নতুন বাংলাদেশ, ইসলামাবাদের উচিত গঠনমূলক সম্পৃক্ততা বজায় রাখা
তারেক রহমান এমন একটি রাজনৈতিক ধারার প্রতিনিধি, যা ঐতিহাসিকভাবে হাসিনা পরিবারের বিরোধী অবস্থানে থেকেছে। তার ব্যাপক নির্বাচনী জয় অতীত রাজনীতির প্রতি স্পষ্ট প্রত্যাখ্যান এবং বাংলাদেশের একটি অংশের মধ্যে এমন মনোভাবের প্রতিফলন, যেখানে সমালোচকদের চোখে অতিমাত্রায় ভারতঘেঁষা নীতির পরিবর্তে পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন ভারসাম্য আনার আকাঙ্ক্ষা দেখা যাচ্ছে। তবে এ ধরনের রূপান্তর সবসময়ই নিজস্ব জটিলতা বহন করে।
অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বদানকারী বহুল প্রশংসিত ব্যক্তিত্ব প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিদায়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কার্যত আবারও উত্তরাধিকারের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধারায় ফিরে গেল, যার সঙ্গে পরিচিত কাঠামোগত চ্যালেঞ্জও ফিরে এসেছে। বিপ্লবী মুহূর্তগুলো সাধারণত দ্রুত ও মৌলিক সংস্কারের প্রত্যাশা তৈরি করে, অথচ প্রাতিষ্ঠানিক রাজনৈতিক দলগুলো ধীর প্রক্রিয়া ও আপসের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। নতুন বিএনপি সরকার কীভাবে তাদের উত্থানকে সম্ভব করে তোলা সেই বিপ্লবী প্রেরণাকে স্থিতিশীল শাসনের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য করবে- এটাই তাদের মেয়াদের নির্ধারক প্রশ্ন হয়ে উঠবে।
এই নির্বাচন রাজনৈতিক প্রভাবও পুনর্বণ্টন করেছে। জামায়াতে ইসলামী শেখ হাসিনার আমলে প্রান্তিক হয়ে পড়েছিল। তারা নতুন প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি, যে ছাত্রগোষ্ঠীগুলোর আন্দোলনে এই রাজনৈতিক পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে, তারাও এখন বিরোধী আসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সময়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলনামূলকভাবে স্বাধীন অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছিল এবং বাইরের চাপ হিসেবে বিবেচিত বিষয়গুলো প্রতিরোধ করেছিল। বিএনপি সরকার- একদিকে ইসলামপন্থী ও ছাত্রভিত্তিক সক্রিয় বিরোধী শক্তি নিয়ে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শাসনের একটি সুসংহত নীতি ধরে রাখতে পারবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের মন্ত্রীদের উপস্থিতি ছিল তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত। ঢাকা শেষ পর্যন্ত যে রাজনৈতিক পথই অনুসরণ করুক না কেন, ইসলামাবাদের উচিত ঐতিহাসিকভাবে সংযুক্ত এই প্রতিবেশীর সঙ্গে গঠনমূলক সম্পৃক্ততা বজায় রাখা, যাতে দক্ষিণ এশিয়ায় আরও স্থিতিশীল পরিবেশ গড়ে তোলা যায়।

No comments