পর্নো খুঁজতে গিয়ে নিজেই শিকার

শুরু হয়েছিল একেবারে সাধারণ একটি পর্নো ভিডিও খোঁজার মধ্য দিয়ে। সেটাই অচিরেই পরিণত হয় এক ভয়ংকর দুঃস্বপ্নে। হংকংয়ের বাসিন্দা এক ব্যক্তিকে প্রতিবেদনে ছদ্মনামে এরিক বলা হয়েছে। তিনি ২০২৩ সালে চীনের দক্ষিণাঞ্চলের শহর শেনঝেনে তার প্রেমিকা এমিলির সঙ্গে একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন। ঘটনার কয়েক সপ্তাহ পর, এরিক নিয়মিত যেসব প্রাপ্তবয়স্কদের ভিডিও সাইটে ঢুঁ মারতেন, সেখানেই হঠাৎ একটি ভিডিও তার চোখে পড়ে। শুরুতে সবই স্বাভাবিক মনে হচ্ছিল। কিন্তু মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তার বুক ধক করে ওঠে। ভিডিওর ঘরটা অদ্ভুতভাবে পরিচিত। বিছানার অবস্থান, দরজার কোণ, লাগেজ রাখার জায়গা- সবকিছু হুবহু মিলে যাচ্ছে। আর তারপরই সবচেয়ে ভয়ংকর উপলব্ধি: ভিডিওর মানুষ দু’জন তিনি নিজেই এবং তার প্রেমিকা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

গোপন ক্যামেরায় এক ঘণ্টার ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছিল হোটেল রুমে প্রবেশ করছেন তারা। ব্যাগ রাখছেন। পরে একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্তগুলো- সবই রেকর্ড হয়েছে একটি লুকানো ক্যামেরায়। এই রেকর্ডিংয়ের বিষয়ে তারা কেউই জানতেন না। সম্মতি তো দূরের কথা, ক্যামেরার অস্তিত্বই তাদের অজানা ছিল। অথচ সেই ভিডিও ইতিমধ্যেই অনলাইনে আপলোড হয়ে গেছে এবং হাজার হাজার মানুষ তা দেখে ফেলেছে। এরিক বিবিসিকে বলেন, এই অভিজ্ঞতা ছিল ‘ভয়াবহ ও স্তম্ভিত করে দেয়ার মতো’। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তাদের সবচেয়ে ব্যক্তিগত সময় গোপনে রেকর্ড করা হয়েছে। এই ভাবনাটাই তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়। সবচেয়ে বিরক্তিকর বিষয় হলো এরিক স্বীকার করেন, তিনি আগে স্পাই-ক্যামেরা পর্নো দেখতেই বেশি আগ্রহী ছিলেন। তার যুক্তি ছিল, এই ভিডিওগুলো বাস্তব মনে হয়। মানুষ জানে না যে তাদের ফিল্ম করা হচ্ছে। সাধারণ পর্নো খুব সাজানো, খুব অভিনয় করা মনে হয়। অর্থাৎ, যে অজান্তে রেকর্ড হওয়ার বিষয়টাই তাকে আকর্ষণ করত, শেষ পর্যন্ত সেই ফাঁদেই তিনিই নিজে আটকে পড়লেন। একদিন ভিডিও দেখতে দেখতেই হঠাৎ তিনি বুঝতে পারেন স্ক্রিনে যে মানুষটা আছে, তিনি নিজেই সেটা। এরিক যখন এমিলিকে বিষয়টি জানান, শুরুতে তিনি বিশ্বাসই করেননি। ভেবেছিলেন, এটা হয়তো কোনো খারাপ রসিকতা। কিন্তু ভিডিও দেখার পর এমিলির প্রতিক্রিয়া বদলে যায় সম্পূর্ণভাবে। তিনি আতঙ্কে ভেঙে পড়েন। তার সবচেয়ে বড় ভয় ছিল,  পরিচিত কেউ কি ইতিমধ্যে ভিডিওটি দেখে ফেলেছে? বন্ধু, আত্মীয়, সহকর্মী- কারও চোখে কি এটা পড়েছে? এই ভয় তাদের সম্পর্কেও গভীর প্রভাব ফেলে। ভয়, লজ্জা আর মানসিক আঘাতে তারা কয়েক সপ্তাহ একে অপরের সঙ্গে কথাই বলেননি।

ল্যাডবাইবেল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার পর থেকে তাদের দৈনন্দিন জীবনও বদলে গেছে। বাইরে গেলে প্রায়ই ক্যাপ পরে থাকেন। হোটেলে থাকা যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলেন। সবসময় একটা অজানা নজরের ভয় কাজ করে। এরিক বলেন, এই অভিজ্ঞতা তার দৃষ্টিভঙ্গি পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছে। তিনি আর স্পাইক্যাম পর্নো দেখতে পারেন না। যেসব সাইটে আগে যেতেন, সেগুলোতে এখন আর ঢোকেন না।

চীনে পর্নো তৈরি ও প্রচার আইনত নিষিদ্ধ হলেও, বাস্তবে স্পাইক্যাম পর্নো গত দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রচলিত। এই ভিডিওগুলো সাধারণত হোটেল রুম, ভাড়া করা অ্যাপার্টমেন্ট, এমন জায়গায় ধারণ করা হয়, যেখানে মানুষ ব্যক্তিগত সময় কাটায়। ২০২৪ সালের এপ্রিলে চীনা সরকার নতুন নিয়ম জারি করে। এর আওতায় হোটেল মালিকদের নিয়মিত রুম পরীক্ষা করতে হবে। লুকানো ক্যামেরা খোঁজার দায়িত্ব তাদের ওপর বর্তায়। কিন্তু বাস্তবে সমস্যার খুব একটা সমাধান হয়নি।

বিবিসির এক অনুসন্ধানে জানা গেছে চীনের বিভিন্ন হোটেল রুম থেকে ১৮০টিরও বেশি লুকানো ক্যামেরা উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও অসংখ্য নতুন স্পাই-ক্যাম ভিডিও অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে। হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন অজান্তেই এই অপরাধের শিকার হচ্ছেন। 

https://mzamin.com/uploads/news/main/202243_Abul-10.webp

No comments

Powered by Blogger.