Tuesday, November 19, 2013
ওয়ারশ সম্মেলন নিয়ে বিশ্ববাসীর প্রত্যাশা by অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম
ওয়ারশ সম্মেলন নিয়ে বিশ্ববাসীর প্রত্যাশা by অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম

আজ
থেকে কোটি বছর আগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে বর্তমান সময়ের মতোই বিপুল পরিমাণ
কার্বন ডাই-অক্সাইডের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বায়ুমণ্ডলে অধিক মাত্রার
কার্বন ডাই-অক্সাইডের উপস্থিতির কারণে তখন বিশ্বের তাপমাত্রা বর্তমান সময়ের
তুলনায় পাঁচ থেকে ১০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বেশি ছিল। তখন বিশ্বে বিদ্যমান
তাপমাত্রার কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাও বৃদ্ধি পেয়েছিল। অধিক উষ্ণতার
কারণে এক সময় বিশ্বব্যাপী বরফের পরিমাণ ছিল খুবই কম। ওই অস্বাভাবিক
পরিস্থিতিতে পৃথিবীতে কী ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিয়েছিল, সেসব নিয়ে
ধারাবাহিক গবেষণা হওয়া দরকার। এতে ওই সময়ের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পাওয়া যাবে।
টেকসই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য কোটি বছর আগের সেসব তথ্যও
বিস্তারিত জানা দরকার। জাতিসংঘের উদ্যোগে জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্তর্জাতিক
সম্মেলনগুলোর মধ্যে কিয়োটো সম্মেলন ও কোপেনহেগেন সম্মেলন বিশ্ববাসীর যতটা
দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছিল অন্য সম্মেলনগুলো তা পারেনি। উল্লিখিত দুই
সম্মেলনের বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনা ও অন্যান্য কর্মকাণ্ড পরবর্তী
সম্মেলনগুলোকে নানাভাবে প্রভাবিত করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিটি
আন্তর্জাতিক সম্মেলন নানা দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও এসব
সম্মেলন কাক্সিক্ষত মাত্রায় ফলপ্রসূ হচ্ছে না। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক
সম্মেলনের অভিজ্ঞতা মনে রেখেই আগামীতে অনুষ্ঠেয় এ বিষয়ক সম্মেলনগুলো নিয়ে
আশাবাদী হতে চাই। এসব সম্মেলনের পর তাৎক্ষণিক সুফল না মিললেও বিভিন্ন
পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে বিশ্ববাসীর আন্তঃসম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়।
আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন, ফিচার ও প্রবন্ধে উল্লিখিত তথ্য বিশ্লেষণ করলে এটাই স্পষ্ট হয়, পোল্যান্ডের ওয়ারশে চলমান বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন (কপ-১৯) থেকে তেমন বড় কোনো প্রাপ্তি মিলবে না। কিন্তু ওয়ারশ জলবায়ু সম্মেলনের আলোচনা ২০১৫ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠেয় কপ-২১কে সফল করতে সহায়ক হবে। প্যারিসে অনুষ্ঠেয় বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনের (কপ-২১) প্রথম প্রস্তুতি সভাটি ১৭ জুন-২০১৩ প্যারিসে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাই প্যারিস জলবায়ু সম্মেলন নিয়ে বিশ্ববাসী বিশেষভাবে আশাবাদী হতে শুরু করেছে। কোপেনহেগেন জলবায়ু সম্মেলনের সময় আন্তর্জাতিক মিডিয়া বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে যতটা সরব ছিল, বর্তমানে তা লক্ষ্য করা যায় না। এটা দুঃখজনক। বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন সফল করার ক্ষেত্রে মিডিয়ার দায়িত্বশীল ভূমিকা অব্যাহত রাখতে হবে।
শিল্প বিপ্লবের পর থেকে শিল্প সমৃদ্ধ দেশগুলোর কলকারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ দূষিত গ্যাস নির্গত হয়ে পরিস্থিতি কী ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে তা প্রতিনিয়ত আলোচিত হচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনার অন্যতম লক্ষ্য শিল্প-কারখানা থেকে যে দূষণ নির্গত হয় তা ন্যূনতম পর্যায়ে নিয়ে আসা। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে বিশ্ব সম্প্রদায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারছে না। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এমন প্রযুক্তি আবিষ্কার করতে হবে যাতে কলকারখানা থেকে নির্গত দূষণ ন্যূনতম পর্যায়ে আনা সম্ভব হয়।
শিল্পোন্নত দেশগুলোর দায় স্বীকার করে ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হওয়ার বিষয়টি ইতিবাচক। কিন্তু ক্ষতিপূরণ প্রদান নিয়ে নানা রকম জটিলতা সৃষ্টির বিষয়টি দুঃখজনক। আমরা লক্ষ্য করেছি, একেকটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে নানামুখী আলোচনা শুরু হয়। এসব আলোচনা আবার দ্রুত থেমে যায়। বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার জন্য আরেকটি বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য অপেক্ষা করতে হবে কেন? যেহেতু বিষয়টি সবার কাছে পরিষ্কার, তাই নতুন করে প্রকৃতির রুদ্র রূপ দেখার অপেক্ষা না করে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো তাদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পেলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতা বাড়বে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোও বহুমাত্রিক গবেষণায় মনোনিবেশ করতে পারবে, যেসব গবেষণার মাধ্যমে বিশ্ববাসীর উপকৃত হওয়ার পথ সুগম হবে। ফিলিপাইনে টাইফুনের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও ওই ঘটনার দীর্ঘ সময় পরও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্ট হয়নি। দেশটিতে টাইফুন আঘাত হানার ৩৬ ঘণ্টা পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে টাইফুনের তাণ্ডবের যে চিত্রটি ফুটে উঠেছিল, এটা ছিল একেবারেই খণ্ডিত। হয়তো যোগাযোগ ব্যবস্থার বিপর্যয়ই ছিল এর অন্যতম কারণ। টাইফুন আঘাত হানার প্রায় ৬০ ঘণ্টা পরই বিশ্ববাসী ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে মোটামুটি একটি ধারণা পেল। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ধ্বংসস্তূপের ছবি দেখে বোঝার উপায় নেই- সেখানে এক সময় লাখো মানুষ বসবাস করত। নতুন করে যেন এ দৃশ্য আর দেখতে না হয় সেজন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং পরিস্থিতি মোকাবেলায় দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।
২.
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রাথমিক কারণ হিসেবে মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে চিহ্নিত করার পর শিল্পোন্নত দেশগুলোর উচিত ছিল গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। কিন্তু দুঃখজনক হল, বাস্তবে তা লক্ষ্য করা যায়নি। বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও শিল্পোন্নত দেশগুলোতে কয়লার ব্যবহার কাক্সিক্ষত মাত্রায় কমেনি। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি রোধ করার বিষয়ে বিশ্বের সব দেশ বহুমুখী তৎপরতা অব্যাহত রাখার পরও বৈশ্বিক উষ্ণতা বেড়েই চলেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, ১৮৮০ সালের তুলনায় বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই বেড়েছে ০.৮৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সম্প্রতি জাপানের পরমাণু চুল্লিতে দুর্ঘটনার পর বিভিন্ন দেশ কয়লার ব্যবহার বাড়াতে যতটা আগ্রহ প্রকাশ করেছে, নিরাপদ জ্বালানি খাতে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে ততটা মনোযোগী হয়েছে- এমন তথ্য আমাদের জানা নেই। অথচ জাপানের নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের দুর্ঘটনার পর বিশ্বব্যাপী নিরাপদ জ্বালানি খাতে ব্যাপক পরিসরে গবেষণা শুরু হওয়া উচিত ছিল।
উন্নয়নশীল দেশগুলো কাক্সিক্ষত প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে গ্রিন হাউস গ্যাস নিয়ন্ত্রণ না করেও বহুমুখী সংকটের বেড়াজাল থেকে মুক্ত হতে পারছে না। বিদ্যমান বাস্তবতায় উন্নয়নশীল দেশগুলো আপাতত গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমনে কৃচ্ছ্র পরিচয় দিলে কর্মসংস্থান কমবে যা প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিদ্যমান বাস্তবতায় উন্নত দেশগুলোকে গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে মনোযোগী হতে হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা সম্ভব হলেই গ্রিন হাউস গ্যাসের নির্গমন কমবে।
আমরা অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতে পারি, বিদ্যুৎ উৎপাদনে সাশ্রয়ী মূল্যের প্রযুক্তি আবিষ্কারের কাজটি কঠিন। সেক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলোর বিশেষত এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য শিল্পোন্নত দেশগুলোর পক্ষ থেকে বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে। অর্থাৎ এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর উচ্চ প্রবৃদ্ধি যাতে অব্যাহত থাকে সে ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
গত কয়েক বছরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দূষণ কমানোর বিষয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। সব দেশই এ বিষয়ে একমত হয়েছে যে, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের দূষণ ১৯৯০ সালের তুলনায় ৫০ শতাংশ কমাতে হবে। আমরা জেনেছি, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়ে যাবে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতাও বাড়বে। হাইয়ানের তাণ্ডবে ফিলিপাইনের একটি শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার একদিন আগেও আমরা কল্পনা করিনি প্রাকৃতিক দুর্যোগ এত ভয়ংকর গতিতে আঘাত করতে পারে। টাইফুনের কারণে সৃষ্ট সুনামিতে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও বেড়ে গেছে। হাইয়ানের তাণ্ডবে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার প্রেক্ষাপটে গৃহহীন হয়েছে লাখো মানুষ। গণমাধ্যম কর্মীরা আপ্রাণ চেষ্টা করেও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত তথ্য দ্রুত জানতে পারেননি। দেশটিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে উদ্ধারকর্মীদের পৌঁছাতে দেরি হয়েছে। দীর্ঘ সময় অভুক্ত থাকার পর আশ্রয় ও খাবারের সন্ধানে অনেকেই দিশাহারা হয়ে যায়। বিভিন্ন দেশ থেকে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছার পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। সবার সহযোগিতায় একদিন ফিলিপাইনবাসী ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবেন। কিন্তু ঝড়ের আঘাতে যারা স্বজন হারিয়েছেন, তাদের হৃদয়ের ক্ষত কি কখনও শুকাবে? বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এ রকম বা এর চেয়েও তীব্র মাত্রার ঝড় যে কোনো সময় যে কোনো দেশে আঘাত হানতে পারে। কাজেই জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
যে কোনো সামুদ্রিক ঝড়ের পর উপকূলীয় অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলও নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া সামুদ্রিক ঝড়ের কারণে উপকূলীয় এলাকার মাটির স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য বদলে যায়। এতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টিসহ এসব বহুমুখী সমস্যা বাড়তে থাকবে। এতে হতদরিদ্র মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করবে।
যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর কিছু মানুষকে হিংস্র আচরণ করতে দেখা গেছে। আবার অভুক্ত মানুষকে নানারকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে দেখা যায়। হাইয়ানের আঘাতের পর ফিলিপাইনেও তা লক্ষ্য করা গেছে। কাজেই যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিশ্ববাসীকে দ্রুত সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।
হাইয়ানের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত এক মহিলা আন্তর্জাতিক এক গণমাধ্যমকে জানান, তিনি তার স্বামীকে হারিয়েছেন। তিনি জানেন না এখন তিনি কোথায় যাবেন। ওই মহিলা নিজেকে নিয়ে যতটা চিন্তিত তার চেয়ে বেশি চিন্তিত তার ছোট্ট সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে। গণমাধ্যমে এখন হতাহতের সংখ্যা জানানো হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্তরা বেঁচে থাকার জন্য কী লড়াই করছে, কোনো কোনো টেলিভিশন চ্যানেলে তাও বিস্তারিত জানানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু হাইয়ানের আঘাতে যেখানে একটি পুরো শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে সেক্ষেত্রে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র কখনোই জানা সম্ভব হবে না। যেখানে হতাহতের প্রাথমিক তথ্যের জন্য আমাদের প্রায় ৬০ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হল- এই দীর্ঘ সময়ে কত আহত ব্যক্তি সামান্য চিকিৎসার অভাবে প্রাণ হারিয়েছেন তা কি কখনও জানা যাবে? এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি অসহায়ভাবে প্রাণ হারায় শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। হাইয়ানের আঘাতের কয়েক দিন পরও আমরা লক্ষ্য করি স্বজনদের খোঁজে মানুষ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছুটে বেড়াচ্ছেন। তাদের এই আর্তনাদ কখন থামবে তা কি কেউ বলতে পারবে?
৩.
প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদারভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে প্রতিশ্র“ত সাহায্য প্রাপ্তিতে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। তখন ক্ষতিগ্রস্তদের ভোগান্তি বাড়তে থাকে। বাংলাদেশে সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত হতদরিদ্র অনেক মানুষের ক্ষেত্রেও তা লক্ষ্য করা গেছে। তাই এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তরা যাতে তাদের প্রকৃত ক্ষতিপূরণ পায় সে ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
শিল্পোন্নত দেশগুলো দূষণের দায় স্বীকার করে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হলেও ক্ষতিপূরণ প্রদান ও প্রাপ্তিতে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ধারণ, কোন দেশ কী হারে ক্ষতিপূরণ পাবে, ক্ষতিপূরণ প্রদানে কোন দেশ কতটা দায় নেবে- এ ধরনের অনেক বিষয় দ্রুত মীমাংসা হওয়া জরুরি। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, উল্লিখিত বিষয়ে আলোচনা খুব মন্থর গতিতে চলে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হতাশা বেড়েই চলেছে।
আমরা লক্ষ্য করেছি, ব্রিটেনের এক তরুণ সাংবাদিক জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ কতটা ক্ষতিগ্রস্ত, তা জানার জন্য বাংলাদেশে দীর্ঘসময় অবস্থান করেছেন। তার এ আন্তরিকতার জন্য তিনি দেশে-বিদেশে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছেন। বাংলাদেশের গণমাধ্যম কর্মীদেরও এ ধরনের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে এবং এ তৎপরতা অব্যাহত রাখতে হবে। এতে হতদরিদ্র মানুষের দুরবস্থার বিষয়টি বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্ট হবে, যা ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
৪.
জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক যে কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বর্তমানে ক্ষতিপূরণ প্রদান ও প্রাপ্তির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। সামুদ্রিক ঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে শিল্পোন্নত কোনো দেশের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া আর স্বল্পোন্নত কোনো দেশের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি ভিন্ন। দুর্বল অবকাঠামোর কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাতে স্বল্পোন্নত দেশের হতদরিদ্র মানুষ বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এ বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি আলোচনা হলেও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রকৃত ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তি অনিশ্চিতই থেকে যাচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি বারবার আলোচনায় এলেও অন্য অনেক ক্ষয়ক্ষতির দিক তেমন গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় আসে না। সিডরের আঘাতের পর সুন্দরবন আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে বলে মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে সুন্দরবন এবং এর আশপাশের এলাকাটি আগের অবস্থায় ফিরে আসতে আরও অনেক সময় লাগবে। ওই এলাকার পরিবেশ পুরোপুরিভাবে আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারবে কিনা তাও বলা যাচ্ছে না। কারণ সিডরের সময় জলোচ্ছ্বাসে যে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে, ওই এলাকার জীববৈচিত্র্যে যে পরিবর্তন এসেছে- এ ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কতদিন লাগবে তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। জীববৈচিত্র্যে পরিবর্তন ওই এলাকার পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের গবেষণা হওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক দরিদ্র মানুষ প্রোটিনের চাহিদা মেটানোর জন্য মাছ-মাংস ক্রয় করতে পারে না। এসব দরিদ্র মানুষ প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে নদ-নদী-খাল-বিল-পুকুর এসব উৎসের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দরিদ্র মানুষের উল্লিখিত উৎস থেকে মাছ সংগ্রহের বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় অনেক খাল-বিল বছরের বেশিরভাগ সময় পানিশূন্য থাকে। আবার অল্প সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে উঁচু এলাকার পানিতে নিচু এলাকার মাঠ-ঘাট-পুকুর সব পানির নিচে তলিয়ে যায়। সামুদ্রিক ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে মিঠা পানির মাছের উৎস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া সমুদ্রের পানি বেশি পরিমাণে নদী-নালায় প্রবেশ করার ফলে মিঠা পানির মাছের উৎপাদন কমে যায়। সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসের কারণে বিস্তীর্ণ এলাকা সমুদ্রের লবণাক্ত পানিতে প্লাবিত হওয়ায় পশুখাদ্যের তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়।
বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নিরক্ষর। কিন্তু এই নিরক্ষর জনগোষ্ঠী বংশপরম্পরায় যে অভিজ্ঞতা ধারণ করে আছে তা অত্যন্ত মূল্যবান। অর্থাৎ তারা অগ্রজের কাছ থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়ে থাকেন। উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত তথ্য ও অভিজ্ঞতার আলোকে একজন অশিক্ষিত কৃষক সফলভাবে শস্য উৎপাদন করতে সক্ষম হন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাধারণ কৃষকের হাজার বছরের অভিজ্ঞতা এখন আর কাজে লাগছে না। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত কিংবা হঠাৎ অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে কী করণীয় তা তারা জানেন না। ফলে তারা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেন না। এ পরিস্থিতিতে কোনো কোনো কৃষক ন্যূনতম পরিমাণ ফসল ফলাতেও ব্যর্থ হন। এরই ধারাবাহিকতার এক পর্যায়ে তারা গৃহহীন হয়ে শহরে পাড়ি জমান। এই গৃহহীন মানুষের একটি বড় অংশ রাজধানীতে এসে আশ্রয় নেয়। রাজধানীতে আসা এসব মানুষ বস্তিতে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়। এক পর্যায়ে এদেরই কেউ কেউ নানারকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।
সম্প্রতি কীটনাশকের ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে দেশে মাছের উৎপাদন অনেক কমে গেছে। এছাড়া নিচু এলাকার জমিকে আবাদের আওতায় আনায় মাছের বিচরণ ক্ষেত্র অনেক কমেছে। এ পরিস্থিতিতে প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন জাতের মুরগির উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে ডিম পাড়া মুরগির খামারের তাপমাত্রা বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তাপমাত্রা নির্ধারিত মাত্রার তুলনায় কম-বেশি হলে ডিমের উৎপাদন কমে যায়। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে মুরগি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। বড় খামারে তাপমাত্রা বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয় বলে কোনো সমস্যা হয় না। কিন্তু ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ছোট ছোট খামারে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে এসব খামারে ডিমের উৎপাদন কমে যায়। তাপমাত্রা হ্রাস-বৃদ্ধির কারণে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের খামারের মুরগি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। বড় উদ্যোক্তাদের খামারে কোনো মুরগি রোগাক্রান্ত হয়ে মারা গেলে দ্রুত মৃত মুরগিকে স্থানান্তর করা হয় এবং ডাক্তারের নির্দেশমতো দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়। কিন্তু ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের খামারে মৃত মুরগিকে কোনো কোনো সময় আশপাশের নদী-নালায় ফেলা হয়। এতে পরিবেশ দূষিত হয়। মৃত মুরগির বিভিন্ন অঙ্গ মাছেরা খেয়ে থাকে। এসব মাছ খেলে মানবদেহে নানারকম সমস্যা সৃষ্টির আশংকা থেকে যায়। উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে এ রকম আরও কী কী সমস্যা সৃষ্টি হয়, সেসব চিহ্নিত করে সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট হয়েছে যে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সহিংসতাও বেড়ে যাচ্ছে। গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন, স্বাভাবিক মাত্রার বৃষ্টি না হলে যে কোনো এলাকার অর্থনৈতিক কাঠামো বদলে যায়। এতে সহিংসতা বাড়তে থাকে। আর প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর ক্ষুধার্ত ও হতাশাগ্রস্ত মানুষকে নানা রকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। ক্ষুধার্ত মানুষ কতটা বেপরোয়া হতে পারে, ফিলিপাইনের ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্ত এলাকায় তা দেখা গেল। দেশটির ত্যাকলোবান শহরের নিকটবর্তী অন্য এক শহরে সম্প্রতি সরকারি চালের গুদামে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। অনুমান করা হচ্ছে, হামলাকারীরা ঘূর্ণিঝড়ে সর্বস্ব হারিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। হামলাকারীরা সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে এক লাখের বেশি চালের বস্তা লুট করে নিয়ে যায়। গুদাম লুটপাটের সময় গুদামের দেয়াল ধসে কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
উচ্চ তাপমাত্রা, খরা, হঠাৎ ভারি বৃষ্টিপাত- এসব কারণে দৃশ্যমান ক্ষয়ক্ষতির বাইরেও অনেক সমস্যার সৃষ্টি হয়। কোনো কোনো গবেষক মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সম্প্রতি বাংলাদেশে অ্যানথ্রাক্স (তড়কা) রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছিল। গবেষকরা মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট পরিবেশ তড়কা রোগের জীবাণুকে সক্রিয় হতে সহায়তা করে। এ বিষয়ক গবেষণাও অব্যাহত রাখতে হবে।
আমরা লক্ষ্য করেছি, জাতিসংঘের উদ্যোগে যখন জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন চলতে থাকে, তখন বিভিন্ন দেশ গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে করণীয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু করতে চায়। কিন্তু এসব আলোচনা এক সময় থেমে যায়। এ ধরনের আলোচনা যাতে সারা বছর অব্যাহত থাকে তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
হাইয়ানের আঘাতে ফিলিপাইনে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের বা এর চেয়ে তীব্র মাত্রার ঝড় যে কোনো সময় যে কোনো দেশে আঘাত হানতে পারে।
৫.
গত দুই দশকে বিশ্বব্যাপী পরিবেশ দূষণ নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক সম্মেলনের বাইরে ব্যাপক লেখালেখিও হয়েছে, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাপী কয়লার ব্যবহার দ্রুত হারে কমবে এমনটা প্রত্যাশিত হলেও বাস্তবতা হল, এই সময়ে কয়লার ব্যবহার কমেনি। বরং গত কয়েক বছরে বিশ্বব্যাপী কয়লার ব্যবহার ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০০৮ থেকে ২০১১ সালে কানাডায় কয়লার ব্যবহার কিছুটা কমলেও ওই সময়ে মেক্সিকোতে কয়লার ব্যবহার বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ২০০৮ সালের তুলনায় ২০০৯ সালে কয়লার ব্যবহার কমলেও দেশটিতে ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১০ সালে এর ব্যবহার বেড়েছে। দেশটিতে ২০১০, ২০১১ ও ২০১২ সালে ধারাবাহিকভাবে কয়লার ব্যবহার কমলেও ২০১২ সালেও যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ কয়লা ব্যবহৃত হয়েছে। ব্রাজিলে ২০০৮ সালের তুলনায় ২০০৯ সালে কয়লার ব্যবহার কমলেও দেশটিতে ২০০৯-এর তুলনায় ২০১০ ও ২০১১ সালে কয়লার ব্যবহার ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় ২০১১ সালের তুলনায় ২০১২ সালে কয়লার ব্যবহার কমলেও ২০১২ সালে দেশটিতে বিপুল পরিমাণ কয়লা ব্যবহৃত হয়েছে। বেলজিয়ামে ২০০৮ সালে যে পরিমাণ কয়লা ব্যবহৃত হয়েছে, ২০১২ সালে এর অর্ধেকেরও কম কয়লা ব্যবহৃত হয়েছে। বুলগেরিয়ায় ২০০৮ সালের তুলনায় ২০০৯ সালে কয়লা কম ব্যবহৃত হয়েছে, কিন্তু ২০১২ সালে দেশটিতে ২০০৮ সালেরও বেশি কয়লা ব্যবহৃত হয়েছে। ডেনমার্কে ২০০৮ সালে যে পরিমাণ কয়লা ব্যবহৃত হয়েছে, ২০১২ সালে এর চেয়ে অনেক কম কয়লা ব্যবহৃত হয়েছে। ফ্রান্সে ২০০৮ সালের তুলনায় ২০০৯ সালে কয়লার ব্যবহার কমলেও ২০০৯-এর তুলনায় ২০১০ সালে কয়লার ব্যবহার বেড়েছে। দেশটিতে ২০১০ সালের তুলনায় ২০১১ সালে কয়লার ব্যবহার কমলেও ২০১১ সালের তুলনায় ২০১২ সালে এর ব্যবহার বেড়েছে। জার্মানিতে ২০০৮ সালের তুলনায় ২০০৯ সালে কয়লার ব্যবহার কমলেও দেশটিতে ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১০, ২০১১ ও ২০১২ সালে ধারাবাহিকভাবে কয়লার ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রিসে ২০০৮ সালের তুলনায় ২০০৯ সালে কয়লার ব্যবহার বেড়েছে। দেশটিতে ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১০ সালে কয়লার ব্যবহার কমলেও ২০১০ সালের তুলনায় ২০১১ ও ২০১২ সালে এর ব্যবহার বেড়েছে। আয়ারল্যান্ডে ২০০৮ সালের তুলনায় ২০০৯ ও ২০১০ সালে কয়লার ব্যবহার কমলেও দেশটিতে ২০১০ সালের তুলনায় ২০১১ ও ২০১২ সালে এর ব্যবহার বেড়েছে। ইতালিতে ২০০৮ সালের তুলনায় ২০০৯ সালে কয়লার ব্যবহার কমলেও দেশটিতে ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১০, ২০১১ ও ২০১২ সালে কয়লার ব্যবহার ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। নেদারল্যান্ডসে ২০০৮ সালের তুলনায় ২০০৯ ও ২০১০ সালে কয়লার ব্যবহার বাড়লেও দেশটিতে ২০১০ সালের তুলনায় ২০১১ ও ২০১২ সালে এর ব্যবহার কমেছে। নরওয়েতে ২০০৮ সালের তুলনায় ২০০৯ সালে কয়লার ব্যবহার কমলেও দেশটিতে ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১০ সালে কয়লার ব্যবহার বেড়েছে; দেশটিতে ২০১০ সালের তুলনায় ২০১১ ও ২০১২ সালে এর ব্যবহার কমেছে। পোল্যান্ডে ২০০৮ সালের তুলনায় ২০০৯ সালে কয়লার ব্যবহার কমলেও ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১০ ও ২০১১ সালে এর ব্যবহার বেড়েছে। দেশটিতে ২০১১ সালের তুলনায় ২০১২ সালে এর ব্যবহার কমেছে। স্পেনে ২০০৮ সালের তুলনায় ২০০৯ ও ২০১০ সালে কয়লার ব্যবহার কমলেও দেশটিতে ২০১০ সালের তুলনায় ২০১১ ও ২০১২ সালে এর ব্যবহার বেড়েছে। সুইডেনে ২০০৮ সালের তুলনায় ২০০৯ সালে কয়লার ব্যবহার কমলেও দেশটিতে ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১০ ও ২০১১ সালে এর ব্যবহার বেড়েছে। দেশটিতে ২০১১ সালের তুলনায় ২০১২ সালে এর ব্যবহার কমেছে। সুইজারল্যান্ডে ২০০৮ সালের তুলনায় ২০০৯ সালে কয়লার ব্যবহার কমলেও দেশটিতে ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১০ ও ২০১১ সালে এর ব্যবহার বেড়েছে। যুক্তরাজ্যে ২০০৮ সালের তুলনায় ২০০৯ সালে কয়লার ব্যবহার কমলেও দেশটিতে ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১০ সালে এর ব্যবহার বেড়েছে। দেশটিতে ২০১০ সালের তুলনায় ২০১১ সালে এর ব্যবহার কমলেও ২০১১ সালের তুলনায় ২০১২ সালে এর ব্যবহার বেড়েছে। রাশিয়ায় ২০০৮ সালের তুলনায় ২০০৯ সালে কয়লার ব্যবহার কমলেও দেশটিতে ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১০, ২০১১ ও ২০১২ সালে এর ব্যবহার ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। উপরের আলোচনায় ২০০৮ সাল থেকে ২০১২ সালের মধ্যে বিভিন্ন দেশে কয়লার ব্যবহার হ্রাস-বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেছি। নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড ছাড়া উল্লিখিত বেশিরভাগ দেশেই ২০০৮ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে বিপুল পরিমাণ কয়লা ব্যবহৃত হয়েছে। উল্লিখিত আলোচনা থেকে এটাই স্পষ্ট হয়, শিল্পোন্নত দেশগুলো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বের পরিবেশ সুরক্ষার জন্য জোরালো প্রতিশ্র“তি দিলেও বাস্তবে তারা প্রতিশ্র“তি রক্ষায় কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করছে না।
দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলো বিকল্প জ্বালানির ব্যবহারে সক্ষম না হলেও শিল্পোন্নত দেশগুলো বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে বিশ্বের পরিবেশ সুরক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে পারে। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মতো শিল্পোন্নত দেশগুলোও যদি কয়লার মতো সাশ্রয়ী জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে থাকে, তাহলে বিশ্বের পরিবেশ সুরক্ষার জন্য কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে না। স্বল্পোন্নত দেশগুলো নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্যই কয়লার মতো সাশ্রয়ী জ্বালানির ওপর নির্ভরতা অব্যাহত রাখতে চায়।
শিল্পোন্নত দেশগুলোর আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা বৃদ্ধি পেলে স্বল্পোন্নত দেশগুলোও কয়লার পরিবর্তে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে আগ্রহী হবে। এক্ষেত্রে শিল্পোন্নত দেশগুলোকে উদারতার পরিচয় দিতে হবে। স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে প্রযুক্তির গবেষণা প্রসারে শিল্পোন্নত দেশগুলো আন্তরিক হলে উল্লিখিত বিষয়ে অনেক জটিল সমস্যা সমাধানের পথ বিস্তৃত হবে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ধারাবাহিক আলোচনার পরও বৈশ্বিক উষ্ণতা হ্রাসে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণীত না হওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। শিল্পোন্নত দেশগুলো আন্তরিক না হলে এ বিষয়ে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে বিলম্ব হবে। এর ফলে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রাও বাড়তে থাকবে। যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে স্বল্পোন্নত দেশের জনগণের ভোগান্তি বেড়ে যায়। তাই এদের জীবনমানের উন্নয়নে অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুততম সময়ে ত্রাণ পৌঁছানো নিশ্চিত করার জন্য স্বেচ্ছাসেবী কর্মী বাহিনীও গড়ে তুলতে হবে। প্রতিশ্র“ত অর্থ ও অন্যান্য সহায়তা প্রদানে শিল্পোন্নত দেশগুলোকে আন্তরিকতার পরিচয় দিতে হবে। শিল্পোন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তি খাতে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকে মনোযোগ বাড়াতে হবে। প্রযুক্তি খাতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তেল, কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস- এসব সম্পদ এক সময় ফুরিয়ে যাবে। তাই বিকল্প জ্বালানির বিষয়ে এখনই ভাবতে হবে। পরমাণু প্রযুক্তিকে সাশ্রয়ী ও সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত প্রযুক্তিতে রূপান্তর করা গেলে স্বাভাবিকভাবেই কয়লার ওপর নির্ভরতা কমে যাবে। তাই এ বিষয়ক গবেষণার ওপর জোর দিতে হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোগান্তি বেড়েই চলেছে। এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমানের পরিবর্তনে বহুমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে। যেহেতু জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই জনগোষ্ঠীর বংশপরম্পরায় প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা অকার্যকর হয়ে যাচ্ছে, তাই শিক্ষার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। বয়স্ক জনগোষ্ঠীকেও এ কার্যক্রমের আওতায় আনতে হবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশে সহায়ক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করলে এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মও উপকৃত হবে। এভাবে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে। ওয়ারশ সম্মেলন যাতে গতানুগতিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শেষ না হয় সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন নিয়ন্ত্রণে শিল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য অবশ্য পালনীয় নীতিমালা প্রণয়নের কাজটি ওয়ারশ সম্মেলনেই সম্পন্ন করতে হবে। এ সম্মেলনে প্যারিস সম্মেলনের লক্ষ নির্ধারণসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য কাজও সম্পন্ন করতে হবে। বিশ্ববাসীর স্বার্থে ওয়ারশ সম্মেলনকে সফল করার জন্য সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। যেহেতু শিল্পোন্নত দেশগুলোর কর্মকাণ্ডের ফলে বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তন হয়েছে, তাই এ বিষয়ক বহুমুখী সংকট মোকাবেলায় শিল্পোন্নত দেশগুলোকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ন্যায্য ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তি নিশ্চিত করা এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন নিয়ন্ত্রণসহ অন্যান্য জরুরি বিষয়ে ওয়ারশ সম্মেলনে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হবেন, এটাই বিশ্ববাসীর প্রত্যাশা।
অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম : প্রতিমন্ত্রী; সম্পাদক ও প্রকাশক, যুগান্তর
আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন, ফিচার ও প্রবন্ধে উল্লিখিত তথ্য বিশ্লেষণ করলে এটাই স্পষ্ট হয়, পোল্যান্ডের ওয়ারশে চলমান বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন (কপ-১৯) থেকে তেমন বড় কোনো প্রাপ্তি মিলবে না। কিন্তু ওয়ারশ জলবায়ু সম্মেলনের আলোচনা ২০১৫ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠেয় কপ-২১কে সফল করতে সহায়ক হবে। প্যারিসে অনুষ্ঠেয় বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনের (কপ-২১) প্রথম প্রস্তুতি সভাটি ১৭ জুন-২০১৩ প্যারিসে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাই প্যারিস জলবায়ু সম্মেলন নিয়ে বিশ্ববাসী বিশেষভাবে আশাবাদী হতে শুরু করেছে। কোপেনহেগেন জলবায়ু সম্মেলনের সময় আন্তর্জাতিক মিডিয়া বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে যতটা সরব ছিল, বর্তমানে তা লক্ষ্য করা যায় না। এটা দুঃখজনক। বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন সফল করার ক্ষেত্রে মিডিয়ার দায়িত্বশীল ভূমিকা অব্যাহত রাখতে হবে।
শিল্প বিপ্লবের পর থেকে শিল্প সমৃদ্ধ দেশগুলোর কলকারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ দূষিত গ্যাস নির্গত হয়ে পরিস্থিতি কী ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে তা প্রতিনিয়ত আলোচিত হচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনার অন্যতম লক্ষ্য শিল্প-কারখানা থেকে যে দূষণ নির্গত হয় তা ন্যূনতম পর্যায়ে নিয়ে আসা। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে বিশ্ব সম্প্রদায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারছে না। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এমন প্রযুক্তি আবিষ্কার করতে হবে যাতে কলকারখানা থেকে নির্গত দূষণ ন্যূনতম পর্যায়ে আনা সম্ভব হয়।
শিল্পোন্নত দেশগুলোর দায় স্বীকার করে ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হওয়ার বিষয়টি ইতিবাচক। কিন্তু ক্ষতিপূরণ প্রদান নিয়ে নানা রকম জটিলতা সৃষ্টির বিষয়টি দুঃখজনক। আমরা লক্ষ্য করেছি, একেকটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে নানামুখী আলোচনা শুরু হয়। এসব আলোচনা আবার দ্রুত থেমে যায়। বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার জন্য আরেকটি বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য অপেক্ষা করতে হবে কেন? যেহেতু বিষয়টি সবার কাছে পরিষ্কার, তাই নতুন করে প্রকৃতির রুদ্র রূপ দেখার অপেক্ষা না করে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো তাদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পেলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতা বাড়বে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোও বহুমাত্রিক গবেষণায় মনোনিবেশ করতে পারবে, যেসব গবেষণার মাধ্যমে বিশ্ববাসীর উপকৃত হওয়ার পথ সুগম হবে। ফিলিপাইনে টাইফুনের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও ওই ঘটনার দীর্ঘ সময় পরও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্ট হয়নি। দেশটিতে টাইফুন আঘাত হানার ৩৬ ঘণ্টা পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে টাইফুনের তাণ্ডবের যে চিত্রটি ফুটে উঠেছিল, এটা ছিল একেবারেই খণ্ডিত। হয়তো যোগাযোগ ব্যবস্থার বিপর্যয়ই ছিল এর অন্যতম কারণ। টাইফুন আঘাত হানার প্রায় ৬০ ঘণ্টা পরই বিশ্ববাসী ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে মোটামুটি একটি ধারণা পেল। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ধ্বংসস্তূপের ছবি দেখে বোঝার উপায় নেই- সেখানে এক সময় লাখো মানুষ বসবাস করত। নতুন করে যেন এ দৃশ্য আর দেখতে না হয় সেজন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং পরিস্থিতি মোকাবেলায় দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।
২.
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রাথমিক কারণ হিসেবে মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে চিহ্নিত করার পর শিল্পোন্নত দেশগুলোর উচিত ছিল গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। কিন্তু দুঃখজনক হল, বাস্তবে তা লক্ষ্য করা যায়নি। বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও শিল্পোন্নত দেশগুলোতে কয়লার ব্যবহার কাক্সিক্ষত মাত্রায় কমেনি। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি রোধ করার বিষয়ে বিশ্বের সব দেশ বহুমুখী তৎপরতা অব্যাহত রাখার পরও বৈশ্বিক উষ্ণতা বেড়েই চলেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, ১৮৮০ সালের তুলনায় বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই বেড়েছে ০.৮৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সম্প্রতি জাপানের পরমাণু চুল্লিতে দুর্ঘটনার পর বিভিন্ন দেশ কয়লার ব্যবহার বাড়াতে যতটা আগ্রহ প্রকাশ করেছে, নিরাপদ জ্বালানি খাতে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে ততটা মনোযোগী হয়েছে- এমন তথ্য আমাদের জানা নেই। অথচ জাপানের নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের দুর্ঘটনার পর বিশ্বব্যাপী নিরাপদ জ্বালানি খাতে ব্যাপক পরিসরে গবেষণা শুরু হওয়া উচিত ছিল।
উন্নয়নশীল দেশগুলো কাক্সিক্ষত প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে গ্রিন হাউস গ্যাস নিয়ন্ত্রণ না করেও বহুমুখী সংকটের বেড়াজাল থেকে মুক্ত হতে পারছে না। বিদ্যমান বাস্তবতায় উন্নয়নশীল দেশগুলো আপাতত গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমনে কৃচ্ছ্র পরিচয় দিলে কর্মসংস্থান কমবে যা প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিদ্যমান বাস্তবতায় উন্নত দেশগুলোকে গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে মনোযোগী হতে হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা সম্ভব হলেই গ্রিন হাউস গ্যাসের নির্গমন কমবে।
আমরা অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতে পারি, বিদ্যুৎ উৎপাদনে সাশ্রয়ী মূল্যের প্রযুক্তি আবিষ্কারের কাজটি কঠিন। সেক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলোর বিশেষত এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য শিল্পোন্নত দেশগুলোর পক্ষ থেকে বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে। অর্থাৎ এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর উচ্চ প্রবৃদ্ধি যাতে অব্যাহত থাকে সে ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
গত কয়েক বছরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দূষণ কমানোর বিষয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। সব দেশই এ বিষয়ে একমত হয়েছে যে, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের দূষণ ১৯৯০ সালের তুলনায় ৫০ শতাংশ কমাতে হবে। আমরা জেনেছি, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়ে যাবে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতাও বাড়বে। হাইয়ানের তাণ্ডবে ফিলিপাইনের একটি শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার একদিন আগেও আমরা কল্পনা করিনি প্রাকৃতিক দুর্যোগ এত ভয়ংকর গতিতে আঘাত করতে পারে। টাইফুনের কারণে সৃষ্ট সুনামিতে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও বেড়ে গেছে। হাইয়ানের তাণ্ডবে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার প্রেক্ষাপটে গৃহহীন হয়েছে লাখো মানুষ। গণমাধ্যম কর্মীরা আপ্রাণ চেষ্টা করেও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত তথ্য দ্রুত জানতে পারেননি। দেশটিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে উদ্ধারকর্মীদের পৌঁছাতে দেরি হয়েছে। দীর্ঘ সময় অভুক্ত থাকার পর আশ্রয় ও খাবারের সন্ধানে অনেকেই দিশাহারা হয়ে যায়। বিভিন্ন দেশ থেকে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছার পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। সবার সহযোগিতায় একদিন ফিলিপাইনবাসী ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবেন। কিন্তু ঝড়ের আঘাতে যারা স্বজন হারিয়েছেন, তাদের হৃদয়ের ক্ষত কি কখনও শুকাবে? বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এ রকম বা এর চেয়েও তীব্র মাত্রার ঝড় যে কোনো সময় যে কোনো দেশে আঘাত হানতে পারে। কাজেই জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
যে কোনো সামুদ্রিক ঝড়ের পর উপকূলীয় অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলও নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া সামুদ্রিক ঝড়ের কারণে উপকূলীয় এলাকার মাটির স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য বদলে যায়। এতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টিসহ এসব বহুমুখী সমস্যা বাড়তে থাকবে। এতে হতদরিদ্র মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করবে।
যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর কিছু মানুষকে হিংস্র আচরণ করতে দেখা গেছে। আবার অভুক্ত মানুষকে নানারকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে দেখা যায়। হাইয়ানের আঘাতের পর ফিলিপাইনেও তা লক্ষ্য করা গেছে। কাজেই যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিশ্ববাসীকে দ্রুত সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।
হাইয়ানের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত এক মহিলা আন্তর্জাতিক এক গণমাধ্যমকে জানান, তিনি তার স্বামীকে হারিয়েছেন। তিনি জানেন না এখন তিনি কোথায় যাবেন। ওই মহিলা নিজেকে নিয়ে যতটা চিন্তিত তার চেয়ে বেশি চিন্তিত তার ছোট্ট সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে। গণমাধ্যমে এখন হতাহতের সংখ্যা জানানো হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্তরা বেঁচে থাকার জন্য কী লড়াই করছে, কোনো কোনো টেলিভিশন চ্যানেলে তাও বিস্তারিত জানানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু হাইয়ানের আঘাতে যেখানে একটি পুরো শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে সেক্ষেত্রে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র কখনোই জানা সম্ভব হবে না। যেখানে হতাহতের প্রাথমিক তথ্যের জন্য আমাদের প্রায় ৬০ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হল- এই দীর্ঘ সময়ে কত আহত ব্যক্তি সামান্য চিকিৎসার অভাবে প্রাণ হারিয়েছেন তা কি কখনও জানা যাবে? এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি অসহায়ভাবে প্রাণ হারায় শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। হাইয়ানের আঘাতের কয়েক দিন পরও আমরা লক্ষ্য করি স্বজনদের খোঁজে মানুষ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছুটে বেড়াচ্ছেন। তাদের এই আর্তনাদ কখন থামবে তা কি কেউ বলতে পারবে?
৩.
প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদারভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে প্রতিশ্র“ত সাহায্য প্রাপ্তিতে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। তখন ক্ষতিগ্রস্তদের ভোগান্তি বাড়তে থাকে। বাংলাদেশে সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত হতদরিদ্র অনেক মানুষের ক্ষেত্রেও তা লক্ষ্য করা গেছে। তাই এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তরা যাতে তাদের প্রকৃত ক্ষতিপূরণ পায় সে ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
শিল্পোন্নত দেশগুলো দূষণের দায় স্বীকার করে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হলেও ক্ষতিপূরণ প্রদান ও প্রাপ্তিতে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ধারণ, কোন দেশ কী হারে ক্ষতিপূরণ পাবে, ক্ষতিপূরণ প্রদানে কোন দেশ কতটা দায় নেবে- এ ধরনের অনেক বিষয় দ্রুত মীমাংসা হওয়া জরুরি। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, উল্লিখিত বিষয়ে আলোচনা খুব মন্থর গতিতে চলে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হতাশা বেড়েই চলেছে।
আমরা লক্ষ্য করেছি, ব্রিটেনের এক তরুণ সাংবাদিক জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ কতটা ক্ষতিগ্রস্ত, তা জানার জন্য বাংলাদেশে দীর্ঘসময় অবস্থান করেছেন। তার এ আন্তরিকতার জন্য তিনি দেশে-বিদেশে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছেন। বাংলাদেশের গণমাধ্যম কর্মীদেরও এ ধরনের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে এবং এ তৎপরতা অব্যাহত রাখতে হবে। এতে হতদরিদ্র মানুষের দুরবস্থার বিষয়টি বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্ট হবে, যা ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
৪.
জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক যে কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বর্তমানে ক্ষতিপূরণ প্রদান ও প্রাপ্তির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। সামুদ্রিক ঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে শিল্পোন্নত কোনো দেশের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া আর স্বল্পোন্নত কোনো দেশের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি ভিন্ন। দুর্বল অবকাঠামোর কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাতে স্বল্পোন্নত দেশের হতদরিদ্র মানুষ বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এ বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি আলোচনা হলেও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রকৃত ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তি অনিশ্চিতই থেকে যাচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি বারবার আলোচনায় এলেও অন্য অনেক ক্ষয়ক্ষতির দিক তেমন গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় আসে না। সিডরের আঘাতের পর সুন্দরবন আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে বলে মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে সুন্দরবন এবং এর আশপাশের এলাকাটি আগের অবস্থায় ফিরে আসতে আরও অনেক সময় লাগবে। ওই এলাকার পরিবেশ পুরোপুরিভাবে আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারবে কিনা তাও বলা যাচ্ছে না। কারণ সিডরের সময় জলোচ্ছ্বাসে যে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে, ওই এলাকার জীববৈচিত্র্যে যে পরিবর্তন এসেছে- এ ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কতদিন লাগবে তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। জীববৈচিত্র্যে পরিবর্তন ওই এলাকার পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের গবেষণা হওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক দরিদ্র মানুষ প্রোটিনের চাহিদা মেটানোর জন্য মাছ-মাংস ক্রয় করতে পারে না। এসব দরিদ্র মানুষ প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে নদ-নদী-খাল-বিল-পুকুর এসব উৎসের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দরিদ্র মানুষের উল্লিখিত উৎস থেকে মাছ সংগ্রহের বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় অনেক খাল-বিল বছরের বেশিরভাগ সময় পানিশূন্য থাকে। আবার অল্প সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে উঁচু এলাকার পানিতে নিচু এলাকার মাঠ-ঘাট-পুকুর সব পানির নিচে তলিয়ে যায়। সামুদ্রিক ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে মিঠা পানির মাছের উৎস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া সমুদ্রের পানি বেশি পরিমাণে নদী-নালায় প্রবেশ করার ফলে মিঠা পানির মাছের উৎপাদন কমে যায়। সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসের কারণে বিস্তীর্ণ এলাকা সমুদ্রের লবণাক্ত পানিতে প্লাবিত হওয়ায় পশুখাদ্যের তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়।
বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নিরক্ষর। কিন্তু এই নিরক্ষর জনগোষ্ঠী বংশপরম্পরায় যে অভিজ্ঞতা ধারণ করে আছে তা অত্যন্ত মূল্যবান। অর্থাৎ তারা অগ্রজের কাছ থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়ে থাকেন। উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত তথ্য ও অভিজ্ঞতার আলোকে একজন অশিক্ষিত কৃষক সফলভাবে শস্য উৎপাদন করতে সক্ষম হন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাধারণ কৃষকের হাজার বছরের অভিজ্ঞতা এখন আর কাজে লাগছে না। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত কিংবা হঠাৎ অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে কী করণীয় তা তারা জানেন না। ফলে তারা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেন না। এ পরিস্থিতিতে কোনো কোনো কৃষক ন্যূনতম পরিমাণ ফসল ফলাতেও ব্যর্থ হন। এরই ধারাবাহিকতার এক পর্যায়ে তারা গৃহহীন হয়ে শহরে পাড়ি জমান। এই গৃহহীন মানুষের একটি বড় অংশ রাজধানীতে এসে আশ্রয় নেয়। রাজধানীতে আসা এসব মানুষ বস্তিতে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়। এক পর্যায়ে এদেরই কেউ কেউ নানারকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।
সম্প্রতি কীটনাশকের ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে দেশে মাছের উৎপাদন অনেক কমে গেছে। এছাড়া নিচু এলাকার জমিকে আবাদের আওতায় আনায় মাছের বিচরণ ক্ষেত্র অনেক কমেছে। এ পরিস্থিতিতে প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন জাতের মুরগির উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে ডিম পাড়া মুরগির খামারের তাপমাত্রা বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তাপমাত্রা নির্ধারিত মাত্রার তুলনায় কম-বেশি হলে ডিমের উৎপাদন কমে যায়। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে মুরগি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। বড় খামারে তাপমাত্রা বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয় বলে কোনো সমস্যা হয় না। কিন্তু ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ছোট ছোট খামারে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে এসব খামারে ডিমের উৎপাদন কমে যায়। তাপমাত্রা হ্রাস-বৃদ্ধির কারণে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের খামারের মুরগি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। বড় উদ্যোক্তাদের খামারে কোনো মুরগি রোগাক্রান্ত হয়ে মারা গেলে দ্রুত মৃত মুরগিকে স্থানান্তর করা হয় এবং ডাক্তারের নির্দেশমতো দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়। কিন্তু ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের খামারে মৃত মুরগিকে কোনো কোনো সময় আশপাশের নদী-নালায় ফেলা হয়। এতে পরিবেশ দূষিত হয়। মৃত মুরগির বিভিন্ন অঙ্গ মাছেরা খেয়ে থাকে। এসব মাছ খেলে মানবদেহে নানারকম সমস্যা সৃষ্টির আশংকা থেকে যায়। উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে এ রকম আরও কী কী সমস্যা সৃষ্টি হয়, সেসব চিহ্নিত করে সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট হয়েছে যে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সহিংসতাও বেড়ে যাচ্ছে। গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন, স্বাভাবিক মাত্রার বৃষ্টি না হলে যে কোনো এলাকার অর্থনৈতিক কাঠামো বদলে যায়। এতে সহিংসতা বাড়তে থাকে। আর প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর ক্ষুধার্ত ও হতাশাগ্রস্ত মানুষকে নানা রকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। ক্ষুধার্ত মানুষ কতটা বেপরোয়া হতে পারে, ফিলিপাইনের ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্ত এলাকায় তা দেখা গেল। দেশটির ত্যাকলোবান শহরের নিকটবর্তী অন্য এক শহরে সম্প্রতি সরকারি চালের গুদামে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। অনুমান করা হচ্ছে, হামলাকারীরা ঘূর্ণিঝড়ে সর্বস্ব হারিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। হামলাকারীরা সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে এক লাখের বেশি চালের বস্তা লুট করে নিয়ে যায়। গুদাম লুটপাটের সময় গুদামের দেয়াল ধসে কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
উচ্চ তাপমাত্রা, খরা, হঠাৎ ভারি বৃষ্টিপাত- এসব কারণে দৃশ্যমান ক্ষয়ক্ষতির বাইরেও অনেক সমস্যার সৃষ্টি হয়। কোনো কোনো গবেষক মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সম্প্রতি বাংলাদেশে অ্যানথ্রাক্স (তড়কা) রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছিল। গবেষকরা মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট পরিবেশ তড়কা রোগের জীবাণুকে সক্রিয় হতে সহায়তা করে। এ বিষয়ক গবেষণাও অব্যাহত রাখতে হবে।
আমরা লক্ষ্য করেছি, জাতিসংঘের উদ্যোগে যখন জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন চলতে থাকে, তখন বিভিন্ন দেশ গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে করণীয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু করতে চায়। কিন্তু এসব আলোচনা এক সময় থেমে যায়। এ ধরনের আলোচনা যাতে সারা বছর অব্যাহত থাকে তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
হাইয়ানের আঘাতে ফিলিপাইনে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের বা এর চেয়ে তীব্র মাত্রার ঝড় যে কোনো সময় যে কোনো দেশে আঘাত হানতে পারে।
৫.
গত দুই দশকে বিশ্বব্যাপী পরিবেশ দূষণ নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক সম্মেলনের বাইরে ব্যাপক লেখালেখিও হয়েছে, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাপী কয়লার ব্যবহার দ্রুত হারে কমবে এমনটা প্রত্যাশিত হলেও বাস্তবতা হল, এই সময়ে কয়লার ব্যবহার কমেনি। বরং গত কয়েক বছরে বিশ্বব্যাপী কয়লার ব্যবহার ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০০৮ থেকে ২০১১ সালে কানাডায় কয়লার ব্যবহার কিছুটা কমলেও ওই সময়ে মেক্সিকোতে কয়লার ব্যবহার বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ২০০৮ সালের তুলনায় ২০০৯ সালে কয়লার ব্যবহার কমলেও দেশটিতে ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১০ সালে এর ব্যবহার বেড়েছে। দেশটিতে ২০১০, ২০১১ ও ২০১২ সালে ধারাবাহিকভাবে কয়লার ব্যবহার কমলেও ২০১২ সালেও যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ কয়লা ব্যবহৃত হয়েছে। ব্রাজিলে ২০০৮ সালের তুলনায় ২০০৯ সালে কয়লার ব্যবহার কমলেও দেশটিতে ২০০৯-এর তুলনায় ২০১০ ও ২০১১ সালে কয়লার ব্যবহার ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় ২০১১ সালের তুলনায় ২০১২ সালে কয়লার ব্যবহার কমলেও ২০১২ সালে দেশটিতে বিপুল পরিমাণ কয়লা ব্যবহৃত হয়েছে। বেলজিয়ামে ২০০৮ সালে যে পরিমাণ কয়লা ব্যবহৃত হয়েছে, ২০১২ সালে এর অর্ধেকেরও কম কয়লা ব্যবহৃত হয়েছে। বুলগেরিয়ায় ২০০৮ সালের তুলনায় ২০০৯ সালে কয়লা কম ব্যবহৃত হয়েছে, কিন্তু ২০১২ সালে দেশটিতে ২০০৮ সালেরও বেশি কয়লা ব্যবহৃত হয়েছে। ডেনমার্কে ২০০৮ সালে যে পরিমাণ কয়লা ব্যবহৃত হয়েছে, ২০১২ সালে এর চেয়ে অনেক কম কয়লা ব্যবহৃত হয়েছে। ফ্রান্সে ২০০৮ সালের তুলনায় ২০০৯ সালে কয়লার ব্যবহার কমলেও ২০০৯-এর তুলনায় ২০১০ সালে কয়লার ব্যবহার বেড়েছে। দেশটিতে ২০১০ সালের তুলনায় ২০১১ সালে কয়লার ব্যবহার কমলেও ২০১১ সালের তুলনায় ২০১২ সালে এর ব্যবহার বেড়েছে। জার্মানিতে ২০০৮ সালের তুলনায় ২০০৯ সালে কয়লার ব্যবহার কমলেও দেশটিতে ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১০, ২০১১ ও ২০১২ সালে ধারাবাহিকভাবে কয়লার ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রিসে ২০০৮ সালের তুলনায় ২০০৯ সালে কয়লার ব্যবহার বেড়েছে। দেশটিতে ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১০ সালে কয়লার ব্যবহার কমলেও ২০১০ সালের তুলনায় ২০১১ ও ২০১২ সালে এর ব্যবহার বেড়েছে। আয়ারল্যান্ডে ২০০৮ সালের তুলনায় ২০০৯ ও ২০১০ সালে কয়লার ব্যবহার কমলেও দেশটিতে ২০১০ সালের তুলনায় ২০১১ ও ২০১২ সালে এর ব্যবহার বেড়েছে। ইতালিতে ২০০৮ সালের তুলনায় ২০০৯ সালে কয়লার ব্যবহার কমলেও দেশটিতে ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১০, ২০১১ ও ২০১২ সালে কয়লার ব্যবহার ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। নেদারল্যান্ডসে ২০০৮ সালের তুলনায় ২০০৯ ও ২০১০ সালে কয়লার ব্যবহার বাড়লেও দেশটিতে ২০১০ সালের তুলনায় ২০১১ ও ২০১২ সালে এর ব্যবহার কমেছে। নরওয়েতে ২০০৮ সালের তুলনায় ২০০৯ সালে কয়লার ব্যবহার কমলেও দেশটিতে ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১০ সালে কয়লার ব্যবহার বেড়েছে; দেশটিতে ২০১০ সালের তুলনায় ২০১১ ও ২০১২ সালে এর ব্যবহার কমেছে। পোল্যান্ডে ২০০৮ সালের তুলনায় ২০০৯ সালে কয়লার ব্যবহার কমলেও ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১০ ও ২০১১ সালে এর ব্যবহার বেড়েছে। দেশটিতে ২০১১ সালের তুলনায় ২০১২ সালে এর ব্যবহার কমেছে। স্পেনে ২০০৮ সালের তুলনায় ২০০৯ ও ২০১০ সালে কয়লার ব্যবহার কমলেও দেশটিতে ২০১০ সালের তুলনায় ২০১১ ও ২০১২ সালে এর ব্যবহার বেড়েছে। সুইডেনে ২০০৮ সালের তুলনায় ২০০৯ সালে কয়লার ব্যবহার কমলেও দেশটিতে ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১০ ও ২০১১ সালে এর ব্যবহার বেড়েছে। দেশটিতে ২০১১ সালের তুলনায় ২০১২ সালে এর ব্যবহার কমেছে। সুইজারল্যান্ডে ২০০৮ সালের তুলনায় ২০০৯ সালে কয়লার ব্যবহার কমলেও দেশটিতে ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১০ ও ২০১১ সালে এর ব্যবহার বেড়েছে। যুক্তরাজ্যে ২০০৮ সালের তুলনায় ২০০৯ সালে কয়লার ব্যবহার কমলেও দেশটিতে ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১০ সালে এর ব্যবহার বেড়েছে। দেশটিতে ২০১০ সালের তুলনায় ২০১১ সালে এর ব্যবহার কমলেও ২০১১ সালের তুলনায় ২০১২ সালে এর ব্যবহার বেড়েছে। রাশিয়ায় ২০০৮ সালের তুলনায় ২০০৯ সালে কয়লার ব্যবহার কমলেও দেশটিতে ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১০, ২০১১ ও ২০১২ সালে এর ব্যবহার ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। উপরের আলোচনায় ২০০৮ সাল থেকে ২০১২ সালের মধ্যে বিভিন্ন দেশে কয়লার ব্যবহার হ্রাস-বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেছি। নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড ছাড়া উল্লিখিত বেশিরভাগ দেশেই ২০০৮ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে বিপুল পরিমাণ কয়লা ব্যবহৃত হয়েছে। উল্লিখিত আলোচনা থেকে এটাই স্পষ্ট হয়, শিল্পোন্নত দেশগুলো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বের পরিবেশ সুরক্ষার জন্য জোরালো প্রতিশ্র“তি দিলেও বাস্তবে তারা প্রতিশ্র“তি রক্ষায় কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করছে না।
দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলো বিকল্প জ্বালানির ব্যবহারে সক্ষম না হলেও শিল্পোন্নত দেশগুলো বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে বিশ্বের পরিবেশ সুরক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে পারে। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মতো শিল্পোন্নত দেশগুলোও যদি কয়লার মতো সাশ্রয়ী জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে থাকে, তাহলে বিশ্বের পরিবেশ সুরক্ষার জন্য কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে না। স্বল্পোন্নত দেশগুলো নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্যই কয়লার মতো সাশ্রয়ী জ্বালানির ওপর নির্ভরতা অব্যাহত রাখতে চায়।
শিল্পোন্নত দেশগুলোর আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা বৃদ্ধি পেলে স্বল্পোন্নত দেশগুলোও কয়লার পরিবর্তে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে আগ্রহী হবে। এক্ষেত্রে শিল্পোন্নত দেশগুলোকে উদারতার পরিচয় দিতে হবে। স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে প্রযুক্তির গবেষণা প্রসারে শিল্পোন্নত দেশগুলো আন্তরিক হলে উল্লিখিত বিষয়ে অনেক জটিল সমস্যা সমাধানের পথ বিস্তৃত হবে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ধারাবাহিক আলোচনার পরও বৈশ্বিক উষ্ণতা হ্রাসে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণীত না হওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। শিল্পোন্নত দেশগুলো আন্তরিক না হলে এ বিষয়ে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে বিলম্ব হবে। এর ফলে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রাও বাড়তে থাকবে। যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে স্বল্পোন্নত দেশের জনগণের ভোগান্তি বেড়ে যায়। তাই এদের জীবনমানের উন্নয়নে অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুততম সময়ে ত্রাণ পৌঁছানো নিশ্চিত করার জন্য স্বেচ্ছাসেবী কর্মী বাহিনীও গড়ে তুলতে হবে। প্রতিশ্র“ত অর্থ ও অন্যান্য সহায়তা প্রদানে শিল্পোন্নত দেশগুলোকে আন্তরিকতার পরিচয় দিতে হবে। শিল্পোন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তি খাতে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকে মনোযোগ বাড়াতে হবে। প্রযুক্তি খাতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তেল, কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস- এসব সম্পদ এক সময় ফুরিয়ে যাবে। তাই বিকল্প জ্বালানির বিষয়ে এখনই ভাবতে হবে। পরমাণু প্রযুক্তিকে সাশ্রয়ী ও সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত প্রযুক্তিতে রূপান্তর করা গেলে স্বাভাবিকভাবেই কয়লার ওপর নির্ভরতা কমে যাবে। তাই এ বিষয়ক গবেষণার ওপর জোর দিতে হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোগান্তি বেড়েই চলেছে। এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমানের পরিবর্তনে বহুমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে। যেহেতু জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই জনগোষ্ঠীর বংশপরম্পরায় প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা অকার্যকর হয়ে যাচ্ছে, তাই শিক্ষার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। বয়স্ক জনগোষ্ঠীকেও এ কার্যক্রমের আওতায় আনতে হবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশে সহায়ক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করলে এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মও উপকৃত হবে। এভাবে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে। ওয়ারশ সম্মেলন যাতে গতানুগতিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শেষ না হয় সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন নিয়ন্ত্রণে শিল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য অবশ্য পালনীয় নীতিমালা প্রণয়নের কাজটি ওয়ারশ সম্মেলনেই সম্পন্ন করতে হবে। এ সম্মেলনে প্যারিস সম্মেলনের লক্ষ নির্ধারণসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য কাজও সম্পন্ন করতে হবে। বিশ্ববাসীর স্বার্থে ওয়ারশ সম্মেলনকে সফল করার জন্য সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। যেহেতু শিল্পোন্নত দেশগুলোর কর্মকাণ্ডের ফলে বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তন হয়েছে, তাই এ বিষয়ক বহুমুখী সংকট মোকাবেলায় শিল্পোন্নত দেশগুলোকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ন্যায্য ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তি নিশ্চিত করা এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন নিয়ন্ত্রণসহ অন্যান্য জরুরি বিষয়ে ওয়ারশ সম্মেলনে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হবেন, এটাই বিশ্ববাসীর প্রত্যাশা।
অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম : প্রতিমন্ত্রী; সম্পাদক ও প্রকাশক, যুগান্তর
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
-
▼
2013
(14877)
-
▼
November
(403)
-
▼
Nov 19
(10)
- আওয়ামী লীগ কি বিএনপির পথেই হাঁটছে? by মোঃ আবু সালে...
- পাড়াপড়শীর ঘুম নেই by ড. মোকাম্মেল এইচ ভূঁইয়া
- ওয়ারশ সম্মেলন নিয়ে বিশ্ববাসীর প্রত্যাশা by অ্যাডভো...
- সরকারই পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে
- সমঝোতার সুযোগ এখনো আছে
- রাজনীতি আর রাজনীতিকদের হাতে নেই!
- প্রশ্নকাঠামোয় সমস্যা
- ২৭ বছর বয়সে পররাষ্ট্রমন্ত্রী!
- ত্রাণে ধীরগতি ক্ষোভ বাড়ছে
- কেনিয়ায় উড়াল শৌচাগার
-
▼
Nov 19
(10)
-
▼
November
(403)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ইরান
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
কালবেলা
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
স্বাস্থ্য
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
জীবনযাপন
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
মসজিদ
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
ইয়েমেন
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
Exclusive
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
জনস্বাস্থ্য
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
জোহরান মামদানি
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
ইহুদি
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment