Friday, November 22, 2013
শিল্পকর্মে ইস্ট ও ওয়েস্টের সার্থক ব্লেন্ডার মুর্তজা বশীর
শিল্পকর্মে ইস্ট ও ওয়েস্টের সার্থক ব্লেন্ডার মুর্তজা বশীর
বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীর [জন্ম
১৯৩২] পেইন্টিং, ম্যুরাল, ছাপচিত্রসহ চিত্রকলার নানা ফর্মে কাজ করেছেন।
লিখেছেন গল্প, কবিতা, উপন্যাস।
নিজের লেখা কবিতার বই
'টাটকা রক্তের ক্ষীণরেখা' ইংরেজি অনুবাদ করেছেন ২০১০-এ। ছোটগল্প 'কাঁচের
পাখির গান' [১৯৬৯], উপন্যাস 'আলট্রামেরিন' [১৯৭৯], কবিতা 'ত্রসরেণু'
[১৯৭৬], 'তোমাকেই শুধু' [১৯৭৯], 'এসো ফিরে অনসূয়া' [১৯৮৫], বিবিধ বিষয়
নির্বাচিত লেখা 'মুর্তজা বশীর : মূর্ত ও বিমূর্ত' [২০০১], গবেষণাগ্রন্থ
'মুদ্রা ও শিলালিপির আলোকে বাংলার হাবশী সুলতান ও তৎকালীন সমাজ' [২০০৪],
উপন্যাস 'মিতার সঙ্গে চার সন্ধ্যে, অমিতাক্ষর' [২০০৮] এবং 'গল্পসমগ্র'
[২০০৮] প্রকাশিত হয়েছে। উর্দু চলচ্চিত্র 'কারোয়ার' চিত্রনাট্য লিখেছেন।
হুমায়ুন কবীরের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত সাদেক খান পরিচালিত চলচ্চিত্র
'নদী ও নারী'র চিত্রনাট্যকার, শিল্প নির্দেশক ও প্রধান সহকারী পরিচালক
ছিলেন। আলোকচিত্র, ডাকটিকিট, অটোগ্রাফ সংগ্রহ তার নেশা। তার একক
চিত্রপ্রদর্শনীর সংখ্যা ২০টি। তার ম্যুরালচিত্র সাতটি।১৯৭৩-১৯৯৮ সাল
পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগে অধ্যাপনা শেষে ২০০৩ সাল
থেকে স্থায়ীভাবে ঢাকায় বসবাস করছেন। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- শেখ মেহেদী হাসান

ছেলেবেলার কোনো স্মৃতি আজও আপনাকে আলোড়িত করে।
আমি তখন বগুড়া করনেশন ইনস্টিটিউশনে পড়তাম। একদিন সকালে আমার এক সহপাঠীর বাড়ি গেলাম দেখা করতে। দেখি, গামছা কাঁধে বের হচ্ছে। ওকে প্রশ্ন করলাম, কিরে, কোথায় যাস? সে বলল আধা ঘণ্টা অপেক্ষা কর, আমি নদীতে ডুব দিয়ে আসি। আমি আধা ঘণ্টা ঘুরে এসে দেখি, ওদের উঠানে অনেক মানুষ। ভিড় ঠেলে তাকিয়ে দেখি, বন্ধু আমার মাটিতে শুয়ে। কি হলো? শুনলাম, করতোয়া নদীতে ডুবে মারা গেছে। বিরাট একটা ধাক্কা খেলাম। ছোটবেলা থেকে পড়তাম, মানুষ মরণশীল। কিন্তু সেদিন মনে হলো ম্যান ইজ ইমরটাল। মনে পড়ে, সপ্তম শ্রেণীতে পড়ার সময় বাড়ি থেকে পালিয়ে আমি নারায়ণগঞ্জ চলে গিয়েছিলাম। আবার দশম শ্রেণীতে উঠে লক্ষ্নৌ চলে গেলাম। পরে বাড়ির জন্য মন খারাপ হলো, তাই ফিরে এলাম। আমরা অনেক ভাইবোন। মা সবার জন্য ফিরনি রেঁধে টেবিলে বাটিতে বাটিতে হয়তো রেখেছেন। আমি গুনে দেখি, একটা কম। এটা হয়তো মনস্তাত্তি্বক সমস্যা। কিন্তু আমার মনে হতো কেউ আমাকে চায় না। শৈশব থেকেই আমি একাকিত্ব ভালোবাসি।
ছোটবেলায় আপনি কখনো ভেবেছেন ছবি অাঁকবেন কিংবা চিত্রশিল্পী হবেন?
আমি কখনো ভাবিনি শিল্পী হব। তবে ছবি দেখতে ভালো লাগত। আমার বাবার বিশাল লাইব্রেরিতে 'প্রবাসী', 'বসুমতী', 'বিচিত্রা', 'ভারতবর্ষ', 'মডার্ন রিভিউ', 'এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা'সহ বহু বই ছিল। সেসব পত্রপত্রিকায় ও বইয়ে আমি বিভিন্ন ছবি দেখতাম। আমরা তখন বগুড়ায়, আমি ক্লাস নাইনে পড়ি। সে সময় পার্টির ছাত্র সংগঠন ছাত্র ফেডারেশনের সঙ্গে আমার একটা যোগসূত্র গড়ে ওঠে। আমি কমিউনিস্ট পার্টির অফিসের জন্য মার্কস, এঙ্গেলস, লেনিন, স্টালিনের পোর্ট্রেট করি ফুলসিট কাগজে। রাস্তায় যারা সাইনবোর্ড করে তাদের কাজ দেখে ওই ছবিগুলো এঁকেছিলাম। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগ হলো, ১ সেপ্টেম্বর কমিউনিস্ট নেতা ভবানী সেন বগুড়ায় এলেন। তিনি পার্টি অফিসের দেয়ালে ওইসব ছবি দেখে কে এঁকেছে জানতে চান। আমাকে পার্টি অফিসে ডেকে আনা হলো, তিনি আমাকে প্রশংসা করলেন। আমার অটোগ্রাফ খাতায় লিখলেন, 'আর্টিস্টের কাজ হলো শোষিত জনগণের ভাব ও দুঃখ-দুর্দশাকে চিত্রের ভেতর দিয়ে এমনভাবে ফুটিয়ে তোলা, যাতে সমাজে সে আর্ট নবজীবন সৃষ্টি করতে পারে।' আমার বয়স তখন ১৫ বছর। সেই কথা আমার মনে এমনভাবে গেঁথে যায় যে, আজও যা সৃষ্টি করেছি তা সেই অঙ্গীকার থেকেই। যার জন্য ছবি অাঁকাটা হয়েছে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই। যেখানে নিজের ভাবাবেগ স্থান পায়নি।
আপনি একসময় বিখ্যাত মানুষের অটোগ্রাফ সংগ্রহ করতেন।
আমার বাবা ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ তখন বগুড়া আযিযুল হক কলেজের অধ্যক্ষ। আমি ভীষণ দুর্বিনীত ছিলাম। বাবার কাছে অভিযোগ আসত। একদিন তিনি আমাকে ডেকে বললেন, 'হয় ফেমাস হও, নয় নটোরিয়াস; মিডিওকার হয়ো না।' আমি যখন ক্লাস টেনের ছাত্র, বাবার রেমিংটন বন্ড কাগজের প্যাডের পাতায় জওহরলাল নেহরুর পোর্ট্রেট এঁকে পাঠিয়েছিলাম। লিখেছিলাম, আমি দশম শ্রেণীর ছাত্র, আপনার পোর্ট্রেট এঁকে পাঠালাম, বিনিময়ে আপনার স্বাক্ষর চাই। তিনি তার এক ফটোগ্রাফ পাঠালেন, স্বাক্ষরের নিচে তারিখ : সেপ্টেম্বর, ১৯৪৮। এখনো সেটি আমার সংগ্রহে আছে। চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন নিয়ে বই পড়েছি। জেনেছি, সূর্য সেনের সঙ্গী অনন্ত সিংহ ও অম্বিকা চক্রবর্তীর কথা। তাদের স্বাক্ষর, ছবি আমার কাছে আছে। সাইকেলে বিশ্বভ্রমণ করা প্রথম বাঙালি রামনাথ বিশ্বাস কিংবা দার্শনিক সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন, কবি শেখর কালিদাস রায়, শেরে কাশ্মীর শেখ আবদুল্লাহ, এ কে ফজলুল হক অটোগ্রাফ আমাকে বগুড়ায় পাঠিয়েছেন। পরবর্তীকালে ১৯৫৪ সালে মনোজ বসু, কাজী আবদুল ওদুদ, সুভাষ মুখোপাধ্যায়, দেবীপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও ইলা মিত্রের অটোগ্রাফ নিয়েছি। যে বয়সে যে মানুষগুলোর কথা আমি পড়েছি, জেনেছি বা সংস্পর্শে এসেছি, সে বয়সে এদের নামও অনেকে জানত না।
আর্ট কলেজে ভর্তি হলেন কেন?
ম্যাট্রিক পাস করে ১৯৪৯ সালে ঢাকায় আসি। পার্টি তখন আন্ডারগ্রাউন্ডে। পার্টি আমাকে বলল, তোমাকে আর্ট কলেজে ভর্তি হয়ে সাংগঠনিক কাজ করতে হবে। আমার বড় ভাই এ কে এম সফিউল্লাহ কলকাতায় থাকাকালীন জয়নুল আবেদিনের বন্ধু ছিলেন। আমি ভাইয়ের চিঠি নিয়ে আবেদিন সাহেবের সঙ্গে দেখা করলাম। তিনি বললেন, ঠিক আছে ভর্তি হবে। অ্যাডমিশন টেস্ট হলো। আমি পাস করলাম। পার্টির নির্দেশে আর্ট ইনস্টিটিউটে ভর্তি হই। তখন আর্ট ইনস্টিটিউটে কিছু সমস্যা ছিল। লাইব্রেরি আছে কিন্তু পর্যাপ্ত বই নেই, আসবাবপত্র নেই, ক্লাসরুমের সমস্যা ইত্যাদি নিয়ে আমি আন্দোলন শুরু করে দিলাম। একদিন খুব ভোরে ছাত্ররা আসার আগেই দেয়ালে পোস্টার লাগিয়েছি। আবেদিন স্যার আসলেন, তিনি পোস্টার দেখে দারোয়ানকে বললেন, পোস্টার তুলে ফেল। আমি হাত দিয়ে আটকে রাখলাম, বললাম আমি নিজে হাতে ছিঁড়ে ফেলব, আগে ছাত্ররা দেখুক এটা। ছাত্ররা আসল, দেখল, পরে আমি ছিঁড়ে ফেললাম। আবেদিন সাহেব কমিউনিস্ট বিরোধী ছিলেন না, কিন্তু তিনি ভয় পেয়েছিলেন। ছবি অাঁকায় আমার মন নেই। আমার কাজ হলো পার্টির জন্য চাঁদা তোলা, গোপন কর্মীদের জন্য শেল্টার খুঁজে বের করা। তখনো আমি পার্টির সদস্য হইনি। ২০ বছরের আগে কাউকে পার্টির সদস্যপদ দেওয়া হতো না। আমি রাস্তায় মিটিং কিংবা বিভিন্ন স্কুলে ধর্মঘট করছি। এরপর জেলে গেলাম। ১৯৫০ সালে জেল থেকে আসার পর ১৯ বছর বয়সে দলের সদস্য হই।
জেলে গিয়েছিলেন কেন।
১৯৫০ সালের ৭ জুন আমি জেলে যাই। সেদিন কমিউনিস্ট পার্টি 'মুক্ত এলাকা দিবস' ঘোষণা করেছিল। স্থানগুলো হলো ময়মনসিংহের উত্তরাঞ্চলের হাজং, পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চবি্বশ পরগনার কাকদ্বীপ আর মাদ্রাজের তেলাঙ্গনা। জনযুদ্ধ তখন শুরু হয়েছে। বিটি রনদীভে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক। ওই সময় আমি একটা পোস্টার এঁকেছিলাম। যার বিষয় ছিল ময়মনসিংহের মানচিত্র হাতুড়ি-কাস্তে দিয়ে ঘেরা। পোস্টারের ওপরে লেখা ছিল 'মুক্ত এলাকা দিবস', যা চকবাজার, মৌলবীবাজার এলাকার দেয়ালে লাগাতে গিয়ে আমি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হই। ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে আমাকে রাখা হয় ১৪ নম্বর সেলে। 'শকুন্তলা ফাটক' বলে যার একটা সুন্দর নাম ছিল। আমার রাজনৈতিক সতীর্থ আবদুল্লাহ আল মুতী শরফুদ্দীন, শান্তি পরিষদের নেতা আলী আকসাদ, শ্রমিক নেতা আবদুল বারী, ক্ষেতমজুর নেতা মনু মিয়াও এখানে ছিল। সাড়ে পাঁচ মাস পর জেল থেকে জামিনে ছাড়া পাই। এসডিও [দক্ষিণ] এর এজলাসে আমার বাবা ও বড়ভাই উপস্থিত ছিলেন। আমার কোমরে দড়ি, হাতে হ্যান্ডকাফ পরে যখন কাঠগড়ায় দাঁড়ালাম, বাবাকে দেখে মনে খুব কষ্ট হলো। হাকিমকে বললাম, আমার হাতকড়া ও দড়ি খুলে দিতে। হাকিম তা মঞ্জুর করলেন। অক্টোবরের ১৫ তারিখ ছাড়া পাওয়ার পরদিন তিনি বেগমবাজারে আমাদের বাসায় এসেছিলেন। আমার ওপর নজরদারি ছিল তাই তার এজলাস থেকে আমার কেস অন্য হাকিমের কাছে গেল। এভাবে প্রায় দশ-বারোজন হাকিমের এজলাসে আমার কেস যাওয়া হলেও কেউ আমার পিতার জন্য বিচার করতে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন। পরে এ কে বিশ্বাস নামে হাকিমের এজলাসে বিচার শুরু হলো। তিনি ছিলেন ঘোর কমিউনিস্টবিরোধী। কিছুদিন আগে সদরঘাটে করনেশন পার্কে এক সমাবেশ থেকে আটক সাতজন তরুণীকে সাজা দিয়েছিলেন। তার এজলাসে আমার বিচার হবে জেনে ভয় পাচ্ছিলাম কিন্তু তিনি সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে নির্দোষ বলে রায় দেন।
আপনি সিরিয়াসলি ছবি আঁকায় মন দিলেন কবে।
জেল থেকে ফিরে এসে সেকেন্ড ইয়ারের ক্লাসে গিয়ে দেখি ছাত্ররা যেভাবে কাজ করছে, আমি পারছি না। জলরঙের ওয়াশ টেকনিক শেখানো হতো, সেগুলো আমি পারছিলাম না। আবেদিন সাহেবকে বলি, স্যার আমাকে দিয়ে ছবি আঁকা হবে না। তিনি বললেন, 'হবে।' তিনি পিয়নকে দিয়ে আমিনুল ইসলামকে ডেকে আনালেন। তিনি আমার এক বছরের সিনিয়র ছিলেন। তাকে দেখিয়ে স্যার আমার কাছে জানতে চাইলেন, 'তুমি একে চেন?' আমি বললাম, আমি চিনি না। আমি কিন্তু চিনতাম। পার্টি থেকে বলা হয়েছিল আমাদের একজন গোপন কর্মী আছে আমিনুল, সে তোমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে। স্যার আমিনুল ইসলামকে বললেন, তুমি আউটডোরে যাওয়ার সময় বশীরকে সঙ্গে নিও, ওকে গাইড কর। আমিনুল যে শুধু আমাকে ছবি আঁকার বিভিন্ন কৌশল হাতে-কলমে শিখিয়েছেন তা নয়, তার সংগ্রহে ছিল বিখ্যাত শিল্পীদের চিত্রসম্ভার নিয়ে নানা বই। সেই বইয়ের ছবি নিয়ে আমার সঙ্গে আলাপ করতেন। কিন্তু ইনস্টিটিউটে লাইব্রেরির বই দেখার সুযোগ তেমন আমাদের ছিল না। ওই সময় আর একটি ঘটনা মনে পড়ে, একদিন ক্লাসে বসে আমি রঙ গুলেছি, রঙ কাগজে লাগাতে যাব, আমার শিক্ষক আনোয়ারুল হক পেছন থেকে আমার হাত টেনে ধরলেন। তিনি বললেন, 'ওঠ।' আমি বললাম, 'কেন?' তিনি জানালেন, এখানে রাজ্জাক বসবে। রাজ্জাক আমাদের ক্লাসের ফার্স্ট বয়। আমি খুব কষ্ট পেলাম, আমি ভালো ছাত্র না, তাই বলে কি ভালো হওয়ার অধিকার নেই। আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে কাঁদছিলাম। তখন সফিউদ্দীন স্যার বারান্দা দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি আমার কাছে ঘটনা শুনে তার বাসায় যেতে বললেন। তিনি সচরাচর বাসায় কাউকে যেতে বলেন না। আমি তার স্বামীবাগের বাড়িতে গেলাম। তিনি নিজের অাঁকা অনেকগুলো তৈলচিত্র আমাকে দেখালেন। অথচ তিনি অ্যাচিং করেন, উডকাট করেন। আমি বেশ অবাক হলাম। স্যার বললেন, 'বশীর, তুমি তৈলচিত্র আঁকবে, কীভাবে করব বললেন।' তারপর থেকে তৈলচিত্রের প্রতি ভালোবাসা জন্মে যায়।
বিদেশে পড়তে গেলেন কখন?
১৯৫৪ ঢাকা আর্ট ইনস্টিটিউট থেকে পাস করি। বাবা আমাকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আশুতোষ মিউজিয়ামে একটি আর্ট এপ্রিসিয়েশন কোর্স করতে পাঠালেন। আমি চিন্তা-ভাবনা করছি কোন আঙ্গিকে কাজ করব। আমি যা চিন্তা করছি তা পরিতোষ সেনের মধ্যে পেলাম। এরপর ১৯৫৬ সালে বাবা আমাকে ইতালির ফ্লোরেন্সে পড়তে পাঠালেন। সেখানে রেনেসাঁশিল্পী দুচচো, সিমাবো, ফ্রাঞ্জিলিকো, জোততো এদের কাজ এবং বাইজাইনটাইনদের কাজ দেখি। তাদের কাজ আমাকে অনুপ্রাণিত করে কিন্তু মাইকেল এঞ্জোলো, রাফায়েল, টিসান এদের কাজ আমার ভালো লাগত না। আমি রেনেসাঁপূর্ব শিল্পীদের ছবি দেখে অনেক কিছু শিখেছি এবং এখনো অনুপ্রাণিত হচ্ছি। আমি যখন মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১-এর শেষে সপরিবারে প্যারিসে গিয়েছিলাম, সেখানে ১৯৭৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত ছিলাম। সে সময় একদিন মপনার্স এলাকায় এক ক্যাফেতে দার্শনিক জঁ্য পল সাত্রকে দেখে উত্তেজিত হয়ে পড়ি। অস্তিত্ববাদ তখন আমার অস্তিত্বজুড়ে। কিন্তু আমার ভিনদেশী সহপাঠী অবাক হয়ে আমাকে বলেছিলেন, সময় এখন সাত্রের চেয়েও এগিয়ে। পিকাসোর ছবির প্রতি আমার খুব দুর্বলতা, এখনো ছবি আঁকার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে তার কাজের কাছে যাই। পিকাসো যেদিন মারা গেলেন, আমি ভাবলাম, আজ বুঝি সব ক্লাস বন্ধ থাকবে। পয়সা নেই, এ সুযোগে আমি উইন্ডোশপিং করব। বাবা চাইলেন, ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসুক। আমি সোজা লন্ডনে চলে যাই। ওখানে তখন ফজলে লোহানী থাকেন। তিনি আমার বয়সে বড় হলেও বন্ধু ছিলেন। তার সঙ্গে কিছুদিন থাকার পর রেস্টুরেন্টে ছোটখাটো চাকরি শুরু করি। বিবিসিতে তখনকার সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান 'আঞ্জুমান'-এ খবর পাঠ করে কিছু পয়সা পেতাম। দেশে ফেরার জন্য বাবা খুব কড়া করে একটা চিঠি লিখলেন, তোমাকে টিকিট পাঠিয়ে দিচ্ছি, টিকিটে যে তারিখ আছে সে পর্যন্ত তোমাকে থাকার অধিকার দেওয়া হয়েছে। উনি সাধারণত চিঠির শেষাংশে লিখতেন, 'ইতি দোয়াগো কিংবা শুভাকাঙ্ক্ষী মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।' এ চিঠিতে তিনি লিখলেন, 'ইতি তোমার পিতা মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।' অর্থাৎ তিনি যে আমার পিতা সেই দাবি নিয়ে আদেশ করলেন। এ চিঠি পেয়ে আমি ১৯৫৮-এর ডিসেম্বরে দেশে চলে আসি। ঢাকায় আর্ট ইনস্টিটিউটে চাকরি হলো না, পিতার গলগ্রহ হয়ে থাকার বাসনা ছিল না। তাই শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য করাচি চলে গেলাম।
আপনার বাবা আপনাকে উৎসাহিত করতেন কি?
ছোটবেলা থেকে দেখতাম, আমার বাবা বই পড়ছেন। ঘরে কোনো চেঁচামেচি হলে মা বলতেন, চুপ, তোমার বাবা পড়ছে। তার সঙ্গে সপ্তাহে দুদিন দেখা হতো। বাবা যেদিন বেতন পেতেন, সেদিন বেতনের টাকা টেবিলে রেখে তার সব ছেলেকে ডেকে বলতেন তোমাদের যার যা দরকার নিয়ে নাও। মা তখন সেখানে থাকতেন না, তিনি থাকতেন দরজার বাইরে। আর বাবার সঙ্গে দেখা হতো রবিবার, ছুটির দিন। দুপুরে খাবার টেবিলে বসে আমরা কাঁটাচামচ, ছুরিসহকারে ইংরেজি খাওয়া খেতাম। তিনি লক্ষ্য রাখতেন যথাযথভাবে আমরা কাঁটাচামচ ও ছুরি ব্যবহার করছি কিনা। ছবি আঁকার ব্যাপারে তার খুব মত ছিল না। তিনি বলেছিলেন, 'আমি প্যারিসে ছিলাম, দেখেছি শিল্পীদের জীবন'। অথচ ১৯৪৯ সালে আমি যখন আর্ট ইনস্টিটিউটে ভর্তি হব, তিনি আমাকে ভর্তির টাকাটা দিলেন। উনি সোরবন থেকে পিএইচডি লাভের পর এক সংবর্ধনায় লুভ্যর মিউজিয়ামের দুই খণ্ডের ক্যাটালগ উপহার পেয়েছিলেন। ওই বই দুটো আমার হাতে দিয়ে বললেন, 'এই দুটো এতদিন আমার কাছে ছিল, এখন তোমার।' ১৯৫৭ সালে ওয়াশিংটনে পূর্ব পাকিস্তানের নয়জন চিত্রকরের এক প্রদর্শনী হয়। তার একটি প্রতিবেদন বেরিয়েছিল 'পাকিস্তান অবজারভারে'। সেখানে আমার নাম 'মুর্তজা রশিদ' ছাপা হয়েছিল। বাবা 'সম্পাদক বরাবর চিঠি'তে লিখে জানান, আমার ছবি প্রশংসিত হয়েছে এ জন্য তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। তবে নামটি 'মুর্তজা রশিদ' নয় 'মুর্তজা বশীর' এবং তার আসল নাম একেএম বশীরউল্লাহ। ১৯৫৯ সালে করাচিতে আমেরিকান এক সংস্থার উদ্যোগে আমার প্রদর্শনী হয় এবং সে সময়ের শিক্ষামন্ত্রী জনাব হাবিবুর রহমান উদ্বোধন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরিকালীন থেকে তাকে চিনতেন। তাই তিনি তার ভিজিটিং কার্ডের ওপরে লিখলেন-‘To Habibur Rahman, Education Minister, Introducting my son Murtaza Bashir artist.’। সেই কার্ড নিয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম। তিনি সানন্দে রাজি হলেন। প্রদর্শনীতে বাবা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে পানীয়ের ব্যবস্থা ছিল তা দেখে আমি কিছুটা বিব্রত ও শঙ্কিত হচ্ছিলাম কিন্তু তিনি সেই পরিবেশন আমলেই নিলেন না। স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করলেন। মাগরিবের সময় প্রদর্শনী কক্ষের এক কোণে তিনি নামাজ পড়লেন। ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমির এক প্রদর্শনী এবং ছোট্ট একটা সেমিনার হয়। বাবা সে অনুষ্ঠানে ছিলেন। সেমিনারের বক্তা এ কে ব্রোহী হঠাৎ বাবাকে জিজ্ঞাসা করলেন, 'ডক্টর সাহেব, আপনার ছেলে তো একজন আধুনিক শিল্পী। আপনি তাকে কীভাবে দেখেন?' বাবা দাঁড়িয়ে বললেন, 'আধুনিক চিত্রের মতো আমার ছেলেও আমার কাছে দুর্বোধ্য, আমি তাকে বুঝতে পারি না।' তার মৃত্যুর ১৫-২০ দিন আগের কথা। হাসপাতালে যাওয়ার আগে তিনি আচকান পরলেন, মাথায় টুপি দিলেন, আমাকে বললেন, 'তুমি আমার একটি পোর্ট্রেট কর।' এই আমার বাবা।
কবি ফয়েজ আহমদ ফয়েজ আপনাকে লাহোর নিয়ে গিয়েছিলেন
১৯৪৮ সালে তার সঙ্গে আমার পরিচয় লন্ডনে। তিনি ঢাকায় এসেছিলেন ১৯৫৯ সালে 'জাগো হুয়া সাবেরা' চলচ্চিত্রের পরিচালক এ জে কারদারসহ 'দূর হ্যায় সুখ কা গাঁও' ছবির শুটিং করতে। তখন সেপ্টেম্বর মাস, ঢাকা প্রেসক্লাবে আমার প্রদর্শনী চলছিল। তিনি প্রদর্শনীতে এসে আমাকে বললেন, 'বশীর, আমি লাহোর আর্ট কাউন্সিলের সেক্রেটারি হচ্ছি, তোমাকে আমন্ত্রণ জানাব, তুমি লাহোরে এসো।' ১৯৫৯ সালের শেষের দিকে আমি লাহোরে গেলাম। দুই বছর ছিলাম। ১৯৬১ সালে ফয়েজ ভাইকে বলেছিলাম, ফয়েজ ভাই, আমার নাম হয় না কেন? তিনি উত্তরে বলেছিলেন, 'বশীর, তুমি নামের পেছনে ছুটো না, নাম তোমার পেছনে ছুটবে।' এটাও আমার একটা শিক্ষা। তিনি আমাকে লাহোর থেকে যেতে বলেছিলেন। আমি থাকিনি। ১৯৫৫ সাল থেকে নিয়মিতভাবে আধুনিকশৈলীতে ছবি অাঁকা শুরু করি। ফলে আমার মধ্যে এক ধরনের অহংবোধ ছিল। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন আমার বাসায় এলেন কাজ দেখতে। যখন রিকশা করে ফিরছি, তখন জেলখানার সামনে আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। বলেছিলেন, 'তুমি ভালো কাজ কর, কিন্তু তুমি একাই ভালো কাজ কর না। আমরাও অাঁকি।' তারপর বললেন, 'এমনভাবে নিজেকে তৈরি কর, যাতে অন্যের প্রশংসা শুনে হাসবে। অন্যের সমালোচনাতেও শুধু হাসবে।' কথাগুলো হৃদয়ে নিতে আমার ১০ বছর লেগেছিল। এখন আমি প্রশংসাতেও হাসি, সমালোচনা শুনলেও হাসি।
বাংলার মন্দির টেরাকোটা নিয়ে আপনি গবেষণা করেছেন। একজন শিল্পী হিসেবে ইতিহাসের মতো বিষয়ে গবেষণায় আগ্রহী হলেন কীভাবে?
১৯৮০ সালে যখন বাংলাদেশ সরকার ও শিল্পকলা একাডেমি আমাকে জাপানের ফুকোকা সিটিতে একটি সেমিনারে পাঠাল। সেখানে আমার ইন্টারপ্রেটার সুন্দরী তরুণীর দিকে করমর্দনের জন্য হাত বাড়িয়ে দিলাম, সে কিন্তু হাত বাড়াল না। সে তাদের ঐতিহ্য অনুযায়ী মাথাটা ঝুঁকিয়ে নম্রভাবে আমাকে অভিবাদন জানাল। এটা আমাকে ভীষণভাবে আহত করল। আমার তখন ঈশপের গল্প মনে হলো। একটা কাক ময়ূরের পুচ্ছ পরে ছিল। সে কাকও হতে পারেনি, ময়ূরও হতে পারেনি। তখন আমার জানার ইচ্ছা হলো, আমি কে, আমি কি, কোত্থেকে এসেছি? এটি যখন আমার মাথায় ঢুকলো তখন দেখা গেল আমি আর কোনো ছবি অাঁকতে পারছি না। আমি ১৯৮০ থেকে ১৯৮৪ পর্যন্ত কোনো ছবি অাঁকিনি। ওই সময় আমি নিজেকে জানার জন্য হিন্দুদের বেদ, উপনিষদ ও বৌদ্ধদের ধর্মপদ প্রমুখ ধর্মীয় গ্রন্থ ছাড়াও ভারতের ইতিহাস, সামাজিক ইতিহাস, অর্থনৈতিক ইতিহাস, রাজনৈতিক ইতিহাস, হিন্দু ও বৌদ্ধশাস্ত্র, মনু, নারদ, বৃহস্পতি, অপস্টম্ভা, গৌতম, বশিষ্ঠ বেঠধায়ন ও বৌদ্ধদের জাতক, সুত্তবিভঙ্গ, মহাবর্গ, কুলবর্গ, ভিক্ষু ও ভিক্ষুনী বিভঙ্গ ও থেরগাথা ও বৌদ্ধমূত্র নিজেকে খোঁজার জন্য পড়া শুরু করলাম। ইচ্ছার বিরুদ্ধে ১৯৮৪ সালে একটি প্রদর্শনী করলাম। এরপর ১৯৮৮ সালে কয়েকটি ছবি অাঁকলাম। ১৯৯০ থেকে ১৯৯৭ এ সাতটি বছরে আমি গবেষণা করলাম। ওই সময় একটি বই করি, মুদ্রা ও শিলালিপির আলোকে বাংলার হাবশি সুলতান ও তৎকালীন সমাজ নামে একটি বই বের হয়।
আপনি তো জয়নুল আবেদিন, কামরুল হাসান কারও শিল্পভাষা অনুসরণ করেননি।
শিল্পী হিসেবে জয়নুল আবেদিন ও কামরুল হাসান কত বড় এটা সময় বিচার করবে। তবে শিক্ষক হিসেবে তারা অতুলনীয়। এই দুই শিক্ষকের কেউই চাইতেন না তাদের কেউ অনুকরণ করুক। আর পঞ্চাশের বাস্তবতায় আমার শিল্পভাষা সম্পর্কে বললে বলতে হবে, ফ্লোরেন্সে গিয়ে রেনেসাঁসের যে শিক্ষাটা পেয়েছিলাম সেখান থেকেই ইস্ট ও ওয়েস্টকে ব্লেন্ড করেছি আমি। প্রাচ্য হলো সীমিত রংয়ের ব্যবহার ও সমতল যেখানে অবয়ব রেখা দিয়ে সৃষ্টি। আর পাশ্চাত্যের কাজ হলো আলো-ছায়া সমন্বয়ে বাস্তবধর্মী ছবি, যেখানে সামনে-পেছনে বুঝানোর জন্য পারস্পেটিভ অর্থাৎ পরিপ্রেক্ষিতের প্রয়োগ। প্রাচ্যধারা ও পাশ্চাত্যশিল্পেও শিক্ষা নিয়ে আমি একটা চিত্রভাষা তৈরি করলাম। সুলতান ভাই [এস এম সুলতান] আমাকে বলেছিলেন, 'ইস্ট ও ওয়েস্টকে আপনি সার্থকভাবে ব্লেন্ড করতে পেরেছেন।'
শিক্ষিত লোকজন ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহকে সম্মান করতেন একজন বহু ভাষাবিদ পণ্ডিত রূপে। কিন্তু সাধারণ মানুষ তাকে জানতেন একজন ধর্মভীরু মুসলমান হিসেবে। এ ব্যাপারে আপনি কি বলেন?
তিনি ধর্মপ্রাণ মুসলমান ছিলেন কিন্তু ধর্মান্ধ ছিলেন না। ঢাকায় যখন আমি নবকুমার ইনস্টিটিউশনে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র তখন স্কুলে দিপালীসহ বন্ধুদের সঙ্গে হোলি খেলতাম, বাড়িতে আতশবাজি পোড়াতাম। এ ব্যাপারে তাকে বিরূপ হতে দেখিনি। এমনকি যখন তিনি বগুড়ায় আযিযুুল হক কলেজের অধ্যক্ষ তখন হিন্দু ছাত্ররা তার হাতে আবির দিয়ে প্রণাম করত কিন্তু তিনি বিরক্ত হতেন না। তিনি ছিলেন মনেপ্রাণে বাঙালি। তিনি যে বাঙালি তা বহুবার নানা সময়ে নানা ভাষণে লক্ষ করা যায়। ১৯১৮ সালে চট্টগ্রাম মুসলমান ছাত্র সম্মিলনে সভাপতির ভাষণে তিনি বলেন, 'তোমরা কেবল ছাত্র নও, তোমরা বাঙালি। তোমরা বাঙালি মুসলমান। বাংলার আবহাওয়ায়, বাংলার মাটিতে বাংলার শস্যে, বাংলার ফলে তোমাদের দেহ গঠিত, পুষ্ট, বর্ধিত।' তিনি স্বপ্ন দেখতেন হিন্দু-মুসলমান মিলে এক বাঙালি জাতি। ১৯১৭ সালে বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সম্মিলনীর দ্বিতীয় অধিবেশনে সভাপতির ভাষণে সেই স্বপ্নের ইঙ্গিত পাই। তিনি বলেছিলেন, 'হিন্দু মুসলমান মিলিয়া বাঙালি জাতি গড়িয়া তুলিতে বহু অন্তরায় আছে। কিন্তু দূর ভবিষ্যতে হউক না কেন তাহা তো করিতেই হইবে। বাঙালি হিন্দু বাঙালি মুসলমান ব্যতীত চলিতে পারবে না। চিরকাল কি একভাবে যাবে? জগতের ইতিহাস পৃষ্ঠে কি হিন্দু-মুসলমান মিলিত বাঙালি জাতি, ফরাসি, ইংরেজ ইতালীয়, জার্মান, জাপানি প্রমুখ জাতির ন্যায় নাম রাখিতে পারিবে না? আশা কানে কানে গুঞ্জন করিয়া বলে, পারিবে।...' তার সেই স্বপ্ন আংশিকভাবে একাত্তরে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ভেতর দিয়ে প্রতিষ্ঠা হলেও এখনো সমাজে সাম্প্রদায়িকতা রয়ে গেছে। এখনো জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মিলনভূমি হয়নি। ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে যখন ভারতবর্ষ দ্বিখণ্ডিত হয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হলো তখন তিনি বগুড়া আযিযুল হক কলেজের অধ্যক্ষ। তার ছাত্র বামপন্থি অনুসারী কবি আতাউর রহমানকে তিনি বলেছিলেন এ যুগে ধর্মের ভিত্তিতে রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে না। আতাউর রহমান তার লেখা 'পাশ্চাতের নিত্য সহচর ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ' এই শিরোনামে লেখেন, '... পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর একদিন কথা প্রসঙ্গে বলেছিলাম, স্যার আপনি বলেছিলেন এ যুগে ধর্মের ভিত্তিতে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। ধর্মের ভিত্তিতে তো পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হলো। আমার কথা শোনার পর তিনি কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে থাকলেন। বললেন, 'হ্যাঁ পাকিস্তান হলো। কিন্তু একটা কথা জেনে রেখ- এ পাকিস্তান ২০/২৫ বছরের বেশি টিকবে না। দুই অংশের মধ্যকার এই দূরত্বের ব্যবধান, কোনো কিছু দিয়ে টিকিয়ে রাখা যাবে না। আমি এতদিন বেঁচে থাকব না, তোমরা থাকবে। একদিন আমার কথার সত্যতা তোমরা বুঝতে পারবে...।' ১৯২৮ সালের শেষে তিনি প্যারিসের সোরবন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিলিট করার পর ১৯২৯ সালে তার প্রথমা কন্যা মহযূযা খাতুনের বিয়ের নিমন্ত্রণপত্রের ওপর লিখেছিলেন 'আল্লাহ জয়তু'। তা ছিল ওই সময়ে মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত ব্যতিক্রমধর্মী ব্যাপার। যখন তিনি রীতিমতো ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে সক্রিয় ছিলেন তখনো ১৯৬২ সালে আমার বিয়ের কার্ডের ওপর প্রচলিত রীতি ও প্রথা অনুসরণ না করে লিখেছিলেন 'এক'। অর্থাৎ আল্লাহ্ এক, রাসূল এক। তার এই দৃঢ় বিশ্বাসের প্রতিফলন আমরা দেখি ধর্মের ভিত্তিতে সদ্য প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তানে ঢাকার কার্জন হলে অনুষ্ঠিত ১৯৪৯ সালে পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্য সম্মেলনের মূল সভাপতির ভাষণে আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি। এটি কোনো আদর্শের কথা নয় এটি একটি বাস্তব কথা। মা প্রকৃতি নিজের হাতে আমাদের চেহারায় ও ভাষায় বাঙালিত্বের এমন ছাপ মেরে দিয়েছেন যে, মালা-তিলক-টিকিতে কিংবা টুপি-লুঙ্গি-দাড়িতে ঢাকা জে-টি নেই। সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় তার সম্বন্ধে বলেছিলেন- 'ড. শহীদুল্লাহ এ যুগের একজন শ্রেষ্ঠ বাঙালি-তাহাকে আমরা একজন যুগনায়ক মুসলমান বাঙালি বলিয়া অভিবাদন করি। আন্তর্জাতিক মুসলমানদের খাতিরে তাহার সাধনায় বাঙালিত্বকে বিসর্জন দেন নাই। মুসলমান আদর্শ ও সাধনা এবং বাঙালির জীবন, এই দুইয়ের সমন্বয় তাহার চরিত্রে দেখা যায়।'

ছেলেবেলার কোনো স্মৃতি আজও আপনাকে আলোড়িত করে।
আমি তখন বগুড়া করনেশন ইনস্টিটিউশনে পড়তাম। একদিন সকালে আমার এক সহপাঠীর বাড়ি গেলাম দেখা করতে। দেখি, গামছা কাঁধে বের হচ্ছে। ওকে প্রশ্ন করলাম, কিরে, কোথায় যাস? সে বলল আধা ঘণ্টা অপেক্ষা কর, আমি নদীতে ডুব দিয়ে আসি। আমি আধা ঘণ্টা ঘুরে এসে দেখি, ওদের উঠানে অনেক মানুষ। ভিড় ঠেলে তাকিয়ে দেখি, বন্ধু আমার মাটিতে শুয়ে। কি হলো? শুনলাম, করতোয়া নদীতে ডুবে মারা গেছে। বিরাট একটা ধাক্কা খেলাম। ছোটবেলা থেকে পড়তাম, মানুষ মরণশীল। কিন্তু সেদিন মনে হলো ম্যান ইজ ইমরটাল। মনে পড়ে, সপ্তম শ্রেণীতে পড়ার সময় বাড়ি থেকে পালিয়ে আমি নারায়ণগঞ্জ চলে গিয়েছিলাম। আবার দশম শ্রেণীতে উঠে লক্ষ্নৌ চলে গেলাম। পরে বাড়ির জন্য মন খারাপ হলো, তাই ফিরে এলাম। আমরা অনেক ভাইবোন। মা সবার জন্য ফিরনি রেঁধে টেবিলে বাটিতে বাটিতে হয়তো রেখেছেন। আমি গুনে দেখি, একটা কম। এটা হয়তো মনস্তাত্তি্বক সমস্যা। কিন্তু আমার মনে হতো কেউ আমাকে চায় না। শৈশব থেকেই আমি একাকিত্ব ভালোবাসি।
ছোটবেলায় আপনি কখনো ভেবেছেন ছবি অাঁকবেন কিংবা চিত্রশিল্পী হবেন?
আমি কখনো ভাবিনি শিল্পী হব। তবে ছবি দেখতে ভালো লাগত। আমার বাবার বিশাল লাইব্রেরিতে 'প্রবাসী', 'বসুমতী', 'বিচিত্রা', 'ভারতবর্ষ', 'মডার্ন রিভিউ', 'এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা'সহ বহু বই ছিল। সেসব পত্রপত্রিকায় ও বইয়ে আমি বিভিন্ন ছবি দেখতাম। আমরা তখন বগুড়ায়, আমি ক্লাস নাইনে পড়ি। সে সময় পার্টির ছাত্র সংগঠন ছাত্র ফেডারেশনের সঙ্গে আমার একটা যোগসূত্র গড়ে ওঠে। আমি কমিউনিস্ট পার্টির অফিসের জন্য মার্কস, এঙ্গেলস, লেনিন, স্টালিনের পোর্ট্রেট করি ফুলসিট কাগজে। রাস্তায় যারা সাইনবোর্ড করে তাদের কাজ দেখে ওই ছবিগুলো এঁকেছিলাম। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগ হলো, ১ সেপ্টেম্বর কমিউনিস্ট নেতা ভবানী সেন বগুড়ায় এলেন। তিনি পার্টি অফিসের দেয়ালে ওইসব ছবি দেখে কে এঁকেছে জানতে চান। আমাকে পার্টি অফিসে ডেকে আনা হলো, তিনি আমাকে প্রশংসা করলেন। আমার অটোগ্রাফ খাতায় লিখলেন, 'আর্টিস্টের কাজ হলো শোষিত জনগণের ভাব ও দুঃখ-দুর্দশাকে চিত্রের ভেতর দিয়ে এমনভাবে ফুটিয়ে তোলা, যাতে সমাজে সে আর্ট নবজীবন সৃষ্টি করতে পারে।' আমার বয়স তখন ১৫ বছর। সেই কথা আমার মনে এমনভাবে গেঁথে যায় যে, আজও যা সৃষ্টি করেছি তা সেই অঙ্গীকার থেকেই। যার জন্য ছবি অাঁকাটা হয়েছে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই। যেখানে নিজের ভাবাবেগ স্থান পায়নি।
আপনি একসময় বিখ্যাত মানুষের অটোগ্রাফ সংগ্রহ করতেন।
আমার বাবা ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ তখন বগুড়া আযিযুল হক কলেজের অধ্যক্ষ। আমি ভীষণ দুর্বিনীত ছিলাম। বাবার কাছে অভিযোগ আসত। একদিন তিনি আমাকে ডেকে বললেন, 'হয় ফেমাস হও, নয় নটোরিয়াস; মিডিওকার হয়ো না।' আমি যখন ক্লাস টেনের ছাত্র, বাবার রেমিংটন বন্ড কাগজের প্যাডের পাতায় জওহরলাল নেহরুর পোর্ট্রেট এঁকে পাঠিয়েছিলাম। লিখেছিলাম, আমি দশম শ্রেণীর ছাত্র, আপনার পোর্ট্রেট এঁকে পাঠালাম, বিনিময়ে আপনার স্বাক্ষর চাই। তিনি তার এক ফটোগ্রাফ পাঠালেন, স্বাক্ষরের নিচে তারিখ : সেপ্টেম্বর, ১৯৪৮। এখনো সেটি আমার সংগ্রহে আছে। চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন নিয়ে বই পড়েছি। জেনেছি, সূর্য সেনের সঙ্গী অনন্ত সিংহ ও অম্বিকা চক্রবর্তীর কথা। তাদের স্বাক্ষর, ছবি আমার কাছে আছে। সাইকেলে বিশ্বভ্রমণ করা প্রথম বাঙালি রামনাথ বিশ্বাস কিংবা দার্শনিক সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন, কবি শেখর কালিদাস রায়, শেরে কাশ্মীর শেখ আবদুল্লাহ, এ কে ফজলুল হক অটোগ্রাফ আমাকে বগুড়ায় পাঠিয়েছেন। পরবর্তীকালে ১৯৫৪ সালে মনোজ বসু, কাজী আবদুল ওদুদ, সুভাষ মুখোপাধ্যায়, দেবীপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও ইলা মিত্রের অটোগ্রাফ নিয়েছি। যে বয়সে যে মানুষগুলোর কথা আমি পড়েছি, জেনেছি বা সংস্পর্শে এসেছি, সে বয়সে এদের নামও অনেকে জানত না।
আর্ট কলেজে ভর্তি হলেন কেন?
ম্যাট্রিক পাস করে ১৯৪৯ সালে ঢাকায় আসি। পার্টি তখন আন্ডারগ্রাউন্ডে। পার্টি আমাকে বলল, তোমাকে আর্ট কলেজে ভর্তি হয়ে সাংগঠনিক কাজ করতে হবে। আমার বড় ভাই এ কে এম সফিউল্লাহ কলকাতায় থাকাকালীন জয়নুল আবেদিনের বন্ধু ছিলেন। আমি ভাইয়ের চিঠি নিয়ে আবেদিন সাহেবের সঙ্গে দেখা করলাম। তিনি বললেন, ঠিক আছে ভর্তি হবে। অ্যাডমিশন টেস্ট হলো। আমি পাস করলাম। পার্টির নির্দেশে আর্ট ইনস্টিটিউটে ভর্তি হই। তখন আর্ট ইনস্টিটিউটে কিছু সমস্যা ছিল। লাইব্রেরি আছে কিন্তু পর্যাপ্ত বই নেই, আসবাবপত্র নেই, ক্লাসরুমের সমস্যা ইত্যাদি নিয়ে আমি আন্দোলন শুরু করে দিলাম। একদিন খুব ভোরে ছাত্ররা আসার আগেই দেয়ালে পোস্টার লাগিয়েছি। আবেদিন স্যার আসলেন, তিনি পোস্টার দেখে দারোয়ানকে বললেন, পোস্টার তুলে ফেল। আমি হাত দিয়ে আটকে রাখলাম, বললাম আমি নিজে হাতে ছিঁড়ে ফেলব, আগে ছাত্ররা দেখুক এটা। ছাত্ররা আসল, দেখল, পরে আমি ছিঁড়ে ফেললাম। আবেদিন সাহেব কমিউনিস্ট বিরোধী ছিলেন না, কিন্তু তিনি ভয় পেয়েছিলেন। ছবি অাঁকায় আমার মন নেই। আমার কাজ হলো পার্টির জন্য চাঁদা তোলা, গোপন কর্মীদের জন্য শেল্টার খুঁজে বের করা। তখনো আমি পার্টির সদস্য হইনি। ২০ বছরের আগে কাউকে পার্টির সদস্যপদ দেওয়া হতো না। আমি রাস্তায় মিটিং কিংবা বিভিন্ন স্কুলে ধর্মঘট করছি। এরপর জেলে গেলাম। ১৯৫০ সালে জেল থেকে আসার পর ১৯ বছর বয়সে দলের সদস্য হই।
জেলে গিয়েছিলেন কেন।
১৯৫০ সালের ৭ জুন আমি জেলে যাই। সেদিন কমিউনিস্ট পার্টি 'মুক্ত এলাকা দিবস' ঘোষণা করেছিল। স্থানগুলো হলো ময়মনসিংহের উত্তরাঞ্চলের হাজং, পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চবি্বশ পরগনার কাকদ্বীপ আর মাদ্রাজের তেলাঙ্গনা। জনযুদ্ধ তখন শুরু হয়েছে। বিটি রনদীভে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক। ওই সময় আমি একটা পোস্টার এঁকেছিলাম। যার বিষয় ছিল ময়মনসিংহের মানচিত্র হাতুড়ি-কাস্তে দিয়ে ঘেরা। পোস্টারের ওপরে লেখা ছিল 'মুক্ত এলাকা দিবস', যা চকবাজার, মৌলবীবাজার এলাকার দেয়ালে লাগাতে গিয়ে আমি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হই। ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে আমাকে রাখা হয় ১৪ নম্বর সেলে। 'শকুন্তলা ফাটক' বলে যার একটা সুন্দর নাম ছিল। আমার রাজনৈতিক সতীর্থ আবদুল্লাহ আল মুতী শরফুদ্দীন, শান্তি পরিষদের নেতা আলী আকসাদ, শ্রমিক নেতা আবদুল বারী, ক্ষেতমজুর নেতা মনু মিয়াও এখানে ছিল। সাড়ে পাঁচ মাস পর জেল থেকে জামিনে ছাড়া পাই। এসডিও [দক্ষিণ] এর এজলাসে আমার বাবা ও বড়ভাই উপস্থিত ছিলেন। আমার কোমরে দড়ি, হাতে হ্যান্ডকাফ পরে যখন কাঠগড়ায় দাঁড়ালাম, বাবাকে দেখে মনে খুব কষ্ট হলো। হাকিমকে বললাম, আমার হাতকড়া ও দড়ি খুলে দিতে। হাকিম তা মঞ্জুর করলেন। অক্টোবরের ১৫ তারিখ ছাড়া পাওয়ার পরদিন তিনি বেগমবাজারে আমাদের বাসায় এসেছিলেন। আমার ওপর নজরদারি ছিল তাই তার এজলাস থেকে আমার কেস অন্য হাকিমের কাছে গেল। এভাবে প্রায় দশ-বারোজন হাকিমের এজলাসে আমার কেস যাওয়া হলেও কেউ আমার পিতার জন্য বিচার করতে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন। পরে এ কে বিশ্বাস নামে হাকিমের এজলাসে বিচার শুরু হলো। তিনি ছিলেন ঘোর কমিউনিস্টবিরোধী। কিছুদিন আগে সদরঘাটে করনেশন পার্কে এক সমাবেশ থেকে আটক সাতজন তরুণীকে সাজা দিয়েছিলেন। তার এজলাসে আমার বিচার হবে জেনে ভয় পাচ্ছিলাম কিন্তু তিনি সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে নির্দোষ বলে রায় দেন।
আপনি সিরিয়াসলি ছবি আঁকায় মন দিলেন কবে।
জেল থেকে ফিরে এসে সেকেন্ড ইয়ারের ক্লাসে গিয়ে দেখি ছাত্ররা যেভাবে কাজ করছে, আমি পারছি না। জলরঙের ওয়াশ টেকনিক শেখানো হতো, সেগুলো আমি পারছিলাম না। আবেদিন সাহেবকে বলি, স্যার আমাকে দিয়ে ছবি আঁকা হবে না। তিনি বললেন, 'হবে।' তিনি পিয়নকে দিয়ে আমিনুল ইসলামকে ডেকে আনালেন। তিনি আমার এক বছরের সিনিয়র ছিলেন। তাকে দেখিয়ে স্যার আমার কাছে জানতে চাইলেন, 'তুমি একে চেন?' আমি বললাম, আমি চিনি না। আমি কিন্তু চিনতাম। পার্টি থেকে বলা হয়েছিল আমাদের একজন গোপন কর্মী আছে আমিনুল, সে তোমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে। স্যার আমিনুল ইসলামকে বললেন, তুমি আউটডোরে যাওয়ার সময় বশীরকে সঙ্গে নিও, ওকে গাইড কর। আমিনুল যে শুধু আমাকে ছবি আঁকার বিভিন্ন কৌশল হাতে-কলমে শিখিয়েছেন তা নয়, তার সংগ্রহে ছিল বিখ্যাত শিল্পীদের চিত্রসম্ভার নিয়ে নানা বই। সেই বইয়ের ছবি নিয়ে আমার সঙ্গে আলাপ করতেন। কিন্তু ইনস্টিটিউটে লাইব্রেরির বই দেখার সুযোগ তেমন আমাদের ছিল না। ওই সময় আর একটি ঘটনা মনে পড়ে, একদিন ক্লাসে বসে আমি রঙ গুলেছি, রঙ কাগজে লাগাতে যাব, আমার শিক্ষক আনোয়ারুল হক পেছন থেকে আমার হাত টেনে ধরলেন। তিনি বললেন, 'ওঠ।' আমি বললাম, 'কেন?' তিনি জানালেন, এখানে রাজ্জাক বসবে। রাজ্জাক আমাদের ক্লাসের ফার্স্ট বয়। আমি খুব কষ্ট পেলাম, আমি ভালো ছাত্র না, তাই বলে কি ভালো হওয়ার অধিকার নেই। আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে কাঁদছিলাম। তখন সফিউদ্দীন স্যার বারান্দা দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি আমার কাছে ঘটনা শুনে তার বাসায় যেতে বললেন। তিনি সচরাচর বাসায় কাউকে যেতে বলেন না। আমি তার স্বামীবাগের বাড়িতে গেলাম। তিনি নিজের অাঁকা অনেকগুলো তৈলচিত্র আমাকে দেখালেন। অথচ তিনি অ্যাচিং করেন, উডকাট করেন। আমি বেশ অবাক হলাম। স্যার বললেন, 'বশীর, তুমি তৈলচিত্র আঁকবে, কীভাবে করব বললেন।' তারপর থেকে তৈলচিত্রের প্রতি ভালোবাসা জন্মে যায়।
বিদেশে পড়তে গেলেন কখন?
১৯৫৪ ঢাকা আর্ট ইনস্টিটিউট থেকে পাস করি। বাবা আমাকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আশুতোষ মিউজিয়ামে একটি আর্ট এপ্রিসিয়েশন কোর্স করতে পাঠালেন। আমি চিন্তা-ভাবনা করছি কোন আঙ্গিকে কাজ করব। আমি যা চিন্তা করছি তা পরিতোষ সেনের মধ্যে পেলাম। এরপর ১৯৫৬ সালে বাবা আমাকে ইতালির ফ্লোরেন্সে পড়তে পাঠালেন। সেখানে রেনেসাঁশিল্পী দুচচো, সিমাবো, ফ্রাঞ্জিলিকো, জোততো এদের কাজ এবং বাইজাইনটাইনদের কাজ দেখি। তাদের কাজ আমাকে অনুপ্রাণিত করে কিন্তু মাইকেল এঞ্জোলো, রাফায়েল, টিসান এদের কাজ আমার ভালো লাগত না। আমি রেনেসাঁপূর্ব শিল্পীদের ছবি দেখে অনেক কিছু শিখেছি এবং এখনো অনুপ্রাণিত হচ্ছি। আমি যখন মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১-এর শেষে সপরিবারে প্যারিসে গিয়েছিলাম, সেখানে ১৯৭৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত ছিলাম। সে সময় একদিন মপনার্স এলাকায় এক ক্যাফেতে দার্শনিক জঁ্য পল সাত্রকে দেখে উত্তেজিত হয়ে পড়ি। অস্তিত্ববাদ তখন আমার অস্তিত্বজুড়ে। কিন্তু আমার ভিনদেশী সহপাঠী অবাক হয়ে আমাকে বলেছিলেন, সময় এখন সাত্রের চেয়েও এগিয়ে। পিকাসোর ছবির প্রতি আমার খুব দুর্বলতা, এখনো ছবি আঁকার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে তার কাজের কাছে যাই। পিকাসো যেদিন মারা গেলেন, আমি ভাবলাম, আজ বুঝি সব ক্লাস বন্ধ থাকবে। পয়সা নেই, এ সুযোগে আমি উইন্ডোশপিং করব। বাবা চাইলেন, ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসুক। আমি সোজা লন্ডনে চলে যাই। ওখানে তখন ফজলে লোহানী থাকেন। তিনি আমার বয়সে বড় হলেও বন্ধু ছিলেন। তার সঙ্গে কিছুদিন থাকার পর রেস্টুরেন্টে ছোটখাটো চাকরি শুরু করি। বিবিসিতে তখনকার সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান 'আঞ্জুমান'-এ খবর পাঠ করে কিছু পয়সা পেতাম। দেশে ফেরার জন্য বাবা খুব কড়া করে একটা চিঠি লিখলেন, তোমাকে টিকিট পাঠিয়ে দিচ্ছি, টিকিটে যে তারিখ আছে সে পর্যন্ত তোমাকে থাকার অধিকার দেওয়া হয়েছে। উনি সাধারণত চিঠির শেষাংশে লিখতেন, 'ইতি দোয়াগো কিংবা শুভাকাঙ্ক্ষী মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।' এ চিঠিতে তিনি লিখলেন, 'ইতি তোমার পিতা মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।' অর্থাৎ তিনি যে আমার পিতা সেই দাবি নিয়ে আদেশ করলেন। এ চিঠি পেয়ে আমি ১৯৫৮-এর ডিসেম্বরে দেশে চলে আসি। ঢাকায় আর্ট ইনস্টিটিউটে চাকরি হলো না, পিতার গলগ্রহ হয়ে থাকার বাসনা ছিল না। তাই শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য করাচি চলে গেলাম।
আপনার বাবা আপনাকে উৎসাহিত করতেন কি?
ছোটবেলা থেকে দেখতাম, আমার বাবা বই পড়ছেন। ঘরে কোনো চেঁচামেচি হলে মা বলতেন, চুপ, তোমার বাবা পড়ছে। তার সঙ্গে সপ্তাহে দুদিন দেখা হতো। বাবা যেদিন বেতন পেতেন, সেদিন বেতনের টাকা টেবিলে রেখে তার সব ছেলেকে ডেকে বলতেন তোমাদের যার যা দরকার নিয়ে নাও। মা তখন সেখানে থাকতেন না, তিনি থাকতেন দরজার বাইরে। আর বাবার সঙ্গে দেখা হতো রবিবার, ছুটির দিন। দুপুরে খাবার টেবিলে বসে আমরা কাঁটাচামচ, ছুরিসহকারে ইংরেজি খাওয়া খেতাম। তিনি লক্ষ্য রাখতেন যথাযথভাবে আমরা কাঁটাচামচ ও ছুরি ব্যবহার করছি কিনা। ছবি আঁকার ব্যাপারে তার খুব মত ছিল না। তিনি বলেছিলেন, 'আমি প্যারিসে ছিলাম, দেখেছি শিল্পীদের জীবন'। অথচ ১৯৪৯ সালে আমি যখন আর্ট ইনস্টিটিউটে ভর্তি হব, তিনি আমাকে ভর্তির টাকাটা দিলেন। উনি সোরবন থেকে পিএইচডি লাভের পর এক সংবর্ধনায় লুভ্যর মিউজিয়ামের দুই খণ্ডের ক্যাটালগ উপহার পেয়েছিলেন। ওই বই দুটো আমার হাতে দিয়ে বললেন, 'এই দুটো এতদিন আমার কাছে ছিল, এখন তোমার।' ১৯৫৭ সালে ওয়াশিংটনে পূর্ব পাকিস্তানের নয়জন চিত্রকরের এক প্রদর্শনী হয়। তার একটি প্রতিবেদন বেরিয়েছিল 'পাকিস্তান অবজারভারে'। সেখানে আমার নাম 'মুর্তজা রশিদ' ছাপা হয়েছিল। বাবা 'সম্পাদক বরাবর চিঠি'তে লিখে জানান, আমার ছবি প্রশংসিত হয়েছে এ জন্য তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। তবে নামটি 'মুর্তজা রশিদ' নয় 'মুর্তজা বশীর' এবং তার আসল নাম একেএম বশীরউল্লাহ। ১৯৫৯ সালে করাচিতে আমেরিকান এক সংস্থার উদ্যোগে আমার প্রদর্শনী হয় এবং সে সময়ের শিক্ষামন্ত্রী জনাব হাবিবুর রহমান উদ্বোধন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরিকালীন থেকে তাকে চিনতেন। তাই তিনি তার ভিজিটিং কার্ডের ওপরে লিখলেন-‘To Habibur Rahman, Education Minister, Introducting my son Murtaza Bashir artist.’। সেই কার্ড নিয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম। তিনি সানন্দে রাজি হলেন। প্রদর্শনীতে বাবা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে পানীয়ের ব্যবস্থা ছিল তা দেখে আমি কিছুটা বিব্রত ও শঙ্কিত হচ্ছিলাম কিন্তু তিনি সেই পরিবেশন আমলেই নিলেন না। স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করলেন। মাগরিবের সময় প্রদর্শনী কক্ষের এক কোণে তিনি নামাজ পড়লেন। ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমির এক প্রদর্শনী এবং ছোট্ট একটা সেমিনার হয়। বাবা সে অনুষ্ঠানে ছিলেন। সেমিনারের বক্তা এ কে ব্রোহী হঠাৎ বাবাকে জিজ্ঞাসা করলেন, 'ডক্টর সাহেব, আপনার ছেলে তো একজন আধুনিক শিল্পী। আপনি তাকে কীভাবে দেখেন?' বাবা দাঁড়িয়ে বললেন, 'আধুনিক চিত্রের মতো আমার ছেলেও আমার কাছে দুর্বোধ্য, আমি তাকে বুঝতে পারি না।' তার মৃত্যুর ১৫-২০ দিন আগের কথা। হাসপাতালে যাওয়ার আগে তিনি আচকান পরলেন, মাথায় টুপি দিলেন, আমাকে বললেন, 'তুমি আমার একটি পোর্ট্রেট কর।' এই আমার বাবা।
কবি ফয়েজ আহমদ ফয়েজ আপনাকে লাহোর নিয়ে গিয়েছিলেন
১৯৪৮ সালে তার সঙ্গে আমার পরিচয় লন্ডনে। তিনি ঢাকায় এসেছিলেন ১৯৫৯ সালে 'জাগো হুয়া সাবেরা' চলচ্চিত্রের পরিচালক এ জে কারদারসহ 'দূর হ্যায় সুখ কা গাঁও' ছবির শুটিং করতে। তখন সেপ্টেম্বর মাস, ঢাকা প্রেসক্লাবে আমার প্রদর্শনী চলছিল। তিনি প্রদর্শনীতে এসে আমাকে বললেন, 'বশীর, আমি লাহোর আর্ট কাউন্সিলের সেক্রেটারি হচ্ছি, তোমাকে আমন্ত্রণ জানাব, তুমি লাহোরে এসো।' ১৯৫৯ সালের শেষের দিকে আমি লাহোরে গেলাম। দুই বছর ছিলাম। ১৯৬১ সালে ফয়েজ ভাইকে বলেছিলাম, ফয়েজ ভাই, আমার নাম হয় না কেন? তিনি উত্তরে বলেছিলেন, 'বশীর, তুমি নামের পেছনে ছুটো না, নাম তোমার পেছনে ছুটবে।' এটাও আমার একটা শিক্ষা। তিনি আমাকে লাহোর থেকে যেতে বলেছিলেন। আমি থাকিনি। ১৯৫৫ সাল থেকে নিয়মিতভাবে আধুনিকশৈলীতে ছবি অাঁকা শুরু করি। ফলে আমার মধ্যে এক ধরনের অহংবোধ ছিল। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন আমার বাসায় এলেন কাজ দেখতে। যখন রিকশা করে ফিরছি, তখন জেলখানার সামনে আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। বলেছিলেন, 'তুমি ভালো কাজ কর, কিন্তু তুমি একাই ভালো কাজ কর না। আমরাও অাঁকি।' তারপর বললেন, 'এমনভাবে নিজেকে তৈরি কর, যাতে অন্যের প্রশংসা শুনে হাসবে। অন্যের সমালোচনাতেও শুধু হাসবে।' কথাগুলো হৃদয়ে নিতে আমার ১০ বছর লেগেছিল। এখন আমি প্রশংসাতেও হাসি, সমালোচনা শুনলেও হাসি।
বাংলার মন্দির টেরাকোটা নিয়ে আপনি গবেষণা করেছেন। একজন শিল্পী হিসেবে ইতিহাসের মতো বিষয়ে গবেষণায় আগ্রহী হলেন কীভাবে?
১৯৮০ সালে যখন বাংলাদেশ সরকার ও শিল্পকলা একাডেমি আমাকে জাপানের ফুকোকা সিটিতে একটি সেমিনারে পাঠাল। সেখানে আমার ইন্টারপ্রেটার সুন্দরী তরুণীর দিকে করমর্দনের জন্য হাত বাড়িয়ে দিলাম, সে কিন্তু হাত বাড়াল না। সে তাদের ঐতিহ্য অনুযায়ী মাথাটা ঝুঁকিয়ে নম্রভাবে আমাকে অভিবাদন জানাল। এটা আমাকে ভীষণভাবে আহত করল। আমার তখন ঈশপের গল্প মনে হলো। একটা কাক ময়ূরের পুচ্ছ পরে ছিল। সে কাকও হতে পারেনি, ময়ূরও হতে পারেনি। তখন আমার জানার ইচ্ছা হলো, আমি কে, আমি কি, কোত্থেকে এসেছি? এটি যখন আমার মাথায় ঢুকলো তখন দেখা গেল আমি আর কোনো ছবি অাঁকতে পারছি না। আমি ১৯৮০ থেকে ১৯৮৪ পর্যন্ত কোনো ছবি অাঁকিনি। ওই সময় আমি নিজেকে জানার জন্য হিন্দুদের বেদ, উপনিষদ ও বৌদ্ধদের ধর্মপদ প্রমুখ ধর্মীয় গ্রন্থ ছাড়াও ভারতের ইতিহাস, সামাজিক ইতিহাস, অর্থনৈতিক ইতিহাস, রাজনৈতিক ইতিহাস, হিন্দু ও বৌদ্ধশাস্ত্র, মনু, নারদ, বৃহস্পতি, অপস্টম্ভা, গৌতম, বশিষ্ঠ বেঠধায়ন ও বৌদ্ধদের জাতক, সুত্তবিভঙ্গ, মহাবর্গ, কুলবর্গ, ভিক্ষু ও ভিক্ষুনী বিভঙ্গ ও থেরগাথা ও বৌদ্ধমূত্র নিজেকে খোঁজার জন্য পড়া শুরু করলাম। ইচ্ছার বিরুদ্ধে ১৯৮৪ সালে একটি প্রদর্শনী করলাম। এরপর ১৯৮৮ সালে কয়েকটি ছবি অাঁকলাম। ১৯৯০ থেকে ১৯৯৭ এ সাতটি বছরে আমি গবেষণা করলাম। ওই সময় একটি বই করি, মুদ্রা ও শিলালিপির আলোকে বাংলার হাবশি সুলতান ও তৎকালীন সমাজ নামে একটি বই বের হয়।
আপনি তো জয়নুল আবেদিন, কামরুল হাসান কারও শিল্পভাষা অনুসরণ করেননি।
শিল্পী হিসেবে জয়নুল আবেদিন ও কামরুল হাসান কত বড় এটা সময় বিচার করবে। তবে শিক্ষক হিসেবে তারা অতুলনীয়। এই দুই শিক্ষকের কেউই চাইতেন না তাদের কেউ অনুকরণ করুক। আর পঞ্চাশের বাস্তবতায় আমার শিল্পভাষা সম্পর্কে বললে বলতে হবে, ফ্লোরেন্সে গিয়ে রেনেসাঁসের যে শিক্ষাটা পেয়েছিলাম সেখান থেকেই ইস্ট ও ওয়েস্টকে ব্লেন্ড করেছি আমি। প্রাচ্য হলো সীমিত রংয়ের ব্যবহার ও সমতল যেখানে অবয়ব রেখা দিয়ে সৃষ্টি। আর পাশ্চাত্যের কাজ হলো আলো-ছায়া সমন্বয়ে বাস্তবধর্মী ছবি, যেখানে সামনে-পেছনে বুঝানোর জন্য পারস্পেটিভ অর্থাৎ পরিপ্রেক্ষিতের প্রয়োগ। প্রাচ্যধারা ও পাশ্চাত্যশিল্পেও শিক্ষা নিয়ে আমি একটা চিত্রভাষা তৈরি করলাম। সুলতান ভাই [এস এম সুলতান] আমাকে বলেছিলেন, 'ইস্ট ও ওয়েস্টকে আপনি সার্থকভাবে ব্লেন্ড করতে পেরেছেন।'
শিক্ষিত লোকজন ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহকে সম্মান করতেন একজন বহু ভাষাবিদ পণ্ডিত রূপে। কিন্তু সাধারণ মানুষ তাকে জানতেন একজন ধর্মভীরু মুসলমান হিসেবে। এ ব্যাপারে আপনি কি বলেন?
তিনি ধর্মপ্রাণ মুসলমান ছিলেন কিন্তু ধর্মান্ধ ছিলেন না। ঢাকায় যখন আমি নবকুমার ইনস্টিটিউশনে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র তখন স্কুলে দিপালীসহ বন্ধুদের সঙ্গে হোলি খেলতাম, বাড়িতে আতশবাজি পোড়াতাম। এ ব্যাপারে তাকে বিরূপ হতে দেখিনি। এমনকি যখন তিনি বগুড়ায় আযিযুুল হক কলেজের অধ্যক্ষ তখন হিন্দু ছাত্ররা তার হাতে আবির দিয়ে প্রণাম করত কিন্তু তিনি বিরক্ত হতেন না। তিনি ছিলেন মনেপ্রাণে বাঙালি। তিনি যে বাঙালি তা বহুবার নানা সময়ে নানা ভাষণে লক্ষ করা যায়। ১৯১৮ সালে চট্টগ্রাম মুসলমান ছাত্র সম্মিলনে সভাপতির ভাষণে তিনি বলেন, 'তোমরা কেবল ছাত্র নও, তোমরা বাঙালি। তোমরা বাঙালি মুসলমান। বাংলার আবহাওয়ায়, বাংলার মাটিতে বাংলার শস্যে, বাংলার ফলে তোমাদের দেহ গঠিত, পুষ্ট, বর্ধিত।' তিনি স্বপ্ন দেখতেন হিন্দু-মুসলমান মিলে এক বাঙালি জাতি। ১৯১৭ সালে বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সম্মিলনীর দ্বিতীয় অধিবেশনে সভাপতির ভাষণে সেই স্বপ্নের ইঙ্গিত পাই। তিনি বলেছিলেন, 'হিন্দু মুসলমান মিলিয়া বাঙালি জাতি গড়িয়া তুলিতে বহু অন্তরায় আছে। কিন্তু দূর ভবিষ্যতে হউক না কেন তাহা তো করিতেই হইবে। বাঙালি হিন্দু বাঙালি মুসলমান ব্যতীত চলিতে পারবে না। চিরকাল কি একভাবে যাবে? জগতের ইতিহাস পৃষ্ঠে কি হিন্দু-মুসলমান মিলিত বাঙালি জাতি, ফরাসি, ইংরেজ ইতালীয়, জার্মান, জাপানি প্রমুখ জাতির ন্যায় নাম রাখিতে পারিবে না? আশা কানে কানে গুঞ্জন করিয়া বলে, পারিবে।...' তার সেই স্বপ্ন আংশিকভাবে একাত্তরে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ভেতর দিয়ে প্রতিষ্ঠা হলেও এখনো সমাজে সাম্প্রদায়িকতা রয়ে গেছে। এখনো জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মিলনভূমি হয়নি। ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে যখন ভারতবর্ষ দ্বিখণ্ডিত হয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হলো তখন তিনি বগুড়া আযিযুল হক কলেজের অধ্যক্ষ। তার ছাত্র বামপন্থি অনুসারী কবি আতাউর রহমানকে তিনি বলেছিলেন এ যুগে ধর্মের ভিত্তিতে রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে না। আতাউর রহমান তার লেখা 'পাশ্চাতের নিত্য সহচর ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ' এই শিরোনামে লেখেন, '... পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর একদিন কথা প্রসঙ্গে বলেছিলাম, স্যার আপনি বলেছিলেন এ যুগে ধর্মের ভিত্তিতে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। ধর্মের ভিত্তিতে তো পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হলো। আমার কথা শোনার পর তিনি কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে থাকলেন। বললেন, 'হ্যাঁ পাকিস্তান হলো। কিন্তু একটা কথা জেনে রেখ- এ পাকিস্তান ২০/২৫ বছরের বেশি টিকবে না। দুই অংশের মধ্যকার এই দূরত্বের ব্যবধান, কোনো কিছু দিয়ে টিকিয়ে রাখা যাবে না। আমি এতদিন বেঁচে থাকব না, তোমরা থাকবে। একদিন আমার কথার সত্যতা তোমরা বুঝতে পারবে...।' ১৯২৮ সালের শেষে তিনি প্যারিসের সোরবন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিলিট করার পর ১৯২৯ সালে তার প্রথমা কন্যা মহযূযা খাতুনের বিয়ের নিমন্ত্রণপত্রের ওপর লিখেছিলেন 'আল্লাহ জয়তু'। তা ছিল ওই সময়ে মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত ব্যতিক্রমধর্মী ব্যাপার। যখন তিনি রীতিমতো ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে সক্রিয় ছিলেন তখনো ১৯৬২ সালে আমার বিয়ের কার্ডের ওপর প্রচলিত রীতি ও প্রথা অনুসরণ না করে লিখেছিলেন 'এক'। অর্থাৎ আল্লাহ্ এক, রাসূল এক। তার এই দৃঢ় বিশ্বাসের প্রতিফলন আমরা দেখি ধর্মের ভিত্তিতে সদ্য প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তানে ঢাকার কার্জন হলে অনুষ্ঠিত ১৯৪৯ সালে পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্য সম্মেলনের মূল সভাপতির ভাষণে আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি। এটি কোনো আদর্শের কথা নয় এটি একটি বাস্তব কথা। মা প্রকৃতি নিজের হাতে আমাদের চেহারায় ও ভাষায় বাঙালিত্বের এমন ছাপ মেরে দিয়েছেন যে, মালা-তিলক-টিকিতে কিংবা টুপি-লুঙ্গি-দাড়িতে ঢাকা জে-টি নেই। সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় তার সম্বন্ধে বলেছিলেন- 'ড. শহীদুল্লাহ এ যুগের একজন শ্রেষ্ঠ বাঙালি-তাহাকে আমরা একজন যুগনায়ক মুসলমান বাঙালি বলিয়া অভিবাদন করি। আন্তর্জাতিক মুসলমানদের খাতিরে তাহার সাধনায় বাঙালিত্বকে বিসর্জন দেন নাই। মুসলমান আদর্শ ও সাধনা এবং বাঙালির জীবন, এই দুইয়ের সমন্বয় তাহার চরিত্রে দেখা যায়।'
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1427)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
-
▼
2013
(14877)
-
▼
November
(403)
-
▼
Nov 22
(21)
- সেনাবাহিনীকে শৃঙ্খলা বজায় রাখার তাগিদ : ফখরুলের কু...
- অদম্য দুই প্রতিবন্ধী- এগিয়ে চলেছে ওরা
- নির্বাচন- এ গ্যাঁড়াকল থেকে উত্তরণ কোন পথে? by বদিউ...
- কালের পুরাণ- গণতন্ত্রে স্বৈরাচারের কালো ছায়া by সো...
- বিডিআর বিদ্রোহ- আদালতের রায় ও পর্যবেক্ষণ by এম সাখ...
- সুইডেনে কয়েদি না থাকায় কারাগার বন্ধ
- দেশ ও সমাজ- অসংগতি আর অসংগতি by মোহাম্মদ কায়কোবাদ
- মূল্যায়ন- তারিক আলির সঙ্গে এক বিকেল by আবদুল মান্নান
- গল্প- খোলস by রমেশ গুনেসেকেরা, অনুবাদ: ফাতেমা আবেদীন
- গল্প- ছোট কামা by নুসরাত ফাতেমা
- সাক্ষাৎকার:এলিয়ট ওয়াইনবার্গার- ‘জানালাটা একটু খোলো...
- গণফোরামের সভায় ড. কামাল- এখন চলছে ‘নাটকীয় নির্বাচন’
- শিল্পকর্মে ইস্ট ও ওয়েস্টের সার্থক ব্লেন্ডার মুর্তজ...
- ‘জানালাটা একটু খোলো...’by রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী
- লোরকার স্মৃতিময় বাড়িতে by সাজ্জাদ শরিফ
- খোলস by রমেশ গুনেসেকেরা
- গণতন্ত্রে স্বৈরাচারের কালো ছায়া
- আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে বাংলাদেশ!
- সমঝোতার সুযোগ আর রইল না
- মমতা ঘোষণা দিলেন মডেল মহার্ঘ ভাতার
- হামলার শিকার অভিনেত্রী শ্রুতি হাসান!
-
▼
Nov 22
(21)
-
▼
November
(403)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ইরান
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
কালবেলা
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
রাশিয়া
মুক্তিযুদ্ধ
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
হিন্দু
রুদ্র মিজান
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
স্বাস্থ্য
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
জীবনযাপন
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কলকাতা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
মসজিদ
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ইয়েমেন
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
Exclusive
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
জনস্বাস্থ্য
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
জোহরান মামদানি
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
ইহুদি
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
জর্দান
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
আহমেদ মুনির
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment