বরিশালে রসুলপুর চরে স্কুলমাঠ দখল করে মার্কেট নির্মাণ

(বরিশাল :চকবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মার্কেট নির্মাণের জন্য দেয়াল তোলা হচ্ছে) বরিশালের রসুলপুর চরে চকবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠ দখল করে মার্কেট নির্মাণের পাঁয়তারা করছে চর দখলকারী ভূমিদস্যুরা। মাঠটি খাস জমি হওয়ায় ইতিমধ্যে স্কুল ঘেঁষে দেয়াল নির্মাণ করে মাঠের বড় অংশ দখলে নিয়েছে চক্রটি। এতে স্কুলটির কোমলমতি শিশুরা খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চার জায়গা হারাচ্ছে। সরেজমিন দেখা গেছে, রসুলপুর চরের ৮৭ নম্বর চকবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠের অর্ধেকের বেশি অংশজুড়ে দেয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে। এ কারণে ওই স্কুলের কোমলমতি শিশুদের খেলাধুলা বন্ধ হয়ে গেছে। দেয়ালের বাইরের অংশে নির্মাণ করা হবে স্টল। এরই মধ্যে তারা সেখানে স্টল ভাড়া দেওয়ার সাইনবোর্ড টানিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই জমি দখল করছে রসুলপুর চরের দখলদার হিসেবে পরিচিত সার্ভেয়ার বজলু, মো. কবির বিশ্বাস, মো. নাসির, আবদুল গনি মিয়া, আবদুর রউফ ও হারুন মোল্লাসহ বেশ কয়েকজন। এসব দখলদারের নেপথ্যে রয়েছেন স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিএনপি নেতা মো. হারুন অর রশিদ। তিনি স্টল নির্মাণকারীদের ওই জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়ার নামে মোটা অঙ্কের উৎকোচ গ্রহণ করেছেন। কাউন্সিলর হারুন অর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, স্কুলের জন্য খাস জমির মাত্র ৭ শতাংশ বরাদ্দ হয়েছে। বাকি খাস জমি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। যারা জমি বন্দোবস্ত আনার কাগজ দেখাতে পেরেছেন তাদের তিনি জমির দখল বুঝিয়ে দিয়েছেন। তবে চকবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিন্নাত আরা নবিনা সাংবাদিকদের বলেন, কয়েক বছর আগে রসুলপুর চরের খাস জমিতে স্কুলটি স্থানান্তর করা হয়। তখন স্কুলের জন্য ৩৩ শতাংশ জমি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা না দিয়ে বরং স্কুলের খেলার মাঠ দখল করে স্টল নির্মাণের পাঁয়তারা চলছে। দেয়াল নির্মাণ সম্পর্কে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে কারও কোনো আলোচনা হয়নি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি স্কুল ঘেঁষে দেয়াল নির্মাণের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। স্কুলের সামনের অংশের খাস জমি স্কুলেরই সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি ভূমি অফিসে খোঁজ-খবর নিয়ে দেখবেন স্কুলের জন্য কতটুকু জমি বরাদ্দ রয়েছে।