Thursday, June 15, 2023
গল্প- শ্রেষ্ঠ যুদ্ধ by সুশান্ত মজুমদার
গল্প- শ্রেষ্ঠ যুদ্ধ by সুশান্ত মজুমদার

সুনীলের
জীবনে সেই একসময় এসেছিল চারপাশে যখন চরম মৃত্যু। মফস্বল ছেড়ে নদী পার
হওয়ার কালে সে জলে মানুষের গলিত শব দেখেছিল। তিনদিন সুনীল ঘুমাতে পারেনি।
গুলি-আগুন-হত্যাযজ্ঞ-ভস্মীভূত চরাচর দেখে সুনীল হয়ে উঠেছিল সহ্যক্ষম নিরেট
প্রতিবাদী লোহা। নিজে বাঁচতে, মানুষ বাঁচাতে এবং দেশের মাটির দখল রাখতে সে
হয় সাহসী এক মুক্তিযোদ্ধা। বিজয় বহন করে সে ফিরে এসেছিল ধ্বংসত্মূপের নিচে
চাপাপড়া নিজের শহরে। তাদের ঘর-দরজা উধাও – ভিটে চাষ করে সস্তা তরকারির গাছ
লাগিয়েছিল দুশমন রাজাকাররা। স্বাধীনতার জন্য মানুষকে ত্যাগ-বিসর্জন দিতে
হয়। বারোয়ারি সুনীল সামর্থ্য, প্রতিষ্ঠা, আশ্রয় উৎসর্গ করে মিশে যায়
মানুষের ভিড়ে। সময়ের স্রোতে ঘাটে ঘাটে ঘুরে হয় এক অফিসের কর্মচারী। মাথার
ওপর ভাঁড়ার ছাউনি, লবণাক্ত পুরনো দেয়াল, গোঁজামিল দেওয়া কৌটার দাম্পত্য
সম্পর্ক নিয়ে সুনীলের দিনযাপন। তার বর্তমান আখ্যানের একটি টুকরো এখানে
বিবৃত হলো।
মাঝারি গোছের রোজগেরের আবার গোছালো ড্রয়িংরুম; গোঁজামিলে ভরা গৃহস্থের ওই বিশেষ নামের সামনের রুমের অল্প পরিসরে তিন বেলা খাওয়ার, অষ্টপ্রহর বসার সুযোগ; আর রাতে হাত-পা ছড়িয়ে এর মেঝেতে চাদর বা কাঁথা পেতে ব্যবস্থা হয় আঠালো ঘুমের। রুমের উত্তর-পূর্ব কোণে পাতা সাধারণ একটা ডাইনিং টেবিল, তিনটি ফালতু চেয়ার, এ-পাশে রাখা রংজ্বলা মোটা কাপড়ে আঁটা ছোট্ট দুটো সস্তা সোফা। ভেতরের রুমে ঢোকার দরজার পাশের এমন একটা সোফায় সুনীল গা ছেড়ে বসা। সিঁড়ি থেকে পায়ের শব্দ উঠে আসছে। ভেজানো দরজা ঠেলে দীপু ভেতরে ঢোকে। বয়সের চেয়ে পুষ্ট অপেক্ষাকৃত লম্বা বাসার এই ছোট ছেলেটা বাবার সঙ্গে চোখাচোখি হলেই মিষ্টি করে হাসে। পাশ কেটে সে ভেতরে চলে যায়। ব্যাপার কী! মুহূর্তে ভুরু বেঁকে আসে সুনীলের। ছেলের শরীর থেকে যেন সিগারেটের গন্ধ ভেসে এলো। এবার লম্বা করে সে শ্বাস টানে – হ্যাঁ নির্ভুল, গন্ধ সিগারেটেরই। তাজ্জব হয়ে সুনীল ধীরে ধীরে জমে যেতে থাকে – বয়স কেবল উনিশ, সেদিনের ছেলে, আরে মুখ থেকে যার পুরোপুরি দুধের গন্ধ যায়নি, এই সে বাবা-মার চোখের আড়ালে দিব্যি সিগারেট টানছে!
ভাবতেই সুনীলের মাথার মধ্যে সহসা খর প্রশ্ন ছোঁ মারে – এত তাড়াতাড়ি এই বয়সে একা একা তো নেশা জমে না, নিশ্চয় সঙ্গদোষ। তা-ই যদি হয়, কাদের সঙ্গে ছেলে মিশছে, বন্ধুবান্ধব কারা, খোঁজখবর নেওয়া জরুরি। এ-সময় আরতি ভেতর থেকে জলভর্তি একটা জগ এনে টেবিলে রাখে। ছেলের মা থাকে সর্বক্ষণ বাসায়, সে কি আদৌ জানে না? টের পায়নি? ছোট ছেলের মৌতাত বিষয়ে কথা শোনা ও শোনানোর এই তো সুযোগ। রাগ জুড়িয়ে যাওয়ার আগে আগে দু-চারটা গরম বাক্য না রাখলে মন ঠান্ডা হবে না। সুনীলের স্বর যেন বর্শা ছুড়ে মারে – ‘তুমি জানো কিছু?’
স্বামীর শক্ত গলার অমন ঘণ্টা আওয়াজে আরতি ঘুরে দাঁড়ায়। কী জানব? হঠাৎ জানাজানির ঘটনা কী! তার চোখেমুখে জিজ্ঞাসা ফুটে ওঠে – মানুষটা কী বলতে চায়?
সুনীলের নজর খসে নিচে পড়লে সে দেখে, আরতির ডান হাতের আঙুল হলুদ। ও, এখন রান্না করছে। ছোট ছেলের সিগারেট টানাটানি নিয়ে কথা ঘোলা করার উপযুক্ত সময় এখন নয়। আরতিকে চলে যেতে সুনীল ইশারা করে।
কখনো কি সে সিগারেট টেনেছে? হারানো-ফুরানো স্মৃতি খুঁড়ে তুলতে নিজের স্মরণের ওপর চাপ রাখে সুনীল। না, স্কুলজীবনে গোঁফের রেখা ফুটে ওঠার আগে-পরে ক্লাসের কেউই ধূমপানে ছিল না। ওপরের ক্লাসের কোনো ছেলেকেও ছুটিছাটায়, কি দুষ্টুমি করে সিগারেট টানতে সে দেখেনি। বয়স হলে কেবল বড়দের কেউ কেউ বিড়ি-সিগারেট খায়, এমন ধারণা চালু ছিল। কলেজে পড়াকালে তাও বিএ পড়ার সময় বন্ধুরা আড্ডা মারতে মারতে একটা সিগারেট ধরিয়েছিল। ঘুরে ঘুরে তার আঙুলে এলে জোরে টান দিয়েছিল সুনীল। ব্যস, কণ্ঠার কাছে ধোঁয়া আটকে গেলে শুরু হয় বেজায় খকখক কাশি, জল জমে যায় চোখে। ওই প্রথম ওই শেষ তার সিগারেট টানা। মফস্বলবাসী তার বড় ভাই, সত্তরের কাছাকাছি যার বয়স, এখনো শক্তসমর্থ, আজো বাসার বাজার সে নিজ হাতে করে, রান্নার কাঠ ফাড়তে কুড়াল তুলে সে খাড়া হয়ে দাঁড়ায়। কই, তার সিগারেট কেন, শখ করে হুক্কা টানার কথাও কখনো শোনা যায়নি। তাহলে? তার বড়-ছোট দুই ছেলে কি বাপ-জ্যাঠা থেকে কিছুই শেখেনি? নাকি তার ভুল – ঠিকঠাক চালচলন, জীবনযাপনের শিক্ষা দিতে সে ব্যর্থ হয়েছে?
সুনীলের খুব ভেতরে, দৃষ্টির অগোচর বিভিন্ন কোটরে টান পড়ে। তাৎক্ষণিক জখমবোধ জেগে উঠতে উঠতে থমকে যায়। তার বদলে মন দখল করা জিদের উদয় হয়। ছেলের সঙ্গে কি ঝাঁজালো বাক্যে বোঝাপড়া করবে? নাকি এবারের মতো এড়িয়ে হাতেনাতে সিগারেট ধরার জন্য সে অপেক্ষা করবে? নাকি কিছুই দেখিনি, কিছুই বুঝিনি গোছের মুখ তার নিরীহ রাখবে? আপত্তি করার ভঙ্গিতে নিজে নিজে মাথা নাড়ে সুনীল – না, চুপ থাকার সুবাদে ছেলের সাহস ক্রমাগত বেড়ে যেতে পারে। দেখা গেল, হাত নামমাত্র আড়ালে রেখে কিংবা বাবা যখন বাসাতে নেই দীপু তখন রুমেই সিগারেট টানছে। অবস্থা হচ্ছে, ও সিগারেট খায়, বাবা তো জানে। আর মা, ধুস কোনো ব্যাপার হলো।
সুনীল টের পায় তার মেজাজে উষ্ণতা ক্রমশ জ্বাল পাচ্ছে। না, কিছুতেই ছেড়ে দেওয়া যায় না। চূড়ান্ত হেস্তনেস্ত হওয়া দরকার। শাসনে না-রাখলে এমন কাঁচা বয়স থেকেই ছেলেপেলে উচ্ছন্নে যায়। এখুনি লাগাম না পরালে সর্বনাশ, কালে কালে আরো মন্দ আচরণে ছেলে সাহসী হতে পারে। পুরোপুরি নেশাভাংয়ে জড়িয়ে গেলে ছেলে নিজের ভবিষ্যৎ পয়মাল করে ফেলবে। তাহলে উড়নচন্ডী স্বভাবের বড় ছেলে নিপু, যে এখন পূর্ণ যুবক, যার সর্বাঙ্গে সিগারেটের গন্ধ, যার গা-ঘেঁষে কেবল হেঁটেই গেলে যে কারো নেশা হয়ে যাবে, এই তাকে কেন সদয় প্রশ্রয় দেওয়া? ভেন্টিলেটরের গস্নাসভাঙা বারান্দার বাথরুমে রাতে ফস করে ম্যাচকাঠি জ্বলে কোন হিম্মতে? বারিধারার ওদিকে পরিচ্ছন্ন বাড়ির এক অ্যাড ফার্মে তার চাকরি। ঘাড়ে ব্যাগ ঝুলিয়ে সে শান্তিনগর থেকে সকালে যায় – রাতে ফেরে। কোনো কোনো রাতে সুনীল ঘুমিয়ে পড়ার পর ছেলে আসে। পরদিন আরতির থমথমে মুখ দেখে সে পরিষ্কার অনুমান করে – বেসামাল ছিল নিপু। মাসের পয়লা সপ্তাহে মায়ের স্নেহময় হাতে, হাজার দশেক টাকা দিচ্ছে বলে তার নেশা-চড়ানো আরাম দেখে-শুনে-বুঝে নীরবে অনুমোদন করা ন্যায্য কথা নয়। এই এলোমেলো চালচরিত্র নিয়ে বড়ভাই কেমনে তার বছর পাঁচেকের ছোটভাইকে গাইড করবে? ভাইকে করবে সে দেখভাল? অসম্ভব। পারে তো তিনতলা থেকে দৌড়ে নেমে ফুটপাথের টং দোকান থেকে রাতে সিগারেট আনতে ছোটভাইকে সে অর্ডার দেয়। অসাধ্য কিছু না, জ্বলন্ত অর্ধেক সিগারেট নিপু ছোটভাইয়ের ঠোঁটে গুঁজে দিতে পারে।
খুব ভেতরের নিবিড় জখম বোধে সুনীল সহসা উতলা হয়ে ওঠে। অবশ্যই তারও অনুচিত হচ্ছে, নিপুর আয়ের অংশে সংসার খরচের সংস্থান হয় জেনে ছেলের তৈরি করা ত্রুটি মুখ বন্ধ রেখে দেখে যাওয়া। সন্তানের জন্মদাতা সে, এদের ভরণপোষণ শিক্ষাদীক্ষা দিয়ে বড় করে তোলার দায়িত্ব তার। তুমুল টানাটানির কারণে ক্লান্ত হলেও এই গুরুভার বহনে পারতপক্ষে সুনীল কার্পণ্য করেনি। সন্তানের সাধ-আহ্লাদ-দাবি-চাহিদা সব আবদার পূরণ করলে তাদের কার্যকলাপের জবাবে ন্যায্যকথা শুনিয়ে দেওয়ারও অভিভাবক সে।
সুনীল বোঝে, নিপু তার দোষ ওয়াকিফ বলে আগে থেকেই বাবার মুখোমুখি হওয়ার সাহস সে হারিয়েছে। কখনো সামনে পড়লে এমন দৌড়চালে বাবার নজরের বাইরে সরে যায় যেন বাথরুমে যাওয়ার চাপে আছে সে। ছেলের রুম দিয়ে যেতে যেতে সুনীল থমকে কখনো দৃষ্টি দিলে দেখা গেল নিপু কম্পিউটারে এমন মনোযোগ ধরে রেখেছে যে, কোনো মানুষের উপস্থিতি আদৌ সে টের পাচ্ছে না। চোখ কম্পিউটারের টার্মিনালে স্থির। বাকি থাকে যে দুই কান তাও গান বা সিনেমার সাউন্ড উপযুক্তভাবে শোনার জন্য হেডফোন দিয়ে ঢাকা। কোনো ডাকাডাকি ছেলের কর্ণকুহরে পৌঁছে না। সময় যায়, খেতে আসার জন্য মায়ের এতো নরম-গরম, সরু-মোটা চেঁচামেচি করা স্বর, কীসের কী, সব বৃথা। হেডফোন লাগিয়ে এমন মানুষ অগ্রাহ্য সুনীলের কাছে রীতিমতো বেয়াদবি মনে হয়।
ভাবতেই তার মাথা থেকে গরমের চড়া আঁচ নেমে আসে। খানিক ঝিম মেরে নিজের ত্রাণ নিজে ধরে রাখতে সে কৌশল নেয়। তার পজিশন নস্যাৎ করে গোঁয়ার অশিষ্টতা সে দেখাতে যাবে কেন? হোক তার সন্তান, এই জামানার কা-জ্ঞানহীন ছেলেপেলের সঙ্গে প্রয়োজন ছাড়া আলাপ না-করাই উত্তম। এর ফল হয়েছে : বড় ছেলের সঙ্গে সুনীলের বাক্যালাপ ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। উভয়ের মধ্যে পাতলা হলেও অদৃশ্য একটা দেয়াল উঠেছে। ছেলে ভাবছে, এটা বুঝি তার জন্য দারুণ সুবিধার – বাবা তো কিছু বলছে না। ইচ্ছামতো রাতে সে বাসায় ফিরছে। তার যাওয়া-আসা দিনযাপনের সঙ্গে বাবার কোনো সম্পর্ক নেই। কী মজা! যত ঘোরালো-প্যাঁচালো কথা হোক, কি স্বর মোলায়েম করে কিছু আদায় করার মতলব হোক, সব তার মায়ের সঙ্গে। মাও ছেলের পর্ব স্বামীর কাছে তোলে না। আরতি জানে, নিপু প্রসঙ্গে পেশ করলে সুনীলের এক কথা – ‘ভাত বন্ধ করে দাও।’ আরতি তখন কোন্দল করা অসমেত্মাষ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে চায় – ‘তুমি দাও। তোমার বাসা। আমার কী, ছেলে তো আমার একার না।’ এরপরই আরতির স্বরে মেঘোদয় হয় – ‘গত জন্মে মনে হয় পাপ করেছিলাম। এ জন্মে তাই প্রায়শ্চিত্ত করছি।’ বোঝো এবার, ঘরের বউয়ের খেদ-আক্ষেপ, হা-হুতাশে যদি জোর বাড়ে, তার চিল-চেঁচানি আশপাশের জানালার ফাঁক দিয়ে উড়ে যায়, তবে মানুষজন ভাববে কী – স্বামীটা নির্ঘাৎ ইতর, বউয়ের সঙ্গে খালি দুর্ব্যবহার করে।
সুনীলের মানহীন মলিন ভাড়া বাসাটা শান্তিনগরের এক গলি রাস্তার ভেতর দিকের পুরনো তিনতলায়। সিলিং-দেয়াল-বাথরুম-রান্নাঘর সবখানে এখন বাসিগন্ধের প্রলেপ। স্বাস্থ্যহানিকর দাগি বাসাটা ছেড়ে অন্য কোথাও একখানা আরাম কুরসিতে বসবে এমন সামর্থ্য তার নেই। এদিকে পরিচয়দানে অযোগ্য যে চাকরির কলম পিষে কালো চুল সাদা করে এনেছে সেখানে বেতন বাড়ছে না। হাজার হাজার বেকার থেকে সুলভে অফিসে লোক পাওয়া দুষ্কর নয়। মালিক মহোদয় এখনো তাকে এই বয়সেও কাজে রেখে বেতন দিয়ে যেন ধন্য করছেন। তার মনোভাব এমন : পুরনো কর্মচারী, পয়লা থেকে আছে, কী আর করা।
সুনীলদের মুখোমুখি সামান্য দূরে নতুন একটা বিল্ডিংয়ের চারতলার ছিমছাম ফ্ল্যাটের ফর্সা ভদ্রলোক সম্প্রতি চাকরি থেকে রিটায়ার করেছেন। পেনশন বাবদ তিনি মোটা অংক – লাখ লাখ টাকা পাবেন। হাওয়ায় উড়ে আসা এমন লোভনীয় খবর শুনে আরতি স্বামীর কাছে জানতে চেয়েছিল, তার অফিসেও পেনশনের সুব্যবস্থা আছে কিনা। সুনীল দুর্বোধ্য চাহনি দেয়, যেন ব্যাপারটা সে বুঝতে পারছে না। বছরে দুবার তার চাকরিতে বেতনের সিক্সটি পার্সেন্ট বোনাস ছাড়া আর কোনো আর্থিক সুবিধা নেই। বউয়ের জিজ্ঞাসার সামনে ঠোঁটে আঠা জমিয়ে সে চুপ করে আছে দেখে শুরু হয় আরতির ঠেসবাক্য। তাহলে আগামী দিনগুলো সচল বলো কি জীবিত বলো নির্ভর করতে হচ্ছে ছেলের চাকরির ওপর। দাঁড়াচ্ছে কী, ছেলের পেছনে খরচ করেছি, এখন অন্নজলের জোগান দিক সে। ছেলে তখন চাটি মারলেও তা হজম করো। ধুর, তীব্র আপত্তি সুনীলের মাথার মধ্যে শোর তোলে। মেরুদ–বাঁকা জীবন তার কাম্য নয়। আচ্ছা, গড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলা এই সংসারে মাত্র চারটি প্রাণী। দেখো, এদের চার চরিত্র। ভাবতেই বড়ছেলের আরেকটা দোষ সুনীলের সামনে খাড়া হয়। সবকিছুতেই ছেলের তাড়াহুড়ো। এতো ডাকাডাকি, আসে না আসে না, হঠাৎ খাওয়ার টেবিলে এসে হামলে পড়ে সে। টেবিলে খাওয়ার কী কী আছে সব ঢাকনা তুলে সে তদন্ত করে। মেঘবাদল না থাকলে ভোরে সুনীল হাঁটতে বের হয় – অনেক দিনের অভ্যাস। রমনা পার্কে চক্কর মেরে ফেরার সময় বেইলি রোডে বসা ভাসমান বাজারের মাছ-তরকারি সে প্রায়ই কিনে আনে। তরকারির দাম নাগালের মধ্যে থাকলেও তার মতো নির্দিষ্ট উপার্জনের মানুষের মাছ কেনার ক্ষমতা দিনে দিনে ক্ষয়ে আসছে। সাধারণ গুঁড়ো মাছের দাম পর্যন্ত ধরাছোঁয়ার বাইরে এখন। খদ্দেরদের ওপর মাছ-বিক্রেতার এমন দৃষ্টি – কিনবেন না, বেশ, মাছের ওপর চোখ দেওয়ার কারণে পারলে কিছু পয়সা দিয়ে যান। খরচের নাগালে থাকা মাছ ছাড়া কী কিনবে সে। দেখো, তেলাপিয়া মাছের রান্না, উঁহু, ধুস – মুখে ভেংচি রেখে নিপু নিজস্ব অপছন্দের আওয়াজ রুমে ছুড়েই যায় – ‘এসব হাবিজাবি খাওয়া যায়? হলিডে, কোথায় বেটার কিছু থাকবে।’ অসাধ্য এক উত্তেজনা মুহূর্তে সুনীলকে দখল করে; আর তা বেরিয়ে আসতে আসতে কণ্ঠে পাথুরে শব্দ হয়ে যায় – ‘ভালো কিছু বাজার থেকে আনলে হয়। কখনো তো দেখলাম না।’
শেষবাক্যের জবাবে জোর পদক্ষেপে নিপু রুম ছেড়ে যায়। এ-সময় ভাতের গামলা হাতে আরতি কেবল রুমে ঢুকেছে, বড়ছেলে অমন অন্ধকার মুখে চলে যাচ্ছে দেখে ঘাড় ঘুরিয়ে স্বামীর ওপর সে বাঘাটে চাহনি তুলে ধরে। তার চালু খরখরে স্বরের ধারে সুনীল এবার চেরাই হতে থাকে – ‘ছেলেটার পেটে আছে কিছু, সেই সকালে এককাপ চা আর দুটো বিস্কুট খেয়েছে। এখন খাবে ভাত। তা না, ছেলেটাকে তিনি তাড়িয়ে ছেড়েছে।’ ভয়ংকরী রূপ ধারণে পায়ের শব্দ কিছুতেই আসেত্ম হয় না। হড়বড়ে পায়ে আরতি ভেতরে যায়।
এই ঘটনার সাত-আটদিন গেছে। বাবার মুখোমুখি পড়লে নিঃশব্দে নিপু পাশ কেটেছে – কথা বলেনি। হতে পারে, তার ভেতরে বলার মতো কোনো কথা জমেনি। কিন্তু চেহারাছবিতে পরিষ্কার সমেত্মাষ, আগের মতোই স্বাভাবিক। যথারীতি নিত্য অভ্যাসে ছোট পুত্তুর দীপু তার কথার ফোয়ারা চালু রেখেছে। আজগুবি থেকে নির্ভেজাল কত তার কথা। – ‘বুঝলে বাবা, আর দুদিন বাকি অ্যালান টিউরিংয়ের জন্মশতবার্ষিকীর।’
হঠাৎ ভিন্ন এক প্রসঙ্গ, আর টিউরিং বা কার নাম! সুনীল হা-মুখে স্থির চেয়ে থাকে। কোন কথা থেকে কোন কথায় যে ছেলেটা চলে যায়। বাবার অবুঝ ফাঁপা-চাহনি দেখে দীপু নরম করে হাসে – ‘মাই ওল্ড ড্যাড। অ্যালান টিউরিংকে তুমি কেমনে জানবে? হ্যান্ড্রেড ইয়ার্স হলো, লন্ডনের প্যাডিংটন হসপিটালে কম্পিউটার সায়েন্সের এই ফাদারের জন্ম। দুঃখ কী জানো, বয়স ফর্টি টু হওয়ার আগেই সুইসাইড করে সে। তার ডেডবডির পাশে কামড় দেওয়া একটা আপেল পাওয়া যায়। পোস্টমর্টেমের রিপোর্ট : আপেলের সঙ্গে সায়ানাইড মেশানো ছিল।’
হঠাৎ দীপুর কম্পিউটার সায়েন্টিস্টের সুইসাইডের কথা কেন? আগেও কখনো কখনো কথাচ্ছলে জানা-অজানা মানুষের মৃত্যু নিয়ে সে বলেছে। ফিজিক্স হচ্ছে দীপুর প্রিয় বিষয়। এই ফিজিক্সের উদাহরণই সে বেশি বেশি টেনে আনে। তাহলে দাঁড়ালো কী, সুনীলের গত ও বর্তমান মিলিয়ে আটপৌরে জীবন, জানাজানি কম, শ্রোতা হওয়া ছাড়া কথকের খুব একটা সুযোগ তার হয় না। কিন্তু সুইসাইডের উদাহরণ তুলে প্রকারান্তরে সুনীলকে কি ভয় দেখায় দীপু? ছেলের মুখে আত্মহত্যার গল্প শুনলে ধীরে ধীরে শরীরে তার হিম ভেঙে আসে।
কেবল ছুটিছাটার দিনেই চার চেহারা খাওয়ার টেবিলে একত্র হয়। ছুটির কোনো কোনো ঝকঝকে দুপুরে টেবিলের একটা চেয়ার ফাঁকা থাকে। বড়ছেলের শখ নয়ন-নন্দন ছবি তোলার। ক্যামেরা নিয়ে বেরিয়ে ফিরতে ফিরতে তার দুপুর গড়িয়ে যায়। কোথায় নিজের রুমে বসে বিশ্রাম করবে, তা না, ছোটভাইকে পেলে তো কথাই নেই, শুরু হয় তার অনর্গল উচ্ছ্বাস – ‘বুঝলি, অফিসার্স ক্লাবের চৌমাথায় দাঁড়িয়ে ক্যামেরা অন করেছি, ও মা, পাশে দেখি মানুষ, ক্যামেরা দেখলেই ভিড়।’
নিপু গ্রাফিকসে মাস্টার্স। তার এক্সট্রা যোগ্যতার জন্য ডিএসএলআর ক্যামেরা চাই। ভালো, তার বেতনের টাকা জমিয়ে সে ক্যামেরা কিনবে – কিনুক। কিন্তু দাঁড়ালো কী, সংসারের এ-খরচ ও-খরচ ছাঁটাই করে হাজার দশেক টাকা ছেলের ক্যামেরার জন্য সুনীলকে দিতে হলো। কষ্টের এই ভোগ ছেলে কি বোঝে? বাবার মন ভেজাতে কিছু টাকা মাসে মাসে সে ফিরিয়ে দেবে বললেও ছেলের প্রতিশ্রম্নতির ওপর সুনীল আস্থা রাখেনি।
দীপু ছোট হলেও তার কথায় থাকে বিভিন্ন মোচড়। চালচলনে কোথায় জানি তার সেয়ানা ভাব। তার চাহিদা সে গচ্ছিত রেখেছে ভবিষ্যতের কাছে। বড় কোনো আকাঙ্ক্ষা এখনো তৈরি হয়নি বলে বাবার ওপর বর্তমানে তার কোনো প্রেসার নেই। তবে এশিয়া-ইউরোপ না, উত্তর আমেরিকায় উড়ে যাবে, সেটেল সে ওখানে হতে চায়। ওয়ার্ক পারমিট জোগাড় হলে কাজের ফাঁকে লেখাপড়া করবে। কানাডার এডুকেশন নাকি বেটার। ভ্যালু আছে, লেখাপড়া জানলে সব সহজ ওখানে। খুশি খুশি ভাব নিয়ে সে একাধিকবার বাবাকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে – ‘তুমি বলেছিলে তোমার কাস্টমসের রিটায়ার্ড কোন বন্ধু আছে, তার মেয়ে-জামাই দুজনে টরন্টো ইউনিভার্সিটিতে আছে, যোগাযোগ রেখো, কাজে লাগবে।’ দীপুর ধারণা, এদেশে এখন চরম ডার্ক পিরিয়ড চলছে। কোনো উন্নতির সম্ভাবনা নেই – ফিউচার জিরো।
বিস্ময়ে ছোটছেলের ওপর থেকে সুনীল চোখ সরাতে পারে না। এসব কি দীপুর নিজের কথা? দীপু জানে না ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর কোনো সামর্থ্য তার বাবার নেই। বড়লোকের ছেলেপেলে বন্ধু হলে তাদের যাবতীয় সঙ্গদোষ মধ্যবিত্তের মধ্যে চালান হয়ে আসে। মেজাজ-মর্জি, চালচলন তখন ফুলে-ফেঁপে ঢোল। নিজের সীমানা নিয়ে সঠিক ধারণা থাকে না।
টিভি অন করে সুনীল। সাউন্ড কমিয়ে খবর শুনতে শুনতে পেস্নটে সে ভাত তুলে নেয়। দীপু বড়ভাইয়ের মুখে রগড়ে চাহনি দিয়ে এবার বাবার মুখ পড়তে তৎপর হয়। তার মুখে যথারীতি মিঠেল হাসি জ্বলছে। নিপু তার স্বভাব মোতাবেক বিরক্ত, খাওয়া নিয়ে সেই খিটিমিটি আছেই – ‘হাইব্রিড কই মাছ মানুষ ক্যামনে খায়? টেস্ট নেই – কাঁটা শক্ত।’ পারলে কই মাছ, এই মাছের গুষ্টি-গোত্র, এমনকি এই মাছের ক্রেতার ওপর দিয়ে সে মনের ঝাল মিটিয়ে নেয়।
ডাইনিং টেবিলে কোনো ছুতানাতায় নিপু তার অসমেত্মাষ ছড়িয়ে খাওয়ার পরিবেশ বিস্বাদ করে দিতে পারে ভেবে সুনীল সতর্ক থাকে।
টিভিতে সরকারের খবরের পর এবার বিরোধীদলের সংবাদ পড়া হচ্ছে। দুর্নীতির কারণে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই সরকারের জনপ্রিয়তা এখন শূন্যের কোঠায়। সুনীলের পেস্নটে হাত, ঘাড়ে চাপ, চোখ টিভি স্ক্রিনের ওপর ধরা দেখে দীপুর বিরাগ স্বর উড়িয়ে বাবার মনোযোগ টলিয়ে দিতে চায়। – ‘বাজে প্যাঁচাল। ডার্টি পলিটিক্সের কী শোনো তুমি? বোর ফিল করো না?’ বড়ভাইয়ের সমর্থন আদায়ে দীপু তার আঙুলে টিপ দেয়।
নিপু অনেক অতলে বুঝি ডুবে ছিল, এতোক্ষণে তার হুঁশ ফিরেছে – ‘ও টিভি নিউজ রাবিশ’ বাবার উদ্দেশে এবার তার মোটা স্বর – ‘এত খবর দেখলে, নিজে কখনো খবর হলে না।’
পেস্নটে রাখা সুনীলের হাত এবার জমেই যায়। তাকে কি নিপু ব্যঙ্গ করছে? না এটা বাবার নিরুপদ্রব গোবেচারা জীবন নিয়ে সমব্যথী হওয়া ছেলের নিরীহ উক্তি – কোনটি? যেটাই হোক, একটা বিষয় পরিষ্কার – ছেলে বাবার পুরনো ডালে কিছুতেই বসার পক্ষপাতী নয়। ডানা সে ঝাপটাবে – উড়াল দেবে। ভালো ভালো।
– ‘টিভি বন্ধ করে দিই বাবা। কেউ তো দেখছে না।’ দীপু রিমোট টিপতে যাবে, তখুনি যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে খবর শুরু হলে সুনীল হাত তুলে ছোট ছেলেকে নিবৃত্ত করে।
– ‘এই আর এক সাবজেক্ট!’
দীপুর বাঁকা কণ্ঠে সুনীলের অবাক হওয়ার পালা। ছেলেটা কি অসময়ে সাবালক হয়ে গেছে, নচেৎ অত কথা, কিংবা ঘটনার সঙ্গে অত জড়িয়ে পড়া কেন। বয়স্কদের মতো মুখভঙ্গি, বিষয় জটিল করে তোলা এত তাড়াতাড়ি শিখল কীভাবে? একেই তবে ইঁচড়েপাকা বলে। উত্তম, এক ছেলে ওপরে ওঠার সিঁড়ি খুঁজছে, আরেক ছেলে এই বয়সেই স্নব – দেশের কোনো কিছু ভালো লাগে না। মাথার মধ্যে পরবাসী হওয়ার ভাবনা।
‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাংলার মাটিতে হবেই। চক্রান্ত করে এই বিচারকাজ বাধাগ্রস্ত করা যাবে না।’ – সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সচিত্র সংবাদ প্রচারিত হচ্ছে। দীপু এঁটো ডানহাত সামান্য তুলে হিসাব করে – ‘দুই হাজার উনিশ সাল এখন। যুদ্ধ হয়েছে উনিশশো একাত্তরে, আটচলিস্নশ বছর হলো, এতদিন আগের, এর ওপর তো ধুলো পড়ে গেছে বাবা -।’
দীপুর গাঢ় হিসেবি স্বর ও ধুলোর নির্যাতনের সম্ভাবনা টেবিলে-পেস্নটে-ফ্লোরে পড়ে ছড়িয়ে যায় – ‘তোমরা যারা ফ্রিডম ফাইটার, এখন কি মনে হয় যুদ্ধ করে ভুল করেছো?’
সুনীলের কশেরুকায় ঝাঁঝাঁ বেগে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে। যুদ্ধ করে ভুল? কিসের ভুল? বলে কী ছেলে! মুক্তিযুদ্ধ না-হলে সংখ্যালঘু হওয়ার অপরাধেই তো তাদের উদ্বাস্ত্ত হতে হতো। কিংবা এতদিন পাকিস্তান নামের ব্যর্থ একটা রাষ্ট্রের থার্ড ক্লাস নাগরিকের হীন পরিচয়ে থাকতে হতো। যুদ্ধ করে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা না-হলে কোথায় জন্মাত এই ছেলেপেলে। মুক্তিযুদ্ধ, অমন শ্রেষ্ঠ কীর্তির ওপর কেমনে ধুলো পড়ে।
‘ইম্পসিবল’ সুনীলের কণ্ঠছেঁড়া আওয়াজের প্রতাপে নিপু-দীপুর দুজনই বিস্ময়ে বাবাকে দেখে। অমন বাঁচা-মরার যুদ্ধের ওপর ধুলো, উঁহু, হতেই পারে না। সুনীল তার নাগালের টেবিলের অংশে দুহাত এগিয়ে ধুলো সরাতে সক্রিয় হয়।
মাঝারি গোছের রোজগেরের আবার গোছালো ড্রয়িংরুম; গোঁজামিলে ভরা গৃহস্থের ওই বিশেষ নামের সামনের রুমের অল্প পরিসরে তিন বেলা খাওয়ার, অষ্টপ্রহর বসার সুযোগ; আর রাতে হাত-পা ছড়িয়ে এর মেঝেতে চাদর বা কাঁথা পেতে ব্যবস্থা হয় আঠালো ঘুমের। রুমের উত্তর-পূর্ব কোণে পাতা সাধারণ একটা ডাইনিং টেবিল, তিনটি ফালতু চেয়ার, এ-পাশে রাখা রংজ্বলা মোটা কাপড়ে আঁটা ছোট্ট দুটো সস্তা সোফা। ভেতরের রুমে ঢোকার দরজার পাশের এমন একটা সোফায় সুনীল গা ছেড়ে বসা। সিঁড়ি থেকে পায়ের শব্দ উঠে আসছে। ভেজানো দরজা ঠেলে দীপু ভেতরে ঢোকে। বয়সের চেয়ে পুষ্ট অপেক্ষাকৃত লম্বা বাসার এই ছোট ছেলেটা বাবার সঙ্গে চোখাচোখি হলেই মিষ্টি করে হাসে। পাশ কেটে সে ভেতরে চলে যায়। ব্যাপার কী! মুহূর্তে ভুরু বেঁকে আসে সুনীলের। ছেলের শরীর থেকে যেন সিগারেটের গন্ধ ভেসে এলো। এবার লম্বা করে সে শ্বাস টানে – হ্যাঁ নির্ভুল, গন্ধ সিগারেটেরই। তাজ্জব হয়ে সুনীল ধীরে ধীরে জমে যেতে থাকে – বয়স কেবল উনিশ, সেদিনের ছেলে, আরে মুখ থেকে যার পুরোপুরি দুধের গন্ধ যায়নি, এই সে বাবা-মার চোখের আড়ালে দিব্যি সিগারেট টানছে!
ভাবতেই সুনীলের মাথার মধ্যে সহসা খর প্রশ্ন ছোঁ মারে – এত তাড়াতাড়ি এই বয়সে একা একা তো নেশা জমে না, নিশ্চয় সঙ্গদোষ। তা-ই যদি হয়, কাদের সঙ্গে ছেলে মিশছে, বন্ধুবান্ধব কারা, খোঁজখবর নেওয়া জরুরি। এ-সময় আরতি ভেতর থেকে জলভর্তি একটা জগ এনে টেবিলে রাখে। ছেলের মা থাকে সর্বক্ষণ বাসায়, সে কি আদৌ জানে না? টের পায়নি? ছোট ছেলের মৌতাত বিষয়ে কথা শোনা ও শোনানোর এই তো সুযোগ। রাগ জুড়িয়ে যাওয়ার আগে আগে দু-চারটা গরম বাক্য না রাখলে মন ঠান্ডা হবে না। সুনীলের স্বর যেন বর্শা ছুড়ে মারে – ‘তুমি জানো কিছু?’
স্বামীর শক্ত গলার অমন ঘণ্টা আওয়াজে আরতি ঘুরে দাঁড়ায়। কী জানব? হঠাৎ জানাজানির ঘটনা কী! তার চোখেমুখে জিজ্ঞাসা ফুটে ওঠে – মানুষটা কী বলতে চায়?
সুনীলের নজর খসে নিচে পড়লে সে দেখে, আরতির ডান হাতের আঙুল হলুদ। ও, এখন রান্না করছে। ছোট ছেলের সিগারেট টানাটানি নিয়ে কথা ঘোলা করার উপযুক্ত সময় এখন নয়। আরতিকে চলে যেতে সুনীল ইশারা করে।
কখনো কি সে সিগারেট টেনেছে? হারানো-ফুরানো স্মৃতি খুঁড়ে তুলতে নিজের স্মরণের ওপর চাপ রাখে সুনীল। না, স্কুলজীবনে গোঁফের রেখা ফুটে ওঠার আগে-পরে ক্লাসের কেউই ধূমপানে ছিল না। ওপরের ক্লাসের কোনো ছেলেকেও ছুটিছাটায়, কি দুষ্টুমি করে সিগারেট টানতে সে দেখেনি। বয়স হলে কেবল বড়দের কেউ কেউ বিড়ি-সিগারেট খায়, এমন ধারণা চালু ছিল। কলেজে পড়াকালে তাও বিএ পড়ার সময় বন্ধুরা আড্ডা মারতে মারতে একটা সিগারেট ধরিয়েছিল। ঘুরে ঘুরে তার আঙুলে এলে জোরে টান দিয়েছিল সুনীল। ব্যস, কণ্ঠার কাছে ধোঁয়া আটকে গেলে শুরু হয় বেজায় খকখক কাশি, জল জমে যায় চোখে। ওই প্রথম ওই শেষ তার সিগারেট টানা। মফস্বলবাসী তার বড় ভাই, সত্তরের কাছাকাছি যার বয়স, এখনো শক্তসমর্থ, আজো বাসার বাজার সে নিজ হাতে করে, রান্নার কাঠ ফাড়তে কুড়াল তুলে সে খাড়া হয়ে দাঁড়ায়। কই, তার সিগারেট কেন, শখ করে হুক্কা টানার কথাও কখনো শোনা যায়নি। তাহলে? তার বড়-ছোট দুই ছেলে কি বাপ-জ্যাঠা থেকে কিছুই শেখেনি? নাকি তার ভুল – ঠিকঠাক চালচলন, জীবনযাপনের শিক্ষা দিতে সে ব্যর্থ হয়েছে?
সুনীলের খুব ভেতরে, দৃষ্টির অগোচর বিভিন্ন কোটরে টান পড়ে। তাৎক্ষণিক জখমবোধ জেগে উঠতে উঠতে থমকে যায়। তার বদলে মন দখল করা জিদের উদয় হয়। ছেলের সঙ্গে কি ঝাঁজালো বাক্যে বোঝাপড়া করবে? নাকি এবারের মতো এড়িয়ে হাতেনাতে সিগারেট ধরার জন্য সে অপেক্ষা করবে? নাকি কিছুই দেখিনি, কিছুই বুঝিনি গোছের মুখ তার নিরীহ রাখবে? আপত্তি করার ভঙ্গিতে নিজে নিজে মাথা নাড়ে সুনীল – না, চুপ থাকার সুবাদে ছেলের সাহস ক্রমাগত বেড়ে যেতে পারে। দেখা গেল, হাত নামমাত্র আড়ালে রেখে কিংবা বাবা যখন বাসাতে নেই দীপু তখন রুমেই সিগারেট টানছে। অবস্থা হচ্ছে, ও সিগারেট খায়, বাবা তো জানে। আর মা, ধুস কোনো ব্যাপার হলো।
সুনীল টের পায় তার মেজাজে উষ্ণতা ক্রমশ জ্বাল পাচ্ছে। না, কিছুতেই ছেড়ে দেওয়া যায় না। চূড়ান্ত হেস্তনেস্ত হওয়া দরকার। শাসনে না-রাখলে এমন কাঁচা বয়স থেকেই ছেলেপেলে উচ্ছন্নে যায়। এখুনি লাগাম না পরালে সর্বনাশ, কালে কালে আরো মন্দ আচরণে ছেলে সাহসী হতে পারে। পুরোপুরি নেশাভাংয়ে জড়িয়ে গেলে ছেলে নিজের ভবিষ্যৎ পয়মাল করে ফেলবে। তাহলে উড়নচন্ডী স্বভাবের বড় ছেলে নিপু, যে এখন পূর্ণ যুবক, যার সর্বাঙ্গে সিগারেটের গন্ধ, যার গা-ঘেঁষে কেবল হেঁটেই গেলে যে কারো নেশা হয়ে যাবে, এই তাকে কেন সদয় প্রশ্রয় দেওয়া? ভেন্টিলেটরের গস্নাসভাঙা বারান্দার বাথরুমে রাতে ফস করে ম্যাচকাঠি জ্বলে কোন হিম্মতে? বারিধারার ওদিকে পরিচ্ছন্ন বাড়ির এক অ্যাড ফার্মে তার চাকরি। ঘাড়ে ব্যাগ ঝুলিয়ে সে শান্তিনগর থেকে সকালে যায় – রাতে ফেরে। কোনো কোনো রাতে সুনীল ঘুমিয়ে পড়ার পর ছেলে আসে। পরদিন আরতির থমথমে মুখ দেখে সে পরিষ্কার অনুমান করে – বেসামাল ছিল নিপু। মাসের পয়লা সপ্তাহে মায়ের স্নেহময় হাতে, হাজার দশেক টাকা দিচ্ছে বলে তার নেশা-চড়ানো আরাম দেখে-শুনে-বুঝে নীরবে অনুমোদন করা ন্যায্য কথা নয়। এই এলোমেলো চালচরিত্র নিয়ে বড়ভাই কেমনে তার বছর পাঁচেকের ছোটভাইকে গাইড করবে? ভাইকে করবে সে দেখভাল? অসম্ভব। পারে তো তিনতলা থেকে দৌড়ে নেমে ফুটপাথের টং দোকান থেকে রাতে সিগারেট আনতে ছোটভাইকে সে অর্ডার দেয়। অসাধ্য কিছু না, জ্বলন্ত অর্ধেক সিগারেট নিপু ছোটভাইয়ের ঠোঁটে গুঁজে দিতে পারে।
খুব ভেতরের নিবিড় জখম বোধে সুনীল সহসা উতলা হয়ে ওঠে। অবশ্যই তারও অনুচিত হচ্ছে, নিপুর আয়ের অংশে সংসার খরচের সংস্থান হয় জেনে ছেলের তৈরি করা ত্রুটি মুখ বন্ধ রেখে দেখে যাওয়া। সন্তানের জন্মদাতা সে, এদের ভরণপোষণ শিক্ষাদীক্ষা দিয়ে বড় করে তোলার দায়িত্ব তার। তুমুল টানাটানির কারণে ক্লান্ত হলেও এই গুরুভার বহনে পারতপক্ষে সুনীল কার্পণ্য করেনি। সন্তানের সাধ-আহ্লাদ-দাবি-চাহিদা সব আবদার পূরণ করলে তাদের কার্যকলাপের জবাবে ন্যায্যকথা শুনিয়ে দেওয়ারও অভিভাবক সে।
সুনীল বোঝে, নিপু তার দোষ ওয়াকিফ বলে আগে থেকেই বাবার মুখোমুখি হওয়ার সাহস সে হারিয়েছে। কখনো সামনে পড়লে এমন দৌড়চালে বাবার নজরের বাইরে সরে যায় যেন বাথরুমে যাওয়ার চাপে আছে সে। ছেলের রুম দিয়ে যেতে যেতে সুনীল থমকে কখনো দৃষ্টি দিলে দেখা গেল নিপু কম্পিউটারে এমন মনোযোগ ধরে রেখেছে যে, কোনো মানুষের উপস্থিতি আদৌ সে টের পাচ্ছে না। চোখ কম্পিউটারের টার্মিনালে স্থির। বাকি থাকে যে দুই কান তাও গান বা সিনেমার সাউন্ড উপযুক্তভাবে শোনার জন্য হেডফোন দিয়ে ঢাকা। কোনো ডাকাডাকি ছেলের কর্ণকুহরে পৌঁছে না। সময় যায়, খেতে আসার জন্য মায়ের এতো নরম-গরম, সরু-মোটা চেঁচামেচি করা স্বর, কীসের কী, সব বৃথা। হেডফোন লাগিয়ে এমন মানুষ অগ্রাহ্য সুনীলের কাছে রীতিমতো বেয়াদবি মনে হয়।
ভাবতেই তার মাথা থেকে গরমের চড়া আঁচ নেমে আসে। খানিক ঝিম মেরে নিজের ত্রাণ নিজে ধরে রাখতে সে কৌশল নেয়। তার পজিশন নস্যাৎ করে গোঁয়ার অশিষ্টতা সে দেখাতে যাবে কেন? হোক তার সন্তান, এই জামানার কা-জ্ঞানহীন ছেলেপেলের সঙ্গে প্রয়োজন ছাড়া আলাপ না-করাই উত্তম। এর ফল হয়েছে : বড় ছেলের সঙ্গে সুনীলের বাক্যালাপ ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। উভয়ের মধ্যে পাতলা হলেও অদৃশ্য একটা দেয়াল উঠেছে। ছেলে ভাবছে, এটা বুঝি তার জন্য দারুণ সুবিধার – বাবা তো কিছু বলছে না। ইচ্ছামতো রাতে সে বাসায় ফিরছে। তার যাওয়া-আসা দিনযাপনের সঙ্গে বাবার কোনো সম্পর্ক নেই। কী মজা! যত ঘোরালো-প্যাঁচালো কথা হোক, কি স্বর মোলায়েম করে কিছু আদায় করার মতলব হোক, সব তার মায়ের সঙ্গে। মাও ছেলের পর্ব স্বামীর কাছে তোলে না। আরতি জানে, নিপু প্রসঙ্গে পেশ করলে সুনীলের এক কথা – ‘ভাত বন্ধ করে দাও।’ আরতি তখন কোন্দল করা অসমেত্মাষ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে চায় – ‘তুমি দাও। তোমার বাসা। আমার কী, ছেলে তো আমার একার না।’ এরপরই আরতির স্বরে মেঘোদয় হয় – ‘গত জন্মে মনে হয় পাপ করেছিলাম। এ জন্মে তাই প্রায়শ্চিত্ত করছি।’ বোঝো এবার, ঘরের বউয়ের খেদ-আক্ষেপ, হা-হুতাশে যদি জোর বাড়ে, তার চিল-চেঁচানি আশপাশের জানালার ফাঁক দিয়ে উড়ে যায়, তবে মানুষজন ভাববে কী – স্বামীটা নির্ঘাৎ ইতর, বউয়ের সঙ্গে খালি দুর্ব্যবহার করে।
সুনীলের মানহীন মলিন ভাড়া বাসাটা শান্তিনগরের এক গলি রাস্তার ভেতর দিকের পুরনো তিনতলায়। সিলিং-দেয়াল-বাথরুম-রান্নাঘর সবখানে এখন বাসিগন্ধের প্রলেপ। স্বাস্থ্যহানিকর দাগি বাসাটা ছেড়ে অন্য কোথাও একখানা আরাম কুরসিতে বসবে এমন সামর্থ্য তার নেই। এদিকে পরিচয়দানে অযোগ্য যে চাকরির কলম পিষে কালো চুল সাদা করে এনেছে সেখানে বেতন বাড়ছে না। হাজার হাজার বেকার থেকে সুলভে অফিসে লোক পাওয়া দুষ্কর নয়। মালিক মহোদয় এখনো তাকে এই বয়সেও কাজে রেখে বেতন দিয়ে যেন ধন্য করছেন। তার মনোভাব এমন : পুরনো কর্মচারী, পয়লা থেকে আছে, কী আর করা।
সুনীলদের মুখোমুখি সামান্য দূরে নতুন একটা বিল্ডিংয়ের চারতলার ছিমছাম ফ্ল্যাটের ফর্সা ভদ্রলোক সম্প্রতি চাকরি থেকে রিটায়ার করেছেন। পেনশন বাবদ তিনি মোটা অংক – লাখ লাখ টাকা পাবেন। হাওয়ায় উড়ে আসা এমন লোভনীয় খবর শুনে আরতি স্বামীর কাছে জানতে চেয়েছিল, তার অফিসেও পেনশনের সুব্যবস্থা আছে কিনা। সুনীল দুর্বোধ্য চাহনি দেয়, যেন ব্যাপারটা সে বুঝতে পারছে না। বছরে দুবার তার চাকরিতে বেতনের সিক্সটি পার্সেন্ট বোনাস ছাড়া আর কোনো আর্থিক সুবিধা নেই। বউয়ের জিজ্ঞাসার সামনে ঠোঁটে আঠা জমিয়ে সে চুপ করে আছে দেখে শুরু হয় আরতির ঠেসবাক্য। তাহলে আগামী দিনগুলো সচল বলো কি জীবিত বলো নির্ভর করতে হচ্ছে ছেলের চাকরির ওপর। দাঁড়াচ্ছে কী, ছেলের পেছনে খরচ করেছি, এখন অন্নজলের জোগান দিক সে। ছেলে তখন চাটি মারলেও তা হজম করো। ধুর, তীব্র আপত্তি সুনীলের মাথার মধ্যে শোর তোলে। মেরুদ–বাঁকা জীবন তার কাম্য নয়। আচ্ছা, গড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলা এই সংসারে মাত্র চারটি প্রাণী। দেখো, এদের চার চরিত্র। ভাবতেই বড়ছেলের আরেকটা দোষ সুনীলের সামনে খাড়া হয়। সবকিছুতেই ছেলের তাড়াহুড়ো। এতো ডাকাডাকি, আসে না আসে না, হঠাৎ খাওয়ার টেবিলে এসে হামলে পড়ে সে। টেবিলে খাওয়ার কী কী আছে সব ঢাকনা তুলে সে তদন্ত করে। মেঘবাদল না থাকলে ভোরে সুনীল হাঁটতে বের হয় – অনেক দিনের অভ্যাস। রমনা পার্কে চক্কর মেরে ফেরার সময় বেইলি রোডে বসা ভাসমান বাজারের মাছ-তরকারি সে প্রায়ই কিনে আনে। তরকারির দাম নাগালের মধ্যে থাকলেও তার মতো নির্দিষ্ট উপার্জনের মানুষের মাছ কেনার ক্ষমতা দিনে দিনে ক্ষয়ে আসছে। সাধারণ গুঁড়ো মাছের দাম পর্যন্ত ধরাছোঁয়ার বাইরে এখন। খদ্দেরদের ওপর মাছ-বিক্রেতার এমন দৃষ্টি – কিনবেন না, বেশ, মাছের ওপর চোখ দেওয়ার কারণে পারলে কিছু পয়সা দিয়ে যান। খরচের নাগালে থাকা মাছ ছাড়া কী কিনবে সে। দেখো, তেলাপিয়া মাছের রান্না, উঁহু, ধুস – মুখে ভেংচি রেখে নিপু নিজস্ব অপছন্দের আওয়াজ রুমে ছুড়েই যায় – ‘এসব হাবিজাবি খাওয়া যায়? হলিডে, কোথায় বেটার কিছু থাকবে।’ অসাধ্য এক উত্তেজনা মুহূর্তে সুনীলকে দখল করে; আর তা বেরিয়ে আসতে আসতে কণ্ঠে পাথুরে শব্দ হয়ে যায় – ‘ভালো কিছু বাজার থেকে আনলে হয়। কখনো তো দেখলাম না।’
শেষবাক্যের জবাবে জোর পদক্ষেপে নিপু রুম ছেড়ে যায়। এ-সময় ভাতের গামলা হাতে আরতি কেবল রুমে ঢুকেছে, বড়ছেলে অমন অন্ধকার মুখে চলে যাচ্ছে দেখে ঘাড় ঘুরিয়ে স্বামীর ওপর সে বাঘাটে চাহনি তুলে ধরে। তার চালু খরখরে স্বরের ধারে সুনীল এবার চেরাই হতে থাকে – ‘ছেলেটার পেটে আছে কিছু, সেই সকালে এককাপ চা আর দুটো বিস্কুট খেয়েছে। এখন খাবে ভাত। তা না, ছেলেটাকে তিনি তাড়িয়ে ছেড়েছে।’ ভয়ংকরী রূপ ধারণে পায়ের শব্দ কিছুতেই আসেত্ম হয় না। হড়বড়ে পায়ে আরতি ভেতরে যায়।
এই ঘটনার সাত-আটদিন গেছে। বাবার মুখোমুখি পড়লে নিঃশব্দে নিপু পাশ কেটেছে – কথা বলেনি। হতে পারে, তার ভেতরে বলার মতো কোনো কথা জমেনি। কিন্তু চেহারাছবিতে পরিষ্কার সমেত্মাষ, আগের মতোই স্বাভাবিক। যথারীতি নিত্য অভ্যাসে ছোট পুত্তুর দীপু তার কথার ফোয়ারা চালু রেখেছে। আজগুবি থেকে নির্ভেজাল কত তার কথা। – ‘বুঝলে বাবা, আর দুদিন বাকি অ্যালান টিউরিংয়ের জন্মশতবার্ষিকীর।’
হঠাৎ ভিন্ন এক প্রসঙ্গ, আর টিউরিং বা কার নাম! সুনীল হা-মুখে স্থির চেয়ে থাকে। কোন কথা থেকে কোন কথায় যে ছেলেটা চলে যায়। বাবার অবুঝ ফাঁপা-চাহনি দেখে দীপু নরম করে হাসে – ‘মাই ওল্ড ড্যাড। অ্যালান টিউরিংকে তুমি কেমনে জানবে? হ্যান্ড্রেড ইয়ার্স হলো, লন্ডনের প্যাডিংটন হসপিটালে কম্পিউটার সায়েন্সের এই ফাদারের জন্ম। দুঃখ কী জানো, বয়স ফর্টি টু হওয়ার আগেই সুইসাইড করে সে। তার ডেডবডির পাশে কামড় দেওয়া একটা আপেল পাওয়া যায়। পোস্টমর্টেমের রিপোর্ট : আপেলের সঙ্গে সায়ানাইড মেশানো ছিল।’
হঠাৎ দীপুর কম্পিউটার সায়েন্টিস্টের সুইসাইডের কথা কেন? আগেও কখনো কখনো কথাচ্ছলে জানা-অজানা মানুষের মৃত্যু নিয়ে সে বলেছে। ফিজিক্স হচ্ছে দীপুর প্রিয় বিষয়। এই ফিজিক্সের উদাহরণই সে বেশি বেশি টেনে আনে। তাহলে দাঁড়ালো কী, সুনীলের গত ও বর্তমান মিলিয়ে আটপৌরে জীবন, জানাজানি কম, শ্রোতা হওয়া ছাড়া কথকের খুব একটা সুযোগ তার হয় না। কিন্তু সুইসাইডের উদাহরণ তুলে প্রকারান্তরে সুনীলকে কি ভয় দেখায় দীপু? ছেলের মুখে আত্মহত্যার গল্প শুনলে ধীরে ধীরে শরীরে তার হিম ভেঙে আসে।
কেবল ছুটিছাটার দিনেই চার চেহারা খাওয়ার টেবিলে একত্র হয়। ছুটির কোনো কোনো ঝকঝকে দুপুরে টেবিলের একটা চেয়ার ফাঁকা থাকে। বড়ছেলের শখ নয়ন-নন্দন ছবি তোলার। ক্যামেরা নিয়ে বেরিয়ে ফিরতে ফিরতে তার দুপুর গড়িয়ে যায়। কোথায় নিজের রুমে বসে বিশ্রাম করবে, তা না, ছোটভাইকে পেলে তো কথাই নেই, শুরু হয় তার অনর্গল উচ্ছ্বাস – ‘বুঝলি, অফিসার্স ক্লাবের চৌমাথায় দাঁড়িয়ে ক্যামেরা অন করেছি, ও মা, পাশে দেখি মানুষ, ক্যামেরা দেখলেই ভিড়।’
নিপু গ্রাফিকসে মাস্টার্স। তার এক্সট্রা যোগ্যতার জন্য ডিএসএলআর ক্যামেরা চাই। ভালো, তার বেতনের টাকা জমিয়ে সে ক্যামেরা কিনবে – কিনুক। কিন্তু দাঁড়ালো কী, সংসারের এ-খরচ ও-খরচ ছাঁটাই করে হাজার দশেক টাকা ছেলের ক্যামেরার জন্য সুনীলকে দিতে হলো। কষ্টের এই ভোগ ছেলে কি বোঝে? বাবার মন ভেজাতে কিছু টাকা মাসে মাসে সে ফিরিয়ে দেবে বললেও ছেলের প্রতিশ্রম্নতির ওপর সুনীল আস্থা রাখেনি।
দীপু ছোট হলেও তার কথায় থাকে বিভিন্ন মোচড়। চালচলনে কোথায় জানি তার সেয়ানা ভাব। তার চাহিদা সে গচ্ছিত রেখেছে ভবিষ্যতের কাছে। বড় কোনো আকাঙ্ক্ষা এখনো তৈরি হয়নি বলে বাবার ওপর বর্তমানে তার কোনো প্রেসার নেই। তবে এশিয়া-ইউরোপ না, উত্তর আমেরিকায় উড়ে যাবে, সেটেল সে ওখানে হতে চায়। ওয়ার্ক পারমিট জোগাড় হলে কাজের ফাঁকে লেখাপড়া করবে। কানাডার এডুকেশন নাকি বেটার। ভ্যালু আছে, লেখাপড়া জানলে সব সহজ ওখানে। খুশি খুশি ভাব নিয়ে সে একাধিকবার বাবাকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে – ‘তুমি বলেছিলে তোমার কাস্টমসের রিটায়ার্ড কোন বন্ধু আছে, তার মেয়ে-জামাই দুজনে টরন্টো ইউনিভার্সিটিতে আছে, যোগাযোগ রেখো, কাজে লাগবে।’ দীপুর ধারণা, এদেশে এখন চরম ডার্ক পিরিয়ড চলছে। কোনো উন্নতির সম্ভাবনা নেই – ফিউচার জিরো।
বিস্ময়ে ছোটছেলের ওপর থেকে সুনীল চোখ সরাতে পারে না। এসব কি দীপুর নিজের কথা? দীপু জানে না ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর কোনো সামর্থ্য তার বাবার নেই। বড়লোকের ছেলেপেলে বন্ধু হলে তাদের যাবতীয় সঙ্গদোষ মধ্যবিত্তের মধ্যে চালান হয়ে আসে। মেজাজ-মর্জি, চালচলন তখন ফুলে-ফেঁপে ঢোল। নিজের সীমানা নিয়ে সঠিক ধারণা থাকে না।
টিভি অন করে সুনীল। সাউন্ড কমিয়ে খবর শুনতে শুনতে পেস্নটে সে ভাত তুলে নেয়। দীপু বড়ভাইয়ের মুখে রগড়ে চাহনি দিয়ে এবার বাবার মুখ পড়তে তৎপর হয়। তার মুখে যথারীতি মিঠেল হাসি জ্বলছে। নিপু তার স্বভাব মোতাবেক বিরক্ত, খাওয়া নিয়ে সেই খিটিমিটি আছেই – ‘হাইব্রিড কই মাছ মানুষ ক্যামনে খায়? টেস্ট নেই – কাঁটা শক্ত।’ পারলে কই মাছ, এই মাছের গুষ্টি-গোত্র, এমনকি এই মাছের ক্রেতার ওপর দিয়ে সে মনের ঝাল মিটিয়ে নেয়।
ডাইনিং টেবিলে কোনো ছুতানাতায় নিপু তার অসমেত্মাষ ছড়িয়ে খাওয়ার পরিবেশ বিস্বাদ করে দিতে পারে ভেবে সুনীল সতর্ক থাকে।
টিভিতে সরকারের খবরের পর এবার বিরোধীদলের সংবাদ পড়া হচ্ছে। দুর্নীতির কারণে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই সরকারের জনপ্রিয়তা এখন শূন্যের কোঠায়। সুনীলের পেস্নটে হাত, ঘাড়ে চাপ, চোখ টিভি স্ক্রিনের ওপর ধরা দেখে দীপুর বিরাগ স্বর উড়িয়ে বাবার মনোযোগ টলিয়ে দিতে চায়। – ‘বাজে প্যাঁচাল। ডার্টি পলিটিক্সের কী শোনো তুমি? বোর ফিল করো না?’ বড়ভাইয়ের সমর্থন আদায়ে দীপু তার আঙুলে টিপ দেয়।
নিপু অনেক অতলে বুঝি ডুবে ছিল, এতোক্ষণে তার হুঁশ ফিরেছে – ‘ও টিভি নিউজ রাবিশ’ বাবার উদ্দেশে এবার তার মোটা স্বর – ‘এত খবর দেখলে, নিজে কখনো খবর হলে না।’
পেস্নটে রাখা সুনীলের হাত এবার জমেই যায়। তাকে কি নিপু ব্যঙ্গ করছে? না এটা বাবার নিরুপদ্রব গোবেচারা জীবন নিয়ে সমব্যথী হওয়া ছেলের নিরীহ উক্তি – কোনটি? যেটাই হোক, একটা বিষয় পরিষ্কার – ছেলে বাবার পুরনো ডালে কিছুতেই বসার পক্ষপাতী নয়। ডানা সে ঝাপটাবে – উড়াল দেবে। ভালো ভালো।
– ‘টিভি বন্ধ করে দিই বাবা। কেউ তো দেখছে না।’ দীপু রিমোট টিপতে যাবে, তখুনি যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে খবর শুরু হলে সুনীল হাত তুলে ছোট ছেলেকে নিবৃত্ত করে।
– ‘এই আর এক সাবজেক্ট!’
দীপুর বাঁকা কণ্ঠে সুনীলের অবাক হওয়ার পালা। ছেলেটা কি অসময়ে সাবালক হয়ে গেছে, নচেৎ অত কথা, কিংবা ঘটনার সঙ্গে অত জড়িয়ে পড়া কেন। বয়স্কদের মতো মুখভঙ্গি, বিষয় জটিল করে তোলা এত তাড়াতাড়ি শিখল কীভাবে? একেই তবে ইঁচড়েপাকা বলে। উত্তম, এক ছেলে ওপরে ওঠার সিঁড়ি খুঁজছে, আরেক ছেলে এই বয়সেই স্নব – দেশের কোনো কিছু ভালো লাগে না। মাথার মধ্যে পরবাসী হওয়ার ভাবনা।
‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাংলার মাটিতে হবেই। চক্রান্ত করে এই বিচারকাজ বাধাগ্রস্ত করা যাবে না।’ – সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সচিত্র সংবাদ প্রচারিত হচ্ছে। দীপু এঁটো ডানহাত সামান্য তুলে হিসাব করে – ‘দুই হাজার উনিশ সাল এখন। যুদ্ধ হয়েছে উনিশশো একাত্তরে, আটচলিস্নশ বছর হলো, এতদিন আগের, এর ওপর তো ধুলো পড়ে গেছে বাবা -।’
দীপুর গাঢ় হিসেবি স্বর ও ধুলোর নির্যাতনের সম্ভাবনা টেবিলে-পেস্নটে-ফ্লোরে পড়ে ছড়িয়ে যায় – ‘তোমরা যারা ফ্রিডম ফাইটার, এখন কি মনে হয় যুদ্ধ করে ভুল করেছো?’
সুনীলের কশেরুকায় ঝাঁঝাঁ বেগে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে। যুদ্ধ করে ভুল? কিসের ভুল? বলে কী ছেলে! মুক্তিযুদ্ধ না-হলে সংখ্যালঘু হওয়ার অপরাধেই তো তাদের উদ্বাস্ত্ত হতে হতো। কিংবা এতদিন পাকিস্তান নামের ব্যর্থ একটা রাষ্ট্রের থার্ড ক্লাস নাগরিকের হীন পরিচয়ে থাকতে হতো। যুদ্ধ করে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা না-হলে কোথায় জন্মাত এই ছেলেপেলে। মুক্তিযুদ্ধ, অমন শ্রেষ্ঠ কীর্তির ওপর কেমনে ধুলো পড়ে।
‘ইম্পসিবল’ সুনীলের কণ্ঠছেঁড়া আওয়াজের প্রতাপে নিপু-দীপুর দুজনই বিস্ময়ে বাবাকে দেখে। অমন বাঁচা-মরার যুদ্ধের ওপর ধুলো, উঁহু, হতেই পারে না। সুনীল তার নাগালের টেবিলের অংশে দুহাত এগিয়ে ধুলো সরাতে সক্রিয় হয়।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1353)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
কালবেলা
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
ইউক্রেন
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
তরুণ প্রজন্ম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আলী যাকের
আইন ও বিচার
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
তারেক শামসুর রেহমান
মালয়েশিয়া
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
স্বাস্থ্য
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
জ্যোতির্বিজ্ঞান
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
শিল্প ও সাহিত্য
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
মিয়ানমার
ঢাকা
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
গবেষণা
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
জীবনযাপন
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
মেহেদী হাসান
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
মানসুরা হোসাইন
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
মসজিদ
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
ইয়েমেন
একরামুল হক
Exclusive
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিজ্ঞান
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
জনস্বাস্থ্য
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
ফরিদপুর
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লাতিন আমেরিকা
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মহাকাশচারী
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
জোহরান মামদানি
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
ইহুদি
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
স্পেন
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
বিশ্বকাপ ফুটবল
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment