ওয়াশিংটন পোস্টের এক-তৃতীয়াংশ কর্মী ছাঁটাই, চাকরি হারালেন শশী থারুরের ছেলেও
মারে বলেন, ‘তিনি চান, ওয়াশিংটন পোস্ট আরও বড়, সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সমৃদ্ধ একটি প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠুক।’
তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যমটির বেশির ভাগ সাংবাদিক এ ধারণা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, খরচ কমিয়ে প্রতিষ্ঠানকে বড় করা যায় না।
I have been laid off today from the @washingtonpost, along with most of the International staff and so many other wonderful colleagues. Iâm heartbroken for our newsroom and especially for the peerless journalists who served the Post internationally â editors and correspondentsâ¦
— Ishaan Tharoor (@ishaantharoor) February 4, 2026
এ সম্পর্কে জানা আছে—এমন একজন বলেন, বুধবার প্রতিষ্ঠানটির প্রায় প্রতি তিনজন কর্মীর একজনকে ছাঁটাই করা হয়েছে। এর মধ্যে নিউজরুম বা সংবাদক্ষের কর্মীর সংখ্যাই ৩০০–এর বেশি।
এত ব্যাপক আকারে কর্মী ছাঁটাইয়ের কারণে জেফ বেজোসের সমালোচনা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। ওয়াশিংটন পোস্টের অনেক সাংবাদিক উদ্বেগ নিয়ে জানতে চাইছেন, তিনি কি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানটি বিক্রি করে দেবেন? কেউ কেউ অবশ্য আশায় আছেন, তিনি যেন এটাই করেন।
এ নিয়ে এক বিবৃতিতে দ্য পোস্ট গিল্ড বলেছে, ‘যদি জেফ বেজোস আর সেই লক্ষ্যে বিনিয়োগ করতে ইচ্ছুক না হন, তবে পত্রিকাটির জন্য নতুন একজন অভিভাবকের প্রয়োজন। কারণ, বহু প্রজন্ম ধরে ওয়াশিংটন পোস্ট সাংবাদিকতার মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষকে সেবা দিয়ে গেছে। সেসব মানুষ এখনো এই পত্রিকার সেবার ওপর নির্ভরশীল।’
বেজোস এখনো ওয়াশিংটন পোস্ট নিয়ে তাঁর পরিকল্পনার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে পত্রিকাটির ব্যবস্থাপনা বিভাগকে বার্ষিক লোকসান কমিয়ে সেটিকে আবারও লাভজনক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে একটি টেকসই পথ খুঁজে বের করার পরামর্শ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে বেজোসের সঙ্গে তাঁর কবে ও কী আলোচনা হয়েছে, তা নিয়ে সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত কথা বলতে রাজি হননি মারে। তিনি টেলিফোনে সিএনএনকে এ সাক্ষাৎকার দেন।
শেষবার বেজোসের সঙ্গে তাঁর কবে কথা হয়েছে, তিনি তা জানাতেও অস্বীকার করেন। তবে তিনি বুধবারকে একটি ‘নতুন দিনের সূচনা’ এবং বেজোসের সমর্থনের ‘পুনর্নবায়ন’ বলে উল্লেখ করেছেন।
মারে বলেন, ‘আমি আমার পক্ষ থেকে শুধু এটুকু বলতে পারি, প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানটির সবকিছু সঠিকভাবে চলতে এবং উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে যতটুকু সহায়তা প্রয়োজন, বেজোস সেটাই করছেন।’
ওয়াশিংটন পোস্টের নির্বাহী সম্পাদক আরও বলেন, ‘আমার দৃষ্টিতে, একটি সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে তিনি নিখুঁত—একজন মালিক হিসেবে তিনি সংবাদ প্রকাশের কাজে হস্তক্ষেপ করেন না, আমরা কী করব তার নির্দেশনা দেন না, কোনো সংবাদ প্রতিবেদনের ওপর সরাসরি প্রতিক্রিয়া দেখান না, কীভাবে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হবে (কভারেজ) তার নির্দেশ দেন না এবং আমাদের সাংবাদিকতার লক্ষ্য ও প্রয়োজনগুলো বোঝেন। এমন মালিকই আমি পছন্দ করি।’
২০১৩ সালে ২৫ কোটি ডলারে ওয়াশিংটন পোস্টের মালিকানা কিনে নিয়েছিলেন অনলাইন প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা জেফরি পি বেজোস।
শশী থারুরের ছেলেও চাকরি হারিয়েছেন
বুধবার ওয়াশিংটন পোস্টের যে কর্মীদের ছাঁটাই করা হয়েছে, এর মধ্যে ঈশান থারুরের নামও রয়েছে। তিনি পত্রিকাটিতে আন্তর্জাতিক বিষয়ক জ্যেষ্ঠ কলাম লেখক হিসেবে কাজ করতেন। ঈশান ভারতের লোকসভার সদস্য কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের ছেলে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে ঈশান থারুর নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন।
![]() |
| বুধবার ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের মধ্যে নিউজরুমের কর্মীর সংখ্যাই ৩০০–এর বেশি। ছবি: এএফপি |

No comments