Wednesday, October 13, 2010
গল্প- 'রূপকথা' by লুনা রুশদী
গল্প- 'রূপকথা' by লুনা রুশদী
‘দেখিস আবার ভান করতে করতে আসলেই খাইয়া ফেলতে পারোস।’ খালাম্মা বললো।
আমরা শুক্রবারের সকাল বেলায় বসার ঘরে বসে ছিলাম। মানে আমি, আম্মা, ছোট মামা, রাজু ভাই, খালাম্মা আর দাদী। আব্বা নিজের ঘরে কাজে। রিমা আর লিমা পাড়ার মাঠে। ওদের ততদিনে অনেক বন্ধু হয়েছে। স্কুলের দিন প্রতি বিকালে খেলতে যায় আর ছুটির দিন সকাল বিকাল।
রাজু ভাই কোত্থেকে যেন কাগজের টুকরায় করে কাকের গু ধরে নিয়ে আসছে। এখন জনে জনে সবার সামনে দাঁড়িয়ে ভান করছে সেই জিনিস খাওয়ার। এইবার মোটামুটি সারা বসার ঘর রাউন্ড দেয়ার পর ছোটমামার সামনে দাঁড়ালো। ছোটমামা আর রাজু ভাই প্রায় এক বয়সী, দুইজনই কলেজে পড়ে তখন। রাজুভাই মাথা নিচু করে জিভ বের করে ঢঙ আরম্ভের সাথে সাথেই মামা হঠাৎ রাজুভাইয়ের কাগজ ধরা হাত ধরে উপরে তুলে দিল। সাথে সাথে কাগজের জিনিস মুখে ট্রান্সফার। আমরা কিছুক্ষণ হতভম্ব থাকার পরে হাসতে হাসতে শেষ। বেচারা রাজু ভাই তখন প্রবল আক্রোশে মামার কর্ডের প্যান্টে জিভ মুছছে আর আঃ আঃ জাতীয় শব্দ করছে। মামা পরম আদরে তার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলছে, ‘কেমন লাগে বাপধন? মা-বাবার কথা সাথে সাথে ফলে!’
এমন সময় কলিংবেল। এক মিনিটের মধ্যেই তিনবার বাজাতে বুঝলাম নিশ্চয়ই রিমা-লিমা ফিরলো। আম্মার সাথে সাথে আমিও উঠে গেলাম। দরজার ওপাশ থেকেই কী নিয়ে যেন ওদের বেশ উত্তেজিত কথাবার্তা শোনা যাচ্ছিল। দুইজন একইসাথে কথা বলছিল বলে কিছু বোঝা যাচ্ছিল না। আম্মা দরজা খুলতেই তার দুইহাতের তল দিয়ে দুজন ঢুকে দৌড় লাগালো আব্বার পড়ার ঘরে।

‘অ্যাই কী হইছে? তোর আব্বার ঘরে এখন ঢুকলে কিন্তু রাগ করবে!’ বলতে বলতে আম্মা ওদের পিছন পিছন গেল। আর তার পিছন পিছন আমি। প্রায় একই সাথে চারজনকে ঘরে ঢুকতে দেখে আব্বা মুখ তুলে আম্মার দিকে তাকালো। আম্মা একটা বেচারা বেচারা আধা হাসি শুরু করতে করতেই আব্বা বললো, ‘তুমি এইরকম কুইচা মুরগির মতন সবসময় ছানাপোনা সঙ্গে নিয়ে ঘুরঘুর কর কেন, কী সমস্যা?’
‘আরে ওরাই তো তোমার ঘরে আসলো মাঠ থিকা আইসাই। আমি দেখতে আসলাম কী হইছে।’ আম্মার প্রম্পট পাওয়ার সাথে সাথেই দুইজন একসাথে মুখ খুললো। আব্বা বললো, ‘আরে আরে থামো থামো। একজন একজন করে…হুম বল রিমা।’
‘আচ্ছা আব্বা এক মন তুলার ওজন বেশি না এক মন লোহার ওজন বেশি?’
‘আব্বা লোহার ওজন বেশি না? আমি রিমারে বললাম যে লোহা বেশি ভারি! কিন্তু গাধাটা দৌড়াইয়া বাসায় আসছে। এতক্ষণে ওরা বোধহয় নিয়া গেল।’
‘কী নিয়া গেল?’
আমি বললাম, ‘দিদাস ভাই একটা মাটির হাতি বানাইছে। ওইটা..।’
‘দিদাস ভাই কে?’ আব্বার প্রশ্ন।
‘ওই যে আসছে না? লাল বিল্ডিংয়ের ছবি আঁকতেছে।’
লাল বিল্ডিং মানে ইংরেজ আমলের একটা বাংলো বাড়ি লাল ইটের। দোতলা। পাড়ার এক কোনায়। একসময় ইউনিভার্সিটির এক কেয়ারটেকার থাকতো পরিবারসহ। শুধু একটা ঘর নিয়ে। বাকি ঘরগুলি ব্যাবহারযোগ্যনা। নিচতলায় বড় একটা হলঘরের ভিতর থেকে ঘোরানো সিঁড়ি উঠে গেছে, তার মাঝখানে মাঝখানে আবার ভাঙা। এখন আর কেউ থাকে না। দেয়াল ভেদ করে বটগাছের শিকড় নেমেছে।
‘লাল বিল্ডিং আঁকতেছে কেন?’
আমি বললাম, ‘কী জানি। আর্টিস্ট তো।’
আম্মা বললো, ‘তো এর সাথে লোহা আর তুলার কী সম্পর্ক?’
‘আমরা দোলনার কাছে গেছিলাম লুকাইতে। তখন দেখি দিদাস ভাই ছবি আঁকতেছে। আমাদের সবারই ছবিটা দেখতে ইচ্ছা হইতেছিল কিন্তু বেশি কাছে যাইতে ভয় পাইতেছিলাম। তখন উনিই ডাইকা ছবি দেখাইলো। খুবই ভালো উনি। এখনো পুরাটা আঁকে নাই, কিন্তু খুবই সুন্দর হইতেছে!’
‘হ্যাঁ, আমাদের সাথে অনেক কথাও বললো। ওই সময় মাটির হাতিটা দেখাইলো। উনার পাঞ্জাবীর পকেটে ছিল। একদম ছোট্ট হাতিটা, কালো রঙের। উপরে আবার সোনালী কাজ করা। সব উনি নিজে বানাইছে!’ লিমা দম নেয়ার জন্য থামলে রিমা শুরু করলো, ‘আমাদের সবারই খুব ইচ্ছা হইলো হাতিটা নেয়ার। তখনই ধাঁধাটা দিল দিদাস ভাই। সবাই শুধু একবার উত্তর দিতে পারবে। যে সবচেয়ে আগে বলতে পারবে, তারে দিবে হাতি। তাড়াতাড়ি বলো আব্বা!’
‘উত্তর তো প্রশ্নের মধ্যেই আছে।’ আব্বা বললো হাসতে হাসতে।
ওদের দুইজনকেই মাথা চুলকাতে দেখে আমার দিকে তাকালো আব্বা, ‘রিনা, তোমার তো পারার কথা। ক্লাস ফাইভে উঠছো, বড় মেয়ে তো তুমি।’
এতক্ষণ প্রশ্নটা নিয়ে আমিও দিশাহারা ছিলাম একটু। কিন্তু আব্বার কথাতেই মাথা খুলে গেল, ‘তাই তো! দুইটারই সমান ওজন। দুইটাই এক মন।’
‘বাহ্! আমার মেয়েটার অনেক বুদ্ধি!’
উত্তর পাওয়ার সাথে সাথে আবার দৌড় লাগালো ওরা। একই ভাবে ওদের পিছনে আম্মা আর তার পিছনে আমি।
মামা আর রাজু ভাই বাইরে গেছে। খালাম্মা আর কল্পনা রান্নাঘরে, আম্মাও সেদিকে গেল। আমি বসার ঘর পার হয়ে সামনের বারান্দায় চলে আসলাম। দাদী বেশির ভাগ সময়েই এই বারান্দায় বসে থাকে। সামনে ফুলার রোড আর তার ওইপাশে ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরী স্কুল। আজকে ছুটি, কিন্তু ছায়ানটে ক্লাস হচ্ছে। মাঝে মাঝে রাস্তার রিক্সা, গাড়ি, মানুষের শব্দ ছাপিয়েও গানের সুর ভেসে আসছে।
‘কি করেন বুবু?’ আমি জিজ্ঞেস করলাম দাদীকে।
‘মানু দেহি। কত মানু যাইতেয়াছে রাস্তা দিয়া।’
‘সব সময়েই তো যায়।’
‘একই মানু তো আর সব সময়ে যায় না।’
২.
দিদাস নামটা যেন কেমন। আমার মনে হলো। দাস কি তার পদবী? তাহলে হিন্দু। মানে তার নাম শুধু ‘দি’? এইটা কেমন আবার। ঞযব-দাস! হিঃ হিঃ। দাস মানে তো চাকর। মানে একমাত্র চাকর।
ঞযব-দাস!
কৃতদাস!
কী চাস.
কই যাস?
কাছে আস। হিঃ হিঃ হিঃ।
৩.
আমারও একবার গিয়ে ছবি আঁকা দেখে আসতে ইচ্ছা করছে। কিন্তু একা একা যেতে কেমন লজ্জা লজ্জা লাগে।
এই পাড়ায় মেয়েদের তিনটা দল হয়ে গেছে। একদম কচিকাঁচা থেকে ক্লাস থ্রি/ফোর পর্যন্ত এক দল। ফোর/ফাইভ থেকে নাইন/টেন আরেকটা দল আর কলেজ ইউনিভার্সিটির মেয়েরা মিলে আরেকটা।
ছোট মেয়েদের দলটা বেশির ভাগ সময় খেলে পাড়ার এক প্রান্তে করা পার্কে। মুখে মুখে যার নাম হয়েছে ‘দোলনা’। অথচ কোন দোলনা নাই সেখানে। একসময় ছিল, দুইটা। এখন স্মৃতি হিসাবে লোহার শিকলটুকু রয়ে গেছে। তবে অন্য অনেক কিছু আছে। দুইটা স্লিপার, দুইটা ঢেকি, একটা তালগাছ আর একটা বাঁদরঝোলা। এর মধ্যেই সারাদিন ব্যস্ত থাকার অনেক মালমশলা জুটে যায়।
মেয়েদের দুই নম্বর দলটা খেলে পাড়ার মাঝখানের খেলার মাঠে। মাঠের অর্ধেকটা মেয়েদের দখলে আর অর্ধেকটা ছেলেদের। গরমকালে ইচ্ছামতোন যা খুশী খেলা, শীতকালে কোর্ট কেটে ব্যাডমিনটন। মাঠের কোণ ঘেসে ঘেসে ছোট ছোট ফুলের কেয়ারী। দোপাটি, ডালিয়া, কসমস আরো কী কী যেন।
কলেজ-ইউনিভার্সিটিতে পড়া মেয়েদের দল খেলে না। ওরা মাঠের চারপাশ ঘিরে পাকা রাস্তায় দল বেঁধে হাঁটে আর অনেক গল্প করে, হাসে। মাঝে মাঝে কোন বাড়ির সামনে রিকশা বা গাড়ি থামলে জায়গা করে দেয়ার জন্য সবাই একপাশে সরে দাঁড়ায়।
পাড়ায় খেলে ছেলেদের একটাই দল। বেশির ভাগ সময় দৌড়াদৌড়ি ধরনের খেলা থাকে ওদের। মাঝে মাঝে অন্য পাড়ার ছেলেরাও আসে খেলতে। তবে কলেজ-ইউনিভার্সিটির ছেলেরা সাধারণত পাড়ায় থাকে না বেশির ভাগ সময়। ওদেরকে শুধু যেতে-আসতে দেখি।
এই অলিখিত নিয়ম অনুসারে আমার থাকার কথা ছিল মাঝারী মেয়েদের দলে। কিন্তু কেন যেন আমার সাথে কেউ খেলতে চাইতো না। আরেকটু ছোটবেলায় যখন রিমা-লিমার তেমন বন্ধু হয় নাই পাড়ায়, আমরা তিনজন একসাথে ঘুরতাম মাঠে। ‘দোলনা’য় খেলতাম। সেই সময় লাল বিল্ডিংয়ে রোমেল-সোহেলরা থাকতো। লাল বিল্ডিংয়ের গাড়ি-বারান্দা ছিল একটা, তার সামনে থেকেই দোলনার শুরু। সেই গাড়ি-বারান্দার দুই ইটের থাম জড়িয়ে বাগান বিলাসের ঝোপ উঠে গেছে অযতেœ। জংলা ঝোপ একদম। উপরে উঠতে উঠতে বিল্ডিংয়ের খানিকটা আড়াল করে ফেলেছে। তাতে কাগজের মতন গোলাপী গোলাপী বাগান বিলাস ফুটতো, দেখতাম।
রোমেল ছিল পাগল। সে গাড়ি-বারান্দার এপাশ-ওপাশ পায়চারী করতো আর নিজের মনে বিড়বিড় করে কী সব বলতো। একটা হাত সবসময় উঠতো-নামতো যেন অদৃশ্য বল নিয়ে খেলছে। মাঝে মাঝে একা একাই হাসতো। সবাই ভয় পেতাম আমরা, কেউ লাল বিল্ডিংয়ের খুব কাছে যেতাম না তাই। মানুষের মুখে মুখে রটে গিয়েছিল রোমেলকে জ্বিনে ধরেছে। তার থেকে আমার ধারণা হলো ‘দোলনা’র মাটির তলায় নিশ্চয়ই আলাদ্বীনের আশ্চর্য প্রদীপ আছে। আমরা তিনজন সুযোগ পেলেই দোলনার মাটি খুঁড়তাম। আমার ইচ্ছা ছিল মাটি খুঁড়ে খুঁড়ে যে মাটি পাওয়া যাবে, তা দিয়ে দোলনার পাশেই একটা ঘর বানিয়ে আমি একা একা থাকবো। আম্মা মাঝে মাঝে খুব বকাবকি করে। একা থাকলে এইসব আর সহ্য করতে হবে না।
তবে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই রিমা-লিমা স্কুলে ভর্তি হয়ে গেল। যমজ বোন হওয়ার কারণে দুই-জন এক ক্লাসে। তার মধ্যে ওদের স্কুলের কয়েকজন ব›ধু আমাদের পাড়াতেই থাকে। তাই এখানের দলে জমে যেতেও কোনো সমস্যা হয় নাই। আমি কিছুদিন ওদের দলের সাথে সাথে ঘুরেছি, কিন্তু সবাই আমাকে আপা বলে। আর এদের মধ্যে নিজেকে কেমন বেখাপ্পা লাগায় আস্তে আস্তে ছেড়ে এসেছি। রিমা-লিমা খেলাধুলাতেও খুব ভালো। যে কোনো কম্পিটিশানে কিছু না কিছু একটা প্লেস তো থাকেই ওদের। আবার লিমা তো ক্লাস ওয়ানের বছরই ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’ কবিতাটা নির্ভুল আবৃত্তি করতে পারতো! তাই পাড়ায় ওদের ভক্ত অনেক। আমি আবার বাসার ভিতরে যে রকম ডাকাত সর্দারের মতোন চলতে পারি, বাসার বাইরে সেই রকমই লাজুক আর বোকা-বোকা।
এর আগের বছর শীতের সময় মাঠের মাঝখানে কাটা চারটা ব্যাডমিন্টন কোর্টের একটাতে বিপাশা, মিথিলা, কামিনী আপা আর লিপি আপা খেলছিল। আমি আমাদের তিনতলার বারান্দার গ্রিলের আড়াল থেকে খেলতে দেখতাম ওদের, রোজ। শুধু ওরা চারজনই না, নয়-দশজন মেয়ে সব মিলে। চারজন করে খেলতো, বাকিরা কোর্টের পাশে বসে গল্প করতো অথবা ‘বি কুইক’ কিংবা ‘বন্ধুগণ’ খেলতো। প্রতিদিনই ওদের দলে ঢুকতে ইচ্ছা হতো আমার, কিন্তু সে রকম সাহস করে উঠতে পারতাম না। সেদিন অসীম সাহস সঞ্চয় করে মাঠে গেলাম আম্মাকে বলে। সিঁড়ি দিয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে নামলেও কোর্টের কাছে পৌঁছাতে পৌঁছাতে চলার গতি ধীর হলো। অনেক ইতস্তত করে দাঁড়ালাম নেটবাঁধা বাঁশের পাশে। কী বলবো কী বলবো ভাবতে ভাবতে, হঠাৎ মুখ থেকে বের হয়ে গেল, ‘আমারে তোমরা খেলায় নিবা?’
তখনও ঘরে আর বাইরে দুইরকম করে কথা বলা আয়ত্ত করতে পারিনি। নিতান্তই গাঁইয়া উচ্চারণে কথা শুনে ওরা চারজনই খেলা থামিয়ে আমার দিকে তাকালো। তারপর মিথিলা গান গাওয়ার মতন সুর করে বললো, ‘না আ আ আ।’ বলতে বলতেই হাসিতে গড়িয়ে পড়লো। কোর্টের মাঝখানেই বসে পড়লো হাসতে হাসতে। ওর হাসি দেখে অন্য সবাইও হাসতে থাকলো। আমার চোখের কোন অবধি পানি চলে আসলেও মনে মনে বললাম কিছুতেই কাঁদা যাবে না। আমি জানি বারান্দায় গ্রিলের ওপাশ থেকে আম্মা ঠিকই নজর রাখছে আমার দিকে। আমার এমন ভাব করতে হবে যেন ওদের সাথে আমিও হাসছি। আমার সেই কাঁদো কাঁদো মুখে হাসির অভিনয় খুব অনবদ্য হয়েছিল কিনা কে বলবে, আমি ছাড়া দর্শকও তো ছিল না আর কোন।
এরপরে আর চেষ্টা করিনি। আম্মা অবশ্য করেছিল। একবার পাড়ার আমার বয়সী মেয়েদেরকে বিকালের নাস্তা খাওয়ার দাওয়াত দিয়েছিল। এসেছিল সবাই। কেক, পেস্ট্রি, চানাচুর, গ্লুকোজ বিস্কুট, সাগর কলা ইত্যাদি অনেক মজার মজার খাবার খেতে খেতে আমার সাথে গল্পও করেছে টুকটাক। ওরা চলে যাওয়ার সময় আম্মা অনুরোধ করেছিল বিকাল বেলায় আমাকেও যাতে খেলতে ডাকে। এরপর কয়েকদিন আমার বাসার সামনেও ‘রিইইইনাাাা’ ‘রিইইইনাাাা’ করে ডাকতো কয়েকজন। আর ওদের কণ্ঠস্বরে নিজের নাম বাতাসে মিশে যেতে শুনতে শুনতে খুশীতে ডগমগ করতে করতে আমি নিচে নেমে যেতাম খেলতে। কিন্তু এক বিকালের চানাচুর-বিস্কুট আর কতদিন পেটে থাকে। একসময় ডাক থেমে গেল। আমিও আবার আগের মতোই।
‘রিনা মা, দরজাটা একটু বন্ধ কইরা দাও তো, আমি ডিপার্টমেন্টে যাই।’
‘দাঁড়াও আব্বা, আমিও দোলনায় যাই একটু? লাল বিল্ডিংয়ের ছবি আঁকা দেইখা আসি।’
‘আইচ্ছা চল। স্যান্ডেল পড়।…কইগো রিনার মা, দরজাটা লাগাইয়া দেও।’
আব্বার সাথে বের হয়ে গেলাম। দোতলায় দেখি বিভার আম্মা কলাওয়ালার সাথে দরদাম করছে, ‘এটা কি কলা নাকি? কলার বাচ্চা! এতো দাম চাও কেন?’
আমাদের দেখে লজ্জা পেয়ে হেসে ফেললেন। তাঁর সাথে সালাম বিনিময় করে নিচে নেমে এলাম আমরা। আব্বার হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে প্রশ্ন করলাম, ‘আচ্ছা আব্বা রাজাকার মানে কী?’
‘কই শুনলা এই শব্দ?’
‘সেইদিন রাজুভাই আর ছোটমামা কার কথা জানি বলতেছিল। তার বাবা নাকি রাজাকার ছিল। আমি ভাবলাম রাজা হওয়া তো ভালো কথা, কিন্তু ওরা ওই বন্ধুরে পছন্দ করে না।’
“রাজাকার’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ খারাপ না। আরবী থেকে এসেছে, এখন উর্দুতেও ব্যবহার করা হয়। ‘রাজা’ শব্দের অর্থ খুশী, যে খুশী করে সে রাজাকার। কিন্তু বাংলাদেশে এর অন্য অর্থ।’
‘কী অর্থ?’
‘স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যেইসব বাংলাদেশী পাকিস্তানের হয়ে কাজ করেছিল, তাদের নাম ছিল রাজাকার। তাই এইটা গালি হিসাবে ব্যবহার করা হয়। যেমন কাউকে যদি বেঈমান বল…’
‘বা মীরজাফর বল…’
‘হ্যাঁ, ওইরকমই রাজাকারও। শব্দ বা নামের তো কোন দোষ নাই। মীরজাফর নামটা কি খারাপ? কোন শব্দ বা নামের সাথে ইতিহাস থাকে, তাতেই সে ভালো হয় বা খারাপ হয়।’
আমরা হাঁটতে হাঁটতে দেখলাম মণীষা আসছে। আমরা এক ক্লাসে পড়ি। মাঝে মাঝে একসাথে স্কুলে যাওয়া আসা করি। মণীষাও পাড়ার কারো সাথে তেমন মেশে না। যদিও ওর না মেশাটা আমার মতন না। আমাকে তো কেউ খেলতে নেয় না, তাই। ওর ভাবটা রাজকীয়, যেন সবাইকে ও বন্ধুত্বের যোগ্য মনে করে না। আমার ওর সাথে কথা বলতে অনেক ভালো লাগে। আব্বাকে বিদায় দিয়ে ওর কাছে গেলাম, ‘মনীষা জানো, একজন আর্টিস্ট নাকি লাল বিল্ডিংয়ের ছবি আঁকছে। দেখতে যাবা?’
‘তাই নাকি? চলো।’
দোলনার সামনে গিয়ে দেখি পাঞ্জাবী-পায়জামা পড়া দাড়ীওয়ালা একটা লোক তুলি হাতে ক্যানভাসের সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে লাল বিল্ডিংয়ের দিকে তাকিয়ে দাড়ি চুলকাচ্ছে। আমি সামনে যেতে একটু ইতস্তত করছিলাম, মণীষা আমার হাত ধরে বেশ দৃঢ় পায়ে এগিয়ে গেল, ‘আপনি নাকি লাল বিল্ডিংয়ের ছবি আঁকছেন? দেখতে আসলাম।’
‘খুব খুশীর সংবাদ, দেখো!’ দিদাস ভাই হাসিমুখে বলে ক্যানভাস থেকে কয়েক পা পিছিয়ে আসলেন।
‘আপনি লাল বিল্ডিংয়ের ছবি আঁকতেছেন কেন?’ আমি জানতে চাইলাম।
‘অনেক আগের বিল্ডিং, শুনেছি ইংরেজ আমলে এক জজসাহেব থাকতেন এখানে। মাঝেমাঝে জানতে ইচ্ছা করে সেই সময় এই বিল্ডিংটা কেমন লাগতো দেখতে। তখন হয়তো বাগান ছিল, মালি ছিল, বাসার ভিতর অনেক মানুষের ভিড় ছিল, এখন কেমন একলা। একসময় হয়তো থাকবেই না, অথচ কত রকম দিনের সাক্ষী দালানটা…।’ দিদাস ভাই বিভোর হয়ে কথা বলছিলেন, হয়তো আমাদের উপস্থিতিও ভুলে গিয়েছিলেন খানিকক্ষণের জন্য।
‘কয়দিন ধরে আঁকছেন?’ মনীষার প্রশ্ন।
‘আজকে নিয়ে তিনদিন আসলাম এখানে। কিছু কিছু কাজ অবশ্য বিল্ডিংয়ের সামনে না দাঁড়িয়েও করেছি। ছবিটা শুরু করেছি প্রায় দুই সপ্তাহের মতন।’
আমি ছবি দেখে বেশ মুগ্ধই হয়ে গেলাম। সত্যিকারের বিল্ডিংটার চেয়েও অনেক সুন্দর লাগছে ছবিতে। একদম গাঢ় লাল ইটের বাড়ির সামনে, পিছনে, চারদিকে অনেক রকমের সবুজ - ঘন, হালকা, কোনটা আবার হলুদের কাছাকাছি, কোন পাতার রং গাঢ় হতে হতে প্রায় মেরুন।
লাল বিল্ডিংয়ের একদিকে, দোলনার পাশেই একটা জংলামত জায়গা আছে। সেখানে একটা পানির ট্যাপ আছে আর তার পাশেই ড্রেন। ট্যাপের জায়গাটা শ্যাওলা-জমা, পিচ্ছিল। মাঝে মাঝে বাসার ট্যাপে পানি না থাকলে আমরা এখান থেকে পানি নিয়ে যাই, মানে পাড়ার সবাই। ওই জায়গাতে এমনিতে কারো আসতে ইচ্ছা করে না, নোংরা, ড্রেনের গন্ধ। কিন্তু ছবিতে কী সুন্দর লাগছে। যেন রূপকথার ছোট্ট বন। আবার ছবিতে ঘাসের জঙ্গলের মধ্যে হলুদ সাদা ফুল আঁকা। আর গাড়ি-বারান্দার বাগান বিলাসটাকে কী রূপসী লাগছে ছবিতে! সবুজ লতাপাতার মধ্যে কী সুন্দর থোকায় থোকায় ফুটেছে ফুলগুলি।
দিদাস ভাই তুলিতে রঙ মাখতে মাখতে আমাদের সাথে কথা বলছেন আর সামনেই ঝাড়–দারের দুই মেয়ে পাতা জড়ো করছে ঝাড়– দিয়ে দিয়ে। আমাদের বয়সীই দুইজন। ময়লা প্রিন্টের জামা পরা।
‘আপনি ছবি আঁকেন, আমরা দেখি।’ আমি বললাম।
দিদাস ভাই ক্যানভাসের জঙ্গলের মধ্যে তুলি দিয়ে কয়েকটা আঁক দিতেই ম্যাজিকের মতোন ফুটে উঠলো ছাপা শাড়ি গাছকোমর করে পরে দুটি মেয়ে ঝাড়– দিচ্ছে। মেয়েগুলিকে দেখাচ্ছে ছদ্মবেশী রাজকন্যার মতো। ওদের শাড়ির রঙে চারদিকটা কেমন উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।
‘আপনি ওই মেয়েগুলিকে আঁকলেন এখন, তাই না?’
‘হ্যাঁ।’
‘কিন্তু ওরা তো শাড়ি পরে নাই, জামা পরা।’
‘সব কিছু যেমন আছে ঠিক তেমনি আঁকলে আর আমার ছবিটা আমার হবে কী করে? আমি তো আমি যে ভাবে দেখছি, অথবা দেখতে চাইছি, তাই আঁকছি। খানিকটা কল্পনা, খানিকটা সত্যি।’
‘আচ্ছা, আপনি যে একটা মাটির হাতি বানাইছিলেন, ওইটা কাকে দিলেন?’
‘নাদিয়া পেল, ওই সবচেয়ে আগে আমার ধাঁধার উত্তর দিয়েছিল তো।’
মণীষা বললো, ‘এই ছবিটা আবার কাউকে দিয়ে দিয়েন না যেন!’
‘দিতে মানা করছো?’ দিদাস ভাই কৌতুক-মেশানো হাসি হাসলেন।
‘এত কষ্ট করে ছবি এঁকে দিয়ে দিবেন কেন? আপনি রেখে দেন।’ এমনভাবে বললো মণীষা যেন দিদাস ভাইকে ছবিটা রেখে দেওয়ার পারমিশান দিল ও।
আর কেউ কিছু বলার আগেই ধুপধাপ শব্দে নাদিয়াদের বাসা থেকে দৌড়াতে দৌড়াতে আসলো ওরা কয়েকজন। কে কার আগে দিদাস ভাইয়ের সামনে পৌঁছাতে পারে তার কম্পিটিশান। রিমা-লিমাও আছে সাথে। সামনে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে নীলা বললো, ‘জানেন দিদাস ভাই, আমাদের পাড়ায় না ফাংশান হবে!! আমরা নাচবো।’
‘আল্লাহ তাই!’ আমি উৎসাহ চাপতে না পেরে প্রশ্ন করি।
‘হ্যাঁ! স্বাধীনতা দিবস আর পহেলা বৈশাখ মিলায়া একটা ফাংশান হবে!’ লিমা বললো।
‘দারুণ মজার ব্যাপার। তোমরা কে কী করছো ফাংশানে?’
‘এখনো জানি না, তবে আমি আর রিমা তো টুইন, আমাদেরকে নাকি একসাথে একটা নাচ দিবে, কল্যাণী আপা শিখাবে। উনি তো সার্কেও নাচছিল, জানেন?’
‘বাহ!’
‘হ্যাঁ, আপনি আসবেন কিন্তু দিদাস ভাই, পাড়ার মাঝখানে স্টেজ বানাবে। কালকে বিকালের মিটিং হবে, তখন ঠিক করবে কে কী করবে।’
‘তোমরা আমাকে তারিখ বলে দিও, আসবো।’
আরো কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলার পর বাসায় ফিরে আসলাম আমরা। বসার ঘরে মামা, রাজু ভাই আর উপর তলার রেহানা, সোহানা আপারাও আছে। দেখলাম ফাংশানের খবর ওদের জানা হয়ে গেছে এর মধ্যেই। ওই নিয়েই কথা চলছে।
‘আসেন না আমরা প্রস্তাব দেই সিরাজোদ্দৌলা যাত্রা করবো। পাড়ায় তো যাত্রা হয় নাই কখনো, নতুন ব্যাপার হবে।’ রেহানা আপা বললো।
মামা বললো, ‘ঠিক হ্যায়, আমি রাজি। কিন্তু আমাকে সিরাজোদ্দৌলা বানাতে হবে। আনোয়ার হোসেন এর মতন ‘অভাগা দেশ’ বলে ঘুমায়ে পরার আমার বহুত দিনের খায়েশ। তবে তুমি তাহলে লুতফা বেগম সাজবা আর সোহানা আলেয়া!’
‘ইস মামু! একজন লুতফা, একজন আলেয়া! অন্যদের কে থাকবে তাইলে?’ রাজু ভাই বললো।
‘কেন বাবা মীরজাফর, তোমার ভাগ্যে ঘষিটি খালাম্মা আছে তো।’
‘আহারে ঘষিটির মতন একটা নাম নিয়ে ভদ্রমহিলার ভিলেন হওয়া ছাড়া গতি ছিল নাকি? তার নাম যদি হইত ‘জেবুন্নেসা’ বা ‘মেহজাবিন’ আর তারপরেও স্পাইগিরি করতো তাইলে না হয় কথা ছিল।’ ঘরের সবাই হেসে উঠলো রাজু ভাইয়ের কথায়।
পরদিন বড়দের মিটিংয়ের পর ঠিক হলো ছোটদের একটা নাটক থাকবে স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে, বিভার আব্বা বাংলার প্রফেসার ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে, উনি নাকি এর মধ্যেই নাটক লিখেও ফেলেছেন। কলেজ ইউনিভার্সিটির ছেলেমেয়েরা মিলে সিরাজোদ্দৌলা যাত্রা করবে। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে থাকবে ঋতুরঙ্গ। কোরাসে গান গাইবে কয়েকজন মিলে আর ছোট মেয়েরা নাচবে। আরও থাকবে কিছু আবৃত্তি, গান এইসব।
এর পরের কয়েকদিন সারা পাড়া জুড়েই বেশ ব্যস্ত সময় কাটলো। একেকজনের বাড়িতে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে রিহার্সেল। সিরাজোদ্দৌলার দল আমাদের বাসায়, নাচের দল কল্যাণী আপার বাসায়, কোরাস গানের দল তপু ভাবির বাসায় এই রকম। ছোটদের নাটকের দলটার কোনো স্থায়ী নিবাস নেই, যে যখন জায়গা দেয় আর কি। এরমধ্যে রিমা-লিমাকে নাচের জন্য সিলেক্ট করা হয়েছে। ওরা দুইজন হেমন্তের নাচ করবে - ‘হিমের রাতের ওই গগনের দীপগুলিরে…’। মণীষা কবিতা আবৃত্তি করবে। আমাকে যেহেতু কেউ তেমন চেনে না, তাই কোরাসের দলে যাওয়া আসা করছি।
সেই দিন তপু ভাবির বাসায় পৌঁছে দেখি নাটকের দলও সেখানেই। অর্থাৎ জিয়া ভাই, নিপু ভাই, রণক, বিভা, কামিনী আপা আর শায়লা। জিয়া ভাই ক্লাস এইটে পড়তো তখন, আমার হিরো। সবসময় হাসিখুশী, ভীষণ ফরসা, চোখে চশমা। পাড়ার সবাই তাকে চেনে, সবার বাসাতেই অবাধ যাওয়া-আসা। অন্য কেউ যা করলে লোকে ভাবে পাগলামি, জিয়া ভাই করলে সবাই মেনে নেয়। কারণ তাকে সব কিছুতেই মানিয়ে যায়। যেমন পাড়ায় ছেলেদের খেলার দলে বস্তির কয়েকটা ছেলেও আসে খেলতে কারণ ওরা জিয়া ভাইয়ের বন্ধু। মাঝে মাঝেই তাকে দেখা যায় কাজের বুয়া সুফিয়ার দুই বছরের ছেলেকে কাঁধে নিয়ে ঘুরছে। আবার গত বছর মুকুল ভাই যখন একদম বেঁকে বসেছিল এসএসসি পরীক্ষা দেবে না বলে, আর বাসার কেউ তাকে বোঝাতে পারছিল না, তখনও জিয়া ভাইয়ের ডাক পড়েছিল, জিয়া ভাই ঠিকই রাজি করালো তাকে শেষমেশ। আমার খুব ইচ্ছা ছিল নাটকের দলে থাকার, কিন্তু নিজের থেকে বলার সাহস হয় নাই।
নিপু ভাইকেও আমি ভালো চিনি। আমাদের বিল্ডিংয়েই থাকে। মাঝে মাঝে মাঠ থেকে ফেরার সময় আমার ছোট বাইসাইকেলটা উপরে তুলে দেয়। আর রণক ও আমার মতন ক্লাস ফাইভে পড়ে, তবে অন্য স্কুলে। ওর সাথে আমার মাঝে মাঝে কথা হয়, একদিন কাঁঠালি চাপা ফুল তুলে দিয়েছিল।
আমি ঘরে ঢোকার সাথে সাথেই জিয়া ভাই বলে উঠলো, ‘কী খবর রিনা?’
আমি বললাম, ‘মোটামুটি।’
‘হাঃ হাঃ মোটামুটি! আমি মোটা আর ও মুটি হোঃ হোঃ হোঃ!
সবাই আমার দিকে তাকিয়ে হাসলো, যেন জিয়া ভাইয়ের এই ছোট্ট একটু ঠাট্টাতেই আমি দলের একজন হয়ে গেছি।
নাটকের রিহার্সাল হচ্ছিল। সবাই বসে বসেই নিজেদের লাইন বলছে স্ক্রিপ্ট দেখে দেখে। সবার ফুলের নামে নাম। ছেলেদের গোলাপ, টগর আর রঙ্গন। মেয়েদের কামিনী, বেলী আর শিউলি। জিয়া ভাই আমাকে ডেকে তার পাশে বসিয়েছে। তার স্ক্রিপ্টও আমার হাতে, আমি প্রম্পট করে দিচ্ছি আর ও ডায়ালগ বলছে। হঠাৎ বললো, ‘তুমি নাটক করবা?’
‘আমাকে তো কেউ বলে নাই করতে।’ আমি বললাম।
‘তাই কি হলো? অ্যাই বিভা, রিনাও নাটক করবে। চাচাকে বলবা ওর জন্যও ডায়ালগ লিখে দিতে।’
আমি খুশীতে বাকবাকুম করতে করতে বাসায় ফিরলাম সেদিন। আমার জন্যও একটা চরিত্র ঠিক হলো। আমার নাম চাঁপা। দুইটা ডায়ালগ আছে সর্বমোট। আর জিয়াভাই, মানে রঙ্গন যখন যুদ্ধে আহত হয়ে ফিরে আসবে, তখন বেলী আমাকে বলবে পানি এনে দিতে, আমি পানি এনে দিব। বাসায় সারাদিন পানি আনার প্র্যাকটিস শুরু করলাম। আব্বা-আম্মাকে পানি খাওয়াতে খাওয়াতে অতিষ্ট করে ফেললাম।
এদিকে ঠিক হলো, সব দল একসাথে হয়ে রিহার্সাল করতে হবে। কিন্তু কারো বাসায় এত জায়গা নাই। তাই বড়রা মিলে ঠিক করলো, রিহার্সালের উদ্দেশ্যে লাল বিল্ডিংটা ঝাড়ামোছা করে দেয়া হবে আর কিছু বাল্বও লাগানো হবে, সন্ধ্যায় রিহার্সালের সুবিধার জন্য।
যে কথা সেই কাজ। সেদিন সন্ধ্যায় লাল বিল্ডিয়ে রিহার্সাল। জিয়া ভাই আর নিপু ভাই আসলো আমাকে ডাকতে। আম্মা-আব্বা সাধারণত সন্ধ্যার পরে আমাদেরকে একা কোথাও যেতে দেয় না, কিন্তু আজকে সানন্দে রাজি হয়ে গেল। অবশ্য ছোটমামা আর রাজুভাইও বাইরে থেকে সরাসরি লাল বিল্ডিংয়েই চলে যাবে। আমরা তিনজন হেঁটে যাওয়ার সময় মাঠের কোনার লাইটপোস্টের আলোতে আমাদের ছায়া দেখা যাচ্ছিল, লম্বা লম্বা। নিজেকে কত বড় বড় লাগছিল যে তখন!
পৌঁছে দেখি বড় হল ঘরটার একদিকে পোস্টার আঁকছে তনু ভাই আর তাঁর আর্ট কলেজের বন্ধুরা, দিদাস ভাইও আছে সেখানে। ওরা নাকি মঞ্চও সাজাবে। আমরা অন্য পাশে নাটকের দলের মাঝখানে বসে পড়লাম। আরেক দিকে তনু ভাইয়ের বোন, তরু আপা গান করছে ‘আমি পথমঞ্জরী ফুটেছি আঁধার রাতে’। ইস কী সুন্দর গলা, আর তার গলার স্বর সারা হলঘরে ছড়িয়ে পড়ে উঁচু সিলিং পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে, আবার ঘুরতে ঘুরতে নেমে আসছে নিচে। ‘দেবতা চাহে না মোরে, গাঁথে না মালার ডোরে’ - এক দেয়াল থেকে আরেক দেয়ালে ঘুরে ঘুরে ফিরছে সুরটা। ঘরভর্তি মানুষের জমজমাট হট্টগোলের মধ্যেও কেমন রিনরিন করে দুঃখের মতো মনে বেঁধে। যেন আমরা চলে গেলেও গানটা সুরটা এখানেই ঘুরে ঘুরে ভারাক্রান্ত করবে ঘরটাকে।
মামা, রাজু ভাই, রেহানা-সোহানা আপা আর সিরাজোদ্দৌলার বাকি দলবল বসেছে অন্য পাশে। মামা আব্বার পুরানো সাদা শেরোয়ানিটাতে জরি লাগাতে লাগাতে গুনগুন করছে - মোর পিয়া হবে শেরোয়ানি…’ হঠাৎ গুনগুন থামিয়ে গম্ভীর গলায় বললো, ‘আলেয়া!’
‘জাঁহাপনা।’
‘চা বানা!’
সবাই হেসে উঠলো একসাথে। হাসির শব্দও একই ভাবে ঘুরতে লাগলো ঘরের ভেতর, ঠিক যেখানে যেখানে সুরটা পৌঁছেছে সেখানে সেখানে, গানের সুরের দুঃখকে আড়াল করা পর্দার মতন, তবু হাসির আড়ালেই সেই সুরটাও আছে আমরা জানি।
এমন সময় পাশের ঘরের নাচের রিহার্সাল থেকে কল্যাণী আপা বললো, ‘এই তোমাদের কারো আম্মার কাছে ছাই রঙের শাড়ি আছে। আমি ভাবছি, বৈশাখের জন্য নীলাকে ছাই রঙের শাড়ি পরাবো। কালবৈশাখী সিম্বলাইজ করবে।’
আমি বললাম, ‘আপা আমার আম্মার আছে। ছাই রঙের, লাল পাড়, হবে?’
‘নিয়ে আসতে পারবা এখন? তাহলে বোঝা যেত চলবে কিনা।’
‘জ্বী পারবো।’ আমি উঠে দাঁড়ালাম।
রাজু ভাই বললো, ‘রিনা তুমি একলা ভয় পাইতে পার। রুমা একটু ওর সাথে যাবা প্লিজ।’
যাত্রার দলের থেকে রুমা আপা উঠে এলো।
বাইরে গাড়ি-বারান্দাতে আসতে রুমা আপা বললো, ‘একটু দাঁড়াতে পারবা? আমি বাসায় এই বাটিটা রেখে আসি।’
‘আচ্ছা।’
ওদের বাসা লাল বিল্ডিংয়ের পাশেই। রুমা আপা স্যান্ডেলে শব্দ তুলে বাসার দিকে গেল।
আমি গাড়ি-বারান্দার দুই থামের মাঝখানের ইটের ছোট দেয়ালের উপর উঠে বসলাম। ঘরের ভেতরের আলো আর বাইরের বাগান বিলাসের ছায়া মিলেমিশে আজব চিকরিমিকরি প্যাটার্ন হয়েছে মাটিতে। অনেকটা আমার দাদীর বানানো চালের গুড়ির পাপড়ের মতোন। যখন ঘরের ভেতরের কেউ নড়ছে, এঘর-ওঘর করছে, তখন বাইরের ছায়াটাও দুলে দুলে উঠছে। একই সাথে গান, হাসি, হইচইয়ের শব্দ ভেসে আসছে। সব শোনা যাচ্ছে এখান থেকে, তবু মনে হচ্ছে কত দূরে এসব ঘটে চলেছে, যেন আরেকটা জীবনের অংশ এসব।
একটা বাতাস দিল হঠাৎ, বাগান-বিলাসের লতাগুলিকে কাঁপিয়ে দিয়ে বয়ে গেল। যেন বাড়িটা গাঢ় নিঃশ্বাস নিয়ে জেগে উঠছে, আড়মোড়া ভাঙছে। যেন এতদিন গভীর ঘুমের অন্ধকারে তলিয়ে ছিল রূপকথার হারিয়ে যাওয়া রাজত্বের মতো। দেয়াল বেয়ে নেমে যাওয়া বটগাছের শিকরগুলি দোল খাচ্ছে বাতাসে। আমি ফিরে তাকিয়ে দেখলাম বাড়িটাকে ভালো করে। সিঁড়ি ঘরের ভাঙা জানালাটা গলে আলো উপচে আসছে। ভিতরের উজ্জ্বল আলোতে, হইচই, গানে কী মানিয়েছে বাড়িটাকে। সুন্দর লাগছে খুব, দিদাস ভাইয়ের ছবিটার চেয়েও!
============================আমরা শুক্রবারের সকাল বেলায় বসার ঘরে বসে ছিলাম। মানে আমি, আম্মা, ছোট মামা, রাজু ভাই, খালাম্মা আর দাদী। আব্বা নিজের ঘরে কাজে। রিমা আর লিমা পাড়ার মাঠে। ওদের ততদিনে অনেক বন্ধু হয়েছে। স্কুলের দিন প্রতি বিকালে খেলতে যায় আর ছুটির দিন সকাল বিকাল।
রাজু ভাই কোত্থেকে যেন কাগজের টুকরায় করে কাকের গু ধরে নিয়ে আসছে। এখন জনে জনে সবার সামনে দাঁড়িয়ে ভান করছে সেই জিনিস খাওয়ার। এইবার মোটামুটি সারা বসার ঘর রাউন্ড দেয়ার পর ছোটমামার সামনে দাঁড়ালো। ছোটমামা আর রাজু ভাই প্রায় এক বয়সী, দুইজনই কলেজে পড়ে তখন। রাজুভাই মাথা নিচু করে জিভ বের করে ঢঙ আরম্ভের সাথে সাথেই মামা হঠাৎ রাজুভাইয়ের কাগজ ধরা হাত ধরে উপরে তুলে দিল। সাথে সাথে কাগজের জিনিস মুখে ট্রান্সফার। আমরা কিছুক্ষণ হতভম্ব থাকার পরে হাসতে হাসতে শেষ। বেচারা রাজু ভাই তখন প্রবল আক্রোশে মামার কর্ডের প্যান্টে জিভ মুছছে আর আঃ আঃ জাতীয় শব্দ করছে। মামা পরম আদরে তার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলছে, ‘কেমন লাগে বাপধন? মা-বাবার কথা সাথে সাথে ফলে!’
এমন সময় কলিংবেল। এক মিনিটের মধ্যেই তিনবার বাজাতে বুঝলাম নিশ্চয়ই রিমা-লিমা ফিরলো। আম্মার সাথে সাথে আমিও উঠে গেলাম। দরজার ওপাশ থেকেই কী নিয়ে যেন ওদের বেশ উত্তেজিত কথাবার্তা শোনা যাচ্ছিল। দুইজন একইসাথে কথা বলছিল বলে কিছু বোঝা যাচ্ছিল না। আম্মা দরজা খুলতেই তার দুইহাতের তল দিয়ে দুজন ঢুকে দৌড় লাগালো আব্বার পড়ার ঘরে।
‘অ্যাই কী হইছে? তোর আব্বার ঘরে এখন ঢুকলে কিন্তু রাগ করবে!’ বলতে বলতে আম্মা ওদের পিছন পিছন গেল। আর তার পিছন পিছন আমি। প্রায় একই সাথে চারজনকে ঘরে ঢুকতে দেখে আব্বা মুখ তুলে আম্মার দিকে তাকালো। আম্মা একটা বেচারা বেচারা আধা হাসি শুরু করতে করতেই আব্বা বললো, ‘তুমি এইরকম কুইচা মুরগির মতন সবসময় ছানাপোনা সঙ্গে নিয়ে ঘুরঘুর কর কেন, কী সমস্যা?’
‘আরে ওরাই তো তোমার ঘরে আসলো মাঠ থিকা আইসাই। আমি দেখতে আসলাম কী হইছে।’ আম্মার প্রম্পট পাওয়ার সাথে সাথেই দুইজন একসাথে মুখ খুললো। আব্বা বললো, ‘আরে আরে থামো থামো। একজন একজন করে…হুম বল রিমা।’
‘আচ্ছা আব্বা এক মন তুলার ওজন বেশি না এক মন লোহার ওজন বেশি?’
‘আব্বা লোহার ওজন বেশি না? আমি রিমারে বললাম যে লোহা বেশি ভারি! কিন্তু গাধাটা দৌড়াইয়া বাসায় আসছে। এতক্ষণে ওরা বোধহয় নিয়া গেল।’
‘কী নিয়া গেল?’
আমি বললাম, ‘দিদাস ভাই একটা মাটির হাতি বানাইছে। ওইটা..।’
‘দিদাস ভাই কে?’ আব্বার প্রশ্ন।
‘ওই যে আসছে না? লাল বিল্ডিংয়ের ছবি আঁকতেছে।’
লাল বিল্ডিং মানে ইংরেজ আমলের একটা বাংলো বাড়ি লাল ইটের। দোতলা। পাড়ার এক কোনায়। একসময় ইউনিভার্সিটির এক কেয়ারটেকার থাকতো পরিবারসহ। শুধু একটা ঘর নিয়ে। বাকি ঘরগুলি ব্যাবহারযোগ্যনা। নিচতলায় বড় একটা হলঘরের ভিতর থেকে ঘোরানো সিঁড়ি উঠে গেছে, তার মাঝখানে মাঝখানে আবার ভাঙা। এখন আর কেউ থাকে না। দেয়াল ভেদ করে বটগাছের শিকড় নেমেছে।
‘লাল বিল্ডিং আঁকতেছে কেন?’
আমি বললাম, ‘কী জানি। আর্টিস্ট তো।’
আম্মা বললো, ‘তো এর সাথে লোহা আর তুলার কী সম্পর্ক?’
‘আমরা দোলনার কাছে গেছিলাম লুকাইতে। তখন দেখি দিদাস ভাই ছবি আঁকতেছে। আমাদের সবারই ছবিটা দেখতে ইচ্ছা হইতেছিল কিন্তু বেশি কাছে যাইতে ভয় পাইতেছিলাম। তখন উনিই ডাইকা ছবি দেখাইলো। খুবই ভালো উনি। এখনো পুরাটা আঁকে নাই, কিন্তু খুবই সুন্দর হইতেছে!’
‘হ্যাঁ, আমাদের সাথে অনেক কথাও বললো। ওই সময় মাটির হাতিটা দেখাইলো। উনার পাঞ্জাবীর পকেটে ছিল। একদম ছোট্ট হাতিটা, কালো রঙের। উপরে আবার সোনালী কাজ করা। সব উনি নিজে বানাইছে!’ লিমা দম নেয়ার জন্য থামলে রিমা শুরু করলো, ‘আমাদের সবারই খুব ইচ্ছা হইলো হাতিটা নেয়ার। তখনই ধাঁধাটা দিল দিদাস ভাই। সবাই শুধু একবার উত্তর দিতে পারবে। যে সবচেয়ে আগে বলতে পারবে, তারে দিবে হাতি। তাড়াতাড়ি বলো আব্বা!’
‘উত্তর তো প্রশ্নের মধ্যেই আছে।’ আব্বা বললো হাসতে হাসতে।
ওদের দুইজনকেই মাথা চুলকাতে দেখে আমার দিকে তাকালো আব্বা, ‘রিনা, তোমার তো পারার কথা। ক্লাস ফাইভে উঠছো, বড় মেয়ে তো তুমি।’
এতক্ষণ প্রশ্নটা নিয়ে আমিও দিশাহারা ছিলাম একটু। কিন্তু আব্বার কথাতেই মাথা খুলে গেল, ‘তাই তো! দুইটারই সমান ওজন। দুইটাই এক মন।’
‘বাহ্! আমার মেয়েটার অনেক বুদ্ধি!’
উত্তর পাওয়ার সাথে সাথে আবার দৌড় লাগালো ওরা। একই ভাবে ওদের পিছনে আম্মা আর তার পিছনে আমি।
মামা আর রাজু ভাই বাইরে গেছে। খালাম্মা আর কল্পনা রান্নাঘরে, আম্মাও সেদিকে গেল। আমি বসার ঘর পার হয়ে সামনের বারান্দায় চলে আসলাম। দাদী বেশির ভাগ সময়েই এই বারান্দায় বসে থাকে। সামনে ফুলার রোড আর তার ওইপাশে ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরী স্কুল। আজকে ছুটি, কিন্তু ছায়ানটে ক্লাস হচ্ছে। মাঝে মাঝে রাস্তার রিক্সা, গাড়ি, মানুষের শব্দ ছাপিয়েও গানের সুর ভেসে আসছে।
‘কি করেন বুবু?’ আমি জিজ্ঞেস করলাম দাদীকে।
‘মানু দেহি। কত মানু যাইতেয়াছে রাস্তা দিয়া।’
‘সব সময়েই তো যায়।’
‘একই মানু তো আর সব সময়ে যায় না।’
২.
দিদাস নামটা যেন কেমন। আমার মনে হলো। দাস কি তার পদবী? তাহলে হিন্দু। মানে তার নাম শুধু ‘দি’? এইটা কেমন আবার। ঞযব-দাস! হিঃ হিঃ। দাস মানে তো চাকর। মানে একমাত্র চাকর।
ঞযব-দাস!
কৃতদাস!
কী চাস.
কই যাস?
কাছে আস। হিঃ হিঃ হিঃ।
৩.
আমারও একবার গিয়ে ছবি আঁকা দেখে আসতে ইচ্ছা করছে। কিন্তু একা একা যেতে কেমন লজ্জা লজ্জা লাগে।
এই পাড়ায় মেয়েদের তিনটা দল হয়ে গেছে। একদম কচিকাঁচা থেকে ক্লাস থ্রি/ফোর পর্যন্ত এক দল। ফোর/ফাইভ থেকে নাইন/টেন আরেকটা দল আর কলেজ ইউনিভার্সিটির মেয়েরা মিলে আরেকটা।
ছোট মেয়েদের দলটা বেশির ভাগ সময় খেলে পাড়ার এক প্রান্তে করা পার্কে। মুখে মুখে যার নাম হয়েছে ‘দোলনা’। অথচ কোন দোলনা নাই সেখানে। একসময় ছিল, দুইটা। এখন স্মৃতি হিসাবে লোহার শিকলটুকু রয়ে গেছে। তবে অন্য অনেক কিছু আছে। দুইটা স্লিপার, দুইটা ঢেকি, একটা তালগাছ আর একটা বাঁদরঝোলা। এর মধ্যেই সারাদিন ব্যস্ত থাকার অনেক মালমশলা জুটে যায়।
মেয়েদের দুই নম্বর দলটা খেলে পাড়ার মাঝখানের খেলার মাঠে। মাঠের অর্ধেকটা মেয়েদের দখলে আর অর্ধেকটা ছেলেদের। গরমকালে ইচ্ছামতোন যা খুশী খেলা, শীতকালে কোর্ট কেটে ব্যাডমিনটন। মাঠের কোণ ঘেসে ঘেসে ছোট ছোট ফুলের কেয়ারী। দোপাটি, ডালিয়া, কসমস আরো কী কী যেন।
কলেজ-ইউনিভার্সিটিতে পড়া মেয়েদের দল খেলে না। ওরা মাঠের চারপাশ ঘিরে পাকা রাস্তায় দল বেঁধে হাঁটে আর অনেক গল্প করে, হাসে। মাঝে মাঝে কোন বাড়ির সামনে রিকশা বা গাড়ি থামলে জায়গা করে দেয়ার জন্য সবাই একপাশে সরে দাঁড়ায়।
পাড়ায় খেলে ছেলেদের একটাই দল। বেশির ভাগ সময় দৌড়াদৌড়ি ধরনের খেলা থাকে ওদের। মাঝে মাঝে অন্য পাড়ার ছেলেরাও আসে খেলতে। তবে কলেজ-ইউনিভার্সিটির ছেলেরা সাধারণত পাড়ায় থাকে না বেশির ভাগ সময়। ওদেরকে শুধু যেতে-আসতে দেখি।
এই অলিখিত নিয়ম অনুসারে আমার থাকার কথা ছিল মাঝারী মেয়েদের দলে। কিন্তু কেন যেন আমার সাথে কেউ খেলতে চাইতো না। আরেকটু ছোটবেলায় যখন রিমা-লিমার তেমন বন্ধু হয় নাই পাড়ায়, আমরা তিনজন একসাথে ঘুরতাম মাঠে। ‘দোলনা’য় খেলতাম। সেই সময় লাল বিল্ডিংয়ে রোমেল-সোহেলরা থাকতো। লাল বিল্ডিংয়ের গাড়ি-বারান্দা ছিল একটা, তার সামনে থেকেই দোলনার শুরু। সেই গাড়ি-বারান্দার দুই ইটের থাম জড়িয়ে বাগান বিলাসের ঝোপ উঠে গেছে অযতেœ। জংলা ঝোপ একদম। উপরে উঠতে উঠতে বিল্ডিংয়ের খানিকটা আড়াল করে ফেলেছে। তাতে কাগজের মতন গোলাপী গোলাপী বাগান বিলাস ফুটতো, দেখতাম।
রোমেল ছিল পাগল। সে গাড়ি-বারান্দার এপাশ-ওপাশ পায়চারী করতো আর নিজের মনে বিড়বিড় করে কী সব বলতো। একটা হাত সবসময় উঠতো-নামতো যেন অদৃশ্য বল নিয়ে খেলছে। মাঝে মাঝে একা একাই হাসতো। সবাই ভয় পেতাম আমরা, কেউ লাল বিল্ডিংয়ের খুব কাছে যেতাম না তাই। মানুষের মুখে মুখে রটে গিয়েছিল রোমেলকে জ্বিনে ধরেছে। তার থেকে আমার ধারণা হলো ‘দোলনা’র মাটির তলায় নিশ্চয়ই আলাদ্বীনের আশ্চর্য প্রদীপ আছে। আমরা তিনজন সুযোগ পেলেই দোলনার মাটি খুঁড়তাম। আমার ইচ্ছা ছিল মাটি খুঁড়ে খুঁড়ে যে মাটি পাওয়া যাবে, তা দিয়ে দোলনার পাশেই একটা ঘর বানিয়ে আমি একা একা থাকবো। আম্মা মাঝে মাঝে খুব বকাবকি করে। একা থাকলে এইসব আর সহ্য করতে হবে না।
তবে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই রিমা-লিমা স্কুলে ভর্তি হয়ে গেল। যমজ বোন হওয়ার কারণে দুই-জন এক ক্লাসে। তার মধ্যে ওদের স্কুলের কয়েকজন ব›ধু আমাদের পাড়াতেই থাকে। তাই এখানের দলে জমে যেতেও কোনো সমস্যা হয় নাই। আমি কিছুদিন ওদের দলের সাথে সাথে ঘুরেছি, কিন্তু সবাই আমাকে আপা বলে। আর এদের মধ্যে নিজেকে কেমন বেখাপ্পা লাগায় আস্তে আস্তে ছেড়ে এসেছি। রিমা-লিমা খেলাধুলাতেও খুব ভালো। যে কোনো কম্পিটিশানে কিছু না কিছু একটা প্লেস তো থাকেই ওদের। আবার লিমা তো ক্লাস ওয়ানের বছরই ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’ কবিতাটা নির্ভুল আবৃত্তি করতে পারতো! তাই পাড়ায় ওদের ভক্ত অনেক। আমি আবার বাসার ভিতরে যে রকম ডাকাত সর্দারের মতোন চলতে পারি, বাসার বাইরে সেই রকমই লাজুক আর বোকা-বোকা।
এর আগের বছর শীতের সময় মাঠের মাঝখানে কাটা চারটা ব্যাডমিন্টন কোর্টের একটাতে বিপাশা, মিথিলা, কামিনী আপা আর লিপি আপা খেলছিল। আমি আমাদের তিনতলার বারান্দার গ্রিলের আড়াল থেকে খেলতে দেখতাম ওদের, রোজ। শুধু ওরা চারজনই না, নয়-দশজন মেয়ে সব মিলে। চারজন করে খেলতো, বাকিরা কোর্টের পাশে বসে গল্প করতো অথবা ‘বি কুইক’ কিংবা ‘বন্ধুগণ’ খেলতো। প্রতিদিনই ওদের দলে ঢুকতে ইচ্ছা হতো আমার, কিন্তু সে রকম সাহস করে উঠতে পারতাম না। সেদিন অসীম সাহস সঞ্চয় করে মাঠে গেলাম আম্মাকে বলে। সিঁড়ি দিয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে নামলেও কোর্টের কাছে পৌঁছাতে পৌঁছাতে চলার গতি ধীর হলো। অনেক ইতস্তত করে দাঁড়ালাম নেটবাঁধা বাঁশের পাশে। কী বলবো কী বলবো ভাবতে ভাবতে, হঠাৎ মুখ থেকে বের হয়ে গেল, ‘আমারে তোমরা খেলায় নিবা?’
তখনও ঘরে আর বাইরে দুইরকম করে কথা বলা আয়ত্ত করতে পারিনি। নিতান্তই গাঁইয়া উচ্চারণে কথা শুনে ওরা চারজনই খেলা থামিয়ে আমার দিকে তাকালো। তারপর মিথিলা গান গাওয়ার মতন সুর করে বললো, ‘না আ আ আ।’ বলতে বলতেই হাসিতে গড়িয়ে পড়লো। কোর্টের মাঝখানেই বসে পড়লো হাসতে হাসতে। ওর হাসি দেখে অন্য সবাইও হাসতে থাকলো। আমার চোখের কোন অবধি পানি চলে আসলেও মনে মনে বললাম কিছুতেই কাঁদা যাবে না। আমি জানি বারান্দায় গ্রিলের ওপাশ থেকে আম্মা ঠিকই নজর রাখছে আমার দিকে। আমার এমন ভাব করতে হবে যেন ওদের সাথে আমিও হাসছি। আমার সেই কাঁদো কাঁদো মুখে হাসির অভিনয় খুব অনবদ্য হয়েছিল কিনা কে বলবে, আমি ছাড়া দর্শকও তো ছিল না আর কোন।
এরপরে আর চেষ্টা করিনি। আম্মা অবশ্য করেছিল। একবার পাড়ার আমার বয়সী মেয়েদেরকে বিকালের নাস্তা খাওয়ার দাওয়াত দিয়েছিল। এসেছিল সবাই। কেক, পেস্ট্রি, চানাচুর, গ্লুকোজ বিস্কুট, সাগর কলা ইত্যাদি অনেক মজার মজার খাবার খেতে খেতে আমার সাথে গল্পও করেছে টুকটাক। ওরা চলে যাওয়ার সময় আম্মা অনুরোধ করেছিল বিকাল বেলায় আমাকেও যাতে খেলতে ডাকে। এরপর কয়েকদিন আমার বাসার সামনেও ‘রিইইইনাাাা’ ‘রিইইইনাাাা’ করে ডাকতো কয়েকজন। আর ওদের কণ্ঠস্বরে নিজের নাম বাতাসে মিশে যেতে শুনতে শুনতে খুশীতে ডগমগ করতে করতে আমি নিচে নেমে যেতাম খেলতে। কিন্তু এক বিকালের চানাচুর-বিস্কুট আর কতদিন পেটে থাকে। একসময় ডাক থেমে গেল। আমিও আবার আগের মতোই।
‘রিনা মা, দরজাটা একটু বন্ধ কইরা দাও তো, আমি ডিপার্টমেন্টে যাই।’
‘দাঁড়াও আব্বা, আমিও দোলনায় যাই একটু? লাল বিল্ডিংয়ের ছবি আঁকা দেইখা আসি।’
‘আইচ্ছা চল। স্যান্ডেল পড়।…কইগো রিনার মা, দরজাটা লাগাইয়া দেও।’
আব্বার সাথে বের হয়ে গেলাম। দোতলায় দেখি বিভার আম্মা কলাওয়ালার সাথে দরদাম করছে, ‘এটা কি কলা নাকি? কলার বাচ্চা! এতো দাম চাও কেন?’
আমাদের দেখে লজ্জা পেয়ে হেসে ফেললেন। তাঁর সাথে সালাম বিনিময় করে নিচে নেমে এলাম আমরা। আব্বার হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে প্রশ্ন করলাম, ‘আচ্ছা আব্বা রাজাকার মানে কী?’
‘কই শুনলা এই শব্দ?’
‘সেইদিন রাজুভাই আর ছোটমামা কার কথা জানি বলতেছিল। তার বাবা নাকি রাজাকার ছিল। আমি ভাবলাম রাজা হওয়া তো ভালো কথা, কিন্তু ওরা ওই বন্ধুরে পছন্দ করে না।’
“রাজাকার’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ খারাপ না। আরবী থেকে এসেছে, এখন উর্দুতেও ব্যবহার করা হয়। ‘রাজা’ শব্দের অর্থ খুশী, যে খুশী করে সে রাজাকার। কিন্তু বাংলাদেশে এর অন্য অর্থ।’
‘কী অর্থ?’
‘স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যেইসব বাংলাদেশী পাকিস্তানের হয়ে কাজ করেছিল, তাদের নাম ছিল রাজাকার। তাই এইটা গালি হিসাবে ব্যবহার করা হয়। যেমন কাউকে যদি বেঈমান বল…’
‘বা মীরজাফর বল…’
‘হ্যাঁ, ওইরকমই রাজাকারও। শব্দ বা নামের তো কোন দোষ নাই। মীরজাফর নামটা কি খারাপ? কোন শব্দ বা নামের সাথে ইতিহাস থাকে, তাতেই সে ভালো হয় বা খারাপ হয়।’
আমরা হাঁটতে হাঁটতে দেখলাম মণীষা আসছে। আমরা এক ক্লাসে পড়ি। মাঝে মাঝে একসাথে স্কুলে যাওয়া আসা করি। মণীষাও পাড়ার কারো সাথে তেমন মেশে না। যদিও ওর না মেশাটা আমার মতন না। আমাকে তো কেউ খেলতে নেয় না, তাই। ওর ভাবটা রাজকীয়, যেন সবাইকে ও বন্ধুত্বের যোগ্য মনে করে না। আমার ওর সাথে কথা বলতে অনেক ভালো লাগে। আব্বাকে বিদায় দিয়ে ওর কাছে গেলাম, ‘মনীষা জানো, একজন আর্টিস্ট নাকি লাল বিল্ডিংয়ের ছবি আঁকছে। দেখতে যাবা?’
‘তাই নাকি? চলো।’
দোলনার সামনে গিয়ে দেখি পাঞ্জাবী-পায়জামা পড়া দাড়ীওয়ালা একটা লোক তুলি হাতে ক্যানভাসের সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে লাল বিল্ডিংয়ের দিকে তাকিয়ে দাড়ি চুলকাচ্ছে। আমি সামনে যেতে একটু ইতস্তত করছিলাম, মণীষা আমার হাত ধরে বেশ দৃঢ় পায়ে এগিয়ে গেল, ‘আপনি নাকি লাল বিল্ডিংয়ের ছবি আঁকছেন? দেখতে আসলাম।’
‘খুব খুশীর সংবাদ, দেখো!’ দিদাস ভাই হাসিমুখে বলে ক্যানভাস থেকে কয়েক পা পিছিয়ে আসলেন।
‘আপনি লাল বিল্ডিংয়ের ছবি আঁকতেছেন কেন?’ আমি জানতে চাইলাম।
‘অনেক আগের বিল্ডিং, শুনেছি ইংরেজ আমলে এক জজসাহেব থাকতেন এখানে। মাঝেমাঝে জানতে ইচ্ছা করে সেই সময় এই বিল্ডিংটা কেমন লাগতো দেখতে। তখন হয়তো বাগান ছিল, মালি ছিল, বাসার ভিতর অনেক মানুষের ভিড় ছিল, এখন কেমন একলা। একসময় হয়তো থাকবেই না, অথচ কত রকম দিনের সাক্ষী দালানটা…।’ দিদাস ভাই বিভোর হয়ে কথা বলছিলেন, হয়তো আমাদের উপস্থিতিও ভুলে গিয়েছিলেন খানিকক্ষণের জন্য।
‘কয়দিন ধরে আঁকছেন?’ মনীষার প্রশ্ন।
‘আজকে নিয়ে তিনদিন আসলাম এখানে। কিছু কিছু কাজ অবশ্য বিল্ডিংয়ের সামনে না দাঁড়িয়েও করেছি। ছবিটা শুরু করেছি প্রায় দুই সপ্তাহের মতন।’
আমি ছবি দেখে বেশ মুগ্ধই হয়ে গেলাম। সত্যিকারের বিল্ডিংটার চেয়েও অনেক সুন্দর লাগছে ছবিতে। একদম গাঢ় লাল ইটের বাড়ির সামনে, পিছনে, চারদিকে অনেক রকমের সবুজ - ঘন, হালকা, কোনটা আবার হলুদের কাছাকাছি, কোন পাতার রং গাঢ় হতে হতে প্রায় মেরুন।
লাল বিল্ডিংয়ের একদিকে, দোলনার পাশেই একটা জংলামত জায়গা আছে। সেখানে একটা পানির ট্যাপ আছে আর তার পাশেই ড্রেন। ট্যাপের জায়গাটা শ্যাওলা-জমা, পিচ্ছিল। মাঝে মাঝে বাসার ট্যাপে পানি না থাকলে আমরা এখান থেকে পানি নিয়ে যাই, মানে পাড়ার সবাই। ওই জায়গাতে এমনিতে কারো আসতে ইচ্ছা করে না, নোংরা, ড্রেনের গন্ধ। কিন্তু ছবিতে কী সুন্দর লাগছে। যেন রূপকথার ছোট্ট বন। আবার ছবিতে ঘাসের জঙ্গলের মধ্যে হলুদ সাদা ফুল আঁকা। আর গাড়ি-বারান্দার বাগান বিলাসটাকে কী রূপসী লাগছে ছবিতে! সবুজ লতাপাতার মধ্যে কী সুন্দর থোকায় থোকায় ফুটেছে ফুলগুলি।
দিদাস ভাই তুলিতে রঙ মাখতে মাখতে আমাদের সাথে কথা বলছেন আর সামনেই ঝাড়–দারের দুই মেয়ে পাতা জড়ো করছে ঝাড়– দিয়ে দিয়ে। আমাদের বয়সীই দুইজন। ময়লা প্রিন্টের জামা পরা।
‘আপনি ছবি আঁকেন, আমরা দেখি।’ আমি বললাম।
দিদাস ভাই ক্যানভাসের জঙ্গলের মধ্যে তুলি দিয়ে কয়েকটা আঁক দিতেই ম্যাজিকের মতোন ফুটে উঠলো ছাপা শাড়ি গাছকোমর করে পরে দুটি মেয়ে ঝাড়– দিচ্ছে। মেয়েগুলিকে দেখাচ্ছে ছদ্মবেশী রাজকন্যার মতো। ওদের শাড়ির রঙে চারদিকটা কেমন উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।
‘আপনি ওই মেয়েগুলিকে আঁকলেন এখন, তাই না?’
‘হ্যাঁ।’
‘কিন্তু ওরা তো শাড়ি পরে নাই, জামা পরা।’
‘সব কিছু যেমন আছে ঠিক তেমনি আঁকলে আর আমার ছবিটা আমার হবে কী করে? আমি তো আমি যে ভাবে দেখছি, অথবা দেখতে চাইছি, তাই আঁকছি। খানিকটা কল্পনা, খানিকটা সত্যি।’
‘আচ্ছা, আপনি যে একটা মাটির হাতি বানাইছিলেন, ওইটা কাকে দিলেন?’
‘নাদিয়া পেল, ওই সবচেয়ে আগে আমার ধাঁধার উত্তর দিয়েছিল তো।’
মণীষা বললো, ‘এই ছবিটা আবার কাউকে দিয়ে দিয়েন না যেন!’
‘দিতে মানা করছো?’ দিদাস ভাই কৌতুক-মেশানো হাসি হাসলেন।
‘এত কষ্ট করে ছবি এঁকে দিয়ে দিবেন কেন? আপনি রেখে দেন।’ এমনভাবে বললো মণীষা যেন দিদাস ভাইকে ছবিটা রেখে দেওয়ার পারমিশান দিল ও।
আর কেউ কিছু বলার আগেই ধুপধাপ শব্দে নাদিয়াদের বাসা থেকে দৌড়াতে দৌড়াতে আসলো ওরা কয়েকজন। কে কার আগে দিদাস ভাইয়ের সামনে পৌঁছাতে পারে তার কম্পিটিশান। রিমা-লিমাও আছে সাথে। সামনে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে নীলা বললো, ‘জানেন দিদাস ভাই, আমাদের পাড়ায় না ফাংশান হবে!! আমরা নাচবো।’
‘আল্লাহ তাই!’ আমি উৎসাহ চাপতে না পেরে প্রশ্ন করি।
‘হ্যাঁ! স্বাধীনতা দিবস আর পহেলা বৈশাখ মিলায়া একটা ফাংশান হবে!’ লিমা বললো।
‘দারুণ মজার ব্যাপার। তোমরা কে কী করছো ফাংশানে?’
‘এখনো জানি না, তবে আমি আর রিমা তো টুইন, আমাদেরকে নাকি একসাথে একটা নাচ দিবে, কল্যাণী আপা শিখাবে। উনি তো সার্কেও নাচছিল, জানেন?’
‘বাহ!’
‘হ্যাঁ, আপনি আসবেন কিন্তু দিদাস ভাই, পাড়ার মাঝখানে স্টেজ বানাবে। কালকে বিকালের মিটিং হবে, তখন ঠিক করবে কে কী করবে।’
‘তোমরা আমাকে তারিখ বলে দিও, আসবো।’
আরো কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলার পর বাসায় ফিরে আসলাম আমরা। বসার ঘরে মামা, রাজু ভাই আর উপর তলার রেহানা, সোহানা আপারাও আছে। দেখলাম ফাংশানের খবর ওদের জানা হয়ে গেছে এর মধ্যেই। ওই নিয়েই কথা চলছে।
‘আসেন না আমরা প্রস্তাব দেই সিরাজোদ্দৌলা যাত্রা করবো। পাড়ায় তো যাত্রা হয় নাই কখনো, নতুন ব্যাপার হবে।’ রেহানা আপা বললো।
মামা বললো, ‘ঠিক হ্যায়, আমি রাজি। কিন্তু আমাকে সিরাজোদ্দৌলা বানাতে হবে। আনোয়ার হোসেন এর মতন ‘অভাগা দেশ’ বলে ঘুমায়ে পরার আমার বহুত দিনের খায়েশ। তবে তুমি তাহলে লুতফা বেগম সাজবা আর সোহানা আলেয়া!’
‘ইস মামু! একজন লুতফা, একজন আলেয়া! অন্যদের কে থাকবে তাইলে?’ রাজু ভাই বললো।
‘কেন বাবা মীরজাফর, তোমার ভাগ্যে ঘষিটি খালাম্মা আছে তো।’
‘আহারে ঘষিটির মতন একটা নাম নিয়ে ভদ্রমহিলার ভিলেন হওয়া ছাড়া গতি ছিল নাকি? তার নাম যদি হইত ‘জেবুন্নেসা’ বা ‘মেহজাবিন’ আর তারপরেও স্পাইগিরি করতো তাইলে না হয় কথা ছিল।’ ঘরের সবাই হেসে উঠলো রাজু ভাইয়ের কথায়।
পরদিন বড়দের মিটিংয়ের পর ঠিক হলো ছোটদের একটা নাটক থাকবে স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে, বিভার আব্বা বাংলার প্রফেসার ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে, উনি নাকি এর মধ্যেই নাটক লিখেও ফেলেছেন। কলেজ ইউনিভার্সিটির ছেলেমেয়েরা মিলে সিরাজোদ্দৌলা যাত্রা করবে। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে থাকবে ঋতুরঙ্গ। কোরাসে গান গাইবে কয়েকজন মিলে আর ছোট মেয়েরা নাচবে। আরও থাকবে কিছু আবৃত্তি, গান এইসব।
এর পরের কয়েকদিন সারা পাড়া জুড়েই বেশ ব্যস্ত সময় কাটলো। একেকজনের বাড়িতে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে রিহার্সেল। সিরাজোদ্দৌলার দল আমাদের বাসায়, নাচের দল কল্যাণী আপার বাসায়, কোরাস গানের দল তপু ভাবির বাসায় এই রকম। ছোটদের নাটকের দলটার কোনো স্থায়ী নিবাস নেই, যে যখন জায়গা দেয় আর কি। এরমধ্যে রিমা-লিমাকে নাচের জন্য সিলেক্ট করা হয়েছে। ওরা দুইজন হেমন্তের নাচ করবে - ‘হিমের রাতের ওই গগনের দীপগুলিরে…’। মণীষা কবিতা আবৃত্তি করবে। আমাকে যেহেতু কেউ তেমন চেনে না, তাই কোরাসের দলে যাওয়া আসা করছি।
সেই দিন তপু ভাবির বাসায় পৌঁছে দেখি নাটকের দলও সেখানেই। অর্থাৎ জিয়া ভাই, নিপু ভাই, রণক, বিভা, কামিনী আপা আর শায়লা। জিয়া ভাই ক্লাস এইটে পড়তো তখন, আমার হিরো। সবসময় হাসিখুশী, ভীষণ ফরসা, চোখে চশমা। পাড়ার সবাই তাকে চেনে, সবার বাসাতেই অবাধ যাওয়া-আসা। অন্য কেউ যা করলে লোকে ভাবে পাগলামি, জিয়া ভাই করলে সবাই মেনে নেয়। কারণ তাকে সব কিছুতেই মানিয়ে যায়। যেমন পাড়ায় ছেলেদের খেলার দলে বস্তির কয়েকটা ছেলেও আসে খেলতে কারণ ওরা জিয়া ভাইয়ের বন্ধু। মাঝে মাঝেই তাকে দেখা যায় কাজের বুয়া সুফিয়ার দুই বছরের ছেলেকে কাঁধে নিয়ে ঘুরছে। আবার গত বছর মুকুল ভাই যখন একদম বেঁকে বসেছিল এসএসসি পরীক্ষা দেবে না বলে, আর বাসার কেউ তাকে বোঝাতে পারছিল না, তখনও জিয়া ভাইয়ের ডাক পড়েছিল, জিয়া ভাই ঠিকই রাজি করালো তাকে শেষমেশ। আমার খুব ইচ্ছা ছিল নাটকের দলে থাকার, কিন্তু নিজের থেকে বলার সাহস হয় নাই।
নিপু ভাইকেও আমি ভালো চিনি। আমাদের বিল্ডিংয়েই থাকে। মাঝে মাঝে মাঠ থেকে ফেরার সময় আমার ছোট বাইসাইকেলটা উপরে তুলে দেয়। আর রণক ও আমার মতন ক্লাস ফাইভে পড়ে, তবে অন্য স্কুলে। ওর সাথে আমার মাঝে মাঝে কথা হয়, একদিন কাঁঠালি চাপা ফুল তুলে দিয়েছিল।
আমি ঘরে ঢোকার সাথে সাথেই জিয়া ভাই বলে উঠলো, ‘কী খবর রিনা?’
আমি বললাম, ‘মোটামুটি।’
‘হাঃ হাঃ মোটামুটি! আমি মোটা আর ও মুটি হোঃ হোঃ হোঃ!
সবাই আমার দিকে তাকিয়ে হাসলো, যেন জিয়া ভাইয়ের এই ছোট্ট একটু ঠাট্টাতেই আমি দলের একজন হয়ে গেছি।
নাটকের রিহার্সাল হচ্ছিল। সবাই বসে বসেই নিজেদের লাইন বলছে স্ক্রিপ্ট দেখে দেখে। সবার ফুলের নামে নাম। ছেলেদের গোলাপ, টগর আর রঙ্গন। মেয়েদের কামিনী, বেলী আর শিউলি। জিয়া ভাই আমাকে ডেকে তার পাশে বসিয়েছে। তার স্ক্রিপ্টও আমার হাতে, আমি প্রম্পট করে দিচ্ছি আর ও ডায়ালগ বলছে। হঠাৎ বললো, ‘তুমি নাটক করবা?’
‘আমাকে তো কেউ বলে নাই করতে।’ আমি বললাম।
‘তাই কি হলো? অ্যাই বিভা, রিনাও নাটক করবে। চাচাকে বলবা ওর জন্যও ডায়ালগ লিখে দিতে।’
আমি খুশীতে বাকবাকুম করতে করতে বাসায় ফিরলাম সেদিন। আমার জন্যও একটা চরিত্র ঠিক হলো। আমার নাম চাঁপা। দুইটা ডায়ালগ আছে সর্বমোট। আর জিয়াভাই, মানে রঙ্গন যখন যুদ্ধে আহত হয়ে ফিরে আসবে, তখন বেলী আমাকে বলবে পানি এনে দিতে, আমি পানি এনে দিব। বাসায় সারাদিন পানি আনার প্র্যাকটিস শুরু করলাম। আব্বা-আম্মাকে পানি খাওয়াতে খাওয়াতে অতিষ্ট করে ফেললাম।
এদিকে ঠিক হলো, সব দল একসাথে হয়ে রিহার্সাল করতে হবে। কিন্তু কারো বাসায় এত জায়গা নাই। তাই বড়রা মিলে ঠিক করলো, রিহার্সালের উদ্দেশ্যে লাল বিল্ডিংটা ঝাড়ামোছা করে দেয়া হবে আর কিছু বাল্বও লাগানো হবে, সন্ধ্যায় রিহার্সালের সুবিধার জন্য।
যে কথা সেই কাজ। সেদিন সন্ধ্যায় লাল বিল্ডিয়ে রিহার্সাল। জিয়া ভাই আর নিপু ভাই আসলো আমাকে ডাকতে। আম্মা-আব্বা সাধারণত সন্ধ্যার পরে আমাদেরকে একা কোথাও যেতে দেয় না, কিন্তু আজকে সানন্দে রাজি হয়ে গেল। অবশ্য ছোটমামা আর রাজুভাইও বাইরে থেকে সরাসরি লাল বিল্ডিংয়েই চলে যাবে। আমরা তিনজন হেঁটে যাওয়ার সময় মাঠের কোনার লাইটপোস্টের আলোতে আমাদের ছায়া দেখা যাচ্ছিল, লম্বা লম্বা। নিজেকে কত বড় বড় লাগছিল যে তখন!
পৌঁছে দেখি বড় হল ঘরটার একদিকে পোস্টার আঁকছে তনু ভাই আর তাঁর আর্ট কলেজের বন্ধুরা, দিদাস ভাইও আছে সেখানে। ওরা নাকি মঞ্চও সাজাবে। আমরা অন্য পাশে নাটকের দলের মাঝখানে বসে পড়লাম। আরেক দিকে তনু ভাইয়ের বোন, তরু আপা গান করছে ‘আমি পথমঞ্জরী ফুটেছি আঁধার রাতে’। ইস কী সুন্দর গলা, আর তার গলার স্বর সারা হলঘরে ছড়িয়ে পড়ে উঁচু সিলিং পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে, আবার ঘুরতে ঘুরতে নেমে আসছে নিচে। ‘দেবতা চাহে না মোরে, গাঁথে না মালার ডোরে’ - এক দেয়াল থেকে আরেক দেয়ালে ঘুরে ঘুরে ফিরছে সুরটা। ঘরভর্তি মানুষের জমজমাট হট্টগোলের মধ্যেও কেমন রিনরিন করে দুঃখের মতো মনে বেঁধে। যেন আমরা চলে গেলেও গানটা সুরটা এখানেই ঘুরে ঘুরে ভারাক্রান্ত করবে ঘরটাকে।
মামা, রাজু ভাই, রেহানা-সোহানা আপা আর সিরাজোদ্দৌলার বাকি দলবল বসেছে অন্য পাশে। মামা আব্বার পুরানো সাদা শেরোয়ানিটাতে জরি লাগাতে লাগাতে গুনগুন করছে - মোর পিয়া হবে শেরোয়ানি…’ হঠাৎ গুনগুন থামিয়ে গম্ভীর গলায় বললো, ‘আলেয়া!’
‘জাঁহাপনা।’
‘চা বানা!’
সবাই হেসে উঠলো একসাথে। হাসির শব্দও একই ভাবে ঘুরতে লাগলো ঘরের ভেতর, ঠিক যেখানে যেখানে সুরটা পৌঁছেছে সেখানে সেখানে, গানের সুরের দুঃখকে আড়াল করা পর্দার মতন, তবু হাসির আড়ালেই সেই সুরটাও আছে আমরা জানি।
এমন সময় পাশের ঘরের নাচের রিহার্সাল থেকে কল্যাণী আপা বললো, ‘এই তোমাদের কারো আম্মার কাছে ছাই রঙের শাড়ি আছে। আমি ভাবছি, বৈশাখের জন্য নীলাকে ছাই রঙের শাড়ি পরাবো। কালবৈশাখী সিম্বলাইজ করবে।’
আমি বললাম, ‘আপা আমার আম্মার আছে। ছাই রঙের, লাল পাড়, হবে?’
‘নিয়ে আসতে পারবা এখন? তাহলে বোঝা যেত চলবে কিনা।’
‘জ্বী পারবো।’ আমি উঠে দাঁড়ালাম।
রাজু ভাই বললো, ‘রিনা তুমি একলা ভয় পাইতে পার। রুমা একটু ওর সাথে যাবা প্লিজ।’
যাত্রার দলের থেকে রুমা আপা উঠে এলো।
বাইরে গাড়ি-বারান্দাতে আসতে রুমা আপা বললো, ‘একটু দাঁড়াতে পারবা? আমি বাসায় এই বাটিটা রেখে আসি।’
‘আচ্ছা।’
ওদের বাসা লাল বিল্ডিংয়ের পাশেই। রুমা আপা স্যান্ডেলে শব্দ তুলে বাসার দিকে গেল।
আমি গাড়ি-বারান্দার দুই থামের মাঝখানের ইটের ছোট দেয়ালের উপর উঠে বসলাম। ঘরের ভেতরের আলো আর বাইরের বাগান বিলাসের ছায়া মিলেমিশে আজব চিকরিমিকরি প্যাটার্ন হয়েছে মাটিতে। অনেকটা আমার দাদীর বানানো চালের গুড়ির পাপড়ের মতোন। যখন ঘরের ভেতরের কেউ নড়ছে, এঘর-ওঘর করছে, তখন বাইরের ছায়াটাও দুলে দুলে উঠছে। একই সাথে গান, হাসি, হইচইয়ের শব্দ ভেসে আসছে। সব শোনা যাচ্ছে এখান থেকে, তবু মনে হচ্ছে কত দূরে এসব ঘটে চলেছে, যেন আরেকটা জীবনের অংশ এসব।
একটা বাতাস দিল হঠাৎ, বাগান-বিলাসের লতাগুলিকে কাঁপিয়ে দিয়ে বয়ে গেল। যেন বাড়িটা গাঢ় নিঃশ্বাস নিয়ে জেগে উঠছে, আড়মোড়া ভাঙছে। যেন এতদিন গভীর ঘুমের অন্ধকারে তলিয়ে ছিল রূপকথার হারিয়ে যাওয়া রাজত্বের মতো। দেয়াল বেয়ে নেমে যাওয়া বটগাছের শিকরগুলি দোল খাচ্ছে বাতাসে। আমি ফিরে তাকিয়ে দেখলাম বাড়িটাকে ভালো করে। সিঁড়ি ঘরের ভাঙা জানালাটা গলে আলো উপচে আসছে। ভিতরের উজ্জ্বল আলোতে, হইচই, গানে কী মানিয়েছে বাড়িটাকে। সুন্দর লাগছে খুব, দিদাস ভাইয়ের ছবিটার চেয়েও!
গল্প- আলিমের নিভৃতিচর্চা by রাশিদা সুলতানা গল্প- প্রত্যাবর্তন: আমার ‘ফেরা’ নিয়ে যে কাহিনী না ..মানষ চৌঃ গল্প- 'বীচিকলায় ঢেকে যায় মুখ ও শিরোনাম' by আনোয়ার ... গল্প- 'প্রীত পরায়া' by সিউতি সবুর গল্প- 'চলিতেছে' by মাহবুব মোর্শেদ গল্প- 'গোপন কথাটি' by উম্মে মুসলিমা
bdnews24 এর সৌজন্যে
লেখকঃ লুনা রুশদী
এই গল্পটি পড়া হয়েছে...
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1456)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
-
▼
2010
(9402)
-
▼
October
(964)
-
▼
Oct 13
(27)
- গল্প- 'দ্বিতীয় জীবন' by ইরাজ আহমেদ
- গল্প- ‘অপঘাতে মৃত্যু’ ও ‘সাদামাটা’ by লীসা গাজী
- গল্প- 'হাজেরার বাপের দাইক দেনা' by জিয়া হাশান
- গল্প- 'মঙ্গামনস্ক শরীরীমুদ্রা' by ইমতিয়ার শামীম
- সংবিধান সংশোধন ও সংসদে নারী আসন by বদিউল আলম মজুমদার
- ইয়েন-ডলারের বিনিময় হার ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন
- ডিএসই: মূল্যসূচক বেড়েছে ৭৬ পয়েন্টের বেশি
- ডিএসই: সাধারণ মূল্যসূচক বেড়েছে ৬৬.৬২ পয়েন্ট
- কিম জং ইলকে চীন সফরের আমন্ত্রণ
- তালেবানের সঙ্গে আলোচনার কথা নিশ্চিত করলেন কারজাই
- লালগড়ে সিপিএমের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা
- গল্প- 'অস্বস্তির সঙ্গে বসবাস' by ফাহমিদুল হক
- পরীক্ষামূলকভাবে উড়েছে প্রথম বাণিজ্যিক মহাকাশযান
- নৌকাডুবিতে ভারতে ৩৭ জনের প্রাণহানি
- নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকার তদন্ত শুরু হচ্ছে
- কিরগিজস্তানের নির্বাচনে বাকিয়েভ সমর্থিত দল এগিয়ে
- জন্ডিস নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশুদের অটিজমের ঝুঁকি বেশি
- প্রথমবারের মতো মানবভ্রূণের স্টেমসেল দিয়ে চিকিৎসা
- জড়িত কোম্পানির ১০ কোটি ডলার জরিমানা হতে পারে
- এ বছর বিশ্বের ১০০ কোটি মানুষ ক্ষুধাপীড়িত হয়েছে
- কাশ্মীর থেকে নিরাপত্তা বাহিনী সরিয়ে নেওয়ার দাবি আল...
- জিদানকে চান মরিনহো
- ভারতের টেন্ডুলকার বিজয়াভিযান
- বায়ার্ন ছাড়বেন ক্লোসা!
- জয়ের ভেতর আরও জয়
- সঞ্জীব চৌধুরীর কয়েকটি গল্প
- গল্প- 'রূপকথা' by লুনা রুশদী
-
▼
Oct 13
(27)
-
▼
October
(964)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
ইরান
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
কালবেলা
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
রাশিয়া
মুক্তিযুদ্ধ
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সংখ্যালঘু
সৈয়দ আবুল মকসুদ
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
হিন্দু
রুদ্র মিজান
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
স্বাস্থ্য
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
শুভ্র দেব
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
জীবনযাপন
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
তথ্য প্রযুক্তি
অস্ট্রেলিয়া
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
মসজিদ
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
Exclusive
আশরাফুল ইসলাম
ইয়েমেন
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
জনস্বাস্থ্য
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
জোহরান মামদানি
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
ইহুদি
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
বেলজিয়াম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
জর্দান
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
আহমেদ মুনির
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment