যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া শান্তি সংলাপ নিয়ে ইউরোপ কেন উদ্বিগ্ন
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ছায়ার নিচেই বেশি থেকেছে ইউরোপ। কিন্তু হোয়াইট হাউসে ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনের পর থেকে নতুন প্রশাসন ইউরোপিয়ান অংশীদার বা তাদের প্রতিরক্ষার সঙ্গে সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেয়নি। ফলে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য ইউরোপকে এখন ঐক্যবদ্ধ হতে হচ্ছে। অন্যদিকে ইউক্রেন বিষয়ে ওয়াশিংটন ও মস্কোর আলোচনার ওপর নির্ভর করবে তাদের ইউক্রেন বিষয়ক নির্ভরতা। রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আচরণই বা কেমন হবে সেটাও তাদের কাছে বড় প্রশ্ন। তবে ইউরোপিয়ানদের ভয় হলো তাদের মহাদেশের নিরাপত্তা কাঠামো পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে।
ন্যাটোকে পূর্বদিকে বিস্তৃত হওয়ার বিরুদ্ধে পুতিন। রাশিয়ার ক্ষুদ্র ও সাবেক সোভিয়েত বাল্টি স্টেট এবং পোল্যান্ড এখন বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদেরকে উদ্ভাসিত মনে করছে। ফরাসি পত্রিকা লা মন্ডে বলছে, ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিচ্ছেদ ঐতিহাসিক। তবে ইউরোপকে দেখাতে হবে যে, তারা তাদের নিজেদের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার সক্ষমতা রাখে। এতে বলা হয়, ইউরোপের চোখ বন্ধ করে থাকার দিন মিউনিখে উদ্ভটভাবে শেষ হয়েছে। বর্তমানে তাদের মহাদেশের নিরাপত্তা নির্ভর করে একান্তই ইউরোপিয়ানদের ওপর। একই সঙ্গে তাদের ঐক্য ধরে রাখার ওপরও তা নির্ভর করে।
প্যারিসে ইউরোপিয়ান নেতারা অনানুষ্ঠানিক যে সম্মেলন করেছেন সেখান থেকে দৃশ্যত কোনো ঘোষণা দেয়া হয়নি। ইউক্রেনে শান্তিরক্ষী মোতায়েনের ধারণায় ব্যাপক বিভক্তি দেখা গেছে তাদের মধ্যে। ফ্রান্স এবং বৃটেন নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চেয়েছে। সেনা মোতায়েনের প্রস্তাবে জার্মানি ভিন্নমত দেখিয়েছে। এই সম্মেলনে যোগ দেন জার্মানি, বৃটেন, ইতালি, পোল্যান্ড, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, ন্যাটো এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নেতারা। তারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা করেছেন। আলোচনা করেছেন কিয়েভকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেয়া নিয়ে। একই সঙ্গে ইউক্রেনে শান্তিরক্ষী মোতায়েন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন। তিনি ইউক্রেনের জন্য শক্তিশালী এবং বিষ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে শান্তিচুক্তি ২০১৪ ও ২০১৫ সালের মিনস্ক চুক্তির মতো ব্যর্থ না হয়। পরে জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি এবং ম্যাক্রন কীভাবে শান্তি অর্জন করা যায় তা নিয়ে অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন।টেকসই একটি শান্তিচুক্তির জন্য অন্যদের পাশাপাশি বৃটিশ সেনা মোতায়েনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমার। তবে এতে যুক্তরাষ্ট্রকে জড়িত হতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে থাকতে হবে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তাই শুধুমাত্র রাশিয়াকে আবার ইউক্রেন আক্রমণে কার্যকরভাবে বিরত রাখতে পারে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেন, একটি শক্তিশালী শান্তি প্রত্যাশা করে ইউক্রেন। তাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডের অখণ্ডতা শক্তিশালী নিরাপত্তা নিশ্চয়তার প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোর মাধ্যমে তা করা যেতে পারে।
No comments