Sunday, September 23, 2018
জামায়াতকে বাদ দিয়ে নতুন ধারার রাজনীতির সূচনা: ৩০শে সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিরপেক্ষ সরকার গঠনের দাবি
জামায়াতকে বাদ দিয়ে নতুন ধারার রাজনীতির সূচনা: ৩০শে সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিরপেক্ষ সরকার গঠনের দাবি

নতুন
এক ধারার সূচনা হয়েছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে। জামায়াত বাদে নানা মত আর পথের
রাজনৈতিক দল শামিল হয়েছে এ প্রক্রিয়ায়। ডান-বাম-মধ্যপন্থি-ইসলামপন্থি সব
ধারার দলের নেতাদেরই দেখা গেছে গতকাল মহানগর নাট্যমঞ্চে। নির্বাচন আর
রাজবন্দিদের মুক্তির ইস্যুতে অভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে সমাবেশ থেকে।
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনে
৩০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারকে সময় দিয়ে বলা হয়েছে এর অন্যথা হলে ১লা
অক্টোবর থেকে সারা দেশে ঐক্য প্রক্রিয়া সভা-সমাবেশের কর্মসূচিতে যাবে।
ন্যায় বিচার প্রক্রিয়াকে অগ্রাহ্য, ব্যাহত ও অকার্যকর করে খালেদা জিয়াকে
অন্যায়ভাবে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে ঘোষণাপত্রে।
জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার ব্যানারে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে বিএনপি ও ২০ দলের অন্যান্য শরিক দল, যুক্ত ফ্রন্ট, গণফোরামের নেতারা ছাড়া আরো কয়েকটি দলের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। ২০ দলের শরিক জামায়াতকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি এ সমাবেশে। সিপিবি-বাসদ নেতৃত্বাধীন বাম গণতান্ত্রিক জোটের অংশীদার গণসংহতি আন্দোলনের শীর্ষনেতা জোনায়েদ সাকিও সমাবেশে বক্তব্য দেন। সমাবেশ শেষে ঘোষণাপত্রও উপস্থাপন করেন বাম সমর্থিত তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সুলতান মো. মনসুর আহমেদও যোগ দেন সমাবেশে। বিকল্পধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অধ্যাপক বি. চৌধুরী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে কড়া বক্তব্য রেখেছেন জাতীয় ঐক্যের পক্ষে। সমাবেশ থেকে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন অন্য নেতারাও। আয়োজকরা জানিয়েছেন, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া বৃহত্তর ঐক্য গড়ার যে লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে নাট্যমঞ্চের সমাবেশের মাধ্যমে এর ভিত রচিত হলো। সামনে এ প্রক্রিয়া বৃহত্তর ঐক্যে রূপ নেবে।
সভা, করবো, অনুমতির তোয়াক্কা করবো না
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী সরকারের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, কেন এ স্বাধীন দেশে মায়েরা-বোনেরা আতঙ্কে থাকে দিনে রাতে, ঘুমোতে পারে না। কেন বৃদ্ধ মা-বাবা শঙ্কিত থাকে তার সন্তান কি ঘরে ফিরবে কিনা? কেন এ হত্যা, গুম, সন্ত্রাস? কেন, কেন, কেন? সারা দেশে অধিকার হারা ও লুণ্ঠিত জনগণের এ অভিযোগ আজ সরকারের কাছে। তারা আজ রুখে দাঁড়াবে। স্বাধীন বাংলাদেশে কেন মায়েরা নির্যাতিত হবে, কেন শিশুদের ওপর নির্যাতন হবে। তিনি বলেন, পুলিশ-র্যাব আমাদের সন্তান। তাদের কেন আমাদেরই সন্তানদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে। জবাব দিতে হবে। প্রবীণ এ নেতা বলেন, ঘুষকে স্পিড মানি হিসেবে সরকারিকরণ করা হয়েছে। সরকারের প্রতি চ্যালেঞ্জের পর চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি, কোন মন্ত্রণালয়টায় দুর্নীতি নেই জবাব দেন। কিন্তু দিতে পারে না। কেন একটি জাতির নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটালেন? কোটি কোটি টাকা চুরি করে, দুর্নীতি করে; লজ্জা নেই? স্কুলের শিক্ষার্থীদের কেন নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নামতে হলো?
সড়কটাকেও নিরাপদ করতে পারলেন না? কোটা সংস্কার আন্দোলন ছিল মেধাবীদের পক্ষে। কিন্তু হাতুড়ি, লাঠি, পিস্তল নিয়ে তাদের পেছনে ধাওয়া করলেন। আপনাদের লজ্জা নেই, শরম নেই। বি. চৌধুরী প্রশ্ন রেখে বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তির যে স্বপ্ন আমরা দেখি তার জন্য প্রয়োজন মেধাবীদের। সেগুলো কি নির্বোধ লোকরা করবে? আর মেধাবীদের আপনি হাতুড়ি দিয়ে পেঠাবেন? স্বাধীন দেশে প্রতিবার সভা করার জন্য কেন পুলিশের কাছে অনুমতি নিতে হবে? আপনারা পুলিশকে অপদস্থ ও কলঙ্কিত করতে চান আমাদের চোখে। কিন্তু আমরা তো জানি, পেছনের লোকটি তো আপনি। স্বার্থসিদ্ধির জন্য পুলিশকে ব্যবহার করে চলেছেন। আমরা সভা করবো। অনুমতির তোয়াক্কা করবো না। আমাদের অনুমতি দেবে জনগণ।
সাবেক এ প্রেসিডেন্ট বলেন, আমার ভোট আমি দেব, পছন্দ করে উপযুক্ত লোককে দেব। কেন দিতে পারবো না? পারি না কি জন্য জানেন? কারণ আপনি (প্রধানমন্ত্রী) চান আপনার সরকার। আপনার সরকার সূক্ষ্মতম কারচুরির মাধ্যমে ভোট জেতার জন্য সাতদিন আগ থেকে সমস্ত এজেন্টদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। আর পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে থাকে নির্বাচন কমিশন। সূক্ষ্ম কারচুপির মাধ্যমে আপনি কেন আমার ভোট দিতে দেবেন না, এ অধিকার কে আপনাকে দিয়েছে। তিনি বলেন, এমন দলীয়করণ করেছেন, রাজনীতি করতে হলে আপনার পক্ষে থেকে করতে হবে। এটা কোন কথা হলো? আমি স্বাধীনভাবে রাজনীতি করতে চাই, স্বাধীনভাবে বাঁচতে চাই, স্বাধীনভাবে ভাবতে চাই। স্বাধীনভাবে ভোট দিতে চাই।
বি. চৌধুরী বলেন, সারা পৃথিবী পরিত্যাগ করেছে যে ইভিএম যন্ত্র, সে যন্ত্রের যন্ত্রণা আমাদের উপর চাপিয়ে দিতে চান জোর করে? সে জন্য ৪ হাজার কোটি টাকা ছুড়ে ফেলে দিতে পারেন না। ছুড়ে ফেলে দেব আমরা। এই ইভিএম ছুড়ে ফেলে দিবো। ইভিএমের বদলে যদি সাহস থাকে, বুকের পাটা থাকে তাহলে কেন্দ্রে কেন্দ্রে সিসি টিভি লাগান। কেবল বুথ ছাড়া সব জায়গায়, যেন বাইরে থেকে সাধারণ সবাই সেটা দেখতে পান। সাহস আছে? সরকারকে জবাব দিতে হবে, কেন সিসি টিভি দেবে না, কেন ইভিএম ফেলে দেবে না। তিনি বলেন, আমরা বিদেশি পর্যবেক্ষক চাই। তবে ১৪ বা ২৪ জন নয়। তারা থাকেন কয়দিন, দুইদিন। কি নির্বাচন দেখেন? যেসব জায়গায় লিখে দেন ওইখানে যান। সেখানে বেড়িয়ে আসেন। লিখে দেন চমৎকার নির্বাচন। কমপ্লিট ননসেন্স, আপনাদের (সরকার) ভাষা ধার নিয়ে বলছি, রাবিশ। বাইরে থেকে যেসব পর্যবেক্ষক আসবে তাদের এক মাস আগে আনতে হবে। জাতিসংঘ থেকে ১০০ প্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে। তারা এক মাস আগে এসে দেখবে, কোথায় চুরি ডাকাতি হচ্ছে, কেমন করে জুলুম নির্যাতন হচ্ছে, কেমন করে রেজাল্ট বিরোধী দলের ওপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। দেখবে, বুঝবে, তারপর লিখবে রিপোর্ট, তারপর নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা হয় কিনা তা দেখতে আরো সাতদিন থাকবে। পারবেন? পারবেন না। কেন পারবেন না। কারণ দুরভিসন্ধি ছাড়া কোনো কারণ নেই।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে বি. চৌধুরী বলেন, ক্ষমতা দেখাচ্ছেন? আসল জিনিসই তো বুঝেননি। আপনাকে দেশের জনগণ ভোট দেয় ক্ষমতা দেখানোর জন্য নয়, তাদের দায়িত্ব পালন করার জন্য। আগের অনেকে বুঝতে চায়নি, এখনো অনেকে চায় না। তারা চায় ক্ষমতা, ক্ষমতা। নো ক্ষমতা, দায়িত্ববোধের রাজনীতি করেন। আওয়ামী লীগের উদ্দেশে বলেন, আপনারা শাসন করেছেন ১০ বছর। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোন দল ১০ বছর শাসন করেনি। তাতেই এত সাহস, তাতেই এত নির্যাতন, গণতন্ত্র হত্যা! কিন্তু তার পরও তো আমরা গঙ্গার পানি পাইনি। তার পরও তিস্তার পানি পাইনি। এতে কি প্রমাণ হয়, প্রমাণ যাই হোক, আপনাকে জবাব দিতে হবে। ডা. বি. চৌধুরী বলেন, কোনো দেশ, কোনো রাষ্ট্র আমাদের চিরকালীন শত্রু হতে পারে না। কোনো রাষ্ট্র চিরকালের মিত্রও হতে পারে না। ভারত আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বন্ধু। আমাদের দাবি যখন ন্যায়সঙ্গত হবে আমরা বন্ধুর মতো ভাববো। আগেও বলেছি ভারত বন্ধু রাষ্ট্র, এখনো বলি বন্ধু রাষ্ট্র। কিন্তু বলতে হবে বন্ধু রাষ্ট্র, তুমি কোথায়? আমার পানি কোথায়? ভারত বন্ধু রাষ্ট্র তাহলে আপনারা পানি আনতে পারেননি কেন? বন্ধু রাষ্ট্রের কাছে আদায় করতে পারলেন না তাহলে রাষ্ট্র পরিচালনার যোগ্যতা তো আপনার নেই।
সাবেক এ প্রেসিডেন্ট বলেন, এতগুলো কেন’র যদি জবাব দিতে হয় তাহলে সরকার কোথায় যাবে? যাবে কোথায়? জোর গলায় বলা যাবে না? নাকি খালি ঝগড়াই করবো? কাজেই আজকে রুখে দাঁড়ানোর সময়। বাংলাদেশের মানুষ রুখে দাঁড়াতে জানে। আগে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ, আমাদের দাবি আদায় ও অর্জনের সময়। এখন যদি ঐক্য করতে না পারেন কবে করবেন? গণতন্ত্রের স্বপক্ষের সব শক্তিকে আমরা আহ্বান করেছি ঐক্য হোক। আমরা বিএনপির সঙ্গে আলোচনা করেছি। যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আমি অত্যন্ত আশান্বিত, ভবিষ্যতে এ প্রক্রিয়ার একটি সুফল হবে। তিনি বলেন, আমরা যে কাগজটি সই করেছি, সেখানে পরিষ্কারভাবে কথাগুলো লেখা আছে। আর তিন সপ্তাহ বেঁচে থাকলে ৮৮ বছর পূর্ণ করবো। কিন্তু আমার কি অসুখ-বিসুখ হতে পারবে না। এ গ্যারান্টি কে দেবে? কেন এগুলো নিয়ে মানুষ তামাশা করে।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জননেত্রী খালেদা জিয়া আমার চেয়ে ১৫ বছরের ছোট। তিনি অসুস্থ। আমিই তো বলেছিলাম, তার টিআইএ হয়েছে। এতে কখনো কখনো অঙ্গহানিও হয়ে যায়। আমি প্রথম স্টেটমেন্ট দিয়েছি। কিন্তু তারপরও একটি বোর্ড হয়েছে। তিনি নাগরিক সমাবেশে উপস্থিত বিএনপি নেতাদের দিকে তাকিয়ে বলেন, এখানে অনেক আইনবিদ আছেন। তারা কি জানেন না? আমার স্বাস্থ্যের ব্যাপারে আমার একটি অধিকার আছে। আমি যাকে মনোনীত করিনি সে আমার রোগের ইতিহাস নিতে পারে না। শরীরে হাত দিতে পারে না। আমার গোপনীয় রিপোর্টগুলো দেখতে পারে না। কিন্তু আপনারা (বিএনপি) বসে রইলেন, আমরা দেখলাম। এরপরও খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ড করে তারা কেমন করে তার ইতিহাস নিতে গেল? কেমন করে গায়ে হাত দিলো। কেমন করে তার গোপনীয় রিপোর্ট দেখলো। প্রশ্ন করলেন না? করা উচিত ছিল।
জাতীয় ঐক্যের ব্যাপারে বি. চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এই জন্য স্বাধীনতার মর্মতো তারাই বুঝে সবচাইতে বেশি। যারা রক্ত দিয়েছি। আর যারা অস্তিত্বে বিশ্বাস করেনি তারা কি আমাদের মতো বুঝবে। একটি বেদনা কি থাকবে না? আমরা কি কিছু বলবো না? আসুন গণতান্ত্রিক শক্তি ঐক্যবদ্ধ হই। কিন্তু যারা এ দেশ স্বাধীন করার জন্য রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে, সম্ভ্রম দিয়েছে আজ দেশমুক্ত করার সময় আমরা কি তাদের কথা ভাববো না, তাদের ভুলে যাবো? এতবড় বেঈমান আমরা হতে পারবো না। আমরা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির ঐক্য চাই। যারা মানচিত্রে বিশ্বাস করবে না তাদেরকে আমরা কীভাবে বিশ্বাস করবো। যারা আমার পতাকাকে অন্তর থেকে শ্রদ্ধা করতে জানবে না তাদের কীভাবে বিশ্বাস করবো। যারা আমাদের এই বাংলাদেশকে এখনো স্বীকার করবে না আমি তাদের কেমন করে স্বীকার করবো।
বি. চৌধুরী বলেন, আমি মুক্ত গণতন্ত্র চাই, এ সরকারের পতন চাই। কিন্তু বেগম জিয়ার মুক্তি চাই। সমস্ত রাজবন্দির মুক্তি চাই। একবিন্দু এদিক-ওদিক নেই। পরিষ্কার লেখা আছে। নির্বাচন করতে হলে আমরা খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই, সমস্ত রাজবন্দির মুক্তি চাই। আমরা বলেছি, ১০০ দিন আগে থেকে আমাদের সেনাবাহিনীকে নামাতে হবে। যারা বিশ্বের নানা দেশের শান্তি রক্ষা করে তাদের নিজ দেশের শান্তি রক্ষা করার অধিকার থাকবে না? এটা কেমন কথা হলো? এর মধ্যে অনেকে সামরিক শাসনের গন্ধ পান। আপনাদের নাকই পচা ভাই। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ড. কামাল হোসেন, যুক্তফ্রন্ট, বিএনপিসহ অন্যান্য দল তারা কেউ সংবিধানের বাইরে অন্য কোনো সরকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে রায় দেবে না।
ভবিষ্যতের জন্য রক্ষাকবচ তৈরির তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে স্বেচ্ছাচারী, গণতন্ত্রবিরোধী আরো একটি সরকার আসবে সেটা বন্ধ করতে হবে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের সরকার আর কখনো না আসে। আপনারা সেটা চান না? এ জন্য রক্ষাকবচ তৈরি করতে রাজি আছেন? এ জন্য ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার কথা বলেছি। পিছু হটা যাবে না। তিনি বলেন, আমরা চাই জাতীয় ঐক্য, আমরা চাই এ অপশাসন দূর হয়ে যাক। আমরা চাই জনগণের পরিত্যক্ত এ সরকার ১০ বছরের মধ্যে আর যেন উঠতে না পারে। আমরা এও চাই গণতন্ত্র ফিরে আসুক, যারা সরকার গঠন করবে তারা শুধু ক্ষমতার সরকার করবে না। তারা দায়িত্ব বোধের পরিচয় দেবে। তরুণ সমাজ যারা ধীরে ধীরে রাজনীতির বিপক্ষে চলে যাচ্ছে তাদের কাছে আনতে হবে। শেষকথা একটাই- মন খুলে বলেছি, অপব্যাখ্যা করবেন না, ভুল করবেন না। ভবিষ্যতের শান্তি-সুখের বাংলাদেশ চান, সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ চান? তাই যদি হয় তাহলে ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের সরকার না আসে তার রক্ষাকবচ চান? সেটা করতে হবে।
সমাবেশে দেয়া বক্তব্যে ন্যূনতম কর্মসূচি ও দাবি-দাওয়ার ভিত্তিতে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দাবি আদায়ের আন্দোলনে শুরুর তাগিদ দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নাগরিক সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে মির্জা আলমগীর বলেন, আমরা ইতিমধ্যে ঐক্যের পথে একধাপ এগিয়ে গেছি। আশা করব, দাবিগুলো অর্জন করে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারব। সবাইকে জনগণের অধিকার ফিরে পাওয়া ও অধিকার প্রতিষ্ঠার এ আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আসুন আমরা ন্যূনতম কর্মসূচির ভিত্তিতে, ন্যূনতম দাবি-দাওয়াসহ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দাবিগুলো আদায় করতে একটি আন্দোলন শুরু করি। সে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা দেশনেত্রী খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দিকে মুক্তি দিতে এ সরকারকে বাধ্য করবো। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিতে বাধ্য করতে হবে।
এ জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার উদ্যোগ নেয়ায় গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, জাতির এ চরম দুর্দিনে, যখন সবাই একটি মুক্তির পথ খুঁজছে তখন তিনি একটি পথ দেখিয়ে জনগণকে সামনে নিয়ে এসেছেন। বাংলাদেশের মানুষকে তাদের হারিয়ে যাওয়া গণতান্ত্রিক অধিকার, ভোট ও বেঁচে থাকার অধিকারকে ফিরিয়ে আনার জন্য আন্দোলনে একতাবদ্ধ হয়ে একমঞ্চে উপস্থিত হওয়ার জন্য জাতীয় নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান তিনি। মির্জা আলমগীর বলেন, গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করায় গণতন্ত্রের নেতা খালেদা জিয়াকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে এখন একটা স্যাঁতসেঁতে পরিত্যক্ত নির্জন কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। তার চিকিৎসা সুচিকিৎসা হচ্ছে না। তাকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
দেশে অপশাসন ও দুঃশাসন চলছে: ড. কামাল
সভাপতির বক্তব্যে গণফোরাম সভাপতি ও ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন বলেন, দেশের বিভিন্নস্থান থেকে আপনারা এসেছেন একটি আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তা হচ্ছে হারানো গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা। আপনারা এসেছেন একটি প্রতিজ্ঞা নিয়ে তা হচ্ছে লুণ্ঠিত ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করা। আমাদের সবার প্রত্যাশা সুখী, সমৃদ্ধ, উদার, গণতান্ত্রিক ও বহুমতের বাংলাদেশ। ড. কামাল বলেন, দেশে এখন অপশাসন ও দুঃশাসন চলছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে প্রতিনিয়ত হয়রানি ও অপদস্থ করা হচ্ছে। বাংলাদেশের জনগণ গণতন্ত্রের জন্য অনেক সংগ্রাম করে জয়ী হয়েছে।
আবার হোঁচট খেয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বঙ্গবন্ধু বলতেন মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলে কেউ তাদের দাবিয়ে রাখতে পারে না। ড. কামাল দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা শুধু ক্ষমতার রাজনীতি করি না। আমরা জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করি।
জনগণের ক্ষমতা জনগণের নিকট ফিরিয়ে দেয়াই আমাদের লক্ষ্য। আমরা আমাদের সাধ্য অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি। আমরা জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে চাই। তিনি বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের ইতিহাস যেমন আছে, গণতন্ত্রকে হত্যা করে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করার ইতিহাসও আছে। দেশে উন্নয়নের নামে লুটপাট চলছে মন্তব্য করে ড. কামাল হোসেন বলেন, ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুণ্ঠন করা হচ্ছে। মেগা প্রকল্পের নামে জনগণের টাকা অপচয় করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে টাকা ও স্বর্ণ গচ্ছিত রাখাও নিরাপদ না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধনী বাড়ার যে প্রবণতা তাতে বাংলাদেশের নাম সবার আগে। এটা আমাদের জন্য লজ্জার বিষয়।
জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া সম্পর্কে ড. কামাল বলেন, আমরা প্রকাশ্য সভা করছি। কোনো গোপন বৈঠক করছি না। যারা জনগণের শক্তিকে ভয় পায়, তারা জনগণের সংগঠিত হওয়ার প্রচেষ্টাকে ষড়যন্ত্র বলে তারা জনগণকেই অপমান করছে। তিনি বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্য পেয়েছি। বঙ্গবন্ধু আমাকে সদ্য স্বাধীন হওয়া দেশের সংবিধান রচনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। এটা আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া। ব্যক্তিগতভাবে আমার আর চাওয়া-পাওয়ার কিছু নাই।
সংবিধান অনুসারে জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করাই একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার পবিত্র দায়িত্ব। তিনি বলেন, মৌলিক বিষয়ে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে আছে। এখন সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করার সময় এসেছে। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি আমাদের প্রচেষ্টা সফল হবে। তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলুন। মুক্তিরবার্তা নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ান। মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করুন। অতীতে জনগণের বিজয়কে কেউ ঠেকাতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না।
সমাবেশে ঘোষণাপত্র:
নাগরিক সমাবেশ শেষে জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। পরে কণ্ঠভোটে ও হাত তুলে প্রস্তাবটি পাস করেন নাগরিক সমাবেশে অংশ নেয়া রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। ৩০শে সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনের আহ্বান জানানো হয়েছে জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার সমাবেশ থেকে। সমাবেশের ঘোষণাপত্রে এ দাবি জানিয়ে বলা হয়েছে ৩০শে সেপ্টেম্বরের পর ১লা অক্টোবর থেকে সারা দেশে সভা-সমাবেশ শুরু হবে। এতে জাতীয় নেতৃবৃন্দ অংশ নেবেন। ঘোষণাপত্রে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনগত ও ন্যায়সঙ্গত অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এতে বলা হয়, কোটা সংস্কার এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রছাত্রীসহ সকল রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আনীত মিথ্যা মামলাসমূহ প্রত্যাহার করতে হবে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দিতে হবে।
এখন থেকে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা যাবে না। এ নাগরিক সমাবেশ থেকে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি যে, সরকার আগামী ৩০শে সেপ্টেম্বর ২০১৮’র মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ- আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবেন এবং তফসিল ঘোষণার পূর্বে বর্তমান সংসদ ভেঙে দেবেন। আমরা দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি-এ গণদাবি আদায়ের লক্ষ্যে প্রতিটি জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে মুক্তিসংগ্রামের চেতনায় বিশ্বাসী সকল রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি শ্রেণি-পেশা ও নাগরিক সমাজের সমন্বয়ে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য’র কমিটি গঠন করুন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধভাবে নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ গণজাগরণের কর্মসূচি অব্যাহত রাখুন।
জনগণের ঐক্য হলে স্বৈরাচার পালায়
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, জাতীয় ঐক্য মানে জনগণের ঐক্য। জনগণের ঐক্য যখন হয় তখন স্বৈরাচার পালায়। দেশ খুন, গুম, অপরহণ ও বেওয়ারিশ লাশের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। সবাইকে মাঠে নামতে হবে। ব্যাংকে টাকা নেই, ভল্টে সোনা নেই, খনিতে কয়লা নেই। সব লুট হয়ে গেছে। দেশ লুটের মালে পরিণত হয়েছে। কবে মানচিত্র চুরি হয়ে যায় সেই চিন্তায় আছি। দেশকে কোথায় নিয়ে যাবে। জাহান্নামের পরে যদি কিছু থাকে সেখানে নিয়ে যাবে না কি। এজন্য মুক্তিযুদ্ধ করিনি। রক্ত দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার অর্জন করিনি।
এই সরকার তা বাতিল করেছে। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই। পার্লামেন্ট বাতিল করে আপনিও নির্বাচনে আসতে পারেন। তাতে আপনি রাজি হলে ও জিতলে, জনগণ যে ভোট দেবে তা আমরা মেনে নেব। দেশে এক টাকার উন্নয়ন হয়েছে, একশ টাকা লুট হয়েছে। আসুন ঐক্য প্রক্রিয়া গড়ে তুলি। এর বিকল্প নেই। রাজবন্দিদেরকে কারাগারে রাখতে পারবেন না। মুক্তি দিতে হবে। সমাবেশে তিনি বিভিন্ন স্লোগান ধরেন। তা হলো, সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, এবার গদি ছাড়তে হবে। বেহুদার ইভিএম, মানি না মানব না ইত্যাদি।
জাতিকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে
নাগরিক সমাবেশে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের যে উন্নয়ন হয়েছে তা হচ্ছে কেন্দ্রীভূত উন্নয়ন। এখন সারা দেশের মানুষকে চিকিৎসা, বিচার এমনকি মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা নেয়ার জন্য ঢাকায় আসতে হয়। এই কেন্দ্রীকতার উন্নয়ন জাতিকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। গ্রামের মানুষ, গার্মেন্টেসের কর্মীদের কোনো উন্নয়ন হয়নি। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কী করণীয় তা করতে হবে। দেশ এখন ‘র’ ও ‘মোসাদ’ দ্বারা পরিচালিত। সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অনুরোধ জানান।
দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনগণ ঐক্যবদ্ধ
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন বলেন, ঐক্য প্রক্রিয়ার প্রতি আমাদের সমর্থন আছে। দুঃশাসনের প্রতি জনগণ ঐক্যবদ্ধ। প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্ব। আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক। দেশ আমাদের, সরকার আমাদের। কিন্তু ভোট আমাদের হবে না তা তো হবে না। বাক্সে ভোট আমাদের, ফলাফল ঘোষণা হবে অন্য স্থান থেকে, তা হবে না। ক্ষমতা না ছাড়ার নীলনকশা করা হচ্ছে। সংসদ ও গণতন্ত্রের নিয়মে নির্বাচন হতে হবে। কয়েক লাখ লোক হত্যা করার ভয় আপনাদের দেখাতে হবে না। জনগণ অপরাজেয়। জনগণের বিষয় নিশ্চিত।
বিনা ভোটের সরকার হঠাতে হবে
ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ বলেন, এখানে সকল দল-মতের মানুষ একত্রিত হয়েছেন। বঙ্গবন্ধু যাকে সংবিধান প্রণয়নের দায়িত্ব দিয়েছিলেন সেই ড. কামাল হোসেন সভাপতিত্ব করছেন। শুধু দলে দলে, নেতায় নেতায় নয়; পাড়ায় পাড়ায়, ঘরে ঘরে ঐক্য হতে হবে। বিনাভোটের সরকার হটিয়ে দলনিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে হবে। তিনি বলেন, এই আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু ও তাজ উদ্দীনের আওয়ামী লীগ নয়। লুটেরা আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধুর চামড়া দিয়ে যারা ডুগডুগি বাজানোর কথা বলেছিল তাদের আওয়ামী লীগ।
গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, ছাত্ররা আমাদের দেখিয়েছে। রাস্তায় শৃঙ্খলা এনেছে। পুলিশকে শিক্ষা দিয়েছে। জনগণ সবকিছু দিয়ে এই আন্দোলন করে যাবে।
বিকল্প ধারা বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান বলেন, জাতি আজ রুগ্ন। জনগণ সব অধিকার হারিয়েছে। অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে। কেড়ে আনতে হবে। এখানে দলগুলো অনেক দাবি নিয়ে এসেছে।
দেশের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে
সমাবেশে গণসংগতি আন্দোলনের আহ্বায়ক জোনায়ের সাকি গত বৃহস্পতিবার পুলিশের পিটুনিতে আহত হন। একহাত গলায় বাঁধা অবস্থায় নিজদলের পক্ষ থেকে তিনি সমাবেশে যোগ দেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের সবাই জানে যে, স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যে আমরা আছি। এটা এক ব্যক্তির স্বৈরতন্ত্র নয়। ব্যবস্থাগত স্বৈরতন্ত্র। দেশের স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামো কাজে লাগিয়ে এতদিন তা কার্যকর রয়েছে। জনগণ গণতন্ত্র পায়নি।
যে ক্ষমতা কাঠামোর অধীনে এক দল বলে- ‘আসুন। পারলে ঠেকান। ক্ষমতা হারালে আমাদের লোক ঘরে থাকতে পারবে না।’ তাহলে দেখুন, এরা আবার ক্ষমতায় আসলে বিরোধীশক্তি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। সংকট ও সংঘাতকে পুনরাবৃত্তির মধ্যে ফেলেছে। আমাদের নতুন একটি গণতান্ত্রিক কাঠামো আমরা একটা জাতীয় এক্য চাই। সংবিধান সংস্কার করা প্রয়োজন। আগামী নির্বাচনসহ ভবিষ্যতে আরো ৩টা নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতে হবে।
বাংলাদেশ বহু আন্তর্জাতিক চক্রান্তের মুখোমুখি ও দেশের ভবিষ্যৎ নানাভাবে হুমকির মুখে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, দেশে এখন নির্বাচিত সরকার নেই। গণতান্ত্রিক সরকার নেই। একটি অবৈধ অনির্বাচিত সরকার আছে। ভোটাধিকার এই সরকার ধ্বংস করে দিয়েছে। সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, জাতীয় ঐক্য ঢাকা মহানগরীর যুগ্ম আহ্বায়ক ড. মোমেনা খাতুন, যুব শাখার নেতা মো. হানিফ, গণফোরামের ঢাকা মহনগরীর সভাপতি সাইদুর রহমান ও ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সমাজের সভাপতি আজম অপু।
ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আ ব ম মোস্তফা আমিনের পরিচালনায় নাগরিক সমাবেশে আরো বেশ কয়েকটি দলের প্রধান ও শীর্ষ নেতৃবৃন্দ যোগ দেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন- বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, ২০ দলীয় জোটের নেতা জুনায়েদ বাবু নগরী, জাতীয় পার্টি (জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, স্বদেশ পার্টির সভাপতি রফিকুল ইসলাম মন্টু, আম জনতা ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান মো. মশিউর রহমান শংকু, বাংলাদেশ শরীয়া আন্দোলনের আমীর মাওলানা মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, খেলাফত মজলিসের ড. আহমেদ আবদুল কাদের ও আহসান হাবীব লিংকন প্রমুখ। বেলা ৩টায় সমাবেশ শুরুর আগে দুপুরের পর থেকে শুরু হয় গণসঙ্গীত পরিবেশনা। সমাবেশের শুরুর দিকে গণসঙ্গীত পরিবেশ করেন, উদীচীর কেন্দ্রীয় সঙ্গীত সম্পাদক সুরাইয়া পারভীন ও মাইশা সুলতানা উর্বী।
জাতীয় ঐক্য ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে: মোশাররফ
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আজকের এই সমাবেশের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্ট সরকার থেকে দেশকে রক্ষা করার প্রক্রিয়ার সূচনা হলো। আজ এই সমাবেশে উপস্থিত নেতারা বর্তমান সরকারকে সরানোর জন্য একটি জাতীয় ঐক্য চাইছে। কিন্তু আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া অনেক আগেই জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন। আমি মনে করি সারা দেশের মানুষের মধ্যে জাতীয় ঐক্য ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। তিনি বলেন, যে নেত্রী ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি বলে কোনো নির্বাচনই হয়নি- এই জন্য তাকে আজ কারাগারে রাখা হয়েছে। তাকে কারাগারে রেখে আবার ৫ই জানুয়ারির মতো আরেকটি নির্বাচন করতে চায়। তিনি আরো বলেন, এই সরকার নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এটার প্রমাণ হয়েছে গত ১লা সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত বিরোধী নেতাকর্মীদের নামে পুলিশ যতো ভুতুড়ে মামলা দিয়েছে তার মাধ্যমে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আজকের এই সমাবেশ নতুন মাইলফলক।
যার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক রাজনীতির নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে। এই ঐক্যপ্রক্রিয়া দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে আরো সুসংহত করবে। ড. কামাল হোসেনকে বাংলাদেশের গৌরব আখ্যায়িত করে তার উদ্দেশ্যে বলেন, আইনের শাসন, ভোটের অধিকার রক্ষায়, গণতন্ত্র রক্ষায় আমরা এক সঙ্গে কাজ করতে চাই। ভোটের অধিকার রক্ষায় আপনারা কাজ করেন। আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও থাকবো। মওদুদ বলেন, আমি মনে করি ৫টি দাবি নিয়ে ঐক্যপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নির্বাচনকালীন সরকার নিরপেক্ষ হতে হবে, সংসদ ভেঙে দিতে হবে, নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে, ইসি পুনর্গঠন করতে হবে ও নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার বাতিল করতে হবে। এই দাবিগুলোর সঙ্গে আমরা যারা বিএনপি করি তাদের আরেকটি দাবি হলো- দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি দিতে হবে। সকল নেতাকর্মীকে মুক্তি দিতে হবে। কোনো নতুন গ্রেপ্তার চলবে না।
স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, আজকে থেকে ৪৭ বছর আগে এ দেশের কোটি কোটি মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। লক্ষ লক্ষ মানুষ রক্ত দিয়েছিল। অথচ স্বাধীনতার এত বছর পরেও আমাদের বলতে হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা আজ মৃত। অল্প সংখ্যক মানুষের কাছে সব সম্পদ চলে যাচ্ছে। আর দরিদ্র মানুষ আরো দরিদ্র হয়ে যাওয়া দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিম্নের দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, এসব অনাচার থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য একটি জাতীয় ঐক্য দরকার। আসুন আমরা সকলে মিলে একটি জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলি।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন বলেন, ইতিমধ্যে সারা দেশের জনগণের ঐক্য হয়েছে। সারা দেশের আইনজীবীরাও ঐক্যবদ্ধ হওয়া শুরু করেছে। আশা করি দেশনেত্রী খালেদা জিয়াসহ সকল নেতৃবৃন্দ মুক্তি পাবে। আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি আমাদেরকে এই দাজ্জাল শাসকের হাত থেকে রক্ষা করুন।
খালেদা জিয়াসহ রাজবন্দিদের মুক্তি দিতে হবে: মান্না
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দেশে আজ গভীর সংকট। আর মাত্র সাড়ে তিন মাস পরে নির্বাচন। অথচ গতকালও সারা দেশে সাড়ে তিন শত বিরোধী নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছে। ঈদের পর থেকে আজ ২২শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্তত ২২ হাজার বিরোধী নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলা হয়েছে কতো জনের নামে তার হিসাব নেই। এসময় তিনি বলেন, আমি খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দির মুক্তি দাবি করছি। তাদের মুক্তি দিতে হবে।
যদি কেউ পুলিশ দিয়ে, র্যাব দিয়ে গায়ের জোরে ক্ষমতায় থাকতে চায় তাদের উদ্দেশ্যে বলবো- আমরা এত জোরে আওয়াজ তুলবো যে, আপনারা কথাই বলতে পারবেন না। মান্না বলেন, আজকে আমরা যে দাবি করছি আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল ছাড়া সকল দল সেই দাবি করছে। সুতরাং জাতীয় ঐক্য তো হয়েই গেছে। আমরা এখন সারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই জাতীয় ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেব। তিনি বলেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি নির্বাচন দিতে হবে।
যারা এই সরকারে আসবেন তারা কোনো নির্বাচন করতে পারবেন না। ভোটের আগের দিন, ভোটের দিন ও ভোটের পরের দিন সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি নির্বাচনে রাস্তার মানুষ ঘরে ছিল। আমরা যতোই চেষ্টা করেছি মানুষ রাস্তায় নামেননি। এবার এমন ব্যবস্থা করতে হবে যাতে ঘরের মানুষ রাস্তায় নামবে। আর রাস্তার সকল দুর্বৃত্ত ঘরে ঢুকে যাবে। সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ওরা একটা গোষ্ঠী। ওরা চোর, ডাকাত। ওরা ভোট চুরি করে, শেয়ার বাজার লুট করে। আগামী নির্বাচন যেন ৫ই জানুয়ারির মতো ফোর টুয়েন্টি মার্কা নির্বাচন না হয় তার দাবিতে বামফ্রন্ট মিছিল করেছে। তাদের পুলিশ লাঠিপেটা করেছে।
জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার ব্যানারে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে বিএনপি ও ২০ দলের অন্যান্য শরিক দল, যুক্ত ফ্রন্ট, গণফোরামের নেতারা ছাড়া আরো কয়েকটি দলের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। ২০ দলের শরিক জামায়াতকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি এ সমাবেশে। সিপিবি-বাসদ নেতৃত্বাধীন বাম গণতান্ত্রিক জোটের অংশীদার গণসংহতি আন্দোলনের শীর্ষনেতা জোনায়েদ সাকিও সমাবেশে বক্তব্য দেন। সমাবেশ শেষে ঘোষণাপত্রও উপস্থাপন করেন বাম সমর্থিত তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সুলতান মো. মনসুর আহমেদও যোগ দেন সমাবেশে। বিকল্পধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অধ্যাপক বি. চৌধুরী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে কড়া বক্তব্য রেখেছেন জাতীয় ঐক্যের পক্ষে। সমাবেশ থেকে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন অন্য নেতারাও। আয়োজকরা জানিয়েছেন, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া বৃহত্তর ঐক্য গড়ার যে লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে নাট্যমঞ্চের সমাবেশের মাধ্যমে এর ভিত রচিত হলো। সামনে এ প্রক্রিয়া বৃহত্তর ঐক্যে রূপ নেবে।
সভা, করবো, অনুমতির তোয়াক্কা করবো না
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী সরকারের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, কেন এ স্বাধীন দেশে মায়েরা-বোনেরা আতঙ্কে থাকে দিনে রাতে, ঘুমোতে পারে না। কেন বৃদ্ধ মা-বাবা শঙ্কিত থাকে তার সন্তান কি ঘরে ফিরবে কিনা? কেন এ হত্যা, গুম, সন্ত্রাস? কেন, কেন, কেন? সারা দেশে অধিকার হারা ও লুণ্ঠিত জনগণের এ অভিযোগ আজ সরকারের কাছে। তারা আজ রুখে দাঁড়াবে। স্বাধীন বাংলাদেশে কেন মায়েরা নির্যাতিত হবে, কেন শিশুদের ওপর নির্যাতন হবে। তিনি বলেন, পুলিশ-র্যাব আমাদের সন্তান। তাদের কেন আমাদেরই সন্তানদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে। জবাব দিতে হবে। প্রবীণ এ নেতা বলেন, ঘুষকে স্পিড মানি হিসেবে সরকারিকরণ করা হয়েছে। সরকারের প্রতি চ্যালেঞ্জের পর চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি, কোন মন্ত্রণালয়টায় দুর্নীতি নেই জবাব দেন। কিন্তু দিতে পারে না। কেন একটি জাতির নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটালেন? কোটি কোটি টাকা চুরি করে, দুর্নীতি করে; লজ্জা নেই? স্কুলের শিক্ষার্থীদের কেন নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নামতে হলো?
সড়কটাকেও নিরাপদ করতে পারলেন না? কোটা সংস্কার আন্দোলন ছিল মেধাবীদের পক্ষে। কিন্তু হাতুড়ি, লাঠি, পিস্তল নিয়ে তাদের পেছনে ধাওয়া করলেন। আপনাদের লজ্জা নেই, শরম নেই। বি. চৌধুরী প্রশ্ন রেখে বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তির যে স্বপ্ন আমরা দেখি তার জন্য প্রয়োজন মেধাবীদের। সেগুলো কি নির্বোধ লোকরা করবে? আর মেধাবীদের আপনি হাতুড়ি দিয়ে পেঠাবেন? স্বাধীন দেশে প্রতিবার সভা করার জন্য কেন পুলিশের কাছে অনুমতি নিতে হবে? আপনারা পুলিশকে অপদস্থ ও কলঙ্কিত করতে চান আমাদের চোখে। কিন্তু আমরা তো জানি, পেছনের লোকটি তো আপনি। স্বার্থসিদ্ধির জন্য পুলিশকে ব্যবহার করে চলেছেন। আমরা সভা করবো। অনুমতির তোয়াক্কা করবো না। আমাদের অনুমতি দেবে জনগণ।
সাবেক এ প্রেসিডেন্ট বলেন, আমার ভোট আমি দেব, পছন্দ করে উপযুক্ত লোককে দেব। কেন দিতে পারবো না? পারি না কি জন্য জানেন? কারণ আপনি (প্রধানমন্ত্রী) চান আপনার সরকার। আপনার সরকার সূক্ষ্মতম কারচুরির মাধ্যমে ভোট জেতার জন্য সাতদিন আগ থেকে সমস্ত এজেন্টদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। আর পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে থাকে নির্বাচন কমিশন। সূক্ষ্ম কারচুপির মাধ্যমে আপনি কেন আমার ভোট দিতে দেবেন না, এ অধিকার কে আপনাকে দিয়েছে। তিনি বলেন, এমন দলীয়করণ করেছেন, রাজনীতি করতে হলে আপনার পক্ষে থেকে করতে হবে। এটা কোন কথা হলো? আমি স্বাধীনভাবে রাজনীতি করতে চাই, স্বাধীনভাবে বাঁচতে চাই, স্বাধীনভাবে ভাবতে চাই। স্বাধীনভাবে ভোট দিতে চাই।
বি. চৌধুরী বলেন, সারা পৃথিবী পরিত্যাগ করেছে যে ইভিএম যন্ত্র, সে যন্ত্রের যন্ত্রণা আমাদের উপর চাপিয়ে দিতে চান জোর করে? সে জন্য ৪ হাজার কোটি টাকা ছুড়ে ফেলে দিতে পারেন না। ছুড়ে ফেলে দেব আমরা। এই ইভিএম ছুড়ে ফেলে দিবো। ইভিএমের বদলে যদি সাহস থাকে, বুকের পাটা থাকে তাহলে কেন্দ্রে কেন্দ্রে সিসি টিভি লাগান। কেবল বুথ ছাড়া সব জায়গায়, যেন বাইরে থেকে সাধারণ সবাই সেটা দেখতে পান। সাহস আছে? সরকারকে জবাব দিতে হবে, কেন সিসি টিভি দেবে না, কেন ইভিএম ফেলে দেবে না। তিনি বলেন, আমরা বিদেশি পর্যবেক্ষক চাই। তবে ১৪ বা ২৪ জন নয়। তারা থাকেন কয়দিন, দুইদিন। কি নির্বাচন দেখেন? যেসব জায়গায় লিখে দেন ওইখানে যান। সেখানে বেড়িয়ে আসেন। লিখে দেন চমৎকার নির্বাচন। কমপ্লিট ননসেন্স, আপনাদের (সরকার) ভাষা ধার নিয়ে বলছি, রাবিশ। বাইরে থেকে যেসব পর্যবেক্ষক আসবে তাদের এক মাস আগে আনতে হবে। জাতিসংঘ থেকে ১০০ প্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে। তারা এক মাস আগে এসে দেখবে, কোথায় চুরি ডাকাতি হচ্ছে, কেমন করে জুলুম নির্যাতন হচ্ছে, কেমন করে রেজাল্ট বিরোধী দলের ওপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। দেখবে, বুঝবে, তারপর লিখবে রিপোর্ট, তারপর নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা হয় কিনা তা দেখতে আরো সাতদিন থাকবে। পারবেন? পারবেন না। কেন পারবেন না। কারণ দুরভিসন্ধি ছাড়া কোনো কারণ নেই।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে বি. চৌধুরী বলেন, ক্ষমতা দেখাচ্ছেন? আসল জিনিসই তো বুঝেননি। আপনাকে দেশের জনগণ ভোট দেয় ক্ষমতা দেখানোর জন্য নয়, তাদের দায়িত্ব পালন করার জন্য। আগের অনেকে বুঝতে চায়নি, এখনো অনেকে চায় না। তারা চায় ক্ষমতা, ক্ষমতা। নো ক্ষমতা, দায়িত্ববোধের রাজনীতি করেন। আওয়ামী লীগের উদ্দেশে বলেন, আপনারা শাসন করেছেন ১০ বছর। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোন দল ১০ বছর শাসন করেনি। তাতেই এত সাহস, তাতেই এত নির্যাতন, গণতন্ত্র হত্যা! কিন্তু তার পরও তো আমরা গঙ্গার পানি পাইনি। তার পরও তিস্তার পানি পাইনি। এতে কি প্রমাণ হয়, প্রমাণ যাই হোক, আপনাকে জবাব দিতে হবে। ডা. বি. চৌধুরী বলেন, কোনো দেশ, কোনো রাষ্ট্র আমাদের চিরকালীন শত্রু হতে পারে না। কোনো রাষ্ট্র চিরকালের মিত্রও হতে পারে না। ভারত আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বন্ধু। আমাদের দাবি যখন ন্যায়সঙ্গত হবে আমরা বন্ধুর মতো ভাববো। আগেও বলেছি ভারত বন্ধু রাষ্ট্র, এখনো বলি বন্ধু রাষ্ট্র। কিন্তু বলতে হবে বন্ধু রাষ্ট্র, তুমি কোথায়? আমার পানি কোথায়? ভারত বন্ধু রাষ্ট্র তাহলে আপনারা পানি আনতে পারেননি কেন? বন্ধু রাষ্ট্রের কাছে আদায় করতে পারলেন না তাহলে রাষ্ট্র পরিচালনার যোগ্যতা তো আপনার নেই।
সাবেক এ প্রেসিডেন্ট বলেন, এতগুলো কেন’র যদি জবাব দিতে হয় তাহলে সরকার কোথায় যাবে? যাবে কোথায়? জোর গলায় বলা যাবে না? নাকি খালি ঝগড়াই করবো? কাজেই আজকে রুখে দাঁড়ানোর সময়। বাংলাদেশের মানুষ রুখে দাঁড়াতে জানে। আগে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ, আমাদের দাবি আদায় ও অর্জনের সময়। এখন যদি ঐক্য করতে না পারেন কবে করবেন? গণতন্ত্রের স্বপক্ষের সব শক্তিকে আমরা আহ্বান করেছি ঐক্য হোক। আমরা বিএনপির সঙ্গে আলোচনা করেছি। যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আমি অত্যন্ত আশান্বিত, ভবিষ্যতে এ প্রক্রিয়ার একটি সুফল হবে। তিনি বলেন, আমরা যে কাগজটি সই করেছি, সেখানে পরিষ্কারভাবে কথাগুলো লেখা আছে। আর তিন সপ্তাহ বেঁচে থাকলে ৮৮ বছর পূর্ণ করবো। কিন্তু আমার কি অসুখ-বিসুখ হতে পারবে না। এ গ্যারান্টি কে দেবে? কেন এগুলো নিয়ে মানুষ তামাশা করে।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জননেত্রী খালেদা জিয়া আমার চেয়ে ১৫ বছরের ছোট। তিনি অসুস্থ। আমিই তো বলেছিলাম, তার টিআইএ হয়েছে। এতে কখনো কখনো অঙ্গহানিও হয়ে যায়। আমি প্রথম স্টেটমেন্ট দিয়েছি। কিন্তু তারপরও একটি বোর্ড হয়েছে। তিনি নাগরিক সমাবেশে উপস্থিত বিএনপি নেতাদের দিকে তাকিয়ে বলেন, এখানে অনেক আইনবিদ আছেন। তারা কি জানেন না? আমার স্বাস্থ্যের ব্যাপারে আমার একটি অধিকার আছে। আমি যাকে মনোনীত করিনি সে আমার রোগের ইতিহাস নিতে পারে না। শরীরে হাত দিতে পারে না। আমার গোপনীয় রিপোর্টগুলো দেখতে পারে না। কিন্তু আপনারা (বিএনপি) বসে রইলেন, আমরা দেখলাম। এরপরও খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ড করে তারা কেমন করে তার ইতিহাস নিতে গেল? কেমন করে গায়ে হাত দিলো। কেমন করে তার গোপনীয় রিপোর্ট দেখলো। প্রশ্ন করলেন না? করা উচিত ছিল।
জাতীয় ঐক্যের ব্যাপারে বি. চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এই জন্য স্বাধীনতার মর্মতো তারাই বুঝে সবচাইতে বেশি। যারা রক্ত দিয়েছি। আর যারা অস্তিত্বে বিশ্বাস করেনি তারা কি আমাদের মতো বুঝবে। একটি বেদনা কি থাকবে না? আমরা কি কিছু বলবো না? আসুন গণতান্ত্রিক শক্তি ঐক্যবদ্ধ হই। কিন্তু যারা এ দেশ স্বাধীন করার জন্য রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে, সম্ভ্রম দিয়েছে আজ দেশমুক্ত করার সময় আমরা কি তাদের কথা ভাববো না, তাদের ভুলে যাবো? এতবড় বেঈমান আমরা হতে পারবো না। আমরা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির ঐক্য চাই। যারা মানচিত্রে বিশ্বাস করবে না তাদেরকে আমরা কীভাবে বিশ্বাস করবো। যারা আমার পতাকাকে অন্তর থেকে শ্রদ্ধা করতে জানবে না তাদের কীভাবে বিশ্বাস করবো। যারা আমাদের এই বাংলাদেশকে এখনো স্বীকার করবে না আমি তাদের কেমন করে স্বীকার করবো।
বি. চৌধুরী বলেন, আমি মুক্ত গণতন্ত্র চাই, এ সরকারের পতন চাই। কিন্তু বেগম জিয়ার মুক্তি চাই। সমস্ত রাজবন্দির মুক্তি চাই। একবিন্দু এদিক-ওদিক নেই। পরিষ্কার লেখা আছে। নির্বাচন করতে হলে আমরা খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই, সমস্ত রাজবন্দির মুক্তি চাই। আমরা বলেছি, ১০০ দিন আগে থেকে আমাদের সেনাবাহিনীকে নামাতে হবে। যারা বিশ্বের নানা দেশের শান্তি রক্ষা করে তাদের নিজ দেশের শান্তি রক্ষা করার অধিকার থাকবে না? এটা কেমন কথা হলো? এর মধ্যে অনেকে সামরিক শাসনের গন্ধ পান। আপনাদের নাকই পচা ভাই। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ড. কামাল হোসেন, যুক্তফ্রন্ট, বিএনপিসহ অন্যান্য দল তারা কেউ সংবিধানের বাইরে অন্য কোনো সরকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে রায় দেবে না।
ভবিষ্যতের জন্য রক্ষাকবচ তৈরির তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে স্বেচ্ছাচারী, গণতন্ত্রবিরোধী আরো একটি সরকার আসবে সেটা বন্ধ করতে হবে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের সরকার আর কখনো না আসে। আপনারা সেটা চান না? এ জন্য রক্ষাকবচ তৈরি করতে রাজি আছেন? এ জন্য ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার কথা বলেছি। পিছু হটা যাবে না। তিনি বলেন, আমরা চাই জাতীয় ঐক্য, আমরা চাই এ অপশাসন দূর হয়ে যাক। আমরা চাই জনগণের পরিত্যক্ত এ সরকার ১০ বছরের মধ্যে আর যেন উঠতে না পারে। আমরা এও চাই গণতন্ত্র ফিরে আসুক, যারা সরকার গঠন করবে তারা শুধু ক্ষমতার সরকার করবে না। তারা দায়িত্ব বোধের পরিচয় দেবে। তরুণ সমাজ যারা ধীরে ধীরে রাজনীতির বিপক্ষে চলে যাচ্ছে তাদের কাছে আনতে হবে। শেষকথা একটাই- মন খুলে বলেছি, অপব্যাখ্যা করবেন না, ভুল করবেন না। ভবিষ্যতের শান্তি-সুখের বাংলাদেশ চান, সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ চান? তাই যদি হয় তাহলে ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের সরকার না আসে তার রক্ষাকবচ চান? সেটা করতে হবে।
সমাবেশে দেয়া বক্তব্যে ন্যূনতম কর্মসূচি ও দাবি-দাওয়ার ভিত্তিতে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দাবি আদায়ের আন্দোলনে শুরুর তাগিদ দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নাগরিক সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে মির্জা আলমগীর বলেন, আমরা ইতিমধ্যে ঐক্যের পথে একধাপ এগিয়ে গেছি। আশা করব, দাবিগুলো অর্জন করে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারব। সবাইকে জনগণের অধিকার ফিরে পাওয়া ও অধিকার প্রতিষ্ঠার এ আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আসুন আমরা ন্যূনতম কর্মসূচির ভিত্তিতে, ন্যূনতম দাবি-দাওয়াসহ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দাবিগুলো আদায় করতে একটি আন্দোলন শুরু করি। সে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা দেশনেত্রী খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দিকে মুক্তি দিতে এ সরকারকে বাধ্য করবো। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিতে বাধ্য করতে হবে।
এ জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার উদ্যোগ নেয়ায় গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, জাতির এ চরম দুর্দিনে, যখন সবাই একটি মুক্তির পথ খুঁজছে তখন তিনি একটি পথ দেখিয়ে জনগণকে সামনে নিয়ে এসেছেন। বাংলাদেশের মানুষকে তাদের হারিয়ে যাওয়া গণতান্ত্রিক অধিকার, ভোট ও বেঁচে থাকার অধিকারকে ফিরিয়ে আনার জন্য আন্দোলনে একতাবদ্ধ হয়ে একমঞ্চে উপস্থিত হওয়ার জন্য জাতীয় নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান তিনি। মির্জা আলমগীর বলেন, গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করায় গণতন্ত্রের নেতা খালেদা জিয়াকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে এখন একটা স্যাঁতসেঁতে পরিত্যক্ত নির্জন কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। তার চিকিৎসা সুচিকিৎসা হচ্ছে না। তাকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
দেশে অপশাসন ও দুঃশাসন চলছে: ড. কামাল
সভাপতির বক্তব্যে গণফোরাম সভাপতি ও ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন বলেন, দেশের বিভিন্নস্থান থেকে আপনারা এসেছেন একটি আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তা হচ্ছে হারানো গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা। আপনারা এসেছেন একটি প্রতিজ্ঞা নিয়ে তা হচ্ছে লুণ্ঠিত ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করা। আমাদের সবার প্রত্যাশা সুখী, সমৃদ্ধ, উদার, গণতান্ত্রিক ও বহুমতের বাংলাদেশ। ড. কামাল বলেন, দেশে এখন অপশাসন ও দুঃশাসন চলছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে প্রতিনিয়ত হয়রানি ও অপদস্থ করা হচ্ছে। বাংলাদেশের জনগণ গণতন্ত্রের জন্য অনেক সংগ্রাম করে জয়ী হয়েছে।
আবার হোঁচট খেয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বঙ্গবন্ধু বলতেন মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলে কেউ তাদের দাবিয়ে রাখতে পারে না। ড. কামাল দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা শুধু ক্ষমতার রাজনীতি করি না। আমরা জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করি।
জনগণের ক্ষমতা জনগণের নিকট ফিরিয়ে দেয়াই আমাদের লক্ষ্য। আমরা আমাদের সাধ্য অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি। আমরা জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে চাই। তিনি বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের ইতিহাস যেমন আছে, গণতন্ত্রকে হত্যা করে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করার ইতিহাসও আছে। দেশে উন্নয়নের নামে লুটপাট চলছে মন্তব্য করে ড. কামাল হোসেন বলেন, ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুণ্ঠন করা হচ্ছে। মেগা প্রকল্পের নামে জনগণের টাকা অপচয় করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে টাকা ও স্বর্ণ গচ্ছিত রাখাও নিরাপদ না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধনী বাড়ার যে প্রবণতা তাতে বাংলাদেশের নাম সবার আগে। এটা আমাদের জন্য লজ্জার বিষয়।
জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া সম্পর্কে ড. কামাল বলেন, আমরা প্রকাশ্য সভা করছি। কোনো গোপন বৈঠক করছি না। যারা জনগণের শক্তিকে ভয় পায়, তারা জনগণের সংগঠিত হওয়ার প্রচেষ্টাকে ষড়যন্ত্র বলে তারা জনগণকেই অপমান করছে। তিনি বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্য পেয়েছি। বঙ্গবন্ধু আমাকে সদ্য স্বাধীন হওয়া দেশের সংবিধান রচনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। এটা আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া। ব্যক্তিগতভাবে আমার আর চাওয়া-পাওয়ার কিছু নাই।
সংবিধান অনুসারে জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করাই একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার পবিত্র দায়িত্ব। তিনি বলেন, মৌলিক বিষয়ে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে আছে। এখন সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করার সময় এসেছে। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি আমাদের প্রচেষ্টা সফল হবে। তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলুন। মুক্তিরবার্তা নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ান। মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করুন। অতীতে জনগণের বিজয়কে কেউ ঠেকাতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না।
সমাবেশে ঘোষণাপত্র:
নাগরিক সমাবেশ শেষে জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। পরে কণ্ঠভোটে ও হাত তুলে প্রস্তাবটি পাস করেন নাগরিক সমাবেশে অংশ নেয়া রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। ৩০শে সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনের আহ্বান জানানো হয়েছে জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার সমাবেশ থেকে। সমাবেশের ঘোষণাপত্রে এ দাবি জানিয়ে বলা হয়েছে ৩০শে সেপ্টেম্বরের পর ১লা অক্টোবর থেকে সারা দেশে সভা-সমাবেশ শুরু হবে। এতে জাতীয় নেতৃবৃন্দ অংশ নেবেন। ঘোষণাপত্রে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনগত ও ন্যায়সঙ্গত অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এতে বলা হয়, কোটা সংস্কার এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রছাত্রীসহ সকল রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আনীত মিথ্যা মামলাসমূহ প্রত্যাহার করতে হবে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দিতে হবে।
এখন থেকে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা যাবে না। এ নাগরিক সমাবেশ থেকে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি যে, সরকার আগামী ৩০শে সেপ্টেম্বর ২০১৮’র মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ- আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবেন এবং তফসিল ঘোষণার পূর্বে বর্তমান সংসদ ভেঙে দেবেন। আমরা দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি-এ গণদাবি আদায়ের লক্ষ্যে প্রতিটি জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে মুক্তিসংগ্রামের চেতনায় বিশ্বাসী সকল রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি শ্রেণি-পেশা ও নাগরিক সমাজের সমন্বয়ে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য’র কমিটি গঠন করুন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধভাবে নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ গণজাগরণের কর্মসূচি অব্যাহত রাখুন।
জনগণের ঐক্য হলে স্বৈরাচার পালায়
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, জাতীয় ঐক্য মানে জনগণের ঐক্য। জনগণের ঐক্য যখন হয় তখন স্বৈরাচার পালায়। দেশ খুন, গুম, অপরহণ ও বেওয়ারিশ লাশের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। সবাইকে মাঠে নামতে হবে। ব্যাংকে টাকা নেই, ভল্টে সোনা নেই, খনিতে কয়লা নেই। সব লুট হয়ে গেছে। দেশ লুটের মালে পরিণত হয়েছে। কবে মানচিত্র চুরি হয়ে যায় সেই চিন্তায় আছি। দেশকে কোথায় নিয়ে যাবে। জাহান্নামের পরে যদি কিছু থাকে সেখানে নিয়ে যাবে না কি। এজন্য মুক্তিযুদ্ধ করিনি। রক্ত দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার অর্জন করিনি।
এই সরকার তা বাতিল করেছে। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই। পার্লামেন্ট বাতিল করে আপনিও নির্বাচনে আসতে পারেন। তাতে আপনি রাজি হলে ও জিতলে, জনগণ যে ভোট দেবে তা আমরা মেনে নেব। দেশে এক টাকার উন্নয়ন হয়েছে, একশ টাকা লুট হয়েছে। আসুন ঐক্য প্রক্রিয়া গড়ে তুলি। এর বিকল্প নেই। রাজবন্দিদেরকে কারাগারে রাখতে পারবেন না। মুক্তি দিতে হবে। সমাবেশে তিনি বিভিন্ন স্লোগান ধরেন। তা হলো, সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, এবার গদি ছাড়তে হবে। বেহুদার ইভিএম, মানি না মানব না ইত্যাদি।
জাতিকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে
নাগরিক সমাবেশে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের যে উন্নয়ন হয়েছে তা হচ্ছে কেন্দ্রীভূত উন্নয়ন। এখন সারা দেশের মানুষকে চিকিৎসা, বিচার এমনকি মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা নেয়ার জন্য ঢাকায় আসতে হয়। এই কেন্দ্রীকতার উন্নয়ন জাতিকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। গ্রামের মানুষ, গার্মেন্টেসের কর্মীদের কোনো উন্নয়ন হয়নি। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কী করণীয় তা করতে হবে। দেশ এখন ‘র’ ও ‘মোসাদ’ দ্বারা পরিচালিত। সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অনুরোধ জানান।
দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনগণ ঐক্যবদ্ধ
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন বলেন, ঐক্য প্রক্রিয়ার প্রতি আমাদের সমর্থন আছে। দুঃশাসনের প্রতি জনগণ ঐক্যবদ্ধ। প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্ব। আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক। দেশ আমাদের, সরকার আমাদের। কিন্তু ভোট আমাদের হবে না তা তো হবে না। বাক্সে ভোট আমাদের, ফলাফল ঘোষণা হবে অন্য স্থান থেকে, তা হবে না। ক্ষমতা না ছাড়ার নীলনকশা করা হচ্ছে। সংসদ ও গণতন্ত্রের নিয়মে নির্বাচন হতে হবে। কয়েক লাখ লোক হত্যা করার ভয় আপনাদের দেখাতে হবে না। জনগণ অপরাজেয়। জনগণের বিষয় নিশ্চিত।
বিনা ভোটের সরকার হঠাতে হবে
ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ বলেন, এখানে সকল দল-মতের মানুষ একত্রিত হয়েছেন। বঙ্গবন্ধু যাকে সংবিধান প্রণয়নের দায়িত্ব দিয়েছিলেন সেই ড. কামাল হোসেন সভাপতিত্ব করছেন। শুধু দলে দলে, নেতায় নেতায় নয়; পাড়ায় পাড়ায়, ঘরে ঘরে ঐক্য হতে হবে। বিনাভোটের সরকার হটিয়ে দলনিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে হবে। তিনি বলেন, এই আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু ও তাজ উদ্দীনের আওয়ামী লীগ নয়। লুটেরা আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধুর চামড়া দিয়ে যারা ডুগডুগি বাজানোর কথা বলেছিল তাদের আওয়ামী লীগ।
গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, ছাত্ররা আমাদের দেখিয়েছে। রাস্তায় শৃঙ্খলা এনেছে। পুলিশকে শিক্ষা দিয়েছে। জনগণ সবকিছু দিয়ে এই আন্দোলন করে যাবে।
বিকল্প ধারা বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান বলেন, জাতি আজ রুগ্ন। জনগণ সব অধিকার হারিয়েছে। অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে। কেড়ে আনতে হবে। এখানে দলগুলো অনেক দাবি নিয়ে এসেছে।
দেশের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে
সমাবেশে গণসংগতি আন্দোলনের আহ্বায়ক জোনায়ের সাকি গত বৃহস্পতিবার পুলিশের পিটুনিতে আহত হন। একহাত গলায় বাঁধা অবস্থায় নিজদলের পক্ষ থেকে তিনি সমাবেশে যোগ দেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের সবাই জানে যে, স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যে আমরা আছি। এটা এক ব্যক্তির স্বৈরতন্ত্র নয়। ব্যবস্থাগত স্বৈরতন্ত্র। দেশের স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামো কাজে লাগিয়ে এতদিন তা কার্যকর রয়েছে। জনগণ গণতন্ত্র পায়নি।
যে ক্ষমতা কাঠামোর অধীনে এক দল বলে- ‘আসুন। পারলে ঠেকান। ক্ষমতা হারালে আমাদের লোক ঘরে থাকতে পারবে না।’ তাহলে দেখুন, এরা আবার ক্ষমতায় আসলে বিরোধীশক্তি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। সংকট ও সংঘাতকে পুনরাবৃত্তির মধ্যে ফেলেছে। আমাদের নতুন একটি গণতান্ত্রিক কাঠামো আমরা একটা জাতীয় এক্য চাই। সংবিধান সংস্কার করা প্রয়োজন। আগামী নির্বাচনসহ ভবিষ্যতে আরো ৩টা নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতে হবে।
বাংলাদেশ বহু আন্তর্জাতিক চক্রান্তের মুখোমুখি ও দেশের ভবিষ্যৎ নানাভাবে হুমকির মুখে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, দেশে এখন নির্বাচিত সরকার নেই। গণতান্ত্রিক সরকার নেই। একটি অবৈধ অনির্বাচিত সরকার আছে। ভোটাধিকার এই সরকার ধ্বংস করে দিয়েছে। সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, জাতীয় ঐক্য ঢাকা মহানগরীর যুগ্ম আহ্বায়ক ড. মোমেনা খাতুন, যুব শাখার নেতা মো. হানিফ, গণফোরামের ঢাকা মহনগরীর সভাপতি সাইদুর রহমান ও ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সমাজের সভাপতি আজম অপু।
ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আ ব ম মোস্তফা আমিনের পরিচালনায় নাগরিক সমাবেশে আরো বেশ কয়েকটি দলের প্রধান ও শীর্ষ নেতৃবৃন্দ যোগ দেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন- বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, ২০ দলীয় জোটের নেতা জুনায়েদ বাবু নগরী, জাতীয় পার্টি (জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, স্বদেশ পার্টির সভাপতি রফিকুল ইসলাম মন্টু, আম জনতা ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান মো. মশিউর রহমান শংকু, বাংলাদেশ শরীয়া আন্দোলনের আমীর মাওলানা মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, খেলাফত মজলিসের ড. আহমেদ আবদুল কাদের ও আহসান হাবীব লিংকন প্রমুখ। বেলা ৩টায় সমাবেশ শুরুর আগে দুপুরের পর থেকে শুরু হয় গণসঙ্গীত পরিবেশনা। সমাবেশের শুরুর দিকে গণসঙ্গীত পরিবেশ করেন, উদীচীর কেন্দ্রীয় সঙ্গীত সম্পাদক সুরাইয়া পারভীন ও মাইশা সুলতানা উর্বী।
জাতীয় ঐক্য ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে: মোশাররফ
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আজকের এই সমাবেশের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্ট সরকার থেকে দেশকে রক্ষা করার প্রক্রিয়ার সূচনা হলো। আজ এই সমাবেশে উপস্থিত নেতারা বর্তমান সরকারকে সরানোর জন্য একটি জাতীয় ঐক্য চাইছে। কিন্তু আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া অনেক আগেই জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন। আমি মনে করি সারা দেশের মানুষের মধ্যে জাতীয় ঐক্য ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। তিনি বলেন, যে নেত্রী ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি বলে কোনো নির্বাচনই হয়নি- এই জন্য তাকে আজ কারাগারে রাখা হয়েছে। তাকে কারাগারে রেখে আবার ৫ই জানুয়ারির মতো আরেকটি নির্বাচন করতে চায়। তিনি আরো বলেন, এই সরকার নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এটার প্রমাণ হয়েছে গত ১লা সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত বিরোধী নেতাকর্মীদের নামে পুলিশ যতো ভুতুড়ে মামলা দিয়েছে তার মাধ্যমে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আজকের এই সমাবেশ নতুন মাইলফলক।
যার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক রাজনীতির নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে। এই ঐক্যপ্রক্রিয়া দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে আরো সুসংহত করবে। ড. কামাল হোসেনকে বাংলাদেশের গৌরব আখ্যায়িত করে তার উদ্দেশ্যে বলেন, আইনের শাসন, ভোটের অধিকার রক্ষায়, গণতন্ত্র রক্ষায় আমরা এক সঙ্গে কাজ করতে চাই। ভোটের অধিকার রক্ষায় আপনারা কাজ করেন। আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও থাকবো। মওদুদ বলেন, আমি মনে করি ৫টি দাবি নিয়ে ঐক্যপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নির্বাচনকালীন সরকার নিরপেক্ষ হতে হবে, সংসদ ভেঙে দিতে হবে, নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে, ইসি পুনর্গঠন করতে হবে ও নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার বাতিল করতে হবে। এই দাবিগুলোর সঙ্গে আমরা যারা বিএনপি করি তাদের আরেকটি দাবি হলো- দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি দিতে হবে। সকল নেতাকর্মীকে মুক্তি দিতে হবে। কোনো নতুন গ্রেপ্তার চলবে না।
স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, আজকে থেকে ৪৭ বছর আগে এ দেশের কোটি কোটি মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। লক্ষ লক্ষ মানুষ রক্ত দিয়েছিল। অথচ স্বাধীনতার এত বছর পরেও আমাদের বলতে হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা আজ মৃত। অল্প সংখ্যক মানুষের কাছে সব সম্পদ চলে যাচ্ছে। আর দরিদ্র মানুষ আরো দরিদ্র হয়ে যাওয়া দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিম্নের দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, এসব অনাচার থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য একটি জাতীয় ঐক্য দরকার। আসুন আমরা সকলে মিলে একটি জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলি।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন বলেন, ইতিমধ্যে সারা দেশের জনগণের ঐক্য হয়েছে। সারা দেশের আইনজীবীরাও ঐক্যবদ্ধ হওয়া শুরু করেছে। আশা করি দেশনেত্রী খালেদা জিয়াসহ সকল নেতৃবৃন্দ মুক্তি পাবে। আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি আমাদেরকে এই দাজ্জাল শাসকের হাত থেকে রক্ষা করুন।
খালেদা জিয়াসহ রাজবন্দিদের মুক্তি দিতে হবে: মান্না
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দেশে আজ গভীর সংকট। আর মাত্র সাড়ে তিন মাস পরে নির্বাচন। অথচ গতকালও সারা দেশে সাড়ে তিন শত বিরোধী নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছে। ঈদের পর থেকে আজ ২২শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্তত ২২ হাজার বিরোধী নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলা হয়েছে কতো জনের নামে তার হিসাব নেই। এসময় তিনি বলেন, আমি খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দির মুক্তি দাবি করছি। তাদের মুক্তি দিতে হবে।
যদি কেউ পুলিশ দিয়ে, র্যাব দিয়ে গায়ের জোরে ক্ষমতায় থাকতে চায় তাদের উদ্দেশ্যে বলবো- আমরা এত জোরে আওয়াজ তুলবো যে, আপনারা কথাই বলতে পারবেন না। মান্না বলেন, আজকে আমরা যে দাবি করছি আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল ছাড়া সকল দল সেই দাবি করছে। সুতরাং জাতীয় ঐক্য তো হয়েই গেছে। আমরা এখন সারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই জাতীয় ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেব। তিনি বলেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি নির্বাচন দিতে হবে।
যারা এই সরকারে আসবেন তারা কোনো নির্বাচন করতে পারবেন না। ভোটের আগের দিন, ভোটের দিন ও ভোটের পরের দিন সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি নির্বাচনে রাস্তার মানুষ ঘরে ছিল। আমরা যতোই চেষ্টা করেছি মানুষ রাস্তায় নামেননি। এবার এমন ব্যবস্থা করতে হবে যাতে ঘরের মানুষ রাস্তায় নামবে। আর রাস্তার সকল দুর্বৃত্ত ঘরে ঢুকে যাবে। সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ওরা একটা গোষ্ঠী। ওরা চোর, ডাকাত। ওরা ভোট চুরি করে, শেয়ার বাজার লুট করে। আগামী নির্বাচন যেন ৫ই জানুয়ারির মতো ফোর টুয়েন্টি মার্কা নির্বাচন না হয় তার দাবিতে বামফ্রন্ট মিছিল করেছে। তাদের পুলিশ লাঠিপেটা করেছে।
About: Kutubi Web
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1427)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ▼ 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ইরান
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
কালবেলা
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
রাশিয়া
মুক্তিযুদ্ধ
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
হিন্দু
রুদ্র মিজান
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
স্বাস্থ্য
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
জীবনযাপন
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কলকাতা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
মসজিদ
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ইয়েমেন
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
Exclusive
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
জনস্বাস্থ্য
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
জোহরান মামদানি
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
ইহুদি
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
জর্দান
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
আহমেদ মুনির
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment