উত্তর কোরিয়ায় ক্ষমতা নিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্ব!

প্রকাশ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ঃ উত্তর কোরিয়ায় পারিবারিক ক্ষমতার দ্বন্দ্বের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, কিম জং উন তার মাত্র ১৩ বছর বয়সী কন্যা কিম জু’কে উত্তর কোরিয়ার পরবর্তী নেতা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয়ার পথে। এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে কিম জু’কে তার প্রভাবশালী ফুপু কিম ইয়ো জং-এর মুখোমুখি দাঁড় করাতে পারে। এ দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (এনআইএস) গত সপ্তাহে আইনপ্রণেতাদের জানায় যে, প্রায় ১৩ বছর বয়সী কিম জু এ’কে উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত করার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। সময়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ মাসের শেষদিকে উত্তর কোরিয়া তাদের বৃহত্তম রাজনৈতিক সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে কিম জং উন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য নির্ধারণ এবং নিজের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। রদ্ধদ্বার বৈঠকে এনআইএস কর্মকর্তারা বলেন, আসন্ন ওয়ার্কার্স পার্টি কংগ্রেসে হাজারো প্রতিনিধির সামনে কিম জু এ তার পিতার সঙ্গে উপস্থিত হন কিনা, তা তারা পর্যবেক্ষণ করছেন।

কিম জু এ প্রথম জনসমক্ষে আসেন ২০২২ সালের নভেম্বরে একটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সময়। এরপর থেকে তিনি অস্ত্র পরীক্ষা, সামরিক কুচকাওয়াজ, কারখানা পরিদর্শনসহ নানা অনুষ্ঠানে পিতার সঙ্গে উপস্থিত হন। গত সেপ্টেম্বরে তিনি চীনের নেতার সঙ্গে বৈঠকের জন্য পিতার সঙ্গে বেইজিংয়েও যান।

আগে সিউলের কর্মকর্তারা সন্দেহ করেন, একটি মেয়েকে উত্তর কোরিয়ার নেতা হিসেবে বেছে নেয়া হতে পারে কি না। কারণ দেশটির নেতৃত্ব কাঠামো রক্ষণশীল ও পুরুষপ্রধান। তবে কিম জু এ’র ঘনঘন উপস্থিতি তাদের সেই ধারণা পুনর্বিবেচনায় বাধ্য করেছে। এনআইএস-এর পূর্ববর্তী মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, চীনে তাকে নিয়ে যাওয়া উত্তরসূরি হিসেবে তার ভাবমূর্তি গড়ে তোলার অংশ হতে পারে।
সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জার হতে পারেন কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং। তার বয়স ৩৮ বছর। তাকে উত্তর কোরিয়ার দ্বিতীয় সর্বাধিক ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে দেখা হয় এবং তার শক্তিশালী রাজনৈতিক ও সামরিক সমর্থন রয়েছে। তিনি বর্তমানে কোরিয়ার ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন এবং তার ভাইয়ের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক এক জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা রাহ জং ইল সতর্ক করে বলেন, ক্ষমতার লড়াই ‘সম্ভাব্য’। যদি কিম ইয়ো জং মনে করেন তার সুযোগ আছে, তবে তিনি শীর্ষ পদে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। তার মতে, নিজের রাজনৈতিক প্রকল্প বাস্তবায়নে তাকে থামানোর কোনো কারণ নেই।

রাহ দ্য টেলিগ্রাফকে বলেন, সবকিছু সময়ের ওপর নির্ভর করে। তবে আমি বিশ্বাস করি, যদি কিম ইয়ো জং মনে করেন যে তিনি শীর্ষ নেতা হতে পারেন, তাহলে তিনি তা করবেন। তার জন্য নিজের রাজনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন থেকে বিরত থাকার কোনো কারণ নেই। কিম ইয়ো জং উত্তর কোরিয়ার ভেতরে ও বাইরে কড়া বক্তব্য দেয়ার জন্য পরিচিত। ২০২২ সালে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে ‘অবিবেচক ও নিকৃষ্ট ব্যক্তি’ বলে অভিহিত করেন এবং সতর্ক করেন যে সিউল ‘পূর্ণ ধ্বংস ও বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।’

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে তিনি বলেন, একজন অবিবেচক ব্যক্তি পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আগাম হামলার কথা বলার দুঃসাহস দেখিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া গুরুতর হুমকির মুখে পড়তে পারে। তিনি আরও বলেন, দুর্যোগ এড়াতে চাইলে দক্ষিণ কোরিয়ার উচিত নিজেকে সংযত রাখা।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক স্টিমসন সেন্টারের ওয়েবসাইট ‘৩৮ নর্থ’-এ প্রকাশিত ডিসেম্বরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কিম জং উন হঠাৎ মারা গেলে বা গুরুতর অসুস্থ হলে ‘অস্থিরতা’ দেখা দিতে পারে। প্রতিবেদনটি উল্লেখ করে, স্বল্পমেয়াদে কিম ইয়ো জং-এর মতো রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিরাই ক্ষমতা গ্রহণে এগিয়ে থাকবেন। অন্যদিকে কিম জু এ ও তার দুই ভাই- যারা এখনও অল্পবয়সী ও আগামী ৫ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে বাস্তবসম্মত উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত হওয়ার মতো অবস্থানে নেই।

উত্তর কোরিয়ায় ক্ষমতা নিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্ব!

No comments

Powered by Blogger.