রোহিঙ্গা নির্যাতনকে গণহত্যা আখ্যায়িত করার দাবি মার্কিন সিনেটরদের

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর চালানো সেনাবাহিনীর নৃশংসতাকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কংগ্রেসের উভয় দলের সিনেটররা। ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটদের ওই গ্রুপটি বুধবার এমন আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওয়ের কাছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ২০১৭ সালের ২৫ শে আগস্ট থেকে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংস নির্যাতন শুরু করে সেনাবাহিনী। এতে বাধ্য হয়ে কমপক্ষে ৭ লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। এ ঘটনাকে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন ও অন্যরা জাতি নিধন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তবে এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার। এ বিষয়ে যুক্তাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওয়ের কাছে একটি চিঠি লিখেছেন সিনেটররা। ওই চিঠির একটি কপি দেখতে পেয়েছে রয়টার্স। এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব রিপোর্টে গণহত্যার ব্যাপক ও সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। তা সত্ত্বেও গণহত্যা চালানো হয়েছে এ মর্মে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করে নি। এতে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এর আগে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর ওই নৃশংসতাকে গণহত্যা ঘোষণার জন্য প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির নেতারা। যুক্তরাষ্ট্র সরকার মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ওই নৃশংসতাকে গণহত্যা ঘোষণা দিলে তাতে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হতো যুক্তরাষ্ট্র। তাই ওই রিপোর্টকে থামিয়ে রাখা হয়। ওদিকে মঙ্গলবার রাখাইন নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে রয়টার্স। এক সময় যে রাখাইনে রোহিঙ্গারা বসবাস করতেন এবং যেখান থেকে তাদেরকে সেনাবাহিনী উৎখাত করেছে, তা নাটকীয়ভাবে পাল্টে ফেলা হয়েছে। এতে রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়াকে অনিশ্চয়তায় ফেলেছে। তাই মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর কর্মকান্ড নিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তে আসার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সিনেটররা। তারা চিঠিতে বলেছেন, মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চল রাখাইন রাজ্যে সন্ত্রস্ত করা হয়েছে, বাড়িঘর থেকে উৎখাত করা হয়েছে, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মুছে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সেখানে যে নৃশংসতা চালানো হয়েছে তাতে গণহত্যার সব সংজ্ঞাই অনুসরণ করে। এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকতে পারে না। ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন সিনেট ফরেন রিলেশনস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্রেট সিনেটর বব মেন্ডেজ, রিপাবলিকান সিনেটর মারকো রুবিও, সুসান কলিনস, ডেমোক্রেট সিনেটর এডওয়ার্ড মারকি, টিম কেইন, বেন কার্ডিন এবং জেফ মার্কলি।