আগে নৌকার জন্য ভোট চাওয়ার ব্যাখ্যা দিলেন রবি চৌধুরী

প্রকাশ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ঃ ‘আমাকে দালাল বানাবেন না, আমি দালাল না’—গতকাল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির হয়ে ঢাকা-১৭ আসনে ভোট চাইতে গিয়ে গণমাধ্যমের সামনে কথাটি বলেন সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরী। এ আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্য ভোট চাইতে পুলিশ প্লাজা থেকে গুলশান গার্ডেন ও এর আশপাশের এলাকায় গণসংযোগ করেন সমর্থক শিল্পীদের একটি অংশ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী রিনা খান, সংগীতশিল্পী মনির খান, চিত্রনায়িকা সামসুন নাহার সিমলা, অভিনেতা শাহেদ শরীফ খান প্রমুখ। বিএনপিপন্থী শিল্পীরা প্রচারে গিয়ে সাধারণ পথচারী, রিকশাচালক থেকে শুরু করে স্থানীয় লোকজনের কাছে দোয়া ও ভোট চান।

বিএনপির চেয়ারম্যানকে জয়যুক্ত করার জন্যও অনুরোধ করেন তাঁরা। প্রচারের একপর্যায়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শিল্পীরা। ভোট নিয়ে দলটির প্রতিশ্রুতিও তুলে ধরেন মনির খান ও রিনা খানরা। এরপর সাংবাদিকদের উদ্দেশে অনেকটা আক্ষেপ নিয়ে সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরী বলেন, ‘এখন ফেসবুক তো গরম হয়ে গেছে। সম্প্রতি আমি ও মনির খান ঠাকুরগাঁও জেলায় বিএনপির জন্য ভোট চাইতে গিয়েছিলাম। সেখানে অনেকেই প্রশ্ন তোলে আমাকে নিয়ে যে আমি নৌকার জন্য ভোট চেয়েছিলাম।’

এরপর রবি বলেন, ‘আমাকে দালাল বানাবেন না, আমি দালাল না। আমি কি কাজ করি, আমার এলাকায় গিয়ে দেখেন। গায়িকা মমতাজ আমাকে দাওয়াত দিয়েছিল। সে আমার সহশিল্পী। তার অনুরোধে তার মার্কার জন্য আমি ভোট চেয়েছি। এখানে আমি কারও দালালি করিনি। আমি গান গাইতে গিয়েছি। যেখানে টাকা দেবে, সেখানেই গান গাইব, সেটা যেই হোক।’

এ বিষয়ে প্রথম আলো আজ মঙ্গলবার দুপুরে কথা বলে রবি চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি ২০০৩ সালে খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী ছিলাম। মিয়ানমারে তখন আমি আর শাকিলা জাফর “কইলজার ভিতর গাঁথি রাইক্কুম তোঁয়ারে” গানটি গেয়েছি। তারেক রহমান সাহেবও সেই অনুষ্ঠানে ছিলেন। তাঁকে আমি ব্যক্তিগতভাবেও চিনি। জানাশোনাও ভালো। মানুষের সঙ্গে মিশলে মানুষ সম্পর্কে জানা যায়। মেশার পর জেনেছি, তিনি ভদ্রলোক। আমি কিন্তু একটা সময় জাসাসের অনেক অনুষ্ঠানও করেছি। দলীয়ভাবে যদিও আমি কোনো পদপদবি নিইনি। তবে ওরা চেয়েছিল আমাকে বিএনপিতে রাখতে। গাজী মাজহারুল আনোয়ার ভাই ও হেলাল খানও আমাকে বারবার চেয়েছিলেন। বলেছি, দল করব না কিন্তু আপনাদের সমর্থনে আছি। আমি কিন্তু আওয়ামী লীগের কোনো কমিটিতে ছিলাম না। নৌকার জন্য যে ভোট চেয়েছি, তা মমতাজ আমার সহকর্মী—সে অনুরোধ করেছে, সেখানে গিয়ে আমি তাঁর ভোট চেয়েছি। এখানে যদি মনির খানও বলে—আমি তার জন্যও ভোট চাইতে যাব। আমার অঙ্গনের অন্য কোনো সহকর্মী এক্স, ওয়াই জেড—যে–ই বলুক, তার জন্যও নামব। এখন চাই, জাতীয়তাবাদী দল ধানের শীষ বিজয়ী হোক।’

বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণায় রবি চৌধুরী, সঙ্গে মনির খানও
বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণায় রবি চৌধুরী, সঙ্গে মনির খানও। ছবি : শিল্পীর ফেসবুক থেকে

মানুষ রাজনীতি করে কেন, সুবিধা নেওয়ার জন্য তো? এমপি হওয়ার জন্য, মন্ত্রী হওয়ার জন্য—কিন্তু আমার এ ধরনের কোনো লোভ নেই—উল্লেখ করে রবি চৌধুরী বলেন, ‘কোনো সুবিধা নেওয়ার জন্য ধানের শীষের প্রচারণা করছি না। আগের সরকারের আমলেও করিনি, এই সরকারের আমলেও না। শুধু দেশ বাঁচানোর জন্য ধানের শীষের জন্য প্রচারে নেমেছি।’

আগে নৌকার জন্য ভোট চেয়েছেন—এমন প্রসঙ্গ উঠতেই রবি চৌধুরী বললেন, ‘আগেই বলেছি, মমতাজ আমার দীর্ঘদিনের সহকর্মী, এটা একান্তই তার অনুরোধে। আওয়ামী লীগের কোনো মিছিল–মিটিংয়ে গেছি কি না, সেটা কেউ আমাকে দেখাক। আমার সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে নানান কথা লেখা হচ্ছে! তাদের বলতে চাই, একজন শিল্পী হিসেবে দেশের প্রধানমন্ত্রী যখন শিল্পী হিসেবে আমাকে দাওয়াত দেন, যাওয়াটা আমারও দায়িত্ব। শিল্পী হিসেবে অন্যদের যেমন দাওয়াত দিয়েছেন, আমাকেও তাই। ওই দাওয়াতের কিছু ছবি এখন মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেব এবং তারেক রহমান সাহেবের সঙ্গে জুড়ে দিয়ে ভিউ পাওয়ার জন্য একটা গ্রুপ খবর ছড়াচ্ছে। এসব করছে ভিউ ব্যবসায়ীরা। স্পষ্টভাবে বলতে চাই, শিল্পী হিসেবে আমার দেশে যিনি প্রধানমন্ত্রী থাকবেন, তিনি যখন আমাকে সম্মান দিয়ে ডাকবেন—আমি অবশ্যই যাব। এই যাওয়াটা আমার দেশের প্রধানমন্ত্রীকেও সম্মান দেখানো।’

টাকার জন্য শিল্পীরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান করে থাকেন। মমতাজের নির্বাচনী প্রচারণার অনুষ্ঠানেও টাকা পেয়েছেন বলে গান করেছেন রবি চৌধুরী—এমনটাই জানালেন। আর সেই অনুষ্ঠানে মমতাজের জন্য সবার কাছে ভোট চেয়েছেন তিনি।

রবি চৌধুরী বলেন, ‘মমতাজের অনুষ্ঠানে আমাকে টাকার বিনিময়ে নিয়ে গেছে। আমি সেখানে গান গেয়েছি। যারাই আমাকে টাকা দেবে, তাদের সঙ্গে যদি অন্যান্য শর্ত মেলে, তাহলে অবশ্যই গান গাইব। তা ছাড়া মমতাজ তো আমাদের বন্ধু, এটা তো অস্বীকার করতে পারব না। সে আমাদের খুব কাছের, আপনজন। আমরা সবাই তো তার বাসায় আড্ডা দিতাম। মনির খান, ওমর সানি, অপু বিশ্বাস থেকে শুরু করে অনেকে মমতাজের বাসায় দিনের পর দিন আড্ডা দিয়েছি। কারণ, আমরা শিল্পী পরিবার। এই পরিবারের কেউ যদি আওয়ামী লীগ করে, তাঁকে তো আমি ফেলে দিতে পারব না, অস্বীকার করতে পারব না। সে–ও এই দেশের নাগরিক, শিল্পী পরিবার—শিল্পী রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকবে, কিন্তু সরকারে যেই–ই থাকুক—শিল্পীর শিল্পকর্মটাই সরকারের বিবেচনায় রাখা উচিত।’

মমতাজের সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণায় রবি চৌধুরী
মমতাজের সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণায় রবি চৌধুরী। ছবি : সংগৃহীত

No comments

Powered by Blogger.