Monday, November 25, 2024
একজন ‘বিদ্রোহী’ মুসলিম প্রিন্সেসের কাহিনী: স্বামীকে বললেন- আমাকে গুলি করো, না হয় আমিই করবো
একজন ‘বিদ্রোহী’ মুসলিম প্রিন্সেসের কাহিনী: স্বামীকে বললেন- আমাকে গুলি করো, না হয় আমিই করবো
শৈশব থেকেই আবিদা সুলতানার মধ্যে ছিল তীব্র স্বাধীনচেতা মনোভাব। ১৩ বছর বয়সে দাদী যখন তাকে পর্দায় ঢাকতে চেষ্টা করেন, তখন তিনি তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। তার পিতার বিশাল মানসিকতা ও নিজের আত্মবিশ্বাস তাকে বাকি জীবনে নিজে কি করবেন সেই স্বাধীনতা অর্জনে সহায়তা করেছে। ইতিমধ্যেই ভুপালের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হয়েছেন আবিদা। তা সত্ত্বেও মাত্র ১২ বছর বয়সে প্রতিবেশী কুরাওয়েই রাজ্যে রাজপরিবারের সদস্য হওয়ার সুযোগ আসে তার জীবনে। তার বাল্যবন্ধু ও কুরাওয়েইয়ের শাসক সারওয়ার আলি খানকে বিয়ে করেন। বিবাহ সম্পর্কে বলেছেন এতে কোনো ক্লু ছিল না। একদিন তার কাজিনদের সঙ্গে বালিশযুদ্ধে মত্ত ছিলেন। আবিদা লিখেছেন, এমনই একদিন তার দাদী ওই রুমে প্রবেশ করেন এবং তাকে বিয়ের পোশাক পরতে বলেন। কিন্তু কেউই বলেননি যে- তিনি বিয়ের পাত্রী। আবিদা লিখেছেন- ‘কীভাবে আমাকে প্রস্তুত করতে হবে তা কেউ বলেনি। কেউ নির্দেশনাও দেয়নি। ফলে আমি বিয়ের আসরে হেঁটে উপস্থিত হই। আমার পথে ভিড় করা নারীদের সরিয়ে দিয়ে উন্মুক্ত মুখে এগিয়ে যাই। নতুন কিছু অভিজ্ঞতা হলো।
এই বিয়েটা আবিদার মতোই স্বল্প স্থায়ী ছিল। টিকে ছিল এক দশকেরও কম সময়। বিবাহিত জীবন ছিল তার কাছে বেশ কঠিন। শুধু যে তার বয়স অল্প এ জন্য সমস্যা ছিল এমন নয়। এর কারণ ছিল কঠোর ধর্মীয়ভাবে লালনপালনের কারণে। তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন যৌনতার বিষয়ে জ্ঞানের স্বল্পতা এবং অস্বস্তি তার বিয়েতে কীভাবে প্রভাব ফেলেছিল। আবিদা সুলতানা লিখেছেন- আমার বিয়ের পরপরই আমি বিবাহিত জীবনে এক ট্রমা অবস্থায় প্রবেশ করি। আমি বুঝতে পারিনি যে, এরপর যা আসবে আমার জীবনে তা এতটা ভীতিকর, অসাড় এবং অস্বস্তিকর হবে। এর ফলে যে সমস্যা সৃষ্টি হয় সে সম্পর্কে তিনি লিখেছেন, স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্যে বৈবাহিক যে সম্পর্ক তিনি তা মেনে নিতে পারেননি। এ জন্যই তার বিয়ে ভেঙে যায়। দক্ষিণ এশিয়ায় মুসলিম নারীদের আত্মজীবনীতে অন্তরঙ্গতা ও যৌনতার বিষয়ে গবেষণা করেন ইতিহাসবিদ সিওভান ল্যাম্বার্ট-হার্লি। তিনি তার গবেষণায় তুলে ধরেছেন, কীভাবে আবিদার সৎ স্বীকারোক্তি মুসলিম নারীদের তাদের স্বামীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটায়। এসব বিষয়ে মুসলিম নারীরা লিখতে চান না।
বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর আবিদা কুরওয়াইয়ে তার শ্বশুরালয় ত্যাগ করেন এবং ফিরে যান ভুপালে। কিন্তু তাদের একমাত্র ছেলে শাহরিয়ার মোহাম্মদ খানকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে কাস্টডিয়ান বিরোধ সৃষ্টি হয়। দিনমান লড়াইয়ে হতাশ হয়ে এবং ছেলেকে আলাদা করতে না চেয়ে আবিদা বিরাট এক পদক্ষেপ নেন। তিনি সিদ্ধান্ত নেন স্বামীর গৃহে ফিরে যাবেন। ১৯৩৫ সালের মার্চের এক উষ্ণ রাতে টানা তিন ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে আবিদা সুলতানা ছুটে যান তার স্বামীর কুরওয়াইয়ের বাড়িতে। তার বেডরুমে প্রবেশ করেন আবিদা। একটি রিভলবার বের করেন। তা তার স্বামীর দিকে ছুড়ে দিয়ে সাহসী উচ্চারণে বলেন- ‘আমাকে গুলি করো, না হয় আমি তোমাকে গুলি করবো’। এই ঘটনায় এই দম্পতির মধ্যে শারীরিক সংঘাত পর্যন্ত হয়। তাতে আবিদা বিজয়ী হন। তাতে সন্তানের কাস্টডি কার কাছে থাকবে সেই বিরোধের অবসান হয়। একজন সিঙ্গেল মা হিসেবে ছেলেকে বড় করতে থাকেন। একই সঙ্গে সিংহাসনের দায়িত্বও পালন করতে থাকেন। ১৯৩৫ থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত তিনি নিজের রাজ্যের মন্ত্রিপরিষদ পরিচালনা করেন। তারপর ভুপাল যুক্ত হয় মধ্যপ্রদেশের সঙ্গে।
ভারত সরকারের ভবিষ্যতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত কী হবে সে বিষয়ে বৃটিশ সরকারের ডাকা এক গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দেন আবিদা সুলতানা। এ সময়ই ভারতের মহান নেতা মহাত্মা গান্ধী, মতিলাল নেহরু তার ছেলে জওয়াহেরলাল নেহরুর মতো নেতাদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন জওয়াহেরলাল নেহরু। হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে সম্পর্কের যে অবনতি যাচ্ছিল, তিনি সে বিষয়েও কাজ করেন। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর যে সহিংসতা সৃষ্টি হয় তা দমনেও তিনি ভূমিকা রাখেন। আবিদা তার স্মৃতিকথায় ভুপালে যে বৈষম্যের মুখোমুখি হয়েছেন তারও বর্ণনা করেছেন। এতে আছে তার পরিবারকে কীভাবে বহিরাগত হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছিল। হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে যে সহিংসতা দেখা দিয়েছিল সে সম্পর্কে তিনি স্মৃতিকথায় বিরক্তিকর বর্ণনা দিয়েছেন।
একদিন ভারত সরকার তাকে জানায় যে, মুসলিম শরণার্থীদের নিয়ে একটি ট্রেন পৌঁছাবে ভুপালে। তিনি সেখানে যে তাদেরকে তত্ত্বাবধান করতে উপস্থিত থাকেন। আবিদা সুলতানা লিখেছেন- ‘যখন (ট্রেনের) কম্পার্টমেন্ট খোলা হলো, দেখা গেল তার ভেতরে সবাই মৃত’। আবিদা বলেন, এই সহিংসতা ও অবিশ্বাস তাকে ১৯৫০ সালে পাকিস্তান চলে যেতে বাধ্য করেছিল। তারপর থেকে তিনি তার একমাত্র ছেলেকে নিয়ে তার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায় একেবারে নীরব ছিলেন। পাকিস্তানে তিনি গণতন্ত্রের পক্ষের একজন চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে নারীদের অধিকারের পক্ষে লড়াই করেছেন। ২০০২ সালে করাচিতে তিনি মারা যান। তিনি পাকিস্তানে চলে যাওয়ার পর ভারত সরকার তার বোনকে সিংহাসনে বসায়। কিন্তু ভুপালে আবিদা এখনো সর্বজন পরিচিত। সেখানে জনগণ তাকে ‘বিয়া হুজুর’ ডাক নামে চেনেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1426)
- ► 2025 (3281)
-
▼
2024
(2551)
-
▼
November
(469)
-
▼
Nov 25
(15)
- জিপিএস দেখে পথ চলতে গিয়ে গাড়ি নদীতে, নিহত ৩
- মহাবিশ্বের শুরু কখন by জাহিদ হোসাইন খান
- টাকা না দিলেই গায়ে সাপ ছেড়ে দেওয়ার হুঁমকি
- ভারতে ‘যৌন ব্যবসায়’ বাধ্য করা হচ্ছে বাংলাদেশি তরুণ...
- দুই মাস সূর্যের দেখা মিলবে না শহরে
- ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক বিষয়ক ভাবনা by প্রণয় ভার্মা
- একটি কনসার্ট খুন এবং যৌন হয়রানি দায় কার? by প্রতীক...
- সিলেটে পীযূষের সাজা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
- একজন ‘বিদ্রোহী’ মুসলিম প্রিন্সেসের কাহিনী: স্বামীক...
- নিয়ত সহিহ একতরফা নির্বাচনে বিশ্বাস করি না
- ট্রেড ইউনিয়ন করার শর্ত শিথিলসহ ১১ দফার বাস্তবায়ন চ...
- গুলিতে হাবিবের মৃত্যু: অকূল পাথারে দুই সন্তান by ফ...
- তত্ত্বাবধায়ক প্রশ্নে সবাই একমত
- অরাজকতা
- দরিদ্র কমলেও বৈষম্য বেড়েছে
-
▼
Nov 25
(15)
-
▼
November
(469)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
No comments:
Post a Comment