ইরানে বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৩১১৭

ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে মোট ৩১১৭ জন নিহত হয়েছেন। সরকারের তরফে এ সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে। তেহরান এই অস্থিরতাকে ‘বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেছে। নিহতদের মধ্যে ২৪২৭ জন ইরানিকে ‘শহীদ’ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে আছেন বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। প্রথমদিকে অর্থনৈতিক দুরবস্থার প্রতিবাদ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ও ধর্মঘট পরে ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এক বৃহৎ গণআন্দোলনে রূপ নেয়। ৮ই জানুয়ারি থেকে কয়েক দিন ধরে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। তবে আপাতত এই বিক্ষোভ স্তিমিত হয়ে পড়েছে বলে মনে হচ্ছে। অধিকারকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাপক ইন্টারনেট বন্ধের আড়ালে কঠোর দমনপীড়ন চালানোর ফলেই আন্দোলন দুর্বল হয়ে গেছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষ এই বিক্ষোভকে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ধনে সৃষ্ট সহিংস দাঙ্গা ও সন্ত্রাসী ঘটনা হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রথম আনুষ্ঠানিক হিসেবে ইরানের ভেটেরান ও শহীদ ফাউন্ডেশন এক বিবৃতিতে জানায়, বিক্ষোভ চলাকালে মোট ৩১১৭ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২৪২৭ জনকে ‘শহীদ’ ঘোষণা করা হয়েছে। বিবৃতিতে তাদের ‘নিরপরাধ’ ভুক্তভোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এই হিসাব পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসও এক্সে পোস্ট করে। সেখানে বিক্ষোভকে ‘বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ বলে বর্ণনা করা হয়।

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী আকবর পুরজামশিদিয়ান রাষ্ট্রীয় টিভিকে বলেন, যে ৬৯০ জন শহীদের নাম তালিকায় নেই, তারা সন্ত্রাসী, দাঙ্গাবাজ এবং সামরিক স্থাপনায় হামলাকারী। তিনি দাবি করেন, বিপুলসংখ্যক ‘শহীদ’-এর উপস্থিতিই প্রমাণ করে যে বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী সংযম ও সহনশীলতা দেখিয়েছে।
বিক্ষোভে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি দেখাতে বুধবার তেহরান সিটি করপোরেশন সাংবাদিকদের একটি নিয়ন্ত্রিত সফরে রাজধানীর একটি বাস ডিপোর পার্কিং এলাকায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানো ডজনখানেক পুড়ে যাওয়া বাস প্রদর্শন করে।

বিক্ষোভ আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন ক্ষমতাচ্যুত শাহের পুত্র রেজা পাহলভি। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত পাহলভি রাতভিত্তিক বিক্ষোভের আহ্বান জানান এবং ইরানে ফিরে আসতে প্রস্তুত বলেও ঘোষণা দেন। এক বিরল সাক্ষাৎকারে, সাবেক সম্রাজ্ঞী ফারাহ পাহলভি প্যারিসে নিজের বাসা থেকে এএফপিকে লিখিত জবাবে বলেন, এই বিক্ষোভের পর আর ফেরার কোনো পথ নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দমনপীড়নের জবাবে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি, যদিও দ্রুত মার্কিন প্রতিক্রিয়ার প্রত্যাশা এখন অনেকটাই কমে এসেছে।

mzamin

No comments

Powered by Blogger.