জামিনপ্রলয় ও সমাহিত বিচার -সরল গরল by মিজানুর রহমান খান

মিনিটে অন্তত একটি জামিন। তদুপরি আমাদের প্রশ্ন আদালতের এখতিয়ার নিয়ে নয়। প্রতিকারপ্রার্থী ও তাঁদের আইনজীবীদের সাংবিধানিক অধিকারের প্রতিও রয়েছে আমাদের যথাযথ শ্রদ্ধা। অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীদের জামিন- আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কিন্তু আমরা মনে করি, কোনো মামলার গুণাগুণ বিচারে যেকোনো দণ্ডিতকে মুক্তি দেওয়া চলে। অন্যায়ভাবে ব্যক্তিস্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হলে তার প্রতি উচ্চ আদালতের অধিকতর সংবেদনশীলতা কাম্য। যদি দেখা যায় যে বিচারিক আদালত কোনো উপযুক্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ ছাড়াই কাউকে গুরুদণ্ড দিয়েছেন। কিন্তু শুধু নরহত্যার মতো গুরুতর অপরাধের দায়ে দণ্ডিত বলেই তার প্রতি কঠোর মনোভাব দেখানো সমর্থন করা যায় না। তাই সে ক্ষেত্রে উচ্চ আদালত আপিল গ্রহণ করেই তাঁকে মুক্তি দেবেন। তেমন উপযুক্ত ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ আইন বিচ্যুত হয়ে সাজাদানকারী কোনো বিপথগামী বিচারকের দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহি নিশ্চিত করবেন। দৃশ্যত কাউকে খামোখা সাজা দিলে হাইকোর্ট নির্দিষ্টভাবে তার সাজা স্থগিতও করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ব্যক্তির জামিন ভোগ আরও মর্যাদাপূর্ণ হতে পারে। কারণ, তার ললাটে তখন অপরাধীর চিহ্ন একেবারেই থাকে না। কিন্তু আলোচ্য ক্ষেত্রে কারোরই সাজা স্থগিত করা হয়েছে বলে জানা যায় না।
যা আপাতদৃষ্টিতে প্রতীয়মান হচ্ছে তা এককথায় অবিশ্বাস্য। কোনো নিয়মনীতি মানা হয়নি। গালফ এয়ারওয়েজে তোলার সময় সবজির কার্টন থেকে ২০০১ সালে উদ্ধার করা হয়েছিল প্রায় সোয়া তিন কোটি টাকা দামের প্রায় সোয়া তিন কেজি হেরোইন। চাঞ্চল্যকর এই মাদক মামলায় অভিযুক্ত সৈয়দ মাজহারুল হোসেন রঞ্জুর যাবজ্জীবন সাজার রায় হয় গত ৯ মার্চ। ১৯ নভেম্বর তাঁর জামিন হয়। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের পরমুহূর্তেই পুরো ক্ষতি বোঝা যায় না। ক্ষতির ব্যাপকতা বুঝতে সময় লাগে। এখানেও লাগবে। তবে এটা সন্দেহাতীত যে, এক প্রলয়ংকরী প্রলয় ঘটে গেছে। আসলে গত ১৮ ও ১৯ নভেম্বর ঝড়ের গতিতে দেওয়া জামিন আদেশগুলো অনেকটা মুদ্রিত ফরম পূরণ করার মতো। অথচ পেন্ডিং আপিলে গুরুতর অপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে জামিন দিতে হলে তার উপযুক্ত কারণ অবশ্যই দেখাতে হবে। এ বিষয়ে সারা বিশ্বের উচ্চ আদালত প্রায় অভিন্ন নীতি অনুসরণ করে থাকেন। উপমহাদেশের সুপ্রিম কোর্টগুলোর মধ্যেও এ প্রশ্নে কোনো ভিন্নতা নেই। ফুটবল তারকা ও জে সিম্পসনকে আপনাদের মনে আছে? আমেরিকার নেভাদা সুপ্রিম কোর্ট গত ৪ সেপ্টেম্বর তাঁর জামিন আবেদন বাতিল করেন। কারণ, আদালতের ভাষায় পেন্ডিং আপিলে জামিন লাভের ‘হেভি বার্ডেন’ তিনি পূরণ করতে পারেননি।
আমাদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৬ ধারার আওতায় আপিলের পর দণ্ডিত ব্যক্তি জামিন পায়। এ ধারা বলেছে, জামিন দিতে হাইকোর্টকে কারণ দেখাতে হবে। এই কারণের ওপর জোর এতটাই যে বলা হয়েছে, এটা লিখিতভাবে রেকর্ড করতে হবে। নির্দিষ্ট কারণ দেখাতে উপরন্তু রয়েছে সুুপ্রতিষ্ঠিত রেওয়াজ। প্রধানত দুটো কারণে পেন্ডিং আপিলে জামিন সমর্থিত। প্রথমত, শিগগিরই আপিলের শুনানির সম্ভাবনা না থাকা; দ্বিতীয়ত, যে অভিযোগে আপিলকারীকে দণ্ড দান, তার ভিত্তি আপাতদৃষ্টিতে খুবই দুর্বল। ডিএলআরের প্রকাশিত ‘সিআরপিসি’-র ৭৪৪ থেকে ৭৫১ পৃষ্ঠায় আপিলে জামিনদানের প্রায় ৪০টি রায় বা উদাহরণ রয়েছে। এর আলোকে মধ্য নভেম্বরের জামিন-ঝড় ভীষণ অচেনা এবং সে-কারণে তা অবিচারিক ও অসাংবিধানিক মনে হয়।
দুই দিনে ৭০০ জামিন আদেশ হলে অন্তত ৭০০ পৃথক অপরাধের ঘটনা ঘটেছে এবং প্রতিটি ঘটনার স্থান-কাল-পাত্র ভিন্ন হতে বাধ্য। তাই প্রতিটি জামিন আদেশই ভিন্ন ভিন্ন কারণসংবলিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে আদেশগুলো কম্পিউটারের নির্দিস্ট ফরম্যাট থেকে প্রিন্ট নেওয়া। এই আদেশগুলোতে হাইকোর্ট দাবি করেছেন, তাঁরা নিম্ন আদালতের রায়, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও নথিতে থাকা অন্য কাগজপত্র মনোযোগসহকারে পাঠ করেছেন। এখানে মনে রাখতে হবে, অধিকাংশ আপিলের নথিতে কমপক্ষে ১০০ পৃষ্ঠা থাকা কোনো ব্যাপারই নয়। বিচারিক আদালত ভ্রান্তিকর রায় দিতেই পারেন। তাই বলে শয়ে শয়ে দণ্ডিত ব্যক্তির প্রত্যেকেরই আপিল সফল হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে? আলোচ্য বেঞ্চ কী করে শুধু দণ্ডিতের আইনজীবীদের যুক্তিতেই প্রতিটি ক্ষেত্রে একতরফা ‘যথেষ্ট সারবস্তু’ পাওয়ার দাবি করতে পারেন? প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল এ রকম গুরুত্বপূর্ণ একটি জামিনের শুনানি অন্তত আধা ঘণ্টা সময়সাপেক্ষ বলে লেখকের কাছে উল্লেখ করেন। আইনমন্ত্রী, অ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতির কাছে প্রশ্ন হলো, এই গণজামিন কি ১৯৫০ সালের অ্যাক্ট (এতে বলা আছে, সদ্বিশ্বাসে বিচারকেরা ভুল করলেও তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না) দ্বারা সমর্থিত হতে পারে?
এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরের উদ্যোগকে আপাতত আমরা আংশিক ও অপ্রতুল না মনে করে পারি না। কারণ যা ঘটেছে তা খালি চোখেই অভাবনীয়। এটা শুধু আটপৌরে আপিলের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জযোগ্য নয়। এর তাত্পর্য ও ব্যাপকতা অনেক বেশি ও ভয়ংকর। আইন ও বিচারমন্ত্রী ক্ষীণ কণ্ঠে সাংবাদিকদের যা বলেছেন, তা কার্যত রুটিনের বাইরে নয়। জামিন বিচারকের ডিসক্রিশন। কিন্তু তাতে বিচারিক মনের প্রতিফলন থাকতেই হবে। এই এখতিয়ার যে অসীম নয়, নয় মোটেই জবাবদিহির ঊর্ধ্বে এবং ভুল হলে তিরস্কার ও শাস্তিদানের ঘটনাও যে ঘটে, এর অনেক প্রমাণ তো আমাদের হাতে আছে।
বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ও হাইকোর্ট বিভাগের তিন জ্যেষ্ঠ বিচারপতিকে নিয়ে গঠিত জিএ কমিটি নিম্ন আদালতের শৃঙ্খলা দেখে। তারা ‘স্বৈরাচারী কায়দায়’ আদালত পরিচালনার দায়ে বিচারিক আদালতের বিচারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে আসছে। ২০০৮ সালের ২৭ জুলাই জেলা ও দায়রা জজ হাসান ইমামের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, ‘তিনি তাঁর বডিগার্ড, ভারপ্রাপ্ত নাজির, স্টেনোগ্রাফার ও পাঁচ-ছয়জন দুর্নীতিবাজ আইনজীবীর মাধ্যমে প্রতিনিয়ত ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে গুরুতর অপরাধ অর্থাত্ হত্যা, ডাকাতি, চোরাচালান, অস্ত্র ও সার পাচার মামলার চিহ্নিত আসামীদের জামিনে মুক্তি দিয়েছেন। তিনি স্বৈরাচারী কায়দায় কোর্ট পরিচালনা করেন।’
হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ারউল হক এ অভিযোগের বিষয়ে তাঁর তদন্ত প্রতিবেদনে লেখেন, ‘সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ, বিচারক আর্থিক সুবিধা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মামলায় নজিরবিহীনভাবে জামিন দিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের জামিন প্রদানে আর্থিক লেনদেনের অকাট্য প্রমাণ সাধারণত মেলে না। তাই অভিযোগকারীরা অনুরূপ প্রমাণ উপস্থাপনের চেষ্টা না করে সংশ্লিষ্ট নথির অসামঞ্জস্যপূর্ণ ও নজিরবিহীন আদেশগুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংশ্লিষ্ট বিচারকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো প্রমাণে সচেষ্ট হয়েছেন।’
এখানে যে বিষয়টি লক্ষণীয় তা হলো, বিচারক ঘুষ নিয়ে জামিন দিয়েছেন কি না, এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ মেলেনি। কিন্তু বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ারউল হক ওই বিচারককে অভিযুক্ত করেন এই মর্মে যে ‘তদন্তে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে বিচারকের একতরফা জামিন আদৌ প্রত্যাশিত ও সুবিচারকসুলভ আচরণের পরিচয় ছিল না।’ ওই জেলা কোর্ট কিন্তু জামিন আদেশে কারণ উল্লেখ করেছিলেন। তদুপরি ওই তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “অভিযোগপত্রভুক্ত এক আসামি আত্মসমর্পণ করেন। অথচ পরদিনই তিনি (বিচারক) ‘আসামি এজাহারভুক্ত নন এবং তাঁর বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট কোনো অভিযোগ না থাকার অজুহাতে’ তাঁকে জামিন দেন। এটা কোনো অবস্থায়ই বিচারকসুলভ মনোভাবের পরিচায়ক নয় বরং স্বেচ্ছাচারিতার বহিঃপ্রকাশ।” এ ছাড়া এক দিনে প্রচুরসংখ্যক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় জামিন দানের ঘটনা যে দোষণীয় হতে পারে, তাও আমরা এখানে দেখি। বিচারপতি হক লিখেছেন, ‘সরকারপক্ষের আপত্তি সত্ত্বেও পর্যাপ্ত তথ্য তুলে ধরার কোনো অবকাশ না দিয়ে জামিন প্রদান তাঁর (বিচারকের) সার্বিক বিচারিক কর্মকাণ্ডকেই দারুণভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।’ জামিন দেওয়া নিয়ে এই যে এত কঠিন মন্তব্য, সেখানে খুনের মামলার উদাহরণ ছিল মোটে একটি! হাইকোর্ট বিভাগের আলোচ্য ক্ষেত্রে খুনের ঘটনা ৫০টির কম হবে না। আর আইন কর্মকর্তাদের অর্থাত্ সরকারপক্ষের বক্তব্য রাখার কোনো সুযোগই ছিল না। প্রতিটি আদেশে গত্বাঁধা একটি বাক্য বরাদ্দ রাখা হয়, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জামিনের বিরোধিতা করেছেন।
গত ৫ নভেম্বর প্রথম আলোর সম্পাদকীয়তে আমরা এ ঘটনায় বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ চেয়েছি। এর মূলে রয়েছেন অ্যাডভোকেট এম নুরুল ইসলাম সুজন, যিনি আওয়ামী লীগের সাংসদ। প্রকাশ্য আদালতে এ ধরনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাসে বিরলতম। ২৩ নভেম্বর তিনি ওই বিচারপতি এ এফ এম আবদুর রহমান ও বিচারপতি মো. ইমদাদুল হক আজাদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে ‘প্যান্ডোরার বক্স’ খোলেন।
হাইকোর্ট বিভাগে জামিন দেওয়ার একই এখতিয়ারসম্পন্ন অন্তত পাঁচটি বেঞ্চ আছে। কিন্তু সেখানে আইনজীবীরা ছুটে যাননি। আলোচিত দুই দিনে এক হাজার একটি পেন্ডিং আপিলে জামিন আবেদন ওই বেঞ্চের কার্যতালিকায় ছাপা হয়। আরব্যরজনী উপন্যাসখ্যাত এই আশ্চর্য সংখ্যা সৃষ্টির বাহাদুরিতে বেঞ্চ অফিসারদের সক্রিয় ভূমিকা থাকে।
আমরা বহু দিন ধরে বলে আসছি, বিওদের সম্পদের বিবরণী নেওয়া হোক। সাংসদ সুজনের সঙ্গে সেদিন সুর মেলান প্রবীণ আইনজীবী এবিএম নুরুল ইসলাম। তিনি এজলাসে বিচারপতিদের আসনঘেঁষে উপবেশনরত বিওদের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করেন। বলেন, জামিনের একটি আবেদন তালিকাভুক্ত করতে তাঁর মক্কেলকে ৬০ হাজার টাকা (জনশ্রুতিমতে তালিকাভুক্তির সাধারণ রেট ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। এটা ওঠানামা করে) ঘুষ দিতে হয়েছে। ‘টাকার ভাগ অনেকেই পায়’, এ কথাও তিনি বলেন। ‘বিচারপতিদ্বয় তাঁদের অভিযোগ মনোযোগসহকারে শোনেন এবং তদন্তের আশ্বাস দেন’ বলে সুজন প্রথম আলোকে গতকাল বলেন। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহ্বুবে আলম অবশ্য লেখকের কাছে আক্ষেপ করে বলেন, আর্থিক অভিযোগ কোনোক্রমেই উপেক্ষা করা চলে না। প্রয়োজনে গোয়েন্দা সংস্থাকে দিয়েও এর সুষ্ঠু তদন্ত বাঞ্ছনীয়। সুজন আরও বলেন, তিনি নিরপেক্ষ তদন্ত সংস্থা, বিশেষ করে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে পুরো ঘটনার তদন্ত চান।
আমরা মনে করি, ১৮ ও ১৯ নভেম্বরের ঘটনা আইনমন্ত্রী বর্ণিত ‘জাস্টিস হারিড জাস্টিস বারিড’কেও হার মানিয়েছে। আমরা সমাহিত বিচারের উপযুক্ত জবাবদিহি চাই। যেকোনো ধরনের ‘বিচারিক বাড়াবাড়ি ও বিচারিক রোমাঞ্চাভিলাষ’ বন্ধে দ্রুত উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। এর আগে জরুরি অবস্থায় মিনিটে জামিন দেওয়ার আলোচিত ঘটনায়ও বিচারপতি মো. ইমদাদুল হক আজাদ সংশ্লিষ্ট ছিলেন। এই রাষ্ট্র যদি শুধু আলোচ্য ক্ষেত্রে আটপৌরে আপিল করেই চুপচাপ বসে থাকে, যথা প্রতিকারে উদ্যোগী না হয়, তাহলে বুঝতে হবে তারা রুগ্ণ ব্যবস্থাটিকে বাঁচিয়ে রাখতে চায়। শুধু আপিল মানে হাইকোর্টের কার্যক্রমকে এক ধরনের বৈধতা দানও।
বিচারকদের আচরণ সত্যি ‘বিস্ময়কর’ হলে এর তদন্তে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে উদ্যোগ নিতে অনুরোধ জানানোর মুখ্য দায়িত্ব সরকারের। কাউন্সিলও সুয়োমোটো উদ্যোগী হতে পারেন। ১৯৯৫ সালে মাত্র একজন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে জামিন দেওয়ার ঘটনায় হাইকোর্ট সুয়োমোটো রুল জারি করেছিলেন। হাইকোর্টের বিরুদ্ধে হাইকোর্টকে আমরা এগিয়ে আসতে দেখেছি। তাহলে কাউন্সিল কেন এত বড় জামিনপ্রলয়ে বিচলিত হবে না?
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক।
mrkhanbd@gmail.com