Friday, October 2, 2015
জেরুজালেমের ইতিহাস ও ক্রুসেড
জেরুজালেমের ইতিহাস ও ক্রুসেড
ক্রুসেড ওয়ার
হযরত ওমরের (রা.) খেলাফত কালে (৬৩৭ খৃ:) জেরুজালেম মুসলমানদের দখলে আসে। বিজয় যখন মুসলমানদের আয়ত্তে তখন জেরুজালেমের অধিপতি পেট্রিয়ার্ক সফ্রোনাস (Patriarch Sophronius) আবেদন করেন যে তাদের আত্মসমর্পণ স্বয়ং খলিফার উপস্থিতিতেই হতে হবে এবং খলিফাকেই তাদের দাবি দাওয়ার কথা শুনতে হবে। তার এই আবেদন মঞ্জুর করা হয়।
এরই প্রেক্ষিতে ওমর (রা.) জেরুজালেমে পৌঁছেন। তার পরের দিন ফজরের সময় হযরত বিলাল (রা) কে আজান দিতে আহবান করেন। নবী (সা.)এঁর ওফাতের পর থেকে বিলাল (রা.) আর আজান দিচ্ছিলেন না। কিন্তু এই মহান মূহুর্ত্তে খলিফার আবেদনে যখন দাড়িয়ে যান এবং আজান দেন তখন সাহাবীরা (রা.) কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছেন। এই স্বরের সাথে কত স্মৃতি, কত ইতিহাস, কত আবেগ।
সকাল বেলায় আবু ওবায়দা (রা.) কে তাঁর আগমন সংবাদ সফ্রোনাসকে দিতে বলেন। তাই করা হল। কিন্তু এক পর্যায়ে সফ্রোনাসের সাথে যখন কেবল আবু ওবায়দাকে (রা.) নিয়ে যেতে উদ্যত হয়েছেন তখন তাঁর সাথিরা বললেন, আমিরুল মু’মিনীন আপনি বিনা নিরাপত্তায় যাচ্ছেন, আমাদের ভয় হয় যে যদি তারা বিশ্বাসঘাতকতা করে বসে, অথচ আপনার সাথে নিরাপত্তার কিছু নেই। ওমর (রা.) পাঠ করলেন, قُل لَّن يُصِيبَنَآ إِلاَّ مَا كَتَبَ ٱللَّهُ لَنَا هُوَ مَوْلاَنَا وَعَلَى ٱللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ ٱلْمُؤْمِنُونَ -বলুন, আমাদেরকে কোন মুসীবত আক্রান্ত করতে পারবে না কেবল তা ব্যতীত যা আল্লাহ আমাদের জন্য লিখে রেখেছেন; তিনি আমাদের প্রভু, আমাদের নির্বাহক। সুতরাং বিশ্বাসীরা কেবল আল্লাহর উপরই নির্ভর করা উচিত (৯:৫১)।
অতঃপর ওমর (রা.) পেট্রিয়ার্ক সফ্রোনাসের সাথে সাক্ষাত করেন এবং তাদের জানমাল ও ধর্মীয় নিরাপত্তার বিষয়াদি নিশ্চিত করেন। সেই হতে জেরুজালেমে সকল ধর্মের (ইয়াহুদী/খৃষ্টীয়ান) লোকজনের যাওয়া আসা, ইবাদত-আরাধনার নিরাপত্তা বিধিত হয় এবং এটা এভাবেই যুগপৎ হয়ে পড়ে।
প্রথম ক্রুসেড
এগারো শতাব্দীতে ইউরোপিয়ান শাসকেরা ধর্মীয় এবং বাণিজ্যিক অভিপ্রায়ে জেরুজালেমকে মুসলমানদের হাত থেকে কেড়ে নিতে পরিকল্পনা শুরু করেন। এই কাজ করতে গিয়ে তারা যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সূচনা করেন -তা ছোট বড় আকারে ১৩ শো শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত চলতে থাকে। তাদের যুদ্ধ ও দখলদারিতে প্রাণহাণী ঘটান, নানান রকমের অত্যাচার ও নির্যাতন করেন এবং সর্বোপরি যুদ্ধের অর্থ সংগ্রহ করতে এবং সৈন্য সংগ্রহ করতে গিয়ে ইসলাম ও মুসলমানদের বিপক্ষে যে চরম মিথ্যাচার ও প্রোপাগান্ডা করেন তার জের এখনও শেষ হয় নি। ইউরোপ ও মুসলমানদের মধ্যে হাজার বৎসরের টানাপোড়নের সম্পর্ক এই যুদ্ধংদেহী তৎপরতার সৃষ্টি।
১০৬০ এর দশকে সেলজুক (মুসলিম) তুর্কীদের হাতে জেরুজালেমের কর্তৃত্ব চলে গেলে পশ্চিমা দেশে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, কেননা যেকোনো পটপরিবর্তনে অনিশ্চয়তা ও সন্দেহের অবকাশ দেখা দেয়। কিন্তু এই পরিবর্তন সাধারণ ছিল না, এটা ইউরোপিয়ানদের সামনে যুদ্ধের একটি অজুহাত খাড়া করে দেয়। ১০৯৫ সালে বুউয়েঁর গডফ্রি (Godfrey of Bouillon, একজন ফরাসী) সসৈন্যে জেরুজালেমের দিকে অগ্রসর হন। ১০৯৯ সালে মুসলমানদেরকে পরাজিত করেন এবং জেরুজালেম তাদের দখলে আনেন। এই যুদ্ধে গোটা ক্যাথোলিক চার্চ ও পোপ ২য় আর্বানের (১০৩৫-১০৯৯) সমর্থন ও আশীর্বাদ ছিল।
বিজয়ের পর ক্রুসেড যোদ্ধারা জেরুজালেমে রক্তের বন্যা বহান। এটা ইউরোপিয়ানদের নিজ বিবরণ অনুযায়ী। [১] শহরে কী নারী, কী পুরুষ, কী শিশু, কী বৃদ্ধ –যাকেই পাওয়া গেছে, তাকেই নিধন করা হয়েছে। বহমান রক্তে নাকী সেদিন ঘোড়ার খোর পিছলে যাচ্ছিল। এই ছিল নিধনের নৃশংসতা।
বিজয় ধরে রাখা, পরবর্তী যুদ্ধাদি চালিয়ে যাওয়া এবং সর্বোপরি প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে গডফ্রি জেরুজালেমের বাদশার পদে সমাসীন হন।
নাইট টেম্পলারদের আত্মপ্রকাশ
১১১৮ সালে (মতান্তরে ১১১৯ সালে) বাদশাহ ২য় বল্ডউইনের সময় সন্ন্যাসীদের মধ্য থেকে একদল স্থায়ী সেনাবাহিনী তৈরির প্রস্তাব আসে –যাদের কাজ হবে তীর্থযাত্রীদের প্রতিরক্ষা ও জেরুজালেম সংরক্ষণ। এই বাহিনী তৈরির মূলে ছিলেন হিউ ডি প্যান, ((একজন ফরাসী নৌবলম্যান (noble man,রাজকীয় প্রথায় একজন সম্মানিত, উচ্চ পদস্থ ব্যক্তি))। এই বাহিনীর মাধ্যমে ইউরোপ থেকে ব্যবসায়/ধর্মীয় যাত্রার নিরাপত্তা বিধানের এক ধরনের ফ্রাঞ্চাইজ নেয়া হয়। ঐতিহাসিকদের কেউ কেউ এই উদ্দেশ্যদ্বয়ের উপর দ্বিমত করেন। তাদের ধারণা যে এই বাহিনী তৈরির ‘মতলব’ অন্যস্থানে ছিল। ঘটনা যাই হোক এর নাম দেয়া হয় The Order of the Poor Knights of the Temple of King Solomon সংক্ষেপে the Knight Templars। এক দিকে ওরা সন্ন্যাসী আর অপর দিকে নিবেদিত যোদ্ধা, খোদার যোদ্ধা। নামের তাৎপর্যের দিক দিয়ে ‘নাইট টেম্পলার’ হল ধর্ম যোদ্ধা, সন্ন্যাসী যোদ্ধা। এটা ভারতের শিবসেনার সমার্থক, এই যোদ্ধারা ও তাদের জীবন স্রেফ যুদ্ধ কেন্দ্রিক, সমর নিবেদিত। আবার যদিও নামের মধ্যে ‘দরিদ্র’ (poor) শব্দটি আছে কিন্তু শব্দে যা’ই থাকুক বাস্তবে এভাবে থাকবেনা।
সেদিন যে বাহিনীটি গড়া হয়েছিল তা অদূর ভবিষ্যতে এক বিরাট বাহিনী হয়ে গড়ে উঠবে। তারা আগামীতে ধনসম্পদের পাহাড় গড়বে, রাজকীয় প্রশাসনের মোকাবেলায় হুমকি হবে এবং অবশেষে তাদেরকে মেরে শিকড় নির্মূল করার চেষ্টা করা হবে। কিন্তু এই উদ্দেশ্য সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হবে না। মনে রাখতে হবে, এদের অস্তিত্ব ছিল চার্চের নামে, ধর্মের আওতায়, চার্চ ও রাজার যৌথ শাসনের অধীনস্থ হয়ে যা পরবর্তীতে ইউরোপের ধর্ম ও শাসন ব্যবস্থায় প্রবল ছাপ মারবে। শুধু যে তাই, তা নয়, পরবর্তীতে মানুষ ধর্ম, চার্চ, যুদ্ধ, নৃশংসতার ‘মিলনের সম্পর্কে’ বীতশ্রদ্ধ হয়ে উঠবে। তাছাড়া মধ্যযুগ, যুক্তির যুগ এবং এনলাইটনম্যান্টের যুগ পর্যন্ত ধর্ম ও শাসন ব্যবস্থায় ফাটল ধরাতে যেসব উপাদান কাজ করে থাকবে, এটাই হবে তাদের একটি।
বাদশাহ বল্ডউইন ক্রুসেড যোদ্ধাদেরকে জেরুজালেম মসজিদের কর্তৃত্ব দান করেছিলেন। এক সময় তারা মসজিদের মাটির নিচে একটি বিরাট ধনভাণ্ডার লাভ করে। তারা নাকি ভিত্তিস্থ মাটি খুড়ে ark of covenant পায়। মতান্তরে সেটি ছিল হলী গ্রেইল (Holy Grail)। তবে এর উপর আরও মতামত আছে। যেমন ডেড সী ক্রোল (dead-sea scroll), কোনো মৌলিক অতি বিরল তত্ত্ব, যীশুর কোন শিষ্যের কর্তিত মস্তক অথবা ৭০ খৃষ্টাব্দে রোমানরা জেরুজালেম আক্রমণ করলে ইয়াহুদীগণ তাদের সোনা-রূপা স্থানে স্থানে গোপন করে যে ম্যাপ তৈরি করে রেখেছিল সেই ম্যাপ আবিষ্কার এবং সেই বিপুল সম্পদাদি উদ্ধার ইত্যাদি। [২] তবে মূল বস্তুটি কী ছিল –তা নিশ্চিত করা না গেলেও জিনিসটি যে অতি গুরুত্বপূর্ণ ছিল তা তাদের এক ‘চূড়ান্ত-মুক্তি সনদ’ থেকে বুঝা যায়। টেম্পলারদের প্রধান ফ্রান্সে আসেন। চার্চ প্রধান, বাদশাহ ও অবশেষে পোপের সাথে দেখা করেন এবং তার কাছ থেকে একটি অনাক্রম্যতা (immunity) লাভ করেন এই অর্থে যে কোনো দেশের আইন তাদেরকে স্পর্শ করতে পারবে না, তাদেরকে কোনো রাষ্ট্রীয় নিয়মনীতি মানতে হবেনা, খাজনা ইত্যাদি দিতে হবেনা। [প্রাগুক্ত নোট ২)] এটা কেন? তারা সেখানে কী মহামূল্যের বস্তু পেয়েছিল –এসব সব প্রশ্নের কোন সঠিক উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি। তবে তখন থেকে তারা এক ওঠাল সম্পত্তির মালিক হয়, ইউরোপ জুড়ে তাদের ক্ষমতা বিস্তার হয়। তাদের হাতে একটি ব্যাংকিং সিস্টেমও গড়ে ওঠে। তীর্থযাত্রীরা নিরাপত্তার জন্য নিজেদের অর্থ (সোনা/রূপা) ওদের দফতরে জমা দিত এবং মোকাবেলায় সেই মূল্যের কাগজের রিসিট নিয়ে পাড়ি জমাত। নির্দিষ্ট শহরাদিতে রিসিট দেখিয়ে টাকা তুলতে পারত। এই সার্ভিসের জন্য ১০% চার্জ করা হত। তীর্থ ছাড়া সাধারণভাবে এই সিস্টেম ব্যবহৃত হয়।
দ্বিতীয় ক্রুসেড
ক্রুসেডের যুদ্ধ কয়েক দফা হয়েছিল। জেরুজালেম ক্রুসেডদের দখলে থাকা অবস্থায় তারা সেখান থেকে অপরাপর স্থান দখল করার জন্যও যুদ্ধ করে। তাছাড়া ইউরোপ থেকে এই উদ্দেশ্যে আরও যুদ্ধাদি নিয়ে যাওয়া হয়। এগুলোর সবই ক্রুসেডের যুদ্ধ, ধর্মের যুদ্ধ।
একজন ফরাসী এবোট বার্নার্ড অব ক্লেয়ারভক্স (Bernard of Clairvaux) এর আহবানে বাদশাহ ৭ম লুইস ও ৩য় কনরাডের অধীনের একটি ক্রুসেড ১১৪৭ থেকে ১১৪৯ পর্যন্ত চালানো হয়। কিন্তু তারা এই অভিযানে তেমন কোন ফায়দা হাসিল করতে পারেননি। [উইকি, ৩]
সালাউদ্দীন আইয়ূবীর জেরুজালেম উদ্ধার
সালাউদ্দীনের সাথে ক্রুসেডদের যুদ্ধ হয় ১১৮৭ সালে। এর কয়েক দশক আগে অপর এক ক্রুসেড যুদ্ধে এই মর্মে বিরতি (truce) আসে যে খৃষ্টীয়ানরা মুসলমানদেরকে হজ্জে যাতায়াতে বাধা দেবে না, ব্যবসায় কাফেলাদেরকে এবং ধর্মীয় কাজে বিঘ্নতা সৃষ্টি করবেনা। এটাই প্রায় চার যুগ ধরে চলছিল। কিন্তু ১১৮৭ সালের জানুয়ারি মাসে একটি হজ্জযাত্রী কাফেলাকে রেনোল্ড (Raynald) আক্রমণ করেন, মালামাল লুট করেন এবং তাদেরকে মারধর করে জেলে নিক্ষেপ করেন। রেনোল্ডের উদ্দেশ্য ছিল সালাউদ্দীনকে যুদ্ধে নামানো। অবস্থা এই ছিল যে জেরুজালেমের বাদশাহ বল্ডউইন কোষ্ঠরোগে আক্রান্ত হয়ে তার ভায়রা (brother in-law) গী অব লুসিগনান (Guy of Lusingnan) রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেন, (made him a regent)। কিন্তু গীর সে ধরনের তেমন কোন দক্ষতা ছিল না। তাই তার এক প্রাক্তন-মৈত্রী রেনোল্ড তার কাজে সহায়তা করতেন এবং ‘সুযোগও গ্রহণ করতেন’। [উইকি, ৪]। রেনোল্ড একজন রক্ত-লিপ্সু ব্যক্তি ছিলেন। [প্রাগুক্ত, নোট ১] । তবে রেনোল্ড কর্তৃক ব্যবসায় কাফেলাকে ইতিপূর্বে হয়রানী করার অভিযোগও আছে।
পার্শ্ববর্তী এলাকায় মুসলমানদের ঐক্য ও শক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছিল তাই রেনোল্ড ইচ্ছে করেই সালাউদ্দীনকে যুদ্ধে নামিয়ে চূর্ণ করার পরিকল্পনা করেন। এই উদ্দেশেই একটি নিরপরাধ, নিরস্ত্র, হজ্জগামী কাফেলাকে আক্রমণ। এরই জওয়াব দিতে আসেন সালাউদ্দীন আইয়ূবী। ১১৮৭ সালে তিনি ক্রুসেডদেরকে দারুণভাবে পরাজিত করেন এবং জেরুজালেম পুনরুদ্ধার করেন। তাঁর জেরুজালেমে প্রবেশ ও বিজয় ছিল রক্তহীন।
তৃতীয় ক্রুসেড
সালাউদ্দীনের বিজয় ইউরোপে তুমুল ক্ষোভ ও বিকম্পন সৃষ্টি করে। পোপ ৩য় আর্বান হার্ট এটাক করে মারা যান। স্মরণ রাখা দরকার যে ১০৯৯ সালে যখন জেরুজালেম ক্রুসেডরা দখল করে তখন পোপ ২য় আর্বানের মৃত্যু হয়। পোপ ৭ম গ্রিগোরি পালটা ক্রুসেড নিয়ে যাওয়ার জন্য আহবান করেন। জার্মানের ১ম ফ্রেড্রিক বারোসা, ফ্রান্সের ২য় ফিলিপস অগাস্টাস এক বিরাট বাহিনী নিয়ে জেরুজালেমের দিকে যাত্রা করেন। পথে কোনো এক নদীতে ফ্রেড্রিক ডুবে মরেন। কুলক্ষণ ভেবে বা নিরাশ হয়ে তারা যাত্রা ভঙ্গ করেন।
১১৮৯ সালে ইংল্যান্ডের বাদশাহ তৃতীয় রিচার্ড সেকালের সবচেয়ে ভারী অস্ত্র ও কামান সহ ১৭,০০০ সৈন্য নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। (প্রাগুক্ত, নোট ১) গন্তব্যস্থলে পৌঁছিলে তার সাথে সিভিলিয়ান হয়ে থাকা ও পলাতক ক্রুসেডরা শরিক হন। তাছাড়া সেই অঞ্চলের খৃষ্টিয়ান সৈন্যরা যারা আগে বল্ডউন ও গীর অধীনে ছিল –তারাও সংঘবদ্ধ হন। অপরদিকে সালাউদ্দীনের সৈন্য সংখ্যা দিন দিন কমে আসছিল, কেননা তার লোকজন ছিল জেহাদ করতে আসা নানান অঞ্চলের কৃষিজীবী মানুষ –যারা পরিবার পরিজন ও ক্ষেত-খামার রেখে বৎসরের পর বৎসর লেগে থাকার মত অবস্থানে ছিল না।
রিচার্ড বিপুল শক্তিতে যুদ্ধ শুরু করেন। তিনি একর, জাফা, কেসারিয়া এবং টায়ার –এই শহরগুলো মুসলমানদেরকে পরাজিত করে নিজ দখলে নেন। দু এক শহরে তুমুল যুদ্ধে কখন এই পক্ষ কখন সেই পক্ষ বিজয় লাভ করতে থাকে।
কিন্তু রিচার্ড প্রথমে একর দখল করেই সেখানে যুদ্ধাপরাধ করেন। তার হাতে ২,৭০০ মুসলিম সৈন্য ধরা পড়লে তিনি কয়েক হাজার স্বর্ণমুদ্রার বিনিয়ে মুক্তিপণে ফিরৎ দিতে রাজি হন। কিন্তু স্বর্ণ হস্তান্তর ও সৈন্য ফিরৎ পাওয়া প্রক্রিয়া স্পষ্ট করতে খানিক দেরি হলে তিনি সকল সৈন্যদেরে সারিবদ্ধ করে শিরচ্ছেন করেন। [প্রাগুক্ত, নোট ১]
অনেক তুমুল যুদ্ধের পর ১১৯২ সালে উল্লেখিত শহরগুলো তার কর্তৃত্বে রেখে এবং জেরুজালেম আক্রমণ না করেই রিচার্ড ইংল্যান্ডে ফিরে আসেন। রিচার্ড তখন আহত ছিলেন। ঐতিহাসিকদের মতে তিনি জেরুজালেম বিজয় করতে পারবেন বলে মনে করেননি অথবা বিজয় করলেও তা ধরে রাখতে পারবেন বলে নিশ্চিত ছিলেন না। পরবর্তী বৎসর সালাদ্দিনের মৃত্যু হয়। (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ক্রুসেডদের অনুশোচনা ছিল যে রিচার্ড যদি কোনো রকমে আরও একটি বৎসর থেকে যেতে পারতেন তবে সালাউদ্দীনের মৃত্যুতে তার উত্তরাধিকার নিয়ে যে অন্তর্দ্বন্দ্ব শুরু হয় তার সুযোগে জেরুজালেম আক্রমণ করা যেত এবং হয়ত বিজয় আসত। ইংল্যান্ড ফেরার কয়েক বৎসর পর অর্থাৎ ১১৯৯ সালে রিচার্ড মারা যান) ।
অন্যান্য ক্রুসেড
রিচার্ডের ইচ্ছে ছিল তিনি আরেক দফা অভিযান চালাবেন। কিন্তু জেরুজালেমে আহত হবার পর সে ক্ষতস্থান আর পুরোপুরি ভাল নি বরং সেই ক্ষত থেকেই তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুতে ক্রুসেড যুদ্ধ থেমে যায়নি। এই যুদ্ধ তার পরের একশো বছর পর্যন্ত চলতে থাকে। কিন্তু ক্রুসেডরা জেরুজালেম দখল করতে সমর্থ হননি। ছোট বড় যুদ্ধ হয়, তাদের মধ্যে হচ্ছে ১২০২-৪ সালে, ১২১২-২১ সালে, ১২২৮-২৯ সালে, ১২৪৯-৫৪ সালে, ১২৭০-৭২ সালে, ও ১২৯১ সালে। [৫]
নাইট টেম্পলারদের শেষ দশা
১২৯২ সালে একমাত্র শহর একর ব্যতীত আর কোনো শহর নাইট টেমপ্লারদের অধিকারে থাকেনি এবং ১২৯২ সালের যুদ্ধেই (মতান্তরে ১২৯১ সালে) তারা পরাজিত হয়ে তাদের শেষ লর্ড (Grand Master of the Knights Templar) জ্যাক ডি মলোয়সহ সাগর পাড়ি দিয়ে সাইপ্রাসে আশ্রয় নেন এবং সেখান থেকে ফ্রান্সের বাদশাহর কাছে মিলিটারি সাহায্যের আহবান পাঠান। কিন্তু বিধি বাম। কোনো সাহায্য আসেনি। ফ্রান্সের বাদশাহ ফিলিপ দ্যা ফেয়ার (Phillip the Fair) তখন নাইট-টেম্পলারদের কাছ থেকে নেয়া ধারের (debts) ভারে ডুবু ডুবু অবস্থায়। তাছাড়া দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা কাটিয়ে ওঠাও তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। তাছাড়া ইংল্যান্ডের সাথে তখন তার যুদ্ধের সম্পর্ক ছিল। লক্ষণীয় যে টেম্পলাররা তাদের টাকা সুদে ধার দিয়ে বাদশাহি চালাচ্ছিল, কিন্তু যুদ্ধের খরচের জন্য নিজেদের টাকা ব্যয় না করে বাদশাহকেই সে খরচ বহন করতে আবেদন করছিল যাতে বাদশাহ পরিশেষে সেই টাকা ট্যাক্সের মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে তুলে নেন। এই কারসাজি আর আজকের কারসাজির মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য নেই। বড় বড় কর্পোরেশনের চাপে ইউরোপিয়ান সরকারগুলো যুদ্ধে যায় এবং ট্যাক্স পেয়ারের টাকায় সে যুদ্ধ চালায়। তারপর কর্পোরেশনগুলো যুদ্ধোত্তর ফায়দা হাসিল করে।
ডি মলোয় নিরাশ হয়ে ১৩০৭ সালে ফ্রান্সে আসেন কিন্তু ইত্যবসরে অনেক ষড়যন্ত্র হয়ে যায়। পোপের সম্মতি নিয়ে ফিলিপ জ্যাক ডি মলোয় ও তার অনুচরদেরকে গ্রেফতার করেন ও ১৩১৪ সালের মার্চ মাসে মৃত্যুদণ্ড দেন এবং তাদের হত্যার মাধ্যমে ফিলিপ কর্জমুক্ত হন। এসব কাজ পশ্চিমা দেশ এখনো আরব দেশের ডেসপট লীদারদের সাথে করে, তাদেরকে নির্মূল করে তাদের গচ্ছিত টাকা আত্মসাৎ করে। ডি মলোয় ও তার অনুচররা ১৩ই মার্চ শুক্রবার দণ্ডপ্রাপ্ত হন এবং এর পর থেকে Friday the 13th ইউরোপিয়ানদের কাছে একটি কুলক্ষণ হয়ে পড়ে!
টেমপ্লারদের উপর অভিযোগ আনা হয় যে তারা নাকী ধর্মচ্যুত বা বিপথগামী হয়েছিল, (heresy, ধর্ম বিশ্বাস থেকে সরে গিয়েছিল); তারা প্রচলিত ধর্মীয় বাহ্যিক আনুষঙ্গিকতার প্রয়োজনীয়তা মনে করত না; এমন কি মুসলিম জগতের সংস্পর্শে সূফী দার্শনিক কিছু সংযোজন ঘটানোর অভিযোগও ছিল। নির্যাতন কক্ষে মারপিট খেয়ে সবাই যত অভিযোগ ঢালা হয় তার সবই স্বীকার করেছিল। তারা শয়তানের (Lucifer) উপাসনার কথাও স্বীকার করে। তবে এমন স্বীকারোক্তিতে মূলত কিছুই প্রমাণিত হয় বলে মনে হয় না। অবশেষে জ্যাক ডি মলোয় ও তার সহপার্টি ৬০ জন নাইট-টেম্পলারকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।
কিন্তু বাকী টেম্পলাদের কী হল? তাদের বিরাট সম্পত্তির কী হল? তারা কোথায় গিয়ে আত্মগোপন করলো? এসবের কোন হদিস সেদিন পাওয়া যায় নি, বা সর্বসাধারণ জানে নি। অনেকের ধারণা যে এই নাইট-টেম্পলাররাই বিভিন্ন গোপন সোসাইটির আড়ালে থেকে কাজ করে যেতে থাকে, যেমন ফ্রিম্যাসন, ইলুমিনাটি ইত্যাদি।
শেষ কথা
ক্রুসেডের যুদ্ধগুলি মুসলিম ভূখণ্ডে অনেক বিপর্যয় এনেছে, অনেক প্রাণনাশ করেছে, তাদের জাতীয় জীবনে ও মানসিকতায় অনেক প্রভাব ফেলেছে। এই কথাটি আবার ইউরোপের ব্যাপারেও সত্য। দুই শো বৎসর ব্যাপী চালিত এই যুদ্ধ ইউরোপের রাজনীতি, সমাজ ও মনন জুড়ে রেখেছিল। যুদ্ধের জন্য বিশ্বাসে উদ্বুদ্ধ হয়ে সাধারণ জনগণ স্বহস্তে ধন-সম্পদ দান করেছিল, যুদ্ধে গিয়ে জীবন দিয়েছিল, জীবন নিয়েছিল –এই যুদ্ধ তাই মামুলী ছিল না, হতেই পারত না।
সর্বোপরি মনে রাখতে হবে যে সকল বিপর্যয় ও নিষ্ঠুর দিকগুলোর পরও এগুলো ছিল ‘মানুষের’ কাহিনী, মানুষের ইতিহাস। এই যুদ্ধে মূল্যবোধের বিষয় ছিল, আদর্শগত বিষয় ছিল। এই যুদ্ধ তার সময় সীমায় যে মানসিকতা তৈরি করেছিল তার প্রতিক্রিয়া সুদূর প্রসারী হয়ে পড়েছিল –সেই মানসিকতার ছুঁয়াচ আজও অনুভব করা যায়। সেদিন সেই যোদ্ধারা বিজয়ী হওয়া, সামাজিক প্রশংসা ও স্বীকৃতি লাভ করা, (পাদ্রির কাছে) গোনাহের স্বীকারোক্তির ঊর্ধ্বে ওঠা –এগুলো ছিল বিরাট বৈক্তিক, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার ব্যাপার। (এই বিষয়াদির ব্যাপারে নিচের সূত্রায়িত একটি বই আছে,দেখা যেতে পারে, রেফ: ৫)
কিন্তু সবকিছুর পরও একথা স্পষ্ট যে মুসলমানদের হাতে জেরুজালেমে যে শান্তি-নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা বিরাজ করেছিল তা ইউরোপীয় খৃষ্টীয়ান পক্ষের হাতে হয়নি। সাধারণভাবে, মুসলমানদের শাসন ব্যবস্থায় চার্চ ও সামন্ততান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার মত জনগণ নির্যাতিত হয়নি। যেসব কারণের প্রেক্ষিতে ইউরোপ নাস্তিক্য ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ গ্রহণ করেছিল, সেই ধরণের কারণাদি ইসলামী সমাজ ব্যবস্থায় তুলনীয় ছিল না, যে কারণে সাম্রাজ্যবাদের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে, হাজার প্রোপাগান্ডা, শক্তি প্রয়োগ ও বলিষ্ঠ মিথ্যাচারের পরও ইসলাম যেভাবে দাড়িয়ে থাকে (এবং এখনো আছে) সেভাবে চার্চ ও সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা দাড়িয়ে থাকতে পারেনি।
আজ ইউরোপ একটু নমনীয় হয়ে প্যালেস্টাইন-সমস্যার সমাধান করলে বিশ্বের অনেক অশান্তির সমাধান হত। বিশ্ব অন্য ধরনের শান্তির পথ খোজে পেত। কিন্তু পশ্চিমের মন-মানসিকতার যে অংশে শক্তি নিহিত সে অংশ ইসলাম ও মুসলমানদের পদদলিত করা ছাড়া আর কোন ধারণা রাখে বলে মনে হয় না।
তবুও একবিংশ শতাব্দীর কামনা এই যে বিশ্বে শান্তি আসুক, মানুষ শান্তির পথ পাক, পশ্চিমের যেদেশগুলোর যেগুলোকে ওয়ার-ইকোনমি (war-economy) করে রাখা হয়েছে সেগুলো এই যুদ্ধংদেহী ধারা থেকে বেরিয়ে অন্য ধারা খুঁজুক। তবেই আশা করা যায় শান্তি ফিরবে।
লেখকঃ এস আহমদ
হযরত ওমরের (রা.) খেলাফত কালে (৬৩৭ খৃ:) জেরুজালেম মুসলমানদের দখলে আসে। বিজয় যখন মুসলমানদের আয়ত্তে তখন জেরুজালেমের অধিপতি পেট্রিয়ার্ক সফ্রোনাস (Patriarch Sophronius) আবেদন করেন যে তাদের আত্মসমর্পণ স্বয়ং খলিফার উপস্থিতিতেই হতে হবে এবং খলিফাকেই তাদের দাবি দাওয়ার কথা শুনতে হবে। তার এই আবেদন মঞ্জুর করা হয়।
এরই প্রেক্ষিতে ওমর (রা.) জেরুজালেমে পৌঁছেন। তার পরের দিন ফজরের সময় হযরত বিলাল (রা) কে আজান দিতে আহবান করেন। নবী (সা.)এঁর ওফাতের পর থেকে বিলাল (রা.) আর আজান দিচ্ছিলেন না। কিন্তু এই মহান মূহুর্ত্তে খলিফার আবেদনে যখন দাড়িয়ে যান এবং আজান দেন তখন সাহাবীরা (রা.) কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছেন। এই স্বরের সাথে কত স্মৃতি, কত ইতিহাস, কত আবেগ।
সকাল বেলায় আবু ওবায়দা (রা.) কে তাঁর আগমন সংবাদ সফ্রোনাসকে দিতে বলেন। তাই করা হল। কিন্তু এক পর্যায়ে সফ্রোনাসের সাথে যখন কেবল আবু ওবায়দাকে (রা.) নিয়ে যেতে উদ্যত হয়েছেন তখন তাঁর সাথিরা বললেন, আমিরুল মু’মিনীন আপনি বিনা নিরাপত্তায় যাচ্ছেন, আমাদের ভয় হয় যে যদি তারা বিশ্বাসঘাতকতা করে বসে, অথচ আপনার সাথে নিরাপত্তার কিছু নেই। ওমর (রা.) পাঠ করলেন, قُل لَّن يُصِيبَنَآ إِلاَّ مَا كَتَبَ ٱللَّهُ لَنَا هُوَ مَوْلاَنَا وَعَلَى ٱللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ ٱلْمُؤْمِنُونَ -বলুন, আমাদেরকে কোন মুসীবত আক্রান্ত করতে পারবে না কেবল তা ব্যতীত যা আল্লাহ আমাদের জন্য লিখে রেখেছেন; তিনি আমাদের প্রভু, আমাদের নির্বাহক। সুতরাং বিশ্বাসীরা কেবল আল্লাহর উপরই নির্ভর করা উচিত (৯:৫১)।
অতঃপর ওমর (রা.) পেট্রিয়ার্ক সফ্রোনাসের সাথে সাক্ষাত করেন এবং তাদের জানমাল ও ধর্মীয় নিরাপত্তার বিষয়াদি নিশ্চিত করেন। সেই হতে জেরুজালেমে সকল ধর্মের (ইয়াহুদী/খৃষ্টীয়ান) লোকজনের যাওয়া আসা, ইবাদত-আরাধনার নিরাপত্তা বিধিত হয় এবং এটা এভাবেই যুগপৎ হয়ে পড়ে।
প্রথম ক্রুসেড
এগারো শতাব্দীতে ইউরোপিয়ান শাসকেরা ধর্মীয় এবং বাণিজ্যিক অভিপ্রায়ে জেরুজালেমকে মুসলমানদের হাত থেকে কেড়ে নিতে পরিকল্পনা শুরু করেন। এই কাজ করতে গিয়ে তারা যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সূচনা করেন -তা ছোট বড় আকারে ১৩ শো শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত চলতে থাকে। তাদের যুদ্ধ ও দখলদারিতে প্রাণহাণী ঘটান, নানান রকমের অত্যাচার ও নির্যাতন করেন এবং সর্বোপরি যুদ্ধের অর্থ সংগ্রহ করতে এবং সৈন্য সংগ্রহ করতে গিয়ে ইসলাম ও মুসলমানদের বিপক্ষে যে চরম মিথ্যাচার ও প্রোপাগান্ডা করেন তার জের এখনও শেষ হয় নি। ইউরোপ ও মুসলমানদের মধ্যে হাজার বৎসরের টানাপোড়নের সম্পর্ক এই যুদ্ধংদেহী তৎপরতার সৃষ্টি।
১০৬০ এর দশকে সেলজুক (মুসলিম) তুর্কীদের হাতে জেরুজালেমের কর্তৃত্ব চলে গেলে পশ্চিমা দেশে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, কেননা যেকোনো পটপরিবর্তনে অনিশ্চয়তা ও সন্দেহের অবকাশ দেখা দেয়। কিন্তু এই পরিবর্তন সাধারণ ছিল না, এটা ইউরোপিয়ানদের সামনে যুদ্ধের একটি অজুহাত খাড়া করে দেয়। ১০৯৫ সালে বুউয়েঁর গডফ্রি (Godfrey of Bouillon, একজন ফরাসী) সসৈন্যে জেরুজালেমের দিকে অগ্রসর হন। ১০৯৯ সালে মুসলমানদেরকে পরাজিত করেন এবং জেরুজালেম তাদের দখলে আনেন। এই যুদ্ধে গোটা ক্যাথোলিক চার্চ ও পোপ ২য় আর্বানের (১০৩৫-১০৯৯) সমর্থন ও আশীর্বাদ ছিল।
বিজয়ের পর ক্রুসেড যোদ্ধারা জেরুজালেমে রক্তের বন্যা বহান। এটা ইউরোপিয়ানদের নিজ বিবরণ অনুযায়ী। [১] শহরে কী নারী, কী পুরুষ, কী শিশু, কী বৃদ্ধ –যাকেই পাওয়া গেছে, তাকেই নিধন করা হয়েছে। বহমান রক্তে নাকী সেদিন ঘোড়ার খোর পিছলে যাচ্ছিল। এই ছিল নিধনের নৃশংসতা।
বিজয় ধরে রাখা, পরবর্তী যুদ্ধাদি চালিয়ে যাওয়া এবং সর্বোপরি প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে গডফ্রি জেরুজালেমের বাদশার পদে সমাসীন হন।
নাইট টেম্পলারদের আত্মপ্রকাশ
১১১৮ সালে (মতান্তরে ১১১৯ সালে) বাদশাহ ২য় বল্ডউইনের সময় সন্ন্যাসীদের মধ্য থেকে একদল স্থায়ী সেনাবাহিনী তৈরির প্রস্তাব আসে –যাদের কাজ হবে তীর্থযাত্রীদের প্রতিরক্ষা ও জেরুজালেম সংরক্ষণ। এই বাহিনী তৈরির মূলে ছিলেন হিউ ডি প্যান, ((একজন ফরাসী নৌবলম্যান (noble man,রাজকীয় প্রথায় একজন সম্মানিত, উচ্চ পদস্থ ব্যক্তি))। এই বাহিনীর মাধ্যমে ইউরোপ থেকে ব্যবসায়/ধর্মীয় যাত্রার নিরাপত্তা বিধানের এক ধরনের ফ্রাঞ্চাইজ নেয়া হয়। ঐতিহাসিকদের কেউ কেউ এই উদ্দেশ্যদ্বয়ের উপর দ্বিমত করেন। তাদের ধারণা যে এই বাহিনী তৈরির ‘মতলব’ অন্যস্থানে ছিল। ঘটনা যাই হোক এর নাম দেয়া হয় The Order of the Poor Knights of the Temple of King Solomon সংক্ষেপে the Knight Templars। এক দিকে ওরা সন্ন্যাসী আর অপর দিকে নিবেদিত যোদ্ধা, খোদার যোদ্ধা। নামের তাৎপর্যের দিক দিয়ে ‘নাইট টেম্পলার’ হল ধর্ম যোদ্ধা, সন্ন্যাসী যোদ্ধা। এটা ভারতের শিবসেনার সমার্থক, এই যোদ্ধারা ও তাদের জীবন স্রেফ যুদ্ধ কেন্দ্রিক, সমর নিবেদিত। আবার যদিও নামের মধ্যে ‘দরিদ্র’ (poor) শব্দটি আছে কিন্তু শব্দে যা’ই থাকুক বাস্তবে এভাবে থাকবেনা।
সেদিন যে বাহিনীটি গড়া হয়েছিল তা অদূর ভবিষ্যতে এক বিরাট বাহিনী হয়ে গড়ে উঠবে। তারা আগামীতে ধনসম্পদের পাহাড় গড়বে, রাজকীয় প্রশাসনের মোকাবেলায় হুমকি হবে এবং অবশেষে তাদেরকে মেরে শিকড় নির্মূল করার চেষ্টা করা হবে। কিন্তু এই উদ্দেশ্য সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হবে না। মনে রাখতে হবে, এদের অস্তিত্ব ছিল চার্চের নামে, ধর্মের আওতায়, চার্চ ও রাজার যৌথ শাসনের অধীনস্থ হয়ে যা পরবর্তীতে ইউরোপের ধর্ম ও শাসন ব্যবস্থায় প্রবল ছাপ মারবে। শুধু যে তাই, তা নয়, পরবর্তীতে মানুষ ধর্ম, চার্চ, যুদ্ধ, নৃশংসতার ‘মিলনের সম্পর্কে’ বীতশ্রদ্ধ হয়ে উঠবে। তাছাড়া মধ্যযুগ, যুক্তির যুগ এবং এনলাইটনম্যান্টের যুগ পর্যন্ত ধর্ম ও শাসন ব্যবস্থায় ফাটল ধরাতে যেসব উপাদান কাজ করে থাকবে, এটাই হবে তাদের একটি।
বাদশাহ বল্ডউইন ক্রুসেড যোদ্ধাদেরকে জেরুজালেম মসজিদের কর্তৃত্ব দান করেছিলেন। এক সময় তারা মসজিদের মাটির নিচে একটি বিরাট ধনভাণ্ডার লাভ করে। তারা নাকি ভিত্তিস্থ মাটি খুড়ে ark of covenant পায়। মতান্তরে সেটি ছিল হলী গ্রেইল (Holy Grail)। তবে এর উপর আরও মতামত আছে। যেমন ডেড সী ক্রোল (dead-sea scroll), কোনো মৌলিক অতি বিরল তত্ত্ব, যীশুর কোন শিষ্যের কর্তিত মস্তক অথবা ৭০ খৃষ্টাব্দে রোমানরা জেরুজালেম আক্রমণ করলে ইয়াহুদীগণ তাদের সোনা-রূপা স্থানে স্থানে গোপন করে যে ম্যাপ তৈরি করে রেখেছিল সেই ম্যাপ আবিষ্কার এবং সেই বিপুল সম্পদাদি উদ্ধার ইত্যাদি। [২] তবে মূল বস্তুটি কী ছিল –তা নিশ্চিত করা না গেলেও জিনিসটি যে অতি গুরুত্বপূর্ণ ছিল তা তাদের এক ‘চূড়ান্ত-মুক্তি সনদ’ থেকে বুঝা যায়। টেম্পলারদের প্রধান ফ্রান্সে আসেন। চার্চ প্রধান, বাদশাহ ও অবশেষে পোপের সাথে দেখা করেন এবং তার কাছ থেকে একটি অনাক্রম্যতা (immunity) লাভ করেন এই অর্থে যে কোনো দেশের আইন তাদেরকে স্পর্শ করতে পারবে না, তাদেরকে কোনো রাষ্ট্রীয় নিয়মনীতি মানতে হবেনা, খাজনা ইত্যাদি দিতে হবেনা। [প্রাগুক্ত নোট ২)] এটা কেন? তারা সেখানে কী মহামূল্যের বস্তু পেয়েছিল –এসব সব প্রশ্নের কোন সঠিক উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি। তবে তখন থেকে তারা এক ওঠাল সম্পত্তির মালিক হয়, ইউরোপ জুড়ে তাদের ক্ষমতা বিস্তার হয়। তাদের হাতে একটি ব্যাংকিং সিস্টেমও গড়ে ওঠে। তীর্থযাত্রীরা নিরাপত্তার জন্য নিজেদের অর্থ (সোনা/রূপা) ওদের দফতরে জমা দিত এবং মোকাবেলায় সেই মূল্যের কাগজের রিসিট নিয়ে পাড়ি জমাত। নির্দিষ্ট শহরাদিতে রিসিট দেখিয়ে টাকা তুলতে পারত। এই সার্ভিসের জন্য ১০% চার্জ করা হত। তীর্থ ছাড়া সাধারণভাবে এই সিস্টেম ব্যবহৃত হয়।
দ্বিতীয় ক্রুসেড
ক্রুসেডের যুদ্ধ কয়েক দফা হয়েছিল। জেরুজালেম ক্রুসেডদের দখলে থাকা অবস্থায় তারা সেখান থেকে অপরাপর স্থান দখল করার জন্যও যুদ্ধ করে। তাছাড়া ইউরোপ থেকে এই উদ্দেশ্যে আরও যুদ্ধাদি নিয়ে যাওয়া হয়। এগুলোর সবই ক্রুসেডের যুদ্ধ, ধর্মের যুদ্ধ।
একজন ফরাসী এবোট বার্নার্ড অব ক্লেয়ারভক্স (Bernard of Clairvaux) এর আহবানে বাদশাহ ৭ম লুইস ও ৩য় কনরাডের অধীনের একটি ক্রুসেড ১১৪৭ থেকে ১১৪৯ পর্যন্ত চালানো হয়। কিন্তু তারা এই অভিযানে তেমন কোন ফায়দা হাসিল করতে পারেননি। [উইকি, ৩]
সালাউদ্দীন আইয়ূবীর জেরুজালেম উদ্ধার
সালাউদ্দীনের সাথে ক্রুসেডদের যুদ্ধ হয় ১১৮৭ সালে। এর কয়েক দশক আগে অপর এক ক্রুসেড যুদ্ধে এই মর্মে বিরতি (truce) আসে যে খৃষ্টীয়ানরা মুসলমানদেরকে হজ্জে যাতায়াতে বাধা দেবে না, ব্যবসায় কাফেলাদেরকে এবং ধর্মীয় কাজে বিঘ্নতা সৃষ্টি করবেনা। এটাই প্রায় চার যুগ ধরে চলছিল। কিন্তু ১১৮৭ সালের জানুয়ারি মাসে একটি হজ্জযাত্রী কাফেলাকে রেনোল্ড (Raynald) আক্রমণ করেন, মালামাল লুট করেন এবং তাদেরকে মারধর করে জেলে নিক্ষেপ করেন। রেনোল্ডের উদ্দেশ্য ছিল সালাউদ্দীনকে যুদ্ধে নামানো। অবস্থা এই ছিল যে জেরুজালেমের বাদশাহ বল্ডউইন কোষ্ঠরোগে আক্রান্ত হয়ে তার ভায়রা (brother in-law) গী অব লুসিগনান (Guy of Lusingnan) রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেন, (made him a regent)। কিন্তু গীর সে ধরনের তেমন কোন দক্ষতা ছিল না। তাই তার এক প্রাক্তন-মৈত্রী রেনোল্ড তার কাজে সহায়তা করতেন এবং ‘সুযোগও গ্রহণ করতেন’। [উইকি, ৪]। রেনোল্ড একজন রক্ত-লিপ্সু ব্যক্তি ছিলেন। [প্রাগুক্ত, নোট ১] । তবে রেনোল্ড কর্তৃক ব্যবসায় কাফেলাকে ইতিপূর্বে হয়রানী করার অভিযোগও আছে।
পার্শ্ববর্তী এলাকায় মুসলমানদের ঐক্য ও শক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছিল তাই রেনোল্ড ইচ্ছে করেই সালাউদ্দীনকে যুদ্ধে নামিয়ে চূর্ণ করার পরিকল্পনা করেন। এই উদ্দেশেই একটি নিরপরাধ, নিরস্ত্র, হজ্জগামী কাফেলাকে আক্রমণ। এরই জওয়াব দিতে আসেন সালাউদ্দীন আইয়ূবী। ১১৮৭ সালে তিনি ক্রুসেডদেরকে দারুণভাবে পরাজিত করেন এবং জেরুজালেম পুনরুদ্ধার করেন। তাঁর জেরুজালেমে প্রবেশ ও বিজয় ছিল রক্তহীন।
তৃতীয় ক্রুসেড
সালাউদ্দীনের বিজয় ইউরোপে তুমুল ক্ষোভ ও বিকম্পন সৃষ্টি করে। পোপ ৩য় আর্বান হার্ট এটাক করে মারা যান। স্মরণ রাখা দরকার যে ১০৯৯ সালে যখন জেরুজালেম ক্রুসেডরা দখল করে তখন পোপ ২য় আর্বানের মৃত্যু হয়। পোপ ৭ম গ্রিগোরি পালটা ক্রুসেড নিয়ে যাওয়ার জন্য আহবান করেন। জার্মানের ১ম ফ্রেড্রিক বারোসা, ফ্রান্সের ২য় ফিলিপস অগাস্টাস এক বিরাট বাহিনী নিয়ে জেরুজালেমের দিকে যাত্রা করেন। পথে কোনো এক নদীতে ফ্রেড্রিক ডুবে মরেন। কুলক্ষণ ভেবে বা নিরাশ হয়ে তারা যাত্রা ভঙ্গ করেন।
১১৮৯ সালে ইংল্যান্ডের বাদশাহ তৃতীয় রিচার্ড সেকালের সবচেয়ে ভারী অস্ত্র ও কামান সহ ১৭,০০০ সৈন্য নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। (প্রাগুক্ত, নোট ১) গন্তব্যস্থলে পৌঁছিলে তার সাথে সিভিলিয়ান হয়ে থাকা ও পলাতক ক্রুসেডরা শরিক হন। তাছাড়া সেই অঞ্চলের খৃষ্টিয়ান সৈন্যরা যারা আগে বল্ডউন ও গীর অধীনে ছিল –তারাও সংঘবদ্ধ হন। অপরদিকে সালাউদ্দীনের সৈন্য সংখ্যা দিন দিন কমে আসছিল, কেননা তার লোকজন ছিল জেহাদ করতে আসা নানান অঞ্চলের কৃষিজীবী মানুষ –যারা পরিবার পরিজন ও ক্ষেত-খামার রেখে বৎসরের পর বৎসর লেগে থাকার মত অবস্থানে ছিল না।
রিচার্ড বিপুল শক্তিতে যুদ্ধ শুরু করেন। তিনি একর, জাফা, কেসারিয়া এবং টায়ার –এই শহরগুলো মুসলমানদেরকে পরাজিত করে নিজ দখলে নেন। দু এক শহরে তুমুল যুদ্ধে কখন এই পক্ষ কখন সেই পক্ষ বিজয় লাভ করতে থাকে।
কিন্তু রিচার্ড প্রথমে একর দখল করেই সেখানে যুদ্ধাপরাধ করেন। তার হাতে ২,৭০০ মুসলিম সৈন্য ধরা পড়লে তিনি কয়েক হাজার স্বর্ণমুদ্রার বিনিয়ে মুক্তিপণে ফিরৎ দিতে রাজি হন। কিন্তু স্বর্ণ হস্তান্তর ও সৈন্য ফিরৎ পাওয়া প্রক্রিয়া স্পষ্ট করতে খানিক দেরি হলে তিনি সকল সৈন্যদেরে সারিবদ্ধ করে শিরচ্ছেন করেন। [প্রাগুক্ত, নোট ১]
অনেক তুমুল যুদ্ধের পর ১১৯২ সালে উল্লেখিত শহরগুলো তার কর্তৃত্বে রেখে এবং জেরুজালেম আক্রমণ না করেই রিচার্ড ইংল্যান্ডে ফিরে আসেন। রিচার্ড তখন আহত ছিলেন। ঐতিহাসিকদের মতে তিনি জেরুজালেম বিজয় করতে পারবেন বলে মনে করেননি অথবা বিজয় করলেও তা ধরে রাখতে পারবেন বলে নিশ্চিত ছিলেন না। পরবর্তী বৎসর সালাদ্দিনের মৃত্যু হয়। (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ক্রুসেডদের অনুশোচনা ছিল যে রিচার্ড যদি কোনো রকমে আরও একটি বৎসর থেকে যেতে পারতেন তবে সালাউদ্দীনের মৃত্যুতে তার উত্তরাধিকার নিয়ে যে অন্তর্দ্বন্দ্ব শুরু হয় তার সুযোগে জেরুজালেম আক্রমণ করা যেত এবং হয়ত বিজয় আসত। ইংল্যান্ড ফেরার কয়েক বৎসর পর অর্থাৎ ১১৯৯ সালে রিচার্ড মারা যান) ।
অন্যান্য ক্রুসেড
রিচার্ডের ইচ্ছে ছিল তিনি আরেক দফা অভিযান চালাবেন। কিন্তু জেরুজালেমে আহত হবার পর সে ক্ষতস্থান আর পুরোপুরি ভাল নি বরং সেই ক্ষত থেকেই তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুতে ক্রুসেড যুদ্ধ থেমে যায়নি। এই যুদ্ধ তার পরের একশো বছর পর্যন্ত চলতে থাকে। কিন্তু ক্রুসেডরা জেরুজালেম দখল করতে সমর্থ হননি। ছোট বড় যুদ্ধ হয়, তাদের মধ্যে হচ্ছে ১২০২-৪ সালে, ১২১২-২১ সালে, ১২২৮-২৯ সালে, ১২৪৯-৫৪ সালে, ১২৭০-৭২ সালে, ও ১২৯১ সালে। [৫]
নাইট টেম্পলারদের শেষ দশা
১২৯২ সালে একমাত্র শহর একর ব্যতীত আর কোনো শহর নাইট টেমপ্লারদের অধিকারে থাকেনি এবং ১২৯২ সালের যুদ্ধেই (মতান্তরে ১২৯১ সালে) তারা পরাজিত হয়ে তাদের শেষ লর্ড (Grand Master of the Knights Templar) জ্যাক ডি মলোয়সহ সাগর পাড়ি দিয়ে সাইপ্রাসে আশ্রয় নেন এবং সেখান থেকে ফ্রান্সের বাদশাহর কাছে মিলিটারি সাহায্যের আহবান পাঠান। কিন্তু বিধি বাম। কোনো সাহায্য আসেনি। ফ্রান্সের বাদশাহ ফিলিপ দ্যা ফেয়ার (Phillip the Fair) তখন নাইট-টেম্পলারদের কাছ থেকে নেয়া ধারের (debts) ভারে ডুবু ডুবু অবস্থায়। তাছাড়া দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা কাটিয়ে ওঠাও তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। তাছাড়া ইংল্যান্ডের সাথে তখন তার যুদ্ধের সম্পর্ক ছিল। লক্ষণীয় যে টেম্পলাররা তাদের টাকা সুদে ধার দিয়ে বাদশাহি চালাচ্ছিল, কিন্তু যুদ্ধের খরচের জন্য নিজেদের টাকা ব্যয় না করে বাদশাহকেই সে খরচ বহন করতে আবেদন করছিল যাতে বাদশাহ পরিশেষে সেই টাকা ট্যাক্সের মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে তুলে নেন। এই কারসাজি আর আজকের কারসাজির মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য নেই। বড় বড় কর্পোরেশনের চাপে ইউরোপিয়ান সরকারগুলো যুদ্ধে যায় এবং ট্যাক্স পেয়ারের টাকায় সে যুদ্ধ চালায়। তারপর কর্পোরেশনগুলো যুদ্ধোত্তর ফায়দা হাসিল করে।
ডি মলোয় নিরাশ হয়ে ১৩০৭ সালে ফ্রান্সে আসেন কিন্তু ইত্যবসরে অনেক ষড়যন্ত্র হয়ে যায়। পোপের সম্মতি নিয়ে ফিলিপ জ্যাক ডি মলোয় ও তার অনুচরদেরকে গ্রেফতার করেন ও ১৩১৪ সালের মার্চ মাসে মৃত্যুদণ্ড দেন এবং তাদের হত্যার মাধ্যমে ফিলিপ কর্জমুক্ত হন। এসব কাজ পশ্চিমা দেশ এখনো আরব দেশের ডেসপট লীদারদের সাথে করে, তাদেরকে নির্মূল করে তাদের গচ্ছিত টাকা আত্মসাৎ করে। ডি মলোয় ও তার অনুচররা ১৩ই মার্চ শুক্রবার দণ্ডপ্রাপ্ত হন এবং এর পর থেকে Friday the 13th ইউরোপিয়ানদের কাছে একটি কুলক্ষণ হয়ে পড়ে!
টেমপ্লারদের উপর অভিযোগ আনা হয় যে তারা নাকী ধর্মচ্যুত বা বিপথগামী হয়েছিল, (heresy, ধর্ম বিশ্বাস থেকে সরে গিয়েছিল); তারা প্রচলিত ধর্মীয় বাহ্যিক আনুষঙ্গিকতার প্রয়োজনীয়তা মনে করত না; এমন কি মুসলিম জগতের সংস্পর্শে সূফী দার্শনিক কিছু সংযোজন ঘটানোর অভিযোগও ছিল। নির্যাতন কক্ষে মারপিট খেয়ে সবাই যত অভিযোগ ঢালা হয় তার সবই স্বীকার করেছিল। তারা শয়তানের (Lucifer) উপাসনার কথাও স্বীকার করে। তবে এমন স্বীকারোক্তিতে মূলত কিছুই প্রমাণিত হয় বলে মনে হয় না। অবশেষে জ্যাক ডি মলোয় ও তার সহপার্টি ৬০ জন নাইট-টেম্পলারকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।
কিন্তু বাকী টেম্পলাদের কী হল? তাদের বিরাট সম্পত্তির কী হল? তারা কোথায় গিয়ে আত্মগোপন করলো? এসবের কোন হদিস সেদিন পাওয়া যায় নি, বা সর্বসাধারণ জানে নি। অনেকের ধারণা যে এই নাইট-টেম্পলাররাই বিভিন্ন গোপন সোসাইটির আড়ালে থেকে কাজ করে যেতে থাকে, যেমন ফ্রিম্যাসন, ইলুমিনাটি ইত্যাদি।
শেষ কথা
ক্রুসেডের যুদ্ধগুলি মুসলিম ভূখণ্ডে অনেক বিপর্যয় এনেছে, অনেক প্রাণনাশ করেছে, তাদের জাতীয় জীবনে ও মানসিকতায় অনেক প্রভাব ফেলেছে। এই কথাটি আবার ইউরোপের ব্যাপারেও সত্য। দুই শো বৎসর ব্যাপী চালিত এই যুদ্ধ ইউরোপের রাজনীতি, সমাজ ও মনন জুড়ে রেখেছিল। যুদ্ধের জন্য বিশ্বাসে উদ্বুদ্ধ হয়ে সাধারণ জনগণ স্বহস্তে ধন-সম্পদ দান করেছিল, যুদ্ধে গিয়ে জীবন দিয়েছিল, জীবন নিয়েছিল –এই যুদ্ধ তাই মামুলী ছিল না, হতেই পারত না।
সর্বোপরি মনে রাখতে হবে যে সকল বিপর্যয় ও নিষ্ঠুর দিকগুলোর পরও এগুলো ছিল ‘মানুষের’ কাহিনী, মানুষের ইতিহাস। এই যুদ্ধে মূল্যবোধের বিষয় ছিল, আদর্শগত বিষয় ছিল। এই যুদ্ধ তার সময় সীমায় যে মানসিকতা তৈরি করেছিল তার প্রতিক্রিয়া সুদূর প্রসারী হয়ে পড়েছিল –সেই মানসিকতার ছুঁয়াচ আজও অনুভব করা যায়। সেদিন সেই যোদ্ধারা বিজয়ী হওয়া, সামাজিক প্রশংসা ও স্বীকৃতি লাভ করা, (পাদ্রির কাছে) গোনাহের স্বীকারোক্তির ঊর্ধ্বে ওঠা –এগুলো ছিল বিরাট বৈক্তিক, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার ব্যাপার। (এই বিষয়াদির ব্যাপারে নিচের সূত্রায়িত একটি বই আছে,দেখা যেতে পারে, রেফ: ৫)
কিন্তু সবকিছুর পরও একথা স্পষ্ট যে মুসলমানদের হাতে জেরুজালেমে যে শান্তি-নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা বিরাজ করেছিল তা ইউরোপীয় খৃষ্টীয়ান পক্ষের হাতে হয়নি। সাধারণভাবে, মুসলমানদের শাসন ব্যবস্থায় চার্চ ও সামন্ততান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার মত জনগণ নির্যাতিত হয়নি। যেসব কারণের প্রেক্ষিতে ইউরোপ নাস্তিক্য ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ গ্রহণ করেছিল, সেই ধরণের কারণাদি ইসলামী সমাজ ব্যবস্থায় তুলনীয় ছিল না, যে কারণে সাম্রাজ্যবাদের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে, হাজার প্রোপাগান্ডা, শক্তি প্রয়োগ ও বলিষ্ঠ মিথ্যাচারের পরও ইসলাম যেভাবে দাড়িয়ে থাকে (এবং এখনো আছে) সেভাবে চার্চ ও সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা দাড়িয়ে থাকতে পারেনি।
আজ ইউরোপ একটু নমনীয় হয়ে প্যালেস্টাইন-সমস্যার সমাধান করলে বিশ্বের অনেক অশান্তির সমাধান হত। বিশ্ব অন্য ধরনের শান্তির পথ খোজে পেত। কিন্তু পশ্চিমের মন-মানসিকতার যে অংশে শক্তি নিহিত সে অংশ ইসলাম ও মুসলমানদের পদদলিত করা ছাড়া আর কোন ধারণা রাখে বলে মনে হয় না।
তবুও একবিংশ শতাব্দীর কামনা এই যে বিশ্বে শান্তি আসুক, মানুষ শান্তির পথ পাক, পশ্চিমের যেদেশগুলোর যেগুলোকে ওয়ার-ইকোনমি (war-economy) করে রাখা হয়েছে সেগুলো এই যুদ্ধংদেহী ধারা থেকে বেরিয়ে অন্য ধারা খুঁজুক। তবেই আশা করা যায় শান্তি ফিরবে।
লেখকঃ এস আহমদ
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1394)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
October
(966)
-
▼
Oct 02
(26)
- অস্ট্রেলিয়ার না আসা মা-পুতের ষড়যন্ত্র: আইনমন্ত্রী
- আ’লীগ সরকারের কর্মকাণ্ডে জনগণ আতঙ্কগ্রস্ত : খন্দকা...
- কালিহাতীতে পাখির মতো গুলি করে মানুষ মারা হয়েছে : ক...
- ইতালির নাগরিক হত্যায় জঙ্গী সম্পৃক্ততা নেই : সুরঞ্জিত
- সাংসদের গুলিতে শিশু গুলিবিদ্ধ হওয়ার অভিযোগ
- কিআর বয়স হলো দুই, চলো বিশ্বটাকে ছুঁই by তাবাসসুম খান
- জাতিসংঘে ভাষণ দিলো কুলাউড়ার মনি by আলাউদ্দিন কবির
- অকৃত্রিম এক ভালবাসার গল্প
- ডাক না শোনায় শিশুকে গুলি করলেন সংসদ সদস্য
- বাঁশিওয়ালা মজ্জেল by মোজাফ্ফর হোসেন
- আইএস সমর্থকরাই হত্যা করেছে সিজারকে
- র্যাব হেফাজতে ইউজিসি কর্মকর্তার মৃত্যু
- পশ্চিমাদের সাথে শীতল কূটনৈতিক লড়াই
- ‘সামান্য’ কিন্তু সামান্য নয় by মাহবুবুর রহমান
- ইসরাইলের সঙ্গে চুক্তি মানতে ফিলিস্তিন বাধ্য নয় -মা...
- প্রয়োজনে চীনের সাহায্য নেবে নেপাল : উপপ্রধানমন্ত্রী
- ১ শূন্য দারিদ্র্য: ১৫ বছরে দারিদ্র্যশূন্য পৃথিবী
- জঙ্গিরা আস্তানা গাড়তে পারবে না -সাক্ষাৎকারে স্বরাষ...
- নেপালের ওপর অঘোষিত অবরোধ, ভারতের অস্বীকার
- নিউইয়র্ক ভয়াবহ বন্যার ঝুঁকিতে
- তেহরানের ডায়েরি ‘এখানে ইভ টিজিং নেই’ by সিরাজুল ইসলাম
- সফর স্থগিত অস্ট্রেলিয়ার দুঃখ প্রকাশ
- তানোরে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী অবশেষে রামেক হাসপাতালে
- জেরুজালেমের ইতিহাস ও ক্রুসেড
- কুনদুজের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পুনরুদ্ধারের দাবি
- এবার আরেক প্রতিবেশীকে দূরে ঠেলে দিলেন মোদি by মণি ...
-
▼
Oct 02
(26)
-
▼
October
(966)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
স্বাস্থ্য
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
জীবনযাপন
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
ইয়েমেন
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
Exclusive
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
জনস্বাস্থ্য
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
জোহরান মামদানি
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
ইহুদি
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট

No comments:
Post a Comment