ইরানে সরকার পরিবর্তন হওয়াকেই ‘সবচেয়ে ভালো’ মনে করছেন ট্রাম্প
গতকাল শুক্রবার নর্থ ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্র্যাগ সামরিক ঘাঁটিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। এ সময় এক সাংবাদিক তাঁর কাছে জানতে চান, তিনি ইরানে সরকার পরিবর্তন চান কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘মনে হয়, সেটাই সবচেয়ে ভালো হবে।’
ট্রাম্পের এ মন্তব্য এখন পর্যন্ত ইরানের ধর্মীয় শাসকগোষ্ঠীকে উৎখাত করার সবচেয়ে প্রকাশ্য আহ্বান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এমন সময় তিনি এ কথা বললেন, যখন কিনা পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে ইরানকে একটি চুক্তিতে রাজি করানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প।
এর আগে হোয়াইট হাউসে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরানের ওপর চাপ বৃদ্ধি করতে বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড খুব শিগগির মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা দেবে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যদি কোনো চুক্তি করতে না পারি, তবে আমাদের এটার প্রয়োজন পড়বে।’
ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে দেশটির নেতা নিকোলা মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় থেকে এই বিশাল জাহাজ ক্যারিবীয় সাগর এলাকায় অবস্থান করছে। আরেক বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অবস্থান করছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জায়গায় কাকে দেখতে চান, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি শুধু বলেছেন, ‘এমন মানুষ আছেন।’
এর আগে ইরানে সরকার পরিবর্তনের জোরালো আহ্বান থেকে ট্রাম্পকে কিছুটা সরে আসতে দেখা গিয়েছিল। তিনি তখন সতর্ক করে বলেছিলেন, এমনটা হলে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। যদিও তিনি খামেনির বিরুদ্ধে একের পর এক হুমকি দিয়ে গেছেন।
গত মাসে ইরানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে তা দমনে কঠোর অভিযান শুরু করে দেশটির সরকার। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, এতে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। তখন ট্রাম্প বলেছিলেন, বিক্ষোভকারীদের সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছে। তবে পরে তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির দিকে বেশি গুরুত্ব দেন।
এখন বিক্ষোভের মাত্রা কিছুটা কমে এলেও ইরানের শেষ শাহের ছেলে রেজা পাহলভি বিক্ষোভ দমনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। নির্বাসিত রেজা পাহলভি মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে বলেন, নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঠেকাতে মানবিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তিনি দেশ-বিদেশের ইরানিদের আবারও আন্দোলনে নামার আহ্বান জানিয়েছেন।
১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবু গত সপ্তাহে তারা ওমানে পারমাণবিক ইস্যুতে বৈঠক করেছে। নতুন করে আলোচনার তারিখ এখনো ঠিক হয়নি।
পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, ইরান গোপনে পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা করছে। তবে তেহরান এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
![]() |
| হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ছবি: রয়টার্স |

No comments