তরুণ প্রজন্মের হাতে স্বৈরাচারের পতন, কিন্তু নির্বাচনে পুরনো শক্তিই এগিয়ে

বিবিসির প্রতিবেদনঃ বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ছিলেন তরুণরা। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্রদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া সেই আন্দোলনই শেষ পর্যন্ত টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন ঘটায়। কিন্তু এক বছর না যেতেই প্রশ্ন উঠছে—এই বিপ্লব কি আদৌ তরুণদের হাতে ক্ষমতা তুলে দিতে পারবে?

২৪ বছর বয়সী রাহাত হোসেন ছিলেন সেই আন্দোলনের একজন মুখ। ২০ জুলাই ঢাকায় আন্দোলন দমনের সময় পুলিশের গুলিতে তার বন্ধু এমাম হাসান তাইম ভূইঁয়া নিহত হন। সেই মুহূর্তে আহত বন্ধুকে টেনে নিরাপদ স্থানে নেয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে নিজেও গুলিবিদ্ধ হন রাহাত। ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ওই আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে প্রাণ হারান। দুই সপ্তাহের মধ্যেই সরকার ভেঙে পড়ে এবং শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন।

এই আন্দোলনকে বিশ্বজুড়ে জেন জি বা তরুণ প্রজন্মের সবচেয়ে সফল গণ-অভ্যুত্থান হিসেবে দেখা হয়। আন্দোলনের কয়েকজন ছাত্রনেতা অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদেও জায়গা পান। ধারণা করা হচ্ছিল, দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির আধিপত্যের পর এবার তরুণরাই রাজনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।কিন্তু আগামী সপ্তাহের জাতীয় নির্বাচন সামনে আসতেই সেই আশায় বড় ধাক্কা লেগেছে।

জাতীয় নির্বাচন সামনে আসতেই দেখা যাচ্ছে, ছাত্রদের নতুন গড়া রাজনৈতিক দলটি ভাঙনের মুখে এবং আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নারীরা অনেকটাই কোণঠাসা। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় শূন্যতা পূরণে এগিয়ে আসছে পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোই।

রাহাত বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনে তিনি যোগ দিয়েছিলেন সরকারি চাকরিতে নতুন কোটা ব্যবস্থার প্রতিবাদে। কিন্তু আন্দোলন চলতে চলতে তা রূপ নেয় ‘স্বৈরশাসনের অবসান’—এই একক লক্ষ্যে। এতে ধর্মনিরপেক্ষ ও ধর্মীয় নানা পটভূমির তরুণ-তরুণীরা যুক্ত হন।

তবে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার তার প্রত্যাশিত শান্তি, সমতা, ন্যায়বিচার ও সুবিচারের ভিত্তিতে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে।

ছাত্রনেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-কে তিনি অভিজ্ঞতাহীন মনে করেন। বরং তার দৃষ্টি কেড়েছে অনেক পুরোনো একটি দল—জামায়াতে ইসলামী।

ইসলামপন্থি দলটি দীর্ঘদিন ছোট জোটসঙ্গী হিসেবে থাকলেও ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে তারা নিজস্ব শক্তি নিয়ে সামনে এসেছে।

১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে। সে সময় প্রায় ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হন, ঘরছাড়া হন এক কোটির বেশি মানুষ। জামায়াতের তৎকালীন কিছু নেতার বিরুদ্ধে পাকিস্তানিদের সঙ্গে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে।

তবে রাহাতের মতে, সেই ইতিহাস এখন আর বড় বাধা নয়। তার বিশ্বাস, জামায়াত আধুনিক হয়েছে। জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের সহযোদ্ধা ও ছাত্রদের জামায়াত নানাভাবে সহায়তা করেছে।

জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান বিবিসিকে বলেছেন, তার দল দুর্নীতি বন্ধ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছে। উচ্চমাত্রার দুর্নীতির ইতিহাস থাকা দেশে এসব বাস্তবায়ন কঠিন হলেও অনেক ভোটারের কাছে এই বার্তা সাড়া ফেলেছে।

ঢাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তৌফিক হক বলেন, একাত্তরের অনেক পরে জন্ম নেয়া তরুণ ভোটাররা জামায়াতের অতীতকে আলাদা করে দেখতে পারেন এবং একে ‘লাল দাগ’ হিসেবে দেখেন না। তার কথায়, এটি প্রজন্মগত বিষয়। তারা এই বিতর্কে আটকে থাকতে চায় না।

তৌফিক হকের মতে, তরুণ ভোটারদের চোখে জামায়াতও শেখ হাসিনার শাসনের ভুক্তভোগী। রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি তাদের অনেক নেতা কারাবন্দি হয়েছিলেন।

গত বছরের সেপ্টেম্বর দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের ছাত্রসংগঠন–সমর্থিত প্রার্থীরা ভূমিধস জয় পায়। অনেকেই একে জাতীয় রাজনীতির মনোভাবের পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন।

বিশেষ করে, স্বাধীনতার পর এই প্রথম ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ইসলামপন্থি দল ছাত্র সংসদের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

দেশে যেখানে প্রতি ১০ জন ভোটারের মধ্যে প্রায় চারজনের বয়স ৩৭ বছরের নিচে, সেখানে এটি ছাত্রনেতাদের জন্য বড় সতর্ক সংকেত হয়ে উঠেছে।

ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) প্রতি আস্থার ঘাটতি ছাত্রনেতৃত্বের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও বর্তমানে এনসিপির নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান ২৭ বছর বয়সী আসিফ মাহমুদ বলেন, আমরা আশা করেছিলাম আরও ভালো করব।

তবে তার দাবি, শুরু থেকেই পরিস্থিতি তাদের পক্ষে ছিল না। তিনি বলেন, গত ৫০ বছর ধরে বাংলাদেশ মূলত দুটি দলই শাসন করেছে। আমরা নিজেদের প্রমাণ করার চেষ্টা করছি।

এই বাস্তবতায় এনসিপি একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেয়। গত ডিসেম্বর মাসে দলটি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে একটি বহুদলীয় জোটের ঘোষণা দেয়।

জামায়াতের মতো এনসিপিও দুর্নীতি দমনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তরুণ ভোটারদের লক্ষ্য করে তাদের ইশতেহারে রয়েছে—গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের জন্য বিচার, ভোটের বয়স ১৮ থেকে কমিয়ে ১৬ করা এবং কর ও অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

আসিফ মাহমুদের ভাষায়, কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও জামায়াতের তৃণমূল সাংগঠনিক শক্তির সহায়তা এনসিপির প্রয়োজন ছিল। তিনি বলেন, আমরা বরাবরই বলেছি, আমরা ইসলামপন্থি দল নই। এটি আদর্শিক জোট নয়।

তবে এই জোট ঘিরেই তৈরি হয়েছে বড় বিতর্ক। জামায়াত যে ৩০টি আসনে এনসিপিকে প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ দিয়েছে, সেখানে নারী প্রার্থী মাত্র দুজন। অন্যদিকে জামায়াত নিজে ২০০টির বেশি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, যাদের সবাই পুরুষ।

এনসিপির জ্যেষ্ঠ নারী নেত্রী তাসনিম জারা এই সমঝোতাকে নৈতিক সীমারেখা অতিক্রম বলে উল্লেখ করেছেন। এই কারণেই তিনি ও আরও কয়েকজন নারী নেতা দল ছাড়েন।

২৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থী শিমা আক্তার, যিনি আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ছিলেন, বলেছেন- তারা আমাদের একপাশে ঠেলে দিতে চেয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, গণ-অভ্যুত্থানে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এখনও মূলত পুরুষপ্রধান।
তার প্রশ্ন, নারীরা কোথায়?

আন্দোলনের পর শিমাসহ নারী আন্দোলনকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আক্রমণের শিকার হন।

শিমা বলেন, কিছু মিম ভিডিও ছিল ভয়ংকর ও অত্যন্ত অপমানজনক। আমাদের চরিত্রহনন করা হয়েছে, ট্রল করা হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা নিয়ে কটূক্তি, বিয়ে নিয়ে কুৎসা এবং এমনকি শিমার গায়ের রঙ নিয়েও আক্রমণ চালানো হয়।

এনসিপি ও জামায়াত—দুই দলই নারীদের কোণঠাসা করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, নারী প্রার্থীর সংখ্যা কম হওয়ার পেছনে বাংলাদেশের সামাজিক কাঠামো দায়ী। জামায়াতের আমীর শফিকুর রহমান বলেন, ভবিষ্যতে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে বলে তিনি আশাবাদী।

তবে শিমা আক্তার এই ব্যাখ্যাকে ‘পুরুষতান্ত্রিক অজুহাত’ বলে মন্তব্য করেন।

তিনি জানান, আপাতত তার ঝোঁক বিএনপির দিকে, যারা ২৫০টির বেশি প্রার্থীর মধ্যে ১০ জন নারীকে মনোনয়ন দিয়েছে। তিনি মনে করেন- এটি মন্দের ভালো।

এনসিপির দুর্বল জনসমর্থন এবং আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞার ফলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে বিএনপি—যারা নিজেদের নতুন করে একটি উদার গণতান্ত্রিক শক্তি হিসেবে ব্র্যান্ডিং করছে।

আওয়ামী শাসনামলে হাজার হাজার কর্মী ও শীর্ষ নেতা কারাবন্দি হওয়ার পর, এখন নির্বাচনী লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় দল বিএনপি। এর ফলে ছাত্রদের দলটিও আরও কোণঠাসা হয়ে পড়ছে।

আওয়ামী লীগের মতোই বিএনপিও রাজনৈতিক বংশের সঙ্গে যুক্ত। শেখ হাসিনা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা। অন্যদিকে, বিএনপির বর্তমান নেতা তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার ছেলে। খালেদা জিয়া ছিলেন সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী।

সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও বর্তমানে বিএনপির প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিবিসিকে বলেন- “আপনি কোনো রাজনৈতিক বংশ থেকে এসেছেন কি না— এটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।

তবে আইরোনি (বিদ্রুপ) হলো— এই বংশানুক্রমিক রাজনীতির ধারাবাহিকতা সম্ভব হয়েছে মূলত ছাত্রনেতৃত্বাধীন সেই অভ্যুত্থানের ফলেই। সেই আন্দোলনের পরই ১৭ বছর স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকা তারেক রহমান দেশে ফিরতে পেরেছেন। শেখ হাসিনার বিদায়ের পর তারেক রহমান ও তার মায়ের বিরুদ্ধে থাকা দুর্নীতির মামলাগুলো থেকে তারা খালাস পান। যেগুলোকে তারা বরাবরই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছিলেন।

তারেক রহমান জামায়াতকে ধর্মীয় আবেগ কাজে লাগিয়ে ভোট আদায়ের অভিযোগে সমালোচনা করেছেন। তিনি অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, পাশাপাশি একটি ‘রেইনবো নেশন’ (রংধনু রাষ্ট্র)-এর কথা বলেছেন। যেখানে নতুন একটি জাতীয় পুনর্মিলন কমিশন দেশের বিভাজন কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করবে।

শেখ হাসিনা ১৫ বছর বাংলাদেশ শাসন করেছেন। তার আমলে অর্থনৈতিক অগ্রগতি হলেও, বিরোধী কণ্ঠ দমনে ক্রমেই কঠোর হন তিনি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গ্রেপ্তার, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ ছিল নিত্যনৈমিত্যিক বিষয়। ২০২৪ সালের দমন-পীড়নের ঘটনায় গত বছর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ  ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

নির্বাসন থেকে শেখ হাসিনা তার দলের ওপর নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়েছেন। তার সঙ্গে ভারতের আশ্রয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগের আরও অনেক শীর্ষ নেতা। দেশে থাকা কয়েকজন ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

বিবিসি আওয়ামী লীগের এক নেতার সঙ্গে কথা বলেছে, যিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে কখনোই একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শেখ হাসিনা নির্দেশ দিলে দল ও তাদের সমর্থকেরা নির্বাচন প্রতিরোধ করবে। তিনি যদি বলেন ভোটকেন্দ্রে না যেতে, আমরা যাব না। যদি তিনি বলেন নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে, তাহলে আমরা নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করব।

স্বাধীন মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে রাজনৈতিক গ্রেপ্তার ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা তিনি মিথ্যা ও মনগড়া বলে দাবি করেন।

আগামী সপ্তাহের ভোটের পর ছাত্ররা বুঝতে পারবেন। তাদের বিপ্লব এবং রক্তপাত আদৌ সার্থক ছিল কি না।

যেখানে বন্ধুকে হারিয়েছেন, সেই ঢাকার যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের পাশে বসে রাহাত এখনো সব পুলিশ সদস্যের বিচার শেষ হওয়ার অপেক্ষায়।

তাইম ভূঁইয়ার নিজের বাবা একজন পুলিশ কর্মকর্তা। ছেলের মৃতদেহ শনাক্ত করার সময় তিনি বাহিনীর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ফোন করে জিজ্ঞেস করেছিলেন, স্যার, একটা ছেলেকে মারতে কতগুলো গুলি লাগে?

হোসেন বলেন, সেদিনের স্মৃতি এখনও তাকে তাড়া করে বেড়ায়।

দেশের ইন্টারনেট চালু হওয়ার আট দিন পর তিনি সেই ভিডিওটি দেখেন। তিনি বলেন, আমার পুরো চিৎকার শোনা যায়, আমি অনবরত কেঁদেছি। তিনি তার অন্যান্য অভ্যুত্থানের সহযোদ্ধাদের সঙ্গে এক বছর পর, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের প্রথম বার্ষিকী উদযাপন করেন।

তবে হোসেন স্বীকার করেন, তাদের নতুন বাংলাদেশ এখনও আসেনি। তার বিশ্বাস, একটি নির্বাচিত সরকার সংস্কার না করা পর্যন্ত তা সম্ভব নয়। তার মন্তব্য, তেঁতুল গাছ থেকে আম আশা করা যায় না।

https://mzamin.com/uploads/news/main/201942_fredom.webp

No comments

Powered by Blogger.