Saturday, December 19, 2015
গণতন্ত্রই সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত সরকারব্যবস্থা -সাক্ষাৎকারে : কৌশিক বসু by শওকত হোসেন
গণতন্ত্রই সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত সরকারব্যবস্থা -সাক্ষাৎকারে : কৌশিক বসু by শওকত হোসেন
![]() |
| কৌশিক বসু, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান অর্থনীতিবিদ, বিশ্বব্যাংক |
বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু
বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রশংসা তো করেছেনই, জানিয়েছেন বিশ্বব্যাংকে তাঁর
কাজের অভিজ্ঞতার কথাও। বলেছেন দুর্নীতি, সুশাসন ও সরকারব্যবস্থা নিয়েও।
জানিয়েছেন উন্নয়নের জন্য গণতন্ত্রের প্রয়োজনীয়তার কথা। গণতন্ত্রকে ধরে
রাখার পরামর্শও দিলেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শওকত হোসেন
প্রথম আলো: অর্থনীতিবিদই হতে চেয়েছিলেন?
কৌশিক বসু: অর্থনীতিতে আমার আসাটা অপ্রত্যাশিত ছিল। কারণ, আমার বাবা আইনজীবী ছিলেন এবং ছোটবেলা থেকেই মানুষ হয়েছি যে বড় হয়ে আইনজীবী হব। আমাকে আইন পড়তে ইংল্যান্ডে পাঠানো হয়েছিল। কথা ছিল গোড়ায় একটু অর্থনীতি পড়ে তারপর আইন পড়ব। কিন্তু তখন আমার ওপর বিরাট একটা প্রভাব ফেলল অমর্ত্য সেনের লেকচার। তিনি তখন লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসে পড়াচ্ছেন। অভূতপূর্ব অমর্ত্যদার লেকচার। সেই লেকচার শুনে এত বেশি উৎসাহ পেলাম যে সিদ্ধান্ত নিলাম অর্থনীতিই পড়ব। সেই থেকে অর্থনীতিতেই আমার ক্যারিয়ার। গোড়ার দিকে দিল্লি স্কুল অব ইকোনমিকসে অনেক বছর। এরপর আমেরিকায় চলে আসি। তারপর আবার ভারতে ফিরে এলাম। তখনকার দিনে কিন্তু পিএইচডি করে তেমন কেউ ফিরত না। আমি সেই স্বল্প কয়েকজনের একজন, দেশে ফিরে এসেছিলাম। এই হচ্ছে আমার অর্থনীতিতে আসার গল্প।
প্রথম আলো: একজন বাঙালি অর্থনীতিবিদ হিসেবে বিশ্বব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ পদে আপনার কাজ করার অভিজ্ঞতাটি কেমন?
কৌশিক বসু: বিশ্বব্যাংকে খুবই ভালো অভিজ্ঞতা আমার। তিন বছর ধরে এখানে কাজ করছি। একটা হচ্ছে বৈশ্বিক সংযোগ, যেটা আমি খুব উপভোগ করি। বিভিন্ন দেশে যাওয়া, বিভিন্ন ধরনের মানুষের সঙ্গে কথা বলা। আমি একবার লিখেছিলামও যে আমার ভেতরে অর্থনীতির সঙ্গে নৃতত্ত্বের একটা দ্বন্দ্ব কাজ করে। কারণ, একজন নৃতাত্ত্বিক গ্রামে গিয়ে বসে থাকে। বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এটা আমার সব সময়ই খুব ভালো লাগে। বিশ্বব্যাংকে এসে সেই অভিজ্ঞতাটি পাচ্ছি। বিভিন্ন দেশে গিয়ে তাদের নীতি নিয়ে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলা, গল্প করা—এসব তো মজাই। বাংলাদেশে আসাটা ভিন্ন কিছু না আমার জন্য, কারণ পাশের কলকাতায় মানুষ হয়েছি। কিন্তু মাঝে মাঝে যখন ছোট্ট একটা দ্বীপরাষ্ট্রে চলে যাই, সাব-সাহারান আফ্রিকার কোনো দেশে যাই, সেটা একদম অন্য ধরনের পরিস্থিতি, তখনকার সেই অভিজ্ঞতা অন্য রকম। এর সঙ্গে দৈনন্দিন প্রশাসনিক চাপ তো আছেই। এটা হচ্ছে এসব সুবিধা পাওয়ার একটা মূল্য।
প্রথম আলো: অর্থনীতিবিদই হতে চেয়েছিলেন?
কৌশিক বসু: অর্থনীতিতে আমার আসাটা অপ্রত্যাশিত ছিল। কারণ, আমার বাবা আইনজীবী ছিলেন এবং ছোটবেলা থেকেই মানুষ হয়েছি যে বড় হয়ে আইনজীবী হব। আমাকে আইন পড়তে ইংল্যান্ডে পাঠানো হয়েছিল। কথা ছিল গোড়ায় একটু অর্থনীতি পড়ে তারপর আইন পড়ব। কিন্তু তখন আমার ওপর বিরাট একটা প্রভাব ফেলল অমর্ত্য সেনের লেকচার। তিনি তখন লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসে পড়াচ্ছেন। অভূতপূর্ব অমর্ত্যদার লেকচার। সেই লেকচার শুনে এত বেশি উৎসাহ পেলাম যে সিদ্ধান্ত নিলাম অর্থনীতিই পড়ব। সেই থেকে অর্থনীতিতেই আমার ক্যারিয়ার। গোড়ার দিকে দিল্লি স্কুল অব ইকোনমিকসে অনেক বছর। এরপর আমেরিকায় চলে আসি। তারপর আবার ভারতে ফিরে এলাম। তখনকার দিনে কিন্তু পিএইচডি করে তেমন কেউ ফিরত না। আমি সেই স্বল্প কয়েকজনের একজন, দেশে ফিরে এসেছিলাম। এই হচ্ছে আমার অর্থনীতিতে আসার গল্প।
প্রথম আলো: একজন বাঙালি অর্থনীতিবিদ হিসেবে বিশ্বব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ পদে আপনার কাজ করার অভিজ্ঞতাটি কেমন?
কৌশিক বসু: বিশ্বব্যাংকে খুবই ভালো অভিজ্ঞতা আমার। তিন বছর ধরে এখানে কাজ করছি। একটা হচ্ছে বৈশ্বিক সংযোগ, যেটা আমি খুব উপভোগ করি। বিভিন্ন দেশে যাওয়া, বিভিন্ন ধরনের মানুষের সঙ্গে কথা বলা। আমি একবার লিখেছিলামও যে আমার ভেতরে অর্থনীতির সঙ্গে নৃতত্ত্বের একটা দ্বন্দ্ব কাজ করে। কারণ, একজন নৃতাত্ত্বিক গ্রামে গিয়ে বসে থাকে। বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এটা আমার সব সময়ই খুব ভালো লাগে। বিশ্বব্যাংকে এসে সেই অভিজ্ঞতাটি পাচ্ছি। বিভিন্ন দেশে গিয়ে তাদের নীতি নিয়ে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলা, গল্প করা—এসব তো মজাই। বাংলাদেশে আসাটা ভিন্ন কিছু না আমার জন্য, কারণ পাশের কলকাতায় মানুষ হয়েছি। কিন্তু মাঝে মাঝে যখন ছোট্ট একটা দ্বীপরাষ্ট্রে চলে যাই, সাব-সাহারান আফ্রিকার কোনো দেশে যাই, সেটা একদম অন্য ধরনের পরিস্থিতি, তখনকার সেই অভিজ্ঞতা অন্য রকম। এর সঙ্গে দৈনন্দিন প্রশাসনিক চাপ তো আছেই। এটা হচ্ছে এসব সুবিধা পাওয়ার একটা মূল্য।
বিশ্বব্যাংকের
সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. কৌশিক বসু ২০১২ সালে
বিশ্বব্যাংকে যোগ দেওয়ার আগ পর্যন্ত ভারত সরকারের প্রধান অর্থনৈতিক
উপদেষ্টা ছিলেন। এর আগে পড়িয়েছেন লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস ও কর্নেল
ইউনিভার্সিটিতে। ১৯৫২ সালে কলকাতায় তাঁর জন্ম।
প্রথম আলো: আপনি যখন অর্থনীতিবিদ ছিলেন, তখন একরকমভাবে বিশ্বব্যাংককে দেখেছেন, হয়তো সমালোচনাও করেছেন। আবার প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করার সময় আরেকভাবে দেখেছেন। এখন আপনি নিজেই বিশ্বব্যাংকে কাজ করছেন। অভিজ্ঞতাগুলো কী রকম?
কৌশিক বসু: আমি জানি, বিশ্বব্যাংক বিশাল একটি বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান। এর ভেতরে তার একটি রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে। আমি যখন ভারতে কাজ করি, তখন কিন্তু বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আমার অনেক কথাই হতো। আমি অনেক কিছু জানতে চাইতাম। ব্রাজিলে একটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা কীভাবে হয়েছে, সেটা জানতে চাইতাম। এ ব্যাপারে আমার পরিষ্কার ধারণা ছিল যে এটা একটা অনেক বড় কার্যকরী প্রতিষ্ঠান এবং আমি তাদের সঙ্গে সেই সম্পর্কটাই রাখব।
প্রথম আলো: ক্যারিয়ারের শুরুতে কখনো বিশ্বব্যাংকে কাজ করতে চাননি?
কৌশিক বসু: বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে কিন্তু আমার প্রথম কথাবার্তা হয়েছিল আরও আগে, যখন আমি পিএইচডি শেষ করি। বিশ্বব্যাংকে ইয়াং প্রফেশনাল নামে একটি কর্মসূচি আছে, সেখানে গেলে সারা জীবনের জন্য চাকরি হয়ে যায়। আমি আবেদন করলাম। ইন্টারভিউতে ডাকল। শেষ রাউন্ডের ইন্টারভিউ হলো প্যারিসে। বিশ্বব্যাংকের চাকরি বলে আমার বাবা-মা খুব উত্তেজনার মধ্যে ছিলেন। আমি যদিও খুব বেশি উত্তেজনার মধ্যে ছিলাম না। পেলে ভালো, না পেলে না। চাকরি কিন্তু পেলাম না। পাস করতে পারলাম না শেষ ইন্টারভিউতে। আমি এখন সত্যি মনে করি, জীবনের কিছু কিছু ব্যর্থতা আশীর্বাদও হয়।
আমি আপাদমস্তক একজন গবেষক। যদি বিশ্বব্যাংকের ওই চাকরিতে চলে যেতাম, তাহলে এটা আর হতো না। তাহলে পুরো চাকরিজীবন আমার আরেক ধরনের হতো। আমি যা করেছি সত্যিই আমি উপভোগ করতাম। আমার কাছে পেপার লেখা বা ক্লাসরুম লেকচার দেওয়া সত্যি দারুণ আনন্দদায়ক। আমি আমার নিজে ছেলেমেয়েদেরও বলি যে আমি ভাগ্যবান। কারণ, আমি যা করতে ভালোবাসি, তা করতে পেরেছি। একটা চাকরি ভাগ্যে পাইনি, আর আইনটা যদি পড়তাম, তাহলে কলকাতাতেই থেকে যেতাম, পৈতৃক আইন পেশারই হয়তো চর্চা করতাম।
প্রথম আলো: একাধিকবার আপনার লেখায়, বক্তৃতায় বলেছেন আপনি গবেষণাকেই বেশি পছন্দ করেন। আর গবেষণা হচ্ছে একটা খেলার মতো, অনেকে হয়তো একই বিষয় নিয়ে কাজ করছে, কিন্তু সবার আগে যিনি কাজটা শেষ করতে পারবেন তিনিই বিজয়ী। এটা কি এখন মিস করেন?
কৌশিক বসু: আমার কাছে গবেষণাটা মনে হয়, এটা একটি লজিক। আমি এতে আগ্রহ পাই। অমর্ত্যদার গোড়ার কাজ ছিল পুরোপুরি লজিকনির্ভর। তিনি গাণিতিক লজিক ব্যবহার করতেন অর্থনীতিতে। এটা আমার প্যাশন। সেটা আমি উপভোগ করতাম এবং এখন মিস করি। তবে ভাগ্য ভালো যে বিশ্বব্যাংকে একটা বড় গবেষণা বিভাগ আছে। তারা আমার অধীনে। যদিও এমন নয় যে আমি তাদের সঙ্গে বসে গবেষণা করতে পারছি। আবার কিছু কিছু মানুষ আছেন, যাঁদের আমি শ্রদ্ধা করি, তাঁদের সঙ্গে কিন্তু আমি এখন কাজ করতে পারছি। এ জন্য ওয়াশিংটনকে ধন্যবাদ দেব। সম্প্রতি আমি জোসেফ স্টিগলিজের সঙ্গে কাজ করেছি। ইউরো জোন-সংকট কীভাবে ভালোভাবে মোকাবিলা করা যায়, তার একটি অংশ নিয়ে একটা পেপার লিখেছি। এখানেও আমরা আবার ‘গেম থিউরি’ ও গেম থিউরির লজিক ব্যবহার করেছি। তারপরেও বলব, গবেষণাকে আমি অনেক মিস করি এটাই সত্য।
প্রথম আলো: শুনেছি, আপনার কাজ প্রসঙ্গে আপনার মাকে নিয়েএকটা মজাদার স্মৃতি আছে?
কৌশিক বসু: এই অংশটা মজাদার। আমি লিখেছিও। আমার মা মারা যান ৯১ বছর বয়সে। শেষ দুই বছর মা শব্দ একটু গুলিয়ে ফেলতেন। একবার আমি কলকাতায় এসে মাকে বললাম যে একটা কনফারেন্সে যাচ্ছি। আর মাকে যেমন বাড়িয়ে-টাড়িয়ে বলতে হয় সে রকমভাবে খুশি করতে বললাম, সারা বিশ্বের বড় বড় ইকোনমিস্ট আসছেন। আমাকেও যেতে হবে। তারপর শুনি, মা কাকে যেন বলছে আমার ছেলে খুব ভালো করছে, একটা কনফারেন্সে যাচ্ছে, যেখানে সারা পৃথিবীর কমিউনিস্টরা আসবে।
প্রথম আলো: এবার একটু বাংলাদেশ প্রসঙ্গে আসি। আপনি ২২ বছর পর বাংলাদেশে এলেন। এসে অনেক প্রশংসাও করছেন। আপনার এত প্রশংসার ভিত্তি কী?
কৌশিক বসু: একটা বিষয় আছে যে নিজেদের লোকেরা অনেক বেশি সমালোচনা করেন। ভারতেও সেটা দেখি। এর মাধ্যমে সরকার বা নীতিনির্ধারকেরা কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়তে বাধ্য হন। এটা ভালো। তবে এখানে এসে আমার নিজের যা মনে হয়েছে সেটাই বলেছি। কেবল একজন বাঙালি বলে নয়, আমি ওয়াশিংটনে বসে পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখেছি। আমার ওখানে প্রসপ্রেক্টস গ্রুপ নামে একটি বিভাগ আছে। তাদের ডেকে আমি বাংলাদেশের তথ্য-উপাত্ত ঘাঁটছিলাম। তারাও আমাকে জানাল যে সাড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এখন খুব কম জায়গায়ই হচ্ছে। দক্ষিণ আমেরিকায় প্রবৃদ্ধি এখন ১ শতাংশেরও কম। ব্রাজিলে মাইনাস ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। ভেনেজুয়েলাতেও নেগেটিভ প্রবৃদ্ধি। জাপানে তৃতীয় প্রান্তিকে নেগেটিভ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ফিনল্যান্ডে আমি ছিলাম, তারই ভেতরে নেগেটিভ প্রবৃদ্ধির খবর এল। বিশ্বব্যাপী এ রকম এক মন্দার সময়ে সাড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অবশ্যই উল্লেখ করার মতো। এটা এখানকার লোকদেরও বোঝা দরকার। তাদেরও প্রশংসা করা উচিত। কার জন্য হচ্ছে সেটা জানি না, কিন্তু এটা অবশ্যই বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি।
আমাদের নিজস্ব প্রাক্কলন হচ্ছে আগামীবার বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ, যা হবে চীনের প্রবৃদ্ধির সমান। পাঁচ বা সাত বছর আগেও ভাবা যেত না যে প্রবৃদ্ধির দিক থেকে চীনের সঙ্গে পাল্লা দেবে বাংলাদেশ। ভারতের প্রবৃদ্ধি আরও বেশি হবে। বিশ্ব অর্থনীতির মানচিত্র কিন্তু অনেকটাই বদলে যাচ্ছে। আমি মনে করি, বাংলাদেশের মানুষের আশাবাদী হওয়ার কারণ আছে। আবার একটা কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই আশাবাদটা আমি দিতেও চাই। কারণ, এটা একসঙ্গে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগায়, উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগ্রহ জন্ম দেয়।
প্রথম আলো: বাংলাদেশের অর্থনীতির অগ্রগতির বাধা প্রসঙ্গে আপনি জঙ্গিবাদ নিয়ে সতর্ক থাকতে বলেছেন। রাজনৈতিক কিছু সমস্যার কথাও বলেছেন। একটু ব্যাখ্যা করবেন?
কৌশিক বসু: পৃথিবীর অনেক জায়গাতেই এখন রাজনৈতিক ঝুঁকি দেখা দিচ্ছে। আমরা বিশ্বব্যাংক থেকে ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে দেখছি যে বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম আরও কমে গেলে এর কিছু প্রভাব পড়বে। চীনের অর্থনীতির গতি শ্লথ হলে এর ফলাফল হবে। কিন্তু এখন রাজনৈতিক ঝুঁকিটাকেই উচ্চমাত্রায় বিবেচনা করা হচ্ছে। এই ঝুঁকি সব দেশের জন্যই। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে আলাদা কোনো জায়গায় নেই। কিন্তু অবশ্যই অনেক সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কমে যেতে পারে, যদি সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি থাকে। ভারতকে এ জন্য চিন্তা করতে হবে, বাংলাদেশকেও চিন্তা করতে হবে। সচেতন থাকতে হবে। তবে ভাগ্য ভালো, এখন পর্যন্ত যে পরিস্থিতি তা অত্যন্ত স্থিতিশীল। হ্যাঁ, কিছু ঘটনা তো ঘটেছেই। সব দেশেই তা হয়। তবে অবশ্যই যতটা সম্ভব তা কমানো যায়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। তবে আমি বলব, সাধারণ মানুষদের বুঝতে হবে যে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের যুদ্ধ কেবল সরকারকে দিয়ে হয় না। সাধারণ মানুষেরা যদি অনুভব করে যে সমাজ আগালেও সন্ত্রাসবাদ তা নষ্ট করে দিতে পারে,তাহলে সাধারণ মানুষদেরও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সেই যুদ্ধে যুক্ত হতে হবে। তাহলেই এর ঝুঁকি কমবে। সাধারণ মানুষের প্রতি আমার এটাই পরামর্শ। আর হ্যাঁ, দুর্নীতির মাত্রা নিয়ে মানুষেরা অনেক রেগে যায়। রাগার কথাও। তাই বলে পুরো দেশটাই যে নষ্ট হয়ে গেছে তা নয়। দুর্নীতিবাজদের ধরতে হবে, ব্যবস্থাও নিতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধের যুদ্ধটাও চালিয়ে যেতে হবে।
প্রথম আলো: গণতন্ত্রের সঙ্গে উন্নয়নের সম্পর্কটা তাহলে আপনি কীভাবে দেখেন?
কৌশিক বসু: আমার মতামত অমর্ত্যদার কাছাকাছি, তবে একদমই এক নয়। একনায়ক বা ‘ডিকটেটরিয়াল কন্ট্রোল’ যেসব দেশে আছে, সেখানে অভিজ্ঞতাটা বিভিন্ন রকমের দেখা গেছে। কোনো কোনো দেশ খুবই ভালো করছে, আবার পুরোপুরি বিপর্যয়ও হয়। সুতরাং এ ক্ষেত্রে ঝুঁকি ও বিপদ দুটোই।
এ ক্ষেত্রে প্রসঙ্গক্রমে বলে রাখি, আমার এই চাকরির একটা আনন্দ যে অনেক চমকপ্রদ মানুষের সঙ্গে দেখা হয়। নিকারাগুয়ার বিপ্লবী নেতা ও প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল ওর্তেগার সঙ্গে মানাগুয়াতে দেখা করেছিলাম। আমিই তাঁর সাক্ষাৎ চেয়েছিলাম। বলেছিলাম সামোজা সরকারের বিরুদ্ধে সান্দানিস্তাদের সংগ্রাম নিয়ে ছাত্রজীবনে আমার খুব আগ্রহ ছিল। এ কারণে সান্দানিস্তার সেই বিপ্লবী নেতার সঙ্গে কথা বলতে চাই। তারপর তাঁর সঙ্গে কথা হয়েছিল। নিকারাগুয়ায় একনায়ক সামোজা সরকারের সময়ে কিন্তু বিপর্যয় ঘটেছিল। পুরো দেশ বড় সংকটে পড়ে গিয়েছিল। এ রকম প্রচুর উদাহরণ আছে।
আবার কিছু কিছু দেশ আছে, যাদের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত শক্ত এবং তারা ভালো করছে। চীন এ রকম একটি বড় উদাহরণ। তাদের সরকার অনেক শক্তিশালী এবং করছেও অনেক ভালো। আরেকটি উদাহরণ সিঙ্গাপুর। কিন্তু যদি বেছে নিতে বলা হয়, তাহলে বেছে নেওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। সেটা ঠিক হবে না। কারণ, বেশির ভাগ সময় দেখা যায়, গণতন্ত্র ছাড়া শক্ত নিয়ন্ত্রণ পুরো দেশকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যায়। ১৯৬০ পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার প্রবৃদ্ধি মন্দ ছিল না। তারপরে তা বিশ্রী কাণ্ড হয়ে গেল।
আমি এ ব্যাপারে খুবই দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই যে গণতন্ত্রই একমাত্র কাঙ্ক্ষিত বিষয়। উন্নয়নের জন্য সরকার ও মানুষকে অবশ্যই গণতন্ত্রকে ধরে রাখতে হবে। গণতন্ত্রে অনেক সমস্যা আছে। প্রথমত, নীতি সংস্কার ঝটপট করা যায় না। ভারতে কাজ করে দেখেছি, সবারই একটা মতামত আছে। একটা নীতি বদল করতে গেলে চারদিক থেকে বিভিন্ন মতামত আসে। কিন্তু আমি তখন সরকারকে বলতাম, এটা একটা সমস্যা বটে কিন্তু এর মধ্যেই থাকতে হবে। আর মানুষকেও বলা, তাদেরও দায়িত্বপূর্ণ হতে হবে। সবকিছুতে বাধা দিয়ে সরকারকে থামিয়ে দিলে দেশ অচল হয়ে যাবে। গণতন্ত্র এমনই একটা জিনিস, যা আস্তে আস্তে পরিপক্ব হয়। আমি যখন স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোর দিকে তাকাই, তখন মনে হয় অনেক দিক থেকেই তাদের গণতন্ত্র অনেক পরিপক্ব। সেখানেও অনেক বিতর্ক হয়, সমালোচনা হয়। কিন্তু তারপরেও পুরো সমাজ তাতে অংশ নেয় এবং এর মধ্য দিয়ে সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। সুতরাং কোনো প্রশ্নই নেই যে গণতন্ত্রই হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত সরকারব্যবস্থা।
প্রথম আলো: আবার বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রসঙ্গে আসি। আপনি বাংলাদেশের বিনিয়োগ হারের প্রশংসা করেছেন। অথচ দেখছি বেসরকারি বিনিয়োগ ১০ বছর ধরেই এক জায়গায়, ২২ শতাংশে স্থির হয়ে আছে। সরকার নিজের বিনিয়োগ বাড়িয়ে সেটিকে জিডিপির ২৯ শতাংশে নিয়ে গেছে। যদিও এই বিনিয়োগের গুণগত মান নিয়ে বিশ্বব্যাংকেরই বড় ধরনের অভিযোগ আছে।
কৌশিক বসু: দেখুন, সাড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি কিন্তু যথেষ্ট ভালো। এটাও সত্যি, বাংলাদেশের পক্ষে ৮ শতাংশে যাওয়া সম্ভব। আমার তো ধারণা, বিনিয়োগের হার ৩২-৩৩ শতাংশে এসে গেলে প্রবৃদ্ধিও বেড়ে যাবে। এর মধ্যে যদিও বিশ্ব অর্থনীতির ওঠানামার সঙ্গে একটা সম্পর্ক থাকবেই। তবে দীর্ঘ মেয়াদে তা বাড়বে। আর সরকারি বিনিয়োগের কথা যা বললেন, ভারতেও কিন্তু তাই হয়েছে। ভারত বিনিয়োগের হার ৩০ শতাংশ অতিক্রম করল ২০০৩ সালে। তার চার-পাঁচ বছর আগ পর্যন্ত তা ২২-২৩ শতাংশে আটকে ছিল। এরপর চরচর করেগোটা কয়েক বছরে তা বেড়ে গেল। তখন সরকার সঞ্চয়ের ভূমিকায় চলে গেল, যা তারা আগে ছিল না। বাংলাদেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনা কিন্তু মোটামুটি ভালো হচ্ছে। সরকার সঞ্চয় না করে বিনিয়োগকারীর ভূমিকায়। বেশির ভাগ দেশও তাই করে। তবে এখানে যে জায়গায় মনোযোগ দিতে হবে, তা হচ্ছে বৈদেশিক বিনিয়োগ আরও আনতে হবে। এখন জিডিপির ১ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগ আসছে, তা খুব খারাপ নয়। কিন্তু এই হার আরও বাড়িয়ে ২ বা ৩ শতাংশে আনা যেতে পারে। এ জন্য অবশ্যই অবকাঠামোকে আরও ভালো করতে হবে। বাইরে থেকে যারা আসছে তারা বিদ্যুৎ চায়, রাস্তা চায়, পথটা দিয়ে তাড়াতাড়ি যেতে চায়, ব্যবসার পরিবেশ অনেক ভালো চায়। যাতে আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়াগুলো আরও দ্রুত হয়।
আমি যখন ভারতে কাজ করতাম, তখন আগে উপনিবেশ হিসেবে ছিল, এ রকম দেশগুলোর সঙ্গে অনেক কথা বলেছি। মনে আছে অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে অনেক সময় কাটাতাম। সবাই উত্তরাধিকারসূত্রে একই ব্যবস্থা পেয়েছি। বাংলাদেশও পেয়েছে। কিন্তু ব্রিটেন নিজে সংস্কার করেছে। ওদের ফাইল চলার গতি অনেক দ্রুত। অস্ট্রেলিয়াও প্রচুর সংস্কার করেছে। অথচ আমরা সেই ঔপনিবেশিক চর্চা বদলাতে পারিনি। সুতরাং আমাদের এদিক থেকে দ্রুত আগাতে হবে, যাতে ফাইল দ্রুত আগায়। নীতি বদল করে এটা করা যায়। আবার আমাদের আমলাদের দিকেও মনোযোগ দিতে হবে, যাতে তারাও দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় শামিল হয়। সুতরাং বলতে পারি, অবকাঠামোর যদি আরও উন্নতি করা যায়, আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তাহলে বিনিয়োগ বাড়বে। কারণ, এখানে সস্তা শ্রমের বড় আকর্ষণ আছে। চীনের সেই সুবিধা কিন্তু চলে গেছে। সেখানে মজুরি বেড়ে যাচ্ছে। ভারতে মজুরি বাংলাদেশের চেয়ে কিছু বেশি হলেও ভারত আরও কয়েক বছর এই সুবিধা পেতে থাকবে। চীন যে জায়গাটা ছাড়বে সেটি এত বড় যে ভারত তো খুব ভালোভাবেই পাবে, বাংলাদেশও পাবে। এ ক্ষেত্রে কোনো প্রতিযোগিতা হবে না। দুই দেশই বিশ্বকে দিয়ে যেতে পারবে।
প্রথম আলো: আপনি আমলাতন্ত্র বা দুর্নীতির যে কথা বলছেন তা সুশাসনের অংশ। আগে বিশ্বব্যাংক এ নিয়ে অনেক সোচ্চার ছিল। কিন্তু এখন আর তেমন শোনা যায় না। বিশেষ করে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বদলের পরে। আপনারা কি নীতির পরিবর্তন এনেছেন?
কৌশিক বসু: আমি তো তিন বছর ধরে বিশ্বব্যাংকে আছি। এমন তো মনে হয় না। আমরা যে ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট তৈরি করি, তার পরেরটা বের হচ্ছে ‘ডিজিটাল টেকনোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ নামে। এটি বের হবে আগামী জানুয়ারিতে। পরেরটি বের হবে ‘গভর্ন্যান্স অ্যান্ড রুল অব ল’ শিরোনামে। আমরা জানি, এটা নিয়ে রাজনৈতিকভাবে বিতর্ক তৈরি হবে। এখানে দুর্নীতির ওপর আলোচনা থাকবে, সরকার পরিচালনা নিয়ে আলোচনা থাকবে। আর আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা যখন সরকার পরিচালনা ও দুর্নীতি নিয়ে করা হয়, তখন বুঝতে হবে এ নিয়ে যথেষ্ট মনোযোগ দিচ্ছি।
প্রথম আলো: বাংলাদেশ উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ হতে চায়। ৭ বা ৮ শতাংশে প্রবৃদ্ধি বাড়াতে চায়। এ ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত করা বাংলাদেশের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
কৌশিক বসু: ভালোভাবে শাসন পরিচালনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর প্রবৃদ্ধির কথা বলতে পারি, এটা কম-বেশি ‘অটো পাইলটের’ মতো করে চলবে। আর যেটা বললাম, অবকাঠামো আর আমলাতন্ত্র কমালে প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ হতে পারবে। কিন্তু সুশাসন এমন একটা বিষয়, যেখানে সাধারণ মানুষ অনেক স্বস্তি বোধ করে। কিন্তু কাজটা অত্যন্ত কঠিন। আমরা যে বলি সুশাসন বাড়াও, এটা আসলে খুবই জটিল প্রক্রিয়া। চাইলেও অনেক সময় করা যায় না। আমি যখন ভারতে কাজ করতাম, দেখতাম অনেক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী কাজটা করতে চায়। কিন্তু কোথা থেকে শুরু করবে, সেটাই বুঝতেন না। আমরা আশা করছি, কীভাবে সরকার পরিচালনার মান বাড়ানো যায়, তা নিয়ে আমাদের পরবর্তী রিপোর্টে অনেক আইডিয়া দিতে পারব।
প্রথম আলো: একটু প্রসঙ্গ বদল করি। প্রশ্নটা আঞ্চলিক সহযোগিতা ও ট্রানজিট নিয়ে। এটা আমরা সবাই চাই। কিন্তু একটি সাধারণ ধারণা হচ্ছে, ভারত যা চায় তাই পাচ্ছে, বাংলাদেশের প্রাপ্তি কম। এ ধারণা থেকে সাধারণ মানুষদের বের করার উপায় কী?
কৌশিক বসু: দেখুন, এটা হতে বাধ্য। একটা বড় দেশের সঙ্গে যখন লেনদেন হয়, তখন মনেই হয় যে বড় দেশটিই বেশি পাচ্ছে। ভারত যখন আমেরিকার সঙ্গে কোনো চুক্তি করে, তখন ভারতেও বলা হয় আমেরিকা বড় অংশটাই পেল, ভারত পেল না। একটা কথা অবশ্যই বলব যে নিজের স্বার্থ নিজেকেই দেখতে হবে। যখন আরেক দেশের সঙ্গে একটা ডিল বা চুক্তি করা হয়, তখন সে নিজের স্বার্থ দেখছে, বাংলাদেশ দেখছে তারটা। তবে দুটো দিকই ভুল আছে। লোকেরা ধরে নেয়, যাকে আমরা অর্থনীতির ভাষায় বলি ‘জিরো সাম গেম’, ওর লাভ হওয়া মানে আমার ক্ষতি হচ্ছে। সুতরাং যে-ই দেখা গেল একটা ডিল হওয়ার পর ভারতে সবাই উৎসব করছে, তখন তুলনামূলক আরেকটি ছোট দেশের মনে হবে ওরা উৎসব করছে মানে তাদের ক্ষতি হয়ে গেল। এটা ঠিক নয়। অর্থনীতিতে এমন অনেক ডিল আছে, যা থেকে উভয় দেশই লাভবান হয়েছে। সত্যি কথা বলতে, ভালোভাবে চুক্তি করতে পারলে তা উভয়ের জন্য ভালো হয়। ভারত যখন আরেক দেশের সঙ্গে চুক্তি করতে যাবে, তখন প্রধানত দেখা হয় কী লাভ হবে। কারণ, কেউ তো চ্যারিটি করতে যায় না। বাংলাদেশও দেখবে তাদের জন্য কী লাভ থাকবে। এই যে আঞ্চলিক সহযোগিতা বা ট্রানজিট—এ থেকে কারোরই ক্ষতি নেই। মেধাভিত্তিক সামর্থ্য দুটো দেশেরই যথেষ্ট আছে। আমি সত্যিই মনে করি, ভারতের সঙ্গে খুব ভালোভাবে আলোচনা করার সক্ষমতা বাংলাদেশের আছে। এই পরামর্শ আমি সবাইকে দিই না, বিশেষ করে যাদের সেই সক্ষমতা নেই। বরং তাদের বলি, বহুজাতিক কারও সঙ্গে ডিল করবে খুব সাবধানে। একটা খারাপ চুক্তি করলে সারা জীবন পস্তাতে হবে। কিন্তু ভারত ও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা নয়। দুই দেশেরই সামর্থ্য আছে। আর সম্প্রতি যে চুক্তিগুলো হয়েছে, আমি তো মনে করি, তা থেকে উভয় দেশের জন্যই সুবিধা পাওয়ার অনেক সুযোগ আছে, সুবিধা পাবেও।
প্রথম আলো: পদ্মা সেতুর পুরো ঘটনা নিয়ে বিশ্বব্যাংক কী শিক্ষা পেল?
কৌশিক বসু: কী শিক্ষা পেলাম জানি না। তবে এইটুকু জানি, ইতিহাস যা-ই হোক না কেন, হতে পারে ওই ইতিহাসটির কারণেই ফল যেটা এসেছে, সেটি খুবই ভালো হয়েছে। এই ফল হয়তো হতো না, যদি ওই ঘটনা না ঘটত। আমি বলছি না যে আবার ওই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হোক, তবে নিজে থেকে পদ্মা সেতু করার কথা কিন্তু সাত-আট বছর আগে ভাবাও যেত না। এটা হচ্ছে শেষ পাঁচ-ছয় বছরের ব্যাপার। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার যে রিজার্ভ, ২০০৯-এ ছিল ৮ বিলিয়ন। এখন ২৭ বিলিয়ন। সুতরাং বাংলাদেশ এখন যা পারে, তা সাত-আট বছর আগেও ভাবতে পারত না। আমার কাছে মনে হয়, একটা দেশ করতে পারে এবং করে দেখাচ্ছে। আর আমি আশা করছি, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও ভালো সংযোগ তৈরি হবে এবং সেটি হবে পার্টনারশিপের ভিত্তিতে। আর আশা করি, আমি অন্তত যত দিন এখানে আছি, আমি সাহায্য করব যাতে পার্টনারশিপ আরও ভালো হয়।
প্রথম আলো: কিন্তু পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংক যে অভিযোগ তুলেছিল, তার তো সুরাহা হয়নি। দুর্নীতির ইচ্ছার অভিযোগটা থেকেই গেল। এতে কি দেশের ভাবমূর্তির সংকট হবে?
কৌশিক বসু: ভবিষ্যতে ভাবমূর্তির কোনো ক্ষতি আছে বলে আমার মনে হয় না। তবে দুর্নীতি এমনই একটা বিষয়, যা প্রতিটা দেশকেই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। দুর্নীতি কমানোর পরামর্শ তো আমি সব উন্নয়নশীল দেশকেই দেব।
প্রথম আলো: সব দেশ মিলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বা এসডিজি গ্রহণ করেছে। এর লক্ষ্যগুলো উচ্চাভিলাষী এবং বাস্তবায়নে অর্থায়ন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংকের কী ভূমিকা থাকবে?
কৌশিক বসু: এটা এখনো একটি ওপেন কোশ্চেন হয়ে আছে। যেটাতে আমাদের সামর্থ্য সেটা হলো, এসডিজির গোটা কতক লক্ষ্য আমরা পরিসংখ্যানের দিক থেকে নিয়মিত নজর রাখব। এই কাজে বিশ্বব্যাংক খুবই ভালো। এই যে দারিদ্র্য বিমোচন নিয়ে আমরা প্রচুর সমালোচনা পাই বটে, কিন্তু বিশ্বব্যাংকের যে গ্রুপ এ নিয়ে কাজ করে, তারা অত্যন্ত দক্ষ। এটা আগে আমি জানতাম না, এখানে এসে দেখি, এ কাজে তারা আসলেই অনেক দক্ষ। কাজটা অত্যন্ত জটিল। এখন সারা পৃথিবীর দারিদ্র্য হার গণনা করা হচ্ছে, যেটাকে আমরা ‘পভক্যালনেট’ বলি, এটা খুব ভালোভাবে করা হয়। আমি আশাবাদী যে এসডিজির বিভিন্ন লক্ষ্যের মধ্যে গোটা কয়েকের ক্ষেত্রে এর তথ্য ও উপাত্ত ব্যবস্থাপনায় বিশ্বব্যাংক কেন্দ্রীয়ভাবে দায়িত্ব নেবে। তবে এটাতে রাজনৈতিক একটা ব্যাপার এসেই যায়। কারণ, কিছু উপাত্ত নিয়ে লোকজন এদিক-সেদিক করতে চায়। আশা করছি বিশ্বব্যাংক একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
আর আমি একটা কমিশন গঠন করেছি। আমাদের যে দারিদ্র্য নিরূপণ হয় সেটিকে আরেক ধাপ এগিয়ে নিতে এই কমিশন। সেটার প্রধান হচ্ছেন খুব বড় একজন অর্থনীতিবিদ, টনি অ্যাটকিনসন। কমিটির উপদেষ্টাদের মধ্যে অমর্ত্য সেন আছেন। আমরা যে এখন কেবল দারিদ্র্য হার পরিমাপ করি, সেখান থেকে আরও বৃহত্তর জায়গা থেকে কী করতে পারি, তা নিয়ে কমিশন আমাদের সুপারিশ করবে। দেখেন, ভারতের দারিদ্র্য হার বাংলাদেশের চেয়ে কম। অথচ অনেক সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে। দারিদ্র্য হার তো শুধু টাকা দিয়ে পরিমাপ করার বিষয় নয়। দারিদ্র্যকে আরও বহুমাত্রিক জায়গা থেকে দেখতে হবে। দারিদ্র্য কেবল ক্রয়ক্ষমতা দিয়ে পরিমাপ করা উচিত নয়। এ কমিশন এসব নিয়েই কাজ করছে। রিপোর্টটি পেতে মে-জুন হয়ে যাবে। রিপোর্টটি পেলে এটা আমরা এসডিজির সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহার করব এবং আমাদের কাজটা কী হবে, তাও ঠিক করব তখন।
প্রথম আলো: বিশ্বব্যাংকে ধনী দেশগুলোর কণ্ঠ অনেক বেশি জোরালো, তাদের ভোটাধিকারও বেশি। আপনি আমাদের মতো একটি দেশ থেকে বিশ্বব্যাংকে আছেন। এ বিষয়ে কিছু কি করার আছে আপনার?
কৌশিক বসু: এটা সত্যি যে ধনী দেশগুলোর কণ্ঠ এখানে অনেক বেশি। কিন্তু যেসব দেশের উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা কিছুটা ভালো, সে দেশের অনেক মানুষ এখন বিশ্বব্যাংকে কাজ করে। এটা ঠিক যে এসব দেশের ভোটের ক্ষমতা খুবই কম। কিন্তু এখন বিশ্বব্যাংকে কাজ করে প্রচুর ভারতীয়, প্রচুর বাংলাদেশি। এদের উপস্থিতির মাধ্যমে কিন্তু ওই দেশগুলো তাদের কণ্ঠ বাড়াতে পারছে। কারণ, তাদের নিজের দেশের প্রতি একধরনের সম্পৃক্ততা কিন্তু তাদের ভেতর থেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করে। এই সুবিধা কিন্তু সাব-সাহারান আফ্রিকার দেশগুলোর নেই।
প্রথম আলো: আপনাকে ধন্যবাদ।
কৌশিক বসু: আপনাকেও ধন্যবাদ।
প্রথম আলো: আপনি যখন অর্থনীতিবিদ ছিলেন, তখন একরকমভাবে বিশ্বব্যাংককে দেখেছেন, হয়তো সমালোচনাও করেছেন। আবার প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করার সময় আরেকভাবে দেখেছেন। এখন আপনি নিজেই বিশ্বব্যাংকে কাজ করছেন। অভিজ্ঞতাগুলো কী রকম?
কৌশিক বসু: আমি জানি, বিশ্বব্যাংক বিশাল একটি বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান। এর ভেতরে তার একটি রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে। আমি যখন ভারতে কাজ করি, তখন কিন্তু বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আমার অনেক কথাই হতো। আমি অনেক কিছু জানতে চাইতাম। ব্রাজিলে একটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা কীভাবে হয়েছে, সেটা জানতে চাইতাম। এ ব্যাপারে আমার পরিষ্কার ধারণা ছিল যে এটা একটা অনেক বড় কার্যকরী প্রতিষ্ঠান এবং আমি তাদের সঙ্গে সেই সম্পর্কটাই রাখব।
প্রথম আলো: ক্যারিয়ারের শুরুতে কখনো বিশ্বব্যাংকে কাজ করতে চাননি?
কৌশিক বসু: বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে কিন্তু আমার প্রথম কথাবার্তা হয়েছিল আরও আগে, যখন আমি পিএইচডি শেষ করি। বিশ্বব্যাংকে ইয়াং প্রফেশনাল নামে একটি কর্মসূচি আছে, সেখানে গেলে সারা জীবনের জন্য চাকরি হয়ে যায়। আমি আবেদন করলাম। ইন্টারভিউতে ডাকল। শেষ রাউন্ডের ইন্টারভিউ হলো প্যারিসে। বিশ্বব্যাংকের চাকরি বলে আমার বাবা-মা খুব উত্তেজনার মধ্যে ছিলেন। আমি যদিও খুব বেশি উত্তেজনার মধ্যে ছিলাম না। পেলে ভালো, না পেলে না। চাকরি কিন্তু পেলাম না। পাস করতে পারলাম না শেষ ইন্টারভিউতে। আমি এখন সত্যি মনে করি, জীবনের কিছু কিছু ব্যর্থতা আশীর্বাদও হয়।
আমি আপাদমস্তক একজন গবেষক। যদি বিশ্বব্যাংকের ওই চাকরিতে চলে যেতাম, তাহলে এটা আর হতো না। তাহলে পুরো চাকরিজীবন আমার আরেক ধরনের হতো। আমি যা করেছি সত্যিই আমি উপভোগ করতাম। আমার কাছে পেপার লেখা বা ক্লাসরুম লেকচার দেওয়া সত্যি দারুণ আনন্দদায়ক। আমি আমার নিজে ছেলেমেয়েদেরও বলি যে আমি ভাগ্যবান। কারণ, আমি যা করতে ভালোবাসি, তা করতে পেরেছি। একটা চাকরি ভাগ্যে পাইনি, আর আইনটা যদি পড়তাম, তাহলে কলকাতাতেই থেকে যেতাম, পৈতৃক আইন পেশারই হয়তো চর্চা করতাম।
প্রথম আলো: একাধিকবার আপনার লেখায়, বক্তৃতায় বলেছেন আপনি গবেষণাকেই বেশি পছন্দ করেন। আর গবেষণা হচ্ছে একটা খেলার মতো, অনেকে হয়তো একই বিষয় নিয়ে কাজ করছে, কিন্তু সবার আগে যিনি কাজটা শেষ করতে পারবেন তিনিই বিজয়ী। এটা কি এখন মিস করেন?
কৌশিক বসু: আমার কাছে গবেষণাটা মনে হয়, এটা একটি লজিক। আমি এতে আগ্রহ পাই। অমর্ত্যদার গোড়ার কাজ ছিল পুরোপুরি লজিকনির্ভর। তিনি গাণিতিক লজিক ব্যবহার করতেন অর্থনীতিতে। এটা আমার প্যাশন। সেটা আমি উপভোগ করতাম এবং এখন মিস করি। তবে ভাগ্য ভালো যে বিশ্বব্যাংকে একটা বড় গবেষণা বিভাগ আছে। তারা আমার অধীনে। যদিও এমন নয় যে আমি তাদের সঙ্গে বসে গবেষণা করতে পারছি। আবার কিছু কিছু মানুষ আছেন, যাঁদের আমি শ্রদ্ধা করি, তাঁদের সঙ্গে কিন্তু আমি এখন কাজ করতে পারছি। এ জন্য ওয়াশিংটনকে ধন্যবাদ দেব। সম্প্রতি আমি জোসেফ স্টিগলিজের সঙ্গে কাজ করেছি। ইউরো জোন-সংকট কীভাবে ভালোভাবে মোকাবিলা করা যায়, তার একটি অংশ নিয়ে একটা পেপার লিখেছি। এখানেও আমরা আবার ‘গেম থিউরি’ ও গেম থিউরির লজিক ব্যবহার করেছি। তারপরেও বলব, গবেষণাকে আমি অনেক মিস করি এটাই সত্য।
প্রথম আলো: শুনেছি, আপনার কাজ প্রসঙ্গে আপনার মাকে নিয়েএকটা মজাদার স্মৃতি আছে?
কৌশিক বসু: এই অংশটা মজাদার। আমি লিখেছিও। আমার মা মারা যান ৯১ বছর বয়সে। শেষ দুই বছর মা শব্দ একটু গুলিয়ে ফেলতেন। একবার আমি কলকাতায় এসে মাকে বললাম যে একটা কনফারেন্সে যাচ্ছি। আর মাকে যেমন বাড়িয়ে-টাড়িয়ে বলতে হয় সে রকমভাবে খুশি করতে বললাম, সারা বিশ্বের বড় বড় ইকোনমিস্ট আসছেন। আমাকেও যেতে হবে। তারপর শুনি, মা কাকে যেন বলছে আমার ছেলে খুব ভালো করছে, একটা কনফারেন্সে যাচ্ছে, যেখানে সারা পৃথিবীর কমিউনিস্টরা আসবে।
প্রথম আলো: এবার একটু বাংলাদেশ প্রসঙ্গে আসি। আপনি ২২ বছর পর বাংলাদেশে এলেন। এসে অনেক প্রশংসাও করছেন। আপনার এত প্রশংসার ভিত্তি কী?
কৌশিক বসু: একটা বিষয় আছে যে নিজেদের লোকেরা অনেক বেশি সমালোচনা করেন। ভারতেও সেটা দেখি। এর মাধ্যমে সরকার বা নীতিনির্ধারকেরা কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়তে বাধ্য হন। এটা ভালো। তবে এখানে এসে আমার নিজের যা মনে হয়েছে সেটাই বলেছি। কেবল একজন বাঙালি বলে নয়, আমি ওয়াশিংটনে বসে পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখেছি। আমার ওখানে প্রসপ্রেক্টস গ্রুপ নামে একটি বিভাগ আছে। তাদের ডেকে আমি বাংলাদেশের তথ্য-উপাত্ত ঘাঁটছিলাম। তারাও আমাকে জানাল যে সাড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এখন খুব কম জায়গায়ই হচ্ছে। দক্ষিণ আমেরিকায় প্রবৃদ্ধি এখন ১ শতাংশেরও কম। ব্রাজিলে মাইনাস ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। ভেনেজুয়েলাতেও নেগেটিভ প্রবৃদ্ধি। জাপানে তৃতীয় প্রান্তিকে নেগেটিভ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ফিনল্যান্ডে আমি ছিলাম, তারই ভেতরে নেগেটিভ প্রবৃদ্ধির খবর এল। বিশ্বব্যাপী এ রকম এক মন্দার সময়ে সাড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অবশ্যই উল্লেখ করার মতো। এটা এখানকার লোকদেরও বোঝা দরকার। তাদেরও প্রশংসা করা উচিত। কার জন্য হচ্ছে সেটা জানি না, কিন্তু এটা অবশ্যই বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি।
আমাদের নিজস্ব প্রাক্কলন হচ্ছে আগামীবার বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ, যা হবে চীনের প্রবৃদ্ধির সমান। পাঁচ বা সাত বছর আগেও ভাবা যেত না যে প্রবৃদ্ধির দিক থেকে চীনের সঙ্গে পাল্লা দেবে বাংলাদেশ। ভারতের প্রবৃদ্ধি আরও বেশি হবে। বিশ্ব অর্থনীতির মানচিত্র কিন্তু অনেকটাই বদলে যাচ্ছে। আমি মনে করি, বাংলাদেশের মানুষের আশাবাদী হওয়ার কারণ আছে। আবার একটা কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই আশাবাদটা আমি দিতেও চাই। কারণ, এটা একসঙ্গে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগায়, উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগ্রহ জন্ম দেয়।
প্রথম আলো: বাংলাদেশের অর্থনীতির অগ্রগতির বাধা প্রসঙ্গে আপনি জঙ্গিবাদ নিয়ে সতর্ক থাকতে বলেছেন। রাজনৈতিক কিছু সমস্যার কথাও বলেছেন। একটু ব্যাখ্যা করবেন?
কৌশিক বসু: পৃথিবীর অনেক জায়গাতেই এখন রাজনৈতিক ঝুঁকি দেখা দিচ্ছে। আমরা বিশ্বব্যাংক থেকে ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে দেখছি যে বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম আরও কমে গেলে এর কিছু প্রভাব পড়বে। চীনের অর্থনীতির গতি শ্লথ হলে এর ফলাফল হবে। কিন্তু এখন রাজনৈতিক ঝুঁকিটাকেই উচ্চমাত্রায় বিবেচনা করা হচ্ছে। এই ঝুঁকি সব দেশের জন্যই। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে আলাদা কোনো জায়গায় নেই। কিন্তু অবশ্যই অনেক সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কমে যেতে পারে, যদি সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি থাকে। ভারতকে এ জন্য চিন্তা করতে হবে, বাংলাদেশকেও চিন্তা করতে হবে। সচেতন থাকতে হবে। তবে ভাগ্য ভালো, এখন পর্যন্ত যে পরিস্থিতি তা অত্যন্ত স্থিতিশীল। হ্যাঁ, কিছু ঘটনা তো ঘটেছেই। সব দেশেই তা হয়। তবে অবশ্যই যতটা সম্ভব তা কমানো যায়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। তবে আমি বলব, সাধারণ মানুষদের বুঝতে হবে যে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের যুদ্ধ কেবল সরকারকে দিয়ে হয় না। সাধারণ মানুষেরা যদি অনুভব করে যে সমাজ আগালেও সন্ত্রাসবাদ তা নষ্ট করে দিতে পারে,তাহলে সাধারণ মানুষদেরও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সেই যুদ্ধে যুক্ত হতে হবে। তাহলেই এর ঝুঁকি কমবে। সাধারণ মানুষের প্রতি আমার এটাই পরামর্শ। আর হ্যাঁ, দুর্নীতির মাত্রা নিয়ে মানুষেরা অনেক রেগে যায়। রাগার কথাও। তাই বলে পুরো দেশটাই যে নষ্ট হয়ে গেছে তা নয়। দুর্নীতিবাজদের ধরতে হবে, ব্যবস্থাও নিতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধের যুদ্ধটাও চালিয়ে যেতে হবে।
প্রথম আলো: গণতন্ত্রের সঙ্গে উন্নয়নের সম্পর্কটা তাহলে আপনি কীভাবে দেখেন?
কৌশিক বসু: আমার মতামত অমর্ত্যদার কাছাকাছি, তবে একদমই এক নয়। একনায়ক বা ‘ডিকটেটরিয়াল কন্ট্রোল’ যেসব দেশে আছে, সেখানে অভিজ্ঞতাটা বিভিন্ন রকমের দেখা গেছে। কোনো কোনো দেশ খুবই ভালো করছে, আবার পুরোপুরি বিপর্যয়ও হয়। সুতরাং এ ক্ষেত্রে ঝুঁকি ও বিপদ দুটোই।
এ ক্ষেত্রে প্রসঙ্গক্রমে বলে রাখি, আমার এই চাকরির একটা আনন্দ যে অনেক চমকপ্রদ মানুষের সঙ্গে দেখা হয়। নিকারাগুয়ার বিপ্লবী নেতা ও প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল ওর্তেগার সঙ্গে মানাগুয়াতে দেখা করেছিলাম। আমিই তাঁর সাক্ষাৎ চেয়েছিলাম। বলেছিলাম সামোজা সরকারের বিরুদ্ধে সান্দানিস্তাদের সংগ্রাম নিয়ে ছাত্রজীবনে আমার খুব আগ্রহ ছিল। এ কারণে সান্দানিস্তার সেই বিপ্লবী নেতার সঙ্গে কথা বলতে চাই। তারপর তাঁর সঙ্গে কথা হয়েছিল। নিকারাগুয়ায় একনায়ক সামোজা সরকারের সময়ে কিন্তু বিপর্যয় ঘটেছিল। পুরো দেশ বড় সংকটে পড়ে গিয়েছিল। এ রকম প্রচুর উদাহরণ আছে।
আবার কিছু কিছু দেশ আছে, যাদের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত শক্ত এবং তারা ভালো করছে। চীন এ রকম একটি বড় উদাহরণ। তাদের সরকার অনেক শক্তিশালী এবং করছেও অনেক ভালো। আরেকটি উদাহরণ সিঙ্গাপুর। কিন্তু যদি বেছে নিতে বলা হয়, তাহলে বেছে নেওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। সেটা ঠিক হবে না। কারণ, বেশির ভাগ সময় দেখা যায়, গণতন্ত্র ছাড়া শক্ত নিয়ন্ত্রণ পুরো দেশকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যায়। ১৯৬০ পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার প্রবৃদ্ধি মন্দ ছিল না। তারপরে তা বিশ্রী কাণ্ড হয়ে গেল।
আমি এ ব্যাপারে খুবই দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই যে গণতন্ত্রই একমাত্র কাঙ্ক্ষিত বিষয়। উন্নয়নের জন্য সরকার ও মানুষকে অবশ্যই গণতন্ত্রকে ধরে রাখতে হবে। গণতন্ত্রে অনেক সমস্যা আছে। প্রথমত, নীতি সংস্কার ঝটপট করা যায় না। ভারতে কাজ করে দেখেছি, সবারই একটা মতামত আছে। একটা নীতি বদল করতে গেলে চারদিক থেকে বিভিন্ন মতামত আসে। কিন্তু আমি তখন সরকারকে বলতাম, এটা একটা সমস্যা বটে কিন্তু এর মধ্যেই থাকতে হবে। আর মানুষকেও বলা, তাদেরও দায়িত্বপূর্ণ হতে হবে। সবকিছুতে বাধা দিয়ে সরকারকে থামিয়ে দিলে দেশ অচল হয়ে যাবে। গণতন্ত্র এমনই একটা জিনিস, যা আস্তে আস্তে পরিপক্ব হয়। আমি যখন স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোর দিকে তাকাই, তখন মনে হয় অনেক দিক থেকেই তাদের গণতন্ত্র অনেক পরিপক্ব। সেখানেও অনেক বিতর্ক হয়, সমালোচনা হয়। কিন্তু তারপরেও পুরো সমাজ তাতে অংশ নেয় এবং এর মধ্য দিয়ে সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। সুতরাং কোনো প্রশ্নই নেই যে গণতন্ত্রই হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত সরকারব্যবস্থা।
প্রথম আলো: আবার বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রসঙ্গে আসি। আপনি বাংলাদেশের বিনিয়োগ হারের প্রশংসা করেছেন। অথচ দেখছি বেসরকারি বিনিয়োগ ১০ বছর ধরেই এক জায়গায়, ২২ শতাংশে স্থির হয়ে আছে। সরকার নিজের বিনিয়োগ বাড়িয়ে সেটিকে জিডিপির ২৯ শতাংশে নিয়ে গেছে। যদিও এই বিনিয়োগের গুণগত মান নিয়ে বিশ্বব্যাংকেরই বড় ধরনের অভিযোগ আছে।
কৌশিক বসু: দেখুন, সাড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি কিন্তু যথেষ্ট ভালো। এটাও সত্যি, বাংলাদেশের পক্ষে ৮ শতাংশে যাওয়া সম্ভব। আমার তো ধারণা, বিনিয়োগের হার ৩২-৩৩ শতাংশে এসে গেলে প্রবৃদ্ধিও বেড়ে যাবে। এর মধ্যে যদিও বিশ্ব অর্থনীতির ওঠানামার সঙ্গে একটা সম্পর্ক থাকবেই। তবে দীর্ঘ মেয়াদে তা বাড়বে। আর সরকারি বিনিয়োগের কথা যা বললেন, ভারতেও কিন্তু তাই হয়েছে। ভারত বিনিয়োগের হার ৩০ শতাংশ অতিক্রম করল ২০০৩ সালে। তার চার-পাঁচ বছর আগ পর্যন্ত তা ২২-২৩ শতাংশে আটকে ছিল। এরপর চরচর করেগোটা কয়েক বছরে তা বেড়ে গেল। তখন সরকার সঞ্চয়ের ভূমিকায় চলে গেল, যা তারা আগে ছিল না। বাংলাদেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনা কিন্তু মোটামুটি ভালো হচ্ছে। সরকার সঞ্চয় না করে বিনিয়োগকারীর ভূমিকায়। বেশির ভাগ দেশও তাই করে। তবে এখানে যে জায়গায় মনোযোগ দিতে হবে, তা হচ্ছে বৈদেশিক বিনিয়োগ আরও আনতে হবে। এখন জিডিপির ১ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগ আসছে, তা খুব খারাপ নয়। কিন্তু এই হার আরও বাড়িয়ে ২ বা ৩ শতাংশে আনা যেতে পারে। এ জন্য অবশ্যই অবকাঠামোকে আরও ভালো করতে হবে। বাইরে থেকে যারা আসছে তারা বিদ্যুৎ চায়, রাস্তা চায়, পথটা দিয়ে তাড়াতাড়ি যেতে চায়, ব্যবসার পরিবেশ অনেক ভালো চায়। যাতে আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়াগুলো আরও দ্রুত হয়।
আমি যখন ভারতে কাজ করতাম, তখন আগে উপনিবেশ হিসেবে ছিল, এ রকম দেশগুলোর সঙ্গে অনেক কথা বলেছি। মনে আছে অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে অনেক সময় কাটাতাম। সবাই উত্তরাধিকারসূত্রে একই ব্যবস্থা পেয়েছি। বাংলাদেশও পেয়েছে। কিন্তু ব্রিটেন নিজে সংস্কার করেছে। ওদের ফাইল চলার গতি অনেক দ্রুত। অস্ট্রেলিয়াও প্রচুর সংস্কার করেছে। অথচ আমরা সেই ঔপনিবেশিক চর্চা বদলাতে পারিনি। সুতরাং আমাদের এদিক থেকে দ্রুত আগাতে হবে, যাতে ফাইল দ্রুত আগায়। নীতি বদল করে এটা করা যায়। আবার আমাদের আমলাদের দিকেও মনোযোগ দিতে হবে, যাতে তারাও দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় শামিল হয়। সুতরাং বলতে পারি, অবকাঠামোর যদি আরও উন্নতি করা যায়, আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তাহলে বিনিয়োগ বাড়বে। কারণ, এখানে সস্তা শ্রমের বড় আকর্ষণ আছে। চীনের সেই সুবিধা কিন্তু চলে গেছে। সেখানে মজুরি বেড়ে যাচ্ছে। ভারতে মজুরি বাংলাদেশের চেয়ে কিছু বেশি হলেও ভারত আরও কয়েক বছর এই সুবিধা পেতে থাকবে। চীন যে জায়গাটা ছাড়বে সেটি এত বড় যে ভারত তো খুব ভালোভাবেই পাবে, বাংলাদেশও পাবে। এ ক্ষেত্রে কোনো প্রতিযোগিতা হবে না। দুই দেশই বিশ্বকে দিয়ে যেতে পারবে।
প্রথম আলো: আপনি আমলাতন্ত্র বা দুর্নীতির যে কথা বলছেন তা সুশাসনের অংশ। আগে বিশ্বব্যাংক এ নিয়ে অনেক সোচ্চার ছিল। কিন্তু এখন আর তেমন শোনা যায় না। বিশেষ করে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বদলের পরে। আপনারা কি নীতির পরিবর্তন এনেছেন?
কৌশিক বসু: আমি তো তিন বছর ধরে বিশ্বব্যাংকে আছি। এমন তো মনে হয় না। আমরা যে ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট তৈরি করি, তার পরেরটা বের হচ্ছে ‘ডিজিটাল টেকনোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ নামে। এটি বের হবে আগামী জানুয়ারিতে। পরেরটি বের হবে ‘গভর্ন্যান্স অ্যান্ড রুল অব ল’ শিরোনামে। আমরা জানি, এটা নিয়ে রাজনৈতিকভাবে বিতর্ক তৈরি হবে। এখানে দুর্নীতির ওপর আলোচনা থাকবে, সরকার পরিচালনা নিয়ে আলোচনা থাকবে। আর আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা যখন সরকার পরিচালনা ও দুর্নীতি নিয়ে করা হয়, তখন বুঝতে হবে এ নিয়ে যথেষ্ট মনোযোগ দিচ্ছি।
প্রথম আলো: বাংলাদেশ উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ হতে চায়। ৭ বা ৮ শতাংশে প্রবৃদ্ধি বাড়াতে চায়। এ ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত করা বাংলাদেশের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
কৌশিক বসু: ভালোভাবে শাসন পরিচালনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর প্রবৃদ্ধির কথা বলতে পারি, এটা কম-বেশি ‘অটো পাইলটের’ মতো করে চলবে। আর যেটা বললাম, অবকাঠামো আর আমলাতন্ত্র কমালে প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ হতে পারবে। কিন্তু সুশাসন এমন একটা বিষয়, যেখানে সাধারণ মানুষ অনেক স্বস্তি বোধ করে। কিন্তু কাজটা অত্যন্ত কঠিন। আমরা যে বলি সুশাসন বাড়াও, এটা আসলে খুবই জটিল প্রক্রিয়া। চাইলেও অনেক সময় করা যায় না। আমি যখন ভারতে কাজ করতাম, দেখতাম অনেক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী কাজটা করতে চায়। কিন্তু কোথা থেকে শুরু করবে, সেটাই বুঝতেন না। আমরা আশা করছি, কীভাবে সরকার পরিচালনার মান বাড়ানো যায়, তা নিয়ে আমাদের পরবর্তী রিপোর্টে অনেক আইডিয়া দিতে পারব।
প্রথম আলো: একটু প্রসঙ্গ বদল করি। প্রশ্নটা আঞ্চলিক সহযোগিতা ও ট্রানজিট নিয়ে। এটা আমরা সবাই চাই। কিন্তু একটি সাধারণ ধারণা হচ্ছে, ভারত যা চায় তাই পাচ্ছে, বাংলাদেশের প্রাপ্তি কম। এ ধারণা থেকে সাধারণ মানুষদের বের করার উপায় কী?
কৌশিক বসু: দেখুন, এটা হতে বাধ্য। একটা বড় দেশের সঙ্গে যখন লেনদেন হয়, তখন মনেই হয় যে বড় দেশটিই বেশি পাচ্ছে। ভারত যখন আমেরিকার সঙ্গে কোনো চুক্তি করে, তখন ভারতেও বলা হয় আমেরিকা বড় অংশটাই পেল, ভারত পেল না। একটা কথা অবশ্যই বলব যে নিজের স্বার্থ নিজেকেই দেখতে হবে। যখন আরেক দেশের সঙ্গে একটা ডিল বা চুক্তি করা হয়, তখন সে নিজের স্বার্থ দেখছে, বাংলাদেশ দেখছে তারটা। তবে দুটো দিকই ভুল আছে। লোকেরা ধরে নেয়, যাকে আমরা অর্থনীতির ভাষায় বলি ‘জিরো সাম গেম’, ওর লাভ হওয়া মানে আমার ক্ষতি হচ্ছে। সুতরাং যে-ই দেখা গেল একটা ডিল হওয়ার পর ভারতে সবাই উৎসব করছে, তখন তুলনামূলক আরেকটি ছোট দেশের মনে হবে ওরা উৎসব করছে মানে তাদের ক্ষতি হয়ে গেল। এটা ঠিক নয়। অর্থনীতিতে এমন অনেক ডিল আছে, যা থেকে উভয় দেশই লাভবান হয়েছে। সত্যি কথা বলতে, ভালোভাবে চুক্তি করতে পারলে তা উভয়ের জন্য ভালো হয়। ভারত যখন আরেক দেশের সঙ্গে চুক্তি করতে যাবে, তখন প্রধানত দেখা হয় কী লাভ হবে। কারণ, কেউ তো চ্যারিটি করতে যায় না। বাংলাদেশও দেখবে তাদের জন্য কী লাভ থাকবে। এই যে আঞ্চলিক সহযোগিতা বা ট্রানজিট—এ থেকে কারোরই ক্ষতি নেই। মেধাভিত্তিক সামর্থ্য দুটো দেশেরই যথেষ্ট আছে। আমি সত্যিই মনে করি, ভারতের সঙ্গে খুব ভালোভাবে আলোচনা করার সক্ষমতা বাংলাদেশের আছে। এই পরামর্শ আমি সবাইকে দিই না, বিশেষ করে যাদের সেই সক্ষমতা নেই। বরং তাদের বলি, বহুজাতিক কারও সঙ্গে ডিল করবে খুব সাবধানে। একটা খারাপ চুক্তি করলে সারা জীবন পস্তাতে হবে। কিন্তু ভারত ও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা নয়। দুই দেশেরই সামর্থ্য আছে। আর সম্প্রতি যে চুক্তিগুলো হয়েছে, আমি তো মনে করি, তা থেকে উভয় দেশের জন্যই সুবিধা পাওয়ার অনেক সুযোগ আছে, সুবিধা পাবেও।
প্রথম আলো: পদ্মা সেতুর পুরো ঘটনা নিয়ে বিশ্বব্যাংক কী শিক্ষা পেল?
কৌশিক বসু: কী শিক্ষা পেলাম জানি না। তবে এইটুকু জানি, ইতিহাস যা-ই হোক না কেন, হতে পারে ওই ইতিহাসটির কারণেই ফল যেটা এসেছে, সেটি খুবই ভালো হয়েছে। এই ফল হয়তো হতো না, যদি ওই ঘটনা না ঘটত। আমি বলছি না যে আবার ওই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হোক, তবে নিজে থেকে পদ্মা সেতু করার কথা কিন্তু সাত-আট বছর আগে ভাবাও যেত না। এটা হচ্ছে শেষ পাঁচ-ছয় বছরের ব্যাপার। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার যে রিজার্ভ, ২০০৯-এ ছিল ৮ বিলিয়ন। এখন ২৭ বিলিয়ন। সুতরাং বাংলাদেশ এখন যা পারে, তা সাত-আট বছর আগেও ভাবতে পারত না। আমার কাছে মনে হয়, একটা দেশ করতে পারে এবং করে দেখাচ্ছে। আর আমি আশা করছি, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও ভালো সংযোগ তৈরি হবে এবং সেটি হবে পার্টনারশিপের ভিত্তিতে। আর আশা করি, আমি অন্তত যত দিন এখানে আছি, আমি সাহায্য করব যাতে পার্টনারশিপ আরও ভালো হয়।
প্রথম আলো: কিন্তু পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংক যে অভিযোগ তুলেছিল, তার তো সুরাহা হয়নি। দুর্নীতির ইচ্ছার অভিযোগটা থেকেই গেল। এতে কি দেশের ভাবমূর্তির সংকট হবে?
কৌশিক বসু: ভবিষ্যতে ভাবমূর্তির কোনো ক্ষতি আছে বলে আমার মনে হয় না। তবে দুর্নীতি এমনই একটা বিষয়, যা প্রতিটা দেশকেই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। দুর্নীতি কমানোর পরামর্শ তো আমি সব উন্নয়নশীল দেশকেই দেব।
প্রথম আলো: সব দেশ মিলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বা এসডিজি গ্রহণ করেছে। এর লক্ষ্যগুলো উচ্চাভিলাষী এবং বাস্তবায়নে অর্থায়ন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংকের কী ভূমিকা থাকবে?
কৌশিক বসু: এটা এখনো একটি ওপেন কোশ্চেন হয়ে আছে। যেটাতে আমাদের সামর্থ্য সেটা হলো, এসডিজির গোটা কতক লক্ষ্য আমরা পরিসংখ্যানের দিক থেকে নিয়মিত নজর রাখব। এই কাজে বিশ্বব্যাংক খুবই ভালো। এই যে দারিদ্র্য বিমোচন নিয়ে আমরা প্রচুর সমালোচনা পাই বটে, কিন্তু বিশ্বব্যাংকের যে গ্রুপ এ নিয়ে কাজ করে, তারা অত্যন্ত দক্ষ। এটা আগে আমি জানতাম না, এখানে এসে দেখি, এ কাজে তারা আসলেই অনেক দক্ষ। কাজটা অত্যন্ত জটিল। এখন সারা পৃথিবীর দারিদ্র্য হার গণনা করা হচ্ছে, যেটাকে আমরা ‘পভক্যালনেট’ বলি, এটা খুব ভালোভাবে করা হয়। আমি আশাবাদী যে এসডিজির বিভিন্ন লক্ষ্যের মধ্যে গোটা কয়েকের ক্ষেত্রে এর তথ্য ও উপাত্ত ব্যবস্থাপনায় বিশ্বব্যাংক কেন্দ্রীয়ভাবে দায়িত্ব নেবে। তবে এটাতে রাজনৈতিক একটা ব্যাপার এসেই যায়। কারণ, কিছু উপাত্ত নিয়ে লোকজন এদিক-সেদিক করতে চায়। আশা করছি বিশ্বব্যাংক একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
আর আমি একটা কমিশন গঠন করেছি। আমাদের যে দারিদ্র্য নিরূপণ হয় সেটিকে আরেক ধাপ এগিয়ে নিতে এই কমিশন। সেটার প্রধান হচ্ছেন খুব বড় একজন অর্থনীতিবিদ, টনি অ্যাটকিনসন। কমিটির উপদেষ্টাদের মধ্যে অমর্ত্য সেন আছেন। আমরা যে এখন কেবল দারিদ্র্য হার পরিমাপ করি, সেখান থেকে আরও বৃহত্তর জায়গা থেকে কী করতে পারি, তা নিয়ে কমিশন আমাদের সুপারিশ করবে। দেখেন, ভারতের দারিদ্র্য হার বাংলাদেশের চেয়ে কম। অথচ অনেক সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে। দারিদ্র্য হার তো শুধু টাকা দিয়ে পরিমাপ করার বিষয় নয়। দারিদ্র্যকে আরও বহুমাত্রিক জায়গা থেকে দেখতে হবে। দারিদ্র্য কেবল ক্রয়ক্ষমতা দিয়ে পরিমাপ করা উচিত নয়। এ কমিশন এসব নিয়েই কাজ করছে। রিপোর্টটি পেতে মে-জুন হয়ে যাবে। রিপোর্টটি পেলে এটা আমরা এসডিজির সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহার করব এবং আমাদের কাজটা কী হবে, তাও ঠিক করব তখন।
প্রথম আলো: বিশ্বব্যাংকে ধনী দেশগুলোর কণ্ঠ অনেক বেশি জোরালো, তাদের ভোটাধিকারও বেশি। আপনি আমাদের মতো একটি দেশ থেকে বিশ্বব্যাংকে আছেন। এ বিষয়ে কিছু কি করার আছে আপনার?
কৌশিক বসু: এটা সত্যি যে ধনী দেশগুলোর কণ্ঠ এখানে অনেক বেশি। কিন্তু যেসব দেশের উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা কিছুটা ভালো, সে দেশের অনেক মানুষ এখন বিশ্বব্যাংকে কাজ করে। এটা ঠিক যে এসব দেশের ভোটের ক্ষমতা খুবই কম। কিন্তু এখন বিশ্বব্যাংকে কাজ করে প্রচুর ভারতীয়, প্রচুর বাংলাদেশি। এদের উপস্থিতির মাধ্যমে কিন্তু ওই দেশগুলো তাদের কণ্ঠ বাড়াতে পারছে। কারণ, তাদের নিজের দেশের প্রতি একধরনের সম্পৃক্ততা কিন্তু তাদের ভেতর থেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করে। এই সুবিধা কিন্তু সাব-সাহারান আফ্রিকার দেশগুলোর নেই।
প্রথম আলো: আপনাকে ধন্যবাদ।
কৌশিক বসু: আপনাকেও ধন্যবাদ।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1402)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
December
(688)
-
▼
Dec 19
(22)
- আবারও ছাত্রলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষ, ইসলামী বিশ্ববিদ্...
- আমি প্রেসিডেন্ট ওবামা বলছি... by শাহদীন মালিক
- ‘সেনাবাহিনীর মধ্যে জঙ্গিদের ছাঁকনি দিয়ে বের করার ...
- ডোনাল্ড ট্রাম্প ও আজকের আমেরিকা by হাসান ফেরদৌস
- ‘তাঁর’ জন্য ‘তাঁরা’ও মাঠে
- আমি মুসলিম আমেরিকান, ট্রাম্পের বক্তব্যে হতভম্ব হয়ে...
- গণতন্ত্রই সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত সরকারব্যবস্থা -সাক্ষাৎ...
- শতবর্ষে নবকুমার ইনস্টিটিউশন
- সৌদি জোটে যোগদান
- শেষ হলো শূন্য সুদহারের যুগ by শওকত হোসেন
- একটি ঐতিহাসিক চুক্তি by রবার্ট ওয়াটকিন্স
- শতবর্ষে নবকুমার ইনস্টিটিউশন by জাফরুল্লাহ চৌধুরী
- যুদ্ধের কারণে দিনে পালাচ্ছে ৪৬০০ জন
- বৃহত্তম গণতন্ত্রে সমকামিতা অপরাধ
- ‘মাসুদ গলায় দড়ি প্যাঁচিয়ে ধরে আমরা দুজন টান দেই’ b...
- প্রিজনভ্যানে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের আনা-নেয়া মনিটরিং ক...
- প্রার্থীদের নিজের বাড়ি নেই অন্যের টাকায় করছেন নির্...
- 'প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে জা...
- টেনেহিঁচড়ে নারীকে নিয়ে গেল পুলিশ
- ৩০ লক্ষ পোশাক শ্রমিক ঝুঁকিতে
- নানান ব্যথা দূরের উপায়
- শিশুর মা দাবি, ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ by গাজী ফিরোজ
-
▼
Dec 19
(22)
-
▼
December
(688)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ইরান
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
কালবেলা
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
মুক্তিযুদ্ধ
রাশিয়া
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
রুদ্র মিজান
হিন্দু
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
স্বাস্থ্য
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
HotTopic
জীবনযাপন
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কলকাতা
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
মসজিদ
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
ইয়েমেন
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
Exclusive
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
জনস্বাস্থ্য
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
জোহরান মামদানি
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
ইহুদি
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জর্দান
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
আহমেদ মুনির
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট

No comments:
Post a Comment