Friday, February 26, 2016
মাহফুজ আনামের উপলব্ধি, অতঃপর by ফরহাদ মজহার
মাহফুজ আনামের উপলব্ধি, অতঃপর by ফরহাদ মজহার
এক
এগারোর সময় পত্রিকার সম্পাদক হিসাবে নিজের ভূমিকার ভুলের কথা মাহফুজ আনাম
একটি টেলিভিশান টকশোতে স্বীকার করেছেন। তাঁর এই উপলব্ধিকে আন্তরিক মনে না
করার কোন যুক্তি নাই। সরকারপক্ষের টেলিভিশান চ্যানেলটি তাঁকে কথার ফাঁদে
ফেলবার জন্যই তাঁদের অনুষ্ঠানে নিয়েছিল কি না সেটাও আমরা ভাবতে পারি।
কিন্তু যে উপলব্ধির জায়গা থেকে মাহফুজ আনাম সম্প্রতি ভুল স্বীকার করেছেন
তাকে স্বাগত জানাবার জন্যই এই লেখাটি।
মাহফুজ আনামের উপলব্ধি ও স্বীকারোক্তি হচ্ছে এজেন্সির চাপের কাছে একটি পত্রিকার সম্পাদক হিসাবে তাঁর নতি স্বীকার করা ঠিক হয়নি- এ কথা একটি টেলিভিশান চ্যানেলে কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন। তবে তিনি যে শুধু শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরুদ্ধে এজেন্সির দেয়া তথ্য ছেপেছেন তা নয়, খালেদা জিয়া ও বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন রিপোর্ট করেছেন। কিন্তু খালেদা জিয়া কিংবা বিএনপির বিরুদ্ধে তাঁর লেখালিখির কথা তিনি চেপে গিয়েছেন। এখনো উল্লেখ করেন নি। এটা অন্যায় এবং হিপোক্র্যাসি।
তারপরও আমি তাঁর এই উপলব্ধিকে স্বাগত জানাই। ফলে তাঁর এই উপলব্ধির সুযোগ নিয়ে তাঁকে অযথা হয়রানি ও তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলারও তীব্র নিন্দা জানাই।
মাহফুজ আনাম ও মতিউর রহমানকে হয়রানি আমি একটা অশনি সংকেত হিসাবে দেখি। শেখ মুজিবর রহমান দলীয় পত্রিকা ছাড়া বাকশালী আমলে সব পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা যেভাবে একদলীয় শাসন চালাচ্ছেন তাতে তিনি এখনো দীর্ঘকাল ক্ষমতায় থাকবেন কি না তা নিশ্চিত হতে পারছেন না। অতএব তিনি মাহফুজ আনাম ও মতিউর রহমানকে তাঁদের এক এগারোর ভূমিকার জন্য এখন কাটছাঁট করে দেবেন। আওয়ামী লীগের দলীয় স্বার্থের অধীনস্থ না থাকলে কোনো গণমাধ্যমই শেখ হাসিনা রাখবেন না। এই পরিস্থিতি বাকশালের চেয়েও ভয়াবহ হবে। যারা নাগরিক ও মানবিক অধিকারে বিশ্বাস করেন এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন তাঁদের উচিত এই হয়রানির প্রতিবাদ জানানো। দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এই সরকারের অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে সব মামলার জামিন হবার পরেও নতুন মামলা দেখিয়ে তাঁকে এখনো কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। মাহফুজ আনাম ও মতিউর রহমানের উচিত ছিল মাহমুদুর রহমানের নাগরিক ও মানবিক অধিকারের পক্ষে সুদৃঢ় ভাবে দাঁড়ানো। তাঁরা নাম কা ওয়াস্তে বিবৃতি দিয়েছিলেন। কিন্তু কোন নীতিগত দৃঢ়তা তাঁদের মধ্যে আমরা দেখি নি। কিন্তু সে কারণে তাঁকে যখন ক্ষমতাসীনরা হয়রানি করছে আমরা চুপ করে থাকতে পারি না।
এক এগারোর সময় ডেইলি স্টার পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজ আনাম ও প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান সেনা সমর্থিত সরকারের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক দল, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বিপরীতে দাঁড় করিয়ে ক্ষমতার ভারসাম্যে তাঁরা বদল ঘটাতে পেরেছিলেন। এটা তাঁদের শক্তির পরিচয় ছিল, সন্দেহ নাই। এর আগে থেকেই সিপিডিসহ এনজিওদের একাংশকে নিয়ে তাঁরা সৎ মানুষের খোঁজে জাতীয় রাজনীতি প্রবর্তনের প্রয়াস চালিয়েছিলেন। তখনই সুশীলসমাজ নামক সমাজের এই অংশের রাজনৈতিক অজ্ঞতা কিম্বা হিপোক্রাসি ধরা পড়তে শুরু করে। কারণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমস্যা নিছক সৎ মানুষের অভাব নয়। বাংলাদেশে রাষ্ট্রশক্তি ও রাষ্ট্রকাঠামো গড়ে ওঠার সুনির্দিষ্ট ইতিহাস আছে। তারই ফল বাকশালী দুঃশাসন, সেনাশাসকদের কুকীর্তি এবং রাজনীতির দুর্বৃত্তপনা ও দুর্নীতি। এগুলো বাইরের দিক। গোড়ায় রয়েছে আর্থসামাজিক সম্পর্ক ও ব্যবস্থা এবং পুঁজিতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থার প্রান্তিক দেশ হিসাবে বাংলাদেশের জনগণের লড়াই-সংগ্রাম জয়-পরাজয়ের ইতিহাস।
তদুপরি ক্ষমতা, শাসনব্যবস্থা, রাষ্ট্রকাঠামো ইত্যাদি সম্পর্কে সমাজের চিন্তাভাবনা অতিশয় দুর্বল। দলবাজি করা বা রাজনৈতিক দলের পক্ষে অতি নিম্নপর্যায়ের দালালী ছাড়া কোন স্বাধীন বুদ্ধিবৃত্তিক বা সাংবাদিকতার চর্চার দেখা পাওয়া কঠিন। ইত্যাদি নানা কারণে বাংলাদেশের ইতিহাসের মন্দ চরিত্রের দিকটা স্রেফ রাজনীতি বা রাজনৈতিক দলের দোষ হতে পারে না। বরং সেই ক্ষেত্রে সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীসহ যাদের আমরা ‘সুশীল’ বলে অভিহিত করি তাঁদের দায়িত্বটাই সমধিক। অথচ তাঁরা নিজেদের সবসময়ই সমাজ ও রাষ্ট্রের ঊর্ধ্বে ভেবেছেন এবং এখনও ভাবেন, যার ফলে বাংলাদেশের সকল মন্দের জন্য রাজনীতি ও রাজনৈতিক দলকেই শুধু দোষারোপ করেন। এটা একটা বাতিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজেদের ভূমিকা বিচার করে দেখবার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা ও প্রতিভা সুশীলদের মধ্যে দেখা যায় না। এদের চিন্তার দৌড় কতটা সংকীর্ণ সেটা আমরা বুঝতে শুরু করি যখন তারা এক এগারোর আগে দোর্দণ্ড প্রতাপে সৎ মানুষ খোঁজ করতে শুরু করেছিলেন এবং রাজনীতির দুর্নীতিবাজ ও দুর্বৃত্তদের বিপরীতে মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীনদের আবিষ্কার করেছিলেন।
মাহফুজ আনাম ও মতিউর রহমানের দুটো দৈনিক পত্রিকা পড়লে আমরা বুঝতে পারি ইতিহাস ক্ষমতা ও শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে বাংলাদেশের শাসক শ্রেণীর চিন্তাভাবনা কতটা অপরিপক্ব ও সংকীর্ণ। যদি তাঁরা আসলেই উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারার প্রবর্তন চাইতেন এবং কিভাবে বাংলাদেশে তা কায়েম করা সম্ভব সে সম্পর্কে আন্তরিক ভাবে ভাবতেন তাহলে বাংলাদেশে আর যাই হোক একটি ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও সরকার কায়েম হোত না। সেই ক্ষেত্রে তাঁদের নিজেদের চিন্তার সমস্যা কোথায় সেটা আগে তাঁরা নিজেরা পর্যালোচনা করতেন, কিম্বা নিদেন পক্ষে পর্যালোচনা করবার হিম্মত প্রদর্শন করতেন।
মাহফুজ আনাম ও মতিউর রহমান দুটো ফর্মুলা নিয়ে কাজ করেছেন। এক. কোন রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, সৎ মানুষদের রাজনীতিতে বসিয়ে দিলেই বাংলাদেশের সমস্যার সমাধান হবে। বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে গণতন্ত্র, সাম্য, ইনসাফ ইত্যাদি মৌলিক রাজনৈতিক ধারণার বিকাশ ঘটানোরও কোন দরকার নাই। এদেশে বহুজাতিক কোম্পানি বা করপোরেট স্বার্থ কায়েম করা গেলেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। এটা করতে গিয়ে তারা বাংলাদেশের শিল্পপতি বা ব্যবসায়ীদের পক্ষে দাঁড়ান নি। বরং উল্টাটা করেছেন। দাঁড়িয়েছেন বিদেশী বহুজাতিক কম্পানির স্বার্থে। এমনকি সাধারণ মানুষের খাদ্য ব্যবস্থা রক্ষার ন্যূনতম দরদ আমরা তাঁদের মধ্যে দেখি না। ডেইলি স্টার তাদের প্রথম পাতায় মনসান্টোর বিটিবেগুন ও সিনজেন্টার গোল্ডেন রাইসের পক্ষে দাঁড়ায়। এই অবস্থান বাংলাদেশের কৃষি ও কৃষকের সর্বনাশ ঘটায়। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিকাশ ও পরিবেশের সুরক্ষার দিক থেকে এই দু’টি পত্রিকার ভূমিকা এ কারণে নেতিবাচক। এই সমালোচনা আমরা করে যাবো। কিন্তু ক্ষমতাসীনেরা তাঁদের স্বার্থ রক্ষার জন্য পত্রিকা দু’টিকে হয়রানি করবে আমরা তা হতে দিতে পারি না।
তাঁদের দ্বিতীয় ফর্মুলা হচ্ছে পাশ্চাত্যের ওয়ার অন টেররের সঙ্গী হয়ে দেশে ও আন্তর্জাতিক ভাবে ক্ষমতাবান হওয়া। এদেশে তাদের মতাদর্শিক বা রাজনৈতিক দুষমন হিসাবে তারা তাই জর্জ বুশ ও টনি ব্লেয়ারের মতো ইসলামকেই শত্রু গণ্য করেন। যে কারণে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তাঁরা বিএনপি ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের বিরোধী ছিলেন। বিএনপি ও ইসলামপন্থীদের অবশ্যই সমালোচনা হতে পারে। কিন্তু সেকুলারিজমের দোহাই দিয়ে তাঁরা সমর্থন করেছেন জাতীয়তাবাদী ফ্যাসিস্টদের। এই দুই সস্তা ফর্মুলা চর্চা করতে গিয়ে ক্ষমতার ভারসাম্যে শেষাবধি বাংলাদেশে তাঁরা যে বদল ঘটালেন তার কুফলই তাঁরা এখন ভোগ করছেন। বিএনপি ও বিরোধীদলীয় জোটকে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে মাইনাস করবার কাজেও তাঁরা শেখ হাসিনার হাতকেই শক্ত করেছিলেন।
এই সব চিন্তা ও কর্মকাণ্ডের গলদকে সুনির্দিষ্ট ভাবে চিহ্নিত না করে একজন সৎ মানুষকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিলেই বাংলাদেশের রাজনীতির সমস্যা মিটে যাবে এর চেয়ে আজগুবি, অবাস্তব ও অদূরদর্শী চিন্তা আর কিছুই হতে পারে না। বাংলাদেশে ন্যূনতম কাণ্ডজ্ঞান সম্পন্ন যেকোনো নাগরিকই তাদের সুশীল রাজনীতির এই ফাঁপা দিকটা বুঝতে পেরেছিল। সে ক্ষেত্রে সংস্কার নাকি খোলনলচে বদলে দিয়ে সবকিছু নতুন করে শুরু করতে হবে সেটা একটা গুরুত্বপূর্ণ তর্কের বিষয় হতে পারত। ধরে নিচ্ছি সেই তর্কে তাঁরা নিয়মতান্ত্রিক, উদার ও অহিংস রাজনীতির পক্ষে থাকতেন। কারণ ক্ষমতা, রাষ্ট্রকাঠামো কিংবা সামাজিক সম্পর্কের বৈপ্লবিক রূপান্তরের রাজনীতির পক্ষের মানুষ তাঁরা নন। এতে কোন দোষ নাই। কিন্তু পরাশক্তির স্বার্থের সাথে গাঁটছড়া বাঁধা এবং তাঁদের ‘গুড গভর্নেসের’ রাজনীতির ফেরিওয়ালা বা নির্বিচার এজেন্ট হওয়া শুধু দোষের না বরং মারাত্মক অপরাধ। এক এগারোর সময় কোন সুনির্দিষ্ট অবস্থান না নিয়ে বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক উত্তরণের জন্য কী ধরনের রাজনৈতিক পথ নেয়া যেতে পারে তা নিয়ে ফলপ্রসূ তর্কের পরিবেশ তাঁরা তৈরি করতে পারতেন। তার সমূহ সুযোগ ও সুবিধা থাকা সত্ত্বেও এই দুই পত্রিকার সম্পাদক সেসময় তার চর্চা করেননি। এখনো করেন না। বাংলাদেশে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার আদালতে এরা তাঁদের ভূমিকার কারণেই অপরাধী হিসাবেই থেকে যাবেন। এটাই ইতিহাস।
ফলে তাদের ‘সৎ মানুষের সন্ধান’ এবং ‘বদলে যাও বদলে দাও’ জাতীয় স্লোগান ও বিল বোর্ড সাধারণ মানুষ ভালো চোখে দেখেনি। সেই সময় কূটনীতিক মহলের ‘ট্যুস ডে গ্রুপ’, বিভিন্ন কূটনীতিবিদদের হাঁকডাক, ক্ষমতাসীন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করবার প্রতিটি প্রচেষ্টাই সাধারণ মানুষ বঙ্গীয় সুশীলদের বগলে নিয়ে পরাশক্তির ষড়যন্ত্র হিসাবে দেখেছে। তাঁদের অনুমান মিথ্যা হয় নি। দেখা গেল সেনা সমর্থিত সরকার ক্ষমতায় আসার সঙ্গে সঙ্গে মাহফুজ আনাম দাবি করলেন তাঁদের লেখালিখির কারণেই মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীনের সরকার ক্ষমতায় এসেছে।
সৎ মানুষ হিসাবে তারা ডক্টর ইউনূসকে খুঁজে পেয়েছিলেন। ডক্টর ইউনূস প্রকাশ্যে না এসে পেছনে থেকে সমর্থন যুগিয়েছিলেন। এতে তাঁর মান আজও কিছুটা রক্ষিত আছে। কিন্তু এরাই তাঁকে জরুরী অবস্থার অধীনে থেকে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের পরামর্শ দিয়েছিল। তিনি ভুল পথে পা বাড়িয়েছিলেন। কিন্তু একসময় সেই পথে আর এগোলেন না। বললেন, যাঁরা তাঁকে নামিয়েছিল তাঁরা তাঁকে নামিয়ে পিছু হটে গিয়েছে। সেটা রাজনৈতিক দল না করবার বাহানা হিসাবে হয়তো বলেছেন। এভাবে একটি দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় কোন পরিবর্তন আনা যায় না, এই উপলব্ধি ডক্টর ইউনূসের আছে কি না জানি না। কিন্তু জরুরী অবস্থার অধীনে রাজনৈতিক দল না করে স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে পারতেন। কিন্তু একটা সময়ে তিনি প্রকাশ্যে দলীয় রাজনীতিতে আগ্রহী নন সেটা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। শেখ হাসিনার ইউনূস-বিদ্বেষ উৎকট সন্দেহ নাই সময়ে তা মিথ্যা বেহুদা অভিযোগ হলেও ডক্টর ইউনূসের বিরুদ্ধে মুজিব কন্যার গোস্বা করবার সঙ্গত কারণ অবশ্যই আছে। যেখানে প্রধান প্রধান জাতীয় রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ সেখানে ডক্টর ইউনূস তাদের স্থান পূরণ করতে রাজনৈতিক দল করতে নেমেছিলেন। এর ফলে তাঁর গায়ে যে ময়লা লেগে গিয়েছে সেটা টের পেয়ে তিনি রাজনীতি থেকে দ্রুত সরে এলেও এখনও তা ধুয়ে ফেলা যাচ্ছে না। তাঁকে যারা রাজনীতিতে নামিয়েছিল তাঁদের দলে মাহফুজ আনাম ও মতিউর রহমানও আছেন। ডক্টর ইউনূস ছিলেন তাঁদের ‘সৎ মানুষ’ মার্কা রাজনৈতিক ক্যান্ডিডেট। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রাজনীতির টানাপড়েনের কারণে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ডক্টর ইউনূসের ইতিবাচক ভূমিকা রাখবার যথেষ্ট সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু ভুল রাজনৈতিক চিন্তা ও ভুল পদক্ষেপ তা নষ্ট করে দিয়ে গেছে। গণমাধ্যম সরকার গঠনে ও সরকার পতনে গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে পারে। তেমনি রাষ্ট্র নির্মাণ ও রাষ্ট্রগঠনেও গণমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আগামি দিনেও বাংলাদেশকে শক্ত হাতে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে গণমাধ্যমের বিচক্ষণ ভূমিকার প্রয়োজন হবে। এর কোন বিকল্প নাই। মাহফুজ আনাম ও মতিউর রহমান অতীতে ভুল করেছেন বলে আগামিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন না বা রাখতে পারবেন না এটা আমি মনে করি না। এক এগারোতে কেন তাঁরা উদার রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় আস্থা রাখেন নি তার ব্যাখ্যা তাঁরাই শুধু জানেন। নিয়ম কিংবা সাংবিধানিক বিধিবিধান না মেনে সেনাবাহিনীর ঘাড়ে চড়ে প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মী ও ব্যবসায়ীদের কেন তাঁরা শায়েস্তা করতে নেমেছিলেন তার একটা ব্যাখ্যা নিশ্চয়ই তাঁদের আছে। এ ব্যাপারে তাঁদের উপলব্ধিও নিশ্চয়ই আছে।
গণমাধ্যমের ভুলত্রুটি কিম্বা অন্যের লেখালিখির পর্যালোচনা আমরা করতেই পারি। যখনই তা করি তার উদ্দেশ্য বাংলাদেশে সামগ্রিক ভাবে চিন্তা বিকশিত করবার সুযোগগুলো –বিশেষত রাজনৈতিক পরিসর, রাজনৈতিকতা, ক্ষমতা, রাষ্ট্র ইত্যাদি সম্পর্কে সমাজের চিন্তাচেতনা যথাসম্ভব পরিচ্ছন্ন করে তোলা। কিন্তু ক্ষমতাসীনরা স্রেফ ক্ষমতার জোরে আমাদের রাজনৈতিক চিন্তাচেতনার বিরোধীদের নিগৃহীত করবে এটা মেনে নেওয়া হবে চিন্তা, বিবেক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য আত্মঘাতী। আমি অতএব আহ্বান জানাবো যাঁরা ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর রাজনীতির বিরোধিতা করেন তাঁরাও নীতিগত জায়গা থেকে রাষ্ট্র যখন যাকে তাঁকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে অভিযুক্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হবেন। এই অতি প্রাথমিক নীতিগত জায়গা বিনষ্ট হলে গণতন্ত্র দূরে থাকুক বাংলাদেশে কোন ভাবেই আমরা কোন প্রকার ‘রাজনৈতিক পরিসর’ নির্মাণ করতে পারবো না। আমি জানি মাহফুজ আনাম ও মতিউর রহমান ভাবেন নি ক্ষমতাসীনরা যখন মাহমুদুর রহমানকে অন্যায় ভাবে শাস্তি দিচ্ছে, দীর্ঘ দিন কারাগারে বিচার ছাড়া আটকে রেখেছে... সেই প্রকার দুর্দশার শিকার তাঁরা হবেন না। মাহমুদুর রহমানের নাগরিক ও মানবিক অধিকারের পক্ষে পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে তাদের যে দৃঢ় নীতিগত অবস্থান জারি রাখা জরুরি ছিল, সেই অবস্থান তাঁরা নেন নি। আজ তাঁরা নিজেরাই ক্ষমতাসীনদের রোষের শিকার হয়েছেন।
রাজনৈতিক পরিসর নির্মাণ হচ্ছে গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত। এর সহজ অর্থ হচ্ছে সমাজে সমষ্টির স্বার্থ নিয়ে কথা বলবার পরিসর তৈরি করা। সমাজের অনেকের সঙ্গেই আমাদের চিন্তা, মত, সিদ্ধান্ত, ভাবনা ইত্যাদির বিরোধ থাকতে পারে। কিন্তু আমরা সকলেই যদি সমাজের অন্তর্গত হয়ে থাকি তাহলে যাঁদের মতের সঙ্গে আমাদের মতের বিরোধ চরম তাঁদের কথা শোনার ও কথা বলার পরিসর নির্মাণের গুরুত্বকে যেন আমরা উপেক্ষা না করি। পরস্পরের মধ্যে কথা বলার মধ্য দিয়েই সমষ্টির ইচ্ছা ও আকাক্সক্ষা রূপ লাভ করে। যদি আমরা মনে করি মতাদর্শিক ভাবে বিরোধীদের কথা বলার সুযোগ বন্ধ করে দিলেই সেই মতাদর্শ মরে যাবে তাহলে বুঝতে হবে আমরা গভীর কুয়াশার সাম্রাজ্যে বসবাস করছি। চিন্তাকে চিন্তা দিয়েই মোকাবিলা করতে হবে আর তা করতে হলে সমাজে কথা বলার পরিসর শক্তিশালী করতে হবে। হবেই। এর কোনো বিকল্প নাই। আর এটা সফল ভাবে গণমাধ্যমই করে ও করতে পারে। কেন এক-এগারোর সময় মাহফুজ আনাম ও মতিউর রহমান আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনীতি নির্মূল করবার জন্য মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীনকে ক্ষমতায় আনলেন সে সম্পর্কে আমার নিজের ব্যাখ্যা আছে। দুই একটি লেখায় আমি তা উল্লেখও করেছি। সেটা হোল বাংলাদেশে লিবারেলিজম বা উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির সমূহ সম্ভাবনা থাকলেও ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো উদার রাজনীতিতে আস্থাশীল নয়। এটা বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক চিন্তা চেতনা বিকাশের ক্ষেত্রে বড় সড় বিপদের জায়গা। তারা উদার রাজনৈতিক চিন্তার পক্ষের শক্তি নয়। এক এগারোর সময় দেখা গেলো তারা নিয়মতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক চিন্তা-চেতনারও বিরোধী। দ্বিতীয়ত দুটো পত্রিকাই রাজনৈতিক পরিসর নির্মাণ এবং সমাজে শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রক্রিয়া জারি রাখার গুরুত্বকে খাটো করে দেখে। সুশীলদের স্বার্থের পক্ষে দাঁড়াতে গিয়ে তারা রাজনৈতিক দলের বিরোধিতা করে, কিম্বা নিজেরা রাজনৈতিক দলের বিকল্প হতে চায়। এই উচ্চাশা ভয়ঙ্কর। এই দুটো পত্রিকার রাজনৈতিক চেতনার অভাব পত্রিকা দুটিকে এক এগারোর সময় আওয়ামী লীগের ভাষায় অসাংবিধানিক পথে রাজনৈতিক দল বিলোপ... বিশেষত শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে নির্মূল করবার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখা গিয়েছিল। শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার রাজনীতি বাংলাদেশকে দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তপনায় পর্যবসিত করেছে- এতে কোনো সন্দেহ নাই। কিন্তু তার সমাধান তাদের নির্মূল করা নয়। বরং সামাজিক-রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে আরো সচল ও সজীব করে তোলা। দলবাজি নয়, বরং রাজনীতির সজীব প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়েই নতুন রাজনীতির পথ বের করে আনা। সেটা সম্ভব। অবশ্যই সম্ভব, যদি সুশীলদের বিরাজনীতিকরণের চিন্তাভাবনা বাদ দিয়ে আমরা সাধারণ মানুষকে আস্থায় নিতে পারি। তাঁদের আবেগ, ইচ্ছা, আকাক্সক্ষা, সংকল্প, ইত্যাদির প্রতি মনোযোগী থেকে তাকে প্রকাশের ও তর্কবিতর্কের সুযোগ তৈরি করি। সামষ্টিক ইচ্ছা ও অভিপ্রায় নির্মাণের প্রক্রিয়া জারি রাখি। ইত্যাদি। দৈনিক প্রথম আলোর জনপ্রিয়তা প্রমাণ করে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর কাছে পত্রিকাটির গ্রহণযোগ্যতা আছে। কিন্তু এই শক্তিকে ইতিবাচক ভাবে কাজে না খাটিয়ে দৈনিক প্রথম আলো একদিকে তাদের পত্রিকার অভ্যন্তরে সক্রিয় আওয়ামী ও দিল্লি প্রেমিকদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। খেয়ে না খেয়ে খালেদা জিয়া ও তাঁর নেতৃত্বাধীন জোটের বিরোধিতা করা তার খাসিলত হয়ে উঠেছে। অন্য দিকে তাঁরা যুক্ত থেকেছে খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার পরিবারকে রাজনীতি থেকে নির্মূল করবার তৎপরতায়। যার ফল কারো জন্যই শুভ হয়নি এটা খোদ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক পরিসর নির্মাণের কাজটাই গোড়ায় মেরে ফেলার শামিল।
বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ, বিএনপির রাজনীতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিকাশ ও গতিশীল উন্নয়নের পথে বাধা। নাগরিক ও মানবিক অধিকার রক্ষার দিক থেকে দেখলেও এদের সমালোচনা বা বিরোধিতা মোটেও অযৌক্তিক নয়। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তপনা ও দুর্নীতির জায়গা থেকে দেখলে এই দুটি দলের রূপান্তর কিম্বা এদের হাত থেকে নিষ্কৃতি ছাড়া বাংলাদেশের গতিশীল বিকাশ সম্ভব নয়। এসব নিয়ে তর্ক বা আপত্তি করবার কিছু নাই। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কিভাবে। সেটা নিশ্চয়ই এই ধরনের দলের বিপরীতে সেনা সমর্থিত সরকার কায়েম করা নয়। এদের বিপরীতে জয়ী হতে হলে বাংলাদেশকে বেশ দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক প্রক্রিয়া জারি রেখে তার ভেতরেই রাজনৈতিক সচেতনতা নির্মাণের পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। একেই আমি রাজনৈতিক পরিসর নির্মাণ বলে থাকি। গণমাধ্যম এই ক্ষেত্রে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে পারে। ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো সে কাজে নিবিষ্ট না থেকে মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীনকে দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন ঘটাতে চেয়েছে। এই দুই সম্পাদকের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার রুষ্ট হবার এটাই প্রধান কারন। যদিও শেখ হাসিনা নিজেও দাবি করেছেন এক এগারো সরকার তাঁদেরই আন্দোলনের ফল। এবং এক এগারোর সরকারের সকল অপকর্ম তাঁরা ক্ষমা করে দিয়েছেন। এরপর থেকে মাহফুজ আনামকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার দোষে অভিযুক্ত করবার যুক্তি থাকে না। কিম্বা থাকলেও খাটো হয়ে যায়। শেখ হাসিনা যদি মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীনকে ক্ষমা করে দিতে পারেন তো মাহফুজ মতিউরকে ক্ষমা করতে পারছেন না কেন?
এর একটা প্রহসনমূলক দিক আছে। মাঝে মধ্যে ইতিবাচক অর্থে উদার বা লিবারেল চিন্তাভাবনার নমুনা দেখালেও ডেইলি-স্টার প্রথম আলো শেষাবধি দুটো অঘটন ঘটায়। একটি হচ্ছে দলবাজ ভূমিকা পালন করার কাজে নিজেদের নামিয়ে আনা। সেটা তারা করে সেকুলারিজম বা তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষতা সম্পর্কে তাদের অনুমানের জন্য। এই অনুমান হচ্ছে বাংলাদেশে সেকুলারিজম রক্ষা করতে হলে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে সমর্থন করতে হবে। দাঁড়াতে হবে ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে, এদের নির্মূলের কাজে। বাংলাদেশের সেকুলারদের জন্মগত অসুখের কারণে তাঁরা মনে করে ইসলামের সঙ্গে কিম্বা ইসলামপন্থীদের সঙ্গে গণতন্ত্র ও ‘ধর্ম নিরপেক্ষতার’ প্রশ্নে কোনো নেগোশিয়েশান্স, চিন্তার পুনর্বিন্যাস ও পুনর্গঠনের কোন সুযোগ নাই। ইসলামপন্থীদের সাথে কোন রাজনৈতিক পরিসর নির্মাণ, বোঝাপড়া তৈরি করার কোনো সুযোগ তৈরি করতে এরা চায় না। বরং তাঁদের কাজ হচ্ছে খেয়ে-না-খেয়ে ইসলাম সংশ্লিষ্ট যেকোনো কিছুর বিরোধিতা করা। এটাই প্রহসনের জায়গা। দুটো পত্রিকাই মূলত বিএনপির রাজনীতির বিরোধিতা করে। কিন্তু তাতেও দুই সম্পাদক শেখ হাসিনার মন জয় করতে পারেননি। পারেননি কারণ তাঁরা খোদ শেখ হাসিনাকেই নির্মূল করে বোঝাতে চেয়েছেন শেখ হাসিনার ইসলাম নির্মূলের কাজটা তাঁরা আরো ভালো পারবেন।
ইদানীং প্রথম আলোতে দেখছি ইসলাম সম্পর্কে ভুল চিন্তা সামাল দেবার জন্য তাঁদের সম্পাদকীয় পাতায় ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে বয়ান দেওয়া। ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে লেখালিখি দেখে আমি খুশি হয়েছি। কিন্তু দেখলাম এটা নিছকই ধর্ম প্রচার মাত্র। ইসলামের আদৌ কোনো আদর্শগত ও রাজনৈতিক চিন্তা প্রথম আলোর উদার রাজনীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কি না তার বিচার নয়। সম্ভবত তারা ইসলামপন্থীদের সহানুভূতি চাইছে। তবে সেটা করতে গিয়ে ইসলাম সম্পর্কে পর্যালোচনামূলক লেখালিখি না করে ধর্ম শিক্ষা বা ধর্মপ্রচারকের ভূমিকায় নামাটা হচ্ছে প্রথম আলোর সবচেয়ে হাস্যকর ভূমিকা। এই সব জায়গাতেই প্রথম আলোর চূড়ান্ত হিপোক্রাসি ধরা পড়ে। সত্য এই যে ‘ইসলাম’ একাট্টা কিছু নয়। ইসলাম নানান কিসিমের নানান মতাদর্শের নানান রাজনীতির। প্রশ্ন হচ্ছে উদার ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য ইসলাম প্রণোদিত কী ধরনের চিন্তা ডেইলি স্টার বা প্রথম আলোর দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ? তাকে তারা কিভাবে হাজির করে সেটাই মুখ্য বিষয়। ইসলাম প্রচার তাদের কাজ না। ধর্মের পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে সমাজে ইতিবাচক কথাবার্তা ও ডায়ালগের শর্ত তৈরি করা এখনও বড় একটি কাজ। যে কাজ রাজনৈতিক পরিসর গড়ে ওঠার শর্ত নিশ্চিত করে। ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর ভূমিকা সম্পর্কে আমাদের সমালোচনা অব্যাহত থাকবে। উভয়েই করপোরেট স্বার্থের পাহারাদার। সেটা ভিন্ন একটি বিতর্ক। কিন্তু সামগ্রিক ভাবে গণমাধ্যমের সঙ্গে পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থার সম্পর্ক বিচার না করে বিচ্ছিন্ন ভাবে শুধু দুটো পত্রিকার কর্পোরেট স্বার্থ রক্ষার চরিত্র আলোচনা সঙ্গত হবে না। বরং এখন মাহফুজ আনামকে যেভাবে ক্ষমতাসীনরা শায়েস্তা করতে চাইছে তার বিরোধিতা কর্তব্য।
শেষ করবার আগে বর্তমান ক্ষমতাসীনরা ‘দৈনিক আমার দেশ’ বন্ধ করে দেবার পর তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে ৩ জুন ২০১০ তারিখে মাহফুজ আনাম যে সম্পাদকীয় লিখেছিলেন পাঠকদের তা মনে করিয়ে দিচ্ছি।
'As a newspaper upholding journalistic professionalism and freedom, we have, however, found it difficult at times to appreciate the brand of journalism that the Amar Desh was pursuing. Still it is our firm conviction that a dissenting voice, however venomous and thinly founded, must be allowed space because it is an integral part of a functioning democracy, a touchstone of free press and an axiom that the people will be the ultimate judge of all opinions. No matter how opaque or squinted or biased a report and a view-point maybe for or against somebodz it must get a free play not only to enrich environment of free press but also strengthen the institutions of democracy'.
‘যে সাংবাদিকতার পেশা ও স্বাধীনতায় আমরা বিশ্বাসী সেই দিক থেকে দৈনিক আমার দেশ-এর সাংবাদিকতা আমাদের পক্ষে সবসময় প্রশংসা করা কঠিন, তবুও এটা আমাদের বিশ্বাস যে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর তা যতোই বিষোদ্গারী হোক ও হালকা ভিত্তির ওপর দাঁড়াক- তাকেও অবশ্যই জায়গা করে দিতে হবে। কারণ তা গণতন্ত্র সক্রিয় রাখার জন্য জরুরি, স্বাধীন সংবাদপত্র আছে কি না তা বিচারের কষ্টিপাথরও এটা আর জনগণই শেষ বিচারক এই নৈতিক মানদণ্ড কার্যকর কি না তার প্রমাণও এটাই। অস্পষ্ট, একচোখা অথবা পক্ষপাতদুষ্ট হোক বা না হোক সাংবাদিকতাকে স্বাধীন ভাবে কাজ করতে দিতে হবে, যেন শুধু মুক্ত সংবাদপত্রের পরিবেশ বিরাজ করা নয়, একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠান হিসাবে গণতন্ত্রকেও তা শক্তিশালী করে’।
বলা হচ্ছে দৈনিক আমার দেশ এবং মাহমুদুর রহমানের সাংবাদিকতা অস্পষ্ট, অপরিচ্ছন্ন, একচোখা, পক্ষপাতদুষ্ট ইত্যাদি। বিরোধী মতাদর্শ হিসাবে দৈনিক আমার দেশও ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো সম্পর্কে একই কথা বলতে পারে। ভিন্ন মতাদর্শের বিরোধিতা ডেইলি স্টার করতেই পারে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে ডেইলি স্টার কি আদৌ গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে সংহত করবার কাজ করে? বা করেছে? যে দাবি তারা করছে তা মোটেও সত্য নয়। যদি এটা সত্য হোত তাহলে গোয়েন্দাদের দেয়া প্রতিবেদন ছাপাতে ডেইলি স্টার অস্বীকার করত। কই, মাহমুদুর রহমান তো ছাপেন নি। এক এগারোর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার ছিলেন মাহমুদুর রহমান। তাহলে সাংবাদিকতায় অস্পষ্ট, পক্ষপাতদুষ্ট ও একচক্ষু কারা? দৈনিক আমার দেশ নয়, বরং ডেইলি স্টার। ডেইলি স্টার এখানে যা লিখেছে তা তাদের হিপোক্র্যাসির একটা নজির, মাত্র। তার সঙ্গে আমি একমত নই, কিন্তু এখানে যে নীতিগত প্রশ্ন তোলা হয়েছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসর গড়ে তোলার জন্য তার মূল্য আছে। মাহমুদুর রহমানের সমালোচনার আগে ডেইলি স্টারকে ভাবতে হবে তাদের ইসলামবিদ্বেষের বিষ মোটেও কম ভয়ঙ্কর ও বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য কম ক্ষতিকর নয়। কিন্তু এর বিচার জনগণকেই করতে দেওয়া উচিত। ডেইলি স্টার যা বলছে তা তারা নিজেরা মানে না জানি, তবু এই নীতির আমি দৃঢ় সমর্থক। এই কারণেও মাহফুজ আনামকে সমর্থন করা নাগরিক হিসাবে আমার নৈতিক কর্তব্য মনে করি। এটাই সকলের স্পিরিট হওয়া উচিত।
বাংলাদেশে উদার বা সত্যকারের লিবারেল চিন্তাচেতনার ইতিবাচক ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু ডেইলি স্টার ও দৈনিক প্রথম আলোর রাজনীতি যতোটা এই রাজনীতিকে সততার সঙ্গে বহন করতে পেরেছে তাদের সাফল্যও সেই মাত্রাতেই ঘটেছে। কিন্তু যখনই তারা উদার রাজনীতি পরিহার করে অনুদার রাজনৈতিক নীতি ও কৌশল অবলম্বন করেছে তখনি তা বাংলাদেশের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে উঠেছে।
এই উপলব্ধিটুকু শুধু সবার ঘটুক, আমরা যেন এগিয়ে যেতে পারি।
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬। ১৩ ফাল্গুন ১৪২২। শ্যামলী।
মাহফুজ আনামের উপলব্ধি ও স্বীকারোক্তি হচ্ছে এজেন্সির চাপের কাছে একটি পত্রিকার সম্পাদক হিসাবে তাঁর নতি স্বীকার করা ঠিক হয়নি- এ কথা একটি টেলিভিশান চ্যানেলে কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন। তবে তিনি যে শুধু শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরুদ্ধে এজেন্সির দেয়া তথ্য ছেপেছেন তা নয়, খালেদা জিয়া ও বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন রিপোর্ট করেছেন। কিন্তু খালেদা জিয়া কিংবা বিএনপির বিরুদ্ধে তাঁর লেখালিখির কথা তিনি চেপে গিয়েছেন। এখনো উল্লেখ করেন নি। এটা অন্যায় এবং হিপোক্র্যাসি।
তারপরও আমি তাঁর এই উপলব্ধিকে স্বাগত জানাই। ফলে তাঁর এই উপলব্ধির সুযোগ নিয়ে তাঁকে অযথা হয়রানি ও তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলারও তীব্র নিন্দা জানাই।
মাহফুজ আনাম ও মতিউর রহমানকে হয়রানি আমি একটা অশনি সংকেত হিসাবে দেখি। শেখ মুজিবর রহমান দলীয় পত্রিকা ছাড়া বাকশালী আমলে সব পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা যেভাবে একদলীয় শাসন চালাচ্ছেন তাতে তিনি এখনো দীর্ঘকাল ক্ষমতায় থাকবেন কি না তা নিশ্চিত হতে পারছেন না। অতএব তিনি মাহফুজ আনাম ও মতিউর রহমানকে তাঁদের এক এগারোর ভূমিকার জন্য এখন কাটছাঁট করে দেবেন। আওয়ামী লীগের দলীয় স্বার্থের অধীনস্থ না থাকলে কোনো গণমাধ্যমই শেখ হাসিনা রাখবেন না। এই পরিস্থিতি বাকশালের চেয়েও ভয়াবহ হবে। যারা নাগরিক ও মানবিক অধিকারে বিশ্বাস করেন এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন তাঁদের উচিত এই হয়রানির প্রতিবাদ জানানো। দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এই সরকারের অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে সব মামলার জামিন হবার পরেও নতুন মামলা দেখিয়ে তাঁকে এখনো কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। মাহফুজ আনাম ও মতিউর রহমানের উচিত ছিল মাহমুদুর রহমানের নাগরিক ও মানবিক অধিকারের পক্ষে সুদৃঢ় ভাবে দাঁড়ানো। তাঁরা নাম কা ওয়াস্তে বিবৃতি দিয়েছিলেন। কিন্তু কোন নীতিগত দৃঢ়তা তাঁদের মধ্যে আমরা দেখি নি। কিন্তু সে কারণে তাঁকে যখন ক্ষমতাসীনরা হয়রানি করছে আমরা চুপ করে থাকতে পারি না।
এক এগারোর সময় ডেইলি স্টার পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজ আনাম ও প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান সেনা সমর্থিত সরকারের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক দল, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বিপরীতে দাঁড় করিয়ে ক্ষমতার ভারসাম্যে তাঁরা বদল ঘটাতে পেরেছিলেন। এটা তাঁদের শক্তির পরিচয় ছিল, সন্দেহ নাই। এর আগে থেকেই সিপিডিসহ এনজিওদের একাংশকে নিয়ে তাঁরা সৎ মানুষের খোঁজে জাতীয় রাজনীতি প্রবর্তনের প্রয়াস চালিয়েছিলেন। তখনই সুশীলসমাজ নামক সমাজের এই অংশের রাজনৈতিক অজ্ঞতা কিম্বা হিপোক্রাসি ধরা পড়তে শুরু করে। কারণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমস্যা নিছক সৎ মানুষের অভাব নয়। বাংলাদেশে রাষ্ট্রশক্তি ও রাষ্ট্রকাঠামো গড়ে ওঠার সুনির্দিষ্ট ইতিহাস আছে। তারই ফল বাকশালী দুঃশাসন, সেনাশাসকদের কুকীর্তি এবং রাজনীতির দুর্বৃত্তপনা ও দুর্নীতি। এগুলো বাইরের দিক। গোড়ায় রয়েছে আর্থসামাজিক সম্পর্ক ও ব্যবস্থা এবং পুঁজিতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থার প্রান্তিক দেশ হিসাবে বাংলাদেশের জনগণের লড়াই-সংগ্রাম জয়-পরাজয়ের ইতিহাস।
তদুপরি ক্ষমতা, শাসনব্যবস্থা, রাষ্ট্রকাঠামো ইত্যাদি সম্পর্কে সমাজের চিন্তাভাবনা অতিশয় দুর্বল। দলবাজি করা বা রাজনৈতিক দলের পক্ষে অতি নিম্নপর্যায়ের দালালী ছাড়া কোন স্বাধীন বুদ্ধিবৃত্তিক বা সাংবাদিকতার চর্চার দেখা পাওয়া কঠিন। ইত্যাদি নানা কারণে বাংলাদেশের ইতিহাসের মন্দ চরিত্রের দিকটা স্রেফ রাজনীতি বা রাজনৈতিক দলের দোষ হতে পারে না। বরং সেই ক্ষেত্রে সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীসহ যাদের আমরা ‘সুশীল’ বলে অভিহিত করি তাঁদের দায়িত্বটাই সমধিক। অথচ তাঁরা নিজেদের সবসময়ই সমাজ ও রাষ্ট্রের ঊর্ধ্বে ভেবেছেন এবং এখনও ভাবেন, যার ফলে বাংলাদেশের সকল মন্দের জন্য রাজনীতি ও রাজনৈতিক দলকেই শুধু দোষারোপ করেন। এটা একটা বাতিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজেদের ভূমিকা বিচার করে দেখবার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা ও প্রতিভা সুশীলদের মধ্যে দেখা যায় না। এদের চিন্তার দৌড় কতটা সংকীর্ণ সেটা আমরা বুঝতে শুরু করি যখন তারা এক এগারোর আগে দোর্দণ্ড প্রতাপে সৎ মানুষ খোঁজ করতে শুরু করেছিলেন এবং রাজনীতির দুর্নীতিবাজ ও দুর্বৃত্তদের বিপরীতে মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীনদের আবিষ্কার করেছিলেন।
মাহফুজ আনাম ও মতিউর রহমানের দুটো দৈনিক পত্রিকা পড়লে আমরা বুঝতে পারি ইতিহাস ক্ষমতা ও শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে বাংলাদেশের শাসক শ্রেণীর চিন্তাভাবনা কতটা অপরিপক্ব ও সংকীর্ণ। যদি তাঁরা আসলেই উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারার প্রবর্তন চাইতেন এবং কিভাবে বাংলাদেশে তা কায়েম করা সম্ভব সে সম্পর্কে আন্তরিক ভাবে ভাবতেন তাহলে বাংলাদেশে আর যাই হোক একটি ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও সরকার কায়েম হোত না। সেই ক্ষেত্রে তাঁদের নিজেদের চিন্তার সমস্যা কোথায় সেটা আগে তাঁরা নিজেরা পর্যালোচনা করতেন, কিম্বা নিদেন পক্ষে পর্যালোচনা করবার হিম্মত প্রদর্শন করতেন।
মাহফুজ আনাম ও মতিউর রহমান দুটো ফর্মুলা নিয়ে কাজ করেছেন। এক. কোন রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, সৎ মানুষদের রাজনীতিতে বসিয়ে দিলেই বাংলাদেশের সমস্যার সমাধান হবে। বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে গণতন্ত্র, সাম্য, ইনসাফ ইত্যাদি মৌলিক রাজনৈতিক ধারণার বিকাশ ঘটানোরও কোন দরকার নাই। এদেশে বহুজাতিক কোম্পানি বা করপোরেট স্বার্থ কায়েম করা গেলেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। এটা করতে গিয়ে তারা বাংলাদেশের শিল্পপতি বা ব্যবসায়ীদের পক্ষে দাঁড়ান নি। বরং উল্টাটা করেছেন। দাঁড়িয়েছেন বিদেশী বহুজাতিক কম্পানির স্বার্থে। এমনকি সাধারণ মানুষের খাদ্য ব্যবস্থা রক্ষার ন্যূনতম দরদ আমরা তাঁদের মধ্যে দেখি না। ডেইলি স্টার তাদের প্রথম পাতায় মনসান্টোর বিটিবেগুন ও সিনজেন্টার গোল্ডেন রাইসের পক্ষে দাঁড়ায়। এই অবস্থান বাংলাদেশের কৃষি ও কৃষকের সর্বনাশ ঘটায়। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিকাশ ও পরিবেশের সুরক্ষার দিক থেকে এই দু’টি পত্রিকার ভূমিকা এ কারণে নেতিবাচক। এই সমালোচনা আমরা করে যাবো। কিন্তু ক্ষমতাসীনেরা তাঁদের স্বার্থ রক্ষার জন্য পত্রিকা দু’টিকে হয়রানি করবে আমরা তা হতে দিতে পারি না।
তাঁদের দ্বিতীয় ফর্মুলা হচ্ছে পাশ্চাত্যের ওয়ার অন টেররের সঙ্গী হয়ে দেশে ও আন্তর্জাতিক ভাবে ক্ষমতাবান হওয়া। এদেশে তাদের মতাদর্শিক বা রাজনৈতিক দুষমন হিসাবে তারা তাই জর্জ বুশ ও টনি ব্লেয়ারের মতো ইসলামকেই শত্রু গণ্য করেন। যে কারণে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তাঁরা বিএনপি ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের বিরোধী ছিলেন। বিএনপি ও ইসলামপন্থীদের অবশ্যই সমালোচনা হতে পারে। কিন্তু সেকুলারিজমের দোহাই দিয়ে তাঁরা সমর্থন করেছেন জাতীয়তাবাদী ফ্যাসিস্টদের। এই দুই সস্তা ফর্মুলা চর্চা করতে গিয়ে ক্ষমতার ভারসাম্যে শেষাবধি বাংলাদেশে তাঁরা যে বদল ঘটালেন তার কুফলই তাঁরা এখন ভোগ করছেন। বিএনপি ও বিরোধীদলীয় জোটকে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে মাইনাস করবার কাজেও তাঁরা শেখ হাসিনার হাতকেই শক্ত করেছিলেন।
এই সব চিন্তা ও কর্মকাণ্ডের গলদকে সুনির্দিষ্ট ভাবে চিহ্নিত না করে একজন সৎ মানুষকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিলেই বাংলাদেশের রাজনীতির সমস্যা মিটে যাবে এর চেয়ে আজগুবি, অবাস্তব ও অদূরদর্শী চিন্তা আর কিছুই হতে পারে না। বাংলাদেশে ন্যূনতম কাণ্ডজ্ঞান সম্পন্ন যেকোনো নাগরিকই তাদের সুশীল রাজনীতির এই ফাঁপা দিকটা বুঝতে পেরেছিল। সে ক্ষেত্রে সংস্কার নাকি খোলনলচে বদলে দিয়ে সবকিছু নতুন করে শুরু করতে হবে সেটা একটা গুরুত্বপূর্ণ তর্কের বিষয় হতে পারত। ধরে নিচ্ছি সেই তর্কে তাঁরা নিয়মতান্ত্রিক, উদার ও অহিংস রাজনীতির পক্ষে থাকতেন। কারণ ক্ষমতা, রাষ্ট্রকাঠামো কিংবা সামাজিক সম্পর্কের বৈপ্লবিক রূপান্তরের রাজনীতির পক্ষের মানুষ তাঁরা নন। এতে কোন দোষ নাই। কিন্তু পরাশক্তির স্বার্থের সাথে গাঁটছড়া বাঁধা এবং তাঁদের ‘গুড গভর্নেসের’ রাজনীতির ফেরিওয়ালা বা নির্বিচার এজেন্ট হওয়া শুধু দোষের না বরং মারাত্মক অপরাধ। এক এগারোর সময় কোন সুনির্দিষ্ট অবস্থান না নিয়ে বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক উত্তরণের জন্য কী ধরনের রাজনৈতিক পথ নেয়া যেতে পারে তা নিয়ে ফলপ্রসূ তর্কের পরিবেশ তাঁরা তৈরি করতে পারতেন। তার সমূহ সুযোগ ও সুবিধা থাকা সত্ত্বেও এই দুই পত্রিকার সম্পাদক সেসময় তার চর্চা করেননি। এখনো করেন না। বাংলাদেশে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার আদালতে এরা তাঁদের ভূমিকার কারণেই অপরাধী হিসাবেই থেকে যাবেন। এটাই ইতিহাস।
ফলে তাদের ‘সৎ মানুষের সন্ধান’ এবং ‘বদলে যাও বদলে দাও’ জাতীয় স্লোগান ও বিল বোর্ড সাধারণ মানুষ ভালো চোখে দেখেনি। সেই সময় কূটনীতিক মহলের ‘ট্যুস ডে গ্রুপ’, বিভিন্ন কূটনীতিবিদদের হাঁকডাক, ক্ষমতাসীন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করবার প্রতিটি প্রচেষ্টাই সাধারণ মানুষ বঙ্গীয় সুশীলদের বগলে নিয়ে পরাশক্তির ষড়যন্ত্র হিসাবে দেখেছে। তাঁদের অনুমান মিথ্যা হয় নি। দেখা গেল সেনা সমর্থিত সরকার ক্ষমতায় আসার সঙ্গে সঙ্গে মাহফুজ আনাম দাবি করলেন তাঁদের লেখালিখির কারণেই মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীনের সরকার ক্ষমতায় এসেছে।
সৎ মানুষ হিসাবে তারা ডক্টর ইউনূসকে খুঁজে পেয়েছিলেন। ডক্টর ইউনূস প্রকাশ্যে না এসে পেছনে থেকে সমর্থন যুগিয়েছিলেন। এতে তাঁর মান আজও কিছুটা রক্ষিত আছে। কিন্তু এরাই তাঁকে জরুরী অবস্থার অধীনে থেকে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের পরামর্শ দিয়েছিল। তিনি ভুল পথে পা বাড়িয়েছিলেন। কিন্তু একসময় সেই পথে আর এগোলেন না। বললেন, যাঁরা তাঁকে নামিয়েছিল তাঁরা তাঁকে নামিয়ে পিছু হটে গিয়েছে। সেটা রাজনৈতিক দল না করবার বাহানা হিসাবে হয়তো বলেছেন। এভাবে একটি দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় কোন পরিবর্তন আনা যায় না, এই উপলব্ধি ডক্টর ইউনূসের আছে কি না জানি না। কিন্তু জরুরী অবস্থার অধীনে রাজনৈতিক দল না করে স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে পারতেন। কিন্তু একটা সময়ে তিনি প্রকাশ্যে দলীয় রাজনীতিতে আগ্রহী নন সেটা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। শেখ হাসিনার ইউনূস-বিদ্বেষ উৎকট সন্দেহ নাই সময়ে তা মিথ্যা বেহুদা অভিযোগ হলেও ডক্টর ইউনূসের বিরুদ্ধে মুজিব কন্যার গোস্বা করবার সঙ্গত কারণ অবশ্যই আছে। যেখানে প্রধান প্রধান জাতীয় রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ সেখানে ডক্টর ইউনূস তাদের স্থান পূরণ করতে রাজনৈতিক দল করতে নেমেছিলেন। এর ফলে তাঁর গায়ে যে ময়লা লেগে গিয়েছে সেটা টের পেয়ে তিনি রাজনীতি থেকে দ্রুত সরে এলেও এখনও তা ধুয়ে ফেলা যাচ্ছে না। তাঁকে যারা রাজনীতিতে নামিয়েছিল তাঁদের দলে মাহফুজ আনাম ও মতিউর রহমানও আছেন। ডক্টর ইউনূস ছিলেন তাঁদের ‘সৎ মানুষ’ মার্কা রাজনৈতিক ক্যান্ডিডেট। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রাজনীতির টানাপড়েনের কারণে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ডক্টর ইউনূসের ইতিবাচক ভূমিকা রাখবার যথেষ্ট সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু ভুল রাজনৈতিক চিন্তা ও ভুল পদক্ষেপ তা নষ্ট করে দিয়ে গেছে। গণমাধ্যম সরকার গঠনে ও সরকার পতনে গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে পারে। তেমনি রাষ্ট্র নির্মাণ ও রাষ্ট্রগঠনেও গণমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আগামি দিনেও বাংলাদেশকে শক্ত হাতে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে গণমাধ্যমের বিচক্ষণ ভূমিকার প্রয়োজন হবে। এর কোন বিকল্প নাই। মাহফুজ আনাম ও মতিউর রহমান অতীতে ভুল করেছেন বলে আগামিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন না বা রাখতে পারবেন না এটা আমি মনে করি না। এক এগারোতে কেন তাঁরা উদার রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় আস্থা রাখেন নি তার ব্যাখ্যা তাঁরাই শুধু জানেন। নিয়ম কিংবা সাংবিধানিক বিধিবিধান না মেনে সেনাবাহিনীর ঘাড়ে চড়ে প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মী ও ব্যবসায়ীদের কেন তাঁরা শায়েস্তা করতে নেমেছিলেন তার একটা ব্যাখ্যা নিশ্চয়ই তাঁদের আছে। এ ব্যাপারে তাঁদের উপলব্ধিও নিশ্চয়ই আছে।
গণমাধ্যমের ভুলত্রুটি কিম্বা অন্যের লেখালিখির পর্যালোচনা আমরা করতেই পারি। যখনই তা করি তার উদ্দেশ্য বাংলাদেশে সামগ্রিক ভাবে চিন্তা বিকশিত করবার সুযোগগুলো –বিশেষত রাজনৈতিক পরিসর, রাজনৈতিকতা, ক্ষমতা, রাষ্ট্র ইত্যাদি সম্পর্কে সমাজের চিন্তাচেতনা যথাসম্ভব পরিচ্ছন্ন করে তোলা। কিন্তু ক্ষমতাসীনরা স্রেফ ক্ষমতার জোরে আমাদের রাজনৈতিক চিন্তাচেতনার বিরোধীদের নিগৃহীত করবে এটা মেনে নেওয়া হবে চিন্তা, বিবেক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য আত্মঘাতী। আমি অতএব আহ্বান জানাবো যাঁরা ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর রাজনীতির বিরোধিতা করেন তাঁরাও নীতিগত জায়গা থেকে রাষ্ট্র যখন যাকে তাঁকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে অভিযুক্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হবেন। এই অতি প্রাথমিক নীতিগত জায়গা বিনষ্ট হলে গণতন্ত্র দূরে থাকুক বাংলাদেশে কোন ভাবেই আমরা কোন প্রকার ‘রাজনৈতিক পরিসর’ নির্মাণ করতে পারবো না। আমি জানি মাহফুজ আনাম ও মতিউর রহমান ভাবেন নি ক্ষমতাসীনরা যখন মাহমুদুর রহমানকে অন্যায় ভাবে শাস্তি দিচ্ছে, দীর্ঘ দিন কারাগারে বিচার ছাড়া আটকে রেখেছে... সেই প্রকার দুর্দশার শিকার তাঁরা হবেন না। মাহমুদুর রহমানের নাগরিক ও মানবিক অধিকারের পক্ষে পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে তাদের যে দৃঢ় নীতিগত অবস্থান জারি রাখা জরুরি ছিল, সেই অবস্থান তাঁরা নেন নি। আজ তাঁরা নিজেরাই ক্ষমতাসীনদের রোষের শিকার হয়েছেন।
রাজনৈতিক পরিসর নির্মাণ হচ্ছে গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত। এর সহজ অর্থ হচ্ছে সমাজে সমষ্টির স্বার্থ নিয়ে কথা বলবার পরিসর তৈরি করা। সমাজের অনেকের সঙ্গেই আমাদের চিন্তা, মত, সিদ্ধান্ত, ভাবনা ইত্যাদির বিরোধ থাকতে পারে। কিন্তু আমরা সকলেই যদি সমাজের অন্তর্গত হয়ে থাকি তাহলে যাঁদের মতের সঙ্গে আমাদের মতের বিরোধ চরম তাঁদের কথা শোনার ও কথা বলার পরিসর নির্মাণের গুরুত্বকে যেন আমরা উপেক্ষা না করি। পরস্পরের মধ্যে কথা বলার মধ্য দিয়েই সমষ্টির ইচ্ছা ও আকাক্সক্ষা রূপ লাভ করে। যদি আমরা মনে করি মতাদর্শিক ভাবে বিরোধীদের কথা বলার সুযোগ বন্ধ করে দিলেই সেই মতাদর্শ মরে যাবে তাহলে বুঝতে হবে আমরা গভীর কুয়াশার সাম্রাজ্যে বসবাস করছি। চিন্তাকে চিন্তা দিয়েই মোকাবিলা করতে হবে আর তা করতে হলে সমাজে কথা বলার পরিসর শক্তিশালী করতে হবে। হবেই। এর কোনো বিকল্প নাই। আর এটা সফল ভাবে গণমাধ্যমই করে ও করতে পারে। কেন এক-এগারোর সময় মাহফুজ আনাম ও মতিউর রহমান আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনীতি নির্মূল করবার জন্য মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীনকে ক্ষমতায় আনলেন সে সম্পর্কে আমার নিজের ব্যাখ্যা আছে। দুই একটি লেখায় আমি তা উল্লেখও করেছি। সেটা হোল বাংলাদেশে লিবারেলিজম বা উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির সমূহ সম্ভাবনা থাকলেও ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো উদার রাজনীতিতে আস্থাশীল নয়। এটা বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক চিন্তা চেতনা বিকাশের ক্ষেত্রে বড় সড় বিপদের জায়গা। তারা উদার রাজনৈতিক চিন্তার পক্ষের শক্তি নয়। এক এগারোর সময় দেখা গেলো তারা নিয়মতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক চিন্তা-চেতনারও বিরোধী। দ্বিতীয়ত দুটো পত্রিকাই রাজনৈতিক পরিসর নির্মাণ এবং সমাজে শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রক্রিয়া জারি রাখার গুরুত্বকে খাটো করে দেখে। সুশীলদের স্বার্থের পক্ষে দাঁড়াতে গিয়ে তারা রাজনৈতিক দলের বিরোধিতা করে, কিম্বা নিজেরা রাজনৈতিক দলের বিকল্প হতে চায়। এই উচ্চাশা ভয়ঙ্কর। এই দুটো পত্রিকার রাজনৈতিক চেতনার অভাব পত্রিকা দুটিকে এক এগারোর সময় আওয়ামী লীগের ভাষায় অসাংবিধানিক পথে রাজনৈতিক দল বিলোপ... বিশেষত শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে নির্মূল করবার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখা গিয়েছিল। শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার রাজনীতি বাংলাদেশকে দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তপনায় পর্যবসিত করেছে- এতে কোনো সন্দেহ নাই। কিন্তু তার সমাধান তাদের নির্মূল করা নয়। বরং সামাজিক-রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে আরো সচল ও সজীব করে তোলা। দলবাজি নয়, বরং রাজনীতির সজীব প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়েই নতুন রাজনীতির পথ বের করে আনা। সেটা সম্ভব। অবশ্যই সম্ভব, যদি সুশীলদের বিরাজনীতিকরণের চিন্তাভাবনা বাদ দিয়ে আমরা সাধারণ মানুষকে আস্থায় নিতে পারি। তাঁদের আবেগ, ইচ্ছা, আকাক্সক্ষা, সংকল্প, ইত্যাদির প্রতি মনোযোগী থেকে তাকে প্রকাশের ও তর্কবিতর্কের সুযোগ তৈরি করি। সামষ্টিক ইচ্ছা ও অভিপ্রায় নির্মাণের প্রক্রিয়া জারি রাখি। ইত্যাদি। দৈনিক প্রথম আলোর জনপ্রিয়তা প্রমাণ করে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর কাছে পত্রিকাটির গ্রহণযোগ্যতা আছে। কিন্তু এই শক্তিকে ইতিবাচক ভাবে কাজে না খাটিয়ে দৈনিক প্রথম আলো একদিকে তাদের পত্রিকার অভ্যন্তরে সক্রিয় আওয়ামী ও দিল্লি প্রেমিকদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। খেয়ে না খেয়ে খালেদা জিয়া ও তাঁর নেতৃত্বাধীন জোটের বিরোধিতা করা তার খাসিলত হয়ে উঠেছে। অন্য দিকে তাঁরা যুক্ত থেকেছে খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার পরিবারকে রাজনীতি থেকে নির্মূল করবার তৎপরতায়। যার ফল কারো জন্যই শুভ হয়নি এটা খোদ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক পরিসর নির্মাণের কাজটাই গোড়ায় মেরে ফেলার শামিল।
বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ, বিএনপির রাজনীতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিকাশ ও গতিশীল উন্নয়নের পথে বাধা। নাগরিক ও মানবিক অধিকার রক্ষার দিক থেকে দেখলেও এদের সমালোচনা বা বিরোধিতা মোটেও অযৌক্তিক নয়। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তপনা ও দুর্নীতির জায়গা থেকে দেখলে এই দুটি দলের রূপান্তর কিম্বা এদের হাত থেকে নিষ্কৃতি ছাড়া বাংলাদেশের গতিশীল বিকাশ সম্ভব নয়। এসব নিয়ে তর্ক বা আপত্তি করবার কিছু নাই। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কিভাবে। সেটা নিশ্চয়ই এই ধরনের দলের বিপরীতে সেনা সমর্থিত সরকার কায়েম করা নয়। এদের বিপরীতে জয়ী হতে হলে বাংলাদেশকে বেশ দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক প্রক্রিয়া জারি রেখে তার ভেতরেই রাজনৈতিক সচেতনতা নির্মাণের পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। একেই আমি রাজনৈতিক পরিসর নির্মাণ বলে থাকি। গণমাধ্যম এই ক্ষেত্রে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে পারে। ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো সে কাজে নিবিষ্ট না থেকে মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীনকে দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন ঘটাতে চেয়েছে। এই দুই সম্পাদকের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার রুষ্ট হবার এটাই প্রধান কারন। যদিও শেখ হাসিনা নিজেও দাবি করেছেন এক এগারো সরকার তাঁদেরই আন্দোলনের ফল। এবং এক এগারোর সরকারের সকল অপকর্ম তাঁরা ক্ষমা করে দিয়েছেন। এরপর থেকে মাহফুজ আনামকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার দোষে অভিযুক্ত করবার যুক্তি থাকে না। কিম্বা থাকলেও খাটো হয়ে যায়। শেখ হাসিনা যদি মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীনকে ক্ষমা করে দিতে পারেন তো মাহফুজ মতিউরকে ক্ষমা করতে পারছেন না কেন?
এর একটা প্রহসনমূলক দিক আছে। মাঝে মধ্যে ইতিবাচক অর্থে উদার বা লিবারেল চিন্তাভাবনার নমুনা দেখালেও ডেইলি-স্টার প্রথম আলো শেষাবধি দুটো অঘটন ঘটায়। একটি হচ্ছে দলবাজ ভূমিকা পালন করার কাজে নিজেদের নামিয়ে আনা। সেটা তারা করে সেকুলারিজম বা তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষতা সম্পর্কে তাদের অনুমানের জন্য। এই অনুমান হচ্ছে বাংলাদেশে সেকুলারিজম রক্ষা করতে হলে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে সমর্থন করতে হবে। দাঁড়াতে হবে ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে, এদের নির্মূলের কাজে। বাংলাদেশের সেকুলারদের জন্মগত অসুখের কারণে তাঁরা মনে করে ইসলামের সঙ্গে কিম্বা ইসলামপন্থীদের সঙ্গে গণতন্ত্র ও ‘ধর্ম নিরপেক্ষতার’ প্রশ্নে কোনো নেগোশিয়েশান্স, চিন্তার পুনর্বিন্যাস ও পুনর্গঠনের কোন সুযোগ নাই। ইসলামপন্থীদের সাথে কোন রাজনৈতিক পরিসর নির্মাণ, বোঝাপড়া তৈরি করার কোনো সুযোগ তৈরি করতে এরা চায় না। বরং তাঁদের কাজ হচ্ছে খেয়ে-না-খেয়ে ইসলাম সংশ্লিষ্ট যেকোনো কিছুর বিরোধিতা করা। এটাই প্রহসনের জায়গা। দুটো পত্রিকাই মূলত বিএনপির রাজনীতির বিরোধিতা করে। কিন্তু তাতেও দুই সম্পাদক শেখ হাসিনার মন জয় করতে পারেননি। পারেননি কারণ তাঁরা খোদ শেখ হাসিনাকেই নির্মূল করে বোঝাতে চেয়েছেন শেখ হাসিনার ইসলাম নির্মূলের কাজটা তাঁরা আরো ভালো পারবেন।
ইদানীং প্রথম আলোতে দেখছি ইসলাম সম্পর্কে ভুল চিন্তা সামাল দেবার জন্য তাঁদের সম্পাদকীয় পাতায় ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে বয়ান দেওয়া। ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে লেখালিখি দেখে আমি খুশি হয়েছি। কিন্তু দেখলাম এটা নিছকই ধর্ম প্রচার মাত্র। ইসলামের আদৌ কোনো আদর্শগত ও রাজনৈতিক চিন্তা প্রথম আলোর উদার রাজনীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কি না তার বিচার নয়। সম্ভবত তারা ইসলামপন্থীদের সহানুভূতি চাইছে। তবে সেটা করতে গিয়ে ইসলাম সম্পর্কে পর্যালোচনামূলক লেখালিখি না করে ধর্ম শিক্ষা বা ধর্মপ্রচারকের ভূমিকায় নামাটা হচ্ছে প্রথম আলোর সবচেয়ে হাস্যকর ভূমিকা। এই সব জায়গাতেই প্রথম আলোর চূড়ান্ত হিপোক্রাসি ধরা পড়ে। সত্য এই যে ‘ইসলাম’ একাট্টা কিছু নয়। ইসলাম নানান কিসিমের নানান মতাদর্শের নানান রাজনীতির। প্রশ্ন হচ্ছে উদার ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য ইসলাম প্রণোদিত কী ধরনের চিন্তা ডেইলি স্টার বা প্রথম আলোর দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ? তাকে তারা কিভাবে হাজির করে সেটাই মুখ্য বিষয়। ইসলাম প্রচার তাদের কাজ না। ধর্মের পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে সমাজে ইতিবাচক কথাবার্তা ও ডায়ালগের শর্ত তৈরি করা এখনও বড় একটি কাজ। যে কাজ রাজনৈতিক পরিসর গড়ে ওঠার শর্ত নিশ্চিত করে। ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর ভূমিকা সম্পর্কে আমাদের সমালোচনা অব্যাহত থাকবে। উভয়েই করপোরেট স্বার্থের পাহারাদার। সেটা ভিন্ন একটি বিতর্ক। কিন্তু সামগ্রিক ভাবে গণমাধ্যমের সঙ্গে পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থার সম্পর্ক বিচার না করে বিচ্ছিন্ন ভাবে শুধু দুটো পত্রিকার কর্পোরেট স্বার্থ রক্ষার চরিত্র আলোচনা সঙ্গত হবে না। বরং এখন মাহফুজ আনামকে যেভাবে ক্ষমতাসীনরা শায়েস্তা করতে চাইছে তার বিরোধিতা কর্তব্য।
শেষ করবার আগে বর্তমান ক্ষমতাসীনরা ‘দৈনিক আমার দেশ’ বন্ধ করে দেবার পর তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে ৩ জুন ২০১০ তারিখে মাহফুজ আনাম যে সম্পাদকীয় লিখেছিলেন পাঠকদের তা মনে করিয়ে দিচ্ছি।
'As a newspaper upholding journalistic professionalism and freedom, we have, however, found it difficult at times to appreciate the brand of journalism that the Amar Desh was pursuing. Still it is our firm conviction that a dissenting voice, however venomous and thinly founded, must be allowed space because it is an integral part of a functioning democracy, a touchstone of free press and an axiom that the people will be the ultimate judge of all opinions. No matter how opaque or squinted or biased a report and a view-point maybe for or against somebodz it must get a free play not only to enrich environment of free press but also strengthen the institutions of democracy'.
‘যে সাংবাদিকতার পেশা ও স্বাধীনতায় আমরা বিশ্বাসী সেই দিক থেকে দৈনিক আমার দেশ-এর সাংবাদিকতা আমাদের পক্ষে সবসময় প্রশংসা করা কঠিন, তবুও এটা আমাদের বিশ্বাস যে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর তা যতোই বিষোদ্গারী হোক ও হালকা ভিত্তির ওপর দাঁড়াক- তাকেও অবশ্যই জায়গা করে দিতে হবে। কারণ তা গণতন্ত্র সক্রিয় রাখার জন্য জরুরি, স্বাধীন সংবাদপত্র আছে কি না তা বিচারের কষ্টিপাথরও এটা আর জনগণই শেষ বিচারক এই নৈতিক মানদণ্ড কার্যকর কি না তার প্রমাণও এটাই। অস্পষ্ট, একচোখা অথবা পক্ষপাতদুষ্ট হোক বা না হোক সাংবাদিকতাকে স্বাধীন ভাবে কাজ করতে দিতে হবে, যেন শুধু মুক্ত সংবাদপত্রের পরিবেশ বিরাজ করা নয়, একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠান হিসাবে গণতন্ত্রকেও তা শক্তিশালী করে’।
বলা হচ্ছে দৈনিক আমার দেশ এবং মাহমুদুর রহমানের সাংবাদিকতা অস্পষ্ট, অপরিচ্ছন্ন, একচোখা, পক্ষপাতদুষ্ট ইত্যাদি। বিরোধী মতাদর্শ হিসাবে দৈনিক আমার দেশও ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো সম্পর্কে একই কথা বলতে পারে। ভিন্ন মতাদর্শের বিরোধিতা ডেইলি স্টার করতেই পারে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে ডেইলি স্টার কি আদৌ গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে সংহত করবার কাজ করে? বা করেছে? যে দাবি তারা করছে তা মোটেও সত্য নয়। যদি এটা সত্য হোত তাহলে গোয়েন্দাদের দেয়া প্রতিবেদন ছাপাতে ডেইলি স্টার অস্বীকার করত। কই, মাহমুদুর রহমান তো ছাপেন নি। এক এগারোর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার ছিলেন মাহমুদুর রহমান। তাহলে সাংবাদিকতায় অস্পষ্ট, পক্ষপাতদুষ্ট ও একচক্ষু কারা? দৈনিক আমার দেশ নয়, বরং ডেইলি স্টার। ডেইলি স্টার এখানে যা লিখেছে তা তাদের হিপোক্র্যাসির একটা নজির, মাত্র। তার সঙ্গে আমি একমত নই, কিন্তু এখানে যে নীতিগত প্রশ্ন তোলা হয়েছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসর গড়ে তোলার জন্য তার মূল্য আছে। মাহমুদুর রহমানের সমালোচনার আগে ডেইলি স্টারকে ভাবতে হবে তাদের ইসলামবিদ্বেষের বিষ মোটেও কম ভয়ঙ্কর ও বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য কম ক্ষতিকর নয়। কিন্তু এর বিচার জনগণকেই করতে দেওয়া উচিত। ডেইলি স্টার যা বলছে তা তারা নিজেরা মানে না জানি, তবু এই নীতির আমি দৃঢ় সমর্থক। এই কারণেও মাহফুজ আনামকে সমর্থন করা নাগরিক হিসাবে আমার নৈতিক কর্তব্য মনে করি। এটাই সকলের স্পিরিট হওয়া উচিত।
বাংলাদেশে উদার বা সত্যকারের লিবারেল চিন্তাচেতনার ইতিবাচক ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু ডেইলি স্টার ও দৈনিক প্রথম আলোর রাজনীতি যতোটা এই রাজনীতিকে সততার সঙ্গে বহন করতে পেরেছে তাদের সাফল্যও সেই মাত্রাতেই ঘটেছে। কিন্তু যখনই তারা উদার রাজনীতি পরিহার করে অনুদার রাজনৈতিক নীতি ও কৌশল অবলম্বন করেছে তখনি তা বাংলাদেশের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে উঠেছে।
এই উপলব্ধিটুকু শুধু সবার ঘটুক, আমরা যেন এগিয়ে যেতে পারি।
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬। ১৩ ফাল্গুন ১৪২২। শ্যামলী।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1338)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
-
▼
2016
(3416)
-
▼
February
(648)
-
▼
Feb 26
(11)
- ভিন্নমত মানেই রাষ্ট্রদ্রোহ নয়
- ভারতীয় গণতন্ত্রে কলঙ্ক আফজাল গুরু by অরুন্ধতী রায়
- ওবামাই কি আমেরিকার শেষ প্রেসিডেন্ট? by মাসুম খলিলী
- শুধু বিএনপির নয়, বিদ্রোহী প্রার্থীরাও ভয় পেয়েছেন! ...
- মাহফুজ আনামের উপলব্ধি, অতঃপর by ফরহাদ মজহার
- জনগণ ও রাজনীতিক by এমাজউদ্দীন আহমদ
- স্বাধীন মত প্রকাশকারীদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে ব...
- ‘ইউসুফ নবী’ কোনো প্রেম করেননি by মাসুদ মজুমদার
- ন্যুব্জ সংবাদমাধ্যম ও দুর্বল গণতন্ত্র by মনজুরুল হক
- সব মেঘে ঢাকা by লবী রহমান
- বাহুবল ট্র্যাজেডিঃ অপরাধের ষোলকলা পূর্ণ রুবেল-জুয়ে...
-
▼
Feb 26
(11)
-
▼
February
(648)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
মালয়েশিয়া
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
স্বাস্থ্য
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
জ্যোতির্বিজ্ঞান
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
মিয়ানমার
ঢাকা
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
জীবনযাপন
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
মেহেদী হাসান
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
ইয়েমেন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
Exclusive
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
উচ্চশিক্ষা
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিজ্ঞান
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
ফরিদপুর
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মহাকাশচারী
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
জোহরান মামদানি
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
ইহুদি
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বকাপ ফুটবল
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হুগজিল্ট

No comments:
Post a Comment