‘জাল ভোট ও কারচুপি প্রতিরোধে কেন্দ্রের পাহারায় থাকবেন’
আমার ব্রাহ্মণবাড়িয়া তথা সরাইল আশুগঞ্জের এই অবস্থা কেন। আমি যদি বলি আমাদের এই ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিক্ষা-দীক্ষা সংস্কৃতি ইতিহাস ঐতিহ্য রাজনীতি সর্বদিকে বাংলাদেশের টপ জেলার মধ্যে একটি। তারপরও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এমন দুর্দশা কেন? আমি তো অন্তত স্বতন্ত্র হই আর যা-ই হই এই দুর্দশা মেনে নেবো না। স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫৫ বছর পরও আমাদের এই এলাকা আদৌ আলোর মুখ দেখেনি। আমাকে একটিবার সুযোগ দেন। নতুন করে জাগরণের লক্ষ্যে এইবারের ভোটটা আমার হাঁস মার্কায়-ই হবে। ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন এক বোন বলেছেন, হাঁস পালনে দ্রুত বংশ বৃদ্ধি পায়। ডিমও দেয়। ভালো আয়ও করা যায়। আমার মা-বোন যেন ঘরে বসেই সংসারের কিছু খরচ রোজগার করে দিতে পারেন। অবসর সময়ে সেই প্রশিক্ষণ আমরা দেয়ার ব্যবস্থা করবো, ইনশাআল্লাহ্। এলাকার উন্নয়ন ও রাস্তাঘাট সম্পর্কে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচাইতে অবহেলিত দুই উপজেলা সরাইল ও আশুগঞ্জ। সরাইলের মধ্যে সবচেয়ে অবহেলিত হচ্ছে এই পাঁচ গ্রাম। আজকে দেড়/দুই ঘণ্টা গাড়িতে নৌকায় ২০ মিনিট তারপর আধা ঘণ্টা থেকে ৪৫ মিনিট আবার সিএনজিতে। তাহলে আমার প্রিয় ভাই বাবা চাচা মা চাচি ও বোনেরা এখান থেকে কীভাবে যাতায়াত করেন? আমি আজকে আমার প্রথম নির্বাচনী সভা থেকে ওয়াদা করছি- এমপি হতে পারলে ভূঁইশ্বর থেকে পরমানন্দপুর পর্যন্ত পাকা রাস্তা ও ব্রিজ করে দেবো। এখানকার ভাইয়েরা তাদের কোটি টাকা মূল্যের ভোট দিয়ে এমপি মন্ত্রী বানায়। তারা হয়তো তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন। আমাকে স্থানীয় একজন মুরুব্বি বললেন, একটা স্কুল ও কলেজ হয়েছে। কিন্তু স্কুল কলেজে কাজ আটকে থাকলে তো হবে না। এটা যদি একটি দ্বীপের মতো বিচ্ছিন্ন এলাকা হয়, তাহলে মানুষ কীভাবে উন্নয়নের ছোঁয়া পাবে? কী করে আধুনিক জীবনযাত্রার ছোঁয়া পাবে। এর আগে রুমিন ফারহানা একই ইউনিয়নের কালিশিমুল গ্রামে এক সংক্ষিপ্ত নির্বাচনী সভায় হাঁস মার্কা বিষয়ে বলেন, ‘এই মার্কা উপর থেকে কোনো ওহি নাজিল হয়ে হঠাৎ কইরা একজন অজানা মানুষকে বসাইয়া দেয়ার মার্কা নয়। এই মার্কা এমন একজন মানুষের মার্কা, যাকে গত ১৫ বছর অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপনারা লড়াই করতে দেখেছেন। যখন আপনাদের ভোট চুরি হয়ে গেছে। তখন হাঁস মার্কার প্রার্থী একা হয়েও দাঁড়িয়ে সংসদে প্রতিবাদ করেছে। ৫৫ বছর আপনারা ভোট দিয়েছেন ঠিকই।
কিন্তু এলাকার কোনো পরিবর্তন হয়নি। হাঁস মার্কা হলো সেই পরিবর্তন সূচনা করার মার্কা। হাঁস মার্কা সাধারণ মানুষের মার্কা। কোনো দলের নয়, জনগণের মার্কা। অন্যায়ের বিরুদ্ধের মার্কা। হাঁস মার্কা দুর্নীতির বিরুদ্ধের মার্কা।’ তিনি সভায় উপস্থিত গ্রামবাসীকে অনুরোধ করে বলেন, আপনাদের ৩৩০০ ভোটের মধ্যে যেন ৩ হাজার ভোট কাস্ট হয়। আর সেই ৩ হাজার ভোটই যেন হাঁস মার্কায় হয়। আমার এলাকার সাধারণ ভোটার দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষদের মার্কা হাঁস। আপনার নিজের অস্তিত্বের প্রশ্নে, এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে, পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থে এই মার্কায় ভোট দেবেন। এটি চাঁদাবাজি, মামলা বাণিজ্য, জায়গা দখল বাণিজ্য ও অবৈধভাবে বালু বাণিজ্য প্রতিরোধের মার্কা। মনে রাখবেন আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি একটা জাল ভোটও যেন কেউ দিতে না পারে। একটি কেন্দ্রেও যেন কোনো ধরনের কারচুপি না হয়। আপনারা সবাই ভোটের পাহারায় থাকবেন।

No comments