থা নেয়া হলেও আল্লাহ ও তার রাসূলের বিরুদ্ধে কটূক্তিকারীদের শাস্তির আওতায় আনার কোন উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না; বরং হাইকোর্টের একজন বিচারপতি এ বিষয়টি সহযোগীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে গেলে তার বিরুদ্ধে সরকারি নির্দেশে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে হয়রানিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ব্লগার রাজীবকে শহীদ আখ্যা দেয়া হয়েছে, সংসদে তার প্রতি সম্মান দেখানো হয়েছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় শাহবাগের নাস্তিক ব্লগারদের ইসলামের বিরুদ্ধে উস্কে দেয়া হয়েছে। তারা ইসলামী রাজনীতি বন্ধের দাবি জানিয়ে স্পিকারকে স্মারকলিপি দেয়ার দুঃসাহস দেখিয়েছে। ইসলামের নিদের্শনাবলীকে চরমভাবে অবমাননা করা হয়েছে। আল্লামা শফী বলেন, কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী নারী-নীতি, ইসলাম বিরোধী শিক্ষানীতি পাস করা হয়েছে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ বিভিন্ন মসজিদে নামাজের সময় বিভিন্নভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং আলেম, ইমাম, খতিবদের হক কথা বলার কারণে তাদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন চালানো হচ্ছে-হত্যা, হুমকি-ধমকি, হামলা-মামলার মাধ্যমে তাদেরকে দমিয়ে রাখার অপচেষ্টা ও চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে। কাদিয়ানি এনজিওসহ ইসলাম বিরোধী অপশক্তিকে বিভিন্নভাবে আশ্রয়-প্রশয় দেয়া হচ্ছে। মুসলিম সভ্যতা সংস্কৃতিক ধ্বংস করে বিজাতীয় সভ্যতা সংস্কৃতি ও বেহায়াপনা বেলেল্লাপনা আমদানি করা হচ্ছে। মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলন, ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপনসহ শেরেকি কর্মকা ের মাধ্যমে মুসলিম এ দেশটিকে অগ্নিপূজারী ও মূর্তিপূজারীদের দেশ বানানোর চক্রান্ত হচ্ছে। ইসলামের কথা বললেই তাকে মৌলবাদ, জঙ্গিবাদের অপবাদ দিয়ে এদেশ থেকে চিরতরে ইসলাম উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। জঙ্গিবাদ দমনের নামে ইসলাম নির্মূলের উদ্দেশে বিদেশী সৈনিকদের এদেশে ডেকে আনার পাঁয়তারা চলছে।
এদেশের কোটি কোটি তৌহিদী জনতাকে সঙ্গে নিয়ে হেফাজতে ইসলাম শান্তিপূর্ণ উপায়ে দেশ ও ইসলাম বিরোধী এসব অপতৎপরতা বন্ধে বদ্ধপরিকর। কোন অপশক্তিই হেফাজতে ইসলামকে তার অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে দমাতে পারবে না। এ লক্ষ্যেই হেফাজতে ইসলাম ও দেশ ও ঈমান রক্ষার তাগিদে সুস্পষ্ট ১৩ দফা দাবি পেশ করে ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। এসব দাবি কোন রাজনৈতিক দাবি নয়। ক্ষমতা থেকে কাউকে সারানো বা কাউকে ক্ষমতায় বসানোর দাবি নয়। কিন্তু ক্ষমতায় থাকতে হলে এসব দাবি মেনেই থাকতে হবে, আবার ক্ষমতায় যেতে হলেও এসব দাবি মেনেই যেতে হবে। আমরা বারবার বলেছি আমাদের আন্দোলন ঈমান ও দেশ রক্ষার অহিংস আন্দোলন। এ আন্দোলনকে দমানোর অপচেষ্টা করা হলে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ। সরকার নির্বাচনের আগে ইসলাম বিরোধী কোরআন ও সুন্নাহ বিরোধী কোন কাজ না করার অঙ্গীকার নিয়ে ক্ষমতাসীন হলেও এখন তারা সুস্পষ্ট ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। সরকার আমাদের দাবি দাওয়ার প্রতি কর্ণপাত না করে দেশের কোটি কোটি মুসলমানদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। আমাদের আজকের এই লংমার্চ কর্মসূচিকে একটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ঘোষণা করা হলেও সরকার লাখো কোটি জনতার এই কর্মসূচি বানচালের সব প্রচেষ্টাই চালিয়েছে। সরকারের সহযোগী নাস্তিক মুরতাদদের ঘাদানি কমিটি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, পরিকল্পনামন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম এবং শাহবাগি নাস্তিক মুরতাদদের তথাকথিত গণজাগরণ মঞ্চের মাধ্যমে হরতাল-অবরোধ আহ্বান করিয়ে আমাদের শান্তিপূর্ণ এই কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। তারপরও আজকের এই মহাসমুদ্র প্রমাণ করে এদেশে নাস্তিক মুরতাদ ইসলাম বিরোধীদের ঠাঁই নেই। ঈমানদার জনতাই এদেশ নিয়ন্ত্রণের অধিকার রাখে। তিনি বলেন, আজ সারা বাংলাদেশে মহাগণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবি না মানা পর্যন্ত এই আন্দোলন আরও তীব্র থেকে তীব্রতর রূপ ধারণ করবে। যে আন্দোলনের তোড়ে এই ইসলাম বিরোধী সরকারের পরিণতি হবে ফেরাউন, নমরুদ, সাদ্দাদ, হামান, আবু জাহেল, আবু লাহাবের চেয়েও ভয়াবহ। তাই এখনও সময় আছে আল্লাহ্র গজব আসার আগেই আমাদের দাবিগুলো মেনে নিয়ে নিজেরাও বাঁচুন, দেশকে ও দেশের জনগণকে বাঁচান।
আজকের এই জনসমুদ্র প্রমাণ করেছে এদেশ চলবে আলেম-উলামা ও তৌহিদী জনতার কথায়। নাস্তিক মুরতাদ ব্লগারদের কথায় নয়। জীবনবাজি রেখে লংমার্চে অংশগ্রহণ করে আজকের এই মহাজনসমুদ্রকে নিজের অর্থ শ্রম খরচ করে স্বশরীরে হাজির হয়ে ঈমানী দায়িত্ব পালন করার জন্য হেফাজতে ইসলামের সকল নেতাকর্মী, অন্যান্য সংগঠন, দল, দেশের শীর্ষস্থানীয় উলামা মাশায়েখ, ইসলামী চিন্তাশীল ব্যক্তিবর্গ, সামাজিক সংগঠন, পেশাজীবী সংগঠন, মাদ্রাসা, স্কুল, কলেজ, ভার্সিটির ছাত্র শিক্ষকদের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন ও মোবারকবাদ জানাচ্ছি। যুবক তরুণ তোমরা ইসলামের মূল শক্তি, তাবৎ বাতিল জাগরণ স্তিমিত করার জন্য আজকের মতো ভবিষ্যতেও জীবনবাজি রেখে ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়ে শহীদ হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। আমি ঢাকা ও তার আশপাশের অঞ্চলের মানুষের লংমার্চ কাফেলাকে সার্বিক সহযোগিতার জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে ঈমান রক্ষা, দেশ রক্ষার যে আন্দোলনের সূচনা হয়ে গেছে মানযিলে মাকসুদে পৌঁছার আগ পর্যন্ত আমাদের আর ঘরে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে ঘোষণা দেন তিনি।
নেতারা যা বলেছেন: বসুন্ধরা রিসার্চ সেন্টারের মহাপরিচালক মুফতি আবদুর রহমান বলেন, সরকার লংমার্চকে নিয়ে দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করে আমাদেরকে কষ্ট দিয়েছে। এই সরকার নাস্তিকদের পক্ষ নিয়ে লংমার্চকে বাধা দিয়েছে। তাই এই সরকারের আর ক্ষমতায় রাখার সুযোগ নেই। সরকারকে ধরো, খতম করো। আল্লামা নূর হোসেন কাসেমী বলেন, যতদিন আমাদের ঈমানী দাবি পূরণ না হবে আন্দোলন চালিয়ে যাবো। মহাসমাবেশ প্রমাণ করে আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বিশ্বাসী। কিন্তু সরকার বাধা সৃষ্টি করেছে। আক্রমণ করেছে। মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, বাংলাদেশে এখন নাস্তিক্যবাদী সরকার চলছে। আল্লাহ তায়ালা শাহবাগী নাস্তিকদের নিশ্চিহ্ন করার জন্যই আল্লামা আহমদ শাহ শফীকে পাঠিয়েছেন। তিনি বলেন, এই সরকার একদিকে সমাবেশের অনুমতি দিয়ে অন্যদিকে আসার ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করেছে। আলেমদের গ্রেপ্তার করেছে। রাজপথে হামলা ভাঙচুর করেছে। তারা দ্বিমুখী আচরণ করেছে। এই ধরনের দ্বিমুখী আচরণ মুনাফেকী। জনগণ আওয়ামী লীগকে আগামী নির্বাচনে এর জবাব দেবে। তিনি বলেন, এমরান এইচ সরকার সহ সকল নাস্তিক ধর্মবিরোধীর মহানবী ও ধর্ম অবমাননার জন্য ফাঁসি দিতে হবে। সংবিধানে আল্লাহর ওপর আস্থা পুনঃস্থাপন করতে হবে। কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে হেফাজতের কোন সম্পর্ক নেই। জামায়াতসহ অন্য কোন দলের সঙ্গে কোন সম্পর্ক নেই। আমাদের এটা কোন রাজনৈতিক আন্দোলন নয়। এখানে একটা দাবি কি রাজনৈতিক আছে? নবীপ্রেমিক মুসলমান আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ অন্যান্য দলের আছে।
মাওলানা মহিবুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, সংবিধান থেকে আল্লাহর ওপর আস্থা বাদ দেয়ার পর এই সরকার নাস্তিক সরকার হয়ে গেছে। ৯০ ভাগ মুসলমানের এই দেশে কোন নাস্তিক সরকার ক্ষমতায় থাকার প্রয়োজন নেই। সরকারকে হয় নাস্তিকতা ছাড়তে হবে, না হয় গদি ছাড়তে হবে। তিনি বলেন, ইসলাম ও মহানবীকে নিয়ে কটূক্তি কোন হিন্দু খ্রিষ্টান করেনি। নাস্তিকরা করেছে। নাস্তিক সরকারকে বিতাড়িত করতে হবে। এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোন অধিকার নেই।
মাওলানা ইমরান মাজহারী বলেন, মহাসমাবেশ প্রমাণ করে এদেশ নাস্তিকদের নয়, আলেম-ওলামাদের দেশ। এখানে কোরআনের রাজত্ব, আলেম ওলামাদের রাজত্ব কায়েম করতে হবে। মাওলানা সুলতান জউক বলেন, এদেশের মধ্যে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান সবাই একসঙ্গে থাকতে পারবে কিন্তু নাস্তিক মুরতাদদের কোন জায়গা নেই। কারণ ধর্মত্যাগের শাস্তি মৃত্যুদ । তিনি বলেন, বাধাবিঘ্ন সত্ত্বেও মহাসমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। নাস্তিক মুরতাদদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ দিতে হবে। এই শাস্তি না দিয়ে নাস্তিকদের লালন করছে সরকার। তাই নাস্তিকদের লালনকারী সরকারের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই। লংমার্চ প্রমাণ করে বাংলাদেশে আগামীতে ইসলামের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। অধ্যক্ষ মাওলানা মো. ইসহাক বলেন, এদেশে ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে কেউ সফলতা অর্জন করতে পারবে না। আন্দোলন কেবল শুরু। আগামীতে আরও জোরদার হবে।
মাওলানা শাহ আহমদ উল্লাহ আশরাফ বলেন, সব আলেম-ওলামা ও ইসলামী দল এক হয়েছে। ইসলামী হুকুমত কায়েম না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো। মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী বলেন, হেফাজতে ইসলাম ঐক্যের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজকের মহাসমাবেশ প্রমাণ করেছে আলেম ওলামাদের অবজ্ঞা করে কারও পক্ষে এদেশে ক্ষমতায় যাওয়া সম্ভব হবে না। মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাস বলেন, এই সরকার তাদের ক্ষমতা পোক্ত করার জন্য নাস্তিকদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। শতকরা ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোন অধিকার নেই। ইসলামপ্রিয় জনতা আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে এর জবাব দেবে। মঈন উদ্দিন রুহী বলেন, প্রধানমন্ত্রী এদেশের নব্য নাস্তিক। তিনি নাস্তিক মুরতাদদের দোসর। আগামীতে এর জবাব পাবেন তিনি। ইসলাম বিদ্বেষীদের বিতাড়িত করার জন্য প্রস্তুত আছে জনতা। তিনি বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ধর্মহীনতা প্রতিষ্ঠা করেছে। বাংলার মাটিতে ধর্মহীনতা থাকতে পারবে না। মাওলানা জাফরুল্লাহ খান বলেন, এই সরকার ইসলাম বিরোধী সরকার। তারা সংবিধান থেকে আল্লাহর নাম বাদ দিয়েছে, নবী রাসুলকে কটূক্তি করা হয়েছে এই সরকারের আমলে। পাঠ্যবইয়ে দেবদেবীর নামে কুরবানির কথা বলা হয়েছে। এই জনসমুদ্র প্রমাণ করে দেশের মানুষ ইসলাম চায়। ধর্মনিরপেক্ষতা চায় না। অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশে ইসলামী হুকুমত কায়েম হবেই। তিনি নাস্তিকদের সহায়তা করার অপরাধে তওবা করে মুসলমান হওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও তার পিতার বিরুদ্ধে কথা বললে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা হয়। কিন্তু আল্লাহর নবীর বিরুদ্ধে কটূক্তি করেছে যারা তাদের রাষ্ট্রীয় পুরস্কার দিয়েছে এই সরকার। তিনি দাবি আদায়ে লাগাতার হরতালের কথা জানান। মাওলানা আবুল হাসনাত আমিনী বলেন, আর কোন নাস্তিক যদি নবী (সা.)কে গালাগালি করে সারা দেশে আগুন জ্বলবে। এই আন্দোলন ঈমান রক্ষার আন্দোলন। ক্ষমতায় যেতে হলে মক্কার দিকে সেজদা করতে হবে। অন্য কোনদিকে সেজদা করে ক্ষমতায় যাওয়া যাবে না। মাওলানা আবদুল রব ইউসুফী বলেন, শাহবাগীদের স্লোগান জয় বাংলা। তারা বাংলাদেশ বলে না। তার মানে তারা ৫৬ হাজার বর্গমাইলের সীমানা মানে না। তারা রবিঠাকুরের আমার সোনার বাংলা মানে। এরা শুধু নবীর নয়, দেশেরও দুশমন। বর্তমানে যে আইন আছে তাদের বিচারের জন্য তা যথেষ্ট নয়। বিশেষ আইন পাস করতে হবে। মুফতি তৈয়্যব বলেন, শেখ হাসিনা দেখুন, জনতার জোয়ারে বঙ্গভবন, সংসদ সব ভেসে যাবে। ইসলাম নিয়ে খেলা করতে চেয়েছিলেন শেখ হাসিনা। ছারখার হয়ে যাবেন। তিনি আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করলে সরকারের পতন ঘটবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
হেফাজতের সমাবেশের ১৩ দফা ঘোষণা: হেফাজতে ইসলামের লংমার্চ পরবর্তী সমাবেশে ১৩ দফা ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষণাপত্রের ধারাগুলো হলো-
১। ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ বর্জন করে ধর্মের শাশ্বত সৌন্দর্যের প্রতি প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্যে সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপন করতে হবে।
২। ভবিষ্যতে সব রকম ইসলাম অবমাননার দুঃসাহস বন্ধ করার স্বার্থে আগ্রাসী নাস্তিক্যবাদ, ধর্মদ্রোহ ও ইসলাম অবমাননার কোন ঘটনাই বিনা বিচারে ও বিনা শাস্তিতে ছেড়ে দেয়ার কোন অবকাশ থাকতে পারে না। সেজন্যই জঘন্য ইসলাম বিদ্বেষের গুরুতর অপরাধে শাহবাগ আন্দোলনের সংগঠক ও নেতৃত্বদানকারী চিহ্নিত নাস্তিক মুরতাদদের সবাইকে গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তিদানের ব্যবস্থা করতে হবে।
৩। ইসলামের অবমাননার মধ্য দিয়ে বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্যের উস্কানি সৃষ্টির সব রকম উপায় বন্ধ করার উদ্দেশ্যে ইসলাম অবমাননার যে কোন রকম অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। এ লক্ষ্যে আল্লাহ, রাসুল (সা.), কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে কুৎসা প্রচাররোধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ ের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস করতে হবে।
৪। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আল্লাহ-বিশ্বাসী ও রাসুল (সা.) প্রেমিক ধর্মপ্রাণ মানুষের ধর্মীয় অধিকারের প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। সে কারণে আল্লাহ-রাসুলের সম্মানহানির চলমান জঘন্য প্রয়াসের বিরুদ্ধে দাবি ও প্রতিবাদ নিয়ে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী আলেম-ওলামা, মাদরাসা ছাত্র ও তাওহিদী জনতার ওপর সব রকম হামলা-মামলা, দমন-নিপীড়ন, নির্বিচার গুলিবর্ষণ এবং হত্যাকা বন্ধ করতে হবে। চলমান আন্দোলনে সরকারের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারপক্ষীয় সন্ত্রাসী দুষ্কৃতকারী কর্তৃক গুলিবর্ষণ, নির্যাতন, নিপীড়ন ও হত্যাকা ের কঠোর বিচার করতে হবে।
৫। ধর্মীয় অধিকার রক্ষার চেষ্টার কারণে এদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের রাষ্ট্রীয় আয়োজনে কষ্ট দেয়ার সব নিন্দনীয় চেষ্টা বন্ধ করতে হবে। সে কারণেই ইসলাম অবমাননার বিরুদ্ধে সংঘটিত আন্দোলন-বিক্ষোভে গ্রেপ্তারকৃত সব আলেম-ওলামা, মাদরাসা ছাত্র ও তাওহিদী জনতাকে মুক্তি দিতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
৬। পৃথিবীর কোন মসজিদেই নামাজ, ইবাদত, দোয়া করতে কোন রকম বাধা দেয়া হয় না। মুসলিমপ্রধান দেশে তো এমন প্রতিবন্ধকতার কথা কল্পনাও করা যায় না। অথচ এদেশের জাতীয় মসজিদসহ বিভিন্ন মসজিদে নামাজ আদায়ে সরকারি উদ্যোগে বিধি-নিষেধ ও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সব মসজিদে মুসল্লিদের নির্বিঘ্নে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করতে হবে। সব মসজিদে নামাজসহ ইবাদত, আমল, ওয়াজ নসিহত ও ধর্মীয় কার্যকলাপের ক্ষেত্রে সব ধরনের বাধা প্রদানের চেষ্টা বন্ধ করতে হবে।
৭। মুসলমানদের জন্য তাদের নিজস্ব মূল্যবোধ-সংস্কৃতিই অনুসরণীয়। অপসংস্কৃতিতে একাত্ম হওয়ার সুযোগ তাদের নেই। তাই ব্যক্তি ও বাক স্বাধীনতার নামে সব ধরনের ধর্মদ্রোহ, চিন্তা ও আচরণগত অনাচার, বেহায়াপনা, অশ্লীলতা, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, ব্যভিচার, জাতীয় পর্যায়ে মঙ্গলপ্রদীপ জ্বালানোসহ অপসংস্কৃতি, বিজাতীয় ও ভিন্নধর্মীয় সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে হবে।
৮। খতমে নবুওয়াতের আদর্শে ছুরিকাঘাতকারী কাদিয়ানী সমপ্রদায়ের বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে সব সময় ইসলাম বিদ্বেষী ও ইসলামের বিনাশকামী শক্তির মিত্র হিসেবে প্রকাশ্যে ও গোপনে সক্রিয় থাকা। ইসলামবিনাশী কর্মকা থেকে তাদের রুখে দেয়ার প্রয়োজনে অবিলম্বে তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে। বন্ধ করতে হবে তাদের ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতা এবং নিষিদ্ধ করতে হবে তাদের সব প্রচারণা ও প্রকাশনা। একই সঙ্গে বন্ধ করতে হবে তাদের জন্য ইসলাম ধর্মীয় পরিভাষার ব্যবহার। আর সর্বাত্মকভাবে তাদের পণ্য (প্রাণ, আরএফএল, সিজান) বর্জন করতে হবে।
৯। এই দেশে বাছ-বিচারহীনভাবে পৌত্তলিক সংস্কৃতি অনুপ্রবেশ ঘটানোর চেষ্টায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। এজন্যই মসজিদের নগরী ঢাকাকে মূর্তির নগরীতে রূপান্তর এবং দেশব্যাপী রাস্তার মোড়ে ও কলেজ-ভার্সিটির ক্যাম্পাসে ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন বন্ধ করতে হবে।
১০। এই মহাসমাবেশ এদেশের সব আইন ও নীতির ক্ষেত্রে ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থান পরিহারের জোরালো আহ্বান রাখছে। এ কারণেই ধর্মহীন শিক্ষানীতি ও ইসলাম বিরোধী নারীনীতি বাতিলের দাবি জানাচ্ছে। একই সঙ্গে ঘোষণা করছে যে, শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত ইসলামী শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে।
১১। এদেশের স্বাধীন ও খালিছ ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্র কওমি মাদরাসাগুলোকে স্বাধীনভাবে দ্বীনী খেদমত করে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে। তাই সারাদেশের কওমি মাদরাসার ছাত্র, শিক্ষক, ওলামা-মাশায়েখ এবং মসজিদের ইমাম খতিবকে হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি প্রদান বন্ধ করাসহ তাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত সব ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে।
১২। এই সমাবেশ কঠোরভাবে ইসলামের প্রতীক এবং ইসলামের চিহ্ন ও চরিত্র নিয়ে বিদ্রূপ ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার সব রকম তৎপরতার নিন্দা করছে। একই সঙ্গে ঘোষণা করছে যে, রেডিও টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাড়ি-টুপি ও ইসলামী কৃষ্টি-কালচার নিয়ে হাসি-ঠাট্টা এবং নাটক সিনেমায় খল ও নেতিবাচক চরিত্রে ধর্মীয় লেবাস পোশাক পরিয়ে অভিনয়ের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মনে ইসলামের প্রতি বিদ্বেষমূলক মনোভাব সৃষ্টির অপপ্রয়াস বন্ধ করতে হবে।
১৩। মুসলিম প্রধান এই দেশে সব রকম ষড়যন্ত্রমূলক ধর্মান্তরকরণ ও মিশনারি তৎপরতা, জাতিসত্তা ধ্বংস ও দেশের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনবে। তাই মহাসমাবেশ ঘোষণা করছে যে, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশব্যাপী ইসলাম বিরোধী কর্মকা ে জড়িত এনজিওগুলোর অপতৎপরতা এবং খ্রিষ্টান মিশনারীদের ধর্মান্তরকরণসহ সব অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে।
নাস্তিকদের শাস্তির দাবিতে গণস্বাক্ষর: ‘নাস্তিক ব্লগারদের শাস্তির দাবি’তে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে শুরু করে দৈনিক বাংলা মোড় পর্যন্ত চলে সর্বস্তরের মানুষের গণস্বাক্ষর। প্রথম দিকে দৈনিক বাংলা মোড়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়া শুরু করেন হেফাজত কর্মীরা। এখানে শুধু সাদা কাগজে নিজের নাম লিখেন অংশগ্রহণকারীরা। পরে কয়েকশ’ গজ সাদা ও রঙিন কাপড় বায়তুল মোকারমের উত্তর গেটে বিছিয়ে রাখা হয়। সেখানে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ ইসলামের অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে মনের নানা ক্ষোভের কথা লিখেছেন। মুহূর্তের মধ্যে জনতার ক্ষোভের বাণীতে পূর্ণ হয়ে যায় ব্যানারগুলো। এরপর আবারও বিছিয়ে দেয়া হচ্ছে গণস্বাক্ষরের কাপড়। অনেকে ব্যানারে লিখছেন- নাস্তিকদের ফাঁসি চাই, ইমরানের ফাঁসি চাই, রাজাকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ফাঁসি চাই, ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম চাই, নাস্তিক্যবাদী নিপাত চাই। এই গণস্বাক্ষরের উদ্যোক্তা ‘শানে রাসুল (স.)’ নামক সংগঠন। এটি হেফাজতেরই অঙ্গ সংগঠন। এর নেতা মিজানুর রহমান বলেন, তারা মূলত নাস্তিকদের শাস্তির দাবিতে গণস্বাক্ষর নিচ্ছেন। শাহবাগ থেকে ১ কোটি মানুষের স্বাক্ষর সংবলিত দাবিনামা দেয়া হয়েছে সরকারের কাছে। তারা অন্তত দুই কোটি মানুষের স্বাক্ষর নিয়ে দাবি জানাবেন সরকারের কাছে। তিনি জানান, দুপুর দেড়টা পর্যন্ত শুধু সাদা কাগজেই স্বাক্ষর করেছেন ৭৫,০০০ মানুষ। বিকাল পর্যন্ত অন্তত ৩ লাখ মানুষ স্বাক্ষর করেছেন বলে তিনি জানান। আগামী এক মাসব্যাপী এই স্বাক্ষর নেয়া হবে। প্রথম ১৫ দিন শুধু মাত্র ঢাকা এবং পরের ১৫ দিন সারা দেশে স্বাক্ষর নেয়া হবে। এছাড়া হেফাজতের প্রত্যেক সমাবেশে এই স্বাক্ষর নেয়া হবে।
অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিনামূল্যে আপ্যায়ন: হেফাজত কর্মীরা লংমার্চে আসার পথে জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন সংগঠন ও সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে আপ্যায়ন করা হয়েছে। বিশেষ করে সমাবেশস্থলের আশপাশে খোলা ট্রাক, ভ্যান, পলিথিন ও পাটের বস্তা এমনকি কেউ কেউ হাতে করেও খাবার নিয়ে আসেন। তারা এগুলো বিনামূল্যে বিলি করেন মুসল্লিদের মধ্যে। খাবারের মধ্যে ছিল কোমল পানি, লেবুর শরবত, শসা, গাজর, চকোলেট, কলা, সেলাইন, সেলাইনের পানি, জিলাপি, শুকনো খাবারের মধ্যে চিড়া, মুড়ি, রুটি, বিসু্কট, কেক, পাউরুটি, ব্রেড ছাড়াও বিরিয়ানি ও খিচুড়ি। অনেকে ঘাম ও হাত-মুখ মুছতে টিসু বিতরণ করেন। রোদ থেকে রক্ষা পেতে বড় কাগজের টুকরো, কাপড় ও কাগজের তৈরি পাখাও বিতরণ করেন। এসব কে বা কারা দিয়েছেন কোন তথ্য বা হিসাবও ছিল না কারও কাছে।
বাংলাদেশের রাজনীতি অভাবনীয়ভাবে তৃতীয় শক্তির আবির্ভাব অবশ্য নতুন নয়। ১৯৭৫, ১৯৮২, ১৯৯০, ২০০৬ সালে এমন আকস্মিক আত্মপ্রকাশ আমরা দেখেছি। তবে ’৯০-এর গণঅভ্যুত্থান বাদে আর সবই সেনাঘটিত। সেদিক থেকে ২০১৩’র এই অভ্যুদয় শুধু বৈশিষ্ট্যে স্বতন্ত্র নয়, এর তাৎপর্যও ব্যাপক। কারণ হেফাজতে ইসলাম উত্থিত হয়েছে বিশাল বাংলার বুক থেকে। সেনানিবাস বা রাজধানীর রাজপথ থেকে উঠে আসা শক্তি নয় সে। তার শক্তিতে নিহিত আছে বৃহত্তর সামাজিক বিপ্লবের বিস্ফোরক। সে শক্তি বোঝা যায় পরোক্ষে প্রত্যক্ষে সর্বোচ্চ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেও সরকার যখন তাদের লংমার্চ ও সমাবেশ ঠেকাতে ব্যর্থ হয়। আর এটাও বোঝা যায়, বাধা না দিলে কি হতে পারতো, কি ঘটতে পারতো গতকালের জনসমুদ্র রুদ্র রূপ ধারণ করলে। সেই ঘটনার আশঙ্কাই আজ কাঁপিয়ে দিয়েছে প্রতিষ্ঠার প্রতিভূদের, ক্ষমতার ভিত্তিমূলকে।
না, লড়াই শুরু হয়নি। রণক্ষেত্র হয়নি দেশ। দৃঢ় সংযম দু’পক্ষেই। তবে অবস্থান তাদের মুখোমুখি। এ অবস্থান থেকে হেফাজত একটুকুও সরেনি। সরকারও চাইছে না সরতে।
দু’পক্ষকে আজ এভাবে দু’দিকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে রাষ্ট্রের বৈষম্য ও বঞ্চনা। একদিকে ‘হ্যাভ’, আরেকদিকে ‘হ্যাভ নট’। একদিকে রাষ্ট্রের দুধ সর ক্ষীর খাওয়া আদরের সুপত্র, আরেকদিকে ঘোল মাঠা খেয়ে কোন রকমে বেঁচে থাকা অবহেলিত সন্তান। একদিন রাষ্ট্রের সকল সুযোগপ্রাপ্ত, সুবিধাভোগী, সর্বাধুনিক শিক্ষাদীক্ষায় সুসভ্য, আলোকিত, সুশীল, বুদ্ধিজীবী, সেকুলার, অভিজাত সমাজের প্রতিনিধি। লাঞ্ছিত আরেকদিকে দারিদ্র্য, বিত্তহীন শ্রমজীবী সাধারণ মানুষ। তাদের শ্রম ঘাম রক্ত শোষণ করে অর্জিত হয় মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা। তারা ধুঁকে ধুঁকে মরে মধ্যপ্রাচ্যে, বঙ্গোসাগরে ভূমধ্যসাগরে, আফ্রিকার মরুভূমিতে, দক্ষিণ আমেরিকার বনে-জঙ্গলে। এক পক্ষের আছে হাসিনা, খালেদা, ইন্ডিয়া, আমেরিকা। আরেক পক্ষের কেউ নেই আল্লাহ ছাড়া। প্রান্তিক অবস্থানে ঠেলে দেয়া এই তাদের সকল আশা-ভরসা তো এই একখানেই। সেখানেই এসেছে আঘাত। এ আঘাত এসেছে আসলে তাদের অস্তিত্বেই। সব কিছু সয়ে তারা যুগ যুগ ধরে মুখ বুজে রয়েছে নীরবেই। স্বাধীনতার পর কত জনের কত ভাগ্য বদলে গেল, কিন্তু তারা যে তিমিরে সেই তিমিরেই। মাত্র বছর তিনেক আগে মুখ খুলেছিল হেফাজতে ইসলাম। সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’। বাদ দেয়ায় ও নারীনীতি ঘোষণার প্রতিবাদে উচ্চারিত হয়েছিল তারা। মাঝেমধ্যে চট্টগ্রাম, বিচ্ছিন্ন ভাবে ঢাকায় সমাবেশ করেছে। শাহবাগ চত্বরের জাগরণ মঞ্চের নাস্তিক ব্লগারদের বিরুদ্ধে তারা সোচ্চার হয়েছে তাদের কর্মসূচির মাসখানেক পরে, গত ৯ই মার্চ। জানিয়েছে দাবি-দাওয়া। বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়েছে। শেষে সরকারের কার্যক্রমে হতাশ হয়ে নিয়েছে এই কর্মসূচি- যা গতকাল এক সুবিশাল জনবিস্ফোরণ ঘটিয়ে তাদের প্রতিষ্ঠিত করেছে নতুন এক পরাশক্তিতে। মাত্র তিন বছরে গড়ে ওঠা এই শক্তি দেশের রাজনীতিকে সহসাই কোনদিকে ধাবিত করবে তা হয়তো অনুমানও করতে পারছেন না অনেককে। কিন্তু জানেন তা করবেই কোন এক দিকে।
কাল হরতাল, ৫ই মে ঢাকা অবরোধ: ওদিকে আমাদের রিপোর্টার দীন ইসলাম, লায়েকুজ্জামান, হাসান শাফিঈ, কাজী সোহাগ, কাফি কামাল, সাজেদুল হক, আহমেদ জামাল, সিরাজুল ইসলাম, নূরুজ্জামান, সালমান ফরিদ, ফরিদ উদ্দীন আহমেদ ও কাজী সুমন জানান, ১৩ দফা দাবি পূরণে এবার এক মাসের আলটিমেটাম দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। এর মধ্যে দাবি আদায় না হলে ৫ই মে ঢাকা ঘেরাও করার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। এছাড়া আগামীকাল সারা দেশে ২৪ ঘণ্টা হরতালের ঘোষণা দিয়েছে তারা। গতকাল রাজধানীর শাপলা চত্বরে লাখ লাখ জনতার উপস্থিতিতে এই কর্মসূচি ঘোষণা দেয়া হয়। ঘোষিত কর্মসূচিতে রয়েছে ১১ই এপ্রিল সিলেটে শানে রেসালত সম্মেলন। ১২ই এপ্রিল শুক্রবার, বি. বাড়িয়ায় শানে রেসালত সম্মেলন। ১৩ই এপ্রিল শনিবার, মংমনসিংহে শানে রেসালত সম্মেলন। ১৮ই এপ্রিল বৃহস্পতিবার, বরিশালে শানে রেসালত সম্মেলন। ১৯শে এপ্রিল শুক্রবার, ফরিদপুরে শানে রেসালত সম্মেলন। ২০শে এপ্রিল শনিবার, খুলনায় শানে রেসালত সম্মেলন। ২৬শে এপ্রিল শুক্রবার, চট্টগ্রামে শানে রেসালত সম্মেলন। ২৯শে এপ্রিল সোমবার, রাজশাহীতে শানে রেসালত সম্মেলন। ৩০শে এপ্রিল মঙ্গলবার, বগুড়ায় শানে রেসালত সম্মেলন।
সমাবেশের সূচনা: নির্ধারিত সময় সকাল ১০টায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশ শুরু হয়। তবে তার আগেই দক্ষিণে টিকাটুলী মোড়, উত্তরে ফকিরেরপুল বাজার, পূর্বে কমলাপুর বাজার, পশ্চিমে, দৈনিক বাংলা মোড়, পল্টন মোড় উপচিয়ে প্রেস ক্লাব পর্যন্ত লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোকের উপস্থিতি আরও বাড়তে থাকে। রাজধানীর চতুর্দিক থেকে পায়ে হেঁটে হাজার হাজার মানুষ সমাবেশে অংশ নেয়। এতে মহাসমাবেশ যেন মহাজনসমুদ্রে রূপ নেয়। কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র শাপলা চত্বরের চারদিকের প্রায় ১০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা। দুপুরের পর মতিঝিল, আরামবাগ, ফকিরেরপুল, টিকাটুলী, নয়াপল্টন, পুরানা পল্টনসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার অলিগলি পর্যন্ত লোকজন অবস্থান নেয়। ওইসব অলিগলিতে মাইকের শব্দ শোনা যায়নি। তারপরও হেফাজত কর্মীরা ক্লান্তিহীনভাবে নানা স্লোগান দিয়ে সমাবেশের শেষ পর্যন্ত সরব থাকে। প্রায় সপ্তাহ জুড়ে টানটান উদ্বেগ-উত্তেজনা ছিল সামপ্রতিক কালের বৃহত্তম এই সমাবেশকে ঘিরে। ছিল সরকারি-বেসরকারি নানা পদ্ধতির বাধা-বিপত্তি। সমাবেশ মঞ্চ দখল কারার হুমকিও ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সকল বাধা পদদলিত করেছে জনতা। ইতিহাস সৃষ্টি করে হেফাজতে ইসলাম। দেশের লাখো ইসলামপন্থি মানুষের সামনে অধ্যাত্মিক নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন ৯৩ বছর বয়স্ক আল্লামা আহমদ শফী। বেলা পৌনে ৩টার দিকে মঞ্চে আসেন অরাজনৈতিক এই নেতা। তার আগে সংগঠনের বিভিন্ন সারির প্রায় ১২০ জন নেতা বক্তব্য রাখেন। মহাসমাবেশে মূল আকর্ষণ ছিলেন আল্লামা আহমদ শফী। তবে বয়সের ভারে ন্যূব্জ এই নেতা মাইকে দাঁড়িবে বক্তব্য দিতে পারেননি। তার লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান পুত্র মাওলানা আনাস মাদানী। তবে মহাসমাবেশ শেষে মোনাজাত করেন আল্লামা আহমদ শফী। মোনাজাতে তিনি বলেন, আল্লাহ তুমি এ সরকারকে ধর, নাস্তিকদের খতম কর। খেলাফত ছাত্র আন্দোলনের সুলতান মহীউদ্দিন সমাবেশে সুচনা বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে লিখিত বক্তব্যে আল্লামা শাহ্ শফী বলেন, হাজারও বাধা প্রতিবন্ধকতার জাল ছিন্ন-ভিন্ন করে সকল অপশক্তির রক্তচক্ষু এবং তাদের তাবৎ ষড়যন্ত্র ও বাধার পাহাড় ডিঙিয়ে হেফাজতে ইসলাম ১৩ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আজকের এই মহা জনসমুদ্রে উপস্থিত দেশের উলামা-মাশায়েখ, ছাত্র-শিক্ষক ও আমার সংগ্রামী তৌহীদী জনতা।
সত্যের কথা বললে, ন্যায় ও ইনসাফের কথা বললে বাতিল অপশক্তির গাত্রদাহ শুরু হয়, সত্যের টুঁটি চেপে ধরে হত্যা করার অপচেষ্টা করা হয়, কিন্তু বাতিল অপশক্তি কোনকালেই টিকে থাকতে পারেনি, অত্যন্ত গ্লানিকর অবস্থায় তাদের পরাজয় হয়েছে, ইতিহাস তার জ্বলন্ত সাক্ষী। এখনও কোন বাতিল শক্তি টিকে থাকতে পারবে না। তারাই ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। বিজয় হবে সত্যবাদীদের এই বিশ্বাস আমাদের আছে। কেননা আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন- সত্য সমাগত মিথ্যা অপসৃত নিশ্চয় মিথ্যা অপসৃয়মান। এই বাণী অচিরেই বাংলার মাটিতে বাস্তবায়িত হবে ইনশাআল্লাহ! তিনি বলেন, আপনারা হিম্মত করে বাতিলকে রুখে দাঁড়ান, বাতিল অপশক্তি আপনাদের পায়ের নিচে মাথানত করতে বাধ্য হবেই হবে। শয়তান হযরত আদম (আঃ)কে মিথ্যার পথে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল, তিনি শয়তানের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন বলেই শয়তান হয়েছে অভিশপ্ত, লানতপ্রাপ্ত ও বিতাড়িত। হযরত নূহ (আঃ) সত্যের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ছিলেন বলেই তার বিপথগামী জাতি ধ্বংস হয়েছিল। হযরত লুত (আঃ) হযরত ইউনূস (আঃ) সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন বলেই তাদের বিজয় অর্জিত হয়েছে। হযরত মূসা (আঃ) সত্যের পতাকা বহন করেছিলেন বলেই ফেরাউন ও তার বাহিনী সাগরে নিমজ্জিত হয়ে ধ্বংস হয়েছে। হযরত ইবরাহীম (আঃ) সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন বলেই আগুন তাকে জালাতে পারেনি; বরং একটি সামান্য মশার আক্রমণে নমরুদের অপমানজনক মৃত্যু হয়েছে। ইতিহাস সাক্ষী আবরাহা আল্লাহ্র ঘর ধ্বংস করতে বিশাল হস্তিবাহিনী নিয়ে এগিয়ে এলে তাকে এবং তার বাহিনীকে ছোট পাখির দ্বারা আল্লাহ্তায়ালা ধ্বংস করে দিয়েছেন। আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্যের আহ্বানকে স্তিমিত করার হীন মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে এসেছিল আবু জাহেল, আবু লাহাবসহ আরবের কাফের মুশরিকচক্র, কিন্তু তারাই পৃথিবীর আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। আর ইসলামের আলো ছড়িয়ে পড়েছে সমগ্র বিশ্ব জাহানে এরপর বহুবার চেষ্টা করা হয়েছে ইসলামের আলোকে নিভিয়ে দেয়ার, কিন্তু ইসলামের আলো নেভাতে সক্ষম হয়নি ইসলামের দুশমনরা। সত্যের পতাকাবাহীরা বাতিল শক্তিকে চুরমার করে দিয়ে তাদের ষড়যন্ত্রের জালকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন সব যুগেই। সেই ইতিহাস সবারই জানা। তিনি বলেন, বাতিলের এই আক্রমণ কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে, কিন্তু সাময়িক সফলতার আস্ফালন দেখালেও চূড়ান্ত সফলতা মুসলমানদেরই হবে। বাংলাদেশের মুসলমানরা বাতিলের ভয়ঙ্কর থাবায় আক্রান্ত, সংবিধান থেকে আল্লাহ্র উপর পূর্ণ আস্থা বিশ্বাস মুছে দিয়ে ফিরাউনী ও নমরূদী শাসনব্যবস্থা কায়েমের অপচেষ্টা দেশকে খোদায়ী গজব অনিবার্য করে তুলছে। আল্লাহ্কে কটাক্ষ করার মতো দুঃসাহস দেখানো হচ্ছে। আমার পেয়ারা নবী (সাঃ) এবং আমাদের প্রাণপ্রিয় ধর্ম ইসলামের অবমাননা করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করার কারণে তার শাস্তির ত্বরিৎ ব্যবস্থা নেয়া হলেও আল্লাহ ও তার রাসূলের বিরুদ্ধে কটূক্তিকারীদের শাস্তির আওতায় আনার কোন উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না; বরং হাইকোর্টের একজন বিচারপতি এ বিষয়টি সহযোগীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে গেলে তার বিরুদ্ধে সরকারি নির্দেশে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে হয়রানিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ব্লগার রাজীবকে শহীদ আখ্যা দেয়া হয়েছে, সংসদে তার প্রতি সম্মান দেখানো হয়েছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় শাহবাগের নাস্তিক ব্লগারদের ইসলামের বিরুদ্ধে উস্কে দেয়া হয়েছে। তারা ইসলামী রাজনীতি বন্ধের দাবি জানিয়ে স্পিকারকে স্মারকলিপি দেয়ার দুঃসাহস দেখিয়েছে। ইসলামের নিদের্শনাবলীকে চরমভাবে অবমাননা করা হয়েছে। আল্লামা শফী বলেন, কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী নারী-নীতি, ইসলাম বিরোধী শিক্ষানীতি পাস করা হয়েছে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ বিভিন্ন মসজিদে নামাজের সময় বিভিন্নভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং আলেম, ইমাম, খতিবদের হক কথা বলার কারণে তাদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন চালানো হচ্ছে-হত্যা, হুমকি-ধমকি, হামলা-মামলার মাধ্যমে তাদেরকে দমিয়ে রাখার অপচেষ্টা ও চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে। কাদিয়ানি এনজিওসহ ইসলাম বিরোধী অপশক্তিকে বিভিন্নভাবে আশ্রয়-প্রশয় দেয়া হচ্ছে। মুসলিম সভ্যতা সংস্কৃতিক ধ্বংস করে বিজাতীয় সভ্যতা সংস্কৃতি ও বেহায়াপনা বেলেল্লাপনা আমদানি করা হচ্ছে। মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলন, ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপনসহ শেরেকি কর্মকা ের মাধ্যমে মুসলিম এ দেশটিকে অগ্নিপূজারী ও মূর্তিপূজারীদের দেশ বানানোর চক্রান্ত হচ্ছে। ইসলামের কথা বললেই তাকে মৌলবাদ, জঙ্গিবাদের অপবাদ দিয়ে এদেশ থেকে চিরতরে ইসলাম উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। জঙ্গিবাদ দমনের নামে ইসলাম নির্মূলের উদ্দেশে বিদেশী সৈনিকদের এদেশে ডেকে আনার পাঁয়তারা চলছে।
এদেশের কোটি কোটি তৌহিদী জনতাকে সঙ্গে নিয়ে হেফাজতে ইসলাম শান্তিপূর্ণ উপায়ে দেশ ও ইসলাম বিরোধী এসব অপতৎপরতা বন্ধে বদ্ধপরিকর। কোন অপশক্তিই হেফাজতে ইসলামকে তার অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে দমাতে পারবে না। এ লক্ষ্যেই হেফাজতে ইসলাম ও দেশ ও ঈমান রক্ষার তাগিদে সুস্পষ্ট ১৩ দফা দাবি পেশ করে ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। এসব দাবি কোন রাজনৈতিক দাবি নয়। ক্ষমতা থেকে কাউকে সারানো বা কাউকে ক্ষমতায় বসানোর দাবি নয়। কিন্তু ক্ষমতায় থাকতে হলে এসব দাবি মেনেই থাকতে হবে, আবার ক্ষমতায় যেতে হলেও এসব দাবি মেনেই যেতে হবে। আমরা বারবার বলেছি আমাদের আন্দোলন ঈমান ও দেশ রক্ষার অহিংস আন্দোলন। এ আন্দোলনকে দমানোর অপচেষ্টা করা হলে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ। সরকার নির্বাচনের আগে ইসলাম বিরোধী কোরআন ও সুন্নাহ বিরোধী কোন কাজ না করার অঙ্গীকার নিয়ে ক্ষমতাসীন হলেও এখন তারা সুস্পষ্ট ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। সরকার আমাদের দাবি দাওয়ার প্রতি কর্ণপাত না করে দেশের কোটি কোটি মুসলমানদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। আমাদের আজকের এই লংমার্চ কর্মসূচিকে একটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ঘোষণা করা হলেও সরকার লাখো কোটি জনতার এই কর্মসূচি বানচালের সব প্রচেষ্টাই চালিয়েছে। সরকারের সহযোগী নাস্তিক মুরতাদদের ঘাদানি কমিটি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, পরিকল্পনামন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম এবং শাহবাগি নাস্তিক মুরতাদদের তথাকথিত গণজাগরণ মঞ্চের মাধ্যমে হরতাল-অবরোধ আহ্বান করিয়ে আমাদের শান্তিপূর্ণ এই কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। তারপরও আজকের এই মহাসমুদ্র প্রমাণ করে এদেশে নাস্তিক মুরতাদ ইসলাম বিরোধীদের ঠাঁই নেই। ঈমানদার জনতাই এদেশ নিয়ন্ত্রণের অধিকার রাখে। তিনি বলেন, আজ সারা বাংলাদেশে মহাগণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবি না মানা পর্যন্ত এই আন্দোলন আরও তীব্র থেকে তীব্রতর রূপ ধারণ করবে। যে আন্দোলনের তোড়ে এই ইসলাম বিরোধী সরকারের পরিণতি হবে ফেরাউন, নমরুদ, সাদ্দাদ, হামান, আবু জাহেল, আবু লাহাবের চেয়েও ভয়াবহ। তাই এখনও সময় আছে আল্লাহ্র গজব আসার আগেই আমাদের দাবিগুলো মেনে নিয়ে নিজেরাও বাঁচুন, দেশকে ও দেশের জনগণকে বাঁচান।
আজকের এই জনসমুদ্র প্রমাণ করেছে এদেশ চলবে আলেম-উলামা ও তৌহিদী জনতার কথায়। নাস্তিক মুরতাদ ব্লগারদের কথায় নয়। জীবনবাজি রেখে লংমার্চে অংশগ্রহণ করে আজকের এই মহাজনসমুদ্রকে নিজের অর্থ শ্রম খরচ করে স্বশরীরে হাজির হয়ে ঈমানী দায়িত্ব পালন করার জন্য হেফাজতে ইসলামের সকল নেতাকর্মী, অন্যান্য সংগঠন, দল, দেশের শীর্ষস্থানীয় উলামা মাশায়েখ, ইসলামী চিন্তাশীল ব্যক্তিবর্গ, সামাজিক সংগঠন, পেশাজীবী সংগঠন, মাদ্রাসা, স্কুল, কলেজ, ভার্সিটির ছাত্র শিক্ষকদের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন ও মোবারকবাদ জানাচ্ছি। যুবক তরুণ তোমরা ইসলামের মূল শক্তি, তাবৎ বাতিল জাগরণ স্তিমিত করার জন্য আজকের মতো ভবিষ্যতেও জীবনবাজি রেখে ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়ে শহীদ হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। আমি ঢাকা ও তার আশপাশের অঞ্চলের মানুষের লংমার্চ কাফেলাকে সার্বিক সহযোগিতার জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে ঈমান রক্ষা, দেশ রক্ষার যে আন্দোলনের সূচনা হয়ে গেছে মানযিলে মাকসুদে পৌঁছার আগ পর্যন্ত আমাদের আর ঘরে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে ঘোষণা দেন তিনি।
নেতারা যা বলেছেন: বসুন্ধরা রিসার্চ সেন্টারের মহাপরিচালক মুফতি আবদুর রহমান বলেন, সরকার লংমার্চকে নিয়ে দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করে আমাদেরকে কষ্ট দিয়েছে। এই সরকার নাস্তিকদের পক্ষ নিয়ে লংমার্চকে বাধা দিয়েছে। তাই এই সরকারের আর ক্ষমতায় রাখার সুযোগ নেই। সরকারকে ধরো, খতম করো। আল্লামা নূর হোসেন কাসেমী বলেন, যতদিন আমাদের ঈমানী দাবি পূরণ না হবে আন্দোলন চালিয়ে যাবো। মহাসমাবেশ প্রমাণ করে আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বিশ্বাসী। কিন্তু সরকার বাধা সৃষ্টি করেছে। আক্রমণ করেছে। মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, বাংলাদেশে এখন নাস্তিক্যবাদী সরকার চলছে। আল্লাহ তায়ালা শাহবাগী নাস্তিকদের নিশ্চিহ্ন করার জন্যই আল্লামা আহমদ শাহ শফীকে পাঠিয়েছেন। তিনি বলেন, এই সরকার একদিকে সমাবেশের অনুমতি দিয়ে অন্যদিকে আসার ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করেছে। আলেমদের গ্রেপ্তার করেছে। রাজপথে হামলা ভাঙচুর করেছে। তারা দ্বিমুখী আচরণ করেছে। এই ধরনের দ্বিমুখী আচরণ মুনাফেকী। জনগণ আওয়ামী লীগকে আগামী নির্বাচনে এর জবাব দেবে। তিনি বলেন, এমরান এইচ সরকার সহ সকল নাস্তিক ধর্মবিরোধীর মহানবী ও ধর্ম অবমাননার জন্য ফাঁসি দিতে হবে। সংবিধানে আল্লাহর ওপর আস্থা পুনঃস্থাপন করতে হবে। কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে হেফাজতের কোন সম্পর্ক নেই। জামায়াতসহ অন্য কোন দলের সঙ্গে কোন সম্পর্ক নেই। আমাদের এটা কোন রাজনৈতিক আন্দোলন নয়। এখানে একটা দাবি কি রাজনৈতিক আছে? নবীপ্রেমিক মুসলমান আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ অন্যান্য দলের আছে।
মাওলানা মহিবুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, সংবিধান থেকে আল্লাহর ওপর আস্থা বাদ দেয়ার পর এই সরকার নাস্তিক সরকার হয়ে গেছে। ৯০ ভাগ মুসলমানের এই দেশে কোন নাস্তিক সরকার ক্ষমতায় থাকার প্রয়োজন নেই। সরকারকে হয় নাস্তিকতা ছাড়তে হবে, না হয় গদি ছাড়তে হবে। তিনি বলেন, ইসলাম ও মহানবীকে নিয়ে কটূক্তি কোন হিন্দু খ্রিষ্টান করেনি। নাস্তিকরা করেছে। নাস্তিক সরকারকে বিতাড়িত করতে হবে। এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোন অধিকার নেই।
মাওলানা ইমরান মাজহারী বলেন, মহাসমাবেশ প্রমাণ করে এদেশ নাস্তিকদের নয়, আলেম-ওলামাদের দেশ। এখানে কোরআনের রাজত্ব, আলেম ওলামাদের রাজত্ব কায়েম করতে হবে। মাওলানা সুলতান জউক বলেন, এদেশের মধ্যে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান সবাই একসঙ্গে থাকতে পারবে কিন্তু নাস্তিক মুরতাদদের কোন জায়গা নেই। কারণ ধর্মত্যাগের শাস্তি মৃত্যুদ । তিনি বলেন, বাধাবিঘ্ন সত্ত্বেও মহাসমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। নাস্তিক মুরতাদদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ দিতে হবে। এই শাস্তি না দিয়ে নাস্তিকদের লালন করছে সরকার। তাই নাস্তিকদের লালনকারী সরকারের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই। লংমার্চ প্রমাণ করে বাংলাদেশে আগামীতে ইসলামের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। অধ্যক্ষ মাওলানা মো. ইসহাক বলেন, এদেশে ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে কেউ সফলতা অর্জন করতে পারবে না। আন্দোলন কেবল শুরু। আগামীতে আরও জোরদার হবে।
মাওলানা শাহ আহমদ উল্লাহ আশরাফ বলেন, সব আলেম-ওলামা ও ইসলামী দল এক হয়েছে। ইসলামী হুকুমত কায়েম না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো। মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী বলেন, হেফাজতে ইসলাম ঐক্যের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজকের মহাসমাবেশ প্রমাণ করেছে আলেম ওলামাদের অবজ্ঞা করে কারও পক্ষে এদেশে ক্ষমতায় যাওয়া সম্ভব হবে না। মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাস বলেন, এই সরকার তাদের ক্ষমতা পোক্ত করার জন্য নাস্তিকদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। শতকরা ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোন অধিকার নেই। ইসলামপ্রিয় জনতা আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে এর জবাব দেবে। মঈন উদ্দিন রুহী বলেন, প্রধানমন্ত্রী এদেশের নব্য নাস্তিক। তিনি নাস্তিক মুরতাদদের দোসর। আগামীতে এর জবাব পাবেন তিনি। ইসলাম বিদ্বেষীদের বিতাড়িত করার জন্য প্রস্তুত আছে জনতা। তিনি বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ধর্মহীনতা প্রতিষ্ঠা করেছে। বাংলার মাটিতে ধর্মহীনতা থাকতে পারবে না। মাওলানা জাফরুল্লাহ খান বলেন, এই সরকার ইসলাম বিরোধী সরকার। তারা সংবিধান থেকে আল্লাহর নাম বাদ দিয়েছে, নবী রাসুলকে কটূক্তি করা হয়েছে এই সরকারের আমলে। পাঠ্যবইয়ে দেবদেবীর নামে কুরবানির কথা বলা হয়েছে। এই জনসমুদ্র প্রমাণ করে দেশের মানুষ ইসলাম চায়। ধর্মনিরপেক্ষতা চায় না। অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশে ইসলামী হুকুমত কায়েম হবেই। তিনি নাস্তিকদের সহায়তা করার অপরাধে তওবা করে মুসলমান হওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও তার পিতার বিরুদ্ধে কথা বললে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা হয়। কিন্তু আল্লাহর নবীর বিরুদ্ধে কটূক্তি করেছে যারা তাদের রাষ্ট্রীয় পুরস্কার দিয়েছে এই সরকার। তিনি দাবি আদায়ে লাগাতার হরতালের কথা জানান। মাওলানা আবুল হাসনাত আমিনী বলেন, আর কোন নাস্তিক যদি নবী (সা.)কে গালাগালি করে সারা দেশে আগুন জ্বলবে। এই আন্দোলন ঈমান রক্ষার আন্দোলন। ক্ষমতায় যেতে হলে মক্কার দিকে সেজদা করতে হবে। অন্য কোনদিকে সেজদা করে ক্ষমতায় যাওয়া যাবে না। মাওলানা আবদুল রব ইউসুফী বলেন, শাহবাগীদের স্লোগান জয় বাংলা। তারা বাংলাদেশ বলে না। তার মানে তারা ৫৬ হাজার বর্গমাইলের সীমানা মানে না। তারা রবিঠাকুরের আমার সোনার বাংলা মানে। এরা শুধু নবীর নয়, দেশেরও দুশমন। বর্তমানে যে আইন আছে তাদের বিচারের জন্য তা যথেষ্ট নয়। বিশেষ আইন পাস করতে হবে। মুফতি তৈয়্যব বলেন, শেখ হাসিনা দেখুন, জনতার জোয়ারে বঙ্গভবন, সংসদ সব ভেসে যাবে। ইসলাম নিয়ে খেলা করতে চেয়েছিলেন শেখ হাসিনা। ছারখার হয়ে যাবেন। তিনি আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করলে সরকারের পতন ঘটবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
হেফাজতের সমাবেশের ১৩ দফা ঘোষণা: হেফাজতে ইসলামের লংমার্চ পরবর্তী সমাবেশে ১৩ দফা ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষণাপত্রের ধারাগুলো হলো-
১। ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ বর্জন করে ধর্মের শাশ্বত সৌন্দর্যের প্রতি প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্যে সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপন করতে হবে।
২। ভবিষ্যতে সব রকম ইসলাম অবমাননার দুঃসাহস বন্ধ করার স্বার্থে আগ্রাসী নাস্তিক্যবাদ, ধর্মদ্রোহ ও ইসলাম অবমাননার কোন ঘটনাই বিনা বিচারে ও বিনা শাস্তিতে ছেড়ে দেয়ার কোন অবকাশ থাকতে পারে না। সেজন্যই জঘন্য ইসলাম বিদ্বেষের গুরুতর অপরাধে শাহবাগ আন্দোলনের সংগঠক ও নেতৃত্বদানকারী চিহ্নিত নাস্তিক মুরতাদদের সবাইকে গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তিদানের ব্যবস্থা করতে হবে।
৩। ইসলামের অবমাননার মধ্য দিয়ে বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্যের উস্কানি সৃষ্টির সব রকম উপায় বন্ধ করার উদ্দেশ্যে ইসলাম অবমাননার যে কোন রকম অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। এ লক্ষ্যে আল্লাহ, রাসুল (সা.), কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে কুৎসা প্রচাররোধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ ের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস করতে হবে।
৪। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আল্লাহ-বিশ্বাসী ও রাসুল (সা.) প্রেমিক ধর্মপ্রাণ মানুষের ধর্মীয় অধিকারের প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। সে কারণে আল্লাহ-রাসুলের সম্মানহানির চলমান জঘন্য প্রয়াসের বিরুদ্ধে দাবি ও প্রতিবাদ নিয়ে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী আলেম-ওলামা, মাদরাসা ছাত্র ও তাওহিদী জনতার ওপর সব রকম হামলা-মামলা, দমন-নিপীড়ন, নির্বিচার গুলিবর্ষণ এবং হত্যাকা বন্ধ করতে হবে। চলমান আন্দোলনে সরকারের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারপক্ষীয় সন্ত্রাসী দুষ্কৃতকারী কর্তৃক গুলিবর্ষণ, নির্যাতন, নিপীড়ন ও হত্যাকা ের কঠোর বিচার করতে হবে।
৫। ধর্মীয় অধিকার রক্ষার চেষ্টার কারণে এদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের রাষ্ট্রীয় আয়োজনে কষ্ট দেয়ার সব নিন্দনীয় চেষ্টা বন্ধ করতে হবে। সে কারণেই ইসলাম অবমাননার বিরুদ্ধে সংঘটিত আন্দোলন-বিক্ষোভে গ্রেপ্তারকৃত সব আলেম-ওলামা, মাদরাসা ছাত্র ও তাওহিদী জনতাকে মুক্তি দিতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
৬। পৃথিবীর কোন মসজিদেই নামাজ, ইবাদত, দোয়া করতে কোন রকম বাধা দেয়া হয় না। মুসলিমপ্রধান দেশে তো এমন প্রতিবন্ধকতার কথা কল্পনাও করা যায় না। অথচ এদেশের জাতীয় মসজিদসহ বিভিন্ন মসজিদে নামাজ আদায়ে সরকারি উদ্যোগে বিধি-নিষেধ ও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সব মসজিদে মুসল্লিদের নির্বিঘ্নে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করতে হবে। সব মসজিদে নামাজসহ ইবাদত, আমল, ওয়াজ নসিহত ও ধর্মীয় কার্যকলাপের ক্ষেত্রে সব ধরনের বাধা প্রদানের চেষ্টা বন্ধ করতে হবে।
৭। মুসলমানদের জন্য তাদের নিজস্ব মূল্যবোধ-সংস্কৃতিই অনুসরণীয়। অপসংস্কৃতিতে একাত্ম হওয়ার সুযোগ তাদের নেই। তাই ব্যক্তি ও বাক স্বাধীনতার নামে সব ধরনের ধর্মদ্রোহ, চিন্তা ও আচরণগত অনাচার, বেহায়াপনা, অশ্লীলতা, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, ব্যভিচার, জাতীয় পর্যায়ে মঙ্গলপ্রদীপ জ্বালানোসহ অপসংস্কৃতি, বিজাতীয় ও ভিন্নধর্মীয় সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে হবে।
৮। খতমে নবুওয়াতের আদর্শে ছুরিকাঘাতকারী কাদিয়ানী সমপ্রদায়ের বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে সব সময় ইসলাম বিদ্বেষী ও ইসলামের বিনাশকামী শক্তির মিত্র হিসেবে প্রকাশ্যে ও গোপনে সক্রিয় থাকা। ইসলামবিনাশী কর্মকা থেকে তাদের রুখে দেয়ার প্রয়োজনে অবিলম্বে তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে। বন্ধ করতে হবে তাদের ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতা এবং নিষিদ্ধ করতে হবে তাদের সব প্রচারণা ও প্রকাশনা। একই সঙ্গে বন্ধ করতে হবে তাদের জন্য ইসলাম ধর্মীয় পরিভাষার ব্যবহার। আর সর্বাত্মকভাবে তাদের পণ্য (প্রাণ, আরএফএল, সিজান) বর্জন করতে হবে।
৯। এই দেশে বাছ-বিচারহীনভাবে পৌত্তলিক সংস্কৃতি অনুপ্রবেশ ঘটানোর চেষ্টায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। এজন্যই মসজিদের নগরী ঢাকাকে মূর্তির নগরীতে রূপান্তর এবং দেশব্যাপী রাস্তার মোড়ে ও কলেজ-ভার্সিটির ক্যাম্পাসে ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন বন্ধ করতে হবে।
১০। এই মহাসমাবেশ এদেশের সব আইন ও নীতির ক্ষেত্রে ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থান পরিহারের জোরালো আহ্বান রাখছে। এ কারণেই ধর্মহীন শিক্ষানীতি ও ইসলাম বিরোধী নারীনীতি বাতিলের দাবি জানাচ্ছে। একই সঙ্গে ঘোষণা করছে যে, শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত ইসলামী শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে।
১১। এদেশের স্বাধীন ও খালিছ ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্র কওমি মাদরাসাগুলোকে স্বাধীনভাবে দ্বীনী খেদমত করে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে। তাই সারাদেশের কওমি মাদরাসার ছাত্র, শিক্ষক, ওলামা-মাশায়েখ এবং মসজিদের ইমাম খতিবকে হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি প্রদান বন্ধ করাসহ তাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত সব ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে।
১২। এই সমাবেশ কঠোরভাবে ইসলামের প্রতীক এবং ইসলামের চিহ্ন ও চরিত্র নিয়ে বিদ্রূপ ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার সব রকম তৎপরতার নিন্দা করছে। একই সঙ্গে ঘোষণা করছে যে, রেডিও টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাড়ি-টুপি ও ইসলামী কৃষ্টি-কালচার নিয়ে হাসি-ঠাট্টা এবং নাটক সিনেমায় খল ও নেতিবাচক চরিত্রে ধর্মীয় লেবাস পোশাক পরিয়ে অভিনয়ের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মনে ইসলামের প্রতি বিদ্বেষমূলক মনোভাব সৃষ্টির অপপ্রয়াস বন্ধ করতে হবে।
১৩। মুসলিম প্রধান এই দেশে সব রকম ষড়যন্ত্রমূলক ধর্মান্তরকরণ ও মিশনারি তৎপরতা, জাতিসত্তা ধ্বংস ও দেশের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনবে। তাই মহাসমাবেশ ঘোষণা করছে যে, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশব্যাপী ইসলাম বিরোধী কর্মকা ে জড়িত এনজিওগুলোর অপতৎপরতা এবং খ্রিষ্টান মিশনারীদের ধর্মান্তরকরণসহ সব অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে।
নাস্তিকদের শাস্তির দাবিতে গণস্বাক্ষর: ‘নাস্তিক ব্লগারদের শাস্তির দাবি’তে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে শুরু করে দৈনিক বাংলা মোড় পর্যন্ত চলে সর্বস্তরের মানুষের গণস্বাক্ষর। প্রথম দিকে দৈনিক বাংলা মোড়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়া শুরু করেন হেফাজত কর্মীরা। এখানে শুধু সাদা কাগজে নিজের নাম লিখেন অংশগ্রহণকারীরা। পরে কয়েকশ’ গজ সাদা ও রঙিন কাপড় বায়তুল মোকারমের উত্তর গেটে বিছিয়ে রাখা হয়। সেখানে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ ইসলামের অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে মনের নানা ক্ষোভের কথা লিখেছেন। মুহূর্তের মধ্যে জনতার ক্ষোভের বাণীতে পূর্ণ হয়ে যায় ব্যানারগুলো। এরপর আবারও বিছিয়ে দেয়া হচ্ছে গণস্বাক্ষরের কাপড়। অনেকে ব্যানারে লিখছেন- নাস্তিকদের ফাঁসি চাই, ইমরানের ফাঁসি চাই, রাজাকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ফাঁসি চাই, ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম চাই, নাস্তিক্যবাদী নিপাত চাই। এই গণস্বাক্ষরের উদ্যোক্তা ‘শানে রাসুল (স.)’ নামক সংগঠন। এটি হেফাজতেরই অঙ্গ সংগঠন। এর নেতা মিজানুর রহমান বলেন, তারা মূলত নাস্তিকদের শাস্তির দাবিতে গণস্বাক্ষর নিচ্ছেন। শাহবাগ থেকে ১ কোটি মানুষের স্বাক্ষর সংবলিত দাবিনামা দেয়া হয়েছে সরকারের কাছে। তারা অন্তত দুই কোটি মানুষের স্বাক্ষর নিয়ে দাবি জানাবেন সরকারের কাছে। তিনি জানান, দুপুর দেড়টা পর্যন্ত শুধু সাদা কাগজেই স্বাক্ষর করেছেন ৭৫,০০০ মানুষ। বিকাল পর্যন্ত অন্তত ৩ লাখ মানুষ স্বাক্ষর করেছেন বলে তিনি জানান। আগামী এক মাসব্যাপী এই স্বাক্ষর নেয়া হবে। প্রথম ১৫ দিন শুধু মাত্র ঢাকা এবং পরের ১৫ দিন সারা দেশে স্বাক্ষর নেয়া হবে। এছাড়া হেফাজতের প্রত্যেক সমাবেশে এই স্বাক্ষর নেয়া হবে।
অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিনামূল্যে আপ্যায়ন: হেফাজত কর্মীরা লংমার্চে আসার পথে জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন সংগঠন ও সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে আপ্যায়ন করা হয়েছে। বিশেষ করে সমাবেশস্থলের আশপাশে খোলা ট্রাক, ভ্যান, পলিথিন ও পাটের বস্তা এমনকি কেউ কেউ হাতে করেও খাবার নিয়ে আসেন। তারা এগুলো বিনামূল্যে বিলি করেন মুসল্লিদের মধ্যে। খাবারের মধ্যে ছিল কোমল পানি, লেবুর শরবত, শসা, গাজর, চকোলেট, কলা, সেলাইন, সেলাইনের পানি, জিলাপি, শুকনো খাবারের মধ্যে চিড়া, মুড়ি, রুটি, বিসু্কট, কেক, পাউরুটি, ব্রেড ছাড়াও বিরিয়ানি ও খিচুড়ি। অনেকে ঘাম ও হাত-মুখ মুছতে টিসু বিতরণ করেন। রোদ থেকে রক্ষা পেতে বড় কাগজের টুকরো, কাপড় ও কাগজের তৈরি পাখাও বিতরণ করেন। এসব কে বা কারা দিয়েছেন কোন তথ্য বা হিসাবও ছিল না কারও কাছে।

"& still even today I hear the mournful tune of the Sanai"Say,Valiant,High is my head!I am the rebel,the rebel son of mother-earth!Ever-high is my head.O travellers on the road of destruction,Hold fast Ur hammer,pick up Ur shovel,Sing in unison & advance.We created in the joy of our arms.We shall now destory at the pleasure of our feet.‘O Lord,For eight years have I lived & never did I say my prayers & yet,did U ever refuse me my meals for thet?Ur mosques & temples are not meant for men,Men heve no right in them.The mollahs & the Priests Heve closed their doors under locks & keys.’Comrades, Hammer away at the closed doors Of those mosques & temples,& hit with Ur shovel mightily.For,climbing on their minarets,The cheats are today glorifying Selfishness & hypocrisy.& creatr a new universe of joy & peace.Weary of struggles,I,the great rebel,Shall rest in quiet only when I find The sky & the air free of the piteous groans of the oppressef.Only when the dattlefields are cleared of jingling bloody sabres Shall I,weary of struggles,rest in quiet,I,the great rebel.I am the rebel-eternal,I raise my head beyond this world,High,ever-erect & alone! *** my internal no:atm.kutubi@BGS
About: ধূমকেতু এডমিন
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
-
▼
2013
(14877)
-
▼
April
(190)
-
▼
Apr 07
(9)
- ‘গুগল ফিলিস্তিন’ শান্তির জন্য ক্ষতিকর
- আবির্ভাব ঘটেছে নতুন শক্তির by সাযযাদ কাদির
- হেফাজতে ইসলামের বক্তব্য খুব দুর্বল by খোমেনী ইহসান
- ফের বিতর্কে সানি লিওন
- বিবস্ত্র অবস্থার সেক্স ভিডিও আমার নয়
- পূর্ব উপকূলে উত্তর কোরিয়ার দুই ক্ষেপণাস্ত্র
- ‘বিশ্ব নেতা’ হতে চান মালালা
- শত কিলোমিটার হেঁটে সমাবেশে
- সাঈদীর মুক্তি দাবি- জামায়াতের ভাষায় স্লোগান দিয়ে স...
-
▼
Apr 07
(9)
-
▼
April
(190)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ইরান
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
কালবেলা
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
স্বাস্থ্য
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
জীবনযাপন
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
মসজিদ
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
ইয়েমেন
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
Exclusive
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
জনস্বাস্থ্য
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
জোহরান মামদানি
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
ইহুদি
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment