Friday, May 1, 2015
বিশ্বাসের সংকটে ভোট
বিশ্বাসের সংকটে ভোট
তিন
সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে
বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা। হংকংভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এশিয়ান
হিউম্যান রাইটস কমিশন বলেছে, ঢাকা ও চট্টগ্রামের তিন সিটি করপোরেশনে
জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের প্রক্রিয়া প্রতারণায় পর্যবসিত হয়েছে। ভোট কারচুপির
অভিযোগের তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। প্রক্রিয়া
এবং নির্বাচনের দিন সংঘটিত অপকর্ম এবং অনিয়মের কারণে এ নির্বাচন
বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে জানিয়েছে ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ (ইডব্লিউজি)।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এক বিবৃতিতে বলেছে,
নির্বাচনে নজিরবিহীন কারচুপি হয়েছে। সহিংসতা, কেন্দ্র দখল, জালভোট ও নানা
অনিয়মের মধ্যে প্রহসনের নির্বাচন হয়েছে বলে মনে করে মানবাধিকার সংগঠন
অধিকার। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভোটে জালিয়াতির
বিশ্বাসযোগ্য প্রতিবেদন পেয়েছে তারা।
নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য হয়নি: ইডব্লিউজি
তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করে না ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ (ইডব্লিউজি)। নির্বাচনের দিন উল্লেখযোগ্য মাত্রায় নির্বাচনী অনিয়ম এবং সহিংসতার ঘটনায় ভরপুর ছিল বলে সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনের পর্যবেক্ষণ তথ্য তুলে ধরে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার এ জোট। পর্যবেক্ষকদের মতে, জোর করে ব্যালটে সিল, কেন্দ্র দখল, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়াসহ নানা অনিয়ম- অব্যবস্থাপনা ছিল সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে থাকা ৯৯ শতাংশ ভোট কেন্দ্রে। সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ বিষয়ে প্রাথমিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করে সংস্থাটি। তিন সিটি করপোরেশনের ৬১৯টি কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করেছে ইডব্লিউজির সদস্যরা। পর্যবেক্ষকদের দেয়া ভোট চিত্রের তথ্য দেখে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক ব্যালট ছিনতাই করে সিল মারার ঘটনা, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এজেন্টদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, ভোট কক্ষ দখল এবং নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনা পরিলক্ষিত হয়েছে। পর্যবেক্ষিত অনেক ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ কার্যক্রমের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করা হলেও নানা ধরনের নির্বাচনী অনিয়মের কারণে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সার্বিক সততা ক্ষুণ্ন হয়েছে।
ইডব্লিউজি পর্যবেক্ষণ করা ভোট কেন্দ্রের মধ্যে জোরপূর্বক ব্যালট পেপারে সিল মারার ঘটনা ঘটেছে অন্তত ১৩৮টিতে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৫৫, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪৬ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ৩৭টি। সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ১৬৪টি। তার মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৬৬, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২৬ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ৭২টি। এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে ৭৮টি। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২৮, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৯ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ৩১টি। ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে ১০২টি। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ঘটেছে ৩৩, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৩৯ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ৩০টি। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ৫৮টি ভোট কেন্দ্র। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২১, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ছয় ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৩১টি। এ ছাড়াও পর্যবেক্ষিত ভোট কেন্দ্রের মধ্যে প্রতি সিটি করপোরেশন এলাকা থেকে দুই জন করে ছয় জনকে কেন্দ্রের ভেতর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে কয়েকটি ঘটনার সুনির্দিষ্ট উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়। এসব অনিয়ম ও সহিংস ঘটনা ব্যাপক ঘটনার অংশমাত্র। এসব ঘটনার মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে তিন সিটি করপোরেশনে যেসব জালিয়াতির ঘটনা ঘটানো হয়েছে, তা নির্বাচনী ফলকে পরিবর্তনের উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে। এসব ঘটনার প্রতিটি ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তা, নির্বাচন কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সামনেই ঘটেছে বলে জানান ইডব্লিউজির সদস্যবৃন্দ। উদাহরণ দিতে গিয়ে তারা জানান, নির্বাচনের দিন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আট নম্বর ওয়ার্ডে সকাল ১১টা ৩৫ মিনিটে ২৫-৩০ জন জোর করে কেন্দ্রে ঢোকে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভীতিময় পরিবেশ সৃষ্টি করে। ফলে বেশির ভাগ ভোটার আতঙ্কে কেন্দ্র ছেড়ে চলে যান। যারা কেন্দ্র ছেড়ে যেতে পারেননি তাদের মারধর করা হয়। ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে দুপুর ১২টা ৮মিনিটে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়। ১০ নম্বর ওয়ার্ডে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর লোকজনের মধ্যে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। বিকাল ৪টার দিকে ওই কেন্দ্রে তিনটি ব্যালট বাক্স পুড়িয়ে ফেলা হয়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই নম্বর ওয়ার্ডে ১১টা ৩৪মিনিটে ১০-১২ জন একটি কেন্দ্রে প্রবেশ করে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয়। পরে তাতে সিল মেরে বাক্সে ঢুকিয়ে দেয় তারা। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সহযোগিতা করে বলে ইডব্লিউজির সদস্যরা জানান। চার নম্বর ওয়ার্ডে ৩০ মিনিট পর্যন্ত মেয়র প্রার্থীর কোন ব্যালট পেপার ভোটারদের প্রদান করা হয়নি। ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে একটি রাজনৈতিক দলের কর্মীরা ভোটারদের কেন্দ্রের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেয়নি। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ছয় নম্বর ওয়ার্ডের একটি কেন্দ্র একটি রাজনৈতিক দলের ছাত্র-যুবকরা দখল করে নেয়। এজেন্ট ও পর্যবেক্ষকদের বের করে দিয়ে ব্যালটে সিল দিয়ে বাক্সে ঢুকিয়ে দেয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রথমে এসব ঘটনার পেছনে একটি রাজনৈতিক দলের কর্মীদের কথা বলা হলেও পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইডব্লিউজির সদস্যরা জানান, আওয়ামী লীগ তথা সরকার দল সমর্থিত প্রার্থীদের কর্মীরা এসব ঘটিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ইডব্লিউজির এক কর্মী জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে সিদ্ধেশ্বরী উচ্চ বিদ্যালয়ে অবাধে সিল মারার দৃশ্য দেখেন তাদের পর্যবেক্ষক। ওই দৃশ্য দেখার কারণে পিস্তল দেখিয়ে ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেয় তাকে। এসব বিষয়ে ইডব্লিউজির সদস্য তালেয়া রেহমান বলেন, পরে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। এতে নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে। কমিশন সম্পর্কে মন্তব্য কি জানতে চাইলে ইডব্লিউজির সদস্যরা জানান, নির্বাচন কমিশন কোথাও কোথাও পুনঃনির্বাচন করছে কি-না তা এখন দেখার বিষয়। এজন্য কমিশন সম্পর্কে চূড়ান্ত কোন মন্তব্য করতে চান না তারা। তবে শুরু থেকেই নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেছে ইডব্লিউজি। নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ১৪০ কার্ডের আবেদন করলেও নির্বাচন কমিশন তাদের মাত্র ৩০টি কার্ড প্রদান করে বলে জানান তারা। সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে ইডব্লিউজির সদস্য কামরুল হাসান মঞ্জু বলেন, জোর করে ব্যালটে সিল, কেন্দ্র দখল, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়াসহ নানা অনিয়ম অব্যবস্থাপনা ছিল ৯৯ শতাংশ ভোট কেন্দ্রে। এ বিষয়ে ইডব্লিউজির সদস্য তালেয়া রেহমান জানান, পর্যবেক্ষিত ভোট কেন্দ্র অনুসারে এটি বলেছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদন পাঠ করেন, ইডব্লিউজির পরিচালক ড. মো. আবদুল আলীম। বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ।
নজিরবিহীন কারচুপি হয়েছে: টিআইবি
তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নজিরবিহীন কারচুপি হয়েছে উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির এক বিবৃতিতে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রনির্ভর নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর ব্যর্থতায় গভীর হতাশা প্রকাশ করা হয়। বিভিন্ন কেন্দ্রে গোলযোগ ও সহিংসতা, ভোট দেয়ায় বাধা, দেশী-বিদেশী সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে অনৈতিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি টিআইবি’র। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বিতর্কিতভাবে মাঝপথে নির্বাচন বর্জন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সুস্থ পরিবেশ প্রতিষ্ঠার পথে নতুন করে ঝুঁকির সৃষ্টি করেছে। এ অবস্থায় সকল রাজনৈতিক দলকে সংযত, সহনশীল ও গণতান্ত্রিক চর্চার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
গতকাল এক বিবৃতিতে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ও পেশিশক্তির প্রয়োগে ব্যাপক অনিয়ম সংঘটিত হওয়ায় সদ্য-সমাপ্ত তিনটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। আমরা নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক একটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনী আইনপ্রয়োগসহ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনে ব্যর্থতায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ব্যাপক কারচুপির নির্ভরযোগ্য তথ্য আর প্রমাণ থাকার পরেও কমিশন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে অস্বীকৃতি, মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়ে নিজেকে বিব্রত করেছে। যথাযথ দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশন শুধু যে ব্যর্থ হয়েছে তাই নয়, বরং কমিশন ব্যাপকভাবে রাজনৈতিক পক্ষপাতমূলক আচরণ করায় সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ও জন-আস্থা ধূলিসাৎ হয়েছে।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী একদিকে নীরব দর্শক ও অন্যদিকে পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা পালন করে শুধু ব্যর্থই হয়েছে তাই নয়, বরং ক্ষেত্রবিশেষে রাজনৈতিক শিখণ্ডি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে নিজেদের প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। উপর মহলের নির্দেশের অজুহাত দেখিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান ও নির্বাচন পর্যবেক্ষণে দেশী-বিদেশী সংস্থার প্রতিনিধিদের পর্যাপ্ত সহযোগিতা প্রদানে ব্যর্থ হয়ে এই বাহিনী তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, নির্বাচন কমিশন ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার এরূপ ব্যর্থতা মানুষের ভোটের অধিকার ব্যাপকভাবে খর্ব করেছে এবং একইসঙ্গে দুটি প্রতিষ্ঠানই নিজেদেরকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিব্রত করেছে বলে মনে করছে টিআইবি। অন্যদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মাঝপথে নির্দলীয় এই নির্বাচন বিতর্কিতভাবে বর্জন করে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে, যার ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে সুস্থ পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নতুন করে ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছে।
তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশের সংঘাতময় রাজনীতি থেকে উত্তরণে যে ইতিবাচক সুযোগের সৃষ্টি হয়েছিল, মঙ্গলবারের তিনটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনই সামগ্রিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় সংঘাতময় রাজনৈতিক পরিস্থিতির ঝুঁকি পুনরায় সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জনজীবনে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে সকল দলসমূহকে রাজনৈতিক সহনশীলতা, পরমতসহিষ্ণুতা এবং সর্বোপরি গণতান্ত্রিক চর্চার ধারা অনুশীলন ও তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
জনপ্রতিনিধি নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রতারণায় পর্যবসিত
আরেকটি ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন প্রত্যক্ষ করলো বাংলাদেশ। ঢাকা ও চট্টগ্রামের তিন সিটি করপোরেশনে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের প্রক্রিয়া প্রতারণায় পর্যবসিত হয়েছে। দুই শহরজুড়ে সরকারদলীয় ক্যাডার, পোলিং কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কারচুপি ও বাক্সে গণহারে ব্যালট ঢুকিয়ে নির্বাচনে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে। নির্বাচন কমিশন শাসক দলের জন্য সকল পথ উন্মুক্ত করে দিয়েছিল। এ ধরনের নির্বাচন হচ্ছে উচ্চপদস্থ অভিজাতদের বিভিন্ন অপরাধ সংঘটনের মূল কারণ। একটি ত্রুটিপূর্ণ বিচারবিভাগ ও দুর্বল প্রতিষ্ঠান থাকার সুবিধা তারা ভোগ করেন। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি ও সিটি নির্বাচনের মতো ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন রাষ্ট্রের কার্যাবলির প্রতি মানুষের আস্থাহীনতা আরও বাড়ায়। গতকাল সদ্য অনুষ্ঠিত ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন সম্পর্কে এসব কথা বলেছে হংকংভিত্তিক মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন। নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা লিখেছে তারা। এতে আরও বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীন দলেরই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ব্যাপকহারে সহিংসতা হয়েছে। এর ফলে ভোটাররা বুথে গিয়ে ভোট দিতে পারেন নি। দুপুরের মধ্যে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে পুলিশ ও পোলিং কর্মকর্তারা ভোটারদের ভোট না দিয়ে চলে যেতে বলেন। ভোটারদের জানিয়ে দেয়া হয়, তাদের ভোট ইতিমধ্যেই দিয়ে দেয়া হয়েছে। এমনকি বহু প্রার্থী স্বয়ং নিজেই ভোট দিতে পারেন নি! শাসক দল সমর্থিত প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট ছাড়া আর সকল প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। এজেন্টদের অনেককে আবার আক্রমণ করা হয়েছে, কিংবা গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের কাছে বারবার লিখিত অভিযোগ করেছেন প্রতিযোগী প্রার্থীরা। তবে তাদের অভিযোগ সত্ত্বেও সহিংসতা ও নির্বাচনে নগ্ন জালিয়াতি থামাতে কোন ভূমিকাই নেয়া হয়নি। এরই ফলশ্রুতিতে বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিকালের মধ্যেই ভোট বর্জন করেন।
পুলিশ সাংবাদিকদের নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহে বাধা দিয়েছে। এ ছাড়া কারচুপির ভিডিও ও ছবি তুলতেও পুলিশ বাধা সৃষ্টি করেছে। অন্তত এক ডজন সাংবাদিকের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে। তাদের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে, অথবা ভেঙে ফেলা হয়েছে। চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও, গণমাধ্যম সফলভাবে নির্বাচনী কারচুপির খবর সংগ্রহ করেছে। সেসব পত্রপত্রিকা ও বেসরকারি টিভি চ্যানেলে প্রচারও হয়েছে।
তবে হাস্যকর হলেও, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে’। সিইসি ও নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ রক্ষা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কোন বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ নেয়নি। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে সিইসি সকল ধরনের নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তার ভাষায়, সেসব ‘বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা’। প্রকৃতপক্ষে, নির্বাচন কমিশন শাসক দলের জন্য সকল পথ উন্মুক্ত করে দিয়েছিল। এ দলটিই ‘যে কোন মূল্যে’ সিটি করপোরেশন নির্বাচন জয়ের ইচ্ছার কথা ঘোষণা দিয়েছিল।
এটি একটি প্রকৃত তথ্য যে, বিশ্বাসযোগ্য ও সামর্থ্যবান কোন প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব এদেশে নেই। সেটা হোক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, হোক নির্বাচন কমিশন কিংবা বিচার বিভাগ। সাধারণত, বাংলাদেশের জনগণ বিশ্বাস করে যে, বিরোধী দলের কর্মী ব্যতীত দায়ীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হবে না। ঢাকা ও চট্টগ্রামে যে লজ্জাকর ঘটনাসমূহ ঘটেছে, তার দায়ভার নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বর্তমান সরকার ও পূর্বের সকল সরকারসমূহের ভাগাভাগি করে নেয়া উচিত বাংলাদেশের সুশীল সমাজ নিরপেক্ষভাবে আচরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। সমাজে তাদের ভূমিকা পালনে আদর্শ অবস্থান সমুন্নত রাখতেও ব্যর্থ হয়েছে। তাই এ লজ্জার দায়ভার তাদেরও বহন করা উচিত।
বাংলাদেশের এসব ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন দেশটির মৌলিক প্রতিষ্ঠানসমূহের অবস্থার প্রতিফলন ঘটায়। আইনের শাসন সমুন্নত রাখার সামর্থ্য, স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্বের ব্যাপক অভাব রয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানসমূহে। এসব দুর্বল প্রতিষ্ঠানের ওপর ছড়ি ঘুরানোটা এক ধরনের বিশৃঙ্খল রাজনৈতিক সংস্কৃতি। এ ছাড়াও রয়েছে, গঠনমূলক পদক্ষেপের বদলে গায়ের জোরে রাজনৈতিক পদ কেড়ে নেয়ার গেঁড়ে বসা অভ্যাস।
নিকট ভবিষ্যতে একটি প্রগতিশীল ও রাজনৈতিক বাংলাদেশ দেখতে যারা আগ্রহী, তাদের উচিত, ‘কারচুপির তদন্ত হবে’- এমন বিভ্রম থেকে বেরিয়ে আসা। বাংলাদেশে এসব কারচুপিকে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ বলা হয়।
সময় ও সমপদ নষ্টের বদলে, বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের উপযোগী করে গড়ে তোলাটা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ জনগণ তাদের করের অর্থ প্রদান করছে, গণতন্ত্র ও সমাজে বৃহত্তর ন্যায়বিচারের জন্য সংগ্রাম করছে। এসব বাস্তবায়নে বিলম্ব ও ব্যর্থতা ঘটলে, কর্তৃত্বপরায়ণ ও বিশৃঙ্খল শাসনব্যস্থার অধীনে আরও অনেক মানুষের মৃত্যু হতে পারে। আরও হতাশার জন্ম দিতে পারে। এ অবস্থায়, স্বাধীন প্রতিষ্ঠান গড়তে প্রয়োজনীয় মনোযোগ না দিলে, সবচেয়ে বিপজ্জনক উগ্রপন্থিরাই লাভবান হবে বেশি। তাদের শক্তিবৃদ্ধি জাতীয় নিরাপত্তা ও এ অঞ্চলের বৈদেশিক নিরাপত্তার জন্য আরও বৃহৎ সমস্যা সৃষ্টি করবে।
ভোট কারচুপির তদন্ত চায় জাতিসংঘ
ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট কারচুপির সব অভিযোগের তদন্ত চায় জাতিসংঘ। এজন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন। পাশাপাশি তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান বের করার জন্য সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আবারও আহ্বান জানিয়েছেন। সব রাজনৈতিক দলকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে তাদের মতপার্থক্য দূর করার আহ্বান জানান বান কি মুন। মহাসচিব বান কি মুনের মুখপাত্র ফারহান হক ২৮শে এপ্রিল নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন। এ সময় উঠে আসে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অনিয়মের প্রসঙ্গ। বলা হয়, ব্যাপক ভোট কারচুপি হয়েছে নির্বাচনে। ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। পোলিং স্টেশনগুলোতে আগেই ব্যালট ভরা হয়েছে। এমনকি সাংবাদিকদের প্রহার করা হয়েছে। নির্বাচনের ফল প্রচারে মিডিয়াকে বাধা দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য হতাশা প্রকাশ করেছে। ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের এমন সব বিষয়ের জবাব দেন ফারহান হক। তার কাছে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন- আপনাকে ধন্যবাদ, ফারহান। জাতিসংঘ অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছিল। কিন্তু, মঙ্গলবার আমরা বাংলাদেশে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তেমনটা দেখতে পাই নি। ঢাকা ও চট্টগ্রামের সিটি করপোরেশন নির্বাচন মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকাল ৪টায় শেষ হয়েছে। নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। আগেই ভোটপূর্ণ ভোটকেন্দ্র পাওয়া গেছে। এমনকি সাংবাদিকদেরও মারধর করা হয়েছে। নির্বাচনী ফলাফলের বিষয়ে প্রতিবেদন করতে গণমাধ্যমকে বাধা দেয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য এরই মধ্যে এ ধরনের ভোট জালিয়াতি ও সহিংসতার বিষয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছে। এ বিষয়গুলোতে আপনার মন্তব্য কি?
উত্তরে ফারহান হক বলেন- কারচুপির অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন বর্জনের বিষয়ে মহাসচিব অবগত রয়েছেন। তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে সব অভিযোগ তদন্ত করতে এবং বিরোধী দলকে তাদের উদ্বেগ প্রকাশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সব পক্ষকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে তাদের রাজনৈতিক মতপার্থক্য প্রকাশের অনুরোধ জানিয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজতে সব রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি আহ্বান গুরুত্ব সহকারে পুনর্ব্যক্ত করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব।
ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও বাংলাদেশে সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে ব্রিফিংয়ে আলোচনা হয়। সেখানে এক সাংবাদিক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সহকারী জেফ রাথকের কাছে জানতে চান- বাংলাদেশে মঙ্গলবার সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হয়েছে। এ নিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এরই মধ্যে বিবৃতি দিয়েছেন। তাতে তিনি সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। বিএনপি মধ্যপথে নির্বাচন বর্জন করেছে। এ বিষয়ে আপনার অবস্থান কি?
তার প্রশ্নের উত্তরে জেফ রাথক বলেন, আমাদের দূতাবাস এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে। এর সঙ্গে যোগ করার মতো আমার কাছে আর কিছু নেই। আমি দূতাবাসের ওই বিবৃতিই আপনার জন্য তুলে ধরলাম।
প্রহসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে: অধিকার
সহিংসতা, কেন্দ্র দখল, জালভোট প্রদান ও বিভিন্ন অনিয়মের মধ্য দিয়ে ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে প্রহসনমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে মনে করছে ‘অধিকার’। দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার এই সংকট ও এব্যাপারে সৃষ্ট ব্যাপক হতাশাজনক পরিস্থিতিতে অধিকার গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। অধিকার মনে করে, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রক্রিয়া বাতিল করে দেশকে এক চরম বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে ২০১৪ এর ৫ই জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত নির্বাচন এবং ২০১৪ এর উপজেলা নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। অধিকার আশা করে, সব দলের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবিলম্বে একটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে দ্রুত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা হবে। নতুবা জনগণ প্রতারিত হতেই থাকবে; যা দেশকে ব্যাপক রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেবে। এক বিবৃতিতে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার এসব মন্তব্য করে। অধিকার জানায়, তিনটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন অধিকারকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অনুমতি দেয়নি। নির্বাচনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে অধিকার-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার কর্মীরা ভোটকেন্দ্রগুলোর বাইরে থেকে নির্বাচনের সার্বিক অবস্থা এবং সহিংস পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। আর চট্টগ্রামে মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে জড়িতরা অনুমতি নিয়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন। এছাড়াও বিভিন্নভাবে গণমাধ্যমের সঙ্গে সমন্বয় করে রিপোর্ট সংগ্রহ করা হয়।
অধিকার-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই সম্প্রতি সরকার সিটি করপোরেশনের নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও বর্তমান নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন রয়েছে। নির্বাচনের আগে থেকেই রাস্তায় নামলে গ্রেপ্তার ও বাধার সম্মুখীন হয়েছেন ২০দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনের প্রার্থী যেমন গণসংহতি আন্দোলনের মেয়রপ্রার্থী এবং সিপিবি-বাসদের মেয়রপ্রার্থীর সমর্থকদের ওপরও বিভিন্ন জায়গায় হামলা করে সরকার সমর্থকরা। নির্বাচনে প্রচারণা চালাতে গিয়ে বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িতে গুলিবর্ষণ সহ কয়েকবার হামলা করেছে সরকার সমর্থকরা। সরকার সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যাপকভাবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনের আগে গত ২৩শে এপ্রিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন ‘নির্বাচনে কিভাবে জয়ী হতে হয় আওয়ামী লীগ তা ভালোভাবেই জানে’। এরই ধারাবাহিকতায় ব্যাপকভাবে কেন্দ্র দখল, জাল ভোট, সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এর প্রতিবাদে দুপুর ১২টার পর তিনটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দল সমর্থিত প্রার্থীরা এবং বামপন্থি রাজনৈতিক সংগঠন গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের প্রার্থী আবদুল্লাহ আল কাফী ও বজলুর রশীদ ফিরোজ এবং জাতীয় পার্টির সমর্থিত ঢাকা দক্ষিণের প্রার্থী সাইফুদ্দিন আহমদ মিলন নির্বাচন বর্জন করেন। বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও সহিংস ঘটনা ঘটার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন থাকলেও তাদের নিষ্ক্রিয়তা ছিল দৃশ্যমান এবং অনেক জায়গাতেই তাদেরকে সরকার সমর্থকদের সহায়তা করতে দেখা গেছে। এছাড়া, গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন জায়গায় সংবাদ সংগ্রহ ও ছবি তোলার সময় বাধা দেয়া হয়।
অধিকার তাদের প্রতিবেদনে বলে, নির্বাচনের আগের রাতেই রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় কেন্দ্র দখলের অভিযোগ পাওয়া যায়। গভীর রাতে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোনে এবং প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে একাধিক কেন্দ্র দখলের খবর আসে। কোথাও কোথাও প্রিজাইডিং অফিসারকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়। ঢাকা দক্ষিণের খিলগাঁও সরকারি স্টাফ কোয়ার্টার স্কুলের (কেন্দ্র নং-১৯) প্রিজাইডিং অফিসারকে ছুটি দেয়া হয়েছে বলে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয় সরকার সমর্থকরা। সরজমিন সেখানে গিয়ে কেন্দ্রের বাইরে যুবলীগের কর্মীরা পাহারা দিচ্ছে এমন দৃশ্য দেখা যায়। একই রকম চিত্র দেখা গেছে খিলগাঁও সরকারি কলোনি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খিলগাঁও মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র, ঢাকা উত্তর ৩৬ নং ওয়ার্ডের শেরেবাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নাখালপাড়া আলী হোসেন স্কুলেও।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা দক্ষিণের নারিন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দরজা বন্ধ করে ভোট দেয়া হয়। এই সময় সাধারণ ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে দেয়া হচ্ছিল না বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় ভোটাররা। এই কেন্দ্রটি আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী সাঈদ খোকন ও কাউন্সিলর প্রার্থী সারোয়ার হাসানের এজেন্টরা দখলে নিয়ে নেন। এই কেন্দ্রের ভোটার আবুল কালাম তার পরিবারের চার সদস্যকে নিয়ে ভোট দিতে যান, কিন্তু কেন্দ্রে ঢোকার পর তাদের বলা হয় ‘ভোট দেয়া হয়ে গেছে’। দক্ষিণ মৈশণ্ডি বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রবেশ পথে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়রপ্রার্থী সাঈদ খোকন ও কাউন্সিলর প্রার্থী সারোয়ার হাসানের ব্যাজ পরে শতাধিক ব্যক্তি ভোটকেন্দ্রটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টায় ঐ কেন্দ্রে ভোটাররা ঢুকতে চাইলে ব্যাজ পরা কয়েকজন যুবক তাদের বাধা দিয়ে বলে ‘ওদিকে যায়েন না। দুইটার পরে আসেন’। ঢাকা উত্তরের মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ইনস্টিটিউট ভোট কেন্দ্র থেকে ২০দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থীর এজেন্টদের পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। পুলিশের দাবি তারা মামলার আসামি। ঢাকা উত্তরের মোহাম্মদপুর এলাকার তিনটি ভোটকেন্দ্রে গণমাধ্যমকর্মীদের ছবি তুলতে বাধা দেয় পুলিশ। পুলিশের এস আই গোলাম কবির জানান, ‘পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে গণমাধ্যমকর্মীদের ছবি তুলতে দেয়া হচ্ছে না’। এছাড়া, ঢাকা উত্তরের মিরপুর ১১ নং ওয়ার্ডের বাঙলা উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে গণমাধ্যমকর্মীদের ঢুকতে বাধা দেয় সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ। ঢাকা উত্তরে এমডিসি মডেল ইনস্টিটিউট ভোটকেন্দ্র ও দক্ষিণে ফরিদাবাদ মাদরাসা ভোটকেন্দ্র ছাড়া আর কোথাও কোন বিরোধী দলের নেতাকর্মীকে ভোটকেন্দ্রের বাইরে দেখা যায়নি। প্রতিটি কেন্দ্রের বাইরে সরকার সমর্থিত প্রার্থীর লোকজনকে ভোটার স্লিপ বিতরণ করতে দেখা গেছে। বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের সমর্থকদের ভোটার স্লিপ দিতে দেয়া হয়নি। আবার পুলিশ সরকারি দলের মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীর পোস্টার সংবলিত ভোটার স্লিপ ছাড়া সাধারণ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন অনেক ভোটার। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ইস্টবেঙ্গল ইনস্টিটিউশন ভোটকেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৯টায় আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়রপ্রার্থী সাঈদ খোকনের ব্যাজ লাগানো কয়েকশ’ লোক ভোটকেন্দ্রের চারপাশে অবস্থান নেয়। এই সময় ২০/২৫ জন কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করে। আধাঘণ্টারও কিছু বেশি সময় পর তারা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসে। সুরিটোলা প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা দুইজন নারী ভোটার নাম প্রকাশ না করার শর্তে অধিকারকে জানান, সকাল ৯টায় তারা ভোটকেন্দ্রে এসেছেন। কেন্দ্রে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন লোক এসে তাদের বলেন ‘আপনাদের ভোট দেয়া হয়ে গেছে, আপনারা চলে যান।’ ঢাকা দক্ষিণের পগোজ স্কুল ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগ সমর্থিত দুই গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে জালভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। এই সময় একপক্ষ কেন্দ্র থেকে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। ঘণ্টাখানেক পর আবারও ভোটগ্রহণ শুরু হয়। কিন্তু ততক্ষণে আতঙ্কে সাধারণ ভোটাররা কেন্দ্র ছেড়ে চলে যান। ফরিদাবাদ মাদরাসা ভোটকেন্দ্রে কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুল মান্নানের ভোটকেন্দ্র সংলগ্ন স্লিপ প্রদান ক্যাম্প ভাঙচুর করে সরকার সমর্থকরা। তেজগাঁও সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের একটি ভোটকেন্দ্রে বুথ দখল করে একদল কর্মীকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর প্রতীকে ব্যাপকভাবে সিল মারতে দেখা গেছে। এই সময় ভোটগ্রহণের দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং অফিসার নিষ্ক্রিয় হয়ে বসেছিলেন। এই ভোট জালিয়াতির ঘটনা বিবিসি’র এক সংবাদদাতা প্রত্যক্ষ করেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের আলী আহমেদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট শুরু হলে তিন-চারশ’ যুবক সব ভোটারদের বের করে দিয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে ব্যালটে সিল মারার পর মিছিল করে। সকাল আনুমানিক ৯টায় ফতেয়াবাদ ছড়ারকুল এলাকার আলি আহমদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র এবং সকাল আনুমানিক সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রামের মেরিট বাংলাদেশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র আওয়ামী লীগ সমর্থিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গোলাগুলি ছুড়ে দখলে নেয়। এছাড়া, বলিহার হাট সানোয়ারা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুপুর বারোটায় ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়।
নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য হয়নি: ইডব্লিউজি
তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করে না ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ (ইডব্লিউজি)। নির্বাচনের দিন উল্লেখযোগ্য মাত্রায় নির্বাচনী অনিয়ম এবং সহিংসতার ঘটনায় ভরপুর ছিল বলে সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনের পর্যবেক্ষণ তথ্য তুলে ধরে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার এ জোট। পর্যবেক্ষকদের মতে, জোর করে ব্যালটে সিল, কেন্দ্র দখল, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়াসহ নানা অনিয়ম- অব্যবস্থাপনা ছিল সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে থাকা ৯৯ শতাংশ ভোট কেন্দ্রে। সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ বিষয়ে প্রাথমিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করে সংস্থাটি। তিন সিটি করপোরেশনের ৬১৯টি কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করেছে ইডব্লিউজির সদস্যরা। পর্যবেক্ষকদের দেয়া ভোট চিত্রের তথ্য দেখে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক ব্যালট ছিনতাই করে সিল মারার ঘটনা, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এজেন্টদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, ভোট কক্ষ দখল এবং নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনা পরিলক্ষিত হয়েছে। পর্যবেক্ষিত অনেক ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ কার্যক্রমের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করা হলেও নানা ধরনের নির্বাচনী অনিয়মের কারণে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সার্বিক সততা ক্ষুণ্ন হয়েছে।
ইডব্লিউজি পর্যবেক্ষণ করা ভোট কেন্দ্রের মধ্যে জোরপূর্বক ব্যালট পেপারে সিল মারার ঘটনা ঘটেছে অন্তত ১৩৮টিতে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৫৫, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪৬ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ৩৭টি। সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ১৬৪টি। তার মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৬৬, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২৬ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ৭২টি। এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে ৭৮টি। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২৮, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৯ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ৩১টি। ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে ১০২টি। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ঘটেছে ৩৩, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৩৯ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ৩০টি। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ৫৮টি ভোট কেন্দ্র। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২১, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ছয় ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৩১টি। এ ছাড়াও পর্যবেক্ষিত ভোট কেন্দ্রের মধ্যে প্রতি সিটি করপোরেশন এলাকা থেকে দুই জন করে ছয় জনকে কেন্দ্রের ভেতর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে কয়েকটি ঘটনার সুনির্দিষ্ট উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়। এসব অনিয়ম ও সহিংস ঘটনা ব্যাপক ঘটনার অংশমাত্র। এসব ঘটনার মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে তিন সিটি করপোরেশনে যেসব জালিয়াতির ঘটনা ঘটানো হয়েছে, তা নির্বাচনী ফলকে পরিবর্তনের উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে। এসব ঘটনার প্রতিটি ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তা, নির্বাচন কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সামনেই ঘটেছে বলে জানান ইডব্লিউজির সদস্যবৃন্দ। উদাহরণ দিতে গিয়ে তারা জানান, নির্বাচনের দিন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আট নম্বর ওয়ার্ডে সকাল ১১টা ৩৫ মিনিটে ২৫-৩০ জন জোর করে কেন্দ্রে ঢোকে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভীতিময় পরিবেশ সৃষ্টি করে। ফলে বেশির ভাগ ভোটার আতঙ্কে কেন্দ্র ছেড়ে চলে যান। যারা কেন্দ্র ছেড়ে যেতে পারেননি তাদের মারধর করা হয়। ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে দুপুর ১২টা ৮মিনিটে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়। ১০ নম্বর ওয়ার্ডে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর লোকজনের মধ্যে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। বিকাল ৪টার দিকে ওই কেন্দ্রে তিনটি ব্যালট বাক্স পুড়িয়ে ফেলা হয়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই নম্বর ওয়ার্ডে ১১টা ৩৪মিনিটে ১০-১২ জন একটি কেন্দ্রে প্রবেশ করে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয়। পরে তাতে সিল মেরে বাক্সে ঢুকিয়ে দেয় তারা। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সহযোগিতা করে বলে ইডব্লিউজির সদস্যরা জানান। চার নম্বর ওয়ার্ডে ৩০ মিনিট পর্যন্ত মেয়র প্রার্থীর কোন ব্যালট পেপার ভোটারদের প্রদান করা হয়নি। ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে একটি রাজনৈতিক দলের কর্মীরা ভোটারদের কেন্দ্রের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেয়নি। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ছয় নম্বর ওয়ার্ডের একটি কেন্দ্র একটি রাজনৈতিক দলের ছাত্র-যুবকরা দখল করে নেয়। এজেন্ট ও পর্যবেক্ষকদের বের করে দিয়ে ব্যালটে সিল দিয়ে বাক্সে ঢুকিয়ে দেয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রথমে এসব ঘটনার পেছনে একটি রাজনৈতিক দলের কর্মীদের কথা বলা হলেও পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইডব্লিউজির সদস্যরা জানান, আওয়ামী লীগ তথা সরকার দল সমর্থিত প্রার্থীদের কর্মীরা এসব ঘটিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ইডব্লিউজির এক কর্মী জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে সিদ্ধেশ্বরী উচ্চ বিদ্যালয়ে অবাধে সিল মারার দৃশ্য দেখেন তাদের পর্যবেক্ষক। ওই দৃশ্য দেখার কারণে পিস্তল দেখিয়ে ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেয় তাকে। এসব বিষয়ে ইডব্লিউজির সদস্য তালেয়া রেহমান বলেন, পরে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। এতে নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে। কমিশন সম্পর্কে মন্তব্য কি জানতে চাইলে ইডব্লিউজির সদস্যরা জানান, নির্বাচন কমিশন কোথাও কোথাও পুনঃনির্বাচন করছে কি-না তা এখন দেখার বিষয়। এজন্য কমিশন সম্পর্কে চূড়ান্ত কোন মন্তব্য করতে চান না তারা। তবে শুরু থেকেই নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেছে ইডব্লিউজি। নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ১৪০ কার্ডের আবেদন করলেও নির্বাচন কমিশন তাদের মাত্র ৩০টি কার্ড প্রদান করে বলে জানান তারা। সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে ইডব্লিউজির সদস্য কামরুল হাসান মঞ্জু বলেন, জোর করে ব্যালটে সিল, কেন্দ্র দখল, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়াসহ নানা অনিয়ম অব্যবস্থাপনা ছিল ৯৯ শতাংশ ভোট কেন্দ্রে। এ বিষয়ে ইডব্লিউজির সদস্য তালেয়া রেহমান জানান, পর্যবেক্ষিত ভোট কেন্দ্র অনুসারে এটি বলেছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদন পাঠ করেন, ইডব্লিউজির পরিচালক ড. মো. আবদুল আলীম। বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ।
নজিরবিহীন কারচুপি হয়েছে: টিআইবি
তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নজিরবিহীন কারচুপি হয়েছে উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির এক বিবৃতিতে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রনির্ভর নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর ব্যর্থতায় গভীর হতাশা প্রকাশ করা হয়। বিভিন্ন কেন্দ্রে গোলযোগ ও সহিংসতা, ভোট দেয়ায় বাধা, দেশী-বিদেশী সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে অনৈতিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি টিআইবি’র। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বিতর্কিতভাবে মাঝপথে নির্বাচন বর্জন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সুস্থ পরিবেশ প্রতিষ্ঠার পথে নতুন করে ঝুঁকির সৃষ্টি করেছে। এ অবস্থায় সকল রাজনৈতিক দলকে সংযত, সহনশীল ও গণতান্ত্রিক চর্চার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
গতকাল এক বিবৃতিতে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ও পেশিশক্তির প্রয়োগে ব্যাপক অনিয়ম সংঘটিত হওয়ায় সদ্য-সমাপ্ত তিনটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। আমরা নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক একটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনী আইনপ্রয়োগসহ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনে ব্যর্থতায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ব্যাপক কারচুপির নির্ভরযোগ্য তথ্য আর প্রমাণ থাকার পরেও কমিশন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে অস্বীকৃতি, মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়ে নিজেকে বিব্রত করেছে। যথাযথ দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশন শুধু যে ব্যর্থ হয়েছে তাই নয়, বরং কমিশন ব্যাপকভাবে রাজনৈতিক পক্ষপাতমূলক আচরণ করায় সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ও জন-আস্থা ধূলিসাৎ হয়েছে।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী একদিকে নীরব দর্শক ও অন্যদিকে পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা পালন করে শুধু ব্যর্থই হয়েছে তাই নয়, বরং ক্ষেত্রবিশেষে রাজনৈতিক শিখণ্ডি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে নিজেদের প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। উপর মহলের নির্দেশের অজুহাত দেখিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান ও নির্বাচন পর্যবেক্ষণে দেশী-বিদেশী সংস্থার প্রতিনিধিদের পর্যাপ্ত সহযোগিতা প্রদানে ব্যর্থ হয়ে এই বাহিনী তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, নির্বাচন কমিশন ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার এরূপ ব্যর্থতা মানুষের ভোটের অধিকার ব্যাপকভাবে খর্ব করেছে এবং একইসঙ্গে দুটি প্রতিষ্ঠানই নিজেদেরকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিব্রত করেছে বলে মনে করছে টিআইবি। অন্যদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মাঝপথে নির্দলীয় এই নির্বাচন বিতর্কিতভাবে বর্জন করে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে, যার ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে সুস্থ পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নতুন করে ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছে।
তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশের সংঘাতময় রাজনীতি থেকে উত্তরণে যে ইতিবাচক সুযোগের সৃষ্টি হয়েছিল, মঙ্গলবারের তিনটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনই সামগ্রিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় সংঘাতময় রাজনৈতিক পরিস্থিতির ঝুঁকি পুনরায় সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জনজীবনে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে সকল দলসমূহকে রাজনৈতিক সহনশীলতা, পরমতসহিষ্ণুতা এবং সর্বোপরি গণতান্ত্রিক চর্চার ধারা অনুশীলন ও তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
জনপ্রতিনিধি নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রতারণায় পর্যবসিত
আরেকটি ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন প্রত্যক্ষ করলো বাংলাদেশ। ঢাকা ও চট্টগ্রামের তিন সিটি করপোরেশনে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের প্রক্রিয়া প্রতারণায় পর্যবসিত হয়েছে। দুই শহরজুড়ে সরকারদলীয় ক্যাডার, পোলিং কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কারচুপি ও বাক্সে গণহারে ব্যালট ঢুকিয়ে নির্বাচনে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে। নির্বাচন কমিশন শাসক দলের জন্য সকল পথ উন্মুক্ত করে দিয়েছিল। এ ধরনের নির্বাচন হচ্ছে উচ্চপদস্থ অভিজাতদের বিভিন্ন অপরাধ সংঘটনের মূল কারণ। একটি ত্রুটিপূর্ণ বিচারবিভাগ ও দুর্বল প্রতিষ্ঠান থাকার সুবিধা তারা ভোগ করেন। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি ও সিটি নির্বাচনের মতো ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন রাষ্ট্রের কার্যাবলির প্রতি মানুষের আস্থাহীনতা আরও বাড়ায়। গতকাল সদ্য অনুষ্ঠিত ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন সম্পর্কে এসব কথা বলেছে হংকংভিত্তিক মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন। নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা লিখেছে তারা। এতে আরও বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীন দলেরই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ব্যাপকহারে সহিংসতা হয়েছে। এর ফলে ভোটাররা বুথে গিয়ে ভোট দিতে পারেন নি। দুপুরের মধ্যে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে পুলিশ ও পোলিং কর্মকর্তারা ভোটারদের ভোট না দিয়ে চলে যেতে বলেন। ভোটারদের জানিয়ে দেয়া হয়, তাদের ভোট ইতিমধ্যেই দিয়ে দেয়া হয়েছে। এমনকি বহু প্রার্থী স্বয়ং নিজেই ভোট দিতে পারেন নি! শাসক দল সমর্থিত প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট ছাড়া আর সকল প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। এজেন্টদের অনেককে আবার আক্রমণ করা হয়েছে, কিংবা গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের কাছে বারবার লিখিত অভিযোগ করেছেন প্রতিযোগী প্রার্থীরা। তবে তাদের অভিযোগ সত্ত্বেও সহিংসতা ও নির্বাচনে নগ্ন জালিয়াতি থামাতে কোন ভূমিকাই নেয়া হয়নি। এরই ফলশ্রুতিতে বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিকালের মধ্যেই ভোট বর্জন করেন।
পুলিশ সাংবাদিকদের নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহে বাধা দিয়েছে। এ ছাড়া কারচুপির ভিডিও ও ছবি তুলতেও পুলিশ বাধা সৃষ্টি করেছে। অন্তত এক ডজন সাংবাদিকের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে। তাদের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে, অথবা ভেঙে ফেলা হয়েছে। চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও, গণমাধ্যম সফলভাবে নির্বাচনী কারচুপির খবর সংগ্রহ করেছে। সেসব পত্রপত্রিকা ও বেসরকারি টিভি চ্যানেলে প্রচারও হয়েছে।
তবে হাস্যকর হলেও, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে’। সিইসি ও নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ রক্ষা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কোন বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ নেয়নি। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে সিইসি সকল ধরনের নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তার ভাষায়, সেসব ‘বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা’। প্রকৃতপক্ষে, নির্বাচন কমিশন শাসক দলের জন্য সকল পথ উন্মুক্ত করে দিয়েছিল। এ দলটিই ‘যে কোন মূল্যে’ সিটি করপোরেশন নির্বাচন জয়ের ইচ্ছার কথা ঘোষণা দিয়েছিল।
এটি একটি প্রকৃত তথ্য যে, বিশ্বাসযোগ্য ও সামর্থ্যবান কোন প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব এদেশে নেই। সেটা হোক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, হোক নির্বাচন কমিশন কিংবা বিচার বিভাগ। সাধারণত, বাংলাদেশের জনগণ বিশ্বাস করে যে, বিরোধী দলের কর্মী ব্যতীত দায়ীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হবে না। ঢাকা ও চট্টগ্রামে যে লজ্জাকর ঘটনাসমূহ ঘটেছে, তার দায়ভার নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বর্তমান সরকার ও পূর্বের সকল সরকারসমূহের ভাগাভাগি করে নেয়া উচিত বাংলাদেশের সুশীল সমাজ নিরপেক্ষভাবে আচরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। সমাজে তাদের ভূমিকা পালনে আদর্শ অবস্থান সমুন্নত রাখতেও ব্যর্থ হয়েছে। তাই এ লজ্জার দায়ভার তাদেরও বহন করা উচিত।
বাংলাদেশের এসব ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন দেশটির মৌলিক প্রতিষ্ঠানসমূহের অবস্থার প্রতিফলন ঘটায়। আইনের শাসন সমুন্নত রাখার সামর্থ্য, স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্বের ব্যাপক অভাব রয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানসমূহে। এসব দুর্বল প্রতিষ্ঠানের ওপর ছড়ি ঘুরানোটা এক ধরনের বিশৃঙ্খল রাজনৈতিক সংস্কৃতি। এ ছাড়াও রয়েছে, গঠনমূলক পদক্ষেপের বদলে গায়ের জোরে রাজনৈতিক পদ কেড়ে নেয়ার গেঁড়ে বসা অভ্যাস।
নিকট ভবিষ্যতে একটি প্রগতিশীল ও রাজনৈতিক বাংলাদেশ দেখতে যারা আগ্রহী, তাদের উচিত, ‘কারচুপির তদন্ত হবে’- এমন বিভ্রম থেকে বেরিয়ে আসা। বাংলাদেশে এসব কারচুপিকে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ বলা হয়।
সময় ও সমপদ নষ্টের বদলে, বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের উপযোগী করে গড়ে তোলাটা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ জনগণ তাদের করের অর্থ প্রদান করছে, গণতন্ত্র ও সমাজে বৃহত্তর ন্যায়বিচারের জন্য সংগ্রাম করছে। এসব বাস্তবায়নে বিলম্ব ও ব্যর্থতা ঘটলে, কর্তৃত্বপরায়ণ ও বিশৃঙ্খল শাসনব্যস্থার অধীনে আরও অনেক মানুষের মৃত্যু হতে পারে। আরও হতাশার জন্ম দিতে পারে। এ অবস্থায়, স্বাধীন প্রতিষ্ঠান গড়তে প্রয়োজনীয় মনোযোগ না দিলে, সবচেয়ে বিপজ্জনক উগ্রপন্থিরাই লাভবান হবে বেশি। তাদের শক্তিবৃদ্ধি জাতীয় নিরাপত্তা ও এ অঞ্চলের বৈদেশিক নিরাপত্তার জন্য আরও বৃহৎ সমস্যা সৃষ্টি করবে।
ভোট কারচুপির তদন্ত চায় জাতিসংঘ
ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট কারচুপির সব অভিযোগের তদন্ত চায় জাতিসংঘ। এজন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন। পাশাপাশি তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান বের করার জন্য সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আবারও আহ্বান জানিয়েছেন। সব রাজনৈতিক দলকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে তাদের মতপার্থক্য দূর করার আহ্বান জানান বান কি মুন। মহাসচিব বান কি মুনের মুখপাত্র ফারহান হক ২৮শে এপ্রিল নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন। এ সময় উঠে আসে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অনিয়মের প্রসঙ্গ। বলা হয়, ব্যাপক ভোট কারচুপি হয়েছে নির্বাচনে। ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। পোলিং স্টেশনগুলোতে আগেই ব্যালট ভরা হয়েছে। এমনকি সাংবাদিকদের প্রহার করা হয়েছে। নির্বাচনের ফল প্রচারে মিডিয়াকে বাধা দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য হতাশা প্রকাশ করেছে। ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের এমন সব বিষয়ের জবাব দেন ফারহান হক। তার কাছে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন- আপনাকে ধন্যবাদ, ফারহান। জাতিসংঘ অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছিল। কিন্তু, মঙ্গলবার আমরা বাংলাদেশে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তেমনটা দেখতে পাই নি। ঢাকা ও চট্টগ্রামের সিটি করপোরেশন নির্বাচন মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকাল ৪টায় শেষ হয়েছে। নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। আগেই ভোটপূর্ণ ভোটকেন্দ্র পাওয়া গেছে। এমনকি সাংবাদিকদেরও মারধর করা হয়েছে। নির্বাচনী ফলাফলের বিষয়ে প্রতিবেদন করতে গণমাধ্যমকে বাধা দেয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য এরই মধ্যে এ ধরনের ভোট জালিয়াতি ও সহিংসতার বিষয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছে। এ বিষয়গুলোতে আপনার মন্তব্য কি?
উত্তরে ফারহান হক বলেন- কারচুপির অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন বর্জনের বিষয়ে মহাসচিব অবগত রয়েছেন। তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে সব অভিযোগ তদন্ত করতে এবং বিরোধী দলকে তাদের উদ্বেগ প্রকাশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সব পক্ষকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে তাদের রাজনৈতিক মতপার্থক্য প্রকাশের অনুরোধ জানিয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজতে সব রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি আহ্বান গুরুত্ব সহকারে পুনর্ব্যক্ত করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব।
ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও বাংলাদেশে সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে ব্রিফিংয়ে আলোচনা হয়। সেখানে এক সাংবাদিক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সহকারী জেফ রাথকের কাছে জানতে চান- বাংলাদেশে মঙ্গলবার সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হয়েছে। এ নিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এরই মধ্যে বিবৃতি দিয়েছেন। তাতে তিনি সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। বিএনপি মধ্যপথে নির্বাচন বর্জন করেছে। এ বিষয়ে আপনার অবস্থান কি?
তার প্রশ্নের উত্তরে জেফ রাথক বলেন, আমাদের দূতাবাস এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে। এর সঙ্গে যোগ করার মতো আমার কাছে আর কিছু নেই। আমি দূতাবাসের ওই বিবৃতিই আপনার জন্য তুলে ধরলাম।
প্রহসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে: অধিকার
সহিংসতা, কেন্দ্র দখল, জালভোট প্রদান ও বিভিন্ন অনিয়মের মধ্য দিয়ে ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে প্রহসনমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে মনে করছে ‘অধিকার’। দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার এই সংকট ও এব্যাপারে সৃষ্ট ব্যাপক হতাশাজনক পরিস্থিতিতে অধিকার গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। অধিকার মনে করে, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রক্রিয়া বাতিল করে দেশকে এক চরম বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে ২০১৪ এর ৫ই জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত নির্বাচন এবং ২০১৪ এর উপজেলা নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। অধিকার আশা করে, সব দলের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবিলম্বে একটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে দ্রুত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা হবে। নতুবা জনগণ প্রতারিত হতেই থাকবে; যা দেশকে ব্যাপক রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেবে। এক বিবৃতিতে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার এসব মন্তব্য করে। অধিকার জানায়, তিনটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন অধিকারকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অনুমতি দেয়নি। নির্বাচনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে অধিকার-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার কর্মীরা ভোটকেন্দ্রগুলোর বাইরে থেকে নির্বাচনের সার্বিক অবস্থা এবং সহিংস পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। আর চট্টগ্রামে মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে জড়িতরা অনুমতি নিয়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন। এছাড়াও বিভিন্নভাবে গণমাধ্যমের সঙ্গে সমন্বয় করে রিপোর্ট সংগ্রহ করা হয়।
অধিকার-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই সম্প্রতি সরকার সিটি করপোরেশনের নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও বর্তমান নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন রয়েছে। নির্বাচনের আগে থেকেই রাস্তায় নামলে গ্রেপ্তার ও বাধার সম্মুখীন হয়েছেন ২০দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনের প্রার্থী যেমন গণসংহতি আন্দোলনের মেয়রপ্রার্থী এবং সিপিবি-বাসদের মেয়রপ্রার্থীর সমর্থকদের ওপরও বিভিন্ন জায়গায় হামলা করে সরকার সমর্থকরা। নির্বাচনে প্রচারণা চালাতে গিয়ে বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িতে গুলিবর্ষণ সহ কয়েকবার হামলা করেছে সরকার সমর্থকরা। সরকার সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যাপকভাবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনের আগে গত ২৩শে এপ্রিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন ‘নির্বাচনে কিভাবে জয়ী হতে হয় আওয়ামী লীগ তা ভালোভাবেই জানে’। এরই ধারাবাহিকতায় ব্যাপকভাবে কেন্দ্র দখল, জাল ভোট, সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এর প্রতিবাদে দুপুর ১২টার পর তিনটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দল সমর্থিত প্রার্থীরা এবং বামপন্থি রাজনৈতিক সংগঠন গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের প্রার্থী আবদুল্লাহ আল কাফী ও বজলুর রশীদ ফিরোজ এবং জাতীয় পার্টির সমর্থিত ঢাকা দক্ষিণের প্রার্থী সাইফুদ্দিন আহমদ মিলন নির্বাচন বর্জন করেন। বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও সহিংস ঘটনা ঘটার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন থাকলেও তাদের নিষ্ক্রিয়তা ছিল দৃশ্যমান এবং অনেক জায়গাতেই তাদেরকে সরকার সমর্থকদের সহায়তা করতে দেখা গেছে। এছাড়া, গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন জায়গায় সংবাদ সংগ্রহ ও ছবি তোলার সময় বাধা দেয়া হয়।
অধিকার তাদের প্রতিবেদনে বলে, নির্বাচনের আগের রাতেই রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় কেন্দ্র দখলের অভিযোগ পাওয়া যায়। গভীর রাতে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোনে এবং প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে একাধিক কেন্দ্র দখলের খবর আসে। কোথাও কোথাও প্রিজাইডিং অফিসারকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়। ঢাকা দক্ষিণের খিলগাঁও সরকারি স্টাফ কোয়ার্টার স্কুলের (কেন্দ্র নং-১৯) প্রিজাইডিং অফিসারকে ছুটি দেয়া হয়েছে বলে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয় সরকার সমর্থকরা। সরজমিন সেখানে গিয়ে কেন্দ্রের বাইরে যুবলীগের কর্মীরা পাহারা দিচ্ছে এমন দৃশ্য দেখা যায়। একই রকম চিত্র দেখা গেছে খিলগাঁও সরকারি কলোনি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খিলগাঁও মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র, ঢাকা উত্তর ৩৬ নং ওয়ার্ডের শেরেবাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নাখালপাড়া আলী হোসেন স্কুলেও।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা দক্ষিণের নারিন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দরজা বন্ধ করে ভোট দেয়া হয়। এই সময় সাধারণ ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে দেয়া হচ্ছিল না বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় ভোটাররা। এই কেন্দ্রটি আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী সাঈদ খোকন ও কাউন্সিলর প্রার্থী সারোয়ার হাসানের এজেন্টরা দখলে নিয়ে নেন। এই কেন্দ্রের ভোটার আবুল কালাম তার পরিবারের চার সদস্যকে নিয়ে ভোট দিতে যান, কিন্তু কেন্দ্রে ঢোকার পর তাদের বলা হয় ‘ভোট দেয়া হয়ে গেছে’। দক্ষিণ মৈশণ্ডি বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রবেশ পথে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়রপ্রার্থী সাঈদ খোকন ও কাউন্সিলর প্রার্থী সারোয়ার হাসানের ব্যাজ পরে শতাধিক ব্যক্তি ভোটকেন্দ্রটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টায় ঐ কেন্দ্রে ভোটাররা ঢুকতে চাইলে ব্যাজ পরা কয়েকজন যুবক তাদের বাধা দিয়ে বলে ‘ওদিকে যায়েন না। দুইটার পরে আসেন’। ঢাকা উত্তরের মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ইনস্টিটিউট ভোট কেন্দ্র থেকে ২০দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থীর এজেন্টদের পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। পুলিশের দাবি তারা মামলার আসামি। ঢাকা উত্তরের মোহাম্মদপুর এলাকার তিনটি ভোটকেন্দ্রে গণমাধ্যমকর্মীদের ছবি তুলতে বাধা দেয় পুলিশ। পুলিশের এস আই গোলাম কবির জানান, ‘পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে গণমাধ্যমকর্মীদের ছবি তুলতে দেয়া হচ্ছে না’। এছাড়া, ঢাকা উত্তরের মিরপুর ১১ নং ওয়ার্ডের বাঙলা উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে গণমাধ্যমকর্মীদের ঢুকতে বাধা দেয় সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ। ঢাকা উত্তরে এমডিসি মডেল ইনস্টিটিউট ভোটকেন্দ্র ও দক্ষিণে ফরিদাবাদ মাদরাসা ভোটকেন্দ্র ছাড়া আর কোথাও কোন বিরোধী দলের নেতাকর্মীকে ভোটকেন্দ্রের বাইরে দেখা যায়নি। প্রতিটি কেন্দ্রের বাইরে সরকার সমর্থিত প্রার্থীর লোকজনকে ভোটার স্লিপ বিতরণ করতে দেখা গেছে। বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের সমর্থকদের ভোটার স্লিপ দিতে দেয়া হয়নি। আবার পুলিশ সরকারি দলের মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীর পোস্টার সংবলিত ভোটার স্লিপ ছাড়া সাধারণ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন অনেক ভোটার। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ইস্টবেঙ্গল ইনস্টিটিউশন ভোটকেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৯টায় আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়রপ্রার্থী সাঈদ খোকনের ব্যাজ লাগানো কয়েকশ’ লোক ভোটকেন্দ্রের চারপাশে অবস্থান নেয়। এই সময় ২০/২৫ জন কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করে। আধাঘণ্টারও কিছু বেশি সময় পর তারা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসে। সুরিটোলা প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা দুইজন নারী ভোটার নাম প্রকাশ না করার শর্তে অধিকারকে জানান, সকাল ৯টায় তারা ভোটকেন্দ্রে এসেছেন। কেন্দ্রে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন লোক এসে তাদের বলেন ‘আপনাদের ভোট দেয়া হয়ে গেছে, আপনারা চলে যান।’ ঢাকা দক্ষিণের পগোজ স্কুল ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগ সমর্থিত দুই গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে জালভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। এই সময় একপক্ষ কেন্দ্র থেকে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। ঘণ্টাখানেক পর আবারও ভোটগ্রহণ শুরু হয়। কিন্তু ততক্ষণে আতঙ্কে সাধারণ ভোটাররা কেন্দ্র ছেড়ে চলে যান। ফরিদাবাদ মাদরাসা ভোটকেন্দ্রে কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুল মান্নানের ভোটকেন্দ্র সংলগ্ন স্লিপ প্রদান ক্যাম্প ভাঙচুর করে সরকার সমর্থকরা। তেজগাঁও সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের একটি ভোটকেন্দ্রে বুথ দখল করে একদল কর্মীকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর প্রতীকে ব্যাপকভাবে সিল মারতে দেখা গেছে। এই সময় ভোটগ্রহণের দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং অফিসার নিষ্ক্রিয় হয়ে বসেছিলেন। এই ভোট জালিয়াতির ঘটনা বিবিসি’র এক সংবাদদাতা প্রত্যক্ষ করেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের আলী আহমেদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট শুরু হলে তিন-চারশ’ যুবক সব ভোটারদের বের করে দিয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে ব্যালটে সিল মারার পর মিছিল করে। সকাল আনুমানিক ৯টায় ফতেয়াবাদ ছড়ারকুল এলাকার আলি আহমদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র এবং সকাল আনুমানিক সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রামের মেরিট বাংলাদেশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র আওয়ামী লীগ সমর্থিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গোলাগুলি ছুড়ে দখলে নেয়। এছাড়া, বলিহার হাট সানোয়ারা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুপুর বারোটায় ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
BNM Special
BNM Archive
- ► 2026 (1528)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
May
(1015)
-
▼
May 01
(19)
- খালেদা-শারম্যান বৈঠক, সিটি নির্বাচনে কারচুপিতে অসন...
- যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ বিষয়ক শুনানিতে সামরিক হস্তক...
- অপমানিত হলেন ভোটাররা by শম্পা বসু
- যে ৬ প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে হিলারিকে
- কার নৌকায় কে ডোবে! by ফারুক ওয়াসিফ
- গায়েবি ভোটের ময়নাতদন্ত- যেভাবে ৬১ ভোট হয়ে যায় ৩৮১ ...
- কৌশলের খেলায় জয়ী কে?
- সব দলকে অন্তর্ভুক্ত করে দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের তাগিদ...
- মোবাইল আমদানিতে বছরে ৪শকোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি by ম...
- বিশ্বাসের সংকটে ভোট
- বাংলাদেশে নির্বাচন পদ্ধতির উন্নয়ন চায় যুক্তরাষ্ট্র
- ‘উপ্রের নির্দেস, চইল্যা আহো!’ by মশিউল আলম
- যা ঘটল তা কারও জন্য মঙ্গলজনক নয় -সাক্ষাৎকারে এ টি ...
- লাশের স্তূপ থেকে বেরিয়ে এলো জীবন্ত মানুষ
- বিএনপির ভেতরে–বাইরে নানা প্রশ্ন by সেলিম জাহিদ
- নির্বাচনে অনিয়মের স্বচ্ছ তদন্ত চান শারম্যান
- অবশেষে ছলনাময়ী মারজানা আটক
- জিয়ার মাজারে ভাঙচুর
- আনসারের জ্যাকেট পরে নির্বাচনী দায়িত্বে কিশোর–তরুণ...
-
▼
May 01
(19)
-
▼
May
(1015)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
আমার দেশ
ফুটবল খেলা
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
ইরান
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
কালবেলা
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
মুসলিম
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
জাতিসংঘ
রাশিয়া
মুক্তিযুদ্ধ
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
বিজ্ঞান ও গবেষণা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সংখ্যালঘু
সৈয়দ আবুল মকসুদ
নকশা
তুরস্ক
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
হিন্দু
রুদ্র মিজান
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
স্বাস্থ্য
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
আলী রীয়াজ
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
শুভ্র দেব
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
লেবানন
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
জীবনযাপন
যশোর
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
তথ্য প্রযুক্তি
অস্ট্রেলিয়া
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
মসজিদ
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
Exclusive
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ইয়েমেন
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
জনস্বাস্থ্য
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
লাতিন আমেরিকা
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
Hot Topic
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
জোহরান মামদানি
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
ইসলামী ছাত্রশিবির
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
ইহুদি
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
স্পেন
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কলম্বিয়া
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
তিউনিসিয়া
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
বেলজিয়াম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
জর্দান
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
আহমেদ মুনির
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অমানবিকতা
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট

No comments:
Post a Comment