Saturday, July 28, 2012
হুমায়ুন কেন? by সৈয়দ আশরাফুল কবির
হুমায়ুন কেন? by সৈয়দ আশরাফুল কবির
‘আমি জীবনের মুখোমুখি সাহসের সঙ্গে দাঁড়াবো। যে আমাকে প্রেরণা দিয়েছে সে প্রেরণাময়ীর কাছে যাব। যে আমাকে গৃহপালিত মানুষে রূপান্তরিত করতে চায়, তার কাছে যাবো না। আমার বন্যতা, আমার উদারতা, উদ্দামতা, অস্থিরতার যথাযথ ব্যাখ্যা করা উচিত। কি হতে চাই, কতোটুকু যোগ্যতা আছে, পরিবেশ কতোটুকু সুযোগ দেবে এবং পরিবেশকে কতোদূর ভাঙতে হবে সেটিই দেখার বিষয়।’ (আহমদ ছফার ডাইরী থেকে)
লিখতে বসেছি হুমায়ূন আহমেদ নিয়ে কিন্তু আহমদ ছফা কেন আসবে? আহমদ ছফা অবশ্যই আসবে। কারণ হুমায়ূন আহমদ ছফা’র সৃষ্টি। হি ইজ পার্টলি মাই ক্রিয়েশন আহমদ ছফা দাবি করতেন। করবেন নাই বা কেন? হুমায়ূনেরও তাতে কোনদিন দ্বিমত হয়নি। আহমদ ছফা নিয়ে বলতে গিয়ে হুমায়ূন বলতেন ছফা ভাই ছিলেন আমার MENTOR। ছফা ভাই এমন একজন মানুষ যিনি নিমেষেই উত্তেজনা সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারেন। ছফা ভাই হুমায়ূনকে বললেন গল্প লিখতে হবে। রোজ রাতে একটা করে। ছফা ভাইয়ের কথা মানেই আদেশ। হুমায়ূন রাত জেগে জেগে গল্প লেখা শুরু করে দিল। তার প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন ছফা। লেখক শিবিরের প্রধান হওয়ায় ‘নন্দিত নরকে’-কে বছরের শ্রেষ্ঠ উপন্যাসের পুরষ্কার দিয়ে দিয়েছিলেন। ‘নন্দিত নরকে’র জন্য আহমদ শরীফের যে ভূমিকা তাও ছফার সৌজন্যে পাওয়া। একজন তরুণ ঔপন্যাসিকের ক্ষেত্রে যা ছিল অকল্পনীয়। তবে হুমায়ূন আহমেদ ছফার বলয়ে থাকেন নি। তার এক সময় সন্দেহ হল ছফা যে জগতে বাস করেন তা বাস্তব জগত থেকে অনেক দূরে। তার রিয়েলিটি আর হুমায়ূনের রিয়েলিটি এক নয়। আহমদ ছফার ভাবনা দর্শন রিয়েলিটি নিয়ে লিখতে বসলে হুমায়ূনকে নিয়ে আর কিছু লেখা হবে না। তাই এই প্রসঙ্গ থাক। হুমায়ূনের মোহ ভঙ্গ হল। হুমায়ূনকে নিয়ে ছফা ভাইয়ের অনেক স্বপ্ন ছিল। হুমায়ূন নিজেই স্বীকার করেছেন সে তার কোনটাই পূরণ করতে পারেন নি।
আহমেদ ছফাও হুমায়ূনের ভিতরে চেখভের মত একটা প্রতিভার সন্ধান করেছিলেন। কিন্তু তার আশা পূর্ণ হয়নি। হুমায়ূনের লেখা সম্পর্কে বলতেন – জামাকাপড় তো বানায়, কিন্তু প্রাণ দিতে পারে না, কী একটা মুশকিল!
হুমায়ূনকে তিনি শরৎচন্দ্রের চেয়েও জনপ্রিয় সার্টিফিকেট অনেক আগেই দিয়ে গেছেন। আশ্চর্য আমরা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছ থেকে ফোন করে সেই সার্টিফিকেট নেওয়ার জন্য দৌড়াদৌড়ি করছি। আমাদের পশ্চিমা প্রীতি বোধহয় কোনদিনই যাবে না। আনন্দবাজারে টুকরো খবরে হুমায়ূনের মৃত্যূ সংবাদ পড়েও বোধোদয় হবে না। হুমায়ূন আহমেদের সাথে সমসাময়িক লেখকদের তুলনায় ছফার বক্তব্য ছিল ‘হুমায়ূন আহমেদ একবিন্দুও সেক্স না লিখে শ্রেষ্ঠ বাজারসফল বই লিখছে, অন্যেরা সেক্স দিয়ে এইটার সাথে কমপিট করতে চাইছে। হুমায়ূন আহমেদ যত কিছুই করুক না কেন, তার নষ্টামিটা অন্য জায়গায়। তার নষ্টামিটা ব্রেনে। অন্যদের নষ্টামিটা শিশ্নে।’ হুমায়ূন কেন টাকার জন্য বাজার লেখক হতে গেলেন তার একটা ব্যাখ্যাও ছফা দিয়েছেন – ‘উপর্যুপরি সামরিক শাসন, গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার পরাজয় সব মিলিয়ে এখানে যে চিন্তাহীন অরাজক পরিস্থিতি- হুমায়ূন সেই সময়ের প্রোডাক্ট।’
‘নন্দিত নরকে’ বা ‘শঙ্খনীল কারাগার’ তার দুই শ্রেষ্ঠ উপন্যাস অবশ্য তাকে জনপ্রিয় করে নি। তাকে জনপ্রিয় করেছিল বিচিত্রায় প্রকাশিত তার প্রথম উপন্যাস ‘অচিনপুর’। যার জন্য তিনি তিনশ টাকা পেয়েছিলেন। নন্দিত নরকে এবং শঙ্খনীল কারাগারের জন্য রয়েলিটি হিসাবে পেয়েছিলেন চারশ টাকা। পাঠক হয়ত ভাবছেন টাকার অঙ্কগুলো বলার দরকার কি? বলার দরকার আছে। কারণ হুমায়ূন টাকার জন্য লিখতেন। এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। তিনিও অস্বীকার করেন নি। এ প্রসঙ্গে তার জীবনের প্রথম গল্পটা শোনা যাক।
হুময়ূনের বাসায় টি.ভি নেই। তার দুই মেয়ে নোভা, শীলা পাশের বাসায় টি.ভি দেখতে যায়। একদিন খুব মন খারাপ করে তারা বাসায় ফিরে আসল। পাশের বাড়িতে মেহমান এসেছে বলে টি.ভি দেখতে দেবে না। এখন একটু বলি এমন ঘটনা আমার জীবনেও ঘটেছে। আমাদের টি.ভি ছিল না। বাড়িওয়ালার বাসায় যেতাম টি.ভি দেখতে। ছোটবেলায় বুঝতাম না কিন্তু এখন বুঝি কি অপমানের মধ্যে দিয়ে না আমাকে টি.ভি দেখতে দিত ওরা। ওরা সবাই বিছানায় বসত। আমাকে বসতে দিত নিচে মেঝেতে। থাক সে প্রসঙ্গ আমরা হুমায়ূনের গল্পে ফিরে আসি। হুমায়ূনের বড় মেয়ে জেদ ধরল তাদের একটা রঙিন টেলিভিশন কিনে দিতে হবে। হুমায়ূন সেই প্রত্যাশা পূরণের জন্য লিখলেন কালজয়ী ধারাবাহিক নাটক ‘এই সব দিন রাত্রি’। একটা রঙিন টি.ভির জন্য লেখা হয়েছিল এই নাটক। সেই নাটকে টুনির ক্যান্সার হয়েছিল। আমাদের হুমায়ূনও ক্যান্সারে চলে গেলেন। হুমায়ূন যদি বাজার লেখক না হতেন, অর্থ উপার্জনের জন্য না লিখতেন আমরা হয়ত বি.টি.ভি-তে এই কালজয়ী নাটকটি দেখতে পেতাম না। যা আমাদের দর্শকদের কোলকাতা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। নদীয়ার ভাষা থেকে বাংলাদেশের ভাষা বলতে শিখিয়েছিল। বি.টি.ভি-তেও শুরু হয়েছিল একটা নতুন অধ্যায়। টাকা নিয়ে হুমায়ূনের যুক্তি ছিল- ‘একজন লেখক চাঁদের আলো খেয়ে বাঁচেন না। তাকে প্রোটিন এবং কার্বোহাইড্রেট খেতে হয়।’
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলতেন, সাহিত্যে মধ্যবিত্তের কর্তৃত্ব থাকবেই।আসলে সাহিত্যের বিশেষ প্রয়োজন মধ্যবিত্তের জন্যই. উচ্চবিত্তের জন্য ভিন্ন প্রকার আমোদ-আনন্দের পথ খোলা আছে, নিম্নবিত্তেরও তাই, মধ্যবিত্তের এদিক সেদিক যাওয়ার পথ খোলা নেই। এ কথা কি অস্বীকার করার উপায় আছে হুমায়ূন সেই মধ্যবিত্তেরই প্রতিনিধিত্ব করতেন। মধ্যবিত্তের সুঃখ-দুঃখ, আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন, আনন্দ-নিরানন্দ, চাওয়া-পাওয়া, অর্থহীন প্রলাপ, মূল্যবোধ, সংশয়, যুক্তি-তর্ক, কালক্ষেপন, মিরাকলের প্রত্যাশা, অনিশ্চয়তা, আ্যান্টি লজিক, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র বোধ, আত্মশ্লাঘা, অহমিকা, অভিমান, কৌতুকবোধ কি উঠে আসে নি হুমায়ূনের লেখায়? আর মধ্যবিত্তের সাহিত্যই যদি প্রধান সাহিত্যের মাপকাঠি হয় তবে হুমায়ূন সেই মধ্যবিত্তের চেতনা ধারণ করে আনার জন্য কেন টিকে থাকবেন না?
হুমায়ূনের লেখায় কি শুধুই মধ্যবিত্তের কাহিনি? উচ্চবিত্ত বা নিম্নবিত্তের কি সেখানে স্থান নেই। আবার সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর কাছে ফিরে যাই। তিনি বলতে চান কৌতুক ও বাগবৈদগ্ধতার একটা ভূমিকা এই যে, তারা জীবনের কুৎসিত সত্যগুলোকে চোখের আড়াল করে রাখে। একটা ঢাকনা চেপে ধরে সেই মস্ত পাত্রের উপর যার ভিতর অপ্রিয় ও অসুন্দর সত্যগুলো কিলবিল করছে। সব রচনাতেই দেখা যায় অভাবপীড়িত মানুষকে অবলোকন করা হয়েছে দূর থেকে। সে জীবনের সাথে একাত্মবোধের ছাপ খুব অল্প। কৃষক কৃষক হিসাবেই সুখি হোক, কৃষিকার্য লেখনকার্যের মতই গুরত্ব ও মর্যাদাপূর্ণ হয়ে উঠুক এই ইচ্ছাটা সাহিত্যে ফুটে ওঠে নি। বরং কৃষকের ছেলে মেধা থাকা সত্বেও কেন ডাক্তার হলো না, ধনীর দুলালীকে বিয়ে করতে পারল না সেই নিয়েই সাহিত্য গড়ে উঠেছে। এর ভিতরে একটা অসৎ সদিচ্ছা কাজ করছে যে দুঃখী দুঃখীই থাকুক, তাহলে আমরা আমাদের সুখজনিত সৌভাগ্যটা বুঝতে পারব। এবং দুঃখীর জন্য দুঃখ প্রকাশে ভাবালু হয়ে নৈতিক পরিতৃপ্তি লাভ করে সাহিত্য রচনা করব। খাঁটি মধ্যবিত্ত সব সময় উপরে তাকিয়ে থাকে, নিচুকে তার ভয় পাছে সে ধরা পড়ে যায় যে, সে নিচু থেকে বেশী উঁচুতে নয়। বৃত্তের ভিতরে আছি, অথচ বৃত্তের ভেতর থেকে সাহিত্য হয় না, জীবনের সাথে জীবনের যোগ সাহিত্যসৃষ্টির এ হল পয়লা শর্ত।
হুমায়ূন কি বৃত্ত ভাঙতে পেরেছিলেন? বৃত্ত নিয়ে হুমায়ূন বলেছিলেন প্রতিটা মানুষের আলাদা আলাদা বৃত্ত থাকে। কেউ সেই বৃত্ত অতিক্রম করতে পারে না। উনিও পারেন নি। কিম্বা হয়ত পারার চেষ্টা করেন নি। নিজের বৃত্তে থেকেই লিখে গেছেন। দাবি করেন নি কখনো নিজেকে ঔপন্যাসিক বলে। বরং বলতেন ফিকশন রাইটার। কারণ উপন্যাসের সংজ্ঞা কি তা তিনি শেষ অবধি জানতে পারেন নি। তাই নিজের মত করে উপন্যাসের সংজ্ঞা দাঁড় করিয়েছেন। কিন্তু আমরা যখন তার ‘অচিনপুর’ উপন্যাসটা দেখি তখন কি মনে হয় না তিনি বৃত্ত ভাঙতে পেরেছিলেন। সিরাজুল ইসলামের সব দাবিই কি তার ‘অচিনপুর’ আর ‘ফেরা’ উপন্যাস দুটি পূরণ করে না?
‘অচিনপুর’ পুরোটা গ্রামীণ আবহে লেখা একটা উপাখ্যান। সেখানে নবুমামা আছে, বাদশা মামা আছে, নানা জান আছে, লাল মামী আছে। যে যার অবস্থানেই জীবনের সুঃখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন। তাদের শহরমুখিতা নেই। তথাকথিত উচ্চাশা নেই। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী যেমনটি চাইছিলেন কৃষক কৃষক হিসাবেই সুখি হবে তেমনটির প্রতিফলনই কি ‘অচিনপুর’-এ ঘটে নি। একথা সত্য সেখানে কৌতুক ও বাগবৈদগ্ধতার প্রাচুর্য আছে। কিন্তু তা কি আমাদের গ্রামীণ আবহের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নয়। উপন্যাসে—
“মাঠে সে রাতে প্রচুর জোছনা হয়েছে। চকচক করছে চারিদিক। ঠাণ্ডা একটা বাতাস বইছে। নবুমামা চেচিয়ে বলল– “কি জোছনা! খেতে ইচ্ছা হয়। মনে হয় কপকপ করে খেয়েফেলি। নবুমামা হা করে খাবার ভঙ্গি করতে লাগল। বিস্মিত হয়ে আমি তার আনন্দ দেখলাম।”
জোছনার এমন সরল বর্ণনা পাঠককে কোথায় নিয়ে যায়? আমাদেরও কি নবুমামার মত সব সময়কে স্থির করে জোছনা খাওয়ার অদম্য বাসনা তৈরি করে না? আবার লাল মামী যখন গ্রাম বাংলার চিরচরিত নারীর প্রতিনিধিত্ব না করে একটা সমাজিক বিপ্লবের নারী স্বাধীনতার ডাক দেয় তাতে কি সমাজের ভীত কেঁপে ওঠে না?
“নবুমামা দৌড়ে দেশলাই নিয়ে আসলেন। মামি আমাদের দুজনের স্তম্ভিত চোখের সামনে ফস করে একটা বার্ডসাই সিগারেট ধরিয়ে টানতে থাকেন। আমাদের দুজনের নিঃশ্বাস পড়ে না। মামি বললেন, এই দেখ যত টানছি তত ছোট হচ্ছে।
……………………………………………………………………………………………………………
মামির মুখের গন্ধ দূর করার জন্য পানি আনতে হয়। এলাচ দানা আনতে হয়। সেই সঙ্গে মামীর প্রতি আমাদের নিষিদ্ধ আর্কষণ জড় হতে থাকে।”
তবে হ্যা সেখানে জীবনের সবচেয়ে প্রচণ্ড আর্থিক অভাবের চিত্রায়ন নেই। পুঁজিবাদী বা সমাজপতিদের বিরুদ্ধে আপামর জনগণের বিপ্লব নেই। নেই দারিদ্রতার চিত্রায়ন। যে আর্থিক অভাবের চিত্রায়ন হুমায়ূন করেছেন ‘ফেরা’-তে। এইখানে গণমানুষের প্রতিবাদী চরিত্র আছে। আছে যৌক্তিক উপলদ্ধি। এবং এটাও গ্রামীণ আবহে নির্মিত উপন্যাস।
হুমায়ূনের ‘ফেরা’। কি নেই এই উপন্যাসে? কিছু অংশ তুলে ধরছি—
“ভাত না খেয়ে বাঁচার রহস্য সোহাগীর লোকজনের জানা নেই। চৈত্র মাসের দারুণ অভাবের সময়ও এরা ফেলে ছড়িয়ে তিন বেলা ভাত খায়। এবার কার্তিক মাসেই কারও ঘরে এক দানা চাল নেই। জমি ঠিক ঠাক করার সময় এসে গেছে। বীজ ধান দরকার। হালের গরুর দরকার। সিরাজ মিঞার মত সম্ভ্রান্ত চাষীও তার কিনে রাখা ঢেউ টিন জলের দামে বিক্রি করে দিল।
ঘরে ঘরে অভাব। ভেজা ধান শুকিয়ে যে চাল করা হয়েছে তাতে উৎকট গন্ধ। পেটে সহ্য হয় না। মোহনগঞ্জ থেকে আটা এসেছে। আটার রুটি কারও মুখে রোচে না। কেউ খেতে চায় না। লগ্নির কারবারীরা চড়া সুদে টাকা ধার দিতে শুরু করল।
ঠিক এই সময় কলেরা দেখা দিল। প্রথম মারা গেল ডাক্তার ফজলুল করিম সাহেবের কম্পাউন্ডারটি। তারপরই এক সাথে পাঁচজন অসুখে পড়ল। আমিন ডাক্তার দিশাহারা হয়ে পড়লেন। অষুধ পত্র নেই, খাবার নেই, কিভাবে কি হবে?
ভাতের কষ্ট বড় কষ্ট। নুরুউদ্দিনের পেটে সারাক্ষণের ভাতের খিদা লেগে থাকে। শরিফা প্রায়ই বলে আজরফ টেকা পয়সা নিয়া আসুক, দুই বেলা ভাত রানমু।
কোনদিন আইবো?”
উপন্যাসে এক সময় নুরুকে মাছ চুরির অপবাদ দেওয়া। মারধরও করে। সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তির এই কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় আমিন ডাক্তার। প্রতিবাদে অনশনে বসে। অবস্থান ধর্মঘট করে। এক সময় বিপ্লব ছড়িয়ে পড়ে। ন্যায্য হিসাবের দাবিতে নিজাম সরকারের মাছের খোলায় চড়াও হয় গ্রামবাসী। চুক্তি অনুযায়ী ৩০ ভাগ মাছ প্রাপ্তির দাবিতে। দুটি খুনও হয়ে যায়। এক সময় মোহনগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার কোমরে দড়ি বেঁধে আমিন ডাক্তারকে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনার এখানেই শেষ না। হুমায়ূন চমক দিতে ভালবাসেন। সরকার বাড়িতে একটা নববধূকে মেরে গাঙে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল সেই তথ্য শেষে উঠে আসে। হুমায়ূনের ‘ফেরা’ কালজয়ী উপন্যাস হয়ে বাংলা সাহিত্যে কেন টিকে থাকবে না বোধগম্য হয় না।
মোটাদাগে বাংলা সাহিত্য বঙ্কিমের হাত ধরে যে পথ চলা শুরু করেছিল রবীন্দ্রভাবনায় সমৃদ্ধ হয়ে শরৎ এর হাতে এসে আপামর জনগণের দোরগোড়ায় চলে আসে। আপামর জনগণের দোড়গোড়ায় পৌঁছানোর কারণেই শরৎ বাংলা সাহিত্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখকে পরিণত হন। এখন জনপ্রিয় লেখক ছিলেন বলেই শরৎ আজকে একশ বছরেও অচল হয়ে যেমন জাননি তেমনি শরৎকেও জনপ্রিয়তায় ছাপিয়ে যাওয়া হুমায়ূনও হারিয়ে যাবেন না একথা হয়ত ছেলেমানুষী হয়ে যাবে। তবু শরৎ এর ‘দেবদাস’ পড়ে এখনও যেমন পাঠক অশ্রুজলে ভাসে ভবিষ্যতে হুমায়ূনের ‘নবনী’ বা ‘কৃষ্ণপক্ষ’র অরু/মুহিবের কাহিনি পড়েও পাঠক অশ্রু বির্সজন দেবে নির্দ্বিধায় বলা যায়।
মানুষের হৃদয়বৃত্তি জাগ্রত করাই জনপ্রিয়তার মূলমন্ত্র। আর জনপ্রিয় লেখকরা বিশাল পাঠক গোষ্ঠীর পাঠ্যাভাস তৈরি করে। হুমায়ূন লাখ মানুষের ভিতরে পাঠ্যাভাস গড়ে তুলেছিলেন এ কথা নতুন করে আলোচনার কিছু নেই কিন্তু তিনি পাঠককে যে আরও কিছু জানতে, আরও মহত্তম সাহিত্যের প্রতি অনুরক্ত হতে কৌতূহলী করতেন সে কথা না বললেই না। উদাহরণ হিসাবে হুমায়ূনের ‘মাতাল হাওয়া’কে ধরা যাক। ‘মাতাল হাওয়া’ অসম্পূর্ণ উপন্যাস। উপন্যাসে আমরা যে গল্প খুঁজি তার পুরোটাই হয়ত আছে কিন্তু যে বিশেষ সময়ের প্রেক্ষিতে গল্পের কাহিনি সেই সময়টা পাঠকের চোখে পুরোপুরি ধরা পড়ে না। ধরা পড়ে না তবে হুমায়ূনের সুনিপুন লেখনীর জোরে পাঠককে কৌতূহলী করে জানতে ৬৯-এর কথা। পাঠক হুমায়ূনের থেকে গল্পের রসটা পেল সাথে পেল ইতিহাস জানার লিপ্সা। যেমনটি তার অনেক উপন্যাসের ভিতর ঢুকিয়ে দেয়া কালোত্তীর্ণ সাহিত্য কর্মের উদ্ধৃতি পাঠককে তা খুঁজে বের করে পড়ার ইচ্ছা জাগায়।
হাসান আজিজুল হকের বিশ্বাস ‘সাহিত্য সমাজের অবস্থাটাকে খুব সরাসরি তুলে ধরতে পারে, সরাসরি বিশ্লেষণের কাজটি করতে পারে তার সাথে মানুষের আবেগের যোগোযোগ ঘটাতে পারে। ফলে মানুষের চেতনা অনেক শাণিত হতে পারে, যে চেতনা অবশ্যই সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে।’ উপন্যাস যদি শুধু কাল্পনিক হয় তবে তার কোন তাৎপর্য থাকে না। উপন্যাসের গল্পকে অবশ্যই হতে হয় একটা বিশেষ সময়ের সমাজের গল্প, বাংলাদেশের ১৯৭৫-২০১২ সময়কালে মধ্যবিত্তের ব্যাপক অংশের মন মানসিকতা, জীবন যাপন, চিন্তার পরিধি কেমন ছিল জানতে চাইলে সেরা অবলম্বন হবে হুমায়ূন।
হুমায়ূন সমাজ পরির্বতনে ভূমিকা রাখতে পারেনি। কিম্বা বদরুদ্দিন উমর যেমনটি চেয়েছেন- সাহিত্য হচ্ছে সমাজ বিকাশের হাতিয়ার, হুমায়ূনের সাহিত্যভাবনা সেই হাতিয়ার হতে পারে নি। কিন্তু যাদের সাহিত্য সমাজ পরির্বতনে ভূমিকা রাখবে, যাদের সাহিত্য সমাজের বিকাশে ভূমিকা রাখবে তাদের দোরগোড়ায় পাঠককে পৌঁছে দিয়েছেন। পাঠকের মনোবল কখনো নষ্ট করেন নি। কিভাবে করতে হবে তার দিক নির্দেশনা হয়ত নেই তবে কি করতে হবে তার যথেষ্ট প্রচেষ্টা তিনি রেখেছেন। ‘প্রিয়তমেষু’-তে আমরা দেখি একাকী অনবদ্য মনোবল নিয়ে নিশাতে ধর্ষকের বিরুদ্ধে এগিয়ে যাওয়া। তার একটা সাধারণ ছোটগল্পের কথাই ধরা যাক। ছুনু মিঞা। ছুনু মিঞার নজর খুবই খারাপ। সে যার দিকে তাকায় তার সর্বনাশ হয়ে যায়। বিষয়টা গ্রামবাসী ভালভাবে দেখে না। ছুনু মিঞার শাস্তির আয়োজন হয়। সামাজিক কুসংস্কারচ্ছন্নতা আমাদের দীর্ঘ দিনের ব্যাধি। হুমায়ূন ছুনু মিঞার জবানে সে ব্যাধি দূর করতে চাইছেন। “আমার আসলে কোন ক্ষমতা নাই। দুষ্ট লোকে গেরাম ভর্তি। ক্ষমতা থাকলে নজর দিয়া একেবারে শেষ কইরা দিতাম। যেমন ধরেন, আমরার চেয়ারম্যান গণি সাহেব। কত চেষ্টা করছি তারে নজর লাগাইতে। লাগে না।” ছুনু মিঞার আক্ষেপ কি আমাদের অনেকের আক্ষেপ না। যারা এই সমাজের কীট, যারা শোষক, নিপীড়ক তাদের প্রতি আমাদের আজন্ম ঘৃণা, উৎপাটনের আকাঙ্ক্ষা হুমায়ূন ধারণ করেন তার সৃষ্ট চরিত্র নজরের মত অলৌকিক এক অবতারণায়। তিনি সামাজিক বিপ্লবের ডাক সরাসরি দেন না কিন্তু বিপ্লব যারা করবে তাদের পথ পরিষ্কার করেন।
রণেশ দাশগুপ্ত চাইতেন জনসাধারণ এবং জনসমাজের গতিপথ ও সম্ভাবনাকে সামনে রেখে উপন্যাস লিখতে ও পড়তে হবে। হুমায়ূন কখনো আশাহতের গল্প শোনাতেন না। তিনি সম্ভাবনার কথা বলতেন। অন্যদিনের পান্থনিবাস বোর্ডিং হাউসের কথায় আসি। মেস জীবন উপন্যাসের পাতায় এত সাবলীলভাবে কি কেউ কখনো বর্ণনা করেছেন হুমায়ূনের আগে। বেকার তরুণের পথ নির্দেশিকা দেখিয়েছেন। অসম্ভব সম্ভাবনাকে সম্ভব করতে যে মানসিক দৃঢ়তার প্রয়োজন সফিকের মধ্যে ফুটিয়ে তুলেছেন। “অশ্রু গোপন করবার জন্য সে দেয়ালের দিকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে মৃদু স্বরে বলল, শুধু জ্যোতিষার্ণিব কেন তুই নিজেও যদি আমাকে ছেড়ে চলে যাস আমার তাতে কিছুই যাবে আসবে না। আমি ঠিক উঠে দাঁড়াব।” এই উঠে দাঁড়ানোর প্রত্যয় আমাদের গতিপথ এবং সম্ভাবনাকে টিকিয়ে রাখবে।
আহমদ শরীফ বিশ্বাস করেন গণমানবমুক্তিই তো সব কলাচর্চার লক্ষ্য হওয়া বাঞ্জনীয়। গণমানবমুক্তির অনুপ্রেরণা সবচেয়ে বেশি আমরা কোথায় পাব? পাব আমাদের গৌরবোজ্জ্বল স্বাধীনতাযুদ্ধে। হুমায়ূন সেই স্বাধীনতাযুদ্ধকে তুলে এনেছেন তার জোছনা ও জননীর গল্পে। যেখানে মুক্তির প্রশ্নে একাতাবদ্ধ হয়েছিল পুরো জাতি। মুক্তি মিলেছে কি মেলেনি সে প্রশ্ন? মুক্তিযুদ্ধ একটা চলমান প্রক্রিয়া। যার প্রথম শর্ত স্বাধীনতা। আর স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয় মুক্তির স্বপ্নে। হুমায়ূন সেই মুক্তিযুদ্ধকে, মুক্তির স্বপ্নকে তার লেখনীতে যেভাবে জাগিয়েছেন এ যুদ্ধের পটভূমিকায় খুব কম উপন্যাসেই সেই জাগ্রত সত্তা পাওয়া যায়। পাঠক যখন নীলগঞ্জের মাওলানা সাহেবের নগ্ন ভাবে শহর প্রদক্ষিণের কথা পড়ে তখন শাসকের বিরুদ্ধে তার ঘৃণা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। হাছুইন্না গ্রুপের কর্মকাণ্ড, রফিক কিম্বা ডাকাত হারুন মাঝির যারা সাধারণ গণমানুষ থেকে উঠে এসে অসীম সাহসীকতায় বিপন্ন দেশমাতৃকার পাশে দাঁড়িয়েছিল গণমানবের মুক্তির প্রশ্নে যারা এগিয়ে যেতে চায় তাদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে চিরকাল।
এ কথা প্রচলিত সত্য যে আপাতঃদৃষ্টিতে যা ভ্রান্ত মনে হচ্ছে, নিজস্ব সীমাবদ্ধতার বা কূপমণ্ডূকতার জন্য আপত্তিকর মনে হচ্ছে, চূড়ান্ত বিশ্লেষণে সময়ের আবর্তনে তা নির্ভুল প্রমাণিত হতে পারে। হুমায়ূনের বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিগুলো নিয়ে স্থির স্বিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় হয়ত আসে নি। কিন্তু সেই কাহিনিতেই বিজ্ঞানের কঠিন তত্ত্ব কপচানোর বিপরীতে হৃদয়ের সম্পৃক্ততা; (যদি সেরকম কিছু হয়েই যায়- সেই সময়ের হুমায়ূনের লেখা কিছু মানুষকে বুদ্ধির সাথে সাথে হৃদয় দিয়ে বোঝানোর কাজটি করবে।) হৃদয় আর বুদ্ধির সংলগ্নতার যে বিকাশ আমাদের প্রয়োজন তা হয়ত বড় পরিসরে না হলেও কিছুটা চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে।
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর মতে গৃহানুরাগ ব্যতিরেকে উপন্যাস অসম্ভব। কিন্তু হুমায়ূনের অমর সৃষ্টি হিমু গৃহানুরাগী ছিল না। ছিল গৃহ ত্যাগী। রাজপুত্র স্বিদ্ধার্থের মত হেরেমে ৮৪ হাজার যুবতী নারীর প্রলোভন এড়িয়ে মুক্তির অন্বেষায় ছুটে চলা এক কালের নাবিকের মত বাঙালিরও গৃহত্যাগী হবার গোপন লিপ্সা আছে দীর্ঘ যুগের। লেখার শুরুতে আহমদ ছফার ডাইরীর কিছু অংশ এনেছিলাম। “আমি জীবনের মুখোমুখি সাহসের সঙ্গে দাঁড়াবো। যে আমাকে প্রেরণা দিয়েছে সে প্রেরণাময়ীর কাছে যাব। যে আমাকে গৃহপালিত মানুষে রূপান্তরিত করতে চায়, তার কাছে যাবো না।” হুমায়ূন ছফার বলয় থেকে বেড়োতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমার কেন জানি ব্যক্তিগত ধারনা হুমায়ূন ছফার বলয় থেকে বেড়োতে পারেন নি। ছফাকে তিনি যে হণ্টন পীর বলতেন তা তিনি হিমুর মধ্যে প্রকাশ করেছেন। প্রফেটিক সত্তার যে অভাব ছফার ছিল হুমায়ূন হিমুকে সেই সত্তা দিয়ে তার মত করে দিয়ে আত্মার শুদ্ধতা জাগ্রত করতে চেয়েছিলেন। যদিও ছফার দর্শনের ধারে কাছেও হিমু নেই। পাঠকের দোড়গোড়ায় পৌঁছাতে কিছু অন্যায় যে হুমায়ূন করেন নি তা ভাবার কোন কারণ নেই। কিন্তু বাঙালির হিমু হবার গোপন লিপ্সাকে বের করেছেন। যেমনটি বাংলাদেশের লক্ষাধিক পাঠককে করেছেন জোছনাপ্রেমী। বর্ষাকে উপভোগের যে মন্ত্র হুমায়ূন শিখিয়ে দিয়ে গেছেন সেই মন্ত্রের বীজ রবীন্দ্রনাথও শত চেষ্টায় বোধহয় পারেনি আপামর এত হৃদয়ে প্রবেশ করতে। শুধু হিমুর কারণেই হুমায়ূনকে টিকিয়ে রাখা যায় সাহিত্যে অনন্তকাল। এ এমন এক প্রচেষ্টা যা হাজার বছর লালন করেছে বাঙালি।
শিরোনামে প্রশ্নছিল হুমায়ূন কেন? উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছি সংক্ষেপে নিজে নিজেই। কোন বস্তুকে ডান দিক থেকে দেখলে তার অবস্থান হয় বায়ে, সেই একই বস্তুকে বা-দিক থেকে দেখলে তার অবস্থান হবে ডানে। এই সাধারণ তত্ত্ব আমরা সবাই জানি। তাই হুমায়ূনকে বিশ্লেষণে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি একটা বড় নিয়ামক। একথা সত্য যে তার সব লেখায় অমর হবে না। হওয়ারও দরকার নেই। তবে হুমায়ূনকে আমাদের দরকার, আমাদের প্রয়োজনেই দরকার এবং তিনি টিকে থাকবেন কারণ আমাদের কে বারংবার ফিরতে হবে হুমায়ূনের কাছে। তার মানে এই না আমরা হুমায়ূনের বলয়ে আবদ্ধ থাকব। হুমায়ূন বলয়ে আবদ্ধ থাকতে পছন্দ করতেন না। হুমায়ূন হবে আমাদের সিঁড়ি। যা আমাদের পৌঁছে দিয়েছে কালজয়ীদের সাহিত্য কর্মে আর ভবিষ্যতে সাহায্য করবে সাহিত্যের মননশীল বিকাশে এবং পাঠকের পূর্ণতা লাভের স্তরে পৌঁছাতে।

হুমায়ূনকে তিনি শরৎচন্দ্রের চেয়েও জনপ্রিয় সার্টিফিকেট অনেক আগেই দিয়ে গেছেন। আশ্চর্য আমরা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছ থেকে ফোন করে সেই সার্টিফিকেট নেওয়ার জন্য দৌড়াদৌড়ি করছি। আমাদের পশ্চিমা প্রীতি বোধহয় কোনদিনই যাবে না। আনন্দবাজারে টুকরো খবরে হুমায়ূনের মৃত্যূ সংবাদ পড়েও বোধোদয় হবে না। হুমায়ূন আহমেদের সাথে সমসাময়িক লেখকদের তুলনায় ছফার বক্তব্য ছিল ‘হুমায়ূন আহমেদ একবিন্দুও সেক্স না লিখে শ্রেষ্ঠ বাজারসফল বই লিখছে, অন্যেরা সেক্স দিয়ে এইটার সাথে কমপিট করতে চাইছে। হুমায়ূন আহমেদ যত কিছুই করুক না কেন, তার নষ্টামিটা অন্য জায়গায়। তার নষ্টামিটা ব্রেনে। অন্যদের নষ্টামিটা শিশ্নে।’ হুমায়ূন কেন টাকার জন্য বাজার লেখক হতে গেলেন তার একটা ব্যাখ্যাও ছফা দিয়েছেন – ‘উপর্যুপরি সামরিক শাসন, গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার পরাজয় সব মিলিয়ে এখানে যে চিন্তাহীন অরাজক পরিস্থিতি- হুমায়ূন সেই সময়ের প্রোডাক্ট।’
‘নন্দিত নরকে’ বা ‘শঙ্খনীল কারাগার’ তার দুই শ্রেষ্ঠ উপন্যাস অবশ্য তাকে জনপ্রিয় করে নি। তাকে জনপ্রিয় করেছিল বিচিত্রায় প্রকাশিত তার প্রথম উপন্যাস ‘অচিনপুর’। যার জন্য তিনি তিনশ টাকা পেয়েছিলেন। নন্দিত নরকে এবং শঙ্খনীল কারাগারের জন্য রয়েলিটি হিসাবে পেয়েছিলেন চারশ টাকা। পাঠক হয়ত ভাবছেন টাকার অঙ্কগুলো বলার দরকার কি? বলার দরকার আছে। কারণ হুমায়ূন টাকার জন্য লিখতেন। এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। তিনিও অস্বীকার করেন নি। এ প্রসঙ্গে তার জীবনের প্রথম গল্পটা শোনা যাক।
হুময়ূনের বাসায় টি.ভি নেই। তার দুই মেয়ে নোভা, শীলা পাশের বাসায় টি.ভি দেখতে যায়। একদিন খুব মন খারাপ করে তারা বাসায় ফিরে আসল। পাশের বাড়িতে মেহমান এসেছে বলে টি.ভি দেখতে দেবে না। এখন একটু বলি এমন ঘটনা আমার জীবনেও ঘটেছে। আমাদের টি.ভি ছিল না। বাড়িওয়ালার বাসায় যেতাম টি.ভি দেখতে। ছোটবেলায় বুঝতাম না কিন্তু এখন বুঝি কি অপমানের মধ্যে দিয়ে না আমাকে টি.ভি দেখতে দিত ওরা। ওরা সবাই বিছানায় বসত। আমাকে বসতে দিত নিচে মেঝেতে। থাক সে প্রসঙ্গ আমরা হুমায়ূনের গল্পে ফিরে আসি। হুমায়ূনের বড় মেয়ে জেদ ধরল তাদের একটা রঙিন টেলিভিশন কিনে দিতে হবে। হুমায়ূন সেই প্রত্যাশা পূরণের জন্য লিখলেন কালজয়ী ধারাবাহিক নাটক ‘এই সব দিন রাত্রি’। একটা রঙিন টি.ভির জন্য লেখা হয়েছিল এই নাটক। সেই নাটকে টুনির ক্যান্সার হয়েছিল। আমাদের হুমায়ূনও ক্যান্সারে চলে গেলেন। হুমায়ূন যদি বাজার লেখক না হতেন, অর্থ উপার্জনের জন্য না লিখতেন আমরা হয়ত বি.টি.ভি-তে এই কালজয়ী নাটকটি দেখতে পেতাম না। যা আমাদের দর্শকদের কোলকাতা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। নদীয়ার ভাষা থেকে বাংলাদেশের ভাষা বলতে শিখিয়েছিল। বি.টি.ভি-তেও শুরু হয়েছিল একটা নতুন অধ্যায়। টাকা নিয়ে হুমায়ূনের যুক্তি ছিল- ‘একজন লেখক চাঁদের আলো খেয়ে বাঁচেন না। তাকে প্রোটিন এবং কার্বোহাইড্রেট খেতে হয়।’
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলতেন, সাহিত্যে মধ্যবিত্তের কর্তৃত্ব থাকবেই।আসলে সাহিত্যের বিশেষ প্রয়োজন মধ্যবিত্তের জন্যই. উচ্চবিত্তের জন্য ভিন্ন প্রকার আমোদ-আনন্দের পথ খোলা আছে, নিম্নবিত্তেরও তাই, মধ্যবিত্তের এদিক সেদিক যাওয়ার পথ খোলা নেই। এ কথা কি অস্বীকার করার উপায় আছে হুমায়ূন সেই মধ্যবিত্তেরই প্রতিনিধিত্ব করতেন। মধ্যবিত্তের সুঃখ-দুঃখ, আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন, আনন্দ-নিরানন্দ, চাওয়া-পাওয়া, অর্থহীন প্রলাপ, মূল্যবোধ, সংশয়, যুক্তি-তর্ক, কালক্ষেপন, মিরাকলের প্রত্যাশা, অনিশ্চয়তা, আ্যান্টি লজিক, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র বোধ, আত্মশ্লাঘা, অহমিকা, অভিমান, কৌতুকবোধ কি উঠে আসে নি হুমায়ূনের লেখায়? আর মধ্যবিত্তের সাহিত্যই যদি প্রধান সাহিত্যের মাপকাঠি হয় তবে হুমায়ূন সেই মধ্যবিত্তের চেতনা ধারণ করে আনার জন্য কেন টিকে থাকবেন না?
হুমায়ূনের লেখায় কি শুধুই মধ্যবিত্তের কাহিনি? উচ্চবিত্ত বা নিম্নবিত্তের কি সেখানে স্থান নেই। আবার সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর কাছে ফিরে যাই। তিনি বলতে চান কৌতুক ও বাগবৈদগ্ধতার একটা ভূমিকা এই যে, তারা জীবনের কুৎসিত সত্যগুলোকে চোখের আড়াল করে রাখে। একটা ঢাকনা চেপে ধরে সেই মস্ত পাত্রের উপর যার ভিতর অপ্রিয় ও অসুন্দর সত্যগুলো কিলবিল করছে। সব রচনাতেই দেখা যায় অভাবপীড়িত মানুষকে অবলোকন করা হয়েছে দূর থেকে। সে জীবনের সাথে একাত্মবোধের ছাপ খুব অল্প। কৃষক কৃষক হিসাবেই সুখি হোক, কৃষিকার্য লেখনকার্যের মতই গুরত্ব ও মর্যাদাপূর্ণ হয়ে উঠুক এই ইচ্ছাটা সাহিত্যে ফুটে ওঠে নি। বরং কৃষকের ছেলে মেধা থাকা সত্বেও কেন ডাক্তার হলো না, ধনীর দুলালীকে বিয়ে করতে পারল না সেই নিয়েই সাহিত্য গড়ে উঠেছে। এর ভিতরে একটা অসৎ সদিচ্ছা কাজ করছে যে দুঃখী দুঃখীই থাকুক, তাহলে আমরা আমাদের সুখজনিত সৌভাগ্যটা বুঝতে পারব। এবং দুঃখীর জন্য দুঃখ প্রকাশে ভাবালু হয়ে নৈতিক পরিতৃপ্তি লাভ করে সাহিত্য রচনা করব। খাঁটি মধ্যবিত্ত সব সময় উপরে তাকিয়ে থাকে, নিচুকে তার ভয় পাছে সে ধরা পড়ে যায় যে, সে নিচু থেকে বেশী উঁচুতে নয়। বৃত্তের ভিতরে আছি, অথচ বৃত্তের ভেতর থেকে সাহিত্য হয় না, জীবনের সাথে জীবনের যোগ সাহিত্যসৃষ্টির এ হল পয়লা শর্ত।
হুমায়ূন কি বৃত্ত ভাঙতে পেরেছিলেন? বৃত্ত নিয়ে হুমায়ূন বলেছিলেন প্রতিটা মানুষের আলাদা আলাদা বৃত্ত থাকে। কেউ সেই বৃত্ত অতিক্রম করতে পারে না। উনিও পারেন নি। কিম্বা হয়ত পারার চেষ্টা করেন নি। নিজের বৃত্তে থেকেই লিখে গেছেন। দাবি করেন নি কখনো নিজেকে ঔপন্যাসিক বলে। বরং বলতেন ফিকশন রাইটার। কারণ উপন্যাসের সংজ্ঞা কি তা তিনি শেষ অবধি জানতে পারেন নি। তাই নিজের মত করে উপন্যাসের সংজ্ঞা দাঁড় করিয়েছেন। কিন্তু আমরা যখন তার ‘অচিনপুর’ উপন্যাসটা দেখি তখন কি মনে হয় না তিনি বৃত্ত ভাঙতে পেরেছিলেন। সিরাজুল ইসলামের সব দাবিই কি তার ‘অচিনপুর’ আর ‘ফেরা’ উপন্যাস দুটি পূরণ করে না?
‘অচিনপুর’ পুরোটা গ্রামীণ আবহে লেখা একটা উপাখ্যান। সেখানে নবুমামা আছে, বাদশা মামা আছে, নানা জান আছে, লাল মামী আছে। যে যার অবস্থানেই জীবনের সুঃখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন। তাদের শহরমুখিতা নেই। তথাকথিত উচ্চাশা নেই। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী যেমনটি চাইছিলেন কৃষক কৃষক হিসাবেই সুখি হবে তেমনটির প্রতিফলনই কি ‘অচিনপুর’-এ ঘটে নি। একথা সত্য সেখানে কৌতুক ও বাগবৈদগ্ধতার প্রাচুর্য আছে। কিন্তু তা কি আমাদের গ্রামীণ আবহের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নয়। উপন্যাসে—
“মাঠে সে রাতে প্রচুর জোছনা হয়েছে। চকচক করছে চারিদিক। ঠাণ্ডা একটা বাতাস বইছে। নবুমামা চেচিয়ে বলল– “কি জোছনা! খেতে ইচ্ছা হয়। মনে হয় কপকপ করে খেয়েফেলি। নবুমামা হা করে খাবার ভঙ্গি করতে লাগল। বিস্মিত হয়ে আমি তার আনন্দ দেখলাম।”
জোছনার এমন সরল বর্ণনা পাঠককে কোথায় নিয়ে যায়? আমাদেরও কি নবুমামার মত সব সময়কে স্থির করে জোছনা খাওয়ার অদম্য বাসনা তৈরি করে না? আবার লাল মামী যখন গ্রাম বাংলার চিরচরিত নারীর প্রতিনিধিত্ব না করে একটা সমাজিক বিপ্লবের নারী স্বাধীনতার ডাক দেয় তাতে কি সমাজের ভীত কেঁপে ওঠে না?
“নবুমামা দৌড়ে দেশলাই নিয়ে আসলেন। মামি আমাদের দুজনের স্তম্ভিত চোখের সামনে ফস করে একটা বার্ডসাই সিগারেট ধরিয়ে টানতে থাকেন। আমাদের দুজনের নিঃশ্বাস পড়ে না। মামি বললেন, এই দেখ যত টানছি তত ছোট হচ্ছে।
……………………………………………………………………………………………………………
মামির মুখের গন্ধ দূর করার জন্য পানি আনতে হয়। এলাচ দানা আনতে হয়। সেই সঙ্গে মামীর প্রতি আমাদের নিষিদ্ধ আর্কষণ জড় হতে থাকে।”
তবে হ্যা সেখানে জীবনের সবচেয়ে প্রচণ্ড আর্থিক অভাবের চিত্রায়ন নেই। পুঁজিবাদী বা সমাজপতিদের বিরুদ্ধে আপামর জনগণের বিপ্লব নেই। নেই দারিদ্রতার চিত্রায়ন। যে আর্থিক অভাবের চিত্রায়ন হুমায়ূন করেছেন ‘ফেরা’-তে। এইখানে গণমানুষের প্রতিবাদী চরিত্র আছে। আছে যৌক্তিক উপলদ্ধি। এবং এটাও গ্রামীণ আবহে নির্মিত উপন্যাস।
হুমায়ূনের ‘ফেরা’। কি নেই এই উপন্যাসে? কিছু অংশ তুলে ধরছি—
“ভাত না খেয়ে বাঁচার রহস্য সোহাগীর লোকজনের জানা নেই। চৈত্র মাসের দারুণ অভাবের সময়ও এরা ফেলে ছড়িয়ে তিন বেলা ভাত খায়। এবার কার্তিক মাসেই কারও ঘরে এক দানা চাল নেই। জমি ঠিক ঠাক করার সময় এসে গেছে। বীজ ধান দরকার। হালের গরুর দরকার। সিরাজ মিঞার মত সম্ভ্রান্ত চাষীও তার কিনে রাখা ঢেউ টিন জলের দামে বিক্রি করে দিল।
ঘরে ঘরে অভাব। ভেজা ধান শুকিয়ে যে চাল করা হয়েছে তাতে উৎকট গন্ধ। পেটে সহ্য হয় না। মোহনগঞ্জ থেকে আটা এসেছে। আটার রুটি কারও মুখে রোচে না। কেউ খেতে চায় না। লগ্নির কারবারীরা চড়া সুদে টাকা ধার দিতে শুরু করল।
ঠিক এই সময় কলেরা দেখা দিল। প্রথম মারা গেল ডাক্তার ফজলুল করিম সাহেবের কম্পাউন্ডারটি। তারপরই এক সাথে পাঁচজন অসুখে পড়ল। আমিন ডাক্তার দিশাহারা হয়ে পড়লেন। অষুধ পত্র নেই, খাবার নেই, কিভাবে কি হবে?
ভাতের কষ্ট বড় কষ্ট। নুরুউদ্দিনের পেটে সারাক্ষণের ভাতের খিদা লেগে থাকে। শরিফা প্রায়ই বলে আজরফ টেকা পয়সা নিয়া আসুক, দুই বেলা ভাত রানমু।
কোনদিন আইবো?”
উপন্যাসে এক সময় নুরুকে মাছ চুরির অপবাদ দেওয়া। মারধরও করে। সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তির এই কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় আমিন ডাক্তার। প্রতিবাদে অনশনে বসে। অবস্থান ধর্মঘট করে। এক সময় বিপ্লব ছড়িয়ে পড়ে। ন্যায্য হিসাবের দাবিতে নিজাম সরকারের মাছের খোলায় চড়াও হয় গ্রামবাসী। চুক্তি অনুযায়ী ৩০ ভাগ মাছ প্রাপ্তির দাবিতে। দুটি খুনও হয়ে যায়। এক সময় মোহনগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার কোমরে দড়ি বেঁধে আমিন ডাক্তারকে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনার এখানেই শেষ না। হুমায়ূন চমক দিতে ভালবাসেন। সরকার বাড়িতে একটা নববধূকে মেরে গাঙে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল সেই তথ্য শেষে উঠে আসে। হুমায়ূনের ‘ফেরা’ কালজয়ী উপন্যাস হয়ে বাংলা সাহিত্যে কেন টিকে থাকবে না বোধগম্য হয় না।
মোটাদাগে বাংলা সাহিত্য বঙ্কিমের হাত ধরে যে পথ চলা শুরু করেছিল রবীন্দ্রভাবনায় সমৃদ্ধ হয়ে শরৎ এর হাতে এসে আপামর জনগণের দোরগোড়ায় চলে আসে। আপামর জনগণের দোড়গোড়ায় পৌঁছানোর কারণেই শরৎ বাংলা সাহিত্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখকে পরিণত হন। এখন জনপ্রিয় লেখক ছিলেন বলেই শরৎ আজকে একশ বছরেও অচল হয়ে যেমন জাননি তেমনি শরৎকেও জনপ্রিয়তায় ছাপিয়ে যাওয়া হুমায়ূনও হারিয়ে যাবেন না একথা হয়ত ছেলেমানুষী হয়ে যাবে। তবু শরৎ এর ‘দেবদাস’ পড়ে এখনও যেমন পাঠক অশ্রুজলে ভাসে ভবিষ্যতে হুমায়ূনের ‘নবনী’ বা ‘কৃষ্ণপক্ষ’র অরু/মুহিবের কাহিনি পড়েও পাঠক অশ্রু বির্সজন দেবে নির্দ্বিধায় বলা যায়।
মানুষের হৃদয়বৃত্তি জাগ্রত করাই জনপ্রিয়তার মূলমন্ত্র। আর জনপ্রিয় লেখকরা বিশাল পাঠক গোষ্ঠীর পাঠ্যাভাস তৈরি করে। হুমায়ূন লাখ মানুষের ভিতরে পাঠ্যাভাস গড়ে তুলেছিলেন এ কথা নতুন করে আলোচনার কিছু নেই কিন্তু তিনি পাঠককে যে আরও কিছু জানতে, আরও মহত্তম সাহিত্যের প্রতি অনুরক্ত হতে কৌতূহলী করতেন সে কথা না বললেই না। উদাহরণ হিসাবে হুমায়ূনের ‘মাতাল হাওয়া’কে ধরা যাক। ‘মাতাল হাওয়া’ অসম্পূর্ণ উপন্যাস। উপন্যাসে আমরা যে গল্প খুঁজি তার পুরোটাই হয়ত আছে কিন্তু যে বিশেষ সময়ের প্রেক্ষিতে গল্পের কাহিনি সেই সময়টা পাঠকের চোখে পুরোপুরি ধরা পড়ে না। ধরা পড়ে না তবে হুমায়ূনের সুনিপুন লেখনীর জোরে পাঠককে কৌতূহলী করে জানতে ৬৯-এর কথা। পাঠক হুমায়ূনের থেকে গল্পের রসটা পেল সাথে পেল ইতিহাস জানার লিপ্সা। যেমনটি তার অনেক উপন্যাসের ভিতর ঢুকিয়ে দেয়া কালোত্তীর্ণ সাহিত্য কর্মের উদ্ধৃতি পাঠককে তা খুঁজে বের করে পড়ার ইচ্ছা জাগায়।
হাসান আজিজুল হকের বিশ্বাস ‘সাহিত্য সমাজের অবস্থাটাকে খুব সরাসরি তুলে ধরতে পারে, সরাসরি বিশ্লেষণের কাজটি করতে পারে তার সাথে মানুষের আবেগের যোগোযোগ ঘটাতে পারে। ফলে মানুষের চেতনা অনেক শাণিত হতে পারে, যে চেতনা অবশ্যই সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে।’ উপন্যাস যদি শুধু কাল্পনিক হয় তবে তার কোন তাৎপর্য থাকে না। উপন্যাসের গল্পকে অবশ্যই হতে হয় একটা বিশেষ সময়ের সমাজের গল্প, বাংলাদেশের ১৯৭৫-২০১২ সময়কালে মধ্যবিত্তের ব্যাপক অংশের মন মানসিকতা, জীবন যাপন, চিন্তার পরিধি কেমন ছিল জানতে চাইলে সেরা অবলম্বন হবে হুমায়ূন।
হুমায়ূন সমাজ পরির্বতনে ভূমিকা রাখতে পারেনি। কিম্বা বদরুদ্দিন উমর যেমনটি চেয়েছেন- সাহিত্য হচ্ছে সমাজ বিকাশের হাতিয়ার, হুমায়ূনের সাহিত্যভাবনা সেই হাতিয়ার হতে পারে নি। কিন্তু যাদের সাহিত্য সমাজ পরির্বতনে ভূমিকা রাখবে, যাদের সাহিত্য সমাজের বিকাশে ভূমিকা রাখবে তাদের দোরগোড়ায় পাঠককে পৌঁছে দিয়েছেন। পাঠকের মনোবল কখনো নষ্ট করেন নি। কিভাবে করতে হবে তার দিক নির্দেশনা হয়ত নেই তবে কি করতে হবে তার যথেষ্ট প্রচেষ্টা তিনি রেখেছেন। ‘প্রিয়তমেষু’-তে আমরা দেখি একাকী অনবদ্য মনোবল নিয়ে নিশাতে ধর্ষকের বিরুদ্ধে এগিয়ে যাওয়া। তার একটা সাধারণ ছোটগল্পের কথাই ধরা যাক। ছুনু মিঞা। ছুনু মিঞার নজর খুবই খারাপ। সে যার দিকে তাকায় তার সর্বনাশ হয়ে যায়। বিষয়টা গ্রামবাসী ভালভাবে দেখে না। ছুনু মিঞার শাস্তির আয়োজন হয়। সামাজিক কুসংস্কারচ্ছন্নতা আমাদের দীর্ঘ দিনের ব্যাধি। হুমায়ূন ছুনু মিঞার জবানে সে ব্যাধি দূর করতে চাইছেন। “আমার আসলে কোন ক্ষমতা নাই। দুষ্ট লোকে গেরাম ভর্তি। ক্ষমতা থাকলে নজর দিয়া একেবারে শেষ কইরা দিতাম। যেমন ধরেন, আমরার চেয়ারম্যান গণি সাহেব। কত চেষ্টা করছি তারে নজর লাগাইতে। লাগে না।” ছুনু মিঞার আক্ষেপ কি আমাদের অনেকের আক্ষেপ না। যারা এই সমাজের কীট, যারা শোষক, নিপীড়ক তাদের প্রতি আমাদের আজন্ম ঘৃণা, উৎপাটনের আকাঙ্ক্ষা হুমায়ূন ধারণ করেন তার সৃষ্ট চরিত্র নজরের মত অলৌকিক এক অবতারণায়। তিনি সামাজিক বিপ্লবের ডাক সরাসরি দেন না কিন্তু বিপ্লব যারা করবে তাদের পথ পরিষ্কার করেন।
রণেশ দাশগুপ্ত চাইতেন জনসাধারণ এবং জনসমাজের গতিপথ ও সম্ভাবনাকে সামনে রেখে উপন্যাস লিখতে ও পড়তে হবে। হুমায়ূন কখনো আশাহতের গল্প শোনাতেন না। তিনি সম্ভাবনার কথা বলতেন। অন্যদিনের পান্থনিবাস বোর্ডিং হাউসের কথায় আসি। মেস জীবন উপন্যাসের পাতায় এত সাবলীলভাবে কি কেউ কখনো বর্ণনা করেছেন হুমায়ূনের আগে। বেকার তরুণের পথ নির্দেশিকা দেখিয়েছেন। অসম্ভব সম্ভাবনাকে সম্ভব করতে যে মানসিক দৃঢ়তার প্রয়োজন সফিকের মধ্যে ফুটিয়ে তুলেছেন। “অশ্রু গোপন করবার জন্য সে দেয়ালের দিকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে মৃদু স্বরে বলল, শুধু জ্যোতিষার্ণিব কেন তুই নিজেও যদি আমাকে ছেড়ে চলে যাস আমার তাতে কিছুই যাবে আসবে না। আমি ঠিক উঠে দাঁড়াব।” এই উঠে দাঁড়ানোর প্রত্যয় আমাদের গতিপথ এবং সম্ভাবনাকে টিকিয়ে রাখবে।
আহমদ শরীফ বিশ্বাস করেন গণমানবমুক্তিই তো সব কলাচর্চার লক্ষ্য হওয়া বাঞ্জনীয়। গণমানবমুক্তির অনুপ্রেরণা সবচেয়ে বেশি আমরা কোথায় পাব? পাব আমাদের গৌরবোজ্জ্বল স্বাধীনতাযুদ্ধে। হুমায়ূন সেই স্বাধীনতাযুদ্ধকে তুলে এনেছেন তার জোছনা ও জননীর গল্পে। যেখানে মুক্তির প্রশ্নে একাতাবদ্ধ হয়েছিল পুরো জাতি। মুক্তি মিলেছে কি মেলেনি সে প্রশ্ন? মুক্তিযুদ্ধ একটা চলমান প্রক্রিয়া। যার প্রথম শর্ত স্বাধীনতা। আর স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয় মুক্তির স্বপ্নে। হুমায়ূন সেই মুক্তিযুদ্ধকে, মুক্তির স্বপ্নকে তার লেখনীতে যেভাবে জাগিয়েছেন এ যুদ্ধের পটভূমিকায় খুব কম উপন্যাসেই সেই জাগ্রত সত্তা পাওয়া যায়। পাঠক যখন নীলগঞ্জের মাওলানা সাহেবের নগ্ন ভাবে শহর প্রদক্ষিণের কথা পড়ে তখন শাসকের বিরুদ্ধে তার ঘৃণা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। হাছুইন্না গ্রুপের কর্মকাণ্ড, রফিক কিম্বা ডাকাত হারুন মাঝির যারা সাধারণ গণমানুষ থেকে উঠে এসে অসীম সাহসীকতায় বিপন্ন দেশমাতৃকার পাশে দাঁড়িয়েছিল গণমানবের মুক্তির প্রশ্নে যারা এগিয়ে যেতে চায় তাদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে চিরকাল।
এ কথা প্রচলিত সত্য যে আপাতঃদৃষ্টিতে যা ভ্রান্ত মনে হচ্ছে, নিজস্ব সীমাবদ্ধতার বা কূপমণ্ডূকতার জন্য আপত্তিকর মনে হচ্ছে, চূড়ান্ত বিশ্লেষণে সময়ের আবর্তনে তা নির্ভুল প্রমাণিত হতে পারে। হুমায়ূনের বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিগুলো নিয়ে স্থির স্বিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় হয়ত আসে নি। কিন্তু সেই কাহিনিতেই বিজ্ঞানের কঠিন তত্ত্ব কপচানোর বিপরীতে হৃদয়ের সম্পৃক্ততা; (যদি সেরকম কিছু হয়েই যায়- সেই সময়ের হুমায়ূনের লেখা কিছু মানুষকে বুদ্ধির সাথে সাথে হৃদয় দিয়ে বোঝানোর কাজটি করবে।) হৃদয় আর বুদ্ধির সংলগ্নতার যে বিকাশ আমাদের প্রয়োজন তা হয়ত বড় পরিসরে না হলেও কিছুটা চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে।
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর মতে গৃহানুরাগ ব্যতিরেকে উপন্যাস অসম্ভব। কিন্তু হুমায়ূনের অমর সৃষ্টি হিমু গৃহানুরাগী ছিল না। ছিল গৃহ ত্যাগী। রাজপুত্র স্বিদ্ধার্থের মত হেরেমে ৮৪ হাজার যুবতী নারীর প্রলোভন এড়িয়ে মুক্তির অন্বেষায় ছুটে চলা এক কালের নাবিকের মত বাঙালিরও গৃহত্যাগী হবার গোপন লিপ্সা আছে দীর্ঘ যুগের। লেখার শুরুতে আহমদ ছফার ডাইরীর কিছু অংশ এনেছিলাম। “আমি জীবনের মুখোমুখি সাহসের সঙ্গে দাঁড়াবো। যে আমাকে প্রেরণা দিয়েছে সে প্রেরণাময়ীর কাছে যাব। যে আমাকে গৃহপালিত মানুষে রূপান্তরিত করতে চায়, তার কাছে যাবো না।” হুমায়ূন ছফার বলয় থেকে বেড়োতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমার কেন জানি ব্যক্তিগত ধারনা হুমায়ূন ছফার বলয় থেকে বেড়োতে পারেন নি। ছফাকে তিনি যে হণ্টন পীর বলতেন তা তিনি হিমুর মধ্যে প্রকাশ করেছেন। প্রফেটিক সত্তার যে অভাব ছফার ছিল হুমায়ূন হিমুকে সেই সত্তা দিয়ে তার মত করে দিয়ে আত্মার শুদ্ধতা জাগ্রত করতে চেয়েছিলেন। যদিও ছফার দর্শনের ধারে কাছেও হিমু নেই। পাঠকের দোড়গোড়ায় পৌঁছাতে কিছু অন্যায় যে হুমায়ূন করেন নি তা ভাবার কোন কারণ নেই। কিন্তু বাঙালির হিমু হবার গোপন লিপ্সাকে বের করেছেন। যেমনটি বাংলাদেশের লক্ষাধিক পাঠককে করেছেন জোছনাপ্রেমী। বর্ষাকে উপভোগের যে মন্ত্র হুমায়ূন শিখিয়ে দিয়ে গেছেন সেই মন্ত্রের বীজ রবীন্দ্রনাথও শত চেষ্টায় বোধহয় পারেনি আপামর এত হৃদয়ে প্রবেশ করতে। শুধু হিমুর কারণেই হুমায়ূনকে টিকিয়ে রাখা যায় সাহিত্যে অনন্তকাল। এ এমন এক প্রচেষ্টা যা হাজার বছর লালন করেছে বাঙালি।
শিরোনামে প্রশ্নছিল হুমায়ূন কেন? উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছি সংক্ষেপে নিজে নিজেই। কোন বস্তুকে ডান দিক থেকে দেখলে তার অবস্থান হয় বায়ে, সেই একই বস্তুকে বা-দিক থেকে দেখলে তার অবস্থান হবে ডানে। এই সাধারণ তত্ত্ব আমরা সবাই জানি। তাই হুমায়ূনকে বিশ্লেষণে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি একটা বড় নিয়ামক। একথা সত্য যে তার সব লেখায় অমর হবে না। হওয়ারও দরকার নেই। তবে হুমায়ূনকে আমাদের দরকার, আমাদের প্রয়োজনেই দরকার এবং তিনি টিকে থাকবেন কারণ আমাদের কে বারংবার ফিরতে হবে হুমায়ূনের কাছে। তার মানে এই না আমরা হুমায়ূনের বলয়ে আবদ্ধ থাকব। হুমায়ূন বলয়ে আবদ্ধ থাকতে পছন্দ করতেন না। হুমায়ূন হবে আমাদের সিঁড়ি। যা আমাদের পৌঁছে দিয়েছে কালজয়ীদের সাহিত্য কর্মে আর ভবিষ্যতে সাহায্য করবে সাহিত্যের মননশীল বিকাশে এবং পাঠকের পূর্ণতা লাভের স্তরে পৌঁছাতে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1398)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
-
▼
2012
(33842)
-
▼
July
(2459)
-
▼
Jul 28
(12)
- মা হলেন বেবো
- হুমায়ুন কেন? by সৈয়দ আশরাফুল কবির
- হুমায়ূন আহমেদের ক্যান্সার চিকিৎসা ও একজন সার্জনের ...
- শাওনকে ঘিরে যতো প্রশ্ন by মুনিফ আম্মার
- সোনাক্ষীর ওপর কারফিউ জারি! by ইশতিয়াক হোসেন লাবিব
- সমকামী ছিলেন মনরো, দাবি বইয়ে
- মালদ্বীপে বিয়ে সাইফিনার
- মালাইকা অরোরা খানের জীবনে দুই পুরুষ
- নুহাশপল্লীতে হুমায়ূন-ভক্তদের ঢলঃ সন্তানদের কবর জিয়ারত
- হুমায়ূনের মা আয়েশা ফয়েজ সবার কাছেই প্রিয় এক মানুষ ...
- আইনের চোখে ‘বাবা হলেন’ প্রবীণ কংগ্রেস নেতা
- কেবল ও নেট সেবা দেবে ‘গুগল ফাইবার’
-
▼
Jul 28
(12)
-
▼
July
(2459)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
ইরান
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
কালবেলা
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
স্বাস্থ্য
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
জীবনযাপন
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
মসজিদ
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
ইয়েমেন
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
Exclusive
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
জনস্বাস্থ্য
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
জোহরান মামদানি
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
ইহুদি
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment