জুলাই হত্যায় অনুতপ্ত হাসিনা বললেন, রুপান্তরের নামে চলছে ছদ্মবেশী স্বৈরাচার
২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের দিকে ফিরে তাকিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এই সহিংসতায় যে প্রাণগুলো হারিয়েছে সে জন্য তিনি অনুতপ্ত। তবে তিনি একইসঙ্গে সহিংসতা নিয়ে গঠিত বিচারিক তদন্ত সীমিত করে দেয়ার জন্য বাংলাদেশের বর্তমান সরকার প্রধানকে দায়ী করেন। কোটাবিরোধী আন্দোলন হিসেবে শুরু হয়ে পরে হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে রুপ নেয়া এই সহিংসতায় ১৪০০ জনের প্রাণহানী ঘটে। শেখ হাসিনা সাক্ষাৎকারে তার দলের কার্যক্রম স্থগিত করার জন্য ইউনূস প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, দলটিকে নিষিদ্ধ করার কারণে কোটি কোটি বাংলাদেশি কার্যত ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। তার মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে স্বাধীন, সুষ্ঠু বা বৈধ বলা যায় না। ভোটারদের অবশ্যই তাদের পছন্দের দলকে ভোট দেয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা থাকতে হবে। তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
হাসিনা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার জানে, যদি আমাদের এই নির্বাচনে অংশ নিতে দেয়া হয় তাহলে আমরা বিপুল জনসমর্থন পাবো। সে কারণেই আমাদের নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ভুলে গেলে চলবে না- ইউনূস নিজেই বাংলাদেশের জনগণের কাছ থেকে একটি ভোটও কখনো পাননি। বরং নিজের অবৈধ কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দিতে দেশের আইনকাঠামো নতুন করে সাজিয়েছেন। শেখ হাসিনা এক পর্যায়ে বলেন, তার সরকারের বিরুদ্ধে যখন আন্দোলন চলছিল তখন তিনি বুঝতেই পারেননি চরমপন্থী উপাদানগুলো আন্দোলন দখল করে নিয়েছে। আমরা সে সময়কার ঘটনা তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু প্রফেসর ইউনূস ক্ষমতায় এসে তা বাতিল করে দেন। এই সিদ্ধান্তই হচ্ছে মূলত আন্দোলনের পেছনের উদ্দেশ্য। এখানে তিনি বিদেশি হস্তক্ষেপের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে হাসিনা অবিলম্বে সাংবিধানিক শাসনের পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সব দলের অংশগ্রহণে স্বাধীন ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান। যাতে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি আর না ঘটে। তার মতে, আমরা যে সহিংসতার সাক্ষী হচ্ছি তা হলো নির্বাচিত নয়, এমন প্রশাসনের সরাসরি ফসল। যার কোনো জনপ্রিয় ম্যান্ডেট নেই। যা কিনা আমাদের রাজনীতিকে চরমপন্থী গোষ্ঠীর হাতে চলে যেতে দিয়েছে। সংস্কার আনার বদলে অন্তর্বর্তী প্রশাসন চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে ক্ষমতাসীন অবস্থানে উন্নীত করেছে। আজকের বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলার কোনো ছায়াই নেই। সরকার নিয়মিতভাবে সহিংসতার বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। হাসিনা বলেন, ধর্ম নিরপেক্ষতা, বহুত্ববাদ এবং গণতান্ত্রিকমূল্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বাংলাদেশ। জামায়াত ইসলামী ও অন্যান্য চরমপন্থী গোষ্ঠীর পুনর্বাসন আমাদের দেশের মূল কাঠামোর জন্য হুমকি। হাসিনা বলেন, এটি কোনো তাত্ত্বিক উদ্বেগ নয়- ইতিমধ্যেই তা দৃশ্যমান। তিনি আবারো উল্লেখ করেন, জামায়াতের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে ঐতিহাসিক সত্যের ইচ্ছাকৃত ক্ষয় হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যাল শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছে। বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছাত্র আন্দোলন দমনে তার সরকারের ভূমিকার কারণে এই সাজা।

No comments