উন্নয়ন ও হস্তির কর্ণকাহিনী

নির্বাচনী বছর এলেই এ দেশের রাজনীতির বাতাস একটু ভারি হয়ে ওঠে। এটা নতুন কোনো বিষয় নয়। সামরিক শাসন থেকে শুরু করে আজ অবধি দেখা গেছে, নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসে ততই মানুষ উৎকণ্ঠা ও দুশ্চিন্তার মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করতে থাকে। মানুষ যে উৎকণ্ঠাময় পরিস্থিতি থেকে যোজন দূরত্বে অবস্থান করতে চায়, এটা অনেকটাই স্পষ্ট হয়েছে কয়েক বছর আগের কথিত আন্দোলন ও সহিংসতা থেকে। বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন আবারও কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মানুষের মনে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। এ দেশের মানুষ সুন্দর স্বপ্ন নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চায়। কেউ চায় না কোনো ধরনের সহিংসতায় তাদের স্বপ্ন ভূলুণ্ঠিত হোক। উন্নয়নের অনেক সূচকে বাংলাদেশ এখন পাকিস্তান ও ভারতের চেয়ে এগিয়ে। এ অবস্থায় দেশ ও দেশের জনগণকে সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে সফলতার পথে এগিয়ে যেতে হবে। যারা রাজনীতি করেন তাদের উচিত সবসময় দেশকে নিয়ে ইতিবাচক চিন্তা করা। ক্ষমতায় থাকলে দেশের জন্য কাজ করব ও ইতিবাচক মনোভাব দেখাব আর ক্ষমতার বাইরে গেলে সহিংসতা করে দেশের সম্পদ নষ্ট করব, মানুষের জানমালের ক্ষতি করব- এমনটা যেন রাজনীতির চরিত্র না হয়। গ্রামেগঞ্জে প্রচলিত একটি কথা বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এ লেখার সঙ্গে সেটি কিছুটা হলেও প্রাসঙ্গিক বিবেচনায় উদাহরণ হিসেবে বলতে চাই।
সেটি হল, হাতির যখন অনেক বয়স হয় অথবা হাতিটি যখন জীবন সায়াহ্নে অবস্থান করে তখন তার চোখ দিয়ে অনবরত জল পড়তে থাকে। কেন হাতির চোখ দিয়ে জল বেরিয়ে আসছে এমন প্রশ্নের জবাবে অনেকেই বলে থাকেন, আজ হাতিটি তার অতিকায় দেহ দেখতে পাচ্ছে। জীবনের শুরু থেকে কোনো দিনই হাতি তার শরীর দেখতে পায়নি। কারণ বড় দুটি কান তার দেহ দর্শনে বাধা হয়ে ছিল। আজ বয়সের বা জীবনের শেষবেলায় কান দুটো নিচে হেলে পড়েছে। তাই এত বড় শরীর দেখতে তার কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। হাতি নিজের শরীর দেখছে আর হয়তো ভাবছে, এত বিশাল শরীর তার কোনো কাজেই লাগেনি। আর এ কারণেই চোখ দিয়ে জল ঝরছে তার। গল্পটি বানানো বা লোকমুখে শোনা। কিন্তু এর মধ্যে কিছু শিক্ষা রয়েছে। যেমন আমাদের দেশটি প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদে ভরপুর, তাই উন্নয়নের সহাসড়কে উঠতে আমাদের এতটা বেগ পেতে হয়নি। সুতরাং দেশের খনিজ সম্পদ ও মানবসম্পদের গুরুত্ব যথাসময়ে বুঝতে হবে আমাদের। কোনো ধরনের স্বার্থ হাসিল করার চেষ্টা বা সহিংসতা সৃষ্টি করে দেশের ক্ষতি করা উচিত নয়। আমরা যদি দেশকে ভালোবাসি, তাহলে সবসময় দেশকে সবার উপরে রাখতে হবে। সর্বদা দেশের কল্যাণ কামনা করতে হবে। দেশের সেবা করতে হবে। যাতে পড়ন্ত বেলায় হাতির মতো কাঁদতে না হয়।